Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প329 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হানা দেবালয়ের জীবন্ত পাথর

    মানিকের অনুমানও ব্যর্থ হয়নি, তার ফন্দিও ব্যর্থ হল না!

    মিনিট পাঁচেক পরেই দেখা গেল, ওধারের বনের ভিতর থেকে কারা যেন বেরিয়ে আসছে৷ দূর হতে তাদের দেখাচ্ছে খুব ছোটো ছোটো!

    সুন্দরবাবু দূরবিনটা তাড়াতাড়ি চোখে লাগিয়ে সোৎসাহে বললেন, ‘এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ! হুম, বেটাদের দলে দশ জন লোক আছে৷ ওরা হনহন করে এইদিকেই আসছে৷ হুঁ-হুঁ বাবা, ঘুঘুই দেখেছ ফাঁদ তো দেখনি! চলে আয়-চলে আয়, চই চই চই৷ ওরে বাপরে! ওটা আবার কে রে! কী লম্বা! কী জোয়ান! যেন ঘটোৎকচের বাচ্ছা! ওর পাশে পাশে আসছে এক বেটা গুড়গুড়ে বেঁটেরাম সর্দার, পায়ে হেঁটে চলছে, না ফুটবলের মতো মাটির উপর দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে?’

    -‘কই, দেখি দেখি,’ বলে সাগ্রহে অমলবাবু দূরবিনটা সুন্দরবাবুর হাত থেকে প্রায় একরকম কেড়েই নিলেন এবং নিজের চোখে লাগিয়েই বলে উঠলেন, ‘ওই তো চ্যান! ওই তো ইন! সাতঘাটের জল ঘেঁটে এতদিন পরে স্বচক্ষে আবার প্রভুদের দেখা পেলুম! ওরে ও পাপিষ্ঠ, ওরে ও পিশাচ! সুরেনবাবু আর জয়ন্তবাবু তোদের হাতেই প্রাণ দিয়েছেন! তোরা গোপীনাথকে খুন করেছিস, আমাকেও বধ করতে এসেছিলি! অ্যাঁ: ! চ্যানের বাঁ-হাতে যে ব্যান্ডেজ বাঁধা! তাহলে পরশু রাতে মানিকবাবুকেও ওরা মারতে এসেছিল! হাতি সিং, বন্দুক ছোড়ো! বন্দুক ছোড়ো! হতভাগাদের পাগলা কুকুরের মতো মেরে ফেলো!’

    প্রভুর হুকুম পালন করবার জন্যে হাতি সিং তখনি বন্দুক তুললে, কিন্তু মানিক তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললে, ‘বন্দুক নামাও হাতি সিং, আমি যখন বলব তখন ছুড়বে! অমলবাবু, আপনি বড়োই উত্তেজিত হয়েছেন, শান্ত হোন! ওদের আরও কাছে আসতে দিন!’

    অমলবাবু চেঁচিয়ে বললেন, ‘উত্তেজিত হব না-বলেন কী? যমদূতদের দেখলে কি শান্ত হয়ে থাকা যায়?’

    সুন্দরবাবু প্রমাদ গুণে বললেন, ‘অমলবাবুই সব পণ্ড করবেন দেখছি৷ অত চ্যাঁচালে ওরা কি আর কাছে আসবে?’

    তখন অমলবাবু লজ্জিত হয়ে বললেন, ‘মাপ করুন, আর আমি কথা কইব না!’

    ততক্ষণ মাঠের লোকগুলো অনেকটা এগিয়ে এসেছে, তাদের চেহারাও মোটামুটি দেখা যাচ্ছিল৷ তারা সবাই হয় বর্মি, নয় শ্যামদেশের লোক এবং তাদের ভিতরে সর্বাগ্রে দৃষ্টি আকর্ষণ করে চ্যানের দীর্ঘ ও বলিষ্ঠ দেহ! এবং তাকে দেখেই বেশ বোঝা যায় যে, কাটা আঙুলের যন্ত্রণায় তার অবস্থা বিলক্ষণ কাহিল!

    মানিক বললে, ‘আসুন, এইবারে বন্দুক নিয়ে আমরা প্রস্তুত থাকি৷ পায়ের দিকে গুলি করে ওদের অকর্মণ্য করতে পারলেই আমাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে, নরহত্যায় দরকার নেই-কী বলেন সুন্দরবাবু?’

    -‘বেশ, তাই সই৷’

    এইবারে শত্রুরা বন্দুকের নাগালের ভিতরে এসে পড়ল৷

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘ওরা যে কেন এতক্ষণ দল বেঁধে আমাদের আক্রমণ করেনি, এইবারে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে! ওদের কাছে আছে মোটে একটা বন্দুক!’

    মানিক বললে, ‘এইবারে আমাদের চারটে বন্দুক গর্জন করতে পারে,-ওদের আর এগুতে দেওয়া উচিত নয়!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘ওয়ান, টু, থ্রি!’

    একসঙ্গে চারটে বন্দুক অগ্নি-উদগার করলে,-সঙ্গেসঙ্গে মাঠের উপরে সর্বপ্রথমে ধরাশায়ী হল ইনের বাঁটকুল দেহ! বাকি সকলে মহা ভয়ে আর্তনাদ করে যেদিক থেকে আসছিল আবার সেইদিকে দৌড়োতে আরম্ভ করলে!

    এদিক থেকে দ্বিতীয় বার গুলিবৃষ্টি করা হল৷ এবারে লোকগুলো ছত্রভঙ্গ হয়ে পাগলের মতো মাঠের নানাদিকে ছুটতে লাগল, আর একজন আহত হয়ে মাটির উপরে আছাড় খেয়েও আবার কোনোরকমে উঠে ভোঁ দৌড় মারলে! কিন্তু দৌড়োতে পারছিল না কেবল ইন, সে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে আর ভয়ে চ্যাঁচাতে চ্যাঁচাতে কোনোরকমে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিল! তার দুর্দশা দেখে চ্যান আবার ফিরে এল এবং একহাতে ইনের দেহকে সে ঠিক শিশুর দেহের মতোই নিজের কাঁধের উপরে তুলে নিয়ে আবার দৌড়োতে আরম্ভ করলে!

    অমলবাবু চ্যানকে টিপ করে বন্দুক ছুড়লেন, কিন্তু গুলি তার গায়ে লাগল না৷

    আরও দু-একবার গুলিবৃষ্টির পর মানিক বললে, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর টোটা নষ্ট করে লাভ নেই! ওরা নানাদিকে দৌড় মেরেছে, আবার বনবাদাড় ভেঙে একসঙ্গে মিলতে ওদের অনেকক্ষণ লাগবে৷ তার পরেও আজ ওরা আমাদের পিছু নিতে সাহস করবে বলে মনে হয় না৷’

    সুন্দরবাবু মানিকের পিঠ চাপড়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, বেটারা যত বড়ো গুলিখোরই হোক, আবার গুলি খাবার জন্যে ওরা শীঘ্র ব্যস্ত হবে বলে মনে হচ্ছে না-জয় মানিকের বুদ্ধির জয়!’

    পথ চলতে চলতে মানিক জিজ্ঞাসা করলে, ‘আচ্ছা অমলবাবু, এই পদ্মরাগ বুদ্ধের কোনো ইতিহাস জানেন!’

    অমলবাবু বললেন, ‘ঠিক পদ্মরাগ বুদ্ধের ইতিহাস জানি না বটে, তবে ওঙ্কারধামের ইতিহাসে এরই মতো এক মরকত বুদ্ধের কথা শোনা যায়৷ ওঙ্কারধাম সাম্রাজ্যের রাজধানী যশোধরপুরে এই মরকত বুদ্ধের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল৷*

    ‘মরকত বুদ্ধ নিয়ে তর্ক চলছে৷ কেউ বলেন, এখন এই মূর্তি জাপানে আছে৷ কেউ বলেন, ফর্মোজা দ্বীপে আছে, কেউ বলেন, জাভায় আছে৷ ওঙ্কারধামের পতন হয়, শ্যামদেশের দ্বারা৷ ওদেশের লোক বলে, তাদের রাজধানী ব্যাংকক শহরের মন্দিরে যে সবুজাভ পাথরে গড়া বুদ্ধমূর্তি আছে, সেইটিই হচ্ছে প্রবাদ-প্রসিদ্ধ মরকত বুদ্ধ৷ কেবল মরকত বুদ্ধ নয়, ওঙ্কারধামে নাকি একটি স্বর্ণময় বিরাট শিবলিঙ্গ ছিল৷ ওঙ্কারধামের বাসিন্দারা থেইস নামে একটি জাতিকে অত্যন্ত ঘৃণা করত৷ এই থেইসরা বাস করত বর্তমান শ্যামদেশে৷ এখনও যারা ওখানে বাস করে তারা ওই থেইসদেরই বংশধর৷ বারংবার পরাজয়ের পর থেইসরা অবশেষে বিশেষ আয়োজন করে ওঙ্কারধামকে হঠাৎ আক্রমণ করে৷ একটা বড়ো যুদ্ধে তারা জয়ী হয়৷ জনৈক ভগ্নদূত সেই খবর নিয়ে ফিরে এল৷ ওঙ্কারধামের সেনাপতি বললেন, তোমার খবর মিথ্যা হলে তোমার প্রাণদণ্ড হবে৷ আর তোমার খবর সত্য হলেও তোমার প্রাণদণ্ড হবে৷ কারণ সবাই যখন বীরের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ দিয়েছে, তখন তুমি কাপুরুষের মতো পালিয়ে এসেছ! ভগ্নদূতের প্রাণদণ্ড হল, কিন্তু ওঙ্কারধাম রক্ষা পেল না৷ পুরোহিতেরা নগর রক্ষা অসম্ভব দেখে মরকত বুদ্ধ, স্বর্ণ শিবলিঙ্গ, অন্য অন্য মূল্যবান বিগ্রহ আর রাশি রাশি হিরে-মণি-মুক্তা তখনি সরিয়ে ফেলে গুপ্তস্থানে লুকিয়ে রাখলেন৷ অনেকেরই দৃঢ়বিশ্বাস, বিজয়ী থেইসরা সেসব গুপ্তধন খুঁজে পায়নি৷ ওঙ্কারধামের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আজও কত লোক সেই গুপ্তধন খুঁজে বেড়ায়! কিন্তু আজও কেউ তার ঠিকানা আবিষ্কার করতে পারেনি! আমাদের এই পদ্মরাগ বুদ্ধ সেই গুপ্তধনেরই অংশবিশেষ কি না, কে তা বলতে পারে?’

    বৈকাল অতীত হয়ে গেছে, সূর্যালোক তখন অরণ্যের মাথার উপরে গিয়ে উঠেছে৷ দিনের আলোয় চতুর্দিক সমুজ্জ্বল বটে, কিন্তু এমন নির্জন ও নিস্তব্ধ যে, রাত্রির স্তব্ধতার সঙ্গে তুলনা করা চলে! আরও মাইল খানেক পথ পেরিয়ে অমলবাবু উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলে উঠলেন, ‘ওই সেই সপ্ত তাল গাছ!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘সপ্ত তাল গাছ আবার কী?’

    -‘ওই হচ্ছে আমাদের পথের শেষ নিশানা৷ পাশাপাশি ওই যে সাতটা তাল গাছ দেখছেন, ওর পরেই সেই ভাঙা মন্দিরের প্রকাণ্ড বাঁধানো চত্বর-অর্থাৎ আমাদের পথের শেষ!’

    কিন্তু পথের শেষে এসে মানিকের মনে জয়ন্তের শোক আরও বেশি করে জেগে উঠল৷ জয়ন্তের জন্যেই এদেশে আসা, পদ্মরাগ বুদ্ধের জন্যে তার আগ্রহ ছিল অফুরন্ত৷ জয়ন্ত নেই তবু যে সে এখানে এসেছে, এ কেবল বন্ধুর ব্রত উদযাপন করবার জন্যে! সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলে, ‘যদি তাদের চেষ্টা সফল হয়, তবে অমলবাবুর হাতে পদ্মরাগ বুদ্ধকে সমর্পণ করে সে সর্বাগ্রে চ্যান আর ইনকে গ্রেপ্তার করবে৷ যতদিন এই প্রতিজ্ঞা পালন করতে পারবে না, ততদিন সে স্বদেশে ফেরবার কথা মনেও আনবে না৷’

    তারা সপ্ত তালের তলায় এসে দাঁড়াল৷ তারপর একটা বাঁশ বনের প্রাচীর পার হয়েই সকলে সবিস্ময়ে দেখলে, তাদের চোখের সামনেই রয়েছে, চারিদিকে প্রায় দুই মাইল বিস্তৃত একটা মাঠ৷ সেই মাঠের মাঝখানে পাথরে বাঁধানো একটি প্রকাণ্ড চত্বর এবং চত্বরের মাঝখানে একটি পুষ্করিণী৷ পুষ্করিণীর এক কোণ দিয়ে যে রাস্তাটি পশ্চিম মুখে চলে গিয়েছে, তারই প্রান্তে দেখা যাচ্ছে মস্ত একটি পাথরের মন্দিরের কতক অংশ! মন্দিরের বাকি অংশ গাছপালার ভিতরে ঢাকা পড়েছে৷

    সকলে যখন পুকুরপাড়ে গিয়ে দাঁড়াল, সুন্দরবাবু বললেন, ‘এইবার পদ্মরাগ বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করতে হবে৷ হুম, বার করো তো মানিক, তোমার সেই সোনার চাকতিখানা!’

    মানিক পকেট থেকে চাকতি বার করে সুন্দরবাবুর হাতে দিয়ে বললে, ‘আপনিই তাহলে নকশার পাঠোদ্ধার করে আমাদের বাহবা লাভ করুন!’

    সুন্দরবাবু অবহেলা ভরে বললেন, ‘পুলিশে চাকরি নিয়ে ঢের ঢের হেঁয়ালি জলের মতো পড়ে ফেলেছি, এ তো সামান্য নকশা মাত্র!

    ‘হুম! নকশায় এই তো রয়েছে পুকুরটা, চারিদিকে এই তো চারটে ঘাটের সিঁড়ি! কিন্তু নকশায় পুকুরের পশ্চিম কোণে এই যে তিনকোনা চিহ্নিত জায়গাটা রয়েছে, আসল পুকুরের পশ্চিম কোণে তেমন ধারা কিছুই তো দেখছি না!’

    মানিক হাসতে হাসতে বললে, ‘ওকী সুন্দরবাবু, এরই মধ্যে মাথা চুলকোচ্ছেন কেন?’

    -‘মাথা চুলকোচ্ছি কি সাধে? এ নকশাখানা কেউ ঠাট্টা করে আঁকেনি তো?’

    -‘বোধ হয় না৷ আচ্ছা, দিনের আলো থাকতে থাকতে আগে মন্দিরের ভেতর চলুন৷ সেখানে গেলে হয়তো কোনো হদিস পাওয়া যাবে!’

    -‘ঠিক বলেছ৷ তাই চলো৷’

    দিনের আলো তখন নিবুনিবু হবার সময় এসেছে৷ পাখিরা বিদায়ী গান গাইতে গাইতে বাসার দিকে ফিরতে শুরু করেছে৷ সূর্যের কিরণ আর দেখা যাচ্ছে না-যদিও অন্ধকারের ঘুম এখনও ভাঙেনি৷

    মাঝখানে প্রকাণ্ড এক মন্দির, তার উপর দিকটা ভেঙে পড়েছে৷ দেখলেই বোঝা যায়, সম্পূর্ণ অবস্থায় এ মন্দিরটা অন্তত এক-শো ফুটের কম উঁচু ছিল না৷ মন্দিরের আগাগোড়া কারুকার্যে আর ছোটো-বড়ো মূর্তিতে ভরা৷ কিন্তু তার অধিকাংশই ভেঙে বা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে মহাকালের নির্দয়তায়৷ বড়ো মন্দিরের চার পাশে যে চারিটি ছোটো মন্দির ছিল, এখন তাদের সামান্য চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট আছে৷ এখানে যেদিকেই তাকানো যায়, কেবলই ধ্বংসের লীলা স্তম্ভিত হয়ে আছে মৃত্যু-স্তব্ধতার কোলে৷ মন নেতিয়ে পড়ে, প্রাণ হা-হা করে, চোখে বিষণ্ণতা জাগে৷

    সকলে ধীরে ধীরে মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করল৷ মন্দিরের ভিতরে তখন আলো-আঁধারের খেলা আরম্ভ হয়েছে, সহজে দূরের জিনিস স্পষ্ট চোখে পড়ে না৷

    চূড়া ভেঙে পড়েছে বলে উপর পানে তাকিয়ে দেখা গেল, পশ্চিমের আরক্ত রাগে রঞ্জিত নীলাকাশকে৷

    মন্দিরগর্ভ খুব প্রশস্ত, তার মধ্যে বড়ো বড়ো অনেকগুলো, হলঘরের ঠাঁই হতে পারে৷ ভিতরের চারিকোণে চারিটি মানুষের চেয়েও ডবল বড়ো অবলোকিতেশ্বর বুদ্ধের দণ্ডায়মান মূর্তি৷ একটি মূর্তি কতকটা অটুট আছে, বাকি মূর্তি তিনটির কারুর দেহের উপরিভাগ নেই, কারুর পদযুগল নেই, কারুর মুণ্ড নেই৷ দেওয়ালেও খোদিত ভাস্কর্য কাজ আছে, কিন্তু অস্পষ্ট আলোতে ভালো করে দেখা যায় না৷

    মন্দিরের পশ্চিম দেওয়ালের সামনে প্রকাণ্ড একটি মূর্তিশূন্য বেদি রয়েছে কালো পাথরে গড়া৷ সেইদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে অমলবাবু বললেন, ‘ওরই উপরে আমরা সেই ছোট্ট বুদ্ধ মূর্তিটি পেয়েছিলুম৷’

    মানিক একটু আশ্চর্য হয়ে বললে, ‘অতটুকু একটি মূর্তির জন্যে এত বড়ো একটা মন্দিরের এত বড়ো কালো পাথরের বেদি গড়া হয়েছিল! সে মূর্তি কখনো এমন মন্দিরের প্রধান দেবতা হতে পারে না!’

    অমলবাবু বললেন, ‘আমারও সেই সন্দেহ হয়৷ বিশেষ, মন্দিরের অপ্রধান মূর্তিগুলিই যখন এমন প্রকাণ্ড! আমার বিশ্বাস, বেদির উপর থেকে প্রধান মূর্তিটিকে হয়তো কোনো কারণে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল৷ পরে পূজার বেদিতে দেবতার অভাব কতকটা দূর করবার জন্যে কোনো ভক্ত এই মূর্তিটিকে স্থাপন করেছিল৷’

    -‘খুব সম্ভব, তাই৷’

    সুন্দরববাবু এতক্ষণ নির্বাক ও হতভম্বের মতো নকশার সঙ্গে বেদিটি মিলিয়ে দেখবার চেষ্টা করছিলেন৷

    অমলবাবু তাঁর অবস্থা দেখে হেসে বললেন, ‘কী সুন্দরবাবু নকশা দেখে কিছুই বুঝতে পারছেন না তো? আমিও পারিনি!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘হুম, এ হচ্ছে একখানা বাজে নকশা! কোনো ধাপ্পাবাজের আঁকা! আমরা সবাই হচ্ছি মহা হাঁদা-গঙ্গারাম, একটুকরো হিজিবিজি দেখে যমালয়ের রাস্তায় ছুটে এসেছি! পদ্মরাগ বুদ্ধ! সোনার পাথরবাটি! যা নয় তাই!’

    মানিক চাকতিখানা সুন্দরবাবুর হাত থেকে নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল৷

    মন্দিরগর্ভে অন্ধকার তখন আলোকের শেষ আভাটুকুও নিবিয়ে দেবার চেষ্টা করছিল৷ সেই মহানির্জনতার স্বদেশে, সেই মান্ধাতার আমলের মন্দিরের প্রাচীন স্তব্ধতা যেন ঘনায়মান ও হিংস্র অন্ধকারের মূর্তি ধরে সকলের প্রাণ মনের উপরে চেপে বসতে চাইছিল! উপরদিকে হঠাৎ ঝটপট ঝটপট শব্দ হল-নিরবচ্ছিন্ন নীরবতার মাঝখানে সেই শব্দগুলোকে শোনাল যেন বন্দুকের আওয়াজের মতো! চমকে এবং দোদুল ভুঁড়ি নাচিয়ে লাফিয়ে উঠে সুন্দরবাবু সভয়ে ঊর্ধ্বমুখে দেখলেন, ভাঙা মন্দিরের ফাঁকে তখনও উজ্জ্বল আকাশপটে কালো কালো চলন্ত দাগ কেটে কী কতকগুলো উড়ে গেল৷

    অমলবাবু বললেন, ‘বাদুড়!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘না, অন্ধকারের কালো বাচ্ছা!’

    মানিক নিজের মনেই বললে, ‘নকশায় বেদির গায়ে সিঁড়ি আঁকা রয়েছে৷ কিন্তু এখানে কোথায় সিঁড়ি?’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘প্রতিধ্বনিও বলবে-কোথায় সিঁড়ি? ও সিঁড়ি-ফিড়ি কিছুই পাওয়া যাবে না, আমাদের কাদা ঘেঁটে মরাই সার হল, জয়ন্ত বেচারা বেঘোরে প্রাণ দিলে, এখান থেকে পালাই চলো মানিক৷’

    -‘পালাব কেন?’

    -‘এ জায়গাটা ভালো নয়! আমার বুক ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ করছে! হুম, আমার বুক অকারণে ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ করে না, এটা নিশ্চয়ই হানা মন্দির!’

    মানিক হেসে উঠল-তার হাস্যধ্বনি মন্দিরের অন্ধকার ভরা কোণে কোণে প্রতিধ্বনি তুললে, শোনাল ঠিক অন্ধকারের হাসির মতো!

    সুন্দরবাবু অস্বস্তিপূর্ণকন্ঠে বললেন, ‘তুমি হেসো না মানিক৷ এমন অস্বাভাবিক স্তব্ধতা তুমি কখনো অনুভব করেছ? এক মাইল দূরে একটা আলপিন পড়লেও যেন শোনা যায়! এ স্তব্ধতা যেন নিরেট, হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়! এ স্তব্ধতা যেন ওজনে ভারী-বুকে জাঁতাকলের মতো চেপে বসে! এ যেন স্তব্ধতার মহাসাগর,-আমাদের কথাগুলো যেন মুখ থেকে বেরিয়েই এই স্তব্ধতার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে!’

    মানিক কোনো কথায় কান না পেতে মন্দিরের বেদির উপরে হাত বুলোতে লাগল৷ তারপর ফিরে বললে, ‘অমলবাবু, এ বেদির গায়ে কখনো যে কোনো সিঁড়ি ছিল, তার চিহ্নটুকুও দেখছি না! অথচ নকশায় সিঁড়ি আঁকা রয়েছে! এর মানে কী?’

    -‘আমার বোধ হয় এ নকশাখানা অন্য কোনো জায়গার!’

    -‘অসম্ভব! নকশার সঙ্গে এখানকার বাকি সমস্তই হুবহু মিলে যাচ্ছে! এই সিঁড়ির হয়তো কোনো গুপ্ত অর্থ আছে৷’

    -‘থাকতে পারে৷ কিন্তু আমরা কেউ তা জানি না৷ সুতরাং আমাদের পক্ষে ও গুপ্ত অর্থ থাকা-না-থাকা দুই-ই সমান৷’

    হঠাৎ সুন্দরবাবু আঁতকে বলে উঠলেন, ‘মানিক, মানিক! কে যেন এখানে চাপা হাসি হাসছে!’

    মানিক বললে, ‘কই?’

    -‘হাসি আবার থেমে গেল!’

    -‘ও আপনার মনের ভুল৷ আমি কোনো হাসি শুনিনি৷’

    -‘অমলবাবু, আপনিও শোনেননি?’

    -‘না৷ কে আবার হাসবে, এখানে আমরা তিন জন ছাড়া আর কেউ নেই৷’

    -‘হুম, শুনিনি বললেই হল? আমি স্পষ্ট শুনেছি! কে যেন লুকিয়ে লুকিয়ে হাসি চেপে রাখবার চেষ্টা করেও পারলে না!’

    -‘তাহলে আপনার পিছনে ওই যে বুদ্ধদেব দাঁড়িয়ে আছেন, ওঁকে জাগ্রত বলে মানতে হয়! আপনার ভয় দেখে উনিই হেসে ফেলেছেন!’

    সুন্দরবাবু তাড়াতাড়ি দু-পা পিছিয়ে এসে ফিরে তাকালেন৷

    আসন্ন সন্ধ্যায় আবছায়া মেঘে প্রকাণ্ড অবলোকিতেশ্বর দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর প্রস্তরচক্ষুর প্রশান্ত দৃষ্টি যেন সুন্দরবাবু মুখের পানেই তাকিয়ে আছে এবং তাঁর ওষ্ঠাধর স্নিগ্ধহাস্যে বিকশিত!

    সুন্দরবাবু বিস্ফারিত আড়ষ্ট চোখে দেখলেন, আচম্বিতে বুদ্ধমূর্তি জ্যান্ত হয়ে টলমলিয়ে নড়ে উঠল! ‘হুম, বাপ!’ বলে সুন্দরবাবু সুদীর্ঘ এক লাফ মেরে একেবারে মানিকের ঘাড়ের উপরে এসে পড়লেন!

    অমলবাবু উত্তেজিত স্বরে বললেন, ‘বুদ্ধদেব নড়ে উঠেছেন মানিক! আমি স্বচক্ষে দেখেছি!’

    মানিক বিস্মিতভাবে তাকিয়ে দেখলে, মূর্তি যেমন স্থির ছিল তেমনই রয়েছে! সে ভর্ৎসনার স্বরে বললে, ‘আপনারা দু-জনেই পাগল হলেন নাকি?’

    সুন্দরবাবু ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘পাগল এখনও হইনি মানিক, কিন্তু পাগল হতে আর বেশি বিলম্বও নেই! পাথরের মূর্তি হাসে, পাথরের মূর্তি নড়ে, এমন ব্যাপার কেউ কখনো দেখেছে?’

    মানিক এগিয়ে বুদ্ধমূর্তির গায়ে হাত রেখে বললে, ‘এই দেখুন, আমি মূর্তির গায়ে হাত দিয়েছি! একেবারে জড়পাথর, এর মধ্যে কোনো প্রাণ নেই!’

    হঠাৎ সেই প্রস্তরমূর্তি একখানা জীবন্ত ও বলিষ্ঠ বাহু বাড়িয়ে সবলে মানিকের হাত চেপে ধরল!

    আকস্মিক আতঙ্কে আচ্ছন্ন হয়ে মানিক প্রাণপণে চেঁচিয়ে উঠল, ‘সুন্দরবাবু! অমলবাবু৷’

    —–

    * ‘And in Yasodharpura, which is the Great Capital of the Khmer people and the finest city in all of Asia, there is a statue of the Lord Buddha sitting upon the coiled cobra which is the emblem of that race. And this statue was fashioned out of emeralds so cunningly matched and cemented together that the whole work sums as one solid emerald and shines with a green light so intense that none but faith may look upon it.’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }