Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অরণ্য-বিভীষিকা – ১১

    এগারো

    জমিদারের আর্তস্বর শোনা যেতেই পালকির দরজা খুলে গেল। গৌরবর্ণের এক প্রৌঢ়া মুখ বের করে জমিদারের অবস্থা দেখেই ডুকরে কেঁদে উঠল।

    পালকি থেকে জমিদার গড়িয়ে রাস্তার ওপর পড়েছে। গৈরিক বসন রক্তাপ্লুত। মুখটা আকাশের দিকে। দুটো চোখ বিস্ফারিত। অন্তিম যন্ত্রণায় ঠোঁটের দুটি প্রান্ত কুঞ্চিত।

    পলকের জন্য চিৎকারে আকৃষ্ট হয়ে তারা পালকির দিকে মুখ ফেরাল। ডাকাতের দলের দুজন মশাল নিয়ে পালকির কাছে দাঁড়িয়েছে। বাকি দুজন অর্থসংগ্রহে ব্যস্ত।

    সেই মশালের আলোয় তারা স্পষ্ট দেখতে পেল, প্রৌঢ়াও তার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রয়েছে। তারা একবার নিহত জমিদারের দিকে আর একবার প্রৌঢ়ার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়েই চিৎকার করে উঠল। তারপর ঝোপঝাড় ভেদ করে বিদ্যুদবেগে জঙ্গলের দিকে ছুটতে শুরু করল।

    মেঘা, সাধু, চৈতন, রতন সবাই কিছুক্ষণ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। একবার ভাবল পিছনে বোধহয় পাইক-বরকন্দাজের দল আসছে, কিন্তু এদিক-ওদিক চেয়েও কাউকে দেখতে পেল না। আবার ভাবল, তারার কি কোথাও চোট লেগেছে? তা-ই বা কী করে হবে? তারাই তো জমিদারের পিঠে বর্শার ফলা গে�থে দিয়েছে। তার নিজের দেহে তো আঁচড়টি লাগেনি।

    তবে?

    সর্দারনি যখন সরে গেছে, তখন দলের অন্য সকলের থাকাটা সমীচীন নয়। তাই যতটুকু অর্থ সংগ্রহ করেছে ততটুকু নিয়েই সকলে ছুটতে আরম্ভ করল।

    সকলে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে দেখল ঘোড়া নেই। তার মানে তারা ঘোড়ায় চড়ে আগেই চলে গেছে। দলের কারো জন্য অপেক্ষা করেনি।

     

     

    সব ব্যাপারটাই কেমন অস্বাভাবিক। এমন কী হল তারার যে লুঠের মাল ভালোভাবে কুড়োবার অবসর না দিয়ে এভাবে পালিয়ে এল?

    দলের সকলেই বেশ চিন্তিত হয়ে পড়ল। জোরপায়ে ঘাঁটির দিকে চলতে আরম্ভ করল।

    বাশুলির মন্দিরে তারা নেই। তার কুঁড়েতেও খোঁজা হল, তারাকে পাওয়া গেল না।

    মেঘা মাথায় হাত দিয়ে পথের ওপরই বসে পড়ল।

    সর্বনাশ, তারা-মা গেল কোথায়?

    .

    তারা আস্তানায় ফেরেনি। আরও গভীর জঙ্গলের মধ্যে বাঁশবনে শুয়ে পড়ে ভেউ ভেউ করে কাঁদছিল।

    মা বাশুলি, এ কী করলে মা! আমি সত্যিই মহাপাতকী হলাম। কীসে আমার প্রায়শ্চিত্ত হবে!

    পালকিতে বসা ভীতা-সন্ত্রস্তা প্রৌঢ়াকে একনজরেই তারা চিনতে পেরেছিল। এত বছরের অদর্শন সত্ত্বেও। প্রৌঢ়াও যে মেয়েকে চিনতে পেরেছে সে বিষয়ে তারার কোনও সন্দেহই নেই।

    আর তারার বর্শার আঘাতে যে জমিদার প্রাণ হারিয়ে পথের ওপর লুটিয়ে পড়েছিল, তাকেও চিনতে পেরেছে তারা। মায়ের সহোদর ভাই। জমিদার শশীকান্ত রায়।

    মনে পড়ছে ছোটোবেলায় এই মামা কতবার এসেছেন তারাদের বাড়িতে। তারাকে কোলেপিঠে করে কত আদর করেছেন। কত রঙিন খেলনা এনেছেন তার জন্য।

    সেই মামাকে তারা নিজের হাতে শেষ করে দিয়ে এল।

    চরের কাছ থেকে আর-একটু বিশদভাবে খোঁজ নিলে বোধহয় এ বিপদ ঘটত না। জমিদার আসছে প্রচুর অর্থ নিয়ে এইটুকু খবর শুনেই তারা লোভে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। ছি ছি!

     

     

    আঁচলে চোখ মুছে তারা উঠে দাঁড়াল। এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাকে নিজেই করতে হবে। এ ছাড়া আর অন্য পথ নেই।

    নিজের কুটিরের সামনে এসে দেখল দলের প্রধানরা সব গোল হয়ে বসে রয়েছে।

    তারাকে দেখে সকলে উঠে দাঁড়াল।

    সাধু বলল, কোথায় ছিলে তারা মা? আমরা চারদিক তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম।

    তারা কোনও উত্তর দিল না। পাশ কাটিয়ে নিজের ঘরে ঢুকল।

    পিছন পিছন আর সকলে ঢুকে পড়ল।

    তারা মেঝের ওপর বসে পড়ে বলল, আমি এবার তোমাদের কাছে বিদায় নেব। আর কারো ওপর দলের ভার দাও।

    সবাই অবাক। পরস্পরের দিকে চেয়ে রইল।

    মেঘা বলল, এ কী কথা তারা মা? কালু সর্দার আমাদের ভার তোমার ওপর দিয়ে গেছে। আমাদের ফেলে তুমি কোথায় যাবে?

    আমার প্রায়শ্চিত্ত করার দরকার মেঘা। আমি ঘোরতর অন্যায় করেছি।

    অন্যায়?

    এ পথই হয়তো অন্যায়ের পথ। লোভ আর উত্তেজনার জন্য এতদিন এ কথাটা ভাবিনি। মানুষ মেরেছি নির্বিবাদে। লোকের জীবন আর টাকাপয়সা নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছি কিন্তু আজ নিজের মামাকে বর্শাবিদ্ধ করে বুঝতে পেরেছি, যাদের মেরেছি, যাদের কপর্দকহীন করেছি, তাদের আত্মীয়স্বজনের মনের অবস্থার কথা। নিজের মামার রক্ত আর মায়ের চোখের জল আমাকে সবকিছু নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। এ পাপের আমি প্রায়শ্চিত্ত করব।

    প্রায়শ্চিত্ত? কী প্রায়শ্চিত্ত করবে?

    আমি ধরা দেব।

     

     

    এবার দলের সকলের মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।

    সে কী তারা-মা, ধরা দেবে কী? আমরা বেঁচে থাকতে কার সাধ্য তোমায় স্পর্শ করে!

    না, পরান, আমি অনেক ভেবেছি। বাশুলি-মায়ের কাছে জিজ্ঞাসা করেছি, এ ছাড়া আমার আর অন্য পথ নেই। তোমাকে একটা কাজ করতে হবে সাধু।

    বলো তারা-মা।

    আমার একটা চিঠি নিয়ে ইংরেজের তাঁবুতে দিয়ে আসতে হবে। যদি রবার্ট সাহেবকে দিতে পারো তো ভালোই হয়।

    কী লেখা থাকবে চিঠিতে?

    লেখা থাকবে বাশুলি-মায়ের মন্দিরের চাতালে আমি অপেক্ষা করব। রবার্ট সাহেব এসে যেন আমাকে ধরে নিয়ে যান।

    মেঘা মুচকি হাসল।

    তোমার কী ধারণা সাহেবরা এ কথা বিশ্বাস করবে তারা-মা? তারা ভাববে এটা তাদের বিপদে ফেলার নতুন একটা জাল।

    বিশ্বাস করা-না-করা তাদের খুশি। যদি সাহেবদের এ জঙ্গলে ঢুকতে ভয় করে, তাহলে তাদের অধীনে যত সিপাই আছে নিয়ে আসতে পারে। সিপাই, গোলাগুলি, কামান। আমাদের কোথাও কোনও লোক থাকবে না। কেউ বাধা দেবে না।

    কিন্তু তোমাকে ধরার পর যদি নির্যাতন শুরু করে?

    তুমি বৃথা ভয় পাচ্ছ পরান, যতই নির্যাতন করুক, আমাদের দলের সম্বন্ধে একটি কথাও জানতে পারবে না। আমি বাশুলি-মায়ের সেবিকা। আমার দ্বারা দলের কোনও অনিষ্ট হবে না।

    পরান জিভ কাটল, না তারা-মা, সে কথা আমি একবারও মনে আনিনি। আমি বলছিলাম, সাহেবরা তোমায় দারুণ কষ্ট দেবে।

    তারা হাসল, কষ্টই তো পেতে চাই। মানুষকে অযথা অনেক দুঃখ দিয়েছি, অনেক কষ্ট দিয়েছি।

     

     

    আর কোনও কথা হল না। সারাটা রাত তারা চুপচাপ বসে রইল। তাকে ঘিরে দলের আর সবাই।

    .

    ভোর হতে তারা উঠে দাঁড়াল। এলোচুল। উদাস দৃষ্টি। মুখ-চোখের ভাব দেখে মনে হল যেন অনেকদিন রোগভোগের পরে সবে উঠেছে।

    আমি বাশুলি-মায়ের মন্দিরে যাচ্ছি। কেউ যেন আমাকে বিরক্ত না করে। সমস্ত দিন সেখানে থাকব। বিকালে একবার জনমেজয়কে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলো।

    জনমেজয় চিঠিপত্র সব লিখে দেয়। দলের লোকেরা বুঝতে পারল, আজ বিকালেই তারা চিঠি লেখার কাজ শেষ করবে। তারপর সেই চিঠি নিয়ে সাধুকে ইংরেজের তাঁবুতে যেতে হবে।

    সত্যিই সারাটা দিন তারা মন্দিরেই রইল। নিজের হাতে মালা গেঁথে বাশুলি-মায়ের গলায় পরিয়ে দিল। ধূপধুনো জ্বেলে আরতি করল। তারপর মূর্তির পায়ের কাছে উপুড় হয়ে শুয়ে রইল। মাঝে মাঝে শুধু কান্নার বেগে তার দেহটা কেঁপে কেঁপে উঠল।

    বিকালে মন্দিরের দরজা খুলে যখন তারা বের হয়ে এল, তখন তার চেহারা অনেক শান্ত। চোখে জল নেই। গলায় বাশুলি-মায়ের প্রসাদি মালা।

    সিঁড়ির চাতালে সবাই অপেক্ষা করছিল। জনমেজয়ও। তারা সিঁড়ির চাতালে তাদের মাঝখানে এসে বসল।

    জনমেজয়, লেখো।

    জনমেজয় তৈরি ছিল। লিখতে শুরু করল।

    পরের দিন ভোরে চিঠি নিয়ে সাধু রওনা হল বাউলের বেশে। ইতিমধ্যে এটুকু খবর সংগ্রহ করেছিল সে, রাতের ডাকাতির খবর ইংরেজদের কানে পৌঁছেছে। রবার্ট সাহেব তার সিপাই-বরকন্দাজ নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। জমিদারের বোনকে মূর্ছিত অবস্থায় পেয়েছে। জমিদারের দেহ তুলে নিয়ে গেছে। একটা ব্যাপারে রবার্ট সাহেব খুব আশ্চর্য হয়েছে। টাকাপয়সা-সোনাদানা সব ডাকাতরা লুঠ করেনি। মনে হয়েছে লুঠ করতে করতে হঠাৎ যেন ভয় পেয়ে পালিয়েছে। জঙ্গলের এধারে-ওধারে বেশ কিছু টাকাপয়সা ছড়ানো ছিল।

     

     

    এবার রবার্ট তাঁবু পেতে বসল ঠিক এই জায়গায়। কলকাতা থেকে কড়া নির্দেশ এসেছে যেমন করে হোক এইসব ডাকাতদের দলকে উচ্ছেদ করতেই হবে। এর জন্য যত সৈন্যসামন্ত প্রয়োজন, সরকার দিতে প্রস্তুত।

    লাটসাহেব বেন্টিঙ্ক আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। দেশের বুকে শান্তি আনতেই হবে।

    শুধু দুর্গাপুরের জঙ্গলেই নয়, সুন্দরবনে, গঙ্গা নদীর ওপর জলদস্যুর অত্যাচার বন্ধ করার জন্য অভিযান শুরু হয়েছে। প্রলোভন দেখিয়ে ডাকাতের দলের লোককে ইংরেজ সরকার সিপাই করে নিচ্ছে। ভালো মাইনে, ভালো পোশাক, নিশ্চিন্ত জীবন।

    বাউলবেশে সাধু যখন ইংরেজের তাঁবুতে গিয়ে পৌঁছাল, তখন রবার্ট সাহেব বসে বসে তামাক টানছে। পাশে হুঁকোবরদার হাজির। দুজন সিপাই বিরাট আকারের তালপাখা দিয়ে বাতাস করছে।

    গোপীযন্ত্রের শব্দ শুনে রবার্ট নল থেকে মুখ সরাল।

    কে বাজাচ্ছে?

    পাখা রেখে একজন সিপাই বাইরে থেকে দেখে এসে বলল, একজন বাউল হুজুর, গান শোনাতে চায়।

    নিয়ে এসো।

    সাধু সামনে এসে আভূমি নত হয়ে প্রণাম করল।

    কী খবর?

    একটা গান বেঁধেছি। হুজুরকে শোনাব।

    রবার্ট সরিয়ে রাখা নলটা আবার মুখে তুলে বলল, শোনাও।

    সাধু গোপীযন্ত্র বাজিয়ে গান শুরু করল। ইংরেজের বন্দনাগান। ইংরেজরা নবরূপী দেবতা। লোকের দুঃখ মোচন করতে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছে। শান্তি ও সম্পদের দূত।

     

     

    গান শেষ করে সাধু হাত পেতে দাঁড়াল।

    বকশিশ হুজুর।

    রবার্ট চেয়ারে হেলান দিয়ে বজ্রগম্ভীর কণ্ঠে বলল, সিপাই।

    দু-দিক থেকে দুজন সিপাই এসে দাঁড়াল।

    এই বাউলকে আটক করে চাবুক লাগাও।

    এর জন্য সাধু তৈরি ছিল না। পালাবার আগেই সিপাই দুজন বাঘের মতন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, তারপর টানতে টানতে তাকে রবার্টের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল।

    আধ ঘণ্টা পর রবার্ট যখন আহারে ব্যস্ত, তখন একজন সিপাই এসে দাঁড়াল।

    হুজুর, ওই বাউলের পোশাকের ভিতর থেকে এই চিঠিটা পাওয়া গেছে।

    রবার্ট হাত বাড়িয়ে চিঠিটা নিল। চিঠির ওপর তার নাম লেখা।

    ফোর্ট উইলিয়ামে পণ্ডিতদের কাছে রবার্ট কিছুটা বাংলা পড়েছে। চিঠি পড়তে তার কোনও অসুবিধা হল না।

    .

    মান্যবর ইংরেজ বাহাদুর রবার্ট সাহেব,

    আমাদের শাস্ত্রে পাপ করিলে প্রায়শ্চিত্ত করার বিধি আছে। আমি স্বজনহত্যার পাপ করিয়াছি। তজ্জন্য প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ নিজেকে আপনার হাতে অর্পণ করিতে চাই। আগামীকাল বাশুলি-মায়ের মন্দিরের চাতালে আমি একাকিনী থাকিব, আপনি আমাকে গ্রেপ্তার করিবেন।

    ইতি

    বাশুলি-মায়ের সেবিকা

    তারা।

    অনেকবার রবার্ট চিঠিটা পড়ল। পড়তে পড়তে তার মুখ আরক্ত হয়ে উঠল। খাঁজ পড়ল দুটি ভ্রূ-র মাঝখানে।

    আহার ছেড়ে উঠে পড়ে বলল, সেই বাউল কোথায়?

    দিঘির পাড়ে একটা তাল গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

    সিপাইয়ের সঙ্গে রবার্ট দিঘির পাড়ে এসে দাঁড়াল।

    সর্বাঙ্গে চাবুকের রক্তাক্ত দাগ। অর্ধ অচেতন সাধু গাছতলায় পড়ে আছে।

    রবার্ট কিছুক্ষণ নিরীক্ষণ করে বলল, এবার নিগারটাকে চাঙ্গা করে তোলো। কাল ওকে আমাদের প্রয়োজন হবে।

    রবার্ট মনে মনে ঠিক বুঝতে পেরেছিল ডাকাতের দলের সর্দারনির এ একটা কায়দা। বোধহয় ভেবেছে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে রবার্ট একলাই, কিংবা জন দুয়েক সঙ্গী নিয়ে জঙ্গলে ঢুকবে, আর ডাকাতের দল সুবিধামতো তাদের ঘেরাও করে ফেলবে।

    সেরাত্রেই রবার্ট ব্যাপারটা লিখে একজন বিশেষ বাহককে দিয়ে চিঠিটা কলকাতায় পাঠিয়ে দিল।

    তারপর সিপাই-বরকন্দাজদের নিয়ে বৈঠকে বসল। পরামর্শ করতে।

    পরের দিন বিকাল হতেই রবার্ট বরকন্দাজ নিয়ে যাত্রা শুরু করল। একটা ঘোড়ার ওপর সাধুকে বসিয়ে দিল। পিছমোড়া করে বেঁধে। ঠিক তার পিছনে দুজন সিপাই। তাদের দুটো বন্দুকের নল একেবারে সাধুর পিঠে ঠেকানো। আশপাশে বন্দুক, বল্লম, বর্শা নিয়ে অসংখ্য বরকন্দাজ।

    মাঝখানে কালো ঘোড়ার ওপর রবার্ট। হাতে বন্দুক।

    ব্যাপার দেখে মনে হল যেন সব লড়াইয়ে চলেছে।

    ঘন জঙ্গলের মধ্যে ঢুকেই রবার্ট একটা টিনের চোঙা মুখে দিয়ে চিৎকার করে উঠল, ডাকাতরা যদি আক্রমণের কোনও চেষ্টা করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এই ডাকাতকে গুলি করে মারা হবে। খুব সাবধান।

    জঙ্গলের ভিতর অনেকটা প্রবেশ করার পরও কোনওদিক থেকে কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। গাছের ডালে ঝিমিয়ে-পড়া পাখিগুলো শুধু ডানা ঝাপটে আকাশে উড়ে গেল।

    আর-একটু এগোতেই জঙ্গল অনেক ফাঁকা হয়ে গেল। মশালের আলোয় বাশুলির মন্দিরের কাঠামোটা দেখা গেল।

    রবার্ট দাঁড়িয়ে পড়ল। সঙ্গে সমস্ত সিপাই-বরকন্দাজ।

    ওই তো মন্দির? রবার্ট সাধুকে প্রশ্ন করল।

    নির্জীব সাধু কোনওরকমে ঘাড় নাড়ল।

    রবার্ট কয়েক পা এগিয়ে চোখ কুঁচকে দেখল। মন্দিরের চাতালে কেউ অপেক্ষা করছে না। চাতাল ফাঁকা।

    তার মানে মিথ্যা হয়রানি করিয়েছে তাকে। বলা যায় না, হয়তো কৌশল করে সব সিপাই-বরকন্দাজদের এদিকে সরিয়ে এনে ডাকাতের দল অন্যদিকে ডাকাতি করতে বেরিয়েছে।

    নিজেকে রবার্টের বড়ো বোকা মনে হল। ছি ছি, একটা মেয়েছেলের ধাপ্পাবাজিতে ভুলল! ঊর্ধ্বতন সাহেবরা হাসাহাসি করবে এই নিয়ে। শ্লিম্যান তাকে অপদার্থ ভাববে।

    এতটা যখন এসেছে তখন শেষ দেখে যাবে।

    রবার্ট আদেশ দিল বরকন্দাজদের, মন্দির ঘিরে ফেলো।

    সাধুকে একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে দুজন সিপাই পাহারায় রইল। বাকি সবাই ঘিরে ফেলল বাশুলির মন্দির।

    রবার্ট আর-একবার সাবধান করে দিল।

    গাছের ওপরেও চোখ রেখো। গাছের ডাল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়াও কিছু বিচিত্র নয়।

    রবার্ট দুজন সিপাইকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল।

    সিঁড়ির দু-পাশে দুটো মশাল মাটির মধ্যে পোঁতা। সমস্ত জায়গাটা আলোয় ভরে গেছে। কোথাও ছিটেফোঁটা অন্ধকার নেই।

    চাতালে কেউ নেই, রবার্ট সেটা আগেই দেখেছিল। তবু একবার এদিক-ওদিক দেখল।

    তারপর একটু এগিয়েই থমকে দাঁড়াল।

    ঠিক চৌকাঠের ওপর। মাথাটা মূর্তির দিকে। এলোচুল মেঝের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। পরনে লালপাড় শাড়ি। গলায় জবা ফুলের মালা। বুকের মাঝখানে শাড়িটা রক্তে লাল হয়ে উঠেছে।

    রবার্ট উত্তেজিত কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল, একটা মশাল এদিকে নিয়ে এসো।

    মশাল নিয়ে একজন রবার্টের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    নিচু হয়ে রবার্ট নিরীক্ষণ করে দেখল।

    একটু দূরে রক্ত-মাখা খাঁড়া পড়ে রয়েছে। শুধু বুকে নয়, মন্দিরের দেয়ালেও রক্তের ছোপ।

    রবার্ট বিস্মিত হয়ে গেল। ডাকাতরা নৃশংসভাবে মেয়েটিকে হত্যা করে রেখে গেছে আর এই নারকীয় দৃশ্য দেখবার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    রবার্ট আবার চেঁচাল, শয়তানকে নিয়ে এসো এখানে।

    দুজন সিপাই দড়ি-বাঁধা অবস্থায় সাধুকে এনে দাঁড় করাল।

    কর্কশকণ্ঠে রবার্ট বলল, দেখ নিগার, তোদের দলের কীর্তি। কচি একটা মেয়েকে মূর্তির সামনে বলি দিয়ে গেছে।

    সাধু একবার দেখেই ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠল। আছড়ে পড়ল চৌকাঠের পাশে।

    এ কে, চিনিস একে তুই?

    সাধু মুখ তুলল না। ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলল, আমাদের মা, আমাদের তারা-মা। দলের প্রাণ, দলের শক্তি।

    এই তারা। দুর্ধর্ষ একটা দলের নেত্রী। এত কম বয়স!

    তাহলে তারা কথা রেখেছে। বাশুলির মন্দিরে নিজেকে অর্পণ করার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছে। অনায়াসেই রবার্ট তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।

    .

    তারপর অনেকদিন কেটে গেছে। অনেক বছর। রক্তের পথ পার হয়ে, অনেক প্রাণ অর্ঘ্য দিয়ে দেশে স্বাধীনতা এসেছে।

    জননেতারা দেশকে নবরূপে গড়ে তোলবার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন। দুর্গম অরণ্য বুলডোজারের আঘাতে নিশ্চিহ্ন করে নানা জায়গায় জেগে উঠেছে কলকারখানা। জাতীয় শিল্পপ্রচেষ্টার বাস্তব রূপ।

    দুর্গাপুরের জঙ্গলও পরিষ্কার করা শুরু হল। গাছপালা উধাও, বিল, সায়র, জলা ভরাট হল। জোনাকির আলোর বদলে নিয়নের বিদ্যুৎ-দীপ্তি।

    জঙ্গল সাফ করতে করতে কুলিমজুররা দেখল, ভাঙা জরাজীর্ণ এক মন্দির। গাছপালা সমাচ্ছন্ন। বিগ্রহ নেই। মন্দিরের তিনদিকের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। শুধু সামনের দেয়ালের কিছুটা আছে। সে দেয়ালে গাঢ় রক্তের ছোপ।

    কুলিরা পিছিয়ে গেল, ভাঙতে পারব না সাহেব। ঠিকাদারের দিকে চেয়ে বলল, দেয়ালের ওই রক্তের দাগ তারা-মা-র রক্তের। বাপ-ঠাকুরদার কাছে গল্প শুনেছি, এই সেই মন্দির যেখানে তারা-মা নিজেকে নিবেদন করে প্রায়শ্চিত্ত করেছিল।

    সে মন্দিরও আর নেই। ঠিকাদাররা অন্য প্রদেশ থেকে কুলি আনিয়ে বেশি টাকা রোজ দিয়ে, সে মন্দির ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

    আজ সেখানে দুর্গাপুর কারখানার বিরাট একটা ফার্নেস বসানো হয়েছে। রক্তের চেয়েও লাল আগুনের আভা তার বুকে।

    .

    ‘রক্ত দেউল’ নামে ‘শুকতারা’ এপ্রিল ১৯৬৮ ধারাবাহিক

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }