Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কুলের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প90 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুলের কাঁটা – ৪

    ৪

    বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে ওদের গাড়িতে তুলে দেবার পর রঞ্জন বাড়ি ফিরল না। চুপটি করে গিয়ে বসল সামনের পার্কে। সে জানে, মা উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছে। আর যার চোখকেই ফাঁকি দেওয়া যাক মায়ের দৃষ্টিকে ফাঁকি দিতে পারেনি। ও জানে, যে মা জানে। মা জানত। মায়ের কাছ থেকে লুকোনো যায়নি, লুকানো যায় না।

    রঞ্জন কিছু শিশু নয়— চোদ্দো বছর কদিন হয় তার হিসাব ভালোমতই জানা। যে নিদারুণ আঘাতে চোদ্দো বছর আগে পাঁজরটা গুঁড়িয়ে গিয়েছিল এতদিনে তার ধার খয়ে যাওয়ার কথা— গিয়েছিলও তাই। রঞ্জন হাসত, খেলত সিনেমা দেখত বন্ধুদের নিয়ে হৈ চৈ করত। কে বলবে তার বুকের পাঁজরায় একটা প্রকাণ্ড ক্ষতচিহ্ন। এম এ পাস করা পর্যন্ত মা. কোনো তাগাদা দেয়নি—তারপর চাকরি পাওয়ার পর থেকে নানাভাবে প্রসঙ্গটা পেড়েছে। মায়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে, একা হাতে আর পেরে ওঠে না—রঞ্জন বুঝত সবই, কিন্তু রাজি হয়নি। একটা অতীত স্মৃতিকে মূর্খের মতো আঁকড়ে থাকার যে কোনো অর্থ হয় না, এটা ভালমতোই জানে; কিন্তু কী করতে পারে সে? ও বিষয়ে আর কোনোদিনই উৎসাহ বোধ করেনি। এত এত মেয়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, ঘনিষ্ঠতা হয়েছে কিন্তু ওর ছত্রিশ বছরের জীবনে দ্বিতীয়বার আর বসন্ত আসেনি। কারও পথ চেয়ে সে প্রতীক্ষা করছিল কি না?

    —নিশ্চয় নয়। সে তো পাগল নয়। তবে ঐ! ও বিষয়ে সে নির্লিপ্ত। মা যে জানত তার প্রমাণ— আজ চোদ্দো বছরের মধ্যে একবারও ছেলের কাছে ঐ নামটা উচ্চারণ করেনি; একবারও সরাসরি জানতে চায়নি, হ্যাঁরে খোকা! সেই হতভাগীটাকে ভুলতে পারিসনি, না রে?

    সচেতনভাবে নিজের কাছেও সে-কথা ও স্বীকার করত না। তার কথা মাঝে মাঝে ঘুম না-আসা রাতে মনে পড়ত –ভাবত, সে তো মারা যায়নি; এই দুনিয়ারই কোনো এক অচেনা গৃহের অজানা কক্ষে হয়তো সে হতভাগীও বিনিদ্র বালিশ আঁকড়ে পুরনো দিনের রোমন্থন করছে— সেই প্রথম সাক্ষাতের উষ্ণ বাক্য বিনিময় থেকে শেষ সাক্ষাতের উষ্ণ স্পর্শ পর্যন্ত। চোদ্দো বৎসরেও সে উত্তাপ শীতল হয়ে যায়নি। আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে—হঠাৎ একদিন রঞ্জন ঘটনাচক্রে তার মুখোমুখি হয়ে পড়ল। দুজনে দুজনকে চিনতে পারবে তো? কী পরিবেশে? একদিন প্রথম সম্বোধনের অনড় পাঁচিলটা ভেঙে ফেলতে দুজনেই যেমন উদ্‌গ্রীব ছিল, অথচ ভাষা খুঁজে পেত না— আবার কি তাই হবে? রঞ্জন কি পেশ করবে সেই চিরাচরিত প্রশ্নটা –আমাদের গেছে যা দিন, তা কি একেবারেই গেছে, কিছুই কি নেই বাকি?

    আর মিনতি জবাবে জানাবে ও প্রশ্নের একমাত্র জবাব –রাতের সব তারাই আছে দিনের আলোর গভীরে!

    কিন্তু পটভূমিটা যদি রেলগাড়ির কামরায় না হয়? যদি হয়, অন্য কোনো অবাঞ্ছনীয় পরিবেশে! অকৃতদার রঞ্জন যদি কামনার তাড়নায় বন্ধুদের সঙ্গে উপস্থিত হয় কোনো বারবিলাসিনীর ডেরায় –আর সেখানে সাক্ষাৎ পায় তার? মনে মনে শিউরে উঠত রঞ্জন! না! তা কখনই হবে না! নিজের অজ্ঞাতেই মিণ্টি ওকে রক্ষা করবে—কোনো দিন ওসব পাড়ায় পা বাড়াতে দেবে না! যদি হঠাৎ দেখা হয়ে যায়— এই ভয়ে!

    কি সব আবোল তাবোল ভাবছে! এখানে ওখানে জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে কয়েকজন। যাদের নীড় তছনছ করে দিয়ে যায়নি ডাকাতে। রঞ্জন ওদের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনল। না, এখন বাড়ি ফিরবে না সে। মায়ের মুখোমুখি হবার আগে একবার নিজের মুখোমুখি হওয়া দরকার।

    গোকুলচন্দ্র মাত্র বছর তিনেক ছিলেন ওদের একতলার ভাড়াটে হিসাবে। রঞ্জন যখন ফার্স্ট-ইয়ারে ঢোকে তখন ওঁরা আসেন, যে বছর সে বি. এ. দেয় সে বছর চলে যান। রঞ্জনের বাবা হরিবিলাসবাবু তখনও জীবিত। তখনও কোর্টে বের হতেন। দ্বিতলে বাপ- মা- ছেলের ছোট সংসার। একতলায় ভাড়া ছিলেন অধ্যাপক গোকুলচন্দ্র, তাঁর পুত্র-পুত্রবধূ আর একমাত্র নাতনিকে নিয়ে। আর ছিল প্রকাণ্ড একটা কুকুর। ওঁরা যেদিন প্রথম এলেন সেদিনটার কথা ওর স্পষ্ট মনে আছে। সেদিনই লক্ষ্য করেছিল মিনতিকে—এগারো বছরের নেহাত বাচ্চা মেয়ে। বাড়ন্ত গড়ন কিন্তু। রঞ্জন সাহস করে তার সঙ্গে আলাপ করতে পারেনি। মিনতি ভর্তি হয়েছিল মেয়েদের স্কুলে। বেণী দুলিয়ে স্কুলে যেত আসত। দ্বিতলের বারান্দা থেকে একজন যে তাকে লক্ষ্য করে এটা সে নিশ্চয় জানত, কারণ ভুলেও উপর দিতে তাকিয়ে দেখত না। দুটি পরিবারে ঘনিষ্ঠতাও ছিল যথেষ্ট। গোকুলের পুত্রবধূ দ্বিতলে ওর মায়ের কাছে আসতেন, মিনতিও আসত মাঝে মাঝে তাঁর সঙ্গে। অথচ কী আশ্চর্য, দুজনেই দুজনকে এড়িয়ে চলত। রঞ্জন লক্ষ্য করত, পাড়ার আর পাঁচটা ছেলের সঙ্গে প্রয়োজনে মিনতি কথা বলে; পূজা প্যান্ডেলে ওকে বাবলু সুখেনের সঙ্গে গল্প করতে দেখেছে। কি জানি কেন, এক ছাদের নিচে বাস করেও মেয়েটা কোনোদিন ওর সঙ্গে কথা বলেনি। আঠারো-উনিশ বছরের একটি ছেলের এ জন্য আত্মসম্মানে আঘাত লাগলে দোষ দেওয়া যায় না। সে কোনোদিন ভেবে দেখেনি, ব্যাপারটা উল্টো দিক থেকেও সত্য। এক ছাদের নিচে বাস করা একটা বারো বছরের মেয়ের সঙ্গে সে-ও তো এগিয়ে গিয়ে আলাপ করতে পারত। আত্মসম্মানে তো এ পক্ষেরও লাগতে পারে? এ-কথাটা সে বয়সে তার খেয়াল হয়নি।—এমন ভাব দেখাত যেন খেয়ালই নেই, একতলার ভাড়াটে বাড়িতে বেণী দোলানো একফোঁটা একটা মেয়ে ক্লাস সেভেন না এইটে পড়ে।

    বাবলু হয়তো কৌতূহলী হয়ে মাঝে মাঝে ওকে প্রশ্ন করত, এই রঞ্জু তুই সিংহবাহিনীর সঙ্গে কথা বল্সি না কেন রে? ভাব নেই?

    গোকুলচন্দ্রের পোষা কুকুরটা ছিল সিংহের মতো। মিনতির ন্যাওটা। তাই বন্ধুমহলে মিন্টিকে সবাই ঠাট্টা করে বলত –সিংহবাহিনী।

    রঞ্জন বলত, ভাব আবার কী? এক বাড়িতে থাকি, ও আমাকে চেনে আমি ওকে চিনি। ব্যাস। অত আদিখ্যেতা আমার নেই।

    সুখেন ফোড়ন কাটত, তাতেই তো ভয় হয় কেলেঙ্কারিয়াসই কিছু করছিস না তো! অত লোক দেখানো নির্লিপ্ততা কেন বাওয়া? সিঙ্কিং সিঙ্কিং…

    রঞ্জন ধমক দিয়ে থামিয়ে দিত ওদের। এ সব রসিকতা বরদাস্ত হত না।

    এক একবার ভাবত কথা বলে দেখলেই হয়—দেখাই যাক না, ও আলাপ করতে আগ্রহী কি না। সিঁড়ির মুখে, সদর দরজায় আচমকা দেখা হত। দুজনেই পাশ দিত! চমকে উঠত—সম্বোধনের বাধাটা কেউই অতিক্রম করতে পারত না। আচ্ছা ও তো, ঠিক চারটে দশে স্কুল থেকে ফেরে; ঠিক তখনই যদি রঞ্জন হঠাৎ ঘটনাচক্রে সদর দরজায় দাঁড়ায়? ওকে দেখে বলে স্কুল থেকে ফিরছ বুঝি?

    যা মুখফোড় মেয়ে। হয়তো জবাবে বলবে, না গঙ্গাস্নান করে।

    হ্যাঁ মুখফোঁড়। বাবলু-সুখেন দুজনেই বলে, সিংহবাহিনী কথার পিঠে কথা বলায় ওস্তাদ!

    তারপর একদিন আলাপ হল নিতান্ত অ-রোমান্টিক পরিবেশে।

    কলিং বেল বাজতে রঞ্জন উঠে গিয়েছিল সদর দরজা খুলে দিতে, মনে আছে, ছুটির দিন, হয়তো রবিবার। বাপি বাড়িতে। সকালবেলা। বাপি দক্ষিণের বারান্দায় ইজিচেয়ারে খবরের কাগজ পড়ছেন; মা রান্নাঘরে। দরজাটা খুলে দেখে একতলার সেই সিংহবাহিনী; আজও স্পষ্ট মনে আছে দৃশ্যটা। ফ্রক ছেড়ে সবে শাড়ি ধরেছে। মাথার চুল খোলা। রঞ্জনকে দেখে একটু হকচকিয়ে যায়। তারপর সামলে নিয়ে বলে, দাদু পাঠিয়ে দিলেন।

    ওর হাতে একটা খাম। বুঝতে অসুবিধে হল না মাসের এটা প্রথম সপ্তাহ। অর্থাৎ বাড়ি ভাড়ার টাকা। সেই আলাপই হল, অথচ একটা বিশ্রী অ-রোমান্টিক পরিবেশে। হাত বাড়িয়ে খামটা নিল। বললে, ও!

    পুরো দশ সেকেন্ড দুজনেই চুপচাপ। চৌকাঠের দু-প্রান্তে দুজন শেষ পর্যন্ত রঞ্জনই মরিয়া হয়ে বলে বসল, ভিতরে আসবে?

    বলেই খেয়াল হল—ওর বাক্যটা প্রশ্নবোধক চিহ্নে শেষ হওয়াটা ঠিক হয়নি। ওর বরং বলা উচিত ছিল।— ভিতরে এস না।

    মেয়েটি জবাবে বললে, না! আপনি টাকাটা বরং গুনে দেখুন।

    রঞ্জন হেসেই বলেছিল, গুনে দেখার কী আছে? তোমার দাদুই তো গুনে দিয়েছেন।

    —তা হোক।

    মেজাজের ব্যারোমিটারে পারদ ঊর্ধ্বগামী। মেয়েটা কী বলতে চায়? রঞ্জন ঐ খাম থেকে দুখানা নোট হাতাবে? পরে বলা হবে— গুনতিতে কম ছিল। কুঞ্চিত ভ্রুভঙ্গে বলে, কেন বলো তো?

    —সেটাই নিয়ম। টাকা গুনে নিতে হয়।

    ব্যস্! মেজাজ সপ্তমে। রঞ্জন শ্লেষ মিশিয়ে বললে, তাই বুঝি? দুদিন পরে যখন বিয়ে হবে তখন বরের কাছ থেকে মাসকাবারি টাকা গুনে নেবে?

    উড়ন তুবড়িতে যেন আগুনের স্পর্শ। মেয়েটা ছিটকে সরে গেল এক পা। এতক্ষণে সিংহবাহিনী হয়ে বললে, আপনি ইতর।

    চেঁচামেচিতে মা বের হয়ে এসেছে রান্নাঘর থেকে —কী রে? ও মা মিন্টি, কখন এলি?

    রঞ্জন খামটা মায়ের দিকে বাড়িয়ে ধরে বললে, ভাড়ার টাকাটা ঐ সিংহবাহিনীর সামনে গুনে নিও—হাত সাফাই কোরো না!

    মা তো তাজ্জব। কিছু বলবার আগেই রঞ্জন হাওয়া। সেই ওদের প্রথম সাক্ষাৎ। পরে রঞ্জন বুঝেছিল, দোষটা তারই। মেয়েটা এমন কিছু অপমানকর কথা বলেনি। অহেতুক কড়া কথা না বললেই হত। আসলে ওর রাগ হয়েছিল মেয়েটার ওপর নয়, ভাগ্যদেবতার ওপর। প্রথম সাক্ষাতের মুহূর্তটাতে অমন টাকা-পয়সার ভেজাল ঢুকে যাওয়ায়। ভুলটা শুধরে নেবার সুযোগ হয়ে গেল অবশ্য কিছুদিনের মধ্যে। মা পৌষ-পার্বণের পিঠে ভাজছিল; হঠাৎ বললে— এই পাত্রটা একতলার মাসিমাকে দিয়ে আসবি খোকা?

    রঞ্জন জানত, এ জাতীয় আদান-প্রদান প্রায়ই হয়ে থাকে। একতলার পায়েস দোতলায় আসে। দোতলার মালপোয়া একতলায় যায়। গোকুল পিঠের বাটিটা নিয়ে রঞ্জন নেমে গিয়েছিল নিচে। ঘটনাচক্রেই বলতে হবে—কলিং বেল বাজাতে ডেভিলের ঘেউ ঘেউ অগ্রাহ্য করে দরজা খুলে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিল মিনতি। কনভার্স থিয়োরেম। এবার ও সিঁড়ির চাতালে ও চৌকাঠের এ পারে, মেয়েটি ওপারে। একই ভঙ্গিতে পাত্রটা বাড়িয়ে ধরে বলেছিলে, মা পাঠিয়ে দিলেন।

    মেয়েটি সপ্রতিভের মতো বললে, ও! পৌষ-পার্বণের পিঠে বুঝি?

    —হ্যাঁ! কারও পৌষমাস, কারও সর্বনাশ!

    —সর্বনাশ! কার আবার সর্বনাশ?

    —আমার! সামনে পরীক্ষা।

    মিনতি কিন্তু সে ভুল করেনি। প্রশ্নবোধক চিহ্নে শেষ করেনি পরবর্তী বাক্যটা। বলেছিল, সিঁড়ির মধ্যে কেন? ভিতরে আসুন না?

    গেলেই হত; কিন্তু মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, না থাক।

    —কেন? ডেভিলের ভয়ে? ও কিছু বলবে না। আমি যে সিংহবাহিনী।

    —জানি! সেজন্য নয়। সামনে পরীক্ষা।

    —ও তবে থাক।

    আবার পুরো দশ সেকেন্ডে দুজনেই চুপচাপ। শেষ রঞ্জন মরিয়া হয়ে বলল, গুনে নাও।

    —গুনে নেব? কী গুনে নেব?

    —বারোটা পিঠে আছে। গুনে নেওয়াই নিয়ম।

    খিলখিলিয়ে হেসে উঠল মেয়েটা। কি মিষ্টি হাসি ওর। বলে, তাই বুঝি? দুদিন পরে যখন বিয়ে হবে তখন বউকে নিশ্চয় মাসকাবারি টাকা গুনে নিতে বলবেন।

    রঞ্জন হেসে ফেলে। বলে, এ-কথার জবাবে আমার যা বলার কথা, তা আমি বললাম না কিন্তু।

    —কী আপনার বলার কথা?

    —আমি বলতে পারতুম — ‘তুমি ইতর।’

    আবার খিলখিলিয়ে হাসি! বললে তাহলে কী বলবেন?

    ইচ্ছে করে বলেনি। নেহাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল কথাটা। বস্তুত ও স্বেচ্ছায় বলেনি— ভিতর থেকে কে যেন ওর কানে কানে ‘প্রম্পট’ করল। রঞ্জন ‘রিপিট’ করল শুধু — ‘তুমি সুন্দর!’

    মনে হল কথা নয়, এক মুঠো আবির ছুড়ে মেরেছে।

    সেই শুরু। তারপর অতিক্রান্ত-কৈশোর ওরা দুজনে সকলের অগোচরে কেমন করে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল একটা গোপন দুনিয়া তা শুধু ওরা দুজনেই জানে। বাইরের পৃথিবী সে কথা জানতে পারেনি। সুখেন তখনও বলত আয় না একদিন সিংহবাহিনীকে ডেকে তোর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই। রঞ্জন একই ভঙ্গিতে নির্লিপ্ততার ভান করে বলত— দায় পড়েছে আমার।

    এমনকি ডেভিল ছাড়া বাড়ির লোকেরাও জানত না। জানত না যে, ওদের দুজনের ভাব হয়েছে, আড়ালে দুজনে বকম্ বম করে—সিঁড়ির কোনায়, চিলেকোঠায়; এমনকি ক্বচিৎ কখনও ক্লাস পালিয়ে ম্যাটিনির সিনেমাতেও। ঠিক চারটের সময় রঞ্জন গিয়ে হাজির হত ওদের স্কুলের গেটের অদূরে। তারপরে ঘুরপথে দুজনে বাড়ি ফিরত, অনেকটা আগুপিছু করে।

    মনে পড়েছে সেই দুর্ঘটনার কথাও। সিঁড়ির মধ্যে ওদের দুজনকে আবিষ্কার করে অধ্যাপক গোকুলচন্দ্র স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। হঠাৎ সুইচ জ্বেলে তিনি যেন ভূত দেখলেন—এ কি! কী করছিস তোরা ওখানে? অন্ধকারের মধ্যে?

    মিনতি ছুটে পালিয়ে গিয়েছিল। রঞ্জন পালাতে পারেনি। আত্মসম্মানে বেধেছিল তার।

    ঐ ঘটনার কিছুদিন পরেই মিনতির বাবা কাশীতে চলে যান।

    মা তখনই আন্দাজ করে। হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।

    সবটা বুঝতে পেরেছিল যেদিন কাশীর বাড়িতে ডাকাতি হবার খবরটা এল। গোকুলচন্দ্র বজ্রাহত হয়ে গেলেন। রঞ্জনই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল কাশীতে। ফিরে এল তিন দিন পরে। মিনতির মায়ের দেহ মণিকর্ণিকার ঘাটে দাহ করে। বৃদ্ধ যেন পাষাণ হয়ে গেলেন। তাঁর আঘাতটার তবু অর্থ হয়—একমাত্র পুত্রবধূ। আর একমাত্র নাতনি। কিন্তু রঞ্জন? প্রতিবেশী পরিবারের মর্মান্তিক আঘাতে কে না আহত হয়—কিন্তু এ কী! রঞ্জন যেন পাষাণ হয়ে গেল। তখন তার অবস্থা এমন যে, কে-কী ভাবছে তা বুঝতে পারত না। তখনই বুঝতে পেরেছিল মা।

    কিন্তু সে তো বারো চোদ্দো বছর আগেকার কথা। সব শোকই সময়ে মানুষ সহ্য করে। রঞ্জনও করেছে। সে হাসে, খেলে গান, গায়, সিনেমা দেখে কিন্তু তার যৌবনে দ্বিতীয় বার আর বসন্ত আসেনি। ও কিছুতেই ভুলতে পারেনি তার সিংবাহিনীর সেই বিদায় বেলার প্রতিশ্রুতি –কথা দাও। যত যাই হোক, তুমি আমার জন্য অপেক্ষা করবে?

    বাহুবন্ধন দৃঢ়তর করে রঞ্জন বলেছিল, ভয় তো সেদিকে নয় মিন্টি, ভয় তোমার তরফে। মাসিমা আর মেসোমশাই যদি তোমার অন্য কোথাও বিয়ের ঠিক করেন?

    —আমি কিছুতেই রাজি হব না। দরকার হলে সব কথা মাকে খুলে বলব।

    —তাই বোলো। আমিও বলব। মাকে। তোমার দাদু তো কিছুটা জানেন—

    —হ্যাঁ! স্বচক্ষেই তো দেখেছেন সেদিন!

    —তোমাকে বকাবকি করেননি?

    —না। তোমাকে?

    —বিশেষ কিছু নয়। উনি ভেবেছেন, এ আমাদের ছেলেমানুষি।

    সেই ওদের শেষ সাক্ষাৎ। তারপর আর দুজনের দেখা হয়নি। পত্র বিনিময়ও নয়। দুপক্ষের কেউই সাহস পায়নি চিঠিপত্র লিখতে।

    আশ্চর্য! সেই মিন্টি আজ এতদিন পরে, চোদ্দো বছর পরে, এসে দাঁড়াল শাঁখারিপাড়া লেনের বাসায় অথচ তার রঞ্জনদাকে চিনতে পারল না! কিছুই তার মনে নেই। মায়া শেফালী, বাবলু সুখেন—কারও কথা তার মনে পড়ে না।

    তাই রঞ্জন আজ বাড়ি ফিরতে ইতস্তত করছিল। সে জানত, নিশ্চিত জানত— যে কথাটা আজ চোদ্দো বছর ধরে সঙ্গোপনে রেখেছে ওর মা, আজ তাই জানতে চাইবে। একবার শেষ চেষ্টা করে দেখবে। খোকার ধনুর্ভঙ্গপণ ভাঙা যায় কি না পরখ করতে চাইবে।

    কী বলবে রঞ্জন?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউলের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article ঘড়ির কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }