Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সীমানা ছাড়িয়ে – ১

    ।। এক।।

    বাঁদিকে তালপুকুর। তার পাশ দিয়ে সরু রাস্তা। কোনওরকমে একটা লোক পায়ে হেঁটে যেতে পারে।

    মোহন সে রাস্তা দিয়ে গেল না। ওখান দিয়ে গেলে খুব তাড়াতাড়ি তাদের গাঁয়ে পৌঁছানো যাবে। হাতে অঢেল সময়। অত তাড়াতাড়ি বাড়ি যাবার তার দরকার নেই। সত্যি কথা বলতে কী, বাড়িতে যেতেই তার ভালো লাগে না।

    বাড়ি গেলেই ঠিক কোনও না কোনও কাজ তার ঘাড়ে পড়বে। সৎমা যেন তার জন্য কাজ নিয়ে তৈরি থাকে।

    বাচ্চাটাকে ধর, কিংবা বাগানের বেড়াটা আলগা হয়ে গেছে। একটু শক্ত করে বেঁধে দে, না হয় সুপারিগুলো রোদে দিয়ে আয়।

    অথচ বাড়িতে ঝি আছে, মালি আছে, কিন্তু মোহনকে দেখলেই সৎমার কাজ করাতে ইচ্ছা করে।

    তাই মোহন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে না। সাত রাজ্যি ঘুরে বেড়ায়। কোনওদিন মাঠ পার হয়ে, সাঁকোর ওপর দিয়ে স্টেশনে গিয়ে বসে। ট্রেন দেখতে তার খুব ভালো লাগে। একটা ট্রেন এসে দাঁড়ায় আর তার কামরাগুলো থেকে হুড়হুড় করে লোক নামে। কিছুক্ষণের জন্য হইচই।

    গার্ডের সবুজ নিশান দোলানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন তার অজগর দেহটা দুলিয়ে তেপান্তরের দিকে পাড়ি দেয়।

    স্টেশন আবার ফাঁকা। গোলমাল থেমে যায়।

    কোনও কোনওদিন মোহন বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। এই সময় তার সঙ্গী বিশেষ কেউ থাকে না। সবাই স্কুল-ফেরত সোজা বাড়ি চলে যায়। বলে, না ভাই, না গেলে মা ভাববে।

    মোহন তাড়াতাড়ি বাড়ি না ফিরলে তার সৎমা চিন্তিত হয় না, বিরক্ত হয়। বলে, কাজের ভয়ে কোথায় টো টো করে ঘুরে বেড়ানো হচ্ছিল এতক্ষণ? যেমন দেরি করে এসেছ, তেমনি তোমার খাওয়া বন্ধ। আর খাওয়া পাবে সেই রাত্রে।

    মোহন কিছু বলে না। চুপচাপ নিজের ঘরে ঢুকে পড়ে। তারপর চাটাইয়ের ওপর বইখাতা ছড়িয়ে খিড়কি-পুকুরে গিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে আসে, একটু পরেই বিন্দুর মা এসে হ্যারিকেনটা জ্বালিয়ে রেখে যায়।

    মোহন গামছা দিয়ে হাত-পা মোছা শেষ করার আগেই বিন্দুর মা আবার ঘরে ঢোকে। হাতে কলাইয়ের বাটি। তাতে তেল-নুন-মাখা মুড়ি। মাঝে মাঝে তাতে কড়াইশুঁটিও ছড়ানো থাকে। নাও, খেয়ে নাও।

    গালাগাল-বকুনিতে মোহনের কষ্ট হয় না। এসব তার গা-সওয়া হয়ে গেছে, কিন্তু নরম সুরের কথা শুনলেই মোহনের দুটো চোখ জলে ভরে আসে।

    ঝি বিন্দুর মা মোহনের মায়ের আমলের লোক।

    মায়ের কথা মোহনের খুব আবছা মনে আছে। অনেক আগের কোনও স্বপ্ন দেখার মতন। মাঝে মাঝে তার মনে হয়, তার যে কোনওদিন মা ছিল, এটাই যেন স্বপ্ন।

    মা মারা যাবার পর সৎমা এল বাড়িতে। কিন্তু তার এই নতুন মা ভালো না; বড়ো কষ্ট দেয় মোহনকে।

    বাড়ির দিকে নজর দেবার সময় নেই বাবার। সকালবেলা চা-রুটি খেয়ে সাইকেলে চড়ে বের হয়ে যায়।

    খালের ধারে কাপড়ের দোকান।

    পাশাপাশি তিনটে কাপড়ের দোকান, তার মধ্যে মহামায়া বস্ত্রালয়ের বিক্রি সবচেয়ে বেশি। এই মহামায়া মোহনের মায়ের নাম। পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও মোহন মায়ের সন্ধান পাবে না। ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলে যেমন আলোর শিখা হারিয়ে যায়, তেমনই মোহনের মা-ও হারিয়ে গেছে। শুধু ওই সাইনবোর্ডের ওপর জ্বলজ্বল করে মায়ের নামটা। স্কুল-ফেরত মোহন খালের ধারে এসে দাঁড়ায়। দূর থেকে মায়ের নামটার দিকে চেয়ে থাকে। বানান করে করে পড়ে। কাছে যাবার সাহস নেই, কী জানি যদি বাবার চোখে পড়ে যায়।

    .

    সেদিন এক কাণ্ড ঘটল। স্কুল-ফেরত মোহন সোজা মজুমদারদের বাগানে ঢুকল। একসময় সাজানো বাগান ছিল, ইদানীং আগাছায় ভরতি।

    মজুমদাররা সবাই শহরে থাকে। কালেভদ্রে এখানে আসে। সবকিছু দেখে মালি। মোহন একলা নয়, সঙ্গে পল্টু আর শিবু। দুজনেই সমান ডানপিটে।

    পল্টুর খবর, গাছে নাকি কামরাঙা পেকে লাল হয়ে আছে। বেশি উঁচুতে নয়, হাত বাড়িয়েই পাড়া যায়।

    মোহন মোটেই কামরাঙার ভক্ত নয়। শুধু সময় কাটাবার জন্য সে এদের সঙ্গে এসেছে। সোজা বাড়ি যাবার তার একটুও ইচ্ছা নেই।

    পল্টু আর শিবু যখন একমনে কামরাঙা পাড়ছিল, তখন হঠাৎ মালির আবির্ভাব। মালি গাছের আড়াল দিয়ে একেবারে সামনে এসে পড়েছে। সে বলল, এই যে, কামরাঙা—

    কিন্তু সব কথাটা আর তার বলতে হল না। শিবের হাতের একটা ঢিল সবেগে এসে পড়ল মালির কপালে।

    ওরে বাবা রে, বলে চিৎকার করে মালি মাটির ওপর বসে পড়ল।

    পল্টু, শিবু আর মোহন তিনজনেই হাওয়া।

    এদিক-ওদিক ঘুরে মোহন যখন বাড়ি ফিরল, তখন সন্ধ্যার অন্ধকার নেমেছে। কিন্তু উঠোনে পা দিয়েই থমকে দাঁড়াতে হল।

    মালি বসে হাউমাউ করে কাঁদছে, দেখে মনে হল, সে অনেক আগেই নালিশ করতে এসেছিল। যা কিছু বলার সবই বলা হয়ে গিয়েছিল। মোহনকে চোখের সামনে দেখে আবার তার শোক নতুন করে জেগে উঠল।

    মালির সামনে নতুন মা দাঁড়িয়ে। হ্যারিকেনের অল্প আলোতেও দেখা গেল, তার চোখ দুটো যেন জ্বলছে। মোহনকে দেখেই নতুন মা চেঁচিয়ে উঠল, ওই যে শয়তানটা এসেছে। হ্যাঁ রে হতচ্ছাড়া, হলধরকে অমনভাবে মেরেছিস কেন? আর একটু হলে যে চোখটা যেত।

    মোহন জোর গলায় বলল, আমি মারিনি।

    মারিসনি? হলধর মিথ্যা কথা বলছে? সর্বনেশে ডাকাত! নতুন মা ধরবার জন্য এগিয়ে আসতেই মোহন দ্রুত পিছু হটে এল। তারপরই উঃ বলে একটা আর্তনাদ করে উঠোনের ওপর বসে পড়ল।

    সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হাতে কে তার চুলের মুঠি ধরে পিঠের ওপর আঘাতের পর আঘাত করতে আরম্ভ করেছে।

    মোহনের মনে হল, মেরুদণ্ড বুঝি ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে।

    পিছন ফিরেই মোহন দেখতে পেল, তার বাবা উগ্রমূর্তিতে দাঁড়িয়ে, হাতে সাইকেলের পাম্প। সাইকেলটা বেড়ার গায়ে হেলান দেওয়া।

    বাবার হাতে মার খাওয়া মোহনের এই প্রথম।

    হাতের বইখাতাগুলো আগেই উঠোনের ওপর ছিটকে পড়েছিল। এবার বাবা তেড়ে আসতেই মোহন পাশ কাটিয়ে তিরবেগে দৌড়াতে শুরু করল। রাস্তা ধরে নয়, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দৌড়াল।

    এই অন্ধকারে জঙ্গল মোটেই নিরাপদ নয়। সাপখোপের ভয় আছে। কিন্তু মোহন সেসব কিছু ভাবল না। তার বুক জুড়ে দুরন্ত অভিমান। বাবা কিছু খোঁজ না নিয়েই, কেবল নতুন মায়ের কথার ওপর নির্ভর করে এভাবে তাকে মারল!

    মোহন ঢিল ছোড়েনি। কে ছুড়েছে, মালি হয়তো খেয়াল করেনি। মোহনকে দেখতে পেয়ে তার নামেই নালিশ করতে এসেছে। শিব আর পল্টু বেপাড়ার ছেলে। মালি তাদের নামও জানে না। তাই যাকে চেনে তার বাড়িতেই এসে হাজির হয়েছে।

    চোখের জলে সামনের সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে গেছে মোহনের। হাতের উলটো পিঠ দিয়ে চোখ দুটো মুছে নিয়ে মোহন আবার ছুটতে আরম্ভ করল।

    মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, আর বাড়িতে নয়। কোনওদিন আর সে এখানে ফিরবে না। তার নিজের মা থাকলে কখনো তাকে এভাবে মার খেতে হত না। মা-কে সব ঘটনা বুঝিয়ে বললে নিশ্চয় বিশ্বাস করত। মা জানত, মোহন মিথ্যে কথা বলে না।

    হঠাৎ তীব্র একটা শব্দে মোহন চমকে উঠল। জঙ্গলের ওপাশ দিয়ে ট্রেন চলছে। সার্চলাইটের তীব্র আলোয় জঙ্গলের এক অংশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ট্রেনের গতি খুব জোর নয়। তার মানে স্টেশন কাছে।

    মোহন মন ঠিক করে ফেলল। ট্রেনে চড়ে শহরে চলে যাবে। শহর কলকাতা। যে শহরে উঁচু উঁচু বাড়িগুলো হাত বাড়িয়ে আকাশ ছোঁবার চেষ্টা করে। গভীর রাত্রেও আলোর মায়ায় দিন বলে মনে হয়। মানুষগুলো হাঁটে না, ছোটে।

    মোহন কখনো কলকাতা যায়নি। স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে যারা দু-একজন গেছে, তাদের কাছে গল্প শুনেছে। চিড়িয়াখানা, লেক, মিউজিয়াম, সার্কাস আরও কত কী!

    মোহনের বাবাও বেশ কয়েকবার কলকাতায় গেছে এবং এখনও যথারীতি যেতে হয় তাকে। হাওড়ায় বুঝি হাট হয়, সেখান থেকে কাপড় কিনে এনেছে দোকানের জন্য। ফিরে এসে নতুন মায়ের কাছে কলকাতার ঐশ্বর্যের কাহিনি বলেছে।

    গাছের তলায় বসে মোহন একটু বিশ্রাম করল। একটানা ছুটে দুটো পা-ই টনটন করছে। খিদেও কম পায়নি। সেই ভোরবেলা ভাত খেয়ে স্কুলে গিয়েছিল। টিফিনের সময় একটা পেয়ারা আর গোটাকয়েক কুল খেয়েছে।

    বেশিক্ষণ বসে থাকতে মোহনের সাহস হল না। ঘাসের মধ্যে সাপ কিংবা বিছা থাকতে পারে।

    এতক্ষণ সে বাঁচা-মরার কথা ভাবেনি। বাড়ির লোকদের ওপর, পৃথিবীর ওপর তার বিতৃষ্ণা এসে গিয়েছিল। কিন্তু ট্রেনটা চোখে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁচবার ইচ্ছা মনে জাগল। আর জাগল শহরে যাবার ইচ্ছা।

    .

    স্টেশনে পৌঁছে মোহন একটা বেঞ্চের ওপর বসে পড়ল।

    কাছেই কেরোসিনের আলো। সেই আলোতে দেখল, দুটো হাতে কালশিটে পড়েছে। মার আটকাবার জন্য হাত তোলার সময় চোট হাতের ওপর পড়েছে।

    দু-পায়ে রক্তের ধারা। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ছোটবার সময় খেয়াল ছিল না, কাঁটাগাছের ওপর পা গিয়ে পড়েছিল।

    মোহন আস্তে আস্তে উঠে টেপাকলে পা ধুয়ে নিল, মুখ-হাতও। তারপর বেঞ্চে ফিরে এসে পকেটে হাত দিয়ে দেখল, প্রায় চল্লিশ পয়সা রয়েছে। রোজ বাবার দেওয়া জলখাবারের পয়সা জমিয়ে রেখেছিল। ইচ্ছা ছিল সামনের বিশ্বকর্মাপূজার আগে ঘুড়ি আর সুতো কিনবে।

    কিন্তু এখনই কিছু মুখে না দিলে মোহন দাঁড়াতেই পারবে না। মারের ব্যথা তো রয়েইছে, তার ওপর পেটের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠছে। খিদের যন্ত্রণায়।

    স্টেশনের পাশেই দোকান। লুচি আছে, ডাল, তরকারি, কিছু মিষ্টি। মোহন লুচি আর তরকারি খেল কুড়ি পয়সার।

    পয়সা দিয়ে স্টেশনে এসে খেয়াল হল, পকেটে আর মাত্র কুড়ি পয়সা আছে। সর্বনাশ, কলকাতা যাবার ভাড়া? মাত্র কুড়ি পয়সায় নিশ্চয় কলকাতা যাওয়া যায় না। অথচ বাড়ি ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়।

    যেখানে টিকিট দেয়, মোহন পায়ে পায়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়াল। ভিতরে একজন লোক খুব মনোযোগ দিয়ে মোটা একটা বই পড়ছে। চোখে পুরু কাচের চশমা। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল।

    মোহন জিজ্ঞেস করল, কলকাতার ট্রেন কখন আসবে?

    লোকটা মুখ না তুলেই বলল, আটটা পঁচিশ।

    মোহন নিচু হয়ে দেখল। লোকটার পিছনের দেয়ালে একটা বড়ো ঘড়ি। সেই ঘড়িতে সাড়ে সাতটা। এখনও ট্রেন আসতে প্রায় ঘণ্টাখানেক।

    আবার মোহন স্টেশনের বেঞ্চে গিয়ে বসল।

    দু-একজন করে লোক জমছে স্টেশনে। প্রায় সকলেরই কাঁধে গোটানো বিছানাপত্র, হাতে লাঠি।

    একসময় ট্রেন এল। স্টেশন কাঁপিয়ে। ঝম-ঝম-ঝম।

    ট্রেনের অবস্থা দেখে মোহনের চোখ কপালে উঠল। কামরায় লোক যেন উপচে পড়ছে। পাদানিতে পর্যন্ত লোক। কী করে মোহন ট্রেনে উঠবে? পা রাখবারও স্থান নেই।

    এক জায়গায় গোটা চারেক লোক নামল। উঠল আরও বেশি। মোহনের যখন খেয়াল হল, দেখল লোকগুলোর ধাক্কায় সে কামরার মধ্যে ছিটকে পড়েছে—বিরাট এক বিছানার বান্ডিলের পিছনে।

    ট্রেন ছাড়তে লোকগুলোর কথায় বুঝতে পারল, কয়েক স্টেশন পরেই বিরাট এক মেলা শুরু হয়েছে। জায়গাটার নাম শুকদেবপুর। সেই স্টেশনেই অনেক লোক নেমে যাবে।

    চোখ ঘুরিয়ে মোহন এদিক-ওদিক দেখল। কাছের বেঞ্চে তার বয়সি একটি ছেলে বসে আছে। সে একদৃষ্টে চেয়ে আছে তার দিকে।

    মোহনের চোখ তার দৃষ্টির সঙ্গে মিলতেই সে প্রশ্ন করল, তোমার সারা গা এত কেটে গেল কী করে?

    মোহন একটু ইতস্তত করল, তারপর বলল, সাইকেল থেকে পড়ে গেছি।

    কোনও ওষুধ দাওনি?

    মোহন মাথা নাড়ল, না।

    ছেলেটি মাথার কাছে টাঙানো ঝোলা থেকে একটা মলমের কৌটো বের করে মোহনের হাতে দিয়ে বলল, এটা লাগিয়ে দাও। দেখবে ব্যথা অনেক কমে গেছে।

    হাতে-পায়ে মলম লাগিয়ে কৌটোটা ছেলেটিকে ফেরত দেবার সময় মোহন জিজ্ঞাসা করল, কখন কলকাতায় পৌঁছাব?

    রাত সাড়ে দশটা। আমরা অবশ্য তার আগেই নেমে যাব।

    ছেলেটির কথা শুনে মোহন একটু চিন্তিত হল।

    ভেবেছিল, ছেলেটি যদি কলকাতা পর্যন্ত যায় তাহলে তার সঙ্গে যাবার সুবিধা হবে। অজানা, অচেনা ওই বিরাট মহানগরীতে একলা একলা মোহন কী করবে? কোথায় যাবে?

    তা ছাড়া ভিড় কমে গেলে টিকিট চেকার ট্রেনে উঠতে পারে।

    মোহনের সামনে যদি টিকিটের জন্য হাত পেতে দাঁড়ায়, তাহলে মোহন কী করবে? তার সম্বল তো মাত্র কুড়িটা পয়সা। ছেলেটা থাকলে হয়তো কিছু সুরাহা হতে পারে। ট্রেনের কামরায় টিকিট চেকার ওঠার কথা মোহন তার বাবার কাছেই শুনেছে।

    যারা টিকিট দেখাতে পারে না, তাদের চেকার নামিয়ে রেলের পুলিশের হাতে জমা দিয়ে দেয়। মোহনকেও কি তা-ই করবে!

    ট্রেনের দোলানির সঙ্গে মোহনের ঝিমুনি এল। চোখ দুটো আর সে খোলা রাখতেই পারছে না। হেলান দিয়ে মোহন চোখ বন্ধ করল।

    যখন চোখ খুলল তখন বেশ রাত। কামরায় ভিড় অনেক কম।

    মোহন চোখ খুলেই সামনের বেঞ্চের ছেলেটিকে খুঁজল। সে নেই। তার সঙ্গে ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা বোধহয় তার বাবা-মা-ই হবেন, কেউ নেই। কামরা জুড়ে সব নতুন লোক।

    চোখে ঘুমের ঘোর রয়েছে। মোহন বেশিক্ষণ চোখ মেলে থাকতে পারল না, আবার চোখ বন্ধ করল।…

    এবার ঘুম ভাঙল হইচই-চিৎকারে।

    কামরা খালি, ট্রেন আর চলছে না। দুজন ঝাড়ুদার মোহনের সামনে দাঁড়িয়ে চেঁচাচ্ছে।

    সব যাত্রী নেমে গেছে। ঝাড়ুদার কামরা পরিষ্কার করতে এসেছে।

    উঠে বসতে গিয়ে মোহন টের পেল সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা। গায়ে হাত রাখা যায় না এমন গরম। কাতর চোখে ঝাড়ুদারদের দিকে চেয়ে মোহন বলল, আমাকে একটু ধরবে, আমি উঠতে পারছি না।

    একজন ঝাড়ুদার এগিয়ে এসে মোহনের হাত ধরল। ধরেই বলল, ইস, তোমার তো খুব বোখার হয়েছে। সঙ্গে কে আছে তোমার?

    মোহন মাথা নাড়ল। কেউ নেই।

    একজন ঝাড়ুদার সাবধানে মোহনকে ধরে নামিয়ে আনল। সারা প্ল্যাটফর্মে জল। একটু আগে ধুয়েছে। এখানে বসবার উপায় নেই।

    ঝাড়ুদার বলল, চলো, তোমাকে ওদিকে বসিয়ে দিই। মোহনকে নিয়ে সে প্ল্যাটফর্মের এদিকে এসে দাঁড়াল।

    দেয়ালের ধারে একগাদা ভিখারি শুয়ে-বসে রয়েছে। তার মধ্যে মোহনের বয়সি অনেক ছেলেও আছে। মোহনকে সেখানে বসিয়ে ঝাড়ুদার চলে গেল।

    মোহনের বসে থাকার মতো শক্তি নেই। সে প্ল্যাটফর্মের ওপর শুয়ে পড়ল। তেষ্টায় গলার ভিতরটা পর্যন্ত শুকিয়ে গিয়েছে। একটু জল পেলে হত।

    ধারেকাছে যে ভিখারির ছেলেগুলো রয়েছে, তাদের বললে টিনের কৌটো করে একটু জল নিশ্চয় এনে দেবে। কিন্তু বলতে গিয়ে মোহনের গলা থেকে স্বর বের হল না। দু-চোখ বেয়ে জলের ধারা গালের ওপর গড়িয়ে পড়ল। প্রথমে মনে হল, রাগের ঝোঁকে বাড়ি ছেড়ে এসে সে ভুলই করেছে। এর চেয়ে নতুন মায়ের গালাগাল, মার খাওয়া ভালো ছিল। বাবার বকুনিও।

    এই খোকা, এই!

    প্রথমে খুব অস্পষ্ট, তারপর মোহনের কানে গেল। চোখ খুলে দেখল ভোর হয়ে গেছে। সামনে একটি লোক দাঁড়িয়ে। পরনে গরদের ধুতি, গায়ে গরদের চাদর। এইমাত্র স্নান করে এসেছে। কপালে সিঁদুরের ফোঁটা।

    লোকটি বলল, কাদের ছেলে? এখানে শুয়ে আছ কেন?

    অনেক কষ্টে মোহন উঠে বসে বলল, খুব জ্বর হয়েছে। উঠতে পারছি না।

    তা তো দেখতেই পাচ্ছি। মুখ থমথম করছে। এখানে যাবে কোথায়? কে আছে তোমার শহরে?

    মোহন মাথা নিচু করে রইল।

    ওঠো বাবা, ওঠো। আমার সঙ্গে চলো। তোমাকে সারিয়ে-টারিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে তবে আমার শান্তি।

    লোকটি নিচু হয়ে মোহনের একটা হাত ধরল। আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে আবার বলল, ছি বাবা, মা-বাবা হচ্ছেন গুরুজন। তাঁদের ওপর কি রাগ করতে আছে! একটু ভাবলেই বুঝতে পারবে, তাঁদের চেয়ে আপনজন আর সংসারে কেউ নেই। তাঁরা বকেন, মারেন ভালোর জন্যেই।

    স্টেশনের বাইরে এসে মোহন অবাক। এই বুঝি হাওড়ার পুল। লোহার ওপর লোহা সাজিয়ে কী বিরাট ব্যাপার, ভাবাই যায় না। ওপরদিকে দেখলে ঘাড় টনটন করে।

    সামনের রাস্তা দিয়ে জনস্রোত চলেছে। কেবল মানুষ আর মানুষ। তা ছাড়া বাস, ট্যাক্সি আর ট্রাম। অগুনতি। জীবনে মোহন এই প্রথম ট্রাম দেখল।

    বাস সে দেখেছে। আর-একবার জমিদারবাড়ির ছেলেরা শহর থেকে একটা ট্যাক্সি করে এসেছিল। মোহনদের স্কুলের সামনেই ট্যাক্সি থেমেছিল। স্কুলের ছেলেরা ভিড় করেছিল ট্যাক্সি দেখবার জন্যে।

    পুলের তলায় ঘোলাটে জলের স্রোত। বহু লোক স্নান করছে। এই তাহলে গঙ্গা!

    মোহন যখন গঙ্গা দেখতে ব্যস্ত, তখন তার পাশে নিঃশব্দে একটা ট্যাক্সি এসে থেমেছে, লক্ষই করেনি।

    নাও বাবা, উঠে পড়ো।

    মোহন দেখল, লোকটা এক হাতে দরজা খুলে দাঁড়িয়েছে।

    মোহন জিজ্ঞাসা করল, কোথায় যাব?

    গরিবের কুঁড়েঘর একটু বিশ্রাম করবে। অসুখটা সেরে গেলে তোমার বাবার হাতে তোমায় তুলে দিয়ে আসব। দেশ কোথায় তোমার?

    দেবীগড়। অ, বর্ধমান জেলায়। আমি গেছি তোমাদের গাঁয়ে। নাও বাবা উঠে পড়ো, আর দেরি কোরো না।

    মোহন উঠে পড়ল। লোকটি উঠে মোহনের পাশে বসল। বসে নিজের গায়ের গরদের চাদর খুলে মোহনের গায়ে জড়িয়ে দিল।

    বিশ্রী হাওয়া দিচ্ছে। এটা জড়ানো থাক।

    মোহন আড়চোখে চেয়ে দেখল, লোকটার গলায় ধবধবে সাদা পইতে। ডান হাতে সোনার তাবিজ।

    প্রায় আধ ঘণ্টাখানেক। অনেক গলি, উপগলি পার হয়ে ট্যাক্সি একটা বাড়ির সামনে এসে থামল।

    বিরাট বাড়ি, কিন্তু জরাজীর্ণ। কার্নিশে পায়রার ঝাঁক। বট-অশথের চারা বেরিয়েছে।

    ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে লোকটি নামল। তারপর মোহনের হাত ধরে নামাল।

    ট্যাক্সির শব্দ হতেই দারোয়ান গেট খুলে দাঁড়িয়েছিল।

    লোকটি দারোয়ানের দিকে ফিরে বলল, দারোয়ানজি, এই ছেলেটিকে দোতলায় নিয়ে যাও তো। এর শরীর খারাপ। শোবার ব্যবস্থা করে দাও। আমি নীচে বাবুর সঙ্গে দেখা করে যাই।

    যাবার সময় লোকটি মোহনের গা থেকে গরদের চাদরটা খুলে নিয়ে বলল, যাই বাবা, আবার দেখা হবে তোমার সঙ্গে।

    বাড়ির তুলনায় সিঁড়ি খুব সরু। সরু আর অন্ধকার। এত অন্ধকার যে দিনের বেলাতেও আলোর দরকার।

    দারোয়ান মোহনের হাতটা শক্ত করে ধরে ওপরে উঠতে লাগল। প্রশস্ত দ্বিতল, কিন্তু জনশূন্য। পাশে সার সার কামরা। সামনের কামরার চাবি খুলে দারোয়ান মোহনকে তার মধ্যে ঢোকাল।

    আশ্চর্য ঘর। একটাও জানলা নেই। অনেক উঁচুতে কেবল একটা ঘুলঘুলি। অন্ধকার চোখে সহ্য হয়ে যেতে মোহন দেখল, কোণের দিকে একটা খাটিয়া পাতা।

    ওই খাটিয়ায় গিয়ে বোসো, আমি তোমার জন্য বিছানা নিয়ে আসছি।

    মোহন খাটিয়ার ওপর বসলে দারোয়ান চলে গেল। যাবার সময় বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।

    মোহন খাটিয়ার ওপর বসে এদিক-ওদিক দেখল। কামরাটা যেন জেলখানার মতন। দরজা বন্ধ হলে আর বের হবার পথ নেই।

    একটু পরেই দারোয়ান ফিরল। কাঁধে বিছানা আর কম্বল। মোহন উঠে দাঁড়াতে খাটিয়ার ওপর বিছানা পেতে দিল। কম্বলটা মোহনকে গায়ে জড়াতে বলল।

    এবার একটি প্রৌঢ়া ঘরে ঢুকল।

    ছোটো একটা টুলের ওপর থালায় করে রুটি, তরকারি এনে রাখল। গ্লাসে দুধ। সামনে খাবার দেখে মোহনের তেষ্টাটা আবার জেগে উঠল।

    আমাকে একটু জল দাও।

    দারোয়ান চৌকাঠের কাছ বরাবর চলে গিয়েছিল। মোহনের কথা শুনে ফিরে দাঁড়িয়ে বলল, আরে ওকে অত আস্তে বললে শুনতেই পাবে না। ও বোবা আর কালা। যা বলবে খুব চেঁচিয়ে বলবে! আচ্ছা, আমিই বলছি।— যামিনীর মা, খোকাকে এক গ্লাস জল দাও।

    প্রৌঢ়া হেসে বলল, ঝাল? তরকারি না খেয়ে ঝাল বুঝলে কী করে?

    আরে কী মুশকিল, একেবারে বদ্ধকালা।

    দারোয়ান প্রৌঢ়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে খুব চেঁচিয়ে বলল, জল, জল, জল দাও এক গ্লাস।

    এবার প্রৌঢ়া বুঝতে পারল, আনছি—বলে বেরিয়ে গেল।

    একটু পরেই জল এনে রাখল।

    মোহন খাওয়া শেষ করে খাটিয়ার ওপর শুয়ে পড়ল। এখনও শরীরে ব্যথা আছে। জ্বরটা একটু কম।

    প্রৌঢ়া থালা-গ্লাস নিয়ে যেতেই দারোয়ান বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।

    ক্লান্তিতে মোহনের দু-চোখে ঘুম নেমে এল।

    অনেকক্ষণ পরে দরজা খোলার শব্দে মোহন উঠে বসল।

    ঘরের মধ্যে এত অন্ধকার, দিন কি রাত বোঝা মুশকিল। দেখল, বিরাট চেহারার একটা লোক ঘরে ঢুকছে। হাতে একটা ব্যাগ। খাটিয়ার একপাশে লোকটা বসে বলল, দেখি, জামাটা তোলো, বুক-পিঠ দেখব।

    মোহন জামাটা তুলল।

    হাতের টর্চ জ্বেলে লোকটা মোহনের পিঠের দিকে দেখেই বলল, ইস, অনেকগুলো কালশিটের দাগ যে। পেটালে কে?

    খুব আস্তে মোহন উত্তর দিল, বাবা।

    বাবা? কী করেছিলে? লোকটার কণ্ঠস্বর যেন বাজের মতন।

    তারই টর্চের আলোয় দেখা গেল লোকটার রং কুচকুচে কালো। মুখ-চোখের চেহারা অনেকটা গোরিলার মতন। খোঁচা খোঁচা চুল। লোকটার কথায় মোহন কোনও উত্তর দিল না।

    প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে লোকটা মোহনকে পরীক্ষা করল, তারপর ব্যাগ খুলে গোটা ছয়েক সবুজ রঙের বড়ি বের করে দিয়ে বলল, খাওয়ার পর আর শোবার আগে একটা করে বড়ি খাবে। আজ আর কাল। কাল এমনই সময়ে আবার আমি আসব। বলে ব্যাগ বন্ধ করে লোকটা উঠে পড়ল।

    তারপর রাতের খাওয়া যামিনীর মা-ই নিয়ে এল। কলাইয়ের বাটিতে ভাত, ডাল আর আলুভাজা।

    মোহন যখন খাচ্ছে, তখন যামিনীর মা ইশারায় দেখাল। পাশেই কলঘর আছে। দরকার হলে যেতে পারে।

    যামিনীর মা চলে গেল।

    বাথরুমে ঢুকে মোহন দেখল চৌবাচ্চায় জল রয়েছে। একটা মগ। কোনও কল নেই।

    ঘুমিয়ে পড়ার আগে মোহন ভাবল, কী আশ্চর্য, গরদ-পরা লোকটা, যে মোহনকে হাওড়া স্টেশন থেকে এখানে এনে তুলল, সে তো সারাদিনের মধ্যে একবারও দেখা করতে এল না।

    এটা কাদের বাড়ি? খেতে দিচ্ছে, ডাক্তার আসছে, সবই হচ্ছে, কিন্তু আগাগোড়া ব্যাপারটা কেমন দয়ামায়াশূন্য। রুক্ষ ব্যবহার, কঠোর কণ্ঠস্বর। ডাক্তারেরও যেন মমতার বালাই নেই।

    রাত্রিবেলা ঘুম ভেঙে গেল। ক-টা বেজেছে জানবার উপায় নেই। ঠিক পাশের ঘর থেকে একটা কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। চাপা গলায় কে কাঁদছে। মাঝে মাঝে ভারী গলায় ধমকের আওয়াজ।

    মোহন বিছানার ওপর উঠে বসল। দেয়ালে কান পেতে শুনল। যে কাঁদছে তার যেন খুব কষ্ট হচ্ছে। যন্ত্রণার জন্য মুখ ফুটে ভালো করে কাঁদতেও পারছে না। মোহনের মনে হল, এটা কি হাসপাতাল! রোগের যন্ত্রণায় হয়তো কেউ চেঁচাচ্ছে। ডাক্তার ধমকে থামাবার চেষ্টা করছে।

    পরের দিন সকালে দারোয়ান দরজা খুলে দিল। যামিনীর মা ঘরে ঢুকে এঁটো থালা তুলে নিতে এল।

    যামিনীর মাকে জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই, তাই মোহন দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, রাতে কে কাঁদছিল?

    দারোয়ান ভ্রূ কোঁচকাল, কাঁদছিল, কোথায়?

    পাশের ঘরে বলেই মনে হল।

    দারোয়ান কিছুক্ষণ কী ভাবল, তারপর বলল, ওপাশের ঘরে একটা পাগল আছে। মাঝে মাঝে চিৎকার করে। উত্তর দিয়ে দারোয়ান আর দাঁড়াল না। দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেল।

    মোহন ঘরের মধ্যে এদিক-ওদিক ঘুরল। ছোটো সাইজের ঘর। কতদিন তাকে এভাবে থাকতে হবে কে জানে? বাড়িতে এতক্ষণে নিশ্চয় হুলস্থুল পড়ে গেছে। রাত্রেই বাবা বেরিয়ে পড়েছে গাঁয়ের চেনাজানা বাড়িতে। মোহনের বন্ধুদের বাড়ি। মোহনের খোঁজে। তারপর একসময় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    মোহনের ভাবনা বন্ধ হয়ে গেল।

    আবার দরজা খুলে গেল। এবার দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকল বেঁটে একটি লোক। মাথার চুল খুব ছোটো করে ছাঁটা। পরনে গেঞ্জি আর লুঙ্গি। শক্তসমর্থ চেহারা।

    লোকটা বলল, কী নাম রে তোর ছোকরা? যেমন কথার ভঙ্গি, তেমনই কর্কশ কণ্ঠ।

    মোহন ভয়ে ভয়ে বলল, মোহন সরকার।

    বাপের নাম কী?

    অভয় সরকার।

    হুঁ, কী করে?

    দোকান আছে। কাপড়ের দোকান।

    কাপড়ের দোকানের মালিক? তাহলে দু-পয়সা আছে। তা বাড়ি থেকে পালিয়ে এলি কেন?

    মোহন কেন পালিয়েছে তা বলল, সব শেষে কাতরকণ্ঠে অনুরোধ জানাল, গরদ-পরা লোকটি বলেছিল যে, আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেবে। এখন আমি অনেকটা ভালো আছি, এবার আমাকে বাবার কাছে পাঠিয়ে দিন।

    গরদ-পরা লোক? ঠাকুরমশাই? কথা শেষ করে লোকটি হো হো করে হেসে উঠল। তারপর একসময়ে হাসি থামিয়ে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, পাঠাব বই কী। এই বাজারে তোকে অমনি অমনি দিনের পর দিন পুষব নাকি! তোদের দেশের ঠিকানাটা কী?

    মোহন ঠিকানা বলল।

    লোকটা উঠে দাঁড়াল, ঠিক আছে, তোর বাবাকে চিঠি লিখে দিচ্ছি। এসে তোকে নিয়ে যাবে।

    লোকটা বেরিয়ে যেতেই যামিনীর মা ঢুকল। একটা মগে চা আর থালায় দুখানা আধপোড়া রুটি।

    মোহন যখন খাচ্ছে, তখনই যামিনীর মা ঘরটা পরিষ্কার করে নিল। তারপর খাওয়া হতেই মগ আর থালা নিয়ে চলে গেল।

    মোহন আবার পায়চারি শুরু করল। পায়চারি করতে করতেই থেমে গেল। বাথরুমের মধ্যে ঢুকে এদিক-ওদিক দেখল। এপাশে একটা জানলা আছে, কিন্তু সে জানলা খোলবার উপায় নেই। পেরেক দিয়ে বন্ধ করা।

    জানলার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলোর রেখা এসে বাথরুমে পড়েছে। মোহন বাথরুমের দরজা বন্ধ করে সেই ফাঁকে চোখ রাখল। উঠোনের কিছুটা দেখা যাচ্ছে। এক জায়গায় সার দিয়ে অনেকে দাঁড়িয়েছে। প্রায় মোহনেরই বয়সি, কিন্তু কেউই পূর্ণাঙ্গ নয়— কেউ নুলো, কেউ খোঁড়া, কেউ অন্ধ, কারো কোমর ভাঙা, ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকালের লুঙ্গি-পরা বেঁটে লোকটা তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কী বলছে।

    এতগুলো পঙ্গু ছেলে এখানে জড়ো হয়েছে কেন? সবাই কি এখানে থাকে? এটা তাদের আস্তানা! এখান থেকে সবাই ভিক্ষা করতে বের হয়? আসবার সময় স্টেশনে, গঙ্গার ধারে সামনে বাটি সাজিয়ে অনেক ছেলেকে ভিক্ষা করতে দেখেছে।

    জানলা থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মোহন চুপচাপ দাঁড়াল। সব ব্যাপারটা কেমন গোলমেলে ঠেকছে।

    দিন পাঁচ-ছয় একভাবে কাটল।

    প্রত্যেকদিনই মোহন আশা করে, তার বাবা তাকে নিতে আসবে। দরজা খোলার শব্দ হলেই উৎসুক দৃষ্টি মেলে চেয়ে থাকে। কিন্তু না, কেউ এল না।

    পরনের শার্ট-প্যান্ট ময়লা হয়ে গিয়েছে। শার্টটা নিজেই কেচে নিয়েছিল। কিন্তু আবার নোংরা হয়েছে।

    সাত দিন পর আবার সেই বেঁটে লোকটা এসে ঘরে ঢুকল। এবার উগ্রমূর্তি। দুটো চোখ লাল।

    সে বলল, কী রে, বাবার নাম-ঠিকানা ঠিক দিয়েছিলি তো?

    উত্তর দেবে কী, মোহন প্রশ্নটা বুঝতেই পারল না।

    উত্তর দিচ্ছিস না যে? লোকটা ধমক দিয়ে উঠল।

    কাঁদো কাঁদো গলায় মোহন বলল, মিথ্যা নাম-ঠিকানা দিতে যাব কেন? বাবার নাম কেউ মিথ্যা বলে?

    তাহলে তোর বাবা উত্তর দিল না কেন? একেবারে যে চুপচাপ।

    এ কথার মোহন কী উত্তর দেবে! সে মাথা নিচু করে রইল। তাহলে কি বাবার মোহনকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার ইচ্ছা নেই?

    তা যদি হয়, তাহলে কী করবে মোহন? এরা আর কতদিন খাওয়াবে? একদিন দরজা খুলে রাস্তায় বের করে দেবে নিশ্চয়ই। তখন মোহন কোথায় যাবে? পথে পথে ঘুরে বেড়াবে?

    লিখতে জানিস? লোকটা আবার গর্জন করে উঠল।

    মোহনের রীতিমতো অপমানবোধ হল। সে বলল, কেন জানব না? ইংরেজি-বাংলা দুইই লিখতে জানি। আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি। প্রত্যেক বছর ফার্স্ট হই।

    বাবাকে ইংরেজিতে চিঠি লিখতে হবে না। বাংলাই যথেষ্ট। নে, যা বলছি লেখ। লোকটা একটা কাগজ এগিয়ে দিল, সঙ্গে সঙ্গে একটা ফাউন্টেন পেন।

    মোহন ভাবল, এ একরকম ভালোই হল। নিজের কথা বাবাকে সে নিজেই লিখবে। তাহলে নিশ্চয় বাবার মন গলবে। কাগজ-কলম নিয়ে সে বলল, ঠিক আছে, আমি লিখে রাখছি।

    লোকটা চোখ পাকিয়ে তেড়ে এল; ফাজলামি করিসনি। যা বলে দেব, ঠিক তা-ই লিখবি। একটু এদিক-ওদিক হলে এক থাপ্পড়ে মুন্ডু ঘুরিয়ে দেব।

    মোহন আর কথা বলল না। কলম ধরে চুপচাপ বসল।

    লোকটা বলল, বাবাকে কী বলিস? বাবা, না আজকালকার ঢঙে বাপি?

    মোহন বলল, বাবা।

    তবে লেখ।—

    বাবা, পত্রপাঠমাত্র তুমি নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাওড়া স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের ঘড়ির নীচে দাঁড়ানো লোকটির হাতে দেবে, তা না হলে আমাকে জীবন্ত দেখতে পাবে না। এ চিঠির তারিখ থেকে পনেরো দিন পর্যন্ত এরা অপেক্ষা করবে, তারপর যা করার করবে। যদি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করো, তাহলে কী ফল হবে আশা করি বুঝতে পারবে। ইতি তোমার আদরের মোহন।

    হাতটা থরথর করে কাঁপছে। ঢিপঢিপ করছে বুক। তবু থেমে থেমে মোহন সবটা লিখল।

    সে ভাবল, ছেলেধরার খপ্পরে পড়েছে নিশ্চয়। গরদ-পরা লোকটা বোধহয় এদেরই চর।

    লেখা শেষ হতে লোকটা কাগজটা ছিনিয়ে নিল—কী লিখেছিস দেখি। কাগজটা চোখের সামনে ধরে বলল, হাতের লেখাটা তো ভালোই দেখছি। আমার পেটে বোমা মারলেও একটি অক্ষর বের হবে না, কাজেই পড়বার চেষ্টা করে লাভ নেই। কালুবাবুকে দিয়ে পড়িয়ে নেব। যদি দেখি একটু এদিক-ওদিক লিখেছিস, তাহলে দেয়ালে মাথা ঠুকে একেবারে ঘিলু বের করে দেব। মনে থাকে যেন।

    মোহন কোনও কথা বলল না। মাথা নিচু করে রইল। এতদিন বিশেষ ভয় পায়নি। ভেবেছিল, এরা সত্যিই হয়তো বাবার হাতে একদিন তুলে দেবে। এভাবে বাড়ি থেকে চলে আসার জন্য ধমক কিংবা দু-একটা চড়চাপড়, তার বেশি কিছু নয়। ঘরের ছেলে ঘরে চলে যেতে পারবে। কিন্তু এখন ব্যাপারটা অন্যরকম দাঁড়াচ্ছে।

    পাঁচ হাজার টাকা তো অনেক টাকা। অত টাকা বাবার আছে কি না মোহনের জানা নেই। থাকলেই যে মোহনের জন্য অত টাকা বের করে দেবে, এমন সম্ভাবনা কম।

    যদি টাকা না আসে, তাহলে এরা মোহনকে খতম করে দেবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    লোকটা ঘর থেকে বের হয়ে যেতেই মোহন বিছানার ওপর উপুড় হয়ে পড়ল। কেঁদে উঠল ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।

    লোকটার কানে বোধহয় কান্নার আওয়াজ গিয়ে থাকবে। সে এসে দরজার সামনে দাঁড়াল। সে বলল, কী রে, কান্না হচ্ছে কেন? দেব গলাটা টিপে, জন্মের শোধ কান্না বন্ধ করে?

    মোহন থেমে গেল। তাড়াতাড়ি বিছানার ওপর উঠে বসে বলল, বড্ড পেটের যন্ত্রণা হচ্ছে।

    হোক, শুয়ে থাক মুখ বুজে। নবাবপুত্তুরের একটা না একটা লেগেই আছে। যামিনীর মা-কে বলে দিচ্ছি রাত্রে কিছু খেতে না দেয়। উপোস করলেই সব অসুখ সেরে যাবে।

    দরজা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল।

    মোহন বাথরুমের জানলায় আবার চোখ রাখল, উঠোন খালি। কেউ নেই। মোহন চোখ ঘুরিয়ে এদিক-ওদিক দেখল। না, কাছাকাছি কোনও গাছ নেই। অনেক কাহিনিতে মোহন পড়েছে, ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচবার জন্য অনেক ছেলে জানলা ভেঙে কাছাকাছি গাছের ওপর লাফিয়ে পড়েছে। তারপর ডাল ধরে ধরে নেমে—দে ছুট।

    কিন্তু এখানে তা হবার উপায় নেই। গাছ তো নেইই, আবার জানলায় গরাদ। লোহার গরাদ ভাঙবার সাধ্য মোহনের নেই।

    মোহন বিছানায় ফিরে এল।

    আজ সমস্ত দিন খাওয়া বন্ধ। সেই একবার সকালে চা আর রুটি খেয়েছে। আর কিছু পাবে বলে মনে হয় না। তবু মোহন স্নান সেরে নিল। তারপর খালি গায়ে প্যান্ট পরে বসে রইল।

    কিছুক্ষণ পরে দরজা খুলে গেল। মোহনের চেয়ে একটু বড়ো একটা ছেলে ভাত, তরকারি নিয়ে ঘরে ঢুকল।

    আনন্দে মোহন চেঁচাতে গিয়েও সামলে নিল। যাক, উপোস করে কাটাতে হবে না। লোকটা শুধু ভয় দেখাচ্ছিল।

    টুলের ওপর থালাবাটি নামিয়ে রাখতে মোহন জিজ্ঞাসা করল, যামিনীর মায়ের কী হল?

    মা-র অসুখ করেছে।

    মা? তুমি তাহলে কে?

    আমি যামিনী। নাও, খেয়ে নাও। তোমার সঙ্গে কথা বলছি দেখলে বাবুরা রাগ করবে। আমি পরে এসে বাসন নিয়ে যাব।

    যামিনী সন্ত্রস্ত পায়ে বেরিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }