Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাহিনী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প68 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গান্ধারীর আবেদন

    দুর্যোধন।
                               প্রণমি চরণে তাত!
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                   ওরে দুরাশয়,
     
                               অভীষ্ট হয়েছে সিদ্ধ?
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  লভিয়াছি জয়।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                               এখন হয়েছ সুখী?
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  হয়েছি বিজয়ী।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                               অখণ্ড রাজত্ব জিনি সুখ তোর কই
     
                               রে দুর্মতি?
     
     
    দুর্যোধন।
                               সুখ চাহি নাই মহারাজ!
     
                               জয়, জয় চেয়েছিনু, জয়ী আমি আজ।
     
                               ক্ষুদ্র সুখে ভরে নাকো ক্ষত্রিয়ের ক্ষুধা
     
                               কুরুপতি-- দীপ্তজ্বালা অগ্নিঢালা সুধা
     
                               জয়রস, ঈর্ষাসিন্ধুমন্থনসঞ্জাত,
     
                               সদ্য করিয়াছি পান; সুখী নহি, তাত,
     
                               অদ্য আমি জয়ী। পিতঃ, সুখে ছিনু, যবে
     
                               একত্রে আছিনু বদ্ধ পাণ্ডবে কৌরবে,
     
                               কলঙ্ক যেমন থাকে শশাঙ্কের বুকে
     
                               কর্মহীন গর্বহীন দীপ্তিহীন সুখে।
     
                               সুখে ছিনু, পাণ্ডবের গাণ্ডীবটঙ্কারে
     
                               শঙ্কাকুল শত্রুদল আসিত না দ্বারে।
     
                               সুখে ছিনু, পাণ্ডবেরা জয়দৃপ্ত করে
     
                               ধরিত্রী দোহন করি' ভ্রাতৃপ্রীতিভরে
     
                               দিত অংশ তার-- নিত্য নব ভোগসুখে
     
                               আছিনু নিশ্চিন্তচিত্তে অনন্ত কৌতুকে।
     
                               সুখে ছিনু, পাণ্ডবের জয়ধ্বনি যবে
     
                               হানিত কৌরবকর্ণ প্রতিধ্বনিরবে।
     
                               পাণ্ডবের যশোবিম্ব-প্রতিবিম্ব আসি
     
                               উজ্জ্বল অঙ্গুলি দিয়া দিত পরকাশি
     
                               মলিন কৌরবকক্ষ। সুখে ছিনু, পিতঃ,
     
                               আপনার সর্বতেজ করি নির্বাপিত
     
                               পাণ্ডবগৌরবতলে স্নিগ্ধশান্তরূপে,
     
                               হেমন্তের ভেক যথা জড়ত্বের কূপে।
     
                               আজি পাণ্ডুপুত্রগণে পরাভব বহি
     
                               বনে যায় চলি-- আজ আমি সুখী নহি,
     
                               আজ আমি জয়ী।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                   ধিক্‌ তোর ভ্রাতৃদ্রোহ।
     
                               পাণ্ডবের কৌরবের এক পিতামহ
     
                               সে কি ভুলে গেলি?
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  ভুলিতে পারি নে সে যে--
     
                               এক পিতামহ, তবু ধনে মানে তেজে
     
                               এক নহি। যদি হত দূরবর্তী পর
     
                               নাহি ছিল ক্ষোভ; শর্বরীর শশধর
     
                               মধ্যাহ্নের তপনেরে দ্বেষ নাহি করে,
     
                               কিন্তু প্রাতে এক পূর্ব-উদয়শিখরে
     
                               দুই ভ্রাতৃসূর্যলোক কিছুতে না ধরে।
     
                               আজ দ্বন্দ্ব ঘুচিয়াছে, আজি আমি জয়ী,
     
                               আজি আমি একা।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                   ক্ষুদ্র ঈর্ষা! বিষময়ী
     
                               ভুজঙ্গিনী!
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  ক্ষুদ্র নহে, ঈর্ষা সুমহতী।
     
                               ঈর্ষা বৃহতের ধর্ম। দুই বনস্পতি
     
                               মধ্যে রাখে ব্যবধান; লক্ষ লক্ষ তৃণ
     
                               একত্রে মিলিয়া থাকে বক্ষে বক্ষে লীন;
     
                               নক্ষত্র অসংখ্য থাকে সৌভ্রাত্রবন্ধনে--
     
                               এক সূর্য, এক শশী। মলিন কিরণে
     
                               দূর বন-অন্তরালে পাণ্ডুচন্দ্রলেখা
     
                               আজি অস্ত গেল, আজি কুরুসূর্য একা--
     
                               আজি আমি জয়ী!
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                   আজি ধর্ম পরাজিত।
     
     
    দুর্যোধন।
                               লোকধর্ম রাজধর্ম এক নহে পিতঃ!
     
                               লোকসমাজের মাঝে সমকক্ষ জন
     
                               সহায় সুহৃদ্‌-রূপে নির্ভর বন্ধন।
     
                               কিন্তু রাজা একেশ্বর; সমকক্ষ তার
     
                               মহাশত্রু, চিরবিঘ্ন, স্থান দুশ্চিন্তার,
     
                               সম্মুখের অন্তরাল, পশ্চাতের ভয়,
     
                               অহর্নিশি যশঃশক্তিগৌরবের ক্ষয়,
     
                               ঐশ্বর্যের অংশ-অপহারী। ক্ষুদ্র জনে
     
                               বলভাগ ক'রে লয়ে বান্ধবের সনে
     
                               রহে বলী; রাজদণ্ড যত খণ্ড হয়
     
                               তত তার দুর্বলতা, তত তার ক্ষয়।
     
                               একা সকলের ঊর্ধ্বে মস্তক আপন
     
                               যদি না রাখিবে রাজা, যদি বহুজন
     
                               বহুদূর হতে তাঁর সমুদ্ধত শির
     
                               নিত্য না দেখিতে পায় অব্যাহত স্থির,
     
                               তবে বহুজন--'পরে বহুদূরে তাঁর
     
                               কেমনে শাসনদৃষ্টি রহিবে প্রচার?
     
                               রাজধর্মে ভ্রাতৃধর্ম বন্ধুধর্ম নাই,
     
                               শুধু জয়ধর্ম আছে, মহারাজ, তাই
     
                               আজি আমি চরিতার্থ-- আজি জয়ী আমি--
     
                               সম্মুখের ব্যবধান গেছে আজি নামি
     
                               পাণ্ডবগৌরবগিরি পঞ্চচূড়াময়।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                               জিনিয়া কপটদ্যূতে তারে কোস জয়,
     
                               লজ্জাহীন অহংকারী!
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  যার যাহা বল
     
                               তাই তার অস্ত্র, পিতঃ, যুদ্ধের সম্বল।
     
                               ব্যাঘ্রসনে নখে দন্তে নহিক সমান,
     
                               তাই বলে ধনুঃশরে বধি তার প্রাণ
     
                               কোন্‌ নর লজ্জা পায়? মূঢ়ের মতন
     
                               ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুমাঝে আত্মসমর্পণ
     
                               যুদ্ধ নহে, জয়লাভ এক লক্ষ্য তার--
     
                               আজি আমি জয়ী পিতঃ, তাই অহংকার।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                               আজি তুমি জয়ী, তাই তব নিন্দাধ্বনি
     
                               পরিপুর্ণ করিয়াছে অম্বর অবনী
     
                               সমুচ্চ ধিক্কারে।
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  নিন্দা! আর নাহি ডরি,
     
                               নিন্দারে করিব ধ্বংস কণ্ঠরুদ্ধ করি।
     
                               নিস্তব্ধ করিয়া দিব মুখরা নগরী
     
                               স্পর্ধিত রসনা তার দৃঢ়বলে চাপি
     
                               মোর পাদপীঠতলে। "দুর্যোধন পাপী"
     
                               "দুর্যোধন ক্রূরমনা" "দুর্যোধন হীন"
     
                               নিরুত্তরে শুনিয়া এসেছি এতদিন,
     
                               রাজদণ্ড স্পর্শ করি কহি মহারাজ,
     
                               আপামর জনে আমি কহাইব আজ--
     
                               "দুর্যোধন রাজা, দুর্যোধন নাহি সহে
     
                               রাজনিন্দা-আলোচনা, দুর্যোধন বহে
     
                               নিজ হস্তে নিজ নাম।"
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                   ওরে বৎস, শোন্‌,
     
                               নিন্দারে রসনা হতে দিলে নির্বাসন
     
                               নিম্নমুখে অন্তরের গূঢ় অন্ধকারে
     
                               গভীর জটিল মূল সুদূরে প্রসারে,
     
                               নিত্য বিষতিক্ত করি রাখে চিত্ততল।
     
                               রসনায় নৃত্য করি চপল চঞ্চল
     
                               নিন্দা শ্রান্ত হয়ে পড়ে; দিয়ো না তাহারে
     
                               নিঃশব্দে আপন শক্তি বৃদ্ধি করিবারে
     
                               গোপন হৃদয়দুর্গে। প্রীতিমন্ত্রবলে
     
                               শান্ত করো, বন্দী করো নিন্দাসর্পদলে
     
                               বংশীরবে হাস্যমুখে।
     
     
    দুর্যোধন।
                                                  অব্যক্ত নিন্দায়
     
                               কোনো ক্ষতি নাহি করে রাজমর্যাদায়;
     
                               ভ্রূক্ষেপ না করি তাহে। প্রীতি নাহি পাই
     
                               তাহে খেদ নাহি, কিন্তু স্পর্ধা নাহি চাই
     
                               মহারাজ! প্রীতিদান স্বেচ্ছার অধীন,
     
                               প্রীতিভিক্ষা দিয়ে থাকে দীনতম দীন--
     
                               সে প্রীতি বিলাক তারা পালিত মার্জারে,
     
                               দ্বারের কুক্কুরে, আর পাণ্ডবভ্রাতারে--
     
                               তাহে মোর নাহি কাজ। আমি চাহি ভয়,
     
                               সেই মোর রাজপ্রাপ্য-- আমি চাহি জয়
     
                               দর্পিতের দর্প নাশি। শুন নিবেদন
     
                               পিতৃদেব-- একাল তব সিংহাসন
     
                               আমার নিন্দুকদল নিত্য ছিল ঘিরে,
     
                               কণ্টকতরুর মতো নিষ্ঠুর প্রাচীরে
     
                                   তোমার আমার মধ্যে রচি ব্যবধান--
     
                                   শুনায়েছে পাণ্ডবের নিত্যগুণগান,
     
                                   আমাদের নিত্য নিন্দা-- এইমতে, পিতঃ,
     
                                   পিতৃস্নেহ হতে মোরা চিরনির্বাসিত।
     
                                   এইমতে, পিতঃ, মোরা শিশুকাল হতে
     
                                   হীনবল-- উৎসমুখে পিতৃস্নেহস্রোতে
     
                                   পাষাণের বাধা পড়ি মোরা পরিক্ষীণ
     
                                   শীর্ণ নদ, নষ্টপ্রাণ, গতিশক্তিহীন,
     
                                   পদে পদে প্রতিহত; পাণ্ডবেরা স্ফীত,
     
                                   অখণ্ড, অবাধগতি। অদ্য হতে পিতঃ,
     
                                   যদি সে নিন্দুকদলে নাহি কর দূর
     
                                   সিংহাসনপার্শ্ব হতে, সঞ্জয় বিদুর
     
                                   ভীষ্মপিতামহে, যদি তারা বিজ্ঞবেশে
     
                                   হিতকথা ধর্মকথা সাধু-উপদেশে
     
                                   নিন্দায় ধিক্কারে তর্কে নিমেষে নিমেষে
     
                                   ছিন্ন ছিন্ন করি দেয় রাজকর্মডোর,
     
                                   ভারাক্রান্ত করি রাখে রাজদণ্ড মোর,
     
                                   পদে পদে দ্বিধা আনে রাজশক্তি-মাঝে,
     
                                   মুকুট মলিন করে অপমানে লাজে,
     
                                   তবে ক্ষমা দাও পিতৃদেব-- নাহি কাজ
     
                                   সিংহাসনকণ্টকশয়নে-- মহারাজ,
     
                                   বিনিময় করে লই পাণ্ডবের সনে
     
                                   রাজ্য দিয়ে বনবাস, যাই নির্বাসনে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   হায় বৎস অভিমানী! পিতৃস্নেহ মোর
     
                                   কিছু যদি হ্রাস হত শুনি সুকঠোর
     
                                   সুহৃদের নিন্দাবাক্য, হইত কল্যাণ।
     
                                   অধর্মে দিয়েছি যোগ, হারায়েছি জ্ঞান,
     
                                   এত স্নেহ। করিতেছি সর্বনাশ তোর,
     
                                   এত স্নেহ। জ্বালাতেছি কালানল ঘোর
     
                                   পুরাতন কুরুবংশ-মহারণ্যতলে--
     
                                   তবু পুত্র, দোষ দিস স্নেহ নাই ব'লে?
     
                                   মণিলোভে কালসর্প করিলি কামনা,
     
                                   দিনু তোরে নিজহস্তে ধরি তার ফণা
     
                                   অন্ধ আমি।-- অন্ধ আমি অন্তরে বাহিরে
     
                                   চিরদিন-- তোরে লয়ে প্রলয়তিমিরে
     
                                   চলিয়াছি-- বন্ধুগণ হাহাকাররবে
     
                                   করিছে নিষেধ, নিশাচর গৃধ্র-সবে
     
                                   করিতেছে অশুভ চীৎকার, পদে পদে
     
                                   সংকীর্ণ হতেছে পথ, আসন্ন বিপদে
     
                                   কণ্টকিত কলেবর, তবু দৃঢ়করে
     
                                   ভয়ংকর স্নেহে বক্ষে বাঁধি লয়ে তোরে
     
                                   বায়ুবলে অন্ধবেগে বিনাশের গ্রাসে
     
                                   ছুটিয়া চলেছি মূঢ় মত্ত অট্টহাসে
     
                                   উল্কার আলোকে-- শুধু তুমি আর আমি,
     
                                   আর সঙ্গী বজ্রহস্ত দীপ্ত অন্তর্যামী--
     
                                   নাই সম্মুখের দৃষ্টি, নাই নিবারণ
     
                                   পশ্চাতের, শুধু নিম্নে ঘোর আকর্ষণ
     
                                   নিদারুণ নিপাতের। সহসা একদা
     
                                   চকিতে চেতনা হবে, বিধাতার গদা
     
                                   মুহূর্তে পড়িবে শিরে, আসিবে সময়--
     
                                   ততক্ষণ পিতৃস্নেহে কোরো না সংশয়,
     
                                   আলিঙ্গন করো না শিথিল, ততক্ষণ
     
                                   দ্রুত হস্তে লুটি লও সর্ব স্বার্থধন--
     
                                   হও জয়ী, হও সুখী, হও তুমি রাজা
     
                                   একেশ্বর।-- ওরে, তোরা জয়বাদ্য বাজা।
     
                                   জয়ধ্বজা তোল্‌ শূন্যে। আজি জয়োৎসবে
     
                                   ন্যায় ধর্ম বন্ধু ভ্রাতা কেহ নাহি রবে--
     
                                   না রবে বিদুর ভীষ্ম, না রবে সঞ্জয়,
     
                                   নাহি রবে লোকনিন্দা লোকলজ্জা-ভয়
     
                                   কুরুবংশরাজলক্ষ্ণী নাহি রবে আর--
     
                                   শুধু রবে অন্ধ পিতা, অন্ধ পুত্র তার,
     
                                   আর কালান্তক যম-- শুধু পিতৃস্নেহ
     
                                   আর বিধাতার শাপ, আর নহে কেহ।
     
     
     
    চর।
                                        মহারাজ, অগ্নিহোত্র দেব-উপাসনা
     
                                   ত্যাগ করি বিপ্রগণ, ছাড়ি সন্ধ্যার্চনা,
     
                                   দাঁড়ায়েছে চতুষ্পথে পাণ্ডবের তরে
     
                                   প্রতীক্ষিয়া; পৌরগণ কেহ নাহি ঘরে,
     
                                   পাণ্যশালা রুদ্ধ সব; সন্ধ্যা হল, তবু
     
                                   ভৈরবমন্দির-মাঝে নাহি বাজে, প্রভু,
     
                                   শঙ্খঘণ্টা সন্ধ্যাভেরী, দীপ নাহি জ্বলে;
     
                                   শোকাতুর নরনারী সবে দলে দলে
     
                                   চলিয়াছে নগরের সিংহদ্বার-পানে
     
                                   দীনবেশে সজলনয়নে।
     
     
    দুর্যোধন।
                                                      নাহি জানে
     
                                   জাগিয়াছে দুর্যোধন। মূঢ় ভাগ্যহীন!
     
                                   ঘনায়ে এসেছে আজি তোদের দুর্দিন।
     
                                   রাজায় প্রজায় আজি হবে পরিচয়
     
                                   ঘনিষ্ঠ কঠিন। দেখি কতদিন রয়
     
                                   প্রজার পরম স্পর্ধা-- নির্বিষ সর্পের
     
                                   ব্যর্থ ফণা-আস্ফালন, নিরস্ত্র দর্পের
     
                                   হুহুংকার।
     
     
     
                                           প্রতিহারীর প্রবেশ
     
    প্রতিহারী।
                                                     মহারাজ, মহিষী গান্ধারী
     
                                   দর্শনপ্রার্থিনী পদে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                      রহিনু তাঁহারি
     
                                   প্রতীক্ষায়।
     
     
    দুর্যোধন।
                                            পিতঃ, আমি চলিলাম তবে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   করো পলায়ন। হায়, কেমনে বা সবে
     
                                   সাধ্বী জননীর দৃষ্টি সমুদ্যত বাজ
     
                                   ওরে পুণ্যভীত! মোরে তোর নাহি লাজ।
     
     
     
                                          গান্ধারীর প্রবেশ
     
    গান্ধারী।
                                   নিবেদন আছে শ্রীচরণে। অনুনয়
     
                                   রক্ষা করো নাথ!
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       কভু কি অপূর্ণ রয়
     
                                   প্রিয়ার প্রার্থনা?
     
     
    গান্ধারী।
                                                       ত্যাগ করো এইবার--
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   কারে হে মহিষী?
     
     
    গান্ধারী।
                                                       পাপের সংঘর্ষে যার
     
                                   পড়িছে ভীষণ শান ধর্মের কৃপাণে,
     
                                   সেই মূঢ়ে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       কে সে জন? আছে কোন্‌খানে?
     
                                   শুধু কহো নাম তার।
     
     
    গান্ধারী।
                                                       পুত্র দুর্যোধন।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   তাহারে করিব ত্যাগ!
     
     
    গান্ধারী।
                                                       এই নিবেদন
     
                                   তব পদে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       দারুণ প্রার্থনা, হে গান্ধারী
     
                                   রাজমাতা!
     
     
    গান্ধারী।
                                            এ প্রার্থনা শুধু কি আমারি
     
                                   হে কৌরব? কুরুকুলপিতৃপিতামহ
     
                                   স্বর্গ হতে এ প্রার্থনা করে অহরহ
     
                                   নরনাথ! ত্যাগ করো, ত্যাগ করো তারে--
     
                                   কৌরবকল্যাণলক্ষ্ণী যার অত্যাচারে
     
                                   অশ্রুমুখী প্রতীক্ষিছে বিদায়ের ক্ষণ
     
                                   রাত্রিদিন।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                            ধর্ম তারে করিবে শাসন
     
                                   ধর্মেরে যে লঙ্ঘন করেছে-- আমি পিতা--
     
     
    গান্ধারী।
                                   মাতা আমি নহি? গর্ভভারজর্জরিতা
     
                                   জাগ্রহ হৃৎপিণ্ডতলে বহি নাই তারে?
     
                                   স্নেহবিগলিত চিত্ত শুভ্র দুগ্ধধারে
     
                                   উচ্ছ্বসিয়া উঠে নাই দুই স্তন বাহি
     
                                   তার সেই অকলঙ্ক শিশুমুখ চাহি?
     
                                   শাখাবন্ধে ফল যথা সেইমত করি
     
                                   বহু বর্ষ ছিল না সে আমারে আঁকড়ি
     
                                   দুই ক্ষুদ্র বহুবৃন্ত দিয়ে-- লয়ে টানি
     
                                   মোর হাসি হতে হাসি, বাণী হতে বাণী,
     
                                   প্রাণ হতে প্রাণ? তবু কহি, মহারাজ,
     
                                   সেই পুত্র দুর্যোধনে ত্যাগ করো আজ।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   কী রাখিব তারে ত্যাগ করি?
     
     
    গান্ধারী।
                                                       ধর্ম তব।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   কী দিবে তোমারে ধর্ম?
     
     
    গান্ধারী।
                                                       দুঃখ নব নব।
     
                                   পুত্রসুখ রাজ্যসুখ অধর্মের পণে
     
                                   জিনি লয়ে চিরদিন বহিব কেমনে
     
                                   দুই কাঁটা বক্ষে আলিঙ্গিয়া?
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       হায় প্রিয়ে,
     
                                   ধর্মবশে একবার দিনু ফিরাইয়ে
     
                                   দ্যূতবদ্ধ পাণ্ডবের হৃত রাজ্যধন।
     
                                   পরক্ষণে পিতৃস্নেহ করিল গুঞ্জন
     
                                   শত বার কর্ণে মোর, "কী করিলি ওরে!
     
                                   এক কালে ধর্মাধর্ম দুই তরী-'পরে
     
                                   পা দিয়ে বাঁচে না কেহ। বারেক যখন
     
                                   নেমেছে পাপের স্রোতে কুরুপুত্রগণ
     
                                   তখন ধর্মের সাথে সন্ধি করা মিছে;
     
                                   পাপের দুয়ারে পাপ সহায় মাগিছে।
     
                                   কী করিলি হতভাগ্য, বৃদ্ধ বুদ্ধিহত,
     
                                   দুর্বল দ্বিধায় পড়ি? অপমানক্ষত
     
                                   রাজ্য ফিরে দিলে তবু মিলাবে না আর
     
                                   পাণ্ডবের মনে-- শুধু নব কাষ্ঠভার
     
                                   হুতাশনে দান। অপমানিতের করে
     
                                   ক্ষমতার অস্ত্র দেওয়া মরিবার তরে।
     
                                   সক্ষমে দিয়ো না ছাড়ি দিয়ে স্বল্প পীড়া--
     
                                   করহ দলন। কোরো না বিফল ক্রীড়া
     
                                   পাপের সহিত; যদি ডেকে আন তারে,
     
                                   বরণ করিয়া তবে লহো একেবারে।"
     
                                   এইমত পাপবুদ্ধি পিতৃস্নেহরূপে
     
                                   বিঁধিতে লাগিল মোর কর্ণে চুপে চুপে
     
                                   কত কথা তীক্ষ্ণ সূচিসম। পুনরায়
     
                                   ফিরানু পাণ্ডবগণে; দ্যূতছলনায়
     
                                   বিসর্জিনু দীর্ঘ বনবাসে। হায় ধর্ম,
     
                                   হায় রে প্রবৃত্তিবেগ! কে বুঝিবে মর্ম
     
                                   সংসারের!
     
     
    গান্ধারী।
                                            ধর্ম নহে সম্পদের হেতু,
     
                                   মহারাজ, নহে সে সুখের ক্ষুদ্র সেতু--
     
                                   ধর্মেই ধর্মের শেষ। মূঢ়-নারী আমি,
     
                                   ধর্মকথা তোমারে কী বুঝাইব স্বামী,
     
                                   জান তো সকলই। পাণ্ডবেরা যাবে বনে,
     
                                   ফিরাইলে ফিরিবে না, বদ্ধ তারা পণে।
     
                                   এখন এ মহারাজ্য একাকী তোমার
     
                                   মহীপতি-- পুত্রে তব ত্যজ এইবার;
     
                                   নিষ্পাপেরে দুঃখ দিয়ে নিজে পুর্ণ সুখ
     
                                   লইয়ো না, ন্যায়ধর্মে কোরো না বিমুখ
     
                                   পৌরবপ্রাসাদ হতে-- দুঃখ সুদুঃসহ
     
                                   আজ হতে, ধর্মরাজ, লহো তুলি লহো,
     
                                   দেহো তুলি মোর শিরে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       হায় মহারানী,
     
                                   সত্য তব উপদেশ, তীব্র তব বাণী।
     
     
    গান্ধারী।
                                   অধর্মের মধুমাখা বিষফল তুলি
     
                                   আনন্দে নাচিছে পুত্র; স্নেহমোহে ভুলি
     
                                   সে ফল দিয়ো না তারে ভোগ করিবারে;
     
                                   কেড়ে লও, ফেলে দাও, কাঁদাও তাহারে।
     
                                   ছললব্ধ পাপস্ফীত রাজ্যধনজনে
     
                                   ফেলে রাখি সেও চলে যাক নির্বাসনে,
     
                                   বঞ্চিত পাণ্ডবদের সমদুঃখভার
     
                                   করুক বহন।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                ধর্মবিধি বিধাতার--
     
                                   জাগ্রত আছেন তিনি, ধর্মদণ্ড তাঁর
     
                                   রয়েছে উদ্যত নিত্য; অয়ি মনস্বিনী,
     
                                   তাঁর রাজ্যে তাঁর কার্য করিবেন তিনি।
     
                                   আমি পিতা--
     
     
    গান্ধারী।
                                                তুমি রাজা, রাজ-অধিরাজ,
     
                                   বিধাতার বাম হস্ত; ধর্মরক্ষা-কাজ
     
                                   তোমা-'পরে সমর্পিত। শুধাই তোমারে,
     
                                   যদি কোনো প্রজা তব সতী অবলারে
     
                                   পরগৃহ হতে টানি করে অপমান
     
                                   বিনা দোষে-- কী তাহার করিবে বিধান?
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                   নির্বাসন।
     
     
    গান্ধারী।
                                                তবে আজ রাজপদতলে
     
                                   সমস্ত নারীর হয়ে নয়নের জলে
     
                                   বিচার প্রার্থনা করি। পুত্র দুর্যোধন
     
                                   অপরাধী প্রভু! তুমি আছ, হে রাজন,
     
                                   প্রমাণ আপনি। পুরুষে পুরুষে দ্বন্দ্ব
     
                                   স্বার্থ লয়ে বাধে অহরহ-- ভালোমন্দ
     
                                   নাহি বুঝি তার; দণ্ডনীতি, ভেদনীতি,
     
                                   কূটনীতি কত শত, পুরুষের রীতি
     
                                   পুরুষেই জানে। বলের বিরোধে বল,
     
                                   ছলের বিরোধে কত জেগে উঠে ছল,
     
                                   কৌশলে কৌশল হানে-- মোরা থাকি দূরে
     
                                   আপনার গৃহকর্মে শান্ত অন্তঃপুরে
     
                                   যে সেথা টানিয়া আনে বিদ্বেষ-অনল,
     
                                   যে সেথা সঞ্চার করে ঈর্ষার গরল
     
                                   বাহিরের দ্বন্দ্ব হতে, পুরুষেরে ছাড়ি
     
                                   অন্তঃপুরে প্রবেশিয়া নিরুপায় নারী
     
                                   গৃহধর্মচারিণীর পুণ্যদেহ- 'পরে
     
                                   কলুষপরুষ স্পর্শে অসম্মানে করে
     
                                   হস্তক্ষেপ-- পতি-সাথে বাধায়ে বিরোধ
     
                                   যে নর পত্নীরে হানি লয় তার শোধ,
     
                                   সে শুধু পাষণ্ড নহে, সে যে কাপুরুষ।
     
                                   মহারাজ, কী তার বিধান? অকলুষ
     
                                   পুরুবংশে পাপ যদি জন্মলাভ করে
     
                                   সেও সহে; কিন্তু, প্রভু, মাতৃগর্বভরে
     
                                   ভেবেছিনু গর্ভে মোর বীরপুত্রগণ
     
                                   জন্মিয়াছে-- হায় নাথ, সেদিন যখন
     
                                   অনাথিনী পাঞ্চালীর আর্তকণ্ঠরব
     
                                   প্রাসাদপাষাণভিত্তি করি দিল দ্রব
     
                                   লজ্জা-ঘৃণা-করুণার তাপে, ছুটি গিয়া
     
                                   হেরিনু গবাক্ষে, তার বস্ত্র আকর্ষিয়া
     
                                   খল খল হাসিতেছে সভা-মাঝখানে
     
                                   গান্ধারীর পুত্র পিশাচেরা-- ধর্ম জানে
     
                                   সেদিন চূর্ণিয়া গেল জন্মের মতন
     
                                   জননীর শেষ গর্ব। কুরুরাজগণ,
     
                                   পৌরুষ কোথায় গেছে ছাড়িয়া ভারত!
     
                                   তোমরা, হে মহারথী, জড়মূর্তিবৎ
     
                                   বসিয়া রহিলে সেথা চাহি মুখে মুখে,
     
                                   কেহ বা হাসিলে, কেহ করিলে কৌতুকে
     
                                   কানাকানি-- কোষমাঝে নিশ্চল কৃপাণ
     
                                   বজ্রনিঃশেষিত লুপ্তবিদ্যুৎ-সমান
     
                                   নিদ্রাগত-- মহারাজ, শুন মহারাজ,
     
                                   এ মিনতি। দূর করো জননীর লাজ,
     
                                   বীরধর্ম করহ উদ্ধার, পদাহত
     
                                   সতীত্বের ঘুচাও ক্রন্দন; অবনত
     
                                   ন্যায়ধর্মে করহ সম্মান-- ত্যাগ করো
     
                                   দূর্যোধনে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       পরিতাপদহনে জর্জর
     
                                   হৃদয়ে করিছ শুধু নিষ্ফল আঘাত
     
                                   হে মহিষী!
     
     
    গান্ধারী।
                                              শতগুণ বেদনা কি, নাথ,
     
                                   লাগিছে না মোরে? প্রভু, দণ্ডিতের সাথে
     
                                   দণ্ডদাতা কাঁদে যবে সমানে আঘাতে
     
                                   সর্বশ্রেষ্ঠ সে বিচার। যার তারে প্রাণ
     
                                   কোনো ব্যথা নাহি পায় তার দণ্ডদান
     
                                   প্রবলের অত্যাচার। যে দণ্ডবেদনা
     
                                   পুত্রেরে পার না দিতে সে কারে দিয়ো না;
     
                                   যে তোমার পুত্র নহে তারো পিতা আছে,
     
                                   মহা-অপরাধী হবে তুমি তার কাছে
     
                                   বিচারক। শুনিয়াছি বিশ্ববিধাতার
     
                                   সবাই সন্তান মোরা-- পুত্রের বিচার
     
                                   নিয়ত করেন তিনি আপনার হাতে
     
                                   নারায়ণ; ব্যথা দেন, ব্যথা পান সাথে;
     
                                   নতুবা বিচারে তাঁর নাই অধিকার,
     
                                   মূঢ় নারী লভিয়াছি অন্তরে আমার
     
                                   এই শাস্ত্র। পাপী পুত্রে ক্ষমা কর যদি
     
                                   নির্বিচারে, মহারাজ, তবে নিরবধি
     
                                   যত দণ্ড দিলে তুমি যত দোষীজনে,
     
                                   ধর্মাধিপ নামে, কর্তব্যের প্রবর্তনে,
     
                                   ফিরিয়া লাগিবে আসি দণ্ডদাতা ভূপে--
     
                                   ন্যায়ের বিচার তব নির্মমতারূপে
     
                                   পাপ হয়ে তোমারে দাগিবে। ত্যাগ করো
     
                                   পাপী দুর্যোধনে।
     
     
    ধৃতরাষ্ট্র।
                                                       প্রিয়ে, সংহর, সংহর
     
                                   তব বাণী। ছিঁড়িতে পারি নে মোহডোর,
     
                                   ধর্মকথা শুধু আসি হানে সুকঠোর
     
                                   ব্যর্থ ব্যথা। পাপী পুত্র ত্যাজ্য বিধাতার,
     
                                   তাই তারে ত্যজিতে না পারি-- আমি তার
     
                                   একমাত্র। উন্মত্ত-তরঙ্গ-মাঝখানে
     
                                   যে পুত্র সঁপেছে অঙ্গ তারে কোন্‌ প্রাণে
     
                                   ছাড়ি যাব? উদ্ধারের আশা ত্যাগ করি
     
                                   তবু তারে প্রাণপণে বক্ষে চাপি ধরি,
     
                                   তারি সাথে এক পাপে ঝাঁপ দিয়া পড়ি
     
                                   এক বিনাশের তলে তলাইয়া মরি
     
                                   অকাতরে-- অংশ লই তার দুর্গতির,
     
                                   অর্ধ ফল ভোগ করি তার দুর্মতির,
     
                                   সেই তো সান্ত্বনা মোর-- এখন তো আর
     
                                   বিচারের কাল নাই, নাই প্রতিকার,
     
                                   নাই পথ-- ঘটেছে যা ছিল ঘটিবার,
     
                                   ফলিবে যা ফলিবার আছে।
     
     
    [প্রস্থান
     
    গান্ধারী।
                                                       হে আমার
     
                                   অশান্ত হৃদয়, স্থির হও। নতশিরে
     
                                   প্রতীক্ষা করিয়া থাকো বিধির বিধিরে
     
                                   ধৈর্য ধরি। যেদিন সুদীর্ঘ রাত্রি-'পরে
     
                                   সদ্য জেগে উঠে কাল সংশোধন করে
     
                                   আপনারে, সেদিন দারুণ দুঃখদিন।
     
                                   দুঃসহ উত্তাপে যথা স্থির গতিহীন
     
                                   ঘুমাইয়া পড়ে বায়ু-- জাগে ঝঞ্ঝাঝড়ে
     
                                   অকস্মাৎ, আপনার জড়ত্বের 'পরে
     
                                   করে আক্রমণ, অন্ধ বৃশ্চিকের মতো
     
                                   ভীমপুচ্ছে আত্মশিরে হানে অবিরত
     
                                   দীপ্ত বজ্রশূল, সেইমত কাল যবে
     
                                   জাগে, তারে সভয়ে অকাল কহে সবে।
     
                                   লুটাও লুটাও শির-- প্রণম, রমণী,
     
                                   সেই মহাকালে; তার রথচক্রধ্বনি
     
                                   দূর রুদ্রলোক হতে বজ্রঘর্ঘরিত
     
                                   ওই শুনা যায়। তোর আর্ত জর্জরিত
     
                                   হৃদয় পাতিয়া রাখ্‌ তার পথতলে।
     
                                   ছিন্ন সিক্ত হৃৎপিণ্ডের রক্তশতদলে
     
                                   অঞ্জলি রচিয়া থাক্‌ জাগিয়া নীরবে
     
                                   চাহিয়া নিমেষহীন। তার পরে যবে
     
                                   গগনে উড়িবে ধূলি, কাঁপিবে ধরণী,
     
                                   সহসা উঠিবে শূন্যে ক্রন্দনের ধ্বনি--
     
                                   হায় হায় হা রমণী, হায় রে অনাথা,
     
                                   হায় হায় বীরবধূ; হায় বীরমাতা,
     
                                   হায় হায় হাহাকার-- তখন সুধীরে
     
                                   ধুলায় পড়িস লুটি অবনতশিরে
     
                                   মুদিয়া নয়ন। তার পরে নমো নম
     
                                   সুনিশ্চিত পরিণাম, নির্বাক্‌ নির্মম
     
                                   দারুণ করুণ শান্তি! নমো নমো নম
     
                                   কল্যাণ কঠোর কান্ত, ক্ষমা স্নিগ্ধতম!
     
                                   নমো নমো বিদ্বেষের ভীষণা নির্বৃতি!
     
                                   শ্মশানে ভস্মমাখা পরমা নিষ্কৃতি!
     
     
     
                                   দুর্যোধন-মহিষী ভানুমতীর প্রবেশ
     
    ভানুমতী।
                                   ইন্দুমুখী, পরভৃতে, লহো তুলি শিরে
     
                                   মাল্যবস্ত্র অলংকার।
     
     
    গান্ধারী।
                                                       বৎসে, ধীরে, ধীরে।
     
                                   পৌরব ভবনে কোন্‌ মহোৎসব আজি?
     
                                   কোথা যাও নব বস্ত্র-অলংকারে সাজি
     
                                   বধূ মোর?
     
     
    ভানুমতী।
                                                     শত্রুপরাভব-শুভক্ষণ
     
                                   সমাগত।
     
     
    গান্ধারী।
                                                    শত্রু যার আত্মীয়স্বজন
     
                                   আত্মা তার নিত্য শত্রু, ধর্ম শত্রু তার,
     
                                   অজেয় তাহার শত্রু। নব অলংকার
     
                                   কোথা হতে হে কল্যাণী?
     
     
    ভানুমতী।
                                                     জিনি বসুমতী
     
                                   ভুজবলে, পাঞ্চালীরে তার পঞ্চপতি
     
                                   দিয়েছিল যত রত্নমণি-অলংকার--
     
                                   যজ্ঞদিনে যাহা পরি ভাগ্য-অহংকার
     
                                   ঠিকরিত মাণিক্যের শত সূচীমুখে
     
                                   দ্রৌপদীর অঙ্গ হতে, বিদ্ধ হত বুকে
     
                                   কুরুকুলকামিনীর, সে রত্নভূষণে
     
                                   আমারে সাজায়ে তারে যেতে হল বনে।
     
     
    গান্ধারী।
                                   হা রে মূঢ়ে, শিক্ষা তবু হল না তোমার--
     
                                   সেই রত্ন নিয়ে তবু এত অহংকার!
     
                                   এ কী ভয়ংকরী কান্তি, প্রলয়ের সাজ।
     
                                   যুগান্তের উল্কাসম দহিছে না আজ
     
                                   এ মণিমঞ্জীর তোরে? রত্নললাটিকা
     
                                   এ যে তোর সৌভাগ্যের বজ্রানলশিখা।
     
                                   তোরে হেরি অঙ্গে মোর ত্রাসের স্পন্দন
     
                                   সঞ্চারিছে, চিত্তে মোর উঠিছে ক্রন্দন--
     
                                   আনিছে শঙ্কিত কর্ণে তোর অলংকার
     
                                   উন্মাদিনী শংকরীর তাণ্ডবঝংকার।
     
     
    ভানুমতী।
                                   মাতঃ, মোরা ক্ষত্রনারী, দুর্ভাগ্যের ভয়
     
                                   নাহি করি। কভু জয়, কভু পরাজয়--
     
                                   মধ্যাহ্নগগনে কভু, কভু অস্তধামে,
     
                                   ক্ষত্রিয়মহিমা-সূর্য উঠে আর নামে।
     
                                   ক্ষত্রবীরাঙ্গনা, মাতঃ, সেই কথা স্মরি
     
                                   শঙ্কার বক্ষেতে থাকি সংকটে না ডরি
     
                                   ক্ষণকাল। দুর্দিন দুর্যোগ যদি আসে,
     
                                   বিমুখ ভাগ্যেরে তবে হানি উপহাসে
     
                                   কেমনে মরিতে হয় জানি তাহা দেবী--
     
                                   কেমনে বাঁচিতে হয় শ্রীচরণ সেবি
     
                                   সে শিক্ষাও লভিয়াছি।
     
     
    গান্ধারী।
                                                       বৎসে, অমঙ্গল
     
                                   একেলা তোমার নহে। লয়ে দলবল
     
                                   সে যবে মিটায় ক্ষুধা, উঠে হাহাকার,
     
                                   কত বীররক্তস্রোতে কত বিধবার
     
                                   অশ্রুধারা পড়ে আসি-- রত্ন-অলংকার
     
                                   বধূহস্ত হতে খসি পড়ে শত শত
     
                                   চূতলতাকুঞ্জবনে মঞ্জরীর মতো
     
                                   ঝঞ্ঝাবাতে। বৎসে, ভাঙিয়ো না বদ্ধ সেতু,
     
                                   ক্রীড়াচ্ছলে তুলিয়ো না বিপ্লবের কেতু
     
                                   গৃহমাঝে-- আনন্দের দিন নহে আজি।
     
                                   স্বজনদুর্ভাগ্য লয়ে সর্ব অঙ্গে সাজি
     
                                   গর্ব করিয়ো না মাতঃ! হয়ে সুসংযত
     
                                   আজ হতে শুদ্ধচিত্তে উপবাসব্রত
     
                                   করো আচরণ-- বেণী করি উন্মোচন
     
                                   শান্ত মনে করো, বৎসে, দেবতা-অর্চন।
     
                                   এ পাপসৌভাগ্যদিনে গর্ব-অহংকারে
     
                                   প্রতিক্ষণে লজ্জা দিয়ো নাকো বিধাতারে।
     
                                   খুলে ফেলো অলংকার, নব রক্তাম্বর;
     
                                   থামাও উৎসববাদ্য, রাজ-আড়ম্বর;
     
                                   অগ্নিগৃহে যাও, পুত্রী, ডাকো পুরোহিতে--
     
                                   কালের প্রতীক্ষা করো শুদ্ধসত্ত্ব চিতে্‌।
     
     
     
    যুধিষ্ঠির।
                                   আশীর্বাদ মাগিবারে এসেছি, জননী,
     
                                   বিদায়ের কালে।
     
     
    গান্ধারী।
                                                                         
                                                   সৌভাগ্যের দিনমণি
                                        
                                   দুঃখরাত্রি-অবসানে দ্বিগুণ উজ্জ্বল
                                        
                                   উদিবে হে বৎসগণ! বায়ু হতে বল,
                                        
                                   সূর্য হতে তেজ, পৃথ# হতে ধৈর্যক্ষমা
                                        
                                   করো লাভ দুঃখব্রত পুত্র মোর! রমা
                                        
                                   দৈন্য-মাঝে গুপ্ত থাকি দীন-ছদ্ম-রূপে
                                        
                                   ফিরুন পশ্চাতে তব সদা চুপে চুপে,
                                        
                                   দুঃখ হতে তোমা-তরে করুন সঞ্চয়
                                        
                                   অক্ষয় সম্পদ। নিত্য হউক নির্ভয়
                                        
                                   নির্বাসনবাস। বিনা পাপে দুঃখভোগ
                                        
                                   অন্তরে জ্বলন্ত তেজ করুক সংযোগ
                                        
                                   বহ্নিশিখাদগ্ধ দীপ্ত সুবর্ণের প্রায়।
                                        
                                   সেই মহাদুঃখ হবে মহৎ সহায়
                                        
                                   তোমাদের। সেই দুঃখে রহিবেন ঋণী
                                        
                                   ধর্মরাজ বিধি, যবে শুধিবেন তিনি
                                        
                                   নিজহস্তে আত্মঋণ তখন জগতে
                                        
                                   দেব নর কে দাঁড়াবে তোমাদের পথে!
                                        
                                   মোর পুত্র করিয়াছে যত অপরাধ
                                        
                                   খণ্ডন করুক সব মোর আশীর্বাদ
                                        
                                   পুত্রাধিক পুত্রগণ! অন্যায় পীড়ন
                                        
                                   গভীর কল্যাণসিন্ধু করুক মন্থন।
                                        
                                   (দ্রৌপদীকে আলিঙ্গনপূর্বক)
                                        
                                   ভূলুণ্ঠিতা স্বর্ণলতা, হে বৎসে আমার,
                                        
                                   হে আমার রাহুগ্রস্ত শশী, একবার
                                        
                                   তোলো শির, বাক্য মোর করো অবধান।
                                        
                                   যে তোমারে অবমানে তারি অপমান
                                        
                                   জগতে রহিবে নিত্য, কলঙ্ক অক্ষয়।
                                        
                                   তব অপমানরাশি বিশ্বজগন্ময়
                                        
                                   ভাগ করে লইয়াছে সর্ব কুলাঙ্গনা--
                                        
                                   কাপুরুষতার হস্তে সতীর লাঞ্ছনা।
                                        
                                   যাও বৎসে, পতি-সাথে অমলিনমুখ
                                        
                                   অরণ্যেরে করো স্বর্গ, দুঃখে করো সুখ।
                                        
                                   বধূ মোর, সুদুঃসহ পতিদুঃখব্যথা
                                        
                                   বক্ষে ধরি সতীত্বের লভো সার্থকতা।
                                        
                                   রাজগৃহে আয়োজন দিবসযামিনী
                                        
                                   সহস্র সুখের-- বনে তুমি একাকিনী
                                        
                                   সর্বসুখ, সর্বসঙ্গ, সর্বৈশ্বর্যময়,
                                        
                                   সকল সান্ত্বনা একা, সকল আশ্রয়,
                                        
                                   ক্লান্তির আরাম, শান্তি, ব্যাধির শুশ্রূষা,
                                        
                                   দুর্দিনের শুভলক্ষ্ণী, তামসীর ভূষা
                                        
                                   উষা মূর্তিমতী। তুমি হবে একাকিনী
                                        
                                   সর্বপ্রীতি, সর্বসেবা, জননী, গেহিনী--
                                        
                                   সতীত্বের শ্বেতপদ্ম সম্পূর্ণ সৌরভে
                                        
                                   শতদলে প্রস্ফুটিয়া জাগিবে গৌরবে।
    

    ? মাঘ, ১৩০৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article চিত্রাঙ্গদা (কাব্য-নাটক) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }