Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প329 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কলিকাতায় ভেনিসের একরাত্রি

    কলিকাতায় ভেনিসের একরাত্রি

    জয়ন্ত ও মানিক সেদিন ডিনার খেতে গিয়েছিল,-পার্ক স্ট্রিটে এক হালফ্যাশানি বন্ধুর বাড়িতে৷

    জয়ন্ত ও মানিক থাকে বাগবাজারে, কিন্তু তাদের পার্ক স্ট্রিটবাসী এই বন্ধুটি ছিলেন সেই জাতীয় মনুষ্য, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে, হগসাহেবের বাজারের উত্তরে আর আধুনিক ভদ্রলোকের বাস নেই৷ অতএব হগসাহেবের বাজারের দক্ষিণ দিকে আস্তানা গেড়ে এঁরা কোঁচানো কাপড় পরেন না, শিঙাড়া কচুরি খেতে ভালোবাসেন না, অ-আ ক-খ ব্যবহার করেন না, ঘড়ি ধরে দাড়ি কামান, হাঁচেন-কাশেন, স্বপ্ন দেখেন৷

    জয়ন্ত ও মানিক যে এই শ্রেণির বন্ধুর খুব অনুরাগী ছিল, তা নয়৷ কলেজ ছাড়বার পর এঁর সঙ্গে পথে-ঘাটে তাদের দেখা হয়েছে কালেভদ্রে কদাচ৷ শখের গোয়েন্দাগিরিতে বারংবার আশ্চর্যরূপে সফল হয়ে জয়ন্ত আজকাল কলকাতার একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি বলে গণ্য হয়েছে এবং সেই খ্যাতির কিছু কিছু অংশ মানিকও পেয়েছে৷ তাদের মতন লোককে নিমন্ত্রণ করে এখন বাড়িতে আনতে পারলেও অনেকে সৌভাগ্য বলে মনে করে৷ হয়তো সেইজন্যেই পার্ক স্ট্রিট আজ বাগবাজারকে করেছে ডিনার খাবার নিমন্ত্রণ! বাগবাজারকে চমকে দেবার জন্যে পার্ক স্ট্রিট কোনো আয়োজনেই ত্রুটি করেনি৷ সে-সব দেখে জয়ন্ত ও মানিক কোনোরকম বিস্ময় প্রকাশ করলে না বলে গৃহকর্তা বোধ হয় মনে মনে কিঞ্চিৎ হতাশ হলেন৷

    কিন্তু খানা খাবার টেবিলের উপরে মেনুতে খাদ্যের ফরাসি নামগুলি তাদের কাছে বড়ো বাড়াবাড়ি বলে মনে হল৷

    জয়ন্ত বললে, ‘ওহে, এই ফরাসি নামগুলোর ভেতরে গোরু আর শুয়োরের মাংস লুকিয়ে নেই তো?’

    গৃহকর্তা এতক্ষণে তো পেয়ে অট্টহাস্য করে বললেন, ‘কেন হে, গোরু আর শুয়োর সম্বন্ধে এখনও তোমাদের প্রাচীন কুসংস্কার আছে নাকি?’

    জয়ন্ত গম্ভীর হয়ে বললে, ‘তোমার কথার উত্তর দিতে গেলে তর্ক করতে হয়৷ খানার টেবিলের সামনে সে তর্ক করার অভ্যাস আমার নেই৷ আসল কথা, ও দু-টি খাবার আমরা পছন্দ করি না৷’

     

     

    খানা শেষ হলে পর সকলে পাশের একটি ঘরে গিয়ে বসলেন৷ সে ঘরটি একেবারে একেলে কায়দায় সাজানো৷ দেওয়ালে কিউবিস্ট চিত্রকরদের আঁকা ছবি, টেবিল-চেয়ার প্রভৃতি আসবাবও কিউবিস্ট কারিগরদের দ্বারা গড়া, এমনকী ঘরের মেঝের মোজেকের উপরেও কিউবিজমের প্রভাব৷

    গৃহকর্তা বললেন, ‘জয়ন্ত, এ ঘরটির ডেকোরেশান তোমার কেমন লাগছে?’

    -‘বেশ৷ কিন্তু ভারতবাসী যখন ঘরবাড়ি সাজায় তখন সে যদি ভারতের প্রাচীন শিল্পের আদর্শের দিকে লক্ষ রাখে, তাহলে আমি বেশি খুশি হই৷’

    -‘কিন্তু আমি চাই আপ-টু-ডেট হতে৷ কিউবিজম হচ্ছে হাল-ফ্যাশানের ঢেউ৷’

    -‘না, কিউবিজমের বয়েস হল ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বৎসর৷ এখনকার আর্টে হালফ্যাশান এনেছেন হাইপার রিয়ালিস্ট শিল্পীরা৷ তাদের নাম তুমি শুনেছ?’

    -‘না৷’

    -‘তাহলে পার্ক স্ট্রিটে বাস করেও তুমি আপ-টু-ডেট হতে পারনি৷ তুমি জানো, যিনি কিউবিজম আবিষ্কার করেছেন, তিনি এখন কিউবিজম ছেড়ে অন্য পদ্ধতিতে ছবি আঁকছেন?’

    -‘না৷’

    -‘তাহলে হে বন্ধু, তুমি পার্ক স্ট্রিটের কালো কলঙ্ক!’

    বন্ধু মনে মনে রেগে ঠোঁট কামড়ালেন৷ অধিকাংশ আধুনিক বাঙালি-সাহেবের মতন তিনিও লোক-দেখানো আধুনিক হয়েছেন, আর্টের অত খুঁটিনাটির খবর রাখবার উৎসাহ তাঁর নেই৷

     

     

    ডিনারের পর কফির পালা৷ কিন্তু কফির পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার সঙ্গেসঙ্গেই নামল যেন আকাশ ভেঙে বৃষ্টির ধারা৷ হু-হু করে ঝোড়ো-হাওয়া ঘরের ভিতরে ঢুকে প্রথমেই কিউবিস্টদের আঁকা ছবিগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলে৷ তখনি তাড়াতাড়ি দরজা-জানলা বন্ধ করে দেওয়া হল৷

    এক, দুই, তিন ঘণ্টা গেল, তখনও ঝুপ ঝুপ করে বৃষ্টি পড়ছে৷

    জয়ন্তের চোর-ডাকাত ধরার কাহিনি শুনে গৃহকর্তার সময় কিন্তু বেশ কেটে যাচ্ছে৷ তাঁর গল্প শোনার উৎসাহ যেন ফুরোতেই চায় না৷ কিন্তু শেষ-গল্প শেষ করবার আগেই ঘড়িতে বাজল সাড়ে-বারোটা৷ জয়ন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বললে, ‘আর অপেক্ষা করা চলে না৷ পার্ক স্ট্রিট থেকে বাগবাজার-মস্ত লম্বা দৌড়! ওঠো মানিক!’

    গৃহকর্তা বললেন, ‘কিন্তু এখনও বৃষ্টি পড়ছে যে!’

    -‘পড়ুক৷ চলো মানিক!’

    গাড়ি বারান্দার তলাতেই তাদের মোটর দাঁড়িয়েছিল, তারা মোটরে গিয়ে উঠল৷

    চৌরঙ্গি তখন একটা প্রকাণ্ড হ্রদে পরিণত হয়েছে৷ সেই জলরাজ্যে জনপ্রাণীর সাড়া নেই, কেবল সরকারি আলোক-স্তম্ভগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে দীপ্তনেত্রে যেন সেই নির্জন রাজ্য শাসন করছে, নীরবে৷

    চৌরঙ্গি ছাড়িয়ে মোটর যখন সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউতে প্রবেশ করল পথের জলও তখন বেড়ে উঠল৷ যতদূর চোখ যায় তাকিয়ে দেখলে মনে হয়, শহরের বুকের ভিতরে সুদীর্ঘ এক নদীর আবির্ভাব হয়েছে!

    মানিক বললে, ‘বর্ষায় কলকাতায় বাস করলে ভেনিসে বাস করা হয়, কারণ তখন কলকাতার রাজপথের সঙ্গে ভেনিসের জলপথের কোনো তফাতই থাকে না৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘কেবল দীর্ঘশ্বাসের সেতু আর গন্ডোলা নৌকার অভাব৷’

     

     

    -‘গন্ডোলার অভাব কর্পোরেশনের দূর করা উচিত৷ বর্ষাকালের জন্যে কলকাতার মাঝে মাঝে খেয়াঘাট বসিয়ে নৌকো রাখার ব্যবস্থা করা দরকার৷ আর দীর্ঘশ্বাসের সেতুর কথা বলছ? বর্ষার সময়ে সারা কলকাতা যত দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তা দিয়ে কি শত শত সেতু তৈরি করা যায় না?’

    কিন্তু জয়ন্ত কোনো জবাব দেবার আগেই তাদের মোটর হঠাৎ থেমে দাঁড়িয়ে পড়ল৷

    ড্রাইভার বললে, ‘হুজুর, গাড়ি আর চলবে না!’

    জয়ন্ত বললে, ‘গাড়ি তো আর নৌকো নয়, এতক্ষণ সে যে নৌকোর কর্তব্যপালন করতে নারাজ হয়নি, এইটুকুই আশ্চর্য! এসো মানিক, এখন জলে ঝাঁপ দেওয়া ছাড়া কোনো উপায়ই নেই!’

    সেখানটা হ্যারিসন রোডের মোড়৷ বাগবাজার তখন অনেক দূরে৷ দু-জনে জল ভাঙতে ভাঙতে ধীরে ধীরে অগ্রসর হল,-পথের জল প্রবাহ ঠিক নদীর মতোই কোলাহল করতে করতে ছুটে চলেছে এবং জলের মাঝে মাঝে ভাসছে মরা ও পচা ইঁদুর, কুকুর ও বিড়ালের দেহ!

    মানিক ঘৃণায় নাক টিপে ধরে বললে ‘বাড়িতে গিয়ে জলে পার্মাঙ্গেনেট অফ পটাস গুলে গা না ধুলে আর রক্ষা নেই! জয়, পার্ক স্ট্রিটের ডিনার বুঝি আর বাগবাজারি পেটে থাকে না! থুঃ থুঃ!’

    জয়ন্ত বললে, ‘আমি বলি, জয় কর্পোরেশনের! আধুনিক কলকাতার টেক্সো যত বাড়ছে, তার রাস্তার জলের পরিমাণও সেই অনুপাতে দিব্যি বেড়ে উঠছে! অথচ আধুনিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে জল নিকাশের ব্যবস্থা করবার অজুহাতে কত লক্ষ টাকা খরচ করা হচ্ছে!’

    দু-জনে বিরক্ত মনে হোঁচট খেতে খেতে এগিয়ে চলল, তখন তাদের দুর্দশা দেখবার জন্য পথে একটা জ্যান্ত কুকুর পর্যন্ত হাজির ছিল না৷ লাল পাগড়ি পর্যন্ত অদৃশ্য! বৃষ্টি তখনও থামেনি এবং ঝোড়ো বাতাস তখনও বন্ধ জানলায় মাথা খুঁড়ে ভিতরে ঢুকতে না পেরে কেঁদে কেঁদে বেড়াচ্ছে!

     

     

    হঠাৎ জয়ন্ত বলে উঠল, ‘হুঁ, এই তো চোরের শুভমুহূর্ত! মানিক, তুমি কি একটা মানুষ-টিকটিকি দেখতে চাও?’

    মানিক বিস্মিত নেত্রে জয়ন্তের মুখের পানে তাকালে৷

    জয়ন্ত আঙুল তুলে বললে, ‘আমার মুখের পানে তাকিয়ে তুমি আমার মুখ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না,-ওই বাড়িখানার তিনতলার দিকে তাকাও!’

    পাশেই একখানা ত্রিতল বাড়ি! একটা মনুষ্য-মূর্তি দেয়াল বেয়ে উপরে উঠছে!

    মানিক বললে, ‘চোর! কিন্তু কেমন করে লোকটা উপরে উঠছে?’

    ‘ট্যাঙ্কের জলের পাইপ ধরে৷’

    লোকটা হাত বাড়িয়ে বারান্দার রেলিং ধরলে, তারপর ভিতরে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেল৷

    জয়ন্ত বললে, ‘এসো, দেখা যাক চোরটাকে ধরতে পারা যায় কি না?’

    জয়ন্ত বাড়ির সদর দরজায় গিয়ে খুব জোরে কড়া নাড়তে লাগল৷ খানিকক্ষণ পরে ভিতর থেকে হিন্দুস্থানি গলায় কে শুধোলে, ‘কোন হায় রে?’

    -‘বাইরে এসে দেখো না বাবা, চ্যাঁচাও কেন? বাড়িতে চোর ঢুকেছে!’

    হঠাৎ রাস্তার দিক থেকে কোথায় কে তীক্ষ্ণ শিস দিলে!

    জয়ন্ত চারিদিকে চেয়ে কারুকেই দেখতে পেলে না৷ বললে, ‘মানিক, এ চোর একলা আসেনি৷ তার দলের লোক নীচে কোথাও লুকিয়ে পাহারা দিচ্ছে৷ শিস দিয়ে উপরের চোরকে সে সাবধান করে দিলে৷’

     

     

    দরজা খুলে বেরুল গালপাট্টাওয়ালা মস্ত একখানা মুখ৷

    জয়ন্ত বললে, ‘দারোয়ানজি, রাস্তা থেকে দেখলুম একটা চোর পাইপ ধরে তিনতলার বারান্দার গিয়ে উঠল! তাকে ধরতে চাও তো শিগগির আমাদের নিয়ে ওপরে চলো!’

    দারোয়ান তখনি কোণ থেকে নিজের লাঠিটা তুলে তিন বার মাটিতে ঠুকে যা বললে তার সারমর্ম হচ্ছে এই যে, এই লাঠি দিয়ে সে যদি আজ চোরের মাথাটা কাঁধের উপর থেকে উড়িয়ে দিতে না পারে, তাহলে মিথ্যাই তার নাম হাতি সিং!

    তার সঙ্গে জয়ন্ত ও মানিক সিঁড়ি দিয়ে দ্রুতপদে উপরে উঠতে লাগল৷

    একেবারে তিনতলার বারান্দায়! তিনতলার দুটো দরজা রয়েছে, দুটোই বন্ধ৷

    একটা দরজার সামনে গিয়ে দারোয়ান ডাকলে, ‘হুজুর, হুজুর!’

    কেউ সাড়া দিলে না৷

    কিন্তু জয়ন্তের তীক্ষ্ণ কাণ শুনতে পেলে, ঘরের ভিতরে ঝটাপটির শব্দ হচ্ছে!

    সে দরজায় পিঠের বামদিক রেখে দাঁড়াল৷ তার সেই ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচুঁ দেহ আসুরিক শক্তির জন্যে বিখ্যাত, আর এ তো তুচ্ছ একটা কাঠের কবাট! তার দেহের এক ধাক্কায় ভিতরের খিল ভেঙে গেল-দরজার কবাট সশব্দে খুলে গেল!

    ঘরে ঘুটঘুট করছে অন্ধকার! প্রথমেই দেখা গেল রাস্তার বারান্দার দিকের খোলা দরজা দিয়ে একটা মূর্তি বেরিয়ে যাচ্ছে!

    হাতি সিং ছুটে গিয়ে বাঘের মতো তার উপরে লাফিয়ে পড়ল৷

    প্রথমেই একটা শব্দ হল,-কার হাত থেকে কী একটা জিনিস যেন মাটির উপরে পড়ে ভেঙে গেল! তারপরেই চোখের পলক না পড়তেই বিপুলবপু হাতি সিং কুপোকাত!

     

     

    জয়ন্তও একলাফে বারান্দায় গিয়ে পড়ল, কিন্তু চোর তখন সেখানে নেই! বারান্দার রেলিংয়ে ঝুঁকে পড়ে জয়ন্ত দেখলে, জলের পাইপ ধরে আশ্চর্য বেগে সে নীচের দিকে নেমে যাচ্ছে! তাকে আর ধরবার চেষ্টা করা বৃথা৷

    অন্ধকার ঘরে ঢুকে সে বললে, ‘হাতি সিং, তুমি উঠেছ?’

    হিন্দি ভাষায় সাড়া এল, ‘উঠেছি বাবুজি! বড়োই জোয়ান চোর, ধরে রাখতে পারলুম না!’

    -‘সে তোমার দোষ নয়৷ আলোর সুইচ কোথায়?’

    হাতি সিং আলো জ্বালল৷

    ঘরের একদিকে একখানা খাট৷ ঠিক তলাতেই মেঝের উপরে পড়ে একটি প্রৌঢ় বাঙালি ভদ্রলোক অত্যন্ত হাঁপাচ্ছেন৷

    জয়ন্ত ও মানিক তাঁর পাশে গিয়ে বসল৷ প্রথমেই জয়ন্তের চোখ পড়ল ভদ্রলোকের গলার উপরে-সেখানে মানুষের আঙুলের রাঙা ছাপ! চোর তাঁর গলা টিপে ধরেছিল৷

    ভদ্রলোকের বয়স হবে চল্লিশ৷ মাথায় কাঁচা-পাকা চুল৷ গৌরবর্ণ৷ দোহারা দেহ৷

    হাতি সিং জল এনে তাঁর গলায় ও মুখে ঝাপটা দিতে লাগল৷ খানিকক্ষণ পরে ভদ্রলোক কতকটা সামলে নিয়ে উঠে বসলেন৷ ধীরে ধীরে বললেন, ‘আপনারা কে তা জানি না৷ কিন্তু আপনারা না এসে পড়লে আমি বাঁচতুম না৷ গেল হপ্তায় আমার সহকারী বন্ধু সুরেন বাবুকে কে খুন করেছে, আর আজ আমিও পরলোকে চলে যাচ্ছিলুম!’

    মানিক বললে, ‘আমি খবরের কাগজে পড়েছি, গেল হপ্তায় বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক অমল চন্দ্র সেনের সহকারী সুরেন্দ্র নাথ বসুকে কে হত্যা করে পালিয়েছে৷ আপনি কি সেই সুরেনবাবুর কথা বলছেন?’

    -‘আজ্ঞে হ্যাঁ৷’

     

     

    -‘তাহলে আপনিই হচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিক-‘

    -‘অমল চন্দ্র সেন৷’

    জয়ন্ত অবাক হয়ে অমলবাবুর মুখের দিকে তাকালে৷ অমলবাবুর বিখ্যাত নাম সেও শুনেছে বটে, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকের নিরীহ দেহের উপরে এমন মারাত্মক আক্রমণ কেন? পুরানো পোকায়-কাটা পুঁথিপত্র, অচল সেকেলে মুদ্রা আর ভাঙা ইট-কাঠ-পাথর নাড়াচাড়া করা যাঁদের একমাত্র পেশা, তাঁদেরই একজনকে পাঠানো হয়েছে পরলোকে এবং আর একজনকেও-

    তার চিন্তায় বাধা পড়ল৷ অমলবাবু হঠাৎ সবিস্ময়ে বলে উঠলেন, ‘ওকী, ওই বুদ্ধমূর্তিটা ওখানে পড়ে কেন? ওটা ভাঙলই বা কী করে?’

    জয়ন্ত চেয়ে দেখলে, বারান্দার দিকে দরজার সামনে মাটির উপরে একটি বুদ্ধমূর্তি পড়ে রয়েছে, তার মুণ্ড ভেঙে আরেকদিকে গড়িয়ে গিয়েছে৷

    সে বললে, ‘এখন বোঝা যাচ্ছে, হাতি সিং যখন চোরকে আক্রমণ করে, তখন ওই মূর্তিটাই চোরের হাত থেকে পড়ে ভেঙে গিয়েছিল! শব্দটা আমি তখনি শুনেছিলুম, কিন্তু কারণ বুঝতে পারিনি৷’

    অমলবাবু উত্তেজিত কন্ঠে বললেন, ‘এত জিনিস থাকতে চোর ওই বুদ্ধমূর্তি নিয়ে পালাচ্ছিল? চোর ওই-বুদ্ধমূর্তি-নিয়ে’ বলতে বলতে তিনি হঠাৎ আবার থেমে গেলেন!

    জয়ন্ত নীরবে তাঁর ভাবভঙ্গি লক্ষ করতে লাগল৷ সে বেশ বুঝলে, অমলবাবু আজকের এই বিপদের একটা হদিস খুঁজে পেয়েছেন৷

    খানিকক্ষণ পরে অমলবাবু বললেন, ‘আপনারা আমার প্রাণরক্ষা করলেন, কিন্তু আপনাদের পরিচয় জানা হল না তো?’

     

     

    জয়ন্ত বললে, ‘জানাবার মতো পরিচয় আমাদের কিছুই নেই৷ আমার নাম জয়ন্ত আর আমার বন্ধুর নাম মানিকলাল৷ আমাদের শখ হচ্ছে গোয়েন্দাগিরি৷’

    -‘আপনাদের কথা আমিও বোধ হয় শুনেছি৷ বৈজ্ঞানিক অপরাধী ভবতোষ মজুমদারকে আপনারাই কি ধরিয়ে দিয়েছিলেন?’

    -‘অনেকটা তাই বটে৷ কিন্তু পুলিশ বলবে ভবতোষকে ধরেছিলেন ইনস্পেক্টার সুন্দরবাবু৷’

    -‘পুলিশ যা বলে বলুক, কিন্তু আসল বাহাদুরি কার লোকে তা জানে৷ আপনারা এখানে এলেন কেমন করে?’

    জয়ন্ত সব খুলে বললে৷ অমলবাবু বললেন, ‘জয়ন্তবাবু, ভগবান আপনাদের এখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন৷’

    জয়ন্ত হাসতে হাসতে বললে, ‘অনেকটা সেইরকমই মনে হয় বটে! নইলে হঠাৎ এই দুর্যোগ, জলমগ্ন রাস্তা, মোটরের বিদ্রোহ, যথাসময়ে আপনার বাড়ির সামনে আমাদের আবির্ভাব-এ-সমস্তই অর্থহীন হয়ে পড়ে!’

    অমলবাবু বললেন, ‘দেখুন, ওই বুদ্ধমূর্তিটি এতদিন আমার সহকারী সুরেনবাবুর বাড়িতে ছিল৷ ওই মূর্তিটি আমরা চার মাস আগে কাম্বোডিয়ায় গিয়ে পেয়েছিলুম৷’

    -‘কাম্বোডিয়ায়? যেখানে জঙ্গলের ভিতরে প্রসিদ্ধ প্রাচীন হিন্দু মন্দির ওঙ্কারধাম আছে?’

    -‘হ্যাঁ৷ সেই পিরামিডের চেয়েও আশ্চর্য মন্দির থেকে আরও তফাতে, জঙ্গলের ভিতরে প্রাচীন হিন্দুদের আরও অনেক কীর্তি লুকানো আছে৷ খোঁজে গিয়েই আমরা এই বুদ্ধমূর্তিটি পাই৷ এই মূর্তি পাওয়ারও একটা বিচিত্র ইতিহাস আছে, সে কথা পরে বলব৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘মূর্তিটি এতদিন সুরেনবাবুর কাছে ছিল,-তারপর?’

     

     

    অমলবাবু বললেন, ‘গেল হপ্তায় একদিন ওই মূর্তিটি আমার পরীক্ষা করবার দরকার হয়৷ আমি মূর্তিটি সুরেনবাবুর কাছ থেকে আনিয়ে নিই৷ ঠিক সেই রাত্রেই কে সুরেনবাবুকে গলা টিপে হত্যা করে৷ কেবল তাই নয়৷ সুরেনবাবুর ঘরে আরও অনেক মূর্তি ছিল, হত্যাকারী যে সেগুলো নিয়েও নাড়াচাড়া করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়৷ কিন্তু হত্যাকারী কোনো জিনিস বা মূর্তি নিয়ে যায়নি৷ পুলিশ এই হত্যার কোনো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজে পায়নি৷ জয়ন্তবাবু, হত্যাকারী কীসের খোঁজে সুরেনবাবুর ওখানে গিয়েছিল, বলতে পারেন?’

    -‘আপনার আর কিছু বলবার আছে?’

    -‘আছে, আমার কোনো শত্রু নেই৷ আজ রাত্রে আপনাদের কড়ানাড়ার শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল৷ খাট থেকে যেই নেমেছি, অমনি কে আমার গলা টিপে ধরলে-আমি অজ্ঞানের মতো হয়ে গেলুম৷ এখন দেখছি, আমার ঘরেও এক হত্যাকারী এসে আর কিছু না নিয়ে ওই বুদ্ধমূর্তি নিয়েই পালাচ্ছিল, যে-মূর্তি এতদিন সুরেনবাবুর ঘরে ছিল!’

    মানিক বললে, ‘আমার তো মনে হয়, সুরেনবাবুকে খুন করে সেখানে ওই বুদ্ধমূর্তি না পেয়ে হত্যাকারী আজ আপনার এখানে খুঁজতে এসেছিল৷’

    জয়ন্ত কিছু বললে না৷ দরজার কাছে গিয়ে বুদ্ধমূর্তির দেহ ও মাথা মাটির উপর থেকে কুড়িয়ে নিলে৷

    মূর্তিটি চুনাপাথরে গড়া ধ্যানী বুদ্ধের, উচ্চতায় এক হাতের বেশি হবে না৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিমল-কুমার সমগ্র ১ – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }