Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণা কুন্তী এবং কৌন্তেয় – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1105 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্জুন – ৬

    ৬

    আগের অধ্যায়ের অর্জুনের মুখ থেকে শুধু একটা কথা শোনার জন্য আমরা বিরাটপর্বের ঘটনাটা বলেছিলাম। অৰ্জুন বলেছিলেন—কেউ কোনওদিন কারও মন বুঝতে পারে না, দ্রৌপদী। আমরা বলেছিলাম—পঞ্চপাণ্ডবের প্রত্যেকের প্রতি নীতিগতভাবে সমদর্শিনী হওয়া সত্ত্বেও দ্রৌপদী অর্জুনের মুখে ওই একটি কথা শুনে আশ্বস্ত বোধ করেছেন এবং নিজের অন্তরজাত আত্মবিশ্বাসের শুশ্রূষা করেছেন। ভেবেছেন—মানুষটা একান্তভাবে আমারই। কিন্তু এই মুহূর্তে আজ যখন ইন্দ্রপ্রস্থে যাদবনন্দিনী সুভদ্রার আগমন হল, তখন দ্রৌপদীর জীবনের শেষ মুহূর্তটার কথা আমাদের স্মরণ করতে হচ্ছে। মহাপ্রস্থানের পথে দ্রৌপদী যখন হিমালয়ের পথে চলতে চলতে মৃত্যুর আঘাতে লুটিয়ে পড়লেন ভঁয়ে, তখন ভীম যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করলেন—রাজপুত্রী যাজ্ঞসেনী কোনওদি কোনও অন্যায় করেননি, তিনি কেন এইভাবে মারা গেলেন? যুধিষ্ঠির বললেন—আমাদের সবার মধ্যে অর্জুনের ওপর তাঁর প্রেমের পক্ষপাত বেশি ছিল। এই কারণেই আজ তাঁর মৃত্যু।

    দেখুন, সাধারণভাবে মহাভারত পড়ে অথবা দ্রৌপদীর কাজকর্ম, ব্যবহার বিচার করে এই পক্ষপাত বার করা খুব মুশকিল। এমনও নয় যে, তিনি অর্জুনের পাতে আলাদা ঘি দিতেন, কি মাছের মুড়োটি তাঁর জন্য সরিয়ে রেখেছেন আলাদা করে। এই পক্ষপাত বোঝা যাবে দ্রৌপদীর ক্রোধে, অভিমানে, লজ্জায়। এ সব কথা কথঞ্চিৎ সবিস্তারে আমরা ‘দ্রৌপদী’ প্রবন্ধে দেখিয়েছি। কিন্তু আজ অর্জুনের দিক থেকেও ব্যাপারটা বোঝার সময় এসেছে। কারণ আজ তিনি সুভদ্রাকে নিয়ে ইন্দ্রপ্রস্থে এসেছেন। যে রমণী পঞ্চস্বামীর মধ্যে আপনার প্রেম ভাগ করে দিয়েও তাঁর গোপন গভীর সারাংশটুকু স্বয়ম্বর-সভার লক্ষ্যভেত্তা পুরুষটির জন্য সযত্নে তুলে রেখে দিয়েছেন, সেই অর্জুন আজ সুভদ্রাকে নিয়ে ইন্দ্রপ্রস্থে এসেছেন। কাজেই দু’জনকেই আজ লক্ষ্য করতে হবে—দ্রৌপদীকেও, অর্জুনকেও। একজন রমণী—যিনি স্বয়ম্বর-সভায় লক্ষ্যভেত্তা পুরুষকে হৃদয়ের বরমাল্য দিয়েও তাঁকে সম্পূর্ণ পেলেন না। আরেকজন পুরুষ—যিনি আপনার প্রাপ্য বীরোচিত উদারতায় ভাইদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে কপালদোষে বারো বছর বনে কাটিয়ে আসতে বাধ্য হলেন। এই তাঁদের দ্বিতীয়বার দেখা হল। দ্রৌপদী আগেই জানেন—সুভদ্রার সঙ্গে অর্জুনের বিয়ে হয়ে গেছে।

    অর্জুন খাণ্ডবপ্রস্থে ফিরেই মহারাজ যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে দেখা করলেন। এই রাজদর্শনের পরেই অর্জুন ছুটলেন দ্রৌপদীর ঘরে। কেন? তাঁর কি দেখা করবার মতো আর কোনও গুরুজন ছিলেন না? রাজমাতা কুন্তী, মেজদাদা ভীমসেন—এরা কি কিছুই নন? আমরা বলি—গুরুজন বটে, তবে গুরুতর নন ততে। অর্জুন জানেন—তার দ্বিতীয়-বিবাহে এই বিদগ্ধা রমণীর হৃদয়ে কী আঘাত লাগতে পারে। তিনি জানেন—আপন মনোজ্বালায় তিনি যতই দগ্ধ হন না কেন, তিনি যদি অন্যত্র মন দেন, তা হলে দ্রৌপদীর ভালবাসায় যতটুকু আঘাত লাগবে, তার থেকে অনেক বেশি লাগবে তাঁর প্রেমের অহঙ্কারে, অধিকার-চেতনায়। দ্রৌপদীর মনে হবে বুঝি—সিংহীর মুখের গ্রাস শৃগালিনী তুলে নিয়ে গেল। অর্জুন তাই সাত-তাড়াতাড়ি দ্রৌপদীর কাছে এসেছেন।

    বিদগ্ধা রমণী বলেই তখনও দ্রৌপদীর ভাষায় প্রণয়ের অভিমান ছিল। অর্জুনকে দেখামাত্রই তিনি বলে উঠলেন—তুমি আবার এখানে কেন, অর্জুন? যেখানে যাদব-কুলের সুন্দরী সুভদ্রা রয়েছেন, সেইখানেই যে তোমার জায়গা, তুমি সেইখানে যাও—তত্রৈব গচ্ছ কৌন্তেয় যত্র সা সাত্ত্বতাত্মজা। শুধু এইটুকু বলার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর অভিমান নিবৃত্ত হয়ে গেছে। দ্রৌপদী বাস্তব বোঝেন অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে এবং আপাতত তিনি এটা বুঝতেই পারলেন যে, তাঁর মনের মানুষকে আরও একজন অধিকার করে নিয়েছে। বাস্তবতা বোঝানোর জন্য আমাদেরই দৈনন্দিন জীবনের এমন একটা উপমা তাঁর মুখ দিয়ে বেরিয়েছে, যা দ্রৌপদীর মতো স্পষ্টবক্তার মুখেই মানায়।

    দ্রৌপদী বললেন—যে জিনিসটা আগেই ভাল করে বাঁধা ছিল, সেটা যদি আরও ভাল করে দড়ি দিয়ে বাধা যায়, তা হলে আগের বাধনটা আলগা হয়ে যায়। আমারও তাই হয়েছে। আজ সুভদ্রার নতুন প্রেমের বাঁধনে দ্রৌপদীর পুরাতন বাঁধন আলগা হয়ে গেছে। তবে এই সাভিমান স্পষ্টভাষিতার মধ্যেও দ্রৌপদীর বক্রোক্তির ঝাঁঝ বড় কম নয়। অর্থাৎ তাঁর প্রেম যতখানি, তার থেকেও প্রেমের অহঙ্কার বেশি। তিনি যে বাক্যটা বলেছিলেন—তার মধ্যে নতুন-পুরাতন প্রেমের বাঁধনের থেকেও যে-কথাটা বড় বেশি তীক্ষ হয়ে শ্রোতাকে কষাঘাত করে—সেটা হল তাঁর উপমাটি। দ্রৌপদী বলেছেন—সুবদ্ধস্যাপি ভারস্য—অর্থাৎ যে ভার আগে থেকেই ভাল করে বাঁধা হয়েছে। দ্রৌপদী বলতে চাইছেন—তোমাদের মতো পুরুষমানুষেরা অনেকটা যেন ভারী বোঁচকা-বুঁচকির মতো জড়; মনের বিকার নেই তোমাদের। আমি বাঁধন দিলাম আর আমার প্রেমের গ্রন্থিতে মনে হল যেন বেশ শক্ত-পোক্ত হয়েছে, ওমা যেই না আরেকজন এসে আরও একগাছা প্রেমের সূত্রে নতুন বাঁধনে বেঁধে নিল তোমাকে, অমনই তুমি ভারী বোঁচকাটার মতো আরও একটু চুপসে গেলে ভেতরে, নতুন বাঁধন লাগল শক্ত হয়ে, পুরনো বাঁধন শুধু আলগা ফাঁসের মতো পড়ে রইল, তাকে খুলে ফেলাও কঠিন অথচ নতুনটা আছে বলে তার প্রয়োজনও নেই—সুবদ্ধস্যাপি ভারস্য পূর্ববন্ধঃ শ্লথায়তে।

    মহাভারতে কবি যে উপমাটা একেবারে ‘ক্রুড্‌ ফর্মে’ ব্যবহার করলেন কবির কবি সে-কথা প্রকাশ করেছেন আপন কাব্য চেতনার সমস্ত গভীরতা মিশিয়ে। বস্তুত নবপ্রেমজালে আটকে পড়া অর্জুনকে দেখে দ্রৌপদীর মুখ দিয়ে যদি নিতান্ত আধুনিকভাবে বা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা বেরুত, তা হলে তার রূপ হত এইরকম—

    বুঝেছি আমার নিশার স্বপন হয়েছে ভোর

    মালা ছিল, তার ফুলগুলি গেছে রয়েছে ডোর।

    নেই আর সেই চুপি চুপি চাওয়া,

    ধীরে কাছে এসে ফিরে ফিরে যাওয়া,

    চেয়ে আছে আঁখি, নাই ও আঁখিতে প্রেমের ঘোর।

    বাহুলতা শুধু বন্ধনপাশ বাহুতে মোর॥

    দ্রৌপদী অনেক কাঁদলেন। পঞ্চস্বামিগর্বিত দ্রৌপদী একতম পাণ্ডবের দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহে অনেক কাঁদলেন। এ এমন কান্না—যার কারণ বুঝিয়ে দিলে বিদগ্ধা রমণীর কষ্ট হয়। পঞ্চপাণ্ডবের প্রত্যেকেরই দ্রৌপদী ছাড়াও অন্য বিবাহ হয়েছিল, কিন্তু দ্রৌপদী তখন তো কাঁদেননি। কিন্তু অর্জুন সুভদ্রাকে বিয়ে করে আনলে দ্রৌপদী অনেক কাঁদলেন। স্বয়ং দ্রৌপদী স্বয়ম্বরা হয়ে যাঁর গলায় বরমাল্য পরিয়ে দিয়েছিলেন, সেই অর্জুন দ্বিতীয়বার বিয়ে করে কী করে—এই খেদেই দ্রৌপদী কাঁদছেন। অর্জুন সেটা বোঝেন। অর্জুন বোঝেন—দ্রৌপদীর এই কান্নার মধ্যে তাঁকে সম্পূর্ণ করে পাবার আকুলতা যতখানি, তাঁর চেয়ে অনেক বেশি আছে হেরে যাবার যন্ত্রণা, অহঙ্কারের হানি। অর্জুন তাই দ্রৌপদীকে অনেক বোঝালেন, অনেকবার তিনি ক্ষমা চাইলেন। সান্ত্বয়ামাস ভূয়শ্চ ক্ষময়ামাস চাসকৃৎ। কিন্তু সান্ত্বনা আর ক্ষমায় অগ্নিসম্ভবা দ্রৌপদীর ক্ষোভ দূর হল না। শেষে অর্জুন একটা বুদ্ধি করলেন।

    সুভদ্রা তখন দ্বারকা থেকে কেবল ফিরেছেন। বাপের বাড়ির সব সমৃদ্ধি তখনও তাঁর বেশে-বাসে, অলংকারে ছড়িয়ে। বিয়ের লাল-চেলি আর সোনার গহনায় তাঁকে দেখতে লাগছে ঠিক রাজরানির মতো। অর্জুন দেখলেন—পাঞ্চালের সেই খণ্ডিতা রাজবধূ যদি একবার সুভদ্রার এই বিবাহোদ্ধতা মূর্তি দেখেন, তা হলে আর রক্ষে থাকবে না। সেই মুহূর্তে তিনি সুভদ্রার অঙ্গ থেকে বিবাহের অনুরাগ মাখা রক্ত বসনখানি নামিয়ে নিলেন। তারপর বৃন্দাবনের গোপিনীদের মতো সাধারণ একটি ঘাঘরা আর ওড়না দিয়ে সুভদ্রাকে সাজিয়ে দিলেন অর্জুন-বক্তকৌষেয়বাসিনীম্‌। পার্থ প্রস্থাপয়ামাস কৃত্বা গোপালিকাবপুঃ।

    সাধারণের সাজে সুভদ্রাকে আরও সুন্দর দেখাচ্ছিল; তিনি জননী কুন্তীর কাছে আশীর্বাদ নিয়েই প্রথমে এলেন দ্রৌপদীর কাছে। তাঁর পা জড়িয়ে ধরে অর্জুনের শিক্ষামতো প্রথম কথাটি বললেন সুভদ্রা—আমি তোমার দাসী, দিদি! পঞ্চস্বামিগর্বিতা দ্রৌপদীর মনে কেমন যেন মায়ার সঞ্চার হল। নববধূর সাধারণ সাজে সুভদ্রতাকে দেখে, তাঁর দৈন্যভরা আর্তির কথা শুনে ক্ষণেকের তরে বুঝি গরবিনীর মনে হল—না তো! আমি যতখানি তাঁকে হারিয়েছি ভেবেছি, ততটা তো নয়, সে তো এখনও আমারই আছে। সঙ্গে সঙ্গে সসম্ভ্রমে নববধূকে পা থেকে উঠিয়ে জড়িয়ে ধরলেন। সকৌতুকে বুক-ভরা আশীবাদ দিয়ে বললেন—তোমার স্বামীর যেন আমার মতো শত্তুর না থাকে—নিঃসপত্নো’স্তু তে পতিঃ।

    অর্জুনের মনশ্চিকিৎসায় দ্রৌপদীর মনে একটু প্রলেপ লাগল বৈকি। এই যে অর্জুন তাঁকে অতিক্রম করলেন না—এই সান্ত্বনাই দ্রৌপদীকে আবারও বয়ে নিয়ে চলল জীবনের পথে—সাধিকারে, সদর্পে। আর কী আশ্চর্য, শুধু আজ নয় অর্জুন কোনওদিনই দ্রৌপদীকে অতিক্রম করেননি। সুন্দরী সুভদ্রাকেও তিনি সেই ভাবে চালিয়েছেন যাতে তিনিও কোনওদিন দ্রৌপদীকে অতিক্রম না করেন। এই অনতিক্রমই মহাপ্রস্থানের পথ পর্যন্ত দ্রৌপদীকে অর্জুনের ব্যাপারে আশ্বস্ত রেখেছে। আসলে নিজের সমস্ত অভিমান, অহঙ্কার সত্ত্বেও যদি দ্রৌপদী কাউকে ভালবেসে থাকেন—তবে তিনি অর্জুন। আর বেচারা অর্জুন, এই ভালবাসা বুঝেও তিনি বোঝেননি, ইচ্ছে করেই বোঝেননি। সারা জীবন দ্রৌপদীকে কেমন যেন এড়িয়ে এড়িয়ে চলেছেন! ভাইদের কাছে সংকোচ—যদি স্বভুজলব্ধা রমণীটির প্রতি আপন অধিকার প্রকাশ পায়। নিজের মন আবর্তিত করেছেন যাদবনন্দিনী সুভদ্রার দিকে, কিন্তু সেও বড় সাবধানে, বড় সতর্কভাবে—যদি কৃষ্ণা পাঞ্চালীর অহঙ্কার আর অধিকারবোধে আঘাত লাগে। কিন্তু এই সংকোচ, সাবধান সতর্কতার সঙ্গে নিজেকে প্রতি পদে প্রতি পলে দ্রৌপদীর কাছে বিশ্বস্ত রেখে তাঁর নিজের মনের কী অবস্থা হয়েছিল? নিশ্চয়ই তা এতটাই করুণ যে, কোনও এক হতাশ্বাস চরম মুহূর্তে তাঁকে নপুংসকের সিদ্ধিতে বলে উঠতে হয়—কেউ কোনওদিন কারও মন বোঝে না দ্রৌপদীন তু কেনচি অত্যন্তং কস্যচিদ্‌ হৃদয়ং কৃচিৎ। বেদিতুং শক্যতে ভদ্রে…।

    আমার সহৃদয় পাঠককূল—আপনারা নিশ্চয়ই অর্জুনকে এতক্ষণে খানিকটা বুঝেছেন। রমণীর প্রেম—যা নাকি সাধারণ একটি মানুষও সাহষ্কারে আত্মসাৎ করে, সেখানেও অর্জুনকে কী অদ্ভুত এক ‘ব্যালান্স’ রেখে চলতে হচ্ছে। এই সমতা রাখতে রাখতে এক সময় যখন তিনি ক্লান্ত, বিষগ্ন হয়ে যান, তখনই দেখি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ প্রায় আরম্ভ হতে চলেছে। বিরাট দুই সৈন্যবাহিনীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুর্বল, সংকুচিত অর্জুন যেন তাঁর জীবন-রথের সারথির কাছে সারা জীবনের প্রশ্ন করে যাচ্ছেন; আর উত্তর মিলিয়ে দেখছেন—আমি ঠিক করেছি তো? অর্জুন বললেন—তুমি ভো খালি বলছ—সুখ-দুঃখ, লাভ-অলাভ—সব জায়গায় শুধু সমতা রাখতে হবে, ‘ব্যালান্স’ রাখতে হবে, কিন্তু এও কি সম্ভব? আমার মন? মন যে বড়ই চঞ্চল। যতবার ভেবেছি—আমি মনকে সংযত করে রাখব, পারিনি, হয়নি। হাওয়া যেমন আটকানো যায় না ভাই, মনটাও তেমনি আটকানো যায় না—সমস্ত ‘ব্যালান্স’, সমস্ত সমতার বুদ্ধি হাওয়ার দমকে এক মুহূর্তে উবে যায়—তস্যাহং নিগ্রহং মন্যে বায়োরিব সুদুষ্করম্‌।

    অর্জুন মিলিয়ে নিচ্ছেন। যে সমস্ত পণ্ডিত গো-এষণার তত্ত্বে আকুল হয়ে মহাভারতের মধ্যে ভগবদ্‌গীতার অবস্থিতি অসংবদ্ধ বিবেচনা করেন, তাঁদের কাছে আমার অনুরোধ—তাঁরা যেন ‘অপউদ্ধার’ পদ্ধতি বাদ দিয়ে শিল্পীজনোচিত সমবেদনায় সমস্ত মহাভারত মিলিয়ে পড়েন। তাই বলছিলাম—অর্জুনও মিলিয়ে নিচ্ছেন। নিশ্চয়ই তিনি দাদার কথা শুনে বারো বছর ব্রত-নিয়মে থাকবেন ভেবেছিলেন। মন তা হতে দেয়নি, ইন্দ্রিয়গুলি তা হতে দেয়নি। অর্জুনের একমাত্র সান্ত্বনা—কৃষ্ণ পূর্বেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ইন্দ্রিয়গুলি মানুষের মনকে জোর করে উত্তাল করে তোলে-ইন্দ্রিয়ানি প্রমাথীনি হরন্তি প্রসভং মনঃ। অর্জুন তাই এখন স্বস্থ হয়ে বুঝেছেন—আমারও তো এমনই ঘটেছে। নইলে, দাদা যুধিষ্ঠিরের কাছে সংকল্পিত ব্রহ্মচর্য নাগকন্যা উলূপীর সরসতায় এক মুহূর্তে উবে গেল। চিত্রাঙ্গদার বেলায় ইন্দ্রিয়ের গতি আরও শিথিল, দেখা মাত্রই কামনা। আর ‘চারু-সর্বাঙ্গী’ সুভদ্রার কাছে এসে অর্জুনের ব্রত-নিয়ম, সংকল্প ঝড়ের মুখে কুটোটির মতো উড়ে গেল! এই অর্জুনই তো বলবেন—মনের গতি যে ভাই দমকা হাওয়ার মতো, আটকানো অসম্ভব—বায়োরিব সুদুষ্করম্‌। কৃষ্ণ মনুষ্যধর্মের সমস্ত মমত্ব দিয়ে কথা বলবেন—সে-কথা ভাই বড় সত্যি—অসংশয়ং মহাবাহো—মনকে আটকে রাখা বড় দায়! কিন্তু এর জন্য চাই অভ্যাস, স্খলিত হলেও পুনরায় অভ্যাস।

    অর্জুনের বুকে বুঝি স্বস্তি আসল কিছুটা। বনবাস-ব্রহ্মচর্যের সমস্ত সদিচ্ছা নিয়েই তিনি স্থলিত হয়েছেন, দ্রৌপদীর জন্য সমস্ত হৃদয়ের অপেক্ষা রেখেও, তিনি মনের অস্থিরতায় সুভদ্রার প্রেমে বন্দি হয়েছেন। এই যে সদিচ্ছার সংকল্পের সঙ্গে বাস্তবের স্থলন-পতন-ত্রুটিগুলি কিছুতেই মিলছে না—এতে অর্জুন বিচলিত, একেবারে দার্শনিকভাবে বিচলিত। অভ্যাস কি তিনি কম করেছেন? আপনার সম্পূর্ণ প্রাপ্য প্রিয়তমা পত্নীকে না পাওয়ার অভ্যাস পর্যন্ত তাঁর রপ্ত হয়ে গেছে। তবু তারই মধ্যে এসেছে অবিশ্বস্ততা, স্বলন—মনের গতিতে তা হলে সবই কি ভুল হয়ে গেল? অর্জুন মিলিয়ে নিচ্ছেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আসরে দাঁড়িয়ে পূর্ব জীবন এবং যৌবনের আপাত-বিরোধগুলির জবাব চাইছেন তিনি। কৃষ্ণকে বলছেন—তুমি তো বলেই খালাস। অভ্যাস আর বৈরাগ্যে মন বশ করতে হবে। তা ধরো আমি তো প্রথমে আমার সংকল্পে আর সততায় শ্রদ্ধাবান ছিলুম, কিন্তু মনের জ্বালা বড় জ্বালা। আমি আমার প্রচেষ্টায় যত্নে স্থির থাকতে পারিনি—অতিঃ শ্ৰদ্ধয়োপেতে যোগালিত মানসঃ। দ্রৌপদী, দ্রৌপদীর জন্য বনবাস—এ-সব কিছুতেই তো অর্জুনের প্রাথমিক সততার অভাব ছিল না, কিন্তু মনের গতি তাঁকে সংকল্প থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে দূরে। তাই বলে কি সব তাঁর ব্যর্থ হল! অর্জুন জিজ্ঞাসা করছেন—এসব লোকের কী গতি হয়, কৃষ্ণ? অর্জুনের মনে হচ্ছে—মনের গতিকে সুখ-দুঃখ, লাভ-অলাভের সমতাও আমার হল না, দ্রৌপদীকেও আমি হারালাম—আমার এদিকও গেল, ওদিকও গেল, আকাশে ওড়া ছেড়া মেঘের মতো আমার সিদ্ধির কোনও ঠিকানা রইল না—কচিন্নোভয়বিভ্রষ্ট শ্ছিন্নাভ্রমিব নশ্যতি।

    কৃষ্ণ ভগবান সিদ্ধান্ত দিলেন। তিনি যে মানুষের মন, মায়া, মোহ, শ্রদ্ধা, সংকল্প—সব জানেন। কৃষ্ণ বললেন—না, অর্জুন, না। সংকল্পিত অবস্থা থেকে তুমি যতই চূত হও, তবু তুমি হীন নও। তুমি যে ভাল কাজ করতে চেয়েছিলে, ভাল কাজ করেছিলে এটাই অনেক, এমন মানুষের কোনওদিন দুর্গতি হয় না—ন হি কল্যাণকৃৎ কশ্চিদ্‌ দুর্গতিং তাত গচ্ছতি।

    আমি জানি—গীতার শ্লোকের গভার দার্শনিক ব্যাখ্যাগুলি থেকে আমি অনেক দূরে সরে এসেছি। তবু জীবনের প্রাপ্য রমণীকে সম্পূর্ণ করে না পাওয়ার পরেও, সুভদ্রাকে নিয়ে তিনি যে সংযমের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায়—সংসার-জগতে অর্জুন সেই দুর্লভ ‘আত্মসংস্থ’ পুরুষদের একজন যিনি রমণীর ভালবাসার ক্ষেত্রে মানুষের মতোই দুর্বল বটে, কিন্তু সেই দূর্বলতাকেও বুদ্ধি আর ধৈর্যের বন্ধনে তিনি এমন এক দার্শনিকের ভূমিতে উন্নীত করতে পারেন যে, তাঁকে সংসার-সন্ন্যাসী না বলে পারি না। মহাভারতের চরিত্রকে গীতার দর্শনে মিলিয়ে নেবার সুযোগ এইখানেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }