Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণগহ্বর, শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য রচনা – স্টিফেন হকিং

    স্টিফেন হকিং এক পাতা গল্প213 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. সবাই কী পূর্ববিধারিত?

    ১২. সবাই কী পূর্ববিধারিত?*

    [* ১৯৯০ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সিগমা ক্লাব সেমিনারে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা।]

    জুলিয়াস সীজার নাটকে কেসিয়াস ব্রুটাসকে বলছে, অনেক সময় মানুষ নিজের ভাগ্যবিধাতা হয়। কিন্তু সিত্যই কী আমরা নিজেদের ভাগ্যবিধাতা? আমরা যা করি সবই কী পূর্বনির্ধারিত? আগেই ভাগ্যে লেখা ছিল? পূর্বনির্ধারিত ভাগ্যের সপক্ষে যুক্তি ছিল– ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং কালের অতীত, সুতরাং কি হতে চলেছে ঈশ্বর সেটা জানেন। কিন্তু তাহলে স্বাধীন ইচ্ছা আমাদের কী করে থাকতে পারে? নিজেদের কৃতকর্মের জন্য আমরা কী করে দায়ী হতে পারি? একজনের কপালে যদি আগে থাকতেই ব্যাঙ্ক ডাকাতি করা লেখা হয়ে থেকে থাকে তাহলে তার দোষ কোথায়? তাহলে সেজন্য কেন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে?

    সাম্প্রতিককালে নিয়তিবাদের (determinism) ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজ্ঞান। মনে হয় মহাবিশ্ব এবং তার ভিতরকার সবকিছু কালানুসারে কিভাবে বিকাশলাভ করবে সে সম্পর্কে সুসংজ্ঞিত বিধি আছে। যদিও আমরা এই সমস্ত বিধির একবারে নির্ভুল গঠন আবিষ্কার করতে পারিনি তবুও একেবারে চরম পরিস্থিতি ছাড়া প্রায় সবক্ষেত্রেই কি হবে সেটা নির্ধারণ করার মতো জ্ঞান আমাদের আছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা অবশিষ্ট বিধিগুলো আবিষ্কার করতে পারব কিনা সে প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে মানুষের মনের উপর। আমার মনে হয় আগামী কুড়ি বছরে বিধিগুলো আবিষ্কার হওয়ার আধাআধি সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি আবিষ্কার নাও করতে পারি তাহলেও আমাদের যুক্তিতে সত্যিকারের কোন পার্থক্য হবে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল : এমন এক কেতা বিধি থাকা উচিত যে বিধিগুলো শুরু থেকে মহাবিশ্বের বিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করবে। এ বিধিগুলো ঈশ্বর সৃষ্টি করে থাকতে পারেন কিন্তু মনে হয় ঈশ্বর কিংবা ঈশ্বরী আইনভঙ্গ করার জন্য মহাবিশ্বে হস্তক্ষেপ করেন না।

    মহাবিশ্বের প্রাথমিক নক্সা হয়ত ঈশ্বর বেছে নিয়েছিলেন কিংবা হয়ত সেটাও নির্ধারিত হয়েছিল বিজ্ঞানের বিধিগুলো দিয়ে। যাই হোক না কেন, মনে হয় তারপর থেকে মহাবিশ্বের সবই নির্ধারিত হবে বিজ্ঞানের বিধিসম্মত বিবর্তনের দ্বারা। সুতরাং আমরা কি করে নিজেদের ভাগ্যবিধাতা হব সেটা বোঝা কঠিন।

    এমন কোন মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আছে যে তত্ত্ব মহাবিশ্বের সব কিছু নির্ধারণ করে–এ কল্পন কতগুলো সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রথমত ধরে নেওয়া যেতে পারে মহান ঐক্যবদ্ধ হতত্ত্ব গাণিতিক বাগ্বিধিতে সুষ্ঠু এবং সংক্ষিপ্ত (অনাবশ্যক বাহুল্যবর্জিত compact)। সর্ববিষয়সম্পর্কীয় তত্ত্বের একটি বিশেষত্ব এবং সারল্য থাকা উচিত, অথচ কয়েকটি সমীকরণ কি করে আমরা চারপাশে যে জটিলতা এবং খুঁটিনাটি বিশদ বিস্তার দেখতে পাই তার কারণ দেখাতে পারে? সত্যিই কি বিশ্বাস করা যেতে পারে যে মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব স্থির করে দিয়েছেন এ সপ্তাহের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গানের রেকর্ডের শিরোনামে থাকবে সিনিয়া ওকিনোর (Sinead O’Connor) কিংবা কসমোপলিটানের (Cosmopolitan) প্রচ্ছদপটে থাকবেন ম্যাডোনা?

    মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব সমস্তই স্থির করে এ কল্পনের দ্বিতীয় সমস্যা : আমরা যা বলি সবই নির্ধারিত হয় তত্ত্বটি দিয়ে। কিন্তু বাক্যটি যে সঠিক হবে সেটা কেন নির্ধারিত হবে? ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি নয় কি? কারণ একটি সঠিক বক্তব্য থাকলে সঠিক বক্তব্য অনেক থাকে। প্রতিদিন ডাকে আমার কাছে কয়েকটি তত্ত্ব আসে। লোকে যে তত্ত্বগুলো আমার কাছে পাঠায় তাদের প্রত্যেকটি পৃথক এবং অধিকাংশেরই পারস্পরিক সামঞ্জস্য নেই। তবুও হয়ত মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব স্থির করেছে– লেখকরা মনে করবে তারাই সঠিক। সুতরাং আমি যা বলি তার কেন বৃহত্তর সত্যতা থাকবে? আমি কি মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের দ্বারা সমরূপে নির্ধারিত নই?

    সবকিছু পূর্বনির্ধারিত এই কল্পনের আরেকটি সমস্যা : আমরা বোধ করি আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা রয়েছে। আমরা যদি কিছু করব বলে ঠিক করি তাহলে সেটা করার স্বাধীনতা আমাদের আছে। কিন্তু সবই যদি বিজ্ঞানের বিধি দিয়ে নির্ধারিত হয় তাহলে স্বাধীন ইচ্ছা নিশ্চয়ই একটা মায়া এবং আমাদের যদি স্বাধীন ইচ্ছা না থাকে তাহলে আমাদের কৃতকর্মের জন্য আমাদের দায়িত্বের ভিত্তি কি? কোন উন্মাদ যদি কোন অপরাধ করে তাহলে আমরা তাকে শাস্তি দিই না। তার কারণ আমরা সিদ্ধান্ত করেছি, তারা এ কাজ না করে পারে না। কিন্তু মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব যদি আমাদের সকলের নিয়ামক হয় তাহলে আমরা কেউই সে কাজ না করে পারি না। সুতরাং কৃতকর্মের জন্য কোন লোককে কেন দায়ী করা হবে।

    নিয়তিবাদ কিংবা নির্ধারণীয়তাবাদে এ সমস্যাগুলো নিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনা ছিল কিন্তু খানিকটা পণ্ডিতি ব্যাপার। কারণ তখন আমার বিজ্ঞানের বিধি সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থেকে অনেক দূরে এবং আমরা জানতাম না মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা কি করে নির্ধারিত হয়েছিল। সমস্যাগুলো এখন অনেক বেশি জরুরি কারণ সম্ভাবনা আছে একটা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব। আমরা মোটে কুড়ি বছরে আবিষ্কার করতে পারি। আমরা বুঝতে পারছি প্রাথমিক অবস্থা হয়ত বিজ্ঞানের বিধিগুলো দিয়ে নির্ধারিত হয়েছিল। এর পর আমি আলোচনা করেছি, এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা। আমার বিরাট কোন মৌলিকতা বা গভীরতার দাবি নেই কিন্তু এই মুহূর্তে আমি এর চাইতে বেশি কিছু করতে পারি না।

    প্রথম সমস্যা দিয়ে শুরু করি : তুলনামূলকভাবে একটা সরল এবং সংক্ষিপ্ত তত্ত্ব কি করে একটা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে পারে? সেই মহাবিশ্ব–আমরা যাকে পর্যবেক্ষণ করি, সেরকম জটিল এবং যার রয়েছে নানা তুচ্ছ খুঁটিনাটি। এর চাবিকাঠি রয়েছে কণাবাদী বলবিদ্যার অনিশ্চয়তার নীতিতে। এ নীতির বক্তব্য–একটি কণিকার অবস্থান এবং দ্রুতি দুটোই খুব নির্ভুলভাবে মাপা সম্ভব নয়। অবস্থান যত নির্ভুলভাবে মাপবেন দ্রুতির মাপন হবে তত কম নির্ভুল এবং এর বিপরীতটাও সত্য (vice versa)। বর্তমানকালে যখন জিনিসগুলো খুব দূরে দূরে অবস্থিত এবং অবস্থানে সামান্য অনিশ্চয়তা খুব বেশি পার্থক্য সৃষ্টি করে না, তখন এই অনিশ্চয়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু অতি আদিম মহাবিশ্বে সব জিনিসই খুব কাছাকাছি ছিল সুতরাং অনিশ্চয়তা ছিল প্রচুর এবং মহাবিশ্বের বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য অবস্থা ছিল। এই বিভিন্ন সম্ভাব্য আদিম অবস্থাগুলো বিবর্তনের পথে মহাবিশ্বের বিভিন্ন ইতিহাসে একটা গোষ্ঠীর সৃষ্টি করত। বৃহত্মানের বিচারে এই ইতিহাসগুলোর অবয়ব সমরূপ। তারা যে মহাবিশ্বের অনুরূপ হত সে মহাবিশ্ব ছিল সুষম (uniform), মসৃণ এবং প্রসারমাণ। অবশ্য খুঁটিনাটি ব্যাপারে তাদের পার্থক্য থাকত। যেমন, তারকাগুলোর বণ্টনে এবং তারও পার্থক্য থাকত তাদের পত্রিকাগুলোর প্রচ্ছদপটে কি আছে তাই নিয়ে (অবশ্য ঐ ইতিহাসগুলোতে যদি পত্রিকা থাকত)। সুতরাং আমাদের চারপাশের মহাবিশ্বের জটিলতা এবং তাদের খুঁটিনাটির উদ্ভব হয়েছিল আদিম যুগের অনিশ্চয়তার নীতি থেকে। এ থেকে মহাবিশ্বের ইতিহাসের একটি পুরো গোষ্ঠী পাওয়া যায়। এমন একটা ইতিহাস থাকবে যেখানে নাৎসীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জিতেছিল। যদিও তার সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু ঘটনাচক্রে আমরা এমন একটি ইতিহাসে বাস করি, যে ইতিহাসে মিত্রপক্ষ যুদ্ধ জয় করেছিল এবং কসমোপলিটানের প্রচ্ছদপটে ম্যাডোনা ছিলেন।

    এখন আমি দ্বিতীয় সমস্যা বিচার করব : যদি আমরা যা করি সেটা কোন মহান একটা ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়, তাহলে সে তত্ত্ব কেন নির্ধারণ করবে যে আমরা। মহাবিশ্ব সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেব? আমরা যা বলছি তার সত্যতা কেন থাকবে? এ প্রশ্নে আমার উত্তরের ভিত্তি ডারউইনের স্বাভবিক নির্বাচনের কল্পন থেকে। আমি ধরে নিচ্ছি কতগুলো পরমাণুর আপতনিক (chance) সমন্বয়ের ফলে পৃথিবীতে জীবনের একটি আদিম রূপ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উদ্ভূত হয়েছিল। জীবনের এই আদিম রূপ বোধহয় ছিল একটি বৃহৎ অণু। কিন্তু সম্ভবত সেটি ডি. এন. এ. ছিল না। কারণ, পূর্ণ একটি ডি. এন. এ. অণু অসম্বন্ধ (random) সমন্বয় দ্বারা সৃষ্টি হওয়ার আপতনিক chance) সম্ভাবনা কম।

    আদিম জীবন নিজের বংশ রক্ষা করত। কণাবাদী অনিশ্চয়তার নীতি এবং পরমাণুগুলোর অসম্বন্ধ তাপীয় গতির অর্থ হবে বংশ রক্ষার ব্যাপারে কিছুসংখ্যক ভুল হয়েছিল। এই ভুলগুলোর অধিকাংশই জীবটির জীবন রক্ষার পক্ষে কিংবা বংশ রক্ষার পক্ষে মারাত্মক হয়েছিল। এই ভুলগুলো তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মে বাহিত হত না। তারা লুপ্ত হত। কয়েকটি গুণ উপকারে লাগত, তবে সেগুলোও শুদ্ধ আপতনিক। যে সমস্ত জীবের এই ভুলগুলো ছিল তাদের বেঁচে থাকবার এবং বংশ রক্ষা করার সম্ভাবনা ছিল বেশি। ফলে তাদের প্রবণতা হত মূল অনুন্নত জীবগুলোর স্থান অধিকার করা।

    আদিম স্তরে ডি. এন. এ-র জোড়া প্যাচানো তারের মতো গঠন (double helix structure) হয়ত ঐ রকমই একটি উন্নতি ছিল। এটি বোধহয় এমন একটি অগ্রগতি ছিল যে জীবের আগেকার রূপ যাই থাক না কেন, এই উন্নীত জীবগুলো সম্পূর্ণভাবে তার স্থান দখল করে নিল। বিবর্তনের অগ্রগতি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বিকাশের পথও প্রদর্শন করেছে। যে জীবগুলো তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়গুলোর সগ্রহ করা উপাত্তগুলোর নিহিতার্থ সঠিকভাবে বুঝতে পারত এবং সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ করত, তাদের বেঁচে থাকার এবং বংশ রক্ষা করার সম্ভাবনা ছিল বেশি। মানব জাতি এই ক্ষমতাকে অন্য স্তরে নিয়ে এসেছে। উচ্চশ্রেণীর বাঁদরদের সঙ্গে দেহ এবং ডি. এন. এ. তে আমাদের সাদৃশ্য খুবই বেশি। কিন্তু আমাদের ডি. এন. এ.-তে সামান্য পরিবর্তন আমাদের ভাষা বিকাশের ক্ষমতা দান করেছে। এর অর্থ আমাদের এক প্রজন্মের সমাচার এবং সঞ্চিত অভিজ্ঞতা, অন্য প্রজন্মকে কথ্য ভাষায় এবং পরবর্তীকালে লিখিত ভাষায় হস্তান্তর করতে পারি। পূর্বকালে অভিজ্ঞতার ফল হস্তান্তর করা যেত শুধুমাত্র বংশবৃদ্ধির সময় অসম্বন্ধ ভ্রমের মাধ্যমে ডি. এন. এ.-র সঙ্কেত লিপিভুক্ত হয়ে। এ পদ্ধতির গতি ছিল ধীর। এর ফল হয়েছে বিবর্তনের নাটকীয় গতিবৃদ্ধি। মানবজাতি (human race) পর্যন্ত বিবর্তন হতে সময় লেগেছে তিনশ’ কোটি বছর। কিন্তু গত দশ হাজার বছরে আমাদের লিখিত ভাষা বিকাশলাভ করেছে। এর ফলে আমরা গুহাবাসী অবস্থা থেকে মহাবিশ্বের পরম তত্ত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করার সামর্থ্য ভাল করার মতো অবস্থায় এসে পৌঁছেছি।

    গত দশ হাজার বছরে কোন গুরুত্বপূর্ণ জীববিজ্ঞানভিত্তিক বিবর্তন হয়নি। সুতরাং আমাদের বুদ্ধি, আমাদের জ্ঞানেন্দ্রিয়েয় সংগ্রহ করা সংবাদ থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সামর্থ্য সবেরই শুরু আমাদের গুহাবাসী জীবন থেকে কিংবা তারও আগে থেকে। এগুলো নির্বাচন করার ভিত্তি ছিল কতগুলো জন্তুকে খাদ্যের জন্য হত্যা করার সামর্থ্যের ভিত্তিতে কিংবা তাদের দ্বারা নিহত হওয়া এড়ানোর সামর্থ্যের ভিত্তিতে। এই উদ্দেশ্যে যে মানসিক গুণগুলো নির্বাচন করা হয়েছিল, বর্তমান যুগের অত্যন্ত পৃথক পরিস্থিতিতে যে সেই গুণগুলো আমাদের এত বেশি কাজে লাগছে, সেটা একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা। একটা মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আবিষ্কার কিংবা নিয়তিবাদ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর করায় জীবন রক্ষার দিক দিয়ে কোন বিশেষ সুবিধা হয় না। তবুও অন্য উদ্দেশ্য আমরা যে বুদ্ধি বিকশিত করেছি, সে বুদ্ধি এই সমস্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর খোঁজার সামর্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিতি দান করে।

    এখন আমি তৃতীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব : স্বাধীন ইচ্ছার প্রশ্ন এবং নিজের কৃতকর্ম সম্পর্কে দায়িত্বের প্রশ্ন। ব্যক্তিনিষ্ঠভাবে আমরা চিন্তা করি আমরা কে এবং আমরা কি করছি, এগুলো বেছে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে। কিন্তু এটি একটি বিভ্রান্তিও (illusion) হতে পারে। অনেকে ভাবেন তারা যীশু খ্রিস্ট কিংবা নেপোলিয়ান। কিন্তু তারা সবাই সঠিক হতে পারেন না। আমার প্রয়োজন একটি বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষা, যেটা আমরা বাইরে থেকে প্রয়োগ করতে পারি এবং সে পরীক্ষার দ্বারা বুঝতে পারি একটি জীবের স্বাধীন ইচ্ছা আছে কি নেই। উদাহরণ : ধরে নেওয়া যাক, অন্য একটি তারকা থেকে ছোট সবুজ ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। আমরা কি করে বুঝব তার স্বাধীন ইচ্ছা আছে না আমাদের মতো আচরণের কর্মসূচি তার ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়ে একটি যন্ত্রমানব আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে?

    মনে হয়, স্বাধীন ইচ্ছার চরম বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষা হবে : এই জীবটির আচরণ সম্পর্কে কি ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব? যদি সেটা সম্ভব হয় তাহলে স্পষ্টতই তার স্বাধীন ইচ্ছা নেই। তার আচরণ পূর্বনির্ধারিত। অন্যদিকে, যদি আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব না হয়, তবে কার্যকর সংজ্ঞা হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে জীবটির স্বাধীন ইচ্ছা আছে।

    স্বাধীন ইচ্ছার এই সংজ্ঞায় একটি আপত্তি হতে পারে : আমরা একটি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আবিষ্কার করলে মানুষ কি করবে এ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব। তবে মানুষের মস্তিষ্কও অনিশ্চয়তার অধীন। যেমন, কণাবাদী বলবিদ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অসম্বন্ধতার উপাদান মানুষের আচরণে রয়েছে। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে জড়িত শক্তি অল্প, সেজন্য কণাবাদী বলবিদ্যার অনিশ্চয়তা একটি ক্ষুদ্র অভিক্রিয়া মাত্র। মানবিক আচরণ সম্পর্কে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করার অসামর্থ্যের সত্যিকারের কারণ এ কাজটা খুব শক্ত। আমরা বর্তমানে মস্তিষ্কের ক্রিয়া শাসনকারী মূলগত ভৌতবিধিগুলো জানি। তুলনায় তারা সরল কিন্তু কয়েকটি কণিকা বেশি জড়িত থাকলে সমীকরণ সমাধান খুবই শক্ত। এমনকি সরলতর নিউটনীয় তত্ত্বের নির্ভুলভাবে সমীকরণ সমাধান করা যায় শুধুমাত্র দুটি কণিকার ক্ষেত্রে। তিনটি কিংবা ততোধকি কণিকা থাকলে আসন্নতার (approximation) দ্বারস্থ হতে হয়। কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাঠিন্যও বাড়ে। মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ১০২৬ কিংবা ১০০ মিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ান কণা আছে। মস্তিষ্কের প্রাথমিক অবস্থা এবং যে স্নায়ুবিক উপাত্তগুলো datas) তাতে প্রবেশ করছে সেটা থাকলে বোঝা যাবে এ সংখ্যা এত বেশি যে আমরা কোনদিনও মস্তিষ্ক কি রকম আচরণ করবে সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব না। আসলে আমরা অবশ্য মস্তিষ্কের প্রাথমিক অবস্থা মাপতে পারি না। তার কারণ সেটা করতে গেলে মস্তিষ্কটিকে ছিন্নবিছিন্ন করতে হবে। সেটা যদি আমরা করতে প্রস্তুতও হই, তাহলেও আমাদের এত কণিকার হিসাব রাখতে হবে যা সম্ভব নয়। তাছাড়া, সম্ভবত প্রাথমিক অবস্থা সাপেক্ষ মস্তিষ্ক খুবই স্পর্শকাতর। প্রাথমিক অবস্থার সামান্য পরিবর্তন পরবর্তী আচরণে বিরাট পার্থক্য নিয়ে আসতে পারে। সুতরাং যদিও আমরা মস্তিষ্ক শাসনকারী মূলগত সমীকরণগুলো জানি, তবুও আমরা মানবিক আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে একেবারেই অপারগ।

    যখনই আমরা স্থলসত্ত্বক (macroscopic) তত্ত্বগুলো নিয়ে বিচার করি তখনই বিজ্ঞানে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। তার কারণ, মূলগত সমীকরণগুলো সমাধান করার মতো কোনরকম সম্ভাবনা থাকার পক্ষে কণিকাগুলোর সংখ্যা সবসময়ই অত্যাধিক। তার বদলে আমরা কার্যকর তত্ত্বগুলো ব্যবহার করি। এই তত্ত্বগুলো হল আসন্নতা। এ ক্ষেত্রে বিরাট সংখ্যক কণিকাস্থলে কয়েকটি মাত্র রাশি প্রতিস্থাপিত হয়। প্রবাহী বিজ্ঞানে (fluid mechanies) জলের মতো একটি তরলপদার্থে লক্ষ কোটি অণু থাকে সেগুলো আবার গঠিত হয় ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন দিয়ে। তবুও তাকে অবিচ্ছিন্ন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা একটি উত্তম আসন্নতা। তার বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র গতিবেগ, ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা। প্রবাহী বিজ্ঞানের কার্যকর তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একেবারে নির্ভুল নয়। আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো শুনলেই সেটা বোঝা যায়। কিন্তু জাহাজ কিংবা তৈলবাহী পাইপ লাইনের পরিকল্পনা করার পক্ষে সেগুলোই যথেষ্ট।

    আমার অভিভাবন (suggestion) : স্বাধীন ইচ্ছা এবং আমাদের কৃতকর্মের জন্য নৈতিক দায়িত্বের কল্পন আসলে যে অর্থে প্রবাহী বিজ্ঞানের তত্ত্ব কার্যকর সেই অর্থে কার্যকর। হতে পারে আমরা যা করি তার সবটাই কোন এক মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের দ্বারা নির্ধারিত। সেই তত্ত্ব যদি স্থির করে থাকে আমরা ফাঁসিতে মরব, ডুকে মারব না– তাহলে ঝড়ের ভিতরে একটি ছোট নৌকা নিয়ে সমুদ্রে ভাসতে হলে ফাঁসিকাঠই যে আপনার নিয়তি সে সম্পর্কে ভয়ঙ্করভাবে নিশ্চিত হতে হবে। আমি দেখেছি, যারা দাবি করেন–সমস্তই পূর্বপরিকল্পিত এবং এ সম্পর্কে আমরা কিছুই করতে পারি না, তারাও রাস্তা পারে হওয়ার আগে ভাল করে দেখে নেন। হতে পারে, যারা দেখে নেন না, তাঁরা কাহিনীটা বলার জন্য বেঁচে থাকেন না।

    সবই পূর্বপরিকল্পিত এই কল্পনের উপর ভিত্তি করে কেউ নিজের আচরণের ভিত গড়তে পারেন না। কারণ, কি নির্ধারিত আছে সেটা তিনি জানেন না। তার বদলে একটি কার্যকর তত্ত্ব গ্রহণ করা উচিত। ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা আছে এবং সে নিজের কৃতকর্মের জন্য দায়ী। মানবিক আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য এই তত্ত্ব খুব ভাল নয়। কিন্তু তবুও আমরা এ তত্ত্ব গ্রহণ করি। তার কারণ মূলগত বিধি থেকে উদ্ভুত সমীকরণগুলো সমাধান করার কোন সম্ভাবনা নেই। আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা বিশ্বাসের একটি ডারউইনীয় যুক্তিও আছে। যে সমাজে ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়িত্ব বোধ করে সে সমাজের মানুষের যুক্তভাবে কাজ করার এবং নিজের মূল্যবোধ বিস্তার করার জন্য বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য পিঁপড়েরা একযোগে কাজ করে এবং ভালই কাজ করে। কিন্তু ঐ রকম সমাজ নিশ্চল (static), এ রকম সমাজ পরিবেশের বিরুদ্ধতায় (challenges) সাড়া দিতে পারে না কিংবা নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে না। নিজেদের পারস্পরিক উদ্দেশ্যের অংশীদার স্বাধীন মানুষের সমবায় কিন্তু নিজেদের সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের অংশীদার স্বাধীন মানুষের সমবায় কিন্তু নিজেদের সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সহযোগিতা করতে পারে আবার নতুন আবিষ্কার করার মতো নমনীয় (flexible) হতে পারে। সেজন্য ঐ রকম একটি সমাজের সমৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা এবং নিজেদের মূল্যবোধ বিস্তার করার সম্ভাবনা বেশি।

    স্বাধীন ইচ্ছার কল্পন বিজ্ঞানের মূলগত বিধির চাইতে পৃথক ভুক্তির (arena) অধিকারে। কেউ যদি বিজ্ঞানের বিধির ভিত্তিতে অবরোহী পদ্ধতিতে মানবিক আচরণ স্থির করেন তাহলে তিনি আত্মনির্দেশক তন্ত্রের (self referencing system) একটি যৌক্তিক স্ববিরোধিতায় (paradox) জড়িয়ে পড়বেন। যদি মূলগত বিধি থেকে ব্যক্তি কি করছে সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেত তাহলে এই ভবিষ্যদ্বাণীই ঘটনার পরিবর্তন করতে পারত। কালে ভ্রমণ সম্ভব হলে যে সমস্যা হত এ সমস্যা অনেকটা সেইরকম। কালে ভ্রমণ কখনও সম্ভব হবে বলে আমার মনে হয় না। ভবিষ্যতে কি হবে তা যদি আপনি জানতে পারতেন তাহলে আপনি ভবিষ্যতের ঘটনার পরিবর্তনও করতে পারতেন। আপনি যদি জানতেন গ্র্যান্ড ন্যাশনাল রেসে কোন ঘোড়াটা জিতবে তাহলে আপনি তার উপরে বাজি রেখে বিরাট লাভ করতে পারতেন। কিন্তু সেই ক্রিয়া বাজির বৈষম্যের পরিবর্তন করবে change the odds)। ব্যাক টু দি ফিউচার’ বইটি দেখলে বুঝতে পারা যাবে কি রকম সমস্যা হতে পারে।

    নিজের কর্ম সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার এই স্ববিরোধিতার সঙ্গে এর আগে আমি যে সমস্যা উল্লেক করেছি সেটি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত : পরম তত্ত্ব কি স্থির করবে আমরা পরম তত্ত্ব সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্তে আসব? আমার যুক্তি ছিল প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) সম্পর্কে ডারউইনের কল্পন আমাদের সঠিক সমাধান এনে দেবে। হতে পারে নির্ভুল উত্তরের বিবরণ দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি এটা নয়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের অন্ততপক্ষে আমাদের এমন পথে নিয়ে যাওয়া উচিত, যে পথে আমরা এমন এক কেতা ভৌত বিধি পাব যে বিধি মোটামুটি ভাল কাজ করবে। তবে ঐ ভৌত বিধিগুলো আমরা অবরোহী পদ্ধতিতে (deduce) মানবিক আচরণ নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করতে পারি না। তার দুটি কারণ। প্রথমত: আমরা সমীকরণগুলো সমাধান করতে পারি না। দ্বিতীয়ত: আমরা যদি পারতামও তাহলেও ভবিষ্যদ্বাণী করার পর তন্ত্রটি গোলমাল হয়ে যেত। মনে হয় প্রাকৃতিক নির্বাচন আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা বিষয়ে কার্যকর তত্ত্ব গ্রহণের পথ দেখাবে। কেউ যদি মেনেও নেন যে ব্যক্তির কর্মগুলো স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া, তাহলে তিনি আর যুক্তি দেখাতে পারবেন না যে, কোন কোন ক্ষেত্রে সেগুলো বহিরাগত বল দ্বারা নির্ধারিত। প্রায় স্বাধীন ইচ্ছা’ কল্পনের কোন অর্থ হয় না। একজন ব্যক্তির কি নির্বাচন করার সম্ভাবনা সেটা কেউ কেউ অনুমান করতে পারেন, এই তথ্যের সঙ্গে কারও কারও এই নির্বাচন স্বাধীন নয়–এই মত গুলিয়ে ফেলার প্রবণতা আছে। আমার অনুমান ‘আপনাদের অনেকে আজ বিকেলে কিছু খাবেন কিন্তু না খেয়ে শুতে যাওয়া স্বাধীনতা আপনাদের সবারই আছে’। এই রকম গোলমালের একটি উদাহরণ দায়িত্বের হ্রাসপ্রাপ্তি মতবাদ: একটি ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের জন্য চাপ দেওয়া উচিত নয়, তার কারণ সে পীড়নের (stress) মুখে ছিল। হতে পারে কারও কারও হয়ত পীড়নের মুখে থাকলে সমাজবিরোধী কাজ করার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তার শাস্তি কমিয়ে দিয়ে তার অপরাধমূলক কর্ম করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

    বিজ্ঞানের মূলগত বিধিগুলো সম্পর্কে গবেষণা এবং মানবিক আচরণ সম্পর্কে গবেষণা ভিন্ন ভিন্ন প্রকোষ্ঠে রেখে দেওয়া উচিত। অবরোহী পদ্ধতিতে মানবিক আচরণ নির্ধারণের জন্য মূলগত বিধিগুলো ব্যবহার করা যায় না। এর কারণগুলো আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি। তবে আশা করা যেতে পারে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের যে বুদ্ধি এবং যৌক্তিক চিন্তার ক্ষমতা আমরা বিকশিত করেছি, সেগুলোকে আমরা ব্যবহার করার আশা করতে পারি। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রাকৃতিক নির্বাচন আগ্রাসনের মতো অন্য কয়েকটি বৈশিষ্ট্যও বিকশিত করেছে। গুহাবাসের যুগে কিংবা তারও আগে আগ্রাসন জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারত। ফলে প্রাকৃতিক নির্বাচনের এ প্রবৃত্তিকে পছন্দ হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিবিদ্যা আমাদের হাতে এমন ধ্বংস ক্ষমতা দিয়েছে যে, আগ্রাসন এখন একটা বিপজ্জনক গুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ গুণ এখন মনুষ্যজাতির অস্তিত্বই বিপন্ন করে তুলেছে। মুশকিল হল আগ্রাসনী সহজাত প্রবৃত্তি (instinct) আমাদের ডি.এন.এ.-র সঙ্কেতলিপিতে রয়েছে (encoded মনে হয়। ডি.এন.এ.-র পরিবর্তন হয় জীববিদ্যাভিত্তিক বিবর্তনে। সে বিবর্তনকালের মান বহু নিযুক্ত (million ১০,০০,০০০) বছর। কিন্তু আমাদের ধ্বংস ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তথ্যের বিবর্তনের fevolution of information) কালের মানে, সে মান এখন মাত্র কুড়ি কি ত্রিশ বছর। আমরা যদি আমাদের আগ্রাসন বৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিজেদের বুদ্ধিকে না প্রয়োগ করতে পারি তাহলে মানবজাতি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। আমরা যদি আরও একশ’ বছর কিংবা তার কাছাকাছি বেঁচে থাকতে পারি তাহলে আমরা অন্য গ্রহে কিংবা অন্য তারকাতেও বিস্তার লাভ করব। তার ফলে পারমাণবিক যুদ্ধের মতো চরম বিপদে সমগ্র মানবজাতির ধ্বংস হওয়ার মতো বিপদ অনেকটা হ্রাস পাবে।

    পুনবৃত্তি : যদি বিশ্বাস করা যায় যে, মহাবিশ্বের সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত, তাহলে যে সমস্যাগুলোর উদয় হয় তার কিছু কিছু আমি আলোচনা করেছি। এই নিয়তিবাদের কারণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কিংবা বৈজ্ঞানিক বিধি যাই হোক না কেন, তাতে কিছু পার্থক্য হবে না। সত্যিই সব সময় বলা যেতে পারে বিজ্ঞানের বিধিগুলো ঈশ্বরের ইচ্ছায় প্রকাশ।

    আমি তিনটি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছি : প্রথম, মহাবিশ্বের জটিলতা এবং সমস্ত খুঁটিনাটি কি করে সরল এক কেতা সমীকরণ দিয়ে নির্ধারিত হবে? বিকল্পে সত্যিই কি কেউ বিশ্বাস করতে পারে যে ঈশ্বরই সমস্ত খুঁটিনাটি জিনিস পর্যন্ত বেছে নিয়েছিলেন, যেমন কসমোপলিটানের প্রচ্ছদপটে কে থাকবেন? উত্তরটা মনে হয় কণাবাদী বলবিদ্যার অনিশ্চয়তার নীতি। তার অর্থ মহাবিশ্বের শুধুমাত্র একটা ইতিহাস নেই, আছে সম্ভাব্য ইতিহাসগুলোর সম্পূর্ণ একটি গোষ্ঠী। খুব বৃহৎ মানে এই ইতিহাসগুলো সদৃশ হতে পারে কিন্তু সাধারণ দৈনন্দিন মানে তারা পৃথক হবে। আমরা বাস করছি একটি বিশেষ ইতিহাসে। সে ইতহাসের একটি বিশেষ ধর্ম এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আছে। কিন্তু অন্য ইতিহাসেও অত্যন্ত সদৃশ বুদ্ধিমান জীব আছে। যুদ্ধে কে জিতেছিল এবং জনপ্রিয় গায়কদের ভিতর শ্রেষ্ঠ কে সে ইতিহাস নিয়ে তাদের মতভেদ থাকতে পারে। সুতরাং আমাদের খুঁটিনাটিতে পার্থক্যের কারণ কণাবাদী বলবিদ্যার মূলগত বিধিগুলোর অন্তর্ভুক্তি। এই বলবিদ্যায় রয়েছে অনিশ্চয়তা কিংবা অসম্বন্ধতা।

    পরের প্রশ্ন ছিল : সমস্তই যদি কোন মূলগত তত্ত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে তত্ত্বটি সম্পর্কে আমরা যা বলি সেটাও ওই তত্ত্ব দ্বারাই নির্ধারিত এবং কেন সেগুলো সোজাসুজি ভুল কিংবা অবান্তর না হয়ে সঠিক হবে–এ প্রশ্নে আমার উত্তর ছিল, ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের দ্বারস্থ হওয়া। যারা বিশ্বে তাদের সর্বদিক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেন শুধুমাত্র তাদেরই বেঁচে থাকা এবং বংশ রক্ষা করার সম্ভাবনা।

    তৃতীয় প্রশ্ন ছিল : সম্ভবতই যদি পূর্বনির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে স্বাধীন ইচ্ছা এবং নিজের কৃতকর্ম সম্পর্কে দায়িত্বের কি হবে? একটি জীবের স্বাধীন ইচ্ছা আছে কি না তার একমাত্র বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষা তার আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় কি না। মানুষের ক্ষেত্রে আমরা মানুষ কি করবে সে সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য মূলগত বিধিগুলো ব্যবহার করতে পারি না, তার দুটো কারণ : প্রথম, যে বিরাটসংখ্যক কণিকা জড়িত সেগুলো সম্পর্কে সমীকরণগুলো আমরা সমাধান করতে পারি না। দ্বিতীয়, যদি আমরা সমীকরণগুলো সমাধান করতে পারতাম তাহলেও ভবিষ্যদ্বাণী করার প্রক্রিয়াই তন্ত্রটিতে গোলযোগ বাধিয়ে দিত এবং পৃথক ফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। সুতরাং, যেহেতু আমরা মানুষের আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না সেজন্য আমরা এই কার্যকর তত্ত্বটি গ্রহণ করতে পারি : মানুষ স্বাধীন নিযুক্তক (agent) তবে তারা কর্তব্য নির্বাচন করতে পারে। মনে হয় স্বাধীন ইচ্ছার এবং নিজের কৃতকর্মের দায়িত্ববোধে বেঁচে থাকার দিক দিয়ে একটি নির্দিষ্ট নিশ্চিত সুবিধা আছে। এর অর্থ এই বিশ্বাসকে প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা শক্তিশালী হতে হবে। ভাষা দ্বারা পরিবাহিত দায়িত্ববোধ ডি. এন. এ. পরিবাহিত আগ্রাসনের সহজ প্রবৃতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিনা সেটা জানা নেই। যদি না পারে তাহলে মানবজাতি প্রাকৃতিক নির্বাচনের একটা কানাগলিতে শেষ হয়ে যাবে। দায়িতুবোধ এবং আগ্রাসনের ভিতর এর চাইতে ভাল একটা ভারসাম্য আনতে পারবে হয়ত নীহারিকার অন্য কোন বুদ্ধিমান জীবের জাতি। তা যদি হয়, তাহলে আশা করা যায়, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত কিংবা আমরা তাদের বেতার সঙ্কেত ধরতে পারতাম। হয়ত তারা আমাদের অস্তিত্বের কথা জানে কিন্তু আমাদের কাছে নিজেদের পরিচয় দিতে চায় না। আমাদের যা অতীত ইতিহাস–কাজটা বুদ্ধিমানের মতো বলেই মনে হয়।

    সংক্ষেপে বলা যায়, এই প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল একটা প্রশ্ন : সবকিছুই কী পূর্বনির্ধারিত? আমার উত্তর ‘হ্যাঁ’। কিন্তু উত্তরটা ‘না’ হতে পারে কারণ কী পূর্বনির্ধারিত সেটা আমরা কোনদিনই জানতে পারব না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং
    Next Article কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    স্টিফেন হকিং

    কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    ব্ল্যাকহোল – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    স্টিফেন হকিং

    মাই ব্রিফ হিস্ট্রি (আত্মস্মৃতি) – স্টিফেন হকিং

    December 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }