Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

    August 29, 2025

    অদ্বৈতপ্রকাশ – ঈশান নাগর

    August 29, 2025

    পৃথিবীর ইতিহাস – দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    August 29, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • 🔖
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    Subscribe
    সাইন ইন
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1956 Mins Read0

    কীর্তিহাটের কড়চা – ১.৮

    ৮

    এরপরই মিটে গিয়েছিল সব। তবে শ্রাদ্ধে আসে নি বা অশৌচান্তে কামায় নি কেবল ধনেশ্বর। সে বলেছিল—না।

    সে না-কে হ্যাঁ করানো যায় নি। তবে কোন গণ্ডগোলও করে নি। শিবেশ্বর তাকে কঠিন শাসন করেছিলেন। আর একজন কামায়নি—কামায়নি নয়—তাকে পাওয়া যায় নি সে সময়। সে ধনেশ্বরের তৃতীয় ছেলে গোপেশ্বর। সে নাকি একটু অসুস্থ-মস্তিষ্ক। দৈত্যের মত চেহারা। চৌদ্দ বছরের ছেলেকে মনে হয় আঠারো বছরের জোয়ান। আপন খেয়ালে চলে। মধ্যে মধ্যে চলে যায়, দুদিন-তিনদিন পর ফেরে।

    কীর্তিহাটে এক মাসের উপর থেকে প্রথম মাসিক শ্রাদ্ধ সেরে কলকাতায় ফিরেছিল এবং ষষ্ঠ মাসে গিয়ে সপিণ্ডীকরণ শেষ করে সমারোহ করে শ্রাদ্ধ করে এসেছিল। তার সঙ্গে সে বিচিত্র মন নিয়ে এসেছিল।

    গ্রামের মানুষদের দেখে দুঃখ হয়েছিল, ঘৃণাও হয়েছিল।

    এদের দুঃখ দারিদ্র্য যত, নীচতা হীনতাও তত। অথবা তার থেকেও বেশী। একবিন্দু প্রেম বা এতটুকু শ্রদ্ধা বা ভালবাসার মত এক কণা পরিমিত সম্বলও সে পায় নি। কি লোভ! কি গোগ্রাসে আহার! সব থেকে বেশী খেয়েছিল রায়বংশের ছেলে ওই গোপেশ্বর। এবার সুরেশ্বর তাকে দেখেছিল। কথায় জড়তা। প্রকাণ্ড দেহ, ফর্সা রং। কটা চুল। কটা চোখ। অসুস্থ দৃষ্টি। ছেলেটি খেতে বসে দানবের মত খেয়েছিল। তারপর আর গোপেশ্বরকে দেখেনি। শুনেছিল তার মাথা গরম হয়েছে বলে তাকে ঘরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গভীর রাত্রে সে বীভৎস চীৎকার করত। সে চীৎকার সে শুনেছিল।

    ঐখানকার ব্রাহ্মণেরাও চুরি করে; তার পিতৃশ্রাদ্ধে তারা লুচি মিষ্টি চুরি করলে; সে দেখলে। এবং পরস্পরের মধ্যে কুৎসিত কলহ করলে। সব থেকে খারাপ লাগল তার মেজঠাকুমা পর্যন্ত বালতিতে ভরে মিষ্টি নিয়ে গেলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে চোখে পড়ল তারই। মেজঠাকুমা অপ্রতিভ হলেন না, হেসে বললেন, নিয়ে যাচ্ছি ভাই। কলকাতার কাঁচা সন্দেশ তোমার ঠাকুরদা খেতে ভালবাসেন। চোখে পড়ল কাঙ্গালী বিদায়ে ব্রাত্য দরিদ্রেরা এল দলে দলে, এখানকার রায়বাড়ীর ছেলেরা থেকে অন্য ভদ্রবাড়ীর ছেলেরা এমন কি ওদেরই স্তরের যারা পাইক পেয়াদার কাজ করে তারা তাদের যুবতী মেয়েগুলোকে নিয়ে সামান্য স্বাদু খাদ্যমূল্যে ছিনিমিনি খেললে। নদীর ওপারে গোয়ানপাড়া—ওই ডিকুরজদের বাড়ী—তারা লুঙ্গি পরে, পাজামা পরে, মেয়েরা সেমিজের মত ঢিলে জামা পড়ে বেড়ায়—তারা কাঙ্গালী খেতে আসেনি। কিন্তু এই দাঁড়িয়ে দেখলে আর ফিক ফিক করে। হাসলে। মেয়েগুলোকে দেখেই যেন মনে হয় এরা স্বৈরিণী। এখানকার মুসলমানরাও আসেনি। এদের দুই সম্প্রদায়কে সিধে দেবার ব্যবস্থা করেছিলেন তার মা।

    এখানকার ইস্কুলের হেডমাস্টার এসে তার কাছে হেঁট হয়ে নমস্কার করে ভিক্ষুকের মত কথা বললেন। তার কারণ ইস্কুলে পাঁচ হাজার টাকা দান করা হয়েছিল। তিনি হাতজোড় করে বললেন তার মাকে, স্কুলের ম্যাট্রিক উত্তীর্ণ ছাত্রদের মধ্যে যে প্রথম হবে তাকে এক বৎসরের জন্য মাসিক একটা বৃত্তি বাবার নামে দেবার জন্য।

    চ্যারিটেবল ডিসপেনসারির ডাক্তার এলেন ডাক্তারখানা মেরামতের জন্য ভিক্ষা করতে। তিনি আক্ষেপ করে বললেন-এই ডাক্তারখানার যে সব যন্ত্রপাতি ছিল সে সব দেখে মিস্টার লামবোর্ন বলে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট উনিশশো আট সালে লিখেছিলেন এসব ইকুইপমেন্ট সাব ডিভিশনাল হাসপাতালেও নেই। তার আর কিছু নেই। ডাক্তার এখানে থাকে না। কারণ বিনা ফিয়ে গোটা মেজ তরফকে দেখতে হয়। ডাক্তারখানা থেকে তাদের ওষুধ আগে আসে। ভাল ওষুধ অন্য পেশেন্টদের দিতে নিষেধ আছে সুখেশ্বরবাবুর।

    সুরেশ্বর ছিল নীরব শ্রোতা। তার অন্তরলোকে এসবের প্রতিটি বিচিত্র সংবাদ জ্বলন্ত অঙ্গারস্তূপে দাহ্যবস্তুর মত নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল।

    ফলে সে ফিরে এল জ্বলতে জ্বলতে।

    শুধু রায়বংশ নয়, গোটা গ্রাম—হয়তো গোটা দেশের উপর অবজ্ঞা এবং ঘৃণা নিয়ে। কলকাতায় তখন সে কলেজে ভর্তি হয়েছে। সেন্টজেভিয়ার্স কলেজে। ম্যাট্রিক পাশ সে সেবার করেছিল। কীর্তিহাট থেকে ফিরে সে আর কলেজে যায়নি—গিয়ে উঠেছিল প্রভিন্সিয়াল কংগ্রেস আপিসে। এ রাজত্ব এ দেশ এ সমাজে বিপ্লবের আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে হবে। এ রাজত্ব এ দেশ এ সমাজে বিপ্লবের আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ছারখার ক’রে দিতে হবে। তখন ১৯৩০ সাল এসে পড়েছে।

    মা বাধা দিয়েছিলেন। সে শোনে নি। একদিন মাকে না বলেই চলে গিয়েছিল মেদিনীপুর লবণ সত্যাগ্রহে। সেখান থেকে খবর এসেছিল—তার এক বছর জেল হয়েছে। কিন্তু এখানেও সে শান্তি বা স্বস্তি পায় নি। তখন জেলের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দীদের ভিতর জটিল দলাদলির ফলে কুৎসিত ষড়যন্ত্র চলছে। তাছাড়া সাধারণ সত্যাগ্রহীদের সে যেন এক অসহনশীল উন্মত্ততা চলছে। এ-দল ও-দলের লোককে বলে স্পাই। ও-দল বলে এ-দলের লোককে।

    রাত্রে সারারাত্রি জলের ড্রাম আর থালাবাটী পিটে ব্যান্ড বাজায়, বিশ-পঁচিশ জনে মিলে চীৎকার করে বেসুরে অসুরের মত গান করার নামে তাণ্ডব করে। তার বিছানার পাশের দেওয়ালটায় চারজন নস্য নিয়ে নাক ঝেড়ে ময়লা করে। সে প্রতিবাদ করায় তার নামে রটে গেল—সে স্পাই। তার সহ্য হল না। সে সেইদিনই জেলারের কাছে এসে জানালে যে সে সুপারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। সুপারের সঙ্গে দেখা হল এবং সে তাঁকে বললে—যে সে সত্যাগ্রহ করে এখন অনুতপ্ত। সে আর করবে না এই বন্ড দিয়ে মুক্তি পেতে চায়। তখন তার এক বছর মেয়াদের মধ্যে ন-মাস গেছে। জেল নিয়মে রেমিশন পেয়ে মেয়াদ প্রায় এক মাস কম হয়ে যাবে। সুতরাং সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিস্মিত হলেন। বললেন—ভাল ক’রে ভেবে দেখেছেন?

    —দেখেছি।

    —আরও দুদিন ভাবুন।

    —না। তারপর বলেছিল- আর না হয় দয়া করে আমাকে সেলে থাকবার ব্যবস্থা করে দিন, না-হলে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে।

    —বেশ, লিখুন।

    দরখাস্ত লিখে সে জেল-সুপারিন্টেন্ডেন্টের কাছে দিয়ে চলে আসছিল। সুপার ডেকে বলেছিলেন—শুনুন।

    —কি বলুন?

    —আপনি বসুন। এখন থেকেই আপনি সেলে থাকবেন। আমি অর্ডার করে দিচ্ছি। সে যেন বেঁচে গিয়েছিল।

    তাহাই ছিল। এবং বাকী মেয়াদের কালটা সেলের একটা দেওয়াল কয়লা দিয়ে ছবি এঁকে ভরিয়ে দিয়েছিল। এবং মাস দেড়েক পর খালাস পেয়ে জেল-গেট থেকে বেরিয়ে এসে যেন মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলে বেঁচেছিল। কিন্তু এর জন্যে তার স্পাই অপবাদ এমন সোচ্চার হয়ে উঠেছিল যে সেটা জেলের ভিতরেই আবদ্ধ ছিল না, বাইরেও ছড়িয়েছিল।

    ছিল মফঃস্বলে—মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে। মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় বাড়ী পৌঁছে দেখেছিল, মা বিছানায় শুয়েছেন। তাঁর অসুখ হয়েছে মাসখানেক। নায়েব ম্যানেজার খবর দিতে চেয়েছিল, কিন্তু হেমলতা খবর দিতে দেননি। ডাক্তার বলেছেন—হার্ট উইক হয়েছে। তার জেলে যাওয়ার অনুশোচনা যেন বেড়ে গিয়েছিল। সেইদিনই সে স্টেটসম্যান আপিসে গিয়ে পিতৃপরিচয় দিয়ে এডিটর ওয়াটসাহেবের সঙ্গে দেখা করে একখানি চিঠি দিয়েছিল ছাপতে। নাম দিয়েছিল—বিদায় সত্যাগ্রহ। তাতে সে লিখেছিল-সে অনুতপ্ত। চিঠিখানা সারা দেশে একটা প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।

    তার মা দুঃখ পেয়েছিলেন সে জেলে যাওয়ায়, কিন্তু এই পত্রের জন্য তার চেয়েও বেশী দুঃখ পেলেন। বললেন—তুই এ কি লিখলি? তোর লজ্জা হল না?

    সে বললে—না।

    শঙ্কিত হলেন হেমলতা। মনে হল যেন ওর পিছন থেকে যোগেশ্বর ওকে প্রম্পট করেছেন।

    সে বললে, পরাধীনতা আমার নিজের পক্ষে অসহ্য বলেই দেশকে স্বাধীন করতে চাই। আমার যে মাথা অন্যের কাছে নিচু হয়ে আছে—সে মাথাকে তাদের সঙ্গে সমান উঁচু করবার জন্যেই আমি লড়াই করি। কিন্তু সেই লড়াই করে যদি আমার থেকে নিচু যারা তাদের কাছে মাথা নিচু করতে হয় তা হলে সে লড়াই যে আমার মাথায় পাথর মারার সমান হয় মা। দেশের জন্যে আত্মবলিদান আত্মার মুক্তির জন্য, তার অপমান অসম্মানের জন্য নয়। আমার নামে অপবাদ রটনা করেছিল—আমি স্পাই। আমার সহ্য হ’ল না।

    মা কিছু আর বলেননি। পাশ ফিরে শুয়েছিলেন।

    সুরেশ্বর কিছুদিন ছবি আঁকা নিয়ে পড়েছিল। নন্দলালের রেখা—যামিনী রায়ের পট-পদ্ধতি সব ছেড়ে সে নিজের খুশিমত ছবি আঁকতে লাগল। তার সঙ্গে এস্রাজ বেহালা। যেগুলো তার বাবা কিনেছিলেন সেগুলো নিয়ে নিজেই বাজাতে আরম্ভ করলে। এ না-করে তার উপায় ছিল না। সে তখন চিহ্নিত হয়ে গেছে ইংরেজের কাগজের অনুগত সাংবাদিক যোগেশ্বর রায়ের পুত্র হিসেবে। লোকে বলছে—জে রায়ের ছেলে তো সে, ঘরে ঢুকল।

    ঘরের মধ্যে ছবি আঁকতে আঁকতেও সে বুঝতে পারলে, সে শুধু সাধারণের কাছেই নয়, নিজের কাছেও অপরাধী হয়ে গেছে। এমনটা হবে সে ঠিক বুঝতে পারে নি। অর্থাৎ জেলে সেলে থাকা এবং বেরিয়ে এসে এই পত্র ছাপার ফল এমন হবে। বার বার সে চেষ্টা করলে শক্ত হবার, মনকে কঠিন করে মাথা উঁচু করে বাইরে বের হবার, কিন্তু সে তা পারলে না।

    তখন বাংলাদেশে যেন একটা আগুন নিয়ে খেলার যুগ এসেছে। একটার পর একটা বিস্ফোরণ হচ্ছে। চট্টগ্রামে যে খেলার শুরু হয়েছিল তা যেন শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। দেশব্যাপী হয়ে জ্বলে উঠবার মত উত্তাপকে নেভাতে ইংরেজের সমস্ত শক্তি যেন হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পারবে না।

    সে ঘরে বসে গ্রামোফোনে রেকর্ড চাপিয়ে এস্রাজে ছড়ি টেনে সুরে সুর মেলাচ্ছিল। সন্ধে হয়ে আসছে। হঠাৎ কাগজের স্পেশাল নিয়ে হকার চেঁচিয়ে যাচ্ছিল।—লাটসাহেবকে গুলি। লাটসাহেবকে গুলি। মেয়েছেলে গুলি করলে—

    সে স্পেশালের হাঁক শুনে বারান্দায় বেরিয়েছিল। খবরটা শুনে চমকে উঠল। বুকখানা যেন ধড়াস করে লাফিয়ে উঠে থেমে যেতে চাইল। কিন্তু থামল না মাথা কুটে চলল।

    উনিশশো বত্রিশ সাল—৬ই ফেব্রুয়ারী। সেনেট হলে কনভোকেশনের আসরে বীণা দাস গভর্নর জ্যাকসনকে রিভলভার দিয়ে গুলি ছুঁড়েছে। গভর্নর মাথা সরিয়ে নিয়ে বেঁচেছেন। কর্নেল সুরাবর্দী বীণা দাসকে গলা টিপে ধ’রে অ্যারেস্ট করেছেন।

    এরপর একের পর এক।

    স্টেটসম্যানের সম্পাদক ওয়াটসনের উপর দুবার আক্রমণ হল। চট্টগ্রামে প্রীতিলতা ওয়েদেদার পাহাড়তলীর ইয়োরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণ করে মরণখেলা খেলে নিজে পটাসিয়াম সাইনাইড খেলেন। ডালহৌসি স্কোয়ার বম কেস হল। টেগার্ট বাঁচল। কিন্তু এদেশে থাকতে সাহস তার আর হল না। সে চলে গেল, পালাল। ওয়াটসন সাহেবও পালাল। ১৯৩৩ সালে ১২ই জানুয়ারী চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলের প্রাণপুরুষ সূর্য সেনের ফাঁসি হয়ে গেল।

    সুরেশ্বর নিঃসঙ্গ হয়ে দীর্ঘদিন ঘরের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। ছবিও আঁকলে না। শুধু বাজনাটাই বাজাত। আর ভাবত—সে অপরাধ করেছে? ভুল করেছে?

    একে অস্বীকার করে মাথা সে তুলতে পারত না।

    হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটল।

    তাতেই যেন জীবনের সব লজ্জা ভাসিয়ে দিয়ে নির্লজ্জের মত মুখ তুলে বক্রহাস্য করলে। না। নির্লজ্জের মত ঠিক নয়। কঠিন ক্রোধে সে ক্রুদ্ধ হয়ে সমস্তকে উপেক্ষা ক’রে দিলে একমুহূর্তে। অহিংস আন্দোলন সত্যাগ্রহের নামে অট্টহাস্য করতে ইচ্ছে হল তার। আর এই সশস্ত্র বিপ্লবীদের আত্মদান—? এ মহৎ না ব’লে উপায় নেই তার। কিন্তু এর ফলে যারা একদিন এদেশে আধিপত্য বিস্তার করবে-তারা? তারাও কি আজকের এদের মতন থাকবে? সে তাকালে তার পূর্বপুরুষ রায়বাহাদুর রত্নেশ্বর রায়ের ছবির দিকে। তারপর তাকালে আয়নার দিকে। যেখানে তার নিজের ছবি ফুটে উঠেছিল। এই হয়। হাসলে সে আবার। মনে যেন জোর পেয়েছে।

    হঠাৎ একদিন কীর্তিহাট থেকে সংবাদ এল—একদিনে কীর্তিহাটের মেজতরফে বিপর্যয় ঘটে গেছে। শিবেশ্বর ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার আগে তাঁর সেজছেলে সুখেশ্বর খুন হয়েছে। খুন করেছে ধনেশ্বরের তৃতীয় ছেলে গোপেশ্বর।

    মনে পড়ল গোপেশ্বরকে। গভীর রাত্রে কিন্তু তার চিৎকার শুনেছিল সুরেশ্বর, ক্রুদ্ধ জন্তুর মতো চিৎকার। তাকে বেঁধে ঘরে বন্ধ করে রেখেছিল তার অভিভাবকেরা। সেই গোপেশ্বর খুন করেছে সুখেশ্বরকে।

    হেমলতা ম্যানেজার হরচন্দ্রকে পাঠিয়েছিলেন। সুরেশ্বরকে যেতে বলেছিলেন, সে বলেছিল- না। হরচন্দ্র ফিরে এসে যে বিবরণ দিয়েছিলেন তাতে হেমলতা শিউরে উঠেছিলেন। সুরেশ্বর প্রথমটা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। অনেকক্ষণ পর তার মুখে ফুটে উঠেছিল একটি বাঁকা রেখায় অতি তিক্ত হাসি। সে হাসি তিক্ততার, সে হাসি ঘৃণার

    বিবরণ শুনে যে কোন লোকের মুখেই এই হাসি ফুটবে সন্দেহ এতে নেই। ওই গোপেশ্বর ছেলেটি তার বাল্যকাল থেকেই দানবের মত অতিকায়। তার চরিত্রের দানবিক প্রকৃতির প্রথম প্রকাশ হয়েছিল আহারে। পরিমাণে তো প্রচুর খেতই তার উপর ছিল তার কেড়ে খাওয়া স্বভাব। চুরি করে খাওয়া স্বভাব। ক্ষুধায় সে জন্তুর মত ক্রুদ্ধ চিৎকর করত। অন্যের পাত্র থেকে কেড়ে খেয়ে নিতো। রায়বাড়ীর দেবতার ভোগের উপরেও মধ্যে মধ্যে ডাকাতের মতো ঝাঁপ দিয়ে পড়ত।

    বাপ ধনেশ্বর কালীসাধক—তার বিশ্বাস ছিল ছেলে সিদ্ধপুরুষ হবে। সিদ্ধপুরুষ সাধকদের বাল্য আচরণ শোনা যায়-তার সঙ্গে নাকি মিল দেখতে পেত। ক্রমে কৈশোরে আর এক চেহারা দেখা দিল। সে বলির পাঁঠার সদ্যছিন্ন কণ্ঠ থেকে ফিনকি দিয়ে ঝরা রক্ত অঞ্জলি ভরে নিয়ে চুমুক দিত। রায়বাড়ীর আলসের ফাঁকে ফাঁকে বাস ছিল পাঁচ সাতশো পায়রার। এই পায়রা ধরে সে পুড়িয়ে মহানন্দে বিনা লবণেই খেতো। মধ্যে মধ্যে চলে যেত চাষীদের তরমুজ ফুটির ক্ষেতে। সেখানে তাই গোগ্রাসে খেয়ে গাছতলাতেই পড়ে থাকত। তারপর আজ বছরখানেক থেকে তার নতুন ব্যাধি দেখা দিয়েছিল। কামার্ততার ব্যাধি। প্রথম সে পশুর পিছনে ফিরেছে, তারপর নারীর স্বাদ পেয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। এরপর আর ধনেশ্বরেরও পুত্রকে সাধক বলে ধারণা করবার সুযোগের সূচীছিদ্রও রইল না। তারা—বলতে গেলে ধনেশ্বর আর সুখেশ্বর—বংশের মর্যাদা ঘরের মর্যাদা রাখবার জন্য। তাকে শাসন শুরু করেছিল। সে শাসন নির্মম এবং নিষ্ঠুর। তাকে বেঁধে ছড়ি বা চাবুক দিয়ে প্রহার করত। সে চীৎকারও করত কিন্তু সে যন্ত্রণায় বা ভয়ে নয়-রাগে গর্জন করত। ঘটনার দিন সে দোতলার ঘরে বন্ধ ছিল। দাঁড়িয়ে ছিল একটা জানলায়। সেখান থেকেই সে দেখতে পেয়েছিল বাড়ীর পিছন দিকে একটা জোয়ান মেয়ে কাঁধে একটা ঝুড়ি নিয়ে গোবর কাঠকুটো কুড়োচ্ছে। বাড়ীর পিছন দিকটা নির্জন। মুহূর্তে সে এই নির্জনতার সুযোগ ও অবকাশের মধ্যে নারীদেহের প্রলোভনে বাঘের মত উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। পাগল সে, কিন্তু উন্মত্ত পাগল ছিল না। সে বন্ধ দরজায় পদাঘাতে নিজের উন্মত্ত লালসাকে ব্যক্ত করেনি। সে চেষ্টা করেছিল জানালার গরাদেটাকে ভাঙতে। সতেরশো পঁচানব্বুইয়ে জমিদারী কেনার আগে কুড়ারাম ভটচাজ এই অংশটা তৈরী করেছিলেন। ঠাকুরবাড়ীও তার পরের ইমারত। বলতে গেলে এই অংশটাই বড় সব মহলের চেয়ে। এবং মাঝের মহল। জানালাগুলো স্বাভাবিকভাবেই জীর্ণ হয়েছিল তা বুঝতে গোপেশ্বরের কষ্ট হয়নি। দানবের মতো দেহ—দানবের মত শক্তিও ছিল তার। জানালার গরাদে ছাড়িয়ে ফেলতে খুব বেগ তাকে পেতে হয়নি। দু-তিনটে গরাদে ছাড়িয়ে ফেলে সে সেই ফাঁক দিয়ে গলে দোতলা থেকে বাড়ীর বাইরে বাগানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আঘাত পায়নি নয়, আঘাত পেয়েছিল হাঁটুতে হাতে—রক্তপাতও হয়েছিল। কিন্তু জীবনের আদিম আকর্ষণে সে তখন জ্ঞানশূন্য। বিশ্বজগৎ তখন তার দৃষ্টির সম্মুখ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঝড়ের বেগে উঠে আসা পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘের আড়ালে ঢেকে যাওয়া আকাশের এবং সূর্যের মত। সে গাছের আড়ালে আড়ালে চতুর বাঘের মত চতুরতার সঙ্গে এগিয়ে এসে মেয়েটাকে আক্রম। করেছিল। এসব মেয়েগুলি সম্পর্কে নানান অপবাদ আছে। এরা হয়তো নিশাচরী, এরা হয়তো স্বৈরিণী, হয়তো রাক্ষসীও বটে, কিন্তু গোপেশ্বর তার চেয়েও ভয়ঙ্কর- তাছাড়া নারী যাই হোক, যেমন চরিত্রেরই হোক, এ ধরণের আক্রমণে সে আত্মসমর্পণ করে না। সে গোয়ান মেয়ে, সে বাধা দিয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে তারস্বরে চীৎকারও করেছিল। কিন্তু তাতে গোপেশ্বরের বিঘ্ন হয়নি। সে বাঘের মতই তার বুকের উপর চেপে বসেছিল। মেয়েটা চীৎকার করেই চলেছিল। সেই চিৎকারে সর্বপ্রথম ছুটে এসেছিল কাকা সুখেশ্বর। এসে সে টেনেছিল গোপেশ্বরকে। কিন্তু তাকে টেনে ছাড়ানো ছিল তার সাধ্যের অতীত। প্রহার করেছিল হাত দিয়ে। সে গোপেশ্বর গ্রাহ্য করেনি। তখন সে একটা ভাঙা ডাল দিয়ে তাকে প্রহার করতে শুরু করেছিল।

    এই প্রহারই গোপেশ্বরের অসহ্য হয়েছিল এবং মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে উন্মত্ত ক্রোধে সুখেশ্বরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার বুকে বসে বাঘের মত হাতের থাবায় তার গলা টিপে ধরেছিল। তারপর লোকজন এসে তাকে ধরে টেনে তোলে, কিন্তু তখন শ্বাসরোধে সুখেশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে। ডাক্তারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোন ফল হয়নি। সারা রায়বাড়ী লজ্জায় দুঃখে বোবা হয়ে গিয়েছিল। ছেলেটা পালিয়েছিল। এই স্তব্ধতার মধ্যে অকস্মাৎ শিবেশ্বর দোতলায় ছাদে উঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন নিচে কতকগুলো ভাঙা ইটের স্তূপের উপর। মাথা নিচু করে পড়েছিলেন, খুলিটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, ঘাড় ভেঙে গেছে। বিবরণ এই!

    এ শুনে কার না ঘৃণা হবে, কার না লজ্জা হবে, কার না ক্রোধ হবে। সুরেশ্বরের কিন্তু ক্রোধ হয়নি। সে বক্র হাসি হেসে মনে মনে বলছিল- রায়েরা সব পারে। ওই হাসিটুকু হেসেই সে নিজের ঘরে ঢুকেছিল। বসেছিল রঙ তুলি নিয়ে।

    আঁকতে চেয়েছিল বীভৎস একটা কিছু। কিন্তু তা পারেনি। যত এবং যেমন বীভৎস সে আঁকতে চায় তা কি করে কোন কল্পনায় কোন রেখায় কোন রঙে ঠিক ফুটবে তা তার ধারণায় আসেনি।

    আইভরি ব্ল্যাকের একটা বড় টিউব মোটা তুলি দিয়ে একখানা ক্যানভাসে লেপেছিল। কিন্তু তা মনে হয়েছিল যেন নিদ্রানিথর একটি শান্ত অমাবস্যার রাত্রি। সে তো বীভৎস নয়।

    * * *

    ভেবেছিল অনেক। রায়বংশ এমন হল কেন?

    অনেক ভেবে সে দায়ী করেছিল ধর্মকে এবং সম্পদকে। রায়বাড়ির এই পরিণাম এই দুটোর জন্য। শুধু শিবেশ্বর-ধনেশ্বর এবং গোপেশ্বরকেই তার মনে পড়েনি—তার বাবাকেও মনে পড়েছিল। তার জ্যেঠামশাই, জ্যাঠতুত ভাইদেরও মনে পড়েছে। জ্যাঠামশাই এখন প্রায় সর্বস্বান্ত। মদ্যপান করেন দিনরাত্রি। থাকেন কাশীতে। সম্বলের মধ্যে কাশীর বাড়ী। আর কিছু লুকনো অর্থ। জ্যাঠতুত ভাইরা কলকাতায় এসেছে। তারা দুই ভাই চেষ্টা করছে নূতন কিছু করবার। তাদের ইচ্ছে তারা কীর্তিহাটের দেবোত্তর পত্তনী দেওয়ার নামে বিক্রী করে, কিন্তু জ্যাঠামশাইয়ের অনিচ্ছায় তা পারে না। দিনের বেলা কয়লার আপিস মহলে ঘোরে, আর রাত্রে দুই ভাই এক সঙ্গে খোলার বস্তীতে রাত কাটায়। মধ্যে মধ্যে গাড়ী কেনে। মাঝে মাঝে খবর পায়- পাওনাদারেরা রাস্তার মধ্যে গাড়ী আটকে তাদের গাড়ী থেকে নামিয়ে দিয়ে গাড়ী দখল করে নিয়ে চলে গিয়েছে।

    নায়েবই এদের কথা মনে করিয়ে দিল সুরেশ্বরকে। বললে—এই বিপদের মধ্যে বিপদ, বড়বাবুর কীর্তিহাটের বাড়ীর অংশ—যা মানে দেবোত্তর নয়,–তো মাড়োয়ারীরা ক্রোক করেছে। নিলেমে তুলবে।

    হেমলতা বললেন-না। তা তো হতে দিতে পারব না।

    সুরেশ্বর উঠে চলে গিয়েছিল।

    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়
    Next Article তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যের সেরা গল্প

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Demo
    Most Popular

    তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

    August 29, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

    August 29, 2025

    অনুরাধা

    January 4, 2025

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025
    Our Picks

    তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

    August 29, 2025

    অদ্বৈতপ্রকাশ – ঈশান নাগর

    August 29, 2025

    পৃথিবীর ইতিহাস – দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    August 29, 2025
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2025 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    Sign In or Register

    Welcome Back!

    Login below or Register Now.

    Lost password?

    Register Now!

    Already registered? Login.

    A password will be e-mailed to you.