Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1956 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কীর্তিহাটের কড়চা – ৩.৩

    ৩

    ব্রজেশ্বর বললে—কিছু বল রাজাভাই। আমি ভাই অকপটে সব বলেছি তোমাকে, দিব্যি গেলে বলতে পারি, একটি মিথ্যে বলিনি।

    বললাম-কি বলব তাই ভাবছি। বলবার কিছু পাচ্ছিনে ব্রজদা।

    —ব্রজদা না বলে প্রজাদা বলো। তুমি রাজা। কিন্তু শুনলাম মদ খাচ্ছ!

    —তা খাচ্ছি।

    —অবাক বলতে হবে। মদ খেয়েও তুমি—। মুখের দিকে তাকাল।

    জিজ্ঞাসা করলাম —কি?

    ব্রজেশ্বর বললে—আমি খবর সব নিয়েছি। মদ খেয়েও তোমার মন ওদিকে ছোটে না।

    —কোন দিকে?

    —কোন্ দিকে আবার? শিব ছুটেছিল মোহিনীর পেছনে। এখানে পটোরা গান গায়—শিব বাগ্দিনীর পিছনে বাগ্দিপাড়ায় ঘুরত। ব্রহ্মা মদ খেয়ে নিজের কন্যা সন্ধ্যার দিকে তাকিয়েছিল। মানুষের কথা বাদই দাও। মদ খাও, খেয়ে মন ছোটে না? এখানে এমন সোনার চাঁদ গোয়ানপাড়া—ছুঁড়িদের যেমন দেহ, তেমনি রঙ্গ। ওরা একসঙ্গে মেমসাব, আবার দণ্ডকারণ্যের শবরী! তুমি এখানে মদ খেয়ে, ছবি এঁকে, বেয়ালা বাজিয়ে কাটিয়ে দিলে!

    চুপ করে রইলাম। মনে মনে যাচাই করছিলাম সুলতা। ব্রজেশ্বর পাষণ্ড হোক, মূর্খ হোক, যা হোক, কথায়বার্তায় রসরসিকতা যারই ফোয়ারা ছুটিয়ে থাক, তার মধ্যে দুপুরের রৌদ্রের মত একেবারে সাদা এবং প্রখর উত্তাপের মত সত্যের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল। আবহাওয়া কথাটা বলব না, খাপ খাবে না এখানে। ব্রজেশ্বরকে মিথ্যে বলতে ইচ্ছে হয় নি।

    —প্রিন্স ব্রাদার!

    —ভাবছি ব্রজেশ্বরদা। না-ভেবে তো বলা ঠিক হবে না।

    —জান, কেন জিজ্ঞেস করছি জান?

    —কেন?

    —দেখ, সুখেশ্বর-কাকা একেবারে ‘ঔরংজেব’ ছিল। সে যদি ভাই অমনি বাদশাহীর আসরে প্রিন্স হয়ে জন্মাত, তবে ঠিক ওই খেল খেলত। ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিল—ঠিকেদারী ও করত, আমাকে নিয়ে আমার বেনামে ঠিকেদারী চালাত। বলেছি তো—নেটিভ স্টেটে পর্যন্ত চিঠি লিখত কায়দা করে—তাতে মধ্যে মাঝে বিশ-পঞ্চাশ-একশোও এসেছে। রায়বাড়ীর সম্পত্তি, দাদুর মত ধুরন্ধর, তার কাছ থেকেও বেনামে বন্দোবস্ত নিয়েছে। আমি জানতাম বলে কিছু কিছু টাকার ভাগ আমাকে দিত। কিন্তু তার চেয়েও বড় কাণ্ড করেছিল—রায়বাড়ীর সব মোক্ষম দলিল কাগজপত্র হাতিয়ে রেখেছিল। দাদু যে দাদু, সেও জানতে পারেনি। তিনি সেরেস্তা থেকে অনেক কাগজ-খাতা সরিয়ে রেখেছিলেন। তিনি ঠাকুরের সিন্দুক থেকে গহনা বের করে গালিয়ে বিক্রী করলেন। জমা-খরচের জোচ্চুরিতে মারলেন। কিন্তু সুখেশ্বর কাকা সেই সময় সরালেন রাজরাজেশ্বরের মুকুট থেকে পাথর আর সরালেন কখানা দলিল, কখানা বাঁধানো খাতা। একখানা খাতা ইংরিজীতে লেখা-বীরেশ্বর রায়ের ডায়েরীগোছের। আর একখানা রায়বাহাদুরের ডায়েরী। বুঝেছ?

    —সে খাতা কোথায়? সোজা হয়ে বসেছিলাম আমি।

    —সুখেশ্বর-কাকা একটা শক্ত ট্রাঙ্কে ভরে রেখেছিলেন নিজের শোবার ঘরে—মাথার শিয়রে। মধ্যে মধ্যে বলতেন, এই তোমাদের মানে তোমার বাবার সম্পর্কে; বলতেন, ভারী হিংসে ছিল তাঁর। যোগেশ্বরদার ও হতেই হবে। যজ্ঞেশ্বরদার হবে দেখবি। তোমার মা যখন যজ্ঞেশ্বর জ্যেঠার দেবোত্তর পত্তনী নিলেন, বাড়ী কিনলেন, তখন বলেছিলেন, বাবা মরুক, তারপর পাশা উল্টে দেব আমি। মোক্ষম অস্ত্র আমার কাছে আছে।

    অধীর হয়ে উঠেছিলাম আমি, বলেছিলাম, —আমি টাকা দেব ব্রজদা, তুমি দিতে পার সুখেশ্বর কাকার ছেলেদের কাছ থেকে এনে ওই খাতা?

    —সবুর রাজাভাই। সবুর কিজিয়ে। উ বিলকুল দপ্তর হামারা পাশ হ্যায়। গোপেশ্বর যেদিন খুন করলে মেজকা’কে, তার দিনতিনেক পর ঠিকেদারীর বিল করবার জন্যে খাতা বার করতে গিয়ে সেই ট্রাঙ্ক আমি খুলেছিলাম। এবং সেই সময় কি মনে হল, ওই দপ্তরটি আমি বের করে নিয়েছিলাম। সে আমি কিছু পড়েছিলাম। ইংরিজী লেখা, সেই কতককালের লেখা, পড়তে পারিনি আমি, কিন্তু রায়বাহাদুরের ডায়েরী আমি পড়েছি। ডায়েরী খুব সংক্ষেপ বটে। তবে তার মধ্যে মাঝে মাঝে বড় বড় লেখা আছে। মানে দিল খুলে লিখেছেন। অনেক বড় বড় কথা। ভাল ভাল কথা তাতে আছে।—মধ্যে মধ্যে এমন চিত্তচাঞ্চল্য হয়, কামার্ত হইয়া উঠি, তখন দিগবিদিক জ্ঞানগম্যি সব তিরোহিত হইয়া যায়। মন বলে, তুমি ধনী জমিদার-পুত্র, ভূমি পৃথিবীতে আসিয়াছ ভোগ করিতে। না করিলে তুমি মূর্খ। তোমার অধিকারের মধ্যে সবই তো তোমার। ইচ্ছা করিলেই পাইতে পার। কেন মিথ্যা মুর্খের মত সংযম করিয়া নিজেকে পীড়া দিতেছ? মধ্যে মধ্যে এমন চিত্তচাঞ্চল্য ঘটে যে, নিজেকে স্থির রাখিতে পারা সুকঠিন হইয়া ওঠে। দুরন্ত ক্রোধ হয় সবকিছুর উপর। ইষ্ট-নাম করিতেছি। তাহাতেই বা শান্তি কোথায়? আজ স্ত্রীকে, সকলকে তিরস্কার করি। কাছারীতে উগ্র হইয়া থাকি। দেহধারণের একি পাপ, একি শাস্তি!

    ব্রাদার, সে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যে আমি, আমার ভয় লেগেছিল পড়তে। কিন্তু কথাগুলো তো সত্যি। নিজেকে খতিয়ে দেখেছি। তফাৎ—তিনি ছুটতেন না, আমি ছুটি পিছনে পিছনে। গালও খেয়েছি কত মেয়ের কাছে—। তা তোমার—

    —আমার ভয় লাগে রজেন্সারদা, আমায় ভয় লাগে। বাবার সব কথা মনে পড়ে যায়। মায়ের মুখ মনে পড়ে। কেমন একটা দুরন্ত ভয় লাগে আমার। নিজেকে শান্ত করি কি করে জান? শান্ত করি, যাকে ভাল লাগে, তার ছবি আঁকি। ছবিতে তাকে অন্যে চিনতে পারে না, আমি পারি।

    —রাজা! মুখের দিকে তাকিয়ে রইল ব্রজেশ্বর। তারপর বললে, বুঝতে ঠিক না পারলেও ঝাপসা ঝাপসা বুঝছি। তোমাকে সেলাম।

    —কিন্তু সেই খাতাগুলো আমাকে দেবে ব্রজেশ্বরদা? বিশ্বাস কর, আমি কাউকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে সেগুলো ব্যবহার করব না।

    —রাজাসাব, সে আমি জানি। খাতাগুলো আমি লুকিয়ে রেখে গেছি। জানি না উইয়ে খেয়েছে কিনা। যদি না খেয়ে থাকে, আমি দেব তোমাকে। দেব কেন? দিয়ে রেখেছি সুরেশ্বর। কলকাতা যাবার সময় সঙ্গে নিতে পারিনি ভয়ে। কোথায় যাবে। ওবাড়ীতে রাখিনি, কে হাতাবে। এই বিবিমহলে—ওই কোণে একটা কুঠুরী আছে। তাতে আছে সব ভাঙা ছবি, কাঠকাঠরা, দেওয়ালে একটা খোলা আয়রনচেস্ট গাঁথা ছিল—আমি তারই মধ্যে রেখে গেছি—ন্যাকড়াটার ওপর কালি দিয়ে লিখে দিয়েছিলাম-”রায়বাহাদুরের শ্রাদ্ধের ফর্দ” ইত্যাদি। সে কেউ নাড়েনি বলেই আমার বিশ্বাস, যদি তুমি এবার এসে ফেলে না দিয়ে থাক। ও-ঘরটায় বীরেশ্বর রায়ের বন্দুক-টোটা থাকত। দরজাটা খুব মজবুত। মদও থাকত। তারপর কাঠকাঠরা ঢুকেছিল বাড়ী যখন তোমার বাবা মেরামত করান তখন। তুমি ওটাকে সাফটাফ করাওনি তো?

    —ভেবেছিলাম করাব। রঙ-তুলির ছবির আড্ডা করব। কিন্তু ছোট আর আলো কম বলে করিনি। কই চল, দেখ কোথায় রেখেছ?

    —এখুনি?

    —এখুনি।

    বাধা পড়েছিল। অর্চনা আর মেজঠাকুমা এসে ঘরে ঢুকলেন। অর্চনা বললে—বাবাঃ বাবাঃ, দু’ভাইয়ের কি এত কথাবার্তা চলেছে গো, যার আর শেষ নেই? আমরা পিত্যেশ করে বসে থাকব কত?

    মেজঠাকুমা বললেন—আমি বলিনি ভাই। অর্চি আমাকে সামনে করে এল। বলে, বান বিঁধলে তোমাকেই বিধবে। ব্রজকে ছেড়ে দাও ভাই সুরেশ্বর। বাড়ী থেকে ডাকতে এসেছে। বউয়ের ঘুম পেয়েছে। এতটা পথ এসেছে। আমরা আজ ওদের ফুলশয্যা করব। বুঝেছ? এখানে তো কিছু হয়নি।

    —আর একটু, পাঁচ মিনিট দাঁড়াও, ঠাকুমা। পাঁচ মিনিট। তারপর না-হয় ব্রজদার ফুলশয্যাতে আমি বাজাব, ব্রজদা গাইবে, সুন্দর গলা ওর। আর কে নাচবে তা ঠিক তোমরাই করে দেবে। মনটা আমার সত্যই খুশী হয়ে উঠেছিল সেই মুহূর্তে। ব্রজেশ্বর যা দিয়েছে, তাতে আমার মন একেবারে ভরে গিয়েছে। অতীতকালেরই একটা মোহ আছে। রায়বাড়ীর অতীত কাল, সে আমার অতীতকাল; একান্তভাবে আপনার। যার মধ্যে সূত্র পাব, যা ধরে আমি কেন এমন হলাম, সেই সত্য জানতে পারব। আরও আকৃতি ছিল, তোমার এবং আমার মধ্যে যে ব্যবধান হঠাৎ আবিষ্কার করেছি, তা কি পূর্ণ করা যায় না। এর মূল্য তোমার কাছে কতটা মনে হচ্ছে জানি না—

    ***

    দীর্ঘক্ষণ স্তব্ধ হয়ে শুনেই চলেছিল সুলতা, কোন কথা বলেনি। এক বিচিত্র সত্য অতীতকালের মধ্য থেকে এসে সামনে দাঁড়িয়ে তাকেও অভিভূত করেছিল। তার অতীত পুরুষে ছিল এক ঠাকুরদাস পাল। রত্নেশ্বর রায়ের অনুগৃহীত জন। কেমন একটা অস্বস্তি তার মনে হচ্ছিল বইকি! সে রত্নেশ্বরকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী-পুত্রকে বাঁচাতে পারেনি। তাকেই আবার রত্নেশ্বর খুব সম্ভবত পিজ গোয়ানকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন। তাতে একটা ক্ষোভও হচ্ছিল তার। এই অঙ্গস্তি এবং এই ক্ষোভ দুই মিলিয়ে একটা কি তৈরী হয়েছিল, তার মূল্য নিশ্চয় সে অনুভব করেছে।

    এতক্ষণে সে সুরেশ্বরের কথার জবাবে বললে-মূল্য অনেক মনে হচ্ছে সুরেশ্বর। না-হলে এতকাল পরে সব সম্পর্ক চুকিয়ে দেবার পর তোমার এই ছবিগুলির সামনে নির্বাক হয়ে বসে তোমার কথা শুনছি কেন? বয়স অনেকটা হয়েছে। এইভাবে সারারাত্রি জেগে গল্প শোনার তো কথা নয়। বল তুমি। থেমো না। রাত্রি একটা পার হয়ে গেছে। বল।

    ঢং করে ঘড়িতে একটা ঘণ্টা বাজল। সুলতা বললে, ক্লকটা ফার্স্ট আছে, দেড়টা হয়নি এখনও। একটা বাইশ। বল।

    .

    ব্রজেশ্বর খুঁজে পেয়েছিল দপ্তরটা। আমি খুলে দেখেছিলাম তৎক্ষণাৎ। আমার হাত কাঁপছিল। কেন তা জানি না। বেশ ঠক্‌ঠক্ করে কাঁপছিল। ব্রজেশ্বর বলেছিল—রাজা, হল কি তোমার?

    হেসে বলেছিলাম—জানি না।

    সে বলেছিল—আমায় দাও। গিঁটটা অনেক দিনের। মজে গেছে।

    সে-ও খুলেছিল অনেক কষ্টে। দু খানা খাতাই ছিল তাতে। একখানা ডিমাই আট পেজী। চামড়ায় বাঁধানো ছিল। সেটা আমার হাতে দিয়ে বলেছিল—এইটেই ইংরেজীতে লেখা, বীরেশ্বর রায়ের। আর এটা রত্নেশ্বর রায়ের। একেবারে পুরো ডিমাই সাইজের। সেটা বাংলায়।

    এর মধ্যে এসেছিল অৰ্চনা।—হল তোমাদের?

    ব্রজেশ্বর বলেছিল—হল।

    —কটা বাজছে মনে আছে? এগারটা।

    .

    সুরেশ্বর সুলতাকে বললে, আজ দেড়টা বাজে। সেদিন এগারটা বাজছিল তখন। ও-ঘরে ক্লক ঘড়িতে ঘণ্টা বাজা তখনও শেষ হয়নি।

    ব্রজেশ্বরদা আমাকে বলেছিল—চলো রাজা, তুমি আমার বাসী ফুলশয্যাতে বাজনা বাজাবে, এ আমার খুব ভাল লাগছে। তুমি বাজাবে, আমি গাইব। নাও, তোমার বেহালাটা নাও।

    চুপি চুপি বলেছিল—একটু খেয়ে নেবে নাকি? রাত্রি হয়ে গেছে—।

    —না। চল।

    ব্রজেশ্বরদা সেদিন ভাল গান গেয়েছিল। তবলা বাজিয়েছিল ব্রজেশ্বরের সৎ-কাকা। মেজঠাকুরদার দ্বিতীয় পক্ষের এক ছেলে। ওই করেই সে একরকম ফেরে এ অঞ্চলে। নেশা করে। চমৎকার তার হাত।

    শেষে গান গেয়েছিল মেজদি এবং অর্চনা। ব্রজেশ্বর কিছুতেই ছাড়েনি। অনুরোধ ছিল তার অর্চনাকে। কিন্তু অর্চনা ধরেছিল—মেজদিকে গাইতে হবে।

    মেজদি অগত্যা গেয়েছিলেন সাদামাটা একখানা কীর্তন। তাও মাঝপথে ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন—দূর! সব মাটি করে দিলাম। আমার হয় না বলছি। সত্যিই হচ্ছিল না। সুতরাং শেষ করবার কথাও কেউ বলেনি।

    তারপর ধরেছিল অর্চনা। সুলতা, মেয়েটার গলা যেন মধুঢালা। কি বলব তোমাকে। কাজী নজরুলের গানের খুব চল তখন। নজরুলের গজল গাইলে। আমি বেহালায় ছড় টানছিলাম ওর মুখের দিকে তাকিয়ে। নেশা লাগছিল। গান শেষ করলে অর্চনা, তখনও আমি ছড়ি টানছি।

    অৰ্চনা বললে—এখনও ছড়ি টানো যে!

    ছড়িটা তুলে বললাম—তাই তো!

    ঠাকুমা খিল খিল করে হেসে উঠলেন। বললাম—তা হাসতে পার মেজদি। অর্চনার কাছে ঠকে গেছি।

    ঠাকুমা বললেন—দেখো যেন প্রেমে পড়ো না ভাইবোনে। গান শুনে প্রেমে পড়ার নজীর আছে। আমার দাদাশ্বশুর সায়েবীমেজাজের মানুষ ছিলেন। এ-দেশের মেয়ে তাঁর চোখে ধরত না।

    —ঠাকুমা! শাসিয়ে উঠল অৰ্চনা।

    ঠাকুমা দমলেন না, বললেন—এক বন্ধুর বাসরে গানে বাজনায় আমার দিদিশাশুড়ীর কাছে ঠকে এমন প্রেমে পড়লেন যে, সেই কলকাতায় বসে থেকে বিয়ে করে, ব্যান্ড বাজিয়ে ঘরে ঢুকলেন।

    —এমন অসভ্য তুমি! ঠাকুমাগুলো এমনিই হয়।

    উঠে গেল অর্চনা। সকলে হেসে উঠল। ব্রজেশ্বরদা বলছে—এবাড়ীতে এমন মেয়ে একটাও নেই।

    রাত্রি তখন প্রায় দুটো।

    বাড়ি ফিরে এসে অনেকটুকু মদ্যপান করেছিলাম। খাতাগুলো সামনে ছিল। যে আনন্দটুকু নিয়ে ফিরে এসেছিলাম, তা তখন উত্তেজনায় পরিণত হয়েছে। ভয় হচ্ছে। আবার অদম্য কৌতূহল।

    ***

    সে কৌতূহল দমন করতে পারিনি। খুলে পড়েছিলাম।

    মোটা কাগজের খাতা। পাতাগুলো হলদে হয়ে এসেছে। মধ্যে মাঝে লালচে ছাপ। কোণগুলো আপনাআপনি দুমড়েছে কুঁকড়েছে। নেড়ে দেখলাম, ভেঙে যাচ্ছে। সন্তর্পণে নাড়তে হবে। বেশ টানা লেখা। বোধহয় কুইন-পেনে লেখা। লেখা ভাল কিন্তু টান আছে, আর কালি ওই লাল-হলদে রঙের বিবর্ণতার মধ্যে অস্পষ্ট হয়ে এসেছে। একটুক্ষণ মন দিয়ে দু-চারটে লাইন পড়তে পড়তে টানের ছাঁদটা আর্টিস্টের লাইনের ঢংয়ের মত চোখে পড়ে, অক্ষর স্পষ্ট হয়ে উঠল।

    This is not my diary. I don’t keep my diary and don’t like to keep diary like others. What is the use of writing what you do everyday? You do the same thing-today-tomorrow-day after tomorrow-you eat you drink you do this and that-you sleep. It seems to me that it is ludicrous to write them every night-before you retire. But this is something else. Something has happened today-that very seldom happens. Wonderful something, memorable something! That’s why I am writting down-in details lest I should forget them. It is just like writing down a poetry-You hear from a poet, which will never he published.

    অনেক উচ্ছ্বাস আছে। তারপর নিজের পরিচয় দিয়েছেন। পড়তে পড়তে মনে হল দাম্ভিক উগ্র শক্ত সাহসী বিলাসী এক রসিক মানুষ সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    I am Bireswar Roy- son of Someswar Roy of Kirtihata. I can easily say—Prince of Kirtihata—I am My father is really the king of the place. But he is a coward, he is shrewd-and he is-devoted to idolatary. I am opposed to it. I don’t believe in it. Neither do I believe in other theory or thesis about God. No I do not, I don’t believe in Rev. Hill’s preachings also. I do not believe what Raja Rammohan Roy says. But my father is an affectionate father. I love him. Still I have ignored his repeated request to marry — where is the girl—that will be my wife?

    .

    স্ত্রী হবার মত নিজের যোগ্য কন্যা বাংলা দেশে তিনি খুঁজে পান নি। কলকাতায় সাহেবদের পাঠশালা থেকে হিন্দু কলেজে কিছুদিন পড়াশোনার পর দেশে এসেছিলেন বাপের সঙ্গে।

    .

    এখানে এসে রেভারেন্ড হিলকে বাড়ীতে রেখে বীরেশ্বরের পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সোমেশ্বর। এখানে আরও আকর্ষণ পেলেন বীরেশ্বর। নীলকর রবিনসনের বাড়ী। তাঁর ছেলে-মেয়ের সঙ্গে মেলামেশার আকর্ষণ তাকে এখানে বাঁধলে। তার সঙ্গে শিকার করে, ঘোড়ায় চড়ে, হিল সাহেবের কাছে পড়ে, এক অদ্ভুত মানুষ হয়ে উঠলেন। না পড়লেন শাস্ত্র, না পড়লেন দর্শন, এমন কি হিল সাহেব বাইবেলখানা বার দুই পড়িয়ে আর পড়াতে পারেন নি। কিন্তু ইংরিজী ভাষায় পারঙ্গম হলেন। জীবনী পড়লেন। আইন পড়লেন এবং ঘোষণা করলেন, তিনি ঈশ্বর-ফিশ্বরে বিশ্বাস করেন না। কালীকে মানেন না! রাজরাজেশ্বর নামক নুড়িকেও মানেন না। ব্রাহ্মদের ব্রহ্মাকেও মানেন না। ইংরেজদের গড, মুসলমানদের আল্লা কিছুকেই না।

    I do not believe in anything, any form of God—not in Kali not in that round shaped stone-not in Brahma, not in God nor in Allha.

    এর সঙ্গে তিনি শিখলেন গান। কণ্ঠস্বর ভাল ছিল না কিন্তু কালোয়াত হবার খুব একটা ঝোঁক ছিল।

    এই বীরেশ্বর রায় তাঁর যোগ্য কন্যা দুনিয়াতে, অন্ততঃ এই বঙ্গদেশে, যেখানে অষ্টমবর্ষে গৌরী হিসাবে বধু-বরণ করতে হয়, সেখানে পাবেন কোথায়? রবিনসনের কন্যা ছিল কিন্তু সেদিকে মন টেনেছিল কি না কেউ বলতে পারে না। তিনি লেখেন নি। বরং লিখেছেন, আমার হাসি পায় যখন জন রবিনসন এবং তার বোন মেরী কথায় কথায় কপালে বুকে কাঁধে হাত দিয়ে ক্রশ আঁকে। এরা একেবারে মূর্খ কুঠীয়াল। বোধ করি ওদের দেশের লাঠিয়াল ছিল। শব্দ দুটো ইংরিজীর মধ্যে ব্যবহার করেছেন।

    তিনি সেদিন স্মরণীয় ঘটনার খাতা হিসেবে এই খাতা আরম্ভ করে লিখছেন—

    Today-26th April ।৪42, ।4th Baisakh ।250 B.S. is a memorable day for me. I have found her out. She is she-whom I have wanted all my life and have searched her even in my everyday dreams. Yes-she is the she.

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়
    Next Article তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যের সেরা গল্প

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }