Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিরীটী অমনিবাস ৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত এক পাতা গল্প610 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.১৪ কিরীটীর চিঠি

    মালতী দেবীরপত্রখানা পড়ে শেষ করে জাস্টিসমৈত্র আবার কিরীটীর পত্রটি পড়তে লাগলেন।

    মালতী দেবীর চিঠিখানা আগাগোড়া পড়লে এ হত্যা-মামলার অনেক কিছুই দিনের আলোর মত আপনার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। বেচারী মালতী দেবী! এখন বোধহয় বুঝতে পারছেন, ডাঃ সুধীনের ব্যাঙ্ক-ব্যালান্সের মোটা অঙ্কটা কোথা হতে সংগৃহীত হয়েছিল এবং কেনই বা সে ইচ্ছাকৃত অস্বীকৃতি দিয়ে নিজেকে বিপদগ্রস্ত করেছিল? ধনুর্বাণ খেলার ছলে সুবিনয় যখন সুহাসকে মারবার চেষ্টা করেন তীরের সঙ্গে বিষ মিশ্রিত করে, নিশানাথ সে-সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাই তিনি পাগলামির ঝোঁকে বলতেন—That child of the past! Again he started his old game! সতীনাথের হত্যার দিন আরও তিনি বলেছিলেন একটা কথা, পাগলের প্রলাপোক্তি বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, একটি দশ-এগারো বছরের কিশোর বালক—but the seed of the villainy was already in his heart! ধনুর্বাণ খেলার ছলে খেলার তীরের সঙ্গে কুঁচফলের বিষ মাখিয়ে তারই একজন খেলার সাথীকে মারতে গিয়েছিল, কিন্তু সব উল্টে গেল—বিষ মাখানোতীরটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে একটা গরুকে মেরে ফেললে। মালতী দেবীর চিঠি হতেও প্রমাণিত হয়, সেই কিশোর বালকটি কে। আর কেউ নয়—ঐ সুবিনয় মল্লিক। পাছে কথাটা প্রকাশ হয়ে পড়ে, তাই সুবিনয়ের বিচারে নিশানাথের পৃথিবী হতে অপসারণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তীরে এসে তরী ডোবানো যায় না, নিশানাথকে তাই মৃত্যুবাণ বুক পেতে নিতে হল। নির্মম ভাগ্যচক্র!

    মালতী দেবীর চিঠিতেও বুঝতে পেরেছেন এবং আমিও বলছি, সতীনাথ লাহিড়ীকেও মৃত্যুবাণ বুক পেতে নিতে হয়েছে এইজন্য যে সতীনাথ ছিল সুবিনয়ের সকল দুষ্কর্মের সাথী। তার হাতে অনেক প্রমাণই ছিল—এদের মিলিত পাপানুষ্ঠানের। সতীনাথের বেঁচে থাকাটা তাই আর সম্ভবপর হল না।

    কিন্তু সে-সব কথা যাক, আসুন আবার আমরা অতীতের ভুলে-যাওয়া-ঘটনার মধ্যে ফিরে যাই। আমরা জানি শ্রীকণ্ঠ মল্লিক নৃসিংহগ্রামের কাছারীবাড়িতে অদৃশ্য আততায়ীর হাতে নৃসংশভাবে নিহত হয়েছিলেন!

    কে সেই অদৃশ্য আততায়ী? আর কেনই বা তিনি এমন নিষ্ঠুরভাবে নিহত হলেন? রাজা যজ্ঞেশ্বরের হত্যাকারী তাঁরই পুত্র রত্নেশ্বর। এবং রত্নেশ্বরকে বিষপ্রয়োগে হত্যার প্রচেষ্টা করেন তাঁরই মধ্যম ও কনিষ্ঠ পুত্র সুধাকণ্ঠ ও বাণীকণ্ঠ মল্লিক। অবিশ্যি এটা আমার অনুমান মাত্র। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস দেখুন, রসময় যে মুহূর্তে আর পিতার কাছ থেকে ঝগড়ার সময় শুনল, তার বাপের নতুন উইল অনুযায়ী তিনি রায়পুরের একচ্ছত্র অধীশ্বর হতে পারবেন না, একটি অংশের মাত্র অধিকারী, তখুনি তিনি আর কালবিলম্ব না করে বাপকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করলেন। হয়ত কিছু আগে পরে ঐসময়েই অর্থের লোভে দাগী আসামী পলাতক শিবনারায়ণ রসময়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছিল। সুহাসের হত্যা-মামলা যখন আপনার কোটে চলতে থাকে তখনই সাক্ষীর কাঠগড়ায় একদিন শিবনারায়ণকে দেখে আমার মনে হয়েছিল তার মুখটা যেন কেমন চেনা-চেনা লাগছে। আমার যেন কেমন একটা দোষ আছে, বিশেষ কোন ব্যক্তির বিশেষ কোন মুখ একবার দেখলেই মনের ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সেটা আমি ধরে রাখি মনের মধ্যে। শিবনারায়ণের ছবিও মনের মধ্যে আমার ঠিক তেমনই গেঁথে গিয়েছিল। লালবাজারে ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চের অ্যালবামে খুঁজলে শিবনারায়ণের ছবিও দেখতে পাবেন, আমি সেটা ইতিমধ্যে মিলিয়ে নিয়েছি। তার আসল নাম পণ্ডিত চৌধুরী। বহুকাল আগে নোট জালের সাধু (?) প্রচেষ্টার মোকদ্দমায় সে একবার বিশ্রীভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীকালে কোনমতে সেই মামলা থেকে রেহাই পেয়ে সুবিনয় মল্লিককে কেমন করে যে তর করল বলতে পারব না, তবে অনুমান করছি হয়ত সুবিনয় মল্লিকই তাঁর যোগ্য সহচরটিকে খুঁজে নিয়েছিলেন বা শিবনারায়ণ নিয়েছিল খুঁজে। আরও একটা কথা—একবার তার সঙ্গে আমার প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়েছিল, কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে তাকে বাঁধতে পারিনি সেবার। সে গল্প আর একদিন আপনাকে বলব।

    আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে,আমি আগাগোড়াই বলে আসছি, রায়পুরের এই বিরাট হত্যার ব্যাপারে মূলে আছে—অর্থম অনর্থম! সুবিনয় মল্লিককে আপনি সাজা দিতে পারবেন কিনা জানি না, তবে এই বিরাট হত্যাযজ্ঞের অন্যতম প্রধান হোতা হচ্ছেন তিনিই—প্রথমে তাঁর পিতা রসময়কে হত্যা করানো শিবনারায়ণের সাহায্যে এবং তারপরে ডাঃ সুধীন চৌধুরীর পিতা সুরেন চৌধুরীকে হত্যা করবার চেষ্টা।

    কিন্তু কথায় বলে না, শয়তানেরও বাপ আছে! শিবনারায়ণ সুবিনয়ের উপর আর এক চাল চাললে। সুরেন চৌধুরীকে হত্যা না করে তাকে নৃসিংহগ্রামের পুরাতন প্রাসাদের এক গুপ্তকক্ষে গুম করে রাখে। এবং তার বদলে তৃতীয় একজন ব্যক্তিকে, যে শ্রীকণ্ঠ মল্লিকের হত্যার সময় শিবনারায়ণকে সাহায্য করেছিল, তাকে হত্যা করে এক ঢিলে দুই পাখি মারল।

    হত্যা করার পর মৃতদেহটি এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছিল যে তাকে আর চেনবার কোনও উপায় ছিল না। এমন কি দেহ হতে মস্তকটিকে একেবারে প্রায় দ্বিখণ্ডিত করে দেওয়ায় কেউ চিনতেই পারেনি আসলে নিহত ব্যক্তি সুরেন চৌধুরীই কিনা। অবিশ্যি তৎসত্ত্বেও একমাত্র যিনি চিনতে পারতেন তিনি সুধীনের মা, সুহাসিনী দেবী। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুসংবাদে তখনকার তাঁর মনের অবস্থা এমন ছিল যে, সে সময় সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখবার মত কোন ক্ষমতাই তাঁর তখন থাকতে পারে না। তিনি মৃতদেহ দেখেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান এবং জ্ঞান হবার পূর্বেই মৃতদেহ সরিয়ে ফেলা হয়। লোক জানল সুরেন চৌধুরীই নিহত হয়েছেন।

    কিন্তু এখন কথা হচ্ছে, কেন শিবনারায়ণ সুরেন চৌধুরীকে হত্যা না করে গুম করে রেখেছিল দীর্ঘকাল ধরে! কিসের আশায়? আগেই বলেছি শিবনারায়ণ কী চরিত্রের লোক। দুটি কারণে শিবনারায়ণ সুধীন চৌধুরীকে গুম করে রেখেছিল হত্যা না করে। প্রথমত সত্যিই যদি কোনোদিন কোনো কারণে তার কীর্তিকলাপ অন্যের চক্ষে ধরা পড়েও, সে অনায়াসেই গুপ্তকক্ষ থেকে সুরেনকে এনে সাফাই গাইতে পারবে। এবং দ্বিতীয়ত সুরেন চৌধুরী তার হাতে থাকলে, সেই সঙ্গে সুবিনয় মল্লিকও তার হাতের মুঠোর মধ্যে থাকে এবং সহজেই ইচ্ছামত সুবিনয়কে দোহন করতে পারা যাবে। কখনো দোহন করতে করতে যদি সুবিনয় কোনোদিন কোনো কারণে বেঁকে বসেন, তাহলে সে-মুহূর্তে শিবনারায়ণ অনায়াসেই তার গুপ্ত বাণ (সুরেন চৌধুরী যে আসলে নিহত হয়নি) সুবিনয়ের প্রতি প্রয়োগ করতে পারবে। ক্রিমিন্যালদের সাইকোলজি বড় অদ্ভুত, না! এখন কথা হচ্ছে, এই গোপন ব্যাপার আর কেউ জানত কিনা? হ্যাঁ জানত, একজন জানত। সে আমাদের হারাধনের পৌত্র জগন্নাথ মল্লিক। চমকে উঠছেন, না? সত্যি চমকাবারই কথা।

    তাহলে এবারে আমাদের নাটকের চতুর্থ অঙ্কে আসা যাক। আগেই বলেছি, এই চিঠির মধ্যে নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে, নিলোভ হারাধনের পৌত্র জগন্নাথ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির। যে রক্ত পিতামহ সুধাকণ্ঠের শরীরে ছিল, সেই রক্তই প্রবাহিত হচ্ছে জগন্নাথের শরীরের প্রতি শিরা ও ধমনীতে। এবং জগন্নাথ সেই দৃষিত রক্তের ডাকেই সাড়া দিয়েছে। হয়তো বলবেন, হারাধন ও জগন্নাথের পিতার শরীরেও তো সেই রক্তধারাই প্রবাহিত হচ্ছিল, কিন্তু তাঁর তো রক্তের ডাকে সাড়া দেননি! এবং তাঁদেরই ছেলে জগন্নাথ তবে কেন এ পথে এল? তার জবাবে আমি বলব, অনেক বংশে, কেউ পাগল থাকলে, পরবর্তী পুরুষে অনেক সময় সেই পাগলামি আবার ফিরে যেমন আসে এবং হয়ত মাঝখানে দু-একটা পুরুষ বাদ। যায়—এর বেলাতেও হয়ত তাই হয়েছে। জেনেটিকস-এ তাই বলে। যা হোক, যে লোভ হারাধন বা তাঁর ছেলেকে বিচলিত করতে পারিনি, সেই লোভের আগুনেই জগন্নাথ তার হাত দুটি পোড়াল। জগন্নাথকে প্রথম আমি কবে কেমন করে সন্দেহ করি, জানেন? রায়পুরে গিয়ে হারাধনের ওখানে যখন দুদিন কাটাই সেই সময়ে। লেখাপড়ায় জগন্নাথ ছেলেটি অত্যন্ত চৌকশ। হারাধনের মুখেই একদিন শুনেছিলাম, ছোটবেলা থেকেই একবার পড়বার বই পেলে জগন্নাথ আর কিছুই চাইত না। সেই জগন্নাথ হঠাৎ এম. এ. পড়তে পড়তে পড়াশুনা একদম ছেড়ে দিয়ে তার দাদুর অসুখের অজুহাত নিয়ে রায়পুরে এসে বসল। আর একটা জিনিস, জগন্নাথের সঙ্গে রায়পুরের স্টেট সংক্রান্ত কোনো কথাবার্তা বললেই বোঝা যায়, কি প্রচণ্ড একটা ঘৃণা সে পোষণ করে রায়পুর স্টেট ও তৎসংক্রান্ত লোকদের ওপরে।

    জগন্নাথ শিক্ষিত ও মার্জিত রুচিসম্পন্ন উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ যুবক। মানুষের মনে যে ঘৃণার উদ্রেক হয় তা অনেক কারণে হয়, তার মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হচ্ছে, প্রথমত কোন কারণবশত হয়ত আপনাকে আমার একেবারেই পছন্দ নয়, আপনি নীচ ও জঘন্য প্রকৃতির, আমার সমকক্ষ একেবারেই নন—আপনার প্রতি সহজেই আমার একটা ঘৃণা জন্মাবে। দ্বিতীয়ত আমি আপনার সমকক্ষ নই, আমার সকল প্রকার ধরা-ছোঁয়া ও নাগালের বাইরে আপনি, অথচ সর্বদা আমি অনুভব করছি, আমাদের পরস্পরের মধ্যে যে বৈষম্য, সেটা নিছক ভাগ্যদোষে হয়েছে। আপনি আমার চাইতে কোনো অংশে শ্রেষ্ঠ নন—তথাপি আপনার নাগাল পাবার আমার উপায় নেই। এবং এই যে ব্যর্থতা সর্বদা আমায় পীড়ন করছে, এই ব্যর্থতা হতেই ক্রমে আপনার প্রতি আমার একটা ঘৃণার ভাব আসতে পারে এবং তখন কেবল এই কথাটাই আমি ভাবব, আমাদের পরস্পরের মধ্যে যদি কোনো পার্থক্যই হওয়া উচিত নয়, তথাপি আপনি আমার নাগালের বাইরে। এ অবিচার, এ অন্যায়। এই ধরনের ঘৃণা হতে অনেক সময় মানুষ ঘৃণার ব্যক্তিকে খুন পর্যন্ত করতেও পশ্চাৎপদ হয় না। জগন্নাথের অন্তরে এই দ্বিতীয়োক্ত ঘৃণাই প্রবল হয়ে উঠেছিল রায়পুরের রাজবাটীর সকলের বিরুদ্ধে।

    হারাধনের মুখেই আমি শুনেছি, বর্তমানে হারাধনের যা সঙ্গতি আছে, তাতে সহজভাবে জগন্নাথের জীবন চলে যেতে পারে। কিন্তু জগন্নাথের মনে ছিল আরও উচ্চাশা। আমি আরও জানতে পেরেছি, ভাগ্যক্রমে নয়ই বরং বলা চলতে পারে একান্ত দুভাগ্যক্রমে, মৃত ছোট কুমার সুহাসের সঙ্গে একই কলেজে একই শ্রেণীতে জগন্নাথ পড়ত। লেখাপড়ায় সুহাসের চাইতে জগন্নাথ অনেক শ্রেষ্ঠ ছিল। অথচ সুহাসের পক্ষে যে প্রাচুর্যতা সম্ভবপর ছিল, জগন্নাথের পক্ষে সেটা ছিল দুঃসাধ্য। কারণ হারাধনের এত পয়সা নেই যে জগন্নাথকে সুহাসের মত সমানভাবে মানুষ করেন। সুহাসের বিলাত যাওয়ার সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু জগন্নাথ হারাধনের কাছে সে প্রস্তাব করায়, হারাধন স্পষ্টই তার অসামর্থ্যের কথা জানিয়ে দেন। কোনো একদিন গল্পের ছলে হারাধন জগন্নাথকে শ্ৰীকণ্ঠের উইলের কথা বলেছিলেন। সেই গল্প শোনার পর হতেই হয়ত জগন্নাথের অবচেতন মনে একটা প্রবল ঘৃণা জন্ম নেয়। এবং হয়ত মনে হয়েছে, তার সৌভাগ্যক্রমে আজ যে বস্তুটা পেয়ে সুহাস ভাগ্যবান, দুর্ভাগ্যক্রমে তা হতে বঞ্চিত হয়ে জগন্নাথ নিজে ব্যর্থ ও ভাগ্যহীন। এবং ক্রমে যত দিন যেতে থাকে, নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে সেটা জগন্নাথের মনে আরো প্রকট হয়ে উঠতে থাকে। সেই অবিশ্রাম ঘৃণার ছিদ্রপথেই জগন্নাথের দেহে শনি প্রবেশ করে। যে অর্থে সম্ভাবনা তার হাতে এসেও ফসকে গেছে দুর্ভাগ্যক্রমে, সেই অর্থকে করায়ত্ত করবার জন্য সে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। গোপনে সে নৃসিংহগ্রামে গিয়ে সেইখানকার পুরাতন ভৃত্য দুঃখীরামকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে হাত করে।

    সুরেন চৌধুরী যে নৃসিংহগ্রামের কাছারী-বাড়ির গুপ্তকক্ষে শিবনারায়ণের হাতে বন্দী হয়ে আছে সে সংবাদ দুঃখীরাম অর্থের বিনিময়ে জগন্নাথকে সরবরাহ করে। ধূর্ত জগন্নাথ তখন আর এক চাল চালে। সুবিনয় মল্লিককে সেই সংবাদ দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করতে মনস্থ করে। এবং তার পূর্বে সেই সংবাদের সত্য-মিথ্যা যাচাই করবার জন্যই জগন্নাথ নৃসিংহগ্রামে গিয়ে হাজির হয়। দুর্ভাগ্যবশত আমার নির্দেশমত সুব্রত তখন নৃসিংহগ্রামে উপস্থিত এবং সেও তখন সুরেনের অস্তিত্ব গুপ্তকক্ষে টের পেয়েছে।

    জগন্নাথকে গুপ্তকক্ষের দরজার সামনে ছেড়ে দিয়ে দুঃখীরাম বিদায় নেয়। সুব্রত গুপ্তকক্ষে উপস্থিত। জগন্নাথকে নৃসিংহগ্রামে কাছারী-বাড়ির গুপ্তকক্ষে দেখে সুব্রত বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। ঠিক সেই সময়ে শিবনারায়ণও সেই কক্ষে গিয়ে প্রবেশ করল। ভেবে দেখুন নাটকের কত বড় ক্লাইমেক্স!

    কূটচক্রী শিবনারায়ণ জগন্নাথকে অমনি আকস্মিকভাবে পাতালঘরে আবির্ভূত হতে দেখে কি ভেবেছিল তা সে-ই জানে, তবে সুব্রতর জবানীতে সেই মুহূর্তে শিবনারায়ণের কথা শুনে এইটেই মনে হয় যে, ব্যাপারটা শিবনারায়ণেরও ধারণার অতীত ছিল।

    ধূর্ত শিবনারায়ণ সহসা ঐ মুহূর্তে জগন্নাথকে দেখে হয়ত ভেবেছিল, জগন্নাথ সুবিনয়েরই নিযুক্ত চর। এবং ঐ সময়কার শিবনারায়ণের কথাবার্তা শুনে মনে হয়, জগন্নাথের আসল পরিচয়ও যেমন সে জানত না, তেমনি জগন্নাথের ঐভাবে ঐ ঘরের মধ্যে আবির্ভাবের উদ্দেশ্যটাও বুঝে উঠতে পারেনি। চোরের মন বোঁচকার দিকেই থাকে সর্বদা, এতে আশ্চর্য হবার তেমন কিছুই নেই। ব্ল্যাকমেল করে দীর্ঘকাল ধরে শিবনারায়ণও যে সুবিনয়ের কাছ হতে কত টাকা নিয়েছে কে বলতে পারে! এতদিন সে নিশ্চিন্তই ছিল, কিন্তু হঠাৎ জগন্নাথকে দেখে মনে হয়েছিল হয়ত তার দিন ফুরিয়েছে।

    জগন্নাথ ঠিক কেন ঐরাত্রে পাতালঘরে গিয়ে প্রবেশ করে তা সঠিকভাবে বোঝ না গেলেও, একটা মীমাংসায় হয়তো অনায়াসেই আমরা আসতে পারি। সেটা হচ্ছে এই, জগন্নাথ নিশ্চয়ই জানত না সুব্রত পাতালঘরের সন্ধান পেয়েছে ইতিপূর্বে এবং সেখানে সুরেন চৌধুরীর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এবং এও হয়ত সে-কারণেই জানত না, ঠিক ঐ রাত্রে ঐ সময় শিবনারায়ণ ও সুব্রত পাতালঘরেই আছে। আমার ধারণা অবিশ্যি ভুলও হতে পারে, জগন্নাথ ঐ রাত্রে দুঃখীরামের সাহায্যে পাতালঘরে প্রবেশ করেছিল, সবার অলক্ষ্যে সুরেন চৌধুরীকে পাতালঘর থেকে সরিয়ে অন্যত্র কোথাও নিয়ে যাবার জন্য। এবং একবার সুরেন চৌধুরীকে সরিয়ে নিজের মুঠোর মধ্যে আনতে পারলে, তারপর সে নিশ্চিন্ত হয়ে নিজের প্ল্যান-মাফিক কাজ করতে পারবে।

    আমার ধারণা, এই বিচিত্র হত্যা-নাটকের চতুর্থ অঙ্কই হচ্ছে শ্রীমান জগন্নাথের প্ল্যান বা পরিকল্পনা। আপনি হয়ত জানেন, আমরা অনেক সময় আমাদের সৎপ্রণোদিত কাজের মধ্য দিয়েও অন্যের সর্বনাশ ডেকে আনি। এক্ষেত্রে রাজা শ্রীকণ্ঠ মল্লিকও তাই করেছিলেন।  পূর্বপুরুষের, বিশেষ করে জন্মদাতা পিতার অন্যায়ের প্রতিকারের জন্য তিনি পরবর্তী জীবনে যে শেষ উইলটি করেছিলেন, যার ফলে এতগুলো নির্মম হত্যা একটার পর একটা হয়ে গেল, সেই উইলই হল কাল।

    রাজা শ্রীকণ্ঠ মল্লিক যদি হত্যার কিছুদিন পূর্বে দ্বিতীয় উইলটি না করতেন, হারাধনের পৌত্র জগন্নাথকে এভাবে রায়পুরের মাকড়সার জালের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে হত না। আমার অনুমান মাত্র, কারণ জগন্নাথ আর ইহজগতে নেই। নির্মম নিয়তির অমোঘ বিধানে সে তার দুর্নিবার লোভের উপযুক্ত মাশুলই কড়ায়-গণ্ডায় বোধ হয় শোধ করে গেছে। নাহলে একবার ভেবে দেখুন, কী তার অভাব ছিল! তার পিতামহ হারাধন মল্লিক যা রেখে যেতেন মৃত্যুর পর, জগন্নাথের বাকি জীবনটা সুখে-স্বচ্ছন্দেই কেটে যেত। কোনো আর্থিক অভাবই তার হত না কোনোদিন। তাছাড়া তার ভাগ্যে যদি রায়পুরের সম্পত্তি-লাভ থাকতই, তবে মৃত্যুর পূর্বে রত্নেশ্বর ওভাবে তাঁর পুত্রদের বঞ্চিত করে যাবেনই বা কেন? যে ধনে তার সহজ দাবি ছিল, সে ধন হতে কেন সে বঞ্চিত হবে? তাই মনে হয়, এ বিধাতার অভিশাপ ছাড়া আর কি! তাই সন্তুষ্ট সে হতে পারল না এবং মরীচিকার পশ্চাতে ছুটে গেল। পিতামহের স্নেহের নীড় থেকে ছুটে গেল আলোকশিখালোভী পতঙ্গের মত; হতভাগ্য ছুটে গেল কোথায়–না নৃসিংহগ্রামের পাতালঘরে! ভেবে দেখুন লোভের কি নির্মম প্রায়শ্চিত্ত! কী করুণ মৃত্যু!

    অভিশপ্ত এই রায়পুর স্টেট ও তার বিশাল ধনসম্ভার। রাজা রত্নেশ্বর, রাজা রসময়, রাজা শ্রীকণ্ঠ, সুহাস মল্লিক, নিশানাথ মল্লিক, সতীনাথ লাহিড়ী, জগন্নাথ মল্লিক একের পর এক নিষ্ঠুরভাবে নিহত হয়েছেন এবং শিবনারায়ণ আজ বদ্ধ উন্মাদ। রাজা সুবিনয়। ধর্মাধিকরণের বিচারের অপেক্ষায়। সত্যি এ ধরনের জটিল ও নৃশংস হত্যার মামলায় ইতিপূর্বে আমি হাত দিইনি জাস্টিস মৈত্র!

    জগন্নাথ পরিকল্পনা করেছিল হয়ত সুরেন চৌধুরীকে পাতালঘর থেকে উদ্ধার করে নিজের কাছে রেখে কৌশলে ভীতিপ্রদর্শন করে একই সঙ্গে রাজা সুবিনয় মল্লিক ও শিবনারায়ণের নিকট থেকে অর্থশোষণ করবে। একেবারে সাদা কথায় যাকে বলে black-mailing! এবং হয়তো অর্থশোষণ করাই তার ইচ্ছা ছিল, কেননা জগন্নাথ জানত সুবিনয়ের নিকট থেকে সম্পত্তির ভাগ পাওয়া সুদূরপরাহত। যে নিজের ভাইকেও, যাকে শিশুকাল হতে দেখে আসছে, ঐ সম্পত্তির জন্য অকাতরে খুন করতে পারে–আর যাই সে দিক সম্পত্তির ভাগ নিশ্চয়ই দেবে না! জগন্নাথের প্রয়োজন যখন অর্থের, তখন যে উপায়েই থোক অর্থ পেলেই হল— তা সে সম্পত্তি-প্রাপ্তির মধ্য দিয়েই হোক বা অন্য কোন পথে অর্থপ্রাপ্তির মধ্য দিয়েই হোক।

    এখন কথা হচ্ছে, জগন্নাথের হঠাৎকেন সন্দেহ হয় যে সুরেনচৌধুরী আজও মরেননি—বেঁচে আছেন এবং হয়ত নৃসিংহগ্রামের পুরাতন প্রাসাদেই কোথাও-না-কোথায়ও আছেন। আমার ধারণা জগন্নাথ কোনক্রমে ব্যাপারটা নৃসিংহগ্রামের কাছারীর শিবনারায়ণের ভৃত্য দুঃখীরামকে টাকা খাইয়ে তাকে হাত করেই জেনেছিল। এবং যখন সে-কথা সে জানতে পারল, তখন তার মত বুদ্ধিমান ছেলে সহজেই অনুমান করতে পেরেছে, কেন শিবনারায়ণ সুরেন চৌধুরীকে গুম করে রেখেছে ঐ নৃসিংহগ্রামের প্রাসাদের কোন এক গুপ্তকক্ষে। আরও বিশদভাবে ব্যাপারটা আপনাকে বুঝতে হলে এবার তাহলে কিছুক্ষণের জন্য আবার আমাকে নাটকের তৃতীয় অঙ্কে ফিরে যেতে হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    Next Article কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    Related Articles

    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১৩ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ১২ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৪ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    কিরীটী অমনিবাস ৫ – নীহাররঞ্জন গুপ্ত

    September 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }