Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কবন্ধ বিগ্রহের কাহিনি – ৪

    ৪

    কুমুদের বাবা চুপচাপ বাইরের ঘরে বসে ছিলেন। ইদানীং তাঁর কিছু ভালো লাগে না। হাসপাতালে, চেম্বারে যান, রোগীও দেখেন, কিন্তু সব সময়ে কেমন অন্যমনস্কভাবে।

    সর্বদা ছেলে দুটোর কথা চিন্তা করেন। পারিজাত বক্সীর কথামতো কাগজেও বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, কোনওদিক থেকে আজ পর্যন্ত কোনও সাড়া পাননি।

    কুমুদের মা শয্যাশায়ী। প্রায় অন্নজল ত্যাগ করেছেন।

    বাবু, ও বাবু।

    চিৎকারে কুমুদের বাবা মুখ তুলে দেখলেন।

    জানলার বাইরে একটা লোক। সাজপোশাক রিকশাচালক বলেই যেন মনে হল। হাতে ছোটো একটা ঘটিও রয়েছে।

    কী চাই?

    একটা চিঠি।

    চিঠি? কুমুদের বাবা উৎসাহে উঠে দাঁড়ালেন। তাহলে কি বিজ্ঞাপনের উত্তর নিয়ে কেউ এল?

    লোকটা হয়তো রিকশায় বসে আছে। চালকের হাতে চিঠিটা পাঠিয়েছে।

    ভিতরে এসো।

    তাকে কুমুদের বাবা ঘরের মধ্যে আসতে বললেন। রিকশাচালক ভিতরে এসে চিঠিটা কুমুদের বাবার দিকে এগিয়ে দিল।

    চিঠিটা যখন নিলেন তখন কুমুদের বাবা বুঝতে পারলেন তাঁর হাতের আঙুলগুলো থরথর করে কাঁপছে।

    চিঠিটা পড়তে পড়তে তাঁর মুখ আরক্ত হয়ে উঠল।

    পনেরো দিনের মধ্যে দশ হাজার টাকা ইডেন গার্ডেনের প্যাগোডার চাতালে রেখে আসতে হবে। না রাখলে কুমুদকে খতম করে ফেলা হবে। টাকাটা রাখতে হবে সকাল সাতটা থেকে দশটার মধ্যে।

    এইসঙ্গে কুমুদের হাতের চিঠিও রয়েছে। সে-ও জানিয়েছে দশ হাজার টাকা না দিলে তার প্রাণসংশয়।

    কুমুদের হাতের লেখা তিনি খুব চেনেন। তাঁর ভুল হবার নয়।

    এ চিঠি তোমাকে কে দিয়েছে?

    মোড়ে এক বাবু ট্যাক্সিতে বসে আছেন। আমার হাতে দুটো টাকা দিলেন, আর বললেন, চিঠিটা লাল বাড়িতে যে ডাক্তার থাকেন তাঁকে দিয়ে আসতে।

    চলো তো দেখে আসি।

    কুমুদের বাবার পরনে ছিল গেঞ্জি আর পাঞ্জাবি। পোশাক পালটাবার কথা তাঁর আর মনে হয় না। সেইভাবেই তিনি বেরিয়ে পড়লেন।

    রাস্তার ওপর রিকশা ছিল, চালক তাঁকে চড়তে বললেও তিনি রাজি হলেন না। গোটা ছয়েক বাড়ির পরেই চৌরাস্তা। এটুকু রাস্তা তিনি অনায়াসেই হেঁটে যেতে পারেন।

    মোড়ের মাথায় কোনও ট্যাক্সি দেখা গেল না।

    কোথায় ট্যাক্সি?

    এইখানেই তো ছিল। বাবু অবশ্য থাকবেন এমন কথা বলেননি।

    বাবুকে দেখতে কেমন?

    খুব ফরসা, মোটাসোটা চেহারা।

    বাঙালি?

    সেইরকমই মনে হল।

    কুমুদের বাবা আর দাঁড়ালেন না। হনহন করে বাড়িতে ফিরে এলেন।

    এখন কী করবেন?

    কুমুদের মা-কে জানালেই কান্নাকাটি শুরু হবে। তিনি বলবেন ছেলের জীবনের কাছে দশ হাজার টাকা কিছুই নয়। এখনই টাকাটা রেখে আসতে।

    কুমুদের বাবার মনের ইচ্ছাও অবশ্য তা-ই। কিন্তু যা-ই করুন পারিজাত বক্সীকে একবার জানানো দরকার। জামাইয়ের সঙ্গেও পরামর্শ করতে হবে। তুলসী কোথায় সে কথা কুমুদ কিছু লেখেনি। হতে পারে এ বিষয়ে তুলসীর বাবাও আলাদা চিঠি পেয়েছে।

    সব দিক বিবেচনা করে কুমুদের বাবা ফোন তুলে নিলেন।

    ভাগ্য ভালো পারিজাত বক্সী বাড়িতেই ছিলেন।

    সব শুনে তিনি বললেন, আপনি অপেক্ষা করুন, আমি আধ ঘণ্টার মধ্যে আপনার কাছে যাচ্ছি।

    আধ ঘণ্টার আগেই পারিজাত বক্সী এসে গেলেন।

    অনেকক্ষণ ধরে চিঠি দুটো পরীক্ষা করে বললেন, এটা আপনার ছেলের হাতের লেখা তো?

    হ্যাঁ, ওটা কুমুদের হাতের লেখা তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    পারিজাত বক্সী কিছুক্ষণ কী ভাবলেন, তারপর বললেন, মূর্তি চোরেরা সাধারণত এ ধরনের কাজ করে না, তবে কিছুই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। চলুন, রিকশাচালককে একবার দেখাবেন।

    দুজনে রাস্তার মোড়ে এলেন।

    গোটা চারেক রিকশা সেখানে ছিল। সেই রিকশাচালক গ্লাসে চা খাচ্ছিল, এঁদের দেখে সেলাম করে এগিয়ে এল।

    ডাক্তারবাবুকে এ চিঠি তুমি দিয়েছ?

    হ্যাঁ বাবু।

    যে তোমায় এ চিঠি দিয়েছে সে কী বলেছে?

    আমি রিকশা নিয়ে এখানে বসে ছিলাম, এক বাবু ট্যাক্সি চেপে এসে হাত নেড়ে আমাকে ডাকলেন। আমি কাছে যেতে বললেন, লাল বাড়িতে যে ডাক্তারবাবু থাকেন, তাঁকে এই খামটা দিয়ে এসো, আর এই নাও তোমার দু-টাকা বকশিশ।

    তুমি জিজ্ঞাসা করোনি নিজে না গিয়ে এভাবে তোমার হাতে চিঠি পাঠাচ্ছে কেন?

    না বাবু, বকশিশ পেয়ে আমি খুশি হয়েছিলাম, ওসব কথা ভাবিনি।

    পারিজাত বক্সী আর কিছু না বলে কুমুদের বাবাকে নিয়ে ফিরে এলেন। নিজের মোটরে উঠতে উঠতে বললেন, এ চিঠি দুটো আপাতত আমার কাছে থাক।

    কুমুদের বাবা উদবিগ্নকণ্ঠে প্রশ্ন করলেন, টাকার ব্যাপারে আমি তাহলে কী করব?

    এখন কিছু করার নেই। পনেরো দিন সময় আছে, তার মধ্যে আপনাকে জানিয়ে দেব।

    পারিজাত বক্সী মোটর চালু করলেন, থামলেন এসে লালবাজারে।

    সহকারী কমিশনারের ঘরে তাঁর অবারিত দ্বার।

    মিস্টার বাসু, দেখুন তো এ হাতের লেখাটা আপনার রেকর্ডে আছে কি না।

    মিস্টার বাসু চিঠিটা পড়ে গম্ভীর হয়ে গেলেন, তার-ঘণ্টা বাজিয়ে মজুমদারকে ডাকলেন।

    মজুমদার আসতে বললেন, এঁর সঙ্গে তোমার পরিচয় আছে মজুমদার, ইনি স্বনামধন্য পারিজাত বক্সী।

    মজুমদার দুটো হাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে বলল, ওঁর নামের সঙ্গে আমার খুব পরিচয়।

    দেখো তো রেকর্ড থেকে এটা কাদের লেখা হদিশ পাও কি না।

    চিঠিটা হাতে নিয়ে মজুমদার বলল, এ তো এখনই হবে না। অনেক রেকর্ড ঘাঁটতে হবে। অন্তত দুটো দিন সময় চাই।

    পারিজাত বক্সী দাঁড়িয়ে উঠে বললেন, ঠিক আছে, আমি পরশু বিকালে আসব।

    পরশু বিকালে যেতেই খবর পেয়ে গেলেন। মজুমদারই দিল।

    বলল, ও হাতের লেখাটা তোরাব আলির।

    তোরাব আলি কে?

    নামকরা ডাকাত। চিঠি লিখে লোকের বাড়ি ডাকাতি করতে যেত।

    তার ফোটো যদি থাকে, দেখাতে পারেন?

    তা পারি, কিন্তু একটা মুশকিল হয়েছে।

    কী মুশকিল?

    তোরাব আলি এখন দমদম জেলে। বছর তিনেক আগে তার সাত বছরের জন্য জেল হয়েছিল।

    পারিজাত বক্সী হতাশ হলেন।

    কীরকম হল? তোরাব আলি জেল থেকে নিশ্চয় এ চিঠি লেখেনি। সেটা সম্ভব নয়। অন্য কেউ লিখেছে।

    মজুমদারকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বেরিয়ে এলেন।

    মজুমদার মনে করিয়ে দিল, ফোটোটা দেখে যাবেন না?

    দরকার নেই।

    পারিজাত বক্সী কুমুদের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন।

    জিজ্ঞাসা করলেন, কী করবেন, ঠিক করেছেন?

    কুমুদের বাবা বললেন, আমি ঠিক করেছি, টাকাটা দিয়েই দেব, কারণ কুমুদের প্রাণের দাম আমাদের কাছে দশ হাজার টাকার অনেক বেশি।

    বেশ, তাহলে একটা দিন ঠিক করুন। সেদিন আমিও আপনার সঙ্গে যাব।

    দিন ঠিক আর কী। আমি কালই যেতে চাই।

    আমি তাহলে ছ-টার মধ্যে আপনার কাছে চলে আসব।

    কুমুদের বাবা প্রশ্ন করলেন, আমার নাতি তুলসীর কী হবে?

    পারিজাত বক্সী কিছুক্ষণ ভাবলেন, তারপর বললেন, আমার মনে হচ্ছে তুলসী আর কুমুদ এক জায়গায় নেই। থাকলে তুলসীর জন্যও টাকা দাবি করে এরকম চিঠি আসত।

    কুমুদের বাবা স্বীকার করলেন, আমারও তা-ই মনে হচ্ছে।

    তবুও আপনি একটা কাজ করুন।

    কী বলুন?

    আপনার জামাইয়ের কাছে একবার খোঁজ নিন।

    তখনই কুমুদের বাবা পরিচিত একজনকে তুলসীর বাবার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। বলে দিলেন, তুলসীর বাবা যেন লোকটির সঙ্গে চলে আসে।

    বিকালেই তুলসীর বাবা এসে পৌঁছাল।

    এই কদিনেই তুলসীর বাবা উদবেগে-দুশ্চিন্তায় আধখানা হয়ে গেছে।

    তার ধারণা হয়েছিল শ্বশুরমশাই বুঝি কুমুদ আর তুলসী দুজনেরই খবর পেয়েছেন। কিন্তু তুলসীর কোনও খবর পাননি জেনে মর্মাহত হল।

    কুমুদের বাবা জামাইকে চিঠিটা দেখালেন।

    এই দেখো, আমি এরকম একটা চিঠি পেয়েছি। আমি ভেবেছিলাম তুলসীর ব্যাপারে তুমিও বুঝি কোনও চিঠি পেয়েছ।

    তুলসীর বাবা মাথা নাড়ল, না, আমি কিছুই পাইনি। তুলসীর মা তো আহার-নিদ্রা ত্যাগ করেছে। আমার ভয় হচ্ছে, সে কোনওরকম শক্ত অসুখে না পড়ে যায়।

    কুমুদের বাবা সান্ত্বনা দেবার চেষ্টা করলেন।

    শরীর খারাপ করে লাভ কী। বিপদের মুখে এভাবে ভেঙে পড়ে তো কোনও লাভ নেই। পারিজাতবাবুর ধারণা, কুমুদ আর তুলসী এক জায়গায় নেই। থাকলে তুলসীর জন্যও এরকম টাকা দাবি করে চিঠি আসত। তবে ঈশ্বরের ইচ্ছায় কুমুদকে যদি ফিরে পাই, তাহলে তার কাছে হয়তো তুলসীর খবর পেতে পারি।

    তুলসীর বাবা কিছু বলল না। চুপ করে রইল।

    তারপর বলল, আপনি কুমুদের ব্যাপারে কী করবেন ঠিক করেছেন?

    আমি তো টাকাটা দেব বলেই ঠিক করেছি।

    তাহলে কি কুমুদকে পেয়ে যাবেন?

    কুমুদের বাবা আশ্চর্য হয়ে গেলেন।

    কেন, এ কথা বলছ কেন?

    এ ধরনের কাহিনিতে পড়েছি দশ হাজার টাকা হাতে পেলে এদের লোভ বেড়ে যায়। আরও বেশি টাকা দাবি করে বসে।

    অবশ্য কিছুই অসম্ভব নয়, তবে আমরা তো আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। মাত্র পনেরো দিন সময়। এর মধ্যে টাকা না দিতে পারলে ওরা কুমুদকে শেষ করে দেবে। একটা মানুষের প্রাণের দাম ওদের কাছে কানাকড়িও নয়।

    ভোর পাঁচটায় কুমুদের বাবার বাইরের ঘরে কলিং বেল বেজে উঠল।

    কুমুদের বাবা ওপর থেকেই শুনতে পেলেন, নীচে চাকর রঘু কার সঙ্গে চেঁচামেচি শুরু করেছে।

    সিঁড়ি দিয়ে নেমে কুমুদের বাবা দেখলেন, রঘুর সামনে একটা ভিখারি দাঁড়িয়ে। পরনে ছেঁড়া গেঞ্জি, শতচ্ছিন্ন কাপড় হাঁটু পর্যন্ত। চুলে মাটি মাখা। গালের একদিকে দগদগে ঘা।

    কে রে রঘু?

    জানি না বাবু, বলছে আপনার সঙ্গে নাকি কী জরুরি দরকার আছে।

    কুমুদের বাবার কথাটা হঠাৎ মনে পড়ে গেল।

    কুমুদকে যারা আটকে রেখেছে, সেই দলের কেউ নয় তো? হয়তো টাকার ব্যাপারে কিছু বলতে এসেছে, ইডেন গার্ডেনে নয়, অন্য কোথাও টাকাটা রেখে আসতে হবে।

    তাই কুমুদের বাবা রঘুকে বললেন, ঠিক আছে, তুই যা, আমি দেখছি।

    রঘু চলে যেতে ভিখারিটা কয়েক পা এগিয়ে বলল। আমি পারিজাত বক্সী। আমি আগে রওনা হয়ে যাচ্ছি। আপনি সাতটা নাগাদ চলে আসুন। ওখানে আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবেন না।

    কুমুদের বাবা ঘাড় নাড়ল, ঠিক আছে।

    কুমুদের বাবা যখন ইডেন গার্ডেনে গিয়ে পৌঁছালেন, তখন ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় সাতটা। তিনি সঙ্গে ড্রাইভার নেননি। নিজেই মোটর চালিয়ে গিয়েছিলেন।

    প্যাগোডার কাছাকাছি গিয়ে দেখলেন, ঘাসের ওপর পারিজাত বক্সী বসে। তাঁর সামনে একটা থালা। চেঁচিয়ে ভিক্ষা চাইছেন।

    কুমুদের বাবা এগিয়ে গিয়ে পকেট থেকে বড়ো একটা খাম বের করে প্যাগোডার চাতালে রেখে দিলেন। আশপাশে দু-একজন লোক পায়চারি করছে। এত সকালে ভিড় নেই।

    কুমুদের বাবা খামটা রেখে সরে গেলেন নিজের মোটরের কাছে।

    একটু পরেই একটা জিপ এসে দাঁড়াল। তার মধ্যে থেকে পুলিশের পোশাক-পরা একদল লোক বেরিয়ে এদিক-ওদিক দেখতে দেখতে এগিয়ে খামটা তুলে নিয়ে দ্রুতপায়ে ফিরে এল।

    জিপে বোধহয় স্টার্ট দেওয়াই ছিল। লোকটা উঠে বসতেই জিপ ছুটতে শুরু করল।

    পারিজাত বক্সী আগেই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি ছুটে রাস্তার ওপর চলে এলেন।

    মিনিট দুই-তিন, তার মধ্যেই পারিজাত বক্সী কুমুদের বাবার মোটরে উঠে জিপটাকে অনুসরণ করলেন।

    সোজা গঙ্গার কূল ঘেঁষে জিপ আর মোটর দৌড়াল। সন্ত্রস্ত পথচারী দু-পাশে ছিটকে গেল।

    ঘোড়দৌড়ের মাঠের পাশে মোটর জিপের কাছাকাছি এসে গেল।

    হঠাৎ গুড়ুম করে একটা শব্দ।

    জিপ থেকে কে একজন নির্ভুল লক্ষ্যে মোটরের সামনের টায়ারে গুলি করল।

    তীব্র আওয়াজ করে টায়ার ফাটল। মোটর ডানদিকে রাস্তা ছাড়িয়ে মাঠের মধ্যে গিয়ে পড়ল।

    এদিকে ফাঁকা মাঠ। দূরে সেনাদের ছাউনি।

    অনেক কসরত করে পারিজাত বক্সী মোটর থামালেন।

    পকেট থেকে রুমাল বের করে কপালের ঘাম মুছে কুমুদের বাবার দিকে ফিরে বললেন, তা-ই তো, ব্যাটারা পালাল। আপনার নোটগুলোর নম্বর সব লেখা আছে তো?

    চিন্তায়, ভয়ে কুমুদের বাবা অবসন্ন হয়ে পড়েছিলেন।

    তিনি কোনওরকমে মাথা নেড়ে বললেন, হ্যাঁ, আছে।

    সব ব্যাঙ্কে আগেই আমরা বেতারে খবর পাঠিয়ে দিয়েছি। সেসব জায়গায় নোট ভাঙাতে গেলেই মুশকিলে পড়বে।

    কুমুদের বাবা শঙ্কিতকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কুমুদের কোনও ক্ষতি হবে না তো?

    ক্ষতি আর কী হবে? ওরা টাকা চেয়েছিল, টাকা আপনি দিয়েছেন। এবার চুক্তিমতো কুমুদকে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

    কথা বলতে বলতেই পারিজাত বক্সী জ্যাক দিয়ে মোটর তুলে টায়ার বদলি করে ফেললেন।

    তারপর মোটরে উঠতে কুমুদের বাবা প্রশ্ন করলেন, এবার কোনদিকে যাবেন?

    চলুন, একটু এগিয়ে দেখা যাক, যদি জিপটার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়। জিপটার নম্বর আমি দেখে নিয়েছি, কিন্তু জানি সে দেখা কোনও কাজে লাগবে না। কারণ নিশ্চয় ওটা ভুয়া নম্বর।

    মোটর খিদিরপুর পৌঁছাল। কোথাও জিপের চিহ্ন নেই।

    মোটর একপাশে রেখে পারিজাত বক্সী নেমে পড়লেন।

    কুমুদের বাবাকে অপেক্ষা করতে বলে রাস্তার ওপারে একটা সরাইখানায় গিয়ে ঢুকলেন।

    নোংরা পরিবেশ। জন চারেক লোক বসে চা খাচ্ছে। এদিকে কাউন্টারের পিছনে হৃষ্টপুষ্ট একটি লোক ক্যাশবাক্স সামনে নিয়ে বসে আছে। সে-ই বোধহয় মালিক।

    তার কাছে গিয়ে পারিজাত বক্সী বললেন, ওসমানকে একটু দরকার।

    লোকটা ভিতরে চলে গেল।

    একটু পরেই লুঙ্গি-পরা বেঁটে একটি লোক সেলাম করে এসে দাঁড়াল। তার গলায় রুমাল বাঁধা, একটা চোখ কানা।

    তাকে একটু আড়ালে নিয়ে গিয়ে পারিজাত বক্সী জিজ্ঞাসা করলেন, এ রাস্তায় খুব জোরে কোনও জিপ যেতে দেখেছ ওসমান?

    ওসমান মাথা নাড়ল, না।

    তোমাদের এখানে অনেকেই তো হাজার টাকার নোট ভাঙাতে আসে?

    আসে, সে তো আপনি জানেনই।

    শোনো, এই নম্বরগুলো রেখে দাও, যদি এসব নম্বরের নোট কেউ ভাঙাতে আসে, আমাকে একটা খবর পাঠাতে পারো? খবর পাঠাবে আর লোকটাকে আধ ঘণ্টাখানেক আটকে রাখবে কোনও ছুতোয়। আমার ফোন নম্বর তো তোমার জানা।

    তা জানা, তবে মালিককেও একবার বলে যান।

    পারিজাত বক্সী মালিককে বলে মোটরে এসে উঠলেন।

    মোটরের মধ্যে কুমুদের বাবা চুপচাপ গালে হাত দিয়ে বসে।

    তাঁর মনের অবস্থা পারিজাত বক্সী বুঝতে পারলেন।

    তিনি ভাবছেন, গোয়েন্দা ব্যাপারটার কোনোই কূলকিনারা করতে পারলেন না। লোকগুলো টাকাও নিল, হয়তো তাঁর ছেলেকেও খতম করে দেবে।

    পারিজাত বক্সী মোটর ঘুরিয়ে নিলেন।

    রাত আটটা নাগাদ পারিজাত বক্সীর বাড়ির ফোন বেজে উঠল।

    পারিজাত বক্সী বসে বসে একটা বই পড়ছিলেন, লাফিয়ে উঠে ফোন ধরলেন।

    স্যার আমি ওসমান, শিগগির চলে আসুন। একটা নম্বরি নোট নিয়ে একজন এসেছে।

    পারিজাত বক্সী যেমন পোশাকে ছিলেন, তেমনিভাবেই নেমে গেলেন।

    মিনিট কুড়ির মধ্যে পৌঁছে গেলেন।

    ওসমান দোকানের বাইরে পায়চারি করছিল, পারিজাত বক্সীকে দেখে এগিয়ে এসে বলল, আসুন স্যার, ওই যে মালিকের পাশে বসে আছে।

    পারিজাত বক্সী ভিতরে ঢুকলেন। আড়চোখে দেখলেন, কাউন্টারের পিছনে মালিকের পাশে কালো রোগা একটা লোক বসে আছে।

    পারিজাত বক্সী সোজাসুজি লোকটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন।

    শোনো, এদিকে এসো।

    লোকটা উঠে দাঁড়াল।

    হাজার টাকার নোটটা তুমি কোথায় পেয়েছ?

    লোকটা নির্বাক। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    বার দুয়েক প্রশ্নের পরই পারিজাত বক্সী হুংকার ছাড়লেন, চাবকে তোমার পিঠের ছাল তুলে দেব, আমাকে তুমি চেনো না। এখন টানতে টানতে থানায় নিয়ে যাব। বলো, নোটটা কোথায় পেয়েছ?

    এবার লোকটা কাঁপতে কাঁপতে বলল, হুজুর মা-বাপ, নোটটা কুড়িয়ে পেয়েছি।

    খিদিরপুরের পথেঘাটে নোট কুড়িয়ে পাওয়া যায় নাকি?

    বিশ্বাস করুন হুজুর, ডকের কাছে কুড়িয়ে পেয়েছি।

    বুঝতে পেরেছি, ভালো কথায় হবে না। ঠিক আছে, আমি ব্যবস্থা করছি। একে ধরে রাখো তো, আমি আসছি।

    পারিজাত বক্সী বেরিয়ে খান তিনেক বাড়ি পরে এক ডাক্তারখানায় ঢুকে খিদিরপুর থানায় ফোন করলেন, নিজের পরিচয় দিয়ে।

    মিনিট পনেরো পর দারোগা দুজন কনস্টেবল নিয়ে এসে হাজির।

    লোকটা দারোগার সামনেও এককথা বলল, ডকের কাছে কুড়িয়ে পেয়েছি।

    দারোগা কড়া ধমক দিল। কুড়িয়ে পেয়েছিলে তো থানায় জমা দাওনি কেন?

    বোবার শত্রু নেই। লোকটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    দারোগা লোকটাকে টানতে টানতে জিপে নিয়ে তুলল। তাদের পিছনে পারিজাত বক্সী মোটর চালালেন।

    লোকটাকে মোটেই নিরীহ মনে হচ্ছে না। থানায় ধমক দিলে হয়তো কিছু বের হতে পারে।

    কিন্তু না, থানাতেও লোকটার মুখ থেকে একটা কথাও বের করা গেল না।

    তখন পারিজাত বক্সী দারোগাকে একপাশে ডেকে ফিসফিস করে কী বললেন।

    দারোগা লোকটাকে বলল, যা ব্যাটা, আজ তোকে ছেড়ে দিলাম। তোর নামধাম বলে যা। নোটটা আটকে রাখলাম, মালিককে দিয়ে দেব।

    লোকটা নাম বলল, রতন পাঁড়ে। বর্তমান নিবাস মোমিনপুর। সবে ছাপরা থেকে এসেছে, এখনও কোথাও চাকরি পায়নি।

    রতনকে ছেড়ে দিতে সে থানার বাইরে এসে এদিক-ওদিক দেখল, তারপর রাস্তা ধরে আস্তে আস্তে হাঁটতে আরম্ভ করল।

    অনেক পিছনে মোটরে পারিজাত বক্সী তাকে অনুসরণ করতে লাগলেন।

    প্রায় মাইল দেড়েক। লোকালয় শেষ হয়ে একটা মাঠ। তার পাশে কয়েকটা টিনের ঘর।

    রতন একটা টিনের ঘরের দরজায় তিনবার টোকা দিল।

    টুক, টুক, টুক।

    ভিতর থেকে গম্ভীর আওয়াজ শোনা গেল, এসো।

    পারিজাত বক্সী একটা গাছের ছায়ায় অন্ধকারে মোটর রেখে পা টিপে টিপে এগিয়ে গেলেন।

    রতন ভিতরে ঢুকতে পারিজাত বক্সী টিনের ফুটোর ওপর চোখ রাখলেন।

    টেবিলের ওপর হ্যারিকেন জ্বলছে। চেয়ারে দীর্ঘকায় লোক। পরনে শার্ট আর প্যান্ট। কপালের একপাশে একটা কাটার দাগ।

    তার সামনে রতন।

    কী হল, নোটের খুচরো পাওয়া গেল না?

    আজ্ঞে না, পারিজাত টিকটিকি পিছনে লেগে সব ভেস্তে দিয়েছে।

    তাহলে ছেলেটার বাবা টিকটিকি লাগিয়েছে?

    তা-ই তো মনে হচ্ছে।

    পারিজাত বক্সী কোমরে হাত ছোঁয়ালেন। রিভলভারটা ঠিকই আছে।

    ভাবলেন, রিভলভারটা হাতে নিয়ে ভিতরে ঢোকার এই উপযুক্ত সময়।

    রিভলভারটা হাতে নিয়ে ঢুকতে যাবার মুখেই বাধা। পিছন থেকে কে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত হানল। চোখের সামনে চাপ চাপ অন্ধকার। সমস্ত পৃথিবী যেন ঘুরে উঠল। পারিজাত বক্সী পড়ে গেলেন।

    যখন জ্ঞান হল দেখলেন একটা খাটিয়ায় শুয়ে আছেন। সেই টিনের ঘর কিন্তু পাকা বাড়ি।

    কাছেই একটা চেয়ারে সেই দীর্ঘকায় লোকটা।

    পারিজাত বক্সী চোখ খুলতেই লোকটা বলল, কী পারিজাতবাবু, শরীর এখন কেমন?

    কোনও উত্তর না দিয়ে পারিজাত বক্সী প্রথমে মাথায় হাত দিলেন। মাথায় ব্যান্ডেজ। এখন অল্প অল্প ব্যথা রয়েছে। কোমরে হাত দিয়ে দেখলেন রিভলভার নেই।

    লোকটা হেসে বলল, যন্ত্রটা সরিয়ে রেখেছি। যদি হাত লেগে গুলি বেরিয়ে যায়।

    পারিজাত বক্সী চুপ করে রইলেন।

    কুমুদের বাবা কে? তারপর কুমুদের বাবা আপনাকে কত টাকা দিয়েছে? বোকা সাজবার চেষ্টা করবেন না, তাতে ফল হবে না। আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি, সরে দাঁড়ান, নইলে খুব বিপদে পড়ে যাবেন।

    খুব যে ভয় পেয়েছেন, পারিজাত বক্সীর মুখ-চোখে এমন কোনও ভাব ফুটল না। বরং তিনি বিস্মিতকণ্ঠে বললেন, আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না, বিশ্বাস করুন। কিছু জাল নোট বাজারে কারা ছড়িয়েছে। সেই ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য আমাকে নিয়োগ করা হয়েছে।

    এবার লোক ভ্রূটা কোঁচকাল। দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে কিছুক্ষণ কী ভাবল, তারপর বিড়বিড় করে বলল, জাল নোট?

    হ্যাঁ, তারই একটা আপনার লোক ভাঙাতে গিয়েছিল।

    লোকটা নিজেকে সামলে নিল। চাপা গলায় বলল, ঠিক আছে। নোটগুলো না হয় জাল, কিন্তু ছেলেটা তো আর জাল নয়। সে আমাদের হাতের মুঠোয় আছে। আপনাকেও কিছুদিন আমাদের আশ্রয়ে থাকতে হবে। নোট ভাঙাতে নানা দিকে লোক গেছে, তাদের রিপোর্ট শোনা যাক।

    লোকটা উঠে দাঁড়াল।

    শুয়ে শুয়ে পারিজাত বক্সী দেখলেন লোকটা দরজা বন্ধ করে তালা দিল।

    কিছুক্ষণ চুপচাপ।

    আস্তে আস্তে পারিজাত বক্সী উঠে দাঁড়ালেন। জানলা নেই, অনেক উঁচুতে একটা ঘুলঘুলি। এত ছোটো যে তার মধ্য দিয়ে কোনও পূর্ণবয়স্ক লোকের যাওয়া সম্ভব নয়।

    পারিজাত বক্সী দেওয়ালে কান পাতলেন। জলের শব্দ খুব স্পষ্ট। একেবারে পাশেই বোধহয় নদী।

    দুটো হাত পিছনে রেখে পারিজাত বক্সী পায়চারি শুরু করলেন।

    এখান থেকে পালানো অসম্ভব। কতদিন এভাবে বন্দি থাকতে হবে কে জানে! এরা কি কুমুদকে ছেড়ে দেবে? এক হাজার টাকা থানা আটকে রেখেছে। খুব সম্ভবত এই এক হাজার টাকার জন্য এরা কুমুদের বাবাকে আবার চিঠি দেবে।

    কিন্তু পারিজাত বক্সী বন্দি। পরামর্শ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

    খট করে শব্দ হতে পারিজাত বক্সী ঘুরে দাঁড়ালেন।

    দরজা খুলে একটা লোক ভিতরে ঢুকল। এক হাতে এক মগ চা, অন্য হাতে দুখানা রুটি।

    সে চেয়ারের ওপর সবকিছু নামিয়ে রেখে হিন্দিতে বলল, নিন, খেয়ে নিন। আমি বাসন নিয়ে যাব।

    পারিজাত বক্সী খাটিয়ায় বসে বললেন, আচ্ছা ভাই, যমুনার ঢেউয়ের এত শব্দ তো আগে শুনিনি।

    লোকটা নিজের দুটো চোখ বিস্ফারিত করে বলল, এখানে আবার যমুনা কোথায়? এ তো গঙ্গা। হরিহরপুরের গঙ্গার পার দেখা যায় না। আর কী ঢেউ!

    পারিজাত বক্সী বুঝতে পারলেন, জায়গার নাম হরিহরপুর। পাশেই গঙ্গা নদী।

    চায়ে চুমুক দিতে দিতে আবার বললেন, এখানে আর-একটা ঘরে যে ছেলেটা রয়েছে তাকে চা দেওয়া হয়েছে?

    লোকটা কিছুক্ষণ পারিজাত বক্সীকে একদৃষ্টে দেখল, তারপর বলল, ভীষণ বদমাইশ ছেলে। রোজ খাবার সময় ঝামেলা করে। একদিন তো আমার ঘাড়ে আচমকা ঝাঁপিয়েই পড়েছিল, কিন্তু আমার সঙ্গে পারবে কেন? আমি তাকে—

    এই পর্যন্ত বলে লোকটা হঠাৎ থেমে গেল। বোধহয় ভাবল, এতসব কথা এই বাবুকে বলা হয়তো উচিত হয়নি।

    এর বেশি আর পারিজাত বক্সীর শোনারও দরকার ছিল না। তিনি বুঝতে পারলেন এখানেই কুমুদ কিংবা তুলসী বন্দি রয়েছে। তবে কুমুদ হবার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ এরা কুমুদের বাপের কাছেই টাকা চেয়ে পাঠিয়েছিল।

    লোকটা বাইরে চলে গেল। দরজা বন্ধ হল।

    পারিজাত বক্সী দু-হাতে নিজের চুল মুঠোয় ধরে চুপচাপ বসে রইলেন।

    তাঁর এতদিনের গোয়েন্দা-জীবনে এরকমভাবে বিপদে আর পড়েছেন বলে মনে করতে পারলেন না।

    এটুকু বুঝতে পারলেন, হয়তো এরা তাঁর প্রাণহানি করবে না। কুমুদের বাবার কাছ থেকে টাকাটা পেলেই তাঁকে ছেড়ে দেবে। বাকি এক হাজার টাকা।

    কিন্তু পারিজাত বক্সীর যে হার হল সে বিষয়ে তো সন্দেহ নেই।

    যেমন করে হোক উপায় একটা বের করতেই হবে।

    পারিজাত বক্সী পায়চারি করতে আরম্ভ করলেন আর মাঝে মাঝে মুখ তুলে ঘুলঘুলির দিকে দেখতে লাগলেন।

    ঘুলঘুলিটা কোনও কাজে লাগবে এমন মনে হল না। তবে বাইরের পৃথিবীর শব্দ ওই ঘুলঘুলিটা দিয়ে এ ঘরে ঢুকছে।

    রাত হল। কোনও বাতির ব্যবস্থা নেই। ঘন অন্ধকার।

    একসময়ে আবার দরজা খুলে গেল।

    লোকটা একটা থালায় ভাত, কিছু তরকারি আর বাটিতে ডাল নিয়ে ভিতরে ঢুকল। সবগুলো চেয়ারে রেখে মেঝের ওপর বসে পড়ল, তাড়াতাড়ি খেয়ে নিন, আমি বাসনগুলো নিয়ে যাব।

    লোকটার আর-এক হাতে জ্বালানো হ্যারিকেন। হ্যারিকেনটাও সে চেয়ারের ওপর রাখল।

    ভাত-তরকারির চেহারা দেখে পারিজাত বক্সীর সেসব ছুঁতে ইচ্ছা হল না কিন্তু না ছুঁয়েই বা উপায় কী। না খেলে নিজেই দুর্বল হয়ে পড়বেন।

    কোনওরকমে খাওয়া শেষ করলেন।

    লোকটার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেখলেন, লোকটা বসে বসে ঢুলছে।

    পলকের জন্য লোকটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে কাবু করে তার কাছ থেকে চাবি কেড়ে নিয়ে কুমুদকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে হয় না!

    একটু ভাবলেন। না, এত তাড়াতাড়ি ঝুঁকিটা নেওয়া ঠিক হবে না।

    বাইরে আরও লোক পাহারায় আছে কি না বলা যায় না। ধরা পড়লে পারিজাত বক্সীকে আরও কড়া শাসনে রাখবে। কিংবা দূরে কোথাও সরিয়ে দেবে। দুর্গম জায়গায়।

    খাওয়া শেষ হতে বাসনপত্র আর হ্যারিকেন নিয়ে লোকটা যাবার সময় পারিজাত বক্সী বললেন, ভাই, হ্যারিকেনটা রেখে যাও-না। অন্ধকারে থাকব।

    লোকটা যেতে যেতে গম্ভীরকণ্ঠে বলল, হুকুম নেই।

    পারিজাত বক্সী চুপচাপ বসে রইলেন। রাত বাড়ল। খাটিয়ার ওপর শুধু একটা বালিশ। বেশ জোলো বাতাস বইছে। একসময় পারিজাত বক্সী শুয়ে পড়লেন।

    সকাল হতেই দীর্ঘকায় লোকটি ভিতরে ঢুকল।

    তখনও পারিজাত বক্সী বিছানায় শুয়ে।

    নমস্কার বক্সী সায়েব, ভালো আছেন?

    পারিজাত বক্সী উঠে বসলেন।

    বললেন, কী করে ভালো থাকব? স্নান করতে পারছি না। রাতে একটা আলো নেই।

    লোকটা হাসল, আরে স্নান করার ব্যবস্থা করে দেব। আর আলো? আপনি এত সাহসী পুরুষ, আপনার আলো কী হবে?

    পারিজাত বক্সী হেসে বললেন, আর কিছু নয়, আমার ছুঁচোর ভয় খুব বেশি। অন্ধকারে ছুঁচোর উপদ্রব বেশি হয় কিনা।

    লোকটি কী বুঝল কে জানে, কিছুক্ষণ গম্ভীর হয়ে থেকে তারপর বলল, কুমুদের বাবার কাছে চিঠি চলে গেছে। আশা করছি বাকি হাজার টাকা পেতে দেরি হবে না। বিশেষ করে যখন আপনার মতন পরামর্শদাতার সঙ্গে আলোচনা করতে পারে না।

    পারিজাত বক্সী হাসলেন—চোটটা একটু কম। আপনার শাগরেদ তেমন জোরালো আঘাত করতে পারেনি।

    জোরালো আঘাত করার নির্দেশ আমার ছিল না। আচ্ছা উঠি। আপনার স্নানের জল যথাসময়ে পাঠিয়ে দেব।

    লোকটা বেরিয়ে গেল।

    দুপুরের একটু আগে বড়ো এক বালতি জল আর গামছা এল। তারপর যথারীতি খাবারও! বিকালে চা।

    তারপরই পারিজাত বক্সী কাজ শুরু করলেন।

    চেয়ারটা বারকতক খাটিয়ার সঙ্গে ঠুকে ঠুকে একটা পায়া খসিয়ে ফেললেন।

    ঘুলঘুলি দিয়ে ফিকে জ্যোৎস্না এসে পড়েছে। আজ আর অন্ধকার নয়।

    পারিজাত বক্সী ঠিক করে নিলেন, যা হবার হবে, এভাবে নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকার কোনও মানে হয় না।

    দরজায় খুট করে শব্দ হতেই চেয়ারের পায়াটা হাতে নিয়ে পারিজাত বক্সী দরজার পাশে দাঁড়ালেন।

    দরজা খুলল। লোকটা হ্যারিকেন হাতে ঢুকে হ্যারিকেনটা মেঝের ওপর নামিয়ে রেখে আবার বাইরে গেল।

    ভাতের থালা আর তরকারির বাটি বাইরে রেখেছিল, সেগুলো নিয়ে আবার ভিতরে ঢুকল।

    সঙ্গে সঙ্গে পারিজাত বক্সী চেয়ারের পায়া দিয়ে তার মাথার পিছনের দিকে সজোরে আঘাত হানলেন। একটা হাত দিয়ে লোকটার মুখ চেপে ধরলেন, যাতে তার আর্তনাদ না বের হয়।

    লোকটা মেঝের ওপর পড়ে গেল। হাত থেকে থালা আর বাটি ছিটকে পড়ল।

    তারই পরনের ধুতির কিছুটা খুলে পারিজাত বক্সী লোকটার মুখ আর দুটো হাত বাঁধলেন, তারপর লোকটার কোমর হাতড়ে চাবির রিং খুলে নিলেন।

    রিংয়ে তিনটে চাবি। চাবিগুলো নিয়ে আস্তে আস্তে পা ফেলে পারিজাত বক্সী বাইরে বেরিয়ে এলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }