Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণা কুন্তী এবং কৌন্তেয় – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1105 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভীম – ৯

    ৯

    বনপর্বে দ্রৌপদী যখন জয়দ্রথকে চিনিয়ে দিচ্ছিলেন—তাঁর কোন স্বামীর চরিত্র কেমন, আমরা তখন একটি স্ত্রীর মুখে তাঁর পঞ্চ স্বামীর আচার ব্যবহারের এক এক রকম মূল্যায়ন লক্ষ করেছি। আজ যখন কৌরব-পাণ্ডবের যুদ্ধ প্রায় লাগো-লাগো, তখন আরও একবার ভীমের মূল্যায়ন শুনতে পাচ্ছি এবং তা শুনতে পাচ্ছি এক প্রবল পরাক্রান্ত শত্রুর পিতার মুখে। আমরা অনেক আগে বলেছিলাম যে, দুর্যোধন সমস্ত পাণ্ডবদের মধ্যে একমাত্র ভীমকে বেশি মূল্য দিতেন এবং তাঁর এই ভাবনা পরম্পরাক্রমে নেমে এসেছে তাঁর পিতার কাছ থেকে। কথাটা সত্যি কি না, তা এখন যাচাই করে নেবার মতো সময় এসেছে।

    সঞ্জয় পাণ্ডবদের কাছ থেকে ঘুরে এসে যুধিষ্ঠিরের পক্ষে যেসব শক্তিশালী নরপতি যোগ দিয়েছেন, তাঁদের বলাবল সম্পর্কে ধৃতরাষ্ট্রকে অবহিত করলেন। পাণ্ডবদের সম্মিলিত শক্তির কথাও বাদ গেল না। ধৃতরাষ্ট্র সব ধৈর্য ধরে শুনলেন। তারপর ভেবেচিন্তে বললেন—সঞ্জয়! তুমি যাঁদের নাম করলে এঁরা যদি সব একদিকেও দাঁড়ান আর ভীম আর এক দিকে—তবুও বলব আমার ভয় ভীমকেই—ভীমসেনাদ্ধি মে ভুয়ো ভয়ং সঞ্জায়তে মহৎ। বাঘের থেকে যেমন হরিণের ভয়, এ ভয় তেমনই। তুমি জানো সঞ্জয়! শুধু ভীমের জন্য রাতে আমার ঘুম হয় না—জাগর্মি রাত্রয়ঃ সর্বাঃ। আমার পক্ষে একটা লোকও নেই, যে ভীমের শক্তি সহ্য করতে পারে।

    ধৃতরাষ্ট্র এবারে যা বললেন, সে কথাগুলি আমাদের জানা। দ্রৌপদী ঠিক এই কথাগুলিই বলেছিলেন জয়দ্রথকে। ধৃতরাষ্ট্র বললেন—ভীম কখনও ক্ষমা করতে জানে না আর শত্রুতা মনে রাখে চিরকাল। হাসির সময়েও ভীম হাসে না, সব সময় তাকায় বাঁকা ভাবে, স্বভাবে ভীষণ উদ্ধত আর কথা বলে গম্ভীর স্বরে—অনৰ্মহাসী সোন্মাদ-স্তির্যক্‌প্রেক্ষী মহাস্বনঃ। এমন যে ভীম, সে আমাদের বদমাশ ছেলেগুলিকে শেষ না করে ছাড়বে না। ধৃতরাষ্ট্র ভয় পাচ্ছেন, ভীষণ ভয় পাচ্ছেন ভীমকে। এই বিরাট যুদ্ধের আগে দুর্নিবার ভীম-ভয় তাঁকে ভীমের বাল্যকালের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ধৃতরাষ্ট্র বললেন—সঞ্জয়! ভাবলে আমার বুক কেঁপে ওঠে—উদ্বেপতে মে হৃদয়ম্। ছোটবেলাতেও তার তেজ ছিল সাংঘাতিক। যেমন খেতে পারত, তেমন ছিল নিষ্ঠুর। আমার ছেলেগুলিকে সেই ছোটবেলাতেও সে হাতির মতো পিষে দিত। সব সময় আমার ছেলেরা ভীমের কাছে কষ্ট পেত, সঞ্জয়! আর জানো তো, এই কষ্ট থেকেই কৌরবের শত্রুতা বদ্ধমূল হয়ে গেল পাণ্ডবদের ওপর—স এব হেতুর্ভেদস্য ভীমো ভীমপরাক্রমঃ।

    কথাটা একেবারে মিথ্যে নয়। খেলার ছলে ভীম ছোটবেলাতেও যে পীড়া সৃষ্টি করেছেন কৌরবদের ওপর, সেই পীড়া দুর্যোধন কখনও ভোলেননি। সেই ছোটবেলাতেই দুর্যোধন ভীমকে বিষ খাইয়ে মারতে চেয়েছেন? যাতে তাঁর পথে কোনও কাঁটা না থাকে। অন্য দিকে ভীমও দুর্যোধনের কাছে উপর্যুপরি লাঞ্ছনা লাভ করে তাঁর শত্রুতাটাই শুধু মাথার মধ্যে রেখে দিয়েছেন। কোনওভাবেই তিনি তাঁদের ক্ষমা করতে পারেন না। কুরুক্ষেত্রের বিরাট যুদ্ধে তাই ভীমও নিজে ব্যক্তিগতভাবে একটি কারণ—স এব হেতুর্ভেদস্য। তবে সেই কারণে দুর্যোধন তালি বাজানোর কাজ করেছেন। বিষপান, অগ্নিদান থেকে আরম্ভ করে সভায় দ্রৌপদীকে এবং ভীমকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করে সেই যুদ্ধের কারণ গভীরতর করে ফেলেছেন।

    মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র এসব জানেন। আর জানেন বলেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রাক্কালে তাঁর ভয়ও গভীর হয়ে উঠছে। সঞ্জয়কে তিনি বলেছেন—সেই পাশাখেলার সময়েই যে সে আমার ছেলেগুলিকে মেরে ফেলেনি, এই আমার পরম লাভ—অতিলাভন্তু মন্যে’হম্। ভীম ছোটবেলাতেও আমার কথা শোনেনি, তার ওপরে আমার বদমাশ ছেলেগুলো তাকে নানাভাবে কষ্ট দিয়েছে। অতএব সে কেন এখন আমার কথা শুনবে—কিং পুনর্মম দুষ্পুত্রৈঃ ক্লিষ্টঃ সম্প্রতি পাণ্ডবঃ।

    মনে রাখা দরকার—ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে মায়ের হাত ধরে পাঁচ ভাই পাণ্ডব যেদিন হস্তিনাপুরে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন, সেদিন থেকেই সম্পূর্ণ রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় তাঁদের ওপর একের পর এক যে অত্যাচার হয়েছে, ভীম ছিলেন সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে এক মূর্ত প্রতিবাদ। হয়তো সেদিন থেকেই তাঁর মুখ থেকে হাসি চলে গেছে, কোনও কিছুই তিনি আর সোজা চোখে দেখতে পান না। যুধিষ্ঠির-অর্জুনরা শুধু এই পাগলা ঘোড়ার রাশ টেনে রেখেছেন। কিন্তু আজ কালের পরিণতিতে যে যুদ্ধ ঘনিয়ে উঠেছে, সেখানে কাল-রাত্রির অস্পষ্ট নক্ষত্র-আলোকে প্রজ্ঞাচক্ষু দিয়ে ধৃতরাষ্ট্র দেখতে পাচ্ছেন—তালগাছের মতো লম্বা গৌরবর্ণ এক যুবকের হাতে আটকোণা অথবা ছয়কোণা, চার হাত পরিমাণ একটি গদা, চারদিকে তার লোহার শিক লাগানো, আর সেই গদা এসে ঘুরে ঘুরে পড়ছে তাঁর ছেলেদের মাথায়—ভীমসেনো গদাপাণিঃ সুদয়িষ্যতি মে সুতান্। রাগে চোখ দুটি লাল, জিহ্বার সমস্ত রস আক্রোশে শুষে নিয়ে অসহনীয় বেগে ভীম ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাঁর সৈন্যদের মধ্যে—ধৃতরাষ্ট্র যেন চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন—পশ্যামীব অতিতাম্ৰাক্ষম্ আপতন্তং বৃকোদরম্।

    ভীমের এই সাংঘাতিক রূপ যা ভেবে শত্রুপক্ষের সবাই আতঙ্কিত, এই রূপের হঠাৎ এক পরিবর্তন আমরা লক্ষ করব। যদিও এই পরিবর্তন হঠাৎ উল্কার মতো এসে ধূমকেতুর মতো চলে গেছে, তবুও এই পরিবর্তনের কারণ একটা আছে বলে আমরা মনে করি। পাণ্ডব-কৌরবের পক্ষ থেকে সন্ধি-শান্তির প্রস্তাব যখন ব্যর্থ হল, তখন কৃষ্ণ শেষ চেষ্টা করার জন্য ‘পিস মিশন’ নিয়ে হস্তিনায় যাবেন ঠিক করলেন। এই প্রসঙ্গে যুধিষ্ঠির অর্জুন ভীম—সবাই একবাক্যে শান্তির ওপরেই গুরুত্ব দিলেন বেশি—কৃষ্ণ জানতেন সন্ধি-শান্তি কিছুতেই হবে না, অন্তত দুর্যোধন বেঁচে থাকতে হবে না। কিন্তু দুর্যোধনকে শেষ বারের মতো শান্তির চেষ্টা প্রত্যাখ্যানের সুযোগ দিয়ে তিনি যুদ্ধের দায়টা সম্পূর্ণ দুর্যোধনের ওপর চাপাতে চাইছিলেন, কারণ তাতে পাণ্ডবদের রাজনৈতিক ফায়দা বেশি।

    যাই হোক, শান্তির প্রস্তাব নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন যুধিষ্ঠির তাঁর মতামত জানালেন। আশ্চর্য হল, যুধিষ্ঠির অন্য সময় যত ‘কম্‌প্রোমাইজিং অ্যাটিচুড’ দেখিয়েছেন, এই সময়ে ততটা দেখাননি। ভাল কথায় হলে ভাল, না হলে যুদ্ধ—এইটাই ছিল যুধিষ্ঠিরের বক্তব্য। সবার ওপরে অবশ্য শান্তির দিকে যুধিষ্ঠিরের ঝোঁক ছিল স্বভাবতই বেশি। কিন্তু বড় বিপ্রতীপভাবে যুধিষ্ঠিরের থেকেও এখানে আশ্চর্য ছিল ভীমের ব্যবহার। যে ভীম ছোটবেলা থেকে আজকের দিনটির জন্য মুখিয়ে ছিলেন, সেই ভীম কৃষ্ণকে বললেন—তুমি শান্তির কথাই বোলো, কৃষ্ণ! শুধু শুধু যুদ্ধের কথা বলে ওদের ভয় পাইয়ে দিয়ো না—মাস্ম যুদ্ধেন ভীষয়েঃ। অসহিষ্ণু উদ্ধত দুর্যোধনের সঙ্গে তুমি মিষ্টি করে কথা বোলো।

    ভীম দুর্যোধনের চরিত্র জানেন, ঠিক যেমন দুর্যোধনও সবচেয়ে ভাল জানেন ভীমের চরিত্র। অতিক্ৰোধী মানুষকে যে মেজাজ দেখিয়ে কার্যোদ্ধার করা যাবে না—সেটা ভীম বোঝেন বলেই দুর্যোধনের মতো ‘অদীর্ঘদর্শী নিষ্ঠুরী’ মানুষের সঙ্গে ভীম শান্ত সুরে কথা বলবার উপদেশ দিচ্ছেন কৃষ্ণকে। বললেন—দুর্যোধন মরবে, তবু নিজে যা বুঝবে, সে মত ছাড়বে না—নৈব জহ্যাৎ স্বকং মতম্। কাজেই তুমি যা বলবে, কৃষ্ণ তা দুর্যোধনের ভাব বুঝে বোলো। ধীরে ধীরে বোলো, আস্তে আস্তে বোলো, রুক্ষভাবে খবরদার বোলো না—তস্মামৃদু শনৈর্ব্রূয়াঃ…নোগ্ৰমুগ্ৰপরাক্রম।

    ভীমের হল কী? এ যে একেবারে উলটো গাইছেন। দুর্যোধন, দুঃশাসন, কর্ণ, শকুনি—যাঁদের নাম শোনামাত্র যিনি শতবার হত্যার প্রতিজ্ঞা উচ্চারণ করেন—সেই ভীম শান্তি চাইছেন, সেই ভীম দুর্যোধনের সঙ্গে ধীরে-মধুরে কথা বলার উপদেশ দিচ্ছেন এবং সেই ভীম বলছেন—আমরা না হয় দুর্যোধনের কাছে নিচু হয়েই থাকব—সর্বে বয়মধশ্চরাঃ।

    ভীমের মুখে এই শান্তির বাণী যে কতটা অপ্রত্যাশিত, তা মহাভারতের নিবিষ্ট পাঠকমাত্রেই জানেন। ভীমের এই উলটো গাওয়ার একটা কারণ মহাভারতেই স্পষ্ট বলা আছে, সেটা পরে বলছি। আগে জানাই যে, কারণটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। আপনারা দুর্গাপুজোর ভাসানের সময় বিভিন্ন সমিতির আয়োজক যুবক-পুরুষদের রাস্তায় নাচতে-নাচতে যেতে দেখেন। সবাই এখানে নাচে না, কতিপয় নাচে। কোমর দুলিয়ে, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে, নানা ছাঁদে নাচে। এইসব উৎসব-প্রিয় যুবক-শ্রেণীর মধ্যে অনেক মুখচোরা যুবক আমি দেখেছি, যারা সহজে নাচতে চায় না, কিন্তু সঙ্গ দেয়, হাততালি দেয়। কিন্তু এক-একটা তুঙ্গ মুহূর্তে আসে ; কোনও চতুস্পথের মিলন-স্থানে যখন তাসা-পার্টির বাজনা বেদম জমে ওঠে, দলের সমস্ত নাচিয়েরা উদ্দাম নাচতে-নাচতে মুখচোরার হাত ধরে টানাটানি করে, তখন সে আর থাকতে পারে না, সে নেচে ফেলে, ভালই নেচে ফেলে।

    তুলনাটা কিন্তু এখানে উৎসবপ্রিয়তা বা আনন্দের সঙ্গে নয়, অথবা নয় মুখচোরা যুবকের সঙ্গেও। তুলনাটা হল অধিকাংশের চাপে পড়ে নেচে ফেলার সঙ্গে। বিরাটের রাজধানীতে বসে যাঁরা যুদ্ধের উদ্যোগ করছিলেন, তাঁদের মধ্যে পাকা-মাথা যাঁরা, তাঁরা সবাই মোটামুটি শান্তির প্রস্তাবে সামিল হয়েছিলেন। কৃষ্ণ-বলরাম, যুধিষ্ঠির, অর্জুন—এঁরা সকলেই চেষ্টা করছিলেন যাতে যুদ্ধটা অন্তত এড়ানো যায়। যুদ্ধে লোকক্ষয়ের ভাবনাটাই শুধু নয়, এঁদের বড় ভয় ছিল যে, যুদ্ধ লাগলে প্রসিদ্ধ কুরুবংশটাই একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে। যে বংশে পুরু, দুষ্মন্ত, ভরত, কুরুর মতো রাজারা জন্মেছেন, সেই বংশ ঈর্ষা-দ্বেষে, জ্ঞাতিবিরোধে নষ্ট হয়ে যাবে—এটা যুধিষ্ঠির, অর্জুন, কৃষ্ণ—কেউই চাইছিলেন না। সবাই যখন ভরত-বংশ যাতে নষ্ট না হয়, কুলের মর্যাদা-ভঙ্গের কারণ যেন আমাদের ওপর না বর্তায়—এই ভাবনায় মরছিলেন, তখন এই উদার বৈরাগ্যময় ভাবনার মধ্যে—আমি দুঃশাসনের রক্ত খাব, দুর্যোধনের ঊরু ভাঙব—ভীমের এই সব আসুরিক এবং রাজসিক প্রতিজ্ঞা নিতান্তই বেমানান হয়ে যায়। বরঞ্চ সবাই যেখানে ওই একই কথা বলে উত্তম হওয়ার চেষ্টা করছেন, সেখানে ভীমই বা অধম হয়ে থাকবেন কেন? অতএব তিনিও বলে উঠলেন—আমরা বরং অবনত হয়ে দুর্যোধনের কথাই মেনে চলব, আমাদের ভরতবংশটা যেন নষ্ট না হয়—নীচৈর্ভূত্বা অনুযাস্যামো মাস্ম নো ভরতা নশন্। কৌরবদের সঙ্গে বরং কোনও সংস্রব না রেখেই আমরা চলব, কিন্তু এই বিখ্যাত কুরুবংশের গায়ে যেন কালি না লাগে—ন কুরূন্‌ অনয়ঃ স্পৃশেৎ।

    একই কথা এর আগে যুধিষ্ঠিরও বলেছেন। কিন্তু আজ ভীম যে যুধিষ্ঠিরের তালে নেচে ফেললেন, অনেকের সঙ্গে মত মেলালেন—এটা সেই বিরাটসভার মধ্যে এতটাই বেসুরো লাগল যে, মহামতি কৃষ্ণ রীতিমতো কটাক্ষ করে বসলেন ভীমকে। বললেন—হল কী দাদা! এরপর যে শুনব—ওজনদার পাহাড়ও বড় হালকা ; শুনব—আগুন তো গরম নয়, বড় ঠাণ্ডা—গিরেরপি লঘুত্বং তচ্ছীতত্বমিব পাবকে। চিরটাকাল ধরে তুমি দাদা—‘হ্যান্ করেঙ্গা ত্যান্ করেঙ্গা’ বলে যুদ্ধের প্রশংসা করে এসেছ। কৌরবদের ওপর রাগে তুমি ভাল করে ঘুমোও না পর্যন্ত, যদি বা ঘুমোও, তো উবুত হয়ে শোও। ঘুমের মধ্যেও তুমি কত না বকর-বকর করো, আর লোকে তোমাকে পাগল বলে। এক সঙ্গে অনেক লোকের সঙ্গে তুমি থাকতেও ভালবাস না। তোমার রাগ তোমাকে নির্জনে বসিয়ে রাখে। কখনও হাস, কখনও কাঁদ, কখনও বা মাথাটা হাঁটুর মধ্যে গুঁজে চোখ বন্ধ করে বসে থাক। তুমি ভুরু কুঁচকে থাক সব সময়, ঠোঁট কামড়াও যখন তখন। আমি কি বুঝি না? এগুলো সব তুমি কর রাগে, দুর্যোধনের ওপর রাগে—সর্বং তৎ মনুকারিতম্। এত যে গদা স্পর্শ করে দুর্যোধনের ঊরু ভাঙার প্রতিজ্ঞা করেছিলে সেই তোমার বুদ্ধি হঠাৎ বড় শান্ত হয়ে গেল। হয়, এমনই হয়—যুদ্ধ যখন সামনে এসে পড়ে, তখন হাঁক-ডাক করা অনেক মানুষেরই ভয় হয়। তোমারও তাই হয়েছে। নইলে তোমার মতো লোক শান্তির কথা বলছে মানে, স্থাবর পর্বতও চলমান হয়েছে বলে বিশ্বাস করতে হবে—ইদং মে মহদাশ্চর্যং পর্বতস্যেব সর্পণম্।

    কৃষ্ণের কথা শুনে ভীমের এত রাগ হল যে, তিনি ঘোড়ার মতো খানিকটা এদিক-ওদিক ছুটে নিলেন—সদশ্ববৎ সমাধাবৎ। বললেন—তুমি অন্তত আমাকে ভালই চেন কৃষ্ণ! অনেককাল আমাকে দেখছ, ভালই চেন তুমি আমাকে—বেৎসি দাশার্হ সত্যং মে দীর্ঘকালং সহোষিতঃ। তুমি যা বলছ, বলে যাও। নিজের ঢাক নিজে পেটাতে নেই তাই; নইলে জেনে রেখো—আমার এই পাথরের মতো হাত দুটো দেখছ না, আর এই যে হাতের মাঝখানে মুগুরের মতো দুটো গুলি—এই হাতের জাঁতাকলে পড়েও কেউ বেরিয়ে যাবে, এমন লোক তো দুনিয়ায় দেখি না—য এতৎ প্রাপ্য মুচ্যেত ন তৎ পশ্যামি পূরুষম্। এর আগে যারা আমার পাল্লায় পড়েছে, তাদের আমি কী করেছি, তা তুমি জানো না, এমন তো নয়—ন হি ত্বং নাভিজানাসি—কাজেই সময় এলে দেখতেই পাবে। তুমি শুধু শুধু কটাক্ষ করছ আমাকে। যুদ্ধে আমার শরীরে ক্লান্তি আসে না, বুক কাঁপে না একটুও। বস্তুত আমি আমার নিজের সম্বন্ধে যতটুকু বললাম, আমি তার থেকে একটু বেশিই বটে—বিদ্ধি মামধিকং ততঃ। আর এতক্ষণ যে আমি শান্তির কথা শুনালাম, সে শুধুই এই প্রখ্যাত ভরতবংশের ওপর ভালবাসায়, আর অবশ্যই খানিকটা দয়ায়—কিন্তু সৌহৃদমেবৈতৎ কৃপয়া মধুসুদন।

    মহামতি কৃষ্ণ আর কথা বাড়াননি। বললেন—রাগ কোরো না, দাদা। তোমাকে উসকে দিয়ে একটু মজা করছিলাম মাত্র—প্রণয়াদিদমব্রুবম্। আসলে—কৃষ্ণ জানতেন যে, যুদ্ধ লাগবেই। বিরাটের সভায় বসে সবার মতো তিনিও সবার কথা শুনছিলেন। তিনি জানতেন—কারা যুদ্ধের কথা বলবেন, আর কারা শান্তির প্রস্তাব দেবেন। ভীম যা বলেছিলেন, সেটা কৃষ্ণের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। শান্তির পত্র-পুষ্প সমারোহে শেষ পর্যন্ত যদি অবধারিত যুদ্ধের মেজাজটুকু আগে থাকতেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে যুদ্ধ লাগলে যে অপ্রস্তুত হতে হবে—সেটা কৃষ্ণ জানতেন বলেই ভীমের অপ্রত্যাশিত শান্তির বাণীতে তিনি খানিকটা বিব্রতই হয়েছেন। তিনি মজা করেননি মোটেই, তিনি ভীমের আসল ভাবটা সভার মধ্যেই যাচাই করে নিলেন—তস্মাদাশঙ্কমানো’হং বৃকোদর মতিং তব।

    ভীমের মুখে ধর্ম-কথা শুনে আরও একজন বড় আঘাত পেয়েছিলেন মনে। তিনি দ্রৌপদী। ক্রোধে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন—আমি যদি দুঃশাসনের কালো হাতখানা কাটা অবস্থায় মাটিতে ধুলো-ময়লায় মলিন হয়ে যেতে না দেখি—দুঃশাসনভুজং শ্যামং সংচ্ছিন্নং পাংশুগুণ্ঠিতম্—তাহলে আমার কীসের শান্তি? আজকে এই ভীমের মুখে শান্তি-সন্ধির কথা শুনে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আজকে ভীমও ধর্মের কথা শোনাচ্ছেন—যো’য়মদ্য মহাবাহু ধর্মং সমনুপশ্যতি। ‘কালো হাত’ ভেঙে দেবার প্রবাদ আজকের নয়, বহুকালের—দুঃশাসনভুজং শ্যামং।

    সত্যি কথা বলতে কী, ভীম তো এরকম নন। কিন্তু ওই যে বললাম, তিনি সবার সঙ্গে নেচে ফেলেছেন। মহামতি কৃষ্ণ অবশ্য দ্রৌপদীর সামনে ভীমের কথাটা খানিকটা ‘মেক-আপ’ করে দিয়েছেন এবং সেইটাই যা ভীমের বাঁচোয়া। ভীম স্বরূপে ফিরে এলেন কৃষ্ণের দৌত্যকর্ম ব্যর্থ হবার পর। কৌরব সভায় কৃষ্ণ যখন সন্ধি-শান্তির কথা বলছিলেন, তখন তাঁর অনুক্রমে ভীষ্ম-দ্রোণরা দুর্যোধনকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং তার মধ্যে ভীমের ভয় দেখাতেও তাঁরা ছাড়েননি। কৃষ্ণ ফিরে আসবার সময় জননী কুন্তীও বারবার ভীমের উদ্দেশে জানিয়েছেন যে, সে যেন দ্রৌপদীর অপমানের কথাটা খেয়াল রাখে। কুন্তীর বিশ্বাস ছিল অর্জুনের মতো ধনুর্ধরের সঙ্গে যদি একবার ভীমের যোগ হয়, তবে কৌরব কুলের ধ্বংস অনিবার্য—ভীমসেন-দ্বিতীয়শ্চ কুলমুদ্ৰবৰ্তয়িষ্যতি।

    যুদ্ধের ঠিক আগে আগে শকুনির ছেলে উলূক পাণ্ডবদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন দুর্যোধনের দূত হয়ে। অবধ্য দূত দূর্যোধনের জবানীতে যেসব কথা পাণ্ডবদের বলেছিল, তা শুনে ভীম দাঁতে দাঁত ঘষে যেভাবে তাঁর বাহু দুটি উত্তোলন করেছিলেন, তাতে তার মৃত্যু আসন্ন ছিল। শুধুমাত্র অর্জুনের হস্তক্ষেপে উলূক তার বিপন্ন অবস্থা থেকে বেঁচে যায় বটে, কিন্তু দুর্যোধনের কাছে ফিরে যাবার সময় কৃষ্ণ তাকে পরিষ্কার বলেই দিলেন যে,—বাপু! দুর্যোধন যদি মনে করে থাকেন—ভীমের প্রতিজ্ঞা মাঠে মারা যাবে, তবে সেটা চরম ভুল হবে। দুর্যোধন যেন নিশ্চিত ধরেই নেন যে, দুঃশাসনের বুক চিরে রক্তপান করার কাজটা আজই হয়ে গেছে—দুঃশাসনস্য রুধিরং পীতমদ্যাবধারয়।

    আসলে এ সবের কোনও প্রয়োজন ছিল না। ভীম এমনিতে বেশি কথাই বলেন না, কিন্তু কী করতে হবে সেটা তিনি জানেন। কুরুক্ষেত্রের সম্পূর্ণ যুদ্ধখণ্ডে ভীম কী করেছিলেন, কত যুদ্ধ করেছিলেন, কটা হাতিকে গদার ঘায়ে ধরাশায়ী করেছিলেন—সে সব তথ্যপঞ্জীতে আমার খুব বেশি মাথাব্যথা নেই। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ভীম যে প্রায় অনন্য—সেই সব চিত্র যদি দু-একটা তুলে না ধরি, তা হলে ভীম যে কারণে ভীম—সেই যুক্তিটাই নষ্ট হয়ে যাবে। তা ছাড়া সম্পূর্ণ যুদ্ধ-খণ্ডের মধ্যে ভীমকে যেমন আমরা মাঝে মাঝেই জ্বলে উঠতে দেখব, তেমনই নানান জায়গায় তাঁর স্থিরতাও আমাদের আন্দোলিত করবে। সবচেয়ে বড় কথা—যুদ্ধের মধ্যে যে ‘টোটাল্’ ব্যাপারটা আছে, যেখানে প্রতিনিয়তই অহং-মম এবং ব্যক্তিগত মায়া-মোহের ওপরে উঠতে হয়—সেই ‘প্রোফেশনালিজম্’ অত্যন্ত আধুনিক অর্থেই আমরা ভীমের মধ্যে লক্ষ করব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }