Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিরীটী অমনিবাস ১ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত এক পাতা গল্প656 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. একটা ভারী বস্তু পতনের শব্দ

    অতর্কিত সেই কোন একটা ভারী বস্তু পতনের ও ঠিক সেই সঙ্গে সঙ্গে কাচ ভাঙার ঝনঝন শব্দটা ঘরের মধ্যে আমাদের সকলকেই সচকিত করে দিয়ে গেল। কথা বললে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে প্রথমে আমাদের মধ্যে কিরীটীই, কাঁচের কোন জিনিস ভাঙার শব্দ!

    তাই তো, শব্দটা উপরের তলা থেকেই এল বলে মনে হল! যাই দেখে আসি কি ভাঙল শতদল ঘর হতে বের হয়ে যেতেই কিরীটীও তাকে অনুসরণ করে আর আমি করি কিরীটীকে। দোতলায় ওঠবার সিঁড়ির দেওয়ালের গায়ে যে ওয়াল-ল্যাম্পটা টিমটিম করে জ্বলছে, তাতে করে সিঁড়িপথের অন্ধকার দূরীভূত হওয়া তো দূরের কথা, দুপাশের দেওয়ালের চাপে পড়ে আরো যেন ঘন হওয়ায় এবং তার মধ্যে আলোর স্বল্পতায় যেন একটা কেমন ছমছমে ভাবের সৃষ্টি করেছে।

    সর্বাগ্রে শতদলবাবু তার পশ্চাতে কিরীটী ও সবার শেষে আমি সিঁড়িপথ অতিক্রম করে উপরের বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই একটা সাদা কাপড়ে ঢাকা। ছায়ামূর্তি যেন সোঁ করে আমাদের চোখের সামনে দিয়েই বারান্দার শেষপ্রাতের দরজাপথে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ব্যাপারটা এত চকিতে, যেন মনে হল, একটা স্বপ্নের মতই ছায়ামূর্তিটি অন্ধকারে বারান্দার ওদিকে মিলিয়ে গেল।

    কিরীটী কিন্তু মুহূর্তের জন্যও সময় নষ্ট করেনি, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে যেন একপ্রকার দৌড়েই বারান্দার শেষপ্রান্তে যেদিকে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়েছে ক্ষণপূর্বে সেই ছায়ামূর্তি, সেই দিকে এগিয়ে গেল।

    আমিও কতকটা যেন যন্ত্রচালিতের মতোই কিরীটীকে অনুসরণ করলাম।

    দরজাটা পার হলেই একটা অপরিসর ছাদের মতো, তিনদিকে তার এক বুক-সমান প্রায় প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। কিরীটী দেখি সেই প্রাচীরের উপর দিয়ে ঝুঁকে অন্ধকারে নিচে তাকিয়ে আছে। আমি ওর পাশে এসে দাঁড়ালাম।

    নিচে অন্ধকারে বাগানের মধ্যে গাছপালাগুলো নিঃশব্দে ছায়ার মত গা ঘেষাঘেষি করে দাঁড়িয়ে আছে। দোতলার ছাদ থেকে নিচের বাগানে চট করে কারো পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়া সম্ভবপর না হলেও, প্রাণের দায়ে যে কেউ ঝাপিয়ে পড়বে না এমন কোন কথা নেই। এবং বেকায়দায় নিচে পড়লে গুরতর জখম বা আহত হওয়াও এমন কিছু আশ্চর্য নয়।

    ছায়ামূর্তিটা এই ছাদের দিকেই যখন এসেছে এবং স্পষ্ট আমরা যখন সকলেই চোখে দেখেছি এবং এই ছাদ থেকে অন্য কোথাও যাওয়া যখন সম্ভবপর নয়, তখন একমাত্র নিচের ঐ বাগানে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মগোপন করা ছাড়া ছায়ামূর্তিটা আর অন্য কোথায় যেতে পারে?

    সু তোর সঙ্গে টর্চ আছে? কিরীটী হঠাৎ প্রশ্ন করে।

    না তো! জবাব দিই।

    হঠাৎ এমন সময় আমাদের ঠিক পশ্চাতেই শতদলবাবুর কণ্ঠস্বর শোনা গেল, আমার ঘরে টর্চ আছে মিঃ রায়, এনে দেব?

    না, প্রয়োজন নেই। চলুন দেখা যাক কিসের শব্দ হয়েছিল! বলতে বলতে কিরীটীই আবার বারান্দার দিকে পা বাড়াল।

    সকলে ভিতরে এসে প্রথমে বারান্দা অতিক্রম করে। শতদলবাবুর শয়নঘরের ঠিক পাশের ঘরটির দরজা হাঁ করে খোলা দেখে প্রথমে শতদলবাবুই থেমে বললে, এ কি! ঘরের দরজাটা খোলা কেন?

    দরজাটা বন্ধ ছিল সেদিনও দেখেছি, যতদূরে আমার মনে পড়ছে তালাবন্ধই ছিল, না শতদলবাবু? কথাটা বললে কিরীটী।

    হ্যাঁ। দাদার স্টুডিও-ঘর। এটা সর্বদা বন্ধই থাকে, আমি এখানে আসা পর্যন্ত,-মৃদুকণ্ঠে শতদল জবাব দেয়, আশ্চর্য! এ দরজায় একটা হবস-এর ভারী তালা লাগানো ছিল—তালাটাই বা কোথায় গেল? পরক্ষণেই ঘরে দাঁড়িয়ে সিঁড়ির দিকে অল্প একটু এগিয়ে শতদল উচ্চকণ্ঠে ডাকল, অবিনাশ? অবিনাশ?

    অমনি অবিনাশকে একটা আলো নিয়ে আসতে বলুন তো! কিরীটী কথাটা বললে।

    কিন্তু অবিনাশের কোন সাড়া পাওয়া গেল না।

    শতদল সিঁড়ির দু-চারটে ধাপ এগিয়ে গিয়ে আবার উচ্চকণ্ঠে হাঁক দিল, অবিনাশ? ভুখনা?

    এবারেও অবিনাশের বা ভুখনার কারোরই কোন সাড়া পাওয়া গেল না নিচের তলা হতে।

    উপরে একটা বাতি নিয়ে আয় ভুখনা! তথাপি শতদল চেচিয়ে বললে।

    কিছুক্ষণ পরেই সিঁড়িতে ক্ষীণ পদশব্দ পাওয়া গেল এবং দেখা গেল শতদলবাবুর সেই বিচিত্র চেহারার রাঁধুনী বামন একটা হারিকেন হাতে উপরে উঠে আসছে।

    হ্যারিকেন বাতিটা হাতে নিতে নিতে শতদল ভুখনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলে, অবিনাশ কোথায়?

    নিঃশব্দে ভুখনা মাথাটা একবার দোলাল মাত্র, সে জানে না। যা, দেখ অবিনাশ কোথায় আছে, তাকে একবার ডেকে দে। ভুখনা চলে গেল।

    সর্বাগ্রে হ্যারিকেন হাতে শতদল এবং পশ্চাতে আমি ও কিরীটী ঘরের মধ্যে গিয়ে ঢুকলাম।

    হ্যারিকেনের বাতিটার অনুজ্জ্বল আলোয় অকস্মাৎ যেন ঘরের মধ্যে চারিদিক হতে অনেকগুলো চোখের দৃষ্টি একসঙ্গে আমাদের উপর এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    একসঙ্গে অনেকগুলো চোখের দৃষ্টি আমাদের চারিদিকে হঠাৎ সজীব হয়ে জিজ্ঞাসায় প্রখর হয়ে উঠেছে, কে তোমরা? কি চাও?

    ঘরের দেওয়ালে বিরাট সব প্রমাণ-সাইজের কলার ও অয়েলপেন্টিং, নানা আকারের পাথর, প্লাস্টার ও ব্রোঞ্জের প্রতিমূর্তি। মনে হয় একটু আগেও বুঝি ওদের প্রাণ ছিল, হঠাৎ কেউ মন্ত্রোচ্চারণে ওদের বোবা করে দিয়ে গিয়েছে। অনুজ্জ্বল আলোর অপর্যাপ্ত আভা চারিদিককার ছবি ও মূর্তিগুলোর উপরে প্রতিফলিত হয়ে যেন সৃষ্টি করেছে কি এক ঘনীভূত রহস্যের!

    কিরীটী শতদলবাবুর হাত হতে হ্যারিকেনটা নিয়ে উঁচু করে চারিদিকে ঘুরিয়ে একবার দেখতেই, সকলেরই আমাদের যুগপৎ দৃষ্টি গিয়ে পড়ল ঘরের পূর্বে কোণে মেঝেতে একটা ভারী কারুকার্যখচিত চওড়া বোঞ্জের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি মেঝেতে পড়ে আছে এবং তার চারপাশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য কাঁচের টুকরো। বোঝা গেল ক্ষণপূর্বে আমরা ঐ ভারী ছবিটারই পড়ে গিয়ে ভাঙ্গার শব্দে নীচে থেকে সচকিত হয়ে উঠেছিলাম। কিরীটী নিঃশব্দে বাতিটা হাতে নিয়ে সর্বাগ্রে সেই দিকে গেল।

    ছবিটা উবুড় হয়ে পড়ে আছে।

    একটা মোটা তার দিয়ে দেওয়ালের গায়ে বড় একটা পেরেকের সাহায্যে ছবিটা দেওয়ালে টাঙানো ছিল। দেখা গেল ছবির সঙ্গে তারটাও অক্ষতই আছে, দেওয়ালের গায়ে পেরেকটাও ঠিক আছে। তবে ছবিটা এইভাবে মাটিতে খসে পড়ল কী করে?

    কিরীটী হ্যারিকেনটা মেঝেতে একপাশে নামিয়ে রেখে নীচু হয়ে মাটি হতে ছবিটা তুলে সোজা করে দাঁড় করাল।

    চোগা-চাপকান পরিহিত মাথায় পাগড়ি-আঁটা বিরাট এক পুরুষের প্রতিকৃতি অয়েলকলারে অঙ্কিত। প্রশস্ত ললাট, উন্নত খড়্গের মত নাসিকা, দীর্ঘ আয়ত চক্ষু এবং সেই চক্ষুর দৃষ্টি যেন মনে হয় সজীব এবং অন্তর্ভেদী।

    ছবিখানা দুহাতের সাহায্যে একবার মাটি থেকে উঁচু করে কিরীটী বোধ। হয় ছবিটার ওজনটা পরীক্ষা করে আবার নামিয়ে রাখল, বেশ ভারী ছবিখানা! ওজনে অন্ততঃ পনের-ষোল সের হবে!

    মৃদু আত্মগত ভাবেই যেন কথাগুলো কতকটা উচ্চারণ করল কিরীটী। তার পরই শতদলের দিকে ফিরে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, চেনেন শতদলবাবু এ ছবিটা কার?

    না। এখানে আসবার পর একদিন মাত্র এ ঘরে ঢুকেছিলাম। এর আগে দু-একবার যা এখানে এসেছি, এই স্টুডিও-ঘরে কখনো প্রবেশ করিনি। দাদু কখনো কাউকে এ ঘরে ঢুকতে দিতেন না।

    কেন? প্রশ্নটা করলাম এবারে আমিই।

    তিনি ঠিক কারো এই স্টুডিও-ঘরে প্রবেশ করাটা পছন্দ করতেন না। বরাবরই লক্ষ্য করেছি, এই স্টুডিও-ঘরে প্রবেশ সম্পর্কে তাঁর যেন একটা sentiment ছিল। দিবারাত্র এই ঘরের মধ্যেই প্রায় রং-তুলি, ইজেল অথবা ছেনী-বাটালী নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকতেন। দীর্ঘকাল ধরে একবেলাই আহার করতেন শুনেছি রাত্রে। এও শুনেছি অনেক রাত্রে নাকি তিনি খাওয়ার কথা পর্যন্ত ভুলে যেতেন, এই ঘরের মধ্যে তাঁর রাত কেটে যেত

    শিল্পীর সাধনা-ক্ষেত্রই বটে। শিল্পী রণধীর চৌধুরী যেন এখনো এই মূর্তি ও ছবিগুলোর মধ্যেই বেঁচে আছেন। নিভৃত এই কক্ষখানির মধ্যে তিনি আপনাকে যে একান্তভাবে সমর্পণ করেছিলেন এবং যে সমর্পণের ভিতর দিয়ে এই বিস্ময় তিল তিল করে গড়ে উঠেছে তারই সাক্ষ্য যেন কক্ষের চতুর্দিকে।

    এই ঘরের চাবিটা?

    সেটা তো আমি যে ঘরে থাকি সেই ঘরের আলমারির ড্রয়ারের মধ্যে থাকত একটা রিংয়ে অন্যান্য চাবির সঙ্গে।

    দেখুন তো সে রিংয়ে চাবিটা আছে কিনা? কিরীটী শতদলকে অনুরোধ জানায়।

    দেখছি, শতদলবাবু ঘর হতে বের হয়ে যাবার আগেই আবার কিরীটী বললে, শতদলবাবু just a minute, ঐ সঙ্গে kindly একটা টর্চও নিয়ে আসবেন।

    শতদল ঘর হতে অতঃপর নিষ্ক্রান্ত হয়ে গেল। ঘরের মধ্যে এখন আমরা দুজনই—কিরীটী ও আমি। হ্যারিকেন-বাতির স্বল্প আলোয় কিরীটীর মুখের দিকে তাকালাম।

    মুখের রেখায় রেখায় কোন কিছু একটা চিন্তার সুস্পষ্ট আভাস। তার ইতিপূর্বের ধীর মৃদু সংযত কণ্ঠস্বর ও নিস্ক্রিয়তা থেকেই বুঝেছিলাম, ঐ মুহূর্তে গভীর ভাবেই কোন একটা চিন্তা কিরীটীর মাথার মধ্যে পাক খেয়ে চলেছে। এবং ঐ সময়ে সে নিজ হতে স্বেচ্ছায় মুখ না খুললে কারো সাধ্য নেই তাকে কথা বলায়। বুঝতে পারছিলাম ছবিটা অমনি আকস্মিক ভাবে মাটিতে পড়ে গিয়ে ভাঙার ব্যাপারটা সে খুব সহজভাবে নেয়নি। শতদলের ক্ষণপূর্বের জবানিতে জানা গিয়েছে ঘরটা বন্ধ ছিল এবং এ ঘরের চাবিটাও তারই ঘরে ছিল। অথচ দেখা যাচ্ছে ঘরের দরজায় কোন তালা নেই-দরজা খোলা এবং ঘরের মধ্যে ঐ ছবিটা ভগ্ন কাঁচের টুকরোর মধ্যে পড়ে আছে। আরো ভাঙার শব্দটা কিছুক্ষণ পূর্বে আমরা নিচের তলা থেকেই শুনেছি। ছবিটা আপনা হতেই পড়ে গিয়ে যে ভাঙেনি তারও প্রমাণ পাচ্ছি।

    সব কিছু পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এ কথাটা স্বতঃই মনে হচ্ছে, কেউ নিশ্চয়ই এ ঘরে এসেছিল। এবং ছবিটা পাড়তে গিয়ে বা নামাতে গিয়ে দেওয়াল থেকে আচমকা অসাবধানতাবশতঃ তার হাত থেকে হয়তো মাটিতে পড়ে গিয়ে কাচটা ভেঙেছে। খুব সম্ভব সেই কারণেই হয়তো তাকে আচমকা ঘটনাবিপর্যয়ে স্থানত্যাগ করতে হয়েছে।

    এক্ষেত্রে তাহলে বক্তব্য হচ্ছে, কেউ না কেউ কিছুক্ষণ আগে এ ছবিটার জন্য এ-ঘরে এসেছিল। যেই আসুক! কিন্তু কেন?

    এ ছবিটার প্রয়োজন নিশ্চয় ছিল তার। কিন্তু কেন? কী প্রয়োজন ছিল তার?

    ওজনে অত ভারী এবং আকারে অত বড় ছবিটা চট করে কোথায়ও নিয়ে যাওয়া বা লুকোনোও তো সহজ নয়। কিন্তু এমনও তো হতে পারে, তার ছবিটা সরাবার বা কোথাও নিয়ে যাওয়ার ঠিক প্রয়োজন ছিল না, কেবল হয়তো ছবিটা দেওয়াল হতে নামিয়ে দেখতেই চেয়েছিল সে। কিন্তু ছবিটা দেখবারই যদি প্রয়োজন ছিল তার, দেওয়ালে টাঙানো অবস্থাতেও তো দেখতে পারত? দেওয়াল হতে নামাবার কী প্রয়োজন ছিল?

    বাইরে এমন সময় জুতোর শব্দ পাওয়া গেল। বুঝলাম শতদলবাবু চাবির রিং ও টর্চ নিয়ে এই ঘরেই আসছে।

    অনুমান মিথ্যা নয়। শতদলবাবুই ঘরে এসে প্রবেশ করলেন এবং নিঃশব্দে চাবির রিংটা ও পাঁচ-সেলের একটা হান্টিং টর্চ কিরীটীর দিকে এগিয়ে দিলেন।

    ডান হাতে চাবির রিংটা ধরে বাম হাতে টর্চটা নিল কিরীটী।

    এই রিংয়ের মধ্যেই এই ঘরের তালার চাবিটা ছিল? কিরীটী শতদলকে প্রশ্ন করে।

    হ্যাঁ। দেখুন তো সে চাবিটা আছে কি না? সু বাতিটা একটু তুলে ধর। কিরীটীর নির্দেশমতো বাতিটা আমি তুলে ধরলাম।

    চাবির গোছাটা কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে দেখে শতদল মৃদুকণ্ঠে বললে, এই তো, চাবিটা রিংয়ের মধ্যেই আছে দেখছি।

    একটা বড় আকারের চাবি গোছার ভিতর থেকে আলাদা করে কিরীটীর। সামনে ধরল শতদল।

    চাবির রিংটা আপনার ঘরে যে আলমারির ড্রয়ারে ছিল বলছিলেন, সেটা কি চাবি দেওয়াই থাকত শতদলবাবু?

    হ্যাঁ। চাবি দিয়ে ড্রয়ার খুলেই তো রিংটা নিয়ে এলাম।

    ড্রয়ারের চাবিটা কোথায় ছিল?

    আমার পকেটেই ছিল। সর্বদা পকেটেই রাখি।

    আপনার ঘরটা কি সাধারণতঃ যখন আপনি থাকেন না, তালা দেওয়া থাকে

    না।

    কিরীটী অতঃপর টর্চের আলো ফেলে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে কী যেন দেখল, এরং ফিরে এসে বললে, তালাটা নেই দেখছি। ভাল কথা, আজ কখন আপনি বাইরে বের হয়েছিলেন? কতক্ষণই বা বাইরে ছিলেন শতদলবাবু?

    প্রায় গোটা-চারেকের সময় বাইরে গিয়েছি–

    যাওয়ার সময়ও এই ঘরের দরজার সামনে দিয়েই আপনি গিয়েছিলেন, তখন লক্ষ্য করেছিলেন কি, এই ঘরের দরজার তালাটা ছিল কিনা?

    না, লক্ষ্য করিনি।

    কোথায় গিয়েছিলেন আপনি?

    থানায় গিয়েছিলাম দারোগাবাবুকে গতরাত্রের ব্যাপারটা জানাতে।

    দারোগাবাবুর সঙ্গে দেখা হল?

    হয়েছে।

    হোটেলে কখন গিয়েছিলেন?

    থানায় ঘণ্টাখানেক ছিলাম, বোধ করি সাড়ে ছটা নাগাদ হোটেলে পৌঁছাই। সেখানে আপনাদের না পেয়ে বরাবর এখানে ফিরে আসি।

    হুঁ। আচ্ছা একটা কথা বলতে পারেন, শতদলবাবু হিরন্ময়ী দেবীরা এখন নিচের মহলে যে ঘরটায় আছেন সেই ঘরের দেওয়ালে পাশাপাশি যে দুটি মহিলার ছবি টাঙানো আছে তাঁরা কারা?

    আমি লক্ষ্য করে দেখিনি তো! বিস্মিত দৃষ্টিতে কিরীটীর মুখের দিকে তাকিয়ে শতদল জবাব দেয়।

    দেখেননি? কাল একবার দিনের বেলা ছবি দুটো ভাল করে দেখে আমাকে বলবেন তো, চিনতে পারেন কিনা ছবি দুটো কার? কতকটা যেন নির্দেশের সুরেই কথাগুলো বললে কিরীটী।

    কিরীটী প্রস্তাবে শতদল যেন একটু ইতস্ততঃ করে বলে, উনি মানে আপনার ঐ হিরন্ময়ী দেবী, আমাকে ঠিক যেন পছন্দ করেন বলে আমার মনে হয় না মিঃ রায়। কাজেই তাঁর ঘরে যাওয়া–

    অবিশ্যি যদি কিছু মনে না করেন—আপনার ওরকম মনে হওয়ার কোন কারণ আছে কি?

    থাকলেও অন্ততঃ আমি জানি না মিঃ রায়, কারণ এবারে এখানে আসবার পূর্ব পর্যন্ত ওঁদের সঙ্গে আমার কোন চেনা-পরিচয়ই ছিল না।

    হরবিলাসবাবু, হিরন্ময়ী দেবী ও ওঁদের মেয়ে ঐ সীতা—এদের কারও সঙ্গেই পূর্বে আপনার আদৌ কোন পরিচয় ছিল না আপনি বলতে চান শতদলবাবু?

    প্রশ্নটার মধ্যে যেন কোন গুরুত্ব নেই, কথার পিঠে কথাপ্রসঙ্গে এসে গিয়েছে এমনি ভাবেই অত্যন্ত শান্ত ও নির্লিপ্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলতে বলতে ইতিমধ্যে হাতের টর্চটা জেলে তার আলোয় কিরীটী ঘরের চতুর্দিকে দেওয়ালে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখতে লাগল। শতদল মুহূর্ত কাল চুপ করে থেকে মৃদু সংযত কণ্ঠে জবাব দিল, না।

    আচমকা কিরীটী ঘুরে দাঁড়াল শতদলের মুখোমুখি হয়ে এবং তার স্বাভাবিক অনুসন্ধানী চাপা অথচ স্পষ্ট কণ্ঠে প্রশ্ন করল, ছিল না?

    না।

    মুহূর্তের জন্য কিরীটীর কণ্ঠে যে অনুসন্ধিৎসা জেগে উঠেছিল তার পরবতী প্রশ্নে যেন তার আর লেশমাত্রও অবশিষ্ট রইল না, আপনার সঙ্গে ওঁদের পূর্ব-পরিচয় যদি কিছু না-ই থেকে থাকে, তাহলে হঠাৎই বা হিরন্ময়ী দেবী আপনাকে অপছন্দ করতে যাবেন কেন?

    তাহলে কথাটা আপনাকে খুলেই বলি মিঃ রায়, যদিচ কারণটা আমার কাছে একান্তই হাস্যাপদ বলে মনে হয়। হিরন্ময়ী দেবী দাদুর মত্যুর পর আমার এভাবে এখানে আসাটাই যেন পছন্দ করেননি। আমি না এলে দাদুর সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারিণী তো তিনিই হতেন, যদিচ দাদুর সম্পত্তির মধ্যে তো এই বাড়িখানা ও একগাদা ছবি ও মূর্তি। আমার কাছে তো এর কোন মূল্যই নেই আর দাবিও করব না। একা মানুষ, বিয়ে-থাও করিনি, হ্যাঁ। মাইনে পাই প্রফেসারি করে তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। এ কথা এখানে আসবার পরই ওদের আমি বলেছিলাম, কিন্তু

    কিন্তু কী

    কিন্তু উনি জবাব দিলেন, যতটুকু তাঁর প্রাপ্য তার এক কড়াক্ৰান্তিও উনি বেশী চান না এই সম্পত্তির!

    হুঁ। মনে কিছু করবেন না শতদলবাবু একটা কথা হঠাৎ মনে পড়ে গেল এবং না বলেও পারছি না—

    নিশ্চয়ই, বলুন না?

    প্রথমে যেদিন সৈকতে আপনার সঙ্গে পরিচয় হয়, মনে আছে নিশ্চয়ই আপনার, আপনি কথায় কথায় বলেছিলেন, যতদূর আমার মনে পড়ে যে শিল্পী রণধীর চৌধুরীর বিরাট সম্পত্তির শেষ ও একমাত্র অবশিষ্ট তাঁর এই নিরালার ওয়ারিশ আপনি। তাই নয় কি?

    কিরীটীর অমন সোজা ও স্পষ্ট অভিযোগে শতদল প্রথমটায় কেমন যেন একটু বিহ্বল হয়েই পড়ে, কিন্তু মুহূর্তে সে বিহ্বলতাটুকু কাটিয়ে হাস্যতরল কণ্ঠে বলে ওঠে, হ্যাঁ বলেছিলামই তো এবং এখনও তাই বলব, কিন্তু ওঁরা সে কথা মানতে চান না।

    মানতে চান না কেন? রণধীরবাবুর কোন উইল নেই?

    উইল-সেটাকে উইলই বলা চলে, মানে দাদুর লেখা একখানি চিঠি আমার কাছে আছে যেটা অনায়াসে আইনের চোখে উইলের সমপর্যায়ে পড়ে।

    ওঃ, তবে সেটা ঠিক উইল নয়?

    না। ঠিক উইলের খসড়ায় ফেলে রেজেস্ট্রী করবার বা কোন আইনজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করবারও হয়তো তিনি সময় পাননি, কারণ সেটাকে চিঠিই বলুন বা উইলই বলুন, তাঁর মত্যুর মাত্র দিনসাতেক আগে লেখা–

    সেই উইলে কী আছে?

    চলুন না আমার ঘরে—ঐ ঘরের দেওয়াল-সিন্দুকেই উইলটা আছে—

    যাবখন, তবু বলুন না আপনি কী লেখা আছে সেই চিঠিতে?

    বিশেষ কিছুই না, লেখা আছে এই নিরালা ও এ-বাড়ির যাবতীয় সব কিছু আমাকে তিনি দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর মৃত্যুর পরে।

    বাইরের দালানে এমন সময় অস্পষ্ট পদশব্দ পাওয়া গেল। এবং ঘরের মধ্যস্থিত একমাত্র হ্যারিকেন বাতিটা, হঠাৎ মনে হল, কেমন যেন তার আলোর শিখাটা নিস্তেজ হয়ে আসছে।

    আলোটার দিকে দৃষ্টি আমারই প্রথম পড়ল, আলোটায় তেল নেই বলে যেন মনে হচ্ছে শতদলবাবু!

    আমার কথায় আকৃষ্ট হয়ে কিরীটী ও শতদল দুজনেই আলোটার দিকে তাকাল।

    আলোটা নিস্তেজ হয়ে এসেছে।

    পদশব্দটা ঠিক দরজার গোড়ায় এসে থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষবারের মত বার-দুই দপ দপ করে আলোর শিখাটা কেঁপে নিবে গেল হঠাৎ।

    অত্যন্ত আকস্মিক ভাবেই যেন আলোর শিখাটা নিবে গেল।

    অন্ধকার। নিচ্ছিদ্র অন্ধকার হতে যেন আমাদের সমস্ত দৃষ্টিকে গ্রাস করল।

    অন্ধকারে কিরীটীর গলা শোনা গেল, কে? কে ওখানে?

    কথার সঙ্গে সঙ্গেই কিরীটীর হস্তধৃত পাঁচ-সেলের হানটিং টর্চের সতীব্র অনুসন্ধানী আলোর রশ্নিটা উন্মুক্ত দ্বারপথে গিয়ে পড়ল।

    কে?

    চিনতে কষ্ট হল না টর্চের আলোয়। দরজার ঠিক ওপরেই দাঁড়িয়ে আছে এ-বাড়ির পুরাতন ভৃত্য অবিনাশ।

    আজ্ঞে আমি অবিনাশ! অবিনাশ জবাব দিল, আমায় ডাকছিলেন দাদাবাবু?

    হ্যাঁ। কোথায় থাক তোমরা? আলোগুলোতে তেল থাকে কি না থাকে সেদিকেও তোমাদের এতটুকুও নজর নেই, কী কর যে সব সারাদিন বসে বাড়িতে? ঝাঁজালো বিরক্তি-পূর্ণ কণ্ঠে বলে উঠলেন শতদলবাবু।

    কেন? আজ দুপুরেও সব বাতিতে তেল ভরে দিয়েছি!

    তেল ভরেছ তো বাতি নিবে যায় কি করে? যাও, আর একটা বাতি নিয়ে এস শিগগির করে।

    যাই। অবিনাশ নিঃশব্দে চলে গেল।

    কিরীটী হস্তধৃত টর্চের আলো ফেলে ঘরের মেঝেটা আবার দেখতে লাগল। যে জায়গায় দেওয়াল থেকে ছবিটা মেঝেতে পড়েছিল তার চারিদিকে কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে ইতস্তত।

    দেওয়ালের গায়ে যেখানে ছবিটা টাঙানো ছিল কিরীটী সেখানে আলো ফেলল, তারপর আবার ঘরের চারিদিকে অনুসন্ধানী আলো ফেলে মৃদুকঠে বললে, কতকটা যেন আত্মগত ভাবেই, আশ্চর্য! টুলটা দেখছি না–গেল কোথায়?

    কী বললেন মিঃ রায়? প্রশ্নটা করলেন শতদলবাবুই।

    একটা টুল–

    টুল! বিস্মিত কণ্ঠে কথাটা উচ্চারণ করে কিরীটীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন শতদল।

    হ্যাঁ, টুল বা ঐ জাতীয় একটা কিছু– হ্যাঁ ভাল কথা, আপনার কাছে মজবুত তালা আছে শতদলবাবু?

    তালা! তা আছে বোধ হয়—

    নিয়ে আসুন। ঘরটা তালা দিয়ে রাখতে হবে।

    শতদলবাবু ঘর হতে নিষ্ক্রান্ত হয়ে গেলেন।

    কিরীটী হাতের আলোটা ততক্ষণে ভূপতিত ছবিটির উপরে ফেলেছে এবং আমাকে এবারে লক্ষ্য করে বললে, ছবির ফ্রেমটা কিসের তৈরী বলে মনে হয় সু?

    ছবি—মানে ঐ ছবির ফ্রেমটা?

    হ্যাঁ। চেয়ে দেখ ছবির ফ্রেমটা একটু যেন peculiar! ব্রোঞ্জ-জাতীয় কোন মেটালের তৈরী। এবং যেমন মজবুত তেমনি ভারি। ওয়াটার-কলার একটা ছবি ও তার কাঁচের ওজন এত বেশী হতে পারে না। ছবিটার যা-কিছু ওজন ওই ফ্রেমটার জন্যই। কথাগুলো বলে সহসা যেন অতঃপর কতকটা স্বগতোক্তির মতই আস্তে আস্তে বললে, কিন্তু কেন?

    কী বললি! প্রশ্নটা করলাম আমিই কিরীটীর মুখের দিকে তাকিয়ে।

    ভাবছি ছবির ফ্রেমটার কথাই। বিনা প্রয়োজনে এ জগতে কিছুই তৈরী হয় না, সু। ছবির ফ্রেমটাও নিশ্চয়ই ঐভাবে তৈরী করবার আর্টিস্টের কোন একটা উদ্দেশ্য ছিল।

    হয়তো ছবিটাকে মজবুত ও টেকসই করবার জন্যই।

    There you are! You are cent per cent right, সু।

    বাইরে এমন সময় পদশব্দ শোনা গেল।

    অবিনাশ একটা আলো হাতে ঘরের মধ্যে এসে প্রবেশ করল।

    হঠাৎ কিরীটী অবিনাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, পায়ে তোমার বুঝি চোট লেগেছে অবিনাশ?

    কিরীটীর আচমকা প্রশ্নে অবিনাশ যেন একটু চমকে থতমত খেয়ে বলে, আজ্ঞে?

    কেমন একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছ দেখছি কিনা। পায়ে চোট লেগেছে নাকি? বেশ মোলায়েম কণ্ঠে কিরীটী আবার শুধোয়।

    আজ্ঞে ঠিক খুঁড়িয়ে নয়, তবে জন্ম হতেই বাঁ পা-টা একটু খাটো কিনা, তাই একটু টেনে চলতে হয় চিরদিনই।

    শতদলবাবু এসে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন। হাতে তাঁর একটা ভারী পিতলের বড় তালা ও একটা চাবি।

    এই নিন তালা কিরীটীবাবু! তালা ও চাবিটা এগিয়ে দিল শতদল কিরীটীর দিকে।

    হ্যাঁ, দিন। কিরীটী তালা ও চাবি শতদলবাবুর হাত থেকে নিল, চাবি কি এই একটাই, না duplicate key আছে?

    আছে।

    সেটা কোথায়?

    ও-ঘরে চাবির রিঙে আছে। এনে দেব কি?

    না, থাক। চলুন বাইরে যাওয়া যাক।

    সকলে আমরা বাইরে এলাম। কিরীটী নিজ হাতে দরজায় তালাচাবি দিয়ে চাবিটা নিজের জামার পকেটে রেখে দিল, এটা আমার কাছেই রইল শতদলবাবু। ডুপ্লিকেট চাবিটাও আমাকে দেবেন।

    বেশ তো।

    তারপর হঠাৎ যেন কথাটা মনে পড়েছে এইভাবে আলো হাতে দণ্ডায়মান অবিনাশের দিকে ফিরে তাকিয়ে কিরীটী তাকেই প্রশ্নটা করলে, ভাল কথা অবিনাশ, আজ এই কিছুক্ষণ আগে সন্ধ্যার দিকে তুমি যখন আমাদের সদর দরজা খুলে দিতে গিয়েছিলে, বলেছিলে না, বড়বাবু মানে হরবিলাসবাবু, তোমাকে আমাদের আসবার কথাটা জানতে পেরেই সদর দরজাটা খুলতে পাঠিয়েছিলেন

    অ্যাজ্ঞে! মৃদুকন্ঠে অবিনাশ জবাব দিল।

    আমরা যখন এ-বাড়ির সদরে এসে বাইরে থেকে ঘণ্টার দড়ি নাড়া দিই, তুমি আর তোমার বড়বাবু, কোথায় ছিলে?

    আমি রান্নাঘরের দিকে ছিলাম—

    আর বড়বাবু?

    বড়বাবু রান্নাঘরের সামনে অন্ধকার বারান্দায় পায়চারি করছিলেন।

    হুঁ। ভুখনা কোথায় ছিল?

    সে তো রান্নাঘরেই ছিল। পূর্ববৎ মৃদুকণ্ঠে অবিনাশ জবাব দেয়, রান্না করছিল বোধ হয়।

    হুঁ। আচ্ছা তুমি যেতে পার। আলোটা এইখানেই রেখে যাও।

    অবিনাশ কিরীটীর নির্দেশমত হাতের হ্যারিকেনটা বারান্দায় নামিয়ে রেখে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

    একদৃষ্টে কিরীটী অবিনাশের গমনপথের দিকে তাকিয়ে ছিল।

    এবার আমিও স্পষ্ট লক্ষ্য করলাম, সত্যিই অবিনাশ যেন তার বাঁ পা-টা একটু টেনেটেনেই চলছে। যতক্ষণ অবিনাশকে দেখা গেল, কিরীটী একদৃষ্টে সেই দিকে তাকিয়ে রইল। ক্ৰমে অবিনাশ সিঁড়ি-পথে নেমে নিচের দিকে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যাবার পর কিরীটী শতদলের দিকে ফিরে তাকিয়ে প্রশ্ন করলে, একটা ব্যাপার কখনো লক্ষ্য করেছেন শতদলবাবু—আপনাদের ঐ পুরনো চাকর অবিনাশের চলাটা একটু defective! মানে চলবার সময় বাঁ পা-টা একটু টেনে টেনে চলে?

    কই, না? কখনো লক্ষ্য করিনি তো? শতদল জবাব দেয়।

    লক্ষ্য করেননি? আশ্চর্য!

    না, সত্যি লক্ষ্য করিনি। তবে সাধারণতঃ ও একটু আস্তেই যেন চলাফেরা করে বলে মনে হয়। শতদল বললে।

    চলুন আপনার ঘরে যাওয়া যাক। কিরীটী যেন তার নিজের দিক হতেই উত্থিত ক্ষণপূর্বের প্রশ্নটা অতঃপর এড়িয়ে গিয়ে শতদলবাবুর শয়নকক্ষের দিকে সবাগ্রে পা বাড়াল।

    সকলে এসে আমরা কিরীটীর পিছু পিছু শতদলবাবুর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলাম। এক কোণে একটা উঁচু, টুলের ওপরে সাদা ডোম-ঢাকা আলো জ্বলছে। সমস্ত ঘরটা কিন্তু তবু সমানভাবে আলেকিত হয়নি। ঘর। আকারে বড় হওয়ার দরুনই বোধ হয় একটিমাত্র আলোয় সমস্ত ঘরটিকে তেমনভাবে আলোকিত করতে পারেনি। ঘরের একটিমাত্র জানালা ছাড়া বাকি সব কয়টি জানালাই বন্ধ। এবং একটিমাত্র ঐ খোলা জানালাপথে হু হু করে সমুদ্রের হাওয়া ঘরের মধ্যে এসে প্রবেশ করছিল।

    কিরীটী ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে সর্বাগ্রে ঐ খোলা জানালাটার দিকে এগিয়ে গেল। আমিও কিরীটীকে অনুসরণ করে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।

    দূরে সম্মুখে দৃষ্টির সামনে যেন একটা দিগন্তপ্রসারী কৃষ্ণ চাদর আর কানে ভেসে আসে একটানা একটা চাপা গর্জন অন্ধকার ভেদ করে। কিরীটীর হাতে তখন শতদলবাবুর দেওয়া পাঁচ সেলের হান্টিং টর্চটা। তারই আলো সম্মুখের দিকে ফেলল কিরীটী।

    আলোর রশ্মিটা বহু দূর পর্যন্ত গেল—একেবারে এ-বাড়ির গেট পর্যন্ত।

    হাতের আলোটা বার কয়েক কিরীটী নীচে চারিদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল, তারপর আলোটা নিবিয়ে ঘুরে দাঁড়াল এবং শতদলের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল, আপনি তো বলছিলেন শতদলবাবু এ ঘরটা আপনার অনুপস্থিতিতে তালা দেওয়াই থাকে, তাই না?

    হ্যাঁ।

    আজও তালা দেওয়াই তো ছিল?

    না, বোধ হয় তালা দেওয়া ছিল না।

    ছিল না?

    না, এসেও দেখলাম একটু আগে টর্চটা নিতে এসে-ঘরের দরজাটা কেবল ভেজানোই আছে, তালা লাগানো নেই। কিন্তু আমার যতদূর মনে পড়ে, বিকালে বেরবার আগে যেন তালা দিয়েই গিয়েছিলাম। কী জানি, বোধ হয় তালা দিতে ভুলে গিয়েছি!

    চাবিটা কোথায় ছিল?

    আমার পকেটেই ছিল।

    আপনার এ-ঘরের তালার কোন duplicate চাবি তো নেই? কিরীটী আবার প্রশ্ন করে শতদলকে।

    আছে, সেও ঐ চাবির রিঙের মধ্যেই।

    দেখুন তো, রিঙের মধ্যে চাবিটা আছে কিনা? হ্যাঁ, ঐ সঙ্গে রিং থেকে স্টুডিয়োর ঘরের তালার duplicate চাবিটাও আমাকে খুলে দিন।

    কিরীটীর নির্দেশে শতদলবাবু ঘরের কোণে রক্ষিত একটা কাঠের ভারী চেস্ট ড্রয়ারের টানা খুলে তার ভিতর হতে অনেকগুলো চাবির গোছাসমেত একটা রিং বের করলেন। চাবির রিং থেকে প্রথমেই শতদল স্টুডিও-ঘরের তালার ড়ুপলিকেট চাবিটা খুলে কিরীটীকে দিলেন; তারপর এ-ঘরের তালার ডুপ্লিকেট চাবিটা রিঙের চাবির মধ্যে খুঁজতে লাগলেন। কিন্তু রিঙের সমস্ত চাবিগুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজেও প্রয়োজনীয় ডুপ্লিকেট চাবিটা খুঁজে পাওয়া গেল না।

    কী হল, চাবিটা নেই? আমি প্রশ্ন করলাম।

    আশ্চর্য, সত্যিই চাবিটা তো নেই দেখছি! বুঝতে পারছি না সুব্রতবাবু-পরশু তো যতদূর মনে পড়ছে দেখেছিলাম যেন রিঙের মধ্যে সে চাবিটা ছিল!

    যাক, ও নিয়ে আর মিথ্যে ব্যস্ত হবেন না শতদলবাবু। আমি পূর্বেই অনুমান করেছিলাম চাবিটা পাওয়া যাবে না। কথাটা বললে কিরীটীই।

    অনুমান করেছিলেন। বিস্মিত সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে তাকান শতদল কিরীটীর মুখের দিকে।

    হ্যাঁ। কিরীটীর কণ্ঠ হতে ছোট্ট সংক্ষিপ্ত জবাবটি উচ্চারিত হল।

    আমি আপনার কথা তো ঠিক বুঝতে পারলাম না মিঃ রায়।

    আপনিই হয়তো দু-চার দিনের মধ্যেই আমার কথার তাৎপর্যটা বুঝতে পারবেন, আমাকে আর কষ্ট করে বলতে হবে না শতদলবাবু। কিন্তু সেকথা থাক, আপনি যে একটু আগে কী একটা চিঠির কথা বলছিলেন, চিঠিটা একটিবার দেখতে পারি কি?

    নিশ্চয়ই। শতদলবাবু এগিয়ে গিয়ে ঘরের একটা দেওয়াল-আলমারি খুলে তার ড্রয়ার থেকে একটা সাদা বড় আকারের রঙ ও তুলির সাহায্যে চিত্র-বিচিত্র খাম বের করে এনে কিরীটীর হাতে দিলেন।

    কিরীটী শতদলবাবুর হাত হতে খামটা নিয়ে আলোর সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখতে লাগল। আমিও পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম।

    খামটার উপরে রঙের বাহার যেন চিত্র-বিচিত্র হয়ে উঠেছে। মানুষের মুখ হতে শুরু করে পশু-পাখি, ফল-ফল, লতা-পাতা কী যে নেই তার ঠিকানা নেই!

    অনেকক্ষণ ধরে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কিরীটী খামের উপরে আঁকা চিত্রগুলি দেখতে লাগল। খামের মুখটা খোলাই ছিল, অতঃপর তার ভিতর হতে একটা ভাঁজ-করা কাগজ টেনে বার করল।

    আলোর সামনে ভাঁজ খুলে কাগজটা মেলে ধরল।

    একটা চিঠিঃ চিঠির শীর্ষে ব্র্যাকেটের মধ্যে দুই লেখা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    Next Article বাঙালী হিন্দুর বর্ণভেদ – নীহাররঞ্জন রায়

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৫ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }