Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. সংসারে মন

    রেখা বললে, তুমি এসব কি শুরু করেছে বলোতো? লোকে শুনলে কি বলবে! তুমি কি কোনোদিন সংসারে মন দেবে না?

    আবদুল খালেক বললে, সংসারেই তো আছি।

    তা আছে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই একে কি থাকা বলে? সারারাত জেগে ঐ সব লিখে কি ফায়দাটা পাচ্ছো তুমি! বন্ধু কি তোমাকে গাছে চড়িয়ে দেবে। কেন তুমি ভূতের বেগার খাটতে যাবে। একটা চিরকেলে বাজে স্বভাব; যখন যেটা মাথায় ঢুকবে কচলে কচলে তাকে তেতো না করে ছাড়বে না।

    মালেক রাগ করবে, অনেকদিন থেকে ওকে ঘোরাচ্ছি! না পেলে এবারে মেরে বসবে—

    মালেককে নিয়ে থাকলেই হয়, অতো যখন সম্পর্ক!

    কিভাবে যে তুমি কথা বলো—

    ঘরের বৌয়ের কথা কারোই মিষ্টি লাগে না। সব বুঝি, এখন তোমার একটা প্রেম করার দরকার হয়ে পড়েছে, তা করলেই তো পারো। পেয়ারে ছাত্রী তো আর নেহাত কম নয় তোমার, মনমতো একটাকে বেছে নিলেই হয়।

    আবদুল খালেক দাড়ি কামানো থামিয়ে বললে, কাউকেই দেখছি তুমি বাদ দিতে চাও না!

    ছাত্রীরা যেভাবে আসে, তা তো নিজ চোখেই দেখি রোজ। সাজন-গোজন ঠাটবাট দেখে গা জ্বলে যায়, যেন নাগর ধরতে এসেছে। আমরাও তো কলেজে পড়েছি, পড়তে এসে আবার এতো ঢলাঢলি কিসের!

    ঢলাঢলিটা দেখলে কোথায়?

    কথা তো বলে না, যেন গায়ে উল্টে পড়ে। তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে মুখে খৈ ফোটে, আবার আমাদের সামনে এলে ভিজে বেড়ালটি, সাত চড়েও রা কাড়তে চাইবে না–

    আবদুল খালেক বললে, তোমার দেখায় অনেক ভুল আছে। রেখা। এভাবে দেখো না। এভাবে দেখা উচিত না। যারা এভাবে দ্যাখে, তারা কেবল নিজের মনের শান্তিই চুরমার করে।

    কতো শান্তিতে তুমি আমাকে রেখেছো!

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    সেটা আলাদা ব্যাপার–আবদুল খালেক সাবানের ফেনার ভেতর থেকে বললে, কতো দূর দূর গ্রাম থেকে এরা আসে, কতো কষ্ট করে আসে। কত আশা এদের সামনেই। নিছক ঢলাঢলির জন্যে এত পরিশ্রমের কি কোনো দরকার আছে?

    তোমাদের মতো দরদী বন্ধুদের জন্যেই আসে। লেখাপড়া না ছাই! কেন, কমার্সের আবু তালেব ছাত্রীকে বিয়ে করে নি? ঢিঢিক্কার পড়ে নি?

    বিয়ে করাটা দোষের?

    আমি তোমার সঙ্গে এঁড়ে তর্ক করতে চাই না–রেগে গিয়ে রেখা বললে, মুদিওলা বলে দিয়েছে আর বাকি দিতে পারবে না, এবার থেকে নগদ পয়সা দিয়ে সওদাপাতি এনো—

    সে দেখা যাবে—

    কোনো কথাই তো তোমার গায়ে লাগে না। একটা ডিম পচা হয়েছিল বলে পাঠিয়েছিলাম, যা-তা কথা বলেছে। মোমেনাকে ধমকে বলেছে, ইচ্ছে হয় নিবি, না। ইচ্ছে হয় না নিবি, বদল-ফদল হবে না। বলে দিস বাকিফাঁকি আর দিতে পারবো না।

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা ই-বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বইয়ের
    পিডিএফ
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থাগার
    বই পড়ুন
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা কমিকস

    আবদুল খালেক বললে, ওদেরই-বা কি দোষ, কম টাকা তো আর পাবে না?

    তোমার ইজ্জতে বাধে না? ঘরের মানুষের কথা শুনলেই তো ছ্যাক করে ওঠো। একটা ছোটোলোক মুখে যা আসে তাই বলবে, আর ঘরে বসে বসে তুমি লেজ নাড়বে, তোমার আত্মসম্মান নেই?

    কি করবো, ওর সঙ্গে লাঠালাঠি করবো?

    সে ক্ষমতা থাকলে তো!

    আবদুল খালেক হেসে বললে, হ্যাঁ এটাই হচ্ছে আসল কথা। আমি শুধু পারি, এই মুহূর্তে খুব ছোট্ট করে তোমাকে একটা চুমু খেতে–

    কি যে বেহায়ার মতো ক্যাল ক্যাল করে হাসো—

    রেখা আর দাঁড়ায় না। পাকাটি চিবাতে চিবাতে উঠোনের ধুলোয় গড়াগড়ি খাচ্ছিলো টুকু। হ্যাঁচকা টানে তাকে দাঁড় করিয়ে হিড়হিড়িয়ে পুকুরঘাটের দিকে নিয়ে যায়।

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বই
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    পিডিএফ
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    সেবা প্রকাশনীর বই
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা গল্প

    অনেকক্ষণ পর আবদুল খালেক দরোজায় দাঁড়িয়ে রেখাকে ডাকলো। রেখা তখন রান্নাঘরে।

    বললে, মাধু ও মাধু মাধুরাণী!

    কাত হয়ে দরোজায় গলা বাড়ায় রেখা।

    তোমার হাত খালি আছে?

    মাছ কুটছি। এনেছো তো গুচ্ছের চুনোমাছ। রোজ রোজ এই একই আদিখ্যেতা আমার ভালো লাগে না। কি করে আমাকে জব্দ করবে শুধু এই তালে থাকো। অন্য মাছ না পাও খালি হাতে ফিরবে, রোজ রোজ এই ডোগাড়া মাছ কুটতে কুটতে আমার ঘেন্না ধরে গেছে—

    আবদুল খালেক বললে, ইচ্ছে করে কি আর আনি, এই ছোট্ট একটা কালকিনির দাম বারো থেকে চোদ্দ টাকা। টাকা-পয়সা যেন ময়লা। এর চেয়ে ঘাস খেয়ে থাকা ঢের ভালো!

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদকের পরিষেবা
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বুক শেল্ফ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    গ্রন্থাগার
    গ্রন্থাগার সেবা

    একটু পরে হাত মুছতে মুছতে রেখা এলো। বললে, কি বলছিলে বলো।

    ভরসা পাচ্ছি না যে—

    আমার কাছে কিন্তু কোনো টাকা-পয়সা নেই, আগে থেকেই বলে রাখছি। যাও ছিল কায়দা করে করে তো তার সবই কুঁকে বসে আছ!

    পিঠে একটু তেল মালিশ করে দেবে, গা-হাত-পায় বড়ো ব্যথা, এমন টাটাচ্ছে।

    চৌকির ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে তেল মালিশ করাতে করাতে আবদুল খালেক বললে, আচ্ছা মাধুরাণী, তোমার হাত এতো মিষ্টি কেন?

    ইস!দুম করে একটা কিল দিল রেখা।

    আবদুল খালেক বললে, আমি জানি, তোমার হাত দুটো পঞ্চানন ময়রার তৈরি। খাঁটি ছানা আর ভুরভুরে গন্ধ!

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    অনলাইন বুক
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ই-বই
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থাগার সেবা
    বিনামূল্যে বই
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    রেখা বললে, ইয়ার্কি মারলে আমি কিন্তু মালিশ বন্ধ করে দেবো। গায়ে তো জ্বর–

    ওতে কিছু হবে না!

    একটু পরে রেখা বললে, আফজাল ভাই বলেছিলো ইস্কুলের পুকুরটার নাকি শিগগির ডাক হবে। তুমি চাইলে আফজাল ভাই তোমাকে সঙ্গে নেবে। কতো টাকারই-বা ব্যাপার! মাছ ছাড়লে ভালো পয়সা পাওয়া যাবে।

    দেখি।

    তাহলে বলে দাও।

    আবদুল খালেক বললে, অসুবিধেটা কি জানো, এইসব টাউটগুলোকে আমার একদম পছন্দ হয় না। জোর করে হিন্দুর সম্পত্তি দখল নিয়েছে লোকটা, তাই দুটো করে খেতে পারছে, তা নাহলে কে পুঁছতো এদের, তোক ভালো না এরা?

    তোমার অতো দেখার কি আছে।

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বইয়ের
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা কমিকস
    গ্রন্থাগার

    আগে দ্যাখো কলেজ টেকে কি না। এখানকার পাটই হয়তো চুকিয়ে দিতে হবে শেষ পর্যন্ত, তুমি তো আর সব কথা জানো না! সামনের মাসে যদি মাইনে পাই, ভাববো বরাতের জোর—ডোনেশনের ওপর কলেজ চলছে। এ্যাফিলিয়েশন হয় নি। টিচার্স বেনিফিট-এর কিছু টাকা তারা পায়। হাবিব ব্যাপারীর ডোনেশন হিসেবে যে মোটা টাকা দেয়ার কথা তা পাওয়া যায় নি।

    রেখা বললে, এইসব শুনলে আমার হাত-পা হিম হয়ে আসে। অমন হলে কি করবে?

    তখন দেখা যাবে,খামোকা চিন্তা করে কোনো লাভ নেই, আরো জোরে চাপ দাও!

    রেখা বললে, তোমার গায়ে সত্যিই জ্বর। আজ আর পানিতে নেমো না। শরীরের দিকে তোমার কোনো নজর নেই!

    কোনো কথা না বলে মড়ার মতো নিঃশব্দে কাঠ হয়ে পড়ে রইলো আবদুল খালেক।

    কিছুটা পরে রেখা বললে, ঘুমিয়ে পড়লে নাকি!

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা ভাষা
    পিডিএফ
    PDF
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বইয়ের
    বাংলা ই-বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা কমিকস
    গ্রন্থাগার সেবা

    না।

    চুপ মেরে গেলে যে?

    বড়ো আরাম–তুমি আজকাল অমন গুম হয়ে থাকো কেন?

    কি বলবো ভেবে পাই না–

    কেউ বিশ্বাস করবে একথা?

    আর কারো কথা জানি না, তুমি করবে।

    অনেক পরে চিৎ হয়ে শুয়ে রেখার একটা হাত বুকের ওপর নিয়ে আবদুল খালেক বললে, আজ থেকে যদি তোমাকে মাধু বলে ডাকি, তুমি কি আপত্তি করবে?

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    গ্রন্থাগার সেবা
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা ভাষার বই

    কি বলে? চোখ কুঁচকে রেখা জিগ্যেস করে।

    মাধু মাধুরী–

    কি জানি বাবা, তোমার কোনো কথাই আমার মাথায় ঢোকে না।

    উপুড় হয়ে শুয়ে আবদুল খালেক বললে, আমার খুব ইচ্ছে হয় তোমাকে ঐ নামে ডাকি!

    রেখা বললে, মাধুরীটি কে?

    তা জানি না। মাধুরী বলে কেউ কোনোদিন বোধহয় ছিল না। কেউ কোনোদিন তাকে দ্যাখে নি, কেউ কোনোদিন তার নাম শোনে নি, বোধহয় এই রকম— আবদুল খালেক বলতে থাকলো, কিন্তু আমার মনে হয় সে আছে, হয়তো তুমিই মাধুরী, আমি চোখ খুলে কখনো দেখি নি, তাই চোখেও পড়ে নি–

    কি মানে এসবের?

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বইয়ের
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    Library
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    উপন্যাস সংগ্রহ

    ঠিক আছে–আহত গলায় আবদুল খালেক বললে, তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি ঐ নামে ডাকবো না, ঠিক আছে। এতে রাগের কিছু নেই।

    আমি তা বলি নি। তোমার কি দোষ জানো, কোনো কথা তুমি মন খুলে কখনো বলো না, পরিষ্কার বুঝিয়ে বলা তোমার ধাতে নেই–

    আবদুল খালেক বললে, একদিন তোমাকে একটা অনুরোধ করবো, তোমাকে কিন্তু রাখতে হবে, অন্তত চেষ্টা কোরো রাখতে। আমি তো তোমার স্বামী। ধরো স্বামী যদি কখনো সামান্য একটা ভিক্ষা চায়—

    রেখা তাকে জড়িয়ে ধরে বললে, তাই বলে তুমি কাঁদবে? কাঁদছো কেন, কি করেছি আমি?

    আবদুল খালেক কোনো উত্তর না দিয়ে সেইভাবেই উপুড় হয়ে রইলো।

    রেখা নিজেও কেঁদে ফেললে। পাথরের মতো শক্ত আবদুল খালেকর গা ধরে তাকে নড়াবার ব্যর্থ চেষ্টা করে বললে, কাঁদছো কেন, কি করেছি আমি!

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা গল্প
    বইয়ের
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ই-বই
    PDF
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    অনলাইন বুক

    তুমি কিছু করো নি, কেউ কিছু করে নি–

    কাল রাতেও অন্ধকারে বসে বসে সে কাঁদছিলে। কেন এমন করে কাঁদো, হয়েছে কি তোমার?

    আবদুল খালেক বললে, বুঝতে পারি না—

    এভাবে কেউ কথা বলে— রেখা আবদুল খালেকের পিঠ ভাসিয়ে দিয়ে বললে, আমার কাছে তোমার জোর নেই? দাবি নেই? অধিকার নেই? ভিক্ষে চাইবে কেন? আমার কষ্ট হয় না!

    ঠিকই–আবদুল খালেক নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বললে, এভাবে বলাটা আমার ভুল হয়েছে। দিন দিন নিজের কাছ থেকেও যেন দূরে সরে যাচ্ছি। তোমাকে আমি সব বলবো। আগে নিজে বুঝে নিই। এক একবার মনে হয়, আমি কোনো মানুষই নই। পদার্থ বলে কোনো জিনিসই নেই আমার ভেতর। সবটুকু একটা আস্ত গোঁজামিল। জোড়াতালি।

    রেখা বললে, এসব ভাববা কেন! ভেবে কি হয়! কেন তুমি নিজের সঙ্গে এভাবে শত্রুতা করবে

    আরও দেখুন
    কালো বরফ
    Library
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা কমিকস
    বাংলা লাইব্রেরী
    পিডিএফ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা অডিওবুক

    আবদুল খালেক কোনো কথা বলে না। সেই একইভাবে পড়ে রইলো উপুড় হয়ে। তারপর কোনো একসময় ঘুমিয়ে পড়লো।

    দুপুরের দিকে রেখা যখন তার গা ধরে সাড়া দিয়ে জাগালো তখন তার চোখ লাল। তখনো বেশ জ্বর গায়ে। জোর করে একগ্লাস দুধ খাওয়ালো সে।

    আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে শুই? রেখা জিগ্যেস করলে।

    টুকু কই?

    ঐ তো, ঘুমিয়ে—

    শোও তাহলে—

    রেখা আবদুল খালেকের গলা জড়িয়ে শোয়।

    আবদুল খালেক মুগ্ধ গলায় বললে, তোমার গায়ের গন্ধ ভারি সুন্দর। মনে হয় কখনো কোনো মানুষজন মাড়ায় না এমন একটা চুপচাপ নিস্তব্ধ সরু রাস্তা ধরে হাঁটছি, এক চিলতে রোদ নেই, কেবল সারি সারি বকুল গাছের আদুরে ছায়া—

    রেখা বললে, যা সুন্দর করে তুমি বলো, অন্য মেয়েরা শুনলে রোগা হয়ে যাবে—

    খুলি?

    তোমার ইচ্ছে—

    আবদুল খালেক রেখার ব্লাউজের বোতাম খুলে দিয়ে একটা হাত রাখলো সেখানে। বললে, এতো নরম, এতো মায়া!

    রেখা বললে, তোমার ভালো লাগে?

    মরে যেতে ইচ্ছে করে—

    তুমি তো আজকাল দ্যাখোই না। টুকু হবার পর থেকে তোমার যেন আর ভক্তি নেই—

    টুকু যখন তোমার কোলে এলো, তোমাকে দেখলাম, গর্ব হলো, তুমি কি সুন্দরই না হয়েছে। যখন কোলে নিয়ে বসে থাকো, নানান ছলচাতুরি করে তোমাকে দেখি। মনে হয় জীবনভর দেখি। আগে দেখতাম শুধু চোখ দিয়ে, এই প্রথম আমার মন দিয়ে দেখতে শেখা—

    রেখা বললে, রাতে তোমার হাত গায়ে না থাকলে আমার ঘুম আসে না–

    অভ্যেস করেছে বলে হয়তো অমন হয়।

    তুমি চাও না আমি ঘুমাই?

    একশ বার চাই।

    তাহলে অমন কুঁকড়ে হাত-পা মুড়ে শুয়ে থাকো কেন?

    তুমি বললেই পারো।

    আমাকে বলতে হবে? বলতে যাবো কেন। তোমার যদি ভালো লাগে, জোর করবো কেন। পুরনো হয়ে গেলে মেয়েদের কিইবা এমন থাকে।

    আবদুল খালেক বললে, সব থাকে। আমি তো পুরনোই চাই।

    রেখা বললে, আমার বুকটা কেমন যেন শুকিয়ে যাচ্ছে দিন দিন, এতে মন খারাপ হয়।

    মন খারাপের কি আছে?

    যদি তোমার ভালো না লাগে, যদি ঘেন্না হয়—

    আবদুল খালেক বললে, তোমার ওপর আর অত দাবি নেই আমার। অর্ধেক আমি টুকুকে দিয়ে দিয়েছি।

    অনেক পরে রেখা বললে, তোমার ইচ্ছে হয়? কিছু—

    আজ থাক—

    মন ভালো হয়েছে?

    বুঝতে পারছো না?

    কি জানি! তোমার বানান বড় শক্ত। দাঁতের গোড়া নড়ে যায়—

    আবদুল খালেক বললে, এখন আমার খুব ইচ্ছে, তবু লোভটাকে দমন করতে চাই। আমরা কেউ কাউকে এখনো দেখি নি, কেউ কাউকে চিনি না। খুব শিগগির কোনো একদিন আমাদের দেখা হবে। ধরো প্রথম দেখা। দুজনে সারাদিন কাটাবো এক সঙ্গে। সংসারের কোনো কথা হবে না। না ঝগড়াঝাটি, না তর্কাতর্কি, না কোনো কাজের কথা। দেখতে চাই দিনটা কিভাবে কাটে, কেমন লাগে। তারপর হয়তো সবই হবে। কেমন হবে?

    খুব ভালো হবে। কিন্তু কোথায় কিভাবে কাটাবে?

    ধরো একটা নৌকোয় সারাদিন কাটাবো, পারবে না?

    পারবো। খুব আনন্দ হবে—

    ঐদিন আমরা দুজন দুজনের কাছ থেকে শুধু সুখ চেয়ে নেবো, শুধু আনন্দ চেয়ে নেবো, পারতো?

    তুমি পারলে আমিও পারবো–

    আবদুল খালেক রেখাকে বুকের ভেতরে এনে চোখের ওপর একটা গভীর চুমু দিয়ে বললে, এই কথাটাই আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম রেখা, শুধু এইটুকুই।

    তাহলে ভিক্ষের কথাটা তুললে কেন?

    এখন বুঝে দ্যাখো, কিভাবে তোমাকে দিতে হবে–

    অনেক চিন্তা করে রেখা বললে, যদি ভুল হয়ে যায়, বলে দেবে তো?

    আবদুল খালেক হেসে বললে, তোমার কখন ভুল হয়?

    আবদুল খালেক তখন কলেজে, মোমেনাকে দিয়ে নরহরি ডাক্তারকে ডাকিয়ে আনলো রেখা।

    সকালের এই সময়টাই ভীষণ ব্যস্ত থাকে নরহরি ডাক্তার। বেলা বারোটার আগেই বাজার ভেঙে যায়, বাজারের সময়টুকুতে রুগীর ভিড় লেগে যায়, তারপর সব ফাঁকা। তালাচাবি বন্ধ করে তখন কলে বেরিয়ে পড়ে।

    নরহরি ডাক্তার মোমেনাকে বলেছিল, পরে গেলে চলে না? এতো রুগী ফেলে যাই কি করে—

    আপনাকে এখনই যেতে বলেছে।

    রেখা মোমেনাকে বলে দিয়েছিল, একদৌড়ে যাবি। ডাক্তার বাবুকে একেবারে সঙ্গে করে নিয়ে আসবি।

    কি ব্যাপার? নরহরি ডাক্তার চিন্তিত মুখে ঢুকে বললে, আবার ট্রাবল দেখা দিয়েছে নাকি?

    রেখা বললে, আপনি বসুন। শরীর আমার ভালোই আছে—

    নরহরি ডাক্তার রেখার ভেতরে এক ধরনের অস্বাভাবিক চাঞ্চল্য দেখতে পেল। বললে, আমাকে কিন্তু এক্ষুণি উঠতে হবে, বহু রুগী বসিয়ে রেখে এসেছি।

    রেখা জড়িয়ে জড়িয়ে, খুব বিব্রতভাবে বললে, আমি খুব অশান্তিতে আছি ডাক্তার বাবু, আপনাকে কিছু বলবো–

    নরহরি ডাক্তার বললে, তাহলে হাতে সময় নিয়ে পরে আসি?

    রেখা জিদ ধরে বললে, কথাগুলো আমি টুকুর আব্বার সামনে বলতে চাই না। এখানে এমন কেউ নেই, যাকে এসব বলি, এসব বলা যায়। আপনাকে শুনতেই হবে, সেজন্যেই ডেকেছি—

    নরহরি ডাক্তার পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাড়গলা মুছলো। বললে, বেশ, বলুন–

    রেখা দরোজায় পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে দুঃখিত গলায় বললে, আপনার ওখানেই তো সব সময় ওঠা-বসা করে, কিছুদিন যাবৎ ওনার চালচলন লক্ষ্য করেছেন?

    কৈ তেমন কিছু তো দেখি নি।

    কারো সঙ্গে তেমন কথাই বলে না, সবসময় কেমন যেন মনমরা, মনমরা, একা একা থাকে, কি যে চায়, আমি বুঝি না—

    নরহরি ডাক্তার বললে, তা উনি তো সবসময় একটু উদাসীন ধরনের মানুষ–

    আমি তো ওকে চিনি– রেখা জোর দিয়ে বললে, আগে এমন ছিল না। এখন থেকে ও যেন কোনো কিছুতে নেই। দিলে খায়, না দিলে চুপ করে বসে থাকে। রাতভর জেগে জেগে কিসব করে—

    নরহরি ডাক্তার বললে, এই রাত জাগাটাই হচ্ছে ওনার কাল। এতে বায়ুর প্রকোপ বাড়ে, এ্যাসিডিটিতেও ভুগছেন। আসলে উনি একটু রোমান্টিক ধরনের। রাত জাগাটা বন্ধ করাতে হবে আপনাকে।

    রেখা বললে, রাতে একা বসে বসে কাঁদে—

    বলেন কি?

    আমার মনে হয় ও কারো প্রেমে পড়েছে!

    নরহরি ডাক্তার সাপ দেখার মতো চমকে ওঠে বললে, এসব কি বলছেন আপনি? আমি তো বাজারের লোক, তেমন কিছু ঘটলে আগে আমার কানে আসতো কথাটা। এমন চিন্তা করাও অন্যায়, ওনাকে আমি খুব ভালো করেই চিনি–

    আপনারা সবাই আছেন, একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন–রেখা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলল, হয়তো এখন সময় আছে, ফেরানো যাবে। আমার মন ভেঙে গেছে—

    কি আশ্চর্য কথা— নরহরি ডাক্তার বললে, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন, কোনো কিছু হয় নি। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, তেমন কোনো কিছু যদি বের হয়, সোজাসুজি আপনাকেই তা জানাবো। ভাবাও অন্যায়, কি চমৎকার একটা মানুষ। আমার তো আর কারো সঙ্গে তেমন জমে না! ওই ওনার সঙ্গেই যা দুটো কথা হয়, তা নইলে এখানে আর মানুষ কোথায়!

    রেখা বললে, হঠাৎ কি খেয়াল চেপেছে মাথায়, আমাকে নিয়ে নৌকোয় বেড়াতে চায়—

    তা সে তো ভালো কথা!

    আমার ভালো লাগছে না—

    বেড়ানোর শখ তো ওনার সব সময়–নরহরি ডাক্তার বললে, প্রায়ই আমাকেও তো ধরেন। আমার কাজই হচ্ছে ঘোরাঘুরি, সময় করে উঠতে পারি না বলে যাওয়া হয় না। এই তো সেদিন কথা হলো, খুব শিগগির একদিন রাঢ়িখাল বজ্রযোগিনী এইসব দিকে ওনাকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবো।

    রেখা বললে, আমার মন ভালো বলছে না—

    এর ভেতরে আবার কি দেখলেন?

    মনে মনে ও একটা কিছু ঠিক করেছে, এ আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে। এখন আমি ওর গলায় আটকে আছি। যে-কোনোভাবে ও আমাকে সরিয়ে দিতে চায়। কান্নায় আবার রেখার গলা ভেঙে গেল, বললে, অথচ এক সময় আমি ছাড়া আর কাউকে কখনো চিনতো না, মুখ তুলে তাকাতো না কোনোদিকে। কোনো দুঃখ ছিল না আমার। আর আজ, এই একটা ছেলে নিয়ে, কোথায় দাঁড়িয়েছি!

    নরহরি ডাক্তার বললে, এসব কথা আর কাউকে বলবেন না! বলা উচিত নয়। এমনকি আমাকেও বলা উচিত হয় নি। এসব ভেবে নিজের মনের অশান্তি বাড়াবেন না, কি অবস্থায় যে আছেন, খুব ভালো করেই তা বুঝতে পারছি–

    নৌকোর ব্যবস্থাটা আপনি করে দেবেন, ভালো করে বুঝিয়ে বলবেন মাঝিকে, পারবেন না?

    নরহরি ডাক্তার হো-হো করে হেসে বললে, জয় গোবিন্দ! আপনাকে আমার গুরু মানা উচিত, পাগল হয়ে যাবো, আমি পাগল হয়ে যাবো! সে যাকগে, আমি এখন উঠি, বিশ্বাস আছে তো আমার ওপর?

    রেখা বললে, তা না হলে আপনাকে এসব বলবো কেন?

    তাহলে নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে ওনার সঙ্গে বেড়াতে বেরুবেন, যা যা করতে হয় আমি সব করে রাখব, আপনি শুধু যাবেন। ঐ ট্রিপের যাবতীয় খরচ আমার। এই তো আপনাদের দোষ। কোথাও নড়াচাড়া করবেন না, ঘরের কোণায় গোঁজ হয়ে বসে থাকবেন, মন ভালো থাকবে কোত্থেকে! গায়ে একটু আলো-বাতাস লাগাতে হয়। রোজ অন্তত আমাদের বাড়ির দিক থেকেও তো একবার ঘুরে আসতে পারেন।

    নরহরি ডাক্তার ফিরে এসে দেখলো; আবদুল খালেক তারই অপেক্ষায় বসে। জিগ্যেস করলে, কতোক্ষণ?

    এই তো মিনিট পাঁচেক হবে। ঘণ্টা দেড়েকের একটা গ্যাপ, ভাবলাম একটু বসে যাই–

    বসুন আপনি–সিগ্রেটের প্যাকেট বাড়িয়ে দিয়ে নরহরি ডাক্তার বললে, হাতের কাজগুলো একটু হালকা করে নিই। রুগী বিদায় করতে করতে প্রায় ঘণ্টাখানেক কেটে যায়। সামনের দোকানে চায়ের কথা বলে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বললে, খুব দেখালেন সেদিন, আমি তো গিয়ে বোবা–

    আবদুল খালেক বললে, ওষুধটা পাই নি।

    তা না পান, আমি তো ছিলামই, কি যে করেন আপনি!

    এই সময় একটি লোক এসে দাঁড়ায় সামনের খুঁটি ধরে। নরহরি ডাক্তার এক তাড়া মেরে বললে, আবার কি? তুমি তো আজব মানুষ হে? যা করার ছিল করেছি, এখন আর আমার হাতে কোনো চিকিৎসা নেই। খামোকা ফেউ লাগো কেন পেছনে! সোজা ঢাকায় নিয়ে যাও, হাসপাতালে ভর্তি করাও, আর কোনো রাস্তা নেই–

    আবদুল খালেকের হাত থেকে দেশলাই নিয়ে নরহরি ডাক্তার বললে, এগুলো একটাও মানুষ না, সব জানোয়ার! ঘরের বউগুলোকে এরা গরুছাগলের বেশি কিছু মনে করে না। এদের আর কি, ভোগান্তি হয় বেচারা বউগুলোর।

    আবদুল খালেক জিগ্যেস করলে, কি, হয়েছে কি?

    প্রল্যাপস্ অব ইউট্রাস! বিশদিনও হয় নি বাচ্চা বিইয়েছে বৌটা, তাকে পাঠিয়েছে বাড়ি বাড়িতে ঢেঁকিতে পার দিতে, কতো বড় অমানুষ!

    আবদুল খালেক বললে, আমাকে নোভালজিন দেবেন। একটু ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো লাগছে—

    সে হবেখন, নরহরি ডাক্তার বললে, ভাবী ডেকে পাঠিয়েছিলেন। নৌকো ঠিক করে দেবার জন্যে–

    বলেন কি!

    আশ্চর্য হবার কি আছে এতে। বললেন, এই বর্ষার পানিতে একদিন নৌকায় করে বেড়াতে চান, অনেকদিনের ইচ্ছে নাকি। বললেন ভালো দেখে একটা নৌকোর বন্দোবস্ত করে দিতে। আপনার ওপর ভরসা নেই আর কি, কি বুঝলেন।

    আমিও আপনাকে বলতাম।

    তা কবে যেতে চান?

    যে-কোনোদিন, তবে বন্ধের মধ্যে হলেই ভালো হয়—

    আপনাদের কলেজ তো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?

    আরো হপ্তাখানেক খোলা আছে, তারপর দেড় মাসের ছুটি। কালকের ব্যবস্থাও করতে পারেন, একটা মাত্র ক্লাস, নেবো না দরকার হলে—

    কাল যেতে চান?

    বন্দোবস্ত হলেই যাই—

    ঠিক আছে, আমি সব ব্যবস্থা করে রাখবো। আজ রাতেই মরণ ঢালিকে বলবো। বেরুবেন কখন?

    ধরুন সকালের দিকেই—

    ঠিক আছে।

    একটু পরে নরহরি ডাক্তার বললে, তা ছুটিটা কাটাবেন কোথায়?

    আবদুল খালেক বললে, কোথায় আর যাবো, এখানেই থাকবো। ঢাকায় গেলেই খরচ, অতো টাকা কোথায়!

    খরচ তো এখানেও আছে, নরহরি ডাক্তার বললে, এই-তো আজ সকালেই, দেড় বিঘত একটা গৰ্মার দাম চাইলো পচিশ টাকা,এসব এক সময় ফেলা যেত।

    আবদুল খালেক বললে, জীবন বাঁচানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন—

    তবে একটা কথাও আছে, পাহাড় মনে করলেই পাহাড়, তুলো মনে করলেই তুলো, যে যেভাবে নেয়। হিসেব করে দেখলে বুঝতে পারবেন, কত মানুষের চেয়ে আমরা ভালো আছি। কোনো না কোনোভাবে জীবন চলেই, কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে না। এখানকার রুগীদের কথাই ধরুন। স্রেফ কারমিনেটিভ আর এ্যালকালি মিক্সচারে তাদের জীবন চলে যাচ্ছে। টিনচার কার্ডকো নেই, পট সাইট্রাস নেই, তাতে কি, ধুমসে কারমিনেটিভ দিয়ে যাচ্ছি, এ্যালকালি দিয়ে যাচ্ছি, ধড়াধড় ভালোও হয়ে যাচ্ছে, একবার ভেবে দেখুন ব্যাপারটা। যারা দশজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে চায়, তাদের কথা অবশ্য আলাদা। তার জীবনের ঘাটতি ছাড়া আর কিছুই দ্যাখে না, দেখতে পারে না।

    আবদুল খালেকের মনে হলো তার বিশেষ কিছুই বলার নেই। পট সাইট্রাসের অভাবে এ্যালকালি চলে, হয়তো রোগও সারে, কিন্তু তার নিজের কাছে জীবন জিনিসটি এমন, সামান্য একটা অভাব সেখানে সবকিছু তছনছ করে দিতে পারে। এক একজনের কাছে এক একটা দিক বড়, সেখানে সে কোনো ঘাটতির কথা ভাবতেই পারে না, সুতোর সামান্য একটু টানে সবকিছু যেখানে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। একটা গৰ্মার দাম একশো টাকায় উঠলে তার কোনো মাথাব্যথা নেই, সে তখন মাছ খাওয়ার অভ্যেসটাকে টুক করে ফেলে দেবে, ভাববে, যাক, বাঁচা গেল। কিন্তু কেউ যদি তাকে হেলাফেলা করে, তাচ্ছিল্য করে, বলে তোমার মতো লোক দুদশটা আমার পকেটে থাকে সবসময়, তখন হয়তো তার আত্মহত্যার কথা মনে হবে। অথচ সে নিজে জানে, সে এমন কোনো মাথাওয়ালা লোক নয়, হাতি-ঘোড়া-বাঘ-ভালুক নয়, পকেটে থাকা জীব, এইমাত্র। বিয়ের আগে সে ভাবতো, প্রেম ছাড়া জীবন অচল, এখন মনে করে ওটা একটা ভোঁতা ধারণা, জীবনে এর কোনো প্রয়োজনই নেই, বরং একটা বিড়ম্বনা। বিড়ম্বনা এই জন্যেই, এর কোনো রয়ে-সয়ে চলার ক্ষমতা নেই, এ শুধু আড়ম্বর চায়, লোক দেখানো বৈভব চায়।

    নরহরি ডাক্তার বললে, বাইরে থেকে দেখে আমাকে কি মনে হয়, বেশ ভালো আছে লোকটা, দিব্যি দুটো করে খাচ্ছে, কোনো সমস্যা নেই। ব্যাপারটা কি সে রকম? পরপর দুদিন চুনোপুঁটি দিয়ে দায় সেরেছি, ভেতরে ভেতরে ইচ্ছে, যে দামই হয় মাছ আজ কিনবোই। গোটা বাজারে একটা মাত্রই গর্মা। দাম করছি, পেছন থেকে কেউ একজন টিটকারি মেরে উঠলো, ব্যাটা মালাউনের জন্যে বাজারে মাছ কেনার উপায় নেই, টাকার গরম দেখায়। এর কোনো মানে আছে? ভালো খাওয়ার উপায় নেই, ভালো পরার উপায় নেই, ভালোভাবে থাকার উপায় নেই, অথচ ক্ষমতা আছে, এভাবে মানুষ টিকতে পারে! দুদিন অন্তর ডাকাতি। একবার তো মুখের ওপর তারা বলেই ফেললে, যাও না শালা, পড়ে আছো কেন, তোমার বাপের দেশে যাও। তবু মাটি কামড়ে পড়ে আছি। নিজেকে এই বলে প্রবোধ দিই, অনেকের চেয়ে ভালো আছি। বেঁচে থাকতে হলে কিছুটা কম্প্রোমাইজ তো করতেই হয়–

    আবদুল খালেক বললে, কিছুটা নয়, বোধহয় সবটাই কম্প্রোমাইজ—

    ঐ একভাবে চালিয়ে নিতে হয় বেহায়ার মতো। আমার তো ধারণা, বিদ্যাফিদ্যা জ্ঞানট্যান জীবনে কখনো কাজে লাগে না। ওগুলোর জন্যে খামোকা মানুষ নিজেকে অপব্যয় করে। কালকে কলে বেরিয়েছি, পথে খুব ইচ্ছে হলো এক কাপ চা খাই। মাঝিকে বললাম, নৌকো ভেড়াবে চায়ের দোকান পেলে। এক সময় খালের পাশে নৌকো ভিড়িয়ে সে গেল চা আনতে। চুমুক মেরে দেখি অপূর্ব চা, মাঝিকে বললাম, কোন্ দোকান থেকে এনেছে গো, খুব ভালো তো! সে কি বললে জানেন? বললে প্রথমে যে চা দিয়েছিল সে আপনি মুখে দিতে পারতেন না, গরুর চোনাও তার থেকে ভালো বরং। যখন মিথ্যে করে বললাম নৌকোয় ওসি সাহেব আছে, বেরুল স্পেশাল পাত্তি, এখন বুঝুন। মাঝিটা গোমুখ্য, তবু খুব সহজেই সে একটা সমস্যার সমাধান করে ফেললো। জীবনের সবকিছু এই হালকা চালে নিতে পারাটাই ভালো–

    আবদুল খালেক উঠে দাঁড়িয়ে বললে, আর বসবো না, ক্লাস নিতে হবে এবার, আপনি নোভালর্জিন দিন!

    নরহরি ডাক্তার অসহিষ্ণু হয়ে বললে, এই তো আপনাদের এক দোষ, রোগটা কি না বুঝেই আন্দাজে ওষুধ গেলা কি ভালো? নিজেরা আন্দাগোন্দা নিজেদের ওপর ডাক্তারি চালাবেন না, যেকোনো সময় বিপদ ঘটে যেতে পারে, না-কি মিথ্যে বলছি!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক
    Next Article অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }