Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণা কুন্তী এবং কৌন্তেয় – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1105 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভীম – ১০

    ১০

    যুদ্ধের জন্য ভীমের একখানি রথ ছিল। দূর থেকে দেখে যাতে সেটা ভীমের রথ বলে চেনা যায়, তার জন্য একটা সোনার সিংহ আটকানো ছিল রথের ধ্বজায়—ভীম-বিক্রমের প্রতীক। সিংহের চোখে বসানো হয়েছিল বৈদুর্যমণি—সব সময় জ্বলছে। সিংহের যদি খাবার ইচ্ছে না থাকে, তবে তার সামনে দিয়ে গেলেও সে খায় না। কিন্তু সিংহের চোখ এমনই এক ঐশ্বর্যে চিহ্নিত যে তার সামনে এমনিতেই কেউ ঘুরে বেড়ায় না। কিন্তু যে ভাবছে—আমি তো নিরাপদ দূরত্বেই আছি, তার দিকেও যদি সিংহের হিংসার চক্ষুটি পড়ে তবে আর রক্ষা নেই, সে গেল। কুরুবৃদ্ধ পিতামহ যেদিন যুদ্ধের ঘোষণা করলেন, সেদিন সেই যুদ্ধারম্ভকে স্বাগত জানিয়ে কৃষ্ণের পাঞ্চজন্য, অর্জুনের দেবদত্ত অথবা যুধিষ্ঠিরের অনন্তবিজয় শঙ্খ বেজে উঠেছিল। মহাভারতের কবি এঁদের প্রত্যেকের শঙ্খ-বাদনের জন্য আধখানা করে শ্লোক নির্ধারিত করেছেন। কিন্তু ভীমের কথা যখন এল তখন আর ‘শঙ্খ’ শব্দটা শঙ্খমাত্র রইল না, সেটি মহাশঙ্খে পরিণত হল। যেমন অনার্য নাম সেই শঙ্খের তেমনই বিশাল তার আকৃতি, আর সেটাই বাজাচ্ছেন ভীম—পৌন্ড্রং দধেমী মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ।

    আমি এই ভীম শঙ্খ-নাদকে সিংহের গর্জন বলে মনে করি। তিনি গর্জনে বুঝিয়ে দিয়েছেন—তাঁর খাদ্যের দিকে তাঁর চোখ পড়েছে, আর মুক্তি নেই। ভীষ্মের সেনাপতিত্বে যেদিন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ আরম্ভ হল, সেদিন ভীষ্মের অসম্ভব রণশক্তি দেখে যুধিষ্ঠির ভয় পেয়েছিলেন। বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুন পর্যন্ত সেদিন ছিলেন নিষ্প্রভ। সৈন্যক্ষয় হয়েছে অজস্র। কিন্তু যুদ্ধের সেই প্রারম্ভিক পর্বেও যুধিষ্ঠির স্বীকার করেছেন—একমাত্র, একমাত্র ভীমই ক্ষত্রিয়ের মর্যাদা রেখে যুদ্ধ করতে পেরেছে, আর কেউ নয়—একো ভীমঃ পরং শক্ত্যা যুধ্যত্যেষ মহাভুজঃ। এর মানে অবশ্য এই নয় যে, ভীম ভীষ্ম, দ্রোণ বা কর্ণের কাছে একবারও হারেননি। যুদ্ধে হার-জিতের নিয়মে কখনও তিনি হেরেছেন আবার কখনও বা জিতেছেন। ভীষ্ম, দ্রোণ কি কর্ণ—এঁরা তাঁর লক্ষের মধ্যেও ছিলেন না। কিন্তু ভীমের সিংহচক্ষু যাঁর যাঁর ওপরে নিশ্চিতভাবে পড়েছে তাঁরা, তাঁর হাত থেকে রেহাই পাননি।

    যুদ্ধারম্ভের প্রথম দিনে ভীম তাঁর বিক্রম স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় দিনে সেই বিক্রম নিশ্চিত ফল প্রসব করেছে। কলিঙ্গ দেশের রাজা, রাজপুত্র এবং সৈন্যেরা, যাঁরা দুর্যোধনের পক্ষে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মেরে ফেলাটা ছিল ভীমের যুদ্ধ-বিদ্যার গৌণ ফল। মুখ্য জিনিসটা কী অথবা যুদ্ধটা তিনি কীভাবে করবেন সেই ‘মার্শাল আর্ট’টা তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন এই যুদ্ধে। ‘স্টেজে’ ‘থিয়েটার’ করা যাঁদের অভ্যাস আছে, তাঁদের কাছে চলচ্চিত্রের অভিনয় যেমন আরও সহজ হয়ে যায়, সেই রকম ভীম প্রধানত মল্লযোদ্ধা বলেই, কৌশলের নানা মারপ্যাঁচের সঙ্গে ‘ইম্‌প্রোভাইজ’ করে গদার বাড়ি বা তরোয়াল চালানোটা তিনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। যুদ্ধকালে ভীমের নানান গতি-কৌশল নিয়ে মহাভারতের কবিকেও দু-চার লাইন লিখতে হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ভীমের ছুটে যাওয়ার মধ্যেও অন্তত তিন-চার রকমের কায়দা ছিল। ‘ভ্রান্তমাবিদ্ধমুদভ্রান্ত’—মল্লযুদ্ধের এইসব পারিভাষিক শব্দ আপনারা নাই বা বুঝলেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ছোটা বা লাফানোর ব্যাপারে ভীম যেহেতু ছিলেন অনবদ্য, তাই গদা বা তরোয়াল হাতে তিনি যেমন শেষ মারটি দিতে পারতেন তেমনই প্রতিপক্ষের শেষ মারটি বাঁচাতেও পারতেন। আবার মল্লযুদ্ধে পশ্চাত অপসরণ করাটা যেহেতু লজ্জার নয়, অতএব Two steps forward and one step back—এই গরিলা রণনীতির জোরে হঠাৎ আক্রমণ বা মল্ল পরিভাষায় ‘সম্পাত’-এর কৌশলে তিনি সমস্ত কলিঙ্গ-সৈন্যকে তাঁদের রাজার সঙ্গে যমালয়ে পাঠিয়েছিলেন।

    ভীষ্মের সেনাপতিত্ব-কালে যুদ্ধের চতুর্থ দিনেই ভীম ধৃতরাষ্ট্রের আট ছেলেকে মৃত্যুর মুখ চিনিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য ধৃতরাষ্ট্রের এই পুত্রগুলিকে মেরে ফেলাটা তাঁর প্রধান লক্ষ্যগুলিতে পৌঁছবার প্রস্তুতিমাত্র। দুর্যোধনকেও তিনি এর মধ্যে কয়েকবার বাগে পেয়েছেন, তবে সেই যুদ্ধের তেমন গুরুত্ব কিছু ছিল না। সংকল্পও তেমন দৃঢ় ছিল না, ফলে দু’ পক্ষেই পতন ও মুর্ছার মধ্য দিয়ে যুদ্ধগুলি শেষ হয়েছে। তবে এও মানতে হবে যে, ভীম তাঁর শেষ লক্ষ্যে পৌঁছবার প্রস্তুতি হিসেবে ধৃতরাষ্ট্রের অন্তত পঁচিশটি পুত্রকে মহারথী ভীষ্মের সেনাপতিত্ব-কালের মধ্যেই শেষ করে দিয়েছেন। অবশ্য আর আমি এই যুদ্ধের বর্ণনায় যেতে চাই না। তার কারণ, মহাভারতের কবির অমানুষী ভাষা আমার জানা নেই এবং এককালীন ভীম-চরিত্র বর্ণনায় এই যুদ্ধের অন্তহীন বর্ণনা আমার লেখনীতে ক্লান্তিকর হয়ে পড়বে।

    তবু ভীষ্মের সময়টা ছেড়ে দিয়ে আমরা যদি একলাফে দ্রোণ-পর্বে চলে আসি, তাহলে দুটো প্রধান ঘটনা আমাদের চোখে পড়বে। একটি অভিমন্যু-বধের পর-পর্যায় এবং অন্যটি দ্রোণ-বধের পর-পর্যায়। সপ্তরথী মিলে অভিমন্যুকে মারার পর পাণ্ডব-শিবিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। অর্জুন জয়দ্রথ-বধের প্রতিজ্ঞা করলেন, কারণ সপ্তরথীর মারণব্যুহের প্রবেশ-পথ জয়দ্ৰথই আগলে রেখেছিলেন। জয়দ্রথকে বাঁচানোর জন্য দ্রোণাচার্য অভেদ্য দুর্গের মতো ব্যুহ রচনা করেছিলেন। কিন্তু ব্যুহ যতই অভেদ্য হোক, পাণ্ডব-পক্ষের প্রধান শক্তি অর্জুন-ভীমও তো কিছু কম নন। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্জুনকে বাধা দেবার জন্য সেদিন সবাই প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু ভীম যে এমন কাণ্ড বাধাবেন, তা কেউ ভাবেননি। কৌরবদের স্বার্থে স্বয়ং কর্ণ নেমে এসেছিলেন ভীমকে বাধা দিতে। কিন্তু ভীমের মেজাজ সেদিন এমন তুঙ্গ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মহারথ কর্ণ পর্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ভীমের কাছে।

    এই যে জয়দ্রথ-বধের প্রাক্কালে অর্জুনের সহায় হিসেবে যুদ্ধের জন্য তৈরি হলেন ভীম, তখন তাঁর শ্যালক ধৃষ্টদ্যুম্নকে তিনি শুধু একটি কথাই বলেছিলেন—দ্রোণাচার্য আজ দুর্যোধনের কথা মনে রেখে যুধিষ্ঠিরকে জ্যান্ত ধরবেন বলে ঠিক করেছেন। তুমি শুধু এটা মনে রেখো অর্জুনকে জয়দ্রথ-বধে সহায়তা করার থেকেও যুধিষ্ঠিরকে বাঁচানোর কাজটা আমার কাছে অনেক বড়—যাদৃক্‌ সংরক্ষণং দ্রোণাদ্রাজ্ঞঃ কৃত্যতমং হি নঃ। শ্রদ্ধা নয়, ভোলেভালা ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরকে ভীম যে কতখানি স্নেহ করতেন— এই সব মুহূর্তে বোঝা দায়। বড় দাদা হলে কী হবে, ধর্মবুদ্ধি থাকলে কী হবে, দাদা যে যুদ্ধে বড় কাবু, যে কোনও মুহূর্তে শত্রুপক্ষ যে তাঁকে কব্জা করে ফেলবে—এটা ভীমের বোধ ছিল। যাই হোক ধৃষ্টদ্যুম্ন যখন বললেন যে—আমার প্রাণ থাকতে যুধিষ্ঠিরকে ধরার সাধ্য নেই কারও, সেই সান্ত্বনায় নিশ্চিন্ত হয়ে ভীম চললেন অর্জুনকে সাহায্য করতে।

    যুদ্ধে যাবার আগে ভীমের কিঞ্চিৎ মদ্যপানের অভ্যাস ছিল। বললে বাড়াবাড়ি হবে না—এ অভ্যাস তাঁর ছোটবেলা থেকেই। তা ছাড়া সে মদও যে ‘গৌড়ী মাধ্বী বা পৈষ্টী’র মতো অভিজাতের মদ নয়, তা বলতে আমার দ্বিধা নেই। সেই ছোটবেলায় দুর্যোধনের বিষমাখা মিষ্টি খেয়ে তিনি যে নাগলোকে পৌঁছেছিলেন, সেখানে জালা-জালা মদ খেয়ে হজম করেছিলেন তিনি। নাগেরা আপন জাতি-মর্যাদায় সে মদকে যতই অমৃতের মার্কা দিন, কিন্তু আমরা জানি নাগেরা অনার্য কৃষ্টি বহন করতেন, অতএব তাঁদের মদও মোটামুটি তাল-মার্কা বা ধেনোজাতীয়ই হবে।

    এক্ষেত্রেও ভীমকে দেখছি—দাদা যুধিষ্ঠিরকে আলিঙ্গন করে দেব-দ্বিজের আশীর্বাদ নিয়েই ভালরকম যুদ্ধোন্মাদনার জন্য তিনি খানিকটা মদ্যপান করে নিলেন এবং সে মদ বেশির ভাগ সময় শিকারী ব্যাধেরা খায়—পীত্বাং কৈরাতকং মধু। এই মদ খেয়ে তাঁর শক্তি বাড়ল দ্বিগুণ, চোখটাও হয়ে উঠল যুদ্ধের উপযোগী—লাল টক্‌টকে—দ্বিগুণদ্রবিণে ধীমান্ মদবিহ্বল-লোচনঃ। ভীম যুদ্ধে চললেন।

    প্রথমেই ধৃতরাষ্ট্রের দু-একটা ছেলেকে মেরে প্রকৃত যুদ্ধের প্রস্তুতি করতেই মহারথ কর্ণের সঙ্গে তাঁর যুদ্ধ আরম্ভ হল। ভারী আশ্চর্য, ভীম তাঁর প্রধান হাতিয়ার গদা ছেড়ে বাণ-যুদ্ধ আরম্ভ করলেন কর্ণের সঙ্গে এবং আরও আশ্চর্য কর্ণের মতো অসাধারণ যোদ্ধা ভীমের কাছে একেবারে হেরে বসলেন। যুদ্ধ জেতার সিংহ-গর্জন চলল বহুক্ষণ ধরে। ভীম অবশ্য কর্ণকে পরাজয়ের লাঞ্ছনা দিয়েই অর্জুনকে সাহায্য করার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্ণ দূর থেকে তাঁকে পালিয়ে যাবার দুর্নাম দিয়ে আবার ফিরিয়ে আনলেন যুদ্ধে। যুদ্ধ আরম্ভ হল এবং আবার সেই বাণ-যুদ্ধ। কর্ণ দ্বিগুণ বেগে বাণ-বর্ষণ আরম্ভ করলেন, তাঁর সুচীমুখ বাণের ফলায় ভীমের শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেল। কিন্তু সেই অবস্থাতেও ভীমের তেজ রইল অম্লান। বসন্তের পুষ্প-সম্ভারের মধ্যে লাল লাল অশোক ফুল যেমন ফুটে থাকে, ভীমের দীপ্র বপুষ্মত্তার মধ্যে রুধির-ক্ষতগুলি সেই অশোক ফুলের রক্তিম অলংকার তৈরি করেছিল—সমৃদ্ধ কুসুমপীড়ো বসন্তে’শোকবৃক্ষবৎ। এই অবস্থাতেও কর্ণ কিন্তু ভীমের শক্তি সহ্য করতে পারলেন না। তিনি পালিয়ে বাঁচলেন। পালালেন বটে, তবে আবার এলেন এবং আবারও পালালেন ঘোড়াগুলিকে জোরে ছুটিয়ে—প্ৰাদ্রবজ্জবনৈরশ্বৈ রণং ত্যক্তা মহাযশাঃ। ভীমের কাছে কোনও ভাবেই দাঁড়াতে পারলেন না কর্ণ।

    প্রজ্ঞাচক্ষু ধৃতরাষ্ট্র তো অবাক হয়ে গেলেন, শুধু অবাক নয় খানিকটা আশাহতও। বললেন—কী বাজে কথাটাই না আমাকে বলেছে দুর্যোধন। মাথামোটা কোথাকার। বলে কিনা কর্ণ একাই সমস্ত পাণ্ডবদের জিতে আসতে পারবে। এখন দেখুক সে, কর্ণ যে এইভাবে পালিয়ে গেল, এখন সে কী বলবে? যুদ্ধের রীতিনীতি এক ফোঁটাও বোঝে না দুর্যোধন! নইলে নিজেরা ফড়িং হয়ে এই রকম আগুন ডেকে এনেছে নিজেদের পুড়িয়ে মারবার জন্য—প্রবেশয়দ্ধৃতবহং পতঙ্গমিব মোহিতঃ।

    ভীমের নামে ধৃতরাষ্ট্রের ভয়ের কথা আগেই বলেছি। এতদিন যে ভয় কল্পনায় ছিল এখন তা রূঢ় সত্যে পরিণত। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর কোনও না কোনও পুত্রের মৃত্যু হচ্ছে এবং কর্ণের মতো বীর যখন আজ বারংবার যুদ্ধ করে পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করলেন, ধৃতরাষ্ট্রের ভয় তখন সর্বনাশের আশঙ্কায় চিহ্নিত। তিনি সঞ্জয়কে বললেন—লোকে যমের বাড়ি গিয়েও ফিরে আসতে পারে হয়তো কিন্তু ভীমের হাত থেকে নয়। যা শুনলাম আজকে, তাতে অশ্বত্থামা, কৃপ, কর্ণ—সব যদি এক জায়গাতেও জোটে তবু ভীমের সঙ্গে পারবে না।

    সত্যি কথা বলতে কি, কর্ণ নতুন রথসজ্জা করে আবার ফিরে এসেছিলেন। যুদ্ধও স্থায়ী হয়েছিল অনেকক্ষণ। সময় এসেছিল যখন কর্ণের বিক্রমে ভীমের রথ ভেঙে গিয়েছিল। ভীম এই অবস্থাতেও সুযোগ পেয়েছিলেন খালি হাতে কর্ণকে পিটিয়ে মারার। আবার কর্ণও সুযোগ পেয়েছিলেন নিরায়ুধ ভীমকে মেরে ফেলার। কিন্তু ভীম সুযোগ নেননি—কৰ্ণ অর্জুনের হন্তব্য শত্রু বলে। আবার কর্ণও ভীমকে মারেননি কুন্তীর কাছে কথা দিয়েছিলেন বলে। এই দুই মহাবীর পারস্পরিক হত্যা থেকে বিরত থাকলেও কর্ণকে সাহায্য করতে গিয়ে ধৃতরাষ্ট্রের আরও কতগুলি ছেলে বেঘোরে ভীমের হাতে মারা গেল। ভীমের লাভ এইটুকুই এবং ধৃতরাষ্ট্রের ক্ষোভও সেইখানেই।

    দ্রোণাচার্য যখন প্রায় অদম্য হয়ে উঠলেন, তখন কৃষ্ণ বললেন—কৌশল করে এই বৃদ্ধকে যদি তাঁর প্রিয় পুত্র অশ্বত্থামার মৃত্যু সংবাদ দেওয়া যায় তবেই দ্রোণাচার্য থামবেন, নইলে নয়। কথাটা অর্জুনের একেবারেই পছন্দ হল না, ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরও নিমরাজি হয়ে এই প্রস্তাবে সায় দিলেন। এবার সেই চরম মিথ্যেটা ঘোষণা করার ভার পড়ল ভীমের ওপর। পাণ্ডবদের নিজস্ব গজ বাহিনীর মধ্যেই অশ্বত্থামা নামে একটি হাতি ছিল। ডাহা মিথ্যা থেকে বাঁচার জন্য ভীম তাঁর গদার বাড়িতে সেই হাতিটিকে মেরে মহানাদে ঘোষণা করলেন—অশ্বত্থামা মারা গেছেন। মারা গেছেন অশ্বত্থামা—অশ্বত্থামা হত ইতি শব্দমুচ্চৈকার হ।

    শেষ পর্যন্ত দ্রোণ কীভাবে মারা গেছেন, আপনারা জানেন। কিন্তু মুশকিলটা হল দ্রোণ-বধের পর। দ্রোণকে চুলের মুঠি ধরে ধৃষ্টদ্যুম্ন যেভাবে হত্যা করেছিলেন, তাতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অর্জুন। যেমন তিনি গালাগালি করলেন যুধিষ্ঠিরকে, তেমনই গালাগালি করলেন শ্যালক-সেনাপতি ধৃষ্টদ্যুম্নকে। অর্জুনের বিলাপ-ধ্বনির সঙ্গে যুধিষ্ঠির এবং ধৃষ্টদ্যুম্নের প্রতি যেভাবে ঘৃণা মিশ্রিত হচ্ছিল, তাতে ভীমও জড়িয়ে যাচ্ছিলেন। অর্জুন সরাসরি ভীমের উদ্দেশে কোনও কটুক্তি না করলেও, ভীমই যেহেতু হাতি মেরে মিথ্যাচারের শুরুটা করেছিলেন, অতএব পরোক্ষভাবে তিনিও জড়িয়ে যাচ্ছিলেন ওই চক্রান্তের মধ্যে। এতক্ষণ ঝিকে মেরে বউ-শেখানোর কায়দা দেখছিলেন ভীম। অর্জুন যখন বললেন—এইভাবে যখন আমার আচার্যকে হত্যা করা হল, তখন আর আমার বেঁচে থেকে লাভ নেই।

    এসব কথা শুনে ভীম আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। বাচিক ভাষায় যাকে বলে ‘ন্যাকামি’, ভীম যেন অর্জুনের মধ্যে সেই ন্যাকামি দেখতে পেলেন। গুরুর প্রতি অর্জুনের শ্রদ্ধাটা যদিও মিথ্যা ছিল না, কিন্তু সেই দুর্বলতায় বারংবার ঘা খেয়ে ভীম সেটাকে কথার জোরে স্তব্ধ করে দিতে চাইলেন। ভীম বললেন—আহা বনবাসী মুনিরা যেমন ধর্মকথা বলে, ক্ষত্রিয়ের অস্ত্রশস্ত্র ফেলে দিয়ে তুমিও সেই রকম বলতে আরম্ভ করেছ। মনে রেখো অর্জুন, ক্ষত্রিয়ের ভাবটাই তোমাকে শোভা পায়, কিন্তু সমস্ত ক্ষত্রিয়-গুণের অধিকারী হয়ে আজকে এমন বোকার মতো সব কথা বলছ, এটা তোমাকে মানায় না অর্জুন—অবিপশ্চিদ্ যথা বাচং ব্যাহরন্নাদ্য শোভসে।

    এই কটুক্তির পিঠে-পিঠে ভীম অবশ্য অর্জুনের ধর্মবোধ এবং নীতি-যুক্তির প্রশংসাও করলেন যথেষ্ট। কিন্তু সেই প্রশংসার সঙ্গে সঙ্গে ভীম এটাও বলতে ছাড়লেন না যে, অর্জুনের কথাগুলি তাঁর মোটেই সহ্য হচ্ছে না। তিনি বললেন—ধর্মবোধ আমরা কম দেখাইনি অর্জুন। কিন্তু দ্রৌপদীকে ওরা যেভাবে সভায় নিয়ে এসেছিল, আমাদের যেভাবে বনবাসে পাঠানো হয়েছে, গাছের বাকল পরে যেভাবে এই তেরো বচ্ছর সহ্য করেছি—এগুলো কি আমাদের রাগের বস্তু নয়? তবু এসব আমরা সহ্য করেছি এবং এখন তোমাকে সঙ্গে নিয়ে একে একে সেই সব রাগের প্রতিশোধও নিচ্ছি। কিন্তু আজ যেভাবে তুমি আমাদের অপমান করছ তাতে আমাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে পড়ছে—বপন্‌ ব্রণে ক্ষারমিব ক্ষতানাং শত্রুকর্ষণ। তোমার যদি এত এ হয় তাহলে অন্য ভাইদের নিয়ে চুপ করে বসে থাকো তুমি; আমি একাই আমার গদাটি হাতে নিয়ে বেরব এবং এই যুদ্ধ জয় করে আসব—অহমেনং গদাপাণি-র্জেষ্যাম্যেকো মহাহবে।

    ভীমের এই কথাগুলির একটা অন্য মূল্য ছিল। কোনও গুরুতর অপরাধের জন্য কেউ যদি মনে মনে শাস্তি পেতে থাকে, তখন যদি কেউ ভয়ঙ্কর রেগে গিয়ে জবরদস্তি করে অপরাধীর অপরাধ অপ্রমাণ করে দেয়, তাহলে অপরাধী সান্ত্বনা পেতে থাকে। সে ভাবতে থাকে—তা হলে বোধহয় খুব অন্যায় হয়নি। এত যখন কারণ আছে, স্বপক্ষে এত যখন যুক্তি রয়েছে, তা হলে বোধহয়, তা হলে আমি বোধহয় বেশি বেশি ভাবছি। ভীমের কথায় পরোক্ষে অর্জুন শান্তি পেয়েছেন মনে মনে। তিনি এবার সুস্থির হয়ে তাঁর প্রধান শত্রু কর্ণের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। কারণ দ্রোণ মারা যাবার পর কর্ণই ছিলেন কৌরব-সেনাপতি।

    দুর্যোধন কর্ণের কাছে বড় বেশি আশা করেছিলেন। কিন্তু কর্ণের সেনাপতিত্ব কালে সবচেয়ে বড় ঘটনা হল ভীমের হাতে দুঃশাসনের মৃত্যু এবং তাঁর রক্তপান। ব্যাপারটা আচম্বিতেই ঘটে গেল। প্রধানত কর্ণের বিরুদ্ধে অর্জুনকে সাহায্য করার জন্যই ভীম তাঁর পৃষ্ঠরক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় কোথা থেকে দুঃশাসন ভীমকে দেখতে পেলেন এবং হঠাৎ তাঁর সমস্ত বীরত্ব যেন উথলে উঠল। ভীমের উদ্দেশে তিনি খুব বাণ-টান ছাড়তে আরম্ভ করলেন। আর যায় কোথা। ক্ষুধার্ত সিংহ যেমন হরিণ দেখলে দ্রুত ধাবিত হয়, ভীমও সব ছেড়ে দুঃশাসনকে ধাওয়া করলেন। দুঃশাসন যোদ্ধা কম ছিলেন না। দু-একটা বাণ যা ছাড়লেন, তাতে ভীমের মতো বীরকেও অন্তত একবার মাথায় ঝিম ধরে রথের ওপর শুয়ে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু ঝিম-ঝিম ভাবটা কেটে যেতেই তিনি এমন একটা গর্জন দিয়ে উঠলেন যে, সেটাই ছিল দুঃশাসনের মৃত্যুঘণ্টা। দুঃশাসনের শরে অতিরিক্ত বিদ্ধ হয়ে শেষমেষ তাঁর অষ্টায়সী গদাখানি ঘুরিয়ে ছুঁড়লেন দুঃশাসনের দিকে। গদাটা সোজা গিয়ে আঘাত করল দুঃশাসনের মাথায়।

    দুঃশাসন সঙ্গে সঙ্গে রথ থেকে পড়ে গেলেন। ভীম তখন অন্য একখানি গদার বাড়িতে দুঃশাসনের রথ, ঘোভা, সারথি—সব একেবারে চুরমার করে ভেঙে দিলেন। ভুমিলুণ্ঠিত, মৃত্যু যন্ত্রণায় তখনও কম্পমান দুঃশাসনের দিকে তাকাতেই এবার ভীমের মনে পড়ল দ্রৌপদীর কথা। এই সেই দুঃশাসন—যে এক সময় চুলের মুঠি ধরে তাঁর পরান-পুতলী দ্রৌপদীকে রজস্বলা অবস্থায় উন্মুক্ত সভার মধ্যে নিয়ে এসেছিল এবং তাঁর লজ্জাবস্ত্র খুলে দিয়েছিল। ভীমের চোখে আগুন জ্বলে উঠল। তিনি বলে উঠলেন—যার সাধ্যি থাকে এগিয়ে আসুক, এই আমি দুঃশাসনকে মারতে যাচ্ছি, তোদের সাধ্যি থাকে তো বাঁচা। যাঁদের সামনে অথবা যাঁদের উদ্দেশে এই হুঙ্কারটি ছাড়া হল, তাঁর হলেন কর্ণ এবং দুর্যোধন। দুঃশাসন যে ভীমের গদার আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন—এটা তাঁর দেখেছেন। কিন্তু ভীমের আক্রোশ-বাক্য শুনেও তাঁরা যে কেউ সেদিন এগোলেন না, তার কারণ—ভীম সেদিন তাঁর ক্রোধের তুঙ্গবিন্দুতে অবস্থান করছিলেন।

    দুর্যোধন-কর্ণের সামনে দিয়েই ভীম সবেগে ধাবিত হলেন দুঃশাসনের দিকে—সুযোধনস্যাধিরথেঃ সমক্ষম্‌। তাঁর চোখটা শুধু দুঃশাসনের দিকে। দুঃশাসনের শরীরে তখনও প্রাণ আছে। গদার আঘাতে মুহ্যমান, দেহের আবরণ বর্ম ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধযাত্রার প্রাক্কালে পরা পরিধান, গলার মঙ্গল-মালা বিস্ত, হাত দিয়ে শুধু কিছু আঁকড়ে ধরতে চাইছেন, বাঁচবার শেষ সদিচ্ছা—বিধ্বস্ত-বর্মাভরাণাম্বর-স্রক্‌ বিচেষ্টমাননা ভূশবেদনার্তঃ। ভীম দুঃশাসনের সামনে এসে কোষ থেকে ক্ষুরধার তরবারি মুক্ত করলেন। তারপর পা দিয়ে চেপে ধরলেন দুঃশাসনের কণ্ঠদেশ আর স্পন্দমান অসিটি দিয়ে চিরে ফেললেন দুঃশাসনের বুক—উকৃত্য বক্ষঃ পতিতস্য ভূমৌ। ফিনকি দিয়ে দুঃশাসনের কবোষ্ণ রক্ত বেরিয়ে এল পাদ-পিষ্ট দেহ থেকে। ভীম অঞ্জলি পুরণ করে দুঃশাসনের রক্ত ছোঁয়ালেন ঠোঁটে। এই একবার।

    সেই মর্মচ্ছিন্ন অবস্থাতেও দুঃশাসন আরও একবার চেষ্টা করলেন ওঠার। এবার উদ্যত তরবারির এক কোপে ভীম দুঃশাসনের মাথাটা আলাদা করে দিলেন ধড় থেকে। এবার দ্বিতীয়বার তাঁর উদগত শোণিত অঞ্জলি-বদ্ধ করে ভীম লেহন করতে লাগলেন রীতিমতো; চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে দেখতে-দেখতে পরম নিশ্চিন্তে লেহন করলেন দুঃশাসনের রক্ত—আস্বাদ্য চাস্বাদ্য চ বীক্ষমাণঃ। রক্তাদের প্রতিতুলনায় সুস্বাদু লেহ্য-পেয়র বর্ণনাও বাদ গেল না এখানে। ভীম বললেন—আহা! ছোটবেলায় মায়ের দুধ খেয়েছি, ভালই লেগেছিল নিশ্চয়। মধু খেয়েছি কত, তাও বেশ ভাল। দইয়ের মাঠা, দুধ, ঘি—সেও বেশ। ফুলের মধু থেকে নানা মশলায় তৈরি করা মদ—মাধ্বীকপানস্য চ সকৃতস্য—তাও আমার বেশ লাগে। কিন্তু যত যাই বল, ঘি-মধু, মধু-মদ—যত রকম সুস্বাদু পানীয়ই আমি পান করে থাকি, সে সবগুলির চেয়ে এই শত্রু-শোণিতের আস্বাদ আমার কাছে অনেক বেশি, অনেক বেশি—সর্বেভ্য এবাভ্যধিকো রসো’য়ং মতো মমাদ্যাহিতলোহিতস্য।

    আপনারা বলতেই পারেন—এ একেবারে নৃশংসতার চরম; আর্য সভ্যতার পরিপন্থী এই অসভ্য ব্যবহার। আমি বলি—আপনারা কী বলবেন? পণ্ডিতেরাই তো এ সব কথা কতই বলেছেন। সাহেব-সুজনরা তো মহাভারতের এই জায়গাটা দেখে সদয় হয়ে অন্তত মহাভারতের এই অংশটুকুর রচনাকাল বেশ পুরনো বলে মনে করেন। গবেষণা বড় বিষম বস্তু। মহাভারতের অনেকাংশই তাঁদের মতে অবাচীন, কিন্তু এই জায়গায় তাঁরা ‘ক্যানিবালিজমের’ গন্ধ পেয়ে দয়া করে বলেনা—হ্যাঁএটা ঠিক যে, ভীমের রক্তপানের মধ্যে যেহেতু প্রাগৈতিহাসিক সভ্যেতর মানুষের চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে, অতএব মহাভারতের মূল কিছু অংশ খ্রিস্টজন্মের বহু পূর্বেই রচিত হয়েছিল।

    এই সব বিচিত্রবুদ্ধি গবেষকের খুরে আমার দণ্ডবৎ প্রণিপাত জানাই। আরও জানাই যে, সেকালে ক্ষত্রিয়ের কাছে প্রতিজ্ঞা-রক্ষার ধর্ম যে কতটা বড় ছিল, সেটা এই মহা-পণ্ডিতদের বোঝাব কেমন করে? প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য কত ক্ষত্রিয় রাজা-মহারাজা কত হীন কাজ করেছেন, কত ঘৃণিত ব্যবহার করেছেন—সেই ফিরিস্তি যদি মাথায় থাকত, তাহলে এই অপোগণ্ড গবেষণার দরকার হত না। তা ছাড়া ভীমের নৃশংসতা, অক্ষমা এবং বুদ্ধিবৃত্তির পরিবর্তে ‘ইন্‌স্টিংক্টে’ চলাটা সম্পূর্ণ মহাভারত জুড়ে এইভাবে চিত্রিত। মহাভারতের কবি তাঁকে জনমনের ইচ্ছাপূরকভাবেই গড়েছেন। ফলে এই রক্তপানের সময় তাঁর নৃশংসতার চেয়েও, বার বার সারা জীবন ধরে যে প্রতিশোধের কথা বলেছেন, সেইটাই এই নৃশংসতার যুক্তি হওয়া উচিত।

    হ্যাঁ, আজকাল সভ্য মানসিকতায় এই রক্তলেহন বর্বরতা বলে মনে হতেই পারে। সেদিনও যারা ভীমের রুধির-ধারা-লাঞ্ছিত মুখখানি দেখেছিল, তারা কেউ ভয়ে পালিয়েছিল, কেউ সীমাহীন বর্বরতার নিরিখে অসহ্য ঘৃণায় চোখ বন্ধ করেছিল, আর কেউ বলেছিল—ব্যাটা মানুষ নয়, রাক্ষস—নায়ং মনুষ্য ইতি ভাষমাণাঃ। পণ্ডিতরাও তাই বলেন। বলেন—ভীমের ব্যবহারটা রাক্ষসের মতো। কিন্তু এটা কেউ ভাবেন না যে, আজকের সভ্য জগতেও কেউ যদি রাজযন্ত্র ব্যবহার করে যে কোনও ছুতোয় সমস্ত লোক-সমক্ষে আপনার স্ত্রীর পরিধান খুলে নেয়, তবে আপনারও সেই দুর্মতিকে হত্যার ইচ্ছা করবে না কি? যদি না করে, তবে হয় আপনি পশু অথবা পশুপতি, বোমভোলা মহাদেব। আজকের সভ্য আইনে সর্বসমক্ষে আপনার স্ত্রীর পরিধেয় বসন খুলে নিলেও আপনি তাকে মারতে পারেন না; আপনাকে থানায় যেতে হবে, আদালতে যেতে হবে এবং তারপরেও বস্ত্র-মোচনের জন্য আপনার শত্রুর শাস্তি কতটুকু হবে বলে আপনি মনে করেন.? বড় জোর কিছুদিনের হাজতবাস অথবা কিছু জরিমানা। কিন্তু আপনার মনে কী থাকবে মশাই? মনে-মনে আপনি এই শত্রুকে খুন না করে থাকবেন কি? গায়ে জোর থাকলে, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপত্তি থাকলে খুন করেও ফেলতেন হয়তো।

    কিন্তু মনে রাখবেন—গায়ে অমানুষিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ভীম তাঁর দাদার রাজনৈতিক শিক্ষায় তেরো বচ্ছর চুপ করে বসেছিলেন। ভাগ্যিস তাঁকে পুলিশ কিংবা জুজ-সাহেবের এজলাসে যেতে হয়নি, অতএব তেরো বচ্ছর পরে তাঁর ক্ষত্রিয়ের বচন সার্থক করে ভীম রক্তপানের যুক্তি দিয়েছেন—তোরা আমাকে প্রমাণকোটির বাগান-বিহারে বিষ খাইয়েছিলি, বারণাবতে লাক্ষা-গৃহে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলি, পাশা খেলে আমাদের রাজ্য কেড়ে বনবাসে পাঠিয়েছিলি, প্রাণপ্রিয় পত্নীর চুলের মুঠি ধরে সভায় অপমান করেছিলি, বিরাটরাজার ঘরে চাকরগিরি করতে বাধ্য করেছিলি—এইরকম, ঘরে-বাইরে যত কষ্ট আছে সব দিয়েছিস আমাকে। আর সেই বনবাসে যাবার আগে আমার হাঁটা দেখে ভেঙিয়ে ভেঙিয়ে বলেছিলি—গরু চলেছে, ব্যাটা! গরু—আজ তোর রক্ত খেয়ে সেই ‘বলা’টাও ফিরিয়ে দিলাম। আজকে আমি বলছি—ব্যাটা! তোরাই গরু, গরু কোথাকার—তান্ বয়ং প্রতিনৃত্যামঃ পুনগোরিতি গৌরিতি।

    ভীমকে কেউ কিচ্ছুটি করতে পারেননি। দুর্যোধন-কর্ণের মতো বীর ভ্রাতৃশোকে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন—এ কথা মানি না। আসলে ভীমের ভয়ঙ্কর উগ্র রূপ দেখে কারও এক পা এগোবার সাহস হয়নি। রক্তপানের উল্লাসের পর কৃষ্ণ আর অর্জুনকে সামনে পেয়ে ভীম বলেছেন—আমি যা বলেছিলাম, তা করেছি, কথা রেখেছি—তদ্‌ বৈ সত্যং কৃতমদ্যেহ বীরৌ। আরও একটা কথা-রাখার কথা ছিল। মহাভারতের কবি সে-কথা আগেও বলেননি। পরেও বলেননি অর্থাৎ ভীম সে প্রতিজ্ঞা মহাভারতের পাতায় করেননি অতএব সে প্রতিজ্ঞা রাখারও প্রশ্ন আসে না। কিন্তু মহাভারতের কাহিনী উপজীব্য করে যাঁরা কাব্য-নাটক লিখেছেন, তাঁরা রুধিরাপ্লুত ভীমকে ছোটাতে ছোটাতে দ্রৌপদীর ভবনে নিয়ে এসেছেন। দুই অঞ্জলিতে রক্তপূর ভীমসেন ক্ষত্রিয়ের আস্ফালনে ছুটে গেছেন ক্ষত্রিয়াণী দ্রৌপদীর কাছে। রক্তের সিঞ্চনে দ্রৌপদীর কুঞ্চিত-কৃষ্ণ কেশদামে আবার বেণী বেঁধে দিয়েছেন ভীমসেন—বেণীসংহার নাটকের পালা জমেছে এইভাবেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }