Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণা কুন্তী এবং কৌন্তেয় – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1105 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভীম – ৩

    ৩

    বৈদিক ইন্দ্র দেবতা এবং বায়ু দেবতা সম্বন্ধে যাঁদের ধারণা আছে, তাঁরা জানেন যে, বেদে ইন্দ্রেরই শ্রেষ্ঠত্ব সূচিত হয়েছে। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা সর্বশ্রেষ্ঠ বীর। বেদে বায়ু দেবতা সব সময়েই ইন্দ্রের সাহায্যকারীর ভূমিকায় আছেন। যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং শত্রুর ওপর আঘাত হানার সময় বায়ু ইন্দ্রকে সাহায্য করেন—এটাই ইন্দ্রের আর বায়ুর বৈদিক পরিচিতি।

    মাদাম বিয়ার্দো নামে এক ফরাসি বিদুষী ইন্দ্র আর বায়ুর এই বৈদিক ভূমিকাটি মহাভারতের অর্জুন এবং ভীমের ওপর চাপিয়েছেন। অর্জুন ইন্দ্রের পুত্র, ভীম বায়ুর পুত্র। মহাভারত যেহেতু বৈদিক যুগের অব্যবহিত পরেই লেখা হয়েছে, তাই মহাকাব্যের অর্জুন চরিত্রের মধ্যে বৈদিক বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রের এবং ভীমের মধ্যে বায়ুর সাহায্যকারীর ভূমিকার ছায়াপাত ঘটাটা অসম্ভব কিছু নয়। অন্তত এই বিদুষী ফরাসিনীর তাই ধারণা।

    মহাভারতের মধ্যে অর্জুন প্রথম যে প্রকাশ্য যুদ্ধটি জয় করেছিলেন, সেই যুদ্ধটা হয়েছিল অর্জুন আর দ্রুপদের মধ্যে। দ্রোণাচার্য গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিষ্যদের কাছে চেয়েছিলেন—পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে তারা জ্যান্ত ধরে আনুক, অন্য কিছু নয়। দুর্যোধন-কর্ণ সহ সমস্ত কৌরব দ্রুপদকে ধরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এই সময়ে অর্জুন, নকুল এবং সহদেবকে সাধারণ সাহায্যে লাগিয়ে ভীমকে প্রধান সহায় করে যুদ্ধযাত্রা করলেন। ভীম গদা হাতে সৈন্যদের আগে আগে চললেন—সেনাগ্রগো ভীমসেনঃ।

    ভীমকে দেখাচ্ছিল দণ্ডধারী যমের মতো। জলজন্তু যেমন স্বচ্ছন্দে সমুদ্রের একান্তে প্রবেশ করে ভীমও তেমনই স্বচ্ছন্দে ঢুকে পড়লেন পাঞ্চাল-সৈন্যের মধ্যে। এলোপাথাড়ি গদা চালিয়ে যুদ্ধ-দুর্মদ হাতিগুলির মাথা ফাটিয়ে দিলেন। ঘোড়া আর রথগুলিও ভীমের গদার বাড়ি থেকে রেহাই পেল না। রাখাল যেমন পাচনি হাতে করে বিস্তীর্ণ মাঠের মধ্যে গরুগুলিকে চাবুক মারতে মারতে এগিয়ে যায়, ভীম ঠিক ততটাই সহজে গদার বাড়ি কশাতে কশাতে এগিয়ে চললেন শত্রু সৈন্যের মাঝখান দিয়ে—গোপাল ইব দণ্ডেন যথা পশুগণান্ বনে।

    ভীমের সঙ্গে দণ্ডধারী যম আর দণ্ডধারী গোপালকের তুলনাটা আমার কাছে খুবই অর্থবহ। তবে সে কথা বলার আগে সেই বিদেশিনী মাদাম বিয়ার্দোর আরও একটা কথা বলে নিই। আমাদের দেশে প্রাচীনকালে যে বর্ণবিভাগ পদ্ধতি চালু ছিল, মাদাম তারও একটা প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন পাঁচ পাণ্ডবের মধ্যে।

    এটা মানতে কোনও বাধা নেই যে, যুধিষ্ঠির খাতায়-কলমে যতই ক্ষত্রিয় হন না কেন, স্বভাবে তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ। ইতিহাসে-পুরাণে ব্রাহ্মণের যে সব গুণ বা ক্রিয়াকলাপ সচরাচর দেখা যায়—তা সবই প্রতিষ্ঠিত দেখি যুধিষ্ঠিরের মধ্যে। মাদাম বিয়ার্দোর ভাষায়—Yudhisthira, though a Ksatriya on the most superficial level of the story, represents some characteristic features of the brahmana. ভীম আর অর্জুনের সঙ্গে একদিকে যেমন তাঁদের বড় ভাই ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পার্থক্য আছে, তেমনই পার্থক্য আছে ছোট দুই ভাই নকুল-সহদেবের সঙ্গেও। আবার ওই যে দুই ভাই ভীম আর অর্জুন—তাঁরাও কিন্তু শক্তি আর ক্ষমতার চরিত্রভেদে পরস্পর পরস্পরের থেকে আলাদা।

    যুধিষ্ঠির যেখানে ন্যায়, সত্যনিষ্ঠা, ক্ষমা, ধৈর্য এবং সর্বোপরি ধর্মের প্রতীক, সেখানে আসলে তিনি একজন ব্রাহ্মণের প্রতিনিধি। কারণ উপরিউক্ত গুণগুলি একজন আদর্শ ব্রাহ্মণেরই গুণ। বলা বাহুল্য—যে, ব্রাহ্মণ অথবা ব্রাহ্মণ্য বলতে আমি অদ্যকালের মহামহিম ঐতিহাসিকদের ‘ব্রাহ্মণ’ বা ‘ব্রাহ্মণ্য’ বোঝাচ্ছি না। কারণ ব্রাহ্মণ শব্দটি উচ্চারণমাত্রেই এঁরা সমাজের নিপীড়নকারী এক উচ্চ বর্ণ বোঝেন অথবা ব্রাহ্মণ্য বলতে শুধুই ‘বুর্জোয়াসি’। আমি ওপরে যে গুণগুলির কথা বলেছি সেই গুণগুলি একান্তভাবে ব্রাহ্মণোচিত বলে শাস্ত্রে নির্দিষ্ট হয়েছে বলে সেই নিরিখেই যুধিষ্ঠিরকে আমরা ধর্মের প্রতীক এক ব্রাহ্মণের লক্ষণে ভূষিত দেখতে পেয়েছি। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধশেষে যুধিষ্ঠিরকে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠার অর্থ তাই ধর্মের প্রতিষ্ঠা, ধর্মরাজ্যের প্রতিষ্ঠা, সত্য, ক্ষমা বা ন্যায়ের প্রতীকী প্রতিষ্ঠা।

    এই ব্রাহ্মণোচিত ধর্মকে ব্রাহ্মণ প্রতিষ্ঠা করেন না ; করেন ক্ষত্রিয়, করেন রাজা। ভীম আর অর্জুন সেই ক্ষাত্রশক্তির প্রতীক, রাজার প্রতীক। পৃথিবী কর্মভূমি। স্বর্গ বা অন্তরীক্ষলোকে সত্য বা ধর্মের প্রতিষ্ঠা করেন ইন্দ্র। তিনি দেবতাদের রাজা। বেদে ইন্দ্র এবং বায়ু—দুজনেই যুদ্ধবীর, যুদ্ধের দেবতা। ‘ক্রুড’ যে ক্ষাত্রশক্তি, তারই প্রতীক হলেন ভীম। আর ‘রিফাইনড’ রাজার যে ক্ষাত্রশক্তি, তার প্রতীক হলেন অর্জুন। রাজা যতই ‘রিফাইনড’ হন অন্যায়ের চুড়ান্ত হলে নৃশংস ক্ষাত্রশক্তি ছাড়া তাঁর পক্ষে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। ভীষণ যুদ্ধের সময়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড আঘাত হানার সময় ভীমকে তাই সব সময়েই অর্জুনের পাশে দেখেছি সাহায্যকারীর ভূমিকায়। ভীম যেমন যুধিষ্ঠিরের বশংবদ তেমনই—ছোট ভাই হওয়া সত্ত্বেও—অর্জুনেরও বশংবদ।

    এই যে দুই ভাই মিলে দ্রোণাচার্যের মান রক্ষার জন্য পাঞ্চালরাজ দ্রুপদকে শাসন করতে চললেন—এখানে অর্জুন রথে চড়ে চলেছেন রাজার মতো। অস্ত্রপরীক্ষার দিনের সেই পাখির চোখের মতো তাঁর একমাত্র লক্ষ্য দ্রুপদকে জ্যান্ত ধরা। কিন্তু ‘ক্রুড’ ক্ষাত্র শক্তির প্রতীক, নৃশংসতার প্রতীক ভীম, যুদ্ধের প্রান্তরে নেমে এলোপাথাড়ি গদা চালিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিরীহ অথবা দোষী—এসব বিচার তাঁর কাছে নেই, তাঁর মূল কথা তাঁকে বাধা দেওয়া চলবে না। অর্জুন হয়তো এই এলোপাথাড়ি ভাবটা পছন্দ করেন না, কিন্তু এই মুহূর্তে তার প্রয়োজন আছে বলে বাধাও দেন না। ফলে ভীম বাড়তেই থাকেন, এগিয়ে যেতে থাকেন বিনা বিচারে। কারণ শত্রু সৈন্যের মধ্যে সাময়িক বিভীষিকা তৈরি করার প্রয়োজন অর্জুনেরও আছে।

    কিন্তু যে মুহূর্তে রাজ-স্বভাব অর্জুনের কার্যসিদ্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ দ্রুপদকে তিনি ধরে ফেলেন, সেই মুহুর্তে তাঁর মুখ দিয়ে সবিনয় আদেশ নেমে আসে বড়ভাই ভীমের উদ্দেশে। তিনি বলে ওঠেন—আর্য ভীম! মহারাজ দ্রুপদ, বংশ-সম্বন্ধে কুরুবীরদের আত্মীয়। আপনি আর অযথা তাঁর সৈন্যক্ষয় করবেন না—মা বধীস্তদ্বলং ভীম গুরুদানং প্রদীয়তাম্—আপনারা গুরুদক্ষিণার ব্যবস্থা করুন।

    ঠিক এই মুহূর্তে আমরা ভীমের সম্বন্ধে পূর্বে উল্লিখিত সেই উপমা দুটি স্মরণ করব। দন্ডধারী যমের মতো, আর দণ্ডধারী গোপালকের মতো। আমার মতে অর্জুন যদি রাজপ্রতিম হন তবে ভীম তাঁর দণ্ডের মতো। মনুমহারাজের মতো স্মৃতশাস্ত্রকারেরা লিখেছেন—রাজদণ্ড এমনই একটা প্রখর বস্তু যা দণ্ড-প্রণেতার অনবধানে সমস্ত কিছু ছারখার করে দিতে পারে। রাজা সব সময় বিপক্ষ ব্যক্তির শক্তি, বিদ্যা এবং অন্যান্য গুণাগুণ মাথায় রেখে দণ্ড প্রয়োগ করবেন। ভীম যেহেতু ‘ক্রুড’ ক্ষাত্রশক্তির প্রতীক, তাই তাঁর দণ্ড-বিধানের মধ্যে পরিমিতির বোধ থাকে না। তাঁর দণ্ড একবার মুক্ত হলে, তা সব কিছু শেষ করে নিয়ন্ত্রিত হতে চায় না। রাজা বা পরম যুদ্ধবীর হিসেবে অর্জুনের কাজ হল এই ‘ক্রুড’ ক্ষাত্রশক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করা। নৃশংসতা বা সাময়িক বিভীষিকা দেখানোর প্রয়োজন মিটতেই পরিণত ক্ষাত্রশক্তি তাই যমদন্ড-স্বরূপ নৃশংস ক্ষাত্রশক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করছে—আপনি অযথা দ্রুপদের সৈন্যক্ষয় করবেন না। মহাভারতের মধ্যে ভীমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা বারবার অর্জুনকে এই নিয়ন্তার ভূমিকায় দেখতে পাব। এসব কথা পরে আবার আসবে।

    আপাতত ভীমকে দেখুন। অর্জুনের আদেশের মতো অনুরোধে ভীম থামলেন বটে,—কারণ, অর্জুনের ওই বিশাল ব্যক্তিত্ব তাঁর পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব ছিল না—কিন্তু ভীম তাঁর যুদ্ধ-ধর্মে তৃপ্ত না হয়েই যুদ্ধে ক্ষান্তি দিলেন—অতৃপ্তো যুদ্ধধর্মেষু ন্যবৰ্তত মহাবলঃ। অপরিশীলিত ক্ষাত্রশক্তি পরিণত রাজশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে সে ভীমের মতো থামতে বাধ্য হয় বটে, কিন্তু তার দুর্দম মনোলোকের নৃশংসতা যেহেতু বল্গাহীনভাবে নৃশংসতার আনন্দেই মুক্ত হয়েছিল তাই হঠাৎ নিয়ন্ত্রিত হলে ছুটন্ত ঘোড়া যেমন বিকট শব্দে চিঁ-হিঁ-হিঁ করে খানিকটা দাপিয়ে থেমে যায়, ভীমও সেই রকম থেমে গেলেন। কিন্তু মনের মধ্যে ছোটাটা রয়েই গেল, সুযোগ পেলেই সে ছুটবে।

    বলা বাহুল্য, অপরিশীলিত অথবা অনিয়ন্ত্রিত ক্ষাত্রশক্তির প্রয়োজনীয়তার কথাও আমরা উল্লেখ করেছি। বস্তুত এই ধরনের শক্তির মধ্যে যে বিশাল উৎসাহ, বিপুল দৈহিক শক্তি এবং বিরল কর্মক্ষমতা থাকে, তাকে কাজে লাগালে কী অসাধারণ ফল পাওয়া যেতে পারে মহাভারতের ভীমই বোধহয় তার প্রথম এবং শেষ উদাহরণ। আমরা একে একে তাঁর নিয়ন্ত্রণের জায়গাগুলিও দেখাব, অনিয়ন্ত্রণের জায়গাগুলিও দেখাব।

    একটা কথা এখানে বলে নেওয়া ভাল যে, প্রধানত ভীম আর অর্জুনের শক্তির নিরিখেই দ্রুপদ শাসনের এক বছরের মাথায় ধৃতরাষ্ট্র যুধিষ্ঠিরকে যুবরাজের পদ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভীম অবশ্য এই সময়ে একটু ‘হায়ার স্টাডিজে’ মন দিলেন। তিনি নিয়মিত গদাশিক্ষা করতে আরম্ভ করলেন বলরামের কাছে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা—দ্রোণাচার্য যেহেতু প্রধানত তীর-ধনুকের শিক্ষাতেই কৃতবিদ্য ছিলেন, তাই ভীমের দিক থেকে গদা-শিক্ষার নূতনতর কৌশল আয়ত্ত করার একটা তাগিদ ছিল। এই কারণেই বলরামের কাছে তিনি নিয়মিত গদাঘাতের পাঠ নিতে আরম্ভ করলেন—সংকর্ষণাদ্ অশিক্ষদ্ বৈ শশ্বচ্ছিক্ষাং বৃকোদরঃ।

    ভীমের অমানুষিক শক্তি এবং অর্জুনের অস্ত্রশিক্ষার পরাকাষ্ঠায় দুর্যোধন যেমন জ্বলে-পুড়ে মরছিলেন, ধৃতরাষ্ট্রও তেমনই জ্বলে যাচ্ছিলেন। ফলে পাণ্ডবদের বারণাবতে পাঠিয়ে দুর্যোধন যখন তাঁদের পুড়িয়ে মারবার পরিকল্পনা করলেন, ধৃতরাষ্ট্রও তাতে বাধা দিলেন না। পাণ্ডবরা বারণাবতে পোঁছে দশ দিন একটা অন্য বাড়িতে থাকলেন। দুর্যোধনের চর পুরোচন বারণাবতের জতুগৃহে পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারবার ভার নিয়েছিল। সে দশ দিন পাণ্ডবদের অন্য বাড়িতে রেখে বেশ সাধু-সাধু ভাব করে বললে—এখানে ‘শিবভবন’ বলে একটা দারুণ বাড়ি তৈরি হয়েছে—সেইখানেই আপনাদের পাকাপাকি থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।

    পুরোচনের কথায় পাণ্ডবভাইরা কুন্তীকে নিয়ে শিবভবনে ঢুকলেন। যুধিষ্ঠির বিদুরের কাছে অনেক আগেই এই আগুন-ঘরের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। এখন বাড়িতে ঢুকেই ঘি-গালা আর চর্বির গন্ধ পেয়ে যুধিষ্ঠির ভীমকে বললেন—যত রকম দাহ্য পদার্থ আছে, তা সবগুলি মিশিয়ে এই বাড়ি তৈরি হয়েছে। সাধাসিধে ভীম বললেন—তা হলে আমরা ভালয় ভালয় সেই বাড়িতেই ফিরে যাই—যেখানে আমরা আগে ছিলাম—তত্রৈব সাধু গচ্ছামো যত্ৰ পূর্বোষিতা বয়ম্। যুধিষ্ঠির অনেকক্ষণ ভীমকে দুর্যোধনের প্যাচ-পয়জার সব বুঝিয়ে দিলেন। বললেন—এই বাড়িতেই আমরা থাকব এবং সময় মতো আগুন লাগিয়ে দিয়ে চলে যাব।

    জতুগৃহের বিস্তৃত বিবরণে আমরা যাচ্ছি না। শুধু এইটুকু এখানে বলব যে, বিদুরের পরামর্শমতো যে সুড়ঙ্গটি কাটা হয়েছিল জতুগৃহ থেকে বন পর্যন্ত, সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে মা-ভাইদের আগে বের করে দিয়ে ভীমই সেই জতুগৃহে আগুন লাগালেন এবং নিজে বেরিয়ে গেলেন সবার শেষে। রাত্রির অন্ধকারে মা-ভাইরা পথ চলতে কষ্ট পাচ্ছিলেন। ভীম সেই অবস্থায় মাকে তুলে নিলেন কাঁধে আর ছোট যমজ ভাই দুটিকে নিলেন কোলে। যুধিষ্ঠির আর অর্জুনও ভীমের হাতে ভর দিয়েই চললেন। হয়তো এই বর্ণনার মধ্যে সামান্য অতিশয়োক্তি থাকতে পারে, কিন্তু এটা মিথ্যে নয় যে, অন্য ভাইরা পর্যায়ক্রমে ভীমের শরীরে ভর দিয়েই বনের পথটুকু পাড়ি দিয়েছিলেন।

    বিদুরের পরিকল্পনামতো নির্দিষ্ট স্থানে গঙ্গার এক ঘাটে নৌকো বাঁধাই ছিল। সকলে নৌকোয় উঠে অন্য পারে এলেন বটে কিন্তু সেটাও একটা বন এবং রাত তখনও ঘন অন্ধকারে আচ্ছন্ন। রাতের তারা চিনে তাঁরা দক্ষিণ দিকে চললেন বটে কিন্তু পথ চলার ক্ষমতা প্রায় কারওই নেই। অবস্থা দেখে যুধিষ্ঠির আবার ভীমকে বললেন—তুমি যেভাবে আমাদের নিয়ে পথ চলছিলেন ভীম সেইভাবেই আমাদের নিয়ে চল। আবার কুন্তী উঠলেন কাঁধে, ভাইরাও চললেন ভীমকে জাপটে ধরে।

    ভীম পথ চলতে পারতেন খুব জোরে আর চলার পথে গাছের ঘষা কি কাঁটা-গাছের কাঁটায় ভীমের কিছুই হয় না। শরীরে যেমন বল, চেহারাও তেমনই দশাসই। মহাভারতের বর্ণনামত—ফরসা তাল গাছের মতো লম্বা তাঁর চেহারা, অর্জুনের থেকেও তিনি বারো আঙুল লম্বা—গৌরস্তাল ইবোন্নতঃ, প্রাদেশেনাধিকো’র্জুনাৎ। তাই বলে রোগা ঢ্যাঙা নয়, ভীমের কাঁধটা সিংহের মতো, বুকের ছাতি এই বিশাল, গায়ে মত্ত হাতির শক্তি।

    ফলে মা-ভাইদের পর্যায়ক্রমে কাঁধে-পিঠে নিয়ে জোরে হাঁটতে তাঁর কোনও সমস্যাই হল না। তবু কষ্ট হল সেই সব জায়গায় যেখানে পথ সমতল নয় আর পাহাড়ের চড়াই-উতরাই যেখানে। এসব জায়গায় ভাইদের ছেড়ে দিলেও মাকে তিনি কাঁধ থেকে নামাননি, নিজের কষ্ট হলেও মাকে কষ্ট পেতে দেননি—কৃচ্ছ্রেণ মাতরঞ্চৈব সুকুমারীং যশস্বিনীম্। এইরকম ভাবে চলতে চলতে এক বনের কাছে এসে তাঁরা থামলেন।

    কথায় বলে—ঘোড়া পেলে খোঁড়া হয়। এক জায়গায় যখন তাঁরা সবাই বসার জায়গা পেলেন, তখন পরিশ্রমে পিপাসায় আর ঘুমে তাঁদের চোখ জড়িয়ে এল। জননী কুন্তী বললেন—পাঁচ ছেলের মা হয়ে আজ আমি পিপাসার জল জোটাতে পারছি না। কথাটা হয়তো তিনি অন্য ছেলেদের লক্ষ করেই বলেছেন, কিন্তু তাঁদের তখন নড়বার ক্ষমতা নেই। আর মায়েরা যেমন হন, মাঝে মাঝে বেবুঝের মতো একই কথা বার বার বলতে থাকেন—পুত্ৰান্ ভূশমথাব্রবীৎ।

    এইসব জায়গায় ভীমের কোনও তুলনা নেই। মায়ের জন্য ভাইদের জন্য তাঁর বড় মায়া হল। একটা বটগাছের তলায় মা-ভাইদের বসিয়ে ভীম জল আনতে ছুটলেন। সে কি একটুখানি পথ। প্রায় দুই ক্রোশ পথ গিয়ে ভীম দেখলেন—বিশাল জলাশয়। তাঁর নিজের তখন কী অবস্থা। জল দেখা মাত্র আগে ঝাঁপিয়ে খানিকটা স্নান করে নিলেন। তারপর পদ্ম-পাতার পাত্রে জল নিয়ে চারদিক মুড়িয়ে পদ্মের পুটক বেঁধে অনেকগুলি পুটক নিয়ে এলেন গায়ের চাদরে ফেলে।

    দুই ক্রোশ পথ! এসে দেখলেন—সব ঘুমিয়ে পড়েছে। মা-ভাইদের এই বিজন বনে মাটিতে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে ভীমের যেমন কষ্ট হল, মায়া হল, তেমনই রাগ হল দুর্যোধনের ওপর। রাজমাতা কুন্তী মাটিতে শুয়ে আছেন, রাজা হবার যোগ্য বড় ভাই যুধিষ্ঠির মাটিতে শুয়ে আছেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যোদ্ধা ছোট ভাই অর্জুন মাটিতে শুয়ে আছেন অথবা এখনও কোলে-ওঠা সুন্দর যমজ ভাই দুটি মাটিতে শুয়ে আছেন—এই বিপরীত অবস্থাটা তিনি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলেন না।

    মনের যন্ত্রণায় তিনি মনে মনেই বলে উঠলেন—ব্যাটা ধৃতরাষ্ট্র! ব্যাটার গণ্ডায় গণ্ডায় বদমাস কতগুলো ছেলে, তার মধ্যে রাজ্যের লোভ, খল স্বভাব, আর স্বার্থসিদ্ধি করতে ওস্তাদ—দুষ্টেনাধর্মশীলেন স্বার্থনিষ্ঠৈকবুদ্ধিনা। ব্যাটা আমাদের নির্বাসন দিয়ে পুড়িয়ে মারবার কৌশল করেছিল। শুধু ভাগ্যিবলে বেঁচে গেছি—কথঞ্চিদ্ দৈবসংশয়াৎ। ভীম মনে মনে বলেই চললেন—আর ওই ব্যাটা দুর্যোধন! তোর ভাগ্যি ভাল এখনও দাদা যুধিষ্ঠির তোকে মেরে ফেলতে বলছে না। নইলে তোর ওই কর্ণ, শকুনি আর ছোট ভাইগুলির সঙ্গে তোকেও আমি কবেই যমালয়ে পাঠাতাম।

    রাগের চোটে ভীম হাতে হাত ঘষতে আরম্ভ করলেন। তাঁর নিঃশ্বাস দীর্ঘতর হল। মাটিতে শুয়ে-থাকা শ্রান্ত ক্লান্ত ভাইদের দেখতে দেখতে আস্তে আস্তে তাঁর রাগ কমেও এল। তাঁর দায়িত্ববোধ এমনই যে, অতটা পথ মা-ভাইদের কোলে পিঠে টেনে এনে তিনি নিজে যখন চরম পরিশ্রান্ত, সেই অবস্থায় তিনি সবার জন্য জল আনতে গেলেন দুই ক্রোশ পথ হেঁটে। আবার এসে যখন দেখলেন—সকলেই ঘুমিয়ে পড়েছেন, তখন তিনি বিনা কোনও অভিমানেই, সবার সুরক্ষার জন্য জেগে বসে রইলেন—জজাগার স্বয়ং তদা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }