Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিরীটী অমনিবাস ৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত এক পাতা গল্প610 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৩ রায়পুর হত্যা-মামলা

    গত ৩১শে মে

    রায়পুর হত্যা-মামলা।

    অতীতের কয়েকটি পৃষ্ঠা। যেখানে এই হত্যা-রহস্যের বীজ অন্যের অলক্ষ্যে দানা বেঁধে উঠেছিল একটু একটু করে। অথচ কেউ বুঝতে পারেনি। কেউ জানতে পারেনি সেদিন।

    সে-সময়টা মে মাসের শেষের দিকটা। কলকাতা শহরে সেবার গ্রীষ্মের প্রকোপটা যেন একটু বেশীই। গ্রীষ্মের নিদারুণ তাপে শহর যেন ঝলসে যাচ্ছে।

    গ্রীষ্মের ছুটিতে কলেজ বন্ধ হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত নানা কারণে সুহাসদের রায়পুরে। যাওয়া হয়ে ওঠেনি। ব্যবস্থা সব হয়ে গেছে; আজ সন্ধ্যার পরে যে গাড়ি তাতেই সকলের রায়পুর রওনা হবার কথা।

    সুধীন আজ সকাল হতেই সুহাসকে তার সব জিনিসপত্র গোছগাছ করতে সাহায্য করছে।

    অতীতের সেই বিষাক্ত স্মৃতি, সুহাসের সংস্পর্শে এসে সুধীনের কাছে কেবলমাত্র স্মৃতিতেই আজ পর্যবসিত হয়েছে।

    সুধীন মনে মনে জানে মল্লিক-বাড়ির সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠতা মা আদপেই পছন্দ করবেন। হয়ত বা কেন, নিশ্চয়ই মা তার এই মল্লিক-বাড়ির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা শুনলে বিশেষ রকম অসন্তুষ্টই হবেন। মুখে তিনি কাউকেই কিছু কোনোদিন বলেন না বটে। তাও সে ভাল করেই জানে।

    সেই ছোটবেলা থেকেই সুধীন মাকে দেখে আসছে তো! সুধীন বা অন্য কারও যে কাজটা বা ব্যবহার মার মতের বিরুদ্ধে হয়, মা কখনও তার প্রতিবাদ করেন না। এমন কি একটিবারও সে সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন পর্যন্ত করেন না, কেন এমনটি হল? শুধু নির্বাক কঠিন দৃষ্টি তুলে একটিবার মাত্র অপরাধীর দিকে তাকান।

    পলকহীন মৌন সেই দৃষ্টি হতে যেন একটা চাপা অগ্নির আভাস বিচ্ছুরিত হতে থাকে। কিছুক্ষণ ঐরকম কঠিন ভাবে তাকিয়ে থেকে দৃষ্টি নামিয়ে নেন। কিন্তু তারপর প্রতি কাজের মধ্যে, প্রতিটি মুহূর্তে, সেই মৌন কঠিন দৃষ্টি যেন সর্বদা সঙ্গে সঙ্গে অনুসরণ করে ফেরে।

    একটা অস্বোয়াস্তি যেন নিরন্তর মনের মধ্যে কাঁটার মত খচ খচ করে বিঁধতে থাকে। এর চাইতে মা যদি কঠিন ভৎসনা করতেন, তাও বুঝি সহস্রগুণে ছিল ভাল।

    পিতাকে তো সুধীনের মনে পড়েই না, এবং মনে থাকবার কথাও নয়, কারণ যে বয়সে সুধীনের পিতা নিহত হন অদৃশ্য আততায়ীর হাতে, তখন সে শিশুই।

    শিশুকালের সেই স্মৃতি মনের কোণে কোনো রেখাপাতই করতে পারেনি। তবে ছোটবেলায়ও অনেকের মুখেই শুনেছে একটা দীর্ঘ ঋজু দেহ, অথচ বলিষ্ঠ, গোরাদের গায়ের মত টকে গৌরবর্ণ গায়ের রং। মাথার চুলগুলো কদমছাঁটে ছাঁটা, অত্যন্ত স্বল্পভাষী। পিতার কথা ও মার মুখ থেকে শুনেছিল, তাও মাত্র একটিবার। সেই শেষ এবং প্রথম। মনে হয়েছে সে বিষাদ-স্মৃতি মা যেন চিরটা কাল ইচ্ছে করেই সুধীনের কাছ থেকে লুকিয়ে গেছেন। কখনও আর জীবনে কোনো কারণে সে দুর্বলতা প্রকাশ হয়নি।

    সেবারে সে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে। কোনো দিনই জীবনে ও সেই দিনটির কথা ভুলবে না।

    ছুটিতে গ্রামে মামার বাড়ীতে এসেছে ও। ওর বেশ স্পষ্টই মনে পড়ে, ওর বাবার মৃত্যুতিথি সেদিন। মা চিরদিনই ঐ দিনটায় নিরন্থ উপবাস করেন।

    রাত্রি তখন বোধ করি দশটা হবে। বাইরে ঝম ঝম করে বৃষ্টি পড়ছে।

    ঘরের পিছনের আমগাছটা হাওয়ায় ওলটপালট হচ্ছে, মাঝে মাঝে ঘরের টিনের চালের ওপরে আমগাছের ডালপালাগুলো আছড়ে আছড়ে পড়ছে—তারই অদ্ভুত শব্দ। বৃষ্টির ধারা। অবিশ্রাম টিনের চালের ওপরে চটুপ করে শব্দ তুলছে।

    ও খাটের ওপর শুয়ে মোমবাতির আলোয় কি একখানা বই পড়ছিল। কখন এক সময় নিঃশব্দ পায়ে এসে মা ওর শয্যার পাশটিতে দাঁড়িয়েছেন, ও তা টেরও পায়নি। মা চিরদিন এত নিঃশব্দে চলাফেরা করেন, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও বোঝবার উপায় নেই।

    মার ডাকে ও মুখ তুলে তাকায়, সুধা! ওর মুখের দিকেই মা তাকিয়ে আছেন।

    করুণ ছায়ার মতই যেন মাকে ওর মনে হয়।

    ঈষৎ মলিন একখানি থানকাপড় পরা, মাথার ঘোমটা খসে পড়েছে কাঁধের ওপরে।

    রুক্ষ তৈলহীন চুলের গোছা কাঁধের দু-পাশ দিয়ে এসেছে নেমে গুচ্ছে গুচ্ছে।

    সারাদিন উপবাসে মুখখানা শুকিয়ে যেন ছোট ও মলিন হয়ে গেছে বাসী ফুলের মত।

    মোমবাতির নরম আলো মার নিরাভরণা ডান হাতখানির ওপরে এসে পড়ছে। এত করুণ ও বিষণ্ণ লাগছিল সেই মুহূর্তটিতে—তাড়াতাড়ি বইটি একপাশে রেখে শয্যার ওপরে সুধীন উঠে বসে, কিছু বলছিলে?

    মা একবার পাশটিতে এসে বসলেন, এখনও ঘুমোসনি?

    একটা বই পড়ছিলাম মা।

    একটা কথা তুই অনেকদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিস বাবা, কিন্তু জবাব দিইনি, আজ তোকে সেই কথাটা বলব।

    মা চুপ করে যান। যেন কিছুটা সংকোচ তখনও অবশিষ্ট আছে মনের কোণায় কোথাও মার।

    কি কথা মা? সুধীনের বুকের ভিতরটা যেন অকারণ একটা ভয়ে অকস্মাৎ টিপ্ টিপ করে কেঁপে ওঠে। মার আজকের এ চেহারার সঙ্গে ও পরিচিত নয় যেন।

    তোমার বাবার কথা। মা ক্ষীণ অথচ সুস্পষ্ট স্বরে বলেন।

    বাইরে একটা বাদল রাত্রির অশান্ত হাহাকার ক্রমেই বেড়ে ওঠে।

    একটা বন্দী দৈত্য যেন হঠাৎ ছাড়া পেয়ে হুঙ্কার দিয়ে ফিরছে দিকে দিকে।…তারই ভয়াবহ তাণ্ডব উল্লাস!

    সুধীন মোমবাতিটার দিকে তাকিয়ে আছে, বন্ধ দরজার মধ্যবর্তী সামান্য ফাঁক দিয়ে বাইরের ঝোড়ো হাওয়া এসে মাঝে মাঝে মোমবাতির শিখাটাকে ঈষৎ কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। মার মুখের ওপরে ডান দিকটায় মোমবাতির মৃদু আলোর সামান্য আভাস। মা বলতে লাগলেন। সেই করুণ হৃদয়দ্রাবী কাহিনী, আজও সে দিনটার কথা আমি ভুলতে পারিনি সুধী। তারও আগের রাত্রে এমনি ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল। কিসের যেন একটা অস্বোয়াস্তিতে সারাটা রাত আমি ঘুমোতে পারলাম না। যতবার দু চোখের পাতা বোজাই, একটা না একটা বিশ্রী দুঃস্বপ্ন দেখে তন্দ্রা ছুটে যায়। ভোরবেলাতেই শয্যা ছেড়ে উঠলাম, সারাটা রাত্রি ঘুমোতে পারিনি, শরীরটা বড় ক্লান্ত। বেলা দশটার সময় তোমার বাবার রক্তাক্ত, প্রায় দ্বিখণ্ডিত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহখানি নিয়ে এসে রাজবাড়ির সান-বাঁধানো উঠোনের ওপরে নামাল বাহকেরা। একটা সাদা রক্তমাখা চাদরে দেহটি ঢাকা আগাগোড়া। তোমার দাদামশাই রাজা রসময় মল্লিক বারান্দার ওপরে দাঁড়িয়েছিলেন; তাঁরই নীরব আদেশে কে একজন যেন এগিয়ে গিয়ে মৃতদেহের ওপর থেকে চাদরটা সরিয়ে নিলে। সে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ ও প্রায় দেহচ্যুত ক্ষতবিক্ষত মস্তকটি দেখে তোমার পিতা বলে আর তাঁকে চেনবারও তখন উপায় ছিল না। আমি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম। তিনদিন পরে যখন জ্ঞান হল, চেয়ে দেখি তুই তোর মামার কোলে বসে, আমাকে ঠেলা দিয়ে ডাকছিস মা মা বলে।

    মা চুপ করলেন, চোখের কোলে সুস্পষ্ট অশ্রুর আভাস—মোমবাতির আলোয় চিকচি করছে।

    বাইরে তেমনি বৃষ্টির শব্দ, দৈত্যটা তেমনি হুঙ্কার দিয়ে ফিরছে একটানা।

    ইতিমধ্যে মোমবাতিটা ক্ষয়ে ক্ষয়ে প্রায় তলায় এসে পৌঁছেছে।

    ।ঘরের ভিতরে মৃত্যুর মত একটা অস্বাভাবিক স্তব্ধতা। বুকের ভিতরটা যেন কেমন খালি খালি মনে হয়।

    মা আবার বলতে লাগলেন, তার পরদিনই, এইটুকু তোকে বুকে করে চলে এলাম দাদার আশ্রয়ে। কিন্তু মনে আমার শান্তি মিলল কই? কতদিন ঘুমের ঘোরে দেখেছি, তাঁর অতৃপ্ত দেহহীন আত্মা যেন আমার চারিদিকে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি জানি এর মধ্যে কোথাও একটা কূটচক্রীর চক্রান্ত আছে। ভুলিনি আমি কিছুই। সেদিন হতেই বুকের মধ্যে দিবারাত্র জ্বলছে তুষের আগুন। আর এও জানি, চিতায় না শোয়া পর্যন্ত এ আগুন কোনো দিন আর নিভবে না।

    তোকে আমি ঠিক বোঝাতে পারব না বাবা, সে ব্যথা যে কত বড় দুঃসহ ও মর্মান্তিক! এতদিন তোকে আমি এ-কথা বলিনি, কেবল নিজের বুকের মধ্যে চেপে চেপে গুমরে মরেছি, কিন্তু এখন তুই বড় হয়েছিস বাবা, এ কথা হয়ত তুই কানাঘুষায় শুনেছিসও, কিন্তু বু আমাকে প্রশ্ন করিসনি। আর তোর কাছ থেকে চেপে রাখা উচিত নয় বলেই আজ তোকে সবই বললাম, যারা এতবড় মর্মান্তিক অভিশাপ আমার ওপরে তুলে দিয়েছে তাদের যেন তুই ক্ষমা করিস না।

    মা চুপ করলেন। এরপর সেরাত্রে মা ও ছেলে কেউই ঘুমোতে পারেনি। কারও চোখের পাতাতেই ঘুম আসেনি। ঐ মাত্র একটি দিনই মার মুখে সুধীন শুনেছিল বাবার কথা,আর কোনোদিনই শোনেনি।

    সেই ঝড়জলের রাত্রি ছাড়া আজ পর্যন্ত ও সম্পর্কে মা আর ওকে কোনো কথাই বলেননি। এবং সেদিন মার ঐ কাহিনীর মধ্য দিয়েই সুধীন বুঝেছিল, মল্লিক-বাড়ির প্রতি কী অবিমিশ্র। ঘৃণা ও ক্রোধ আজও তার মার সমগ্র বুকখানাকে ভরে রেখেছে!…

    নিষ্ফল আক্রোশে অহনিশি মার মনে কী দুবার দ্বন্দ্ব! এবং সেইদিন থেকে সে নিজেও মল্লিক-বাড়ির যাবতীয় স্পর্শকে বাঁচিয়ে এসেছে কতকটা ইচ্ছে করেই যেন এবং মনের মধ্যে বরাবর পোষণ করে এসেছে একটা তীব্র ঘৃণা। অলক্ষ্যে বসে বিধাতা হয়ত হেসেছিলেন, তাই পিতার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মাতুলগোষ্ঠীর যে যোগসূত্রটা চিরদিনের মত ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছিল, সেই ছিন্নসূত্র ধরে দীর্ঘদিন পরে টান পড়ল সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ব্যাপারটা ঘটেছিল সুধীনেরই ফোর্থ ইয়ারে মেডিকেল কলেজে পড়বার সময়। একদিন রাত্রে আউটডোরে সুধীন যখন ডিউটি দিতে ব্যস্ত এমন সময় খেলার মাঠ থেকে মাথায় পট্টি বেঁধে সুহাস আউটডোরে এল।

    রুগ্ন লম্বা ধরনের ছেলেটি। কৈশোরের সীমা পেরিয়ে সবে তখন যৌবনে পা দিয়েছে সে। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ গায়ের রং, বাঁশীর মত টিকালো নাসা, ফোঁটা ফুলের মতই সুন্দর ঢলঢল মুখখানি। ঠোঁটের ওপরে সবে গোঁফের রেখা দেখা দিয়েছে। দেখলেই যেন মনে জাগে একটা স্নেহের আকর্ষণ।

    খেলার মাঠে বিপক্ষ দলের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় ক্রমে বচসা হতে হতে হাতাহাতি ও মারামারিতে পরিণত হয়। ডানদিককার কপালে প্রায় দুই ইঞ্চি পরিমাণ একটি ক্ষত-চিহ্ন।

    বাড়িতে মার কাছে বকুনি খাওয়ার ভয়ে সুহাস গাড়ি নিয়ে সোজা ময়দান থেকে একেবারে মেডিকেল কলেজে চলে এসেছে ড্রেসিং করাতে।

    সুধীন গোটাতিনেক স্টি দিয়ে পট্টি বেঁধে দিল।

    এবং সেই সূত্রে ইমার্জেন্সি রুমেই দুজনের মধ্যে প্রথম আলাপের সূত্রপাত হল। ক্রমে সেই সামান্য আলাপকে কেন্দ্র করে গভীর হয়ে উঠতে লাগল পরস্পরের সৌহার্দ্য। এত মিশুঁকে সুহাস যে দু-চার দিনেই সুধীনকৈ আপন করে নিতে তার কোনো কষ্টই হয়নি। এবং সবচাইতে মজা এই যে, তখনও কিন্তু সুধীন সুহাসের আসল পরিচয়টুকু জানতে পারেনি।

    ক্রমে আরও দেখা-সাক্ষাৎ আলাপ-আলোচনার ভিতর দিয়ে দুজনের মধ্যে যখন একটা বেশ মিষ্ট ঘনিষ্ঠতা জমে উঠেছে, সেই সর্বপ্রথম সুধীন হঠাৎ একদিন কথাবার্তার মধ্য দিয়ে জানতে পারল সুহাসের আসল ও সত্যকারের পরিচয়টা কি। এবং সুহাস যে তাদের চিরশত্রু রায়পুরের রাজবাড়িরই ছোট কুমার এ-কথাটা ভাবতে গিয়ে অকস্মাৎ সেদিন কেন যেন বুকের ভিতর তার হঠাৎ কেঁপে উঠল।

    এবং সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গিয়েছিল সেদিন সুধীনের মার মুখে এক ঝড়-জলের রাত্রে শোনা সেই অভিশপ্ত কাহিনী।

    মৃদু মোমবাতির আলোয় মার সেই অদ্ভুত শান্ত কঠিন মুখখানা আজও যেন ঠিক বুকের মাঝখানটিতে একেবারে দাগ কেটে বসে আছে। স্পষ্ট করে কোনো কথা না বললেও মা যে ঠিক সেরাত্রে অতীতের সেই একান্ত পীড়াদায়ক কাহিনী শুনিয়ে ছেলেকে কি বলতে চেয়েছিলেন, সুধীন তার জবাবে কোনো কিছু না বললেও মার কথার মর্মার্থটুকু বুঝতে তার কষ্ট হয়নি।

    কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, ঘটনা যতই মর্মপীড়াদায়ক ও মর্মন্তুদ হোক না কেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংবই ছিল না, এবং ঘটনাকে উপলব্ধি করবার মত তার সেদিন বয়সও ছিল না। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মনের মধ্যে কোনো প্রতিহিংসার স্পৃহাই যেন সুধীনের কোনো দিন জাগেনি। যে পিতাকে সে জানবার বা বোঝবার কোনো অবকাশই জীবনে পায়নি, যার স্মৃতিমাত্রও তার মনের মধ্যে কোনো দিন দানা বেঁধে উঠতে পারেনি, তার হত্যা-ব্যাপারে নিছক একবারে কর্তব্যের খাতিরে নিজেকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তুলতে কোথাও যেন তার রুচি ও বিচারে বরাবরই বেধেছে। তাই সুহাসের সঙ্গে ভাল করে ঘনিষ্ঠতার পর যেদিন প্রথম সে সুহাসের সত্যিকারের আসল পরিচয়টুকু জানতে পারলে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েই পড়েছিল।

    এবং একান্তভাবে মার কথা ভেবেই সে তারপর আপ্রাণ চেষ্টা করে সুহাসকে এড়িয়ে চলবার জন্যে।

    কিন্তু মুশকিল বাধল তার সরলপ্রাণ মিশুঁকে সুহাসকে নিয়েই, কারণ সুহাস ঐ ব্যপারের বিন্দুবিসর্গও জানত না। তাই সুধীন তাকে এড়িয়ে চলতে চাইলেও সুহাস তাকে এড়িয়ে যেতে দিত না, সে পূর্বের মতই যখন তখন সুধীনের বাসায় এসে হাসি গল্পে আলোচনায় সুধীনকে ব্যস্ত করে তুলতে লাগল দিনের পর দিন এবং বন্ধুত্ব ও আলাপের জেরটা টেনে সুদৃঢ় করে তুলল যেন আরও।

    সুধীনের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

    ঘনিষ্ঠতা দুজনের মধ্যে ক্রমেই বেড়ে ওঠে, এমন কি দু-তিনবার সুধীন মার অজ্ঞাতেই রায়পুর গেল।

    প্রথমটায় সে অনেকবার চেষ্টা করেছে মার কাছে সব খুলে বলবার জন্য কিন্তু যখনই সেই বিস্মৃত কাহিনী ও সেরাত্রের মার মুখের সেই কঠিন ভাব মনে পড়েছে, ও সংকুচিত হয়ে পিছিয়ে এসেছে।

    মার কাছে আর কোনো দিন বলাই হল না।

    ***

    সেদিন আসন্নবর্তী রায়পুর যাত্রার জন্য আবশ্যকীয় জিনিসপত্র গোছাতে গোছাতে সুধীন ও সুহাসের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছিল।

    সুহাস বলছিল,আজ আর তোমাকে আমি ছাড়ছি না সুধীদা। আজ সন্ধ্যার পরে একেবারে আমাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে তবে কিন্তু তোমার ছুটি।

    কিন্তু আমার হাতে যে ভাই দুটো কে আছে, দুপুরে একবার রোগী দুটি দেখে আসতেই হবে।

    বেশ, ড্রাইভারকে বলে দেব, আমার গাড়ি নিয়ে রোগী দেখেই আবার চলে আসবে এখানে, দুজনে একসঙ্গে আজ দুপুরে খাব। আবদার করে সুহাস বলে।

    সুধীন হাসতে হাসতে জবাব দেয়,বেশ, তাই হবে।

    সন্ধ্যার ঠিক একটু পরেই সকলে স্টেশনে এসে পৌঁছল। গাড়ি ছাড়বে রাত আটটায়।

    সঙ্গে সুহাসের মা মালতী দেবী, সুহাসের দাদা সুবিনয়, সুবিনয়ের একমাত্র ছেলে প্রশান্ত, স্টেটের ম্যানেজার সতীনাথবাবু, এঁরাও সকলেই চলেছেন রায়পুর।

    স্টেশনে অসম্ভব ভিড়। সুহাসের পাশে পাশেই চলেছে সুধীন।

    ফার্স্ট ক্লাস কুপে একটা রিজাত করা হয়েছে।

    সুহাসের মা মালতী দেবী একবার বলেছিলেন, আজ অমাবস্যা, আজ রওনা না হলেই হত।

    হ্যাঁ! তোমাদের মেয়েদের যেমন! আজ অমাবস্যা, কাল দিকশূল, পরশু অশ্লেষা! যত সব! এত করলে বাড়ির বার হওয়াই দায়রাগত স্বরে সুবিনয়বাবু প্রতিবাদ করেন।

    কি জানি, মনটা যেন খুঁতখুঁত করছে। সেবারে এরকম অদিনে গিয়েই সুহাসের টিটেনাস হল। মালতী দেবী মৃদু স্বরে বলেন। জ্যেষ্ঠ পুত্রের কোনো কাজে প্রতিবাদ জানাতেও তাঁর ভয় করে।

    স্টেশনের গেট দিয়ে ঢোকবার সময় আগে সুহাস, তার ডানদিকে সুধীন, পিছনে সুবিনয়বাবু,—বিশ্রী রকম ভিড়, ঠেলাঠেলি চলেছে, সুহাস কোনোমতে গেট দিয়ে প্ল্যাটফরমে ঢুকতে যাবে, পাশ থেকে একটি কালো মোটা গোছের লোক, বগলে একটা নতুন ছাতা, একপ্রকার সুহাসকে ধাক্কা দিয়েই যেন প্ল্যাটফরমে ঢুকে গেল! এবং কতকটা সঙ্গে সঙ্গে সেই ছাতাওয়ালা লোকটার ধাক্কা খেয়ে উঃ করে অর্ধস্ফুট যন্ত্রণাকাতর একটা শব্দ করে ওঠে সুহাস।

    কি হল? সুধীন ব্যথভাবে প্রশ্ন করে সুহাসকে।

    সুহাস ততক্ষণে কোনোমতে ধাক্কা খেয়ে প্ল্যাটফরমের মধ্যে এসে ঢুকেছে, তার সঙ্গে সঙ্গে সুধীন ও সুবিনয়। সুবিনয়ও এগিয়ে আসে, কি হল!

    ডান হাতের উপরে কি যেন ছুঁচের মত একটা ফুটল। উঃ—এখনও জ্বালা করছে! লংক্লথের পাঞ্জাবির উপরেই সুহাস ব্যথার জায়গাটিতে কতকটা অজ্ঞাতসারেই যেন নিজে নিজে হাত বোলায়।

    দেখি!… সুবিনয় সুহাসের পাঞ্জাবির হাতাটা তুলে ব্যথার জায়গাটা বেশ করে টিপে টিপে মালিশ করে দিতে দিতে বলে, কিছু না। বোধ হয় কিছুতে খোঁচা লেগেছে। ও এখুনি ঠিক হয়ে যাবেখন, একটু সাবধান হয়ে চলতে ফিরতে হয়—তোমরা যেমন ব্যস্তবাগীশ!

    জায়গাটা কিন্তু অসম্ভব জ্বালা করছে! মৃদুস্বরে পুনরায় কথাটা বলতে বলতে সুহাস আবার জায়গাটায় হাত বোলাতে থাকে।

    এরপর সকলে নির্দিষ্ট কামরায় এসে উঠে বসে।

    কথায় কথায় তখনকার মত আপাততঃ সমস্ত ব্যাপারটা একসময় চাপা পড়ে যায়।

    সুধীন ট্রেনের কামরার বাইরে জানালার উপরে হাত রেখে সুহাসের সঙ্গে তখন মৃদুস্বরে কথাবার্তা বলছিল।

    গাড়ি ছাড়বার আর মাত্র মিনিট দশেক বাকি আছে।

    প্রথম ঘণ্টা পড়ল।

    হাতটা এখনও জ্বালা করছে সুধীদা! মৃদস্বরে সুহাস বলে।

    কই দেখি? সুধীনের প্রশ্নে সুহাস পাঞ্জাবির হাতাটা তুলে জায়গাটা দেখাল এতক্ষণে।

    ট্রাইসেপ্স মাস্‌লের উপর একটা ছোট্ট রক্তবিন্দু। খানিকটা জায়গা লাল হয়ে সামান্য একটু ফুলে উঠেছে, তখন সুধীন দেখতে পায়।

    সুধীন বললে, একটু আয়োডিন দিতে পারলে ভাল হত। যাক্ গে— কিছুই হয়ত করতে হবে না। কালই হয়তো সেরে যাবে।

    কি করে যে কি হল ঠিক যেন বুঝতে পারলাম না। তাড়াতাড়িতে মনে হল যেন কি একটা ছুঁচের মত বিধেই আবার বের হয়ে গেল—সুহাস মৃদু ক্লিষ্ট স্বরে বললে।

    সুহাসের ঠিক পাশেই মালতী দেবী বসে, মুখখানা তাঁর বেশ গম্ভীর। মৃদু স্বরে তিনি বললেন, অমাবস্যা, তখনই বলেছিলাম। আজ না বের হলেই হত। কিন্তু তোদর সব আজকালকার সাহেবীয়ানা।…এখন ভালয় ভালয় পৌঁছতে পারলে বাঁচি।

    ট্রেন ছাড়বার শেষ ঘণ্টা পড়ে।

    যতক্ষণ গাড়ির জানলাপথে দেখা যায়, সুহাস তাকিয়ে থাকে, সুধীনও প্লাটফরমের ওপরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রুমালটা ওড়াতে থাকে।

    ক্রমে একসময় চলমান গাড়ির পশ্চাতের লাল আলোটা অন্ধকারের মধ্যে হারিয়ে যায়।

    সুধীন গেটের দিকে অগ্রসর হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    Next Article কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৫ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }