Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কাহিনী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক পাতা গল্প68 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লক্ষ্মীর পরীক্ষা

    ক্ষীরো। ধনী সুখে করে ধর্মকর্ম
    গরিবের পড়ে মাথার ঘর্ম।
    তুমি রানী, আছে টাকা শত শত,
    খেলাছলে কর দান ধ্যান ব্রত–
    তোমার তো শুধু হুকুম মাত্র,
    খাটুনি আমারি দিবসরাত্র।
    তবুও তোমারি সুযশ, পুণ্য–
    আমার কপালে সকলি শূন্য।
    নেপথ্য। ক্ষীরি, ক্ষীরি, ক্ষীরো!
    ক্ষীরো। কেন ডাকাডাকি–
    নাওয়া-খাওয়া সব ছেড়ে দেব না কি?
    রানী কল্যাণীর প্রবেশ
    কল্যাণী। হল কী! তুই যে আছিস রেগেই।
    ক্ষীরো। কাজ যে পিছনে রয়েছে লেগেই।
    কতই বা সয় রক্তমাংসে
    কত কাজ করে একটা মান্‌ষে!
    দিনে দিনে হল শরীর নষ্ট।
    কল্যাণী। কেন, এত তোর কিসের কষ্ট?
    ক্ষীরো। যেথা যত আছে রামী ও বামী
    সকলেরি যেন গোলাম আমি।
    হোক ব্রাহ্মণ, হোক শুদ্দুর,
    সেবা করে মরি পাড়াশুদ্ধুর।
    ঘরেতে কারো তো চড়ে না অন্ন,
    তোমারি ভাঁড়ারে নিমন্তন্ন,
    হাড় বের হল বাসন মেজে,
    সৃষ্টির পান-তামাক সেজে।
    একা একা এত খেটে যে মরি,
    মায়া দয়া নেই?
    কল্যাণী। সে দোষ তোরি।
    চাকর দাসী কি টিঁকিতে পারে
    তোমার প্রখর মুখের ধারে?
    লোক এলে তুই তাড়াবি তাদের,
    লোক গেলে শেষে আর্তনাদের
    ধুম পড়ে যাবে,–এর কি পথ্যি
    আছে কোনোরূপ!
    ক্ষীরো। সে কথা সত্যি।
    সয় না আমার– তাড়াই সাধে?
    অন্যায় দেখে পরান কাঁদে।
    কোথা থেকে যত ডাকাত জোটে,
    টাকাকড়ি সব দু হাতে লোটে।
    আমি না তাদের তাড়াই যদি
    তোমারে তাড়াত আমার বধি।
    কল্যাণী। ডাকাত মাধবী, ডাকাত মাধু,
    সবাই ডাকাত, তুমিই সাধু!
    ক্ষীরো। আমি সাধু! মা গো, এমন মিথ্যে
    মুখেও আনি নে, ভাবি নে চিত্তে
    নিই-থুই খাই দু হাত ভরি,
    দু বেলা তোমার আশিস করি–
    কিন্তু তবু সে দু হাত -‘পরে
    দু-মুঠোর বেশি কতই ধরে।
    ঘরে যত আনো মানুষ-জনকে
    তত বেড়ে যায় হাতের সংখ্যে।
    হাত যে সৃজন করেছে বিধি
    নেবার জন্যে, জান তো দিদি!
    পাড়াপড়শির দৃষ্টি থেকে
    কিছু আপনার রাখো তো ঢেকে,
    তার পরে বেশি রহিলে বাকি
    চাকর বাকর আনিয়ো ডাকি।
    কল্যাণী। একা বটে তুমি! তোমার সাথি
    ভাইপো ভাইঝি নাৎনী নাতি–
    হাট বসে গেছে সোনার চাঁদের,
    দুটো করে হাত নেই কি তাঁদের?
    তোর কথা শুনে কথা না সরে,
    হাসি পায় ফের রাগও ধরে।
    ক্ষীরো। বেশি রেগে যদি কম হাসি পেত
    স্বভাব আমার শুধরিয়ে যেত।
    কল্যাণী। ম’লেও যাবে না স্বভাবখানি
    নিশ্চয় জেনো।
    ক্ষীরো। সে কথা মানি।
    তাই তো ভরসা মরণ মোরে
    নেবে না সহসা সাহস করে।
    ওই-যে তোমার দরজা জুড়ে
    বসে গেছে যত দেশের কুঁড়ে–
    কারো বা স্বামীর জোটে না খাদ্য,
    কারো বা বেটার মামীর শ্রাদ্ধ।
    মিছে কথা ঝুড়ি ভরিয়া আনে,
    নিয়ে যায় ঝুড়ি ভরিয়া দানে।
    নিতে চায় নিক, কত যে নিচ্ছে–
    চোখে ধুলো দেবে সেটা কি ইচ্ছে?
    কল্যাণী। কেন তুই মিছে মরিস বকে?
    ধুলো দেয়, ধুলো লাগে না চোখে।
    বুঝি আমি সব– এটাও জানি
    তারা যে গরিব, আমি যে রানি।
    ফাঁকি দিয়ে তারা ঘোচায় অভাব,
    আমি দিই– সেটা আমার স্বভাব।
    তাদের সুখ সে তারাই জানে,
    আমার সুখ সে আমার প্রাণে।
    ক্ষীরো। নুন খেয়ে গুণ গাহিত কভু,
    দিয়ে-থুয়ে সুখ হইত তবু।
    সামনে প্রণাম পদারবিন্দে,
    আড়ালে তোমার করে যে নিন্দে!
    কল্যাণী। সামনে যা পাই তাই যথেষ্ট,
    আড়ালে কী ঘটে জানেন কেষ্ট।
    সে যাই হোক গে, শুধাই তোরে
    কাল বৈকালে বল্‌ তো মোরে,
    অতিথিসেবায় অনেকগুলি
    কম পড়েছিল চন্দ্রপুলি–
    কেন বা ছিল না রস্‌করা?
    ক্ষীরো। কেন করো মিছে মসকরা
    দিদিঠাকরুন। আপন হাতে
    গুনে দিয়েছিনু সবার পাতে
    দুটো দুটো ক’রে।
    কল্যাণী। আপন চোখে
    দেখেছি পায় নি সকল লোকে,
    খালি পাত–
    ক্ষীরো। ওমা, তাই তো বলি,
    কোথায় তলিয়ে যায় যে চলি
    যত সামিগ্রি দিই আনিয়ে।
    ভোলা ময়রার শয়তানি এ।
    কল্যাণী। এক বাটি করে দুধ বরাদ্দ,
    আধ বাটি তাও পাওয়া অসাধ্য।
    ক্ষীরো। গয়লা তো নন যুধিষ্ঠির।
    যত বিষ তব কুদৃষ্টির
    পড়েছে আমারই পোড়া অদৃষ্টে,
    যত ঝাঁটা সব আমারি পৃষ্ঠে,
    হায় হায়–
    কল্যাণী। ঢের হয়েছে, আর না,
    রেখে দাও তব মিথ্যে কান্না।
    ক্ষীরো। সত্যি কান্না কাঁদেন যাঁরা
    ওই আসছেন ঝেঁটিয়ে পাড়া।
    প্রতিবেশিনীগণের প্রবেশ
    প্রতিবেশিনীগণ। জয় জয় রানী, হও চিরজয়ী।
    কল্যাণী তুমি কল্যাণময়ী।
    ক্ষীরো। ওগো রানীদিদি, শোন্‌ ওই শোন্‌,
    পাতে যদি কিছু হত অকুলোন
    এত গলা ছেড়ে এত খুলে প্রাণ
    উঠিত কি তবে জয় জয় তান?
    যদি দু-চারটে চন্দ্রপুলি
    দৈবগতিকে দিতে না ভুলি।
    তা হলে কি আর রক্ষে থাকত,
    হজম করতে বাপকে ডাকত।
    কল্যাণী। আজ তো খাবার হয় নি কষ্ট?
    প্রথমা। কত পাতে পড়ে হয়েছে নষ্ট–
    লক্ষ্মীর ঘরে খাবার ত্রুটি?
    কল্যাণী। হাঁ গো, কে তোমার সঙ্গে উটি?
    আগে তো দেখি নি।
    দ্বিতীয়া। আমার মধু,
    তারি উটি হয় নতুন বধূ–
    এনেছি দেখাতে তোমার চরণে
    মা জননী।
    ক্ষীরো। সেটা বুঝেছি ধরনে।
    দ্বিতীয়া। প্রণাম করিবে এসো এ দিকে
    এই যে তোমার রানীদিদিকে।
    কল্যাণী। এসো কাছে এসো, লজ্জা কাদের?

    (আংটি পরাইয়া)

    আহা, মুখখানি দিব্যি ছাঁদের–
    চেয়ে দেখ্‌ ক্ষীরি।

    ক্ষীরো। মুখটি তো বেশ,
    তা চেয়ে তোমার আংটি সরেশ।
    দ্বিতীয়া। শুধু রূপ নিয়ে কী হবে অঙ্গে,
    সোনাদানা কিছু আনে নি সঙ্গে।
    ক্ষীরো। যাহা এনেছিল সবি সিন্দুকে
    রেখেছ যতনে, বলে নিন্দুকে।
    কল্যাণী। এসো ঘরে এসো।
    ক্ষীরো। যাও গো ঘরে,
    সোনা পাবে শুধু বাণীর দরে।

    [কল্যাণী ও বধূসহ দ্বিতীয়ার প্রস্থান

    প্রথমা। দেখলি মাগীর কাণ্ড একি।
    ক্ষীরো। কারে বাদ দিয়ে কারে বা দেখি।
    তৃতীয়া। তা বলে এতটা সহ্য হয় না।
    ক্ষীরো। অন্যের বউ পরলে গয়না
    অন্যের তাতে জ্বলে যে অঙ্গ
    তৃতীয়া। মাসি, জান তুমি কতই রঙ্গ
    এত ঠাট্টাও আছে তোর পেটে,
    হাসতে হাসতে নাড়ী যায় ফেটে।
    প্রথমা। কিন্তু যা বলো, আমাদের মাতা
    নাই তাঁর মতো এত বড়ো দাতা।
    ক্ষীরো। অর্থাৎ কি না এত বড়ো হাবা
    জন্ম দেয় নি আর কারো বাবা।
    তৃতীয়া। সে কথা মিথ্যে নয় নিতান্ত।
    দেখ্‌-না সেদিন কুশী ও খান্ত
    কী ঠকান্‌টাই ঠকালে মা গো!
    আহা মাসি, তুমি সাধে কি রাগো।
    আমাদেরই গায়ে হয় অসহ্য।
    চতুর্থী। বুড়ো মহারাজ যে ঐশ্বর্য
    রেখে গেছে সে কি এমনি ভাবে
    পাঁচ ভূতে শুধু ঠকিয়ে খাবে।
    প্রথমা। দেখলি তো ভাই, কানা আন্দি
    কত টাকা পেলে।
    তৃতীয়া। বুড়ি ঠানদি
    জুড়ে দিলে তার কান্না অস্ত্র,
    নিয়ে গেল কত শীতের বস্ত্র।
    চতুর্থী। বুড়ি মাগী তার শীত কি এতই?
    কাঁথা হলে চলে, নিয়ে গেল লুই।
    আছে সেটা শেষে চোরের ভাগ্যে–
    এ যে বাড়াবাড়ি।
    প্রথমা। সে কথা যাগ্‌গে।
    চতুর্থী। না না, তাই বলি হও-নাকো দাতা–
    তা বলে খাবে কি বুদ্ধির মাথা?
    যত রাজ্যের দুঃখী কাঙাল
    যত উড়ে মেড়ো খোট্টা বাঙাল
    কানা খোঁড়া নুলো যে আসে মরতে
    বাচ-বিচার কি হবে না করতে?
    তৃতীয়া। দেখ্‌-না ভাই, সে গোপালের মাকে
    দু টাকা দিলেই খেয়ে প’রে থাকে,
    পাঁচ টাকা তার মাসে বরাদ্দ–
    এ যে মিছিমিছি টাকার শ্রাদ্ধ।
    চতুর্থী। আসল কথা কি, ভালো নয় থাকা
    মেয়েমান্‌ষের এতগুলো টাকা
    তৃতীয়া। কত লোকে কত করে যে রটনা–
    প্রথমা। সেগুলো তো সব মিথ্যে ঘটনা।
    চতুর্থী। সত্যি মিথ্যে দেব্‌তা জানে–
    রটেছে তো কথা পাঁচের কানে,
    সেটা যে ভালো না।
    প্রথমা। যা বলিস ভাই,
    এমন মানুষ ভূভারতে নাই।
    ছোটো-বড়ো-বোধ নাইকো মনে,
    মিষ্টি কথাটি সবার সনে।
    ক্ষীরো। টাকা যদি পাই বাক্‌স ভরে
    আমার গলাও গলাবে তোরে।
    “বাপু’ বললেই মিলবে স্বর্গ,
    “বাছা’ বললেই বলবি “ধর্‌ গো’।
    মনে ঠিক জেনো আসল মিষ্টি–
    কথার সঙ্গে রুপোর বৃষ্টি।
    চতুর্থী। তাও বলি, বাপু, এটা কিছু বেশি–
    সবার সঙ্গে এত মেশামেশি।
    বড়োলোক তুমি ভাগ্যিমন্ত,
    সেইমত চাই চাল চলন তো?
    তৃতীয়া। দেখলি সেদিন শশীর বাঁ গালে
    আপনার হাতে ওষুধ লাগালে!
    চতুর্থী। বিধু খোঁড়া সেটা নেহাত বাঁদর,
    তারে কেন এত যত্ন আদর?
    তৃতীয়া। এত লোক আছে কেদারের মাকে
    কেন বলো দেখি দিনরাত ডাকে।
    গয়লাপাড়ার কেষ্টদাসী
    তারি সাথে কত গল্প হাসি,
    যেন সে কতই বন্ধু পুরোনো।
    চতুর্থী। ওগুলো লোকের আদর কুড়োনো।
    ক্ষীরো। এ সংসারের ওই তো প্রথা,
    দেওয়া নেওয়া ছাড়া নেইকো কথা।
    ভাত তুলে দেন মোদের মুখে,
    নাম তুলে নেন পরম সুখে।
    ভাত মুখে দিলে তখনি ফুরোয়,
    নাম চিরদিন কর্ণ জুড়োয়।
    চতুর্থী। ওই বউ নিয়ে ফিরে এল নেকী।
    বধূসহ দ্বিতীয়ার প্রবেশ
    প্রথমা। কী পেলি লো বিধু, দেখি দেখি দেখি।
    দ্বিতীয়া। শুধু একজোড়া রতনচক্র।
    তৃতীয়া। বিধি আজ তোরে বড়োই বক্র।
    এত ঘটা করে নিয়ে গেল ডেকে,
    ভেবেছিনু দেবে গয়না গা ঢেকে।
    চতুর্থী। মেয়ের বিয়েতে পেয়ারী বুড়ি
    পেয়েছিল হার, তা ছাড়া চূড়ি।
    দ্বিতীয়া। আমি যে গরিব নই যথেষ্ট,
    গরিবিয়ানায় সে মাগী শ্রেষ্ঠ;
    অদৃষ্টে যার নেইকো গয়না
    গরিব হয়ে সে গরিব হয় না।
    চতুর্থী। বড়োমান্‌ষের বিচার তো নেই।
    কারেও বা তাঁর ধরে না মনেই,
    কেউ বা তাঁহার মাথার ঠাকুর।
    প্রথমা। টাকাটা সিকেটা কুমড়ো কাঁকুড়
    যা পাই সে ভালো, কে দেয় তাই বা।
    দ্বিতীয়া। অবিচারে দান দিলেন নাই বা।
    মাথা বাঁধা রেখে পায়ের নীচে
    ভরি-কত সোনা পেলেম মিছে।
    ক্ষীরো। মা লক্ষ্মী যদি হতেন সদয়
    দেখিয়ে দিতেম দান কারে কয়।
    দ্বিতীয়া। আহা তাই হোক, লক্ষ্মীর বরে
    তোর ঘরে যেন টাকা নাহি ধরে।
    প্রথমা। ওলো থাম্‌ তোরা, রাখ্‌ বকুনি–
    রানীর পায়ের শব্দ শুনি।
    (উচ্চৈঃস্বরে)
    চতুর্থী। আহা জননীর অসীম দয়া,
    ভগবতী যেন কমলালয়া।
    দ্বিতীয়া। হেন নারী আর হয় নি সৃষ্টি,
    সবা-‘পরে তাঁর সমানে দৃষ্টি।
    তৃতীয়া। আহা-মরি, তাঁরি হস্তে আসি
    সার্থক হল অর্থরাশি।
    কল্যাণীর প্রবেশ
    কল্যাণী। রাত হল তবু কিসের কমিটি?
    ক্ষীরো। সবাই তোমারই যশের জমিটি
    নিড়োতেছিলেন, চষতেছিলেন,
    মই দিয়ে কষে ঘষতেছিলেন,
    আমি মাঝে মাঝে বীজ ছিটিয়ে
    বুনেছি ফসল আশ মিটিয়ে।
    কল্যাণী। রাত হল, আজ যাও সবে ঘরে।
    এই ক’টি কথা রেখো মনে করে–
    আশার অন্ত নাইকো বটে,
    আর সকলেরই অন্ত ঘটে।
    সবার মনের মতন ভিক্ষে
    দিতে যদি হ’ত, কল্পবৃক্ষে
    ঘুণ ধরে যেত, আমি তো তুচ্ছ।
    নিন্দে করলে যাব না মুচ্ছো।
    তবু এ কথাটা ভেবে দেখো দিখি–
    ভালো কথা বলা শক্ত বেশি কি?
    [প্রস্থান
    চতুর্থী। কী বলছিলেম ছিল সেই খোঁজে।
    ক্ষীরো। না গো না, তা নয়, একটু সে বোঝে–
    সামনে তোমরা যেটুকু বাড়ালে
    সেটুকু কমিয়ে আনবে আড়ালে।
    উপকার যেন মধুর পাত্র
    হজম করতে জ্বলে যে গাত্র,
    তাই সাথে চাই ঝালের চাটনি
    নিন্দে বান্দা কান্না কাটনি।
    যার খেয়ে মশা ওঠেন ফুলে
    জ্বালান তারেই গোপন হুলে।
    দেবতারে নিয়ে বানাবে দত্যি
    কলিকাল তবে হবে তো সত্যি।
    চতুর্থী। মিথ্যে না ভাই। সামলে চলিস
    যাই মুখে আসে তাই যে বলিস।
    পালন যে করে সে হল মা বাপ,
    তাহারই নিন্দে সে যে মহাপাপ।
    এমন লক্ষ্মী এমন সতী
    কোথা আছে হেন পুণ্যবতী।
    যেমন ধনের কপাল মস্ত
    তেমনি দানের দরাজ হস্ত,
    যেমন রূপসী তেমনি সাধ্বী,
    খুঁত ধরে তাঁর কাহার সাধ্যি।
    দিস নেকো দোষ তাঁহার নামে।
    তৃতীয়া। তুমি থামলে যে অনেক থামে।
    দ্বিতীয়া। আহা, কোথা হতে এলেন গুরু।
    হিতকথা আর কোরো না শুরু।
    হঠাৎ ধর্মকথার পাঠটা
    তোমার মুখে যে শোনায় ঠাট্টা।
    ক্ষীরো। ধর্মও রাখো, ঝগড়াও থাক্‌,
    গলা ছেড়ে আর বাজিয়ো না ঢাক।
    পেট ভরে খেলে, করলে নিন্দে,
    বাড়ি ফিরে গিয়ে ভজো গোবিন্দে।
    [প্রতিবেশিনীগণের প্রস্থান
    ওরে বিনি, ওরে কিনি, ওরে কাশী!

    বিনি কিনি কাশীর প্রবেশ

    কাশী। কেন দিদি।
    কিনি। কেন খুড়ি।
    বিনি। কেন মাসি।
    ক্ষীরো। ওরে, খাবি আয়।
    বিনি। কিছু নেই খিধে।
    ক্ষীরো। খেয়ে নিতে হয় পেলেই সুবিধে।
    কিনি। রসকরা খেয়ে পেট বড়ো ভার।
    ক্ষীরো। বেশি কিছু নয়, শুধু গোটা চার
    ভোলা ময়রার চন্দ্রপুলি
    দেখ্‌ দেখি ওই ঢাকনা খুলি–
    তাই মুখে দিয়ে, দু-বাটিখানিক
    দুধ খেয়ে শোও লক্ষ্মী মানিক।
    কাশী। কত খাব, দিদি, সমস্ত দিন।
    ক্ষীরো। খাবার তো নয় খিদের অধীন।
    পেটের জ্বালায় কত লোকে ছোটে,
    খাবার কি তার মুখে এসে জোটে?
    দুঃখী গরিব কাঙাল ফতুর
    চাষাভুষো মুটে অনাথ অতুর
    কারো তো খিদের অভাব হয় না,
    চন্দ্রপুলিটা সবার রয় না।
    মনে রেখে দিস যেটার যা দর–
    খাবার চাইতে খিদের আদর!
    হাঁ রে বিনি, তোর চিরুনি রুপোর
    দেখছি নে কেন খোঁপার উপর?
    বিনি। সেটা ও পাড়ার খেতুর মেয়ে
    কেঁদেকেটে কাল নিয়েছে চেয়ে।
    ক্ষীরো। ওই রে, হয়েছে মাথাটি খাওয়া।
    তোমারও লেগেছে দাতার হাওয়া।
    বিনি। আহা, কিছু তার নেই যে মাসি।
    ক্ষীরো। তোমারই কি এত টাকার রাশি।
    গরিব লোকের দয়ামায়া রোগ
    সেটা যে একটা ভারি দুর্যোগ।
    না না, যাও তুমি মায়ের বাড়িতে–
    হেথাকার হাওয়া সবে না নাড়িতে।
    রানী যত দেয় ফুরোয় না, তাই
    দান করে তার কোনো ক্ষতি নাই!
    তুই যেটা দিলি রইল না তোর,
    এতেও মনটা হয় না কাতর?
    ওরে বোকা মেয়ে, আমি আরো তোরে
    আনিয়ে নিলেম এই মনে ক’রে
    কী করে কুড়োতে হইবে ভিক্ষে
    মোর কাছে তাই করবি শিক্ষে।
    কে জানত তুই পেট না ভরতে
    উল্‌টো বিদ্যা শিখবি মরতে?–
    দুধ যে রইল বাটির তলায়
    ওইটুকু বুঝি গলে না গলায়?
    আমি মরে গেলে যত মনে আশ
    কোরো দান ধ্যান আর উপবাস।
    যতদিন আমি রয়েছি বর্তে
    দেব না করতে আত্মহত্যে।–
    খাওয়া দাওয়া হল, এখন তবে
    রাত হল ঢের, শোও গে সবে।
    [কিনি বিনি কাশীর প্রস্থান
    কল্যাণীর প্রবেশ
    ওগো দিদি, আমি বাঁচি নে তো আর।
    কল্যাণী। সেটা বিশ্বাস হয় না আমার।
    তবু, কী হয়েছে শুনি ব্যাপারটা।
    ক্ষীরো। মাইরি দিদি, এ নয়কো ঠাট্টা।
    দেশ থেকে চিঠি পেয়েছি মামার
    বাঁচে কি না-বাঁচে খুড়িটি আমার–
    শক্ত অসুখ হয়েছে এবার,
    টাকাকড়ি নেই ওষুধ দেবার।
    কল্যাণী। এখনো বছর হয় নি গত,
    খুড়ির শ্রাদ্ধে নিলি যে কত।
    ক্ষীরো। হাঁ হাঁ, বটে বটে, মরেছে বেটী,
    খুড়ি গেছে তবু আছে তো জেঠি।
    আহা রানীদিদি, ধন্য তোরে,
    এত রেখেছিস স্মরণ করে।
    এমন বুদ্ধি আর কি আছে,
    এড়ায় না কিছু তোমার কাছে।
    ফাঁকি দিয়ে খুড়ি বাঁচবে আবার
    সাধ্য কি আছে সে তাঁর বাবার?
    কিন্তু কখনো আমার সে জেঠি
    মরে নি পূর্বে মনে রেখো সেটি।
    কল্যাণী। মরেও নি বটে, জন্মে নি কভু।
    ক্ষীরো। এমন বুদ্ধি দিদি তোর, তবু
    সে বুদ্ধিখানি কেবলই খেলায়
    অনুগত এই আমারি বেলায়?
    কল্যাণী। চেয়ে নিতে তোর মুখে ফোটে কাঁটা!
    না বললে নয় মিথ্যে কথাটা?
    ধরা পড় তবু হও না জব্দ?
    ক্ষীরো। “দাও দাও’ ও তো একটা শব্দ,
    ওটা কি নিত্যি শোনায় মিষ্টি?
    মাঝে মাঝে তাই নতুন সৃষ্টি
    করতেই হয় খুড়ি-জেঠিমার।
    জান তো সকলি তবে কেন আর
    লজ্জা দেওয়া?
    কল্যাণী। অমনি চেয়ে কি
    পাস নি কখনো তাই বল্‌ দেখি?
    ক্ষীরো। মরা পাখিরেও শিকার ক’রে
    তবে তো বিড়াল মুখেতে পোরে।
    সহজেই পাই, তবু দিয়ে ফাঁকি
    স্বভাবটাকে যে শান দিয়ে রাখি।
    বিনা প্রয়োজনে খাটাও যাকে।
    প্রয়োজনকালে ঠিক সে থাকে।
    সত্যি বলছি মিথ্যে কথায়
    তোমারো কাছেতে ফল পাওয়া যায়।
    কল্যাণী। এবার পাবে না।
    ক্ষীরো। আচ্ছা, বেশ তো,
    সেজন্যে আমি নইকো ব্যস্ত।
    আজ না হয় তো কাল তো হবে,
    ততখন মোর সবুর সবে।
    গা ছুঁয়ে কিন্তু বলছি তোমার
    খুড়িটার কথা তুলব না আর।
    [কল্যাণীর হাসিয়া প্রস্থান
    হরি বলো মন। পরের কাছে
    আদায় করার সুখও আছে,
    দুঃখও ঢের। হে মা লক্ষ্মীটি,
    তোমার বাহন পেঁচা পক্ষীটি
    এত ভালোবাসে এ বাড়ির হাওয়া,
    এত কাছাকাছি করে আসা-যাওয়া,
    ভুলে কোনোদিন আমার পানে
    তোমারে যদি সে বহিয়া আনে
    মাথায় তাহার পরাই সিঁদুর,
    জলপান দিই আশিটা ইঁদুর,
    খেয়ে দেয়ে শেষে পেটের ভারে
    পড়ে থাকে বেটা আমারই দ্বারে–
    সোনা দিয়ে ডানা বাঁধাই, তবে
    ওড়বার পথ বন্ধ হবে।
    লক্ষ্মীর আবির্ভাব
    কে আবার রাতে এসেছ জ্বালাতে,
    দেশ ছেড়ে শেষে হবে কি পালাতে?
    আর তো পারি নে।
    লক্ষ্মী। পালাব তবে কি?
    যেতে হবে দূরে।
    ক্ষীরো। রোসো রোসো দেখি।
    কী পরেছ ওটা মাথার ওপর,
    দেখাচ্ছে যেন হীরের টোপর।
    হাতে কী রয়েছে সোনার বাক্সে
    দেখতে পারি কি? আচ্ছা, থাক সে।
    এত হীরে সোনা কারো তো হয় না–
    ওগুলো তো নয় গিল্‌টি গয়না?
    এগুলি তো সব সাঁচ্চা পাথর?
    গায়ে কী মেখেছ, কিসের আতর?
    ভুর্‌ ভুর্‌ করে পদ্মগন্ধ–
    মনে কত কথা হতেছে সন্ধ।
    বোসো বাছা, কেন এলে এত রাতে?
    আমারে তো কেউ আস নি ঠকাতে?
    যদি এসে থাকো ক্ষীরিকে তা হলে
    চিনতে পার নি সেটা রাখি ব’লে।
    নাম কী তোমার বলো দেখি খাঁটি।
    মাথা খাও বোলো সত্য কথাটি।
    লক্ষ্মী। একটা তো নয়, অনেক যে নাম।
    ক্ষীরো। হাঁ হাঁ, থাকে বটে স্বনাম বেনাম
    ব্যবসা যাদের ছলনা করা।
    কখনো কোথাও পড় নি ধরা?
    লক্ষ্মী। ধরা পড়ি বটে দুই দশ দিন,
    বাঁধন কাটিয়ে আবার স্বাধীন।
    ক্ষীরো। হেঁয়ালিটা ছেড়ে কথা কও সিধে–
    অমন করলে হবে না সুবিধে।
    নামটি তোমার বলো অকপটে।
    লক্ষ্মী। লক্ষ্মী।
    ক্ষীরো। তেমনি চেহারাও বটে।
    লক্ষ্মী তো আছে অনেকগুলি,
    তুমি কোথাকার বলো তো খুলি।
    লক্ষ্মী। সত্যি লক্ষ্মী একের অধিক
    নাই ত্রিভুবনে।
    ক্ষীরো। ঠিক ঠিক ঠিক।
    তাই বলো মা গো, তুমিই কি তিনি?
    আলাপ তো নেই, চিনতে পারি নি।
    চিনতেম যদি চরণ-জোড়া
    কপাল হত কি এমন পোড়া?
    এসো, বোসো, ঘর করো’সে আলো।
    পেঁচা দাদা মোর আছে তো ভোলো?
    এসেছ যখন, তখন মাতঃ
    তাড়াতাড়ি যেতে পারবে না তো।
    জোগাড় করছি চরণ-সেবার;
    সহজ হস্তে পড় নি এবার।
    সেয়ানা লোকেরে কর না মায়া
    কেন যে জানি তা বিষ্ণুজায়া।
    না খেয়ে মরে না বুদ্ধি থাকলে,
    বোকারই বিপদ তুমি না রাখলে।
    লক্ষ্মী। প্রতারণা ক’রে পেটটি ভরাও,
    ধর্মেরে তুমি কিছু না ডরাও?
    ক্ষীরো। বুদ্ধি দেখলে এগোও না গো,
    তোর দয়া নেই কাজেই মা গো।
    বুদ্ধিমানেরা পেটের দায়
    লক্ষ্মীমানেরে ঠকিয়ে খায়।
    লক্ষ্মী। সরল বুদ্ধি আমার প্রিয়,
    বাঁকা বুদ্ধিরে ধিক্‌ জানিয়ো।
    ক্ষীরো। ভালো তলোয়ার যেমন বাঁকা
    তেমনি বক্র বুদ্ধি পাকা।
    ও জিনিস বেশি সরল হলে
    নির্বুদ্ধি তো তারেই বলে।
    ভালো মা গো, তুমি দয়া করো যদি
    বোকা হয়ে আমি রব নিরবধি।
    লক্ষ্মী। কল্যাণী তোর অমন প্রভু
    তারেও দস্যু, ঠকাও তবু।
    ক্ষীরো। অদৃষ্টে শেষে এই ছিল মোর–
    যার লাগি চুরি সেই বলে চোর।
    ঠকাতে হয় যে কপাল-দোষে
    তোরে ভালোবাসি বলেই তো সে।
    আর ঠকাব না, আরামে ঘুমিয়ো–
    আমারে ঠকিয়ে যেয়ো না তুমিও।
    লক্ষ্মী। স্বভাব তোমার বড়োই রুক্ষি।
    ক্ষীরো। তাহার কারণ আমি যে দুঃখী।
    তুমি যদি কর রসের বৃষ্টি
    স্বভাবটা হবে আপনি মিষ্টি।
    লক্ষ্মী। তোরে যদি আমি করি আশ্রয়
    যশ পাব কি না সন্দেহ হয়।
    ক্ষীরো। যশ না পাও তো কিসের কড়ি?
    তবে তো আমার গলায় দড়ি।
    দশের মুখেতে দিলেই অন্ন
    দশ মুখে উঠে ধন্য ধন্য।
    লক্ষ্মী। প্রাণ ধরে দিতে পারবি ভিক্ষে?
    ক্ষীরো। একবার তুমি করো পরীক্ষে।
    পেট ভ’রে গেলে যা থাকে বাকি
    সেটা দিয়ে দিতে শক্তটা কী।
    দানের গরবে যিনি গরবিনী
    তিনি হ’ন আমি, আমি হই তিনি,
    দেখবে তখন তাঁহার চালটা–
    আমারই বা কত উল্‌টো-পাল্‌টা।
    দাসী আছি, জানি দাসীর যা রীতি–
    রানী করো, পাব রানীর প্রকৃতি।
    তাঁরও যদি হয় মোর অবস্থা
    সুযশ হবে না এমন সস্তা।
    তাঁর দয়াটুকু পাবে না অন্যে,
    ব্যয় হবে সেটা নিজেরই জন্যে।
    কথার মধ্যে মিষ্টি অংশ
    অনেকখানিই হবেক ধ্বংস।
    দিতে গেলে, কড়ি কভু না সরবে–
    হাতের তেলোয় কামড়ে ধরবে।
    ভিক্ষে করতে, ধরতে দু পায়
    নিত্যি নতুন উঠবে উপায়।
    লক্ষ্মী। তথাস্তু, রানী করে দিনু তোকে–
    দাসী ছিলি তুই ভুলে যাবে লোকে।
    কিন্তু সদাই থেকো সাবধান,
    আমার যেন না হয় অপমান।

    দ্বিতীয় দৃশ্য

     

    রানীবেশে ক্ষীরো

    ও তাহার পারিষদবর্গ

    ক্ষীরো। বিনি!
    বিনি। কেন মাসি।
    ক্ষীরো। মাসি কী রে মেয়ে!
    দেখি নি তো আমি বোকা তোর চেয়ে।
    কাঙাল ভিখিরি কলু মালী চাষি
    তারাই মাসিরে বলে শুধু মাসি।
    রানীর বোনঝি হয়েছ ভাগ্যে,
    জান না আদব! মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। রানীর বোনঝি রানীরে কী ডাকে
    শিখিয়ে দে ওই বোকা মেয়েটাকে।
    মালতী। ছি ছি, শুধু মাসি বলে কি রানীকে?
    রানীমাসি বলে রেখে দিয়ো শিখে।
    ক্ষীরো। মনে থাকবে তো? কোথা গেল কাশী।
    কাশী। কেন রানীদিদি।
    ক্ষীরো। চার-চার দাসী
    নেই যে সঙ্গে?
    কাশী। এত লোক মিছে
    কেন দিনরাত লেগে থাকে পিছে?
    ক্ষীরো। মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। এই মেয়েটাকে
    শিখিয়ে দে কেন এত দাসী থাকে।
    মালতী। তোমরা তো নও জেলেনী তাঁতিনী,
    তোমরা হও যে রানীর নাতিনী।
    যে নবাববাড়ি এনু আমি ত্যেজি
    সেথা বেগমের ছিল পোষা বেজি,
    তাহারি একটা ছোটো বাচ্ছার
    পিছনেতে ছিল দাসী চার-চার,
    তা ছাড়া সেপাই।
    ক্ষীরো। শুনলি তো কাশী?
    কাশী। শুনেছি।
    ক্ষীরো। তা হলে ডাক্‌ তোর দাসী।
    কিনি পোড়ামুখী!
    কিনি। কেন রানীখুড়ি?
    ক্ষীরো। হাই তুললেম, দিলি নে যে তুড়ি!
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। শেখাও কায়দা।
    মালতী। এত বলি তবু হয় না ফায়দা।
    বেগমসাহেব যখন হাঁচেন
    তুড়ি ভুল হলে কেহ না বাঁচেন।
    তখনি শূলেতে চড়িয়ে তারে
    নাকে কাঠি দিয়ে হাঁচিয়ে মারে।
    ক্ষীরো। সোনার বাটায় পান দে তারিণী।
    কোথা গেল মোর চামরধারিণী?
    তারিণী। চলে গেছে ছুঁড়ি, সে বলে মাইনে
    চেয়ে চেয়ে তবু কিছুতে পাই নে।
    ক্ষীরো। ছোটোলোক বেটী হারামজাদী
    রানীর ঘরে সে হয়েছে বাঁদি,
    তবু মনে তার নেই সন্তোষ–
    মাইনে পায় না ব’লে দেয় দোষ!
    পিঁপড়ের পাখা কেবল মরতে।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। মাগীরে ধরতে
    পাঠাও আমার ছ-ছয় পেয়াদা,
    না না, যাবে আরো দুজন জেয়াদা।
    কী বল মালতী।
    মালতী। দস্তুর তাই।
    ক্ষীরো। হাতকড়ি দিয়ে বেঁধে আনা চাই।
    তারিণী। ও পাড়ার মতি রানীমাতাজির
    চরণ দেখতে হয়েছে হাজির।
    ক্ষীরো। মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। নবাবের ঘরে
    কোন্‌ কায়দায় লোকে দেখা করে?
    মালতী। কুর্নিস ক’রে ঢোকে মাথা নুয়ে,
    পিছু হটে যায় মাটি ছুঁয়ে ছুঁয়ে।
    ক্ষীরো। নিয়ে এসে সাথে, যাও তো মালতী,
    কুর্নিস করে আসে যেন মতি।
    মতিকে লইয়া মালতীর পুনঃপ্রবেশ
    মালতী। মাথা নিচু করো। মাটি ছোঁও হাতে,
    লাগাও হাতটা নাকের ডগাতে।
    তিন পা এগোও, নিচু করো মাথা।
    মতি। আর তো পারি নে, ঘাড়ে হল ব্যথা।
    মালতী। তিন বার নাকে লাগাও হাতটা।
    মতি। টন্‌ টন্‌ করে পিঠের বাতটা।
    মালতী। তিন পা এগোও, তিন বার ফের্‌
    ধুলো তুলে নেও ডগায় নাকের।
    মতি। ঘাট হয়েছিল এসেছি এ পথ,
    এর চেয়ে সিধে নাকে দেওয়া খত।
    জয় রানীমার, একাদশী আজি।
    ক্ষীরো। রানীর জ্যোতিষী শুনিয়েছে পাঁজি।
    কবে একাদশী, কবে কোন্‌ বার
    লোক আছে মোর তিথি গোনবার।
    মতি। টাকাটা সিকেটা যদি কিছু পাই
    জয় জয় বলে বাড়ি চলে যাই।
    ক্ষীরো। যদি না’ই পাও তবু যেতে হবে–
    কুর্নিস করে চলে যাও তবে।
    মতি। ঘড়া ঘড়া টাকা ঘরে গড়াগড়ি,
    তবু কড়াকড় দিতে কড়াকড়ি!
    ক্ষীরো। ঘরের জিনিস ঘরেরই ঘড়ায়
    চিরদিন যেন ঘরেই গড়ায়।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। এবার মাগীরে
    কুর্নিস করে নিয়ে যাও ফিরে।
    মতি। চললেম তবে।
    মালতী। রোসো, ফিরো নাকো,
    তিন বার মাটি তুলে নাকে মাখো।
    তিন পা কেবল হটে যাও পিছু,
    পোড়ো না উল্‌টে মাথা করো নিচু।
    মতি। হায়, কোথা এনু, ভরল না পেট–
    বারে বারে শুধু মাথা হল হেঁট।
    আহা, কল্যাণী রানীর ঘরে
    কর্ণ জুড়োয় মধুর স্বরে–
    কড়ি যদি দেন অমূল্য তাই–
    হেথা হীরে মোতি সেও অতি ছাই।
    ক্ষীরো। সে ছাই পাবার ভরসা কোরো না।
    মালতী। সাবধানে হঠো, উল্‌টে পোড়ো না।

    [মতির প্রস্থান

    ক্ষীরো। বিনি!
    বিনি। রানীমাসি!
    ক্ষীরো। একগাছি চুড়ি
    হাত থেকে তোর গেছে না কি চুরি।
    বিনি। চুরি তো যায় নি।
    ক্ষীরো। গিয়েছে হারিয়ে?
    বিনি। হারায় নি।
    ক্ষীরো। কেউ নিয়েছে ভাঁড়িয়ে?
    বিনি। না গো রানীমাসি!
    ক্ষীরো। এটা তো মানিস
    পাখা নেই তার। একটা জিনিস
    হয় চুরি যায়, নয় তো হারায়,
    নয় মারা যায় ঠগের দ্বারায়,
    তা না হলে থাকে–এ ছাড়া তাহার
    কী যে হতে পারে জানি নে তো আর।
    বিনি। দান করেছি সে!
    ক্ষীরো। দিয়েছিস দানে?
    ঠকিয়েছে কেউ, তারই হল মানে।
    কে নিয়েছে বল্‌।
    বিনি। মল্লিকা দাসী।
    এমন গরিব নেই রানীমাসি!
    ঘরে আছে তার সাত ছেলে মেয়ে,
    মাস পাঁচ-ছয় মাইনে না পেয়ে
    খরচপত্র পাঠাতে পারে না–
    দিনে দিনে তার বেড়ে যায় দেনা,
    কেঁদে কেঁদে মরে– তাই চুড়িগাছি
    নুকিয়ে তাহারে দান করিয়াছি।
    অনেক তো চুড়ি আছে মোর হাতে,
    একখানা গেলে কি হবে তাহাতে।
    ক্ষীরো। বোকা মেয়েটার শোনো ব্যাখ্যানা
    একখানা গেলে গেল একখানা,
    সে যে একেবারে ভারি নিশ্চয়।
    কে না জানে যেটা রাখ সেটা রয়,
    যেটা দিয়ে ফেল সেটা তো রয় না–
    এর চেয়ে কথা সহজ হয় না।
    অল্পস্বল্প যাদের আছে
    দানে যশ পায় লোকের কাছে–
    ধনীর দানেতে ফল নাহি ফলে,
    যত দেও তত পেট বেড়ে চলে–
    কিছুতে ভরে না লোকের স্বার্থ,
    ভাবে “আরো ঢের দিতে যে পারত’।
    অতএব বাছা, হবি সাবধান,
    বেশি আছে বলে করিস নে দান।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। বোকা মেয়েটি এ,
    এর দুটো কথা দাও সমঝিয়ে।
    মালতী। রানীর বোনঝি রানীর অংশ,
    তফাতে থাকবে উচ্চ বংশ;
    দান করা-টরা যত হয় বেশি
    গরিবের সাথে তত ঘেঁষাঘেঁষি।
    পুরোনো শাস্ত্রে লিখেছে শোলোক,
    গরিবের মতো নেই ছোটোলোক।
    ক্ষীরো। মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। মল্লিকাটারে
    আর তো রাখা না।
    মালতী। তাড়াব তাহারে।
    ছেলেমেয়েদের দয়ার চর্চা
    বেড়ে গেলে সাথে বাড়বে খরচা।
    ক্ষীরো। তাড়াবার বেলা হয়ে আনমনা
    বালাটা-সুদ্ধ যেন তাড়িয়ো না।–
    বাহিরের পথে কে বাজায় বাঁশি
    দেখে আয় মোর ছয় ছয় দাসী।

    তারিণীর প্রস্থান ও পুনঃপ্রবেশ

    তারিণী। মধুদত্তর পৌত্রের বিয়ে,
    ধুম করে তাই চলে পথ দিয়ে।
    ক্ষীরো। রানীর বাড়ির সামনের পথে
    বাজিয়ে যাচ্ছে কী নিয়ম-মতে।
    বাঁশির বাজনা রানী কি সইবে!
    মাথা ধ’রে যদি থাকত দৈবে?
    যদি ঘুমোতেন, কাঁচা ঘুমে জেগে
    অসুখ করত যদি রেগেমেগে?
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। নবাবের ঘরে
    এমন কাণ্ড ঘটলে কী করে।
    মালতী। যার বিয়ে যায় তারে ধরে আনে,
    দুই বাঁশিওয়ালা তার দুই কানে
    কেবলই বাজায় দুটো-দুটো বাঁশি;
    তিন দিন পরে দেয় তারে ফাঁসি।
    ক্ষীরো। ডেকে দাও কোথা আছে সর্দার,
    নিয়ে যাক দশ জুতোবর্দার–
    ফি লোকের পিঠে দশ ঘা চাবুক
    সপাসপ বেগে সজোরে নাবুক।
    মালতী। তবু যদি কারো চেতনা না হয়,
    বন্দুক দিলে হবে নিশ্চয়।
    প্রথমা। ফাঁসি হল মাপ, বড়ো গেল বেঁচে,
    জয় জয় ব’লে বাড়ি যাবে নেচে।
    দ্বিতীয়া। প্রসন্ন ছিল তাদের গ্রহ,
    চাবুক ক’ ঘা তো অনুগ্রহ।
    তৃতীয়া। বলিস কী ভাই, ফাঁড়া গেল কেটে–
    আহা, এত দয়া রানীমার পেটে।
    ক্ষীরো। থাম তোরা, শুনে নিজ গুণগান
    লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে কান।
    বিনি!
    বিনি। রানীমাসি!
    ক্ষীরো। স্থির হয়ে রবি,
    ছট্‌ফট্‌ করা বড়ো বে-আদবি।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। মেয়েরা এখনো
    শেখে নি আমিরি দস্তুর কোনো।

    (বিনির প্রতি)

    মালতী। রানীর ঘরের ছেলেমেয়েদের
    ছট্‌ফট্‌ করা ভারি নিন্দের।
    ইতর লোকেরই ছেলেমেয়েগুলো
    হেসেখুশে ছুটে করে খেলাধুলো।
    রাজারানীদের পুত্রকন্যে
    অধীর হয় না কিছুরই জন্যে!
    হাত-পা সামলে খাড়া হয়ে থাকো,
    রানীর সামনে নোড়ো-চোড়ো নাকো।
    ক্ষীরো। ফের গোলমাল করছে কাহারা।
    দরজায় মোর নাই কি পাহারা।
    তারিণী। প্রজারা এসেছে নালিশ করতে।
    ক্ষীরো। আর কি জায়গা ছিল না মরতে!
    মালতী। প্রজার নালিশ শুনবে রাজ্ঞী
    ছোটোলোকদের এত কি ভাগ্যি!
    প্রথমা। তাই যদি হবে তবে অগণ্য
    নোকর চাকর কিসের জন্য।
    দ্বিতীয়া। নিজের রাজ্যে রাখতে দৃষ্টি
    রাজারানীদের হয় নি সৃষ্টি।
    তারিণী। প্রজারা বলছে, কর্মচারী
    পীড়ন তাদের করছে ভারি।
    নাই মায়া দয়া, নাইকো ধর্ম,
    বেচে নিতে চায় গায়ের চর্ম।
    বলে তারা, “হায় কী করেছি পাপ,
    এত ছোটো মোরা, এত বড়ো চাপ!’
    ক্ষীরো। সর্ষেও ছোটো তবু সে ভোগায়,
    চাপ না পেলে কি তৈল জোগায়।
    টাকা জিনিসটা নয় পাকা ফল,
    টুপ করে খ’সে ভরে না আঁচল,
    ছিঁড়ে নাড়া দিয়ে ঠেঙার বাড়িতে
    তবে ও জিনিস হয় যে পাড়িতে।
    তারিণী। সেজন্যে না মা–তোমার খাজনা
    বঞ্চনা করা তাদের কাজ না।
    তারা বলে, যত আমলা তোমার
    মাইনে না পেয়ে হয়েছে গোঁয়ার।
    লুটপাট করে মারছে প্রজা,
    মাইনে পেলেই থাকবে সোজা।
    ক্ষীরো। রানী বটি, তবু নইকো বোকা,
    পারবে না দিতে মিথ্যে ধোঁকা।
    করবেই তারা দস্যুবৃত্তি,
    মাইনেটা দেওয়া মিথ্যেমিথ্যি।
    প্রজাদের ঘরে ডাকাতি করে,
    তা বলে করবে রানীরও ঘরে?
    তারিণী। তারা বলে রানী কল্যাণী যে
    নিজের রাজ্য দেখেন নিজে।
    নালিশ শোনেন নিজের কানেই,
    প্রজাদের ‘পরে জুলুমটা নেই।
    ক্ষীরো। ছোটোমুখে বলে বড়ো কথাগুলা,
    আমার সঙ্গে অন্যের তুলা?
    মালতী?
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। কী কর্তব্য।
    মালতী। জরিমানা দিক যত অসভ্য
    এক-শো এক-শো।
    ক্ষীরো। গরিব ওরা যে,
    তাই একেবারে এক-শো’র মাঝে
    নব্বই টাকা করে দিনু মাপ।
    প্রথমা। আহা, গরিবের তুমিই মা বাপ।
    দ্বিতীয়া। কার মুখ দেখে উঠেছিল প্রাতে,
    নব্বই টাকা পেল হাতে হাতে।
    তৃতীয়া। নব্বই কেন, যদি ভেবে দেখে–
    আরো ঢের টাকা নিয়ে গেল ট্যাঁকে।
    হাজার টাকার ন-শো নব্বই
    চোখের পলকে পেল সর্বই।
    চতুর্থী। এক দমে ভাই এত দিয়ে ফেলা
    অন্যে কে পারে, এ তো নয় খেলা।
    ক্ষীরো। বলিস নে আর মুখের আগে,
    নিজগুণ শুনে শরম লাগে।
    বিনি।
    বিনি। রানীমাসী!
    ক্ষীরো। হঠাৎ কী হল।
    ফোঁস ফোঁস করে কাঁদিস কেন লো।
    দিনরাত আমি বকে বকে খুন,
    শিখলি নে কিছু কায়দা কানুন?
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। এই মেয়েটাকে
    শিক্ষা না দিলে মান নাহি থাকে।
    মালতী। রানীর বোনঝি জগতে মান্য,
    বোঝ না এ কথা অতি সামান্য।
    সাধারণ যত ইতর লোকেই
    সুখে হাসে, কাঁদে দুঃখশোকেই।
    তোমাদেরও যদি তেমনি হবে,
    বড়োলোক হয়ে হল কী তবে।
    একজন দাসীর প্রবেশ
    দাসী। মাইনে না পেলে মিথ্যে চাকরি।
    বাঁধা দিয়ে এনু কানের মাকড়ি–
    ধার করে খেয়ে পরের গোলামি
    এমন কখনো শুনি নি তো আমি।
    মাইনে চুকিয়ে দাও, তা না হলে
    ছুটি দাও আমি ঘরে যাই চলে।
    ক্ষীরো। মাইনে চুকোনো নয়কো মন্দ,
    তবু ছুটিটাই মোর পছন্দ।
    বড়ো ঝঞ্ঝাট মাইনে বাঁটতে,
    হিসেব-কিতেব হয় যে ঘাঁটতে।
    ছুটি দেওয়া যায় অতি সত্বর,
    খুলতে হয় না খাতাপত্তর–
    ছ-ছয় পেয়াদা ধরে আসি কেশ,
    নিমেষ ফেলতে কর্ম নিকেশ।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। সাথে যাও ওর,
    ঝেড়ে ঝুড়ে নিয়ো কাপড়চোপড়–
    ছুটি দেয় যেন দরোয়ান যত
    হিন্দুস্থানি দস্তুর-মত।
    মালতী। বুঝেছি রানীজি!
    ক্ষীরো। আচ্ছা, তা হলে
    কুর্নিস করে যাক বেটি চলে।

    [কুর্নিস করাইয়া দাসীকে বিদায়

    দাসী। দুয়ারে রানীমা দাঁড়িয়ে আছে কে,
    বড়োলোকের ঝি মনে হয় দেখে।
    ক্ষীরো। এসেছে কি হাতি কিম্বা রথে?
    দাসী। মনে হয় যেন হেঁটে এল পথে।
    ক্ষীরো। কোথা তবে তার বড়োলোকত্ব?
    দাসী। রানীর মতন মুখটি সত্য।
    ক্ষীরো। মুখে বড়োলোক লেখা নাহি থাকে,
    গাড়িঘোড়া দেখে চেনা যায় তাকে।

    মালতীর প্রবেশ

    মালতী। রানী কল্যাণী এসেছেন দ্বারে
    রানীজির সাথে দেখা করিবারে।
    ক্ষীরো। হেঁটে এসেছেন?
    মালতী। শুনছি তাই তো।
    ক্ষীরো। তা হলে হেথায় উপায় নাই তো।
    সমান আসন কে তাহারে দেয়।
    নিচু আসনটা, সে’ও অন্যায়।
    এ এক বিষম হল সমিস্যে,
    মীমাংসা এর কে করে বিশ্বে?
    প্রথমা। মাঝখানে রেখে রানীজির গদি
    তাহার আসন দূরে রাখি যদি?
    দ্বিতীয়া। ঘুরায়ে যদি এ আসনখানি
    পিছন ফিরিয়া বসেন রানী?
    তৃতীয়া। যদি বলা যায় “ফিরে যাও আজ–
    ভালো নেই আজ রানীর মেজাজ’?
    ক্ষীরো। মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। কী করি উপায়।
    মালতী। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যদি সারা যায়
    দেখাশোনা, তবে সব গোল মেটে।
    ক্ষীরো। এত বুদ্ধিও আছে তোর পেটে।
    সেই ভালো। আগে দাঁড়া সার বাঁধি
    আমার এক-শো পঁচিশটে বাঁদি।
    ও হল না ঠিক–পাঁচ পাঁচ করে
    দাঁড়া ভাগে ভাগে– তোরা আয় সরে–
    না না, এই দিকে– না না, কাজ নেই,
    সারি সারি তোরা দাঁড়া সামনেই–
    না না, তা হলে যে মুখ যাবে ঢেকে।
    কোনাকুনি তোরা দাঁড়া দেখি বেঁকে।
    আচ্ছা, তা হলে ধরে হাতে হাতে
    খাড়া থাক্‌ তোরা একটু তফাতে।
    শশী, তুই সাজ্‌ ছত্রধারিণী,
    চামরটা নিয়ে দোলাও তারিণী।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। এইবার তারে
    ডেকে নিয়ে আয় মোর দরবারে।

    [মালতীর প্রস্থান

    কিনি বিনি কাশী স্থির হয়ে থাকো–
    খবর্দার, কেউ নোড়ো-চোড়ো নাকো।
    মোর দুই পাশে দাঁড়াও সকলে
    দুই ভাগ করি।

    কল্যাণী ও মালতীর প্রবেশ

    কল্যাণী। আছ তো কুশলে?
    ক্ষীরো। আমার চেষ্টা কুশলেই থাকি,
    পরের চেষ্টা দেবে মোরে ফাঁকি,
    এই ভাবে চলে জগৎ-সুদ্ধ
    নিজের সঙ্গে পরের যুদ্ধ।
    কল্যাণী। ভালো আছ বিনি?
    বিনি। ভালোই আছি মা,
    ম্লান কেন দেখি সোনার প্রতিমা!
    ক্ষীরো। বিনি, করিস নে মিছে গোলযোগ,
    ঘুচল না তোর কথা-কওয়া রোগ?
    কল্যাণী। রানী, যদি কিছু না কর মনে,
    কথা আছে কিছু– কব গোপনে।
    ক্ষীরো। আর কোথা যাব, গোপন এই তো–
    তুমি আমি ছাড়া কেহই নেই তো।
    এরা সব দাসী, কাজ নেই কিছু–
    রানীর সঙ্গে ফেরে পিছু-পিছু।
    হেথা হতে যদি করে দিই দূর
    হবে না তো সেটা ঠিক দস্তুর;
    কী বল মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে, তাই তো,
    দস্তুরমত চলাই চাই তো।
    ক্ষীরো। সোনার বাটাটা কোথায় কে জানে।
    খুঁজে দেখ্‌ দেখি।
    দাসী। এই-যে এখানে।
    ক্ষীরো। ওটা নয়, সেই মুক্তো-বসানো
    আরেকটা আছে সেইটেই আনো।

    [অন্য বাটা-অনয়ন

    খয়েরের দাগ লেগেছে ডালায়,
    বাঁচি নে তো আর তোদের জ্বালায়।
    তবে নিয়ে আয় চুনীর সে বাটা–
    না না, নিয়ে আয় পান্না-দেওয়াটা।

    কল্যাণী। কথাটা আমার নিই তবে বলে।
    পাঠান বাদশা অন্যায় ছলে
    রাজ্য আমার নিয়েছেন কেড়ে–
    ক্ষীরো। বল কী! তা হলে গেছে ফুলবেড়ে,
    গিরিধরপুর, গোপালনগর
    কানাইগঞ্জ–
    কল্যাণী। সব গেছে মোর।
    ক্ষীরো। হাতে আছে কিছু নগদ টাকা কি।
    কল্যাণী। সব নিয়ে গেছে, কিছু নেই বাকি।
    ক্ষীরো। অদৃষ্টে ছিল এত দুখ তোর!
    গয়না যা ছিল হীরে মুক্তোর,
    সেই বড়ো বড়ো নীলার কণ্ঠি,
    কানবালা জোড়া বেড়ে গড়নটি,
    সেই-যে চুনীর পাঁচনলি হার,
    হীরে-দেওয়া সিঁথি লক্ষ টাকার–
    সেগুলো নিয়েছে বুঝি লুটেপুটে?
    কল্যাণী। সব নিয়ে গেছে সৈন্যেরা জুটে।
    ক্ষীরো। আহা, তাই বলে, ধনজনমান
    পদ্মপত্রে জলের সমান।
    দামি তৈজস ছিল যা পুরোনো
    চিহ্নও তার নেই বুঝি কোনো?
    সেকালের সব জিনিসপত্র
    আসাসোটাগুলো চামরছত্র
    চাঁদোয়া কানাত– গেছে বুঝি সব?
    শাস্ত্রে যে বলে ধনবৈভব
    তড়িৎ সমান, মিথ্যে সে নয়।
    এখন তা হলে কোথা থাকা হয়।
    বাড়িটা তো আছে?
    কল্যাণী। ফৌজের দল
    প্রাসাদ আমার করেছে দখল।
    ক্ষীরো। ওমা, ঠিক এ যে শোনায় কাহিনী–
    কাল ছিল রানী, আজ ভিখারিনি।
    শাস্ত্রে তাই তো বলে সব মায়া,
    ধনজন তালবৃক্ষের ছায়া।
    কী বল মালতী!
    মালতী। তাই তো বটেই,
    বেশি বাড় হলে পতন ঘটেই।
    কল্যাণী। কিছু দিন যদি হেথায় তোমার
    আশ্রয় পাই, করি উদ্ধার
    আবার আমার রাজ্যখানি_
    অন্য উপায় নাহিকো জানি।
    ক্ষীরো। আহা, তুমি রবে আমার হেথায়
    এ তো বেশ কথা, সুখেরই কথা এ।
    প্রথমা। আহা, কত দয়া!
    দ্বিতীয়া। মায়ার শরীর!
    তৃতীয়া। আহা, দেবী তুমি, নও পৃথিবীর।
    চতুর্থী। হেথা ফেরে নাকো অধম পতিত,
    আশ্রয় পায় অনাথ অতিথ।
    ক্ষীরো। কিন্তু একটা কথা আছে বোন!
    বড়ো বটে মোর প্রাসাদভবন,
    তেমনি যে ঢের লোকজন বেশি–
    কোনোমতে তারা আছে ঠেসাঠেসি।
    এখানে তোমার জায়গা হবে না
    সে একটা মহা রয়েছে ভাবনা।
    তবে কিছু দিন যদি ঘর ছেড়ে
    বাইরে কোথাও থাকি তাঁবু গেড়ে–
    প্রথমা। ওমা, সে কী কথা!
    দ্বিতীয়া। তা হলে রানীমা,
    রবে না তোমার কষ্টের সীমা।
    তৃতীয়া। যে-সে তাঁবু নয়, তবু সে তাঁবুই,
    ঘর থাকতে কি ভিজবে বাবুই!
    পঞ্চমী। দয়া করে কত নাববে নাবোতে,
    রানী হয়ে কি না থাকবে তাঁবুতে!
    ষষ্ঠী। তোমার সে দশা দেখলে চক্ষে
    অধীনগণের বাজবে বক্ষে।
    কল্যাণী। কাজ নেই রানী, সে অসুবিধায়–
    আজকের তরে লইনু বিদায়।
    ক্ষীরো। যাবে নিতান্ত? কী করব ভাই!
    ছুঁচ ফেলবার জায়গাটি নাই।
    জিনিসপত্র লোক-লশকরে
    ঠাসা আছে ঘর–কারে ফস করে
    বসতে বলি যে তার জোটি নেই।
    ভালো কথা, শোনো, বলি গোপনেই,
    গয়নাপত্র কৌশলে রাতে
    দু-দশটা যাহা পেরেছ সরাতে
    মোর কাছে দিলে রবে যতনেই।
    কল্যাণী। কিছুই আনি নি, শুধু হেরো এই
    হাতে দুটি চুড়ি, পায়েতে নূপুর।
    ক্ষীরো। আজ এস তবে, বেজেছে দুপুর–
    শরীর ভালো না, তাইতে সকালে
    মাথা ধরে যায় অধিক বকালে।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। জানে না কানাই
    স্নানের সময় বাজবে সানাই?
    মালতী। বেটারে উচিত করব শাসন।

    [কল্যাণীর প্রস্থান

    ক্ষীরো। তুলে রাখো মোর রত্ন-আসন–
    আজকের মতো হল দরবার।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। নাম করবার
    সুখ তো দেখলি?
    মালতী। হেসে নাহি বাঁচি–
    ব্যাঙ থেকে কেঁচে হলেন ব্যাঙাচি।
    ক্ষীরো। আমি দেখো বাছা, নাম-করাকরি,
    যেখানে সেখানে টাকা-ছড়াছড়ি
    জড়ো করে দল ইতর লোকের
    জাঁক-জমকের লোক-চমকের
    যত রকমের ভণ্ডামি আছে
    ঘেঁষি নে কখনো ভুলে তার কাছে।
    প্রথমা। রানীর বুদ্ধি যেমন সারালো,
    তেমনি ক্ষুরের মতন ধারালো।
    দ্বিতীয়া। অনেক মূর্খে করে দান ধ্যান,
    কার আছে হেন কাণ্ডজ্ঞান।
    তৃতীয়া। রানীর চক্ষে ধুলো দিয়ে যাবে
    হেন লোক হেন ধুলো কোথা পাবে!
    ক্ষীরো। থাম্‌ থাম্‌ তোরা, রেখে যে বকুনি,
    লজ্জা করে যে নিজগুণ শুনি।
    মালতী!
    মালতী। আজ্ঞে।
    ক্ষীরো। ওদের গয়না
    ছিল যা এমন কাহারো হয় না।
    দুখানি চুড়িতে ঠেকেছে শেষে,
    দেখে আমি আর বাঁচি নে হেসে।
    তবু মাথা যেন নুইতে চায় না,
    ভিখ নেবে তবু কতই বায়না।
    পথে বের হল পথের ভিখিরি,
    ভুলতে পারে না তবু রানীগিরি।
    নত হয় লোক বিপদে ঠেকলে,
    পিত্তি জ্বলে যে দেমাক দেখলে।
    আবার কিসের শুনি কোলাহল।
    মালতী। দুয়ারে এসেছে ভিক্ষুকদল–
    আকাল পড়েছে, চালের বস্তা
    মনের মতন হয় নি সস্তা,
    তাইতে চেঁচিয়ে খাচ্ছে কানটা।
    বেতটি পড়লে হবেন ঠাণ্ডা।
    ক্ষীরো। রানী কল্যাণী আছেন দাতা।
    মোর দ্বারে কেন হস্ত পাতা।
    বলে দে আমার পাঁড়েজি বেটাকে
    ধরে নিয়ে যাক সকল-ক’টাকে,
    দাতা কল্যাণী রানীর ঘরে
    সেথায় আসুক ভিক্ষে করে।
    সেখানে যা পাবে এখানে তাহার
    আরো পাঁচ গুণ মিলবে আহার।
    প্রথমা। হা হা হা, কী মজা হবেই না জানি।
    দ্বিতীয়া। হাসিয়ে হাসিয়ে মারলেন রানী।
    তৃতীয়া। আমাদের রানী এতও হাসান!
    চতুর্থী। দু-চোখ চক্ষু-জলেতে ভাসান।

    দাসীর প্রবেশ

    দাসী। ঠাকরুন এক এসেছেন দ্বারে,
    হুকুম পেলেই তাড়াই তাঁহারে।
    ক্ষীরো। না না ডেকে দে-না। আজ কিজন্য
    মন আছে মোর বড়ো প্রসন্ন।

    ঠাকুরানীর প্রবেশ

    ঠাকুরানী। বিপদে পড়েছি, তাই এনু চলে।
    ক্ষীরো। সে তো জানা কথা। বিপদে না প’লে
    শুধু যে আমার চাঁদমুখখানি
    দেখতে আস নি সেটা বেশ জানি।
    ঠাকুরানী। চুরি হয়ে গেছে ঘরেতে আমার–
    ক্ষীরো। মোর ঘরে বুঝি শোধ নেবে তার?
    ঠাকুরানী। দয়া করে যদি কিছু করো দান
    এ যাত্রা তবে বেঁচে যায় প্রাণ।
    ক্ষীরো। তোমার যা-কিছু নিয়েছে অন্যে
    দয়া চাও তুমি তাহার জন্যে!
    আমার যা তুমি নিয়ে যাবে ঘরে
    তার তরে দয়া আমায় কে করে।
    ঠাকুরানী। ধনসুখ আছে যার ভাণ্ডারে
    দানসুখে তার সুখ আরো বাড়ে।
    গ্রহণ যে করে তারি হেঁট মুখ,
    দুঃখের পর ভিক্ষার দুখ।
    তুমি সক্ষম, আমি নিরুপায়,
    অনায়াসে পার ঠেলিবারে পায়।
    ইচ্ছা না হয় না’ই কোরো দান,
    অপমানিতেরে কেন অপমান!
    চলিলাম তবে, বলো দয়া ক’রে
    বাসনা পুরিবে গেলে কার ঘরে।
    ক্ষীরো। রানী কল্যাণী নাম শোন নাই?
    দাতা বলে তাঁর বড়ো যে বড়াই।
    এইবার তুমি যাও তাঁরি ঘরে
    ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে এসো ভরে,
    পথ না জান তো মোর লোকজন
    পৌঁছিয়ে দেবে রানীর ভবন।
    ঠাকুরানী। তবে তথাস্তু। যাই তাঁরি কাছে।
    তাঁর ঘর মোর খুব জানা আছে।
    আমি সে লক্ষ্মী, তোর ঘরে এসে
    অপমান পেয়ে ফিরিলাম শেষে।
    এই কথা ক’টি করিয়ো স্মরণ–
    ধনে মানুষের বাড়ে নাকো মন।
    আছে বহু ধনী, আছে বহু মানী–
    সবাই হয় না রানী কল্যাণী।
    ক্ষীরো। যাবে যদি তবে ছেড়ে যাও মোরে।
    দস্তুরমত কুর্নিস করে।
    মালতী! মালতী! কোথায় তারিণী!
    কোথা গেল মোর চামরধারিণী!
    আমার এক-শো পঁচিশটে দাসী?
    তোরা কোথা গেলি বিনি কিনি কাশী!

    কল্যাণীর প্রবেশ

    কল্যাণী। পাগল হলি কি। হয়েছে কী তোর।
    এখনো যে রাত হয় নিকো ভোর–
    বল্‌ দেখি কী যে কাণ্ড কল্লি।
    ডাকাডাকি করে জাগালি পল্লী!
    ক্ষীরো। ওমা, তাই তো গা! কী জানি কেমন
    সারা রাত ধরে দেখেছি স্বপন।
    বড়ো কুস্বপ্ন দিয়েছিল বিধি,
    স্বপনটা ভেঙে বাঁচলেম দিদি!
    একটু দাঁড়াও, পদধূলি লব–
    তুমি রানী, আমি চিরদাসী তব।

    ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৩০৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    Next Article চিত্রাঙ্গদা (কাব্য-নাটক) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }