Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সীমানা ছাড়িয়ে – ৫

    ।। পাঁচ।।

    অন্ধকার ঘর। আশপাশে অনেকগুলো তেলের খালি পিপে। তার মধ্যে মোহন বসে আছে। দুটো হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। দুটো পায়ে শিকল। সামনে একটা টুলের ওপর সেই বেঁটে লোকটা।

    আমাদের আর দোষ নেই। তোর বাবাকে টাকাটা দিয়ে দেবার অনেক সুযোগ দিলাম, কিন্তু আজ পর্যন্ত দেবার নাম নেই। এক টিকটিকির পাল্লায় পড়েছে বুঝতে পারছি, সে-ই মতলব দিচ্ছে।

    মোহন কোনও উত্তর দিল না। দেবার মতন উত্তরও তার কিছু নেই। সে জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছে। আর তার বাবা সাহায্যের জন্য আসবে না, সেটুকু বুঝতে পেরেছে। অভিমানে তার বুক ভরে গেল। ধারণা ছিল, নতুন মা যেমন তাকে দু-চোখে দেখতে পারে না, তেমনই বাবা কিন্তু খুব ভালোবাসে। কিন্তু কই, টাকা নিয়ে তো বাবা এগিয়ে আসছে না। এদিকে দিন দিন এরা নানারকম নির্যাতন শুরু করেছে। প্রায়ই খাওয়া বন্ধ করে দেয়। হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে।

    যাক, তোর বাপকে শেষ চিঠি দিয়েছি। আর কিছুদিন দেখব, তারপর আমাদের মনে যা আছে তা-ই করব। গালাগাল দিতে দিতে লোকটা বেরিয়ে গেল।

    বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগানোর শব্দ এল।

    আগের বাড়িটা তবু ভালো ছিল, কিন্তু হঠাৎ এক সকালে দুটো লোক মোহনের চোখ-মুখ বেঁধে একটা থলির মধ্যে পুরে কাঁধে তুলে নিল। তারপর এইখানে এনে ফেলল।

    তেলের একটা বিশ্রী গন্ধ। অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসে। কাঠের দেওয়াল, কাঠের মেঝে। দিনের বেলাও ঘুটঘুটে অন্ধকার।

    বোঝাই যখন যাচ্ছে, বাবা টাকা দিয়ে উদ্ধার করতে আসবে না, তখন নিজের উপায় নিজেকেই করতে হবে। যেমন করে হোক পালাতে হবে এখান থেকে। তা না হলে, কিছুই বলা যায় না, এরা হয়তো জোর করে অন্ধ কিংবা খোঁড়া করে দেবে। আজীবনের মতন পঙ্গু।

    পায়ে শিকল বাঁধা থাকলেও বসে বসে চলতে মোহনের কোনও অসুবিধা হল না। একেবারে কোণের দিকে খালি ড্রামের পিছন থেকে মোহন একটা ভাঙা পাইপের টুকরো কুড়িয়ে পেল। দেড় ফুট লম্বা, বেশ ভারী। অস্ত্র হিসাবে চমৎকার।

    মোহন সেটাকে বেশ সতর্কতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখল। যা হবার হোক, মোহন একেবার মরিয়া।

    পরের দিন ভোরবেলা দারোয়ান রোজকার মতন দরজা খুলল। ভিতরে ঢুকে মোহনের হাত-পায়ের বাঁধনও খুলে দিল। এ সময় মোহনের কলঘরে যাবার কথা, তাই এ ব্যবস্থা।

    মোহন কলঘরে গিয়ে দরজাটা সজোরে বন্ধ করল বটে, কিন্তু কলঘরের ভিতরে গেল না।

    ড্রামের মধ্যে থেকে ভাঙা পাইপটা তুলে নিয়ে পা টিপে টিপে দরজার কাছে এসে দাঁড়াল।

    দারোয়ান চৌকির ওপর বসে সুর করে দুলে দুলে কী গাইছে। দরজার দিকে পিছন ফিরে। মোহন ভাঙা পাইপটা তুলে প্রাণপণ শক্তিতে দারোয়ানের মাথায় আঘাত হানল। অস্ফুট আর্তনাদ করেই দারোয়ান লুটিয়ে পড়ল।

    মোহন আর তিলমাত্র দেরি করল না। পাইপের টুকরোটা ফেলে দিয়ে তিরবেগে ছুটতে আরম্ভ করল।

    কিছুটা এগিয়েই নীচে নামার সিঁড়ি। মোহন বুঝতে পারল, সিঁড়ি দিয়ে নামা উচিত হবে না। দলের লোকেরা নিশ্চয় নীচে আছে। সে উলটোদিকে ছুটল।

    বারান্দার কোণে ছোটো একটা জানলা। তার ফাঁক দিয়ে একটা অশ্বত্থ গাছ দেখা গেল।

    বহু কষ্টে মোহন নিজের শরীরটা সেই ছোটো জানলার মধ্য দিয়ে গলিয়ে দিল।

    এদিকে-ওদিকে ভোরের ঝাপসা কুয়াশা। একটু দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। জানলা থেকে লাফ দিয়ে মোহন গাছের একটা ডাল ধরল। পাড়াগাঁয়ের ছেলে। গাছে চড়া খুব অভ্যাস আছে। তরতর করে ডাল বেয়ে নীচে নেমে এল সে।

    ছোটো ছোটো আগাছার ঝোপ। ঝোপের আড়ালে বসে একবার বাড়িটার দিকে দেখল। না, কোথাও কোনও চাঞ্চল্য নেই। মনে হয় কেউ এখনও জাগেনি। মোহনের পালিয়ে যাবার কথা কেউ জানতে পারেনি।

    গুঁড়ি দিয়ে মোহন এগিয়ে গেল। সামনের ইটের স্তূপ দেখে মনে হল, এখানে একসময় বাড়ির ভিটে ছিল। বাড়িও থাকতে পারে। হয়তো পুরোনো হয়ে ভেঙে পড়ে গেছে, কিংবা আদৌ বাড়ি তৈরিই হয়নি। ভিত পর্যন্ত গাঁথা হয়েছিল।

    মোহনের ভয় হল, দিনের আলোয় চলাফেরা করলে কারো চোখে পড়ে যাবে। বদমাশদের দল খুঁজতে খুঁজতে নিশ্চয় এদিকে আসবে। তার চেয়ে ঝোপের মধ্যে চুপচাপ বসে থাকাই ভালো। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা যাবে। লম্বা লম্বা ঘাসের মধ্যে মোহন ঢুকে পড়ল।

    ঘাস খুব নরম। যেন বিছানা।

    দুপুর কাটিয়ে বিকাল হলেই মোহন উঠে পড়বে। শীতকালে তাড়াতাড়ি অন্ধকার নামে। অন্ধকারে গা-ঢাকা দিয়ে পালাবার খুব সুবিধা। একবার রাস্তায় পৌঁছাতে পারলে, লোককে জিজ্ঞাসা করে করে ঠিক হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যাবে। তারপর টিকিট চেকারবাবুদের হাতে-পায়ে ধরে দেবীগড় যেতে খুব অসুবিধা হবে না।

    তীক্ষ্ন একটা হাসির শব্দে মোহনের ঘুম ভেঙে গেল। সব ব্যাপারটা বুঝতে তার বেশ একটু সময় নিল। চোখ খুলে দেখল, সামনে ঘাসের ওপর বেঁটে-মোটা একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। একে আগে কখনো দেখেছে বলে মনে করতে পারল না মোহন। লাল চোখ, নাক প্রায় নেই বললেই হয়, সারা মুখে বসন্তের দাগ, হলদে ছোপ-লাগা দাঁত। লোকটা বলল, কী রে, খুব চালাক হয়েছিস? এবার তো ফাঁসিকাঠে ঝুলতে হবে।

    মোহনের গলা থেকে স্বর বের হল না। আস্তে আস্তে বলল, ফাঁসিকাঠে?

    আলবত। লোহার ডান্ডা দিয়ে দারোয়ানকে খতম করে পার পেয়ে যাবি ভেবেছিস? ওঠ, পুলিশ তোকে খুঁজছে।

    ঠিক বেড়াল যেমন ইঁদুরকে মুখে ঝুলিয়ে নেয়, ঠিক তেমনই লোকটা মোহনের শার্টের কলার ধরে তুলে নিল।

    কথা বলা দূরে থাক, মোহনের কিছু চিন্তা করারও শক্তি নেই। সর্বনাশ, মানুষ মারার জন্য শেষকালে তার ফাঁসি হবে। কিন্তু এই লোকগুলো যে তাকে বন্দি করে রেখে নির্মম অত্যাচার করছিল, শুধু এদের হাত থেকে বাঁচবার জন্যই যে সে দারোয়ানকে মারতে বাধ্য হয়েছে, এ কথা পুলিশ শুনবে না?

    লোকটা তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে চলল।

    গাছ থেকে নামবার সময় দু-এক জায়গা ছড়ে গিয়েছিল, এবারের টানাহ্যাঁচড়ানিতে অনেক জায়গা কেটে গিয়ে রক্ত ঝরতে লাগল।

    দোতলায় নিয়ে গিয়ে মোহনকে আছড়ে ফেলল লোকটা।

    মোহন উঠে বসেই অবাক। দারোয়ানের শুধু মাথায় ব্যান্ডেজ। সে দিব্যি বহাল তবিয়তে রয়েছে। সামনে কোমরে হাত দিয়ে বদমাশের দলের সর্দার দাঁড়িয়ে। তার হাতে একটা চাবুক। সে বলল, উঠে দাঁড়া। তোকে কী করে শায়েস্তা করতে হয় আমি জানি।

    কাঁপতে কাঁপতে মোহন উঠে দাঁড়াল।

    সর্দার চাবুকটা উঁচুতে তুলে নামিয়ে আনার মুহূর্তেই থেমে গেল। একটা লোক ছুটতে ছুটতে আসছে। ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল, কোমরে লাল গামছা বাঁধা। জোয়ান চেহারা। কাছে এসে সে ইশারায় সর্দারকে ডাকল।

    চাবুক গুটিয়ে সর্দার তার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    দুজনে ফিসফিস করে কী কথা হল। মনে হল, সর্দারের চোখ-মুখে যেন চিন্তার ছাপ ফুটে উঠল। লোকটা আবার দৌড়াতে দৌড়াতে চলে গেল।

    সর্দার মোহনের কাছে এসে তাকে একটা লাথি মারল। মোহন ছিটকে গিয়ে কামরার মধ্যে পড়ল। তারপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

    মোহনের মনে হল, তার কোমরটা বুঝি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। সে বুঝি আর উঠে দাঁড়াতেই পারবে না।

    একসময় আস্তে আস্তে দেয়াল ধরে মোহন উঠে দাঁড়াল। দাঁতে দাঁত চেপে যন্ত্রণা সহ্য করার চেষ্টা করল।

    নিশ্চয় কিছু একটা হয়েছে, তা না হলে লোকটার কথায় সর্দার অত চিন্তিত হয়ে উঠল কেন? তাহলে কি পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলেছে? মোহন এগিয়ে এসে দরজায় কান পাতল। না, কোনও শব্দ নেই। সব চুপচাপ।

    মোহন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। মেঝের ওপর বসে পড়ল। বসে বসে ভাবতে লাগল, সে ভুল করেছে। ওভাবে ঘাসবনের মধ্যে বসে না থেকে আরও দূরে চলে যেতে পারত। এদের নাগালের বাইরে।

    .

    সন্ধ্যার পর দরজা খুলে গেল। সারাদিন কিছু খাওয়া হয়নি। পরিশ্রান্ত দেহ।

    মোহন ভাবল, কেউ নিশ্চয় খাবার নিয়ে এসেছে, কিন্তু না। যে লোকটা মোহনকে ধরে নিয়ে এসেছিল, সে এসে ঢুকল, তার হাতে কালো কাপড়ের একটা বান্ডিল। সে বলল, নে এটা পরে নে। লোকটা কাপড়ের বান্ডিলটা মোহনের দিকে ছুড়ে দিল।

    মোহন জানে, এদের কথা অমান্য করলে আবার শাস্তি পেতে হবে। কাপড়টা তুলে দেখল, একটা বোরখা। বলল, এটা পরব? এটা তো মেয়েদের।

    লোকটা খিঁচিয়ে উঠল। বেশি কথা বলিসনি। যা বলছি, তা-ই কর।

    মোহন বোরখাটা পরে নিল। চোখের সামনে জাল দেওয়া। সামনের পথ দেখবার জন্য।

    দেখি তোর হাত দুটো।

    মোহন দুটো হাত বাড়িয়ে দিল।

    লোকটা মোহনের হাতের চেটোয় কী মাখিয়ে দিল।

    মোহন নিজের দুটো হাত চোখের সামনে এনে দেখল। মেহেদি বাটা। চেটো দুটো হলদে হয়ে গিয়েছে।

    নে চল। রাস্তায় যদি একটা কথা বলবি তো গর্দান থেকে ধড় আলাদা করে দেব।

    এভাবে বলা মুশকিল। ঠোক্কর খেতে খেতে মোহন এগিয়ে চলল। বুঝতে পারল, লোকটা সঙ্গে সঙ্গেই রয়েছে।

    বেশি দূর নয়। কিছুটা গিয়েই মোহনকে থামতে হল।

    সঙ্গের লোকটা কর্কশকণ্ঠে বলল, দাঁড়া এইখানে।

    মোহন দাঁড়াল।

    একটা মোটরের শব্দ। মনে হল, মোটরটা সামনে এসে থামল।

    লোকটা মোহনের হাত ধরে মোটরে উঠল।

    মোটর নক্ষত্রবেগে ছুটে চলল।

    জালি-কাটা নকশা দিয়ে মোহন দেখল, মোটর সরু গলি ছাড়িয়ে চৌরাস্তায় এসে পৌঁছাল। চারদিকে ট্রাম-বাস, অগণিত লোকজন।

    এত ভিড়ের মধ্যেও মোহন কত অসহায়। চিৎকার করে উঠতে সাহস হল না। লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আগেই সঙ্গের লোকটা হয়তো গলা টিপে তাকে শেষ করে দেবে। এদের অসাধ্য কোনও কাজ নেই। অনেকটা চলার পর মোহনের মনে হল, মোটরটা যেন এবার থামল। মনে হল, একটা রেল স্টেশন।

    মোটর থামতেই আর-একটা লোক এসে চাপা গলায় বলল, সব ঠিক আছে।

    সে কথায় উত্তর না দিয়ে সঙ্গের লোকটা বলল, কত দেরি?

    মিনিট দশেক।

    মোহনকে ধরে রাস্তায় নামিয়ে লোকটা আবার সাবধান করে দিল, একটি কথা যেন মুখ থেকে না বের হয়।

    তিনজনে স্টেশনে এসে ঢুকল। একটু পরেই ইঞ্জিনের গর্জন। ঝমঝম শব্দ করতে করতে ট্রেন এসে দাঁড়াল।

    যাত্রীদের হইচই। ফেরিওয়ালাদের শোরগোল। তারই মধ্যে দুজন দু-ধার থেকে মোহনের হাত ধরে ট্রেনে তুলল। একেবারে কোণের বেঞ্চে—মাঝখানে মোহন, দু-পাশে দুজন তার দেহের সঙ্গে চেপে বসল।

    একসময় ট্রেন ছাড়ল।

    মোহনের মনে হল, তাহলে কি এরা তাকে নিজের গাঁয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে? দেবীগড়ে?

    হয়তো বাবার সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে। যে টাকা এরা চেয়েছিল সেটা পেয়ে গেছে। মনে খুবই আনন্দ হল মোহনের। কিন্তু মুখ ফুটে জিজ্ঞাসা করতে সাহস হল না।

    ট্রেনের কামরায় অন্য যাত্রীও রয়েছে। তাদের মুখগুলো মোহন অস্পষ্টভাবে দেখতে পেল।

    একটু পরেই মোহনের চাপা আনন্দ বিষাদে পরিণত হল।

    সামনের বেঞ্চে বসা একটি লোক প্রশ্ন করল, মিঞা সায়েব কতদূর যাবেন?

    মোহনের ডান পাশের লোকটি বলল, আর বলেন কেন ভাই। বোনের এই মেয়েটাকে নিয়ে নাজেহাল হয়ে গেলাম। ডাক্তার, বদ্যি, হেকিম কিছু করতে পারল না। এখন দৈব ভরসা।

    অসুখটা কী?

    মাথায় রোগ। এলোমেলো বকে। তাই পাণ্ডুয়ার পিরসাহেবের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। শুনেছি, তাঁর ফুল পড়ায় খুব কাজ হয়।

    মোহন কথা বলতে গিয়েই সহসা উঃ করে থেমে গেল। পাশের লোকটা সজোরে চিমটি কেটেছে পাঁজরার নীচে। বোধহয় সে আন্দাজ করেছিল যে, মোহন প্রতিবাদ করে উঠবে।

    অন্য লোকটি ব্যাকুলকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করল, কী হল মরিয়ম, আবার শরীর খারাপ বোধ হচ্ছে। শুয়ে পড়ো, শুয়ে পড়ো।

    একরকম জোর করেই তারা মোহনকে শুইয়ে দিল।

    মোহনের চিন্তার শেষ নেই। তাকে এরা কোথায় নিয়ে চলেছে? তাহলে সম্ভবত তার বাবা এদের টাকা দেয়নি। সেইজন্য এরা মোহনকে মেরে ফেলবে। মরার পরে মোহনের দেহ নিয়ে এরা যা ইচ্ছা করুক, তাতে মোহনের কিছু যায় আসে না। কিন্তু এক কামরা লোক সঙ্গে চলেছে। এরা কি কেউ মোহনকে একটু সাহায্য করতে পারে না? মোহন যদি চিৎকার করে ওঠে! বোরখা খুলে ফেলে বলে, আমি মরিয়ম নই, মোহন। তোমরা আমাকে বাঁচাও। এরা আমাকে মেরে ফেলতে নিয়ে চলেছে। তাহলে কি কেউ সাহায্য করবে না? এমন সুযোগ হয়তো জীবনে আর আসবে না।

    কিন্তু একটা লোক তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তার আসল উদ্দেশ্য অন্য। যদি মোহন কোনোরকম বেয়াদবি করে কিংবা চেঁচামেচি করার চেষ্টা করে, তাহলে তার মুখ চেপে ধরবে। গলা টিপে ধরাও বিচিত্র নয়। তার চেয়ে চুপ করে থাকাই ভালো। যা হবার তা-ই হবে।

    মোহন জানে, বাবার জমিজমা আছে। অত বড়ো কাপড়ের দোকানের মালিক। আসল কথা, ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার মন বাবার নেই। থাকলে বাবা টাকাটা নিশ্চয় দিয়ে দিত। মোহন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারল, একটা হাত তার গলার ওপর চেপে বসল।

    ট্রেন থামতে মোহনকে নিয়ে দুজনে উঠে পড়ল। অন্ধকার স্টেশন। টিমটিম করছে আলো। জালি-কাটা নকশার ফাঁক দিয়ে মোহন চেয়ে চেয়ে দেখল।

    স্টেশনের এলাকা পার হয়ে সবাই রাস্তায় নামল। তারপর হাঁটা বেশ অনেকটা পথ।

    এক জায়গায় এসে সঙ্গের একজন বলল, দাঁড়া।

    মোহন দাঁড়াল। ওর বোরখা টেনে খুলে দিল সে লোকটা।

    মোহন যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।

    চারদিকে জঙ্গল। দূরে দূরে আলোর আভাস। অজ পাড়াগাঁ বলেই মনে হচ্ছে। মোহনের ভয় হল। নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে এরা বোধহয় মোহনকে শেষ করে দেবে। কেউ জানতেও পারবে না।

    চলতে চলতে মোহন জিজ্ঞাসা করল, তোমরা আমায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?

    কোনও উত্তর নেই। আবার সাহস করে মোহন জিজ্ঞাসা করে ফেলল, তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে?

    এবার সঙ্গের একজন কর্কশকণ্ঠে বলল, ফেলব বই কী। আবার পালাবার চেষ্টা করলে একদম খতম। তোর জন্যে আমাদের কম হয়রানি কি! বিচ্ছু কোথাকার।

    সামনে ভাঙা একটা মন্দির। অনেক পুরোনো। এত পুরোনো যে, ফাটলে ফাটলে বুনো গাছ গজিয়েছে। তার পাশে একতলা একটা বাড়ি। তারও জরাজীর্ণ অবস্থা।

    এখন অন্ধকার অনেকটা কম। আকাশে চাঁদ উঠেছে। ম্লান আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    মোহনকে দাঁড় করিয়ে একজন মেঠোরাস্তা ধরে এগিয়ে গেল। বাড়িটার সামনে গিয়ে চেঁচাল, মেঘা, মেঘা!

    বারকয়েক ডাকবার পর যে বেরিয়ে এল, তাকে দেখে মোহন আঁতকে উঠল। কালো কুচকুচে রং। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। জবা ফুলের মতন টকটকে রাঙা চোখ। খালি গা। বাঁ হাতে তাবিজ বাঁধা।

    মেঘা, এই ছেলেটাকে তোর কাছে রাখতে হবে। এক নম্বরের শয়তান। একবার পালাবার চেষ্টা করেছিল। খুব চোখে চোখে রাখবি।

    মেঘার দুটো চোখ যেন জ্বলে উঠল। হা হা করে এমনভাবে সে হেসে উঠল যে, কাছে গাছের ডালে বসে-থাকা গোটাকয়েক পাখি ঝটপট করে উড়ে গেল। হাসতে হাসতেই সে বলল, পালাবে আমার কাছ থেকে! একেবারে চণ্ডেশ্বরীর মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বলি দিয়ে দেব না! হুঁ।

    মেরে ফেলার ভয় মোহনকে বদমাশ দলের অনেকেই দেখিয়েছে, কিন্তু এই লোকটার কথা শুনে মোহনের বুকটা গুরগুর করে উঠল। মনে হল, কিছুই যেন এর অসাধ্য নয়।

    বইতে আগের যুগের যেসব ডাকাতের কাহিনি মোহন পড়েছিল—বিশে ডাকাত, নিধিরাম সর্দার—তাদের সঙ্গে লোকটার মিল আছে। কে জানে, লোকটা হয়তো ডাকাতও হতে পারে।

    নে আয়। মেঘা বজ্রমুষ্টিতে মোহনের হাত ধরে টানল।

    আর-একটু হলে মোহন হুমড়ি খেয়ে পড়ে যেত মাটির ওপর।

    তাহলে আমরা চলি মেঘা। সর্দারকে গিয়ে বলব, ছোকরাকে তোর জিম্মায় দিয়ে গেলাম।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, কোনও চিন্তা নেই। আমি ঠিক শায়েস্তা করে রাখব।

    ছোটো একটা ঘর। দেয়ালগুলো ফেটে গেছে। মেঝেও চৌচির। সেখানে নিয়ে গিয়ে মেঘা একটা চাটাই নিয়ে ছুড়ে দিয়ে বলল, নে তোর বিছানা। জিরিয়ে নে।

    মোহনকে ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে মেঘা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করল।

    বাড়িটা জরাজীর্ণ কিন্তু মজবুত শাল কাঠের দরজা। বড়ো বড়ো লোহার হুড়কো।

    রাতের ফিকে আলো ঘরের মধ্যে এসে পড়েছে। পরিশ্রান্ত মোহন কোনওরকমে টলতে টলতে চাটাইয়ের ওপর গিয়ে শুয়ে পড়ল। সকাল থেকে পেটে একবিন্দু খাবার পড়েনি। তেষ্টায় বুকটা শুকিয়ে যেন কাঠ হয়ে গেছে।

    আসতে আসতে পথে একটা ডোবা দেখেছিল। একবার যদি কিছুক্ষণের জন্যও ছাড়া পেত, তাহলে মোহন ছুটে গিয়ে আঁচল ভরে সেই ডোবার জল খেয়ে আসত।

    কতক্ষণ যে এভাবে কেটে গেছে মোহনের খেয়াল নেই। হঠাৎ দরজায় শব্দ হতেই সে চমকে উঠে বসল। ঘর অন্ধকার, চাঁদ সরে গেছে। কে যেন দরজা খোলার চেষ্টা করছে।

    দরজা খুলে যেতে ঘরের মধ্যে আলোর রেখা এসে পড়ল। কেরোসিনের কুপি হাতে নিয়ে কে একজন ঢুকল। কাছে আসতে মোহন ভালো করে দেখতে পেল। কালো কুৎসিত চেহারা। শণের নুড়ির মতন চুল। সামনের গোটা তিনেক দাঁত বীভৎসভাবে বেরিয়ে আছে। এক হাতে তেলের কুপি, অন্য হাতে একটা মাটির সরা। সরাটা মোহনের সামনে নামিয়ে রেখে বুড়ি খনখনে গলায় বলল, নে গিলে নে। আমি সরাটা নিয়ে যাব।

    মোহন সোৎসাহে এগিয়ে এসেই হতাশ হল। পান্তা ভাত। বিশ্রী একটা গন্ধ বের হচ্ছে। পাশে শাকের তরকারি।

    কিন্তু তার পেটে তখন আগুন জ্বলছে। খাবারের বাছবিচার করার সময় তার নেই। সে কোনওরকমে পান্তা ভাত শেষ করে ফেলে বলল, একটু জল।

    বুড়ি খিঁচিয়ে উঠল। নবাবপুত্তুরের কিছু ত্রুটি হবার জো নেই।

    বেরিয়ে গিয়ে মাটির গেলাসে জল এনে রাখল। তারপর মোহনের খাওয়া শেষ হলে সরা-গেলাস তুলে নিয়ে দরজা বন্ধ করে চলে গেল।

    তেলের কুপিটা জ্বলছে। কতটুকুই বা আলো। মোহনের দীর্ঘ ছায়া দেয়ালের ওপর কাঁপছে। একটু পরে মোহন চাটাইয়ের ওপর শুয়ে পড়ল।

    রাত কত হল খেয়াল নেই, হঠাৎ হাতের ওপর ঠান্ডা একটা স্পর্শ পেয়ে মোহন চিৎকার করে জেগে উঠল। বিশ্রী একটা স্বপ্ন দেখছিল মোহন। কতকগুলো ষণ্ডামার্কা লোক তাকে টানতে টানতে নিয়ে চলেছে। সামনে চণ্ডেশ্বরীর মূর্তি। কালীমূর্তিরই মতন। লাল টকটকে জিভ। দু-চোখে যেন আগুন ছুটছে। তার সামনে হাড়িকাঠ। মূর্তির সামনে এক পুরোহিত বসে পূজা করছে।

    তার চেহারাও ভয়াবহ।

    সবাই মিলে মোহনকে ধরে হাড়িকাঠে ফেলল। গলাটা আটকে দিল। সেই মুহূর্তে মোহনের চোখের সামনে বাবার চেহারা ভেসে উঠল। বিড়বিড় করে মোহন বলল, তুমি আমার জন্য কিছু করলে না বাবা। দেখো, এরা আমায় শেষ করে দিচ্ছে। আর জীবনে কোনওদিন আমাকে দেখতে পাবে না।

    তারপর একটা লোক বিরাট একটা খাঁড়া নিয়ে মোহনের ঘাড়ে স্পর্শ করাল। কনকনে ঠান্ডা স্পর্শ। মোহন জেগে উঠল।

    তেলের কুপির আলোটা কমে এসেছে। সেই আবছা আলোয় মোহন সভয়ে দেখল, বিরাট কালো রঙের একটা সাপ মোহনের হাতের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে দেয়ালের দিকে এগিয়ে চলেছে। সাপের মাথায় খড়মের মতো চিহ্ন আঁকা।

    মোহন গাঁয়ের ছেলে। অনেকরকম সাপ দেখেছে। সাপও চেনে। এটা গোখরো সাপ। দারুণ বিষধর। এক ছোবলেই শেষ।

    কেউটের মতন এরা সহজে তেড়ে আসে না। কিন্তু মোহন এর আস্তানায় হানা দিয়েছে, কাজেই রাগ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। যদি তেড়ে আসে, তাহলে মোহনের পালাবার কোনও পথ নেই। জানলা নেই। ঘুলঘুলি। তাও অনেক ওপরে।

    তাহলে এদের উদ্দেশ্য বোধহয় মোহনকে এইভাবে মেরে ফেলা। নিজের হাতে কিছু করবে না। তাতে অনেক হাঙ্গামা। সাপের কামড়ে মারা গেলে বলবার কিছু নেই।

    সাপটা আস্তে আস্তে একটা ফাটলের মধ্যে ঢুকে গেল।

    সারাটা রাত মোহন আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। শুতে আর সাহস হল না। কী জানি, সাপটা যদি আবার বেরিয়ে পড়ে। তা ছাড়া চারদিকে অজস্র ফাটল। সাপের থাকার পক্ষে আদর্শ জায়গা। আরও কত সাপ আছে বলা যায়!

    সকালে যখন দরজা খুলল তখন মোহন ঘুমিয়ে পড়েছে।

    দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে কখন মোহন দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়েছে। তারপর একসময়ে চাটাইয়ের ওপর ঢলে পড়েছে।

    আরে এই, ওঠ ওঠ।— বাজখাঁই গলার আওয়াজে মোহনের ঘুম ভেঙে গেল। সে ধড়মড় করে উঠে বসল। চোখ মুছে দেখল, সামনে মেঘা দাঁড়িয়ে।

    মেঘা বলল, নে বাইরে চল।

    মোহন উঠে দাঁড়াল। তাহলে কি তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাবে? মেঘার পিছন পিছন মোহন বেরিয়ে এল।

    বিরাট মাঠ। মাঝে মাঝে আকন্দ, বনতুলসী আর কেয়া গাছের ঝোপ। পাশে একটা ডোবা। শ্যাওলার জল সবুজ হয়ে আছে।

    নে, মুখ-হাত ধুয়ে নে।

    মোহন ডোবার জলে মুখ ধুতে লাগল।

    বিশ্রী পাঁকের গন্ধ জলে। মুখে দিলেই বমি হয়ে যাবে যেন। কিন্তু উপায় নেই।

    মুখ ধুয়ে মোহন আবার ঘরে ফিরে এল। আশ্চর্য হয়ে দেখল, এবার আর সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ হল না। দরজা খোলাই রইল।

    কী ব্যাপার? মোহন একটু পরেই তা বুঝতে পারল।

    খোলা দরজা দিয়ে বুড়ি ঢুকল। হাতে মাটির সরা। সরাতে দুখানা আধপোড়া রুটি আর একটু গুড়। সরাটা নামিয়ে বুড়ি যখন ফিরে যাচ্ছে, তখন সাহস করে মোহন ডাকল, দিদিমা।

    বুড়ি ভ্রূ কুঁচকে থমকে দাঁড়াল।

    দিদিমা! এ আবার কী ডাক? কে তুই সাতপুরুষের কুটুম? আমার কেউ কোথাও নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।

    একটা কথা দিদিমা! মোহন কাতরকণ্ঠে বলল।

    কী বলবি বল। তখন থেকে দিদিমা-দিদিমা করছিস।

    এ ঘরে থাকতে বড়ো ভয় করছে।

    ভয়? কীসের ভয়?

    সাপের। কাল রাত্তিরে আমার হাতের ওপর দিয়ে একটা সাপ গিয়েছে।

    বুড়ি কথাটা শুনে হাসতে শুরু করল। হাসির চোটে চোখ দুটো বুজে গেল। সব ক-টা দাঁত বেরিয়ে পড়ল—অ মা, ও সাপে ভয় কী? ওরা তো বাস্তুসাপ। ওরা কিচ্ছু করে না। এখানে একজোড়া আছে। প্রতি মঙ্গলবার আমি ওদের দুধ-কলা খাওয়াই।

    একটা নয়, একজোড়া? সর্বনাশ! মোহন রীতিমতো ভয় পেয়ে গেল।

    এই ঘরে জোড়া সাপের সঙ্গে থাকতে হবে! ঘুমিয়ে থাকার সময় কখন তাদের গায়ে হাত-পা গিয়ে পড়বে। ব্যাস, অমনি ছোবল। অবশ্য বাঁচবার মোহনের আর ইচ্ছা নেই। বাবাই যখন আর তাকে চায় না তখন তার কী হবে বেঁচে!

    দেবীগড়ে গিয়েই বা কী হবে? কিন্তু এভাবে সাপের ছোবলে নির্জন জঙ্গলে মরতে হবে! কেউ টেরও পাবে না! নতুন মা-র কাছে, বাবার কাছে খবরও পৌঁছাবে না?

    মোহন আর কিছু বলল না। বুঝতে পারল, বলেও কোনও লাভ নেই। অন্য কোনও ঘরে পাঠিয়ে দেবার ক্ষমতা খুব সম্ভব বুড়িরও নেই।

    সে রুটি-গুড় খাওয়া শেষ করে দেখল, দরজার গোড়ায় বসে বুড়ি চাল বাচছে। বোধহয় চোখে ভালো দেখতে পায় না, তাই চালের ওপর খুব ঝুঁকে পড়েছে।

    মোহন ডাকল, দিদিমা, অ দিদিমা!

    না, ছেলেটা জ্বালালে দেখছি! বুড়ি জিজ্ঞেস করল, কী বলবি বল?

    আমি তোমার চাল বেছে দেব দিদিমা?

    তুই কী করে বাছবি? ঘরের মধ্যে তো অন্ধকার।

    তোমার মতন দরজার গোড়ায় বসে!

    দরজার গোড়ায় বসে? না বাছা, মেঘা দেখলে রাগ করবে।

    কোথায় পালাব দিদিমা, চারদিকে তো জঙ্গল। তা ছাড়া কাছে তো তুমি বসেই রয়েছ।

    বুড়িটা কিছুক্ষণ কী ভাবল, তারপর বলল, তাহলে আয় এখানে, চালগুলো বেছে দে। পালাবার চেষ্টা করলে খবরদার, একেবারে তোকে খতম করে দেবে। চারদিকে আমাদের লোক রয়েছে।

    এ কথার কোনও উত্তর না দিয়ে মোহন বুড়ির পাশে গিয়ে বসল। বলল, সরো দিদিমা, আমি বাছছি।

    বুড়ি খুব একটা সরে বসল না। ছেলেটাকে হাতের নাগালের মধ্যে রাখাই ঠিক। কার কী মতিগতি হয় বলা যায়! অবশ্য পালিয়ে কোথাও যেতে পারবে না। সে আশা দুরাশা। বাড়িতে শাঁখ আছে। সেই শাঁখে বুড়ি একবার ফুঁ দিলেই লোকেরা জঙ্গল ঘিরে ফেলবে। মাছিটির পর্যন্ত পালাবার পথ থাকবে না। সে কথা বুড়ি জানিয়ে রাখল।

    চাল বাছতে মোহনের বেশি সময় লাগল না। নতুন মা-র কল্যাণে এসব কাজ তার জানা।

    বুড়ি খুব খুশি। একগাল হেসে বলল, বা, খাসা হয়েছে। মেঘা আবার ভাতে একটু কাঁকর থাকলে খেতে পারে না। আমাকে গালাগালি করে। আমার কি আর সে চোখ আছে?

    মোহন বলল, তুমি রোজ আমাকে চাল বাছতে দিয়ো দিদিমা, আমি বেছে দেব।

    বুড়ি এ কথায় সোজাসুজি কোনও উত্তর দিল না, কিন্তু চোখ দেখে মনে হল, খুশিই হয়েছে। একটু চুপ করে থেকে সে বলল, হ্যাঁ রে ছেলে, তোর বাড়িতে কে আছে?

    বাবা আছে। সৎমা আছে!

    সৎমা? তোকে ভালোবাসে? আদরযত্ন করে?

    ছাই করে!

    আহা-হা খুব কষ্ট দেয় বুঝি?

    মোহন কোনও উত্তর দিল না। সে তখন অন্য কথা ভাবছে।

    বুড়ি পাশে বসে। আচমকা যদি দু-হাতে বুড়ির গলাটা চেপে ধরে! মারবে না। অজ্ঞান করে ফেলবে। তারপরই সে অনেক দূরে ওই যে একটা রাখাল ছেলে গোরুর পাল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ছুটে তার কাছে চলে যাবে। গিয়ে বলবে, ভাই, আমাকে বাঁচাও। এই জঙ্গল থেকে বাইরে যাবার রাস্তাটা একটু দেখিয়ে দাও।

    বুড়ি তো অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকবে। শাঁখে ফুঁ দেবে কী করে? শাঁখের আওয়াজ না পেলে মোহনের পালাবার খবর মেঘার লোকেরা পাবে কী করে?

    হঠাৎ বুড়ির কথায় মোহনের চমক ভাঙল, নে ওঠ, ঘরের মধ্যে যা। মেঘার আসার সময় হয়েছে।

    মোহন উঠে পড়ল। সে ঘরের মধ্যে ঢুকতেই বাইরে থেকে দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

    মোহন বসে বসে ভাবতে লাগল, এভাবে তাকে আটকে রেখে এদের কী লাভ! কতদিন এভাবে রাখবে?

    এবারে এরা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে, মোহনের বাবা আর টাকা দেবে না। মোহনকে উদ্ধার করার কোনও ইচ্ছে তার নেই। কাজেই খাইয়েদাইয়ে মোহনকে কেন এরা বাঁচিয়ে রাখবে! এইবার একদিন খতম করে দেবে।

    মোহন অপেক্ষা করতে লাগল।

    যেমন করেই হোক পালাবার চেষ্টা করবে। কেউ তাকে সাহায্য করবে না। যা করার তাকে নিজেই করতে হবে।

    যদি ধরা পড়ে, এরা তাহলে হয়তো মেরে ফেলবে। তার জন্য মোহন প্রস্তুত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }