Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভয়ের মুখোশ – ৪

    ৪

    জলের বোতলও প্রায় শেষ হয়ে আসছে। অবশ্য স্নানের ঘরের চৌবাচ্চায় তখনও জল রয়েছে। দরকার হলে সেই জলই পান করবে।

    দুজনে এক চুমুকে বোতলের জল শেষ করে ফেলল।

    টিন আর বোতলগুলো আছড়ে ফেলল মাটিতে। একেবারে তলায় কিছু সিরাপ, কিছু জেলি লেগে ছিল, আঙুল দিয়ে দিপু আর তপু যার নাগাল পাচ্ছিল না, কাচের টুকরোগুলো তুলে নিয়ে তা-ই চাটতে লাগল।

    খেতে খেতে একটু পরে নোনতা স্বাদ লাগতেই দুজনে চমকে উঠল।

    হাত দিয়ে দেখল, ঠোঁট কেটে দরদর ধারায় রক্ত পড়ছে।

    জল দিয়ে দুজনে ঠোঁট ধুয়ে ফেলল। তারপর আবার ফিরে গিয়ে বসল বিছানায়।

    কথা বলবার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। শরীর ভীষণ দুর্বল।

    অনেকক্ষণ পরে তপু বলল।

    দিপু, কে আগে শেষ হবে কিছু ঠিক নেই। যদি আমি আগে যাই, আর কোনওরকমে তুই মুক্তি পাস, তাহলে দেখিস আমার দেহটা যেন শেয়াল-কুকুরে না খায়; একটা সদগতি হয়।

    কান্নায় গলার স্বর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তপু আর কথা বলতে পারল না।

    দিপুর চোখেও জল। দুটো ঠোঁট থরথর করে কাঁপছে।

    সারারাত দুজনে এপাশ-ওপাশ করল। চোখে একফোঁটা ঘুম এল না।

    পরের দিন দিপু উঠে দাঁড়াল, কিন্তু তপু পারল না। সে চুপচাপ বিছানায় শুয়ে রইল।

    দিপু বলল, কী মনে হচ্ছে জানিস তপু।

    তপু কোনও উত্তর দিল না। শুধু দুটো ভ্রূ তুলল।

    যদি সুড়ঙ্গের মধ্যে না থেকে, ওপরে কোনও জঙ্গলের ধারে এই অবস্থা হত, তাহলে গাছের একটা পাতাও আস্ত থাকত না। সব খেয়ে শেষ করতাম।

    আবার দিপু খোঁজা শুরু করল।

    শুধু আলমারির ভিতরটা নয়, সারা মেঝে। যদি অন্যদিনের খাবারের একটু অংশও মেঝের ওপর পড়ে থাকে। কিন্তু না, কোথাও কিছু নেই।

    নিজের জন্য দিপু অতটা ভাবছে না। ভাবছে তপুর জন্য। বয়সের অল্প ব্যবধান, ভাই হলেও দুজনে বন্ধুর মতন। ছেলেবেলা থেকে একভাবে একসঙ্গে মানুষ হয়েছে।

    যদি দুজনে একসঙ্গে শেষ হয়ে যায়, তাহলে ক্ষোভের কিছু নেই। একজনের চরম দুর্দশা আর-একজনকে চোখে দেখতে হবে না।

    কিন্তু তা কি হবে? ঈশ্বর কি এত করুণাময় হবেন?

    অন্তত দিপু আর তপুর প্রতি ঈশ্বরের করুণা যে কম, সে পরিচয় তারা পেয়েছে এর আগে। কোনওদিনই তিনি এদের প্রতি সদয় নন। সদয় হলে তাদের এমন অবস্থা হবে কেন?

    আচ্ছন্নের মতন দুজনে শুয়ে রইল।

    মাঝরাতে হঠাৎ দুম দুম শব্দে দিপুর ঘুম ভেঙে গেল। বিছানার ওপর উঠে বসেই সে চমকে উঠল।

    তপু উঠে পাগলের মতন কাঠের দেওয়ালে ঘুসি মারছে।

    তার চুল উসকোখুসকো, দুটো চোখ লাল।

    জড়ানো গলায় কেবল বলছে, খোল, খোল, খোল।

    দিপু বুঝতে পারল তপু প্রকৃতিস্থ নয়। অনাহারে তার মাথার গোলমাল হয়েছে।

    দিপু লাফিয়ে গিয়ে তপুকে জড়িয়ে ধরল।

    এই তপু তপু, কী করছিস।

    তপু কোনও উত্তর দিল না। দিপুর দিকে ফিরেও দেখল না।

    দেয়ালে অনবরত ঘুসি মারতে লাগল।

    এত জোরে তপু ঘুসি মারছে, একটু পরেই তার হাত ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে।

    দিপু তপুকে টেনে সরিয়ে আনার চেষ্টা করল দেয়ালের কাছ থেকে। পারল না। তপুর গায়ে যেন অসীম শক্তি।

    দিপু প্রাণপণ চেষ্টায় তাকে সরিয়ে আনার জন্য টানল।

    দুজনেই জড়াজড়ি করে সিঁড়ির ওপর গড়িয়ে পড়ল।

    পাছে গড়িয়ে আরও নীচে পড়ে যায়, সেই ভয়ে দিপু জোরে সিঁড়ির একটা ইট আঁকড়ে ধরল।

    আশ্চর্য কাণ্ড, সঙ্গে সঙ্গে ইটটা খসে পড়ল। ফাঁকের মধ্যে চকচকে হাতল।

    কিছু না ভেবেই দিপু হাতলটা ধরে টানল।

    ঘড়ঘড় শব্দে কাঠের দেয়াল ফাঁক হয়ে গেল।

    দু-তিন মিনিট তপু আর দিপু কোনও কথা বলতে পারল না। নির্বাক বিস্ময়ে সেই ফাঁকের দিকে চেয়ে রইল।

    তপু ছুটে এপারে আসছিল, দিপু বাধা দিল।

    দাঁড়া তপু, এখন যাসনি। আমি আগে উঁকি দিয়ে চারদিক দেখে আসি।

    তপু বস্তায় হেলান দিয়ে বসল।

    দিপু সাবধানে পা ফেলে দেয়ালের কাছে এল।

    মুখ বাড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখল।

    আশ্চর্য কাণ্ড, সমস্ত জার অদৃশ্য। সাপের চিহ্নমাত্রও নেই।

    তার মানে, দিপু আর তপু যখন সুড়ঙ্গপুরীতে ছিল, তখন নিশ্চয় কেউ এসেছিল এখানে।

    দিপু পাশের ঘরে গেল।

    আরও তাজ্জব ব্যাপার, মৃতদেহ নেই। সব পরিষ্কার।

    দিপু আবার ফিরে গিয়ে ফাঁকের কাছে দাঁড়াল, ভিতরদিকে চেয়ে ডাকল, এই তপু, বাইরে চলে আয়।

    কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত তপুর চলার শক্তি ছিল না। ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর, কিন্তু মুক্তির আনন্দে তপু সব যন্ত্রণা ভুলল। লাফিয়ে এপারে চলে এল। চলে এসেই দাঁড়িয়ে পড়ল।

    কী হল?

    দিপু জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা ফাঁকটা বন্ধ হচ্ছে না কেন? আমরা যখন ভিতরে ঢুকেছিলাম, তখন তো সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

    তপুর এই প্রশ্নের উত্তরে দিপু ভ্রূ কোঁচকাল।

    যাক গে, যা ইচ্ছা হোক। চল, আমরা এখান থেকে পালাবার ব্যবস্থা করি।

    তপু বলল, এখন নয়। আর-একটু অন্ধকার হোক। কিছু বলা যায় না, কেউ হয়তো এ বাড়ির ওপর নজর রাখছে।

    দিপু আর তপু এদিকের ঘরে এসে দাঁড়াল।

    যেখানে মৃতদেহ পড়ে ছিল, সেখানে ঝুঁকে পড়ে দেখল। মেঝেটা যেন চকচক করছে। তেল পড়লে যেমন হয়।

    এদিকে একটা ছোটো ঘর। সেখানে ঢুকেই দুজনে লাফিয়ে উঠল।

    র‌্যাকের ওপর সারি সারি ডিম। খোঁজ করলে আরও কিছু হয়তো পাওয়া যেতে পারে।

    দেয়াল আলমারিটা খুলে দুজনে দেখল। কোথাও কিছু নেই।

    র‌্যাকে দেশলাই পাওয়া গেল।

    এ ঘর থেকে দিপু পুরোনো কাগজ জোগাড় করল। খালি টিন।

    এক-একজন গোটা চারেক করে ডিমসেদ্ধ খেয়ে একটু ধাতস্থ হল।

    তারপর একেবারে কোণের ঘরে এসে দুজনে বসল।

    তপু বলল, একদিন আমরা যে অনেকগুলো পায়ের আওয়াজ পেয়েছিলাম, সেইদিনই বোধহয়, কেউ এসে সাপসুদ্ধ জার আর মৃতদেহ সরিয়ে ফেলেছে।

    কারা সরাবে? পুলিশের লোক?

    পুলিশের লোক না-ও হতে পারে। হয়তো যে লোকটা মারা গেছে, তাদের বিপক্ষ দলের কেউ। যাতে কেউ লাশ পরীক্ষা না করতে পারে, সেইজন্য।

    তপু গালে হাত দিয়ে চুপচাপ বসে আছে দেখে দিপু জিজ্ঞাসা করল, কী রে, কী ভাবছিস?

    আমি ভাবছি ফাটলটা বন্ধ হচ্ছে না কেন? কলকবজা কি গোলমাল হয়ে গেল!

    থাক খোলা, আমাদের কী।

    উঁহু, তপু মাথা নাড়ল, পরীক্ষা করে একবার দেখতে হচ্ছে।

    সে কী রে, তুই আবার ওর মধ্যে ঢুকবি নাকি?

    আবার! মাথা খারাপ?

    তপু উঠে এদিক-ওদিক ঘুরে একটা মোটা কাঠের টুকরো নিয়ে এল। সেটা নিয়ে সজোরে সিঁড়ির ধাপের ওপর আঘাত করল। সঙ্গে সঙ্গে ঘড়ঘড় করে শব্দ। দেয়ালের ফাঁকটা বন্ধ হয়ে গেল।

    তপু ঠিক সময়ে সরে এসেছিল।

    সে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলল, আমি ঠিক তা-ই ভেবেছি।

    কী ভেবেছিস?

    এদিক থেকে ছিটকে যখন আমরা ওদিকে গিয়ে পড়েছিলাম, তখন সিঁড়ির ওই ধাপের ওপর পড়ার জন্য দেয়ালটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ধাপের ওপর ভার পড়লে ফাঁকটা বন্ধ হয়ে যায়, এইরকম কিছু কলকবজার ব্যাপার আছে।

    ইতিমধ্যে বাইরে অন্ধকার নেমে এসেছে।

    দিপু বলল, চল, এবার আমরা বেরিয়ে পড়ি।

    তপু উঠে পড়ল।

    দাঁড়া, বাকি ডিম ক-টা সঙ্গে নিই। কখন কী অবস্থায় থাকি কিছু বলা যায় না। সঙ্গে রসদ থাকা দরকার।

    একটা কাগজের মধ্যে ডিমগুলো নিয়ে তপু দিপুর পাশে এসে দাঁড়াল।

    কিছু বলা যায় না, আবার নতুন কোন বিপদের মধ্যে গিয়ে পড়বে দুজনে। এ দেশের মাটিতে পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে একটার পর একটা বিপদ চলেছে। প্রাণে যে বেঁচে আছে, এই যথেষ্ট।

    এগোতে গিয়েই দুজনে দাঁড়িয়ে পড়ল। দরজা বন্ধ।

    মনে পড়ে গেল, এ ঘরে পা দেবার সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

    দিপু বলল, এখন উপায়! কী করে বাইরে যাব!

    এদিক-ওদিক দেখতে দেখতে তপু বলল, নিশ্চয় কোথাও কোনও কলকবজা আছে। সেটাই আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    কী করে করবি?

    মনে করে দেখ, প্রথমে এ ঘরে ঢুকে কে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

    একটু পরেই তপুর নিজেরই মনে পড়ে গেল।

    আমি হোঁচট খেয়েছিলাম, টাল সামলাতে দেয়ালের এই মাদুরটা আঁকড়ে ধরি, এই না?

    দিপু ঘাড় নাড়ল।

    তপু দেয়ালের মাদুরটা সরাল। ছোটো একটা হাতল নীচের দিকে নামানো।

    সে হাতলটা ওপরদিকে ঠেলে দিতেই কাজ হল। কাঁপতে কাঁপতে দরজাটা খুলে গেল।

    দুজনে আর একতিল বিলম্ব না করে ছুটে বেরিয়ে এল।

    মাঠের মধ্যে এসে এদিক-ওদিক চোখ ফিরিয়ে দেখল। ধারেকাছে কাউকে দেখা গেল না।

    তপু বলল, এরপর কোথায় যাব?

    দিপু বলল, আমাদের নদীর ওপারে যেতে হবে। শহরে। তারপর ভাগ্যে যা আছে, হবে।

    চল।

    মেঠোপথ ধরে দুজনে এগোল।

    কয়েক পা গিয়েই তপু দাঁড়াল। দিপুর দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল, ওই যে ঝোপ দেখছিস?

    দিপু ঘাড় নাড়ল।

    সুড়ঙ্গপুরীর বাতাস বেরোবার নলটা ওর মধ্যে আছে, তাই চট করে কারো নজরে পড়ে না।

    একটু দাঁড়িয়ে থেকে আবার দুজনে হাঁটতে আরম্ভ করল।

    নদীর ধারে যখন এসে পৌঁছাল, বেশ রাত হয়েছে। কাছাকাছি একটাও সাম্পান নেই।

    ঘাটের ওপর তপু আর দিপু বসল। চোখ রইল জলের দিকে। যদি কোনও সাম্পান চোখে পড়ে, ডাকবে।

    আধ ঘণ্টার ওপর কিছু দেখতে পেল না।

    একটা মোটর লঞ্চ তিরবেগে জল কেটে বেরিয়ে গেল।

    তারপর ঢেউয়ের দোলার ওপর একটা সাম্পান দেখা গেল। সাম্পানটা এদিকেই আসছে।

    দুজনেই মাথার ওপর হাত তুলে চেঁচাতে লাগল।

    মাঝি দেখতে পেয়েছিল। সাম্পানটা ঘাট বরাবর এনে রাখল।

    এখানে সব মাঝিই ভারতীয়। চট্টগ্রামের অধিবাসী, কাজেই কথা বলতে কোনও অসুবিধা হল না।

    মাঝিকে দিপু বলল, আমরা ওপারে যাব।

    সঙ্গে বড়ো কেউ নেই?

    তপু ঘাড় নাড়ল, না।

    ঠিক আছে, চলে এসো।

    সাম্পান যখন নদীর মাঝামাঝি, তখন দিপু জিজ্ঞাসা করল, ওপারের নাম কী?

    বইঠা চালাতে চালাতে মাঝি বলল, ডালা।

    তারপরই কী খেয়াল হতে মাথা ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা এ দেশে নতুন বুঝি?

    দিপু মাথা দোলাল, অর্থাৎ হাঁ।

    মাঝি আবার প্রশ্ন করল, এখানে থাকো কোথায়?

    দিপু একটু ঢোক গিলে বলল, জেটির কাছে এক হোটেলে আছি।

    কোন জেটি?

    দিপু আর তপু উত্তর দেবার আগে মাঝি নিজেই বলল, ব্রুকিং স্ট্রিট জেটির কাছে তো? বুঝেছি, রয়েল হোটেল।

    দিপু আর তপু কথা বাড়াল না। বুঝতে পারল, কথা বাড়ালে বিপদে পড়বে।

    সাম্পান এপারে ঘাটে এসে লাগল।

    কাদায় একটা বাঁশ পুঁতে সাম্পান বেঁধে মাঝি বলল, দাও, ভাড়াটা মিটিয়ে দাও। অনেক রাত হয়েছে।

    তপু আর দিপু নিজেদের পকেট থেকে পয়সা বের করল। আট আনা আর চার আনা। সবসুদ্ধ বারো আনা। এই পয়সা নিয়েই তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল।

    বারো আনা পয়সা মাঝির হাতে দিতেই সে রেগে উঠল।

    তার মানে? এত রাতে পার করালাম, তাও দুজনকে। ভাড়া মাত্র বারো আনা!

    আমাদের কাছে আর একটি পয়সাও নেই, বিশ্বাস করো।

    দরদস্তুর না করে সাম্পানে ওঠো কেন? আমি দু-টাকা ভাড়া চাই।

    দিপু মাঝির কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    তুমি বরং আমাদের পকেটে হাত দিয়ে দেখো। যদি কিছু পাও, নিয়ে নিয়ো।

    মাঝি দুজনের দিকে ভালো করে দেখল, তারপর বলল, ওই কাগজের ঠোঙায় কী?

    তপু ভয়ে ভয়ে বলল, ডিম।

    ক-টা?

    গোটা আষ্টেক আছে।

    দাও ওগুলো আমাকে।

    কথার সঙ্গে সঙ্গে মাঝি খপ করে তপুর হাত থেকে কাগজের ঠোঙাটা কেড়ে নিল।

    বাঁশ থেকে দড়ি খুলে নিয়ে চেঁচিয়ে বলল, যাও, যাও, নেমে পড়ো। আমি সাম্পান ছাড়ব।

    অগত্যা দুজনে লাফিয়ে কাদার ওপর নেমে পড়ল। কাদা ভেঙে রাস্তার ওপর এসে উঠল। রাস্তা ফাঁকা। কোথাও কিছু নেই।

    দিপু রাস্তার একপাশে বসে পড়ে বলল, এখন উপায়?

    উপায় আর কী। শহরের দিকে হাঁটা যাক। কোনওরকমে যদি সেই জেটিতে গিয়ে পৌঁছাতে পারি, আর দেখি কোনও জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে ক্যাপ্টেনের হাতে-পায়ে ধরে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করব।

    দিপু উঠে দাঁড়িয়ে বলল, শহর তো অনেকটা পথ।

    দুজনে হাঁটতে আরম্ভ করল।

    মাঝে মাঝে দু-একটা কুকুরের চিৎকার শোনা গেল। গোটাকয়েক কুকুর তাদের তেড়েও এল। ঢিল ছুড়ে দুজনে তাদের তাড়াল।

    পথে বার দুয়েক বিশ্রাম করে নিল।

    কিছুক্ষণ পরে দিপুর খেয়াল হল, দেখ তপু, পিছনে একটা আলো দেখা যাচ্ছে।

    তপু চেয়ে দেখল, আলোটা স্থির নয়, চলমান।

    দুজনে একপাশে সরে এসে দাঁড়াল। যাতে আলোটা এগিয়ে তাদের পাশ কাটাতে পারে। কিন্তু আশ্চর্য, আলোটা এগোল না। সমান দূরত্ব রেখে একভাবে জ্বলতে লাগল।

    কেউ আমাদের অনুসরণ করছে না তো?

    তার আর আশ্চর্য কী।

    বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দুজনে আবার চলতে আরম্ভ করল।

    এক জায়গায় অনেকগুলো গাছের জটলা। ডাল বেয়ে কিছু লতাগাছ উঠে জায়গাটা ঝুপসি অন্ধকার করে রেখেছে।

    কাছাকাছি এগিয়ে আসতেই দিপু আর তপুর কানে একটা গোঙানির শব্দ এল।

    কোথায় যেন কে কাঁদছে?

    দিপু বলল, রাত্রে শকুনের বাচ্চা ঠিক ওইরকমভাবে কাঁদে। তাড়াতাড়ি চল।

    তাড়াতাড়ি যেতে গিয়েও কিন্তু পারল না। দাঁড়িয়ে পড়তে হল।

    মানুষের গোঙানির শব্দ। যন্ত্রণায় কে যেন ছটফট করছে। খুব কাছে।

    একবার দেখে এলে হয়। তপু বলল।

    আবার কোনও বিপদের মধ্যে গিয়ে পড়ব। দিপু সাবধান করে দিল।

    উঁকি দিয়ে দেখি ব্যাপারটা কী।

    একটা কচুঝোপের ফাঁক দিয়ে দেখেই দুজনে চমকে উঠল।

    আকাশে ম্লান জ্যোৎস্না। আবছা সবকিছু দেখা যাচ্ছে।

    একটা লোক ঘাসের ওপর শুয়ে আছে। তার মাথার কাছে চাপ চাপ রক্ত।

    সে-ও বোধহয় দিপু আর তপুকে দেখতে পেয়েছিল। অনেক কষ্টে একটা হাত তুলে দুজনকে ডাকল।

    একটু ইতস্তত করে দিপু আর তপু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল।

    মুখের নীচেটা মাফলার দিয়ে ঢাকা। দুটো চোখে যন্ত্রণার ছায়া।

    হাত বাড়িয়ে দিপুর একটা হাত ধরল, আর-একটা হাত প্রসারিত করে দিল তপুর দিকে।

    তপু তার একটা হাত আঁকড়ে ধরল।

    দুজনের সাহায্যে লোকটা আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল।

    দাঁড়িয়ে আঙুল দিয়ে একটু দূরে দেখিয়ে জড়ানো গলায় কী বলল।

    যেদিকে লোকটা আঙুল নির্দেশ করল সেদিকে চোখ দুটো কুঁচকে দুজনে দেখল। কতকগুলো গাছের ফাঁকে একটা সাদা রঙের বাড়ি।

    লোকটা ইঙ্গিত করে যা বলল, তাতে দিপু আর তপু এইটুকু বুঝতে পারল লোকটা ওই বাড়িতে যেতে চায়। আর সেজন্য তার দিপু আর তপুর সাহায্যের প্রয়োজন।

    লোকটার যেমন অবস্থা, একলা হাঁটা তার পক্ষে অসম্ভব।

    দিপু আর তপু লোকটার হাত নিজেদের কাঁধের ওপর রেখে আস্তে আস্তে পা ফেলে রাস্তা ছেড়ে মাঠের ওপর দিয়ে চলতে লাগল। জোরে চললে পাছে লোকটার ঝাঁকুনি লাগে সেজন্য যথাসম্ভব সতর্ক হল।

    বাড়ির কাছ বরাবর এসে তপু একবার পিছন ফিরে দেখল।

    ঠিক ঝোপটার পাশে আলোটা স্থির হয়ে রয়েছে।

    দিপুকে কথাটা বলতে গিয়েই তপু থেমে গেল।

    লোকটা যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠল।

    তপুরই দোষ। সে ঘাড় ফিরিয়ে পিছনদিকে দেখতে গিয়ে লোকটার হাতে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিল।

    বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল, কিন্তু দিপু হাত রাখতেই খুলে গেল।

    খোলার সঙ্গে সঙ্গে ওরা তিনজনে ভিতরে ঢুকল না।

    দরজা সম্বন্ধে দিপু আর তপুর ভয় ছিল।

    তাই দুজনে দরজাটা ভালো করে পরীক্ষা করে তবে বাড়ির মধ্যে পা রাখল। হঠাৎ আবার দরজাটা না বন্ধ হয়ে যায়।

    সেরকম কিছু হল না। একটা বড়ো সোফার ওপর লোকটাকে সাবধানে শুইয়ে দিয়ে দুজনে বেরোতে গিয়েই বাধা পেল।

    লোকটা হাততালি দিল।

    ওরা ফিরতে হাতের ভঙ্গিতে জল চাইল। জল যে পাশের ঘরে পাওয়া যাবে তাও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিল।

    পাশে ছোটো একটা ঘর। গ্লাস, প্লেট সাজানো। মাঝখানে টেবিল, চেয়ার। বোধহয় খাওয়ার ঘর।

    তপু বলল, এ বাড়িটা বোধহয় লোকটারই হবে, কিন্তু কে ওভাবে মাথায় চোট মারল?

    দিপু গ্লাসে জল ভরতে ভরতে বলল, বোধহয় ডাকাতরা আক্রমণ করে পয়সাকড়ি সব কেড়ে নিয়েছে। দয়া করে প্রাণে মারেনি।

    লোকটাকে জল দিয়ে যদি কিছু খেতে চাই, নিশ্চয় না বলবে না।

    দেখা যাক।

    দুজনে আবার এদিকের ঘরে এল। দিপুর হাতে জলের গ্লাস। পিছনে তপু।

    এ ঘরে ঢুকেই দুজনে ভয়ে চিৎকার করে উঠল।

    দিপুর হাত থেকে ঝনঝন শব্দে গ্লাসটা মেঝের ওপর পড়ে চুরমার হয়ে গেল।

    যে লোকটা কিছুক্ষণ আগে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে কাতরাচ্ছিল, সে যে এভাবে এর মধ্যে রিভলভার হাতে নিয়ে বসবে সেটা দিপু আর তপু ধারণাও করতে পারেনি।

    কিন্তু আরও বিস্ময়ের কথা, এ লোকটার চেহারার সঙ্গে নদীর ওপারে পোড়োবাড়িতে চেয়ারের ওপর মৃত লোকটার চেহারার কোনও প্রভেদ নেই।

    তাহলে সে লোকটা কি মৃতের ভান করেছিল?

    তা-ই বা কী করে সম্ভব!

    গায়ে হাত ঠেকতেই লোকটা যেভাবে মেঝের ওপর ছিটকে পড়েছিল, সেটা জীবিত লোকের পক্ষে কোনওরকমেই সম্ভব নয়।

    দিপু আর তপু এগোবার চেষ্টা করতে গিয়েই থেমে গেল।

    লোকটা ভাঙা-ভাঙা বাংলায় বলল, সাবধান, শয়তানের বাচ্চারা আর এক-পা এগোলেই খতম করে দেব। আমার রিভলভারে সাইলেন্সার লাগানো আছে। একটু শব্দ হবে না। শুধু সামান্য একটু ধোঁয়া, ব্যাস, কাজ শেষ।

    দুজনে দরজার গোড়ায় আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

    লোকটা দাঁতে দাঁত চেপে আবার বলতে লাগল, সত্যি কথা বল, আমার যমজ ভাইকে কে শেষ করেছে?

    এবার দিপু আর তপু বুঝতে পারল। তাহলে যে লোকটা মারা গেছে, সে এর যমজ ভাই। তাই চেহারায় এমন মিল।

    তপু কাঁপতে কাঁপতে বলল, কে শেষ করেছে, আমরা কী করে জানব?

    সে আর কথা শেষ করতে পারল না। লোকটা মেঝের ওপর সজোরে বুট ঠুকল।

    চোপরাও মিথ্যাবাদী কেউটের ছানা! তোরা আ লিমের চর সেটা আমার জানতে বাকি নেই। ঠিক কি না বল?

    এবার দিপু মাথা নাড়ল—না, আমরা কারো চর নই। আমরা বিদেশে এসে বিপদে পড়েছি।

    তাহলে পোড়োবাড়ির মধ্যে কী করতে ঢুকেছিলি?

    আমরা একটা প্যাকেট নিয়ে গিয়েছিলাম।

    কীসের প্যাকেট?

    তা জানি না।

    কে পাঠিয়েছিল?

    দিপু আর তপু চুপ করে রইল।

    লোকটা বিশ্রীভাবে চেঁচিয়ে উঠল।

    চুপ করে থেকে বিশেষ লাভ হবে না। দুটো গুলিতে দুজনের খুলি ফাটিয়ে দেব। উত্তর দে।

    তপু বলল, আ লিম পাঠিয়েছিল।

    এবার লোকটা প্রচণ্ড বেগে হেসে উঠল। পৈশাচিক হাসি। সে হাসিতে মনে হল বাড়ির জানলা-দরজাগুলোও যেন ঝনঝন করে কেঁপে উঠল।

    তবু তোরা বলতে চাস, তোরা আ লিমের চর নোস। আ লিম কেন প্যাকেট পাঠিয়েছিল জানিস?

    একটু থেমে, উত্তরের অপেক্ষা না করে, লোকটাই বলতে আরম্ভ করল, প্যাকেট পাঠানো একটা ছল। তোদের এইজন্য পাঠিয়েছিল যে তোরা ফিরে এসে বলবি যে লোকটি মরে গেছে, তাই কাউকে প্যাকেটটা দিয়ে আসতে পারিসনি। লোকটা সত্যি মরেছে কি না, সেই খবরটা শুধু আ লিম তোদের মারফত জানতে চেয়েছিল। তার নিজের যাবার সাহস ছিল না, পাছে পুলিশের হাতে পড়ে, কিংবা আমাদের হাতে পড়ে।

    লোকটা জামার হাতায় মুখটা মুছে নিয়ে বলল, ঠিক সময়ে খবর পেলে আ লিমের অবশ্য নিস্তারও ছিল না। আমি যে আবার একটু কাজে বাইরে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে খবর পেলাম, ভাইকে শেষ করে দিয়েছে। এ খবরও পেলাম দুটো পুঁচকে ছোঁড়া ভিতরে ঢুকেছে, কিন্তু বের হতে কেউ দেখেনি। এ কদিন তোরা কোথায় ছিলি?

    কোথায় ছিল বলতে গিয়েই দিপু থেমে গেল। তারা যে এদের পালাবার গুপ্ত সুড়ঙ্গ দেখেছে সে কথা জানতে পারলে লোকটা হয়তো আরও খেপে যাবে।

    হাতে তো রিভলভার রয়েইছে, আঙুলের একটু কারসাজি, ব্যাস, তাদের দুটো দেহ মেঝেয় লুটাবে।

    তাই দিপু একটু ভেবে নিয়ে বলল, কী করব—চারদিকে সাপ। আমরা ভয়ে রান্নাঘরে ঢুকে বসে ছিলাম।

    সাপ তো কাচের জারের মধ্যে।

    বেরিয়ে আসতে কতক্ষণ, তপু বলল, যেভাবে জারের ওপর ছোবল দিচ্ছিল।

    হুঁ, লোকটাও যেন কী ভাবল, তারপর বলল, আমি নদীর ওপারে কদিন পাহারা দিচ্ছি। প্রায় সারা দিনরাত। জানি, একদিন তোদের এপারে আসতেই হবে। আজ তোদের বাগে পেয়েছি।

    দিপু বলল, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমাদের কোনও দোষ নেই। এসব ব্যাপারের আমরা কিছু জানি না। আমরা জাহাজ থেকে নেমে আ লিমের কবলে পড়েছি।

    আবার লোকটা হাসল, ছাদ-ফাটানো হাসি।

    বলল, ওসব মায়াকান্নায় আমি ভুলি না। তোদের নিস্তার নেই। আ লিমের দলের কারো পরিত্রাণ নেই। নে, কে তোদের ইষ্টদেবতা তার নাম কর। দু-মিনিট সময় দিচ্ছি।

    এবার দিপু আর তপু দুজনেই ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, আমাদের কথা বিশ্বাস করো। আমরা তোমাকে একটুও মিথ্যা বলিনি।

    চোপ। একটা কথাও নয়।

    চমকে উঠে দিপু আর তপু পরস্পরকে জড়িয়ে ধরল।

    ইষ্টদেবতার নাম তপু আর দিপুর জানা নেই।

    দিপুর চোখের সামনে তার বাবা আর মা-র চেহারা ভেসে উঠল। তপুর মনে এল তার অসহায় মায়ের ছবি।

    আর জীবনে কোনওদিন তাদের সঙ্গে দেখা হবে না। তারা জানতেও পারবে না, কীভাবে বিদেশে বেঘোরে দুটি কিশোর প্রাণ হারাল।

    হয়তো কাজ শেষ করে এই নরাধম দুজনের দেহ মাটিতে পুঁতে ফেলবে, তারপর মাংসের গন্ধে কুকুর-শেয়ালের দল সেই দেহ বের করে নিয়ে নিজেদের ভোজে লাগাবে।

    হয়েছে। এবার দাঁড়া সোজা হয়ে।

    রুক্ষ কঠিন কণ্ঠস্বর।

    দুজন দুজনকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। দুজনের চোখ জলে ভরতি। সামনের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সব অস্পষ্ট।

    আর দু-এক মিনিটের মধ্যে চোখের সামনে চিরদিনের মতন অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে।

    দুম।

    আচমকা একটা শব্দ। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের একমাত্র বাতি নিভে গেল।

    ভারী একটা জিনিস পড়ার আওয়াজ।

    অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারল না। মনে হল দুটো লোক যেন ধস্তাধস্তি করছে। প্রাণপণ বিক্রমে। মরণপণ করে।

    অন্ধকারে দিপু হাত বাড়িয়ে তপুর হাতটা আকর্ষণ করে।

    পালিয়ে যাবার ইঙ্গিত।

    দুজনে আস্তে আস্তে দরজার কাছে এসে দাঁড়াল।

    সন্তর্পণে দরজাটা ঠেলে বাইরে চলে এল।

    বাইরে খুব অন্ধকার নয়। তরল জ্যোৎস্নায় সবকিছু প্রায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

    দুজনে ছুটতে লাগল ঊর্ধ্বশ্বাসে।

    রাস্তার কাছ বরাবর এসে দুজনে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    তপু বলল, না, রাস্তার দিকে যাওয়াটা ঠিক হবে না। আমাদের কেউ না কেউ দেখে ফেলবে। তার চেয়ে আয় আমরা জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ি।

    একটু ইতস্তত করে দুজনে জঙ্গলে ঢুকে পড়ল।

    বিরাট কতকগুলো গাছ। বোধহয় বট আর অশ্বত্থ। বড়ো বড়ো ঝুরি নেমেছে ডাল থেকে। তলায় অনেক আগাছা।

    যদি সাপখোপের উপদ্রব না থাকে তাহলে লুকোবার পক্ষে আদর্শ জায়গা।

    রাস্তা বেশি দূর নয়।

    দুজনে গুঁড়ি দিয়ে একটা ঝোপের পাশে বসল।

    দিনের আলো ফুটুক, তারপর রাস্তায় বের হবে।

    বোধহয় এক ঘণ্টার বেশি।

    দুজনে দেখল, বাড়ির দিক থেকে একটা আলো এগিয়ে আসছে।

    ঠিক এইরকম আলো ওদের অনুসরণ করছিল।

    দুজনে বুকে হেঁটে হেঁটে রাস্তার ধারের একটা গাছের আড়ালে বসল।

    কাছে আসতে বুঝতে পারল একটা সাইকেল।

    এতক্ষণ সাইকেলটা খুব জোরে আসছিল, রাস্তার কাছে আসতেই তার গতি কমে গেল।

    রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আরোহী কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক দেখল, তারপর দ্রুতবেগে চলে গেল শহরের দিকে।

    সাইকেল পথের বাঁকে অদৃশ্য হয়ে যেতে দিপু বলল, লোকটাকে দেখেছিস?

    তপু ঘাড় নাড়ল—হুঁ, আ লিম।

    তার মানে, এ লোকটাও হয়তো খুন হল।

    খুন?

    নিশ্চয়, লোকটাকে খুন না করে আ লিম বের হত না।

    আ লিম আমাদের নিয়ে গেল না সঙ্গে করে?

    এতক্ষণ বোধহয় বাড়িতে আমাদেরই খোঁজ করছিল। রাস্তায় এসেও এদিক-ওদিক দেখছিল আমাদের খোঁজে। তপু বলল।

    আমাদের দেখতে না পেয়েছে ভালোই হয়েছে, আ লিমের ফাঁদে আর নিজেদের জড়াতে চাই না।

    দিপু চোখ বন্ধ করে হাই তুলল।

    ক্লান্তিতে দুজনের শরীর ভেঙে পড়ছে। চোখ খুলে রাখাই দুষ্কর। গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে দুজনে চোখ বুজল।

    ঘুম ভাঙল পাখির কলরবে। ভোর হয়েছে। রাস্তা দিয়ে দু-একজন লোক চলছে। সকলেরই মাথায় ঝুড়ি। ঝুড়ি ভরতি আনাজ-তরকারি।

    গ্রাম থেকে তরিতরকারি নিয়ে বোধহয় শহরে যাচ্ছে। বিক্রির জন্য।

    দুজনে উঠে রাস্তায় এল।

    একজনকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল, শহর এখান থেকে কতদূর?

    লোকটা বর্মি, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল, তারপর হাত-মুখ নেড়ে কী বলতে বলতে চলে গেল।

    বোঝা গেল, এদের ভাষা লোকটা বুঝতে পারল না।

    দুজনে হাঁটতে আরম্ভ করল। পেটের মধ্যে আবার মোচড় দিচ্ছে। কিছু একটু খেতে পেলে হত।

    ভাগ্য ভালো। এবার যে লোকটা দুধের বালতি নিয়ে পাশ কাটিয়ে গেল, তাকে হিন্দুস্থানি বলেই মনে হল।

    দিপু জিজ্ঞাসা করল, এখান থেকে শহর কতদূর?

    কোন শহর?

    তপু বলল, রেঙ্গুন।

    নামটা সারেংদের মুখে জাহাজে সে শুনেছিল।

    রেঙ্গুন? বিস্ময়ে লোকটা দুটো চোখ কপালে তুলল, তোমরা হেঁটে রেঙ্গুন যাবে নাকি? সে তো এখান থেকে অনেক দূর। এ জায়গার নাম কেমেনডাইন। তার চেয়ে এক কাজ করো, খানিকটা এগিয়ে গিয়ে বাঁহাতি একটা রাস্তা পাবে, সেটা ধরে গেলে স্টেশনে পৌঁছে যাবে। সেখান থেকে বরং ট্রেনে চেপে যাও।

    লোকটা আর দাঁড়াল না। তিরবেগে ছুটে চলে গেল।

    দিপু বলল, ট্রেনে তো চাপব, কিন্তু ভাড়া? শেষকালে হাজতে পুরবে।

    তপু কী ভাবল, তারপর বলল, স্টেশনের কাছে হয়তো খাবারের দোকান থাকবে। আমাদের কাছে যা পয়সা আছে তাতে দু-একটা পাঁউরুটি নিশ্চয় পাওয়া যাবে। কিন্তু একটু পেটে না পড়লে চোখে অন্ধকার দেখছি।

    স্টেশন পর্যন্ত আর যেতে হল না। পথেই পাওয়া গেল।

    একটা টিনের চালা। গোটাকয়েক বেঞ্চ আর টেবিল পাতা। গোটাকতক লোক মগে করে চা খাচ্ছে। পোশাক দেখে শ্রমিকশ্রেণির বলেই মনে হল।

    কোণের দিকে একটা বেঞ্চে দিপু আর তপু বসে পড়ল। চায়ের অর্ডার দিতে গিয়েই মনে পড়ে গেল, তাদের কাছে একটি পয়সাও নেই। সব পয়সা সাম্পানের মাঝিকে দিয়েছে।

    দিপু উঠে দাঁড়িয়ে বলল, এ রাস্তা দিয়ে দু-একটা লরি গেলে বড়ো ভালো হয়। থামিয়ে আমরা উঠে পড়ি।

    তপু হেসে বলল, খিদিরপুরে যাওয়ার মতন?

    দিপু ঘাড় নাড়ল—হুঁ।

    কিন্তু এক ঘণ্টার ওপর অপেক্ষা করেও কোনও লরির সাক্ষাৎ পাওয়া গেল না। একটা গোরুর গাড়ি এল, তরকারিতে ঠাসা বোঝাই। তিলধারণের স্থান নেই। সেটাতে ওঠা অসম্ভব।

    বাধ্য হয়েই আবার হাঁটতে শুরু করল।

    একটু পরেই ট্রেনের শব্দ পাওয়া গেল। মনে হয় এতক্ষণ বোধহয় থেমে ছিল, এইবার ছাড়ছে।

    তার মানে, স্টেশন খুব দূরে নয়।

    সত্যি তা-ই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }