Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কীর্তিহাটের কড়চা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1956 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কীর্তিহাটের কড়চা – ৪.১

    ১

    রাত্রি গভীর হয়েছে। কলকাতা শহরের মত শহরও স্তব্ধ। জানবাজারের বুক চিরে চলে গেছে ফ্রি স্কুল স্ট্রীট, তার একটু আগে গিয়ে মিলেছে লিন্ডসে স্ট্রীটের সঙ্গে, লিন্ডসে স্ট্রীটের উত্তরে হগ সাহেবের মিউনিসিপ্যাল মার্কেট। ১৯৫৩ সালেও ফিটন ছিল অনেক। গোটা অঞ্চলটাতেই অ্যাংলোইন্ডিয়ান মুসলমানদের সংখ্যা বেশী। বোধ করি বাঙালী হিন্দু পরিবারের বড় বাড়ী হিসাবে রায়দের বাড়ীটাই শেষ বাড়ী। পশ্চিম গায়েই ফ্রি স্কুল স্ট্রীট। ফ্রি স্কুল স্ট্রীটে কিছুক্ষণ আগে কতক্ষণ তার হিসেব ঠিক নেই, এই অতীত কথায় বক্তা এবং শ্রোতার নিমগ্নতার মধ্যে সে হিসেব হারিয়ে গেছে, তবে কিছুক্ষণ আগেও মধ্যে মধ্যে মধ্যযুগের সেই নির্জন প্রান্তরে ধ্বনিত কোন দুঃসাহসী কিম্বা কোন পলাতকের ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজের মত একটি ঘোড়ার ক্ষুরের আওয়াজ খপ-খপ খপ খপ শব্দ তুলে দূর থেকে কাছে এসে আবার দূরে চলে গেছে। দু-চারটে কুকুরের আওয়াজ শোনা গেছে মিউনিসিপ্যাল মার্কেটের ওদিক থেকে। মার্কেটের মাংসের দোকানে হাড় আর ফেলে দেওয়া চর্বি মাংস খেয়ে যে কুকুরগুলো সারাদিন পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করে আর দোকানের দিকে তাকিয়ে থাকে, তারাই এখন ফুটপাথে পড়ে আছে। মধ্যে মধ্যে কিছু দেখে চীৎকার করে উঠছে। আবার সব চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে। এ অঞ্চলে অনেক বার, সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে মাঝে মাঝে স্খলিত পায়ের প্রমত্ত জুতোর শব্দ, দু’চারটে জড়ানো কথা, গান বা আস্ফালন শোনা গিয়েছিল-তাও আর শোনা যায় না।

    নভেম্বর মাসের পঁচিশ তারিখের রাত্রি; শীত ঘন হয়ে এসেছে, বাহিরে হয়তো আবছা কুয়াশার একটা আভাস ভাসছে; সব স্তব্ধ; এরই মধ্যে সুরেশ্বর বলে চলেছিল কীর্তিহাটের রায়বাড়ীর কড়চা, আর সামনে সাজানো ছবিগুলিকে দেখিয়ে বলছিল—এই দেখ!

    ১৯৪৮ সালে ভবানী দেবী জলস্রোতে ঝাঁপ দিয়ে কোথায় চলে গেলেন। বীরেশ্বর রায় কীর্তিহাট ছেড়ে এলেন। কলকাতার এই বাড়ীতে বাস করতে লাগলেন। এই ফ্রি স্কুল স্ট্রীটে তাঁর জুড়ি ঠিক এমনি গভীর রাত্রে ক্ষুরের শব্দ তুলে, চাকার শব্দ তুলে ফিরে আসত। তখন রাস্তায় পিচ হয়নি, গাড়ীতে রাবার টায়ার হয় নি, রীতিমত রথচক্রের ঘর্ঘর শব্দে এপাড়ার অনেক ঘুমন্ত জনের ঘুম ভাঙিয়ে ফিরত বউবাজার থেকে। বউবাজারে সোফিয়া বাঈয়ের ঘরে তিনি আসর পেতেছিলেন। এ সেই সোফিয়া, যে কিশোরী বয়সে বীরেশ্বর রায়ের মামাতো ভায়ের বিয়ের আসরে তার মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল মুজরো করতে। যার গান শুনতে বসে সবটা তার শোনা হয় নি। ভবানী দেবী এসে মুখ টিপে হেসে বলেছিলেন- আপনার ভাই—বর—বাঁধা পড়েছেন গানের দায়ে। বাসরে গানের আসরে ফেল করেছেন। তিনি আপনাকে ডেকেছেন তাকে খালাস করে নিয়ে যেতে।

    এই সপ্রতিভ ও কিশোরীর সরস কৌতুকের আহ্বানে তিনি সোফিয়ার গান আধশোনা করে উঠে গিয়ে নিজে পড়েছিলেন ভবানী দেবীর আঁচলের বাঁধনে। সেই বাঁধন ভবানী দেবী খুলে দিতেই তাঁর মদের নেশার মধ্যে মনে পড়েছিল সোফিয়াকে। তিনি কলকাতায় এসে প্রথমেই কিনেছিলেন জুড়ি গাড়ী।

    কলকাতা তখন জব চার্নকের হাট এবং ঘাট কলকাতা অর্থাৎ বাজার কলকাতা এবং বন্দর কলকাতা থেকে রাজধানী কলকাতার চেহারা নিচ্ছে।

    লর্ড ওয়েলেসলীকে তখন বলত নবাব ওয়েলেসলী। একাধারে গবর্নর জেনারেল আবার জঙ্গীলাট। কলকাতাকে বেড় দিয়ে ষাট ফুট চওড়া সার্কুলার রোড বা বাহার সড়ক গঙ্গার ধারে ফোর্ট উইলিয়ম থেকে কলকাতার উত্তর সীমানা পর্যন্ত বাঁধিয়ে দিয়েছেন। গবর্নর জেনারেলের থাকবার জন্য বিরাট লাটপ্রসাদ বানিয়ে ফেলেছেন। তখন লর্ড ডালহৌসি ভবিষ্যতের গর্ভে, জায়গাটির নাম ডালহৌসি স্কোয়ার হয় নি। শুধু কলকাতার নয়, ব্যারাকপুরে বাগানবাড়ী হয়েছে। লাটসাহেবের বাড়ী চাকর-বাকরের বাহিনীতে ভরে গেছে।

    কলকাতার লোক বসে নেই। তারাও এতে যোগ দিয়েছে। বড় বড় বাড়ী বাগানবাড়ীর ধুম পড়েছে। গাড়ী ঘোড়ার আমদানী হচ্ছে। ব্রুহাম-ল্যাণ্ডো-জুড়ি কম্পাস ফিটন। আবার টাউন হলও তৈরী হয়েছে সাধারণের চাঁদায়।

    লাট প্রাসাদে ডিনার হয়, পার্টি হয়, মদের জোয়ার বয়, বলনাচ হয়। নাচের শেষে রাত্রে চলে তাদের মদের ব্যভিচার। ফিলিপ ফ্রান্সিস মাদাম গ্র্যান্ডের বাড়ী ছুটত মই ঘাড়ে ক’রে এটা ইতিহাসে লেখা আছে। ওখানেই শেষ নয়, ছোটখাটো সাহেবদের বাড়ীতে পোষা থাকত এদেশী মেয়ে। সে বিধবা ব্রাহ্মণকন্যা থেকে জমাদারনী পর্যন্ত। লোকে বলে ক্লাইব সাহেবের হারেম ছিল, হেস্টিংসেরও ছিল। জাহাজের সেলার এসে ফ্রি স্কুল স্ট্রীট অঞ্চলে দাপাদাপি করত। তার দেখাদেখি এদেশের ধনীদের বাগানবাড়ী হয়েছিল এবং দাপাদাপি ছিল বউবাজারের বাঈজীপাড়া থেকে হাড়কাটা রামবাগান সোনাগাছি পর্যন্ত। এসব পাড়া তখন জমে উঠছে সবে। সায়েবদের জন্যে বিলেত থেকে মেয়েরা আসছে বেশ্যাবৃত্তি করতে।

    তারই মধ্যে চলে সভাসমিতি। তারই মধ্যে রাত্রিশেষে সুর্যোদয়ের ছটা বাজে। সকালে উঠে রাত্রের নেশা চোখ থেকে মুছে রাতের মানুষ আর এক মানুষ হয়ে ওঠে।

    রামমোহন রায় ব্রাহ্মদর্শন প্রচার করেন, ইংরিজী শিক্ষার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। সতীদাহ নিবারণের আন্দোলন করেন। বিদ্যাসাগর আন্দোলন করেন বিধবাবিবাহ নিয়ে। জমিদারেরা করেন ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি, বৃটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি, ডিস্ট্রিক্ট চ্যারিটেবল সোসাইটি। হিন্দু কলেজ, মেডিকেল কলেজ গড়ে উঠেছে। খবরের কাগজ হয়েছে। এনকোয়ারার, ইস্ট ইন্ডিয়ান, জ্ঞানান্বেষণ, ইন্ডিয়া গেজেট, বেঙ্গল হরকরা, সমাচার দর্পণ, সংবাদপ্রভাকর, সমাচার চন্দ্রিকা।

    সুলতা বললে-সে-কালকে আমি জানি সুরেশ্বর। তুমি বীরেশ্বর রায়ের কথা বল।

    সুরেশ্বর বললে—তুমি জান সে আমিও জানি। তবে আমি আমার এর পরের ছবিখানাকে তোমাকে বোঝাচ্ছি। দেখ এই ছবিখানাই সব থেকে বড় ছবি। দেখ ছবিটাকে উপরে নিচে ডেকরেশনের প্যানেল দিয়ে আসলে তিন ভাগে ভাগ করেছি। উপর আর নিচের প্যানেলে আছে সেকাল। দেখ—উপরের প্যানেলে লাট সাহেবের নতুন বাড়ী, দুপাশে লিভারি আঁটা চাকরের সারি, মাঝখানে দাঁড়িয়ে লর্ড ওয়েলেসলী। তারপর দেখ টাউন হল। ওই দেখ ডেভিড হেয়ার ঘড়ির দোকান বন্ধ করছে, বগলে বইয়ের গাদা। তার পাশে ডিরোজিও। তার পাশে চার্লস গ্র্যান্ট; তারপর মেকলে। ওই দেখ চৌরঙ্গীতে সাহেবদের গাড়ী চলছে, সামনে সহিস ছুটছে। ওই দেখ পাল্কি চলছে। ওই দেখ উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক। হিন্দু কলেজ, মেডিকেল কলেজ। বেন্টিঙ্কের হাতে গুটনো কাগজ, সতীদাহ প্রথা রহিত বিল, বিধবাবিবাহ বিল। নিচের প্যানেলে দেখ রামমোহন রায় উঁচু বেদীতে দাঁড়িয়ে একটি আঙুল দেখাচ্ছেন, লোকে দেখছে। এক ঈশ্বর ব্রহ্ম। তারপর দেখ দ্বারকানাথ ঠাকুর, তাঁর সামনে দুটো দরজা–ল্যান্ড হোল্ডার্স সোসাইটি, কার টেগোর এ্যান্ড কোং, য়ুনান ব্যাঙ্ক। ওর পরে একটা বাগান, ওটা প্রিন্স দ্বারকানাথের বেলগাছিয়া ভিলা। তারপর দেখ প্রসন্নকুমার ঠাকুর, রামগোপাল ঘোষ, রাধাকান্ত দেব-বগলে শব্দকল্পদ্রুম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর—হাতে প্রথম ভাগ, ব্যাকরণ কৌমুদী, সীতার বনবাস, মাইকেল মধুসুদন দত্ত—হাতে মেঘনাদ বধ। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রাজেন্দ্রলাল মিত্র। ওই দেখ প্যারীচরণ সরকারের হাতে ফার্স্ট বুক। ওই দেখ কালীপ্রসন্ন সিংহ বগলে মহাভারত। আবার ওই দেখ রাত্রে সাহেবদের বলনাচ। বাবুদের বাইজী খেমটা নাচের আসর। এরই মাঝখানে ওই দেখ, এই বাড়ীর মাঝখানের হলে বসে রয়েছেন বীরেশ্বর রায়। সামনে টেবিলে হুইস্কির বোতল গ্লাস। ওই পড়ে রয়েছে সোফার উপর সোফিয়া বাঈ। মদে তার জ্ঞান নেই। অপরূপ সুন্দরী ছিল সোফিয়া বাঈ। কেউ বলত কাশ্মীরী মেয়ে, কেউ বলত পার্সী মেয়ে। নিতান্ত শৈশবে কিনে মানুষ করেছিল ওর বাঈজী-মা!

    ১৮৫৫ সালের ৩১শে মের রাত্রি সেদিন।

    তার আগে সুলতা, ১৮৪৮ সালের ২৩শে জুলাই, শ্রাবণ মাসের ৬ তারিখ ছিল, সেই তারিখে বীরেশ্বর রায় লিখেছিলেন তাঁর স্মরণীয় ঘটনালিপির বাঁধানো খাতাটাতে—Am I going mad? Yes it is madness! Let it come. তারপর থেকে বলতে গেলে মেরুন রংয়ের চামড়ায় বাঁধানো খাতাখানাকে একরকম সাদাই বলতে হবে। ১৮৪৯ সাল থেকে ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত মাত্র কয়েকটা তারিখের কথা মাত্র দুচার বা আটদশ লাইনে লেখা। মাত্র ঘটনাটুকুর উল্লেখই আছে। বীরেশ্বর রায়ের চরিত্রবৈশিষ্ট্য আবেগের কোন স্পর্শ নেই। একরাত্রির শিকারের কথা আছে। যা ঘটেছিল তা ঘটনার বৈচিত্র্যেই রোমাঞ্চকর। বিস্তৃতভাবে লিখলে ভাল একটা শিকার-কাহিনী হতে পারত, কিন্তু দশ লাইনে লিখেছেন বীরেশ্বর রায়। একেবারে গোড়াতেই লেখা killed a tigress today. বিবরণ সংক্ষিপ্ত। জন রবিনসনকে খবর দিয়েছিলাম, সে এসেছিল। নৌকো করে হলদির মোহনার কাছে জঙ্গলে যেতে হয়েছিল। মাচা বাঁধা ছিল। শুনলাম বাচ্চা আছে সঙ্গে। বুঝলাম বাঘিনী। বললাম—ফার্স্ট শট আমার। জন বললে—না—আমার। আমি গেস্ট তোমার।

    আমি বললাম—জনি, তুমি মিস করবে আমি নিশ্চিত।

    জনি রেগে উঠল, বললে —বাজি?

    বললাম—হারবে?

    সে বলল—মানে? তুমি আজকাল গুনতে শিখেছ নাকি?

    বললাম -না। নারীর প্রতি তুমি অন্ধভাবে আসক্ত। ওই সব এদেশের কালো মেয়েগুলোর যেটাকেই দেখ তার জন্যে পাগল হয়ে ওঠ। And it is a tigress she is beautiful and clever. ওদের তুমি চেন না! The striped tigresses are Brahmin ladies among the tigers.

    জনি হেসে উঠল। বললে—তুমি একটা ডেভিল। আমার হাতেই ওটা মরবে। দেখ!

    জোর করলাম না। কারণ ও আমার গেস্ট! কিন্তু যা ভেবেছিলাম তাই হল। The tigress came. বাঁধা ছাগলটা একবার চেঁচিয়েই চুপ করলে। বাঘিনীটা একটা গর্জন দিয়ে চুপ করলে। চাঁদের আলো ছিল। জনি নিশানা করে গুলি করলে। বাঘিনীটা লাফ দিয়ে উঠে ধপ করে পড়ল নিথর হয়ে। জনি হেসে উঠে-Bira, you have lost, বলে ঝপ্ করে লাফিয়ে পড়ল মাচা থেকে। মূর্খ! মাতাল! আমি বারণ করবার সময় পেলাম না। কিন্তু যা করতে হবে করতে ভুললাম না। বন্দুক তুললাম। আমি জানি জনি মিস করেছে গুলি। এবং ওই ব্যাঘ্র-নারীটি মরার ভান করে পড়ে আছে; she will now jump up on the foot! ঠিক তাই। মুহূর্তে বাঘিনী উঠে দাঁড়িয়ে দেহটাকে টান ক’রে একটা ভীষণ গর্জন করে উঠল। জনি মুহূর্তে হতভম্ব হয়ে গেছে, বন্দুক তুলতে হাত কাঁপছে। আমি বন্দুক ধরে স্থির। বাঘিনী লাফ দিল, আমি গুলি করলাম। এবং সে উঁচুতে উঠে আবার পড়ল ধপ করে। এবং আবার আমি গুলি করলাম। জনি নিচে গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিঃশেষিতশক্তি ভেঙেপড়া মানুষের মত। বন্দুকটা ফেলে দিয়েছে মাটিতে নিজেই। এবার আমি লাফিয়ে পড়লাম। বাঘিনী মরেছে। প্রথম গুলিতেই মরেছে। মাথার খুলি ভেঙেছে। দ্বিতীয় গুলিটা লেগেছে বুকে। জনিকে বললাম—বাক আপ জনি! টেক এ সিপ অফ ব্রান্ডি। ইট ইজ নাথিং। পকেট থেকে ছোট বোতলটা বের করে দিলাম। বরং—বললাম —try a tiger and you will hit him. There you will never miss. খুব জোরে হেসে উঠলাম। জনি চমকে উঠে বললে—বীরা, স্টপ স্টপ। ফর হেভেন্‌স্‌ সেক ইউ স্টপ।

    এটা সেপ্টেম্বরে। জুলাইয়ের ওই যে দিন ভবানী দেবী জলে ভেসে গেলে লিখেছিলেন—Am I going mad? তারপর এই প্রথম

    তারপর ডিসেম্বরের ১০ তারিখে ক’লাইন লেখা। কলকাতা যাচ্ছি আজ। সামনে বড়দিন। কলকাতায় নেমন্তন্ন আছে অনেক। লাটসাহেবের সঙ্গে ইন্টারভিয়ু আছে। ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির মিটিং আছে। কিন্তু আর কি কীর্তিহাটে ফিরব? No! খুব বড় করে লেখা No!

    ডিসেম্বরের ১৫ই লেখা—রাণী রাসমণির বাড়ীতে গিয়েছিলাম দেখা করতে। জানবাজারের বাড়ীর জায়গা ওঁরাই দান করেছিলেন। কৃতজ্ঞতা মানুষের থাকা উচিত। নইলে ওঁরা ধর্মবিশ্বাসী গোঁড়া হিন্দু, ওঁদের সঙ্গে আমার বনার কথা নয়। জামাই মথুরবাবু অতি ভদ্র এবং বেশ আভিজাত্য সম্পন্ন ব্যক্তি। He received me with dignity and kindness, very gracefully. তারপর রাণীর সঙ্গেও দেখা হল। একটি মহিমময়ী মেয়ে। আমাকে মায়ের মত আদর করলেন। ব্রাহ্মণ বলে সমাদর ভক্তি করলেন। I was charmed simply charmed She is really a queen.

    ১৮৫৫ সালের ১লা জানুয়ারী কিছু লেখা আছে। আজ খুব মদ খাচ্ছি। অনেক বিশিষ্ট অতিথি নিমন্ত্রণ করেছি। আজ সন্ধ্যার আসরে মনে হল আমি যেন কয়েক মাস ধরে একটা টানেলের অন্ধকারে অন্ধের মত পায়ের তলায় বন্ধুর মাটিতে হুঁচোট খেয়ে, পা দুখানাকে ক্ষতবিক্ষত ক’রে এবং উপর থেকে ঝরে পড়া জলে ভিজে অসুস্থ ক্লান্তদেহে জীবনের উপর বীতস্পৃহ মন নিয়ে কলকাতায় এসে অবারিত সুর্যালোকের মধ্যে নতুন স্বাস্থ্য, নতুন উৎসাহিত মন ফিরে পেয়েছি।

    Today life is something wonderful to me. I wish to live. I want to live.

    দু’দিন আগে লাটসাহেব লর্ড ডালহৌসির সঙ্গে দেখা করে এসেছি। A great personality and a great diplomat—an Empire builder. আমি তাঁকে কুর্নিশ করে অভিবাদন করেছি। তিনি হাসলেন। বেশ সদয় হাসি! আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম।

    ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি এবং বৃটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটিতেও গিয়েছিলাম। বড় বড় লোকের সঙ্গে আলাপ হল।

    They were all very friendly to me. And I also made them feel that I was also no small fry. They all felt my personality and appreciated what I spoke in the meeting.

    আমি নীলের চাষে জমিদারদের যে সমস্যা হয়েছে তার ওপর বলেছি। জন রবিনসনের মুখ আমার মনে পড়ছিল। মধ্যে মধ্যে সাদা চামড়া বলে তার অনেক ঔদ্ধত্য সহ্য করতে হয়। নীল যেসব জমিতে চাষ হয় তার খাজনা আমরা পাই না বললেই হয়। Permanent settlement-এর সময় নীলের চাষ কতটুকু হত! এখন প্রায় ২৫ লক্ষ বিঘেতে নীলের চাষ হয়। তাতে ১, টাকা হারে খাজনা বাংলার জমিদারেরা পেলে তাদের পঁচিশ লক্ষ টাকা আয় বাড়ত। আমি গ্রেট দ্বারকানাথ ঠাকুরের কথাই উদ্ধৃত করেছিলাম। নতুন কথা বলি নি। তবুও যে জোরের সঙ্গে আমি বলেছি তা সকলেই ভাল বলেছেন।

    প্রসন্নকুমার ঠাকুর আমাকে বললেন—

    Roy, you stay here in Calcutta, we shall miss you if you go back to that village home of yours.

    সেদিন আলাপ হয়েছে জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত সিংহ পরিবারের অল্পবয়সে খ্যাতিমান কালীপ্রসন্ন সিংহের সঙ্গে। আশ্চর্য উজ্জ্বল তরুণ। কত বয়স হবে? আমি ভেবেছিলাম ১৭।১৮ হবে। কিন্তু সিনহা হেসে বললেন—আমি এখনো পনেরোতে চলছি। এবারেই আগস্টে বিয়ে করেছি। সুতরাং বয়স যাই হোক, আমি একজন পরিপূর্ণ মনুষ্য। হাফ গ্লাস বেটার হাফ ইজ ফুল ওয়ান-মোর দ্যান ওয়ান। রসিক লোক। এরই মধ্যে বিদ্যোৎসাহিনী সভা বলে একটি শুরু করেছে। শুনে বিস্মিত হয়েছি দেখে তরুণটি বললে—ডিয়ার রায়সাহেব, “বাল্যাবধি ইচ্ছে কবি কালিদাস হব কিন্তু এখন সে ইচ্ছে ছেড়েছি, কারণ কালিদাস লম্পট ছিলেন। তারপর ভাবছিলাম, জনসন হব কিন্তু না, তিনি ছিলেন গরীবের ছেলে। তবে রামমোহন রায় হওয়া যায়।” মোট কথা বিখ্যাত হতে চাই। তার জন্য বিদ্যোৎসাহী হয়েছি। গ্রন্থ লিখে গ্রন্থকার হব। ব্রাহ্ম হতে চেষ্টা করছি। বিধবাবিবাহে উৎসাহ দেব।

    বলে হাসতে লাগলেদ। বললেন—যখন লিখব তখন এসব কথা খুলে লিখব দেখবেন। আপনাকে এক কপি প্রেজেন্ট করব।

    আমি তাঁকে ১লা জানুয়ারীর এই সান্ধ্য আসরে নিমন্ত্রণ জানালাম। সাদরে তিনি গ্রহণ করলেন। বললাম—নাচ-গানের ব্যবস্থা থাকবে।

    তরুণ কালীপ্রসন্ন হেসে বলেছিলেন—That’s wonderful! আমার দুটো জিনিস জন্মলগ্নে বলতে গেলে বিধাতা-নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। এই নাচ-গান আর সাহিত্য। আমার জন্মের দিন বাবা নাচ-গান জলসা করিয়েছিলেন। আর পণ্ডিত বিদায় করেছিলেন শাল দিয়ে।

    Certainly I will come, Thank you Mr. Roy.

    নাচ-গানের আয়োজন করেছি। আমার হৃদয় আজ অন্ধকার কাটিয়ে সকালের ফুলের মত ফুটছে। তার কারণ যে তরুণী বাঈজীটি এসেছে, সে আমার চেনা। সেই মামাতো-ভাইয়ের বিয়েতে যে নিতান্ত কিশোরী বয়সে তার মায়ের সঙ্গে গান করতে গিয়েছিল। সেও আমাকে চিনেছে। সে হাসলে। আমার দৃষ্টি দেখে সে আমার অভিলাষ বুঝেছিল। সকলে বিদায় হলে সে যখন বিদায় চাইলে তখন তার হাত ধরে বললাম-না। আজ বছরের প্রথম দিন। আজ থেকেই তোমাকেই আমি জীবনের সঙ্গে বাঁধতে চাই। বাকি গোটা জীবনটার জন্য।

    সোফিয়া স্থিরভাবে আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বাঁ-হাতে কান চাপা দিয়ে হেঁট হয়ে সেলাম বাজিয়ে বললে-বহুত মেহেরবাণী। লেকেন। হাসলে সে।

    বললাম—লেকেন কি বল?

    বেগম—বিবি

    বললে—উয়ো আপকি বেগম—বিবি সাহেবা হুজুরাইন, সেদিন যেমন আমার গানের মাঝখানে তোমাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তেমনি করে এসে ঢুকবে আসরে এবং আজকের রাত্রিটিও শেষ হতে দেবে না, তখন কি হবে?

    বললাম—সে নেই।

    —নেই?

    —না, চলি গয়ি।

    —চলি গয়ি? কাঁহা?

    —খোদা মালুম।

    একটু চুপ করে থেকে সে বললে-আজ রাত থেকেই তোমার কাছে বাঁদী হয়ে রইল সোফিয়া!

    .

    ১৮৫৫ সালের ৩১মে-র রাত্রি সেদিন।

    সেইদিনের এই ছবি সুলতা। মদের নেশায় প্রায় হতচেতন হয়ে সোফিয়া পড়ে আছে। তবলা-বাঁয়া পড়ে আছে, ফুরসী গড়গড়া পড়ে আছে, হুঁকোদানে বাঁধানো হুঁকো রয়েছে, পানের বাটা, পিকদান রয়েছে; তবলচী সারেঙ্গীদাররা চলে গেছে। দুটো গোলাপপাশ গড়াচ্ছে। বীরেশ্বর রায় মদের বোতল গ্লাস টেবিলে রেখে বসে আছেন, বড় বড় চোখ রাঙা হয়ে উঠেছে। মদের নেশা যেন কিছুতেই ধরছে না।

    একটা ঘটনা ঘটে গেছে। যার স্মৃতি কিছুতেই মন থেকে মুছছে না। আজ দক্ষিণেশ্বরে রাণী রাসমণি বিরাট কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন। বিরাট মন্দির, চারিদিকে ঘন জঙ্গলের মধ্যে উঁচু কাছিম পিঠে বিস্তীর্ণ জমির উপর গঙ্গার পোস্তা বাঁধিয়ে যে মন্দির তৈরী হয়েছে, তা সেন্ট জনস্ চার্চ থেকে জাঁকেজমকে হয়তো উঁচুতে কম হবে না। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ। নানান দেশ থেকে ব্রাহ্মণপণ্ডিত এসেছে। কাঙালীতে ভরে গেছে। যজ্ঞ হচ্ছে। কলকাতার বড় বড় লোকেরা দেখতে গেছেন। জঙ্গলভরা দক্ষিণেশ্বর, পথে দু’পাশে জলা। তারই মাঝখান দিয়ে নতুন রাস্তা করিয়েছেন রাণী। লাট-প্যালেস থেকে যে রাস্তাটা উত্তরমুখে মারাঠা ডিচ পার হয়ে টালা-সিঁথি-বরানগরের ভিতর দিয়ে চলে গেছে ব্যারাকপুর লাটসাহেবের বাগানবাড়ী, যার দুধারে শুধু জঙ্গল-জলা, আর মাঝে মাঝে গোলপাতার বস্তী আর দু’চারটে বাগান বাড়ী, বরানগরের উত্তরে সেই রাস্তাটা থেকে নতুন রাস্তাটা পশ্চিমমুখে চলে গেছে মন্দির পর্যন্ত। এদিকে আর একটা রাস্তা বাগবাজার খাল পেরিয়ে কাশীপুরের ভেতর দিয়ে চলে গেছে। ওই রাস্তা দুটোর আজ হাতখানেক মাটি ধুলো হয়ে উঠে গেছে গাড়ীর চাকায় চাকায়। ল্যান্ডো বাগ ফিটন ব্রাউনবেরী আর ভাল ভাল ঘোড়া। সে একেবারে সারিবন্দী। দু ধারে কাঙালী চলেছে, তার মাঝখান দিয়ে গাড়ী। সামনে সহিসেরা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে—তফাৎ যাও, তফাৎ যাও। এর মধ্যে বীরেশ্বর ও গিয়েছিলেন। কিন্তু যেতে যেতে আপসোস করেছেন, কেন গাড়িতে এসেছিলেন। ধুলোতে সর্বাঙ্গ ভরে গেছে। এর থেকে চাঁদপালঘাট কি জগন্নাথঘাট থেকে বজরা করে এলে পারতেন। কিন্তু কিছুদিন আগে কেনা নতুন ফিটন, আর কালো ওয়েলার ঘোড়া দুটো দেখবার কেমন একটা ঝোঁক হয়েছিল। বীরেশ্বর রায় নিজেই লিখেছেন,—It was a mistake.

    রায় সোফিয়াকে নিয়ে বেড়াবার জন্যে নতুন ফিটন আর জোড়া বাছাই করে কালো দুটো ঘোড়া কিনেছিলেন সম্প্রতি। গঙ্গার ধারে চাঁদপাল ঘাটে যেতে যে একটা পথ চলে গেছে দক্ষিণে, কাঁচাপথ, সেই পথে, কিছুদিন আগে তাঁর পুরানো গাড়ি আর ঘোড়াদুটো হেরে গিয়েছিল অন্য গাড়ির কাছে। নতুন ঘোড়া, নতুন ফিটন সেইজন্যে। গঙ্গার ঘাটে তাঁর দুখানা নৌকোও আছে। একখানা বড় বজরা, অন্যখানা পানসী। বড় বজরাখানা সোমেশ্বর রায় করিয়ে গিয়েছিলেন। ওখানায় গঙ্গা হয়ে কাকদ্বীপকে উল্টো দিকে রেখে হলদীর ভিতর হয়ে বর্ষার সময়ে সরাসরি কীর্তিহাটে যাওয়া যায়। শুকোর সময়ে জোয়ারো এলাকার পর, পাল্কি করে যান বাকী পথটা। কিম্বা হাতী। বীরেশ্বর রায় ঘোড়ায় যেতে ভালবাসেন।

    .

    থাক সে-কথা। কীর্তিহাট অনেক দূরে পড়ে গেছে। দিন দিন দূরত্ব বাড়ছে। সেখানে কোনদিন ফিরবার বাসনা তাঁর নেই।

    ভর্তি দুপুরে ফিরবার সময় ওই কথা ভাবতে ভাবতেই ফিরছিলেন। রাণী রাসমণির কাছে তাঁরা উপকৃত। পিতামহ দান গ্রহণ করেছিলেন—এই জানবাজারের জমি। অবশ্য সেদিনের কুড়ারাম রায় ভট্টাচার্য কোম্পানীর সেরেস্তায় থেকে অনেক কিছু সুগম করে দিয়েছিলেন। তার জন্য তিনি তাঁর প্রাপ্যও নিয়েছিলেন। জমিটা দান। তাছাড়া রাণীকে বীরেশ্বর সত্যিই শ্রদ্ধা করেন। রাণী যেমন বুদ্ধিমতী, তেমনি তেজস্বিনী আবার তেমনি দানশীলা। জেলেদের উপর কোম্পানীর জুলুম বন্ধ করতে গঙ্গার জলকর বন্দোবস্ত নিয়ে যে বুদ্ধি এবং সাহস দেখিয়েছেন, তা রাণীরই উপযুক্ত। আবার পূজার সময় কোম্পানীর গোরাদের সামনে যে সাহস দেখিয়েছেন, সেও তাই। আবার কলকাতায় এবং দেশে অন্নকষ্টের সময় তিনি কাশী যাওয়া বন্ধ করে সেই টাকা খয়রাত করে আর এক মহীয়সী রূপের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন—তাঁর নিমন্ত্রণ বীরেশ্বর উপেক্ষা করতে পারেননি। তিনি এসেছিলেন। কিন্তু এসেও তাঁর ভাল লাগে নি। কিছুক্ষণ থেকেই তিনি শরীর খারাপ বলে চলে আসছিলেন। সকালবেলা থেকে মদ খাননি। তার উপর পথের ধুলো, মেজাজ অত্যন্ত খারাপ ছিল। গাড়ীতে চড়ে কোচম্যানকে বলেছিলেন—জলদি। তুরন্ত যানা। বহুত তুরন্ত। তবিয়ৎ ঠিক নেহি হ্যায়। সমঝা?

    —হাঁ হুজুর।

    সামনে দুটো সহিস ছুটে চলেছিল ঊর্ধ্বশ্বাসে, ঘোড়ার আগে দৌড়ুতে হবে তাদের। দুটো সহিস পিছনে দাঁড়িয়েছিল। ওরা ক্লান্ত হলে এরা নেমে ছুটবে, ওরা গাড়ীর পিছনে দাঁড়াবে। বেলা একটা বেজে গেছে। পথে ভিড় তখন কমেছে। দক্ষিণেশ্বরের মুখে গাড়ী দু’একখানা আসছে। যাচ্ছে দু’চারখানা। কিন্তু মানুষের ভিড় তখনও নাগাড়ে চলেছে। শুধু দক্ষিণেশ্বরের ভিড় নয়, আজ ছিল স্নানযাত্রা—যত কুসংস্কারাচ্ছন্ন বদ্ধ জীব—গামছা কাপড় কাঁধে ফেলে দল বেঁধে চলেছে গঙ্গার ঘাটে। ছেলে-মেয়ে বুড়ো-জোয়ান। যারা ফিরেছে, তাদের কপালে কাদালেপা। গঙ্গামাটি। বুকেও তাই। চৌদ্দ জন্মের পাপ খণ্ডন হল। শুধু পাপই খণ্ডন হয় নি —পুণ্যের ফল বোঝা মাথায়, কাঁকালে, নতুন কেনা ধামায় ভরে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুণ্য দস্তুরমত ফল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আম-কাঁঠাল। গঙ্গার ঘাটে কিনে বাড়ী ফিরছে। বাড়ী ফিরে খাবে, কলেরা হবে, মরবে। শুধু আম-কাঁঠাল নয়, বঁটি-খুন্তী চাটু-কড়াই, খেলনা চাকি, পুতুল অনেক কিছু।

    হঠাৎ সামনের সহিসদুটো হৈ-হৈ করে উঠলো। সামাল সামাল।

    কোচম্যান চীৎকার করে উঠল—এও উল্লু!

    চমকে উঠে বীরেশ্বর সামনে তাকিয়ে দেখলেন—এক অর্ধ-উলঙ্গ বদ্ধ উন্মাদ, ঊর্ধ্ববাহু হয়ে ছুটে চলেছে সামনে আর চীৎকার করছে—না-না-না। পারছি না। পারব না। ছেড়ে দে, গলা ছেড়ে দে। বলি—বলি!

    উন্মাদ, দিগ্বিদিক জ্ঞান নেই। গাড়ীর সামনে, সহিস-কোচম্যানের চীৎকারে হুঁশ নেই। চীৎকার করতে করতে ছুটেছে। কোচম্যান দু’হাতে জোড়া ঘোড়ার লাগামের রাশ টেনে ধরলে। কিন্তু ঘোড়াদুটো প্রমত্তশক্তির গতিতে ছুটছে সামনের দিকে, তারাও থামতে পারছে না। বীরেশ্বর মুহূর্তে ফিটনের সামনের ডগ-সিটে উঠে দুই হাতে কোচম্যানের ধরা লাগাম ধরে সজোরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে টেনে ধরলেন। ঘোড়াদুটো সামনের দুটো পা তুলে, ডাইনে বেঁকে বাঁয় পড়তে পড়তে দাঁড়িয়ে গেল। লোকটা ঘোড়ার মুখের ধাক্কায় আছাড় খেয়ে পড়েছে। বীরেশ্বর লাফ দিয়ে নামলেন। ঘোড়াদুটোরই কষ কেটে গেছে। রক্ত পড়ছে। বীরেশ্বর বললেন—চাবুক! ওসমান—চাবুক!

    লোকটা উপুড় হয়ে পড়ে আছে।

    দুরন্ত-রাগে বীরেশ্বর হাঁকড়ালেন চাবুক–এ্যাও উল্লুক, শূয়ার কাঁহাকা! পিঠটা কেটে গেল, লোকটা শিউরে উঠে যেন চেতনা ফিরে পেল। উঠে বসল। বীরেশ্বরের হাতের চাবুক হাতেই থেকে গেল। পাগলটাকে তিনি চেনেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়
    Next Article তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যের সেরা গল্প

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }