Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাল তুমি আলেয়া – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প766 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাল তুমি আলেয়া – ১৯

    উনিশ

    পরের দিন উৎসব।

    আগের দিন সকাল থেকেই উৎসবের হাওয়া লেগেছে। কর্মচারীদের উদ্দীপনা প্রায় উত্তেজনার মতই। ধীরাপদর যতখানি মানসিক যোগ থাকার কথা আগামী দিনটার সঙ্গে ততটা নেই। বেলা তিনটে থেকে উশখুশ করছিল সে। পাঁচটা বাজলেই উঠবে। সোজা চারুদির বাড়ি যাবে। কদিনই যাবে যাবে করে গিয়ে উঠতে পারেনি। আজ পাঁচটা বাজলেই পালাবে। কিন্তু তার আগেই না বাড়ি থেকে বড় সাহেবের তলব আসে। কাল ভাষণ পাঠ করবেন তিনি। কাগজপত্র সব তাঁর টেবিলে গুছিয়ে রেখে এসেছে।

    শরীর ভালো থাকলে ভালো করে একবার পড়ে দেখবেন হয়ত। পড়লে নতুন করে আবার টনক নড়তে পারে। তখন ডাক পড়তে পারে। আবার না-ও হতে পারে। ধীরাপদকে বড় বেশি বিশ্বাস করেন। দেখবেন না ভাবতেও অস্বস্তি, ধীরাপদ চায় দেখুন, পড়ন। পড়ে যা করার তিনি নিজে করুন। সে আর ডাকাডাকি কাটাকাটি বাদ- প্রতিবাদের মধ্যে মাথা গলাতে চায় না।

    টেলিফোনে তলব একটা এলো। বড় সাহেবের ওখান থেকেও নয়, চারুদির বাড়ি থেকেও নয়। টেলিফোন রমণী পণ্ডিতের।

    এক্ষুনি একবার সুলতান কুঠিতে আসতে হবে ধীরাপদকে। দিনেদুপুরে তার ঘরের তালা খুলে চোর ঢুকেছিল। চোর ধরা পড়েছে। একাদশী শিকদার দেখতে পেয়ে চেঁচামেচি করে উঠেছিলেন। চোরটা শুকলাল দারোয়ানের ঘরের পাশ দিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। থানা অফিসার এখন ঘরের মালিকের এজাহার চান একটা, সব ঠিক আছে না কিছু খোয়া গেছে—তাঁকে জানিয়ে আসতে হবে।

    কি ভেবে ধীরাপদ অমিতাভকে টেলিফোনে খবরটা দিল। সুলতান কুঠিতে তার ঘরে চোর ঢুকেছিল, ধরা পড়েছে, এখন পুলিসের টানা-হেঁচড়া— তাকে এক্ষুনি যেতে হচ্ছে। ধীরাপদর নিজের বিবেচনার ওপর আস্থা আছে। খবরটা জানিয়ে ভালো করেছিল। পরে নিজেই নিজের বুদ্ধির তারিফ করেছে।

    চোর ঘরের তালা ভেঙেছিল বলে একটুও উতলা হয়নি সে। নেবার মত কি-ই বা ছিল! নেহাত বোকা চোর বলে তার ঘরে ঢুকেছে আর দুর্ভাগ্য বলে ধরা পড়েছে।

    কদমতলার বেঞ্চিতে পাড়ার গুটিকয়েক মুখ চেনা ছেলে-ছোকরার সঙ্গে রমণী পণ্ডিত বসে। চুরি নিয়েই জটলা বোধ হয়। ওদিকে ঘরের সামনের বারান্দায় উমা দাঁড়িয়ে। তাকে দেখে চট করে ঘরে ঢুকে গেল।

    রমণী পণ্ডিতের উত্তেজনা কমেনি তখনো। তারই অপেক্ষায় ছিলেন হয়ত। তাড়াতাড়ি উঠে এসে চুরির বৃত্তান্ত ফেঁদে বসলেন। খুব রক্ষা হয়েছে। যোগাযোগ ছাড়া আর কি! নইলে একাদশী শিকদারের সেই মাসে একদিন সেজেগুজে বেরুবার দিনটা পড়বি তো পড় আজই গিয়ে পড়ল কেন? ফেরার মুখে ঘরে তালা না দেখে তিনি দরজা ঠেলেছিলেন। চোর তখন বাক্স ভেঙে কি নেওয়া যেতে পারে গোছগাছ করছে। শিকদার মশাই চোর চোর বলে আর্তনাদ করতে করতে ছুট। গণুবাবুও বাড়ি ছিলেন—তিনিও চেঁচামেচি করে চোরের পিছু ধাওয়া করেছেন। শুকলাল দারোয়ান চোরটাকে দু হাতে জাপটে ধরে ঘায়েল করেছে। গায়ে জোর আছে বটে লোকটার। ….ছিঁচকে চোর। মোটেই না। গাঁট্টা-গোট্টা অবাঙালী চোর, নিশ্চয় আগেভাগে সব জেনে তৈরি হয়ে এসেছিল, নইলে ঘরের তালা খুলল কি করে?

    ঘরে এখন পেল্লায় তালা ঝুলছে একটা। উমা চাবি হাতে দাঁড়িয়ে। সোনাবউদির তালা, তিনিই চাবি দিয়ে মেয়েকে পাঠিয়েছেন বোঝা গেল।

    কি রে, কেমন আছিস?

    কিন্তু উমা তার আপ্যায়নে ভুলল না। চাবি দিয়ে মুখ গোঁজ করে চলে গেল। তার রাগের হেতু আছে। প্রত্যেক শনিবারে আসার কথা, ক’টা শনিবার গেল ঠিক নেই। চুরি কিছু যায়নি জানাই ছিল। তোরঙ্গটা ভাঙা, লণ্ডভণ্ড অবস্থা, এই যা। ঘর বন্ধ করে পাশের ঘরে ঢোকার ইচ্ছে ছিল ধীরাপদর। কিন্তু রমণী পণ্ডিত তাকে থানায় টেনে নিয়ে চললেন। থানা অফিসার অপেক্ষা করছেন।

    আসলে চুরি-পর্বের ফিরিস্তি দেওয়া শেষ হয়নি তাঁর। মজা পুকুরের ধার দিয়ে যেতে যেতে বললেন, চুরি তো চুরি, এদিকে কি কাণ্ড জানেন? একেবারে অবাক কাণ্ড—

    ধীরাপদ উদগ্রীব। এদিক বলতে সোনাবউদির দিক ছাড়া আর কোন দিক? কিন্তু না, অন্যদিকই বটে। একাদশী শিকদারের দিক।

    শুনল। সত্যি হলে অবাক কাণ্ডই বটে। চোর ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে কত লোক জুটে গিয়েছিল ঠিক নেই। তারপর কি মার–কি মার। সেই মার দেখলে গা ঘুলোয়। নাক মুখ দিয়ে গলগলিয়ে রক্ত বার হচ্ছিল লোকটার। একেবারে আধমরা না করে কেউ ছাড়ত না বোধ হয়। মার বন্ধ হল একাদশী শিকদারের জন্য। তার দিকে চোখ পড়তে সকলে অবাক। দু হাত মাথার ওপর তুলে নাচছিলেন তিনি। সত্যি নাচছিলেন না, কাঁপছিলেন। আর সকলকে মারতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ বেরুচ্ছিল না। রাগে ত্রাসে আতঙ্কে গোঁ-গোঁ শব্দ করছিলেন। আর শুন্যের মধ্যে হাত ছুঁড়ছিলেন। সে মূর্তি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না নাকি।

    সে মূর্তি না দেখুক, যতটা ধীরাপদ দেখেছে তাতেও অবাক। থানায় এজাহার দিয়ে ধীরাপদ ফিরে এসে দেখে কদমতলার বেঞ্চ-এ একা বসে একাদশী শিকদার তামাক খাচ্ছেন। ওকে দেখে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন।

    রমণী পণ্ডিত কাজের অছিলায় নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন। এখন আর এঁদের মধ্যে বাহ্যিক অন্তরঙ্গতাটুকুও আছে বলে মনে হল না। ফেরার পথেও রমণী পণ্ডিতের কালো মুখখানা অনেকবার কৌতূহলে হকচকিয়ে উঠতে দেখা গেছে। ধীরাপদকে জিজ্ঞাসা করেছেন, একটা অবাঙালী চোরের জন্যে এত দরদ ভদ্রলোকের … কি ব্যাপার বলুন তো?

    চোখের সামনে আসুরিক মারধর দেখাটা সহ্য হয় না অনেকের। কিন্তু শিকদার মশাইকে দেখে কেমন যেন লাগল। ভদ্রলোকের সমস্ত শিথিল স্নায়ুর ওপর দিয়ে বড় রকমের ঝড় গেছে একটা। এখনো তার জের চলছে। শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে পারছেন না, শুকনো হাড় বার করা মুখের মধ্যে চোখের দৃষ্টিটা এখনো অস্বাভাবিক।

    থানায় গেছলে?

    হ্যাঁ, আপনার জন্যেই কিছু খোয়া যায়নি শুনলাম।

    কানে গেল না বোধহয়। জিজ্ঞাসা করলেন, লোকটাকে দেখলে? একেবারে গেছে না বেঁচে আছে?

    ধীরাপদকে দেখতে হয়েছে। থানা অফিসার দেখিয়েছেন। যদিই চেনা মুখ হয়। কুৎসিত-দর্শন মূর্তি, নাম ছোট্টু নাকি—লোকটা গরাদের ওধারে মেঝেতে শুয়ে ধুঁকছিল। তার সামনেই থানা অফিসার আর একদফা জেরা করেছেন। ভাঙা বাংলা বলে। চাবি সারাইয়ের পেশা ছিল, ওতে পেট চলে না তাই এ রাস্তা ধরেছে।

    ….ওই লোকের জন্য ও-রকম দরদ খুব স্বাভাবিক নয় বটে। ধীরাপদ আশ্বস্ত করল, না, বেঁচেই আছে।

    শিকদার মশাইয়ের ত্রাসের ঘোর কাটেনি। বিড়বিড় করে বললেন, কি মার মারলে ওরা লোকটাকে, দেখলে তোমার মাথা খারাপ হয়ে যেত। মারের চোটে রক্তে ভেসে যাচ্ছে, মাটিতে গড়াগড়ি করেছে—তবু মারছে। লোকে মেরে যে কি সুখ পায় এত বুঝিনে। আনন্দে কাড়াকাড়ি করে মারা।

    দু চোখ ছলছলিয়ে উঠেছিল শিকদার মশাইয়ের, পরক্ষণে সেই ঘোলাটে চোখেই ক্রোধের আভাস দেখা গেছে।—আমিই তো চেঁচামেচি করে চোর ধরিয়েছি, তা বলে মারের বেলায় এত বীভৎস আনন্দ তোদের? এভাবে যারা মারতে পারে তারা কি খুব সাধু পুরুষ? বলো তো বাবা? তোরাই এমন মার মারবি যদি থানা পুলিস আছে কি করতে?

    ধীরাপদ অবাক হচ্ছিল আর ভাবছিল, মানুষের ভিতর চিনতে তার অনেক বাকি এখনো।

    সেই অমানুষিক মার দেখে শিকদার মশাইয়ের ভিতরটা ভালো ভাবেই নাড়াচাড়া খেয়ে থাকবে। বললেন, আমি থামাতে চেষ্টা করেছিলাম বলে ওই ওঁরা আবার আমার ওপরেই মারমুখী—ওই ঘরের গণুবাবু আর রমণী পণ্ডিত। গণুবাবুর কথা ছেড়েই দিলুম, তিনি চাকরি-বাকরি করছেন—কিন্তু রমণী অত সাধুগিরি ফলায় কি করে? তার কি করে দিন চলে কে না জানে? ওই গণুবাবুকেও তো ভালোমানুষ পেয়ে ভাঁওতা দিয়ে রশ করেছিস তুই।

    শিকদার মশাইয়ের এ ধরনের কথাবার্তাই বেশি চেনা। রমণী পণ্ডিতের কি করে দিন চলে ধীরাপদর অন্তত জানা নেই-জানার বাসনাও নেই। আর, গণুদাকেও নিশ্চয় তেমন ভালোমানুষ মনে করেন না শিকদার মশাই—শুধু ধীরাপদর খাতিরে ওটুকু সতর্কতা অবলম্বন

    উমা আবার বাইরে এসে দাঁড়াতে ধীরাপদ তাড়াতাড়ি প্রস্থান করে বাঁচল। উমার হাত ধরে ঘরে ঢুকে গেল।

    ওধারের ছোট ঢাকা বারান্দায় বসে সোনাবউদি কেট্‌লি থেকে চা ছাঁকছিল। এক নজর দেখে নিয়ে বলল, ওখানকার বাসিন্দেদের আদর-আপ্যায়ন শেষ হলে পাছে ধুলোপায়েই চলে যান সেই জন্যে মেয়েটাকে আবার পাঠালাম ডাকতে—

    ধীরাপদর ইচ্ছা হল বলে, আজ রাতটার মতই এখানকার বাসিন্দা হয়ে থাকার বাসনা। বলা গেল না। সোনাবউদিকে অনেক সময় অনেক কথাই বলা যায় না। এদিকে উমারাণী মান-অভিমানের পালাটা তাড়াতাড়ি সেরে নেবার জন্য ব্যস্ত। মা এসে বসলে তাকে উঠতে হবে জানে। বড়দের কথার মাঝে ছোটদের বসে থাকা নিষেধ। উমা মুখ মুচকে বলল, এই তোমার প্রত্যেক শনি-রবিবারে আসা?

    তার ভাই দুটোও দুদিক থেকে ছেঁকে ধরেছে। ধীরাপদ আগে তাদের আদর করল। তারপর গলা নীচু করে উমারাণীকে কৈফিয়ৎ দিতে বসল, কি ভয়ানক বিচ্ছিরি কাজের ঝামেলা চলেছে তার। সোনাবউদি চা আর খাবার দিয়ে গেল। খাবারের পরিমাণ প্রায় আপত্তি করার মতই। কিন্তু ভরসা করে আপত্তি করল না। সোনাবউদি দাঁড়াল একটু, তারপর ঢাকা বারান্দায় ফিরে গিয়ে ছেলেমেয়ের খাবার গোছাতে লাগল। হয়ত বা মেয়েটাকেই আর একটু গল্প করার অবকাশ দিল।

    ধীরাপদ গল্প করছে। যেখানে থাকে সেটা বিচ্ছিরি জায়গা, আর লোকগুলোও দিনরাত কত খাটায় তাকে। গল্পের মাঝে ওদের মুখেও খাবার চালান করছে, নিজেও খাচ্ছে। নিজের দুঃখের ফিরিস্তি শেষ করে উমারাণীর পড়াশুনার খোঁজখবর নিতে লাগল। চোখ দুটো মাঝেমাঝেই ঢাকা বারান্দার দিকে ঘুরে আসছিল। সোনাবউদি ওদিক ফিরে হাতের কাজ সেরে রাখছে মনে হতে গলা খাটো করে উমাকে জিজ্ঞাসা করল, তোর বাবা কোথায় রে?

    উমা ঘাড় বাঁকিয়ে চট করে তার মাকে একবার দেখে নিল, তারপর প্রায় কানে কানে বলল, মায়ের ওপর রাগ করে অফিসে চলে গেছে… ভট্টচার্য মশায়ের চোরের ওপর মায়া দেখে দাওয়ায় দাঁড়িয়ে বাবা আর পণ্ডিতমশায় খুব হাসাহাসি কচ্ছিল আর কি বলাবলি কচ্ছিল, তাই শুনে মা বাবাকে ঘরে ডেকে যাচ্ছেতাই বকল আর বাবাও রাগ করে চলে গেল।

    ধীরাপদ তাড়াতাড়ি প্রসঙ্গ বদলাতে চেষ্টা করল। জিজ্ঞাসা করল, তুই মারধর কেমন খাচ্ছিস আজকাল?

    জবাব দেওয়া হল না। সোনাবউদি ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে। মেয়ের দিকে চেয়ে ভুরু কোঁচকালো একটু, নালিশ হচ্ছে বুঝি?

    ধীরাপদ মাথা নাড়ল।—না, আপনি আদর কেমন করেন আজকাল জিজ্ঞাসা করছিলাম।

    কাকে? সোনাবউদির দু চোখ তাকেই চড়াও করল।

    ধীরাপদ থতমত খেয়ে হেসে ফেলল।

    সোনাবউদির মুখে হাসির আভাস দেখা গেল কি গেল না। মেঝেতে বসল। মেয়েকে বলল, খেয়ে নিগে যা, ওদের নিয়ে যা-

    এক কথা দুবার বলার দরকার হয় না। ছেলে দুটো পর্যন্ত দিদির সঙ্গ ধরে ঢাকা বারান্দার দিকে চলল। সোনাবউদি বলল, বাড়িতে চোর ঢোকাতে এই একটা মেয়েই খুশি হয়েছিল, ধীরুকা আসবে শুনেছে—

    আর কোন অভিযোগ না, এতদিন না আসার দরুন কোনো ঠেসও না। তবু ধীরাপদ কৈফিয়ৎ নিয়ে প্রস্তুত মনে মনে।

    সোনাবউদি ভালো করে চেয়ে দেখল এবারে।—তারপর, আছেন কেমন?

    একটুও ভালো না। কাজের চাপে—

    সেসব তো মেয়েকে একদফা বললেন শুনলাম। ভালো না কেন, এতদিনেও সুবিধে-টুবিধে হল না একটু?

    ধীরাপদ হাসিমুখেই মাথা নাড়ল। হল না।

    আপনার আর সুবিধে হবেও না কোনো কালে, ঠাণ্ডা মাটিতে গড়াগড়ি করেই কাটবে—আরো দু-চার দিন রাতদুপুরে চান-টান করেছেন নাকি?

    ধীরাপদর আচমকা দম বন্ধ হবার দাখিল। এ পর্যায়ের আক্রমণ হবে জানলে চুরি ছেড়ে ডাকাতি হয়েছে জানলেও আসত না। ওকে কথার বড়শীতে আটকে সোনাবউদি এতক্ষণে মুখ টিপে হাসল। রাতদুপুরে চান করে মাটিতে গড়াগড়ি করাটাই শুধু দেখেছে, না সেই এক দুর্বহ রাতে আরো কিছু তার চোখে পড়েছে, মনে হলে আজও মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ইচ্ছে করে ধীরাপদর।

    যাক, আর কি খবর বলুন? সোনাবউদি জিজ্ঞাসা করল।

    খবর নেই। আপনি কেমন আছেন?

    খুব ভালো।

    কিন্তু ভালো মনে হচ্ছে না ধীরাপদর। হালকা কথাবার্তা সত্ত্বেও মুখখানা শুকনো লাগছে সোনাবউদির। শরীর বিশেষ করে মনের ওপর দিয়ে একটানা কোনো ধকল গেলে যেমন দেখতে হয়। এখন তেমন গম্ভীর না হোক, হাসিখুশিও না। এক-এক সময় যেমন দেখত তেমনটি নয়। সে-ও এবারে সোজাসুজি নিরীক্ষণের ফাঁকে মন্তব্য করল, খুব ভালো লাগছে না!

    সোনাবউদি নিজের প্রসঙ্গ এড়াতে চায়। চকিত অসহিষ্ণুতার অভিব্যক্তি একটু। ঠাট্টার সুরেই বলল, খুব ভালো না লাগাই ভালো।

    কিন্তু ধীরাপদ জানতেই চায়। এতদিন বাদে এলেও সে বাইরের লোকের মত আসেনি, বাইরের লোকের মত চলেও যাবে না। সমাচার বুঝতে হলে গণুদাকে টানা দরকার। একটু আগে উমার ফিসফিসিনিও কানে গেছে কি না কে জানে! সোনাবউদির কতদিকে কটা করে চোখ কান ধীরাপদ আজও হদিস পেল না। জিজ্ঞাসা করল, গণুদা কোথায়? তখন ছিলেন শুনলাম—

    ছিলেন। আপনি আসছেন শুনে বেরিয়ে গেলেন। জবাবটার আরো একটু বিশ্লেষণ প্রয়োজন বোধ করল হয়ত। বলল, যাবার আগে আপনি সেই বলে গিয়েছিলেন, একটা শনি-রবিবারে এসে ধরবেন, সে কথা বলে আমিও শাসিয়ে রেখেছিলাম।…তাই।

    জবাব এড়ানো গেল, চোখের বার হলে মনের বার—সেই ঠেসও দেওয়া হল। অবতরণিকার উদ্দেশ্যটাই ভুল হয়ে গেল ধীরাপদর। সেই পুরনো বিস্ময়। ঠোঁটের ডগায় এভাবে জবাব মজুত থাকে কি করে? আজও মুখের দিকে হাঁ করে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। কিন্তু তা-ও নিরাপদ নয়। একটু আগে ভাইদের নিয়ে উমা বাইরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ধীরাপদর ইচ্ছে হল তাকেই ডাকে। ডেকে সোনাবউদিকে বুঝিয়ে দেয়, সে হার মানল।

    সোনাবউদির কাজের কথা মনে পড়ল যেন। বলল, এবারে আমাকে রেহাই দিন তো, আপনার ঘরে কি আছে নিয়ে-টিয়ে যান, আর ঘরটার কি ব্যবস্থা করুন-এর পর আবার কখন কি হয় ভয়ে বাঁচি নে।

    মাথা নেড়ে ধীরাপদ সায় দিল। বলল, ভয়ে ভয়ে আপনাকে আধখানা দেখাচ্ছে—

    মুখের চাপা শুকনো ভাবটা মিলোবার উপক্রম এতক্ষণে। হাসিটাও তাজা লাগছে। বলল, না, আমার ভালো লাগে না, যা হয় ব্যবস্থা করুন।

    ব্যবস্থা ঠিকই আছে, রমণী পণ্ডিতকে ও-ঘরে এসে থাকতে বলব ভেবেছি, পাশাপাশি থাকলে গণুদার সুবিধে হবে।

    সোনাবউদি হেসেই ফেলল, বলল, আপনার যেমন বুদ্ধি, এতখানি চোখের ওপর থাকতে হলে সুবিধের বদলে চোখে অন্ধকার দেখবে দুজনেই।

    মাথা নেড়ে ধীরাপদ সেই অসুবিধাটাও স্বীকারই করে নিল।—তাহলে গণুদাকেই থাকতে বলি।…সপ্তাহে আজকাল ঠিক কদিন করে ঘর থেকে তাড়াচ্ছেন ভদ্রলোককে?

    আশা, এমনি লঘু কথাবার্তার ভিতর দিয়েই যদি নিভৃতের সমাচার কিছু বোঝা যায়। তার বোঝার অধিকার আছে, দাবি আছে। প্রায় আগের মতই লাগছে সোনাবউদিকে, চোখ পাকিয়ে চেয়ে আছে তার দিকে।— আপনার সাহস তো কম নয় দেখি!

    হবে না…কত বড় চাকরি করি!

    সোনাবউদি হাসতে লাগল। উন্নতি হয়েছে দেখছি। আপনি বড় চাকরি করেন তাতে আমার কী?

    হাসছে ধীরাপদও। এই হাওয়াটা আরো খানিকক্ষণ জিইয়ে রাখতে পারলে হয়ত সরাসরি খোঁজ নিতে পারত, গণুদা এখনো মদ খায় কিনা, গাঁজা খায় কিনা, জুয়া খেলে কিনা, রেসএ যায় কিনা। ওর দাবির দিকটা উপলব্ধি করানো গেলে সোনাবউদি নির্দ্বিধায় বলত সব, বলে হালকা বোধ করত।

    কিন্তু তা হল না, তার আগেই সোনাবউদির মুখের হাসি গেল। ঝুঁকে হঠাৎ দরজার দিকে তাকালো। দরজার ওধারে কেউ সসঙ্কোচে দাঁড়িয়ে। ধীরাপদও ঝুঁকে দেখতে চেষ্টা করল।…শাড়ির আভাস।

    ঈষৎ তীক্ষ্ণকণ্ঠে সোনাবউদি ডাকল, কে ওখানে—এদিকে আয়!

    রমণী পণ্ডিতের মেয়ে কুমু। দরজায় এসে দাঁড়াল।

    ধীরাপদ অবাক। সেই কুমু…! পণ্ডিতের দিন চলে না, ভালোমত খেতে পায় না, কিন্তু মেয়ের চেহারায় তো দাক্ষিণ্যের ঘাটতি ঘটছে না কিছু। এরই মধ্যে বয়সই বা কত হল সেই কুমুর? শেষ কবে দেখেছিল? বাপের শাসনের তাড়নায় যেদিন ওর পায়ে মুখ গুঁজে কেঁদেছিল— সেই দিন। অনেক দিনই বটে। তারপর থেকে কুমু উবে গিয়েছিল তার চোখের সামনে থেকে। আজ আবির্ভাব। এই আবির্ভাবে জোরালো ঘোষণা আছে কিছুর। একদিন বাবার কাছে নালিশ করে বোকার মত যে হেনস্থা করা হয়েছিল তার, এটা যেন তারই জবাব।

    কিন্তু আপাতত কুমুর মুখখানা শুকনো। সেটা কার ভয়ে ধীরাপদ অনুমান করতে পারে। সোনাবউদির দৃষ্টিটা সদয় নয় খুব।—ওখানে চোরের মত দাঁড়িয়ে কেন? কি বলবি?

    শুকনো ঠোটের ওপর জিব বুলিয়ে কুম্ আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করল কোন প্রকারে।…ধীরুকা আজ থাকবেন কিনা বাবা জানতে পাঠালেন, তাদের ঘরে যদি একবারটি আসেন…বাবার কথা ছিল।

    সোনাবউদির গলার স্বর একটুও নরম হল না, বরং আরো একটু কঠিন, ঝাঁজালো শোনালো।—বাবা জানতে পাঠালেন তো তোর এই ফাঁসির মুখ কেন? কি জানার আছে জেনে যা—

    নিরুপায় দু চোখ মেলে কুমু ধীরাপদর দিকে তাকালো শুধু। ধীরাপদরও হঠাৎ কি জানি কি হল। বিরস গম্ভীর জবাব দিল, আজ সময় হবে না, তাড়া আছে। আর একদিন শুনব।

    কুমুর প্রস্থান। নিজের মেজাজের পরিবর্তনটা সোনাবউদি নিজেও টের পাচ্ছিল বোধ হয়। অসহিষ্ণু হাসিটুকুও ক্ষোভের মত। কিন্তু সে মাত্র মুহূর্তের জন্য। চোখ দুটো ধীরাপদর মুখে এসে থেমেছে আবার।—মেয়েটাকে অনেক দিন পরে দেখলেন বুঝি?

    অর্থাৎ, কুমুর আবির্ভাবে ধীরাপদর নীরব অভিব্যক্তিটুকুও চোখ এড়ায়নি। ঘাড় নাড়ল। তাই।

    কেমন দেখলেন? আলতো প্রশ্ন।

    ভালই তো…। হাসি ঠিক নয়, হাসার চেষ্টা

    কিন্তু সোনাবউদি হাসছে না আর। গম্ভীর। মাথা নেড়ে সায় দিল আগে। তারপর বলল, মেয়েদের এ বয়েসটা ভালো লাগার বয়েস…ভালো লাগলে লোকে সেধে উপকার করতে এগোয়। আপনার দাদাও উপকার করছে, কোথায় কি বেতের ঝুড়ি আর বড় বড় কাগজের বাক্স বানিয়ে অভাবের সংসারে মেয়েটা মন্দ রোজগার করছে না শুনলাম। বাবা-মেয়ে সেজন্যে ভারী কৃতজ্ঞ আমাদের ওপর—

    সটীক ভূমিকা শেষ হল। ধীরাপদর দৃষ্টিটা নিস্পৃহ, কান দুটো উৎকর্ণ।

    তা এটুকুতে কি আর এমন উপকার, উপসংহারে এসে পৌঁছল সোনাবউদি, আপনি ইচ্ছে করলে এর থেকে অনেক বেশী উপকার করতে পারেন।…সেই আশাতেই হয়ত ভদ্রলোক নিজে না এসে মেয়েকে পাঠিয়েছেন। কি বলেন শুনেই আসুন না হয়।

    পরিহাস-ছোঁয়া কথাগুলিতে কৌতুকের ছিটে-ফোঁটাও নেই। ধীরাপদ চুপচাপ বসে। শকুনি ভট্টচার্য যে রাতে মারা গেলেন সেই সন্ধ্যায় পণ্ডিতের এই মেয়ের সম্বন্ধে একটা স্থূল আভাস ব্যক্ত করে ফেলেছিলেন একাদশী শিকদার। রমণী পণ্ডিতের খেদও ভোলেনি ধীরাপদ। বলেছিলেন, বাপের বয়সী গণুবাবু মেয়েটাকে একটু-আধটু সাহায্যের চেষ্টা করছেন, এতেও ওদের গাত্রদাহের শেষ নেই। ওই দুই বৃদ্ধের সন্দেহের বাতিক জানা ছিল, ধীরাপদ নিজেই ভুক্তভোগী। তবু, শোনার পর থেকে অস্বস্তি বোধ করেছিল। নিজের অগোচরে সেটা থিতিয়ে ছিল টের পেল। সেখানেই নাড়াচাড়া পড়ল।…মনে যা উঁকিঝুঁকি দেয়, প্রথমেই সেটা বিশ্বাস্য নয় নিশ্চয়। রমণী পণ্ডিত অতটা নির্বোধ নন। আর গণুদাও অতটা বেপরোয়া নয়। নিজের স্ত্রীটিকে বিলক্ষণ ভয়ই করে সে।

    তবু সোনাবউদির এই উক্তিতে বিশ্বাস্য কিছু একটা আছেই। সোনাবউদির কথা একাদশী শিকদারের কথা নয়।

    ওই ভালো-লাগা-বয়সের মেয়েকে গণুদা মাথা উঁচিয়ে সাহায্যের চেষ্টায় এগোলে সোনাবউদি হয়ত একটা কথাও বলত না। কিন্তু ভবিতব্যের সোনার জাল বিছিয়ে লোকটাকে বশ করেছে রমণী পণ্ডিত, তাকে লোভাতুর কাপুরুষ বানিয়েছে— সোনাবউদির এখানেই ভয়, এখানেই যাতনা।

    আপনার তাড়া আছে বলছিলেন, কোথায় যাবেন? উঠে ঘরের কোণ থেকে হ্যারিকেন নিয়ে মুছতে মুছতে সোনাবউদিই সচেতন করল তাকে। উমা আর ছেলে দুটো দোরগোড়ায় উকি দিচ্ছে। বাইরে দিনের আলোয় টান ধরেছে। ঘরের ভিতরটা আরো আবছা।

    ধীরাপদ আর একবার চেষ্টা করে দেখবে ঘরের এই বাতাস ফেরানো যায় কিনা? খানিক আগে তো পেরেছিল, সোনাবউদির মুখে হাসি দেখেছিল। বলল, চারুদির ওখানে যাব একবার। চারুদির কিন্তু ভয়ানক ভালো লেগেছে আপনাকে, খুব প্রশংসা করেন।

    চিমনি টেনে সোনাবউদি হ্যারিকেন জ্বালল। তারপর চিমনিটা ঠিকমত বসাতে বসাতে নিরুৎসুক জবাব দিল, প্রশংসা করলে আপনি খুশি হবেন ভেবেছেন বোধ হয়, নইলে প্রশংসার আছে কি!

    না, আজ আর কিছু হবে না। ধীরাপদ উঠে পড়ল। দরজার দিকে চেয়ে উমাকে ডাকল, তোরা বাইরে কি করছিস, ভেতরে আয়। আজ আর ঘরের বাতাস ফিরবে না। ওরা ভিতরে এলোও না। ঘরে একটা ছেড়ে দশটা লণ্ঠন জ্বাললেও সেটা দিনের আলো হবে না। কিন্তু এভাবেও চলতে পারে না। ধীরাপদ আর একদিন আসবে। আর একদিন চেষ্টা করবে। খুব শীগগীরই আর একদিন।

    চারুদির বাড়ির দিকেই চলেছে। কিন্তু সুলতান কুঠি থেকে মনটাকে ফেরানো সহজ হচ্ছিল না। ফেরানো দরকার। ওখানে যেতে হলে এখন কিছুটা মানসিক প্রস্তুতি দরকার।

    বড় সাহেব আর চারুদির কথামত ধীরাপদ অমিত ঘোষের মতি-গতি খানিকটা ফেরাতে চেষ্টা করেছিল। মাঝখানে ফিরেও ছিল অনেকটা। ভাগ্নের সেই পরিবর্তনের আভাস পেয়ে বড় সাহেব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু চারুদির খুশি হবার কথা নয়। পার্বতীরও নয়।

    ধীরাপদ নিজেই কি খুশি হয়েছিল?

    বিশ্লেষণের এই বাঁকা অনুভূতিটা তাড়াতাড়ি ঠেলে সরিয়ে দিল। চারুদির ওখানে যাচ্ছে সে, এর মধ্যে পার্বতীর কথাও ভাবতে রাজি নয়। ভাবলে অসস্তি। কিন্তু চারুদির ওখানেই বা যাচ্ছে কেন? কি শুনতে, কি বুঝতে? কদিন ধরে চারুদির সঙ্গে দেখা করার তাগিদের উদ্দেশ্যটাও এখন অস্পষ্ট হয়ে আসছে কেমন।

    অমিতাভ ঘোষের এ কদিনের মেজাজের খবর জানলে চারুদি একটু খুশি হতেন হয়ত। পার্বতী? পার্বতীর কথা থাক।

    ‘শি ইজ মোস্ট চার্মিং হোয়েন শি ইজ্ অন ট্যু বোটস’– লাবণ্য সরকার প্রসঙ্গে অমিত ঘোষের কৌতুকোচ্ছল মন্তব্য একদিনের। তানিস সর্দারকে হাসপাতালে দেখে আসার পর যেদিন সুলতান কুঠিতে সে ধারাপদর ঘরে এসে বসেছিল, সেইদিন বলেছিল। অবচেতন মনের সঙ্গে যোগ থাকলে কথা হারায় না। অনেক দিন আগের উক্তিটা মনে পড়ে গেল।

    —কিন্তু দু নৌকো না তিন নৌকো? বড় সাহেবকে গোটাগুটি বাদ দেবে? বিচার বিবেচনা করলে বাদ দেওয়াই উচিত। ছেলেকে আগলে রেখে প্রশ্রয়টা তিনি ভাগ্নেকেই দিতে চান, সে আভাস ধীরাপদ খুব ভালো করেই পেয়েছে। তবু জটিলতার অবসান হয় না কেন? মনের তলায় ঠিক কি পুষছেন বড় সাহেব?

    চারুদির মুখখানা ভিজে ভিজে। একটু আগে জল দিয়ে এসেছেন বোধ হয়। সামনের দিকের কয়েক গোছা লালচে চুল এখনো কপালের সঙ্গে লেপটে আছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় জল না দিলে চারুদির মাথা গরম হয়ে যায়।… নিজেই বলেছিলেন। কিন্তু মুখ দেখে মনে হয়, মাথা গরম হবার মত সদ্য কিছু কারণ ঘটেছে। চারুদির লালচে মুখে বিরক্তি-ঘেঁষা গাম্ভীর্যের ছাপ পড়লে এখনো দেখায় বেশ। হাসি ভাঙলে অত ভালো দেখায় না।

    খাটে পা ছড়িয়ে আধাআধি শুয়েছিলেন, উঠে বসলেন। আজ এ সময়ে ওকে আদৌ আশা করেননি। তবু অন্য দিনের মত খুশি বা অভিযোগের উচ্ছ্বাস নেই। ডাকলেন, এসো—

    ঘরের কোণ থেকে ইজিচেয়ারটা খাটের মুখোমুখি টেনে নিয়ে ধীরাপদ বসল। —এ সময়ে শুয়ে যে?

    বললেন, মাথাটা ধরে আছে সেই থেকে।

    খাবারের তাগিদ এড়ানোর জন্যে হোক বা যে কারণেই হোক দোকান থেকে দুটো পান কিনে চিবুতে চিবুতে এসেছে ধীরাপদ। মুখের দিকে একটু চেয়ে থেকে চারুদি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের সেই কুঠি-বাড়ি থেকে আসছ বুঝি…সেখানে কি চুরি হয়েছে তোমার?

    ধীরাপদ থমকালো।—চুরি হয়নি, চোর ধরা পড়েছে। তোমাকে কে বললে?

    জবাব না দিয়ে চারুদি এবারে ঈষৎ বিস্ময় প্রকাশ করলেন, কাল তোমাদের সেই ব্যাপার অথচ তুমি এদিকে ঘোরাঘুরি করছ…পালিয়ে বেড়াচ্ছ নাকি?

    পান গলায় আটকানোর দাখিল। দৃষ্টিটা ধাক্কা খেয়ে সজাগ হল। বিকেল পর্যন্ত তো সেখানেই ছিলাম, পালাবো কেন?

    বিশদ বাক্যালাপের মেজাজ নয় আজ চারুদির, খানিক চুপ করে থেকে শুধু কথা জিইয়ে রাখার মত করে বললেন, কর্মচারীদের এবারে অনেক কিছু দিয়েছ আর ভবিষ্যতে আরো অনেক কিছু দিচ্ছ শুনলাম?

    সহজতায় চিড় খেয়েছে, পান চিবুনো থেমেছে ধীরাপদর। চারুদি এত সব শুনলেন কোথায়? হিমাংশু মিত্র এসেছিলেন? সেদিন অমিতাভ ঘোষ বলেছিল, লাবণ্যর কড়াকড়িতে মামার অফিস বন্ধ হলেও একেবারে ঘরে বসে থাকেন না তিনি। আজও এসেছিলেন? ধীরাপদর ভিতরটা তিক্ত হয়ে উঠল, বলল, আমি দেবার কে? আমি শুধু লিখেছি—ইচ্ছে হলে দেবেন, ইচ্ছে না হলে ছিঁড়ে ফেলে দেবেন। অপেক্ষা করল একটু, তারপর হাল্কা সুরে বলে বসল, তোমাকে এমন ভার-ভার দেখছি কেন —অনেক দেওয়া হয়ে গেল সেই চিন্তায়?

    চারুদি চুপচাপ বসে। এ আলোচনায় আর তাঁর কোনো আগ্রহ আছে বলেও মনে হল না। একটু বাদে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের বড় সাহেবের শরীর কেমন এখন?

    আবারও হেঁয়ালির মধ্যে পড়ে গেল ধীরাপদ। বড় সাহেব সশরীরে এখানে আসেনি তাহলে! এলে চারুদি শরীরের খোঁজ নিতেন না। কিছু বলার আগে তাঁর কথা থেকেই দুর্বোধ্যতার হদিস মিলল। বললেন, বাড়ি থেকে আজ বেরিয়েছেন শুনে কারখানায় অমিতকে টেলিফোন করেছিলাম—ও ছেলের কথা থেকে কি কিছু বোঝার উপায় আছে?

    অনেকক্ষণের একটা যুদ্ধ নিঃশ্বাস মুক্তি পেয়ে বাঁচল। কিন্তু অফিস থেকে ওর পালিয়ে বেড়ানোর কথাটা কেন বললেন চারুদি বোঝা গেল না। অমিতাভই কিছু বলে থাকবে। বাড়ির চুরির খবরও।

    প্রেসার তো চড়েই আছে সেই থেকে, চিকিৎসার কি হচ্ছে? ভালো ডাক্তার এনে দেখাচ্ছে না কেন?

    চারুদির মুখখানা বিরস দেখাচ্ছে আরো। জলের দাগ গেছে, কিন্তু মাথা খুব ঠাণ্ডা মনে হয় না। আর সেটা এই অসুখের দুশ্চিন্তার দরুনই নয় বোধ হয়। ঠোঁটের ডগায় একটা রূঢ় জবাব এসে গিয়েছিল ধীরাপদর। পার্বতী বলেছিল, অমিতবাবুর মন না পেলে মায়ের কাছে আপনার কোনো দাম নেই। কথাটা ভোলবার নয়। বলতে যাচ্ছিল, এটাও আমার ডিউটির মধ্যে নাকি?

    বলল না। তার বদলে নির্লিপ্ত মন্তব্য করল, প্রেসারের আর দোষ কি, বাড়িতে যে ব্যাপার চলেছে, ডাক্তার কি করবে!…

    চারুদি সোজা হয়ে বসলেন আস্তে আস্তে। গাম্ভীর্যের সঙ্গে আগ্রহের এই সুচারু মিশেল ন বছরের ছোট ধারাপদর চোখেও প্রায় চিত্তাকর্ষক।—বাড়িতে কি ব্যাপার চলেছে?

    একদিকে ছেলে আর একদিকে ভাগ্নে কোন দিক সামলাবেন ভদ্রলোক?

    কি হয়েছে? অসহিষ্ণু তাড়া চারুদির।

    কি হয়েছে রয়ে-সয়ে অতঃপর তাই ব্যক্ত করল ধীরাপদ। চারুদিকে জেরা করার অবকাশ দিয়ে দিয়ে কর্তার সঙ্গে ছেলে আর ভাগ্নের কদিনের বোঝাপড়ার চিত্রটা সবিস্তারেই সম্পূর্ণ করল সে। ছেলের প্রসঙ্গেই বেশি বলল। রাতদুপুরে তার অমিতাভর ঘরে মীমাংসা করতে আসা বা ওর ঘরে সুপারিশের আশায় আসাটাও অনুক্ত থাকল না।

    হঠাৎ ধৈর্যচ্যুতি ঘটল যেন চারুদির। সরোষে বলে উঠলেন, এতটা বিগড়েছে দেখেও ওদিকে বসে আছে কোন ভরসায়? বিয়েটা দিয়ে দিলেই তো হয়—ছেলে তো খোকা নয় যে কথামত উঠবে বসবে?

    লালচে মুখে লালের কারুকার্য দেখছে ধাঁরাপদ। দেখা শেষ করে নিরুৎসুক মন্তব্য করল, খোকা ভাগ্নেও নয়।…তাঁর বিশ্বাস বিয়েটা দিলে গণ্ডগোল বাড়বে আরো।

    কিসের গণ্ডগোল? বেখাপ্পা রাগ চারুদির, বিয়ের পরেও ভাইয়ের বউকে ধরে টানাটানি করবে ভেবেছে?

    ধীরাপদ হাসেনি। তেমনি সাদা মুখ করেই বলল, তার থেকেও খারাপ কিছু হতে পারে। তাছাড়া, এমনিতেও ছেলের বিয়ে এখানে দেবার ইচ্ছে তাঁর নেই। আর ছেলের জন্যে উনি তেমন উতলাও নন বোধ হয়, তাঁর ভাবনা ভাগ্নেকে নিয়ে। আর তোমাকে নিয়ে।

    রাগের মুখেই চারুদি থতমত খেয়ে উঠলেন একদফা। জোড়া ভুরু কুঁচকে গেল। সপ্রশ্ন প্রতীক্ষা।

    সেদিন বলছিলেন, তোমার দিদি একটু বুঝে চললে কবে সব গণ্ডগোল মিটে যেত। তুমিই নাকি উল্টো রাস্তায় চলেছ!

    চারুদির দৃষ্টিটা একটু একটু করে স্থির হয়ে বসছে ধীরাপদর মুখের ওপর। —কবে বলেছেন?

    এই তো সেদিন—ধীরাপদর নিরীহ বিস্ময়, কিন্তু কি ব্যাপার বলো তো—তুমি কি করতে পারো?

    খানিক গুম হয়ে থেকে অস্ফুট ঝাঁজালো জবাব দিলেন, ওই মেমডাক্তারের সঙ্গে ভাগ্নের বিয়ে দিয়ে তাঁকে ষোল আনা নিশ্চিন্ত করতে পারি, আর কি পারি! দিলেই তো পারে বিয়ে, কে আটকে রেখেছে?

    আটকে কে রেখেছে সেটা এত স্পষ্ট করে ধীরাপদ আর কখনো বোঝেনি। আজ এই চারুদিকে দেখে লাবণ্য সরকারের নৌকো থেকে হিমাংশু মিত্রকে নিঃসংশয়েই বাদ দেওয়া যেতে পারে।

    সমস্ত ক্ষোভের একেবারে গোড়ায় নাড়া পড়েছে যেন চারুদির। এর পরেও চট করে থামেননি তিনি। ধীরাপদই দেয়নি থামতে। তার একটুখানি সংশয় বা একটুখানি বিস্ময় অথবা এক-আধটা অসংলগ্ন প্রশ্ন সেই ক্ষোভের মুখে অনুপানের কাজ করেছে।

    ধীরাপদর চোখের সমুখ থেকে সব অস্পষ্টতা ঘুচে গেছে। যেটুকু জানতে বাকি ছিল জানা হয়েছে, যেটুকু বুঝতে বাকি ছিল বুঝে নিয়েছে।

    যে কারণে চারুদির এত বিদ্বেষ লাবণ্য সরকারের প্রতি, ঠিক সেই কারণেই হিমাংশু মিত্রের এত সুনজর তার ওপর। যে কারণে চারুদি তাকে চান না, ঠিক সেই কারণেই হিমাংশু মিত্র চান তাকে। যে কারণে চারুদি অমিতাভ ঘোষের সমুখ থেকে লাবণ্য সরকারকে মুছে দিতে চান, ঠিক সেই কারণেই ওই মেয়ের কাছ থেকে নিজের ছেলেকে সরিয়ে রাখার সঙ্কল্প হিমাংশু মিত্রের। যে উদ্দেশ্যে চারুদি পার্বতীকে এগিয়ে দিয়েছেন, সেই একই উদ্দেশ্যে বড় সাহেব লাবণ্য সরকারকে এগিয়ে দিতে চান। ছেলে আছে বড় সাহেবের, আর তার সঙ্গে নাড়ির যোগও আছেই। প্রাকৃতিক বিধানে সেই যোগ বুকজোড়াও বটে। কিন্তু এই ভাগ্নেও কম নয় তাঁর কাছে। সে চোখের মণি। এত আস্থা, এত প্রত্যয় বড় সাহেবের আর বোধ হয় কারো ওপরে নয়। ছেলের ওপরে তো নয়ই। কারো কথায় নয়, ধীরাপদ নিজেই সেটুকু অনেকদিন অনুভব করেছে।

    এই ভাগ্নেটিকে হারাতে চান না বড় সাহেব। কিন্তু হারাবার লক্ষণ দেখছেন। লাবণ্য সরকার তাঁর হাতের মুঠোয়। সেই মেয়ে যার ওপর দখল নেবে, সে কত আর দূরে সরবে? বুদ্ধিমতী জোরালো মেয়ে লাবণ্য সরকার। ওই অসহিষ্ণু, অস্থির- চিত্ত ভাগ্নের সঙ্গে জুড়ে দেবার মতই বুদ্ধিমতী আর জোরালো ভাবেন তিনি। সেটা সম্ভব হলে বিচ্ছেদের আশঙ্কা ঘোচে তাঁর, ব্যবসায়ের শ্রীবৃদ্ধি সুনির্বিষণ হবে মনে করেন।

    পার্বতী টোপ। লাবণ্য সরকার শেকল। চারুদির এই খর-মূর্তির সন্নিধানে বসেও হাসি পাচ্ছে ধীরাপদর। অমিতাভ ঘোষ টোপ গিলবে, না শেকল পরবে?

    একটানা বকেছেন চারুদি। এখন একটানা চুপ। ধীরাপদ উঠবে কিনা ভাবছিল, চমক ভাঙার মতই তপ্তস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন চারুদি, তুমি এই মেয়েটার একটা কিছু ব্যবস্থা করতে পারো? কত জায়গায় তো ঘোরো-টোরো—

    এই মেয়েটার অর্থাৎ পার্বতীর। ধীরাপদ বুঝেছে। বুঝেও বিমূঢ় হয়ে চেয়ে আছে। এতক্ষণের মধ্যে এই একজনকে নিভৃত মন থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও সরাতে পেরেছে কিনা সন্দেহ। আসার সময়ে দেখেনি তাকে। না দেখে স্বস্তি বোধ করছে। আর এ পর্যন্তও সাক্ষাৎ মেলেনি। কিন্তু এই বাড়িতে পার্বতীর অগোচর অবস্থানও ভোলবার নয়। কোনো একটা ঘরে আছে। চুপচাপ বসে আছে, নয়তো নির্লিপ্ত গাম্ভীর্যে কাজ করছে কিছু। কিন্তু তার দৃষ্টিদর্পণ থেকে নিজেকে ধীরাপদর খুব বেশি দূরে মনে হয়নি।

    পার্বতীর কথা বলছ?

    আর কার? আর কার কাছে এত অপরাধ করেছি? আসল বক্তব্যটাই ভুলে গেলেন যেন চারুদি, ঈষৎ আগ্রহে সামনের দিকে ঝুঁকলেন একটু। গলার স্বর নামিয়ে বললেন, আচ্ছা, তুমি তো এতদিন দেখছ, তোমার কখনো পথের মেয়ে বলে মনে হয়েছে ওকে? কোনদিন মনে হয়েছে?

    ধীরাপদ ফাঁপড়ে পড়ে গেল। চকিতে ঘাড় ফিরিয়ে দরজার দিকে তাকালো একবার। চারুদি জবাবের আশায় উদগ্রীব, যেন এই জবাবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

    মাথা নাড়ল, না। তা মনে হতে যাবে কেন?

    এটুকুতেই উৎসাহ বোধ করলেন চারুদি, কেন হবে বলো তো? এইটুকু থেকে আমার কাছে আছে, ওর গায়ে এখনো সেই দাগ লেগে আছে, না ও এখন যা তাই? ক্ষোভের মুখে ঢালা প্রশংসা শুরু করে দিলেন পার্বতীর, লেখাপড়াই শেখেনি খুব একটা, নইলে অমন স্বাস্থ্য, অমন স্বভাব, অমন বুদ্ধিমতী কাজের মেয়ে ক’টা দেখেছ? হাঁ করলে কি চাও বুঝে নেয়। ও একাই কতটা তোমার ধারণা নেই। অমিতের ভরসায় বসে থাকলে এই বড় বাড়িটাও শেষ পর্যন্ত উঠত কিনা সন্দেহ—ও কোমর বেঁধে দাঁড়াতে তবে উঠল।

    ধারণা না থাকুক, ধীরাপদ ধারণা করে নিতে পারে। আর চারুদির থেকেও বেশি ছাড়া কম পারে না হয়ত। চুপচাপ খানিক অপেক্ষা করে জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু কি হয়েছে, পার্বতীর কি ব্যবস্থা চাও?

    ব্যবস্থার প্রসঙ্গটা রোষের অভিব্যক্তি ছাড়া আর কিছু নয় বোঝা গেল। বিরক্তির আঁচ লাগল আবার, বললেন, কি ব্যবস্থা জানলে তো আমি নিজেই করতাম, তোমাকে বলতে যাব কেন? উষ্মার ঝাপটা এবারে আবার পার্বতীর ওপরেই এসে পড়ল।— নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে না ওর? নিজের ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে না? আমার ওপর ভরসা কতটুকু? আমাকে বিশ্বাস কী?

    ধীরাপদর মুখে কথা নেই। চুপচাপ বসে দেখছে। এই কি সেই পদ্মাপারের আগুনপানা মেয়ে চারুদি? এই অসহায় চারুদি যে কাঁদতে পেলে বাঁচে।

    কি যে বলছেন নিজেরই হুঁশ নেই বোধ হয়, কার ওপর রাগ ঠাওর করা শক্ত। পরক্ষণে এই তপ্তমুখেই উল্টো কথা। বললেন, ওরই বা দোষ কি, কি নিয়ে থাকে—। সেই কবে নার্সিং-ফার্সিং পাস করা হয়ে যেত এতদিনে, কদিন আমার সঙ্গে ঝকাঝাকি করে শখ করে তো ঢুকেছিল গিয়ে—ছেলে তাকে ছাড়িয়ে-ছুড়িয়ে এনে তবে নিশ্চিন্ত। লেখাপড়া শেখাবে, পরীক্ষায় পাস করাবে— একেবারে ডাক্তার বানিয়ে তবে ছাড়বে। সব করেছে!

    বড় করে দম ফেললেন একটা। কিন্তু দাহ নিঃশেষ হল না তাতেও। ক্ষুব্ধ মন্তব্যের মত শোনালো শেষটুকু। যমের মুখ থেকে টেনেহিঁচড়ে ফিরিয়ে এনেছিল, চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। একটু কৃতজ্ঞতাবোধ যদি থাকত!

    উপসংহারটুকু অমিতাভ ঘোষের সেই বিগত অসুখ প্রসঙ্গে। সবটা জুড়লে চারুদির মর্মদাহের একটা চিত্র এবারে দাঁড় করানো যায় বোধ হয়

    সে অবকাশ পেল না।

    চারুদির রুক্ষ দৃষ্টি অনুসরণ করে চকিতে দরজার দিকে ঘাড় ফেরাল ধীরাপদ। পার্বতী। তার হাতে খল-নুড়ি। খলে কিছু একটা ঘষতে ঘষতে মন্থর পায়ে ঘরে ঢুকল।

    নিষ্পলক কয়েকটা মুহূর্ত, চারুদি যেন জ্যান্ত ভস্ম করলেন তাকে। তারপর রাগে ফেটে পড়লেন একেবারে। —কি ওটা? কে তোকে আনতে বলেছে? রোজ আমি এ সময়ে স্বর্ণসিন্দুর খাই যে বলা নেই কওয়া নেই আমার জন্যে স্বর্ণসিন্দুর মেড়ে নিয়ে এলি? আমার মাথা গরম হয়েছে মামাবাবুকে তাই বোঝাতে চাস— কেমন?

    পার্বতী খাটের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে খলের ওপর নুড়িটা ঘষছে—ঘষাটুকু শেষ হলে হাতে দেবে।

    চারুদির দিকে চেয়ে প্রমাদ গুনছে ধীরাপদ। উঠে দু ঘা বসিয়ে দেওয়াও বিচিত্র নয় বুঝি। কিন্তু হঠাৎ সুর বদলালো একটু চারুদির, যে প্রস্তাব করলেন শুনে ধীরাপদও বিমূঢ়।

    এত মেজাজের কি হয়েছে তোদের? সারাক্ষণ এত মেজাজে ফুটছিস কেন? কি দোষ করা হয়েছে তোর কাছে মামাবাবুকে বল্—যা তোর মনে আছে সব বল —ও কারো দিকে টেনে বলার লোক নয়, শুনে বলুক কি অপরাধ করেছি আমি? মুখ বুজে আছিস কেন, বল্‌?

    মুখ বুজে থাকল না পার্বতী। খলের ওপর নুড়িটা থামল। ধীরাপদর দিকে তাকালো। বলল, আপনাকে চা দেব?

    ধীরাপদ ব্যতিব্যস্ত, না না, এই একটু আগে চা খেয়েছি—

    খলের ওপর নুড়ি নড়ল। চারুদি অগ্নিমূর্তি আবারও।— ওটা এখানে রাখবি তো আছড়ে ভাঙব আমি বলে দিলাম। যা, দূর হ এখান থেকে!

    ঘষা শেষ হয়েছে। মুখ তুলে পার্বতী শিথিল দৃষ্টিটা চারুদির মুখের উপর একবার বুলিয়ে নিল। পাশের ছোট টেবিল থেকে একটা চকচকে বিলিতি সাপ্তাহিক তুলে তাঁর সামনে বিছানায় রাখল। তার ওপর খলনুড়িটা। ঘরের কোণের কুঁজো থেকে আধ গ্লাস জল গড়িয়ে সেখানে রেখে যেমন এসেছিল তেমনি চলে গেল।

    ধীরাপদ চিত্রার্পিতের মত বসে।

    চারুদির ক্রুদ্ধ দৃষ্টিটা দরজা পর্যন্ত অনুসরণ করল, তারপর ওর দিকে ফিরল। অস্ফুটকণ্ঠে বললেন, দেখলে আস্পর্ধাটা?

    ধীরাপদ দেখেছে। আর কিছু বুঝেওছে। স্বর্ণসিন্দুর দিয়ে চারুদির মাথা গরম হয়েছে তাই শুধু বলে গেল না, ওকেও নিষেধ করে গেল কিছু—সচেতন করে দিয়ে গেল। বসে বসে কারো ব্যক্তিগত ব্যাপার শোনার কৌতূহলের ওপর একটা নীরব ভ্রুকুটি ছড়িয়ে গেল।

    চারুদির লালচে মুখ কাঁদ-কাঁদ দেখাচ্ছে এখন। ভগ্ন বিকৃতকণ্ঠে বলে উঠলেন, ভালো কারো করতে নেই, বুঝলে? ভালো করার এই ফল- সেই দশ বছর বয়েস থেকে মেয়ের মত এত বড় করেছি আর আজ আমিই ওর শত্রু— আমাকে ও শত্রু ভাবে, মা ভাবে না।

    চারুদির ওপর ধীরাপদর মনটাও অনেকদিন ধরেই প্রসন্ন ছিল না। কিন্তু এই অসহায় স্নায়ু-তপ্ত-মূর্তির দিকে তাকিয়ে আঘাত দিতে মায়া হয়। তবু চুপ করে থাকা গেল না একেবারে। বলল, ও হয়ত মা-ই ভাবে, তুমি ওকে মেয়ে ভাবো কিনা সেখানেই হয়ত সন্দেহ ওর।

    বিষম থতমত খেয়ে থমকে চেয়ে রইলেন চারুদি। সন্ধিগ্ধ দুই চক্ষু ধীরাপদর মুখের ওপর আটকে থাকল খানিকক্ষণ।—তোমাকে ও বলেছে কিছু?

    পার্বতীকে এ প্রসঙ্গ থেকে তফাতে রাখতেই চেষ্টা করল ধীরাপদ। আরো শান্তমুখে জবাব দিল, ও কতটা কি বলার মত মেয়ে তুমি ভালই জানো। শুধু ওকে দেখছি না, তোমাকেও তো এই ক-বছর দেখছি, খুব ঠাণ্ডা মাথায় ভেবেই দেখ না এ রকম হচ্ছে কেন, তোমার যত কিছু ভাবনা-চিন্তা ইচ্ছা-অনিচ্ছা সব কাকে নিয়ে, কার জন্যে? এতকাল ধরে আছে তোমার কাছে, তোমার এত টাকা-পয়সা বাড়ি-গাড়ি-এর মধ্যে বড় রকমের কোথাও ঘা না খেলে ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মাথা ঘামাতে যাবে কেন?

    চারুদির মুখখানা আর লালচে দেখাচ্ছে না একটুও। ফ্যাকাশে পাংশু দেখাচ্ছে। চেয়ে আছেন তার দিকেই, কিন্তু ও চোখে আর তাপ নেই একটুও। একটু আগের ওই উষ্ণ মূর্তি থেকে জীবনের নির্যাসটুকু যেন ছেঁকে নেওয়া হয়েছে।

    কতক্ষণ কেটেছে ধীরাপদরও খেয়াল নেই। চারুদি সচকিত হলেন হঠাৎ। ভুরুর মাঝে কুঞ্চনরেখা পড়ল দু-একটা। কি ভেবে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের বড় সাহেব সেই কানপুরের মিটিংয়ে কবে যাচ্ছেন?

    প্রশ্নের তাৎপর্য বোঝা গেল না।— চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই যাওয়ার কথা।

    এই শরীরে যেতে পারবেন?

    ধীরাপদ হাসতে চেষ্টা করল। বলল, না পারলে শরীর আরো বেশি খারাপ হবে।

    চারুদি আবার নীরব কয়েকটা মুহূর্ত। তারপর বললেন, আচ্ছা আজ এসো তুমি, ক্লান্ত লাগছে—

    এ রকম কথাও ধীরাপদ এই প্রথম শুনল। যখনই এসেছে, চারুদি ধরে রাখতেই চেয়েছেন!

    কিন্তু সে-ও ওঠার তাগিদ উপলব্ধি করছিল। বাইরের ঘরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। ঘুরে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকালো একবার। আসার সময় পার্বতীকে না দেখে স্বস্তি বোধ করেছিল। কিন্তু ফেরার সময় উৎসুক দৃষ্টিটা তাকেই খুঁজছিল। দেখা হলে ধীরাপদ কি বলত, জানে না। কিছু বলত কিনা তাও না—তবু মন চাইছিল দেখা হোক। বাইরের ঘরে এসে আর একবার দাঁড়াল। এখানেও নেই। থাকবে না জানা কথাই। কোনো একটা ঘরে আছে। চুপচাপ বসে আছে, নয়তো নির্লিপ্ত গাম্ভীর্যে কাজ করছে কিছু। কিন্তু এবারে তার দৃষ্টি-দর্পণ থেকে নিজেকে অনেকটাই দূর মনে হচ্ছে ধীরাপদর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article সেই অজানার খোঁজে – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }