Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কিশোর সাহিত্য সম্ভার – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প666 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভীমে ডাকাতের বট

    এক

    বড়োদিনের ছুটিতে আমাদের বিশেষ বন্ধু অসিতের দেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম৷

    বিকালে শশা, নারিকেল, মুড়ি ও ফুলুরি প্রভৃতির থালা এবং চায়ের পেয়ালা টেবিলে সাজিয়ে নিয়ে বসে আমরা সবাই মিলে গল্প করছিলাম৷

    অসিত বিনয় জানিয়ে বলল, ‘পাড়াগেঁয়ে লাইট রিফ্রেসমেন্ট হয়তো পেট ভরলেও তোমাদের মন ভরবে না৷ কিন্তু কী করব ভাই, এখানে পেলেটি কি ভীমনাগের কোনো আত্মীয় বাস করে না৷’

    পরিতোষ টপ করে একখানা বড়ো কপির ফুলুরি মুখের গর্তে ফেলে দিয়ে বলল, ‘বহুত আচ্ছা! কলকাতায় যা পাওয়া যায়, পাড়াগাঁয়ে এসে আমরা তা চাই না! কিন্তু অসিত ভায়া, তুমি বোধ হয় ভুলে গিয়েছ যে, আমি দুনিয়ার আলো দেখেছি সেই পূর্ব বাংলায়, যেখানে কাঁচালঙ্কাকে মনে করা হয় মুড়ি ফুলুরির অলংকারের মতো৷ তুমি কাঁচালঙ্কাকে বয়কট করেছ কেন?’

    প্রিয়নাথ বলল, ‘যেহেতু আমরা বাঙাল নই৷’

    এবারে একখানা পেঁয়াজের বড়াকে চোখের নিমেষে উড়িয়ে দিয়ে পরিতোষ বলল, ‘তোমরা বাঙাল নও, কিন্তু তোমরা হচ্ছ বিখ্যাত ঘটিচোর৷ তাই লাল কাঁচালঙ্কা দেখলে লাল পাগড়ির কথা মনে করে ভয়ে তোমাদের বুক কাঁপে৷’

    শ্রীপতি দুই হাত আন্দোলন করে বলল, ‘বাঙাল আর ঘটিচোর! তোমরা দুজনে ক্ষান্ত হও! অকারণে গৃহবিবাদে দরকার নেই৷ তার চেয়ে অসিতের মুখ থেকে শোনা যাক, তার দেশে দ্রষ্টব্য আছে কী কী?’

    অসিত বলল, ‘এখানকার ধোঁয়া-ধুলোহীন আকাশ, মোটরের উৎপাতহীন মেঠো পথ, আর জনতার চিৎকারহীন প্রান্তরের মধ্যে তোমরা হয়তো দ্রষ্টব্য কিছুই খুঁজে পাবে না৷ তবে আমাদের খঞ্জনা নদীর ধারে গেলে তোমরা অনেক হাঁস শিকার করতে পারবে৷ ঘুঘু, স্নাইপ, আর চকাও পাওয়া যায়৷’

    প্রিয়নাথ বলল, ‘আমি হচ্ছি বৈষ্ণবকুলতিলক৷ জীবহিংসা আমার পক্ষে মহাপাপ৷’

    পরিতোষ বলল, ‘তুমি হচ্ছ ভণ্ড দি গ্রেট৷ আমাদের দলে তোমার চেয়ে মুরগিখোর আর কেউ নেই৷’

    প্রিয়নাথ বলল, ‘হতে পারে৷ মুরগি ভক্ষণ করা আর নিধন করা এক কথা নয়৷’

    শ্রীপতি বলল, ‘আহা-হা, আবার বাক্যযুদ্ধ কেন? প্রিয়নাথ কেন শিকারে যেতে চায় না, আমি তা জানি৷ বন্দুকের শব্দ শুনলে ওর পেটের অসুখ হয়৷ কিন্তু সে-কথা যাক৷ কী বলছিলে অসিত? এখানে দেখবার জায়গা কিছুই নেই?’

    অসিত একটু ভেবে বলল, ‘দেখো, এখানে একটি দেখবার বিষয় আছে বটে, কিন্তু তোমরা সেটাকে হয়তো হেসেই উড়িয়ে দেবে৷’

    আমি বললাম, ‘কেন?’

    ‘তোমরা হয়তো বলবে, সেটা মোটেই দ্রষ্টব্য নয়৷’

    ‘তবু সেটা কী শুনতে ইচ্ছা করি৷’

    ‘ভীমে ডাকাতের বট গাছ৷’

    ‘বট গাছ তো পথেঘাটে ছড়াছড়ি যায়৷ কিন্তু এ-বট গাছের নামটা ইন্টারেস্টিং বটে৷’

    ‘এর কাহিনিও কেবল ইন্টারেস্টিং নয়, থ্রিলিং৷’

    পরিতোষ বলল, ‘আরও দু-ডজন ফুলুরির অর্ডার দিয়ে কাহিনিটা তুমি আমাদের কাছে বলতে পার৷’

    ‘তথাস্তু৷’

    দুই

    অসিত বলতে লাগল :

    ‘নবাবি আমলের পর বাংলাদেশে তখন ইংরেজ রাজত্ব শুরু হয়েছে৷ খালি ইংরেজ নয়, দেশ জুড়ে তখন ঠগি, ডাকাত আর বোম্বেটেরাও রাজত্ব আরম্ভ করেছে৷ দূর দেশে যেতে হলে লোকে তখন প্রাণ হাতে করে পথে বেরোয়৷

    ‘সেই সময়েই এ-অঞ্চলে ভীমে ডাকাতের নামে সবাই হত থরহরি কম্পমান! তোমরা সবাই নিশ্চয় বিশে ডাকাতের নাম শুনেছ? বিশে ছিল অত্যাচারী ধনীর যম, কিন্তু গরিবের মা-বাপ৷ তাকে অনায়াসেই বিলিতি ডাকাত রবিন হুডের সঙ্গে তুলনা করা যায়৷ ডাকাত হলেও বিশের মধ্যে উদার মনুষ্যত্বের অভাব ছিল না৷

    ‘কিন্তু ভীমে ডাকাত ছিল সম্পূর্ণ উলটো ধরনের মানুষ৷ গরিব বা ধনী কারোকেই সে ছেড়ে দিত না৷ কেবল ডাকাতি নয়, নরহত্যাতেও ছিল তার উৎকট আনন্দ! শোনা যায় দু-এক আনা পয়সার জন্যেও সে অগুনতি মানুষ খুন করেছে৷ সাধারণ ডাকাতরা টাকা পেলে মিছেমিছি খুনখারাপি করে না৷ ভীমে কিন্তু আগে করত খুন, তারপর নিত টাকাকড়ি৷ যে-কালীকে পুজো করে ভীম ডাকাতি করতে বেরোত, সেই কালীমূর্তির গলায় আর কোমরে সে পরিয়ে দিয়েছিল আসল নরমুণ্ড ও কঙ্কালের মালা৷ কালীঠাকুরের হাতে সে নাকি প্রতি রাত্রেই নিত্যনতুন মানুষের রক্ত-মাখা কাঁচা মাথা ঝুলিয়ে দিত৷ বনের মধ্যে এক ভাঙা মন্দিরে সেই ডাকাতের কালী আজও বিরাজ করছেন, কিন্তু তার ভীষণ অলংকারগুলো অনেকদিন আগে খুলে নেওয়া হয়েছে৷

    ‘ভীমের চেহারাও ছিল নাকি ভয়াবহ৷ তার মতন লম্বা-চওড়া লোক কেউ কখনো দেখেনি, আর তার রংও ছিল মিশমিশে কালো৷ সেই মুখে তার টকটকে লাল চোখ দুটো জ্বলন্ত আগুনের ভাঁটার মতো৷ তার মূর্তি দেখলেই লোকে ভয়ে মূর্ছিত হয়ে পড়ত৷ ভীমে ডাকাতের অত্যাচারে এ-অঞ্চলে লোক চলাচল যখন বন্ধ হয়ে গেল, অনেকেই যখন দেশ ছেড়ে দেশান্তরে পালাতে লাগল, তখন এক সাহেব এল সিপাইদের নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করত৷

    ‘কয়েক মাস ধরে বহু চেষ্টার পর ভীমের দলের কয়েকজন ধরা পড়ল বটে, কিন্তু ভীমের পাত্তা পাওয়া ভার! বিপদ দেখলেই সে তার রণপায়ে চেপে হাওয়ার আগে উধাও হয়ে যেত! রণপা কী জানো? দুটো লম্বা বাঁশের লাঠি, তাতে আছে পা রাখবার জায়গা৷ এই রণপা ছিল বাংলার সেকেলে ডাকাতদের ভারি আদরের বস্তু, কারণ তার উপরে চড়ে তারা এক রাত্রেই পঞ্চাশ-ষাট মাইল পথ অনায়াসেই পার হয়ে যেতে পারত৷ রণপায়ে উঠে ভীমে যে কোথায় সরে পড়ত, তার খোঁজ আর কেউ পেত না৷

    ‘কিন্তু সাহেব ছিলেন মহা বুদ্ধিমান৷ একদিন ভীমে সদলবলে এক গ্রামে ডাকাতি করতে গিয়েছে, এমন সময়ে সাহেবও সেখানে এসে পড়লেন সদলবলে৷ সিপাইরা বন্দুক ছুড়লে, জনকয়েক ডাকাত মরল বা জখম হল, বেগতিক দেখে ভীমে রণপায়ে চড়ে লম্বা দিল, সাহেবও এবারে ঘোড়ায় চেপে তার পিছু নিলেন৷ কিছুদূর যেতে না যেতেই সাহেবের ঘোড়া গেল ভীমের রণপার কাছে হেরে৷ খানিক পরেই ভীমে ডাকাতের টিকিটি পর্যন্ত আর দেখা গেল না!

    ‘কিন্তু সাহেবের চোখ বড়ো সাফ৷ তিনি দেখলেন, ধূলিধূসরিত পথের উপর দিয়ে চলে গিয়েছে ভীমের রণপার দীর্ঘ রেখা! সেই চিহ্ন ধরে এগোতে লাগলেন৷ মাইল চার পরে রণপার চিহ্ন যেখানে শেষ হল সেখানে দেখা গেল যুগযুগান্তরের পুরোনো বিপুল এক বুড়ো বট গাছকে! তত বড়ো বট গাছ সহজে দেখা যায় না; তার গুঁড়ির বেড় প্রায় চব্বিশ-পঁচিশ হাত৷ সেই গুঁড়ি আর শত শত ঝুরির উপরে ভর দিয়ে এই একটিমাত্র বট গাছ অনেকখানি জায়গা জুড়ে ছোটোখাটো অরণ্যের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার মোটা মোটা প্রত্যেক ঝুরি এক-একটা আলাদা গাছের গুঁড়ির মতো শিকড় গেড়েছে মাটির ভিতরে৷

    ‘সাহেব আন্দাজ করলেন, ভীমে নিশ্চয় এই মস্ত গাছে চড়ে ঘন ডালপাতার আড়ালে কোথাও লুকিয়ে আছে৷ পিঠে বন্দুক বেঁধে তিনিও গাছে উঠলেন, কিন্তু বহুক্ষণ এ-ডালে ও-ডালে তন্নতন্ন করে খুঁজেও ভীমকে পাওয়া গেল না৷

    ‘হতাশ হয়ে সাহেব যখন মাটিতে নেমে পড়বার জোগাড় করছেন, তখন হঠাৎ দেখা গেল, বটের গুঁড়ির উপর দিয়ে ধোঁয়ার চক্র বেরিয়ে আসছে৷

    ‘অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে সাহেব আরও উপরে উঠে উঁকি মেরে দেখেন, বটের প্রকাণ্ড গুঁড়িটা একেবারে ফাঁপা, আর তার ভিতরে পরম আরামে বসে ভীমে ডাকাত আপন মনে হুঁকোয় দম মারছে!

    ‘তামাকখোর ভীমে সে-যাত্রা আর রক্ষে পেল না৷ এক ছিলিম তামাকের লোভেই সে নিজের প্রাণটা বিলিয়ে দিল৷ সেই বট গাছেরই এক ডালে তাকে গলায় ফাঁসি লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হল৷ কিন্তু মরবার সময়েও সে ভয় পেল না৷ দম্ভ করে বলল, ‘সাহেব, আমি আমার এ-আস্তানা ছেড়ে নড়ব না৷ ভূত হয়ে এখানেই রাজত্ব করব, এখানে যে আসবে, সে আর প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে না৷’

    ‘সেই ফাঁপা বট গাছই আজ ‘ভীমে ডাকাতের বট’ নামে বিখ্যাত৷ শত শত ঝুরির শিকড় দিয়ে রস টেনে কেবল বেঁচে নেই, আকারে আগেকার চেয়েও আরও বড়ো হয়ে উঠেছে৷ এ-অঞ্চলের প্রত্যেকেরই কাছে সে একটা দ্রষ্টব্য জিনিস হয়ে পড়েছে৷

    ‘কিন্তু রাতের বেলায় কেউ তার ত্রিসীমানায় যায় না৷

    ‘ঠাকুরদার মুখে শুনেছি, ভীমে ডাকাতের কথা পরীক্ষা করবার জন্যে, সেকালে কোনো কোনো অতি বড়ো ডানপিটে রাত্রে ওই বট গাছের কাছে গিয়েছিল৷ কিন্তু তারা কেউ আর ফিরে আসেনি, কোনোরকম চিহ্ন না রেখেই তারা একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে৷

    ‘আজ আর কেউ ভীমে ডাকাতের কথা পরীক্ষা করতে সাহস করে না, সেই বট গাছের চারিদিকের জমি আজ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে৷ জলাভূমির কাছে জ্যান্ত মানুষের বসবাস নেই, আছে কেবল মড়াদের রাজ্য-অর্থাৎ গোরস্থান!’

    অসিতের কাহিনি শেষ হলে পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তাহলে তোমাদের বিশ্বাস, রাত্রে সেই বট গাছের কাছে গেলেও আজ ভীমে ডাকাতের সঙ্গে আমাদের দেখা হবার সম্ভাবনা আছে?’

    ‘লোকে তো তাই বলে৷’

    ‘বট গাছটা এখান থেকে কত দূরে?’

    ‘চার মাইল৷’

    পরিতোষ বিপুল উৎসাহে বলে উঠল, ‘আজ দ্বাদশীর চাঁদ উঠবে আকাশে৷ তারই আলোতে আমরা ভীমে ডাকাতের সঙ্গে দেখা করব৷’

    অসিত বলল, ‘কিন্তু-‘

    শ্রীপতি বাধা দিয়ে বলল, ‘কিন্তুর নিকুচি করেছে৷ আমরা আজ হাতেনাতে প্রমাণ করতে চাই, সেকেলে গাঁজাখুরি উপকথা কোনো কালেই সত্য হয় না৷’

    কেবল প্রিয়নাথ আমতা আমতা করে বলল, ‘ওই বট গাছকে আমি থোড়াই কেয়ার করি৷ কিন্তু ওই যে গোরস্থানের কথা বললে, ওটা আমার ভালো লাগছে না৷’

    কিন্তু তার প্রতিবাদ আমরা কেউ আমলেও আনলাম না৷

    তিন

    শীতকালের কুয়াশায় আচ্ছন্ন চাঁদের আলো দেখলেই শনিগ্রস্ত বলে মনে হয়৷ একেবারে নির্জন পথ ঝিঁঝিঁর ডাকে শব্দময় ও বুনো পুষ্পপত্রে গন্ধময়৷ বহুদূর থেকে নিস্তব্ধ রাত্রির বক্ষ ভেদ করে মাঝে মাঝে ভেসে আসছে চলন্ত রেলগাড়ির আওয়াজ৷ এ আওয়াজ আগেও অনেকবার শুনেছি, কিন্তু শুনে মনে হল, ওই রেলগাড়িতে চড়ে যেন ইহলোকের যাত্রীরা চলেছে পরলোকের দিকে৷

    বন্ধুদের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম৷ তাদেরও শ্বাসপ্রশ্বাস হয়েছে দ্রুত, কারো মুখেই কোনো কথা নেই৷ মুখে কেউ মানি আর না মানি, আসন্ন কোনো অলৌকিক ভাবের প্রভাবে আমাদের সকলেরই মন আজ মোহগ্রস্ত!

    এখানে মানুষের শেষ আশ্রয় হচ্ছে সরকারি ডাকবাংলো৷ তাকেও পিছনে ফেলে মাইল খানেক এগিয়ে গেলাম৷

    তারপর একদিকে আঙুল দেখিয়ে অসিত চুপিচুপি বলল, ‘ওটা হচ্ছে গোরস্থান৷’

    মৃতের সেই মৌন জগতেও জীবন্ত ঝিঁঝিঁদের ভাঙা গলার অশ্রান্ত আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে৷ কী একটা কালো জন্তু আমাদের সাড়া পেয়ে তাড়াতাড়ি ছুটে একটা উঁচু কবরের আড়ালে পালিয়ে গেল৷ প্রিয়নাথ ছিল সব পেছনে, সে এগিয়ে সকলের মাঝখানে এসে দাঁড়াল৷ তার মুখের ভাব অস্বাভাবিক৷

    শ্রীপতি বলল, ‘কিন্তু সেই বুড়ো বট গাছটা কোথায়?’

    অসিত নীরবে অঙ্গুলি নির্দেশ করল৷

    একটা মস্ত বড়ো জলাভূমি দৃষ্টিসীমা জুড়ে ধু-ধু করছে এবং তারই উপরে পড়ে হিংস্র দাঁতের মতো চকচক করে জ্বলছে কুয়াশায় আধমরা চাঁদের আলো! জায়গায় জায়গায় কুয়াশা এত ঘন যে, তাকে ঠেলে চোখ চলে না৷ জলারই একপাশে পাহাড়ের মতো উঁচু প্রকাণ্ড একটা ঢিপির উপরে দাঁড়িয়ে আছে, শূন্যের অনেকটা পূর্ণ করে বিপুল সেই বট গাছটা৷ কেউ বলে না দিলে আমরা তাকে অরণ্য বলেই ধরে নিতাম৷ আবছায়া মাখা রহস্যময় জ্যোৎস্নায় বৃদ্ধ বটের ডালপালা শীতার্ত হাওয়ায় কাঁপতে কাঁপতে সজোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে এবং তার তলায় জমে আছে বিরাট ও নিরেট একটানা অন্ধকার৷

    প্রিয়নাথ অর্ধস্ফুট স্বরে বলল, ‘ওগুলো কী? ওগুলো? ওই যে, নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে? কী ওগুলো?’

    শ্রীপতি বলল, ‘আলেয়া৷’

    প্রিয়নাথ বলল, ‘আমার মনে হচ্ছে, যাদের দেখা যায় না তারা ওই জলার ভিতরে আগুনের ফুটবল নিয়ে ওয়াটার পোলো খেলছে৷’

    মনে মনে ভাবছি, এ স্থানটা গোরস্থানের চেয়েও স্তব্ধ, কারণ এখানে ঝিঁঝিঁরাও ডাকছে না! কিন্তু ঠিক সেইসময় নানা শব্দে চতুর্দিক হঠাৎ জাগ্রত হয়ে উঠল! প্রথমে চিৎকার করে উঠল বিকট স্বরে একপাল শেয়াল, তারপরই কোথা থেকে চ্যাঁচাতে লাগল তিন-চারটে প্যাঁচা এবং তারপরই শুনতে পেলাম মাথার উপর একদল বাদুড়ের ডানার ঝটপট শব্দ-যেন কী দেখে ভয় পেয়ে তারা প্রাণপণে উড়ে পালিয়ে যাচ্ছে৷

    প্রিয়নাথ সচকিত কন্ঠে বলল, ‘ওহে, এখানে দাঁড়িয়ে মিছেমিছি হিম লাগিয়ে আর শীতে কেঁপে কী হবে? এবার ফেরা যাক, আর নয়!’

    পরিতোষ ঠাট্টা করে বলল, ‘কী হে অসিত, তোমার ভীমে ডাকাত কোথায়?’

    শ্রীপতি বলল, ‘ভীমে ডাকাত আজ বোধ হয় নরকের দরজা খোলা পায়নি!’

    আচম্বিতে একটা বরফের মতো ঠান্ডা কনকনে হাওয়ার ঝটকা উঠল এবং সঙ্গে সঙ্গে আলেয়াদের দলে যেন একটা হুড়োহুড়ি পড়ে গেল-কাকে দেখে তারা যেন দু-ভাগে ভাগ হয়ে পথ ছেড়ে দিয়ে সরে সরে যাচ্ছে!

    প্রিয়নাথ কাঁদো কাঁদো গলায় হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘কুয়াশার একটা মেঘ আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে! ওর পিছনে কী আছে, কে জানে!’

    পরিতোষ চিৎকার করে বলল, ‘কোথায় ওহে ভীমে ডাকাত! দয়া করে একবার দেখা দাও!’

    সেই মুহূর্তে শুনতে পেলাম, জলার জলে ছপছপ ছপছপ করে কীসের শব্দ উঠল৷

    দুই চোখ পাকিয়ে অসিত ক্ষীণ স্বরে বলল, ‘মনে হচ্ছে কে যেন রণপায়ে চড়ে জলা পেরিয়ে আমাদের দিকেই আসছে!’

    আড়ষ্টভাবে অবরুদ্ধ কন্ঠে শ্রীপতি বলল, ‘কোথায় রণপা? . . . কোথায় কে?’-তার স্বরে এখন কিন্তু আর কৌতুকের ভাব ছিল না৷

    আমি দুর্বল স্বরে বললাম, ‘কেবল একটা শব্দ শোনা যাচ্ছে, আর একখানা ঘন কুয়াশার মেঘ হুহু করে এগিয়ে আসছে!’

    প্রিয়নাথ হঠাৎ বিকট ও বিশ্রী এক চিৎকার করে পাগলের মতো দৌড় মারল! সে অমনভাবে চেঁচিয়ে না পালালে আমরা কী করতাম জানি না, কিন্তু ভয় হচ্ছে এমন সংক্রামক যে, দিগবিদিক জ্ঞান হারিয়ে আমরাও ছুটতে লাগলাম প্রিয়নাথের সঙ্গে সঙ্গে!

    গোরস্থান ছাড়িয়ে মিনিট পাঁচেক ছোটবার পর আমরা আবার দাঁড়িয়ে পড়লাম৷

    পরিতোষ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘ঘটি, তুমি হঠাৎ পালিয়ে এমন ভয় দেখালে কেন?’

    প্রিয়নাথ হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘বাঙাল, তোমাকে তো আমার পিছু নিতে বলিনি, তুমি পালালে কেন?’

    পরিতোষ কী জবাব দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ অত্যন্ত শিউরে উঠে থেমে গিয়ে আমার দৌড় মারবার উপক্রম করল! আমরাও আড়ষ্ট হয়ে শুনতে পেলাম, আমাদের পিছনে পথের উপরে জেগে উঠেছে, ছুটন্ত ঘোড়ার খুরের খটমট খটমট শব্দ!

    শ্রীপতি সভয়ে বলল, ‘রণপার শব্দ কি ঘোড়ার পায়ের শব্দের মতো?’

    কিন্তু কেউ তার প্রশ্নের উত্তর দিল না, কারণ তখন আমরা সকলেই ঘোড়দৌড়ের ঘোড়ার চেয়েও দ্রুতবেগে আবার ছুটতে শুরু করেছি৷ পিছনের শব্দও যত এগিয়ে আসে, আমরাও তত বেশি পা চালাতে থাকি-এ যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে ভীরু জীবনের দৌড়ের পাল্লা৷

    এবারে একেবারে এসে থামলাম ডাকবাংলোর সীমানার মধ্যে৷ আমাদের দমাদ্দম পদাঘাতে বাংলোর দরজা ভেঙে পড়ে আর কী! রক্ষী দরজা খুলে দিয়ে বিস্মিত স্বরে বলল, ‘কী হয়েছে বাবু, কী হয়েছে?’

    আমি বললাম, ‘কিছু হয়নি৷ আজ রাত্রে আমরা এখানে থাকব৷’

    একটা ঘরে ঢুকে যে যেখানে পারলাম হাত-পা এলিয়ে বসে পড়লাম৷

    বাইরের স্তব্ধ পথের উপরে আবার সেই ভয়াবহ ঘোড়ার পায়ের শব্দ শোনা গেল৷ বেশ বুঝলাম শব্দটা বাংলোর সীমানার মধ্যে এসে থামল৷

    আমার হৃৎপিণ্ড বুকের ভিতরে ছটফট করে লাফাতে লাগল!

    রক্ষী আবার দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেখে পরিতোষ ছুটে গিয়ে তাকে চেপে ধরে উন্মত্তের মতো বলে উঠল, ‘খবরদার, দরজা খুলে দিয়ো না৷’

    রক্ষী আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘দরজা খুলে দেব না কী বাবু? আজ যে এখানে পুলিশসাহেবের আসবার কথা আছে৷’

    চার

    ঘোড়া থেকে নেমে পুলিশসাহেবই বাংলোর ভিতরে প্রবেশ করলেন৷

    আমরা বোকা এবং বোবার মতো পরস্পরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলাম৷

    খানিক পরে পরিতোষ বলল, ‘ওই কাপুরুষ প্রিয়নাথই যত নষ্টের গোড়া!’

    প্রিয়নাথ বলল, ‘জলায় যাবার রাস্তা খোলাই আছে৷ তুমি আবার সেখানে গেলে আমি বারণ করব না৷’

    অসিত বলল, ‘হতে পারে, পথ দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে পুলিশসাহেবই আসছিলেন৷ কিন্তু জলার জলে যে ছপছপ করে শব্দ হচ্ছিল সেটা কীসের শব্দ?’

    শ্রীপতি বলল, ‘হয়তো কোনো জন্তু সাঁতরে জলা পার হচ্ছিল৷ আমরা রজ্জুতে সর্পভ্রম করেছি, কাল আমরা আবার এই বট গাছ দেখতে আসব৷’

    কিন্তু যাঁরা এই কাহিনি শুনছেন তাঁদের কানে কানে আমি জানিয়ে রাখছি যে, পরদিনের সন্ধ্যায় বট গাছ দেখতে আসবার কথা আমরা সকলেই আশ্চর্যরূপে ভুলে গিয়েছিলাম৷ আজও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সেই ছপছপ শব্দ শুনি আর গলদঘর্ম হয়ে জেগে উঠি৷ আজও মনে মনে প্রশ্ন জাগে, সে শব্দটা কীসের?

    তোমরা কেউ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পার?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article ভয় সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }