Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং

    স্টিফেন হকিং এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤷

    ০১. শৈশব

    ০১. শৈশব *

    [*এই রচনা এবং এর পরবর্তী রচনার ভিত্তি হল ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জুরিখে আন্তর্জাতিক মোটর নিউরন সমিতি (Motor Neurone Disease Society) তে প্রদত্ত বক্তৃতা। এছাড়া ১৯৯১ সালের লেখা প্রবন্ধে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বক্তৃতার তথ্যগুলো যুক্ত হয়েছে।]

    আমার জন্ম ১০৪২ সালের ৮ জানুয়ারি। তারিখটা গ্যালিলিওর মৃত্যুর ঠিক তিনশ’ বছর পরবর্তী। তবে আমার অনুমান, সেদিন আরও প্রায় দুই লক্ষ শিশু জন্মেছিল। আমি জানি না তাদের ভিতরে আর কেউ জ্যোতির্বিজ্ঞানে আকৃষ্ট হয়েছিল কিনা। আমার বাবা-মা যদিও লন্ডনে থাকতেন, তবুও আমার জন্ম হয়েছিল অক্সফোর্ডে। তার কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জন্মানোর পক্ষে অক্সফোর্ড জায়গাটা ভাল ছিল। জার্মানদের সঙ্গে একটা চুক্তি ছিল : তারা অক্সফোর্ড কিংবা কেমব্রিজে বোমা বর্ষণ করবে না, তার বদলে ব্রিটিশরাও হাইডেলবার্গ (Heidelberg) এবং গটিংগেন (Gottingen) এ বোমা বর্ষণ করবে না। খুব দুঃখের কথা, অনেকটা সুসভ্য এই ব্যবস্থা অন্যান্য শহরগুলোতে বিস্তৃত করা যায়নি।

    আমার বাবা ছিলেন ইয়র্কশায়ারের (Yorkshire) লোক। তাঁর পিতামহ অর্থাৎ আমার প্রপিতামহ ছিলেন একজন সম্পন্ন কৃষিজীবী। তিনি অনেকগুলো ক্ষেত খামার কিনেছিলেন। এই শতাব্দীর প্রথম দিকে ফসলের বাজারে যে সঙ্কট উপস্থিত হয় তার ফলে তিনি দেউলিয়া হয়ে যান। এজন্য আমার বাবার বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। তবুও তারা বাবাকে শিক্ষার জন্য অক্সফোর্ডে পাঠান। বাবা সেখানে চিকিৎসাবিদ্যার পাঠ নেন। তারপর তিনি ট্রপিক্যাল ডিজিজে (Tropical disease গ্রীষ্মপ্রধান দেশের ব্যাধি) গবেষণা শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি পূর্ব আফ্রিকায় যান। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্থলপথে আফ্রিকা পেরিয়ে একটা জাহাজ ধরে ইংল্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে তিনি স্বেচ্ছায় সামরিক কর্মে যোগ দিতে চান। কিন্তু তাঁকে বলা হল তাঁর চিকিৎসাবিদ্যায় গবেষণা আরও বেশি মূল্যবান।

    আমার মা ছিলেন একজন পারিবারিক চিকিৎসকের সাতটি সন্তানের ভিতরে দ্বিতীয়। তাঁর জন্ম হয়েছিল স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো (Glasgow) শহরে। তার যখন বার বছর বয়স তখন তাঁদের পরিবার দক্ষিণে ডেভন (Devon) এ চলে আসেন। আমার বাবার পরিবারের মতো তাদের পরিবার ব্যবস্থা করেন। তারপর তিনি অনেকরকম কাজ করেছেন। তার ভিতরে একটি ছিল ট্যাক্স ইন্সপেক্টরের (Tax Inspector) চাকরি। কাজটা তার অপছন্দ ছিল। সে চাকরি ছেড়ে উনি সেক্রেটারির কাজ নেন। যুদ্ধের প্রথম দিকে এইভাবে তার সঙ্গে আমার বাবার দেখা হয়।

    আমরা থাকতাম উত্তর লন্ডনের হাইগেট (Highgate) এ। আমার বোন মেরীর জন্ম হয় আমার জন্মের আঠার মাস পর। আমি শুনছি, আমার বোনের জন্ম আমার পছন্দ হয়নি। আমাদের দুজনের বয়সের পার্থক্য ছিল খুব অল্প, সেজন্য সমস্ত শৈশব জুড়ে আমাদের দুজনের ভিতর দ্বন্দ্ব ছিল। বড় হওয়ার পর কিন্তু এই দ্বন্দ্ব চলে যায়। তার কারণ আমরা ভিন্ন ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছি। বোন ডাক্তার হল, ফলে আমার বাবা খুব খুশি হয়েছিলেন। আমার ছোট বোন ফিলিপা (Philippa)-র যখন জন্ম হয়, তখন আমার বয়স প্রায় পাঁচ। ব্যাপারটা কি ঘটছে সেটা তখন বুঝতে পারতাম। আমার মনে পড়ে আমি তার আগমনের প্রতীক্ষা করেছি। ভেবেছি, আমরা তিনজন একসঙ্গে খেলতে পারব। সে ছিল খুব ভাবপ্রবণ আর অনুভূতিপ্রবণ, আমি সবসময়ই তার বিচারবুদ্ধি এবং মতামতের মূল্য দিয়েছি। আমার ভাই এডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছে অনেক পরে। সুতরাং আমার শৈশবের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল খুবই কম। পরিবারের অন্য তিন শিশুর সঙ্গে তার বেশ পার্থক্য ছিল। বৈদ্ধিক (intellectual) এবং শিক্ষাজগতের সঙ্গে (academic) তার সম্পর্ক একেবারেই ছিল না। হয়ত এটা আমাদের পক্ষে ভালই হয়েছে। শিশু হিসেবে ওকে সামলানো ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু ওকে ভাল না বেসে পারা যেত না।

    প্রথম যে স্মৃতি আমার মনে আছে সেটা হল হাইগেটের বায়রন হাউসে (Byron House) নার্সারিতে দাঁড়িয়ে কেঁদে বুক ফাটিয়ে দেওয়া। আমার চারদিকে বাচ্চারা খেলা করছিল। আমার মনে হয়েছিল খেলনাগুলো বেশ সুন্দর। আমারও খেলতে ইচ্ছে করছিল, কিন্তু আমার বয়স মোটে আড়াই বছর। আর এই প্রথম আমাকে অচেনা লোকদের ভিতরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় বাবা-মা আমার ব্যাপার দেখে একটু আশ্চর্যই হয়েছিলেন। আমি ছিলাম তাদের প্রথম সন্তান। তারা শিশুদের বিকাশ সম্পর্কে পড়াশোনা করেছিলেন, সেসব বইয়ে লেখা ছিল দুই বছর বয়স থেকেই শিশুদের সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করা উচিত। কিন্তু সেই ভয়াবহ সকালের পর থেকে ওঁরা আমার স্কুল ছাড়িয়ে দিলেন। আবার আমাকে বায়রন হাউসে পাঠিয়েছিলেন দেড় বছর পর।

    সেই সময় অর্থাৎ যুদ্ধের সময় এবং যুদ্ধের ঠিক পরপর হাইগেট অঞ্চলে বিজ্ঞানজগৎ এবং শিক্ষাজগতের অনেকেই থাকতেন। অন্য কোন দেশ হলে তাদের বুদ্ধিজীবী বলা হত। কিন্তু ইংরেজরা নিজেদের ভিতরে বুদ্ধিজীবীর অস্তিত্ব কখনও স্বীকার করেনি। এখানকার সমস্ত বাবা-মা-ই তাঁদের ছেলে-মেয়েদের বায়রন হাউসে পাঠাতেন। সেই সময়কার মান অনুসারে স্কুলটা ছিল খুবই প্রগতিশীল। আমার মনে পড়ে বাবা-মার কাছে আমি নালিশ করতাম স্কুলে আমাকে কিছু শেখায় না। তখনকার প্রচলিত পদ্ধতি ছিল জোর করে ছাত্রদের শেখানো। এ পদ্ধতিতে তারা বিশ্বাস করতেন না। তার বদলে আশা করা হত, ছাত্ররা বুঝতে পারবে না যে তারা শিখছে কিন্তু তারা পড়তে শিখে যাবে অজান্তে। শেষ পর্যন্ত আমি পড়া শিখেছিলাম কিন্তু আট বছর বয়সে। বয়সটা একটু বেশিই হয়েছিল। আমার বোন ফিলিপপা-কে শেখানো হয়েছিল প্রচলিত পদ্ধতিতে। সে চার বছর বয়সেই পড়তে পারত। নিঃসন্দেহে তার বুদ্ধি ছিল আমার চাইতে বেশি।

    উঁচু, সরু একটা ভিক্টোরীয় যুগের বাড়িতে আমরা থাকতাম। বাবা যুদ্ধের সময় বাড়িটা খুব সস্তায় কিনেছিলেন। তখন সবাই ভেবেছে লন্ডনকে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি একটা V-2 রকেট আমাদের বাড়ি থেকে কয়েকটা বাড়ি ছাড়িয়ে গিয়ে পড়েছিল। আমি তখন আমার মা বোনের সঙ্গে বাইরে ছিলাম কিন্তু বাবা বাড়িতে ছিলেন। কপালগুণে তাঁর কোন চোট লাগেনি, বাড়িটারও বিশেষ কোন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু রাস্তায় একটু দূরে কয়েক বছর ধরে বোমা পড়া জায়গাটা ছিল। সেখানে আমি আর আমার বন্ধু হাওয়ার্ড খেলা করতাম। সে থাকত রাস্তার অন্যদিকে তিনখানা বাড়ি পরে । হাওয়ার্ড যেন আমার কাছে রহস্য উন্মোচন করেছিল। আমার চেনা অন্যান্য ছেলে মেয়েদের বাবা-মায়ের মতো হাওয়ার্ডের বাবা-মা বুদ্ধিজীবী ছিলেন না। ও বায়রন হাউস স্কুলে যেত না, যেত সরকারি স্কুলে (Council School)। সে ফুটবল আর বক্সিং খেলা জানত। আমার বাবা-মা ছেলে-মেয়েদের ঐ ধরনের খেলার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারতেন না।

    জীবনের প্রথমদিকের আর একটা স্মৃতি আমার প্রথম খেলনা রেলগাড়ির সেট পাওয়ার। যুদ্ধের সময় খেলনা তৈরি হত না–অন্তত দেশের জন্য তো নয়ই। কিন্তু খেলনা রেলগাড়ি আমার আকর্ষণ ছিল বিরাট। বাবা আমাকে একটা কাঠের রেলগাড়ি বানিয়ে দিতে চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু আমি তাতে খুশি হইনি। আমি এমন গাড়ি চেয়েছিলাম যেটা চলে। তাই তো বাবা একটা পুরানো স্প্রিংয়ের রেলগাড়ি (clock work train) কিনে লোহা দিয়ে ঝালাই করে আমাকে বড়দিনে দিয়েছিলেন। তখন আমার বয়স প্রায় তিন। সে রেলগাড়িটাও ভাল হয়নি। যুদ্ধের পরপরই বাবা আমেরিকা গিয়েছিলেন, কুইন মেরী’ জাহাজে ফেরার সময় মায়ের জন্য কিছু নাইলন কিনে এনেছিলেন। তখন ব্রিটেনে নাইলন পাওয়া যেত না। বোনের জন্য কিনে এনেছিলেন একটা পুতুল। সেটাকে শুইয়ে দিলে চোখ বন্ধ করত। আর আমার জন্য তিনি এনেছিলেন একটা আমেরিকান রেলগাড়ি। সেটাতে গরু ধরবার ফাঁদ ছিল, এমনকি বাংলা চারের আকারে রেললাইনও ছিল। বাক্সটা খুলে আমার যে উত্তেজনা হয়েছিল সেটা এখনও মনে পড়ে।

    স্প্রিয়ের রেলগাড়িগুলো ভালই ছিল কিন্তু আসলে আমি চেয়েছিলাম ইলেকট্রিক ট্রেন। হাইগেটের কাছে ক্রাউচ এন্ড (Crouch End) এ একটা রেলওয়ে ক্লাবের প্রতিরূপে ইলেকট্রিক ট্রেনের নক্সা দেখতে দেখতে আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম। শেষ পর্যন্ত যখন বাবা-মা দুজনেই কোথায় যেন গিয়েছিলেন তখন আমি পোস্ট অফিসের ব্যাঙ্কে সামান্য যে কটা টাকা ছিল তাই তুলে নিয়ে একটা ইলেকট্রিক ট্রেনের সেট কিনে ফেললাম। টাকাগুলো আমি উপহার পেয়েছিলাম ক্রিনিং (christening) এর মতো কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দিনে। কিন্তু তাতেও হতাশ হলাম, গাড়িটা ভাল হয়নি। আজকাল আমরা ক্রেতাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। আমার উচিত ছিল দোকানদার কিংবা যারা বানিয়েছে তাদের কাছে গিয়ে ঐ সেটটা ফেরৎ দিয়ে তার বদলে নতুন সেট দাবি করা। কিন্তু তখনকার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কিছু কেনা, মানে একটা সুবিধা পাওয়া। সেটার যদি দোষ থাকে তাহলে আপনার কপালটা খারাপ। সুতরাং ইঞ্জিনের ইলেকট্রিক মোটরটা মেরামত করার জন্য আমি টাকা দিলাম কিন্তু সেটা কখনওই ভাল কাজ করেনি। পরে বয়স যখন তের থেকে উনিশের মধ্যে তখন আমি এরোপ্লেন আর জাহাজের প্রতিরূপ (model) বানিয়েছি। হাতের কাজে আমি কোনদিনই ভাল ছিলাম না তবে কাজটা আমি করেছিরাম আমার স্কুলের বন্ধু জন ম্যাক্লেনাহান John Macclenahan) এর সঙ্গে। ও কাজটা অনেক ভাল করত। বাড়িতে তার বাবার একটা কারখানা ছিল। আমি সবসময়ই চাইতাম এমন একটা প্রতিরূপ (model) গড়তে যেটা কাজ করে এবং আমি সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। সেটা দেখতে কিরকম তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাতাম না। আমার মনে হয় এই উদ্দেশ্যে আমি আর আমার স্কুলের আর এক বন্ধু রজার ফার্নেহাউ (Roger Ferneyhough) দুজনে মিলে অনেকগুলো জটিল খেলা আবিষ্কার করেছিলাম। একটা খেলা ছিল কারখানার উৎপাদন নিয়ে। সেটাতে ফ্যাক্টরি ছিল। সেই রাস্তার রেললাইনে মাল যাতায়াত করত, এমনকি একটা শেয়ার মার্কেটও ছিল। যুদ্ধের খেলা ছিল। সে খেলার বোর্ডটাতে চার হাজার চৌকোণা খুপরি (square) ছিল। একটা সামন্ত্ৰতান্ত্রিক খেলা ছিল–সে খেলায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ের একটা বংশ থাকত আর থাকত সম্পূর্ণ একটা বংশপঞ্জি। আমার মনে হয় এই সমস্ত খেলা এবং রেলগাড়ি, জাহাজ আর এরোপ্লেনের খেলার উৎস ছিল একটাই। সে উৎস ছিল এগুলোর কর্মপদ্ধতি জানা আর সেগুলোকে কি করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা জানা। পি. এইচ. ডি. (P.H.D. শুরু করার পর এই প্রয়োজন মিটিয়েছে আমার মহাবিশ্ব তত্ত্বসম্পকীয় গবেষণা । মহাবিশ্বের কর্মপদ্ধতি যদি আপনার জানা থাকে তাহলে এক অর্থে সেটাকে আপনি নিয়ন্ত্রণও করতে পারেন।

    ১৯৫০ সালে আমার বাবার কর্মস্থল হাইগেটের কাছে হ্যাঁম্পস্টেড (Hampstead) থেকে লন্ডনের উত্তর পার্শ্বে মিল হিলে (Mill Hill) নবনির্মিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল রিসার্চ এ (National Institute for Medical Research চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান) স্থানান্তরিত হয়। তাঁর মনে হয়েছিল হাইগেট থেকে বাইরে যাতায়াত করার চাইতে লন্ডনের বাইরে থেকে শহরে যাতায়াত বুদ্ধিমানের কাজ। সেজন্য আমার বাবা-মা সেন্ট অ্যালবান্সের ক্যাথেড্রল টাউনে (Cathedral City of St. Albans) একটা বাড়ি কেনেন। জায়গাটা ছিল লন্ডনের কুড়ি মাইল উত্তরে আর মিল হিল থেকে দশ মাইল উত্তরে। সেটা ছিল বেশ বড় ভিক্টোরীয় স্টাইলের জমকালো আর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বাড়ি। বাড়িটা কেনার সময় বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল ছিল না। বাসযোগ্য করতে হলে বাড়িটাতে অনেক কাজ করাবার ছিল। তারপর আমার বাবা আর টাকা খরচ করতে রাজি হলেন না। এই ব্যাপারে তিনি ছিলেন ইয়র্কশায়ারের অন্যান্য লোকেরই মতো। তার বদলে তিনি বাড়িটাকে চালু রাখতে চেষ্টা করলেন আর রঙ করতেন। কিন্তু বাড়িটা ছিল বেশ বড় আর বাবাও এসমস্ত কাজে খুব ওস্তাদ ছিলেন না। তবে পাকাঁপোক্ত গঠন ছিল বাড়িটার সুতরাং এ অযত্নে তেমন কিছু ক্ষতি হয়নি। ১৯৮৫ সালে বাবা খুব অসুস্থ হন (তার মৃত্যু হয় ১৯৮৬ সালে)। বাবা-মা ১৯৮৫ সালেই বাড়িটা বিক্রি করেছেন। বাড়িটা আমি কিছুদিন আগে দেখেছি। মনে হয়নি বাড়িটাতে আর বেশি কিছু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু দেখে মনে হল বাড়িটা একরকমই আছে।

    গৃহকর্মী রাখে এরকম একটা পরিবারের জন্য বাড়িটার পরিকল্পনা করা হয়েছিল । ভাড়ারঘরে একটা নির্দেশক ফলক ছিল– সেটা নির্দেশ করত কোন ঘর থেকে ঘণ্টা বাজানো হচ্ছে। আমাদের কোন গৃহকর্মী অবশ্য ছিল না কিন্তু আমার প্রথম শোবার ঘরটা ইংরাজি L গঠনের একটা ছোট ঘর। ঐ ঘরটা আমি চেয়েছিলাম আমার মাসতুতো বোন সারা (Sarah)-র কথায়। সে আমার চাইতে একটু বড়। সারা সম্পর্কে আমার খুব উচ্চ ধারণা ছিল। সে বলেছিল আমরা ঐ ঘরে খুব মজা করতে পারব। ও ঘরটার একটা আকর্ষণ ছিল, ঐ ঘরের জানালা থেকে মাইকেলের ঘরের ছাদে উঠে জমিতে নেমে যাওয়া যেত।

    সারা ছিল আমার মায়ের সবচেয়ে বড় বোন জ্যানেট Janet) এর মেয়ে। তিনি ডাক্তারি পড়েছিলেন আর তাঁর বিয়ে হয়েছিল একজন সাইকোঅ্যানালিস্টের সঙ্গে। তাঁরা পাঁচ মাইল উত্তরে হার্পেন্ডেন (Harpenden) গ্রামে একইরকম একটা বাড়িতে থাকতেন। আমাদের সেন্ট অ্যালবান্স (St. Albans) এ বাস করতে যাওয়ার সেটা ছিল একটা কারণ। সারার কাছে থাকা আমার কাছে ছিল একটা বিরাট লাভের ব্যাপার। আমি প্রায়ই বাসে করে হার্পেন্ডেন যেতাম। সেন্ট অ্যালবান্স ছিল প্রাচীন রোমান শহর ভেরুলামিয়ামের (Verulamiam) পর। ভেরুলামিয়াম ছিল লন্ডনের পরেই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ রোমান জনপদ। মধ্যযুগে ব্রিটেনের সবচাইতে বিত্তশালী মঠ ছিল ওখানে। এটা তৈরি হয়েছিল সেন্ট অ্যালবান্সের মন্দিরের চারপাশে। তিনি ছিলেন প্রথম রোমান শতায়ু যাকে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মঠের অবশিষ্ট ছিল শুধুমাত্র একটা বিরাট এবং কুশ্রী গির্জা আর প্রাচীন মাঠের প্রবেশদ্বারের দালানটি। মসেটা তখন ছিল সেন্ট অ্যালবান্স স্কুলের অংশ। পরে আমি সেই স্কুলেই পড়েছিলাম।

    হাইগেট কিংবা হার্পেন্ডেনের তুলনায় সেন্ট অ্যালবান্স ছিল একটু গোঁড়া আর ভারিক্কি জায়গা। আমার বাবা-মায়ের সেখানে কোন বন্ধু হয়নি। অংশত সেটা ছিল তাদের নিজেদের দোষ। কারণ তাদের স্বভাব ছিল একটু একা থাকা, বিশেষ করে এরকম স্বভাব ছিল আমার বাবার। কিন্তু ওখানকার জনসাধারণের শ্রেণীগত পার্থক্যেরও এটা প্রকাশ ছিল। আমার সেন্ট অ্যালবান্সের স্কুলের বন্ধুদের কারোরই বাবা-মাকে বুদ্ধিজীবী বলা যেত না।

    হাইগেটে আমাদের পরিবারটা মোটামুটি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু মনে হয় সেন্ট অ্যালবান্সে আমাদের নিশ্চয়ই একটু ছিটগ্রস্ত (eccentric) বলে ভাবা হত। আমার বাবার আচার-ব্যবহারে লোকের এরকম মনে হত। টাকা বাঁচানো সম্ভব হলে তিনি নিজের চেহারা কেমন হল তা নিয়ে মাথা ঘামাতেন না। অল্পবয়সে তাঁদের পরিবার ছিল খুবই গরিব। তার মনে সে দারিদ্র্য একটা দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছিল। নিজের আরামের জন্য পয়সা খরচ করা তিনি বরদাস্ত করতে পারতেন না। এমনকি শেষ বয়সে যখন পয়সা খরচ করবার মতো অবস্থা হয়েছিল তখনও না। তিনি ঠাণ্ডায় খুবই কষ্ট পেতেন। কিন্তু বাড়িতে সেন্ট্রাল হিটিং লাগাতে রাজি হননি। তার বদলে তিনি নিজের স্বাভাবিক পোশাকের উপর কয়েকটা সোয়েটার আর ড্রেসিংগাউন পরে বসে থাকতেন। কিন্তু পরের জন্য তিনি যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করতেন।

    ১৯৫০ সালে তিনি ভাবলেন নতুন গাড়ি কেনার মতো পয়সা তার নেই, সুতরাং তিনি যুদ্ধের আগেকার পুরানো একটা লন্ডন ট্যাক্সি কিনলেন। আমি আর বাবা দুজনে মিলে একটা নিসেন হাট তৈরি করেছিলাম। সেটা ছিল গাড়ির গ্যারেজ। আমাদের পড়শীরা খুব রেগে গিয়েছিলেন কিন্তু আমাদের কাজ বন্ধ করতে পারেননি। সব ছেলেদের মতোই আমি সবার সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করতাম। আমার বাবা-মায়ের কাজকর্মে একটু লজ্জাও পেতাম, কিন্তু ওঁরা তা নিয়ে মাথা ঘামাতেন না।

    আমরা সেন্ট অ্যালবান্সে যখন প্রথম গেলাম তখন আমাকে মেয়েদের হাইস্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। স্কুলের নামটা ওরকম হলেও দশ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেরা ঐ স্কুলে . পড়তে পারত। সেই স্কুলে এক টার্ম (বছরের একটা অংশ) পড়বার পরে কিন্তু আমার বাবা আফ্রিকায় গেলেন। আফ্রিকায় তিনি প্রতিবছরই যেতেন, তবে সে বছর তিনি একটু বেশিদিনের জন্য গিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রায় চার মাসের জন্য। বাবাকে ছেড়ে অতদিন থাকা আমার মায়ের পছন্দ হয়নি। সুতরাং তিনি আমাকে ও আমার দুই বোনকে নিয়ে তার স্কুলের বন্ধু বেরিল (Beryl) এর কাছে চলে গেলেন। বেরিলের বিয়ে হয়েছিল রবার্ট গ্রেভ (Robert Graves) এর সঙ্গে। তিনি থাকতেন স্পেনের মেজরকা (Mejorca) দ্বীপের দেয়া (Deya) গ্রামে। ব্যাপারটা ঘটেছিল যুদ্ধের মাত্র পাঁচ বছর পর। হিটলার মুসোলিনীর বন্ধু স্পেনের ডিক্টেটর তখনও ক্ষমতায় আসীন। (আসলে তিনি তারপরেও কুড়ি বছর ক্ষমতায় আসীন ছিলেন)। যুদ্ধের আগে আমার মা ইয়াং ক্যুনিস্ট লীগের সদস্যা ছিলেন। কিন্তু তবুও তিনি তিনটি তরুণ শিশুকে নিয়ে মেজরকা গেলেন। আমরা দেয়া-তে একটা বাড়ি ভাড়া করেছিলাম। সেখানে আমাদের দিনও কেটেছে আনন্দে। আমার এবং রবার্টের ছেলে উইলিয়ামের একই মাস্টার ছিলেন। এই মাস্টারমশাই ছিলেন রবার্টেরই একজন চেলা (Protege)। আমাদের পড়ানোর চাইতে তাঁর বেশি আকর্ষণ ছিল এডিনবরা উৎসবের জন্য একটা নাটক লেখা। সুতরাং তিনি আমাদের প্রতিদিন। বাইবেলের এক অধ্যায় করে পড়ে সে সম্পর্কে একটা প্রবন্ধ লিখতে বললেন। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের ইংরেজি ভাষার সৌন্দর্য শেখানো। ওখান থেকে চলে আসার আগে আমরা বাইবেলের জেনেসিস (Genesis) এবং এক্সেস (Exodus) অধ্যায়ের একটা অংশ শেষ করি। প্রধান যে কয়টা জিনিস আমি শিখেছিলাম তার ভিতর ছিল ‘And’ দিয়ে কোন বাক্য শুরু না করা। আমি তাকে মনে করিয়ে দিলাম বাইবেলের প্রায় প্রতিটি বাক্যই ‘And’ দিয়ে শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাকে বলা হল রাজা জেমস্ (King James) এর পরে ইংরেজি ভাষার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমি বললাম, তাহলে আমাদের বাইবেল পড়ালেন কেন? কিন্তু কোন লাভ হয়নি। সেই সময় রবার্ট গ্রেভস এর বাইবেলের ভিতরকার অতীন্দ্রিয়বাদ ও প্রতীকীবাদ (mysticism & Symbolism) এ ছিল খুব উৎসাহ।

    হয়। তারপর আমি তথাকথিত ইলেভেন প্লাস পরীক্ষা দিলাম। এটা ছিল একটা বুদ্ধির পরীক্ষা। যারা সরকারি শিক্ষা চাইত তাদের এ পরীক্ষা দিতে হত। এ পরীক্ষা এখন উঠে গেছে। তার প্রধান কারণ অনেক মধ্যবিত্ত ছেলেমেয়েরা এ পরীক্ষায় ফেল করত এবং তাদের এমন স্কুলে পাঠানো হত যেখানে খুব তাত্ত্বিক শিক্ষা হত না (non-academic school)। আমি স্কুলে ক্লাসের পড়ায় যত নম্বর পেতাম তার চাইতে অনেক বেশি নম্বর পেতাম পরীক্ষায়। সুতরাং আমি ইলেভেন প্লাসের পরীক্ষায় পাস করে সেন্ট অ্যালবান্স স্কুলে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পেলাম।

    আমার যখন ১৩ বছর বয়স তখন আমার বাবা চাইলেন আমি ওয়েস্ট মিনস্টার (West Minster) স্কুলে ভর্তি হই। সেটা ছিল একটা প্রধান পাবলিক স্কুল অর্থাৎ আসলে প্রাইভেট স্কুল। তখনকার দিনে শ্রেণীর ভিত্তিতে শিক্ষার একটা কঠিন বিভাজন ছিল। আমার বাবার ধারণা ছিল তাঁর যোগাযোগ কম এবং গুরুত্বও কম। সেজন্য তাঁর চাইতে অনেক কম দক্ষ লোকেরা তাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তার কারণ তাদের সামাজিক অবস্থান অনেক উঁচুতে। আমার বাবা-মায়ের অবস্থা ভাল ছিল না। সেজন্য আমার প্রয়োজন ছিল স্কলারশিপ পাওয়া। স্কলারশিপ পরীক্ষার সময় কিন্তু আমি অসুস্থ ছিলাম। সেজন্য পরীক্ষাটা আমার দেওয়া হয়নি। তার বদলে আমি সেন্ট অ্যালবাঙ্গ স্কুলেই রয়ে গেলাম। সেখানে আমি যা শিক্ষা পেয়েছিলাম সে শিক্ষা ওয়েস্ট মিনস্টার স্কুলে আমি যে শিক্ষা পেতাম তার মতো নিশ্চয়ই, হয়ত বা তার চাইতেও ভাল। আমার কখনও মনে হয়নি উঁচুতলার সমাজের আদব-কায়দা জানা না থাকায় আমার বিশেষ কোন বাধা হয়েছে।

    তখনকার দিনে ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল খুবই শ্রেণীভিত্তিক। শুধু স্কুলগুলোকেই উচ্চশিক্ষার (academic) জন্য এবং উচ্চশিক্ষার জন্য নয় (non-academic) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল তাই নয়, উচ্চশিক্ষার জন্য যে স্কুলগুলো, সেগুলোকেও ভাগ করা হয়েছিল A, B এবং C এই তিনটি স্রোতে (stream)। যারা A স্ট্রীমে ছিল তাদের পক্ষে ব্যাপারটা ভালই হত। কিন্তু যারা B স্ট্রীমে থাকত তাদের পক্ষে ব্যাপারটা অত ভাল হত না। আর যারা C স্ট্রীমে থাকত তাদের পক্ষে ব্যাপারটা খারাপই হত। ফলে তারা নিরুৎসাহ হত। এগারো প্লাসের পরীক্ষার ভিত্তিতে আমাকে A স্ট্রীমে রাখা হয়েছিল। কিন্তু প্রথম বছরের পর যাদের স্থান কুড়ি জনের নিচে হত তাদের B স্ট্রীমে নামিয়ে দেওয়া হত। এটা ছিল তাদের আত্মসম্মানের পক্ষে একটা বিরাট আঘাত। ফলে অনেকেই সে আঘাত সামলে উঠতে পারত না। সেন্ট অ্যালবান্সে প্রথম দুই টার্মে আমি চব্বিশ আর তেইশতম স্থান পেয়েছিলাম। কিন্তু তৃতীয় টার্মে আমার স্থান হয়েছিল অষ্টাদশ। সুতরাং আমি কোনোরকমে কান ঘেঁসে বেরিয়ে গিয়েছিলাম।

    আমি কখনোই ক্লাসে মাঝামাঝির উপরে উঠতে পারিনি (ক্লাসটা ছিল খুবই মেধাবী আর সম্ভাবনাময়)। আমার ক্লাসের কাজকর্ম ছিল খুবই অপরিচ্ছন্ন আর আমার হাতের লেখা ছিল মাস্টারমশাইদের হতাশার কারণ। কিন্তু আমার ক্লাসের বন্ধুরা আমার নাম দিয়েছিল আইনস্টাইন। সেজন্য মনে হয় আমার ভিতরে তারা ভাল কোন লক্ষণ দেখতে পেয়েছিল। আমার যখন বার বছর বয়স তখন আমার এক বন্ধুর সঙ্গে আর এক বন্ধুর এক ব্যাগ মিষ্টি বাজি হয়েছিল। বাজির বিষয় ছিল আমি জীবনে কখনোই কিছু করতে পারব না। জানি না এই বাজির হিসাব কখনো মেটানো হয়েছিল কি-না। আর মেটানো হয়ে থাকলেও কে জিতেছিল সেটা জানা নেই।

    আমার ছয়-সাত জন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাদের অধিকাংশের সঙ্গে আমার এখনো যোগাযোগ আছে। আমরা খুব দীর্ঘ আলোচনায় মগ্ন থাকতাম। আর সব বিষয়েই আমাদের তর্ক হত। যেমন বেতার-নিয়ন্ত্রিত মডেল (প্রতিরূপ) থেকে ধর্ম পর্যন্ত আবার প্যারাসাইকোলজি (Parapsychology)* [* সাধারণ মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়া বহির্ভুত ব্যাপার বা অবস্থাদি (যেমন, ইন্দ্রিয়াতীত প্রক্রিয়ায় মন জানাজানি, পূর্বাহ্নে লব্ধ জ্ঞান, জ্ঞানেন্দ্রিয়ের সাহায্য ব্যতিরেকে প্রত্যক্ষকরণ) সংক্রান্ত বিদ্যা ও বিজ্ঞান] থেকে পদার্থবিদ্যা পর্যন্ত। যেসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করতাম তার ভিতরে একটা ছিল মহাবিশ্বের উৎপত্তি আর মহাবিশ্ব সৃষ্টির জন্য এবং মহাবিশ্ব চালু করার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন ছিল কিনা। আমি শুনেছিলাম সুদূর নীহারিকা থেকে আলো বর্ণালির লালের দিকে বিচ্যুত হয় এবং এজন্য মনে করা হয় মহাবিশ্ব বিস্তারমান (নিলের দিকে বিচ্যুত হলে তার অর্থ হত মহাবিশ্ব সঙ্কুচিত হচ্ছে)। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম লালের দিকের এই বিচ্যুতির অন্য কোন কারণ রয়েছে। হয়ত আলোক ক্লান্ত হয়ে পড়ত এবং আমাদের কাছে আসার পথে লাল হয়ে যেত। মূলগতভাবে অপরিবর্তনশীল এবং চিরস্থায়ী মহাবিশ্বকে মনে হত স্বাভাবিক। পি. এইচ. ডি-র জন্য দুবছর গবেষণার পর আমি বুঝতে পারলাম আমার ভুল হয়েছিল।

    স্কুলের শেষ দুবছরে আমি চেয়েছিলাম গণিত এবং পদার্থবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ হতে। মি, তাহতা (Mr. Tahta) বলে একজন গণিতের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন গণিতে অনুপ্রাণিত। স্কুলে একটা নতুন গণিতের ঘর তৈরি করা হয়েছিল। গণিতের লোকেরা সেখানে নিজেদের ক্লাসঘর বানিয়ে নিলেন। কিন্তু আমার বাবা ছিলেন এর ঘোর বিরোধী। তার ধারণা ছিল মাস্টারি ছাড়া গণিতবিদদের অন্য কোন চাকরি ভবিষ্যতে থাকবে না। আসলে আমি ডাক্তার হলেই তিনি খুশি হতেন। কিন্তু জীববিদ্যায় আমার কোন আকর্ষণ ছিল না। আমার মনে হত জীববিদ্যা অতিরিক্ত বিবরণসর্বস্ব এবং যথেষ্ট মূলগত নয়। তাছাড়া স্কুলে জীববিদ্যার স্থানও ছিল নিচে। সবচাইতে মেধাবী ছেলেরা গণিত এবং পদার্থবিদ্যা পড়ত। তার চাইতে যারা কম মেধাবী তারা পড়ত জীববিদ্যা। বাবা জানতেন আমি জীববিদ্যা পড়ব না। কিন্তু তিনি আমাকে জোর করে রসায়ন পড়িয়েছিলেন আর সামান্য কিছু গণিতও করিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এর ফলে বিজ্ঞানের যে কোন শাখা নির্বাচনের পথ উন্মুক্ত থাকবে। আমি এখন গণিতের অধ্যাপক। কিন্তু ১৭ বছর বয়সে সেন্ট অ্যালবান্স স্কুল ছাড়ার পর থেকে গণিতশাস্ত্রে কোন প্রথাগত শিক্ষা আমার হয়নি। আমার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আমাকে গণিত শিখে নিতে হয়েছে অর্থাৎ আমি যতটা গণিত জানি ততটা শিখতে হয়েছে কেব্রিজে। আমাকে আন্ডার গ্র্যাজুয়েটদের দেখাশোনা করতে হত এবং তাদের শিক্ষাক্রমে তাদের চাইতে এক সপ্তাহ এগিয়ে থাকতে হত।

    বাবা ট্রপিক্যাল ডিজিজ নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি মিল হিল-এ আমাকে তার । সঙ্গে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যেতেন। ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লাগত, বিশেষ করে ভাল লাগত অণুবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে দেখা। তিনি আমাকে কীটপতঙ্গের (insects) ঘরেও নিয়ে যেতেন। সে ঘরে তিনি ট্রপিক্যাল ডিজিজ সংক্রমিত মশা রাখতেন। আমার দুশ্চিন্তা হত। কারণ মনে হত কিছু মশা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি খুবই পরিশ্রমী ছিলেন এবং গবেষণাকর্মে ছিলেন উৎসর্গীকৃতপ্রাণ। তাঁর একটু বিদ্বেষ এবং অবজ্ঞার ভাব ছিল। কারণ, তার ধারণা ছিল যারা অতটা ভাল নয় অথচ যাদের বংশপরিচয় উত্তম এবং যোগাযোগ ও সম্পর্কও ভাল, তারা তার চাইতে এগিয়ে গেছে। তিনি এসব লোক সম্পর্কে আমাকে সাবধান করে দিতেন। কিন্তু আমার মনে হয় ডাক্তারির সঙ্গে পদার্থবিদ্যার একটু পার্থক্য রয়েছে। তুমি কোন স্কুলে পড়েছ কিংবা কার সঙ্গে তুমি সম্পর্কিত তাতে কিছু এসে যায় না। তুমি কি করছ এটাই আসল।

    আমার সবসময়ই জিনিসগুলো কি করে চলে সেটা জানার খুব আগ্রহ ছিল। আমি সেগুলো কি করে কাজ করে দেখার জন্য জিনিসগুলো খুলে ফেলতাম। কিন্তু সেগুলো আবার জুড়ে দেয়ার ব্যাপারে অত ভাল ছিলাম না। আমার ব্যবহারিক ক্ষমতা কখনোই তাত্ত্বিক অনুসন্ধিৎসার সমকক্ষ ছিল না। আমার বাবা আমার বিজ্ঞানে আকর্ষণকে সবসময়ই উৎসাহ দিতেন। এমনকি তিনি আমাকে গণিতও পড়িয়েছেন। তবে আমার বিদ্যা যতদিন না তার বিদ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ততদিন পর্যন্ত। আমার এই পঞ্চাৎপট আর বাবার কর্মক্ষেত্র এরকম থাকার ফলে আমি ধরেই নিয়েছিলাম যে আমি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করব। অল্প বয়সে আমি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার ভিতরে কোন পার্থক্য করিনি। কিন্তু তের-চৌদ্দ বছর বয়স থেকে আমি জানতাম, আমি পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করতে চাই। কারণ, পদার্থবিদ্যাই ছিল মূলগত বিজ্ঞান। পদার্থবিদ্যা স্কুলের সবচাইতে একঘেয়ে বিষয় ছিল। তার কারণ, এটা ছিল এত সহজ ও স্বতঃপ্রতিয়মান কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার পদার্থবিদ্যাই পছন্দ ছিল। রসায়নশাস্ত্রে মজা ছিল অনেক বেশি। কারণ, বিস্ফোরণের মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা হামেশাই ঘটত। কিন্তু পদার্থবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের আশা দিত, আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং কেন আমরা এখানে এসেছি সেটা বুঝবার। আমি মহাবিশ্বের গভীরতা মাপতে চেয়েছিলাম। হয়ত আমি খানিকটা সফলও হয়েছি। কিন্তু এখনো আমার জিজ্ঞাসা প্রচুর।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং
    Next Article কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    স্টিফেন হকিং

    কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    ব্ল্যাকহোল – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    মাই ব্রিফ হিস্ট্রি (আত্মস্মৃতি) – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }