Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাল তুমি আলেয়া – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প766 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাল তুমি আলেয়া – ২২

    বাইশ

    সিতাংশুর বিয়ে হয়ে গেল।

    বড় সাহেবের বুক থেকে চিন্তার পাহাড় সরল। আত্মতুষ্টিতে ভরপুর তিনি, এর অতঃপর সানন্দে তার যাওয়ার ইচ্ছেটা বাতিল করে দিয়েছেন বড় সাহেব, ফের যাওয়ার কথা তুললে রাগ করবেন বলে শাসিয়েছেন।

    ধীরাপদ আর আপত্তি করেনি, আপত্তি করার ফুরসত্ত মেলেনি। কত কারণে ওর এখানে থাকাটা জরুরী এখন, মনের আনন্দে বড় সাহেব সেই ফিরিস্তি দিয়েছেন। এক ছেলের বিয়ে। খুব ছোট ব্যাপার হবে না সেটা, ও কাছে না থাকলে সবদিক দেখবে শুনবে কে? দ্বিতীয়, ছেলের বিয়ে ঢুকলেই মাস ছয়েকের জন্য আর একবার য়ুরোপের দিকে পা বাড়াবেন তিনি। ও-দেশের কারবারগুলোর আধুনিক ব্যবস্থাপত্র হালচাল পর্যবেক্ষণে যাবেন। ভারতীয় ভেষজ সংস্থার সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটা চোখে পড়ার মত করে পুষ্ট করে আসা যায় কিনা সেই চেষ্টা করবেন। এর ফলে সংস্থার আগামী প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের ব্যাপারে তাঁর দাবি দ্বিগুণ হবে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হয়ত বা কেউ আর মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াবেন না। কানপুরের অধিবেশনে এ নিয়ে অনেকের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। অমন জোরালো বক্তৃতার পরে নিজের খরচে সংস্থার এই উন্নয়ন পরিকল্পনা শুনে তাঁরা একবাক্যে প্রশংসা করেছেন। সেখানে বসেই বাইরে অনেকগুলি চিঠিপত্র লিখে ফেলেছেন তিনি। জবাবের প্রত্যাশায় আছেন। ধীরাপদর সঙ্গে বসে এরপর ভ্রমণসূচী ঠিক করবেন। অতএব এখান থেকে নড়ার চিন্তা ধীরাপদর একেবারে ছাড়া দরকার।

    চিন্তা ছেড়েছে। কিন্তু খবর দুটো শোনার সঙ্গে সঙ্গে মনের তলায় যে দুটো প্রশ্ন আঁচড় কাটছে, জানলে বড় সাহেব রেগে যেতেন কি হেসে ফেলতেন বলা যায় না। মুখ ফুটে জিজ্ঞাসা করার মত নয় একটাও। প্রথম, ছেলের বিয়ে ছেলে নিজে তা জানে কি না। দ্বিতীয়, তিনি একা যাচ্ছেন, না এবারও চারুদি সঙ্গিনী হবেন? চারুদি সঙ্গে গেলে পার্বতীকে নিয়ে সমস্যাটা যেন ধীরাপদরই।

    চারুদির বাড়ি গিয়েছিল সিতাংশুর বিয়ের দিন কয়েক পরে। চারুদির ডাক আসার প্রতীক্ষায় একটানা অনেকগুলো দিন কাটিয়ে শেষে নিজেই গেল একদিন। যেতে দ্বিধা বলেই যাবার ঝোঁক বেশি। তাড়না বেশি। কিন্তু এসে শঙ্কা বোধ করল। যে চারুদির দিকে তাকালে বয়সের কথা মনে হত না, শুধু ভালো লাগত—তাঁর দ্রুত পরিবর্তনটা বড় বেশি রুক্ষ লাগছে। বয়সটাই আগে চোখে পড়ে এখন। তাঁকে দেখামাত্র পার্বতীর সেদিনের উক্তিতে সংশয় জাগল। বড় সাহেবের সঙ্গে তাঁর কানপুর যাওয়া ব্যর্থই হয়েছে বোধ হয়…কাছে থেকেও এবারে চারুদি কিছু করাতে পেরেছেন কিনা সন্দেহ।

    বসো। খুশিও না, বিরক্তিও না। শুকনো অভ্যর্থনা। আগে হলে এতদিন না আসার দরুন অনেক কৈফিয়ত দিতে হত, অনেক সরস আর উষ্ণ টিপ্পনী শুনতে হত।

    বিয়ের ঝামেলা মিটল?

    হ্যাঁ, কবেই তো। বড় সাহেবের ছেলের বিয়েতে চারুদি কেউ না, একেবারে অস্তিত্বশূন্য।

    বউ কেমন হল?

    ভালই!

    ছেলের মাথা ঠাণ্ডা থাকবে মনে হয়?

    ধীরাপদ নিজেই জানে না থাকবে কিনা। মাথা নাড়ল, মনে হয়।

    চারুদির আর কিছু শোনার আগ্রহ নেই, কথা বলার আগ্রহও না। ‘মনে হয় না’ বললে বিরস মুখে একটুখানি উদ্দীপনা দেখা যেত হয়ত। পিছনে সরে খাটে ঠেস দিলেন, ধারাপদ উঠলে হয়ত শুয়ে পড়বেন।

    ওদিকে পার্বতীও হয়ত তার আসাটা টের পেয়ে আড়াল নিয়েছে কোথাও। এক পেয়ালা চা খেতে চাইলে কেমন হয়? পার্বতীর ডাক পড়বে, কতখানি ঘৃণা আর বিদ্বেষ জমেছে মুখে দেখা যাবে। চা চাওয়া হল না, এমনিতেই তেতে উঠছে। এতকাল ধরে অমিত ঘোষের অমন দস্যুবৃত্তির প্রশ্রয় কে দিয়ে এসেছে? তখন ধীরাপদ কোথায় ছিল? লোকটার সেই ফোটো অ্যালবামের পার্বতী কি আর কেউ নাকি?

    চারুদির সঙ্গে সহজ আলাপে মগ্ন হতে চেষ্টা করল, বড় সাহেব য়ুরোপ যাচ্ছেন শিগগীরই শুনেছ?

    শুনেছেন জানে, কারণ যাত্রার সঙ্কল্প কানপুর থেকেই পাকা হয়ে এসেছে। চারুদি আধ-শোয়া, মাথাটা খাটের রেলিংয়ের ওপর। ফিরে তাকালেন একবার, তারপর দৃষ্টিটা ঘরের পাখার ওপর রাখলেন।-দিন ঠিক হয়ে গেছে?

    না, ছেলের বিয়ের জন্যে আটকে ছিলেন, এবারে যাবেন। কি মনে হতে পরামর্শ দিল, বলে-কয়ে অমিতবাবুকেও সঙ্গে পাঠাও না, বাইরে কাছাকাছি থাকলে অন্য রকম হতে পারে…

    বিরক্তিভরা দুই চোখ পাখা থেকে তার মুখের ওপর নেমে এলো আবার। বললেন, তোমার অত ভেবে কাজ নেই, নিজের চরকায় তেল দাওগে যাও।

    হঠাৎ এই উষ্মার কারণ ঠাওর করা গেল না। চারুদির রাগ দেখেছে, হতাশা দেখেছে, কিন্তু এ ধরনের বচন আগে আর শোনেনি। কর্কশ লাগল কানে, ভিতরটা চিনচিন করে উঠল।

    কিন্তু ভিতরে বাইরে এক হতে নেই এ যুগে, ধীরাপদ হাসতে পেরেছে। রয়েসয়ে বলল, কানপুর থেকে ঘুরে এসে তোমার মেজাজের আরো উন্নতি হয়েছে দেখছি, অমিতবাবুর মাসি বলে চেনা যায় …

    চারুদি আস্তে আস্তে উঠে বসলেন, তারপর মুখোমুখি ঘুরে বসলেন। এই প্রতিক্রিয়ার কারণও দুর্বোধ্য।- আমি কানপুরে গিয়েছিলাম তোমাকে কে বলল?

    ধীরাপদর একবার ইচ্ছে হল চোখ কান বুঝে বলে দেয়, বড় সাহেব। পার্বতী বাড়িতে ডেকে এনে বলেছে বললেই বা কোন্ ভাব দেখবে মুখের?

    এখানেই শুনেছি। একদিন এসেছিলাম।

    কবে এসেছিলে?

    তোমরা যাওয়ার দিন কয়েকের মধ্যে। তুমি যাবে জানতুম না।

    তুমি একা এসেছিলে?

    আর কে আসবে? জেরার ধরনে স্বস্তি বোধ করছে না খুব।

    চারুদির সন্ধানী দৃষ্টিটা যা খুঁজছিল তা যেন পেল না। তবু খুঁজছেন কিছু।— পার্বতী আর কি বলেছে তোমাকে? চাপা ঝাঁজ, এদিকে সরে এসো, দেয়াল ফুঁড়ে কথা কানে যায় বেইমান মেয়ের। কি বলেছে?

    চকিতে ধীরাপদ দরজার দিকে ঘাড় ফেরাল একবার, তারপর বিস্ময়ের আড়ালে একটুখানি অবকাশ হাতড়ে বেড়াল। –কি বলবে?

    ধৈর্যচ্যুতি ঘটল, সমস্ত মুখ লাল। সামনে যে বসে তার ওপরই রাগ। —নিজেকে খুব আপন ভাবো ওর, কেমন? কি বলেছে?

    যেটুকু ভাবা দরকার ছিল ভেবে নেওয়া গেছে। পার্বতী কি বলেছিল স্বাচ্ছন্দে বলা যেতে পারে। চারুদির কানপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্য জানিয়ে পার্বতী অনুরোধ করেছিল আপনি এসব বন্ধ করুন। পার্বতী শুধু তাকে শোনাবার জন্যে বলেনি, শুনে মুখ বুজে বসে থাকতেও বলেনি।

    ধীরাপদ আগে তবু চুপচাপ চেয়ে রইল খানিক, চারুদির হাবভাব সুস্থ লাগছে না তাই বুঝিয়ে দিল। তারপর পার্বতী কি বলেছে স্মরণ করতেও যেন সময় লাগল একটু।

    … পার্বতী বলছিল তুমি ওকে সম্পত্তি দান করার মতলব নিয়ে কানপুরে গেছ। ব্যাঙ্কের পাস-বইটই আর কারবারের কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়েছিলে শুনলাম।

    চারুদির নিষ্পলক প্রতীক্ষা, মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় বুকের মধ্যে জ্বলছে কিছু।

    একেবারে উপসংহারে পৌঁছল ধীরাপদ, ওর তাতে বিশেষ আপত্তি দেখলাম— ছাই দেছে তুমি! ছাই বুঝেছ! শুধু আমার হাড় মাস চিবিয়ে খাওয়া ছাড়া আর সবেতে আপত্তি ওর সে কথা বলেছে তোমাকে?

    ধীরাপদ হকচকিয়ে গেল, একপশলা তরল আগুনের ঝাপ্‌টা লাগল মুখে। একটু আগে যে কারণে তাকে কাছে সরে আসতে বলেছিলেন, চারুদি নিজেই তা ভুলে গেলেন। রাগে উত্তেজনায় কণ্ঠস্বর চড়তে লাগল।

    আমাকে আক্কেল দেবার জন্যে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনতেও আপত্তি নেই ওর, বুঝলে? নিজের মুখে কালি লেপে আমাকে খুব জব্দ করবে ভেবেছে। কেটে কুচি কুচি করে ওকে ওই বাগানে পুঁতে রেখে আসব তবে আমার নাম—করাচ্ছি আপত্তি!

    প্রবল উত্তেজনার মুখেই চারুদি ভেঙে পড়লেন আবার। অবসন্ন ক্ষোভে খাটের রেলিংয়ে মাথা রেখে বাহুতে মুখ ঢেকে ফেললেন। ধীরাপদ বিমূঢ়, দরজার দিকে চোখ গেল, মনে হল পার্বতী বুঝি দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। নেই কেউ। আর একদিন স্বর্ণসিন্দুর হাতে ধরে ঢুকেছিল, আজও সেই রকমই একটা আশঙ্কা ধীরাপদর।

    উঠে চারুদির সামনে এসে দাঁড়াল। তাঁর হাতখানা আস্তে আস্তে মুখের ওপর থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করল। চমকে উঠে চারুদি নিজেই হাত সরালেন।

    পার্বতী কি করেছে?

    কিছু না। চারুদি এবারে বিদায় করতে চান ওকে, আজ যাও তুমি, আর একদিন এসো, কথা আছে—

    কি হয়েছে বলো না?

    আঃ! আজ যাও বলছি, আর একদিন এসো…

    চারুদি তাড়িয়েই দিলেন যেন। ঘর ছেড়ে ধীরাপদ বারান্দায় এসে দাঁড়াল। এদিক-ওদিক তাকালো, কান পাতল। পার্বতী এই বাড়িতেই নেই যেন। অথচ মনে হচ্ছে সমস্ত বাড়িটা জুড়ে শুধু পার্বতীই আছে, আর কেউ নেই।

    ধীরাপদ বেরিয়ে এলো।

    অবাঞ্ছিত লাগে নিজেকে, পরিত্যক্ত মনে হয়। কার্জন পার্কের লোহার বেঞ্চির ধীরাপদ আজ অনেক উঠেছে, অনেক পেয়েছে। কিন্তু অঙ্কের বাইরেও অনেক রকমের হিসেব আছে। তেমনি কোনো একটা হিসেবে সে যেন অনেক নেমেছে, অনেক হারিয়েছে। সেই ওটা-নামা আর পাওয়া-হারানোর একটা শূন্য ফল অষ্টপ্রহর হাউইয়ের মত জ্বলে জ্বলে উঠতে চায়।

    যে অসহিষ্ণু তাড়না তাকে চারুদির বাড়িতে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিল সেটাই তাকে সুলতান কুঠির দিকেও ঠেলে পাঠাতে চেয়েছে বার বার। সেখানে যাওয়ার পথ বন্ধ ভাবছে কেন, গেলে কে বাধা দেবে? তার ঘর আছে সেখানে, যাবার অধিকারও আছে। কিন্তু সেখানে গিয়ে শূন্য ঘরে ঘণ্টা দু-চার মুখ বুঝে বসে থেকে অধিকার দেখিয়ে আসবে?

    যাবার মত একটা উপলক্ষ হাতড়ে পেল। পেল যখন সেটাকে একেবারে তুচ্ছ ভাবা গেল না। একাদশী শিকদারকে কাগজের দামটা দিয়ে আসা দরকার। একখানা কাগজের গোটা বছরের টাকা আগাম দেওয়া আছে। গদার অফিস থেকে যে কাগজ আসত সেটাও রাখার পরোয়ানা দিয়ে এসেছিল তাঁকে, কিন্তু দাম দেওয়া হয়নি। দিয়ে আসা দরকার।

    বাস থেকে নেমেই ধাক্কা খেল একটা। কুঠি এলাকা খুব কাছে নয় সেখান থেকে। সামনের অপরিসর চার রাস্তা পেরিয়ে সাত-আট মিনিটের হাঁটাপথ। রাস্তাটা পেরুতে গিয়ে পা থেমে গেল। পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে গণদা কথা কইছে কার সঙ্গে। লোকটা গণুদার মুখোমুখি অর্থাৎ এদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে বলে গোটাগুটি দেখা যাচ্ছে তাকে। চকচকে চেহারা, পরনে ঝকঝকে স্যুট, হাতে ঘাস-রঙা সিগারেটের টিন, চঞ্চল হাবভাব, কথা কইছে আর কোটের হাতা টেনে ঘড়ি দেখছে। দেখা মাত্র একটা অজ্ঞাত অস্বস্তি ছেঁকে ধরার উপক্রম। এ রকম একজন লোককে ধীরাপদ কোথায় দেখেছিল? কবে দেখেছিল? এ রকম একজনকে নয়, এই লোককেই। কিন্তু কোথায়? কবে? চেষ্টা করেও মনে করতে পারল না কোথায় দেখেছে, কবে দেখেছে? যেখানেই দেখুক, সেই দেখার সঙ্গে কোনো শুভ স্মৃতি জড়িত নয়-চেতনার দরজায় শুধু এই বার্তাটাই ঘা দিয়ে গেল বারকতক।

    একটা লোককে পথের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতে দেখলে সেদিকে চোখ যাবেই। লোকটাও দেখল, দেখে ভুরু কোঁচকালো। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে গণূদা ঘাড় ফেরাল। এবারে গণুদাকেই দেখল ধীরাপদ। পরনের জামা-কাপড় আধময়লা, শুকনো মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, ফর্সা রঙ তেতেপুড়ে তামাটে হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

    এক মুহূর্তে যতখানি ঘৃণা আর বিদ্বেষ বর্ষণ করা যায় গণদা তা করল। তারপর একেবারে পিছন ফিরে ঘুরে দাঁড়াল।

    ধীরাপদ পাশ কাটিয়ে গেল। সঙ্গের ওই ঘাস-রঙা সিগারেটের টিন হাতে লোকটাকে কোথায় দেখল? কবে দেখল?

    সুলতান কুঠি যত কাছে আসছে পা দুটো ততো ভারী লাগছে। মজা পুকুরের অনেকটা এধারেই পা দুটো অচল হয়ে থেমেই গেল শেষে। কোথায় যাচ্ছে সে? কি দেখতে যাচ্ছে? গণুদার ওই মূর্তি, যাচ্ছে যেখানে সেখানকার চেহারা কেমন দেখবে? দুটো মাস কেটে গেল এরই মধ্যে, কিন্তু এখানে এই দুটো মাসের প্রত্যেকটা দিন কিভাবে কেটেছে? ওকে দেখেই হয়ত উমা বেরিয়ে আসবে, তার পিছনে হয়ত ছেলে দুটোও বেরিয়ে আসবে-এলে ধীরাপদ কি দেখবে ঠিক কি!

    দম বন্ধ হয় আসছে, একটা অব্যক্ত যাতনা শুধু দুই চোখের কোণ ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে। ধীরাপদ হন হন করে ফিরে চলল। একাদশী শিকদারের খবরের কাগজের টাকা মনি অর্ডার করে পাঠালেই হবে। তারপর আর একদিন প্রস্তুত হয়ে আসবে। সব দেখার মত, সব সহ্য করার মত, আর সব কিছুর চূড়ান্ত বোঝাপড়া করে নেবার মত প্রস্তুত হয়ে।

    চার রাস্তার মোড়ে গদা বা সেই লোকটা নেই। আরো একবার মনের তলায় ডুব দিয়ে লোকটাকে আঁতিপাতি করে খুঁজল। পেল না। লোকটাকে দেখেছিল কোথাও ভুল নেই। অশুভ দেখা, অশুভ স্মৃতি কিছুর…এই লোক গণুদার সঙ্গে কেন? কিন্তু কে লোকটা?

    রাজ্যের ক্লান্তি। থাক, মনে পড়বে’খন যখন হয়।…

    ক’টা দিন না যেতে মনটা আবার যে স্রোতের মুখে গিয়ে পড়ল তার বেগ যত না, আবর্ত চতুর্গুণ। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সেটা প্রবল নয় খুব, প্রত্যক্ষগোচরও নয় তেমন।

    অমিতাভ ঘোষের রিসার্চের প্ল্যান নাকচ হয়ে গেল।

    বিয়েটা করে ফেলার পর ছোট সাহেব সিতাংশু মিত্র হৃতক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। শুধু ফিরে পাওয়া নয়, ওই এক কারণে তার আধিপত্যের দাবি আগের থেকেও বেড়েছে যেন। বড় সাহেব বিদেশযাত্রা করলে ব্যবসায়ের সর্বময় কর্তৃত্বের দখলও সে-ই নেবে এও প্রায় প্রকাশ্যেই স্পষ্ট। তার চালচলন ঈষৎ উগ্র, কাজকর্মে দৃষ্টি প্রখর।

    কারখানার কর্মচারীদের অনেকে শঙ্কা বোধ করেছে। গত উৎসবে বড় সাহেবের ঘোষণা অনুযায়ী তাদের পাওনাগণ্ডা মেটেনি এখনো। অনেক কিছুই প্রতিশ্রুতির সুতোয় ঝুলছে। কেউ কেউ ধীরাপদর কাছে প্রস্তাব করেছে, বড় সাহেবকে বলুন না, যাবার আগে এদিকের যদি কিছু ব্যবস্থাপত্র করে যেতেন…। তানিস সর্দার পরামর্শ করতে এসেছিল, সদলবলে বড় সাহেবের কাছে এসে তারা একটু সরব আবেদন পেশ করে যাবে কি না। হাসি চেপে ধীরাপদ আশ্বাস দিয়ে নিরস্ত করেছে। বড় সাহেবের সঙ্গে ভার কথা হয়েছে, ছেলের সঙ্গে আর লাবণ্যের সঙ্গে পরামর্শ করে আপাতত যতটা সম্ভব তিনি করতে বলেছেন।

    সিতাংশু দিনের অর্ধেক প্রসাধন বিভাগের কাজ দেখে। সেখানে সে নতুন ম্যানেজার নিযুক্ত করেছে একজন। বেলা দুটোর পর এই অফিসে আসে। লাবণ্যর ঘরে নিজের সেই পুরনো টেবিলেই বসে। বড় সাহেবের কোনো কিছুতেই আপত্তি নেই আর। হুকুমমত বিয়ে করে ছেলে যে গুণের পরিচয় দিয়েছে, আপাতত সেটা সব কিছুর ঊর্ধ্বে। তাছাড়া, তাঁর অনুপস্থিতিতে মালিক তরফের প্রধান একজন দরকার চেক-টেক সই করা আছে, আরো অনেক রকমের দায়িত্ব আছে। ভাগ্নের ওপর এ দায়িত্ব দেওয়া চলে না ধীরাপদও বোঝে। নিজের কাজকর্ম দেখাই ছেড়েছে সে। সেখানে এখন সিনিয়র কেমিস্ট জীবন সোম সর্বেসর্বা।

    অমিতাভ মামাকে কড়া নোটিস দিয়েছিল, বাইরে পা বাড়াবার আগে তার গবেষণা বিভাগ চালু করে দিয়ে যেতে হবে। মোটামুটি স্কীমও একটা দিয়েছে সে, কিন্তু সেটা খুঁটিয়ে দেখার অবকাশ কারো হয়েছে বলে ধীরাপদর মনে হয় না। কাগজগুলো বড় সাহেব তার কাছে চালান করেছেন, বলেছেন, দেখো কিভাবে মাথা ঠাণ্ডা করবে, সতুর সঙ্গেও পরামর্শ করে নিও।

    সিতাংশু পরামর্শ কিছু করেনি, ভালমন্দ একটা কথাও বলেনি। কাগজপত্রগুলো নিজের হেপাজতে রেখে দিয়েছে। মনে মনে বেশ একটা অস্বস্তি নিয়েই দিন কাটাচ্ছিল ধীরাপদ, অনাগত দুর্যোগের ছায়া দেখছিল। অমিতাভর এই প্রেরণার সবটাই একটা সাময়িক খেয়াল বলে মনে হয়নি তার, একেবারে তুচ্ছ করার মত মনে হয়নি। সে বিজ্ঞান বোঝে না কিন্তু সত্তার তাগিদ বোঝে। এই দুর্দম দুরন্ত লোকের মধ্যেই সাধনার ক্ষেত্রে যে সমাহিত তন্ময়তা নিজের চোখে দেখেছে, তা উপেক্ষার বস্তু নয়। কিন্তু এ নিয়ে ধীরাপদ ভাবনাচিন্তার অবকাশও পায়নি, অফিসের কয়েক ঘণ্টা বাদে সর্বদাই বড় সাহেবের প্রবাসের প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত সে।

    ধূমকেতুর মত অমিতাভ সেদিন তার অফিসঘরে এসে হাজির। মারমুখো মূর্তি।

    আপনি মস্ত অফিসার হয়ে বসেছেন, কেমন?

    আগে হলে ধীরাপদর হাত থেকে কলম খসে যেত। এখন অতটা উতলা হয় না। মানুষটার প্রতি তার আকর্ষণ কমেনি একটুও, কিন্তু মুখোমুখি হলে এক ধরনের প্রতিকূল অনুভূতিও জাগে।

    বসুন। কি হয়েছে?

    মামার কাছ থেকে আমার কাগজপত্র নিয়ে আপনি কোন সাহসে চেপে বসে আছেন? এ পর্যন্ত কি অ্যাকশন নিয়েছেন তার? অমিতাভ বসেনি, সামনের চেয়ারটায় হাত রেখে ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিল, ক্রুদ্ধ প্রশ্নটার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারটাতেও ঝাঁকুনি পড়ল।

    অ্যাকশন নেবার মালিক আমি নই। আপনার কাগজপত্র সব সিতাংশুবাবুর কাছে।

    মুহূর্তের জন্য থমকালো অমিতাভ, তার কাছে কে দিতে বলেছে?

    আপনার মামা।

    রাগে ক্ষোভে নীরব কয়েক মুহূর্ত। ডাকল, আমার সঙ্গে আসুন একটু।

    পাশের ঘরে গিয়ে ঢুকল। লাবণ্য আর সিতাংশুর ঘরে। পিছনে ধীরাপদ। দুই টেবিল থেকে দুজনে একসঙ্গে মুখ তুলল। অমিতাভ সোজা সিতাংশুর টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল।

    ইনি বলছেন আমার কাগজপত্রগুলো সব তোর কাছে?

    কোন্ কাগজপত্র?

    রিসার্চ স্কীমের?

    ও, হ্যাঁ।

    সরোষে ধীরাপদর দিকে ফিরল অমিতাভ, কবে দিয়েছেন আপনি?

    দিন পাঁচ-ছয়-

    ধীরাপদর জবাব শেষ হবার আগেই সিতাংশুর দিকে একটা হাত বাড়িয়ে দিল। —ওগুলো আমার চাই, এক্ষুনি।

    সিতাংশুর ঠাণ্ডা উত্তর, ওগুলো এখন আমার কাছে নেই, ওপিনিয়নের জন্য এ লাইনের দুজন এক্সপোর্টকে দেখতে দিয়েছি।

    রাগে অপমানে নির্বাক খানিকক্ষণ। চেয়ে আছে। ঘাড় ফিরিয়ে সেই চোখেই ওধারের টেবিলের সহকর্মিণীটিকেও বিদ্ধ করে নিল একবার। ফেটে পড়ার বদলে প্রথমে ব্যঙ্গ করল একপশলা।—তোর একজন এক্সপার্ট তো সামনেই দেখছি, আর একজন কে?

    না, রমণী-মুখ একটুও আরক্ত হয়ে উঠল না। আরও বেশি স্থির, নির্বিকার মনে হল! সিতাংশু রূঢ় জবাব দিতে যাচ্ছিল কিছু কিন্তু তার আগেই অমিতাভ গর্জে উঠল, কেন আমাকে না জানিয়ে সেটা বাইরের লোকের কাছে দেওয়া হয়েছে? হোয়াই?

    চেঁচিও না। এটা অফিস। তোমার জিনিস বলেই ওপিনিয়ন চেয়ে পাঠানো হয়েছে, অনোর হলে ছিঁড়ে ফেলা হত। টাকা তোমারও না আমারও না, তুমি চাইলেই লিমিটেড কোম্পানীর টাকায় রাতারাতি রিসার্চ বিলডিং গজাবে না!

    প্রতিষ্ঠানের ভাবী প্রধানের মতই কথাগুলো বলল বটে, ধীরাপদ মনে মনে তা স্বীকার না করে পারল না। অমিতাভ ঘোষ আর দাঁড়ায়নি, ঘর থেকে বেরিয়ে দোতলা কাঁপিয়ে নিচে চলে গেছে।

    দিনকয়েকের মধ্যেই বাবার অফিসঘরে সিতাংশু আলোচনার বৈঠক ডেকেছে। কিন্তু অমিতাভ সেটা মিটিং ভাবেনি, তার অপমানের আসর ভেবেছে। তার থমথমে মুখের দিকে চেয়ে ধীরাপদর সেই রকমই মনে হয়েছে। চশমার পুরু কাচের ওধারে দুই চোখ থেকে সাদাটে তাপ ঠিকরে পড়েছে একে একে সকলের মুখের ওপর —বড় সাহেবের, ছোট সাহেবের, লাবণ্যর, সিনিয়র কেমিস্ট জীবন সোমের- ধীরাপদরও।

    বৈঠক দশ মিনিটও টেকেনি, তার মধ্যেই ওলট-পালট যেটুকু হবার হয়েছে। আলোচনাটা আনুষ্ঠানিক গাম্ভীর্যে শুরু বা সম্পন্ন করার ইচ্ছা ছিল হয়ত সিতাংশুর। অন্যথায় বাকি কজনকে ডাকার কারণ নেই। কিন্তু হিমাংশুবাবু সে অবকাশ দিলেন না, ভাগ্নের মুখ দেখেই তিনি বিপদ গনেছেন। ঘরোয়া আলাপের সুরে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি করতে চাস না চাস এদের বুঝিয়ে বলেছিস?

    স্বভাব অনুযায়ী লোকটা ক্ষেপে উঠলেও হয়ত কিঞ্চিৎ আশ্বস্ত বোধ করত ধীরাপদ। কিন্তু তার বিপরীত দেখছে, চোখের পলক পড়ে না এমনি ধীর, শান্ত।

    এঁদের বোঝার দরকার নেই। তুমি কি বুঝেছ?

    বড় সাহেবের হাতের পাইপটা অনেক গোলযোগের সহায় বটে। পাইপ পরখ করলেন, একটা কাঠি বার করে খোঁচালেন একটু, তারপর দাঁতে চালান করলেন। এই ফাঁকে হাসছেন অল্প অল্প।—যে তাড়া তোর আমি আর সময় পেলাম কোথায়?

    আপাতত যাতে হাত দিতে চাস সেটা কতদিনের ব্যাপার?

    সেটা তোমার ছ মাসে এক চক্কর য়ুরোপ ঘুরে আসার মত ব্যাপার নয় কিছু, ছ দিনে হতে পারে, ছ মাস লাগতে পারে, ছ বছরেও কিছু না হতে পারে। তোমাকেও পারমানেন্ট রিসার্চ ডিপার্টমেন্টের কথা বলা হয়েছিল।

    তা তো হয়েছিল। পাইপটা এবারে ধরানো দরকার বোধ করলেন তিনি, তারপর বললেন, সেভাবে ফেঁদে বসতে গেলে টাকা তো অনেক লাগে।

    যেখানে যাচ্ছ ভাল করে দেখে এসো রিসার্চে তাদের টাকা লাগছে কিনা।

    প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপের আঁচে সিতাংশু উক্তিটা সমর্থন করল যেন। বলল, ওদের কোন একটা কোম্পানী রিসার্চে চল্লিশ লক্ষ টাকা খরচ করে বছরে শুনেছি।

    আশ্চর্য, এবারও অমিতাভ ঘোষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল না। কঠিন সংযমের বাঁধন টুটল না। ফিরে তাকালো শুধু, চশমার কাচ আর একটু বেশি চকচকে দেখল। রসিকতাটা শুধু জীবন সোমই যা একটু উপভোগ করেছেন, তবে স্পষ্ট করে হাসতে সাহস করেননি তিনিও। আড়চোখে ধীরাপদ লাবণ্যের দিকে তাকালো একবার, মনে হল সেই মুখেও চাপা অস্বস্তির ছায়া।

    বাবার বাক্যালাপের এই আপসের সুরটা আদৌ পছন্দ নয় সিতাংশুর। পাছে তিনি গণ্ডগোল বাধান সেই আশঙ্কায় অপ্রিয়ভাষণের দায়টা সে নিজের কাঁধেই ভুলে নিল। বেশ স্পষ্ট করে ঘোষণা করল, রিসার্চে কি সুফল হবে না হবে সেটা পরের কথা, আনপ্রোডাকটিভ ইনভেস্টমেন্টে টাকা ঢালার মত অবস্থা নয় কোম্পানীর এখন।

    কথাগুলো ঘরের বাতাস শোষণ করতে থাকল খানিকক্ষণ ধরে। বড় সাহেব শব্দ না করে ডান হাতের পাইপটা বাঁ হাতের তালুতে ঠুকলেন কয়েকবার। লাবণ্য টেবিলের কাচের ওপর তর্জনীর আঁচড় কাটতে লাগল। জীবন সোম চিবুক বুকে ঠেকিয়ে নিজের পরিচ্ছদ দেখছেন। ধীরাপদর মুক দ্রষ্টার ভূমিকা।

    অমিতাভ চেয়ার ঠেলে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল। তারপর ঘর ছেড়ে চলে গেল। এর আধ ঘণ্টা বাদে ধীরাপদ নিজের ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে বড় সাহেবকে গাড়িতে উঠতে দেখেছে, সঙ্গে ছোট সাহেবকেও। তারও ঘণ্টাখানেক বাদে লাবণ্য এলো তার ঘরে। বর্তমানে তার সঙ্গে বাক্যালাপের ধারণাটা নিছক প্রয়োজনের আঁট- সুতোয় বাঁধা। সপ্তাহে ক’টা কথা হয় হাতে গোনা যায়।

    লাবণ্য বসল না, ধীরাপদও বলল না বসতে। লাবণ্য বলল, ব্যাপারটা খুব ভালো হল না বোধ হয়…। একেবারে বাতিল না করে ছোট করে আরম্ভ করা যেত।

    ধীরাপদ হাসতেই চেষ্টা করল, আপনার মতটা কাউকে জানাতে বলছেন?

    মিস্টার মিত্রকে জানাতে পারেন।

    তার থেকে আপনি সিতাংশুবাবুকে বললে কাজ হতে পারে মনে হয়।

    চোখে চোখ রেখে লাবণ্য সায় দিল, হতে পারে। কিন্তু এরপর এক মিস্টার মিত্র ছাড়া আর কেউ কিছু করলেও কাজ হবে না।

    অর্থাৎ অমিতাভ ঘোষের মাথা ঠাণ্ডা হবে না। লাবণ্য আসার আগের মুহূর্তেও ধীরাপদর দুশ্চিন্তার অবধি ছিল না। কিন্তু সেই দুশ্চিন্তার সঙ্গিনী লাভ করে তুষ্ট হওয়া দূরে থাক, উল্টো প্রতিক্রিয়া দেখা দিল। একটু থেমে বজ্র-গাভীর্য্যে জিজ্ঞাসা করল, কোম্পানীর ছোটখাটো রিসার্চ ইউনিট একটা দরকার ভাবছেন, না ব্যক্তিগতভাবে অমিতবাবুর দিকটা চিন্তা করে বলছেন?

    ডাক্তার হিসেবে তাঁর কথা চিন্তা করেই বলছি।

    আবির্ভাবের থেকেও প্রস্থানের গতি আরো মন্থর। ধীরাপদ ঘাড় ফিরিয়ে দেখছে। কার্জন পার্কের লোহার বেঞ্চির ধীরাপদ চক্রবর্তী এতখানি ভাগ্যের প্রসন্নতা সত্ত্বেও আজ নিজের নিভৃতে যতখানি দেউলে, তার সবটার মূলে এই একজন। তাই তার এ দেখাটা সহজ নয়, সুস্থও নয়।

    তবু সুযোগমত বড় সাহেবের কাছে প্রস্তাবটা উত্থাপন করবে ভেবেছিল। কিন্তু যাবার আগে হিমাংশুবাবু ভাগ্নের মাথা ঠাণ্ডা রাখার যে নিশ্চিন্ত হদিস দিয়ে গেলেন, শুনে ধীরাপদর মুখে কথা সরেনি। হদিস দেওয়া নয়, পরোক্ষ তিনি তাকে নিগূঢ় দায়িত্ব দিয়ে গেলেন একটা।

    -তোমার দিদিকে বুঝিয়ে বলো। সবদিক ভেবেচিন্তে দেখতে বলে তাঁর মত করাও। এই কাজটা করো দেখি-ডু ইট। তা বলে তাড়াহুড়ো করে গোল বাধিয়ে বসো না। রাদার টেক ইউওর টাইম অ্যান্ড গো স্লো। তিনি রাজি হলে আমাকে জানিও, একটা টেলিগ্রাম করে দিও না হয়, সম্ভব হলে কিছু আগেই চলে আসতে চেষ্টা করব।

    ভাগ্নের জন্যে আর একটু উতলা নন তিনি। ছেলের বিয়েটা দিয়ে ফেলতে পেরেই তিনি একেবারে নিশ্চিন্ত। দু দিন আগে হোক দু দিন পরে হোক, ভাগ্নে শেকল পরবে। লাবণ্য সেই শেকল, তাঁর মনের মত জোরালো শেকল। বাধা এখন চারুদি। বাধাটা হিমাংশুবাবুর কাছে অন্তত উপেক্ষা করার মত তুচ্ছ নয়।

    তুচ্ছ না হলেও দুরতিক্রমণীয় ভাবছেন না। তার ওপর ধীরাপদ আছে যোগ্য চক্রী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী
    Next Article সেই অজানার খোঁজে – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }