Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অরণ্য-বিভীষিকা – ৮

    আট

    এ জঙ্গলে ডাকাতদের তিনটে বড়ো দল আছে। নামকরা। একেবারে পুব মুখে তিলক সর্দারের দল। তিলক জাতে বিহারি। তার দলের লোক ইদানীং অনেক কমে গেছে। কোম্পানির আমল থেকেই পাইকের কাজে লেগে গেছে। আসলে তিলক ঠগি। আচমকা লোকের গলায় মোম-দেওয়া দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে।

    বর্ধমানের কাছাকাছি আছে ফটিকচরণের দল। সংখ্যায় অনেক। এদের দলেই কয়েকজন আছে, হাতে বেঁটে লাঠি, অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় সেই লাঠি ঘুরিয়ে পথিকের পায়ের ওপর ছুড়ে দেয়। অব্যর্থ লক্ষ্য। পায়ের হাড় ভেঙে লোকটা সেই যে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, নিজের শক্তিতে আর কোনওদিন উঠতে পারে না। চিরজীবনের মতন খঞ্জ হয়ে যায়।

    দুটো দলেরই একটা বড়ো অসুবিধা, অনেক লোক একসঙ্গে এলে তখনই মুশকিলে পড়ে যায়। মোম-লাগানো দড়ির ফাঁস আর বেঁটে লাঠি, এত লোকের বেলা কার্যকরী হয় না। এ বিষয়ে তারার দলের সুবিধা অনেক বেশি।

    তিনটে দল, কিন্তু একজনের সঙ্গে আর-একজনের কোনও যোগাযোগ নেই। নিজের নিজের এলাকায় সবাই স্বাধীন। কেউ কোনওদিন কারো সঙ্গে দেখা করে না।

    তারা প্রথম যেন এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটাতে চাইছে। সেইজন্যই চৈতন আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল।

    লোক গিয়ে কী বলবে?

    একটা চিঠি দেব, সেটা দিয়ে আসবে। দুজনকে আমার সঙ্গে দেখা করার চিঠি।

    দেখা করবে তোমার সঙ্গে?

    দেখা করা-না-করা তাদের ইচ্ছা।

    চৈতন ব্যাপারটা যেন ভালো চোখে দেখল না।

    বলল, কী জানি, ওরা যদি ভাবে, আমরাই বা কেন যাব। তারাই আসুক আমাদের কাছে।

    তারা মাথা নাড়ল, না, তা হয়তো ভাববে না, কারণ আমি মেয়েছেলে। আমার মনে হয় ওরা আসতে কোনও দ্বিধা করবে না। তুমি বুঝছ না, চৈতন, এই সময় আমাদের একজোট হতে হবে। কোম্পানির লোকেরা যেমন আমাদের উচ্ছেদ করতে বদ্ধপরিকর, তেমনই আমাদেরও বাঁচবার পথ খুঁজতে হবে।

    কথাগুলো তারা খুব নরম সুরেই আরম্ভ করেছিল, কিন্তু উত্তেজিত হয়ে উঠতে গলার স্বরও চড়া হয়ে গেল।

    আশপাশে দলের যে কজন ছিল, তারা এসে সামনে দাঁড়াল।

    মেঘা বলল, কী হল তারা মায়ি?

    তারা তার সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে বলল।

    মেঘা, চরণ, মনা, সিধু দলের অন্য চাঁইরা স্বীকার করল। যুক্তিটা মন্দ নয়। ওরা যেমন একজোট হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও একজোট হতে হবে। তা ছাড়া, এসব ব্যাপারে বেশি লোকের পরামর্শ নেওয়াও মন্দ নয়।

    তারা জনমেজয়কে দিয়ে দুটো চিঠি লেখাল। দু-লাইনের চিঠি। তলায় নাম নেই, শুধু দলের প্রতীকচিহ্ন।

    দলের দুজন রনপা চড়ে দু-দিকে বেরিয়ে গেল।

    চিঠিতে লেখা ছিল, সামনের শনিবার বাশুলির মন্দিরের চাতালে তিনজনের সভা বসবে। সভার উদ্দেশ্য নরিশ সাহেবের ইস্তাহারের বিষয় আলোচনা করা।

    পরের দিনই চর দুজন ফিরে এল। সংবাদ শুভ। তিলক আর ফটিক আসতে রাজি।

    তারা ঠিক করল, সভায় সবাইয়ের থাকার কোনও প্রয়োজন নেই। তারা ছাড়া দলের আর পাঁচজন চাঁই থাকবে। এ কথাও দলের দুজনকে বলে দিল, যেন জঙ্গলের পুব-পশ্চিম দু-দিকে অপেক্ষা করে। তিলক আর ফটিকচরণকে অভ্যর্থনা করে নিয়ে আসবে।

    অন্ধকার রাত। চাঁদ উঠবে একেবারে শেষের দিকে। মন্দিরের চাতালের দু-পাশে দুটো মশাল জ্বালাবার ব্যবস্থা হল। সভার শেষে আহারাদির ব্যবস্থা। ভাত আর পাঁঠার মাংস। শেষ পাতে চালতার অম্বল। তিলক বিহারি মিষ্টান্নের ভক্ত। তাই বোঁদেও রাখতে হল।

    শিয়াল ডাকার সঙ্গে সঙ্গে তিলক এসে হাজির। ঘোড়ার পিঠে। সঙ্গে দলের দুজন। বোধহয় পরামর্শদাতা।

    অনেকক্ষণ কাটল, ফটিকের দেখা নেই। অভ্যর্থনার জন্য যাকে পাঠানো হয়েছিল, সে ফিরে এল।

    তারা-মা, কই কেউ তো এল না। মশার কামড়ে দুটো পা ফুলে ঢোল হয়ে উঠেছে। কতক্ষণ আর দাঁড়াব।

    তারা চাতালের ওপর তিলকের পাশে বসে ছিল। তিলকের দিকে চেয়ে বলল, আসবে বলে তো কথা দিয়েছিল ফটিকচরণ। বিপদ-আপদ হল না তো?

    বিপদ-আপদ শত্তুরের হোক।

    অন্ধকারে ভারী কণ্ঠস্বরে তারা আর তিলক দুজনেই একটু চমকে উঠল।

    ঝোপের পাশ থেকে লাঠি হাতে এক মূর্তি এগিয়ে এল। দু-পায়ে ন্যাকড়ার ফালি। তাতে রক্তের ছোপ। সারা মুখে কালো কালো দাগ।

    লোকটা সিঁড়ির ধাপে বসে পড়ে বলল, আমিই ফটিকচরণ। আসতে সামান্য দেরি হয়ে গেল।

    তারা দাঁড়িয়ে উঠল, এ কী, এ অবস্থা কী করে হল?

    মাথা নিচু করে পায়ের ন্যাকড়া খুলতে খুলতে ফটিক বলল, অবস্থাটা আমাকেই করতে হল। পুলিশের চর ঘুরছে। এখানে-ওখানে। কে তাদের খবর দিয়েছে মার্শাল সাহেবের দুটো পা নাকি আমিই জন্মের মতন খোঁড়া করে দিয়েছি। তাই এই রাজবেশ ধারণ করতে হল।

    মুখের দাগগুলো মুছে নিয়ে ফটিক সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তারার দিকে চেয়ে বলল, আদেশ করো তারা মায়ি, আমাকে তলব করেছ কেন?

    ফটিক উঠে তিলকের পাশে গিয়ে বসল।

    তারা নরিশ সাহেবের ইস্তাহারের কথাটা দুজনকে শোনাল।

    দুজনেই এর আগে শুনেছে।

    ফটিক আরও গোপন কথা বলল।

    এ আর কী। শুনলাম নতুন লাট হয়েছে বেন্টিঙ্ক সাহেব। কলকাতার লাট। তামা-তুলসী হাতে নিয়ে বুঝি প্রতিজ্ঞা করেছে দেশ থেকে ডাকাতদের উচ্ছেদ করবে। আমরা নাকি দেশে অশান্তির সৃষ্টি করছি। লাটের আবার এক চেলা জুটেছে শ্লিম্যান।

    চেলা?

    চেলা ছাড়া আর কী। নিজের তো অত সময় নেই, তাই চোর-ডাকাত খতম করার ভার দিয়েছে এই চেলাটির ওপর।

    এতক্ষণে তিলক কথা বলল, তা শ্রীমান কী করে খতম করবে আমাদের?

    ফটিক হাসল, শ্রীমান নয় গো শ্লিম্যান। পাইক-বরকন্দাজ নিয়ে নাকি ঘেরাও করবে দুর্গাপুরের জঙ্গল। একটি প্রাণীকেও রেহাই দেবে না।

    তারা বলল, একটা মতলব ঠিক করার জন্যই তোমাদের ডেকেছি। এত বড়ো জঙ্গল ঘেরাও করা তো আর মুখের কথা নয়। কোম্পানির তাঁবে এত লোক নেই। তবে আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে। ফাঁদে ফেলার চেষ্টা নিশ্চয় করবে।

    ফাঁদে ফেলবে কী করে? আমরা কি চিড়িয়া যে চট করে ধরা দেব?

    একটা পায়ের ওপর আর-একটা পা তুলে নাচাতে নাচাতে ফটিক বলল, আমাদের ফাঁদ হচ্ছে টাকার তোড়া। টাকার লোভ দেখিয়ে না-ধরার চেষ্টা করে।

    তিলক বলল, তার মানে?

    মানে, হয়তো বিধবা সেজে কোম্পানির লোক তীর্থযাত্রা ভান করে এই পথ দিয়ে হাঁটবে। আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লেই থান কাপড়ের তলা থেকে বন্দুক বের করবে। ঝোপঝাড় থেকে দলে দলে সিপাই আমাদের ঘিরে ধরবে।

    তাহলে উপায়? তিলক হাতের লাঠিটা ঠুকতে লাগল।

    উপায় হচ্ছে, যখনই লোক জানিয়ে এ পথ দিয়ে কেউ যাবে, তখনই সাবধান। লোক জানিয়ে মানে, টাকা নিয়ে অসহায় লোক যাচ্ছে এমন একটা কথা লোকের মুখে যদি রাষ্ট্র করে দেয়, যাতে আমাদের কানে আসে, তাহলেই বুঝতে হবে ভিতরে গলদ আছে। তাদের আক্রমণ না-করাই বুদ্ধির কাজ হবে।

    দলের একজন ভাঁড়ে শরবত নিয়ে এসে দাঁড়াল। তারা শরবত বিলাতে বিলাতে বলল, কাজের কথা শোনো। তোমরা দুজন দু-দিকে আছ, আমি মাঝখানে। যদি গোলমাল হয় তো তোমরাই আগে টের পাবে। এমন একটা ব্যবস্থা করো যাতে গোলমালের আভাস পেলেই আমাকে খবরটা দিতে পারো। একজন যদি বিপদে পড়ে, তাহলে দলবল নিয়ে আমরা দুজন এগিয়ে যাব তার সাহায্য করতে।

    খুব ভালো কথা। আমরাও একজোট হব। তেমন কিছু হলে তারা-মা আমি তোমাকে খবর দেব, তুমি খবর দেবে ফটিককে। দেখি, কোম্পানির কী সাধ্যি আমাদের শেষ করে।

    মাঝরাতের পর সভা শেষ হল। তিলক আর ফটিক দুজনে দু-দিকে চলে গেল। দুজনেরই রনপা ছিল। যেতে দেরি হল না।

    তারা নিজের কুঁড়েঘরে ফিরে এল।

    বিছানায় শুল, কিন্তু তারার চোখে ঘুম এল না। শুয়ে শুয়ে চিন্তা করতে লাগল। বড়ো কম ভাবনার কথা নয়। সমস্ত দলের নিরাপত্তার ভার তার ওপর। মঙ্গল-অমঙ্গল সব চিন্তা তাকেই করতে হবে। কালু সর্দার দলকে তারই হাতে তুলে দিয়ে গেছে।

    কোম্পানির কর্তারা কোনওদিনই তাদের ভালো চোখে দেখেনি। এভাবে টাকাপয়সা লুঠতরাজ করলে কে-ই বা দেখে। কিন্তু মা বাশুলি জানেন, টাকাপয়সা লুঠ করেছে বটে, কিন্তু নিজের দলের জন্য সে টাকাপয়সার আর কতটুকু খরচ করেছে; বেশির ভাগই আশপাশের গাঁয়ের লোকদের জন্য খরচ করেছে। তাদের ক্ষুধা মিটিয়েছে, পরনের কাপড়চোপড় দিয়েছে, শীতের সময় গরম জামাকাপড় বিলি করেছে।

    জমিদাররা যা করেনি, ইংরেজ সরকার যা করেনি, তারা তা-ই করেছে।

    ভাবতে ভাবতে একসময়ে তারা ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ল।

    দিন পনেরো-কুড়ি একেবারে চুপচাপ। লোকজন পথ চলা বুঝি বন্ধই করে দিল। যে দু-একজন গেল, তারা মোটেই লোভনীয় শিকার নয়। একেবারে নিঃসম্বল পথিক। শহরের দিকে চলেছে চাকরির সন্ধানে।

    বসে বসে দলের লোকদের শরীরে প্রায় মরচে ধরার জোগাড়।

    হঠাৎ এক খবর এল। খবর আনল কানা গোবিন্দ। গোবিন্দ দু-চোখেই দেখতে পায়। বরং একটু বেশিই দেখে। কী একটা গাছের আঠা মাখিয়ে মাঝে মাঝে চোখের পাতা দুটো বেমালুম জুড়ে দেয়। খুব কাছের লোকও টের পায় না। ভাবে বেচারি দৃষ্টিহীন।

    গোবিন্দ খবর আনল খাস ইংরেজের তাঁবু থেকে।

    এখান থেকে মাইল পাঁচেক দূরে রানিসায়র। লোকে বলে রানির বিল। এই বিলের ধারে ধারে শীতকালে হরেক রকমের পাখি আসে। কোথা থেকে আসে কে জানে। এখানকার লোকেরা সব পাখির নামও জানি না। পাখি শিকারের লোভে শহর থেকে ছোকরা সাহেবরা আসে। বিলের পাশে তাঁবু ফেলে। পাঁচ-সাত দিক কাটিয়ে যায়। পাখি মারে। নিজেরাই পালক ছাড়িয়ে আগুনে ঝলসে খেয়ে ফেলে।

    গোবিন্দ বলল, এবার প্রায় জন পাঁচেক সাহেব এসেছে। সঙ্গে ছ-টা বন্দুক। কোনওরকমে বন্দুকগুলো হাত করতে পারলেই কাজ হয়। তারার দলে বন্দুকের প্রয়োজন, সে খবর গোবিন্দ রাখত।

    একটা উপায় বাতলে দাও তারা-মা। বন্দুক ক-টা তোমাদের এনে দিই।

    এ কথা গোবিন্দ বলল বটে, তবে সে মনে মনে ভালো করেই জানত এ প্রায় অসম্ভব। বরং বাঘিনির কোল থেকে তার বাচ্চা টেনে আনা যেতে পারে, কিন্তু ইংরেজদের কাছ থেকে বন্দুক ফুসলে আনা কিছুতেই যাবে না।

    দিনের বেলা বন্দুকগুলো তারা তো কাছে কাছে রাখেই, রাত্রিবেলা শোবার সময় মাথার কাছে তাঁবুর হুকে বন্দুকগুলো আটকে রাখে। ইংরেজদের খানসামার সঙ্গে কথা বলে গোবিন্দ এ খবর সংগ্রহ করেছে।

    তারা চিন্তায় পড়ল। এতগুলো বন্দুক এত কাছে রয়েছে, অথচ পাবার কোনও পথ নেই।

    দলসুদ্ধ ইংরেজদের তাঁবুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, কিন্তু অতগুলো বন্দুকের মুখে কী হয় বলা যায় না। এ দেশি সিপাই হলে ভয়ের কিছু ছিল না, কিন্তু ইংরেজের বাচ্চারা শেষ পর্যন্ত লড়বে।

    তারা বলল, আচ্ছা গোবিন্দ, তুমি দুপুরের দিকে একবার আমার সঙ্গে দেখা করো। আমি একটু চিন্তা করে দেখি।

    দুপুরের দিকে গোবিন্দ আবার এসে দাঁড়াল। তারার পাশে মেঘা, চৈতন আর মনাও ছিল। গোবিন্দকে কাছে ডেকে তারা ফিসফিস করে কিছুক্ষণ ধরে পরামর্শ করল।

    গোবিন্দর মুখে হাসি ফুটে উঠল।

    হাসতে হাসতেই বলল, ঠিক আছে তারা-মা, আমি কাল ভোরেই সাহেবদের তাঁবুতে একবার যাব। যদি কাজ হাসিল করতে পারি, তাহলে মেঘা, চৈতন আর মনাকে বলে যাব। ওরা যেন তৈরি থাকে।

    পরের দিন ভোরে গোবিন্দ যখন তাঁবুর কাছে গিয়ে দাঁড়াল তখন তার অঙ্গে কানা ভিখারির সাজ। হাতে খঞ্জনি।

    সাহেবরা গোল হয়ে তাঁবুর সামনে মাঠের ওপরে বসে বন্দুক পরিষ্কার করছিল, গোবিন্দকে দেখে একজন বলল, এই সাঢু, একঠো গান শুনাও। ভালো গান। রাঢা-কিষ্ট গান।

    সঙ্গে সঙ্গে খঞ্জনিতে ঘা দিয়ে গোবিন্দ কীর্তন শুরু করে দিল।

    গোবিন্দর গলা চমৎকার। যেমন মিষ্ট, তেমনই সুরেলা। সাহেবরা না বুঝলেও তালে তালে মাথা নাড়তে লাগল।

    গানের শেষে গোবিন্দ কাঁধের থলি বাড়িয়ে দিল। খানসামা তাতে আলু, বেগুন, চাল ঢেলে দিল।

    গোবিন্দর কিন্তু যাবার নাম নেই। সে চেপে সাহেবদের সামনে বসল।

    হ্যাঁ সাহেব, তোমরা জল আনো কোথা থেকে? কোথাকার জল খাও?

    কেন?

    চারদিকে মহামারি শুরু হয়েছে। মায়ের দয়া, তাই জিজ্ঞাসা করছি।

    সাহেবরা কথাটা ঠিক বুঝতে পারল না। পাশে দাঁড়ানো খানসামাকে মানে জিজ্ঞাসা করল।

    খানসামা বুঝিয়ে দিল মায়ের দয়া মানে বসন্ত।

    এই রোগটাকে সাহেবরা যমের চেয়েও ভয় করে। প্রাণে বাঁচাই এ রোগে দুষ্কর, বাঁচলেও মুখের এমন অবস্থা হয়, রীতিমতো ভীতিপ্রদ।

    এই বিল ঠেকে জল আনি। আগুনে গরম করিয়া পান করি।

    এই বিল থেকে? গোবিন্দ যেন আঁতকে উঠল।

    কী হইল?

    আর কী হইল! বছর তিনেক আগে এখানকার জল খেয়ে জমিদারের পুরো বরকন্দাজের দল একেবারে খতম।

    সাহেবরা চমকে উঠল।

    জল ফুটিয়ে খেলে হবে না সাহেব, অন্য জায়গা থেকে জল আনার ব্যবস্থা করো।

    সাহেবরা মুশকিলে পড়ল। কাছাকাছি কোনও বড়ো জলাশয় নেই। দু-একটা যা পুকুর আছে, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। শীতকালে শুকনো খটখট করছে।

    উপায়!

    এক কাজ করতে পারি সাহেব, তবে বেশি দিন পারব না।

    কী কাজ?

    আমি যে গাঁয়ে থাকি, সেখানে প্রকাণ্ড এক ইঁদারা আছে, তার জল গরম করে এনে দিতে পারি। তবে তার জন্য পয়সা চাই আমার। আর দিন তিনেকের বেশি পারব না।

    ঠিক আছে। পাবে পয়সা। দিন তিনেকই তুমি নিয়ে এসো, তার চেয়ে বেশি দিন আমরা থাকবও না। শিকার মাথায় থাক।

    তা-ই ব্যবস্থা হল। বাঁকের দু-ধারে কলসি বসিয়ে কলসির মুখে কলাপাতা ঢাকা দিয়ে গোবিন্দ সাহেবদের জন্য পানীয় জল এনে দিয়ে পরিশ্রমের মূল্য নিল।

    তার পরের ব্যাপারটা খুবই সহজ।

    রাতের অন্ধকারে মুখে কালি মেখে মেঘা, চৈতন আর মনা তাঁবুতে ঢুকল। খানসামা বাইরে ঘুমাচ্ছিল, তারই কাপড় দিয়ে গোবিন্দ তার মুখ-হাত-পা বেঁধে ফেলল।

    জল পান করে সাহেবরা বেহুঁশ। ষণ্ডামার্কা তিনটে লোক তাঁবুতে ঢুকতে একবার চোখ মেলেও দেখল না।

    কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তারার অনুচরেরা সব ক-টা বন্দুক বগলদাবা করে বেরিয়ে এল। শুধু বন্দুক নয়, টেবিলের ওপর কার্তুজের বাক্স ছিল। সেগুলো আনতেও ভুল হল না।

    তারা খুব খুশি। বিনা রক্তপাতে তার মতলব হাসিল হয়েছে বলে নয়, দলের শক্তি অনেক বেড়ে যাবে ছ-টা বন্দুক পেয়ে।

    এতদিন তারার ভয় ছিল, খুব ভারী একটা দল প্রচুর বন্দুক নিয়ে এ পথে এলে তাদের মোকাবিলা করতে একটু অসুবিধাই হয়। ফলে সম্ভব হত না বলেই কৌশলের আশ্রয় নিতে হত।

    এবার আর সে ভয় নেই, তখন তারা একটা খারাপ খবর পেল।

    ইংরেজ সিপাইদের হাতে তিলক সর্দার ধরা পড়েছে। সংবাদ দিল তারই দলের একজন।

    তিলক সর্দারের আস্তানার মাইল দুয়েকের মধ্যে ইংরেজ কালেক্টরের তাঁবু পড়েছিল। সঙ্গে সিপাই-বরকন্দাজ অনেক ছিল, তিলক টের পায়নি। সবাই চাষার ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করছিল।

    কালেক্টর সাহেব চাঁদিনি রাতে ঘোড়ার ওপর চড়ে এদিক-ওদিক বেড়াচ্ছিল, তিলকও ওত পেতে ছিল।

    সে ভেবেছিল লোকটাকে ঘায়েল করতে পারলে টাকাপয়সা বেশ কিছু পাওয়া যাবে। সাহেবরা কোথায় টাকা রাখে, তিলকের জানা। কোমরবন্ধের মধ্যে পকেট থাকে, সেখানেই সবকিছু। এমনকী রাত্রে শোবার সময়ও সাহেবরা কোমরবন্ধ খোলে না।

    কালেক্টর সাহেব একটা বাঁশের বাঁশি বের করে ফুঁ দিচ্ছিল। আকাশে-বাতাসে মিষ্ট একটা সুর।

    ঝোপের আড়ালে বসে তিলক দড়ির ফাঁস ঠিক করে নিয়েছিল, সাহেব কাছ বরাবর আসতেই দড়িটা মাথার ওপর ঘুরিয়ে ছুড়ে দিয়েছিল।

    তিলকের বরাত। এ পর্যন্ত কোনওদিন সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। সবাই বলে তিলকের ফাঁসে মাছি পর্যন্ত আটকে যায়।

    কিন্তু সাহেব যেন দড়ির গন্ধ পেয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘোড়ার ঘাড় জড়িয়ে সোজা হয়ে শুয়ে পড়েছিল। দড়িটা চাবুকের মতন সপাৎ করে পিঠের ওপর এসে পড়েছিল।

    পলকের মধ্যে দড়িটা টেনে নিয়ে তিলক দ্বিতীয়বার ছোড়বার জন্য তৈরি হবার আগেই বিপদ ঘটেছিল।

    ঘোড়ার পিঠে শুয়ে শুয়েই সাহেব অপূর্ব সুরে বাঁশি বাজাতে শুরু করেছিল, আর দড়ি হাতে করে তিলক সর্দার পাথরের মতন দাঁড়িয়ে পড়েছিল।

    আশপাশের গাছপালার পিছন থেকে ছুটে এসেছিল অন্তত পঞ্চাশজন সিপাই। সকলের হাতে উদ্যত বন্দুক। তিলকের দম নেবার পর্যন্ত সময় দেয়নি। পিঠে-বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে তাকে হাঁটিয়ে তাঁবুর মধ্যে নিয়ে ঢুকিয়েছিল।

    দলের আর সবাই কোথায় ছিল? তারা উদবিগ্নকণ্ঠে প্রশ্ন করল।

    অনেকেই শিকারের খোঁজে এদিক-ওদিক ঘুরছিল। আমরা কয়েকজন কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু অতগুলো বন্দুকের সামনে কী করব?

    তারপর?

    তারপর সর্দারকে ছই-ঢাকা গোরুর গাড়িতে চাপিয়ে শহরের দিকে নিয়ে চলে গেল। দলের সব লোক এদিকে-ওদিকে ছিটকে পড়ল। আমরা জন দশেক এখনও আছি। কিন্তু মুণ্ড ছাড়া ধড় আর কী করবে বলো? চুপচাপ বসে রয়েছি। আমাদের তোমার দলে নিয়ে নাও তারা-মা।

    তারা খুব চিন্তিত ছিল। কোনও উত্তর দিল না।

    লোকটা বলল, একটা খবর পেয়েছি।

    কী?

    সাহেবটা কালেক্টর নয়, অন্য কী একটা নাম।

    মেঘা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। বলল, বুঝেছি, বুঝেছি, ওই হচ্ছে ছিরিমান।

    তারা মুচকি হাসল, ছিরিমান নয়, শ্লিম্যান।

    সে আবার কে?

    লাটসাহেবের লোক আমাদের খতম করার প্রতিজ্ঞা করেছে। তিলক সর্দার গেল। বাকি রইলাম আমি আর ফটিকচরণ।

    চৈতন বলল, এবার থেকে আমাদের খুব সাবধানে থাকতে হবে তারা-মা। কিছুদিন না হয় চুপচাপ বসে থাকব। শিকারের লোভ করে দরকার নেই। কোথায় কোম্পানি কী ফাঁদ পেতে রাখবে বলা যায়।

    তারা সায় দিল। বলল, সত্যি এখন কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকাই ভালো। দলের যারা নিজেদের গাঁয়ে ফিরে যেতে চায় যাক। দরকার হলে ডেকে নেব।

    এখন আমাদের কিছুদিন চুপচাপ থেকে সাহেবদের হালচাল লক্ষ করে যাওয়া উচিত। একজনকে যখন ধরেছে, তখন মনে হয়, ওরা এদিকেও জাল বিছোবার চেষ্টা করবে।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং
    Next Article ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতুড়ে কাণ্ড

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভূতচরিত

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    আগন্তুক

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ফাঁসির আসামি

    February 26, 2025
    ভৌতিক গল্প হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    মৃত্যুর পরে

    February 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }