Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভয়ের মুখোশ – ৫

    ৫

    একটা বাঁক ঘুরতেই স্টেশন দেখা গেল। সামনে অনেকগুলো রিকশা আর মোটরের ভিড়। কিছু লোকও ছোটাছুটি করছে।

    দুজনে স্টেশনের এলাকার মধ্যে গিয়ে দাঁড়াল।

    একটা সান্ত্বনা, এখানে অনেক লোকজন রয়েছে, কেউ হঠাৎ কোনও ক্ষতি করতে পারবে না।

    দিপু আর তপু লোহার বেড়ার ফাঁক দিয়ে প্ল্যাটফর্মের ওপর চলে এল। অনেকগুলো বেঞ্চ পাতা রয়েছে। তার একটার ওপর গিয়ে বসল।

    দিপুই বলল, এখানে বসে ট্রেনের চলাচল লক্ষ করি। যে ট্রেনে দেখব ভিড় বেশি, সেটাতে চড়ে বসব। তাহলে বিনা টিকিটে শহরে গিয়ে পৌঁছাতে পারব।

    তপু কিছু বলল না। চুপচাপ বসে রইল।

    অনেকগুলো ট্রেন এল, গেল, কিন্তু দুজনে সাহস করে চড়তে পারল না।

    এদিকে বেলা বাড়ছে। এভাবে কতক্ষণ বসে থাকবে প্ল্যাটফর্মে?

    কে তোমরা?

    গম্ভীর আওয়াজে দুজনেই চমকে মুখ ফেরাল।

    রেলের পোশাক-পরা একজন টিকিট চেকার এসে দাঁড়িয়েছে।

    ভদ্রলোক বাঙালি। পরিষ্কার উচ্চারণ।

    দিপু বলল, আমাদের পয়সা নেই, তাই ট্রেনে চড়তে পারছি না।

    যাবে কোথায় তোমরা?

    শহরে।

    তার মানে রেঙ্গুনে। সেখানে কে আছে?

    এবার দিপু আর তপু কথা বলতে পারল না। কী বলবে? কে আছে শহরে? কার কাছে তারা যাবে?

    কী হল? একেবারে থেমে গেলে যে?

    আমরা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি, মানে বাংলা দেশ থেকে।

    তোমাদের চেহারা দেখে সেইরকমই মালুম হচ্ছে। ওঠো, এসো আমার সঙ্গে।

    দিপু আর তপু দাঁড়িয়ে উঠল।

    তপু বলল, কোথায়?

    শ্বশুরবাড়ি নিশ্চয় নয়। গেলেই বুঝতে পারবে।

    দুজনকে নিয়ে টিকিট চেকার প্ল্যাটফর্মের বাইরে এল।

    টিকিটঘরের সামনে প্রহরারত একজন বর্মি পুলিশ ছিল, তাকে হাত নেড়ে ডাকল।

    পুলিশ আসতে তাকে চাপা গলায় ফিসফিস করে কী বলল।

    পুলিশ মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল।

    টিকিট চেকারের কান বাঁচিয়ে দিপু বলল, এবার উপায়?

    তপু মৃদুকণ্ঠে উত্তর দিল, ঠিক আছে, পুলিশেই দিক। আর এভাবে ঘুরতে পারছি না। যা বলবার পুলিশের কাছেই বলব।

    একটু পরেই পুলিশ ফিরে এল। হেঁটে নয়, লাল একটা ভ্যানে চড়ে। ভ্যানের মধ্যে থেকেই দিপু আর তপুকে ইশারায় ডাকল।

    দিপু আর তপু একটু ইতস্তত করে ভ্যানে উঠে বসল।

    দরজা বন্ধ হতে সব অন্ধকার। বাইরের কিছু বোঝবার উপায় নেই।

    শুধু এইটুকু বোঝা গেল, মোটর খুব দ্রুতবেগে বাঁকের পর বাঁক পার হচ্ছে।

    একসময় ভ্যান থামল।

    পুলিশ নেমে দরজা খুলে দিল।

    ছোটো একতলা বাড়ি। সামনে কতকগুলো পুলিশ ঘুরছে। গোটাকয়েক মোটর সাইকেলও রয়েছে।

    নামো। নামো।

    পুলিশের হাত নাড়ার ভঙ্গিতে মনে হল নামতে বলছে। দিপু আর তপু নেমে পড়ল।

    সামনের ঘরে বিরাটবপু একটি পুলিশ অফিসার। তার কানে কানে পুলিশ কী বলতেই সে হাত দিয়ে কোণের একটা ঘর দেখিয়ে দিল।

    সেইদিকেই বোধহয় হাজত। দিপু আর তপুকে হাজতে কাটাতে হবে।

    ঠিকই তা-ই, এবার পুলিশ দিপু আর তপুর শার্টের কলার ধরে টেনে নিয়ে চলল।

    বাধা দিয়ে লাভ নেই, তাহলে নির্যাতন শুরু হবে।

    দিপু আর তপু ভাবল, রাখুক হাজতে, আপত্তি নেই, শুধু যেন খেতে দেয়। না খেতে দিয়ে না মারে।

    দরজা খুলে তার মধ্যে দুজনকে ঢুকিয়ে পুলিশ সজোরে দরজা বন্ধ করে দিল।

    হাঃ, হাঃ, হাঃ, হাঃ।

    হাসির শব্দে দুজনে চমকে মুখ তুলল, তারপর আর অনেকক্ষণ চোখ নামাতে পারল না।

    কোণের দিকে একটা বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে আ লিম।

    দিপু বলল, সর্বনাশ, তাহলে সবটাই ফাঁকি! টিকিট চেকার, পুলিশ সব নকল? আমাদের ধরে আনার ফন্দি!

    কোথায় পালিয়েছিলি শয়তানের বাচ্চারা? আ লিম বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন করল।

    তপু বলল, আপনি যেখানে পাঠিয়েছিলেন, সেখানে গিয়েছিলাম। তারপর বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম, আপনি তো কিছু করলেনও না।

    চোপরাও মিথ্যেবাদী, আ লিম গর্জন করে উঠল, সর্বনাশ করে এসেছিস। যে প্যাকেটটা দিয়েছিলাম, সেটা টেবিলের ওপর রেখে এসেছিস। সেই প্যাকেট পুলিশের হাতে পড়েছে।

    দিপু আর তপু ভাবতে শুরু করল।

    চেয়ারে বসা লোকটার কাছে গিয়ে প্যাকেটটা টেবিলের ওপরই তারা রেখে এসেছিল, তারপর লোকটা আচমকা মেঝের ওপর পড়ে যাওয়ার পর থেকে সবকিছু গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। প্যাকেটের কথা আর মনেই ছিল না। সেই প্যাকেটটা পড়েছে পুলিশের হাতে।

    কী, চুপ করে আছিস যে?

    দিপু বলল, লোকটা মারা গেছে দেখে আমরা এমন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে আর কিছু মনে ছিল না আমাদের।

    মনে ছিল না আমাদের! আ লিম ভেংচি কাটল, এতদিন আমার দলে রয়েছিস, কাজ করেছিস আমার সঙ্গে, আর খেয়াল নেই যে প্যাকেটের ওপর আমার গুপ্ত আস্তানার ঠিকানা রয়েছে?

    এবার তপু প্রতিবাদ করল, কতদিন আবার আছি আপনার সঙ্গে? আমরা কি আপনার দলের লোক? আপনি তো কদিন হল ভুলিয়ে আমাদের ধরে রেখেছেন।

    দিপুও সঙ্গে সঙ্গে বলল, আমাদের জাহাজে উঠিয়ে দিন, আমরা যে দেশের ছেলে সে দেশে চলে যাই। এসব ঝামেলা আমাদের ভালো লাগছে না।

    আ লিম ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, থানার মধ্যে বসে ইনিয়েবিনিয়ে খুব মিথ্যা কথা বলছিস। তবে, শুনে রাখ, এটা মোটেই থানা নয়। সব সাজানো ব্যাপার। আমার আর-এক কারসাজি। মিথ্যা কথা বললে প্রাণ নিয়ে এখান থেকে বের হতে পারবি না।

    দিপু অবাক কণ্ঠে বলল, বা রে, মিথ্যা বলছি কি না, আপনি জানেন না? আমরা এ দেশে এসেছি দশ দিনও নয়। এ দেশের ভাষা জানি না, পথঘাট চিনি না। তার ওপর পদে পদে বিপদ ঘটছে। আপনি সে লোকটার ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়লে, সে তো বন্দুকের গুলিতেই খতম করে দিত আমাদের দুজনকে।

    কোন লোকটা? আ লিম চেয়ারে একটু নড়েচড়ে বসল।

    পোড়োবাড়িতে যে লোকটা মারা গিয়েছিল তার যমজ ভাই। সে-ই তো রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, ভান করে, আমরা তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়ে বিপদে পড়লাম।

    আ লিম নির্বাক। একটি কথাও বলল না।

    তপু প্রায় কান্না-জড়ানো গলায় বলল, আপনার দুটি হাত ধরে মিনতি করছি আমাদের কোনওরকমে জেটিতে পৌঁছে দিন। আমরা যেমন করে পারি ফেরবার ব্যবস্থা করব।

    তপুর কথা শেষ হতেই এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটল।

    আ লিম দাঁড়িয়ে উঠে দু-হাতে নিজের মুখটা চাপল, তারপরই পাতলা রবারের মুখোশটা তার পায়ের তলায় খসে পড়ল।

    কোথায় আ লিম! এ তো সম্পূর্ণ অন্য একটা লোক!

    টকটকে গৌরবর্ণ, কোঁকড়ানো পিঙ্গল চুলের রাশ, তীক্ষ্ন দু-চোখের দৃষ্টি।

    দিপু আর তপু আর্তনাদ করে পিছনে সরে গেল।

    শোনো, ভয় পেয়ো না, জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বর, আমি আ লিম সেজে তোমাদের পরীক্ষা করছিলাম। মনে হচ্ছে, তোমরা আ লিমের দলের নও। ভয় দেখিয়ে আ লিম তোমাদের দিয়ে তার কাজ হাসিল করত। একটা বড়ো সুবিধা, তোমরা পথঘাট চেনো না, এ দেশের ভাষাও জানো না, কাজেই তোমরা প্রায় অন্ধ আর বোবা লোকের শামিল।

    অনেক কষ্টে সাহসে ভর করে দিপু প্রশ্ন করল। আপনি কে?

    আমি গোয়েন্দা ম্যালকম। অনেকদিন থেকেই আমি আ লিমের দলের সন্ধানে রয়েছি। তোমাদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

    বলুন।

    পোড়োবাড়িতে যে একটা খুন হবে, আমি জানতাম, কিন্তু আমার পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল। সেখানে গিয়ে তো তোমাদের দেখতে পেলাম না। অথচ তোমরা বলছ, মৃত লোকটা চেয়ারের ওপর বসে ছিল, তোমাদের ধাক্কায় মেঝেয় লুটিয়ে পড়েছে।

    তপু বলল, আমরা গুপ্ত সুড়ঙ্গের মধ্যে ছিলাম।

    গুপ্ত সুড়ঙ্গ? ওখানে গুপ্ত সুড়ঙ্গ আছে? গুপ্ত সুড়ঙ্গ যে আছে, তা-ই বা তোমরা জানলে কী করে? গোয়েন্দা ম্যালকমের চোখে যেন সন্দেহের ছায়া নামল।

    দিপু বলল, আমাদের একবার নিয়ে চলুন সেখানে, তাহলেই সব বুঝতে পারবেন।

    ম্যালকম উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ঠিক আছে, চলো তাহলে।

    তপু আর পারল না। বলেই ফেলল, তার আগে কিছু আমাদের খেতে দিন। অনেকক্ষণ কিছু খাইনি।

    ও, আমি ভারী দুঃখিত। এ কথাটা আমার মনেই ছিল না।

    থানার একটা ঘরেই খাওয়ার ব্যবস্থা হল। বেশ ভালো ব্যবস্থা।

    আহার শেষ হতে তিনজনে থানার সামনে দাঁড়ানো মোটরে গিয়ে উঠল।

    ম্যালকমই চালাল। পিছনের সিটে দিপু আর তপু।

    সেই নদীর ধার! তিনজনে আবার সাম্পানে উঠল।

    হাঁটাপথ ধরে গিয়ে পোড়োবাড়িতে উপস্থিত হল।

    ম্যালকম হাতলের কারসাজি দেখল। তারপর তিনজনে সুড়ঙ্গপথে নেমে গেল। ম্যালকমের হাতে জোরালো টর্চ।

    দিপু বলল, এই দেখুন, এই বস্তার বালিশে আমরা শুয়েছি।

    ম্যালকম হাঁটু মুড়ে বসে কোমর থেকে ছোরা বের করে বস্তার গায়ে বসিয়ে দিল। ফুটো দিয়ে ঝুরঝুর করে কীসের গুঁড়ো ঝরে পড়ল।

    ম্যালকম সেই গুঁড়ো হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ পরীক্ষা করে দেখে বলল, এসব হচ্ছে কোকেন। নেশার জিনিস। এইগুলোর জন্যই এদের মধ্যে শত্রুতা।

    কীসের শত্রুতা?

    সব জানতে পারবে। এখানে আর কী দেখবার আছে বল?

    ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখানো হল, তারপর তিনজনে উঠে এল।

    বাইরে বের হবার সময় ম্যালকম পকেট থেকে একটা বড়ো তালা বের করে দরজায় আটকে দিল।

    তপু সব লক্ষ করে বলল, এর আগে দরজায় তালা দেননি কেন?

    দিইনি তার কারণ, আমি জানতাম, যে প্যাকেটটা ফেলে গেছে, সে প্যাকেট নিতে আসবে। আমি আ লিমের দলের কারো অপেক্ষায় ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির মধ্যে কদিন পরে তোমাদের বের হতে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, কারণ আমি তখন গুপ্ত সুড়ঙ্গপুরীর রহস্যের কথা জানতাম না। ভেবেই পাইনি কোথা থেকে তোমরা এলে। তাই তোমাদের পিছু নিলাম।

    পিছু নিলেন?

    হ্যাঁ, তোমরা পার হবার আগে অন্য ঘাট থেকে মোটর বোটে পার হয়ে গিয়েছিলাম।

    একটা আলো আমাদের পিছনে আসছিল।

    হ্যাঁ, সেটা আমারই সাইকেলের আলো। তারপর লোকটা আহত সেজে তোমাদের যখন বাড়ির মধ্যে নিয়ে গেল, তখনও আমি দূর থেকে তোমাদের অনুসরণ করেছিলাম। লোকটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমিই তোমাদের বাঁচাই। লোকটাকে পিছমোড়া করে বেঁধে এসেছিলাম, তারপর গ্রেপ্তার করে হাজতে রেখে দিয়েছি।

    তবু জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু লোকটা আমাদের গুলি করতে চেয়েছিল কেন? আমরা তো তার কোনও ক্ষতি করিনি।

    ম্যালকম হাসল, সে মস্ত বড়ো কাহিনি। চলো থানায় ফিরে যাই, সেখানে গিয়ে তোমাদের সব বলব।

    বিকালের দিকে থানার পাশে কোয়ার্টারের বারান্দায় তিনজন বসল। পাশাপাশি।

    একটা ইজিচেয়ারে ম্যালকম। দুটো চেয়ারে দিপু আর তপু।

    একটা চুরুট ধরিয়ে ম্যালকম বলতে আরম্ভ করল, রেঙ্গুন শহরে দুটো দল আছে। একটা আ লিমের দল, আর-একটা সোলেমানের দল। দুটো দলই আবগারি জিনিস পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে এদিক-ওদিক চালান দেয়। এসব নিষিদ্ধ জিনিসের চালানের ব্যাপারে রেষারেষি থাকেই। সেই রেষারেষি থেকে খুন ও জখম হয়। কতকগুলো লোক আছে, তাদের আফিম, কোকেনেও ভালো নেশা হয় না, তারা সাপের বিষ পর্যন্ত হজম করে।

    সোলেমান সাপের বিষ দিয়ে বড়ি তৈরি করত, বিশেষ মহলে সেই বড়ির দারুণ চল ছিল। সোলেমানের যে যমজ ভাই ছিল সেটা আমরা জানতাম না, জানতে পারলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যেত।

    কেন? তপু জিজ্ঞাসা করল।

    কারণ যতবারই এই সাপের বিষে কারো মৃত্যু হয়েছে— আমাদের সন্দেহ থাকলেও সোলেমানকে ধরতে পারিনি, কারণ সাক্ষীরা চেহারার যে বিবরণ দিয়েছে তাতে বেশ বোঝা গেছে যে সোলেমানই বড়ির প্যাকেট সে বাড়ির মালিককে দিয়েছে। সোলেমানকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে কয়েকবার, কিন্তু প্রত্যেকবারই সে নির্ভুলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে যে সেই সময় সে ঘটনাস্থল থেকে তিনশো কি দুশো মাইল দূরে ছিল।

    কী করে? দিপু অবাক হল।

    যখন এক জায়গায় সোলেমান বড়ির প্যাকেট দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তার যমজ ভাই দুশো মাইল দূরের কোনও শহরে জজ-ম্যাজিস্ট্রেট-সিভিল সার্জনদের একটা বিরাট পার্টি দিয়েছে। তাঁরা সবাই একবাক্যে বলেছেন যে সোলেমান সেই সময়ে তাঁদের মধ্যে ছিল। দুজনেই এক নাম ব্যবহার করত, এবং চেহারার এত মিল, যা তোমরা নিজেদের চোখেই দেখেছ যে, একজনকে আর-একজন ভাবা খুবই স্বাভাবিক।

    সোলেমানকে খুন করেছিল তারই এক সহকারী।

    সহকারী? তপু জিজ্ঞাসা করল।

    হ্যাঁ। আ লিম তাকে টাকা দিয়ে নিজের দলে নিয়ে এসেছিল।

    কিন্তু কী করে মারল? তার দেহে তো কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখলাম না।

    তোমরা আর কী করে দেখবে? আমাদেরই অনেক খোঁজ করে আঘাতের চিহ্ন বের করতে হয়েছিল। ডাক্তার মৃত্যুর কারণ বলেছিল বিষপ্রয়োগ। এমন তীব্র বিষ যে মুখে দিলে মুখ পুড়ে যাবার কথা। তারপর অনেক চেষ্টার পর ঘাড়ে একটা ছোটো দাগ দেখতে পেলাম। বুঝতে পারলাম, ঘাড়ের পেশির ওপর কেউ ইঞ্জেকশন দিয়েছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু।

    ম্যালকম একটু দম নিল, তারপর বলল, সোলেমানকে যে আ লিমের লোক মেরেছে সেটা তার ভাই সন্দেহ করেছিল। তোমরা আ লিমের দলের লোক সেটাই তার বিশ্বাস, অবশ্য আমার নিজেরও তা-ই ধারণা ছিল। সেইজন্যই সোলেমানের ভাই তোমাদের খতম করে দিতে চেয়েছিল।

    তাকে আপনি কি মেরে ফেলেছেন? দিপু ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল।

    না, না, ম্যালকম হাসল, আমরা পুলিশ, আমরা মানুষ মারি না। বললাম যে তাকে হাজতে রেখেছি। অনেক কিছু কথা ইতিমধ্যে সে বলেও ফেলেছে।

    কিন্তু আপনি আ লিমের ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন কেন?

    তপুর এই প্রশ্নের উত্তরে ম্যালকম আবার মুচকি হাসল, তারপর বলতে লাগল, যদি সত্যি তোমরা আ লিমের দলের হতে তাহলে আ লিমের কাছে সবকিছুই বলতে। এভাবে বার বার তার দলের লোক নও বলে আপত্তি করতে না। তোমাদের মুখের চেহারা, কথাবার্তার ধরন দেখেই বুঝতে পারলাম, তোমাদের আ লিম ধরে এনেছে। তার দলে অনেক ছোটো ছোটো ছেলে আছে তা জানতাম, আর এও জানতাম যে এইসব ছেলেদের বেশি দিন দলে রাখে না। কিছু কাজ করে নিয়ে শেষ করে দেয়। তোমাদেরও তা-ই দিত।

    আমাদেরও দিত?

    হ্যাঁ দিত, কারণ সব গুপ্ত আস্তানার সন্ধান জানে এমন ছেলে বেঁচে থাক এটা সে চায় না। কোথায় কোথায় সে নিষিদ্ধ জিনিস চালান দেয়, এসব জানে এমন লোক থাকুক, এটাও তার অভিপ্রায় নয়!

    আ লিমকে ধরেছেন আপনারা?

    না, ম্যালকম আস্তে আস্তে মাথা নাড়ল, এখনও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। তার জুয়ার আড্ডায় একবার আমরা হানা দিয়েছিলাম, কিন্তু কাউকে ধরতে পারিনি। সকলে পলকের মধ্যে যেন উধাও হয়ে গিয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে সেখানেও বোধহয় কোনও হাতলের কারসাজি ছিল।

    দিপু আর তপু একসঙ্গে ঘাড় নাড়ল, হ্যাঁ, আপনাদের হামলার সময় আমরাও সেখানে ছিলাম। সেখানেও এক সুড়ঙ্গপথ আছে নদী পর্যন্ত।

    ম্যালকম এবারে খুব মৃদুকণ্ঠে বলল, সেই গুপ্ত আস্তানার সন্ধান সেবারেও একটি ছেলে দিয়েছিল। আ লিমের দলের ছেলে। জাতে বর্মি। বেচারি।

    কেন, বেচারি কেন? তপু প্রশ্ন করল।

    তাকে আমি তোমাদের মতনই নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিলাম। বিশেষ করে বলে দিয়েছিলাম, যেন বাড়ির বাইরে না যায়। কিছুদিন ছেলেটি আমার কথা শুনেছিল। বাড়ির মধ্যেই ছিল! কিন্তু ক্রমে ক্রমে তার সাহস বাড়ল। প্রথমে বাগানে ঘুরে বেড়াত, একদিন বাড়ির বাইরে গিয়েছিল, আর ফিরে আসেনি।

    ফিরে আসেনি?

    না, জীবন্ত আর ফিরে আসেনি। দিন তিনেক পরে আমার নামে একটা পার্সেল এসেছিল। আমার এক বোন থাকে ইয়েমেদিনে, তার কাছ থেকে। খুলেই চমকে উঠেছিলাম।

    কী ছিল তাতে? দিপু জিজ্ঞাসা করল।

    সেই ছেলেটির মাথা!

    দিপু আর তপুর কণ্ঠ থেকে ভয়ার্ত স্বর বের হল।

    সঙ্গে একটা চিঠিও ছিল। তাতে লেখা, আ লিম বিশ্বাসঘাতককে ক্ষমা করে না।

    চেয়ার ছেড়ে দিপু আর তপু ম্যালকমের দু-পাশে এসে দাঁড়াল।

    তপু বলল, তাহলে কী হবে? আমরা কী করে বাঁচব?

    ম্যালকম দুটো হাত প্রসারিত করে দুজনের পিঠে রাখল। বলল, ভয় নেই, তোমরা যদি এ বাড়ির বাইরে না যাও তাহলে কোনও ক্ষতি কেউ তোমাদের করতে পারবে না। আমি বাড়ির চারপাশে সাদা পোশাকে পাহারাও রেখেছি, তারা তোমাদের ওপর দৃষ্টি রাখবে।

    আমরা আমাদের ঘর থেকেই বের হব না। দিপু কাঁপা গলায় বলল।

    ম্যালকম বলল, উপস্থিত কালই তো আমাদের সঙ্গে বের হতে হবে। সেই গুপ্ত আস্তানা আমরা চিনি, কিন্তু সুড়ঙ্গপথটা আমাদের দেখিয়ে দিতে হবে।

    দিপু আর তপুর বিবর্ণ মুখের দিকে চেয়ে ম্যালকম আবার বলল, কোনও ভয় নেই, আমাদের সঙ্গে বন্দুক-পিস্তল নিয়ে কিছু পুলিশ থাকবে।

    একটা কালো মোটর। ভিতরে ম্যালকম, দিপু আর তপু। সঙ্গে গোটা ছয়েক পুলিশ। বন্দুক আর পিস্তল উঁচিয়ে।

    খুব সাবধানে চারদিকে দৃষ্টি রেখে মোটর এগিয়ে চলল।

    পথে কোনও লোক কৌতূহলবশত দাঁড়ালেই পুলিশ চিৎকার করে তাদের হটিয়ে দিল।

    অনেকটা যাবার পর ম্যালকম ড্রাইভারকে কী বলল।

    পাশে নদী! এদিকে ঝাঁকড়া গাছের সার।

    ম্যালকম বলল, ঠিক আছে, এটাই সেই আস্তানা, যেখানে একবার আমরা এসেছিলাম। এই তো আগাছার ঝোপ আর ইটের পাঁজা।

    দিপু আর তপুর দিকে ফিরে ম্যালকম বলল, এবার আস্তে আস্তে নেমে এসো তোমরা।

    দিপু আর তপু নামতে যাবার মুখেই বিপর্যয়।

    দারুণ একটা শব্দে আশপাশের মাটি থরথর করে কেঁপে উঠল। ধুলার বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।

    ম্যালকম আচমকা দিপু আর তপুর হাত ধরে শুইয়ে না দিলে মারাত্মক কাণ্ড হত। মোটরের জানলার কাচগুলো ভেঙে চারদিকে ছিটকে পড়ল। সেই কাচের একটা খণ্ড শরীরে লাগলে খুবই বিপদ হত।

    ম্যালকম নিজেও সটান শুয়ে পড়েছিল।

    অনেকক্ষণ পরে ম্যালকম উঠে বসল। এদিক-ওদিক দেখে সবাইকে বলল, উঠে পড়ো।

    পুলিশরাও এদিক-ওদিক টান হয়ে শুয়ে পড়েছিল। এবার তারাও উঠে দাঁড়াল।

    বেশ একটু দূরে কিছু লোকের জটলা। আওয়াজ শুনে এসে জড়ো হয়েছে, কিন্তু সাহস করে সামনে আসতে পারছে না।

    দিপু বলল, কীসের শব্দ বলুন তো?

    ম্যালকম লাফিয়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বলল, বোমার। কেউ আমাদের লক্ষ করে বোমা ছুড়ছিল। ক্ষতি করতে পারেনি, কারণ বোমাটা আগেই ফেটে দিয়েছে।

    অনেকক্ষণ সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    ইটের পাঁজার ফাঁক থেকে তখনও অল্প অল্প ধোঁয়া বের হচ্ছে।

    বেশ কিছুক্ষণ পর ধোঁয়া কমে যেতে ম্যালকম পুলিশদের দিকে ফিরে হুকুম দিল, এগিয়ে চলো, কিন্তু খুব সাবধানে।

    প্রথমে পুলিশের দল, তারপর ম্যালকম, সব শেষে দিপু আর তপু পা টিপে টিপে এগিয়ে চলল।

    ইটের পাঁজার পাশ দিয়ে একটু নেমেই থেমে পড়ল।

    অল্প অল্প ধোঁয়া তখনও বের হচ্ছে। মেঝের অনেকটা জুড়ে কালো দাগ। নীচ দিয়ে নদীর ধারে যাবার গুপ্ত পথ খোলা রয়েছে।

    ঠিক কালো দাগের পাশে বীভৎস একটা মূর্তি। মুখের কিছু অংশ উড়ে গেছে। রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে স্থানে স্থানে।

    তবু চেনা গেল। আ লিম।

    ম্যালকম কিছুক্ষণ নিচু হয়ে মৃতদেহ পর্যবেক্ষণ করল, তারপর বলল, আ লিম বোমাটা ছুড়তে গিয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, অবশ্য আমাদের সৌভাগ্যবশত, বোমাটা ইটে ধাক্কা লেগে আবার ফিরে এসে তার গায়ের ওপরই পড়েছে। বোমাটা কী ভয়ংকর বুঝতেই পারছ। যার শব্দতরঙ্গে মোটরের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, সে বোমাটা সরাসরি পড়লে আমাদের চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যেত না।

    ম্যালকম কথা শেষ করে পুলিশদের দিকে চোখ ফেরাল। বলল, অপরাধের ফল মৃত্যু। এতদিন ধরে এ লাইনে কাজ করে এ বিষয়ে আমি নিঃসন্দেহ হয়েছি।

    সকলে আস্তে আস্তে নেমে মাঝখানে এসে দাঁড়াল।

    এইখানে জুয়ার আসর বসত। পুলিশ সেবার হামলা দেবার পর থেকে বোধহয় আসর আর বসেনি।

    দিপু বলল, গুপ্ত সড়ক তো দেখতেই পাচ্ছেন?

    ম্যালকম ঘাড় নাড়ল, হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। আ লিম রাস্তা পরিষ্কার করেই রেখেছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল, আমাদের খতম করে নদীপথে সে সরে পড়বে। নদীর ধারে নিশ্চয় যাবার ব্যবস্থাও সে করে রেখেছিল। চলো, নামি।

    সকলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে নদীর ধারে গিয়ে দাঁড়াল।

    নদীর বুকে গোটা তিনেক জাহাজ। একেবারে মাঝখানে। অনেকগুলো সাম্পান এখানে-ওখানে ভাসছে।

    অনেক দূরে ছোটো একটা কালো বিন্দু।

    ম্যালকম পকেট থেকে দূরবিন বের করে চোখে লাগিয়ে দেখল, তারপর বলল, ওই একটা মোটর লঞ্চ ছুটে দৃষ্টির বাইরে চলে যাচ্ছে। বোধহয় এই মোটর লঞ্চটাই এখানে অপেক্ষা করছিল। গোলমাল দেখে সরে পড়েছে।

    সবাই ওপরে উঠে এল।

    ম্যালকম একজন পুলিশকে ডেকে বলল, তুমি হেড কোয়ার্টারে চলে যাও। একটা ফোটোগ্রাফার নিয়ে এসে আ লিমের ফোটো তোলার ব্যবস্থা করো। আর একজন বারুদ বিশারদকেও নিয়ে আসবে। বোমার টুকরোগুলো তুলে নিয়ে রিপোর্ট দেবে।

    হঠাৎ তপুর মনে পড়ে গেল।

    একবার ওপরে চলুন, এর পাশেই আমাদের আটকে রেখেছিল।

    দিপু বলল, একটা চিতাবাঘও আছে ওখানে। ওদের কথা না শুনলে বলেছিল, আমাদের চিতাবাঘের মুখে ফেলে দেবে।

    তা-ই নাকি? ম্যালকম বলল, চলো তো দেখে আসি।

    পুলিশরা রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়াল।

    ভিতরে ঢুকল ম্যালকম, দিপু আর তপু।

    ম্যালকম হাতের পিস্তলটা উঁচু করে ধরে রইল।

    দরজায় বিরাট একটা তালা।

    একবার টেনে দেখে ম্যালকম বেরিয়ে এসে একটা পুলিশকে ডাকল।

    পুলিশ কাছে আসতে তাকে নিচু গলায় কী বলতেই সে ছুটে মোটরের ভিতর থেকে চাবির গোছা নিয়ে এল।

    ম্যালকম একটা-দুটো করে কয়েকটা চাবি তালার মধ্যে ঘোরাতে ঘোরাতে শব্দ করে তালাটা খুলে গেল।

    আনন্দে দিপু চিৎকার করে উঠল, খুলেছে, খুলেছে।

    দরজাটা ঠেলে দিপু ভিতরে ঢুকল।

    সঙ্গে সঙ্গে একটা গর্জন। দিপুর মনে হল পীত রঙের একটা বিদ্যুৎ এককোণ থেকে ছুটে এল।

    সেই মুহূর্তেই প্রচণ্ড এক ধাক্কায় দিপু হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল।

    গুড়ুম।

    ম্যালকমের পিস্তল অগ্নিবর্ষণ করল। অব্যর্থ লক্ষ্য।

    দিপু যখন চোখ মেলল, দেখল মাথার কাছে ম্যালকম আর তপু বসে।

    ম্যালকম জিজ্ঞাসা করল, কী শরীর ঠিক হয়েছে?

    ঘাড় নেড়ে দিপু উঠে বসতেই তার চোখে পড়ে গেল, কোণের দিকে চারটে পা প্রসারিত করে চিতাবাঘটা পড়ে রয়েছে। মৃত।

    ম্যালকম বলল, বোঝা গেল, এটা শুধু আ লিমের বন্দিশালা। নতুন নতুন যাদের ধরে আনত, তাদের এই ঘরে আটকে রাখত। চিতাবাঘের ভয় দেখাত। চলো, এবার বাইরে যাই।

    তিনজনে বাইরে এসে দাঁড়াল।

    ম্যালকমের ইঙ্গিতে দুজন পুলিশ বাঁশে বেঁধে চিতাবাঘের দেহটাও তুলে নিল।

    ফেরবার সময় পুলিশের কালো মোটর নয়, ছোটো একটা সবুজ মোটরে তিনজন ফিরল।

    গাড়িতে উঠে ম্যালকম বলল, মোটর বদলালাম। কারণ আমার মনে হচ্ছে আ লিমের অনুচরেরা সহজে ছাড়বে না। কালো মোটরের ওপর নজর রাখবে।

    কেন, নজর রাখবে কেন?

    তপু প্রশ্ন করল।

    রাখবে, তার প্রথম কারণ, প্রতিশোধস্পৃহা। আমাকে খতম করার চেষ্টা করবেই। দ্বিতীয় কারণ, আ লিমের মৃতদেহ।

    আ লিমের মৃতদেহ? কেন?

    দিপু আশ্চর্য হল।

    আমার মনে হচ্ছে, কিছু কাগজপত্র বা অন্য কিছু তার কাছে আছে, সে তো দলপতি।

    তপু জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু আপনি তো আ লিমের দেহ সার্চ করেছেন?

    ম্যালকম গম্ভীরকণ্ঠে বলল, তা করেছি। কিন্তু কিছুই পাইনি।

    তবে?

    তপুর এ প্রশ্নের ম্যালকম কোনও উত্তর দিল না। বাইরের দিকে চোখ মেলে চুপ করে বসে রইল।

    যথাসময়ে মোটর থানার সামনে এসে দাঁড়াল।

    দিপু আর তপু ম্যালকমের বাড়ির মধ্যে চলে গেল। ম্যালকম থানায় ঢুকল।

    ম্যালকম যখন ফিরল, তখন বেশ রাত।

    দিপু আর তপু খাওয়া শেষ করে বারান্দায় বসে ছিল, ম্যালকম ওপরে এল।

    কী, তোমরা এখনও শুয়ে পড়োনি?

    আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।

    হুঁ।

    গম্ভীর মুখে ম্যালকম একটা চেয়ারে বসে পড়ল।

    কিছুক্ষণ পরে ম্যালকম বলল, আমি যা ভেবেছিলাম, ঠিক তা-ই হয়েছে।

    দিপু আর তপু একসঙ্গেই জিজ্ঞাসা করল, কী, কী হয়েছে?

    কালো ভ্যানের ওপর আবার আক্রমণ হয়েছে।

    আক্রমণ?

    হ্যাঁ, ভিড়ের মধ্যে থেকে কে আবার ড্রাইভারকে লক্ষ করে বোমা ছুড়েছিল, কিন্তু এমন একটা ব্যাপার হতে পারে এ বিষয়ে আমি আগেই সজাগ করে দিয়েছিলাম, তাই বিশেষ কোনও ক্ষতি হয়নি। আ লিমের মৃতদেহ নিয়ে মোটর ঠিকই হাসপাতালে পৌঁছাতে পেরেছিল। তা ছাড়া, আমার কাজও হয়েছে।

    কী কাজ?

    আ লিমের দেহ থেকে দরকারি কাগজ উদ্ধার করতে পেরেছি। হাঁটুর মাংস চিরে পকেটের মতন তৈরি করে একটা কাগজ লুকানো ছিল। ডাক্তারের সহায়তায় মাংস কেটে সে কাগজ সংগ্রহ করেছি।

    নিজের শরীরের মধ্যে পকেট তৈরি করে?

    হ্যাঁ, ম্যালকম হাসল, এটা অপরাধীদের একটা সাধারণ পন্থা। কয়েদিরা জেল থেকে এইভাবে পয়সাকড়ি বের করে নিয়ে আসে, যারা নিষিদ্ধ জিনিস চালান দেয়, তারা পুলিশের চোখ এড়াবার জন্য শরীরের বিভিন্ন অংশে এইভাবে লুকানোর জায়গা তৈরি করে দেয়।

    দিপু আর তপু সব শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেল।

    একটু পরে দিপু জিজ্ঞাসা করল, যে কাগজটা পেয়েছেন, সেটা নিশ্চয় খুব দরকারি।

    ম্যালকম হাসল—হ্যাঁ, দরকারি বইকী। খুব ছোটো একটা ফিলম। খালি চোখে পড়াই যায় না। জোরালো লেন্সের সাহায্যে প্রোজেক্টরের ওপর চড়িয়ে সামনের এক সাদা পরদায় প্রতিফলিত করালাম। ঠিক যেভাবে সিনেমার ছবি দেখায়। লেখাগুলো বহুগুণ বর্ধিত হল। সব ঠিকানা। সারা ব্রহ্মদেশে যেখানে যেখানে আ লিমদের আস্তানা আছে, তার ঠিকানা। বুঝতেই পারছ এটা আমাদের পক্ষে কত দরকারি। ইতিমধ্যে গোপন টেলিগ্রাম চলে গেছে থানায়, থানায় আজ গভীর রাত্রে হানা দিয়ে ধরপাকড় শুরু হবে।

    ম্যালকম উঠে দাঁড়াল।

    ব্যাস, আর নয়। এবার উঠে পড়ো। রাত অনেক হয়েছে।

    দিন তিনেক পর থানায় ডাক পড়ল দিপু আর তপুর।

    ম্যালকম বসে ছিল। তার পাশে এক পুলিশ অফিসার।

    অফিসারটি ওদের নাম, ধাম, অভিভাবকের নাম সব লিখে নিল।

    সব হয়ে যেতে ম্যালকম বলল, তোমাদের সাহায্যের জন্যই আমাদের অভিমান অনেকাংশে সফল হয়েছে। আ লিমকে জীবন্ত ধরতে পারিনি বটে, কিন্তু তার অনেক শাগরেদ ধরা পড়েছে। অনেক নিষিদ্ধ জিনিস আমাদের হাতে এসে গেছে।

    সরকার পুরস্কারস্বরূপ তোমাদের দুজনকে কিছু টাকা দেবেন। তা ছাড়া তোমাদের দেশে ফিরে যাবার সব খরচও সরকার বহন করবেন।

    দেশে ফিরে যেতে পারব!

    দিপু আর তপু দুজনের চোখে জল এসে গেল। মাথা নিচু করে তারা দাঁড়িয়ে রইল।

    টাকাটা পরের দিনই হাতে এল।

    কম নয়। এক-একজনের ভাগে দুশো। এত টাকা একসঙ্গে দিপু আর তপু কোনওদিন দেখেনি।

    ম্যালকম কাছে এসে দুজনের কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়াল।

    শোনো, তোমাদের কয়েকটা কথা বলি। এভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে তোমরা কতখানি অন্যায় করেছ, আশা করি এখন বুঝতে পারছ। ভাগ্য ভালো যে বেশি বিপদের মধ্যে পড়োনি। মারাত্মক কিছু হয়ে যেতে পারত। লেখাপড়া শিখে, বড়ো হয়ে দেশভ্রমণে বের হওয়া উচিত। এভাবে চুপি চুপি বাড়ি থেকে পালিয়ে, জাহাজ কোম্পানিকে ফাঁকি দিয়ে, বিদেশে এলে কী হয়, তার স্বাদ তোমরা ভালোভাবেই পেলে। এবার বাড়ি গিয়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করবে, পাপের পথ সর্বদা পরিহার করবে, কারণ পাপের ফল কী সেটা নিজেদের চোখেই দেখে গেলে।

    কাল সকালেই তোমাদের জাহাজ ছাড়বে। আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি, কোনও অসুবিধা হবে না। আমি থাকতে পারব না। আজ রাতেই একটা কাজে আমাকে শহরের বাইরে যেতে হবে। গুড বাই।

    দিপু আর তপু ম্যালকমের প্রসারিত হাতটা একে একে আঁকড়ে ধরল।

    তপু বলল, বিদেশের বন্ধু, বিদায়!

    সত্যি কোনও অসুবিধা হল না।

    একজন পুলিশ অফিসার সঙ্গে করে জাহাজে উঠিয়ে দিয়ে গেল। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথাবার্তা বলল। বোধহয় দিপু আর তপুর সম্বন্ধে।

    এ জাহাজের নাম এস. এস. অ্যাঙ্গোরা।

    আবার তিন দিন নীল সমুদ্রের ওপর ভেসে-যাওয়া জীবন।

    দুজনে ডেক থেকে ডেকে ঘুরে বেড়াল। ক্যাপ্টেন এসে তাদের পিঠ চাপড়াল।

    বলল, তোমরা বীর বালক। বিরাট একটা বদমাইশের দলকে ধরতে সরকারকে সাহায্য করেছ।

    সারেংরা বিস্মিত দৃষ্টি মেলে চেয়ে রইল।

    তিন দিন পর স্থলের রেখা দেখা গেল। বোঝা গেল মাটি-মায়ের কী দুর্বার আকর্ষণ। সবাই সার দিয়ে দাঁড়াল রেলিং ধরে।

    ক্রমে ক্রমে স্পষ্ট হল গাছপালা, বাড়িঘর, কলকারখানা।

    জল আর নীল নয়, ঘোলাটে। আশপাশে অনেক স্টিমার, জেলেডিঙি দেখা গেল।

    নিজের দেশ, নিজের জন্মভূমি।

    রেলিংয়ে মাথা ঠেকিয়ে দিপু আর তপু প্রণাম করল।

    মাথা তুলেই দুজনে অবাক।

    জেটি দেখা যাচ্ছে। জেটির বারান্দা ভরতি লোক। তার মধ্যে দিপুর বাবাকে দেখা গেল। তিনি আকুল দৃষ্টিতে জাহাজের দিকে দেখছেন।

    দিপু আর তপু রেলিং ঘেঁষে দাঁড়াল। অস্ফুটকণ্ঠে দিপু বলল, বাবা! তপু বলল, জেঠু! তারপর চোখের জলে সামনের পৃথিবী অস্পষ্ট হয়ে গেল।

    .

    ‘শুকতারা’ এপ্রিল ১৯৬৯ থেকে ধারাবাহিক

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }