Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1398 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.২ তৃতীয় কাণ্ড। দ্বিতীয় প্রপাঠক

    তৃতীয় কাণ্ড। দ্বিতীয় প্রপাঠক

    প্রথম অনুবাক

    মন্ত্র- যো বৈ পবমানানামারোহান্বিদ্বান যজতেহনু পবমানানা রোহতি ন পবমানেডভ্যাহৰ চ্ছিদ্যতে শ্যেনোহসি গায়ত্ৰছা অনু ত্বাহরভে স্বস্তি মা সং পারয় সুপর্ণোহসি ত্রিষ্টুপছন্দ অনু ত্বাহরভে স্বস্তি মা সং পারয় সঘাহসি । জগতীছন্দা অনু ত্বাহরভে স্বস্তি মা সং পারয়েত্যাহৈতে বৈ পবমানানামম্বা যোহাস্তান্য এবং বিদ্বান্যজতেই পবমানানা রোহতি ন পবমানোভ্যোহব চ্ছিদ্যতে যো বৈ পবমানস্য সতিং বেদ সৰ্বমায়ুরেতি ন পুরাইয়ুষঃ প্ৰ মীয়ত পশুমান্ ভবতি বিন্দতে প্রজাং পবমানস্য গ্ৰহা গৃহ্যন্তেহথ বা অস্যৈতেহগৃহীতা দ্রোণকলশ আধবনীয়ঃ পূতভৃত্তান্যদগৃহীতোপাকুৰ্য্যাৎ পবমানং বি ছিন্দ্যাত্তং বিচ্ছিদ্যমান মধ্বৰ্যোঃ প্রাণোহনু বি চ্ছিদ্যেতোপযাম গৃহীতোহসি প্রজাপতয়ে ত্বেতি দ্রোণকলশমভি মৃশেদিন্দ্রায় ত্বেত্যাধবনীয়ং বিশ্বেভ্যস্তা দেবেভ্য ইতি পূতভৃতং পবমানমেব তৎ সং নোতি সৰ্বমায়ুরেতি ন পুরাইয়ুষঃ প্র মীয়তে পশুমান ভবতি বিন্দতে প্রজাস্ ॥১৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন–বষ্যৈ হিং কুরু তস্যৈ প্রস্তুহি তস্যৈ স্তুহি তস্যৈ মেহবরুঘ্যা ইতি পুরস্তদ্বহিষ্পব মানাদ্যজমানো জপতি দশহোতারং ব্যাচষ্টে ভুয়মানে চ দশহোতারং জপতি শ্যেনোহসি গায়ত্রীছন্দা ইতি মধ্যমায়াং চ স্তোত্ৰীয়ায়ামম্বারোহং দ্বিতীয়ে পবমানে দ্বিতীয়েন মন্ত্রেণ তৃতীয়ে তৃতীয়েন ইতি।আদ্যানুবাকে বিহিতাঃ পবমানগ্রহাস্ত্রয়ঃ। অর্থাৎ–এই প্রথম অনুবাকে তিন পবমান গ্রহের বিষয় কথিত হয়েছে ]

    মর্মার্থ- বহিষ্পবমান, মাধ্যন্দিন পবমান ও আর্ভব পবমান–এই তিনটি (পবমানত্রয়গতা) স্তোত্রবিশেষ, যা সামবেদে পরম্পরাক্রমে কথিত হয়েছে, তা যে যজমান মন্ত্ররূপে পাঠ (বা জপ) করেন, সেই যজমান কখনও পবমান হতে বিচ্ছিন্ন হন না। যথা,-হে বহিষ্পবমান! আপনি শ্যেনপক্ষীর ন্যায় শীঘ্রগতিসম্পন্ন ও গায়ত্রীছন্দযুক্ত হয়ে থাকেন। আপনাকে আমি অনুক্রমে গ্রহণ করছি (বা জপ করছি), আপনি আমাকে নির্বিঘ্নে সম্যকভাবে পার করুন।–হে মাধ্যন্দিন পবমান! আপনি সুপর্ণের (স্বর্ণচুড়াপক্ষীর) ন্যায় উৎপতনশীল (উধ্বগামী) ও ত্রিষ্ঠুভ ছন্দযুক্ত হয়ে থাকেন। আপনাকে আমি মন্ত্রোচ্চারণের দ্বারা অনুক্রমে গ্রহণ করছি (বা জপ করছি), আপনি আমাকে নির্বিঘ্নে সম্যভাবে পার করুন।–হে আর্ভব পবমান! আপনি ভাস-নামক পক্ষীর ন্যায় নিম্নে পতিত (অর্থাৎ নিম্নগামী) হতে সমর্থ ও জগতীছন্দযুক্ত হয়ে থাকেন। আপনাকে আমি অনুক্রমে গ্রহণ করছি (বা জপ করছি), আপনি আমাকে নির্বিঘ্নে সম্যভাবে পার করুন। যে যজমান বহিষ্পবমান ইত্যাদি শব্দ-অভিধেয়মান তিনটি পবমান স্তোত্রবিশেষ অবিচ্ছিন্নভাবে (অবিচ্ছেদে) বিদিত হন, তিনি সম্পূর্ণ আয়ু প্রাপ্ত হন (অর্থাৎ জন্মকালে কর্ম ও দেবতাগণের দ্বারা পরিকল্পিত সম্পূর্ণ আয়ু ভোগে সমর্থ হন), তাঁর অপমৃত্যু (বা অকালমৃত্যু) ঘটে না, এবং তিনি (অর্থাৎ সেই মযজমান) প্রজা ও পশুসমৃদ্ধ হয়ে থাকেন। দ্রোণকলশ (কাষ্ঠনির্মিত সোমরসাধার কলশ) ইত্যাদির তিনটি গ্রহ (যজ্ঞীয় পাত্ৰসমূহ) ঐন্দ্র বায়ব ইত্যাদি গ্রহের ন্যায় (অর্থাৎ ইন্দ্রসম্বন্ধী কিংবা বায়ুসম্বন্ধী যজ্ঞ পাত্রের মতো) মন্ত্রের দ্বারা গ্রহণ কর্তব্য। সেই সমস্ত পবমান সম্বন্ধী গ্রহসমূহ সন্ততি-প্রাপ্তির নিমিত্ত গৃহীতব্য এবং এর ফলে অধ্বর্যর প্রাণবিচ্ছেদ হয় না, অর্থাৎ তিনি পূর্ণ আয়ু লাভ করেন। মন্ত্রের অর্থ–হে সোমরস! তুমি পার্থিব পাত্রের দ্বারা (কলশের দ্বারা) গৃহীত হয়েছে। তোমাকে প্রজাপতির নিমিত্ত গ্রহণ করেছি (অর্থাৎ প্রজাপতিকে নিবেদন করা হচ্ছে)। এই মন্ত্র পাঠপূর্বক দ্রোণকলশটি স্পর্শ করতে হবে। এইভাবে, হে সোমরস! তোমাকে উপখামের দ্বারা (অর্থাৎ মৃত্তিকানির্মিত যজ্ঞীয় ভাণ্ডে বা পাত্রে) ইন্দ্র ও সকল দেবগণের নিমিত্ত তোমাকে গ্রহণ করছি–এই মন্ত্র পাঠ পূর্বক তিনটি পাত্র স্পর্শ কর্তব্য, তাতে পবমান স্তোত্র অবিচ্ছিন্ন হবে এবং যজমান ও পূর্ণ আয়ু ইত্যাদি প্রাপ্ত হবেন (যজমানোহপি আয়ুরাদিকং প্রাপ্নোতি) ।১।

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ দ্বিতীয়ে সবনানি নিরূপ্যন্তে। অর্থাৎ–এই অনুবাকে সবনসমূহ তথা সোমযাগের বিধি নিরূপিত হয়েছে।]

    .

    দ্বিতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- ত্রীণি বাব সবনান্যথ তৃতীয়ং সবনম লুম্পত্যনংশু কুৰ্ব্বন্ত উপাংশুং হুতোপাং শুপাত্রেহংশুমবাস্য তং তৃতীয়সবনেহপিসৃজ্যাভি মুণুয়াদ্যদাপ্যায়য়তি তেনাংশু মদ্যদভিম্বণেতি ভেনজীষি সৰ্ব্বাণ্যেব তৎ সবনান্যংশুমন্তি শুক্রবন্তি সমাব দ্বীৰ্য্যাণি করোতি দৌ সমুদ্রৌ বিতরজুৰ্য্যো পৰ্য্যাবৰ্তেতে জঠরে পাদাঃ। তয়োঃ পশ্যতো অতি যন্ত্যন্যমপণ্যন্তঃ সোতুনাহতি যত্যন্যম্।। দে দুধসী সততী বস্ত একঃ কেশী বিশ্বা ভুবনানি বিদ্বান। তিবোধায়ৈত্যসিতং বসানঃ শুক্রমা দত্তে অনুহায় জাৰ্য্যৈ। দেবা বৈ যদ্যজ্ঞেহকুব্বত তদসুরা অকুব্বত তে দেবা এতং মহাযজ্ঞমপশ্যন্তমত তাগ্নিহোত্রং ব্ৰতমকুৰ্ব্বত তম্মাদব্ৰিতঃ স্যাদদিগ্নিহোত্রং জুহুতি পৌর্ণমাসং যজ্ঞমগ্নীযোমীয় পশুমকুৰ্ব্বত দার্শং যজ্ঞমাগ্নেয়ং পশুমকুব্বত বৈশ্বদেব প্রাতঃসবনমকুৰ্ব্বত বরুণপ্রঘাসাম্মাধ্যন্দিনং সবনং সাকমেধা পিতৃযজ্ঞং ত্র্যম্বকাং তৃতীয়সবনমকুৰ্ব্বত তমেষামসুরা যজ্ঞমম্ববাজিগাং সন্তং নাম্ববায়স্তেহব্রুরন্নধ্বৰ্ত্তব্য বা ইমে দেবা অভূবন্নিতি তদধ্বরস্যাধ্বরত্বং ততো দেবা অভব। পরাহসুরা য এবং বিদ্বান সোমেন যজতে ভবত্যাত্মনা পরাহস্য ভ্রাতৃব্যো ভবতি৷৷ ২

    মর্মার্থ- প্রাতঃসবন, মাধ্যন্দিন সবন এবং তৃতীয় সবন–এই তিন সবন সর্বৰ্থা বর্তমান (ভবন্তি)। এই তিন সবনের মধ্যে প্রথম দুটিতে অর্থাৎ প্রাতঃসবনে ও মাধ্যন্দিন সবনে সোম অভিযুত (অর্থাৎ সোমরসের নিপীড়ন) হয়; কিন্তু তৃতীয়টিতে অর্থাৎ তৃতীয় সবনে সোম অভিযুত হয় না, তার ভর্জনপাত্র-বিশেষ সেখানে অভিযুত হয়। এর ফলে সোমের সূক্ষ্ম অংশ (সোমাংশু)-রহিত তৃতীয় সবনের অনুষ্ঠান করে যজমান সেই সবনের বিনাশ করে থাকেন; কারণ সবন শব্দের অর্থ হলো সোমের অভিষবন (অর্থাৎ যেখানে সোম অভিযুত হয়), অথচ তৃতীয় সবনে তার সম্ভাবনাই থাকে না; সুতরাং কোন যুক্তিতে তাকে সব বলা যায়? এই নিমিত্তই কথিত হয়েছে–সেই উপাংশু গ্রহে (পাত্রে) কিছুটা অনভিযুত সোমাংশু নিক্ষিপ্ত (প্রক্ষিপ্ত) করে তৃতীয়সবন পর্যন্ত তার অভিষবন কর্তব্য (অভিযুণুয়াৎ)। সেই অভিষবে সেই অংশুকে বসতীবরী জলের দ্বারা পূর্ণ করা কর্তব্য। এইভাবে জলের দ্বারা আপ্যায়িত হলে সেই তৃতীয় সবনও অন্যান্য সবনের ন্যায় সোমাংশুযুক্ত হয়ে থাকে। তার ফলে তৃতীয় সবনের সাথে সব সবনগুলি সোমাংশুযুক্ত হওয়ার কারণে সমশক্তিসম্পন্নকৃত হয়ে থাকে (তুল বীর্যানি কৃতানি ভবন্তি)। অতঃপর আপস্তম্বের দুটি মন্ত্রের বিনিয়োগ (পাঠ) করণীয়। প্রথম মন্ত্রের দ্বৌ সমুদ্রৌ ইত্যাদির দ্বারা দুটি সমুদ্রের ও দুটি অহোরাত্রের (অহঃ ও রাত্রির) আরোপ পূর্বক পূতভৃৎ ও আধবনীয়ের স্তুতি করা হয়েছে। দুইট যেন বিস্তীর্ণ সমুদ্র, যা কখনও শুষ্ক হয়ে যায় না। সেই রকম এই দুটি (পূতভৃৎ ও আধবনীয়) পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় (অর্থাৎ এই দুটির প্রয়োগ কখনও স্তব্ধ হয় না)। সমুদ্রের মধ্যে যেমন প্রথম একটি তরঙ্গের পিছনে অপর একটি তরঙ্গ পর পর (পর্যায়ক্রমে) আগত হয়, সেই রকম পূতভৃৎ ও আধবনীয় পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে (উপযুজ্যতে)–(অর্থাৎ পূতভৃতের পরে আধবনীয়, আবার আধবনীয়ের পরে পূতভৃৎ, এইরকম)। ঠিক এইরকমেই দিবা ও রাত্রির সাথে পূতভৃৎ ও আধবনীয়ের তুলনা করা হয়েছে। দিবার পর রাত্রি ও রাত্রির পর দিবা এই তো পর্যায়ক্রম। দিবাভাগে মানুষজন সবকিছু দর্শন করতে পারে, সেই কারণে সহজেই উত্তীর্ণ হয়, কিন্তু রাত্রে সেতুসদৃশ নৌকার দ্বারা উত্তীর্ণ হয়, এটাও তুলনার একটি দিক। তারপর দ্রোণকলশকে আদিত্যরূপে স্তুতি করা হয়েছে। এক আদিত্য যেন দিবা ও রাত্রিরূপ দুটি বস্ত্রে আপনাকে আচ্ছাদিত করেছেন। সেই দুটি অবিচ্ছেদে অবস্থিত থাকে (অবিচ্ছেদেন-বর্তেতে), সেখানে দিবা ও রাত্রির মধ্যে কোন বিচ্ছেদ থাকে না। এক আদিত্য কেশসমান রশ্মিযুক্ত হয়ে আপন সেই রশ্মির দ্বারা সর্ব লোককে প্রকাশ করছেন (প্রকাশয়মানঃ)। ঐ দুটি (উভয়) বস্ত্রের মধ্যে রাত্রিরূপ বস্ত্র মলিন এবং দিবারূপ বস্ত্র শুভ্র। যখন আদিত্য রাত্রিরূপ কৃষ্ণ বস্ত্র পরিধান করেন, তখন তিনি আপন রূপকে তিরোহিত (আচ্ছাদিত) করে থাকেন। তারপর রাত্রির অবসানে (পরে) সেই কৃষ্ণ বস্ত্র পরিত্যাগ করে দিবারূপ শুক্লবস্ত্র পরিধান করেন। আদিত্য যেমন কখনও তিরোহিত হন, কখনও আবির্ভূত হন, দ্রোণকলশও সেইরকম হবিধানের শেষে তিরোভূত হয়ে থাকেন। দেবগণ পুরাকালে অসুরবিজয়ের নিমিত্ত যজ্ঞানুষ্ঠান আরম্ভ করলে, অসুরগণও তা জ্ঞাত হয়ে সেইরকম যজ্ঞানুষ্ঠান করতো (তথৈবাকুর্বত)। অতঃপর দেবগণ জয়ের অভাবে পুনরায় বিচার-বিবেচনা করে জয়ের উপায় স্বরূপ সোমাগরূপ মহাযজ্ঞের অনুষ্ঠান করতে কৃতনিশ্চয় হলেন, এবং অসুরগণ যাতে সেই মহাযজ্ঞের কথা জানতে না পারে, সেই নিমিত্ত গুপ্তভাবে তার অনুষ্ঠানে রত হলেন (প্রচ্ছন্নমনুষ্ঠিতবন্তঃ)। বাহিরে (অর্থাৎ প্রকাশ্যভাবে) প্রসিদ্ধ অগ্নিহোত্র যাগের অনুষ্ঠান প্রদর্শন পূর্বক তারা গোপনে দীক্ষাব্রতের অনুষ্ঠান করতেন (দীক্ষাব্রতমকুর্বত)। সায়ংকালে ও প্রাতঃকালে যেমন দুবার অগ্নিহোত্র যাগ করতে হয়, তেমন করে তারই মধ্যে ক্ষীরপানরূপ ব্রত ও সায়ং ও প্রাতঃকালে অনুষ্ঠিত করতেন। প্রকাশ্যে পৌৰ্ণমাস যজ্ঞের প্রসার (প্রদর্শন) করে তারই মধ্যে অগ্নীযোমীয় যাগের অনুষ্ঠান করতেন (পশুমকুর্বত)। সেইরকমেই প্রকাশ্যে দর্শপূর্ণ মাসের প্রসার করে তারই তারই মধ্যে আগ্নেয় সবনের যাগ অনুষ্ঠান করতেন। এইভাবে প্রকাশ্যে চাতুর্মাস্যরূপ বৈশ্যদেবের যাগ অনুষ্ঠানের মধ্যেই প্রাতঃসবন করতেন। প্রকাশ্যভাবে বরুণপ্রঘাসের অনুষ্ঠান করে তারই অন্তরালে মাধ্যন্দিন সবনের অনুষ্ঠান করে নিতেন। সেইভাবে প্রকাশ্যে সাকমেধের দ্বারা পিতৃযজ্ঞ ও ত্র্যম্বকের যজ্ঞ প্রসারিত করে তারই মধ্যে তৃতীয় সবনের অনুষ্ঠান করতেন। তখন (তদানী) অসুরগণ দেবতাদের ক্রিয়ামান যজ্ঞের ক্রম অবগত হতে ইচ্ছা করে বাহিরে (অর্থাৎ দেবতাগণের দ্বারা প্রকাশ্যে) অনুষ্ঠিত অগ্নিহোত্র ইত্যাদি দর্শন পূর্বক বিভ্রান্ত হয়ে গুপ্তভাবে অনুষ্ঠিত সোমযাগের অনুক্রম অবগত হতে ব্যর্থ হলো। সেই নিমিত্ত তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলো–আমরা এই দেবগণকে হিংসা করতে সমর্থ নই, কারণ এঁরা আমাদের হিংসার বাহিরে (ইমে দেবা অধ্বর্তবা অম্মাভিধ্বারতুং হিংসিতুমশকা অভুবন্নিতি)। সেই কারণে যে যাগে হিংসা করা হয় না এই অর্থে অধ্বর শব্দটি সম্পন্ন হয়েছে। সেই অধ্বর (সোমযাগের) অনুষ্ঠানের দ্বারা দেবগণ বিজয়ী হলো ও অসুরগণ পরাজিত হলো। এই তথ্য বিদিত হয়ে যিনি সোমের দ্বারা যাগানুষ্ঠান করেন, তিনি শত্রুগণকে পরাভূত করতে সক্ষম হয়ে থাকেন (পরাহস্য ভ্রাতৃব্যো ভবতি) ॥২॥

    [অথ তৃতীয়ানুবাকে সোমাবেক্ষণমুচ্যতে। অর্থাৎ–এই অনুবাকে সোমের আবেক্ষণ উক্ত হয়েছে]

    .

     তৃতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- পরিভূগ্নিং পরিভূরিং পভিৰ্ব্বিাবোন্ পরিভূম্মাং সহ ব্ৰহ্মবéসেন স নঃ পবস্ব শং গবে শং জনায় শমৰ্ব্বতে শং রাজষধীভ্যোচ্ছিন্নস্য তে রয়িপতে সুবীৰ্য্যস্য রায়ম্পোষস্য দদিতারঃ স্যাম।। তস্য মে রাস্ব তস্য তে ভক্ষীয় তস্য ত ইদমুজে প্রাণায় মে বর্ফোদা বচঁসে পবস্থাপনায় ব্যানায় বাঁচে দক্ষতুভ্যাং চক্ষুর্ভাং মে বর্পোদৌ বর্ডসে পবেথাং শ্রোত্রায়াত্মনেহজেভ্য আয়ুষে বীৰ্য্যায় বিষ্ণোরিন্দ্রস্য বিশ্বেষং দেবানাং জঠরমসি বéোদা মে বর্ডসে পৰস্ব। কোহসি কো নাম কস্মৈ ত্বা কায় ত্বা যং ত্বা সোমেনাতীতৃপং যং ত্ব সোমেনামীমদং সুপ্রজাঃ প্রজয়া ভূয়াসং সুবীরো বীরৈঃ সুবৰ্চ্চা বর্ড সুপোষঃ পোযৈৰ্বিশেভ্যো মে রূপেভ্যো বৰ্চোদাঃ বর্ডসে পবস্ব তস্য মে। রাস্থ তস্য তে ভক্ষীয় তস্য ত ইদমুজে। বুভূষন্নবেক্ষেতৈষ বৈ পাত্রিয়ঃ প্রজাপতির্যজ্ঞ প্রজাপতিস্তমেব তৰ্পয়তি স এনং তৃতপ্তা ভূত্যাহভি পবতে ব্রহ্মবর্ডসকমোহবেক্ষেতৈয বৈ পাত্রিয়ঃ প্রজাপতি যজ্ঞঃ প্রজাপতিস্তমেব তপয়তি স এনং তৃপ্তা ব্ৰহ্মবéসেনাভি পবত আময়াবী অবেক্ষেতৈষ বৈ পাত্রিয়ঃ প্রজাপতির্যজ্ঞঃ প্রজাপতিস্তমেব তৰ্পয়তি স এনং তৃপ্ত আয়ুষাহভি পৰতেহভিচরন্নবেক্ষেতৈষ বৈ পাত্রিয়ঃ প্রজাপতির্যজ্ঞঃ প্রজাপতিস্তমেব তপয়তি স এনং তৃপ্তঃ প্রাণাপানাভ্যাং বাচো দক্ষতুভ্যাং চক্ষুর্ভাং শ্রোত্রাভ্যামাত্মনোহঙ্গেচ্য আয়ুযোহস্তরেতি তাজ প্র ধন্বতি ॥৩৷৷

    মর্মার্থ- হে সোম! আপনি যেভাবে অগ্নিকে ব্যাপ্ত করে অবস্থিত, সেইভাবে ইন্দ্র ও সকল দেবতাকেও ব্যাপ্ত করে আছেন। আমাকে ব্ৰহ্মতেজের দ্বারা ব্যাপ্ত করে অবস্থিত আছেন। আপনি আমাদের পবিত্রতা সম্পাদন করুন (পবস্ব, শোধয়ঃ)। হে রাজন (সোম)! আপনি আমাদের গাভী, জন, অশ্ব ও ওষধি (প্রাপ্তি বা বৃদ্ধিজনিত) সুখ প্রদান করুন। হে ধনপতি! আপনার প্রসাদে আমরা শোভনপুত্রপ্রাপ্ত হয়ে ধনের দাতা হবো। আপনার দানপ্রার্থী আমাকে ধন প্রদান করুন। আপনার রস ভক্ষীয় কালে (অর্থাৎ পানযোগ্য সময়ে) প্রাপ্ত হচ্ছি (পান করছি)। এই পানের ফলে আপনার প্রসাদে উত্তর্ষের সাথে অতি উজ্জ্বল হবো৷ এই মন্ত্রের দ্বারা সকল রাজারই সামান্যরকম অবেক্ষণ (সমাদর বা সম্মান জ্ঞাপন) করা হয়; বিশেষভাবে এই মন্ত্রের দ্বারা পাত্রগত সোমকে অবেক্ষণ করা কর্তব্য। হে উপাংশুপাত্র! তুমি বলপ্রদ হয়ে থাক, অতএব তুমি আমার প্রাণ ও বলের শোধন করো (শোধয়)। সেইভাবে তুমি আমার অপান (নিঃশ্বাসোহবধাবৃত্তি), ব্যান (বিধবৃত্তি), বা (বচনসামর্থ), প্রাণাপান (প্রাণ অর্থাৎ দক্ষ এবং অপান অর্থাৎ ক্রতু; দক্ষতু), চক্ষু (দৃষ্টিশক্তি), শ্ৰোত্ৰ (শ্রবণশক্তি), আত্মা (জীবঃ), অঙ্গসমূহ (হস্তপদ ইত্যাদি), আয়ু (জীবৎকাল) ও বীর্যের (সামর্থ্যের) শোধন করো। হে দ্রোণকলস তুমি বিষ্ণুর জঠর হও (অর্থাৎ বিষ্ণুর জঠরের ন্যায় পবিত্রকারক), তুমি তেজঃপ্রদ, তেজের নিমিত্ত (আমি যাতে তেজঃপ্রাপ্ত হই, সেই নিমিত্ত) আমাকে শোধিত করো। হে আহবনীয় (বেদীর পূর্বদিকে স্থাপিত অগ্নি)! আপনি প্রজাপতিরূপ হন; আপনাকে প্রজাপতির সুখের নিমিত্ত অবেক্ষণ করছি। হে আহবনীয়! আপনাকে সোমের দ্বারা তৃপ্ত করছি, সোমের দ্বারাই আপনাকে আমোদিত করছি (হর্ষিতবানস্মি)। আপনার প্রসাদে শোভন শোভন ভৃত্যযুক্ত হবো, বীর পুত্রপৌত্র ইত্যাদির দ্বারা শোভন পুত্রপৌত্র ইত্যাদি সমন্বিত হবো, বলের (বা তেজের) প্রভাবে শোভন বলযুক্ত হবো, ধন ইত্যাদির পোষণের দ্বারা শোভন পুষ্টিযুক্ত হবো। হে সর্বসমষ্টিরূপ সোম! পূর্বে উক্ত প্রাণাপান ইত্যাদি সর্বফলসিদ্ধির কারণে বাদাতা আপনি বলের নিমিত্ত (বলপ্রাপ্তির উপযোগিতা সম্পাদনের নিমিত্ত) আমাকে শোধন করুন। অতঃপর বুভুষণ ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা আভিচারিক ক্রিয়ার নিমিত্ত সোমের অবেক্ষণের ক্ৰম কথিত হয়েছে (অভিচারার্থিনাং সোমাবেক্ষণং ক্রমেণ বিধত্তে)।-ঐশ্বর্যকামনা পূর্বক অবেক্ষণ কর্তব্য (বুভুষণ ভবিতুমিচ্ছনৈশ্বর্যকামঃ)। পাত্রে অবস্থিত এই নোম প্রজাপতির স্বরূপ (প্রজাপতিস্বরূপঃ)। এই হেতু এর দ্বারা (অর্থাৎ পাত্রস্থ সোমের অবেক্ষণের দ্বারা) সেই প্রজাপতির তর্পণ করা হয়ে থাকে (তপয়তি)। সেই প্রজাপতি তৃপ্ত হয়ে যজমানকে ঐশ্বর্যের নিমিত্ত (ঐশ্বর্যপ্রাপ্তির উপযুক্ত করার নিমিত্ত) শোধন করেন। চতুর্থ পর্যায়ে, সেই অভিচার বিষয়ে যজ্ঞাত্মা প্রজাপতি শত্রুগণের প্রাণ হতে বিযুক্ত করেন, অর্থাৎ বৈরিগণের প্রাণ ইত্যাদি হনন করেন (প্রাণাদিতভ্যাহন্তরেতি) ॥৩॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–স্ফ্যঃ স্বস্তিরিত্যুত্তরে বেদিকরণানি পরাস্যোপতিষ্ঠতে। অর্থাৎ–এই চতুর্থ অনুবাকে স্ক্য ইত্যাদির বেদিকরণ বা উপস্থাপন কথিত হয়েছে।]

    .

    চতুর্থ অনুবাক

    মন্ত্র- স্ক্যঃ স্বস্তিৰ্বিৰ্ধনঃ স্বস্তিঃ পৰ্শৰ্বেদিঃ পরশুনঃ স্বস্তিঃ। যজ্ঞিয়া যজ্ঞকৃতঃ হ তে মাহম্মিন্যও উপ হয়ধ্বমপ মা দ্যাবাপথিবী হুয়েতামুপাহস্তাবঃ কলশঃ সোমো অগ্নিরুপ দেবা উপ যজ্ঞ উপ মা হোত্রা উপহবে হয়ন্তাং নমোহগ্নয়ে মখঘ্নে মখস্য মা যশোহাদিত্যাহবনীয়মুপ তিষ্ঠতে যজ্ঞো বৈ মখঃ যজ্ঞং বাব স তদহন্তম্মা এব নমস্কৃত্য সদঃ প্ৰ সর্পত্যাত্মনোহনাত্তৈ নমো রুদ্রায় মখয়ে নমস্কৃত্যা মা পাহীতাগ্নীং তস্মা এব নমস্কৃত্য সদঃ প্ৰ সৰ্পত্যাত্মনোহনাত্তৈ নম ইন্দ্রায় মখম্ন ইন্দ্রিয়ং মে বীৰ্য্যং মা নিৰ্ব্বধীরিতি হোত্ৰীয়–মাশিষমেবৈমা শান্ত ইন্দ্রিয়স্য বীৰ্য্যস্যানিৰ্বাতায় যা বৈ দেবতাঃ সদস্যার্তিমাপয়ন্তি যস্তা বিদ্বান প্রসৰ্পতি ন সদস্যার্তিমাৰ্ছতি নমোহগ্নয়ে মখছু ইত্যাহৈতা বৈ দেবতাঃ সদস্যার্তিমাহপয়ন্তি তা য এবং বিদ্বান্ প্ৰসৰ্পতি ন সদস্যার্তিমাচ্ছতি দৃঢ়ে স্থঃ শিথিরে সমীচী মাহংহসম্পাতং সূৰ্যো মা দেবো দিব্যাদংহসম্পাতু বায়ুরন্তরিক্ষাৎ অগ্নিঃ পৃথিব্যা যমঃ পিতৃভ্যঃ সরস্বতী মনুষ্যেভ্যো দেবী দ্বারৌ মা মা সং তাপ্তং নমঃ সদসে নমঃ সদসম্পতয়ে নমঃ সখীনাং পুরোগাণাং চক্ষুষে নমো দিবে নমঃ পৃথিব্যা অহে দৈধিষব্যোদতস্তিষ্ঠান্যস্য সদনে সদী যোহস্মৃৎপাকতর উন্নিবত উদ্দ্বতশ্চ গেষং পাতং মা দ্যাবাপৃথিবী অদ্যাহ্নঃ সদো বৈ প্রসপন্তম পিতরোহনু প্ৰ সর্পন্তি ত এমীশ্বরা হিংসিতোঃ সদঃ প্রসৃপ্য দক্ষিণার্ফং পরেক্ষেতাহগন্ত পিতরঃ পিতৃমানহং যুগ্মভির্ভূয়াসং সুপ্রজসোময়া মূয়ং ভূয়াস্তেতি তেভ্য এব নমস্কৃত্য সদঃ প্র সর্পত্যাত্মনোহনাৰ্ত্তৈ ॥৪॥

    মর্মার্থ- স্ক্য (খননহেতুঃ), বিঘন (ভূমিঘট্টনহেতুঃ), পশু (তৃণাদিচ্ছেদনহেতুঃ), পরশু (বৃক্ষাদিচ্ছেদনহেতুঃ) ইত্যাদি যজ্ঞীয় অস্ত্রসমুহ আমাদের অবিনাশের (অর্থাৎ আমরা যাতে বিনাশপ্রাপ্ত না হই তার) কারণভূত হোক। সেইভাবে এই অস্ত্রগুলির সাহায্যে আমরা যে বেদি নিষ্পন্ন করছি, তা আমাদের মঙ্গলদায়ক হোক (স্বস্তিরস্তু)। হে স্ক্য ইত্যাদি অস্ত্রগণ! তোমরা যাগের যোগ্য, অতএব এখানে আমাদের যজ্ঞ-সম্পাদক (যজ্ঞ সম্পাদনের সহায়ক) হও। তোমরা এই যজ্ঞে আমাকে অনুজ্ঞা প্রদান করো (অনুজানীত)। এই দেবাপৃথিবী লোকদ্বয় আমাকে অনুজ্ঞা প্রদান করুক। এই বহিঃষ্পবমান দেশ আমাকে অনুজ্ঞা প্রদান করুক। এইভাবে দ্রোণকলশ, সোম, অগ্নি, দেবগণ, যজ্ঞ, প্রশাস্তা-ব্রাহ্মণচ্ছংসী ইত্যদি হোতৃগণ, সকলেই আমার আহ্বান অনুমোদন করুন (অর্থাৎ যজ্ঞ-সাধনের সহায়ক হোন)। যে অগ্নিদেব যজ্ঞের বিনাশক (মখহা), তার উদ্দেশে আমি মখস্নেহগ্নয়ে নমোহস্ত বলে নমস্কার করছি। এই মন্ত্রে মখ শব্দের দ্বারা যজ্ঞকে বোঝানো হয়েছে নমস্কার করা না হলে অগ্নিদেব যজ্ঞ বিনাশ করে থাকেন (যজ্ঞমেব সোহগ্নিস্তদা হন্তি যদা নমস্কারো ন ক্রিয়তে); অতএব সেই অগ্নিকে নমস্কার করলে যজমানের শরীরে কোন পীড়া হয় না (অর্তিন ভবতি)। আগ্নীঘ্ৰীয়ে অবস্থিত অগ্নিদেব যজ্ঞবিনাশক রুদ্ররূপ, আমি সেই রুদ্রের উদ্দেশে নমস্কার করছি। হে রুদ্রদেব! আমাকে রক্ষা করুন।–এই মন্ত্রের দ্বারা অগ্নীব্রম্ অগ্নির সেবা করলে যজমানের শরীরে কোন পীড়া হয় না। পরম ঐশ্বর্যযোগে হোত্ৰীয় অগ্নিদেব যজ্ঞঘাতী ইন্দ্ররূপ, সেই যজ্ঞঘাতীর উদ্দেশে নমস্কার করছি। হে ইন্দ্র! আমার ইন্দ্রিয়সামর্থ্য ও বীর্য আপনি বিনাশ করবেন না (মা বিনাশয়)।–এই মন্ত্রে দ্বারা হোত্ৰীয়ের উপস্থানে অগ্নিকে স্থাপন পূর্বক আশিস প্রার্থনা করা হয়। তার দ্বারা ইন্দ্রিয়সামর্থ ও বীর্যের অবিনাশ (বিনাশরাহিত্য) সম্পাদিত হয়। অগ্নি-রুদ্র ইন্দ্ররূপী যে দেবগণের দ্বারা যজ্ঞস্থানে অবস্থিত যজমান ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ আর্তি (পীড়া) প্রাপ্ত হন, তা বিদিত হয়ে যে যজমান সেই দেবগণকে নমস্কারের দ্বারা উপাসনা করেন, তারা যজ্ঞক্ষেত্রে প্রবিষ্ট হয়ে আর কোন পীড়া প্রাপ্ত হন না। এই নিমিত্ত পূর্বোক্তরূপে হে অগ্নি!, হে রুদ্র! হে ইন্দ্র! ইত্যাদি মন্ত্ৰসমূহ পাঠ করা কর্তব্য (পূর্বোক্তান্মান পঠেৎ)। হে দ্যাবাপৃথিবী! উপাসনাহীন জনের (উপস্থানরহিতের) প্রতি শিথিল (অর্থাৎ মন্দ বা বিরূপ) হলেও তোমরা উপাসকের (উপস্থাতার) অনুকূলে (অর্থাৎ মাঙ্গলে) দৃঢ় হয়ে থাক (দুঢ়ে স্থঃ)। অতএব উপাসক আমাকে প্রতিবন্ধকরূপ পাপ হতে রক্ষা করো। দ্যুলোক সংক্রান্ত (দ্যুলোক বিষয়ে) আমার কৃত পাপ হতে সূর্যদেব আমাকে রক্ষা করুন। অন্তরীক্ষলোক সংক্রান্ত আমার কৃত পাপ হতে বায়ুদেবতা আমাকে রক্ষা করুন, পৃথিবীলোক সংক্রান্ত পাপ হতে অগ্নিদেবতা, পিতৃলোক-বিষয়ক পাপ হতে যমদেব এবং মনুষ্যলোক-বিষয়ক আমার কৃত পাপ হতে সরস্বতী দেবী আমাকে রক্ষা করুন। হে দ্বাররূপা দেবীদ্বয়! উপাসক আমাকে আপনারা সন্তাপযুক্ত করবেন না। আমি সদঃ (অর্থাৎ যজ্ঞস্থান), সদস্পতি (অর্থাৎ যজ্ঞস্থানের অধিপতি ব্রহ্মা), প্রধান ঋত্বিক, দুলোক (দিবে) ও পৃথিবীলোকের (পৃথিব্যা) উদ্দেশে নমস্কার জ্ঞাপন করছি, এবং আপন আপন ব্যাপারে (কর্মে) অগ্রগামী চক্ষুস্থানীয় (অর্থাৎ আপন আপন কর্মে) অভিজ্ঞজনকে নমস্কার করছি। যজমানের আয়তনে (যজ্ঞবেদীতে) সমুৎপন্ন হে তৃণ! তুমি এই স্থান হতে উখিত হও এবং আমাদের অপকারী পুরুষগণের স্থানে (সদনে) অবস্থান করো (তিষ্ঠ)। যে পুরুষ আমার তুলনায় অধম বা উন্নত, আমি তাদেরও উল্লঙ্ঘন করে যাব (তানপ্যহমুঙ্গেষমুল্লঙঘোপরি গম্যাসম)। অদ্যকার এই দিনে অগ্নিষ্টোম অনুষ্ঠানের উৎসবে, হে দাবাপৃথিবী (লোকদ্বয়)! যাতে কোনরকম বৈকল্য না ঘটে, তার নিমিত্ত আমাকে রক্ষা করো। যজ্ঞসভার সর্বস্থানে যজমানের পিতৃগণও ব্যাপ্ত হয়ে থাকেন, যজমান তাঁদের নমস্কার না করলে তারা (অর্থাৎ সেই পিতৃগণ) হিংসা, প্রকাশ করতে পারেন (হিংসিতুং প্রভবন্তি)। এই নিমিত্ত যজ্ঞসভার দক্ষিণভাগের প্রতি লক্ষ্য রেখে (অবেক্ষমান হয়ে) আগন্ত ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করণীয়। হে পিতৃগণ! আপনারা এই যজ্ঞসভায় আগত হয়েছেন (বা হোন)। এর দ্বারা আমি পিতৃমান হয়েছি (বা হবো), আপনারাও আমার দ্বারা শোভন অপত্যযুক্ত (পুত্ৰবা) হয়েছেন বা হবেন।–এই মন্ত্রের দ্বারা পিতৃগণকে নমস্কার করলে যজমানের কোন পীড়া হয় না ॥৪৷৷

    [চতুর্থ অনুবাকে স্ক্য ইত্যাদির উপস্থান মন্ত্রগুলি কথিত হয়েছে।অথ পঞ্চমে ভক্ষমন্ত্ৰা উচ্যন্তে। অর্থাৎ-এই পঞ্চম অনুবাকে ভক্ষমন্ত্রগুলি কথিত হয়েছে।]

    .

    পঞ্চম অনুবাক

    মন্ত্র- ভক্ষেহি মাহবিশ দীর্ঘায়ত্বায় শন্তনুত্বায় রায়ম্পোষায় বর্ডসে সুপ্রজাস্থায়েহি বসসা পরোবসসা প্রিয়ো মে হৃদোহস্যশ্বিনোস্তা বাহুভ্যাং সঘ্যাসং নৃচক্ষসং ত্বা দেব সোম সুচক্ষা অব খ্যেষং মাহভিভূতিঃ কেতুর্যজ্ঞানাং বাজুষাণা সোমস্য তৃপ্যতু মন্দ্রা স্বাচ্যদিতিরনাহতশীষ্ণী বাজুষাণা সোমস্য তৃপ্যত্বেহি বিশ্বচষর্ণে শ্যুয়োভূঃ স্বস্তি মা হরিবর্ণ প্র চর ক্ৰত্বে দক্ষায় রায়ম্পোষায় সুবীরতায়ৈ মা মা রাজম্বি বীভিমো মা মে হার্দি ত্বিষা বধীঃ। বৃষণে শুম্মায়াহযুষে বর্ডসে।.। বসুমগণস্য সোম দেব তে মতিবিদঃ প্রাতঃসবনস্য গায়ত্রছন্দস ইন্দ্রপীতস্য নারশংসপীতস্য পিতৃপীতস্য মধুমত উপহৃতস্যোপহুতো ভক্ষয়ামি রুদ্রবগণস্য সোম দেব তে মতিবিদো মাধ্যদিনস্য সবনস্য ত্রিষ্টুপছন্দস ইন্দ্রপীতস্য নরাশংসপীতস্য পিতৃপীতস্য মধুমত উপহৃতস্যোপহুতো ভক্ষয়াম্যাদিত্য বগণস্য সোম দেব তে মতিবিদস্তৃতীয়স্য সবনস্য জগতীছন্দস ইন্দ্রপীতস্য নরাশংসপীতস্য পিতৃপীতস্য মধুমত উপহৃতস্যোপহুতো ভক্ষয়ামি। আ প্যায়স্ব সমেতু তে বিশ্বতঃ সোম বৃফিয়ম্।। ভবা রাজস্য সঙ্গথে।। হি মে গাত্রা হরিবো গন্মে মা বি তীতৃষঃ। শিবো মে সপ্তমীনুপ তিষ্ঠস্ব মেহনাভিমতি গাঃ। অপাম সোমমমৃতা অভূমাদর্শ জ্যোতিরবিদাম দেবা। কিমস্মন্ কৃণবদরাতিঃ কিন্তু ধূৰ্ত্তিরমৃত মর্ত্যস্য। যন্ম আত্মানো মিন্দাহভূদগ্নিস্তৎ পুনরাহহা…তবেদা বিচৰ্ষণিঃ। পুনগ্নিশ্চক্ষুরদাৎ পুনরিন্দ্রো বৃহস্পতিঃ। পূনৰ্ম্মে অশ্বিনা যুবং চক্ষুরা ধমক্ষ্যোঃ । ইষ্টষজুস্তে দেব সোম স্তুতন্তোমস্য শস্তোথস্য হরিবত ইন্দ্রপীতস্য মধুমত উপহৃতস্যোপহুতো ভক্ষয়ামি। আপূৰ্যাঃ স্থাহমা পূরয়ত প্ৰজয়া চ ধনেন চ। এতত্তে তত যে চ ত্বমন্বেতত্তে পিতামহ প্রপিতামহ যে চ ত্বমম্বত্র পিতরো যথাভাগং মন্দধ্বং। নমো বঃ পিতরো রসায় নমো বঃ পিতরঃ শুম্মায় নমো বঃ জীবায় নমো বঃ পিতরঃ স্বধায়ৈ নমো বঃ পিতরো মন্যবে নমো বঃ পিতরো ঘোরায় পিতরো নমো বো। য এতস্মিল্লোঁকে স্থ যুম্মাংস্তেহনু যেহস্মিল্লোকে মাং তেহনু য এতস্মিল্লোকে স্থ যুয়ং তেষাং বসিষ্ঠা ভূয়াস্ত যেহস্মিল্লোকেহহং তেষাং বসিষ্ঠো ভূয়াস। প্রজাপতে ন ত্বদেন্যন্যো বিশ্বা জাতানি পরি তা বভূব যকামাস্তে জুহুমস্তমন্না অস্তু বয়ং স্যাম পতয়ো রয়ীণাম। দেবকৃতস্যৈনসোহবজনমসি মনুষ্যকৃতস্যৈনসোহবজনমসি পিতৃকৃত স্যৈনসোহবজনমস্যপসু ধৌতস্য সোম দেব তে নৃভিঃ সুতস্যেষ্টযজুষঃ স্তুতন্তোমস্য শস্তোথস্য যযা ভক্ষো অশ্বসনিযৰ্যা গোসনিস্তস্য তে পিতৃভির্ভক্ষংকৃতস্যোপহৃতস্যোপহুতো ভক্ষয়ামি৷ ৫৷৷

    মর্মার্থ- হে ভক্ষযোগ্য (পানযোগ্য)! সোমরস! তুমি আমাদের দীর্ঘায়ুত্ব সাধনের নিমিত্ত আমার নিকটে আগমন করো। তুমি আমার দেহে সুখকারিত্বের হেতু আগত হও। তুমি আমার ধনপুষ্টি ও তেজঃপ্রাপ্তির নিমিত্ত আগমন করো। তুমি আমার সুসন্তান ইত্যাদির নিমিত্ত আমার নিকট আগমন করো। নিবাসের হেতুভূত হে বসু! তুমি আমার বাসের নিমিত্ত আগমন করো। হে পুরোবসু! তুমি আমার চিত্তের প্রিয় (প্রিয়হসি)। হে ভক্ষ! দেবগণের চিকিৎসক যুগল অশ্বিনীকুমারের ন্যায় আমার এই বাহুদুটির দ্বারা আমি তোমাকে গ্রহণ করছি। হে সোমদেব! মনুষ্যের দর্শনীয় তোমাকে যেন আমি সুষ্ঠুভাবে দর্শন করতে পারি। আমার মুখস্থিতা বান্দেবতা যেন সোম পান করে (সেবমানা হয়ে) তৃপ্ত হোন। সেই বাক্ মা (অর্থাৎ হর্ষের হেতুভূতা), বিঘ্নের নাশয়িত্রী (বিঘানামভিভাবত্রী), যজ্ঞসমূহের কারণভূতা, অখণ্ডনীয়া এবং অনাহতশীঞ্চী (অর্থাৎ যাঁর আরম্ভ অপ্রতিবদ্ধা)-সেই হেন বাক্-দেবতা যেন সোমের দ্বারা সেবিতা হয়ে তৃপ্তি লাভ করেন। হে সোম! তুমি আমার নিকট আগমন করো। তুমি (সোম) শান্তিকারক (শস্তৃঃ) ও সুখদায়ক (ময়য়াভূঃ)–এই হেন তুমি আমার সন্নিহিত হও। হে হরিদ্বর্ণ (শ্যামল-বর্ণশালী)! আমরা যাতে বিনাশ প্রাপ্ত না হই, সেইভাবে আমাদের মধ্য প্রবেশ করো। আমাদের যজ্ঞ ইত্যাদির সিদ্ধির নিমিত্ত, উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত, ধনপুষ্টির নিমিত্ত এবং শোভনবীর্য পুত্র দানের নিমিত্ত তুমি আগত হও। হে রাজন! আমাকে উপদ্রবের দ্বারা বিশেষভাবে ভয় প্রদর্শন করো না, আমার হৃদয়পুণ্ডরীকে অবস্থিত (মনের) দীপ্তির দ্বারা আমাকে হিংসা করো না (মা বধীহিংসাং মাং কুরু)। আমাদের ইন্দ্রিয় (বৃষেন্দ্রিয়), বল (শুত্মো), দীর্ঘ আয়ু ও কান্তি (বৰ্চঃ) প্রদান করো। হে সোমদেব! অষ্টসংখ্যক বসু বা বসুমানবৎ গণযুক্ত, শ্রদ্ধাশীল যজমানের মতির বেত্তা তুমি, তোমার অনুজ্ঞাক্রমে গায়ত্রীছন্দযুক্ত বহিষ্পবমান ইত্যাদি মন্ত্রে, ইন্দ্র ও নরাশংস পিতৃগণের দ্বারা পীত প্রাতঃসবনে আহুত হয়ে আমি পান করব। সেই ভাবে একাদশসংখ্যক রুদ্রবৎ গণযুক্ত শ্রদ্ধাবান্ যজমানের মতির বেত্তা তোমার অনুজ্ঞাক্রমে ত্রিষ্টুপছন্দময় মন্ত্রে ইন্দ্র ও নরাশংস পিতৃগণের দ্বারা পীত মাধ্যন্দিন সবনে আহুত হয়ে আমি পান করব। হে সোমদেব! ঐরকম ভাবেই দ্বাদশ আদিত্যবৎ গণযুক্ত, শ্রদ্ধাপরায়ণ যজমানের মতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ তোমার অনুজ্ঞাক্রমে জগতীছন্দসমন্বিত মন্ত্রে, ইন্দ্র ও নরাশংস পিতৃগণের দ্বারা পীত তৃতীয় সবনে আহুত হয়ে আমি পান করব। হে সোম! তুমি সর্বতোভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হও। তোমার শক্তি (বীর্য) সর্বতো ব্যাপ্ত হোক (সঙ্গচ্ছতাম), তুমিও অন্ন-সংভোগের নিমিত্তভূত হও। হে হরিতবর্ণ (হরিবো) সোম! আমার অঙ্গসমূহকে (প্রত্যঙ্গগুলিকে) তৃপ্ত করো; আমার সম্বন্ধযুক্ত গণকে (অর্থাৎ পুত্র-ভৃত্য ইত্যাদিকে) সোমপানে তৃষ্ণারহিত করো না (অর্থাৎ তারা যেন সর্বদা সোমপানের নিমিত্ত আগ্রহান্বিত থাকে)। তুমি মঙ্গলময় হয়ে আমার মস্তক ইত্যাদি সপ্তস্থানে স্থিত প্রাণের (প্রাণবায়ুর) তৃপ্তি সাধন করো, যেন অবধাদ্বার দিয়ে নির্গত হয়ে না যায় (অধধাদ্বারেণ মা নির্গচ্ছেতি)। আমরা সকলে সোমপান করব, সেই কারণে মরণহীন দেবত্ব লাভ করব। আদিত্যস্বরূপ জ্যোতি দর্শন করে ইন্দ্র ইত্যাদি দেবগণকে লাভ করব। এই রকম করলে পাপরূপ শত্রু আমাদের কি করতে পারবে (কি করিষ্যতি)? মর্তের মনুষ্যশরীরধারীগণের হিংসা অমরত্বপ্রাপ্ত আমাদের কি করতে পারবে? (অথবা অমৃতধারী আমাদের প্রতি উৎসারিত হিংসা নিজেই বিনাশপ্রাপ্ত হবে)। ঋত্বিকগণ কর্তৃক আমার যজ্ঞের যে অঙ্গবৈকল্য হবে, জাবেদা (অর্থাৎ উৎপত্তি-মাত্রই যজ্ঞের দোষ সম্পর্কে জ্ঞাত) বিচক্ষণ (বিশেষ দ্রষ্টা) অগ্নি সেই অঙ্গ পূর্ণ করে দিন। যজ্ঞের (বিকল) অঙ্গ সমাধানের নিমিত্ত এই অগ্নি আমাকে (অর্থাৎ যজমানকে) পুনরায় চক্ষু দান করবেন। সেই রকম ইন্দ্র ও বৃহস্পতি যজ্ঞাঙ্গ সমাধানে আমাকে পুনরায় চক্ষু দান করুন। হে অশ্বিযুগল! আপনারা আমাকে চক্ষুর দর্শনসামর্থ্য দান করুন (চক্ষুর্দর্শনসামর্থমাধত্ত)। হে সোমদেব! আপনার অনুজ্ঞা জ্ঞাত হয়ে (অর্থাৎ আপনার অনুমতি গ্রহণ করে তবেই ) আমি আপনার সংযোগবিশিষ্ট রসসুধা পান করব। আপনি ইষ্টসাধক যাগসাধনের নিমিত্ত যজু-যুক্ত (মন্ত্রবিশেষে সাথে সম্পর্কিত), সামাবৃত্তিলক্ষণযুক্ত স্তোত্রের দ্বারা স্তুত, উথ-শস্ত্রের দ্বারা কথিত (শংসিত), হরিতবর্ণশালী (হরিহরিতবর্ণ), ইন্দ্র কর্তৃক পীত, মাধুর্যমণ্ডিত ও অন্যের দ্বারা অনুজ্ঞাত (অন্যৈরনুজ্ঞাত)। হে সোমভাগের অবশিষ্ট ধানসমূহ, তোমরা সর্বতোভাবে পূর্ণ হয়ে থাকো এবং আমাকে প্রজা ও ধনের দ্বারা সর্বতোভাবে পূর্ণ করে রাখো (পূরয়ত)। হে পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ (অর্থাৎ সকল পিতৃপুরুষ)! আপনারা সকলে আমার কৃত এই কর্মযজ্ঞে আপন আপন ভাগানুসারে (অর্থাৎ যার যেমন প্রাপ্য, তা প্রাপ্ত হয়ে) হৃষ্ট হোন। হে পিতৃগণ! আপনাদের যে রস (অর্থাৎ বীর্য বা সার) তার উদ্দেশে আমি নমস্কার করছি (নমো বঃ পিতরো…)। সেই রকম পরপর (এবমুত্তরত্র)–আপনাদের বলের উদ্দেশে, আপনাদের জীবাত্মার উদ্দেশে আপনাদের স্বধার (অর্থাৎ হবিঃদাতৃত্বের উদ্দেশে), আপনাদের ক্রোধের উদ্দেশে, আপনাদের শিক্ষারূপ উগ্রকার্যের উদ্দেশে আমি নমস্কার করছি। হে পিতৃগণ আমি আপনাদের উদ্দেশেও নমস্কার করছি। পিতৃলোকে অন্য যাঁরা আপনাদের সাথে অবস্থান করছেন, তারা আপনাদের অনুবর্তন (অনুসরণ বা পালন) করুন। আপনারা যারা এই লোকে অবস্থিত আছেন, তারা আমাদের অনুবর্তন করুন। পিতৃলোকে, যে অন্য অনেকের সাথে আপনারা অবস্থান করছেন, আপনারা তাদের আচ্ছাদন-সাধক (বাসয়িতৃতমা) হোন। এবং যে মনুষ্যগণ এই লোকে আমার সাথে অবস্থান করছেন, আমি যেন তাদের আচ্ছাদন-সাধক হতে পারি। হে প্রজাপতি। আপনি ব্যতীত অন্য কোন পুরুষই এই সৃষ্ট বিশ্বসমূহের পরিভব (সংহার) করতে সমর্থ হন না। অতএব যে উদ্দেশে আমরা আপনার যাগানুষ্ঠান করছি, তার ফল যেন আমরা লাভ করতে সমর্থ হই, অর্থাৎ আমরা যেন ধনের পালক হই (বয়ং ধনানাং পতয়ঃ স্যাম)। আপনি দেবতার প্রতি কৃত পাপ হতে আমাদের মুক্ত করুন, মনুষ্যের প্রতি কৃত পাপ হতে আমাদের মুক্ত করুন এবং পিতৃগণের প্রতি আমাদের কৃত পাপ হতে আমাদের রক্ষা করুন। (আত্মকৃত এই মন্ত্র তিনটি শাখাত্তরে পাপবিনাশনের উদ্দেশে পঠিত হয়ে থাকে)। হে সোমদেব! মজলে প্রক্ষালন, মনুষ্যের দ্বারা অভিযুত, যজুঃ-সাম-উথ মন্ত্রের দ্বারা আপনার যে অশ্বপ্রদায়ক, গাভীপ্রদায়ক, পিতৃগণের দ্বারা স্বীকৃত, অপরের দ্বারা অনুমোদিত পানযোগ্য ভাগ আছে, আমি তা আঘ্রাণের দ্বারা পান করছি (আম্রাণেন ভক্ষয়ামি) ॥৫॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ ষষ্ঠে পৃষদাজামুচ্যতে। অর্থাৎ–এই ষষ্ঠ অনুবাকে পৃষদাজ্যের বিষয় উক্ত হয়েছে।]

    .

    ষষ্ঠ অনুবাক

    মন্ত্র- মহীনাং পয়োহসি বিশ্বেযাং দেবানাং তঋধ্যাসমদ্য পৃষতীনাং গ্রহঃ পৃষতীনাং গ্রহোহসি বিষ্ণোহৃদয়মস্যেকমিষ বিষ্ণুস্তাহনু বি চক্রমে ভূতির্দধু ঘৃতেন বর্তং তস্য মেষ্টস্য পীতস্য দ্রবিণমা গম্যাজ্জ্যোতিরসি বৈশ্বানরং পৃশ্নিয়ৈ দুন্ধং যাবতী দ্যাবাপৃথিবী মহিত্বা যাবচ্চ সপ্ত সিন্ধবো বিতস্তুঃ। তাবন্তমিন্দ্র তে গ্রহং সহোজ্জা গৃহ্নাম্যস্তৃত। সকৃষ্ণশকুনঃ পৃষদাজ্যমবমৃশশাচ্ছুদ্রা অস্য প্রমাযুক্তাঃ সূৰ্য্যচ্ছবাহবমৃশে চতুষ্পদোহস্য পশবঃ প্রমায়ুকাঃ সূর্যস্কন্দেদ্যজমানঃ প্রমায়ুকঃ স্যাৎ পশবো বৈ পৃশদাজ্যং পশবো বা এতস্য স্কন্দন্তি যস্য পৃষদাজ্যং স্কতি যৎপৃষদজ্যং পুনগৃহ্নাতি পশূনেবান্মৈ পুনগৃহ্নাতি প্রাণো বৈ পৃষদাজ্যং প্রাণো বৈ এতস্য স্কতি যস্য পৃষদাজ্যং স্কতি যৎপৃষদাজ্যং পুনগৃহ্নাতি প্রাণমেবাস্মৈ পুনগৃহ্নাতি হিরণ্যমবধায় গৃহ্নাত্যমৃতং বৈ হিরণ্যং প্রাণঃ পৃষদাজ্যমমৃতমেবাস্য প্রাণে দধাতি শতমানং ভবতি শতায়ং পুরুষঃ শতেন্দ্রিয় আয়ুষ্যেকেন্দ্রিয়ে প্রতি তিত্যশ্বমব ঘ্রাপয়তি প্রজাপত্যো বা অশ্বঃ প্রজাপত্যঃ প্রাণং স্বাদেবা যোনেঃ প্রাণং নিৰ্ম্মিমীতে বি বা এতস্য যজ্ঞচ্ছিদ্যতে যস্য পৃষদাজ্যং স্কতি বৈষ্ণব্যৰ্চ্চা পুনগৃহ্নতি যজ্ঞো বৈ বিষ্ণু যজ্ঞেনৈব যজ্ঞং সং নোতি ॥৬৷৷

    মর্মার্থ- হে পৃষদাজ্য (দধিসিক্ত ঘৃত)! তুমি পৃথিবীস্থ গাভীগণের দুগ্ধস্বরূপ হও (গবাং পয়োহসি)। তুমি সকল দেবতার শরীরস্থিতির হেতু (অর্থাৎ সর্বদেবতার শরীরস্থানীয়) হও। মরুৎগণের পৃষতী-নামক অশ্বসমূহের তুমি গ্রহস্থানীয়। অদ্য আমি তোমার বৃদ্ধি-সাধন করছি। তুমি বিষ্ণুরূপী যজ্ঞের (বিষ্ণোযজ্ঞস্য) হৃদয়স্বরূপ (অর্থাৎ প্রিয়) হও (প্রিয়মসি)। হে সর্বদেবতার কাম্য। যজ্ঞের মুখ্য হিসাবে তুমি বিশেষভাবে গৃহীত (স্বীকৃত) হয়েছে। এই স্থানের ঘৃত ও দধির সাথে তোমার মাহাত্ম বর্ধিত হোক। দেবগণের উদ্দেশে মন্ত্রের দ্বারা অগ্নিতে প্রক্ষিপ্ত ও দেবগণের দ্বারা ভক্ষিত সেই আজ্যের (আজ্য দানের) ফল যেন আমি লাভ করতে পারি। সকল মনুষ্যের হিতকারী জ্যোতি বা দীপ্তিমা, তুমি শ্বেতবর্ণা গো-সমূহের ক্ষীরস্বরূপ। হে ইন্দ্র! দ্যাবাপৃথিবীর নিজস্ব মহিমা যতকাল যৎপরিমাণে বিদ্যমান থাকবে, এবং লবণ-ইক্ষু সুরা-সর্পিঃ-দধি-দুগ্ধ-জল এই সপ্তসিন্ধু যাবৎকাল পর্যন্ত স্থিত থাকবে, যতদিন সর্বদেশে ও সর্বকালে আপনার বল বা তেজঃ বিস্তারিত হয়ে থাকবে, তত দিন আমি অবিনাশিত ভাবে আপনাকে গ্রহণ করে থাকব। দধিবিন্দুর সাথে মিশ্রিত যে আজ্য, তা-ই পৃষদাজৎ; এই পৃষদাজ্যের সাথে পক্ষী ও কুকুরের স্পর্শ ঘটলে, কিংবা তা ভূমিতে পতনের দ্বারা বিনাশপ্রাপ্ত হলে, পুনরায় তা গ্রহণের নিমিত্ত প্রায়শ্চিত্ত করলে পশুগণের বিনাশ হয় না। এইভাবে প্রায়শ্চিত্তের দ্বারা পশুবিনাশের দোষ পরিহার পূর্বক প্রাণবিনাশের দোষ পরিহারও প্রশংসনীয়। তার নিমিত্ত প্রাণো বৈ পৃষদাজ্য… অর্থাৎ প্রাণ হলো পৃষদাজ্য ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করা কর্তব্য। হিরণ্যনির্মিত গ্রহণপাত্রে তা যদি গ্রহণ করা হয়, তবে তা অমৃতসদৃশ হয়; হিরণ্যপাত্রে গৃহীত সেই প্রাণস্বরূপ পৃষদাজ্যের দ্বারা পুরুষ শতায়ু ও শতেন্দ্রিয় হয়ে থাকে। গৃহীত এই পৃষদাজ্য অশ্বের মুখে স্পর্শ করা কর্তব্য। কারণ প্রজাপতির অক্ষি হতে অশ্বের উৎপত্তি হওয়া জন্য (অশ্বস্য প্রজাপত্যজিন্যত্বাৎ) স্বকীয় যোনিরূপ অশ্ব হতে প্রাণের নির্মাণ (উৎপত্তি) সিদ্ধ হয় (সিধ্যতি)। পুনরায় পৃষদাজ্যের গ্রহণে বিষ্ণো ত্বং নো অন্তমঃ…. অর্থাৎ হে বিষ্ণু! আপনি আমাদের নিকটতম হোন ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করা কর্তব্য। [এই মন্ত্রটির ব্যাখ্যা এই কাণ্ডের ১ম প্রপাঠকের ১০ম অনুবাকে ও অন্যত্র দ্রষ্টব্য] ॥৬৷

    [অথ সপ্তমে স্তুতশস্ত্রে অভিধীয়তে। অর্থাৎ-সপ্তম অনুবাকে স্তোত্র ও শস্ত্রগুলি কথিত হয়েছে]

    .

    সপ্তম অনুবাক

    মন্ত্র- দেব সবিতরেতত্তে প্ৰাহহ তৎ প্র চ সুব প্র চ যজ বৃহস্পতিব্রহ্মাহরুম্মত্যা ঋচো মা গাত তনূপাৎ সাশ্নঃ সত্যা ব আশিষঃ সন্তু সত্যা আক্তয় ঋতং চ সত্যং চ বদত স্তুত দেবস্য সবিতুঃ প্রসবে স্তুতস্য তমসূৰ্জৎ মহ্যং স্তুতং দুহামা মা স্তুতস্য স্তুতং গম্যাচ্ছস্ত্রস্য শস্ত্রম্ অসূৰ্জ মহ্যং শস্ত্রং দুহামা মা শস্য শস্ত্রং গম্যাদিন্দ্রিয়াবন্তো বনামহে ধুক্ষীমহি প্ৰজামিষম। রসা মে সত্যাহশীর্দেবেষু ভূয়াব্রহ্মবéসং মাহগম্যাৎ। যজ্ঞো বভুব স আ বভূব স প্র জজ্ঞে স বাবৃধে। স দেবানামধিপতিব্বৰ্ভব সো অম্মা অদিপতী করোতু বয়ং স্যাম পতয়ো রয়ীণাম। যজ্ঞো বা বৈ যজ্ঞপতিং দুহে যজ্ঞপতিব্বা যজ্ঞং দুহে স যঃ স্তুতশস্ত্র য়োর্দোমবিদ্বান্যজতে তং যজ্ঞো দুহে স ইষ্টা পাপীয়ান ভবতি য এনয়োর্দোহং বিদ্বান্যজতে স যজ্ঞং দুহে স ইষ্টা বসীয়া ভবতি স্তুতস্য তমসূৰ্জং মহ্যং তং দুহামা মা তস্য স্তুতং গম্যাচ্ছস্ত্রস্য শস্ত্ৰমসূৰ্জং মহং শস্ত্রং দুহামা মা শস্ত্রস্য শস্ত্রং গম্যাদিত্যাহৈ বৈ স্তুতশস্ত্রয়োর্দোহস্তং য এবং বিদ্বান্যজতে দুহ এব যজ্ঞমিষ্টা বসীয়া ভবতি ॥৭॥

     মর্মার্থ- হে সবিতাদেব! এই উদ্গাতা (যজ্ঞের যোড়শ ঋত্বিকের একজন, যিনি সামবেদজ্ঞ ও সামগানে পারদর্শী) আপনাকে স্তুতি করবেন বলে যে কথা বলেছেন, তা আপনি প্রকর্ষের সাথে অনুমোদন করুন এবং এই যজ্ঞ সম্পাদন করুন (অর্থাৎ প্রকৃষ্টভাবে এই যজ্ঞ নিম্পাদনে সহায়ক হোন)। হে উদ্গাতাগণ! আমি বৃহস্পতিই ব্রহ্মা, কেবল মনুষ্যমাত্র নই (ন তু মনুষ্যমাত্রঃ)। সেই হেন আমি আপনাকে বলছি–আপনি আয়ুষ্মতী ঋকের (আয়ুঃস্থানীয়োর নির্বাহোস্যামৃচ্যস্তীতি আয়ুষ্মতী) উচ্চারণে সাবধান হোন, তনূনপাৎ সামের প্রকটনে (গান করার কালে) অপ্রমত্ত থাকুন (অর্থাৎ প্রমাদযুক্ত হবেন না)। আপনাদের দ্বারা গীয়মান স্তোত্রে আপনাদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত যজমান-বিষয়ক আশিস (যজমানের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা) সত্য (ফলপ্রদ) হোক, আপনাদের সঙ্কল্পরূপ অভিলাষ সত্য (সার্থক) হোক। আপনারা যথার্থ চিন্তা করুন (স্মরত) এবং সত্য বলুন। সবিতাদেবের অনুজ্ঞায় সত্যকার স্তোত্র পাঠ করুন। উদ্গাতাগণের দ্বারা গীয়মান হে স্তোত্র! তুমি স্তোত্রেরও স্তোত্র (অর্থাৎ স্তোত্র হতেই তোমার উৎপত্তি)। সেই রকম, স্তোত্ররূপ তোমা হতে আমার নিমিত্ত সার (বল) গ্রহণ করছি (সারং দুহে)। সেই নিমিত্ত উত্তম স্তোত্র আমার প্রতি আগত হোক (অর্থাৎ আমি যেন শ্রেষ্ঠ স্তোত্রসমূহ প্রাপ্ত হই)। হোতাগণের দ্বারা শস্যমান (স্তবনীয় বা প্রশসনীয়) হে শস্ত্র (প্ৰগীত মন্ত্রবিশেষ)! তুমি শস্ত্রেরও শস্ত্র, সেই রকম, শস্ত্ররূপ তোমা হতে আমি সার গ্রহণ করছি। সেই নিমিত্ত উত্তম শস্ত্র আমার প্রতি আগত হোক। তোমাদের. (অর্থাৎ স্তোত্র ও শস্ত্রের) প্রসাদে আমি আমার অভিলাষাঅনুরূপ (স্বাপেক্ষিত) ফল লাভ করব; এবং পুত্র ইত্যাদিরূপ প্রজা ও অন্নসম্পন্ন হবে। আমি দেবতাগণের বিষয়ভূত যজ্ঞের অনুষ্ঠান করব বলে যে আশা করেছি, তা সত্য হোক। যজ্ঞানুষ্ঠানরূপ ব্ৰহ্মতেজ (অর্থাৎ যজ্ঞানুষ্ঠানের দ্বারা লব্ধ ব্ৰহ্মতেজ) আমার প্রতি আগত হোক, (অর্থাৎ উত্তরোত্তরত্তর অভিবর্ধিত হোক, এটাই অর্থ)। এই অনুষ্ঠীয়মান যজ্ঞ সম্পূর্ণ হোক। এই যজ্ঞ পুনঃ পুনঃ আবৃত্ত (সংঘটিত) হোক। সেই যজ্ঞ (বা যজ্ঞপুরুষ) আমাদের দ্বারা পূজিত দেবগণের অতিমাত্র পালনকারী হোক বা হোন; সেই যজ্ঞ (বা যজ্ঞপুরুষ) আমাদেরও যেন যজ্ঞানুষ্ঠানের পক্ষে অতিমাত্র পালনকারী করুক বা করেন (অর্থাৎ আমরাও যেন সেই যজ্ঞানুষ্ঠানের পক্ষে অতিমাত্র সামর্থ্য লাভ করি); আমরাও যেন তার (অর্থাৎ সেই যজ্ঞপুরুষের) প্রসাদে যজ্ঞসাধনের নিমিত্ত ধনসমূহের অধিকার লাভ করি (ধনানাং পতয়ো ভূয়াস্ম)। বৈদিক পরিভাষায় এই অনুমণকে স্তুতি ও শস্ত্রের দোহন বলে (তদিদমনমন্ত্রণং স্তুতশস্ত্রয়োদোহ ইতি বৈদিকৈঃ পরিভাষ্যতে), তার বিধান–যজ্ঞ যজ্ঞপতির দোহন করে, যজ্ঞপতি যজ্ঞের দোহন করেন। (দোহন অর্থে রিক্তীকরণ বা শূন্যকরণ, অর্থাৎ অন্তঃস্থিতদ্রব্য-নিঃসারণ ব্যাপার; যেমন গাভীকে দোহন করে তার স্তন্যস্থিত দুগ্ধ নিঃসারণ, সেইরকম)। যে যজমান স্তুতি ও শস্ত্রের দোহন (রিক্তীকরণ) সম্পর্কে বিদিত না হয়ে অর্থাৎ দোহনামক অভিমন্ত্রণ অজ্ঞাত হয়ে, যাগানুষ্ঠান করেন, সেই পুরুষকে যজ্ঞ দোহন করে; সেই যজমান পাপী হয় (পাপীয়ান্ ভবতি)। আর যে যজমান দোহনামক অভিমন্ত্রণ বিদিত হয়ে যজ্ঞের দোহন করেন, তিনি ইষ্ট লাভ করেন (অর্থাৎ তার অভিলাষ পূর্ণ হয়)। মোট কথা, অভিমন্ত্রণ জ্ঞজ্ঞাত না হয়ে যজ্ঞ করলে যজ্ঞ সেই যাজ্ঞিককে রিক্ত করে, তিনি দরিদ্র হন এবং যিনি অভিমন্ত্রণ জ্ঞাত হয়ে যজ্ঞ করেন, তিনি উন্নত (বসীয়া) হয়ে থাকেন ॥৭॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথষ্টমে তৃতীয়সবনগতা মাধ্যন্দিনসবনগতা হোমবিশেষমন্ত্ৰা উচ্যন্তে। অর্থাৎ এই অষ্টম অনুবাকে তৃতীয়সবনগত ও মাধ্যন্দিনসবনগত হোমমন্ত্র বিশেষ কথিত হয়েছে]।

    .

    অষ্টম অনুবাক

    মন্ত্র- শ্যেনায় পত্বনে স্বাহা বৎস্বয়মভিগৃর্তায় নমো বিষ্টভায় বর্মণে স্বাহা বস্বয়মভিগৃর্তায় নমো পরিধয়ে জনপ্ৰথনায় স্বাহা স্বয়মভিগৃর্তায় নাম উর্জে হোত্ৰাণাং স্বাহা বম্বয়মভিগৃৰ্তায় নমঃ পয়সে হোত্রাণাং স্বাহা বটুম্বয়মভিগৃর্তায় নমঃ প্রজাপতয়ে মনবে স্বাহা বৎস্বয়মভিগুৰ্তায় নম ঋতমৃতপাঃ সুবৰ্বাহা বস্বয়মভিগৃর্তায় নমস্কৃম্পন্তাং হোত্রা মধোধৃতস্য যজ্ঞপতিমৃযয় এনসা আহুঃ। প্রজা নির্ভক্ত অনুতপ্যমানা মধব্যৌ স্তোকাবপ তৌ রাধ। সং নস্তাভ্যাং সৃজতু বিশ্বকর্মা ঘোরা ঋষয়ো নমো অভ্যেঃ । চক্ষুষ এষাং মনসঞ্চ সন্ধৌ বৃহস্পতয়ে মহি যদ্যুমন্নমঃ।। নমো বিশ্বকর্মণে স উ পাত্বম্মাননন্যান্ত সোমপান্মন্যমানঃ। প্রাণস্য বিদ্বান্তসমরে ন ধীর এনশ্চকৃন্মহি বদ্ধ এষা। তৎ বিশ্বকৰ্ম প্ৰ মুঞ্চা স্বস্তয়ে যে ভক্ষয়ন্তো ন বসূন্যানৃহুঃ। যানগ্নয়োহন্বতপ্যন্ত ধিষ্ণিয়া ইয় তেষামবয়া দুরিষ্ট্যৈ স্বিষ্টিং নস্তাং কৃপোতু বিশ্বকৰ্ম্মা। নমঃ পিতৃভ্যো অভি যে নো অখ্যন্যজ্ঞকৃত যজ্ঞকামাঃ সুদেবা অকামা। বো দক্ষিণাং ন নীনিম মা নস্তম্মাদেনসঃ পাপয়িষ্ট। যাবন্তো বৈ সদস্যাস্তে সৰ্বে দক্ষিণ্যাস্তেভ্যো যো দক্ষিণাং ন নয়েদৈতভ্যা বৃশ্চ্যেত যদ্বৈশ্বকৰ্ম্মণানি জুহোতি সদস্যানেব তঞ্জীণাত্যস্মে দেবাসস। বপুষে চিকিত্সত যমাশিরা দম্পতী বামমশ্রুতঃ। পুমা পুত্রো জায়তে বিন্দুতে বস্বথ বিশ্বে অরপা এধতে গৃহঃ। আশীর্দায়া দম্পতী বামমমরিষ্টো রায়ঃ সচং সমোক। য আইসিচৎ সন্দুগ্ধং কুম্ভ্যা সহেষ্টেন যামনুমতিং জহাতু সঃ। সর্পিগ্রীবা পীবর্যস্য জায়া পীবানঃ পুত্ৰা অকৃশাসৌ অস্য। সহজানিৰ্য্যঃ সুমখস্যমান ইন্দ্রায়াহশিরং সহ কুম্ভ্যাহদাৎ। আশীৰ্ম্ম উজ্জমুত সুপ্ৰজামিষং দধাতু দ্রবিণং সবচঁস। সংজয় ক্ষেত্রাণি সহসাহহমিন্দ্র কৃথানো অন্যাং অধরান্তসপত্না। ভূতমসি ভূতে মা ধা মুখমসি মুখং ভূয়াসং দ্যাবাপৃথিবীভ্যাং ত্ব পরিগৃহ্নামি বিশ্বে জ্বা দেবা বৈশ্বানরাঃ প্র চ্যাবয়ন্তু দিবি দেবান্ দৃংহান্তরিক্ষে বয়াংসি পৃথিব্যাং পার্থিবান্ ধ্রুবং ধ্রুবেণ হবিষাহব সোমং নয়ামসি। যথা নঃ সৰ্ব্বমিজ্জগদয়ক্ষ্মং সুমনা অসৎ। যথা ন ইন্দ্র ইদ্বিশঃ কেবলীঃ সাঃ সমনসঃ করৎ। যথা নঃ সৰ্ব্বা ইদ্দিশোহম্মাকিং কেবলীরসন্ ॥৮॥

    মর্মার্থ- শ্যেনরূপ পতনশীল ইন্দ্র ঋভুভিঃ ইত্যাদি যাজ্যার প্রতিপাদ্য দেবের উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে অবশ্যই আহুতি প্রদান করছি (হুতমিদমস্তু)। (বটু শব্দে অবশ্য বোঝাছে)। স্বয়ংই সোমের পার্শ্বে গমনোদ্য স্বয়ং অভিগুর্তের উদ্দেশে অবশ্যই নমস্কার করছি (নমোহস্তু)। শত্রুর বিনাশকারী (বিনাশয়িত্রে) আমাদের ধারক ও পোষক যাজ্যা প্রতিপাদ্য ইন্দ্র ও বরুণ দেবতার উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে আমি আহুতি প্রদান করছি (স্বাহুত)। সোমপান ইত্যাদি যাজ্যার প্রতিপাদ্য জনগণের ধারক ইন্দ্রের উদ্দেশে আমি স্বাহমন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। এইভাবে হোমকর্তার অন্নপ্রদায়ক, ক্ষীরপ্রদায়ক ইত্যাদি যাজ্যার প্রতিপাদ্য দেবতার উদ্দেশে আমি স্বাহামন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। ইন্দ্রাবিষ্ণ পিবত ইত্যাদি যাজ্যার প্রতিপাদ্য প্রজাপতি (প্রজাগুণের পালঙ্ক) মনুর উদ্দেশে আমি স্বাহামন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। হে ঋতপা (সত্যপালক), হে সুবর্বাট (স্বর্গপ্রাপক)! আমাদের যজ্ঞ যথাযথ পালন করুন; স্তোমমহত ইত্যাদি যাজ্যা প্রতিপাদ আপনাকে আমি স্বাহামন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। হোতা কর্তৃক মধুর ঘৃতের দ্বারা হুয়মান (আহুত) দেবগণ তৃপ্ত হোন (তুপ্যন্তু)। অনুরহিত হয়ে যখন প্রজাগণ অনুতপ্ত হয় (অর্থাৎ পীড়ানুভব করে) তখন সংযুক্ত ঋষিবর্গ বলে থাকেন যে, যজ্ঞপতির অপরাধেই এমন হয়েছে; কারণ যজ্ঞপতির অপরাধের কারণেই বৃষ্টি ইত্যাদির অভাব ঘটে এবং তার ফলেই প্রজাগণের পীড়া (কষ্ট) জন্মে। যজ্ঞপতির অপরাধ কি, সে সম্পর্কে বলা হয়েছে-চৈত্র ও বৈশাখ এই দুমাসের অনুষ্ঠানযোগ্য জ্যোতিষ্টোম যাগের অনুষ্ঠান প্রত্যহ না করা। এই অকরণজনিত অপরাধে যজ্ঞপতি (যজমান) পাপী হয়। অতএব যজ্ঞপতি এই যজমান যাতে উপরোক্ত দুই মাসব্যাপী জ্যোতিষ্টোম অনুষ্ঠিত করেন সেইভাবে বিশ্বকর্মা এঁদের প্রেরণা দান করুন। পূর্বোক্ত যে উগ্র ঋষিবর্গ আমাদের অপরাধ অন্বেষণ পূর্বক (অপরাধমন্বিষ্য) পাপী বলে জনসমক্ষে আমাদের নিন্দা করেন, সেই ঋষিবৃন্দকে নমস্কারের দ্বারা শান্ত করছি, যেন তারা আমাদের নিন্দা না করেন। এই ঋষিগণ যাতে আমাদের প্রতি সমান অনুগ্রহে দৃষ্টি দান করেন, সেই নিমিত্ত আমরা বৃহস্পতির অনুগ্রহ প্রার্থনায় তাঁকে নমস্কার জ্ঞাপন করছি। আমরা বিশ্বকর্মা অর্থাৎ বিশ্ববিষয়ক সৃষ্টি ইত্যাদি কর্মকারী প্রজাপতির উদ্দেশে আত্যন্তিক ভক্তি সহকারে নমস্কার জ্ঞাপন করছি। হে বিশ্বকর্মা! আপনি ব্যতিরেকে আমাদের অন্য গতি নেই (গত্যন্তরহিতানস্মা), এই কথা জ্ঞাত হয়ে আমাদের সেইভাবেই সোমপানের যোগ্যতা দান করুন, যেভাবে এই লোকে যুদ্ধক্ষেত্র হতে প্রাণভয়ে ভীত জনগণের প্রতি ধীর পুরুষ করুণা করে থাকেন। এই যজমান প্রমাদ আলস্য ইত্যাকার তমোগুণে আবৃত হয়ে ঋষিগণের প্রতি অপরাধ করেছেন, সেই অপরাধীকে তার মঙ্গলের নিমিত্ত (স্বস্তয়ে) প্রকর্ষের সাথে মুক্ত করুন, যেন তিনি বিনাশরহিত হন (বিনাশরাহিত্যায়)। যারা যজ্ঞ অনুষ্ঠান করার কামনায় ভিক্ষার দ্বারা ধন অর্জন করে, কিন্তু যজ্ঞানুষ্ঠান না করে সেই ধন আপন ভোগের উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করে রেখেছে, অগ্নি (ধিষ্ণ) যাদের নিমিত্ত খেদ করেন (খেদং কৃতবন্ত), তাদের যাগাভাবজনিত (অর্থাৎ যজ্ঞানুষ্ঠান অকরণজনিত) অপরাধ বিনাশ করার নিমিত্ত বিশ্বকর্মা এই যাগকে (অর্থাৎ আমাদের অনুষ্ঠিত এই যজ্ঞকে) শোভন যজনসম্পন্ন করুন (স্বিষ্টিং করোতু)। যজ্ঞসভাস্থলে দর্শক হিসাবে সমবেত ব্রাহ্মণমণ্ডলীর সকলেই দক্ষিণার যোগ্য (দক্ষিণাহ), সুতরাং তাদের অদানের দ্বারা (অর্থাৎ প্রাপ্য দক্ষিণা দান না করার কারণে) যে পাপ হয়, তা নিবারণের নিমিত্ত যথোক্ত বিধানে বৈশ্বকর্মের (বিশ্বদেব-সম্বন্ধী) যাগ সম্পাদন কর্তব্য। এর ফলে যজমান পাপ হতে মুক্তিলাভ করেন এবং ঋত্বিকগণ দক্ষিণা লাভের পর প্রীত হন। হে দেবগণ! আমাদের বপু অর্থাৎ শরীর যাতে পাপরহিত থাকে, তেমন করুন। আতপতণ্ডুল ইত্যাদি প্রক্ষেপের দ্বারা দোহনপাত্রস্থ ঘনীভূত দধি পান করে যজমান-দম্পতি পুত্র ও ধন লাভ করে থাকেন; এঁদের সম্বন্ধে আপনি সবই জ্ঞাত আছেন; এঁদের গৃহ (অর্থাৎ গৃহের সমৃদ্ধি) বর্ধন করুন। একগৃহবাসী এমন দম্পতি কল্যাণ প্রাপ্ত হোন। পত্নীযুক্ত হিংসরহিত যজমান ধনসমূহ করুন। যে যজমান প্রীতিযুক্ত হয়ে কুম্ভে যথোক্তদধিভাবাপন্ন ক্ষীর পূর্ণ করে তা সিক্ত করেন, সেই যজমানের দুর্বুদ্ধি রোগ ইত্যাদি দূর হোক। এই যজমানের পত্নী স্নিগ্ধকণ্ঠা (অর্থাৎ কোমলধ্বনিযুক্তা) ও সর্ব অবয়বে পুষ্টিযুক্তা হোন। এই যজমানের পুত্রগণও সর্বাঙ্গে পুষ্ট হোক (অর্থাৎ কখনও যেন শীর্ণতা প্রাপ্ত না হয়)। যে যজমান শোভন যজ্ঞ কামনা পূর্বক (সুমখস্যমানঃ) ইন্দ্রের উদ্দেশে পূর্ণ কুম্ভ প্রদান করেন সেই যজমানের পত্নী ইত্যাদি পুবিক্তরূপ হোক (অর্থাৎ পত্নী স্নিগ্ধকণ্ঠা ইত্যাদি রূপা ও পুত্র সর্বাঙ্গে পুষ্ট ইত্যাদি হোক)। সেই যজমানে পত্নীর সাথে একত্রে অবস্থানকারী হোন (অর্থাৎ আশিসদানকালে যজমানের পত্নীও সহাবস্থিত থাকুন)। হে ইন্দ্রদেব! আপনি আমাদের আশীর্বাদ প্রদান করুন, এটাই প্রথানা। আপনি আমাদের শোভন অপত্য, অন্ন ও সদীপ্ত (বৰ্চসহিতং) ধন দান করুন। আমি আপনার প্রসাদে বলের দ্বারা শত্রুগণেকে সহসা (শীঘ্র) পরাভূত করে তাদের যেন আমাদের আজ্ঞাধারী করতে সক্ষম হই। হে ধ্রুব (যজ্ঞপাত্রভেদ)! তুমি নিত্যসিদ্ধ-স্বরূপ; সুতরাং নিত্যসিদ্ধ পরমাত্মায় আমাকে স্থাপন করো। তুমি সকল গ্রহের (গ্রহণসাধন যজ্ঞপাত্রবিশেষের) মধ্যে মুখ্য, তোমার প্রসাদে আমিও সকলের মধ্যে মুখ্য হবো। হে ধ্রুব! দ্যাবাপৃথিবীসদৃশ অঞ্জলিপুটের দ্বারা তোমাকে স্বীকার (অর্থাৎ গ্রহণ) করছি। হে ধ্রুব! বিশ্বমানবের হিতকারী সকল দেবতা তোমাকে স্বস্থান হতে চালিত করুন (স্বস্থানাচ্চালয়ন্তু); এবং তুমি স্বর্গলোকে দেবগণকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করো, অন্তরীক্ষে পক্ষিগণকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করো এবং পৃথিবীতে পর্বত ইত্যাদিকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করো (দৃঢিকুরু); কিন্তু তোমার চলনের দ্বারা যেন সর্ব জগৎ চালিত (বিচলিত) না হয়। আমরা ধ্রুবস্থালীগত (স্থালীর ন্যায় ধ্রুবনামক যজ্ঞপাত্রে রক্ষিত) সোমরসের দ্বারা পূর্বে হোতার চমসে (যজ্ঞপাত্রে) স্থিত সোমের উপর তোমাকে সিঞ্চিত করছি। যে কোনও রকমে আমাদের গো-ইত্যাদি জঙ্গম (গমনশীল) পশুসমূহ রোগরহিত ও সুমনা (অর্থাৎ শোভনমনস্ক) হোক, আমাদের সকল প্রজা কেবল বোগরহিত ও সুমনাই নয়, তারা আমাদের অনুকূল মনোভাবাপন্নও হোক, এবং ইন্দ্র যেন এমনই করেন। শুধু আমাদের সকল দিবর্তী প্রজা যেন আমাদের অধীন হয়, তা-ই নয়, কিন্তু আমরা যাতে অসাধারণভাবে বিদ্যমান থাকতে পারি, সেই সকল অভিলাষ সিদ্ধ হোক ॥৮

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ নবমে প্রতিগরানন্তরভাবিমন্ত্রা বক্তব্যাঃ। শংসিতুর্মন্ত্রেণ প্রোৎসাহনং প্রতিগরস্তস্য..। অর্থাৎ–এই নবম অনুবাকে শংস-মন্ত্ৰসমূহের প্রোৎসাহের পরবর্তী মন্ত্রগুলি কথিত হয়েছে]

    .

    নবম অনুবাক

    মন্ত্র- যদ্বৈ হোতাহধ্বর্যমভ্যাহূয়তে ব্রজমেমভি প্ৰ বৰ্ত্তয়ত্যুকথশা ইত্যাহ প্রাতঃসবনং প্রতিগীৰ্য্য ত্রীণ্যেতান্যক্ষরাণি ত্রিপদা গায়ত্রী গায়ত্রং প্রাতঃসবনং গায়ত্রিয়ৈব প্রাতঃসবনে বজ্রমন্তৰ্দ্ধত্ত উথং বাচীত্যাহ মাধ্যন্দিনং সবনং প্রতিগীৰ্য্য চত্বাৰ্য্যেতান্যক্ষরাণি চতুষ্পদা ত্রিষ্টুপ ত্ৰৈষ্ঠুভং মাধ্যানিং সবং ত্রিভৈব মাধ্যন্দিনে সবনে বজ্রমন্তব্ধত্তে উথং বাচীন্দ্ৰায়েত্যাহ তৃতীয়সবনং প্রতিগীর‍্যা সপ্তেন্যক্ষরাণি সপ্তপদা শরী শাররা বজ্রো বজ্রেণৈব তৃতীয়সবনে বজ্রমন্তব্ধত্তে ব্ৰহ্মদিনো বদন্তি সত্বা অধ্বর্য্যঃ স্যাদ্যো যথাসবনং প্রতিগরে ছন্দাংসি সম্পাদয়েত্তেজঃ প্রাতঃসবন আত্মধীতেন্দ্ৰিয়ং মাধ্যন্দিনে সবনে পশুংস্তৃতীয়সবন ইত্যুকথশা ইত্যাহ প্রাতঃসবনং প্রতিগীৰ্য্য ত্রীণ্যেতান্যক্ষরাণি ত্রিপদা গায়ত্রী গায়ত্ৰং প্রাতঃসকনং প্রাতঃসবন এব প্রতিগরে ছন্দাংসি সং পাদয়ত্যথো তেজো বৈ গায়ত্রী তেজঃ প্রাতঃসবনং তেজ এব প্রাতঃসবন আত্মন্ধত্ত উথং বাচীত্যাহ মাধ্যন্দিনং সবনংপ্রতিগীৰ্য্য চত্বার্য্যেতান্যক্ষরাণি চতুষ্পদা ত্রিষ্টুপ ত্রৈষ্টুভং মাধ্যন্দিন সবনং মাষ্যন্দিন এব সবনে প্রতিগরে ছন্দাংসি সং পাদয়ত্যথো ইন্দ্রিয়ং মাধ্যন্দিনং সবনং ইন্দ্রিয়মেব মাধ্যন্দিনে সবন আত্মন্ধও উকথং বাচীন্দ্ৰায়েত্যাহ তৃতীয়সবনং প্রতিগীৰ্য্য সপ্তৈতান্যক্ষরাণি সপ্তপদা শরী শারাঃ পশবো জাগতং তৃতীয়সবনং তৃতীয়সবন এব প্রতিগরে ছন্দাংসি সং পাদয়ত্যথো পশবো বৈ জগতী পশবস্তৃতীয়সবনং পশুনেব তৃতীয়সবন আত্মন্ধত্তে। যদ্বৈ হোতাহধ্বমভ্যাহুয়ত আব্যমস্মিন্দধাতি তদন্ন অপহনীত পুরাহস্য সম্বৎসরা গৃহ আ বেবীরছোংসামোদ ইবেতি প্রত্যাহুয়তে তেনৈব তদপ হতে যথা বা আয়তাং প্রতীক্ষত এবমর্যঃ প্রতিগরং প্রতীক্ষতে যদভিপ্রতিগৃণীয়াদ্য থাহয়তয়া সমৃচ্ছতে তাদৃগেব তদ্যৰ্ধৰ্চাল্লুপ্যেত যথা ধাবত্তো হীয়তে তাদৃগে তৎ প্রবাহুথা ঋত্বিজামুঙ্গাথা উদ্গীথ এবোগাতৃণাম ঋচঃ প্রণব উথশ সিনাং প্রতিগরোহফ্ণাং য এবং বিদ্বান প্রতিগৃণাত্যন্নাদ এব ভবত্যাহস্য প্রজায়াং বাজী জায়ত ইয়ম বৈ হোতাহসাবধ্বৰ্যদাসীনঃ শসত্ত্যস্যা এব তদ্ধোতা নৈত্যাস্ত ইব হীয়মথো ইমামেব তেন যজমানো দুহে যত্তিষ্ঠ প্রতিগৃণাত্যমুয্যা এব তদধ্বর্য্যর্নৈতি তিষ্ঠতীব হ্যসাবধো অমুমেব তেন যজমানো দুহে যদাসীনঃ শংসতি তম্মাদিতঃপ্রদানং দেবা উপ জীবন্তি যত্তিষ্ঠন প্রতিগৃণাতি তম্মাদমুতঃ প্রদানং মনুষ্যা উপ জীবন্তি যৎ প্রাঙাসানঃ শংসতি প্রত্যঙ তিষ্ঠ প্রতিগৃণাতি তস্মাৎ প্রাচীনং রেতো ধীয়তে প্রতীচীঃ প্রজা জায়ন্তে যদ্বৈ হোতাহধ্বৰ্যম ভ্যাহূয়তে বজ্ৰমেনমভি প্ৰ বৰ্ত্তয়তি পরাঙা বৰ্ত্ততে বজ্রমেব তন্নি করোতি ॥৯।

     মর্মার্থ- মন্ত্রোক্তির মাধ্যমে হোতা যখন অধ্বর্যকে আহ্বান করেন, তখন হোতার সেই আহ্বান অধ্বর্যর নিকট বজ্রপ্রহারের ন্যায় প্রতীয়মান হয়। উক্ত মন্ত্রটি এই–হে অধ্বর্য! আমার শস্ত্রপাঠের সময়ে তুমি সাবধান হও। হোতা কর্তৃক বজ্রপ্রহারতুল্য সাবধানবাণীর সমাধানের নিমিত্ত প্রাতঃসবনের প্রতিগরের পর উথশাস্ত্রীয় মন্ত্রের দ্বারা হোতার সম্যক্ স্তুতি করণীয়। স্তুতিমন্ত্র-হে হোতা! তুমি সর্বৰ্থা আনন্দিত থাকো (সর্বথৈব মোদ)! এটাই তোমার উদ্দেশে আমাদের প্রতিগরের মন্ত্রের অর্থ। ঋক্ সমাপ্ত হওয়ার পর প্রতিগর প্রণব ইত্যাদি পাঠ কর্তব্য। অস্তি–এই হলো প্রণবের অর্থ (অর্থাৎ সর্বশস্ত্রসমাপ্তিরূপ অঙ্গীকারবাচক প্রণবই হলো প্রতিগর)। প্রত্যুত্তরকথন প্রতিগর শব্দের দ্বারা উচ্চারিত হয়। প্রাতঃসবনে যতগুলি শস্ত্র বিদ্যমান, তার সবগুলিই প্রতিকার বলে উক্ত হওয়ায় ক্ষরমুকথশা ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ করা কর্তব্য। এই ক্ষেত্রে অক্ষরগত ত্রিত্বের নিমিত্ত ত্রিপদা গায়ত্রীর স্মরণ করা কর্তব্য, এবং সেই গায়ত্রীর উক্তিতেই প্রাতঃসবন স্মৃত হয়। প্রাতঃসবনে ত্রিপদা গায়ত্রীর স্মরণ হোতা কর্তৃক প্রযুক্ত বজ্ৰমানতাকে অন্তর্হিত করে দেয়। এইভাবে মাধ্যন্দিন সবনে চতুষ্পদা ত্রিষ্টুপের স্মরণ হোতা কর্তৃক প্রযুক্ত বজ্ৰমানতাকে অন্তর্হিত করে। আবার তৃতীয় সবনে সপ্তাক্ষরা শরীর স্মরণের দ্বারা হোতা কর্তৃক প্রযুক্ত বজ্ৰমানতাকে অন্তর্হিত করে। বিহিত এই মন্ত্র য়ের প্রশংসা বিষয়ে ব্রহ্মবাদিগণ পরস্পর বলেন, যে পুরুষ সবনের অনুরূপ ছন্দের প্রয়োগ মত ওছেন, তিনি প্রাতঃসবনে ত্রি-অক্ষরা গায়ত্রীছন্দের, মাধ্যন্দিন সবনে একাদশাক্ষরা ত্রিঃ ছরে এবং তৃতীয় সবনে দ্বাদশাক্ষরা জগতীছন্দের প্রয়োগ করেন। এইরকম সম্পাদনে যিনি সম, তিনি মুখ্য অধ্বর্য (স এব মুখ্যোহধ্বযুঃ স্যাৎ)। কোন ব্রহ্মবাদী বলেন, প্রাতঃসবনের সমাপ্তির পরে আত্মায় যিনি তেজঃ ধারণ করেন, মাধ্যন্দিন সবনের পরে যিনি ইন্দ্রিয় (সামর্থ্য) ধারণ করেন এবং তৃতীয় সবনের পর যিনি পশু ধারণ করেন, তিনিই হলেন মুখ্য অধ্বর্য। প্রথম মন্ত্রের দ্বারা সবচেত ছন্দঃসম্পত্তি এবং তেজোধারণ বিষয়ে কথিত হচ্ছে–প্রাতঃসবনগত স্তোত্রশস্ত্রগুলি গায়ত্রী ছন্দের। গায়ত্রী-উপদেশের দ্বারা সম্পূর্তি হয়, কারণ গায়ত্রী তেজোরূপা (গায়াস্তেজোরূপত্ব)। প্রাতঃসবন বহিষ্পবমানগত। দ্বিতীয় মন্ত্রের দ্বারা সবনোচিত ছন্দঃসম্পত্তি এবং ইন্দ্রিয়ধারণ বিষয়ে কথিত হচ্ছে–মাধ্যন্দিন সবন ত্রিষ্টুপ ছন্দগত, প্রজাপতির ঊরু ও বাহু হতে ইন্দ্রের সাথে উৎপন্ন হওয়ায় ইন্দ্রসৃষ্ট ইন্দ্রিয়ের ত্রিষ্টুপত্ব (ইন্দ্ৰেন সহোৎপন্নত্বাদিন্দ্র সৃষ্টস্যেন্দ্রিয়স্য ত্রিষ্ঠুত্বম)। তৃতীয় সবনোচিত ছন্দঃসম্পত্তি ও পশুপ্রাপ্তি বিষয়ে কথিত হচ্ছে–এই সবনে শরী ছন্দ ও জগতী ছন্দ পশুপ্রাপ্তির কারণভূত হওয়ায় সবনগত স্তোত্রশস্ত্রসমূহ জগতী ছন্দের হয়। অতএব শরীর দ্বারা সবনোচিত ছন্দঃসম্পত্তি তৃতীয় সবনে পশুপ্রাপ্তির হেতুভূত হয়। অধুনা অযুর অপ্রমত্ত বিধান কথিত হচ্ছে–যখন হোতা অধ্বর্যকে সম্বোধন পূর্বক সাবধান হতে আহ্বান করেন, তখন অধ্বর্যর চিত্তক্লেশরূপ রোগবিশেষ স্থাপিত হয়, এর প্রতিকারের নিমিত্ত হোতাকে উদ্দেশ করে তাকে সর্বৰ্থা আনন্দিত থাকার মন্ত্র উচ্চারণ করে থাকেন। (এইটি পূর্বেই বলা হয়েছে)। এটি কেমন? না–এই লোকে রাজার অমাত্য ইত্যাদি প্রতিসেবক ভৃত্যগণ রাজার বাক্যের উত্তর প্রদানের নিমিত্ত যেমন নিয়ত সাবধান থাকে, সেইরকম অধ্বর্যর পক্ষে হোতার সাবধান-বাণীরূপ বাক্যের প্রত্যুত্তরের নিমিত্ত সাবধান থাকা কর্তব্য। ঋত্বিক, উদ্গাতা, হোতা ও অধ্বর্য–এঁরা সকলে সমান হলেও উদ্গাতাই উষ্মীথ (অর্থাৎ উৎকৃষ্ট সামগান) করে থাকেন; কিন্তু অপরে (অর্থাৎ ঋত্বিক-হোতা-অধ্বর্য প্রণবপুরঃসর ভক্তি-উদ্দীথ করে থাকেন ॥৯॥

    [অথ দশমে প্রতিনিগ্রাহ্যমন্ত্ৰা উচ্যন্তে। অর্থাৎ–অতঃপর এই দশম অনুবাকে প্রতিনিগ্রাহ্যের মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে]

    .

    দশম অনুবাক

    মন্ত্র- উপযামগৃহীতোহসি বাসদসি বাপাভ্যাং বা ক্রতুপাভ্যামস্য যজ্ঞস্য ধ্রুবস্যাধ্য ক্ষাভ্যাং গৃহ্নামপযামগৃহীতোহস্যতসসি চক্ষুষ্পভ্যাং ত্ব ক্রতুপাব্যামস্য যজ্ঞস্য ধ্রুবস্যাধ্যক্ষাভ্যাং গৃহ্নামপযামগৃহীতোহসি তসসি শ্রোত্রপাভ্যাং ত্বা রতুপাভ্যামস্য যজ্ঞস্য ধ্রুবস্যাধ্যক্ষাভ্যাং গৃহূমি দেবেভ্যত্ত্বা বিশ্বদেবেভ্যা বিশ্বেভ্যস্তু দেবেভ্যো বিষ্ণবুরুক্রমৈ তে সোমস্তং রক্ষস্ব তং তে দুশ্চক্ষা মাহইব খন্ময়ি বসুঃ পুরাবসুৰ্ব্বাপা বা মে পাহি ময়ি বসুর্বিদ্বসুশ্চক্ষুষ্পশ্চক্ষুৰ্ম্মে পাহি ময়ি বসুঃ সংযদ্বসুঃ শ্রোত্রপাঃ শ্রোত্রং মে পাহি ভূরসি শ্রেষ্টো রশ্মীনাম প্রাণপাঃ প্রাণং মে পাহি ধুরসি শ্রেষ্ঠো রশ্মীনামপানপা অপিনং মে পাহি যো ন ইন্দ্ৰবায়ু মিত্রাবরুণাবশ্বিনাভিদাসতি ভ্রাতৃব্য উৎপিপীতে শুভম্পতী ইদমহং তমধরং পিদয়ামি যথেন্দ্রাহমুত্তমশ্চেনি৷৷ ১০৷

    মর্মার্থ- হে প্রতিনিগ্রাহ্য (গ্রহ অর্থাৎ এই নামে অভিহিত যজ্ঞপাত্র)! তুমি পার্থিব পাত্রের দ্বারা গৃহীত হয়েছে। সেখানে বাগিন্দ্রিয় অবস্থিত আছে (বাগিন্দ্ৰিয়ং তত্রাবস্থিতোহসি)। প্রতিনিগ্রাহ্য-নামক যে গ্রহগুলি ইন্দ্র, বায়ু, মিত্র, বরুণ ও অশ্বিদেবদ্বয়ের সম্বন্ধীয় কর্মের সাথে যুক্ত, সেগুলি তাদের নিমিত্ত গৃহীত হচ্ছে। ইন্দ্র ও বায়ুর মিমিত্ত প্রতিনিগ্রাহ্য গ্রহণের মন্ত্র–বাথা এষা যদৈন্দ্র-বায়বঃ এই শ্রুতিবাক্যানুসারে আমি তোমাদের বাক্য ও যজ্ঞের পালক, অবিনাশী যজ্ঞের অধ্যক্ষ ইন্দ্রদেব ও বায়ুদেবের নিমিত্ত গ্রহণ করছি। মিত্র ও বরুণদেবতার নিমিত্ত প্রতিনিগ্রাহ্য গ্রহণের মন্ত্র–উপযাম গৃহীতোহস্তসদসি চক্ষুষ্পভ্যাং ইত্যাদি, অর্থাৎ চক্ষুর পালক, ক্রতুর পালক, যজ্ঞের অধ্যক্ষ মিত্র ও বরুণের নিমিত্ত আমি তোমাদের গ্রহণ করছি। অশ্বিনপ্রতিনিগ্রাহ্যমন্ত্র–উপমগৃহীতোহসি তসসি শ্রোত্রপাভ্যাং ইত্যাদি, অর্থাৎ শ্রোত্রের পালক ক্রতুর পালক, যজ্ঞের অধ্যক্ষ অশ্বিদেবদ্বয়ের নিমিত্ত আমি তোমাদের গ্রহণ করছি। হে উরুম (মহৎ পাদবিক্ষেপকারী) বিষ্ণু! রক্ষণের নিমিত্ত এই সোম আপনার অধীন; অতএব আপনি তা রক্ষা করুন। পাপদৃষ্টিসম্পন্ন পুরুষ যেন আপনার এই সোমকে দর্শন করতে না পারে (মা দ্রাক্ষৎ)। বসুবর্ধনরূপ (অর্থাৎ ধনবৃদ্ধি রূপ) সোম, যা প্রাণ ইত্যাদির পোশক, তা আমার নিকট অবস্থিত আছে। আপনি বাক্যের পালনকর্তা, সেই হেতু আমার বাক্যের যাতে পালন হয়, তেমন করুন। এই মন্ত্রের দ্বারা ইন্দ্র ও বায়ুদেবতার গ্রহ (পাত্র) হোতাকে প্রদান করা হলো; এইভাবে অনন্তরবর্তী মন্ত্র দ্বারা মিত্র, বরুণ ও অশ্বিদ্বয়ের পাত্র প্রদত্ত হয়েছে। হে হস্তস্থিত সোম! তুমি সখের ভাবয়িতা (অর্থাৎ উৎপাদক); অতএব সুখপ্রকাশক বস্তুসমূহের মধ্যে তুমি শ্রেষ্ঠ। তুমি প্রাণের ফলস্বরূপ, আমার প্রাণ রক্ষা করো। হে মিত্র ও বরুণের গ্রহ! তুমি দুঃখের প্রতি হিংসাকারী (অর্থাৎ বিনাশকারী), অতএব আমার অপান রক্ষা করো। হে ইন্দ্র ও বায়ুদেবতা! যে শত্রু আমাদের হীন মনে করে, আমাদের উল্লঙ্ঘন করে সোম পান করে (বা করতে আকাঙ্ক্ষা করে), হে শুভস্পতী (শুভকর্মের পালকদ্বয়)! সেই শত্রুকে আমি পাদে নিক্ষেপ করছি (অর্থাৎ আমার পদে পাতিত করছি)। হে ইন্দ্র। আমি যাতে শত্রুগণ অপেক্ষা উত্তম হয়ে ইহলোক ও পরলোক সম্বন্ধে জ্ঞানবান হতে পারি, আপনি তেমনই অনুগ্রহ করুন ॥১০।

    [সায়ণাচার্য বলেন–প্রতিনিগ্রাহ্য মন্ত্ৰাস্তু দশমে পরিকীর্তিতাঃ। অথৈকাদশে ত্রৈধাতবীয়েষ্টিবিষয়া মন্ত্রা উত্যন্তে। অর্থাৎ–এই একাদশ অনুবাকে ত্ৰৈধাতবীয় যজ্ঞসম্বন্ধি মন্ত্রগুলি কথিত হয়েছে]

    .

    একাদশ অনুবাক

     মর্মার্থ- হে অগ্নি! যে। যজমানকে আপনি সখাবৎ স্নেহে পালন করেন, সেই যজমান প্রকৃষ্ঠভাবে সংসারক্লেশ অক্রিম করে থাকেন। কিভাবে? না–আপনার পালনের দ্বারা তিনি শোভন পুত্র ইত্যাদি যুক্ত হতে পারেন, যজ্ঞকর্মানুষ্ঠানকারী হতে পারেন, অন্নের নিমিত্ত কর্মানুদ্যোগী হতে পারেন; তারই ফলে তিনি সংসারক্লেশ অতিবর্তন করতে সক্ষম হন। হে ঋত্বিকগণ! আপনারা পূর্ববর্তী ঋষিবর্গের দ্বারা (বৃহৎপ্রৌঢ়ং) অগ্নির উদ্দেশে সেই স্তুতিরূপ বাক্য বলুন, যা আমাদের পালনের নিমিত্তই রচিত, আমাদের হিতের নিমিত্তই উচ্চারিত এবং আমাদের দ্বারাই হোমনিস্পাদক। হে অগ্নি! আপনার অনুরূপ তিনটি পুরোডাশ বর্তমান; পরস্পরযুক্ত লোকত্রয় রূপ আহবনীয়, গার্হপত্য ও দক্ষিণাগ্নি তিনটি বাসস্থান বর্তমান। হে ঋতজাত (সত্যরূপ জ্ঞান হতে জাত) অগ্নি! আপনার পূর্বাসিদ্ধা (পূর্বীঃ) তিনটি জিহ্বা–সাত্ত্বিক, রাজস ও তামসরূপা–ইষ্টপ্রাপ্তি, অনিষ্ট পরিহার ও আভিচারিক কর্মের হেতুভূত। (অগ্নির সাত্ত্বিক শক্তিসম্পন্ন রসনারূপ প্রজ্বলনে যজমানের ইষ্টপ্রাপ্তি ঘটে, রাজসিক-শক্তিসম্পন্ন রসনারূপ প্রজ্বলনে যজমানের অনিষ্ট দূরীভূত হয়, তামসিক-শক্তিসম্পন্ন রসনারূপ প্রজ্বলনে যজমানের আভিচারিক-ক্রিয়া অর্থাৎ অপরের মারণ, বশীকরণ ইত্যাদি সংঘটিত হয়। এগুলি সবই পূর্ব হতেই নিম্পাদিতব্য বা নির্ধারিত)। আরও, দেবগণ কর্তৃক পূর্বলব্ধ অগ্নি, বিদ্যুৎ ও আদিত্যরূপ যে তিনটি তনু আছে, সেই তনুর দ্বারা আমাদের রক্ষা করুন (অস্মান পাহি)। হে ইন্দ্র ও বিষ্ণু! আমরা এই কর্মের দ্বারা আপনাদের সম্যকভাবে প্রীত করছি, এবং এই হবিলক্ষণ অন্নের দ্বারা আপনারা প্রীতি প্রাপ্ত হোন। (কি নিমিত্ত? না)–আপনারা আমাদের এই যজ্ঞের সেবা করবেন, আমাদের ধন বা বাঞ্ছিত সামগ্রী দান করবেন এবং বিনাশরহিত এই অনুষ্ঠানের পথে আমাদের কর্মের পার প্রাপ্ত করুন (অর্থাৎ কর্মরূপ সমুদ্রের পরপারে উত্তীর্ণ করে দিন)। হে বিষ্ণু ও ইন্দ্র! আপনাদের উভয়ের মধ্যে কেউ কখনও পরাজয় প্রাপ্ত হন নি; আপনারা উভয়ে যখন পরস্পর স্পর্ধা করেছিলেন, তখন দক্ষিণস্বরূপে দাঁতব্য সহস্র গো ত্রিধাবিভক্ত করে নিয়েছিলেন। (অয়ং চ বিভাগঃ সপ্তমকাণ্ডে স্পষ্টমান্নাতঃ–অর্থাৎ এই বিভাগের কথা সপ্তম কাণ্ডের স্পষ্টরূপে কথিত হয়েছে)। হে জাতবেদা! আপনার আয়ুবৃদ্ধিকারণের নিমিত্ত সোম, সান্নায্য (মন্ত্র ইত্যাদির দ্বারা সংস্কার্য ঘৃত প্রভৃতি), ও পুরোডাশরূপ তিনটি হবি আছে। হে অগ্নি! ঊষাকালসদৃশ (দিবসের প্রথমেই) আবির্ভারূপ আহবনীয় ইত্যাদি তিনটি স্থানে (অর্থাৎ আহবনীয়, গার্হপত্য ও দক্ষিণাগ্নিতে) ত্রিবিধ জ্বালার দ্বারা না অর্থাৎ দেবগণের রক্ষাকারক হবির দ্বারা যাগ করুন (হবিৰ্বিৰ্ধান্যক্ষি যজ)। অনন্তর যজমানের পক্ষে সুখপ্রদ ও দুঃখবিয়োজক (দুঃখবিহীনকারী, হোন। কবি অর্থাৎ বিদ্বান এই অগ্নি এই যজ্ঞে তিন রকম হবিঃ সর্বতোভাবে প্রাপ্ত হন। সেই অগ্নি এই কর্মে একাদশ দেবতার সাথে তিন গণের তর্পন করুন (তপয়ত্বিতি)। [একাদশ দেবতা, তিন গণ ইত্যাদির ব্যাখ্যা ১ম কাণ্ডের ৪র্থ প্রপাঠকে ১০ম, ১১শ ইত্যাদি অনুবাকে দ্রষ্টব্য]। দেবতাগণের দূতরূপ ব্রাহ্মণজাত্যাভিমানী এই অগ্নি আমাদের প্রীতি সম্পাদিত করুন। কিরকম অগ্নি?-না, পরিষ্কৃত দূচিহ্নসমূহে অলঙ্কৃত। তিনি আমাদের সর্ব কুৎসিত শত্রুগণকে বিনাশ করুন। [ অন শব্দের দ্বারা শত্রু, ক-প্রত্যয় কুৎসিত অর্থে ও সম শব্দের দ্বারা সর্ব বোঝায় ]। হে ইন্দ্র ও বিষ্ণু (ইন্দ্রাবিষ্ণু)! শম্বর নামক অসুরের সম্বন্ধি নগরী আপনারা বিনাশ করেছেন। কিরকম নগরী?-না, নব নবতিং চ অর্থাৎ নিরানব্বই সংখ্যক এবং দৃংহতা অর্থাৎ সুদৃঢ়া। সেই অসুরকে তার দীপ্তমত শত সহস্র বীরগণকে পরহিত করে (অর্থাৎ তার পক্ষীয় প্রধানভূত অমাত্য ইত্যাদি সহ) বিনাশ করেছেন। ইন্দ্র দেবের মাতা মহান্ত ইন্দ্রদেবকে জ্ঞাপন করেছিলেন–হে পুত্র ইন্দ্র! শত্রুদের বিনাশপূর্বক তুমি তুষ্ণিক থাকলে (অর্থাৎ নীরব হলে) দেবগণ তোমাকে পরিত্যাগ করে। (অর্থাৎ দেবগণ বুঝতেই পারেন না যে, তুমিই শত্রুদের নিধন পূর্বক তাঁদের রক্ষা করেছ)। অতঃপর মাতার দ্বারা বোধিত হয়ে ইন্দ্র বৃত্রকে বধের নিমিত্ত উদ্যত হয়ে বিষ্ণু প্রতি এইরকম বলেছিলেন, হে সখা বিষ্ণু! তোমার বিশিষ্টতর বিক্রমের দ্বারা শীঘ্র বৃত্রকে বধ করো। তথাবিধ হে ইন্দ্র ও বিষ্ণু! আপনারা আমাদের অভীষ্ট সম্পাদন করুন ॥১১।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article অন্তিম অভিযান – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }