Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প666 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মধুরেণ সমাপয়েৎ

    হঠাৎ কলকাতার রাত্রি হয়ে উঠল বিভীষিকা৷

    ব্ল্যাক আউটের অন্ধকার যে ভয়াবহ সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই, কিন্তু এ কেবল ভয়াবহ নয়, মারাত্মক!

    তৃতীয় শ্রেণির মাসিক পত্রিকায় পদ্য প্রেরণ করা যাঁদের একমাত্র পেশা, তাঁরা যখন কলকাতার আকাশে অর্ধচন্দ্র দেখে শিবনেত্র হয়ে কবিত্বের স্বপ্নচয়নের চেষ্টা করছিলেন, তখন শূন্যে হল জাপানি উড্ডীয়মান নৌকার উদয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় নগরী উপহার লাভ করল কতিপয় মুখর বোমা৷ এক দিন নয়, পর পর তিন দিন!

    নবাব মীরকাশিমের যুগে বাংলা দেখেছিল শেষ যুদ্ধ৷ তারপর থেকে কিছু কম দুই শতাব্দী ধরে বাঙালির সঙ্গে যুদ্ধের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে কেবল পুঁথিপত্র বা সংবাদপত্রের ভিতর দিয়ে৷ চায়ের সঙ্গে যুদ্ধের তর্ক যেমন মুখরোচক, তেমনই নিরাপদ৷ অনভ্যাসের ফলে বাঙালিরা ভুলে গিয়েছিল, একদা তারাও আবার যুদ্ধে মরতে পারে৷

    কলকাতার উপরে শেষ অগ্নিবৃষ্টি করেছিল নবাব সিরাজদ্দৌলার সেকেলে কামান৷ তারপর সেদিন আচম্বিতে যখন আকাশচারী খ্যাঁদা জাপানিরা কলকাতার বুকে আবার নতুন অগ্নিবাদল সৃষ্টি করে গেল এবং কয়েকজন বাংলার মানুষ যখন বিনা নোটিশে হাজির হল গিয়ে পরলোকে, তখন সারা কলকাতা হয়ে গেল ভীত, চকিত, হতভম্ব৷ ভাবল, এ আবার কীরকম যুদ্ধ বাবা! আগেকার লড়াইয়ে কত লোক মরত রণক্ষেত্রে গিয়ে৷ কিন্তু এ-যুদ্ধে শয়নগৃহে ঢুকে স্ত্রীর আঁচল ধরে শয্যায় শুয়েও দস্তুরমতো খাবি খেতে হয়! এমন যুদ্ধের কথা তো রামায়ণ-মহাভারতেও লেখে না৷

    তা লেখে না৷ সুতরাং সুখশয্যায় নিরাপদ নয় এবং বাইরের রাস্তা নাকি ততোধিক বিপজ্জনক৷ যুদ্ধ এসেছে কলকাতার মাথার উপরে৷ অনভ্যস্ত বাঙালির পিলে গিয়েছে চমকে৷ শহরবাসীরা ব্ল্যাক আউটকে তুচ্ছ করে রাতে পথে পথে করত বায়ুসেবন৷ কিন্তু তিন দিন জাপানি বোমার চমকদার ধমক খেয়ে সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গেই রাজপথকে করল প্রায় বয়কট৷

    গ্যাসপোস্টের আলোগুলো জ্বলে না, ‘জ্বলছি’ বলে মিথ্যা ভান করে৷ দোকানদাররা তাড়াতাড়ি ঝাঁপ তুলে দিয়ে সরে পড়ে৷ থিয়েটার, সিনেমা ও হোটেল বা রেস্তোরাঁরও সামনে নিবিড় অন্ধকার যেন দানা পাকিয়ে থাকে৷ বাদুড় ও প্যাঁচারা কলকাতার উপর দিয়ে ওড়বার সময় মনে করে, এমন খাসা শহর দুনিয়ায় আর কোথাও নেই৷ এবং গুণ্ডা, চোর ও পকেটমারের দল মনেপ্রাণে জাপানের খ্যাঁদা নাকগুলোর মঙ্গলকামনা করে বেরিয়ে পড়ে পথে-বিপথে৷

    এমনই সময়ে-অর্থাৎ জাপানিরা শেষ যে-রাতে কলকাতায় বোমা ছুড়ে গেল ঠিক তার পরদিনই, তিন বন্ধু-অটল, পটল ও নকুল হঠাৎ এক বিচিত্র ঘটনার আবর্তে গিয়ে পড়তে বাধ্য হল৷ অতঃপর সেই ইতিহাসই বলব৷

    আহিরিটোলা অঞ্চল৷ ঘুটঘুটে কালো রাত-জুতোর কালির চেয়ে কালো৷ চারিদিক সার্কুলার রোডের গোরস্থানের মতো নিস্তব্ধ৷ শহরের সমস্ত লোক যেন মরে গিয়েছে৷ কিংবা এ যেন কোনো পরিত্যক্ত ও অভিশপ্ত নগরের মৃত পথ৷ গত রাত্রে ঠিক এই অঞ্চলেই একটি বোমা পথের উপরে এসে পড়ে পক্ক দাড়িম্বের মতো বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, তাই এদিককার গৃহস্থদের কেউ আর দরজার বাইরে পা বাড়াতে রাজি নয়৷ পাড়ার বার-ফটকা ডানপিটে ছেলেরাও বাইরের নাম মুখে আনছে না আজ৷

    কিন্তু এমন রাতেও পরস্পরের গলা ধরাধরি করে, তিনজোড়া জুতোর শব্দে রাজপথকে চমকিত করে এগিয়ে আসছে অটল, পটল ও নকুল-জনৈক রসিক যাদের নাম দিয়েছে ‘গৌড়বাংলার থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’৷ ব্যাপার কী? তাদের কি প্রাণের ভয় নেই?

    না৷

    আজকাল আহারের নিমন্ত্রণ পেলে শেয়ালের মতো কাপুরুষও হয়ে ওঠে সিংহের মতো সাহসী৷

    বাজার যা আক্রা! আগেকার সস্তার দিনে বাড়িতে দুই শত লোককে খেতে ডাকলে অন্তত শতকরা পঁচিশ জন নিমন্ত্রণ রক্ষা করত না৷ কিন্তু এখন? দুইজনকে আহ্বান করলে সাড়া দেয় চারশো জন! মাছ-মাংস, তরি-তরকারি, দুধ-ঘি-তেল সমস্তই অগ্নিমূল্য! যাদের আয় মাসিক একশো টাকার মধ্যে (এবং এই শ্রেণির লোকই বাংলা দেশে বেশি), তারা তো মাছ-মাংস, লুচি বা সন্দেশ-রসগোল্লা প্রভৃতির স্বাদ ভুলেই যেতে বসেছে৷ এমন অবস্থায় বিনামূল্যে চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় সদ্ব্যবহার করবার নিমন্ত্রণ পেলে সে-সুযোগ ত্যাগ করে না কোনো নির্বোধই৷

    আহিরিটোলা অঞ্চলের কোনো উদার বন্ধু পোলাও কালিয়া কোপ্তা কাবাব ও ফাউলকারি প্রভৃতি খাওয়াবার লোভ দেখিয়েছিলেন৷ সে লোভ ত্যাগ করা অসম্ভব৷ তাই উদরের সম্মান রক্ষার জন্যে প্রাণ হাতে করে বাসা ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল আজ, অটল, পটল আর নকুল৷

    অবশ্য কেউ যেন না মনে ভাবেন যে, আমরা অটল-পটল-নকুলকে উদর-পিশাচ বলে অভিহিত করতে চাইছি৷ মোটেই নয় মশাই, মোটেই নয়৷

    বন্ধুবর কেবল ভুঁড়ি-ভরা ভুরিভোজনেরই লোভ দেখাননি, সেইসঙ্গে এ লোভও দেখিয়েছিলেন, তাঁর বাড়িতে আজ রীতিমতো জলসার আয়োজন৷ আসর অলংকৃত করবেন দুম-তা-নানানা খাঁ, সা-রে-গা-মা সাহেব ও গিটকিরি মিঞা প্রমুখ গাইয়েরা এবং ধেড়ে-কেটে-তাক সিং ও দি-রি-দা-রা-দা-রা আলি প্রমুখ বাজিয়েরা৷ যাকে বলে আকর্ষণের উপরে আকর্ষণ- নৈবেদ্যের উপরে চূড়া-সন্দেশ৷

    আমাদের অটল-পটল-নকুল সংগীতকলার একান্ত ভক্ত৷ তুচ্ছ দু-চারটে বোমার ভয়ে এমন বিমল আনন্দকে ত্যাগ করবার ছেলে তারা নয়৷

    অটল বলল, ‘দুম-তা-নানানা খাঁ যখন তান ধরে তাল ঠোকেন, তখন পেশাদার পালোয়ানরা পর্যন্ত হতভম্ব হয়ে যায়! এমন গাইয়ে আর হবে না৷’

    পটল সন্দিগ্ধ কন্ঠে বলল, ‘আমরা পালোয়ান নই৷ তাকে সহ্য করতে পারব তো?’

    নকুল বলল, ‘দি-রি-দা-রা-দা-রা আলি যখন প্রিং প্রিং করে সেতার বাজান তখন সন্দেহ হয়, ঠিক যেন তিনি পট পট করে রাগ-রাগিণীর পাকা চুল উৎপাটন করছেন৷’

    পটল অভিভূত হয়ে বলল, ‘এর উপরে আর কথা চলে না৷’

    অতএব তিন বন্ধু যথাসময়ে হাজির হল যথাস্থানে৷ গানের আসর ভাঙল রাত বারোটায়৷ আহারের আসর দেড়টায়৷ তারা পথে যখন বেরোল ঘড়িতে বাজল রাত দুটো৷

    হোক গে অন্ধকার-তৃপ্ত উদর, চিত্তে আনন্দ৷ নকুল খানিক আগে শোনা একটি গান গাইতে গাইতে পথ চলছিল-

    ‘কানহা রে মেরে নাহি রে চুনহারিয়া৷’

    হঠাৎ টর্চের একটা তীব্র আলোকরেখা তাদের তিন জনেরই মুখের উপর দিয়ে খেলে গেল এবং তার পরেই জাগল ফিরিঙ্গি কন্ঠের একটা ক্রুদ্ধ গর্জন!

    সর্বাগ্রে ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারল নকুল৷ সে ভীতস্বরে বলল, ‘মার দৌড়!’

    তিন ধনুক থেকে নিক্ষিপ্ত তিন তিরের মতো তিন মূর্তি ছুটে চলল একদিকে৷

    সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল এক সার্জেন্ট এবং এক পাহারাওয়ালা৷ সার্জেন্ট চিৎকার করল, ‘পাকড়ো, পাকড়ো!’ (আসামি ভাগতা হ্যায়!)

    পাহারাওয়ালা ছুটল৷ সার্জেন্টও৷

    ব্যাপারটা এই৷ দিন দশেক আগেকার কথা৷ কলকাতার রাস্তার এক দেয়ালের গায়ে লেখা ; Commit no nuisance.

    অটল বেকায়দায় পড়ে বাধ্য হয়ে সেই নিষেধ বাক্য মানতে পারেনি৷ ঠিক সময়েই সার্জেন্টের আবির্ভাব৷ সে তাকে থানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয়৷ অটল বাধা দেয়, কারণ থানায় যাওয়া তার পক্ষে ছিল আপত্তিকর৷ সার্জেন্ট তাকে একটা ঘুসি মারে৷ অটল মারে তাকে দুটো ঘুসি৷ এবং পটল ও নকুল সার্জেন্টের উপর চালায় আরও গোটাকয়েক ঘুসি৷ সার্জেন্ট পপাতধরণীতলে৷ তিন বন্ধুর অন্তর্ধান!

    সার্জেন্ট এর মধ্যেই তাদের মুখ ভুলতে পারেনি৷ মণিহারা ফণীর মতো তার দুই চক্ষু ছিল সতর্ক৷ এমনই বোমা-ভয়-ভরা আঁধার রাতে কার গান গাইবার শখ হয়েছে, কৌতূহলী হয়ে তাই দেখবার জন্যে সে হাতের টর্চ ব্যবহার করেছিল৷ সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত তিন মূর্তিকে পুনরাবিষ্কার করে ফেলেছে৷

    হিংস্র জন্তুর চেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে যম৷ এবং যমের চেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে বাংলা দেশের পুলিশ৷ এই হচ্ছে তিন বন্ধুর মত৷

    অতএব পুলিশের কাছ থেকে যথাসম্ভব দূরে যাবার জন্য তিন বন্ধু কিছুমাত্র চেষ্টার ত্রুটি করল না৷

    নকুল জানে, প্রথম জীবনে স্পোর্টসের দৌড় প্রতিযোগিতায় বরাবরই সে প্রথম স্থান অধিকার করেছে৷ সুতরাং একটা গরুখোর সার্জেন্ট ও একটা ছাতুখোর পাহারাওয়ালা যে দৌড়ে তাকে হারাতে পারবে না এ বিষয়ে সে ছিল নিশ্চিত৷

    পটল সম্বন্ধেও সে হতাশ নয়৷ কারণ হচ্ছে, সে বাঁখারির মতো রোগা লিকলিকে৷ তাই তার নাম হয়েছে মানুষ-হাড়গিলে৷

    ভয় তার কেবল অটলকে নিয়ে৷ অটলকে তারা ডাকত নরহস্তী বলে এবং ওজনে সে দুই মণ সাড়ে আটত্রিশ সের৷ একবার তেতলার সিঁড়ি ভাঙলেই সে হুস হুস করে হাঁপ ছাড়ত পাঁচ মিনিট ধরে এবং আধ মাইল রাস্তা হাঁটতে হবে শুনলেই ট্যাক্সি ডাকতে বলত৷

    কিন্তু নকুলের দুশ্চিন্তা অমূলক৷ ভয় পেলে মহা মোটা হিপোপটেমাসও তার খুদে খুদে পা চালিয়ে দৌড়ে যে-কোনো মানুষকে হারিয়ে দিতে পারে৷ এবং ভয় পেয়ে পালাবার দরকার হলে যে-কোনো গুরুভার বাঙালিরও দেহ হয়ে যায় যে তুলোর মতন হালকা, আজ তার একটা চাক্ষুষ প্রমাণ পাওয়া গেল!

    ছুটতে ছুটতে নকুল বলল, ‘অটল পিছিয়ে পড়লে বাঁচবে না!’

    ছুটতে ছুটতে পটল বলল, ‘অটল, তোমাকে নিয়েই ভাবনা!’

    অটল কিছু বলল না, কিন্তু এক দৌড়ে বন্দুকের বুলেটের মতো বেগে পটল ও নকুলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল!

    পটল ও নকুল এখন পুলিশের কথা ভুলে প্রাণপণে অটলের নাগাল ধরবার চেষ্টা করতে লাগল-কিন্তু অসম্ভব, সে মাটি কাঁপিয়ে ধেয়ে চলেছে যেন ঝোড়ো হাতির মতো! পটল ও নকুল চমৎকৃত৷

    অটল ছুটছে, ছুটছে, ছুটছে৷ সে খালি ছুটছে না, নিজের দৃষ্টিকেও করে তুলেছে বিড়ালের মতো অন্ধকারভেদী! নইলে এই ব্ল্যাক আউটের রাতে কলকাতার শতবাধাময় পথে দৌড় প্রতিযোগিতার সফল মনোরথ হবার সম্ভাবনা অল্প৷ পিছনে ধাবমান পুলিশের দ্রুত পদশব্দ শুনতে শুনতে তারা ঢুকে পড়ল একটা গলির ভিতরে-প্রথমে অটল, তারপর নকুল, তারপর পটল৷

    ছুটতে ছুটতে অটল দেখল, একেবারে ঠিক তার সামনেই পথ জুড়ে শুয়ে আছে একটা বিরাট সাদা ষাঁড়ের দীর্ঘ ছায়া৷ তখন তাকে আর পাশ কাটাবার সময় নেই, অতএব অটল বিনা দ্বিধায় অমন বিপুল বপু নিয়েও একটা চমৎকার লং-জাম্প মেরে ষাঁড়টাকে পার হয়ে গেল অনায়াসেই৷ তারপর লাফাল নকুল৷ তারপর পটল৷

    সচমকে ঘুম ভেঙে গেল ষাঁড়ের৷ বিপুল বিস্ময়ে মুখ তুলে সে দেখল, তার দেহ ও মাথার উপর দিয়ে তিড়িং তিড়িং করে লাফ মেরে চলে গেল তিনটে মূর্তি! এমন কাণ্ড সে আর কখনো দেখেনি৷

    নিজের ষণ্ডবুদ্ধিতে ব্যাপারটা সে তলিয়ে বোঝবার চেষ্টা করছে, এমন সময় তার সুদীর্ঘ কর্ণে প্রবেশ করল আবার কাদের নতুন পায়ের শব্দ! সে আন্দাজ করল, এ দুরাত্মারাও হয়তো তার পবিত্র দেহের উপর দিয়ে লম্ফত্যাগ করবে৷ সে এমন অন্যায় আবদারকে আর প্রশ্রয় দিতে রাজি নয়৷ ঘৃণ্য ও তুচ্ছ মনুষ্যজাতীয় জীববৃন্দকে হার্ডল রেসে সাহায্য করবার জন্যে সে ষণ্ডজীবন ধারণ করেনি৷ অতএব ভীষণ এক গর্জন করে ধড়মড়িয়ে দণ্ডায়মান হল ষণ্ডপ্রবর৷ এবং পরমুহূর্তেই ফিরে, শিংওয়ালা মাথা নেড়ে, পতাকার মতো লাঙ্গুল ঊর্ধ্বে তুলে নতুন পদশব্দের উদ্দেশ্যে হল সতেজে ও সবেগে ধাবমান৷ মুখে তার ঘন ঘন ঘাঁৎ ঘাঁৎ হুংকার৷

    সেই ভীষণ মূর্তি দেখেই পাহারাওয়ালা ও ফিরিঙ্গিপুঙ্গবের চক্ষুস্থির! তারাও ফিরে অদৃশ্য হতে দেরি করল না৷

    পিছনের পাপ যে বিদায় হয়েছে, তিন বন্ধু তখনও তা টের পায়নি৷ তারা তখনও ছুটছে উল্কাবেগে৷

    হঠাৎ সামনে জাগল প্রায় ছয়-সাত হাত উঁচু প্রাচীর৷ কিন্তু কী ছার সেই বাধা, পুলিশকে ফাঁকি দেবার জন্যে তারা চীনের প্রাচীরও পার হতে প্রস্তুত৷

    অটল আজ যেন ইচ্ছে করলে পাখির মতো শূন্যে উড়তে পারে৷ লাফ মেরে সে উঠল প্রাচীরের টঙে এবং আর এক লাফে অদৃশ্য হল প্রাচীরের ওপারে৷ তারপর একে একে পটল ও নকুল করল তার অনুসরণ৷

    সেই বোমা-ভীত, অস্বাভাবিক স্তব্ধ রাতে যখন একটা সুচ পড়লেও দূর থেকে শোনা যায়, তখন নকুল ও পটল-বিশেষ করে অটলের মতো সুবৃহৎ দেহের ধুপ ধুপ ধুপ করে লম্ফত্যাগের শব্দ অন্য লোকের শ্রুতিগোচর হবে, তাতে আর সন্দেহ কী?

    প্রাচীরের উপর থেকে তিন বন্ধু লাফ মেরে অবতীর্ণ হল একটা অজানা বাড়ির অন্ধকার উঠানের উপরে৷

    তারা কিঞ্চিৎ হাঁপ ছাড়বার চেষ্টা করছে, হঠাৎ বিকটস্বরে চিৎকার হল-‘চোর, চোর, ডাকাত!’ সঙ্গে সঙ্গে বহু কন্ঠের গোলমাল ও ছুটোছুটির শব্দ৷ সর্বনাশ, এ যে তপ্ত কড়া থেকে জ্বলন্ত উনুনে!

    তিন বন্ধু আঁতকে আবার উঠল, আবার ছুটল৷ সামনেই একটা দরজা৷ ঠেলা মারতেই খুলে গেল, তারা একটা ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ল৷

    ওরে বাপ রে বাপ! সেখানে আবার একটিমাত্র মেয়ে-গলার ঘর-ফাটানো কী বিকট চিৎকার!

    ‘খুন করলে খুন করলে-ডাকাত খুন করলে গো!’

    অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, শোনা যায় কেবল চিৎকারের পর চিৎকার৷

    তিন বন্ধু সিকি সেকেন্ড থমকে দাঁড়াবারও অবসর পেল না৷ টাল খেতে খেতে আবার ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল . . .

    ওদিকে চারিদিক থেকে ছুটে এল বাড়ির পুরুষরা-চাকর-বাকর, দারোয়ান৷ তাড়াতাড়িতে হাতের কাছে যে যা পেয়েছে সংগ্রহ করে এনেছে-বঁটি, কাটারি, লাঠি৷

    বাড়ির কর্তা হন্তদন্ত হয়ে ঘটনাস্থলে এসে বললেন, ‘কই রে প্রমদা, কোথায় ডাকাত?’

    একটি আধাবয়সি মেয়ে ঘরের কোণ ছেড়ে এগিয়ে এসে বলল, ‘ওই যে দাদা, ওই যে আবার বেরিয়ে গেল গো৷’

    ‘কজন?’

    ‘এক কাঁড়ি লোক গো, এক কাঁড়ি লোক! কী সব রাক্ষুসে চেহারা, ইয়া গালপাট্টা, ইয়া গোঁফ, আর রং যেন কালি-মাখানো হাঁড়ি!’

    একটি যুবক বিরক্ত স্বরে বলল, ‘কী যে বল পিসিমা, তোমার কথার কোনো মানে হয় না!’

    প্রমদা কপালে দুই চোখ তুলে বলল, ‘ছেলের কথা শোনো একবার! দেখলাম এক কাঁড়ি আস্ত ডাকাত-তবু বলে, মানে হয় না!’

    যুবক বলল, ‘সত্যি কথাই বলছি পিসিমা! এই ঘুটঘুট করছে অন্ধকার, এর মধ্যেই তুমি দেখতে পেলে ডাকাতদের গায়ের রং কালো হাঁড়ির মতো, আর তাদের মুখে ইয়া গোঁফ আর ইয়া গালপাট্টা৷’

    প্রমদা বলল, ‘নিমে, তুই তো সেদিনকার ছেলে, তুই কী করে জানবি বল? আগুনের আঁচ কি চোখে দেখে বুঝতে হয়, গায়ে লাগলেই টের পাওয়া যায় যে! ডাকাতদের চেহারা অন্ধকারেও আন্দাজ করা যায় রে, অন্ধকারেও আন্দাজ করা যায়৷’

    কর্তা অধীরস্বরে বললেন, ‘চুলোয় যাক যত বাজে কথা৷ বলি ডাকাতগুলো গেল কোন দিকে?’

    প্রমদা বলল, ‘ওই দিকে দাদা, ওই দিকে!’

    কিন্তু সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনোদিকেই ডাকাতদের আর পাত্তা পাওয়া গেল না৷

    কর্তা আশ্বস্ত হয়ে বললেন, ‘যাক গে, আপদ গেছে৷ ব্যাটারা পালিয়েছে বলে আমি দুঃখিত নই৷’

    কর্তা আবার নিজের শয়নগৃহে এসে ঢুকলেন৷ তিনি বিপত্নীক৷ একলাই শয়ন করেন৷

    আলো নিভিয়ে তিনি খাটের উপর গিয়ে উঠলেন৷ তারপর শুয়ে নিদ্রাদেবীর আরাধনায় নিযুক্ত হলেন৷ কিন্তু মন যখন উত্তেজিত ঘুম সহজে আসে না৷

    -‘হ্যাঁচ্চো!’

    কর্তা সবিস্ময়ে ধড়মড় করে উঠে বসলেন৷ তাঁর ঘরে হেঁচে ফেলল কে?

    আবার-‘হ্যাঁচ্চো!’

    হাঁচির জন্ম খাটের তলায়, এটা বোঝা গেল৷ কিন্তু খাটের তলায় হাঁচি কেন বাবা? কর্তা তাড়াতাড়ি খাট থেকে নেমে পড়ে আলোর সুইচ টিপতে গেলেন৷

    এবার আর হাঁচি নয়, খাটের তলা থেকে নির্গত হল মানুষের কন্ঠস্বর৷

    কে বলল, ‘খবরদার!’

    কর্তা ম্রিয়মান কন্ঠে বললেন, ‘খবরদার বলছ কে, বাবা?’

    ‘আমি৷’

    ‘তুমি কে, বাবা?’

    ‘মনুষ্য৷’

    ‘অর্থাৎ ডাকাত?’

    ‘আমরা ডাকাত নই৷’

    ‘ও, তাহলে তোমরা যিশুখ্রিস্ট!’

    ‘আমরা যিশুখ্রিস্ট নই৷’

    ‘উত্তম৷ তোমাদের পরিচয় জানতে চাই না৷ কিন্তু দুনিয়ার এত জায়গা থাকতে এখানে কেন?’

    ‘পথ ভুলে৷’

    ‘ভুলটা বিস্ময়কর৷’

    ‘কিন্তু অসম্ভব নয়৷’

    ‘পথ ভুলে আমার খাটের তলায়? না বাপু, একথা জজে মানবে না৷’

    ‘খাটের তলা হচ্ছে অতি নিরাপদ ঠাঁই৷ খাসা আছি মশাই৷’

    ‘বুঝলাম৷ কিন্তু আমাকে কী করতে বলো?’

    ‘চ্যাঁচাবেন না৷ আলো জ্বালবেন না৷ আবার বিছানায় গিয়ে উঠে বসুন৷’

    ‘কথা যদি না শুনি?’

    ‘আমার কাছে ভোজালি আছে৷’

    আর একটা কন্ঠস্বর বলল, ‘আমার কাছে রিভলভার আছে৷’

    আর একটা কন্ঠস্বর বলল, ‘আমার কাছে বন্দুক আছে৷’

    ‘দেখছি, দলে তোমরা ভারী৷ কিন্তু আর কিছু সঙ্গে আননি? কামান-টামান?’

    ‘বিছানায় উঠলেন না? আবার ঠাট্টা হচ্ছে? আচ্ছা!’

    খাটের তলায় একাধিক ব্যক্তির হামাগুড়ি দেওয়ার শব্দ শোনা গেল৷

    ডাকাতরা বাইরে বেরিয়ে আসছে৷ কর্তা সুড়সুড় করে আবার খাটের উপরে গিয়ে উঠলেন বিনা বাক্যব্যয়ে৷

    ‘এইবার আমরা কী করব জানেন?’

    ‘আমার গলায় ছুরি দেবে?’

    ‘না৷ আপনার হাত-পা-মুখ বেঁধে ফেলব৷’

    ‘এত দয়া কেন?’

    ‘আমরা চাই না যে আপনি চ্যাঁচান বা আমাদের তাড়া করেন৷’

    ‘আমি কিছুই করব না, তোমরা নির্ভয়ে প্রস্থান করো৷’

    ‘আপনার কথায় বিশ্বাস নেই৷’

    ‘জয় গুরু!’

    ‘কী বললেন?’

    ‘জয় গুরু! বিপদে বা সমস্যায় পড়লেই-জয় গুরু বলা আমার স্বভাব৷’

    ‘আশ্চর্য! আমার মেসোমশায়েরও ঠিক ওই স্বভাব৷’

    ‘কার?’

    ‘আমার মেসোমশায়ের৷ আপনার গলার আওয়াজও তাঁর মতো৷’

    ‘আমার ভায়রা-ভাইয়ের ছেলের গলাও তোমার মতো৷ কিন্তু সে তো ডাকাত নয়৷’

    ‘আপনিও আমার মেসোমশায় নন৷ কারণ তাঁর বাসা বৌবাজারে৷’

    ‘কী বললে?’

    ‘এটা বৌবাজার হলে আপনাকেই আমার মেসো বলে সন্দেহ হত৷’

    ‘তোমার মেসোর নাম কী?’

    ‘চন্দ্রনাথ সেন৷’

    ‘বারে আমারও নাম ওই৷ আমিও বৌবাজারে থাকতাম, আজ দশ দিন হল এই নতুন বাসায় উঠে এসেছি৷’

    অটল ফস করে আলো জ্বালল৷

    কর্তা বললেন, ‘অটল!’

    অটল বলল, ‘মেসোমশাই!’

    অল্পক্ষণের স্তব্ধতা৷ কর্তা কঠিন কন্ঠে বললেন, ‘অটল, এ ব্যবসা কতদিন ধরেছ?’

    অটল কর্তার দুই পা জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমি ডাকাত নই মেসোমশাই, আগে আমার কথা শুনুন৷’

    অটল একে একে সব কথা খুলে বলল৷

    কর্তার অট্টহাস্যে খালি বাড়ি নয়, রাত্রির বুক পর্যন্ত যেন কাঁপতে লাগল-‘হো হো হো হো, হা হা হা হা! ওরে অটলা, আজ আমি হেসে হেসেই খাবি খাব রে! হি হি হি হি! ওরে প্রমদা, তোর গালপাট্টাওয়ালা কেলে হাঁড়ির মতন ডাকাতের মুখগুলো একবার দেখে যা রে! হো হো হো হো, হা হা হা হা হা হা . . .’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ভয় সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }