Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প329 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

    একটা অজ্ঞাত, অপার্থিব বিপদের আশঙ্কায় সকলের হৃদয় পরিপূর্ণ হয়ে উঠল!

    এতকালের বদ্ধ আলোহারা বায়ুহারা সুড়ঙ্গপথ, সমাধির চেয়েও যা সুরক্ষিত ও সুদুর্গম, তার মধ্যে বস্তা টেনে শব্দের সৃষ্টি করছে কে বা কারা? আর এদিকেই বা এগিয়ে আসছে কেন? যার মধ্যে জীবন্ত জীবের আবির্ভাব অসম্ভব, সেখানে এ কী অভাবিত ব্যাপার?

    জয়ন্ত চুপিচুপি বললে, ‘মানিক, ব্যাপার বড়ো সুবিধার নয়, বন্দুক তৈরি রাখো!’ সুড়ঙ্গপথের ভিতরে তার চুপিচুপি কথাই শোনাল চিৎকারের মতো!

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘হ্যাঁ, বন্দুকই তৈরি রাখবে বটে! এই পাতালপুরে কোন কুম্ভকর্ণের বেটা কত শত বৎসর ধরে ঘুমিয়ে ছিল, মজার মজার স্বপ্ন দেখে আরাম করছিল, এখন অসময়ে এখানে অনধিকার প্রবেশ করে আমরা তার ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম! বন্দুক ছুড়ে করবে কী? বন্দুকের গুলিও তো হজমি গুলির মতো কপ কপ করে গিলে ফেলবে!’

    জয়ন্ত ও মানিক কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মতো দাঁড়িয়ে রইল!

    বস্তা টানার মতো শব্দ ক্রমেই বেড়ে উঠেছে! সেই সঙ্গে আরও একটা বেয়াড়া আওয়াজ শোনা যেতে লাগল৷ কে যেন মাটির উপরে দুম দুম করে খুব ভারী ভারী জিনিস আছড়ে ফেলছে অত্যন্ত অধীর ভাবে!

    জয়ন্ত এসব শব্দের হদিস খুঁজে পেলে না! এ যেন কার আস্ফালনের শব্দ!

    অমলবাবু রুদ্ধশ্বাসে বললেন, ‘জয়ন্তবাবু, সেকালে গুপ্তধন রক্ষা করবার জন্যে যক রাখা হতে বলে প্রবাদ শুনেছি! তা কি তবে সত্য? যে আসছে সে কি যক?’

    জয়ন্ত বললে, ‘পদ্মরাগ বুদ্ধ হচ্ছেন অহিংসার দেবতা! এখানে যক রাখা মানে একটি জীবের প্রাণবধ করা৷ কোনো বৌদ্ধ পুরোহিত সে মহাপাপ করতে পারেন না৷ যকের কথা সত্য কি না জানি না,-সত্য না হওয়াই সম্ভব, তবে সত্য হলেও এখানে যক কেউ রাখেনি৷’

    -‘তবে ও কে আসছে?’

    -‘ভগবান জানেন!’

    এইবার ভীষণ একটা গর্জন শোনা গেল! বদ্ধ সুড়ঙ্গের আবহাওয়ায় বিকৃত হয়ে সেই ভয়াবহ ধ্বনি এমন অদ্ভুত শোনাল যে, সেটা কীসের গর্জন কিছুই বোঝা গেল না৷

    সুন্দরবাবু হাল ছেড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, ‘হুম ক্রমাগত চমকে চমকে আজ মারা পড়ব নাকি? আমার আর সহ্য হচ্ছে না-চললুম আমি উপরে! এর চেয়ে ওপরের অন্ধকারে বসে ভয় পাওয়া ভালো, বনের বাঘ-ভাল্লুকের পেটে যাওয়া ভালো!’ তিনি সুড়ঙ্গমুখের দিকে চোঁচা দৌড় মারলেন৷

    সুড়ঙ্গপথের অনেক দূরে, যেখানকার নিরেট অন্ধকারের গায়ে ঠেকে লন্ঠনের আলো ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, সেইখানে ফুটে উঠল বিদ্যুৎখণ্ডের মতো দুটো জ্বলন্ত চক্ষু! সে বিচিত্র চোখ নিষ্পলক, তার আগুন একবারও নিবছে না!

    জয়ন্ত বললে, ‘আজ আর গোঁয়ারতুমি করা নয়! মানিক আজ আমাদের ফিরতেই হবে-এখনও সময় আছে! সকলে মিলে পরামর্শ করে কাল সকালে আবার ফিরে আসা যাবে! চলো, আমরা বাইরে যাই!’

    -‘কিন্তু ওসব কীসের শব্দ, ও কার গর্জন ও কার চোখ কিছুই তো বোঝা গেল না!’

    -‘বুঝতে গেলে প্রাণ দিতে হয়! শিগগির উপরে চলো!’

    সকলে দ্রুতপদে উপরে উঠে দেখলে, ভাঙা বেদির গায়ে হেলান দিয়ে মড়ার মতো হলদে মুখে সুন্দরবাবু চুপ করে বসে আছেন৷

    মানিক বললে, ‘সুন্দরবাবু, আজ আপনারই জয়জয়কার! পলায়নে আপনি হয়েছেন আমাদের পথপ্রদর্শক৷’

    সুন্দরবাবু তখন উত্তর দেবারও শক্তি ছিল না৷

    জয়ন্ত বললে, ‘আমাদের এখানে থাকাও নিরাপদ নয়৷ সুড়ঙ্গের মুখ খোলা, দপদপে চোখ দিয়ে যে আমাদের দেখেছে সে এখানেও খুঁজতে আসতে পারে! চলো, আমরা মন্দিরের পিছনে বনের ভিতরে যাই৷ আজকের রাতটা গাছের উপরে উঠেই কাটাতে হবে!’

    অমলবাবু বললেন, ‘তার চেয়ে পাথরগুলো আবার যথাস্থানে রেখে গর্ত আবার বন্ধ করে দিলে কি হয় না?’

    -‘না৷ পাথর তো এখন আর গেঁথে দেওয়া সম্ভব নয়! সুড়ঙ্গে যার সাড়া পেয়েছি তার আকার নিশ্চয়ই অসাধারণ! ওই আলগা পাথরগুলো তার এক ধাক্কায় হুড়মুড় করে ঠিকরে পড়বে!’

    সুন্দরবাবু এতক্ষণে ভাষা পেয়ে বললেন, ‘জয়ন্তের প্রস্তাবই যুক্তিসংগত৷ পথ খোলা পেলে ও দানবটা হয়তো গর্ত ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতেও পারে!’

    জয়ন্ত বললেন, ‘ভগবান করুন, আপনার অনুমানই যেন সত্য হয়! ও পাপ বিদেয় হলে তো সব ল্যাঠা চুকে যায়!’

    সুড়ঙ্গের গর্ভ ভেদ করে আবার একটা বুকের-রক্ত-ঠান্ডা-করা গভীর গর্জন বাইরে ছুটে এল!

    সে গর্জনের সঙ্গে জড়ানো রয়েছে যেন বিষম ক্রোধ ও বিপুল ক্ষুধার ভাব! যেন আসন্ন মৃত্যুর গর্জন, শুনলেই বুকের ভিতরে জীবনের স্পন্দন স্তম্ভিত হয়ে যায়!

    জয়ন্ত সচকিত কন্ঠে বললে, ‘সে আসছে, সে আসছে! তোলো সব তল্পিতল্পা, ছোটো বনের দিকে!’

    রাত তখন বেশি নয়, কিন্তু এরই মধ্যে বনবাসিনী নিশীথিনীর নিদুটিমন্ত্রে চতুর্দিকের নির্জনতা যেন আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে৷ আকাশে চাঁদ নেই, অন্ধকারের সাম্রাজ্য আজ অপ্রতিহত৷ বাতাস যেন কাঁদতে কাঁদতে বয়ে আনছে দূর বনের আর্তধ্বনি৷

    মন্দিরের পিছনে একটি ছোটো মাঠ৷ তারপর আবার অরণ্য৷

    সেইদিকে এগুতে এগুতে জয়ন্ত বললে, ‘মানিক, ভাগ্যিস বুদ্ধি করে সঙ্গে বিষাক্ত বাষ্পের বোমা এনেছিলুম!’

    -‘কেন বলো দেখি?’

    -‘কাল সকালে সুড়ঙ্গের মধ্যেই বোমা ছুড়ে দেখব কোনো ফল হয় কি না৷’

    -‘যদি ফল না হয়? যদি ওটা কোনো জীব না হয়?’

    -‘মানে?’

    -‘ওঠা কোনো ভৌতিক কাণ্ড হওয়া কি অসম্ভব?’

    -‘মানিক, শেষটা তুমিও কি সুন্দরবাবুর দলে ভিড়তে চাও?’

    -‘ওই সুড়ঙ্গের মধ্যে পৃথিবীর কোনো জীব বাঁচতে পারে?’

    -‘না পারাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু ও যে পেরেছে, হয়তো তারও এমন কোনো স্বাভাবিক কারণ আছে, যা আমাদের অজানা৷ ভূতের কথা মনেও এনো না মানিক! ভূতের গল্প পড়তে ভালো লাগে, কারণ অসম্ভবের দিকে মানুষের টান থাকে৷ কিন্তু ভূত নেই৷’

    বোধ হয় তখন শেষ-রাত৷ আকাশে চাঁদের আভাস জেগেছে মাত্র৷ গাছের উপরে সকলে বসেছিল অর্ধনিদ্রিত ও অর্ধজাগ্রত অবস্থায় কিন্তু তা সত্ত্বেও সুন্দরবাবু নাসিকা রাত্রির স্তব্ধতা দূর করবার জন্যে কম চেষ্টা করছিল না৷ এমনকী মানিকের মত হচ্ছে, তাঁর নাকের ডাকাডাকিতে ভয় পেয়ে সে গাছের সব পাখি ও বানর তো দূরের কথা, এমনকী ভূত-পেতনিরাও নাকি অন্য গাছের সন্ধানে পালিয়ে গিয়ে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছে!

    আচম্বিতে উপর-উপরি দু-দু-বার বন্দুকের শব্দে সকলের তন্দ্রা গেল ছুটে!

    সুন্দরবাবু বেজায় চমকে বিনা বাক্যব্যয়ে ঝুপ করে ডাল থেকে পড়ে গেলেন৷ কিন্তু তিনি বিলক্ষণ হুঁশিয়ার ব্যক্তি বলে ধরাতলে অবতীর্ণ হবার আগেই খপ করে আর একটা ডাল ধরে ফেলে শূন্যে দুলতে ও ঝুলতে লাগলেন৷

    রাতের মর্ম ভেদ করে নানা কন্ঠের চিৎকার ও আর্তনাদ দূর থেকে ভেসে এল! কারা যেন ভয়ানক আতঙ্কে চিৎকার করছে এবং দারুণ যাতনায় কাঁদছে৷

    -‘জয়! জয়!’

    -‘কী মানিক?’

    -‘শুনেছ?’

    -‘হুঁ!’

    -‘আমাদের এখন কী করা উচিত?’

    -‘চুপ করে এইখানে বসে থাকা উচিত৷ এ অরণ্য এখন মৃত্যুর রাজ্য, নীচে নামলেই মরব৷’

    -‘কিন্তু ও কীসের গোলমাল?’

    -‘কাল সকালে বুঝতে পারব৷ এখন আর কথা কয়ো না৷ কথা কইলেই হয়তো বিপদকে ডেকে আনা হবে৷’

    নীচের ডাল থেকে করুণস্বরে শোনা গেল, ‘হুম! কিন্তু আমাকে যে কথা কইতেই হবে! গাছের ডাল ধরে আমি ঝুলছি৷ তোমরা সাহায্য না করলে আমি আর বেশিক্ষণ পারব না!’

    অমলবাবুর সঙ্গে মানিক কোনোরকমে ডাল বেয়ে সুন্দরবাবুর কাছে-অর্থাৎ মাথার উপরে গিয়ে হাজির হল! মানিক বললে, ‘বৈজ্ঞানিকের মতে, আমাদের পূর্বপুরুষরা গাছের ডাল ধরে ঝুলতে পারতেন৷ সে অভ্যাস ভুলে গিয়ে আপনি ভালো করেননি সুন্দরবাবু!’

    ডাল ধরে ঝুলতে ঝুলতে সুন্দরবাবু বললেন, ‘মানিক, তোমার ঠাট্টা শুনলে অঙ্গ জ্বলে যায়! নাও, এখন আমাকে টেনে তুলবে, না বচন শোনাবে?’

    উপর থেকে জয়ন্তের বিরক্ত ও গম্ভীর স্বর শোনা গেল, ‘ফের কথা কয়!’

    দূরের কোনো গোলমাল আর শোনা যায় না৷ শব্দগুলো যেন স্তব্ধতা সাগরের মধ্যেই কয়েক খণ্ড ইষ্টকের মতো পড়েই ডুবে কোথায় তলিয়ে গেল! এখন শুধু কালো রাত করছে থমথম, মুখর ঝিল্লি করছে ঝিমঝিম, বনের গাছ করছে মরমর! এবং ম্লান খণ্ড চাঁদ নিবুনিবু চোখে করছে উষার কোলে মৃত্যুর অপেক্ষা! . . .

    গাছে গাছে পাখির দল বনভূমির সবুজ জগতে দিকে দিকে উচ্ছ্বসিত আনন্দে রটিয়ে দিলে-জাগো লতাপাতা, জাগো ফলফুল, জাগো অলি-প্রজাপতি! পূর্বের শোভাযাত্রায় দিবারানির সোনার মুকুট দেখা দিয়েছে! জাগো সবাই!

    সকালের প্রথম আলো কী শান্তিময়! সকালের নতুন বাতাস কী মিষ্টি! এই পৃথিবীতে কখনো যে কালো-কুৎসিত ভয়ময় রাত ছিল, তার কথা যেন মনেও পড়ে না!

    সকলে একে একে গাছ ছেড়ে আবার মাটি-মায়ের কোল পেয়ে আশ্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচলে৷

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘আগে স্টোভে চড়িয়ে দাও চায়ের কেটলি! কী জানি বাবা, যে জায়গায় যাচ্ছি, জীবনে হয়তো আর চা খেতে হবে না! ওহে, এয়ারটাইট টিনে তোমরা রসগোল্লা আর সন্দেশ এনেছিলে না? হুম, ক্ষমা-ঘৃণা করে গোটা দশ-বারো আমার দিকে ছুড়ে মেরো!’

    জয়ন্ত বললে, ‘ঠিক কথা, আমি সুন্দরবাবুকে সমর্থন করি৷ ভালো ব্রেকফাস্ট মানুষের সাহস আর শক্তিকে দু-গুণ করে তোলে! মানিক, নিয়ে এসো রসগোল্লা-সন্দেশের টিন!’

    জয়ন্তের কাঁধে হাত রেখে সুন্দরবাবু বললেন, ‘জয়ন্ত ভায়া, এইজন্যেই তো তোমার সঙ্গে আমার বেশি ভাব! খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে তোমার মতো মনের মানুষ দুর্লভ!’ . . .

    প্রাতরাশ শেষ করে সকলে আবার ভাঙা মন্দিরের দিকে অগ্রসর হল, সুন্দরবাবু আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে বার কয়েক ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে চেঁচিয়ে নিলেন!

    মানিক বললে, ‘সুন্দরবাবু, শ্রীদুর্গার কান দু-টি কালা নয়, অমন বিকটস্বরে না চ্যাঁচালেও তিনি শুনতে পাবেন!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘এই! ঠাট্টা শুরু হল তো? আচ্ছা মানিক, তুমি আমার পিছনে এত লাগো কেন বলো দেখি?’

    মানিক মুচকি হেসে বললে, ‘আপনাকে বেশি ভালোবাসি কিনা!’

    জয়ন্ত তার প্রিয় বাঁশের বাঁশিটি বার করেছে এবং ভৈরবী রাগিনীর লীলায় প্রভাতকে আরও সুন্দর করে তুলে মাঠের উপর দিয়ে সবার আগে এগিয়ে চলেছে!

    মাঠে ফুটেছে অজস্র ঘাসের ফুল-কেউ সাদা, কেউ হলদে৷ আশেপাশে ঘুরে ফিরে ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে খুব ছোটো জাতের একরকম প্রজাপতি৷ মাঝে মাঝে তাদের কাছে বাহাদুরি নেবার মতলবে গঙ্গাফড়িং হাই জাম্পের নানান কায়দা দেখাচ্ছে!

    মাঠ পার হয়ে বাঁশি বাজাতে বাজাতে জয়ন্ত মন্দিরের দরজার উপরে উঠল৷ বাঁশিতে বাজছিল তখন কোনো গানের অন্তরা, কিন্তু হঠাৎ তার সুর বোবা হয়ে গেল একেবারে!

    মানিক দূর থেকেই লক্ষ করলে, জয়ন্ত বাঁশিটি তাড়াতাড়ি পকেটে পুরে, পিঠে বাঁধা বন্দুকটা নামিয়ে নিলে! দেখেই সে ঝড়ের বেগে ছুটল!

    সুন্দরবাবু বুঝলেন, আবার কোনো অঘটন ঘটেছে! একটা দুঃখের নিশ্বাস ফেলে সঙ্গীদের দিকে ফিরে বললেন, ‘তোমরাও ছুটে এসো!’ -বলেই তিনি দৌড়োতে লাগলেন!

    অমলবাবু একান্ত নাচারের মতন বললেন, ‘হে ভগবান, আবার কী হল? আর যে পারি না!’

    মন্দিরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে সকলে যে বীভৎস দৃশ্য দেখলে, ভাষায় তা ঠিকমতো বর্ণনা করা অসম্ভব!

    মন্দিরের মেঝের উপরে অনেকখানি জায়গা জুড়ে পড়ে রয়েছে বিরাট এক অজগর সাপ! এত বড়ো অজগর দেখা যায় না বললেই হয়-লম্বায় সে হয়তো ত্রিশ ফুটের কম হবে না এবং দেহও তার অসম্ভব রকম মোটা!

    কিন্তু এই ভয়াবহ দৃশ্য অধিকতর ভয়ংকর হয়ে উঠেছে আর এক অভাবিত কারণে! অজগরের বিপুল কুণ্ডলীর ভিতরে প্রায় রক্তাক্ত মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়ে রয়েছে দুটো মানুষের মৃতদেহ! . . . তৃতীয় একটা দেহ অজগরের ল্যাজের কাছে মেঝের উপরে হাত-পা ছড়িয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছে-তার মাথাটা একেবারে চুর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে এবং তার পাশে পড়ে একটা ভাঙা বন্দুক!

    অজগরটাও বেঁচে নেই-তারও মাথা ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে৷

    মন্দিরের ভিতরে যেদিকে তাকানো যায় সেইদিকে রক্ত আর রক্ত! কোথাও পড়ে আছে চাপ চাপ রক্ত, কোথাও আঁকাবাঁকা রক্তের ধারা! রক্তের ফিনকি মন্দিরের দেওয়ালেও গিয়ে লেগেছে! এত রক্ত অমলবাবু এক জায়গায় কখনো দেখেননি,-তাঁর মাথা ঘুরে গেল, প্রায় অজ্ঞানের মতো তিনি ধপাস করে বসে পড়লেন!

    অনেকক্ষণ স্তম্ভিতের মতন দাঁড়িয়ে থাকবার পর জয়ন্ত ভারাক্রান্ত কন্ঠে বললে, ‘তাহলে কাল আমরা এই অভাগাদেরই আর্তনাদ শুনেছিলুম?’

    মানিক বললে, ‘তা ছাড়া আর কী!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘কিন্তু কে এরা?’

    জয়ন্ত বললে, ‘বুঝতে পারছেন না? এরা যে আমাদেরই বন্ধু! আপনাদের গুলি খেয়েও এদের আশ মেটেনি, পদ্মরাগ বুদ্ধের উপরে এদের এত ভক্তি যে, আমরা কী করছি দেখবার জন্যে রাত্রে মন্দিরে এসে ঢুকেছিল!’

    অমলবাবু ক্ষীণকন্ঠে বললেন, ‘আমি চ্যান আর ইনকে চিনতে পেরেছি৷ বন্দুকের পাশের লোকটা হচ্ছে ইন, আর অজগরের কুণ্ডলীর ভিতরে মুখ খিঁচিয়ে রয়েছে চ্যান৷ অন্য লোকটাকে চিনি না৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘সমস্ত ব্যাপারটাই বেশ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে৷ . . . সাপ কখনো গর্ত খোঁড়ে না, অন্য জীবের খোঁড়া গর্তে সে আশ্রয় নেয়৷ কোনো জন্তু উপর থেকে গর্ত খুঁড়ে পদ্মরাগ বুদ্ধের সুড়ঙ্গে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল৷ অজগর মহাপ্রভু সেই গর্ত দিয়ে ভিতরে ঢুকে তাকে ফলার করেন আর তারপর থেকে মনের সুখে সুড়ঙ্গেই বাস করতে থাকেন৷ কাল রাত্রে উনিই আমাদেরও ফলার করবার চেষ্টায় ছিলেন৷ কিন্তু আমরা আত্মত্যাগে রাজি না হওয়াতে উনি বেরিয়ে এসে আমাদের অভদ্রতায় অত্যন্ত বিরক্ত আর ক্রুদ্ধ হয়ে মন্দিরের ভিতরেই বেড়িয়ে বেড়াচ্ছিলেন, বা কোনো কোণ বেছে নিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়েছিলেন৷ তারপর তখন চ্যান আর ইন কোম্পানির রঙ্গালয়ে প্রবেশ৷ তাদের চোখ তখন আমাদের জন্যেই ব্যস্ত, অজগরকে তারা দেখতে পায়নি, কিন্তু অজগর তাদের দেখেই আক্রমণ করলে! চ্যান আর তার একজন সঙ্গী প্রথম আক্রমণেই তার কুণ্ডলীর ভিতরে ধরা পড়ল, ইনের হাতে ছিল বন্দুক, সে অব্যর্থ লক্ষ্যে অজগরের মাথা টিপ করে দু-বার বন্দুক ছুড়লে, সঙ্গেসঙ্গে অজগরের বিষম ল্যাজের ঝাপটায় তার মাথা আর হাতের বন্দুক গেল গুঁড়িয়ে! বাকি যারা ছিল তারা করলে সবেগে পলায়ন! ব্যাপারটা বোধ হয় অনেকটা এইরকমই হয়েছিল৷ . . . অর্থাৎ আমাদের মানুষ শত্রুর দল নিজেরাই আত্মবলি দিয়ে আমাদের অজগর শত্রুকে বধ করে আমাদের পথ সাফ করে দিয়েছে! ভগবানকেও ধন্যবাদ, চ্যান অ্যান্ড ইন কোম্পানিকেও ধন্যবাদ! আর ধন্যবাদ দিই পদ্মরাগ বুদ্ধদেবকে! তিনি সত্যই যদি থাকেন, তবে আমদের হস্তগত হলে তিনি বোধ করি খুশি হবেন!’

    সুন্দরবাবু এতক্ষণ পরে ভরসা করে মন্দিরের ভিতরে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘হুম! বেটা অজগর! তুমি আমাদেরই জলযোগ করবার ফিকিরে ছিলে বটে!’-বলেই তিনি মৃত অজগরের কুণ্ডলীর উপরে বন্দুক দিয়ে একটা আঘাত করলেন৷

    এবং যেমন আঘাত করা, অমনি সঙ্গেসঙ্গে অজগরের মৃতদেহটা কুণ্ডলী পাকিয়ে লাফিয়ে উঠল!

    সুন্দরবাবু মৃত অজগরের এমন কল্পনাতীত ব্যবহার আশা করেননি, তিনি ভয়ানক ভড়কে হঠাৎ পিছিয়ে আসতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে মস্ত ব্যায়ামবীরের মতো আশ্চর্য এক ডিগবাজি খেয়ে মেঝের উপরে সশব্দে আছাড় খেয়ে পড়লেন এবং ষাঁড়ের মতো স্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ওরে বাবারে, অজগরটা এখনও জ্যান্ত আছে যে রে, আমার প্রাণ গেল রে!’

    জয়ন্ত তাড়াতাড়ি সুন্দরবাবুকে অতি অনায়াসে মাটি থেকে শূন্যে তুলে নিয়ে সরে এল এবং তাঁকে আবার সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলে!

    অজগরের দেহটা তখন ফুলে ফুলে উঠছে এবং কুণ্ডলীর পর কুণ্ডলী পাকাচ্ছে৷

    সুন্দরবাবু মহা ভয়ে আর একবার সেইদিকে তাকিয়েই বেগে পলায়ন করতে উদ্যত হলেন৷ কিন্তু জয়ন্ত হাত ধরে তাঁকে টেনে রাখলে৷

    সুন্দরবাবু পাগলের মতন বলে উঠলেন, ‘আমাকে ছেড়ে দাও জয়ন্ত, আমাকে ছেড়ে দাও! আমি অজগরের খোরাক হতে চাই না!’

    জয়ন্ত হেসে বললে, ‘সুন্দরবাবু, শান্ত হোন!’

    -‘শান্ত হব? জ্যান্ত অজগরের সামনে শান্ত হব? হুম হুম হুম!’

    -‘ভয় নেই সুন্দরবাবু! অজগরের প্রাণ না থাকলেও তার দেহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে নড়েচড়ে, কুণ্ডলী পাকায়! অবশ্য তখনও ওই কুণ্ডলীর ভিতরে গিয়ে ঢুকলে কোনো জীবেরই রক্ষা নেই, কিন্তু সে আর তেড়ে এসে কারুকে ধরতে পারে না!’

    সুন্দরবাবু দুই চক্ষু বিস্ফারিত করে অজগরটার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বটে, বটে, বটে? তাহলে আমি আর পালাব না! কিন্তু আমার ভয়ানক লেগেছে! আমি ডিগবাজি খেয়ে পাথরের মেঝের ওপর আছাড় খেয়েছি-ঃউ!’

    জয়ন্ত একপাশ দিয়ে এগিয়ে ভাঙা বেদির সুড়ঙ্গমুখের কাছে গিয়ে প্রসন্ন কন্ঠে বললে, ‘এখন দূরে যাক সমস্ত দুঃস্বপ্ন, চোখের সামনে জেগে উঠুক পদ্মরাগ বুদ্ধের প্রতিমা! হাতি সিং, সকালেই আবার জ্বালো রাতের আলো-কেননা পাতালে দিনও নেই রাতও নেই, আছে শুধু রন্ধ্রহীন অন্ধকার!’

    হাতি সিংয়ের লোকজনেরা আলো জ্বাললে, সকলে আবার পাতালপুরীর সোপান দিয়ে নীচে নামতে লাগল-সঙ্গে সঙ্গে রবিকরোজ্জ্বল প্রভাতের সমস্ত রং আর সুর আর গন্ধের সঙ্গে ঘটল বিচ্ছেদ!

    সুড়ঙ্গের সুদূর অন্ধকারের পানে তাকিয়ে সুন্দরবাবুর কানে কানে মানিক বললে, ‘আচ্ছা, অজগরের বিধবা বউ যদি ওখানে থাকে, তাহলে আপনি কী করবেন?’

    সুন্দরবাবু চমকে উঠে খুব সন্দেহের সঙ্গে সুমুখের দিকে চেয়ে বললেন, ‘আমাকে আর নতুন ভয় দেখিয়ো না মানিক!’

    অজগরের বিধবা বউয়ের সঙ্গে কারুর আর দেখা হল না বটে, কিন্তু নতুন এক নিরাশায় ভেঙে পড়ল সকলের মন৷

    সোজা পথ, কোনো শাখা-প্রশাখা নেই৷ কিন্তু খানিকপরেই পথ গেল ফুরিয়ে৷ সুমুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক নিথর পাথরের দেওয়াল!

    সকলে খানিকক্ষণ হতভম্বের মতো পরস্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল৷

    অমলবাবু ভাঙা ভাঙা গলায় বললেন, ‘এই পাথরের দেওয়ালে মাথা ঠুকে আমাদের সকল আশার আজ অস্ত হল!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘শেষটা যে এই হবে, আমি তা জানতুম! হুম, পদ্মরাগ বুদ্ধ না অশ্বডিম্ব বুদ্ধ! ধাপ্পা বাবা, ধাপ্পা!’

    মানিক বললে, ‘তাহলে অকারণে এত কষ্ট করে এই সুড়ঙ্গ কাটা হয়েছিল কেন?’

    অমলবাবু বললেন, ‘এ হচ্ছে নাগরাজ্য, নাগ ছিল এখানকার প্রতীক! ওঙ্কারধামের ভাস্কর্যে সর্বত্রই তাই নাগমূর্তির ছড়াছড়ি! ভারতের অনেক তীর্থক্ষেত্রে যেমন পবিত্র কুমির পোষা হয়, বাংলাদেশে যেমন বাস্তুসাপকে ঠাঁই দেওয়া হয়, এই মন্দিরেও তেমনি সুড়ঙ্গ কেটে পবিত্র অজগরকে রাখা হয়েছিল!’

    জয়ন্ত ভাবতে ভাবতে মাথা নেড়ে বললে, ‘উঁহু আপনার যুক্তি মনে লাগছে না! যে অজগরকে মনে করা হয় পবিত্র, ভক্তরা সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ করে তাকে কখনো কবর দিয়ে জ্যান্ত মারবার ব্যবস্থা করত না! . . . আমার মনে একটা সন্দেহ জাগছে! হাতি সিং, তোমার লোকজনদের এগিয়ে আসতে বলো! ভেঙে ফেলুক তারা এই পাথরের দেওয়াল! দেখা যাক দেওয়ালের ওপাশে কী আছে?’ বলেই সে রুপোর শামুকের নস্যদানি বার করে ঘন ঘন নস্য নিতে লাগল৷

    মানিক জানত, জয়ন্ত খুশি হলে নস্য না নিয়ে পারে না! কিন্তু আপাতত আনন্দের বদলে সে আশঙ্কার কারণই খুঁজে পেলে৷ তাড়াতাড়ি বললে, ‘জয়, সেই পুকুরের কথা তোমার মনে অছে তো? পুকুরের কোণ থেকে যে পথটা মন্দিরে গিয়ে পৌঁছেছে, এই সুড়ঙ্গ আছে ঠিক তার নীচে৷ সুতরাং আমরা এখন হয়ত সেই পুকুরের পাশে বা নীচে এসে দাঁড়িয়েছি৷ দেওয়াল ভাঙলে সুড়ঙ্গের ভিতর হুড়হুড় করে জল ঢুকতে পারে! তখন আমাদের কী দশা হবে?’

    জয়ন্ত বললে, ‘সব দেওয়াল তো একসঙ্গে ভাঙা হবে না, জল ঢুকলে পালাবার ঢের সময় পাওয়া যাবে৷ . . . ভাঙো দেওয়াল!’

    দেওয়ালের উপর পড়তে লাগল কুড়ুলের পর কুড়ুলের ঘা! শক্ত দেওয়াল! সহজে ভাঙা যায় না৷ অনেক কষ্টে একখানা পাথর সরানো হল৷

    কিন্তু জল-টল কিছুই ভিতরে ঢুকল না৷ জয়ন্ত সেই ফাঁকটার ভিতরে হাত চালিয়ে অল্পক্ষণ কী অনুভব করলে৷ তারপর মহা উৎসাহে বলে উঠল, ‘চালাও কুড়ুল! সরাও পাথর! আমার সন্দেহ মিথ্যে নয়! এ সুড়ঙ্গ অকারণে কাটা হয়নি!’

    মানিকও তাড়াতাড়ি সেই ফাঁকের ভিতর হাত ঢুকিয়ে দিয়ে সানন্দে চেঁচিয়ে উঠল, ‘দেওয়ালের ওপাশে কাঠের মতো কী হাতে ঠেকছে! বোধ হয় দরজা!’

    সুন্দরবাবু বিপুল কৌতূহলে বললেন, ‘অ্যাঁ 😕 বল কী! দরজা? আলিবাবার চল্লিশ দস্যুর রত্নগুহা চিচিং ফাঁক, চিচিং ফাঁক!’

    ঠকাং! ঠকাং! ঠকাং! চলল সমানে কুড়ুলের পর কুড়ুল! খসে পড়ছে, ভেঙে পড়ছে পাথরের পর পাথর! এক-একখানা পাথর খসে, আর নেচে নেচে ওঠে সকলের প্রাণ! . . .

    দরজাই বটে! খুব বড়ো দরজা নয় ছোটো দরজা! তিন ফুটের বেশি উঁচু নয় কিন্তু বিলক্ষণ মজবুত! আগাগোড়া লোহার কিল মারা! পাথরের চেয়ে কঠিন! আর সেই দরজায় লাগানো রয়েছে একটা পুরোনো মস্ত পিতলের কুলুপ!

    জয়ন্ত বললে, ‘কুলুপের ভিতরে বেশ করে তেল ঢেলে দাও! বহুকাল ও কুলুপে চাবি ঢোকেনি, তেলে না ভিজলে খুলবে না!’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘তেল তো ঢালছ, কিন্তু চাবি কোথায়?’

    মানিক বললে, ‘আমার কাছে! নিশ্চয় সেই চাবিটা ওই কুলুপে লাগবে?’

    জয়ন্ত রুপোর শামুকের নস্যদানি বার করে ঘন ঘন নস্য নিয়ে বললে, ‘কুলুপটা ভালো করে তেলে ভিজুক! ততক্ষণে আমরা আর-একবার চা তৈরি করলে নিশ্চয়ই কারুর আপত্তি হবে না? সন্দেশ আর রসগোল্লার টিন আর একবার বার করলে আপনি কি রাগ করবেন সুন্দরবাবু?’

    সুন্দরবাবু ভুঁড়ির উপরে স্নেহভরে হাত বুলোতে বুলোতে একগাল হেসে বললেন, ‘রাগ! আমার এ ভুঁড়ি পর্বতপ্রমাণ সন্দেশ-রসগোল্লার স্বপ্ন দেখে! এ ভুঁড়ি কখনো পরিপূর্ণ হয় না! বিশ্বাস না হয়, আজকেই পরখ করে দেখতে পারো-হুম!’

    মানিক স্বহস্তে দ্বিতীয় দফা চা তৈরি করতে বসল৷

    অমলবাবু বললেন, ‘এইবারে পদ্মরাগ বুদ্ধের সব রহস্য টের পাওয়া যাবে!’

    জয়ন্ত বললে, ‘হ্যাঁ, পদ্মরাগ মণির সঙ্গে বুদ্ধদেবের সম্পর্ক কী, এইবারেই তা জানতে পারব! অবশ্য এটা আমার জানা আছে যে, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো পদ্মরাগ মণি ব্রহ্মদেশ ছাড়া আর কোথাও জন্মায় না! পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন বস্তু হচ্ছে হীরক, তারপরেই পদ্মরাগের স্থান৷ কিন্তু সমান ওজনের হীরকের চেয়ে পদ্মরাগ মণি বেশি মূল্যবান!’

    চায়ের পিয়ালা যখন খালি হল, সন্দেশ-রসগোল্লা যখন ফুরল, তখন মানিক সগর্বে বার করলে তার পকেটের চাবি এবং সেই চাবি ঢুকল কুলুপের গর্ভে এবং একবার ঘোরাতেই কুলুপ গেল খুলে!

    সমস্ত গুহা চিৎকার-শব্দে পরিপূর্ণ করে জয়ন্ত বললে, ‘জয়, পদ্মরাগ বুদ্ধের জয়!’

    দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখা গেল, ছোটো একটি ঘর৷ তার মেঝে, তার দেওয়াল, তার ছাত সব পাথরে গড়া৷ সুতীব্র আধুনিক আলোকের আঘাতে কতকাল পরে সেখানকার প্রাচীন ও নিবিড় অন্ধকারের মৃত্যু হল, তার হিসাব কেউ জানে না! ঘরে আর কোনো আসবাব নেই, কেবল মাঝখানে রয়েছে কোনো ধাতু দিয়ে গড়া একটি মাঝারি সিন্দুক!

    জয়ন্ত ঘরের চারিদিক তাকিয়ে বললে, মানিক, দেখো! পাথরের ঘর, তবু স্যাঁৎসেতে৷ পাথরের জোড়ের ভিতর দিয়ে জল গড়াচ্ছে! ব্যাপার কিছু বুঝতে পারছ?’

    -‘পারছি, জয়! এই ঘরটা আছে সেই পুকুরের নীচে৷’

    -‘এখন এটাও বুঝতে পারছ তো, নকশায় পুকুরের পশ্চিম কোণে সেই চিহ্নিত জায়গাটা কেন আঁকা হয়েছে? পুকুরের তলায় এই ঘরটা আছে, মন্দিরগামী রাস্তার তলায় এই সুড়ঙ্গটা আছে, বেদির তলায় সিঁড়ির সার আছে, নকশা দিয়েছে তারই ইঙ্গিত! সাধারণ লোকে নকশা দেখলেও কিছু বুঝতে পারত না-কিন্তু আমরা হচ্ছি অসাধারণেরও চেয়ে অসাধারণ! কারণ অসাধারণ লোক নকশার রহস্য বুঝতে পারলেও সুড়ঙ্গের দরজা ঢাকা পাথরের দেওয়াল দেখে ফিরে যেতে বাধ্য হত, কিন্তু আমরা ফিরে যাইনি৷ অতএব অনায়াসেই গর্ব করতে পারি! এখন তোলো ওই সিন্দুকের ডালা!’

    সিন্দুকের ডালা তুলেই সকলে অবাক বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে গেল! . . . সিন্দুকের ভিতরে লন্ঠনের আলো পড়বার আগেই তার মধ্য থেকে বেরিয়ে এল যেন একটা সুতীব্র রক্তজ্যোতির ঝটকা! তারপরেই দেখা গেল টকটকে লাল ও জ্বলজ্বলে পাথরের তৈরি একটি অতি আশ্চর্য ও অতুলনীয় বুদ্ধমূর্তি সেখানে কারুকার্যে বিচিত্র সুবৃহৎ স্বর্ণপাত্রে শোয়ানো রয়েছে! মূর্তিটি দৈর্ঘ্যে একহাতের কম হবে না!

    জয়ন্ত বিস্ময়-বিহ্বল স্বরে বললে, ‘মূর্তির সর্বাঙ্গ দিয়ে যেন লাল আলো ঠিকরে পড়ছে, চোখে লাগছে ধাঁধা! এ মণিময় মূর্তি না হয়ে যায় না! না জানি এর দাম কত কোটি টাকা! মানিক মানিক! এ কি সত্য, না অসম্ভব স্বপ্ন?’

    মানিক আবেগে নিরুত্তর হয়ে মূর্তির মণিময়, দীপ্ত ও মসৃণ গায়ে হাত বুলিয়ে দেখতে লাগল৷

    দুই চক্ষু ছানাবড়ার মতন করে সুন্দরবাবু বললেন, ‘হুম! পদ্মরাগ মণি কেটে এত বড়ো মূর্তি তৈরি করা হয়েছে? পদ্মরাগ মণি এত বড়ো হয়!’

    মানিক বললে, ‘না সুন্দরবাবু, অনেকগুলো পদ্মরাগ মণি একসঙ্গে জুড়ে শিল্পী এই মূর্তি গড়েছে৷ কিন্তু এমনি তার হাতের কায়দা যে, কোথাও জোড় ধরবার উপায়ই নেই!’

    জয়ন্ত কিছু বললে না, অভিভূত প্রাণে মূর্তিটাকে সযত্নে তুলে সিন্দুকের উপর বসিয়ে দিলে৷ অপার্থিব আনন্দের মতো ঘোররক্তবর্ণ সেই মহামানব মূর্তির প্রভা যেন আধুনিক সমুজ্জ্বল আলোগুলোকেও লজ্জা দিতে লাগল!

    সেই জ্যোতির্ময় মূর্তির সামনে দুই হাত জোড় করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে অমলবাবু ভক্তিভরে বলে উঠলেন, ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি! ধর্মং শরণং গচ্ছামি! সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি!’

    —–

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }