Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণা কুন্তী এবং কৌন্তেয় – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প1105 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্রৌপদী – ৬

    ৬

    কথাটা আমি আগেও একবার উল্লেখ করেছি, তবে তা অন্য প্রসঙ্গে, অন্যভাবে। উদ্যোগপর্বে কৃষ্ণ যখন পাণ্ডবদের দূত হয়ে কৌরবসভায় যাচ্ছেন, তখন তো যুধিষ্ঠির—ভীম—দুজনেই সন্ধিকামী হয়ে উঠলেন। অর্জুন সন্ধির কথা বলেওছেন, আবার বলেনওনি। সহদেব সন্ধির বিরুদ্ধে ছিলেন, এবং প্রধানত তাঁর কথাকে প্রাধান্য দিয়েই দ্রৌপদী প্রথমে রাজনীতির কথা তুললেন। দ্রৌপদীর যে রাজনীতি ভাল বুঝতেন অথবা এ বিষয়ে যে তাঁর যথেষ্ট পড়াশুনো ছিল—সে কথা সেই কৌরবসভায় অপমানের পর থেকে একেবারে যুধিষ্ঠিরের রাজ্যলাভ পর্যন্ত শত শতবার প্রকাশিত হয়েছে। পাণ্ডব-কৌরবদের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি যেভাবে, যে পথে চলছিল—সেখানে যুধিষ্ঠিরী নীতি তাঁর পছন্দ হয়নি। এই স্থিরবুদ্ধি মনস্বীর ‘ধীরে চল’ নীতি, অথবা শত্রুর বিরুদ্ধে নিজের উত্থান-শক্তি বিলম্বিত করাটা দ্রৌপদীর রাজনীতি-বোধে আঘাত করেছে। এর প্রমাণ দ্রৌপদী আর যুধিষ্ঠিরের বহুতর কথোপকথনে বারংবার ফুটে উঠেছে। দুর্যোধনের বিরুদ্ধে সঠিক কী নীতি গ্রহণ করা উচিত ছিল বা এখনও উচিত—তা নিয়ে এই দুই জনের মধ্যে রাজনৈতিক মত-পার্থক্য উদ্যোগ-পর্বের এই মুহূর্ত পর্যন্তও দূর হয়নি।

    হ্যাঁযা, স্বামী বলে দ্রৌপদী এইটুকু মেনে নিতে রাজি আছেন যে, ঠিক আছে, যুধিষ্ঠির তো ইন্দুপ্রস্থের পরিবর্তে পাঁচখানি গ্রাম ফিরে পাবার প্রস্তাব দিয়েছেন দুর্যোধনকে ; সে অন্তত তাই দিক। কিন্তু গোটা রাজ্যের বদলে এই যে যুধিষ্ঠির কঠিন কিছু করতে পারেন না বলে লজ্জা-লজ্জা মুখ করে সন্ধির কথা বলছেন—দ্রৌপদীর সাফ কথা—পঞ্চ গ্রামের শর্তে যদি দুর্যোধন রাজি না হন, তবে যেন কৃষ্ণ আগ বাড়িয়ে সন্ধির কথা না বলেন। অর্থাৎ দ্রৌপদীর মতে—তোমরাই অন্যায়ভাবে আমাদের রাজ্য কেড়ে নিয়েছ, অথচ এখন সন্ধির কথা তোমাদের দিক থেকেও উঠছে। কিন্তু সন্ধি যদি আদৌ করতে হয়, ‘অ্যাজ আ টোকেন অব গুড জেসচার’ তোমাকে নমনীয়তার প্রমাণ হিসেবে পাঁচটি গ্রাম আগে দিয়ে দিতে হবে, তারপর সন্ধির কথা। দ্রৌপদী কৃষ্ণকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন—যদি রাজ্য না দিয়ে দুর্যোধন সন্ধি করতে চায়, তবে তুমি যেন সেখানে গিয়ে সন্ধি করে এস না—অপ্রদানেন রাজস্য যদি কৃষ্ণ সুযোধনঃ। সন্ধিমিচ্ছেন্ন কর্ত্তব্যস্তত্র গত্বা কথঞ্চন।

    এইবার দ্রৌপদী রাজনীতির তত্ত্ব এবং প্রয়োগের কথায় আসছেন, যে-কথায় এতকাল মহামতি যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে তাঁর বারবার মতবিরোধ ঘটেছে, এবং যে কথার মীমাংসা এখনও হয়নি। দ্রৌপদী বললেন—ধৃতরাষ্ট্রের ছেলেরা যদি ক্রুদ্ধ হয়েও আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে—কারণ, ক্রুদ্ধ হলে শক্তির বৃদ্ধি ঘটে-তবুও সেই শক্তি প্রতিরোধ করার ক্ষমতা পাণ্ডব, এবং পাঞ্চালদের আছে। এতকালের অভিজ্ঞতায় কৃষ্ণকে সম্পূর্ণ সচেতন করে দিয়ে দ্রৌপদী বলেন—তুমি যেন এটা মনে কোরো না, কৃষ্ণ! যে, ভাল ভাল কথা আর নীতির উপদেশ দিয়ে তাকে কিছু করা যাবে ; এমনকী তাদের কিছু ছেড়ে দিয়েও যে লাভ হবে, তাও আমার মনে হয় না—অর্থাৎ ওই ইন্দ্রপ্রস্থ বা রাজ্যের অধাংশের দাবি না হয় ছেড়েই দিলাম, কিন্তু মাত্র পাঁচখানি গ্রাম নিয়ে সন্তুষ্ট থেকেও আর সব দাবী যদি আমরা ছেড়ে দিই, তাতেও যে কিছু করা যাবে—তা মনে হয় না—ন হি সাম্না ন দানেন শক্যো’র্থ স্তেষু কশ্চন। দ্রৌপদীর বক্তব্য—তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেও যদি কিছু না হয়, ত্যাগ স্বীকার বা অন্য কিছু করেও যদি কিছু না হয় তা হলে তাদের ওপর তোমার অত করুণা করার দরকার কী? সত্যি কথা বলতে কি, যদি নিজে বাঁচতে হয়, তা হলে ওদের শাস্তি দিয়েই বাঁচতে হবে—যোক্তব্য স্তেষু দণ্ডঃ স্যাজ্জীবিতং পরিরক্ষতা।

    অতএব পাণ্ডবরা দ্রৌপদীর বাপের বাড়ির লোক পাঞ্চালদের সঙ্গে নিয়ে এই মুহূর্তে দুর্যোধনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ুক—এই ছিল দ্রৌপদীর সর্বশেষে সিদ্ধান্ত। এতে পাণ্ডবদের সামর্থ্য তৃপ্ত হবে ক্ষত্রিয়ের ক্ষুধা। দ্রৌপদী বোধহয় এখন জ্যেষ্ঠ-পাণ্ডব যুধিষ্ঠিরকে কিছু ইঙ্গিত করছেন। তিনি বললেন—ক্ষত্রিয় হোক অথবা অক্ষত্রিয়, সে যদি লোভী হয়, তা হলে উপযুক্ত অথবা নিজের ধর্মে স্থিত ক্ষত্রিয়ের কাজ হল সেই লোভীটিকে মেরে ঠাণ্ডা করা—ক্ষত্রিয়েণ হি হন্তব্যঃ ক্ষত্রিয়ো লোভমাস্থিতঃ। আসলে দ্রৌপদীর মতে—যাকে মারা উচিত নয়, তাকে মেরে ফেলাটা যেমন অন্যায়, তেমনই যে বধযোগ্য, তাকে বাঁচিয়ে রাখাটাও একই রকম অন্যায়।

    রাজনীতির দিক দিয়ে নিজের সমস্ত নীতি-যুক্তি উপস্থিত করেও দ্রৌপদী এবার মোক্ষম সেই ঘটনায় এলেন, যেখানে অন্যের যুক্তি-তর্ক হার মানবে, যেখানে তিনি নিরঙ্কুশ—যেখানে শুধু এক যুক্তিতেই কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যায়। সেই কুরুসভার অপমানের ঘটনা। দ্রৌপদী নিজেই তাঁর বাপের বাড়ির আভিজাত্য, শ্বশুর-কুলের সম্মান, স্বামীদের শক্তি এবং ধর্মজ পুত্রদের অভিমান—সব একত্রিত করে সেই সাংঘাতিক পুরাতন কথাটা তুললেন—শাঁখা-সিঁদুর-পরা আর কোন অভাগিনী এই পৃথিবীতে আছে-কানু সীমন্তিনী মাদৃ—যে তার স্বামীরা বেঁচে থাকতে, ভাইয়েরা বেঁচে থাকতে, এমন কী তুমিও বেঁচে থাকতে, সবার সামনে অন্যের হাতে চুলের মুঠি ধরার অপমান সহ্য করল। ক্রোধলেশহীন, প্রতিকারের চেষ্টাহীন স্বামীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে অপমান দেখলেন, আর আমাকে কেঁদে কেঁদে ডাকতে হল তোমাকে—পাহি মামিতি গোবিন্দ মনসা চিন্তিতো’সি মে। বাস, রাজনীতির প্রয়োগ-তত্ত্বের আগুনে এইমাত্র দ্রৌপদীর ঘৃতগন্ধী অভিমান যুক্ত হল।

    কৌরব-সভায় দ্রৌপদীর অসহায় ক্রন্দনের সময় সেই অলৌকিক বস্ত্ররাশি দুঃশাসনকে ক্লান্ত করেছিল কিনা, তা আমাদের প্রত্যয়ে আসে না হয়তো। কিন্তু কৃষ্ণের নামে যে কাজ হয়েছিল—তা আমি হলফ করে বলতে পারি। হরিনামের মাহাত্ম্য এই নামের মধ্যে নাও থাকতে পারে—কিন্তু সে যুগের রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে কৃষ্ণের কূটনীতির মাহাত্ম্য তখন এতই বহুশ্রুত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত যে, কৃষ্ণনামের মাত্রা তখন রাজনৈতিক দিক দিয়ে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কৃষ্ণ পরে যুধিষ্ঠিরকে বলেছিলেন—আমি যদি সেই সময় শুধু দ্বারকায় থাকতাম, তা হলে কৌরবরা না ডাকলেও আমি অনাহূত অবস্থাতেও পাশাখেলার আসরে পৌঁছতাম। প্রথমে ভীষ্ম-দ্রোণ এবং অন্যান্য বড় বড় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ধৃতরাষ্ট্রের কাছে পাশাখেলার দোষগুলি বোঝাতাম—আর যদি তাতেও কেউ আমার ভাল কথা না শুনত, তা হলে মেরে বোঝাতাম—পথ্য জিনিসটা কী—পথ্যঞ্চ ভরতশ্রেষ্ঠ নিগৃহ্নীয়াং বলেন তম। হয়তো তাতে অন্য পাশাড়েরা সব ক্ষেপে গিয়ে ওদের পক্ষে জুটত। তাতে কী? ওদেরও মেরে ফেলতাম নির্দ্বিধায়—তাংশ্চ হন্যাং দুরোদরান্।

    আমরা জানি এবং বিশ্বাস করি—কৃষ্ণের এই ক্ষমতা ছিল। তিনি যা বলেন, তা যে করতে পারেন—সেটা যুধিষ্ঠিরের রাজসূয়ে শিশুপাল বধের সময়েই দেখা গেছে। কোনও বিরুদ্ধতা তাঁকে কিছুই করতে পারেনি। কৌরব-সভায় পাশাখেলার সময় ভাল কথা অনেকেই বলেছেন, বিদুর তো বিশেষ করে, কিন্তু ভীষ্ম, দ্রোণ, বিদুর কারওই ওই মারার ক্ষমতাটা ছিল না। সমগ্র দূতসভায় একমাত্র দ্রৌপদী ছাড়া কৃষ্ণের নাম কেউ মুখেও আনেননি—কৌরবরা তো নয়ই পাণ্ডবরাও নয়, ধর্মাত্মা যুধিষ্ঠিরও নয়। আমার ধারণা যে মুহূর্তে এই শায়েস্তা করার লোকটির নাম দ্রৌপদীর মাধ্যমে সবারই স্মরণে এসেছে, সেই মুহূর্তে দুঃশাসন ক্লান্ত বোধ করেছেন, তাঁকে থামতেও হয়েছে। কিন্তু অপমান-মুক্তির মধ্যে দ্রোপদী তাঁর পঞ্চস্বামীকে ত্রাতার ভূমিকায় পাননি—সেই ধর্ষণ, অপমানের মুহর্তেও পাননি, আজ এতকাল বনবাস পর্বের পর যুধিষ্ঠির, ভীম এবং আংশিকভাবে অর্জুনেরও সন্ধিকামুকতা দেখে তিনি এখনও আশ্বস্ত নন। তাই সেদিন সেই অকারণ লাঞ্ছনার মধ্যেও তিনি কৃষ্ণকে স্মরণ করেছিলেন, আজ এই যুদ্ধোদ্যোগের সময়েও তিনি কৃষ্ণেরই স্মরণ নিয়েছেন—বোধহয় একমাত্র তিনিই পারেন ক্ষত্রিয়বধূর কাম্য জয়াশা পূরণ করতে।

    বস্তুত এই প্রত্যাশাপূরণের ক্ষেত্রে ভীম এবং অর্জুনও দ্রৌপদীর অবিশ্বাসের মানুষ ছিলেন না, কিন্তু তাঁর এই দুই স্বামীই যাঁর ইচ্ছা বা নীতি-যুক্তি অতিক্রম করতেন না—সেই জ্যেষ্ঠ যুধিষ্ঠিরের অমোঘ শাসন দ্রৌপদী কোনওদিনই পছন্দ করেননি, তাঁর নীতি-যুক্তিও সহ্য করতে পারেননি কোনওদিন। লেখক-সজ্জনের মধ্যে আছেন কেউ কেউ, যাঁরা যুধিষ্ঠিরের প্রতি ইঙ্গি পক্ষপাতে দ্রৌপদীকেও তাঁর প্রতি সরসা করে তুলেছেন। স্বয়ং বুদ্ধদেব বসু তাঁর অসাধারণ সংহত ভাষায় যুধিষ্ঠিরের প্রতি দ্রৌপদীর প্রায় একক নিষ্ঠা এবং আশ্রয়ের কথাটা প্রকাশ করেছেন। তবে সে মত আমার মতো সাধারণ মহাভারত পাঠকের মনে বড় অনর্থক রকমের জটিল বলে মনে হয়েছে। মহাকাব্যের নায়িকা হিসেবে তথা পঞ্চস্বামীর একমা বধূ হিসেবে দ্রৌপদীর মনের গতি-প্রকৃতি যে অতিশয় জটিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই, কিন্তু সেই জটিলতার সুযোগে পাণ্ডব-জ্যেষ্ঠ যুধিষ্ঠিরের প্রতি দ্রৌপদীর ‘নিকটতম’ সম্বন্ধ প্রমাণ করে দেওয়াটা আমাদের মতে কিছুটা সংহতিহীন মনে হয়।

    আমি প্রথমে প্রয়াত বুদ্ধদেব বসুর মন্তব্যগুলি উদ্ধার করে তাঁর সার্বিক মতটা দেখানোর চেষ্টা করব, তারপর, আমাদের যৌক্তিকতা আমরা দেখাব। বুদ্ধদেববাবু লিখেছে—(১, ২, ৩ সংখ্যাগুলি আমার দেওয়া)

    (১) “কি ‘আসলে’ যেন যুধিষ্ঠিরের সঙ্গেই নিকটতম তাঁর সম্বন্ধ—ঘটনার পর ঘটনা অনুধাবন করতে-করতে এমনি একটা ধারণা হয় আমাদের, যদিও অগ্নিসম্ভবা আগ্নেয়স্বভাব পাঞ্চালীর সঙ্গে মৃদু দৃত্যাসক্ত যুদ্ধবিমুখ যুধিষ্ঠিরের বৈশাদৃশ্য অতিশয় স্পষ্ট।”

    (২) ‘বক-যক্ষের প্রশ্নের উত্তরে তিনি তিনবার উল্লেখ করেছেন ভার্যার—তাঁর ভার্যার, তা বুঝে নিতে আমাদের দেরি হয় না। ‘গৃহে মিত্র ভার্যা’, ‘দৈবকৃত সখা ভার্যা’, আর উপরন্তু ‘ধর্ম অর্থ কাম—এই তিন পরস্পর বিরোধীর সংযোগ ঘটে শুধু ধর্মচারিণী ভার্যার মধ্যে’—এ সব কথা যুধিষ্ঠিরের মুখে ঠিক শাস্ত্রবচনের মতো শোনাচ্ছে না, এদের পিছনে দ্রৌপদীর সঞ্চার আমরা অনুভব করি…”

    (৩) “যুধিষ্ঠির সযত্নে লালন করেছিলেন এই সম্পর্কটিকে, এবং বহুভর্তৃকা দ্রৌপদী এর মূল্য বিষয়ে কতটা সচেতন ছিলেন তাও আমরা অনেকবার দেখেছি। স্মর্তব্য, তাঁর পায়ের কাছে যে স্বর্ণপদ্মটি উড়ে এসে পড়েছিলো, দ্রৌপদী সেটি যুধিষ্ঠিরকেই উপহার দিয়েছিলেন, আজ্ঞাবহ ভীমসেনকে নয় (বনঃ ১৪৬)। তাঁর আছে ‘ইন্দ্রের মত পঞ্চস্বামী’—এই বাঁধা বুলিটি দ্রৌপদীর মুখে শুনতে পাওয়া যায়, কিন্তু দ্যূতসভায় অবমানিত হ’য়ে তিনি তীব্র স্বরে ব’লে উঠলেন (সভা : ৬৭) : আমি পাণ্ডবদের সহধর্মিণী, আমি ধর্মাত্মা যুধিষ্ঠিরের ভাষা।’—যেন বহুবচনের মধ্যে যুধিষ্ঠিরকে ধরানো গেল না, স্বতন্ত্রভাবে তাঁর নাম বলতে হ’লো, যেন পাঁচের মধ্যে একের নাম করতে হ’লে যুধিষ্ঠিরকেই তাঁর মনে পড়ে।”

    (৪) “আমরা লক্ষ করি যে সভাপর্বের পরে কাহিনী যত এগিয়ে চলে ততই সত্য হয়ে ওঠে দ্রৌপদীর সেই আর্ত মুহূর্তের ঘোষণা ;—একান্ত ভাবে না হোক, উত্তরোত্তর আরও বেশি সংশ্লিষ্টভাবে, তিনি যুধিষ্ঠিরের ভার্যারূপে প্রতিভাত হতে থাকেন। দ্রৌপদীর অন্য দুই প্রধান স্বামীর উপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আলো ফেলছেন ব্যাসদেব—বলা বাহুল্য, নকুল-সহদেব এ প্রসঙ্গে বিবেচ্য নন—দ্রৌপদীর বল্লভ রূপে কখনো অর্জুনকে আর কখনো বা ভীমকে আমরা দেখতে পাই। কিন্তু তাঁর নিত্যসঙ্গীরূপে যুধিষ্ঠিরই ছিলেন একমাত্র—হয়তো ঘটনাচক্রে, যেহেতু অর্জুন ছিলেন অনবরত ভ্রাম্যমাণ আর ভীমসেন প্রধানত এক মল্লবীর হিসেবে উপস্থিত, বা হয়তো অন্তঃস্থিত কোন নিগূঢ় আকর্ষণ ছিলো দুজনের মধ্যে—কেননা বিপরীতেরও আকর্ষণ থাকে, এবং তা প্রবল হবারও বাধা নেই। যে কারণে কান্তিমান দুর্মদ যুবা আলকিবিয়াদেস-এর পক্ষে কুদর্শন বৃদ্ধ জ্ঞানী সক্রেটিস ছিলেন প্রয়োজন, হয়তো সেই কারণেই দ্রৌপদীর যুধিষ্ঠিরকে না হ’লে চলতো না।

    (৫) “যাকে বলা যায় সত্যিকার দাম্পত্য সম্বন্ধ, তার দৃষ্টান্ত রূপে যুধিষ্ঠির-দ্রৌপদীকেই মনে পড়ে আমাদের ঠিক মধুর রসে আশ্রিত নয় হয়তো, বলা যায় না রতিপরিমলে অনুলিপ্ত, কিন্তু গভীর ও স্থির ও সশ্রদ্ধ ও প্রীতিপরায়ণ সেই সম্বন্ধ, এবং যা আরো জুরুরি-সমকক্ষতার উপর প্রতিষ্ঠিত।”

    বুদ্ধদেব বসু মহাশয়ের সমস্ত কথাগুলি ওখানে উদ্ধার করতে পরলেই ভাল হত, কিন্তু তাতে গ্রন্থের কলেবর -বৃদ্ধির ভয় আছে ; তা ছাড়া যতটুকু আমরা এখানে তুলেছি, তাতেই তাঁর সার্বিক মতটা বোঝা যায়। আমাদের নিবেদন—প্রথম মন্তব্য ‘আসলে’ যেন যুধিষ্ঠিরই তাঁর স্বামী’—এখানে ‘আসলে’ আর ‘যেন’ কথাটি যতই কাব্যগন্ধী গদ্যের সূচনা করুক, এই কথাগুলির মধ্যে কেমন এক অপ্রত্যয় আছে, বোঝা যায়, মহাভারতের সামগ্রিক প্রমাণে এই কথা সম্পূর্ণ প্রমাণ করা যাবে না ভেবেই মন্তব্যের মধ্যে এক পিচ্ছিল অনিশ্চয়তা রেখে দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু ‘যুধিষ্ঠিরের সঙ্গেই নিকটতম তাঁর সম্বন্ধ’ এই কথার সঙ্গেই ‘যদিও’ যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে দ্রৗপদীর ‘বৈশাদৃশ্য অতিশয় স্পষ্ট’—এই আপাত বিরোধিতারও অর্থ আমার কাছে স্পষ্ট নয়— এবং অস্পষ্টতা দিয়ে আর যাই হোক, পঞ্চস্বামীর একতমের সঙ্গে দ্রৌপদীর ‘নিকতম স্মবন্ধ’ প্রমান করা কঠিন।

    স্বামীদের সঙ্গে দ্রৌপদীর সম্বন্ধ পূর্বে আমি খানিকটা দেখানোর চেষ্টা করেছি এবং তা অবশ্যই মহাভারতের প্রমাণে। তাতে আমি কোথাও যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে ‘নিকটতম সম্বন্ধ খুঁজে পাইনি। তার ওপরে বুদ্ধদেবের ৪ সংখ্যক মন্তব্যে ‘সভাপর্বের পর থেকে দ্রৌপদীকে ‘উত্তরোত্তর’ যুধিষ্ঠিরের সংশ্লিষ্ট অথবা ‘তিনি যুধিষ্ঠিরের ভার্যারূপে প্রতিভাত হতে থাকেন’—এই সিদ্ধান্তের মধ্যেও আমি কোনও বৈয়াসিক যুক্তি খুঁজে পাইনি। বরঞ্চ প্রায় উলটোটাই আমার কাছে সত্য বলে মনে হয়।

    দ্রৌপদী যেদিন স্বয়ম্বরা বধূটির লজ্জারুণ চেলি পরে কুম্ভকার গৃহের ভাড়া-করা শ্বশুর-বাড়িতে এলেন, সেদিন গৃহের অন্তরালে থাকা কুন্তীর বচন ছিল—যা এনেছ পাঁচ ভাই ভাগ করে খাও। তারপর দ্রৌপদীকে দেখে তিনি ভীষণ ভয়ে আর্তস্বরে যুধিষ্ঠিরকেই বলেছিলেন—তুমি সেই ব্যবস্থা কর যাতে আমার কথা মিথ্যে না হয়, কৃষ্ণা পাঞ্চালীকে যাতে কোনও অধর্ম না স্পর্শ করে অথবা তাতে তাঁর যেন কোনও বিভ্রান্তিও না হয় অর্থাৎ তিনি যেন কোনও ভুল না বোঝেনন বিভ্রমেচ্চ।

    যুধিষ্ঠির মাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, হয়তো ধর্মের সূক্ষ্ম গতিপথ—যা তিনি নিজেও তখন তত বোঝেননি এবং যা তিনি কন্যার পিতা দ্রুপদকেও বোঝাতে পারেননি—সূক্ষ্মো ধর্মো মহারাজ নাস্য বিদ্মো বয়ং গতিম্‌—অথচ তিনি প্রায় আদেশের মতো বলেছিলেন—আমাদের সবারই মহিষী হবেন এই কল্যাণী দ্রৌপদী। মায়ের কথা মিথ্যে হয়নি, হয়তো বৃহত্তর স্বার্থে পঞ্চভ্রাতার সৌহার্দ্যকামনায় ধর্মও লঙ্ঘিত হয়নি, কিন্তু কৃষ্ণা পাঞ্চালীর কোনও বিভ্রান্তি হল কিনা, অর্থাৎ তিনি ভুল বুঝলেন কিনা—সে খোঁজ, যুধিষ্ঠির নেননি। দ্রুপদকেও তিনি ধর্মের গতি বোঝাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মায়েরই আশ্রয় নিয়েছেন, এবং নিজেকে তিনি যথোপযুক্ত প্রয়োগ করেছেন সবাংশে জ্যেষ্ঠের মতো। বলেছেন—মা এইরকম বলেছেন, আমারও তাই মনে হয়—এবঞ্চৈব বদত্যম্বা মম চৈতন্‌মনোগতম্। দ্রৌপদী খুশি হয়েছিলেন কি না আমাদের জানা নেই। নিয়তির মতো পাঁচ স্বামী যখন তাঁর মাথায় চেপে গেল, তখন এই বিদগ্ধা নায়িকা অসাধারণ দক্ষতায় পঞ্চপ্রদীপের তলায় ধৃতিদণ্ডটির মতো পঞ্চস্বামীরই বশবর্তিনী হয়েছেন—বভূব কৃষ্ণা সর্বেষাং পার্থানাং বশবর্ত্তিনী। কিন্তু যুধিষ্ঠিরকে তিনি ক্ষমা করেছেন তো?

    তবু এমন পাঁচ স্বামীকে নিয়ে ভরা সুখের মধ্যে অর্জুন এক সামান্য গরুচোর ধরতে গিয়ে বনে চলে যেতে বাধ্য হলেন কিন্তু ফিরে এলেন—যাদবনন্দিনী সুভদ্রাকে নিয়ে। ফিরে আসার পর দ্রৌপদীকে আমরা খণ্ডিতা হতে দেখেছি। অর্জুনের ওপর বড় অভিমান করতেও দেখেছি। উল্লেখ্য, মহামতি যুধিষ্ঠির কিন্তু রীতিমত স্বয়ম্বরে গিয়ে গোবাসন শৈব্যের মেয়ে দেবিকাকে বিয়ে করেছিলেন। এই বিয়েটা দ্রৌপদীর বিয়ের আগে না পরে সুসম্পন্ন হয়েছিল—সে-খবর মহাভারতের কবি দেননি, অকিঞ্চিৎকর বলেই দেননি, আর দ্রৌপদীর কাছেও এ-ঘটনা ছিল বড়ই অকিঞ্চিৎকর। যুধিষ্ঠিরের প্রতি তাঁর নৈকট্যবোধ তীব্র হলে এই দেবিকার কথা একবারও অন্তত দ্রৌপদীর মুখে শুনতাম, অথবা দেখতাম সামান্যতম ভ্রূকুটি। এই ভ্রূকুটি যেমন যুধিষ্ঠিরের অন্যতরা স্ত্রীর জন্যও কুঞ্চিত হয়নি, তেমনই হয়নি নকুল বা সহদেবের অন্যান্য বধূদের জন্যও। স্বামীর প্রতি একান্ত অধিকার-বোধই এই ভ্রূকুটি-কুটিলতার জন্ম দেয় বলে রসশাস্ত্রে শুনেছি। অথবা যুধিষ্ঠির সেই রসভাব-সমন্বিত বিদগ্ধ ভ্রূকুটি-ভঙ্গের যোগ্য ছিলেন না—অন্তত দ্রৌপদীর কাছে। দ্রৌপদীর মুখে ভীম-হিড়িম্বার সংবাদও সাড়ম্বরে শুনেছি, কিন্তু হিড়িম্বাকে নিয়ে দ্রৌপদীর ঈর্ষা তো ছিলই না, বরং একটু স্বাধিকার-বোধই ছিল যেন—একান্ত অনুগত ভীমের বউ বলেই হয়তো।

    তবুও কেউ বলতে পারেন—অন্যান্য পাণ্ডব-বধূদের ব্যাপারে দ্রৌপদীর অন্তরঙ্গ ঔদাসীন্য এমন কিছু দরকারি কথা নয়, যাতে যুধিষ্ঠিরের প্রতি তাঁর নৈকট্য অপ্রমাণ হয়ে গেল। কথাটা যাই হোক, আমিও অত বড় করে কিছু বলছি না, কিন্তু অন্যের ক্ষেত্রে নিস্তরঙ্গতা আর অর্জুনের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া—এই বৈপরীত্যের মধ্যে যুধিষ্ঠিরের প্রতি দ্রৌপদীর সামান্য নৈকট্যের আভাস যতটা, অর্জুনের প্রতি দুর্বলতার ইঙ্গিত তার চেয়ে বেশি।

    তবু থাক সে-কথা। অর্জুন-সুভদ্রার বিয়ের পরে দ্রৌপদীকে আমরা একবার অর্জুনের সঙ্গে বেড়াতে যেতে দেখেছি। নিজের ইচ্ছায় নয়। কিন্তু বারো বছর বাইরে-বাইরে থেকে এক যৌবনোদ্ধত যুবক এতকাল পরে বাড়ি ফিরেছে—হতে পারে, তার সঙ্গে সুভদ্রার মতো সুন্দরী সঙ্গিনী আছে—তবু জীবনের প্রথম নারীটিকে স্ববীর্যে জয় করে আনার মধ্যে যে চিরন্তন অধিকার-বোধ থাকে, হয়তো সেই অধিকার-বোধেই, অথবা অর্জুন বাড়ি ফিরেও হয়তো দেখেছিলেন—দ্রৌপদী তখনও দাদা কিম্বা ভাইদের পরকীয়া, হয়তো সেই যন্ত্রণায় অর্জুন যেন দ্রৌপদীর সমস্ত অন্যতর বন্ধন ছিন্ন করে দিয়ে ক্ষণেকের তরে নিজের অধিকারে স্থাপন করেছেন একান্ত এক বিহার-ভূমিতে।

    বিবাহের পর দ্রৌপদীর সঙ্গে অর্জুনের সেই প্রথম মধুচন্দ্রিমা। জানি—মহাভারতের কবি কথাটা এমন স্পষ্ট করে বলেননি। কিন্তু ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের নিঃসংশয় অনুজ্ঞার জন্য অর্জুন হয় বেশ একটু কৌশলই করেছিলেন কিনা—কে জানে! অর্জুন কৃষ্ণকে বলেছিলেন—চল যাই যা দিকটাই ঘুরে আসি-বড্ড গরম এখানে-“উষ্ণানি কৃষ্ণ বৰ্ত্তন্তে গচ্ছাবো যমুনাং প্রতি। কৃষ্ণ বললেন—আমিও মনে মনে এই কথাই ভাবছিলাম, অর্জুন! বেশ বন্ধু-বান্ধব সঙ্গে নিয়ে যমুনার কাছে ফুর্তি করে আসলে দারুণ হত। কে না জানে—ধীর সমীরে যমুনাতীরে কৃষ্ণের উল্লাস বড় বেশি। কিন্তু অর্জুন! কৃষ্ণের ইচ্ছা থাকায় ধর্মরাজের অনুমতি মিলতে দেরি হয়নি। ফুর্তির জন্য বন্ধু-বান্ধব যত না গেছেন তাঁদের সঙ্গে, ফুর্তিবাজ অন্য মেয়েরা গেছে তার চেয়ে বেশি। তারা নাচবে, গাইবে, যা ইচ্ছে করবে—বনে কাশ্চিৎজ্জলে কাশ্চিৎ—স্ত্রিয়শ্চ বিপুল-শ্রোণ্য-শ্চারুপীনপয়োধরাঃ। কৃষ্ণ আর অর্জুনের সঙ্গে এসেছেন সুভদ্রা আর দ্রৌপদী। খাওয়া দাওয়া আর নাচে-গানে ভরে উঠল এই চারজনের অন্তরঙ্গ আসর। নাচনেওয়ালি মেয়েদের রঙ্গ-তামাশায় ভারী মজা পেলেন দ্রৌপদী এবং সুভদ্রা। খুশির মেজাজে তাঁরা সেই মেয়েদের দিকে নিজের গায়ের গয়না ছুঁড়ে দিলেন, ছুঁড়ে দিলেন রঙিন ওড়না—দ্রৌপদী চ সুভদ্রা চ বাসাংস্যাভরণানি চ।

    বাড়ির বাইরে আপন ঈপ্সিততমের সঙ্গে দ্রৌপদীকে আমরা কি এত খুশির মেজাজে, এত উচ্ছ্বসিত—আর কখনও দেখেছি? হয়তো নৈকট্যের আরও সংজ্ঞা আছে কোনও, দিন-দিন, প্রতিদিন দাম্পত্য অভ্যাস—সেই বুঝি নৈকট্য! হবেও বা। কৃষ্ণ-অর্জুনের এই যমুনা-বিহার থেকেই সূচিত হয়েছিল খাণ্ডব-দহনের প্রক্রিয়া। পাণ্ডবরা ধৃতরাষ্ট্রের অনুজ্ঞায় খাণ্ডবপ্রস্থে রাজ করতে এসেছেন। শস্যহীন, রুক্ষ জমি এই খাণ্ডব-প্রস্থ। অগ্নিদেবের ক্ষুধামান্দ্য ইত্যাদি কঠিন কথা থাক। কিন্তু সমস্ত খাণ্ডববন পুড়িয়ে যে বীর প্রায় একক ক্ষমতায় জায়গাটাকে সবার বাসযোগ্য করে তুললেন, যে শালীনতায় তিনি ময়দানবের মাধ্যমে ইন্দ্রপ্রস্থে রাজপ্রসাদ বানানোর ব্যবস্থা করলেন—সেই অর্জুনের সব ক্ষমতা, ত্যাগ—দ্রৌপদীর মনে ছিল। খাণ্ডব-দহনের অসাধারণ প্রক্রিয়ায় দ্রৌপদী কতটা মুগ্ধ ছিলেন—তা টের পাওয়া যায় পরবর্তী সময়ে দ্রৌপদীর আক্ষেপে। সেই বিরাট-পর্বে দ্রৌপদী যখন কীচকের উদগ্র কামনায় বিব্রত হচ্ছেন, তখন ভীমের কাছে গিয়ে দ্রৌপদী অর্ধেক অনুশোচনা করেছেন শুধু অর্জুনকে নিয়ে। তাঁর কেবলই কষ্ট—অর্জুনের এই দশা হল কী করে? সেই মানুষ, যে নাকি খাণ্ডব-দহন করে অগ্নিকে তৃপ্ত করেছিলেন—যো’তর্পয়দমেয়াত্মা খাণ্ডবে জাতবেদসম্—সে বিরাটরাজার অন্তঃপুরে নাচনেওয়ালী সেজে থাকে কী করে? এই খাণ্ডব-দহনের প্রসঙ্গ দ্রৌপদীর মুখে আবার এসেছে, যখন তিনি কুমার উত্তরের কাছে বৃহন্নলার সারথি হবার যোগ্যতা-প্রমাণে ব্যস্ত হয়েছিলেন। কাজেই মহাভারতের আদিপর্বেও যুধিষ্ঠিরের স্বামিত্বে যত গৌরবান্বিত ছিলেন দ্রৌপদী, তার চেয়ে অনেক বেশি মুগ্ধ ছিলেন অর্জুনের বীরত্বে। কিন্তু দ্রৌপদীর কাছে অর্জুনের মাহাত্ম্য প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য নয়, আমার বক্তব্য—আদিপর্বে আমরা এমন কিছু দেখিনি যাতে যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে দ্রৌপদীর নৈকট্য প্রমাণ করা যায়।

    তারপর বুদ্ধদেব যেমন লিখেছেন—‘দূতসভায় অবমানিত হয়ে দ্রৌপদী তীব্র স্বরে বলে উঠলেন—আমি পাণ্ডবদের সহধর্মিনী, আমি ধর্মাত্মা যুধিষ্ঠিরের ভার্যা!—যেন বহুবচনের মধ্যে যুধিষ্ঠিরকে ধরানো গেল না, স্বতন্ত্রভাবে এবং বিশেষভাবে তাঁর নাম বলতে হ’লো…’—ঠিক এইভাবে কথাগুলি মহাভারতে নেই। দ্রৌপী বলেছিলেন—আমি পাণ্ডবদের ভার্যা, ধৃষ্টদ্যুম্নের ভগিনী, এবং কৃষ্ণের বান্ধবী হওয়া সত্ত্বেও কেমন করে যে এই সভায় সমস্ত রাজাদের সামনে নিয়ে আসা হল—ভাবতে পারি না।

    এই হল একটি শ্লোক এবং এই শ্লোকে ‘কথং হি ভার্যা পাণ্ডুনাম্‌’ আমি পাণ্ডবদের ভার্যা —এখানে যুধিষ্ঠিকেও ধরানো গেছে একভাবে। পরের শ্লোকে যুধিষ্ঠিরের নাম আলাদাভাবে উচ্চারণ করেছেন দ্রৌপদী, কিন্তু তার তাৎপর্য বুদ্ধদেব যেমনটি বলেছেন, তেমনটি আমার মনে হয় না। এখানে আবারও শ্লোকটি যেখানে আছে, যে প্রসঙ্গে আছে—সেটা বলি। যুধিষ্ঠির দ্রৌপদীকে বাজি রেখে হেরেছেন যদিও, তবু তিনি নিজেকে বাজি রেখে হেরেছেন আগে। এ অবস্থায় আইনের মারপ্যাঁচে

    দ্রৌপদীকে কোনও ভাবেই কৌরবদের দাসী বলা যায় কিনা—এটাই ছিল দ্রৌপদীর প্রশ্ন। এই প্রশ্নকূ নিয়ে আগেও আলচনা হয়ে গেছে। মহামতি ভীষ্ম এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং উত্তরের জন্য দেখিয়ে দিয়েছেন যুধিষ্ঠিরকেই। দুঃশাসনের অসভ্যতাও তখন শেষ হয়ে গেছে, কাপড় টেনে টেনে পড়ান তিনি তখন ক্লান্ত। এরই মধ্যে কর্ণ বললেন—দুঃশাসন! ঝিটাকে এবার ঘরে নিয়ে যাও—কৃষ্ণাং দাসীং গৃহান্‌ নয়।

    এই মুহূর্তে কৃষ্ণ-পাঞ্চালী আবার কথা আরম্ভ করলেন সমবেত সুধীজনের সামনে। আবার সেই শাশ্বত লোকাচার সাধারণ ধর্মবোধের কথা তুললেন দ্রৌপদী। সেই স্বয়ম্বর সভায় রাজাদের সামনে একবার আমি এসেছিলাম, আর আজও আমাকে আসতে হল! আমার গায়ে হাওয়ার পরশ লাগলেও যেখানে আমার স্বামীরা সইতে পারেন না, ভাবেন বুঝি, পর-পুরুষের ছোঁয়া লাগল সেই পাণ্ডবরাও আমার এই অপমান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সহ্য করলেন।

    ঠিক এইখানেই দ্রৌপদী দুঃখ করে বলেছেন—পাণ্ডবের ভার্যা, ধৃষ্টদ্যুম্নের বোন এবং কৃষ্ণের বান্ধবী হয়েও আমাকে এই সভায় আসতে হল? এর পরেই যুধিষ্ঠিরের গৌরবে সেই আলাদা শ্লোকটি। দ্রৌপদী বললেন—দেখ হে, কৌরবরা! আমি ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ভার্যা, আমাদের বিবাহ হয়েছে সবর্ণে, ক্ষত্রিয়ে ক্ষত্রিয়ে—তামিমাং ধর্মরাজস্য ভার্যাং সদৃশ বর্ণজাম্‌—এখন ভেবে দেখ তোমরা, আমাকে দাসী বলবে, না, অদাসী বলবে? যা বলবে—তাই করব—ব্রূত দাসীম্‌ অদাসীং বা তৎ করিষ্যামি কৌরবাঃ।

    এখানে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ভাষার গৌরবে যে কথাগুলি বলেছেন দ্রৌপদী, তার একটা পৃথক গুরুত্ব অবশ্যই আছে আমার বিবেচনায়, তবে তার প্রসঙ্গটা এখানে খেয়াল করার মতো। মনে রাখা দরকার—দ্রৌপদীকে কোনওভাবেই দাসী বলা যায় কিনা—এই ছিল প্রশ্ন? দ্রৌপদী ধৃতরাষ্ট্রকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তিনি কৌরবকুলের পুত্রবধূ, ধৃতরাষ্ট্রের কন্যার মতো—স্নুষাং দুহিতরঞ্চৈব। দ্রৌপদী মনে করিয়ে দিয়েছেন—কুরুকুলের চিরন্তন ধর্মবোধের কথা—যে ধর্মবোধ অতিক্রম করে তাঁরা কোনওদিন কুল-বধূদের অমর্যাদা করেননি, এবং যে ধর্মবোধ এখন বিলুপ্ত। এইবার তিনি ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ভার্যার গৌরবে কথা বলছেন।

    আবারও মনে রাখতে হবে—বিদগ্ধা দ্রৌপদী, পাণ্ডব-ভাষা দ্রৌপদী, ধৃষ্টদ্যুম্নের ভগিনী দ্রৌপদী—এই অভিজাত বংশ-সম্বন্ধগুলি কৌরব কুলাঙ্গারদের মনে করিয়ে দিয়ে তবেই দ্রৌপদী যুধিষ্ঠিরের প্রসঙ্গে আসছেন। আসছেন এইজন্য যে, এই কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ছিলেন ইন্দ্রপ্রস্থের পাটরানি। রাজা যুধিষ্ঠিরের স্ত্রী। ক্ষত্রিয় যুধিষ্ঠির সমানবর্ণা ক্ষত্রিয়া কুমারীকে বিবাহ করে, তবেই না কুরুকুলের পুত্রবধূর সম্মানে তাঁকে এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। আর যে কুরুকুল চিরকাল শুধু ধর্মানুসারে কাজ করেছে, সেই কুরুকুলের জাতকেরা আজ ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের ধর্মানুসারে বিবাহিতা রানি দ্রৌপদীকে দাসী বানাতে চাইছে। দ্রৌপদীর শাণিত ইঙ্গিত—এতে আভিজাত্যও নেই, ধর্মও নেই।

    ধর্ম শব্দটা এখানে ফুল, নৈবেদ্য কিংবা বেলপাতার পুজো বোঝাচ্ছে না, ধর্ম এখানে এক বিশাল নীতিবোধ, সামাজিক ঔচিত্য ; এমনকী যা করা হয়ে গেছে, তা যদি ঠিক না হয়ে থাকে, তবে তার করণীয়তা সম্বন্ধে গভীর কোনও তর্কও হতে পারে। দ্রৌপদী সেই তর্কই করছিলেন, এবং এই সব ক্ষেত্রে যুধিষ্ঠির এতকাল ছিলেন প্রমাণ স্বরূপ। পাশা-ক্রীড়ার এই তাৎক্ষণিক মত্ততা ছাড়া যুধিষ্ঠির নৈতিক এবং উচিত কার্যে সব সময় ব্যক্তিস্বার্থ অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। এমনকী এখনও তিনি পাশা খেলে নিজেকে এবং নিজের স্ত্রীকেও হেরেছেন—এই চরম মুহূর্তেও পাশা-খেলার ন্যায়-নীতি অনুসারে তাঁর মাথার ওপর যে গভীর সংকট নেমে এসেছে—সে সংকট থেকে বাঁচবার জন্য অন্য কোনও সহজ পন্থা অবলম্বন করেননি, অথবা কোনও তর্ক করেননি। কারণ পাশাখেলার নির্ধারিত নিয়মনীতিও তাঁর কাছে ধর্ম। যার জন্য দ্রৌপদী যখন বারবার কৌরবদের ওপরে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন—বল তোমরা, আমি দাসী, না অদাসী, আমি ধর্মানুসারে জিত হয়েছি! না জিত হইনি—তোমরা যা বলবে—আমি তাই করব।

    লক্ষণীয় বিষয় হল, কৌরবরা এখানে আজ্ঞাকারীর ভূমিকায় থেকেও তাঁদের সিদ্ধান্ত তাঁরা ঘোষণা করেননি। এই অবস্থাতেও তাঁরা বলেছেন—ধৰ্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের বুদ্ধি ধর্মেই স্থিত এবং পাশাখেলায় হেরে যাবার পর এখনও তোমার ওপর তাঁর স্বামীর অধিকার আছে, কি নেই—এই ইন্দ্রকল্প যুধিষ্ঠিরের কাছেই জেনে নাও—ধর্মে হিতো ধর্মসুতো মহাত্মা স্বয়ঞ্চেদং কথয়ত্বিন্দ্ৰকল্পঃ।

    এই কথাটা দুর্যোধন বলেছেন। আপনারা কি মনে করেন না যে, এখানেও ‘স্বতন্ত্রভাবে এবং বিশেষভাবেই’ যুধিষ্ঠিরের নাম করতে হয়েছে। অন্যদিকে এই সংকট কালেও দ্রৌপদী যে ধর্মকেই শেষ অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন, সেই বহুমাননা করেও ভীষ্ম কিন্তু আবারও সেই যুধিষ্ঠিরকেই ন্যায়-নীতি বিচারের শেষ প্রমাণ বলে মনে করেছেন—যুধিষ্ঠিরস্ত প্রশ্নে’স্মিন প্রমাণমিতি মে মতিঃ।

    যে কারণে ভীষ্ম, এবং এমনকী দুর্যোধনও বার বার ‘স্বতন্ত্রভাবে এবং বিশেষভাবে’, আলাদা করে যুধিষ্ঠিরের নাম করেছেন—আমার বিবেচনায়—দ্রৌপদীও ওই একই কারণে যুধিষ্ঠিরের নাম আলাদা এবং স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন। কারণটা ভীষ্ম একবার যুধিষ্ঠির সম্বন্ধে বলেছেন, আবার অন্যত্র দ্রৌপদী নিজেই যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে সে-কথা বলেছেন। ভীষ্ম এই দ্রৌপদীকেই বলেছিলেন—দরকার হলে যুধিষ্ঠির সমস্ত পৃথিবী ও ত্যাগ করতে পারেন, কিন্তু ধর্ম ত্যাগ করবেন না—ত্যজেত সবাং পৃথিবীং সমৃদ্ধাং, যুধিষ্ঠিরো ধর্মমতো ন জহ্যাৎ। আর বনপর্বে এসে দ্রৌপদী নিজেই তার স্বামীর সম্বন্ধে বলেছেন আমি যা বুঝি তাতে তুমি ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব, এমনকী নিজেকেও অথবা আমাকেও ত্যাগ করতে পার, কিন্তু ধর্ম ত্যাগ করতে পার না—ত্যজেস্তবমিতি মে বুদ্ধি র্ন তু ধর্মং পরিত্যজেঃ।

    ধর্মের জন্য যুধিষ্ঠির এতটাই নিরপেক্ষ। এই নিরপেক্ষতা এমন এক প্রাবাদিক পর্যায়ে উন্নীত যে, দ্রৌপদী প্রথম দুঃশাসনের কবলে পড়ে অতিসংকটে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে যে-শব্দ উচ্চারণ করেন—ধর্মে হিতো ধর্মসুতো মহাত্মা—দুর্যোধন তাঁর শত্রুপক্ষ হয়েও তাঁর তর্ক-সংকটে সেই একই প্রবাদ-কল্প ব্যবহার করেন—ধর্মে হিতো ধর্মসুতো মহাত্মা। কাজেই দ্রৌপদীর পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে এবং বিশিষ্টভাবে যুধিষ্ঠিরের নাম উচ্চারণের মধ্যে যদি অন্য কোনও মাহাত্ম্য আরোপ করতে হয়, তবে দুর্যোধন বা ভীষ্মের দিক থেকে যুধিষ্ঠিরের নাম পৃথকভাবে উচ্চারণ করার জন্য আমরা তাঁর কোন মাহাত্ম্য স্মরণ করব? বস্তুত ধর্ম, এবং এক অতি পৃথক তথা স্বতন্ত্র ধর্মবোধই যুধিষ্ঠিরকে তাঁর ভাইদের থেকে আলাদা করে দিয়েছে, যার ফলে দ্রৌপদী, দুর্যোধন একই কারণে যুধিষ্ঠিরের নাম উল্লেখ করেন। এর মধ্যে যদি বুদ্ধদেবের দৃষ্টি-মতো দ্রৌপদীর ‘উত্তরোত্তর আরও বেশি সংশ্লিষ্টভাবে’ যুধিষ্ঠিরের ভার্যায় উত্তরণ দেখতে পাই, তা হলে দুর্যোধন বা ভীষ্মের জন্যও আমাদের আরও সংশ্লিষ্ট কোনও সম্বন্ধ খুঁজে বার করতে হবে।

    যুধিষ্ঠিরের সম্বন্ধে পৃথক এবং বৃহৎ আলোচনার অবসর যখন আসবে, তখন আরও সূক্ষ্মভাবে এসব কথা ধরবার চেষ্টা করব, তবে শুধু বুদ্ধদেব বসুর মতো মহোদয় ব্যক্তির প্রতিপক্ষতার গৌরবে অল্প হলেও এ-কথা বলতে হবে যে, দ্রৌপদী কোনওভাবেই উত্তরোত্তর আরও সংশ্লিষ্টভাবে যুধিষ্ঠিরের ভার্যারূপে প্রতিভাত হন না। যুধিষ্ঠির স্বক্ষেত্রে এতই বেশি বড়, এতই বেশি মহান এবং সেই কারণেই সুদূর আকাশে-আঁকা ইন্দ্রধনুটির মতো এতই তাঁর দুরত্ব যে, তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে কারও পক্ষে সংশ্লিষ্টতায় উত্তরণ ঘটানো বড় কঠিন বলেই আমি মনে করি।

    দ্রৌপদী যুধিষ্ঠিরের স্ত্রী তো বটেই, কিন্তু এই জ্যেষ্ঠ-স্বামীর সঙ্গে তাঁর ব্যবহারে একধরনের ‘ডিকটমি’ আছে। একদিকে যুধিষ্ঠির যেখানে তাঁর সুদূর ধর্মমঞ্চে বসে আছেন, সেখানে দুঃশাসন এসে তাঁর চুলের মুঠি ধরলেও, তিনি বলে ওঠেন—আমি ধর্মাত্মা যুধিষ্ঠিরের কথার মধ্যে গুণগুলি বাদ দিয়ে অণুমাত্র দোষও দেখতে চাই না, কারণ ধর্মের গতি সূক্ষ্ম এবং নিপুণভাবে তা লক্ষ করতে হয় ; তিনি যা বুঝেছেন, আমি হয়তো তা বুঝতে পারছি না—বাচাপি ভর্তুঃ পরমাণুমাত্রম্‌ ইচ্ছামি দোষং ন গুণান্ বিসৃজ্য। অন্য দিকে এই সুদূর সম্মানিত ব্যবহারের লেশমাত্রও ছিল না, যখন দুঃশাসনেরও আগে প্রতিকামী এসে দ্রৌপদীকে প্রথম রাজসভায় যেতে বলেছিল। দ্রৌপদী সারথি-জাতের প্রাতিকামীর সামনেই রাজা যুধিষ্ঠিরের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে তাঁর দ্যূতাসক্তির ঘৃণ্যতা প্রমাণ করে বলেছিলেন—যাও সভায় গিয়ে সেই জুয়াড়িকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে এসো যে, সে নিজেকে আগে বাজি রেখে হেরেছে, না আমাকে—গচ্ছ ত্বং কিতবং গত্বা সভায়াং পৃচ্ছ সূতজ?

    এই মুহূর্তে দ্রৌপদী আপন কুলবধূর সম্মান বাঁচানোর জন্য আইনের ফাঁকে যুধিষ্ঠিরের অধিকার সম্বন্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থাৎ যুধিষ্ঠির যদি আগে কোনওভাবে নিজেকে বাজি রেখে হেরে থাকেন, তবে এই মুহূর্তে তাঁর স্বামিত্বের অধিকার না থাকায় দ্রৌপদী খুশি হতে পারেন। কাহিনী যত এগিয়ে চলেছে, যুধিষ্ঠিরের প্রতি দ্রৌপদীর অধৈর্য আরও বেড়ে চলেছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। সামগ্রিকভাবে যুধিষ্ঠির তাতে খারাপ হলেন, না ভাল হলেন—সে তর্কে আমি আপাতত যাচ্ছি না। কারণ, যুধিষ্ঠির এক বিশাল এবং ব্যাপ্ত মহাদ্রুমের মতো। শুধুমাত্র দ্রৌপদীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কে তিনি খারাপ, না ভাল—সে প্রশ্নটির শুধু আলোচনা হতে পারে।

    যুধিষ্ঠিরের সূক্ষ্ম ধর্মবোধের মতো বুদ্ধদেবের সাহিত্য-বোধও বুঝি অতিশয় সুক্ষ্ম,—এতটাই সূক্ষ্ম যে, আমার মতো অনধিকারীর পক্ষে তা ধরাও বুঝি মুশকিল। তবে পূর্বাপর-বিচারে আমার যা মনে হয়েছে, তাতে সভাপর্বের পর কাহিনী যতই এগিয়ে চলেছে যুধিষ্ঠির সম্পর্কে দ্রৌপদীর অসহিষ্ণুতা ততই বেড়েছে। ইন্দ্রকল্প পাঁচস্বামীর পিছন পিছন তিনি বনে গিয়েছেন বটে, কিন্তু মনের রাগ তিনি মনে লুকিয়ে রাখেননি। দুঃশাসনের হাতে-ধরা চুল তিনি খুলে রেখে দিয়েছেন সমস্ত অপমানের প্রতীকের মতো। বনে যাবার কিছুদিনের মধ্যে যখন কৃষ্ণ এসে পৌঁছালেন পাণ্ডবদের কাছে, তখন দ্রৌপদী কৃষ্ণের সামনে ধিক্কার দিয়েছেন স্বামীদের। হয়তো অত্যন্ত ক্ষোভে অথবা চরম উদাসীনতায় যুধিষ্ঠিরের নামও তিনি করেননি। ভাবটা এই—তিনি যা করে ফেলেছেন, ফেলেছেন ; কিন্তু কী হল এই ভীম আর জোনের, যাঁদের একজন নিজের বাহুবলে আস্থাবান আর অন্যজন ধনুষ্মত্তায়—ধিক্‌ বলং ভীমসেনস্য ধিক্ পার্থস্য গাণ্ডীবম্? বুদ্ধদেবের অনুকরণে কি এখানে বলব যে, পাঁচজনের মধ্যে যেন এঁদের ধরানো গেল না, স্বতন্ত্র এবং বিশেষভাবে এঁদের নাম করতে হল। যেন দ্রৌপদী নিজের রক্ষার জন্য এই দুই পাণ্ডবের ওপর বেশি নির্ভর করেন, যুধিষ্ঠির কিংবা নকুল-সহদেবের ওপর তাঁর যেন কোনও ভরসাই নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাল্মীকির রাম ও রামায়ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    Next Article মহাভারতের প্রতিনায়ক – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }