Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. কাল থেকে ইস্কুল

    মা বললে, কাল থেকে তোর ইস্কুল। কাল তুই ভর্তি হবি।

    ভয়ে কেমন যেন হয়ে গেলাম, অসাড় হয়ে এলো হাত-পা। আব্বা, মা, টিপু ভাইজান, মনি ভাইজান, রানিবুবু, সবাইকে মনে হলো হৃদয়হীন, আমার জন্যে কারো এক ফোঁটা দয়ামায়া নেই। কেবলই কান্না আসে, মনে হয় সব শেষ হয়ে গেল, কাল হাত-পা বেঁধে এরা সবাই মিলে আমাকে পুকুরে ফেলে দেবে।

    মনে হতো চিরকাল এইটুকুই থাকবো। এইভাবেই থাকবো। কেনারাম কাকার হাত ধরে হাতিপুকুর পাড়ে যাবো, শেঠপুকুরের মাঠে মনি ভাইজান ফুটবল খেলবে, একা পাশে বসে বসে তা দেখব। পাঁচু ঝুমিকে লুকিয়ে চুড়ির শেকল দেবে, ঝুমি পাঁচুকে লুকিয়ে দেবে ভাঙা তেশিরা কাঁচ; সবকিছু ধাপে ধাপে ওঠা, থাককাটা, রঙিন, এইসব দেখবো, বলবো না কাউকে। পুঁটির কাছ থেকে শিখবো পাখিদের ভাষা, তুলিপাখি ফিরে এলে বলবো, আমাদের ছেড়ে কেমন করে তুমি থাকো, তোমার কি কষ্ট হয় না? আমার তো হয়। ঘাটে যখন বসে থাকি, যখন বাগানে যাই, খেতে বসি, তোমার কথা মনে হয়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে রাতে তোমার জন্যে কাঁদি।

    মাকে বললাম, আমি ইস্কুলে যাবো না—

    তা যাবে কেন, শুধু সকাল-বিকাল-দুপুর টো টো করে গাছতলায় গাছতলায় ঘুরে বেড়াবে। পাখানা যা লম্বা হয়েছে তোমার!

    টিপু ভাইজানকে বললাম, আমি তোমার কাছে পড়বো, ইস্কুলে যাবো না–

    নিজের পড়া নেই বুঝি আমার! ইস্কুলে না গেলে কি হয় জানিস? ঐ বিন্দের মতো ছায়াবাণীর সামনে বসে বসে পাপর আর তেলেভাজা বেচে খেতে হয়—

    মনি ভাইজানকে বললাম, আমি ইস্কুলে যাবো না–

    তোর ঘাড় যাবে। মনি ভাইজান বললে, টেনে টেনে কুলোর মতো করে দেবে তোর কান, মাথায় থান ইট দিয়ে একপায়ে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখবে, কান ধরে নীলডাউন হবি, গাট্টা খাবি, মাস্টারদের ফাসকেলাস ফাসকেলাস সব শাস্তি আছে, দেখিসখন। এক একদিন দেখবি এখানে খানিকটা গোশ নেই, পেটের এক থাবলা গোশ হাওয়া হয়ে গেছে, নাড়িভুঁড়ি সব দেখা যাচ্ছে, শোঁ শোঁ করে হাওয়া ঢুকছে আর পটপট করে শব্দ হচ্ছে। যা ভালোবাসে মাস্টাররা কাঁচা গোশ খেতে–

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    Library
    সেবা প্রকাশনীর বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বই পড়ুন
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা গল্প

    হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমি বললাম, আমি মরে যাবো, মনি ভাইজান, আমি ঠিক মরে যাবো।

    মনি ভাইজান একটা ছিপের সুতোয় বড়শি লাগাতে লাগাতে বললে, মরে যাওয়াতো ভালোই! মরে গেলেই পাখি হয়ে যাবি। পাখি হলে কতো মজা। যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবি। একবার বাঁশঝাড়ে বসবি, একবার আমড়া গাছে বসবি, একবার পেয়ারা গাছে বসবি, যখন যেখানে তোর খুশি। তুই মরলে মাছরাঙা হবি। ঝপাঝপ মাছ ধরবি আর খাবি। মীরজাফর মরে কি পাখি হর্বিছে জানিস, শকুন।

    বললাম, শকুন তো অনেক—

    তাতে কি–মনি ভাইজান বললে, এক একটা মানুষ মরে গিয়ে এক একটা শকুন হয়েছে। লর্ড ক্লাইভ, জগৎশেঠ, উর্মিচাঁদ, ওয়ারেন হেস্টিংস, নাদির শাহ, তৈমুর লং, ছবির ঠাকুমা মরার পরে ওরা সকলেই তো শকুন হয়েছে।

    ছবির ঠাকুমার সঙ্গে মনি ভাইজানের খুব ঠোকাঠুকি হতো। বুড়ির ছিল শুচিবাই। হাঁটতো আর গোবর গোলা পানি ছিটাতো। মনি ভাইজান বলতো, ও বুড়ি, কাল নাকি তোমার বিয়ে? মদনা মুচিকে দেখলাম খুব ঘটা করে সেজেগুঁজে টোপর মাথায় দিয়ে তোমার জন্যে কলপুকুরে বসে আছে!

    আরও দেখুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা কমিকস
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    অনলাইন বুক
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা ই-বই

    কলপুকুর এক সময় শুশানখোলা ছিল। কলপুকুরের কথা শুনেই হোক, কিংবা রগচটা স্বভাবের জন্যেই হোক, তেলেবেগুনে জ্বলে উঠতো বুড়ি, ও নেড়ের ব্যাটা, তোর মাথায় বজ্রাঘাত হোক, তোর ওলাওঠা হোক, তোর কুষ্ঠব্যাধি হোক—

    মনি ভাইজান বলতো, এ্যাতো ইংজিরি শিখলে কোতায়? ও বুড়ি, গোবর চচ্চড়িতে আজ হিং দাওনি?

    হাতের কাছে যা পেতো তাই ছুঁড়ে মেরে বুড়ি বলতো, ওরে আবাগির ব্যাটা, তোর ধনুষ্টংকার হবে, বাঁদরের মতো খিচে খিচে তুই মরবি।

    লুকিয়ে লুকিয়ে গরুর গোশ খাওয়া হয়, জানি না বুঝি–এই বলে দৌড়ে পালাতো মনি ভাইজান।

    কুষ্ঠব্যাধি আর ধনুষ্টংকার এই দুটো নাম শুনলেই আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠতো। ধনুষ্টংকার যে কি, বুঝতাম না ঠিকই, কিন্তু দারুণ আতঙ্ক ছিল।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বইয়ের
    বই
    বাংলা অডিওবুক
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বইয়ের

    বুড়ি মরে গেলে মনি ভাইজান ছবিদিকে একদিন বলেছিল, আমি কাজীপাড়ার একদিল শাহর দরগায় পাঁচ পয়সা সিন্নি দিয়েছি, বাপরে বাপ, মরতে আর চায় না। ছবিদি কেঁদে ফেলেছিল শুনে। রাগ করে অনেকদিন পর্যন্ত আমাদের বাড়িতে আসেনি।

    তারপর মনি ভাইজান বললে, পাখিদের ভেতরে যেমন দেখিস নানা জাতের পাখি, কোনোটা চড়ই, কোনোটা পায়রা, কোনোটা দোয়েল, কোনোটা কাক, মাস্টারদের ভেতরও অমন দেখবি। এক একটা এক এক টাইপের। এক রকমের মাস্টার আছে, তারা কখনও ভাত খায় না। তারা পেট বোঝাই করে শুধু রাগ খায়। এদের ধুতি খুব ময়লা, বড় বড় নখে সবসময় ময়লা লেপ্টে থাকে। দেখবি, এদের টিকিতে খুব সুন্দর সুন্দর গাঁদাফুল ফোটে। এক এক জাতের মাস্টার আছে, তারা দেখতে ঠিক নাদাপেটা গণেশের মতো। শুড়ে পেঁচিয়ে হঠাৎ দেখবি তোকে তুলে নিয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করবে, আজ কি দিয়ে ভাত খেয়েছ? যদি বলিস মাছ দিয়ে, সে অমনি বলবে কি মাছ, পারশে? পারশে মাছে বড় স্বাদ হয়। অতি উপাদেয়। বেগুনের সঙ্গে ভারি চমৎকার জমে। জম্পেস করে খাওয়া যায়। আর এক টাইপের দেখবি, যারা ক্লাসে ঢুকেই বলবে, এ্যাই, এসব কি হচ্ছে এ্যা, বেতিয়ে গায়ের ছাল তুলে নেবো, পেয়েছটা কি, এটা কি গুলতানির জায়গা? তারপর বলবে, নো টক, পিনড্রপ সাইলেন্স, প্রথম বেঞ্চি থেকে শুরু করে রিডিং, এক এক করে সবাই,তারপর দেখবি ভোঁশ ভোঁশ করে নাক ডাকিয়ে সে ঘুমুচ্ছে। এরা এলে ভালোই হয়। ইচ্ছেমতো দারোগা-পুলিশ খেলা যায়, কাটাকুটি খেলা যায়, গল্পের বই পড়া  যায়–

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    ই-বই ডাউনলোড
    অনলাইন বুক
    বাংলা লাইব্রেরী
    বই
    গ্রন্থাগার
    PDF
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার

    বললাম, মারে না?

    তা মাঝে-মধ্যে একটু আধটু মারে বৈকি। তবে যারা খুব যত করে পাকা চুল তুলে দ্যায়, তাদের মারে খুব আস্তে করে। মার খাওয়ার কতোগুলো কায়দা আছে। হাত পাততে বললে হাত পাতবি ঠিকই, কিন্তু সপাং সপাং বেত পড়ার আগেই ঝট করে সেটা সরিয়ে নিবি, নিয়েই ওরে বাবাগো, ওরে মাগো, আপনার পায়ে পড়ি স্যার, মরে গেলাম স্যার—এই বলে চিৎকার করে উঠবি, তখন দেখবি স্যার বলবে, ঠিক আছে যাও, ভবিষ্যতে যেন মনে থাকে। আর যদি গাট্টা মারতে যায়, তখন হাত জোড় করে বলবি, মাথায় মারবেন না স্যার, মাথায় মারা নিয়ম নেই, আপনি পিঠে মারুন। এই বলে পিঠ পেতে দিবি। যেই পিঠে বেত পড়বে অমনি হুড়মুড় করে স্যারের গায়ের ওপর পড়ে যাবে, ব্যস্—

    বললাম, তোমাকে মারে?

    মারে আবার না? তোকেও মারবে। তা সে তেমন কিছু নয়। মার খাওয়ার কায়দা জানতে হয়। কায়দা জানলে মার খাওয়া আর এক গেলাস দুধ খাওয়া সমান কথা। তুই একটা ভিতুর ডিম।  আমার কতো রকমের কায়দা আছে! এক একবার এক এক স্যারকে একেবারে অবাক করে দেই। একবার তো মার খেয়ে মরেই গিয়েছিলাম। স্যার যখন কেঁদে ফেললে, তখন বেঁচে উঠে চোখ মোছার জন্যে স্যারকে ব্লটিং পেপার দিয়ে বললাম, ঠিক আছে এবারের মতো বেঁচে উঠলাম, এরপর মারলে কিন্তু আর বাচবো না। স্যার কি করেছিল জানিস? কাউকে না জানিয়ে পঞ্চানন ময়রার দোকানে নিয়ে গিয়ে আমাকে পেটপুরে পান্তুয়া খাইয়েছিল, আর প্রতিজ্ঞা করিয়েছিল যেন কাউকে না বলি। মারের বদলে পান্তুয়া খাওয়া যায়, বুঝলি, বুদ্ধি খাটাতে হয়–

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বইয়ের
    বাংলা ভাষা
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা কমিকস
    অনলাইন বই
    বাংলা ই-বই
    গ্রন্থাগার
    Books

    ভয়ে ভয়ে বললাম, আমি যদি তোমার মতো বুদ্ধি খাটাতে না পারি?

    মনি ভাইজান বললে, না পারলে না পারবি, তাতে কি! কতো উপায় আছে! তোকে মন্ত্র শিখিয়ে দেব। হাজার রকমের মন্ত্র আছে। যেমন ধর এই মন্ত্রটা। আগে গেলে বাঘে খায়, পিছনে গেলে সে পায়, শঠে শাঠ্যাং সমাচারেৎ এই বলে তিনবার বুকে ফুঁ দিবি, দেখবি মারতে গিয়েও সে থেমে গেছে, ফিক্‌ করে হেসে ফেলেছে।

    বলতাম, অতো কঠিন কি আমার মনে থাকবে?

    প্রাকটিস করতে হবে। ব্রতচারী খেলার কাঠি দুটো নিয়ে খট খট খটাং শব্দ তুলবি, আর মুখস্থ করবি, ব্যস!

    কালীকৃষ্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, এই ছিল ইস্কুলের নাম। কেনারাম কাকাদের কয়েকজনের উদ্যোগে বোধহয় সে বছরই নতুন বসেছিল ইস্কুলটি। সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন কেনারাম কাকাই। চৌধুরীপাড়ার এক বিশাল বাড়িতে ইস্কুল। উঁচু উঁচু ছাদ, মোটা মোটা থাম, চওড়া বারান্দা, ঘোরানো সিঁড়ি, ইস্কুল দেখে বুক টিপ টিপ করে। ভর্তি হয়ে গেলাম ক্লাস টু-তে। টু-তে যে ভর্তি হতে পারবো, এ ব্যাপারে কিছুটা সন্দেহ ছিল। ঘরে ফিরে দেখলাম সকলেই খুশি। আব্বা বললে, এবার ভালো করে লেখাপড়ায় মন দাও পোকা, এখন থেকে তো ইস্কুল।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা লাইব্রেরী
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা কবিতা
    বাংলা ভাষা
    বাংলা বই
    PDF
    বাংলা কমিকস
    বইয়ের
    পিডিএফ

    প্রথমদিন ভর্তি হয়েই খালাস। কেনারাম কাকা বললেন, আজ থাক, একেবারে কাল থেকেই ক্লাসে আসবে।

    প্রথম যেদিন ক্লাসে যাই, সেদিনকার কথা আজো মনে আছে। মনি ভাইজান একটা লাল গোলাপ আমার হাতে দিয়ে বললে, ক্লাসে প্রথম যে দিদিমণি আসবে, তাকে দিবি, এ মন্ত্রপড়া গোলাপ, খরবদার, মাটিতে না পড়ে, তোকে মারতে পারবে না।

    প্রথম পিরিয়ডে এলেন করুণা দিদিমণি। নাম ডাকার সময় আমিও সকলের মতো বললাম, উপস্থিত! নাম ডাক শেষ হলে ভয়ে ভয়ে তাঁর কাছে গিয়ে ফুলটি দিতেই বললেন, বাহ, খুব সুন্দর!

    ইস্কুলে পুরুষ বলতে ছিলেন কেবল বুড়ো হেডস্যার, চিত্তরঞ্জন মুখোপাধ্যায়। বাদবাকি সকলেই মেয়ে। করুণা দিদিমণি, লাবণ্যপ্রভা দিদিমণি, হেম দিদিমণি, তরু দিদিমণি। ক্লাসেও ছেলেদের সংখ্যা ছিল নামেমাত্র, আসলে স্কুলটাই ছিল মেয়েদের। প্রথমদিকে বলে পড়ুয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যেই বোধহয় কিছু কিছু ছেলে ভর্তি করা হয়। আমিও সেই একই দলের। আমাদের ক্লাসে আটচল্লিশজন ছাত্রছাত্রীর মাঝে ছেলে বলতে ছিলাম ভোলা বৈদ্যনাথ আর আমি।

    আরও দেখুন
    বাংলা ভাষা
    বাংলা কমিকস
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য
    সাহিত্য পত্রিকা
    উপন্যাস সংগ্রহ
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন বুক
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন

    টিফিনের সময় দেখি সিঁড়িতে বসে মনি ভাইজান। সর্বক্ষণ কেটেছে ভয়ে ভয়ে এই বুঝি কিছু হয়ে গেল, ধড়ে প্রাণ এলো মনি ভাইজানকে দেখে।

    বললে, কিছু হয়েছিলো?

    বললাম, না।

    কি করে হবে, এ কি যে সে মন্ত্র, দেখলি তো! আমার হাতে মুড়ি-মুড়কি আর কদমার ঠোঙা দিয়ে মনি ভাইজান বললে, মন্ত্রের জোরে আমি যেকোনো লোককে চোখের পলকে একেবারে গরুছাগল-ভেড়া বানিয়ে দিতে পারি, জানিস তুই!

    আমাকে হাবার মতো হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বিশ্বাস হচ্ছে না বুঝি? ঐ দ্যাখ-দ্যাখ–এই বলে একটা গরুকে দেখালো। খুব কাছাকাছি গায়ে কালোর ছিটমারা একটা সাদা গরু একমনে ম্যাড় ম্যাড় করে টোঙা চিবাচ্ছিল। বললে, বল তো, ওটা কি? বললাম, একটা গরু!

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    সাহিত্য পত্রিকা
    অনলাইন বই
    বাংলা কমিকস
    PDF
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ই-বুক রিডার

    তোর মাথা। ওটা হচ্ছে হরিপদ ঘোষাল। দ্যাখ না এখনো যুগান্তর কাগজের মায়া ছাড়তে পারে নি। একটা ঠোঙ্গা চিবোচ্ছে, তাও যুগান্তর কাগজের তৈরি। লাগতে আসে আমার সঙ্গে, দিলাম ব্যাটাকে গরু বানিয়ে, এরই নাম মন্ত্রশক্তি!

    হরিপদ ঘোষালের ছেলে সুবলের সঙ্গে কি নিয়ে একটা ঝগড়া হয় মনি ভাইজানের, তারপর রাস্তার মাঝখানে ফেলে দে পিটুনি। হরিপদ ঘোষালের কাজ ছিল দুপুরের পর থেকে বাইরের বারান্দায় একটা ইজি চেয়ারে গাছেড়ে দিয়ে সেই সন্ধ্যা পর্যন্ত খবরের কাগজে ডুবে থাকা। তারই ফাঁকে ফাঁকে লোকটা নাক ডাকিয়ে ঘুমিয়ে নিত। সুবলের কান্নাকাটিতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল সেদিন। তারপর হাঁকাহাঁকি, চিল্লাচিল্লি, থানা পুলিশ, রাজ্যের হাঙ্গামা।

    মনে পড়লো বেশ কিছুদিন যাবৎ ঠিকই হরিপদ ঘোষালকে বারান্দার ইজি চেয়ারে দেখা যাচ্ছে না, কথাটা কি তাহলে সত্যি!

    ক্লাস ফেলে এসেছি, আমি চললাম। ছুটির পর সোজা বাড়ি যাবি— এই বলে মনি ভাইজান চলে যায়।

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বুক শেল্ফ
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    Books
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী

    প্রতিদিনই মনি ভাইজান একটা করে ফুলে মন্ত্র দিয়ে দিত। ফুল পেয়ে খুব খুশি হতেন করুণা দিদিমণি। মন্ত্রের কথা কখনো কাউকে আমি বলি নি, যদি তার গুণ নষ্ট হয়ে যায়!

    আরতি, রমা, আশা, শেফালি, মল্লিকা, এক একদিন আমি এদের এক একজনের পাশে বসি। খুব ভাব জমেছিল আমাদের এই কজনের মধ্যে। বৈদ্যনাথও ছিল কিছুদিন। ওর ছিল কানপচার ধাত। ওকে পেছনের বেঞ্চিতে বসতে হতো শেষ পর্যন্ত। পেছনের বেঞ্চিতে বসতো আরো একটি মেয়ে, অর্চনা। অর্চনাই ছিল সব ক্লাসের সকলের চেয়ে বয়েসে বড়। লম্বাও ছিল। অনেকেই আমরা তার কোমর সমান ছিলাম।

    তা আমরা ডাকতাম অর্চনাদি। অর্চনাদি একটু হাবা কিসিমেরই ছিল, যতোদূর মনে পড়ে। তার মাথায় উকুনও ছিল। এই জন্যে

    কেউ তার কাছাকাছি ঘেঁষতে চাইতো না।

    এক একদিন এমন হতো, হয়তো টিফিনের ছুটি, মেঝেতে বসে পা লম্বা করে অর্চনাদি মাথার উকুন খুঁটতে শুরু করেছে, আমাকে দেখে বললে, এখানে বস, তোর নখ দেখি—

    আরও দেখুন
    বাংলা অডিওবুক
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা ই-বই
    বাংলা ইসলামিক বই
    PDF
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    Library

    আমি নখ বাড়াতে একটা উকুন বসিয়ে দিল তার ওপর। বললে মার। যেন পট করে শব্দ হয়—

    এইভাবে পটপট করে উকুন মারতে হতো। কখনো বললে, আমার খাতার মলাটে বৌদি লেখেছে কে রে? মিথ্যে বলবি না। মিথ্যে বললে মা সরস্বতী তোকে ফেল করিয়ে দেবে, বুঝে-শুনে

    বলিস—

    অর্চনাদিকে নিয়ে নানা রকমের হাসিঠাট্টা চলতো। একদিন আরতি বললে, তোরা জানিস, গতকাল বরের বাড়ি থেকে অর্চনাদিকে নাকি দেখে গেছে!

    অর্চনাদি বললে, গতকাল কে বললে তোদের, সে তো গেল মাসে। গণ্ডেপিণ্ডে গিলে তারপর যাবার সময় বললে, গিয়ে খবর দেবো। ঐ পর্যন্তই। কোনো খবর দেয়নি। আমাকে আর কে পছন্দ করবে, আমি তো আর তোদের মতো সুন্দর না ভাই! হাতের সেলাই দেখে যদি কেউ পছন্দ করে!

    আরও দেখুন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা বই
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের
    Library
    বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ

    অর্চনাদি বাড়ি থেকে কৌটোয় ভরে প্রায়ই নিয়ে আসতো নানারকমের টক-মিষ্টি আঁচার। আমরাও ভাগ পেতাম।

    টিফিনের ছুটিতে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়তাম আশপাশে। চৌধুরীপাড়ায় মস্ত একটা বাড়ি ছিল, বাড়িটার জানালা-দরোজা কখনো খোলা দেখেছি বলে মনে পড়ে না। লোকে বলতো সেটা চৌধুরীদের বাড়ি। ফটকের মুখে দুপাশে দুটো পাথরের সিংহ। আমরা যেতাম ইউক্যালিপটাসের সুগন্ধি পাতা কুড়তে। বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে থাকতে পাতাগুলো।

    একবার কপালে ফেটিবাঁধা একটা পাগল আমাদের ধরেছিল। বললে, ভীমনাগের সন্দেশ খাবে তোমরা? তাহলে চুপটি করে হাতটি পেতে আসন গেড়ে বসে পড়ো এই ঘাসের ওপর!

    আমরা বসে হাত পাততেই সে সকলের হাতে দুটো করে ছোলাভাজা দিয়ে বললে, খাও, খেয়ে দ্যাখো কেমন মিষ্টি!

    আমরা বললাম, এ তো ছোলাভাজা!

    সে বললে, যাঁহা ছোলাভাজা, তাঁহা সন্দেশ। সন্দেশ পেটে গিয়ে ছোলাভাজা হয়, ছোলাভাজা পেটে গিয়ে সন্দেশ হয়। মোসলমান মরে গেলে হিন্দু হয়, হিন্দু মরে গেলে মোসলমান হয়। পেটই হচ্ছে চিতা, পেটই হচ্ছে কবর; সে হালুম-হলুম গবগবাগব গবগবাগব সব খেয়ে ফেলে, সব হজম করে ফ্যালে। হজমের পর তো সব একই—

    দে দৌড় দে দৌড় বলে ভয়ে আমরা যখন ছুটে পালাচ্ছি, পেছন থেকে সে তখন আহ হাঃ হাঃ করে হেসে উঠেছিল।

    আর একবার দেখা হয়েছিল একটা খুনখুনে ছেলেধরা বুড়োর সঙ্গে। তার পিঠে শুকনো পাতা বোঝাই বস্তা। সে আমাদের দেখে বললে, বাছারা জানো আমি কে? ঐ হোথায় কলপুকুরে শেয়ালের গর্তে আমি থাকি। যখন দাঁত ছিল তখন এমনিই জ্যান্ত জ্যান্ত বাচ্চাকাচ্চা ক্যাচম্যাচ করে চিবিয়ে খেতাম। এখন দাকা দাকা করে কেটে একঘটি জলের সঙ্গে টপটপাটপ গিলে খাই। ছাড়ো দেখি কিছু পয়সা, তা নৈলে কিন্তু রেহাই নেই—

    কুড়িয়ে বাড়িয়ে সকলের সব পয়সা মিলিয়ে হলো মোট তিন আনা। সেই তিন আনা দিয়ে তবে রেহাই। লোকটা বললে, কুল্লে তিন আনা? কেমন ধারার কথা গো? তা দাও দিকি যা আছে। কাল যে কি কুক্ষণে পাঁচকড়ির ব্যাটা এককড়িকে গিলেছিলাম, সেই থেকে পেটটা কেমন দমসমে হয়ে আছে। নৈলে কি আর একটাকেও ছাড়তাম!

    হামব্যায়লায় জামব্যায়লায় ঘাস ক্যামবায় খায় গাইতে গাইতে বুড়োটা একদিকে চলে গিয়েছিল।

    এই সময় একটা ঘটনা ঘটে। হঠাৎ শোনা গেল বুড়ি গিরিবালাকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। মনি ভাইজান বললে, খামোকা বুড়িকে কষ্ট দিচ্ছে ওরা। ও কি আর কিছু জানে? বুড়ির উঠোনের জঙ্গলের ভেতর চোর-বদমাশেরা নাকি চুরির মালামাল পুঁতে রাখতে, ওখানে বসেই ভাগ-বাটোয়ারা করতো। তা বুড়ি তো ভালো করে চোখেই দ্যাখে না, ও কি জানবে।

    ছাড়া পেয়ে কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল বুড়ি। আমাকে ওরা এইভাবে হেনস্তা করলে রে, কেন আমার মরণ হয় না! ও ভগমান, চোখের মাথা খেয়ে বসে আছিস, আমাকে তুলে নে, আমাকে তুলে নে। এইসব বলতো আর সমানে দেয়ালে মাথা কুটতো গিরিবালা!

    রমা, আশা, শেফালি, আর আমি একদিন বিকেলে দল বেঁধে গিরিবালার ওখানে গিয়ে দেখি, মনি ভাইজান তার মাথায় পানি ঢালছে। আমাদের দেখে বোধহয় একটু লজ্জাই পেয়েছিল। বললে, কি চাস এখানে, যা ভাগ, ভাগ এখান থেকে–

    এক একদিন দল বেঁধে হাতিপুকুরের কাছাকাছি যেতাম, দুপাশে বকুল গাছে ঢাকা একটা লাল সুড়কির রাস্তা ছিল সেখানে ঐ রাস্তারই এক এক পাশে এস.ডি.ও সাহেবের কুঠি, মুনসেফ সাহেবের কুঠি। সারাদিন বকুল ফুলের গন্ধে ভুর ভুর করতো ঐ অঞ্চলটা। ফুল কুড়োনো শেষ করে তারপর যে যার বাড়িতে ফিরে যেতাম।

    এক একদিন আস্তো প্রমীলা ধাত্রী। সাধারণত বিকেলের দিকেই আসতো বুড়ি। সাদা মড়মড়ে থানেমোড়া প্রমীলা ধাত্রীকে আমরা সবাই ভয় করতাম। সে ছিল ভারি খটটাই মেজাজের। বসে বসে মার সঙ্গে গল্প করতো, আর একটা বড় গ্লাসে করে চা খেত। তার জন্যে একটা আলাদা গ্লাসই ছিলো। আমরা সকলেই ছিলাম তার হাতের। সে জাতে ছিল খ্রীস্টান। প্রতিটি বাড়ির অন্দরমহলের সব খবর ছিলো বুড়ির নখদর্পণে।

    তা বড়টি এখন কি করছে?

    এবার কলেজে ঢুকলো।

    মেজ?

    এবার ম্যাট্রিক দেবে—

    মেয়েটি?

    এই তো নাইনে উঠলো—

    ভালো। তা তোমার স্বাস্থ্য কিন্তু দিন দিন কাঠি হয়ে যাচ্ছে মনির মা, দেহের দিক একটু যত্নআত্তি নিও–

    মা উত্তর দ্যায়, এই নানারকমের চিন্তা-ভাবনা! পার্টিশান—

    সে তো আছেই— প্রমীলা ধাত্রী বললে, এতোগুলো ছেলেমেয়ে পেটে ধরা, তাদের মানুষ করা, এ কি মুখের কথা!

    আমরা ধারে-কাছে গেলেই খাঁউ করে উঠতো বুড়ি।

    কি চাও এখানে? শুধু গাঁয়ে গাঁয়ে ঘোরা। বেচারির হাড়-মাংস সব এক করে ফেলেছে, যাও, বাইরে যাও, খেলেগে যাও খেললাগে যাও–

    কখনো মাকে বললে, মনিটার দিকে একটু খেয়াল কোরো। যেখানেই যাই ওকে দেখি, এতো বেশি দস্যিপনা ভালো নয়। এখন থেকে না আর্টলে পরে পস্তাবে। লেখাপড়ায় কেমন?

    পাস তো করে—

    প্রমীলা ধাত্রী কিছু একটা চিন্তা করে বলে, ওকে বাইরে কোথাও রেখে পড়াতে পারো না? কোনো কোরোস্টালেও তো দিয়ে দিতে পারো।

    ওকে নিয়েই তো আমার যতো ভয়, দস্যু ছেলে, চোখের আড়াল করি কিভাবে?

    মায়ের স্নেহ হচ্ছে ডাইনীর স্নেহ, এই করে করে তো তোমরা ওর মাথা খাবে। একদিন দেখবে হুট করে একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসে আছে। এখন কি আর সেই আগের মতো দিনকাল আছে! শক্রতা করেও তো লোকে একটা কিছু বাধিয়ে বসতে পারে। এই তো শুনলাম, সেদিন ঘোষালদের ছেলেটাকে রাস্তায় ফেলে ঠেঙিয়েছে! কি না হতে পারতো এইটা নিয়ে–

    দ্রুত একটা পরিবর্তন ঘটছিল চারদিকে। সেসব আমরা কিছু বুঝতাম না। হিন্দু মুসলমানদের দলাদলির কোনো ব্যাপার থেকে বালক সংঘ ভেঙে দু টুকরো হয়েছিল। কাজীপাড়ার একটা দলের সঙ্গে তুমুল মারপিট হলো একবার। তখন চলাচল ছিল মার্টিন ট্রেনের। চলতো ঢিমেতালে। কাজীপাড়ার ছেলেরা চলন্ত মার্টিনে উঠে কোনোরকমে মাথা বাঁচায়। যাওয়ার সময় বলে যায়, এর হিসেব হবে, এক একটা করে লাশ পড়ে থাকবে মাটিতে।

    একদিন হরিপদ ঘোষালের সামনে পড়ে গেলাম। আমার পেটে আলতোভাবে ছড়ির ডগা ছুঁইয়ে জিজ্ঞেস করলে, কি হে বালক, তোমাদের বাড়িতে শুনি কাজীপাড়ার মোচোনমানরা দেদার মিটিং করে? তোমার বাবা পাকিস্তান চায় নাকি?

    পাকিস্তান কি জানা ছিল না। বুঝতাম না এসব কিছুই। কাজীপাড়া একদিল শার দরগা ঘিরে মুসলমান সমাজের একটা বেড়; সেখানে অন্যকোনো জাতের লোক ছিল না। গরুর গোশত কিনতে হলে ওখানকার হাট ছাড়া আর উপায় ছিল না।

    কিছুদিন আগে কিসের যেন একটা ভোটাভুটি গেছে; সেই থেকে দেখতাম আমাদের পাড়া-প্রতিবেশীদের অনেকেই মনমরা, কিছু একটা ঘটেছে বুঝতে পারি, কিন্তু কি তা বুঝি না।

    কিছুই জানতাম না।বুঝতাম না। মাঝে মাঝে আমাদের গ্রামের বাড়ির নিকট আত্মীয়-স্বজনরা এসে ফিসফাস করতো ঠিকই, তখন সকলের মুখেই থাকতো দুশ্চিন্তার ঝুলকালি মাখা ময়লা ছাপ; আব্বা শুধু গম্ভীর মুখে বলতেন দেখা যাক কি হয়—

    আমাদের বাইরের ঘরেও মাঝে মাঝে শুনতাম তুলকালাম চলছে। আব্বা, কেনারাম কাকা, দুর্গাদাস বাবু, নির্মল বাবু আরো অনেকেই খুবই শোরগোল তুলে তর্কাতর্কি করতো। আমাদের কানে আসতো কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, জিন্না, জহরলাল, প্যাটেল, সব মনেও নেই।

    আমার একটা গজদাঁত বেরিয়েছিল। হরিতাল মোড়ে গিয়ে ধীরেন ডাক্তারের কাছ থেকে পুরোনো দাঁতটাকে ওপড়ানো হয়।

    রাতে দুর্গাদাস বাবু আব্বাকে বললেন, ব্যাপারটা কি হলো, আমি থাকতে ছেলেটাকে হেতুড়ের কাছে পাঠানোর মানেটা কি?

    ধীরেন কম্পাউন্ডার থেকে ডাক্তার বলে পিছনে সকলেই তাকে হেতুড়ে ধীরেন নামে ডাকতো।

    আব্বা বললে, ওসব ওর মা জানে—

    দুর্গাদাস বাবু গলা চড়িয়ে বললেন, হেতুড়ে ধীরেনই তোমাদের কাছে বড় হলো, এর আমি ব্যাখ্যা চাই।।

    চাঁপাড়ালির মোড়ে ছিল মসজিদ। কাজীপাড়া, ময়না আরো দূর দূর থেকেও অনেকে নামাজ পড়তে আসতো সেখানে। বিশেষ করে ঈদের দিন। সেবার হয়েছে কি,আমরা দল বেধে সকলে মসজিদে যাচ্ছি ঈদের নামাজ পড়তে হঠাৎ একটা ঢিল এসে পড়লো। ঢিলটি পড়লো টিপু ভাইজানের পায়ে। পেছনে কে যেন চেঁচিয়ে বললে, দ্যাখ দ্যাখ, মাথায় লেজওলা লেড়েরা কেমন কপাল ঠুকতে যাচ্ছে।

    আব্বা বললে, কোনোদিকে খেয়াল করার দরকার নেই, হাঁটতে থাকো—

    তা, আমরা সেইমতোই মাথা নিচু করে কোনোদিকে না তাকিয়ে মসজিদে গিয়েছিলাম।

    সে বছরই দুর্গাপূজার সময় চারদিকে যাত্রার ধুম পড়ে যায়। সব শখের দল। কেনারাম কাকা এসে বললেন, পোকা, যাবি নাকি যাত্রা দেখতে? তোদের জামাইবাবু পার্ট করবে–

    মা বললে, ও কি আর সারারাত জাগতে পারবে?

    কেনারাম কাকা বললে, বুড়ার সঙ্গে থাকবে, জাগতে না পারে ঘুমুবে–

    বুড়া কেনারাম কাকার মেয়ে। আর কোনো ছেলেমেয়ে না থাকায় ঘরজামাই রেখেছিলেন কেনারাম কাকা। জামাইবাবুর নাম ছিল দেবীনাথ। মাঝে মাঝে তাকে দেখা যেতো ইস্কুলে মাস্টারি করতে। ঐপর্যন্তই। গান-বাজনা ভালোবাসতো। গান-বাজনা নিয়েই থাকতো। রোজ বিকেলে দেবীনাথ জামাইবাবুর ঘরে গান-বাজনার আসর বসতো নিয়মিত। মাঝে মাঝে উঁকি-ঝুকি মেরে দেখতে গিয়ে আমি বিশ্রীভাবে ধরা পড়ে যেতাম। একটা পোষা তোতাপাখি ছিল জামাইবাবুর। দেখতে পেয়ে দাঁড়ের ওপর থেকে সে চিৎকার জুড়ে সুর করে বলতো, ওমা! দেবী দেবী দেবী! এই দেবী! এই দেবী। এই দেবী! কে দ্যাখো কে দ্যাখো কে দ্যাখো—

    দেবীনাথ জামাইবাবু এক একদিন বেরিয়ে এসে আমাকে দেখতে পেয়ে বলতো, ও তুই, পোকা, আয় না ভিতরে এসে বস্।

    কিংবা নিয়ে যেতো ভেতরে। বুড়াদিকে বলতো, আজ না তুমি গুড়ের সন্দেশ তৈরি করেছো, দাও না ওকে—

    বুড়াদি কটমট করে জামাইবাবুর দিকে তাকিয়ে বলতো, সে কি আর আছে, সব তো শেষ হয়ে গেছে

    কেন তাকের ওপরে যে দেখলাম?

    ওতো ঠাকুরের। পুজোয় লাগবে না? তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলতো, তুই সন্ধ্যার পরে আসিস, আমি পুজোটা দিয়ে নিই—

    তা দেবীনাথ জামাইবাবুও কম নাছোড়বান্দা নয়। বলতো, এও তো একটা ঠাকুর, তোমার গোপাল ঠাকুর হে! জ্যান্ত পেয়েছ বলে এভাবে ঠকিয়ো না, দাও দাও, তোমার তো লক্ষ্মীর হাত!

    বুড়াদির সঙ্গে গেলাম যাত্রায়, মহারাজ হরিশচন্দ্র। সারা গায়ে গহনা পরা কালো রঙের বাঁশি কেঁদে উঠতেই ঐকতান শুরু হয়ে যায়। এমন মন খারাপ হয়ে গেল যে, তা বলবার নয়। দেবীনাথ জামাইবাবু হয়েছিল হরিশচন্দ্র। কালো ধুতি পরে, ছাইকাদা মাখা শরীরে মড়া পোড়াবে বলে শ্মশানে দাঁড়িয়ে। কেউ একজন তার পিঠে লাঠির বাড়ি মারতেই ভীষণ কান্না পেল আমার। বললাম, ওরা অমন মারলো কেন, জামাইবাবু তো আর কোনো দোষ করেনি–

    বুড়াদি সে কথায় কান না দিয়ে বললে, ইস্ কি বিচ্ছিরিটাই না দেখাচ্ছে দ্যাখতো! কালি মেখে একেবারে ভূত সেজেছে! কে দেখে বুঝবে গায়ের রঙ অমন টকটকে ফরসা, ইশ!

    বললাম, বুড়াদি দ্যাখো, জামাইবাবুকে ওরা আবার মারলো।

    বুড়াদি এবার আমার গলা জড়িয়ে কেঁদে ফেললে। বললে, কেন একবার মারলেই তো হয়! ওতো খুব ভালো পার্ট করছে, এইজন্যে হিংসে করে অমনভাবে মারছে। আগে ঘরে গিয়ে নিক, যাত্রা দলে নাম লেখানো বার করে দেবো! ইচ্ছে করে মার খাওয়া—

    রাজমুকুট, টিপু সুলতান, মহারাজ নন্দকুমার, আর অনেক পালা চলেছিল। তবে আমার যাওয়া ঐ একদিনই। বুড়াদির সঙ্গে যেতে রানিবুবু। কেবল একদিনই মনি ভাইজান গিয়েছিল। ঘরে ফিরে সে কি রাগারাগি। বললে, ধুৎ বুড়াদির সঙ্গে মানুষ যায়! থির হয়ে বসতে দেবে না কিছুতেই। একবার বলে ও মনি, যা না ভাই, এক দৌড়ে আমার বাসকোর চাবিটা নিয়ে আয়, বিছানার ওপর ফেলে রেখে এসেছি, কতো কিছু রয়েছে বাসকোয়। একবার বলে মনি, যা তো, চুপি চুপি তোর জামাইবাবুকে গিয়ে বলে আয়, মুকুটটা ঠিকমতো বসে নি, কি বিচ্ছিরি দেখাচ্ছো! যতোসব ঝক্কি!

    মনি ভাইজান রাগ না করলেও বোধহয় পারতো। বুড়াদির বাচ্চা হবার আগে তো মনি ভাইজান আর কম ছোটাছুটি করে নি! কি খেয়াল হলো, বুড়াদি বললে, দত্তপুকুরে বাবুদের জলপাই বাগান আছে, এনে দিবি? মনি ভাইজান ছুটলো আনতে। একবার দত্তপুকুর, একবার মধ্যম গ্রাম, একবার বিরাটিতে, একবার শুমোয়, এইভাবে ছোটাছুটি করতে মনি ভাইজান। একবার করিমন বিবির গাছ ভেঙে ডালসুদ্ধ পেয়ারা নিয়ে হাজির, বুড়াদি কি খুশি! বললে, আর জন্মে মনি আমার ভাই ছিল। কেন যে ওর এতো মায়া।

    টিপু ভাইজান কলকাতার কলেজে ভর্তি হবার পর আমরা সবাই তাকে বেশ সমীহ করে চলতাম। টিপু ভাইজান যখন গোঁজামিল দিয়ে কোনো রকমে দায়সারাগোছের নাকেমুখে কিছু গুঁজে তাড়াহুড়ো বাধিয়ে বলতো, আজ প্রফেসর বটব্যালের ক্লাস আছে, অটল পাহাড়ের মতো মানুষ, সময়মতো না পৌঁছুলে কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে দেবে–তখন অবাক হয়ে আমরা তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।

    অটল পাহাড়ের মতো মানুষের মুখোমুখি কোনোদিন কি দাঁড়াতে পিরবো, ভয় হতো। কখনো গায়ে হাত তোলেন নি করুণা দিদি মিণি। কোনোদিন কোনো কারণে যদি দেখি তার মুখ কালো ভয়ে হিম হয়ে গেছে শরীর, বুকের ভেতর সে কি দুরু দুরু! এক একদিন নিজেই কেঁদে ফেলতেন। বলতেন, ঠিক আছে কাল থেকে আমি আর আসবো না। তোমরা কেউ আমাকে ভালোবাস না, কেউ মন দিয়ে আমার পড়া কর না, আমি তোমাদের কেউ নই।।

    বিছানায় শুয়ে শুয়ে বলতাম, হে আল্লা করুণা দিদিমণি যেন কাল ইস্কুলে আসে— যেন এই গতকাল ঘটেছে সবকিছু। যেন এইমাত্র সবাই গলা মিলিয়ে গাইলাম সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজেরে অপমান, এইমাত্র হাতে ফুল নিয়ে করুণা দিদিমণি বললেন, বাহু, ভারি চমৎকার! অথচ কতোকাল আগের কথা সেসব। পোকা, ও পোকা, এমন চুপ কেন? বল আরো বল। তোমার আর কি দোষ। পোকা, ও পোকা, এমন কাঁদ কেন? তোমার আর কি দোষ, ভালোবাসার যে এতো দায়ভাগ, তুমি যে তার কিছুই জানতে না কাদো কেন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক
    Next Article অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }