Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1398 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.৪ তৃতীয় কাণ্ড। চতুর্থ প্রপাঠক

    তৃতীয় কাণ্ড। চতুর্থ প্রপাঠক

    প্রথম অনুবাক

    মন্ত্র- বি বা এতস্য যজ্ঞ ঋধ্যতে যস্য হবিরতিরিচ্যতে সূৰ্য্যো দেবো দিবিষ্য ইত্যাহ বৃহস্পতিনা চৈবাস্য প্রজাপতিনা চ যজ্ঞস্য বদ্ধমপি বপতি রক্ষাংসি বা এতৎ পশুং সচন্তে যদেকদেবত্য আলক্কো ভূয়া ভবতি যস্যান্তে হরিতে গর্ভ ইত্যাহ দেবত্ৰৈবৈনাং গময়তি রক্ষসামপহত্যা আ বৰ্ত্তন বৰ্ত্তয়েত্যাহ ব্রাহ্মণৈবৈনমা বৰ্ত্তয়তি বি তে ভিনত্তি তকরীমিত্যাহ যথাযুজু রেবৈতদুরুদ্রগো বিশ্বরূপ ইন্দুরিত্যাহ প্ৰজা বৈ পশব ইন্দুঃ প্রজয়েবৈনং পশুভিঃ সমৰ্দ্ধয়তি দিবং বৈ যজ্ঞস্য বৃদ্ধ গচ্ছতি পৃথিবীমতিরিক্তং তদন্ন শময়েদাৰ্ত্তিমাচ্ছেদ্যজমানো মহী দৌঃ পৃথিবী চ ন ইতি আহ দ্যাবাপৃথিবীভ্যামেব যজ্ঞস্য বৃদ্ধং চাতিরিক্তং চ শময়তি নাহর্তিচ্ছতি যজমানো ভস্মনাহভি সমূহতি স্বগাকৃত্যা অথো অনয়োব্বা এষ গর্ভোহনয়োরেবৈনং দধাতি যদবদ্যেদতি তদ্রেচয়েদ্যন্নাবদ্যেৎ পোরালব্ধস্য নাব দ্যেৎ পুরস্তান্নাব্যা অন্যদবদ্যেদুপরিষ্টাদন্যৎ পুরস্তাদ্বৈ নাভ্যৈ প্রাণ উপরিষ্টাদপানো যাবানেব পশুস্তস্যাব দ্যতি বিষ্ণবে শিপিবিষ্টায় জুহোতি যদ্বৈ যজ্ঞস্যাতিরিচ্যতে যঃ পোর্ভূমা যা পুষ্টিস্তদ্বিষ্ণুঃ শিপিবি ষ্টোহতিরিক্ত এবাতিরিক্তং দধাত্যতিরিক্তস্য শাস্ত্যা অষ্টাঢ়িরণ্যং দক্ষিণাহষ্টাপদী হেষাহত্মা নবমঃ পলোরাপ্ত্যা অন্তরকোশ উষ্ণীষেণাহ বিষ্টিতং ভবত্যেবমিব হি পশুরুন্ধমিব চৰ্ম্মেব মাংসমিবাস্থীব যাবানের পশুস্তমাভ্ৰাহব রদ্ধে যস্যৈ যজ্ঞে প্রায়শ্চিত্তিঃ ক্রিয়ত ইষ্টা বসীয়ান ভবতি ॥১॥ [সায়ণাচার্য বলেন–তাহদ্যেনানুবাকেন বোগর্ভস্য দর্শননিমিত্ত পূর্বোক্তা মন্ত্রা ব্যাখ্যায়ন্তে।-পূর্ববতী অনুবাকে বশাগর্ভের দর্শননিমিত্ত হোমের মন্ত্রগুলি এই অনুবাকে ব্যাখ্যাত হয়েছে ]।

    মর্মার্থ- বশার (বন্ধ্যা বা গাভীর) একটি শরীর হবিঃ রূপে সঙ্কল্পিত হয়েছে, তাতে পশু গর্ভস্থ হলে (তত্র গর্ভে) হবির অতিরেকজনিত কারণে বপার (মেদ বা চর্বির আধিক্য হবে। এই রকম হবির আধিক্যের ফলে যজমান কৃত যজ্ঞের বৈগুণ্য হয় (বিগুণ এব ভবতি)। তখন সূর্যো দেবো দিবিষ্য এই মন্ত্রের দ্বারা হোম করলে সূর্য দেবতা ঐ মন্ত্রোক্ত বৃহস্পতি ও প্রজাপতি দেবতার দ্বারা যজ্ঞের বৈগুণ্যের (দোষের) সমাধান করেন। এক দেবতার উদ্দেশে একটি পশু আলব্ধ হয়, তার ফলে সেই নিরাকৃত পশু গর্ভ ধারণ করলে তা ভূয়ান্ (অর্থাৎ বহুতর বা প্রচুর) হবে; এই আধিক্যজনিত বৈকল্যে রাক্ষসগণ তা গ্রহণ করবে। এই বৈকল্যজনিত দোষ পরিহারের নিমিত্ত যস্যাস্তে হরিতো গর্ভ এই মন্ত্রের দ্বারা কৃত সেই দেবতার উদ্দেশে বশা অর্পণ করলে (অর্থাৎ দেবতা সেই বশা প্রাপ্ত হলে) রাক্ষসগণ হত হয়। লৌকিক গর্ভের পর্যাবর্তনের নিষেধ করে বলা হয়েছে–ব্রহ্মনৈবৈনমা বর্তয়তি অর্থাৎ ব্রহ্ম এর আবর্তন করবেন। উচ্ছেদন (জরায়ুছেদন) সম্পর্কিত মন্ত্রের স্পষ্টার্থতা সম্পর্কে বলা হয়েছে-বি তে ভিনদ্মি তকরীমিত্যাহ যথাযজুরেবৈতৎ। রসধারণের নিমিত্ত পাত্রের উপোহন মন্ত্রণাত ইন্দু শব্দের তাৎপর্য দেখান হয়েছে (দর্শয়তি) উরুদ্রন্সে বিশ্বরূপ ইন্দুরিত্যাহ প্ৰজা বৈ পশব ইত্যাদি মন্ত্রে। ইদি (অর্থাৎ পরমৈশ্বর্য) এই ধাতু হতে ইন্দু-শব্দ উৎপন্ন হয়েছে। প্রজা ও পশুর ঐশ্বর্যরূপত্ব ইত্যাদিই ইন্দুত্ব। অতএব ই-শব্দ প্রয়োগের দ্বারা প্রজা ইত্যাদির দ্বারা এই রস সমৃদ্ধ করা হয়েছে–এটাই দেখান হয়েছে। তারপর অভিসমূহন মন্ত্রে দ্যু-শব্দের এবং পৃথিবী শব্দের তাৎপর্য দেখান হচ্ছে-দিবং বৈ যজ্ঞস্য বৃদ্ধং গচ্ছতি….দৌঃ পৃথিবী চ ইত্যাদি মন্ত্রে। যজ্ঞের সম্বন্ধি যে অঙ্গ বৃদ্ধ অর্থাৎ ন হয়, তা স্বর্গে গমন করে; যা অতিরিক্ত হয়, তা পৃথিবীতে গমন করে। এমন হলে যদি এই উভয়ের দমন না করা হয় (মা শময়েত্তদা), তাহলে যজমান আর্তি (ক্লেশ বা বিপত্তি) প্রাপ্ত হয়। অতএব এই মন্ত্রে দ্যৌ পৃথিবী এই শব্দ প্রয়োগের দ্বারা ঐ উভয়ের দমনের কথা বলা হয়েছে, যাতে যজমান আর্তি না প্রাপ্ত হন। কিভাবে দ্যাবা পৃথিবীর দ্বারা গর্ভের আত্মসাৎ-কর্ম সংঘটিত হয়, তার বিচার পূর্বক নির্দেশ করা হয়েছে-ভস্মের দ্বারা গর্ভের আচ্ছাদন করণীয়। এই গর্ভ দ্যাবাপৃথিবী হতে (অর্থাৎ উভয় লোক হতে) সমুৎপন্ন। অতএব ভস্মনাহভি সমূহতি স্বাগাকৃত্যা ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা গর্ভের ভস্মাচ্ছাদন করা হলে দ্যাবাপৃথিবীতে গর্ভ স্থাপন করা হয় (গর্ভং স্থাপয়তীতি)। যদি গর্ভের মধ্যস্থ পশুর হৃদয় ইত্যাদি কোন অঙ্গ ছেদিত হয়, তবে পশুর হৃদয় ইত্যাদি অপেক্ষা হবির আধিক্য হবে (হবিরতিরিক্তং ভবেৎ)। যদি সেই দোষ পরিহারেরর নিমিত্ত ছেদন না করা হয়, তবে পশুর অবদান (সম্পাদিত কর্ম) না করা হয়। (গর্ভস্থ পশুর কোন অঙ্গের ছেদন এবং অ-ছেদন) এই উভয় দোষ পরিহারের নিমিত্ত নাভির পুরোভাগের কোন অঙ্গ এবং তার উপরের কিছু অংশ ছেদন করণীয়, তাতে যতগুলি পশু তার সবগুলিরই ছেদন হয়ে যায়, সেটি কি করে সম্ভব হয়, সেই সম্পর্কে কথিত হয়েছে–তির্যক জাতির (তিরাং, পশু-পক্ষী ইত্যাদির) নাভির সম্মুখস্থ প্রাণবায়ু মুখে সঞ্চারিত হয়ে থাকে এবং অপান বায়ু নাভির উপরিভাগে অর্থাৎ পুচ্ছদেশে সঞ্চারিত হয়ে থাকে। সুতরাং এই উভয় ছেদনের দ্বারা (উভয় কর্মসম্পাদন বা অবদানের দ্বারা) সকল অবদান (অর্থাৎ সম্পাদিতব্য কর্ম) সিদ্ধ অর্থাৎ সাধিত হয়ে যায়।–বিষ্ণবে শিপিবিষ্টায় জুহোতি ইত্যাদি মন্ত্রের বিধি কথিত হচ্ছে।-যজ্ঞই বিষ্ণু এবং পশুগণ শিপি (অর্থাৎ তেজঃ বা রশ্মি), এই শ্রুতি হতে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, পশুস্বামী যজ্ঞদেব কোন শিপিবিষ্ট নামধেয় বিষ্ণুর উদ্দেশে যাগ কর্তব্য। যজ্ঞের সম্বন্ধি যে অঙ্গ অতিরিক্ত হয়, যা পশুর বহুত্ব এবং হবির আধিক্যের ও পশু-দেহে পুষ্টির আধিক্যের হেতু, সেই সবই শিপিবিষ্ট বিষ্ণুর অধীন। এতএব বিষ্ণুর উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হোমে সেই সমস্ত অতিরিক্ত স্থাপন (বা অর্পণ) করা হয়। এবং তার ফলে সমস্ত অতিরেকজনিত দোষের শান্তি ঘটে।–অতঃপর দেয় দক্ষিণার বিধি কথিত হচ্ছে। অষ্টা অর্থাৎ অষ্ট বিন্দুর দ্বারা লাঞ্ছিত (চিহ্নিত) হলে সেইরকম হিরণ্য (কড়ি) প্রদান কর্তব্য। যদি এই বশা সগর্ভা হয়, তাহলে অষ্টপদ হিরণ্য অধিক ৫লন কর্তব্য। আত্মা পশুর দেহ অপেক্ষা যেহেতু অতিরিক্ত অর্থাৎ নবম, সেই কারণে অষ্টবিন্দুর দ্বারা যুক্ত হিরণ্য ও অষ্টপাদের সাথে যুক্ত পশু সমান হয়। সেই রকম হলে পশুপ্রাপ্তি সম্পন্ন হয় (সদৃশং ভবতীতি পশুপ্রাপ্তৈ সম্পাদ্যতে)। বাহ্য কোশ (বাহিরের আবরণ) হতে আরম্ভ করে আভ্যন্তরস্থ তৃতীয় কোশে হিরণ্য উষ্ণীষের দ্বারা সর্বতোভাবে বেষ্টন করণীয়। যে ভাবে সেই। হিরণ্য চারবার বেষ্টিত হয়, সেইভাবে গর্চরূপ পশুও চারবার বেষ্টিত হয় (তথৈব গর্ভরূপঃ পশুরপি চতুর্ভিবেষ্টিতো ভবতি)। সেটি কি করে সম্ভব, তার কারণ উক্ত হচ্ছে–উ (গর্ভবেষ্টন চর্ম) হলো বহিরের বেষ্টন (বহির্বেষ্টনং), তার অভ্যন্তরে চর্ম, তার অভ্যন্তরে মাংস, তারপর তার অভ্যন্তরে অস্থি, এবং তার অভ্যন্তরে পশুর জীবন বা প্রাণ। (অর্থাৎ গর্ভাশয়টি বাহিরের দিক থেকে আবৃত থাকে। তার মধ্যে যে পশু-প্রাণ থাকে, প্রথমে তার চর্ম, দ্বিতীয়ে তার মাংস, তৃতীয়ে তার অস্থি এবং চতুর্থে তার প্রাণ সৃষ্টি হয়)। এইভাবে হিরণ্যের পশুসাদৃশ্য ঘটলে, তা দানের দ্বারা সম্পূর্ণ পশুপ্রাপ্তি হয়। যে যজমানের যজ্ঞে বোগর্ভ সম্পর্কিত অপরাধের নিমিত্ত যথাক্ত হোমরূপ প্রায়শ্চিত্তের বিধি কথিত হলো, সেইরকম বিধি অনুসারে প্রায়শ্চিত্তের দ্বারা প্রকৃতভাবে যজ্ঞানুষ্ঠান করলে সেই যজমান উত্তম ধনশালী হন (বসুমত্তরো ভবতি) ॥১॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ দ্বিতীয়ানুবাকে ভূত্যাদিকামস্য বশালম্ভাৰ্থং মন্ত্রা বক্তব্যাঃ। অর্থাৎ–দ্বিতীয় অনুবাকে ভূতি বা ঐশ্বর্য ইত্যাদি কামনাকারীর বশালম্ভের মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে]

    .

    দ্বিতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- আ বায়ো ভূষ শুচিপা উপ নঃ সহস্রং তে নিযুতো বিশ্বাবার। উপো তে অন্ধো মদ্যময়ামি যস্য দেব দধিষে পূৰ্ব্বপেয়ম। আক্ত্যৈ বা কামায় হৃ সমৃধে ত্বা কিক্কিটা তে মনঃ প্রজাপতয়ে স্বাহা। কিক্কিটা তে প্রাণাৎ বায়বে স্বাহা কিক্কিটা তে চক্ষুঃ সূৰ্য্যায় স্বাহা কিক্কিটা তে শ্রোত্রং দ্যাবাপৃথিবীভ্যাম স্বাহা কিক্কিটা তে বাচং সরস্বত্যৈ স্বাহা। ত্বং তুরীয়া বশিনী শাহসি সকৃদ্যত্ত্বা মনস্যা গর্ভ আহশয়ৎ। বশা ত্বং বশিনী গচ্ছ দেবাৎ সত্যাঃ সন্তু যজমানস্য কামাঃ। অজাহসি রয়িষ্ঠা পৃথিব্যাং সীদোৰ্দ্ধহস্তরিমুপ তিষ্ঠস্ব দিবি তে বৃহম্ভাঃ। তন্তুং তন্বন্ রজসো বানুমন্বিহি জ্যোতিষ্মতঃ পতো রক্ষ ধিয়া কৃতান্। অনুম্বণং বয়ত জোগুবামপো মনুৰ্ভব জনয়া দৈব্যাং জন। মনসো হবিরসি প্রজাপতেৰ্ব্বর্ণো গাত্ৰাণাং তে গাত্রভাজো ভূয়াস্ম । ২।

    মর্মার্থ- হে বায়ুদেব! আপনি আগমন পূর্বক পশুকে ভূষিত (অর্থাৎ অলঙ্কৃত) করুন। হে শুচিপা (অর্থাৎ শুদ্ধ হবির পালনকর্তা)! আপনি আমাদের নিকট আগমন করুন। হে বিশ্ববার (অর্থাৎ বিশ্বব্যাপক)! আপনার সহস্ৰ সংখ্যক নিযুত (অর্থাৎ নিযুত নামক বায়ুবাহনভূত অশ্বসমূহ) আছে। পশুরূপ অন্ন আপনার হর্ষকর, এই নিমিত্ত আপনার সমীপে আগত হয়েছি। অতএব হে দেব! আপনি যে পশু সম্বন্ধি হবিঃ সোমসদৃশ মনে করছেন, আমি সেইরকম হবিঃ বহন করে আপনার নিকট আগত হয়েছি। হে পশু! আমার সঙ্কল্পসিদ্ধির নিমিত্ত (মদীয় সঙ্কল্পসিদ্ধার্থং), তথা অভীষ্ট পালনের নিমিত্ত, তথা সমৃদ্ধি সিদ্ধির নিমিত্ত কিক্কিটাকার পূর্বক (কিক্কিটের অনুকরণে শব্দ পূর্বক) তোমার মনঃ-প্রীতিকর এই আজদ্রব্য প্রজাপতি দেবতার উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। (পশুগণকে অভিমুখী করার নিমিত্ত মুখের মধ্যে আপন জিহ্বার অগ্রভাগ ঊর্ধ্বে কুঞ্চিত করে মনুষ্যগণ যে ধ্বনিবিশেষ সৃষ্টি করে, সেই অনুকৃত ধ্বনি কিক্কিট শব্দের দ্বারা ব্যঞ্জিত)। এইরূপে কিক্কিটাকার পূর্বক তোমার প্রাপ্য প্রাণ বায়ুদেবতার উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে তোমার প্রিয় আজ্যদ্ররূপে আহুতি প্রদান করছি; ঐ একই ভাবে সূর্যদেবতার উদ্দেশে তোমার প্রাপ্য চক্ষু, দ্যাবাপৃথিবীর উদ্দেশে তোমার প্রাপ্য শ্রোত্র এবং সরস্বতী দেবতার উদ্দেশে তোমার প্রাপ্য বা কিকিটাকার পূর্বক প্রিয় আজ্যদ্রব্যরূপে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। হে বশা! তুমি তুরীয়া অৰ্থা চতুর্থী (চতুর্থা) বশিনী। (বশ অর্থে ইন্দ্রিয়নিয়ম অর্থাৎ ইন্দ্রিয় যথা আয়ত্তাধীন। যে বৃষভের অর্থাৎ প্রজনন সমর্থের সাথে সঙ্গম করেনি, সে বশিনী। এর দ্বারাই বশিনীর বশাত্ব প্রতিপাদিত হয়েছে)। তুমি বন্ধ্যা। পুরুষের প্রতি অভিলাষযুক্ত মনে প্রথম বার গর্ভে তোমার উদরে শয়ন করেছিল। দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বার তুমি পুরুষের সাথে সংযোগের ইচ্ছারহিত হয়েছিল। এক ব্যতীত তোমার অন্য কোন অপত্য নেই, অতএব তুমি চতুর্থ বশিনী (অর্থাৎ বশা)। তুমি রকম যে তুমি, হবিঃরূপে দেবতাগণের নিকট গমন করো; এবং সেই গমনের দ্বারা যজমানের কামনা সিদ্ধ হোক। হে পশু! তুমি জাতিতে ছাগী, হবিঃরূপত্ব হেতু তুমি দেবগণের ধনভূত হয়েছ। সেইরকম তুমি আদৌ (অর্থাৎ প্রথমে বা অগ্রে) পৃথিবীতে উপবেশন করো, তারপর উর্দ্ধে উন্নীত হয়ে অন্তরিক্ষে গমন করো। তোমার বৃহত তেজঃ দ্যুলোকে গমন করছে। এই ভাবে তুমি তিন লোকে (অর্থাৎ পৃথিবী, অন্তরিক্ষ এবং দ্যু) অবস্থান করো। হে পশু! রজাত্মক (অর্থাৎ রজোগুণাশ্রয়ী) হবির বিস্তার পূর্বক তুমি আদিত্যলোকে গমন করো এবং প্রজ্ঞার দ্বারা সম্পাদিত প্ৰকাশমান আমাদের স্বর্গপথ রক্ষা করো (প্রজ্ঞয়া সম্পাদিতাজ্যোতিষ্মতঃ প্রকাশরতঃ অস্মীয়স্বর্গমার্গারক্ষ)। পশুর হৃদয় ইত্যাদি হে অঙ্গসমূহ! আমাদের কর্মগুলি নির্বিঘ্নে সমাপ্তির নিমিত্ত অনতিরিক্ত করে দাও। (অর্থাৎ কর্মের আধিক্য থাকলে তা সুষ্ঠুভাবে বা নির্বিঘ্নে সম্পাদিত হয় না; সুতরাং সেই কর্মসমূহ যাতে অতিরিক্ত হয়ে কম হয়, তেমন করো)। হে পশু। তুমি মনুর ন্যায় উৎপাদক হও। (অর্থাৎ প্রজাপতি মনু যেমন সবকিছুর উৎপাদনকর্তা, তেমনই বহুসৃষ্টিকারী হও)। এই যজমান জন্মান্তরে যাতে দেবজন (অর্থাৎ দেবতুল্য লোক বা রাজা) হন, সেইরকম করো। হে পশু! তুমি মনঃ-রূপ দেবতার হবিঃ এবং প্রজাপতির বর্ণস্বরূপ উৎপাদিত হও। তোমার অঙ্গসমূহের ভোজনের দ্বারা আমরা পুষ্টাঙ্গ (গাত্রভাজঃ) হবো॥ ২॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–মাঃ কাম্যপশোরত্র দ্বিতীয়ে সমুদরিতাঃ। অথ তৃতীয়ে তদ্বিধিরুচ্যতে। অর্থাৎ দ্বিতীয় অনুবাকে যে কাম্য পশুর বিষয় উক্ত হয়েছে, এই অনুবাকে তার বিধি কথিত হয়েছে]

    .

    তৃতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- ইমে বৈ সহাহস্তাং তে বায়ুবাত্তে গর্ভমদধাতাং তং সোমঃ প্ৰাজনয় দগ্নিরগ্রসত স এতং প্রজাপতিরাগ্নেয়মষ্টাকপালমপশ্যত্তং রিপত্তেনৈবেনা মগ্নেরধি নিরক্ৰীণাত্তম্মাদপ্যন্যদেবত্যামালভমান আগ্নেয়মষ্টাকপালং পুরস্তা নিৰ্বপেদগেরেবেনামধি নিষ্ক্রীয়াহলভতে যৎ বায়ুবাত্তস্মাদ্বায়ব্যা যদিমে গর্ভমদদাতাং তস্মাদ দ্যাবাপৃথিব্যা যৎ সোমঃ প্রজানয়দগ্নিরগ্রসত তস্মাদষ্মী যোমীয়া যদনয়োব্বিয়ত্যোৰ্ব্বাগদত্তস্মাৎ সারস্বতী যৎ প্রজাপতির- গেরধি নিরক্ৰীণাত্তস্মাৎ প্রাজাপত্যা সা বা এষা সৰ্ব্বদেবত্যা যদজা বশা বায়ব্যামা লভেত ভূতিকামো বায়ুৰ্ব্বৈ ক্ষেপিষ্ঠা দেবতা বায়ুমেব স্বেন ভাগধেয়েনোপ ধাবতি স এবৈনং ভূতিং গময়তি দ্যাবাপৃথিব্যামা সভেত কৃষমাণঃ প্রতিষ্ঠাকামো দিব এবাস্মৈ পর্জন্যো বৰ্ষতি ব্যস্যামোষধয়ো হন্তি সমৰ্দ্ধকমস্য সস্যং ভবত্যগ্নীষোমীয়ামা লভে যঃ কাময়েতাবান্নাদঃ স্যামিত্যগ্নিনৈবান্নমব রুন্ধে সোমেন্নাদ্যমনান্নবা নবান্নাদো ভবতি সারস্বতীমা লতে যঃ ঈশ্বারো বাচো বদিতোঃ সদাচং ন বদেদ্বাথৈ সরস্বতী সরস্বতীমেব স্বেন ভাগধেয়েনোপ ধাবতি সৈবাস্মিন্ বাচং দধাতি।। প্রাজাপত্যামা লভে যঃ কাময়েতানভিজিতমভি জয়েয়মিতি প্রজাপতিঃ সৰ্বা দেবতা দেবতাভিরেবানভিজিতমভি জয়তি বায়ব্যয়োপাকররাতি বায়োরেবৈনামবরুধ্যাহলভত আক্ত্যৈ বা কামায় বা ইত্যাহ যথাযজু রেবৈতৎ কিক্কিটাকারং জুহোতি কিক্কিটাকারেণ বৈ গ্রাম্যাঃ পশবোরমন্তে প্ৰাহরণ্যাঃ পতিত্তি যৎ কিক্কিটারং জুহোতি গ্রাম্যাণাং পশূনাং ধূত্যৈ পর্যগ্নৌ ক্রয়মাণে জুহোতি জীবন্তীমেবৈনাং সুবর্গং লোকং গময়তি ত্বাং তুরীয়া বশিনী বশাহসীত্যাহ দেবত্রৈবৈনাং গময়তি সত্যাঃ সন্তু যজমানস্য কামা ইত্যাহৈষ বৈ কামঃ যজমানস্য যদনার্ত উদৃচং গচ্ছতি তম্মাদেবমাহাজাহসি রয়িষ্ঠেত্যাহৈম্বেবৈনাং লোকেযু প্রতি ঠাপয়তি দিবি তে বৃহদ্ভা ইত্যাহ সুবর্গ এবাস্মৈ লোকে জ্যোতির্দধাতি তন্তুং তন্বন রজসো ভানুমষিহীতাহে মানেবান্মৈ লোকাঞ্জ্যোতিষ্মতঃ করোত্যনুম্বণং বয়ত জোগুবামপ ইতি আহ যদেব যজ্ঞ উম্বণং ক্ৰিয়তে তস্যৈবৈষা শান্তিৰ্মনুৰ্ভব জনয়া দৈব্যং জনমিত্যাহ মানবব্যা বৈ প্রজাস্তা এবাহদ্যাঃ কুরুতে মনসা হবিরসত্যাহ স্বগাকৃত্যৈ গাত্ৰাণাং তে গাত্রভাজো ভূয়াস্মেত্যাহাহশিষমেবৈতামা শাস্তে তস্যৈ বা এতস্যা একমেবাদেবযজনং যদালায়ামঃ ভবতি যদালায়ামঃ স্যাদ বা প্রবেশয়েৎ সৰ্বাং বা প্রাণীয়াদ্যদ প্রবেশয়েদ্যজ্ঞবেশসং কুৰ্য্যাৎ সর্বামেব প্রশ্নীয়াদিন্দ্রিয়মেহত্মন্ধত্তে সা বা এষা এয়াণামেবাবরুদ্ধা সম্বৎসরসদঃ সহস্ৰযাজিনো গৃহমেধিনস্ত এবৈতয়া যজেরষোমেবৈষাহপ্তা ॥৩॥

     মর্মার্থ- পশু-আলম্ভের পূর্বে (অর্থাৎ পশুর উৎসর্গীকৃত হওয়ার পূর্বে) কর্তব্য অষ্টাদশ কপাল পুরোডাশ সম্পৰ্কীয় বিধি কথিত হচ্ছে।–এই দ্যাবাপৃথিবী (অর্থাৎ দ্যুলোক ও ভূলোক) পুরাকালে অবিভক্ত ছিল। সেই সহাবস্থিত লোককে বায়ুদেবতা বিভক্ত করেছেন। তাঁরা পুনরায় বায়ুর সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে বশারূপ গর্ভ ধারণ করেছিলেন; এবং সোমদেব উৎকর্ষের নিমিত্ত সেই গর্ভের জনন করেছিলেন। সেই উৎপাদিত গর্ভকে অগ্নিদেব গ্রাস করলেন। তারপর অগ্নিকে উৎকোচরূপে পুরোডাশ নিপণ করে সেই অগ্নি হতে এই বশাকে নিষ্ক্রান্ত করেন। যেহেতু প্রজাপতির দ্বারা অগ্নির নিকট হতে বশা নিষ্ক্রান্ত হয়েছিল, সেই নিমিত্ত অন্য দেবতার উদ্দেশে সেই বশাকে আলভন (অর্থাৎ উৎসর্গ করতে হলেও অগ্নিকে পুরোভাশ প্রদান কর্তব্য। এইভাবে সেই পুরোশের দ্বারা অগ্নির নিকট হতে বশাকে ক্রয় করে (নিষ্ক্রীয়) তা অন্যের আলভানে প্রবৃত্ত হতে হয়। বায়ু, দ্যাব-পৃথিবী, অগ্নি, সোম, সরস্বতী ও প্রজাপতি এই সকল দেবতারই সেই বন্ধ্যা অজার উপরে আধিপত্য রয়েছে। (দ্যাবাপৃথিবীর বিযুক্ত হওয়ার কালে তাদের মুখে ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছিল; সেই কারণে বায়ু ইত্যাদি সকল সংশ্লিষ্ট দেবতার সাথে ধ্বনি বা বাকের দেবতা সরস্বতীরও আধিপত্যের কথা উল্লেখিত হয়েছে)। তথাপি আকাঙ্ক্ষাবিশেষের যোগ্য দেবতাবিশেষের বিষয় কথিত হচ্ছে) ঐশ্বর্যসিদ্ধির কামনায় বায়ুদেবতাকে এই পশু অর্পণ করা কর্তব্য; কারণ বায়ু হলেন ক্ষেপনকারী (ক্ষেপিষ্ঠা) দেবতা, সুতরাং যিনি বায়ুদেবতার উদ্দেশে তার ভাগধেয় সহ গমন করেন, তিনি ঐশ্বর্যসিদ্ধি লাভ করেন। কৃষিবলের অর্থাৎ শস্যসমৃদ্ধির দ্বারা প্রতিষ্ঠাকামী যজমান দ্যাবাপৃথিবীর উদ্দেশে এই বশাকে অর্পণ করবেন; এর ফলে মেঘ বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং তাতে ওষধিসমূহ উৎপাদিত হওয়ায় যজমান শস্যশালী হয়ে থাকেন। অন্নসমৃদ্ধি ও তার ভোগের সামর্থপ্রাপ্তির কামনায় সোমের উদ্দেশে এই অজাকে অর্পণ করা কর্তব্য; তার ফলে যজমান অন্ন ইত্যাদি ও অনুভক্ষণের সামর্থ্য (অন্নাদ্যমন্নভক্ষণসামর্থ্য) লাভ করবেন। বেদশাস্ত্রে পারগত (অর্থাৎ সমর্থ) হওয়া সত্ত্বেও যিনি সভা ইত্যাদিতে (অর্থাৎ জনগণের সম্মুখে) যিনি কথা বলতে ভয়ে কম্পিত হন, তিনি দেবী সরস্বতীর উদ্দেশে এই পশু অর্পণ করলে অর্থাৎ ভাগধেয় সহ গমন করলে সরস্বতী তাঁর ভাগধেয় প্রাপ্ত হয়ে তাকে বাক্ (বা বাকশক্তি) দান করে থাকেন। যে ফল (সাফল্য) উপায়ান্তরে (অর্থাৎ অন্য কোন পদ্ধতিতে) সম্পাদিত হয় না, তা সম্পাদনের কামনায় প্রজাপতির উদ্দেশে এই পশু অর্পণ করা কর্তব্য; তার ফলে প্রজাপতি সকল দেবতার দ্বারা যজমানকে সেই ফলের দ্বারা জয়যুক্ত করে দেন (অর্থাৎ সাফল্য দান করেন)। আকুত্যা এই মন্ত্র উচ্চারণ পূর্বক জিহ্বাগ্রের দ্বারা ধ্বনিবিশেষ (কিক্কিটাকার) সৃষ্টি করে পশু অর্পণ করা কর্তব্য। কিকিটাকার এই ধ্বনিদ্বারা গো-মহিষ ইত্যাদি গ্রাম্য পশুগণ ক্রীড়া করে, আরণ্যক পশুগণ প্রকৃষ্টভাবে পলায়ন করে। এই কারণে এই ধ্বনি গ্রাম্য পশুগণের নিমিত্তই করতে হয়। উম্মুকের (অর্থাৎ জ্বলন্ত অঙ্গারের) দ্বারা পশুর প্রদক্ষিণাবৃত্তিকে (প্রদক্ষিণ প্রত্যাগমন ইত্যাদিকে) পর্যগ্নিকরণ বলা হয়, এই পর্যগ্নিকরণের সময়ে এই পশুর যাগ করণীয়; তার ফলে সেই পশুর জীবনযুক্ত অবস্থায় স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে। মন্ত্রের মধ্যে মন ইত্যাদির সাথে প্রজাপতি ইত্যাদি দেবতার উদ্দেশে আহুতি সমর্পণের কথা অভিহিত হয়েছে। নীয়মান পশুর অনুমন্ত্রণের মন্ত্রে দেবতাগণের নিকট গমন করো (দেবান্ গচ্ছেতাস্য) এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত (কথিত) হয়েছে।–যজমান যাতে বিঘুরহিত ভাবে এই যজ্ঞের কর্মসমূহ সমাপ্ত করতে পারেন (অর্থাৎ তার মুখ্য কামনাগুলি যাতে বাধাহীন ভাবে যজ্ঞসমাপ্তির দ্বারা ফলপ্রাপ্ত হতে পারে) তার নিমিত্ত অধ্বর্য কামাঃ সত্যাঃ সন্তু অর্থাৎ কামনাসমূহ সত্য হোক এই মন্ত্র পাঠ করে থাকেন। হন্যমানের (অর্থাৎ যাকে বধ করা হচ্ছে) অনুমন্ত্রণের মন্ত্রে পৃথিব্যা সিদেতি অর্থাৎ পৃথিবীতে অবস্থান করো ইত্যাদি মন্ত্রের তাৎপর্য দেখানোনা হয়েছে।–অজা হয়ে তুমি সেই সেই লোকে প্রতিষ্ঠিত হও-এই মন্ত্রভাগের চরম তাৎপর্য এই যে, দেবতাগণের প্রিয়ত্ব হেতু অজা ইত্যাদির সেই সেই লোকে (অর্থাৎ স্বর্গ ইত্যাদি লোকে) প্রতিষ্ঠা এবং যজমানের নিমিত্ত স্বর্গের প্রকাশ উৎপাদিত হোক। বপা হোমের (অর্থাং হত পশুর মেদঃ বা চর্বির দ্বারা কৃত হোমের) মন্ত্রে এই পথ শব্দে লোকসমূহ বিবক্ষিত দেখানো হয়েছে–এখানে লোক অর্থে ভানুমান অর্থাৎ সূর্য ইত্যাদি লোকের কথা উক্ত হয়েছে। মন্ত্রের শেষভাগে এই যজমানের নিমিত্ত স্বর্গলোক প্রকাশ করো (লোকাঞ্জ্যোতিষ্মতঃ করোতি) ইত্যাদি কথিত হয়েছে। হবির হোম মন্ত্রের তাৎপর্য দেখানো হয়েছে।–এখানে অণুম্বণ শব্দ উচ্চারণের দ্বারা বিধি অতিক্রম পূর্বক অনুষ্ঠিত অঙ্গের (অর্থাৎ উণের) শান্তির কথা ব্যক্ত হচ্ছে। এই মন্ত্রের উত্তরভাগে (শেষে) মনু শব্দটির প্রয়োগের তাৎপর্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- স্বায়ম্ভুব মনুর প্রজাপতিত্বরূপ, সুতরাং প্রজাপতি মনুর সৃষ্ট দৈবজন সকল প্রজাই মানব (মানব্যো) নামে অভিহিত হয়ে থাকে। অতএব এই মন্ত্রভাগের দ্বারা তাদের সকলকেই আদিভূত বলা হয়েছে। হবিঃশেষপ্রাশন (অর্থাৎ হবির শেষ ভক্ষণের) মন্ত্রে হবির শেষভাগের উদরগত হওয়ার নিমিত্ত মনঃ শব্দের প্রয়োগে বলা হচ্ছে-তুমি মনঃরূপ দেবতার হবিঃ (মনসো হবিরসি) ইত্যাদি। সেই মন্ত্রের উত্তরভাগে অভিলাষ ব্যক্ত হয়েছে–তোমার অঙ্গ ভক্ষণ করে (তে গাত্রভাজো) আমরা (অর্থাৎ যজমানগণ) পুষ্ট হবো। আমাদের (অর্থাৎ যজমানগণের অভিলাষ আশীর্বাদযোগ্য হোক (অর্থাৎ পূর্ণ হোক)। এর পর বশার আলম্ভের (বধের) পক্ষে বর্জনীয় দিন দেখানো হচ্ছে। এই বশার আলম্ভের দিন যদি আকাশ মেঘের আবরণের দ্বারা দুর্দিন (অর্থাৎ অশুভ) হয়, তবে সেই দিন এই বশার দ্বারা দেবযাগ যোগ্য হয় না। সেই নিমিত্ত যদি নিশ্চিতভাবে মনে হয় যে, এদিন মেঘ হবে না (অর্থাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হবে না), সেদিনই এই বশার আলম্ভ করণীয়। প্রমাদ বশে বশার আলম্ভ আরম্ভের পর যদি আকাশে মেঘদর্শন হয়, তবে যজমান সেদিন যজ্ঞবিঘাতের দরুন সবরকম ভোজ্যরহিত হয়ে শুধুমাত্র জলপান করে থাকবেন। এই বশার মুখ্য অধিকারী প্রতিপাদিত হচ্ছে।–তিনটি কর্মকারীর যে কোন একজন এই বশার অধিকারী (অর্থাৎ এই বশার আলম্ভনের কর্তৃত্ব প্রাপক)। কোন তিনজন, সেই প্রসঙ্গে উক্ত হয়েছে–প্রথমতঃ যিনি গবাময়ন ইত্যাদি রূপ সম্বৎসরব্যাপী সাধ্য সত্রের অনুষ্ঠানকারী, তিনি বশা-আলম্ভের অধিকারী। দ্বিতীয়তঃ, যিনি সহযাজী, অর্থাৎ সহস্ৰসংখ্যক দক্ষিণা যুক্তের দ্বারা যিনি যজ্ঞ করেন, তিনি এই বশা-আলম্ভের অধিকারী। তৃতীয়তঃ, যিনি গৃহমেধী, অর্থাৎ যিনি সম্বৎসরসাধ্য যজ্ঞে অর্বাচীন (অপ্রবীণ) হয়েও গৃহপতিত্বের দ্বারা দীক্ষিত হন, তিনি এই বশার আলম্ভনের অধিকারী। মোট কথা, এই তিন কর্মকারীই বশার দ্বারা যজ্ঞ অনুষ্ঠানের যোগ্য অধিকারী ॥৩৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন-চতুর্থানুবাকে জয়া উচ্যন্তে। অর্থাৎ–চতুর্থ অনুবাকে জয়া নামে আখ্যাত হোম-মন্ত্র উক্ত হয়েছে]

    .

    চতুর্থ অনুবাক

    মন্ত্র- চিত্তং চ চিত্তিশ্চাহকৃতং চাহকৃতিশ্চ বিজ্ঞাতং চ বিজ্ঞানং চ মনশ্চ শক্রীশ্চ দর্শশ্চ পূর্ণমাসশ্চ বৃহচ্চ রথন্তরং চ প্রজাপতির্জয়া নিদ্রায় বৃষ্ণে প্রাযচ্ছদুগ্রঃ পৃতজ্যেষু তস্মৈ বিশঃ সমনমন্ত সৰ্বাঃ স উগ্রঃ স হি হবো বভূব দেবাসুরাঃ সংযত্তা আসৎ স ইন্দ্রঃ প্রজাপতিমুপাথাবত্তস্মা এতাঞ্জয়া প্রাযচ্ছত্তানজুহোত্ততো বৈ দেবা অসুনজয়ন্যদজয়ন্তর্জয়ানাং জয়ত্বং স্পর্ধমানেনৈতে হোতব্যা জয়ত্যেব তাং পৃতনাম ॥৪৷৷

    মর্মার্থ- অগ্রে (আদৌ) জয়-সংজ্ঞক এয়োদশ মন্ত্র পঠিত হচ্ছে–চিত্তং চ তিত্তিশ্চাহকুতং চাকুতিশ্চ ইত্যাদি (অর্থাৎ চিত্ত, চিত্তি, আকুত, আকৃতি, বিজ্ঞাত, বিজ্ঞান, মন, শর্করী, দর্শ, পূর্ণমাস, বৃহৎ, রথন্তর ও প্রজাপতি)। সামান্যভাবে নির্বিকল্পক জ্ঞানের দ্বারা প্রতীত বস্তু চিত্ত (সামান্যাকারেণ নির্বিকল্পকনেন প্রতীতং বস্তু চিত্তং)। এই চিত্ত আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন চিত্তকে জয় করি)–এটাই বাক্যের অর্থাৎ চিত্ত শব্দের অর্থ। এইভাবে সব মন্ত্র-শব্দের পরে যোজিতব্য। যেমন–চিত্তি হলো নির্বিকল্পক জ্ঞান, এই নির্বিকল্পক জ্ঞান আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন নির্বিকল্প জ্ঞানকে জয় করি)। আকৃষ্ট হলো সঙ্কল্পিত বস্তু; এই সঙ্কল্পিত বস্তু আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন সঙ্কল্পিত বস্তুকে জয় করতে পারি)। আকুতি হলো সঙ্কল্প; এই সঙ্কল্প আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন সঙ্কল্পকে জয় করি)। বিজ্ঞাত হলো বিশেষ আকারে বা রকমের দ্বারা নিশ্চিত বস্তু। এই বস্তু আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন বিশেষকারে নিশ্চিত বস্তু লাভ করি। বিজ্ঞান হলো সেই বিষয়ে নিশ্চয় (তন্নিশচয়ং); সেই বিজ্ঞান আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন বিজ্ঞানকে জয় করি)। মন হলো জ্ঞানসাধন অন্তঃকরণ (জ্ঞানসাধনমন্তঃকরণ), সেই মন আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন মনকে জয় করতে পারি)। শঙ্করী হলো চক্ষু ইত্যাদি বাহ্য ইন্দ্রিয়গুলির শক্তি; এই শরী আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন আমার বাহ্যিক ইন্দ্রিয়সমূদয়ের শক্তিকে জয় করতে পারি)। দর্শ ও পূর্ণমাস দুটি যাগবিশেষের নাম, এই দর্শপূর্ণমাস যাগদ্বয় আমার হোক (অর্থাৎ আমি যেন এই যাগদুটিকে জয় করতে পারি বা এই যাগদুটি যেন সার্থকভাবে আমার দ্বারা নিষ্পন্ন হতে পারে)। বৃহৎ ও সাম দুটি সামের নাম (বৃহদ্রথরে সামনী); আমি যেন এই সামদ্বয়কে জয় করতে পারি (বা এই দুই গান দুটি যেন আমার দ্বারা সুষ্ঠুভাবে গীত হতে পারে)। প্রজাপতি সংগ্রামের অভিমুখে গমনেচ্ছু বর্ষণকারী উগ্র ইন্দ্রদেবকে জয়ের হেতুস্বরূপ এই মন্ত্রগুলি প্রদান করেছিলেন। সেই হতে সকল প্রজা (দেবতা মানব ইত্যাদি সকলে) সঙ্গত ভাবে ইন্দ্রের অধীন হয়েছিল (অর্থাৎ ইন্দ্র কর্তৃক সকলে বিজিত হয়েছিলেন) এবং ইন্দ্র সকল প্রজার উগ্র শিক্ষক (অর্থাৎ প্রচণ্ড শাসনকর্তা) হয়েছিলেন। যেহেতু সেই ইন্দ্রদেব হোমযোগ্য, সেই নিমিত্ত সেই ইন্দ্রের প্রতি প্রজাপতির এই অনুগ্রহ উপযুক্ত। অতঃপর এই মন্ত্রগুলির দ্বারা হোম নিষ্পন্ন করার বিষয় কথিত হয়েছে। বলা হয়েছে–একদা দেবতা ও অসুরগণ যুদ্ধ করবার উদ্দেশ্যে মিলিত হয়েছিলেন। ইন্দ্র প্রজাপতির উদ্দেশে ধাবিত হয়ে তার নিকট উপস্থিত হলেন। তখন প্রজাপতি এই জয়সুচক (বা জয় নামক) মন্ত্ৰসমূহ ইন্দ্রকে দান করলেন। অতঃপর এই মন্ত্রসমূহের দ্বারা দেবতাগণ অসুরবৃন্দকে জয় করেছিলেন। যে মন্ত্রসমূহের দ্বারা জয় করা হয়, অর্থাৎ যে মন্ত্রগুলি জয়ত্ব হেতু প্রযোজ্য হয়, সেগুলি জয়াখ্যা বা জয়নামক মন্ত্র। স্পর্ধমান (অর্থাৎ স্পর্ধিত) শত্রুর সৈন্যকে (পৃতনাম) জয় করার নিমিত্ত জয়দায়ক মন্ত্রে হোম কর্তব্য। (পৃতনা অর্থে নির্দিষ্ট সখ্যাবিশিষ্ট রথ-হস্তি প্রভৃতি সৈন্যবিশেষ) ॥৪॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ পঞ্চমেহব্যাতানা উচ্যন্তে। অর্থাৎ–পঞ্চম অনুবাকে অভ্যাতান মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে।]

    .

    পঞ্চম অনুবাক

    মন্ত্র- অগ্নির্ভূতানামধিপতিঃ স মাহবত্বিন্দ্রো জ্যেষ্ঠানাং যমঃ পৃথিব্যা বায়ুরন্তরিক্ষস্য সুৰ্য্যো দিবশ্চমা নক্ষত্রাণাং বৃহস্পতিব্রহ্মণো মিত্রঃ সত্যানাং বরুণোহপাং। সমুদ্রঃ স্রোত্যানামন্নং সামাজ্যানামধিপতি তন্মাহবতু সোম ওষধীনাং সবিতা প্রসবানাং রুদ্রঃ পশুনাং ত্বষ্টা রূপাণাং বিষ্ণুঃ পৰ্বৰ্তানাং মরুল গণানামধি পতয়স্তে মাহবন্তু পিতরঃ পিতামহাঃ পরেহবরে ততাস্ততামহ ইহ মাহবত। অস্মিন্ত্রহ্মঃস্মিন্ ক্ষত্রেহস্যামাশিষ্যস্যা পুরোধায়ামস্মিন্ কৰ্ম্মন্নস্যাং দেবহুত্যা৷ ৫৷৷

     মর্মার্থ- এই অগ্নি প্রাণিবর্গের অধিপতি তথা স্বামী। এইরকম অগ্নি আমাকে রক্ষা করুন (স তাদৃশো মামবতু)। এইরকম জ্যেষ্ঠ বা বৃদ্ধতম লোকপালগণের অধিপতি ইন্দ্রদেব আমাকে রক্ষা করুন (অধিপতিঃ মাহবত)। পৃথিবীর অধিপতি যম (যম শব্দের দ্বারা অগ্নিবিশেষকে বোঝাচ্ছে) আমাকে রক্ষা করুন। অন্তরীক্ষের (অর্থাৎ আকাশের) অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ বায়ু আমাকে রক্ষা করুন। দ্যুলোকের (অর্থাৎ স্বর্গের) অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ সূর্যদেব আমাকে রক্ষা করুন। নক্ষত্রসমূহের অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ চন্দ্র দেবতা আমাকে রক্ষা করুন। ব্রাহ্মণজাতিবর্গের অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ বৃহস্পতি দেবতা আমাকে রক্ষা করুন। সত্যবচনের অধিপতি মিত্রদেব আমাকে রক্ষা করুন। কূপ ইত্যাদিতে স্থিত স্থির জলের অধিপতি বরুণ দেবতা আমাকে রক্ষা করুন। স্রোতযুক্ত নদীপ্রবাহে স্থিত জলের অধিপতি সমুদ্র দেবতা আমাকে রক্ষা করুন। সাম্রাজ্যের অর্থাৎ সার্বভৌম রাজভোগ্য দ্রব্যসমূহের অধিকারী (স্বামী) অন্ন দেবতা আমাকে রক্ষা করুন। ওষধিসমূহের অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ সোমদেব আমাকে রক্ষা করুন। প্রসব অর্থাৎ অনুজ্ঞা বা উৎপত্তির অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ সবিতাদেব আমাকে রক্ষা করুন। পশুগণের অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ রুদ্রদেবতা আমাকে রক্ষা করুন। রূপের অধিপতিরূপে প্রসিদ্ধ ত্বষ্টাদেব আমাকে রক্ষা করুন। গোবর্ধন ইত্যাদি পর্বতসমুহের অধিপতি বিষ্ণুদেব আমাকে রক্ষা করুন। মরুৎ-বর্গ, যাঁরা আদিত্য বসু ইত্যাদি গণদেবতাগণের অধিস্বামী, তাঁরা আমাকে রক্ষা করুন। এইভাবে পিতৃগণ, পিতামহগণ এবং সপিণ্ড অর্থাৎ সপ্তপুরুষান্তবতী পিতৃপুরুষগণ আমাদের রক্ষা করুন। হে পিতৃগণ (পিত্রাদয়ো)! আপনারা সেই সেই বিষয়ে আমাদের রক্ষা করুন। (কোন্ কোন্ বিষয়ে? না,) ব্রাহ্মণজাতির দ্বারা শুদ্ধিকৃত ও ক্ষত্রিয়ের দ্বারা শাসনীয় বা পালনীয় এই প্রজা ও পশুরূপ ফলে (অর্থাৎ প্রাপ্ত ফলের বিষয়ে) পুরস্করণরূপ এ প্রধান কর্মের বা যজ্ঞের সাধন বিষয়ে, এবং দেবতাগণের প্রতি আমাদের আহ্বানের বিষয়ে আপনারা আমাদের রক্ষা করুন। (এতেষু সর্বেষু বিষয়েষু মাং রক্ষত) ॥৫॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ ষষ্ঠে তদ্ধোমবিধিরাভিধীয়তে। অর্থাৎ-ষষ্ঠ অনুবাকে অভ্যাতান মন্ত্রের দ্বারা কৃত হোমের বিষয় কথিত হয়েছে।]

    .

    ষষ্ঠ অনুবাক

    মন্ত্র- দেবা বৈ যদ্যজ্ঞেইকুব্বত তদসুরা অকুব্বত তে দেবা এতানভ্যাতানানপশ্যন্তা নভ্যাতন্বত যদেবানাং কৰ্ম্মাহসীদাৰ্দ্ধত তদ্যদসুরাণাং ন তদাৰ্দ্ধ্য যেন কৰ্ম্মণেসেৰ্ত্ত হোতব্যা ঋপ্লেত্যেব তেন কৰ্ম্মণা যদ্বিষে দেবাঃ সমভরন্ত দভ্যাতানা বৈশ্বদেবা যৎ প্রজাপতির্জয়া প্রাযচ্ছত্তস্মাজ্জয়াঃ প্রাজাপত্যাঃ যদ্রাষ্ট্রভৃঙী রাষ্ট্রমাহদদত তদ্ৰাষ্ট্ৰভৃতাং রাষ্ট্রভৃত্তং তে দেবা অভ্যাতানৈরসুরান ভ্যাতন্বত জয়ৈরজয়ন্ রাষ্ট্রভৃত্তী রাষ্ট্ৰমাহদদত যদ্দে অভ্যাতানৈরসুরান ভ্যাতন্বত তদভ্যাতানানামভ্যাতানত্বং যজ্জয়েরজয়ন্তজ্জয়ানাং জয়ত্বং যদ্রাষ্ট্রভৃত্তী রাষ্ট্রমাহদদত তদ্ৰাষ্ট্ৰভৃতাং রাষ্ট্রভূত্বং তো দেবা অভব পরাহসুরা যো ভ্রাতৃব্যবাৎ স্যাৎ স এতাহুয়াদভ্যাতনৈরেব ভ্রাতৃব্যানভ্যাতনুতে জয়ৈজঁয়তি রাষ্ট্রী রাষ্ট্রমা দত্তে ভবত্যাত্মনা পরাহস্য ভ্রাতৃব্যো ভবতি ॥৬৷

    মর্মার্থ- অভ্যাতান নামে আখ্যাত মন্ত্ৰসমূহ যজ্ঞকর্মে সমৃদ্ধি লাভের হেতুস্বরূপ, এইটি দর্শন করে (অর্থাৎ বিজ্ঞাত হয়ে) দেবগণ সেই মন্ত্রগুলির দ্বারা হোমানুষ্ঠান করেছিলেন; বলা বাহুল্য, তার ফলে দেবগণের কর্ম সমৃদ্ধ হয়েছিল; আর সেই হোমের অভাবে (অর্থাৎ অভ্যাতনমন্ত্রে হোম না করার ফলে) অসুরগণের কর্ম সমৃদ্ধ হলো না। যিনি কর্মের সমৃদ্ধি ইচ্ছা করবেন, তাঁর পক্ষে এই মন্ত্রের দ্বারা যাগ করা কর্তব্য; তার ফলে সমৃদ্ধি প্রাপ্ত হওয়া যায়। যেহেতু সকল দেবগণও পূর্বোক্ত প্রকারের দ্বারা অভ্যাতান মন্ত্ৰসমূহ সম্পাদিত করেছিলেন, সেই হেতু এগুলিকে বৈশ্বদেব (অর্থাৎ সকল দেবতার দ্বারা উদ্দিষ্ট) বলা হয়। যেমন ইন্দ্রদেবকে প্রজাপতি জয় নামক মন্ত্র প্রদান করেছিলেন, সেই নিমিত্ত দেবতাগণকে প্রাজাপত্য বলা হয়ে থাকে। যেমন উপরিতন (অর্থাৎ পূর্বের) অনুবাকে কথিত রাষ্ট্রভৃৎ সংজ্ঞাক মন্ত্রের দ্বারা দেবগণ অসুর-সম্বন্ধি রাষ্ট্র (অর্থাৎ অসুরগণের রাজ্য) জয় করেছিলেন বলে তারা (দেবগণ) রাষ্ট্রভৃৎ নামে অভিহিত হয়ে থাকেন। দেবতাগণ প্রথমে অভ্যাতন মন্ত্রের দ্বারা অসুরগণকে বশীভূত করেন (বশীকৃত্য), তারপর জয় মন্ত্রের দ্বারা তাদের (অসুরগণের) ঐশ্বর্য বিনষ্ট করেন (বিনষ্টেশ্বর‍্যা কৃত্ব), তারপর রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা তাদের (অসুরগণের) নিবাসস্থান (রাজ্য) অপহরণ করেন। অভ্যাতান এই শব্দের অর্থ যার অভ্যাতনত্ব আছে, অর্থাৎ যার দ্বারা বিস্তার লাভ করা যায়। (অভি উৎকর্ষ, আতত বিস্তৃত)। যার দ্বারা জয় করা তা জয় (জয়ান্ত্যোভিরিতি জয়ত্ব)। যার দ্বারা রাষ্ট্রকে আপন অধিকারভূক্ত করা হয়, তার নাম রাষ্ট্রভৃৎ (এভিরিতি রাষ্ট্রভৃত্ব)। একত্রভাবে অভ্যাতন জয় ও রাষ্ট্রভৃৎ এই তিনটি মন্ত্রের দ্বারা হোম অনুষ্ঠিত করে দেবগণ বিজয়ী হয়েছিলেন এবং অসুরগণ পরাভূত হয়েছিল। যিনি শত্ৰুবর্গকে বশীভূত করতে অভিলাষ করেন, তাঁর পক্ষে অভ্যাতন নামক যাগ কর্তব্য; যিনি অপরের বা শত্রুর ঐশ্বর্য বিনাশ করতে আকাঙ্ক্ষা করেন, তাঁর পক্ষে জয় নামক যাগ করণীয়। যিনি অপরের বা শত্রুর রাষ্ট্র আপন অধিকারভুক্ত করতে কামনা করেন, তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রভৃৎ যাগ বিধেয়। যিনি এই তিন প্রকার ফল একত্রে সিদ্ধ করতে ইচ্ছা করেন তিনি মিলিতভাবে এই তিনটি যাগের সমুচিত অনুষ্ঠান করলে নিজে বিজয়লাভ করবেন এবং শত্রুগণ পরাজিত হবে। (তত্রিবিধফলসিদ্ধ্যর্থং ত্রিবিধান সমুচ্চিত্য জুয়া) ॥৬॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ সপ্তমে রাষ্ট্রভৃন্মন্ত্র উচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই সপ্তম অনুবাকে সমস্ত রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে।]

    .

    সপ্তম অনুবাক

    ঋতাষাড়তধামাইগ্নিৰ্গন্ধৰ্ব্বস্তসৌষধয়োহরস উজ্জো নাম স ইদং ব্ৰহ্ম ক্ষত্ৰং পাতু তা ইদং ব্ৰহ্ম ক্ষত্ৰং পান্তু তস্মৈ স্বাহা ভ্যঃ স্বাহা সংহিতো বিশ্বসামা সূৰ্য্যো গন্ধৰ্ব্বস্তস্য মরীচয়োহরস আয়ুবঃ সুষুম্নঃ সূৰ্য্যরশ্মিশ্চন্দ্রমা গন্ধৰ্ব্বস্তস্য নক্ষত্রা ণ্যরসো বেকুরয়ো ভুজুঃ সুপর্ণো যজ্ঞো গন্ধৰ্ব্বস্তস্য দক্ষিণা অপ্সরসঃ বাঃ প্রজাপতির্বিশ্বকৰ্মা মনঃ গন্ধৰ্ব্বস্তস্য কামান্যঙ্গরসো বয় ইষিত্রে বিশ্বব্যচা বাতো গন্ধৰ্ব্বস্তস্যাহপোহরসো মুদা ভুবনস্য পতে যস্য ত উপরি গৃহা ইহ চ। স নো রাস্বাজ্যানিং রাষম্পোষং সুবীৰ্য্য সম্বৎসরীণাং স্বস্তি। পরমেষ্ঠ্যধিপতি মৃত্যুর্গন্ধৰ্ব্বস্তস্য বিশ্বমন্সরসো ভুবঃ সুক্ষিতিঃ সুভূতির্ভদ্রকৃৎ সুবৰ্বান পর্জন্যো গন্ধৰ্ব্বস্তস্য বিদ্যুতোহরসো রুচো দূরেহেতিরমৃড়য়ঃ মৃত্যুর্গন্ধৰ্ব্বস্তস্য প্রজা অক্ষরসো ভীরুবশ্চারুঃ কৃপণকাশী কামো গন্ধৰ্ব্বস্ত স্যাহধয়োন্সরসঃ তস্মৈ শোয়স্তীর্নাম স ইদং ব্ৰহ্ম ক্ষত্ৰং পাতু তা ইদং ব্রহ্ম ক্ষত্রং পান্তু স্বাহা ভ্যঃ স্বাহা।। স নো ভুবনস্য পতে যস্য ত উপরি গৃহা ইহ চ।। উরু ব্ৰহ্মণেহস্মৈ ক্ষত্রায় মহি শৰ্ম্ম যচ্ছ ॥৭৷৷

    মর্মার্থ- সত্যের দ্বারা সকল মিথ্যাকে পরাভব করেন যিনি, অথবা ঋতের অর্থাৎ সত্যের দ্বারা আবৃত আছে যাঁর ধাম বা স্থান (ঋতশব্দবাচ্যং ধামাং স্থানং যস্যাসাবৃতধামা), তিনি ঋতধাম; এই রকম ঋতধাম অগ্নি নামে অভিহিত কোন গন্ধর্বের ওষধিদেবতারূপিনী অপ্সরাবর্গ প্রিয় ভার‍্যা আছেন এবং তারা (অর্থাৎ ঐ ভার্যাগণ) উৰ্দ্ধ (অর্থাৎ বলবন্ত বা প্রাণবন্ত) নামধারিণী। সেই গন্ধর্ব এই বৃহৎক্ষত্র অর্থাৎ বৃহৎ ফলদানে সমর্থ কর্ম বা হবিঃ রক্ষা করুন (অর্থাৎ ফল পর্যবসিত করুন) সেই অপ্সরাগণও এই ব্রহ্মকর্ম (অর্থাৎ বেদবিহিত যজ্ঞকর্ম রক্ষা করুন। সেই গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণের উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। বিশ্বের সামান্য কিছুরও অনুসন্ধান যাঁর আয়ত্তে আছে, তিনি বিশ্বসামা। এইরকম বিশ্বসামা সূর্য নামে কোনও গন্ধর্বের আয়ুব (অর্থাৎ শীঘ্র গমনকারিণী) নামে অভিহিতা কিরণ বা প্রভার দেবতারূপিণী প্রিয় ভার‍্যা আছেন। সেই ভার্যাগণ সহ গন্ধর্বকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। তারা আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। সুষুম্ন অর্থাৎ সুখস্বরূপ ও সূর্যরশ্মিতুল্য জ্যোতিষ্মন্ চন্দ্রমা নামক কোনও গন্ধর্বের নক্ষত্ৰতুল্য শরীরধারিণী (চিত্তের বিকার ঘটাতে পটুতার নিমিত্ত) বেকুরি নামিকা ভার্যাগণকে ও গন্ধর্বকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। তারা আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। ভুজু অর্থাৎ যিনি বিশ্বের পালক। এইরকম পক্ষীর ন্যায় আকাশগামী বিশ্বপালক যজ্ঞ নামক কোনও গন্ধর্বের দক্ষিণাদেবতারূপা স্তবা নামধারিণী ভার্যাবর্গ আছেন। তাঁদের (অর্থাৎ সেই গন্ধর্ব ও তার ভার্যাগণকে) স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি। তারা আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। প্রজাপতি অর্থাৎ যিনি প্রজাগণের পালক; বিশ্বকর্মা অর্থাৎ বিশ্বের সকল কর্ম যিনি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন। এইরকম প্রজাপালক ও বিশ্বকর্মী মনো নামক কোনও গন্ধর্ব আছেন; ঋক-সামদেবতারূপিণী তাঁর ভার্যাগণ প্রভূত সৌন্দর্যের নিমিত্ত বহ্ন নামে অভিহিতা। সেই গন্ধর্বকে ও তার ভার্যাগণকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তারা আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। যা ইষ্যমাণ (অর্থাৎ অভিলষিত) বস্তুর সম্পাদনকারী, তা ইষিররা; যিনি সর্বত্র গমনশীল, তিনি বিশ্বব্যচ, এইরকম ইষ্যমাণ বস্তুর সম্পাদক ও সর্বত্র গমনকারী বাত নামক কোন এক গন্ধর্ব আছেন, যাঁর মুদা (হর্ষযুক্তত্বার নিমিত্ত এই) নামধারিণী ভার্যাবর্গ আছেন। সেই গন্ধর্বকে ও তাঁর ভার্যাগণকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তার আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। হে ভুবনের (অর্থাৎ সর্বলোকের) পতি! অন্তরীক্ষ, দ্যুলোক ও পৃথিবীতে আপনার গৃহ আছে (গৃহাঃ সন্তি)। আপনি আমাদের নিমিত্ত বয়স (দীর্ঘ আয়ু), ধনপুষ্টি, সুবীর্য অর্থাৎ শোভন পুত্র, ও সম্বৎসরজীবন পরিমিত (সমগ্র জীবনব্যাপী) সমৃদ্ধি প্রদান করুন। পরমে অর্থাৎ সর্বোত্তম স্থানে অবস্থানকারী যিনি, তিনি পরমেষ্ঠি; যিনি অধিকরূপ ফলের পতি, তিনি অধিপতি। এইরকম পরমেষ্ঠি ও অধিপতি মৃত্যু নামধারী কোন গন্ধর্ব ও বিশ্বাভিমানিনী দেবতারূপিণী তার ভার্যাগণ সর্বদা বর্তমানত্বের কারণে ভুব নামে অভিহিত হয়ে আছেন। সেই গন্ধর্ব ও তার ভার্যাগণকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তারা আমাদের এই কর্ম রক্ষা করুন। শোভন ভূমিস্থানে (অর্থাৎ সমীচীন নিবাসস্থানে) যিনি বাস করেন, তিনি সুক্ষিতি; শোভনা ভূতি বা ঐশ্বর্য যাঁর, তিনি সুভূতি; যজমানের ভদ্র অর্থাৎ কল্যাণ করেন করেন যিনি, তিনি ভদ্রকৃৎ; সুবঃ অর্থাৎ স্বাধীনভাবে স্বর্গলোকে যিনি থাকেন, তিনি সুবর্বান্। এইরকম সুক্ষিতি, সুভূতি, ভদ্রকৃৎ ও সুবর্বাপী পর্জন্য নামক কোন গন্ধর্ব আছেন; বিদ্যুৎদেবতারূপিণী তার ভার্যাগণের নাম রুচ। এই হেন পর্জন্য নামক গন্ধর্ব ও তার ভার্যাগণের উদ্দেশে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তারা আমার এই কর্ম রক্ষা করুন। দূরে অবস্থিত থেকেও যিনি প্রহার সাধনের নিমিত্ত হেতি (অর্থাৎ অস্ত্র ধারণ করেন, তিনি দূরেহেতি; নামশ্রবণমাত্রেই যিনি সুখের নিবর্তন করেন, তিনি মৃড়য়। এইরকম দূরেহেতি ও মৃড়য় কোন এক গন্ধর্ব আছেন, তার নাম মৃত্যু, এই গন্ধর্বের ভার্যাগণ প্রজাভিমানিনী দেবতারূপিণী ভীরু (মৃত্যুর কারণে ভীতা) নামে অভিহিতা। সেই গন্ধর্ব ও তার ভার্যাগণকে স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তারা আমার এই কর্ম রক্ষা করুন। রমণীয় চরণোপেতত্বের নিমিত্ত যাঁর রমণীয় শরীর, তিনি চারু; ইন্দ্রিয়ের নিমিত্ত যাঁর কাম প্রকাশমান, তিনি কৃপণকাশী। এইরকম চারু ও কৃপণকাশী কোন এক গন্ধের্বের নাম কাম, এবং বিষয়াভিলাষের নিমিত্ত চিত্তক্লেশের অভিমানিনী দেবতা শোচয়ন্তী নাম্নী তার ভার্যাগণের উদ্দেশে আমি স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করছি; তারা আমার এই কর্ম রক্ষা করুন। হে ভুবনের অর্থাৎ সর্বলোকের পতি বা পালক! উপরিতল লোকত্বয়ে (অর্থাৎ অন্তরীক্ষ ও দ্যুলোকে) এবং পৃথিবীলোকে আপনার গৃহ আছে, আপনি আমাদের বিপুল সুখ প্রদান করুন (বিপুলং শর্ম যচ্ছ); ব্রাহ্মণজাতি ও সমর্থ ক্ষত্রিগণকে অধিক (মহৎ) সুখ প্রদান করুন ॥৭॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথষ্টমে তেষাং কাম্যাঃ প্রয়োগা উচ্যন্তে। অর্থাৎ-সপ্তম অনুবাকে যে রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে, এই অষ্টম অনুবাকে সেগুলির কাম্য প্রয়োগ উক্ত হয়েছে।]

    .

    অষ্টম অনুবাক

    মন্ত্র- রাষ্ট্রকামায় হোতব্যা রাষ্ট্রং বৈ রাষ্ট্রভূতো রাষ্ট্রেণৈবান্মৈ রাষ্ট্রমব রুন্ধে রাষ্ট্রমেব ভবেত্যাত্মনে হোতব্যা রাষ্ট্রং বৈ রাষ্ট্রভৃতে রাষ্ট্রং প্রজা রাষ্ট্রং পশবো রাষ্ট্রং যচ্ছুষ্ঠো ভবতি রাষ্ট্রেণৈব রাষ্ট্রমব রুন্ধে বসিষ্ঠঃ সমানানাং ভবতি গ্রামকামায় হোতব্যা রাষ্ট্রং বৈ রাষ্ট্রভৃতে রাষ্ট্রং সজাতা রাষ্ট্রেণৈ বাম্মৈ রাষ্ট্রং সজাতানব রুন্ধে গ্রামী এব ভবত্যধিদেবনে জুহোত্যধিদেবন এবাস্মৈ সজাতানব রুন্ধে ত এনমবরুদ্ধা উপ তিষ্ঠন্তে রঞ্চমুখ ওজস্কামস্য হোতব্যা ওজো বৈ রাষ্ট্রভৃত ওজো রথ ওজসৈবাশ্ম ওজোহব রুন্ধ ওজষ্যেব ভবতি। যো রাষ্ট্রদপভূতঃ স্যাত্তস্মৈ হোতব্যা যাবন্তোহস্য রথাঃ স্যুস্তান্ ক্ৰয়াদুগ্ধব মিতি রাষ্ট্রমেবাস্মৈ যুক্তি আহুতেয়ো বা এতস্যাকুপ্তা যস্য রাষ্ট্রং ন কল্পতে স্বরথস্য দক্ষিণং চক্রং প্রবৃহ্য নাড়ীমভি জুহয়াদাহুতীরেবাস্য কল্পয়তি তা অস্য কল্পমানা রাষ্ট্রমনু কল্পতে সগ্রামে সংযত্তে হোতব্যা রাষ্ট্রং বৈ রাষ্ট্রভৃতে রাষ্ট্রে খলু বা এতে ব্যাযচ্ছন্তে যে সগ্রামং সংযন্তি যস্য পূর্বস্য জুহুতি স এব ভবতি জয়তি তং সঙগ্রামং মাক ইয়ঃ ভবত্যঙ্গারা এব প্রতিবেষ্টনামা অমিত্রাণামস্য সেনাং প্রতি বেষ্টয়ন্তি য উন্মাদ্যেত্তস্মৈ হোতব্যা গন্ধৰ্ব্বা পরসো বা এতমুম্মাদয়ন্তি য উন্মাদ্যত্যেতে খলু বৈ গনধৰ্বারসো যদ্ৰাষ্ট্ৰভৃতস্তস্মৈ স্বাহা ভ্যঃ স্বাহেতি জুহোতি তেনৈবৈনাময়তি। নৈয়গ্রোধ ঔদুম্বর আশ্বথঃ প্লাক্ষ ইতীঝো ভবত্যেতে বৈ গন্ধৰ্বাক্ষরসাং গৃহাঃ স্ব এবৈনা আয়তনে শময়ত্যভিচর প্রতিলোমং হোতব্যাঃ প্রাণানেবাস্য প্রচঃ প্রতি যৌতি তং তততা যেন কেন চ স্তণুতে স্বকৃত ইরিণে জুহোতি প্রদরে বৈতদ্বা অস্যৈ নিঋতিগৃহীতং নিঋতিগৃহীত এবৈনং নিঋত্যা গ্রাহয়তি যদ্বাচঃ কুরং তেন বষটুকরোতি বাচ এবৈনং কুরেণ প্র বৃশ্চতি তাজগার্তিমাচ্ছতি যস্য কাময়েতন্নাদ্যম আ দদীয়েতি তস্য সভায়ামুত্তাননা নিপদ্য ভুবনস্য পত ইতি তৃণানি সং গৃহ্নীয়াৎ প্রজাপতির্বৈ ভুবনস্য পতিঃ প্রজাপতিনৈস্যান্নাদ্যমা দত্ত ইদমহমনুষ্যাহমুয্যায়ণস্যান্নাদ্যং হরামীত্যাহান্না দ্যনেবাস্য হরতি ষড়ভিরতি ষড় ঋতবঃ প্রজাপতিনৈস্যান্নাদ্যমাদার ব্ৰবোহস্মৈ অনু প্র যচ্ছস্তি যো জ্যেষ্ঠবন্ধুরপভূতঃ স্যাত্তং স্থলেহবসায্য ব্রহ্মেদিনং চতুঃশরাবং পা তস্মৈ হোতব্যা বৰ্ম্ম বৈ রাষ্ট্রভৃতে বৰ্ম স্থলং বৰ্মণৈবৈনং সমানানা গময়তি চতুঃশরাবো ভবতি দিক্ষ্যে প্রতি তিষ্ঠতি ক্ষীরে ভবতি রুচমেবাস্মিন্দধাতৃদ্ধয়তি শৃতত্বায় সপিন ভবতি মেধ্যায় চত্বায় আর্ষেয়াঃ প্রান্তি দিশামেব জ্যোতিষি জুহোতি ॥ ৮

    মর্মার্থ- পূর্ববর্তী অনুবাকে উক্ত রাষ্ট্রভৃৎ-সংজ্ঞক মন্ত্রের দ্বারা রাষ্টপ্রাপ্তির হেতুভূত যাগের কথা বলা হয়েছে। এই হেতু সেই মন্ত্রের হোম-লক্ষণের দ্বারা অধ্বর্য কর্তৃক যজমানের নিমিত্ত ভূমি, বিশেষরূপে রাষ্ট্র, প্রাপ্তি সম্পন্নের কথা বলা হচ্ছে এবং সেই যজমান রাষ্ট্র লাভ করবেনও। মন্ত্রগুলির পূর্ববৎ সাধনে রাষ্ট্র প্রাপ্তি অর্থে প্রজা, পশু ও নিজের উৎকর্ষ বোঝায়, অর্থাৎ প্রজা ইত্যাদিও রাষ্ট্রত্ব। এই ভাবে (রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা হোম করলে) যজমান গ্রামস্বামিত্ব ও অপরাপর দেশের আধিপত্য লাভ করেন (অর্থাৎ এই মন্ত্র তাকে সকলের অধিপতি করে থাকে)। যজমানের ওজঃ অর্থাৎ বলের কামনায় রথের চাকার অগ্রভাগ (রহস্য যদীগ্রং) অগ্নির উপরে ধারণ করে রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা যাগ করণীয়। তাতে (অর্থাৎ রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্র ও যাগের, এই উভয়ের দ্বারা) বলকে যজমানের অধীন করা হয়; অর্থাৎ যজমান বল লাভ করেন। ভ্ৰষ্টরাষ্ট্র বা রাজ্যভ্রষ্ট হলে তা পুনঃপ্রাপ্তির নিমিত্ত যতগুলি রথ তার সবগুলিকে ততসংখ্যক ব্যক্তির দ্বারা একত্রিত করে প্রৈষ (প্রেরণীয় বা নিযযাজ্য) হোম কর্তব্য (প্রৈষং ক্ৰয়াৎ)। এই হোমের দ্বারা ভ্ৰষ্টরাজ্য পুনঃপ্রাপ্তি সম্পন্ন হয়। যদি রাজ্যলাভ করেও ইষ্টসাধন-সমর্থ না হওয়া যায় (অর্থাৎ রাজ্যভোগ-ক্ষম হতে না পারা যায়), তার নিমিত্ত প্রয়োগ-বিশেষের কথা বলা হয়েছে। রাজ্যভোগের নিমিত্ত পূর্বে যাগাহুতি দেওয়া সত্ত্বেও স্বকার্যক্ষম না হলে আপন রথের দক্ষিণ অগ্নির উপর ধারণ করে সেই চক্রের রন্ধ্রাভিমুখে অর্থাৎ ছিদ্রের প্রতি লক্ষ্য রেখে হোম কর্তব্য। সেই আহুতির দ্বারা স্বকার্যক্ষম হওয়া যায়; এই স্বকার্য সাধনের ক্ষমতাই রাজ্যভোগের সামর্থ্য প্রদান করে। রাষ্ট্রের নিমিত্তভূত কলহের কারণে যুদ্ধ উপস্থিত হলে, যিনি প্রথমে এই রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা হোমে প্রবৃত্ত হবেন, তিনিই এতে সামর্থ্য লাভ করবেন, অন্যে (অর্থাৎ তার পরে যাঁরা হোম করবেন, তারা) নয়। সেই সামর্থ্য লাভের অর্থ সংগ্রামে জয়লাভ করা। মধুবৃক্ষ সম্বন্ধী কাষ্ঠ বিশেষের নাম মান্ধুক। সেই কাষ্ঠের দ্বারা শ্ৰেীতাগ্নি (বেদসম্মত অগ্নি; যথা–গার্হপত্য, আহবনীয় ও দক্ষিণাগ্নি) প্রজ্বালন করণীয়। প্রজ্বলিত এই মধুককাষ্ঠজনিত অঙ্গার সেই যজমানের বিরোধীপক্ষীয় পুরুষদের অর্থাৎ সেনাগণের প্রত্যেককে বেষ্টন করে থাকে। ফলে পরকীয় (অপর পক্ষের) কটকে (অর্থাৎ সেনানিবেশে) অগ্নিপীড়া উপস্থিত হয়। (অর্থাৎ বিপক্ষীয় পুরুষ বা সৈন্যগণের দেহে জ্বর ইত্যাদি সন্তাপ জাত হয়)। অতঃপর উন্মাদগ্রস্ততা পরিহারের নিমিত্ত হোম-বিধি কথিত হচ্ছে।–যে পুরুষ উন্মত্ত হয়ে পড়ে, অর্থাৎ উন্মাদ রোগের দ্বারা আক্রান্ত হয়, তার প্রতিকারের নিমিত্ত এই রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা হোম করা উচিত। যেহেতু গন্ধর্ব-অপ্সরাগণ লোককে উন্মত্ত করে, সেই হেতু গন্ধর্ব-অপ্সরাগণের উদ্দেশে সেইভাবে রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা স্বাহা মন্ত্রে আহুতি প্রদান করতে হয়। এই উভয়বিধ (অর্থাৎ গন্ধর্ব ও অপ্সরাগণের উদ্দেশে স্বতন্ত্র) হোমের দ্বারা উন্মাদরোগের শান্তি করা হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রেও পূর্ববৎ অগ্নি প্রজ্বলনের নিমিত্ত কাষ্ঠবিশেষের কথা বলা হচ্ছে।–লোকপ্রসিদ্ধ ন্যগ্রোধ (বট), উদুস্বর (যজ্ঞডুমুর), অশ্বথ, প্লক্ষ (পাকুড়) এই সমস্ত বৃক্ষের কাষ্ঠ দ্বারা (ইন্ধনের দ্বারা) অগ্নি প্রজ্বালন করণীয়। আভিচারিক ক্রিয়ায় প্রতিলোম ক্রমে অর্থাৎ অন্ত্য হতে আদি ক্রমে (প্রতিলোম মন্ত্যাদিক্রমে) এই রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা হোম কর্তব্য। তাতে প্রতিকূল বা প্রতিপক্ষীয়গণ অনায়াসে বিনষ্ট হয়। আভিচারিক দেবতার আপন স্থানে ঊর্ষর বা সুষীররূপা (অর্থাৎ অনুর্বর বা বিবর বা গর্তময়) ভূমিতে নিঋতি (অলক্ষ্মী) দেবতার সাথে বষট্‌কারের দ্বারা (অর্থাৎ অগ্নিতে আহুতি প্রদানের মন্ত্রের দ্বারা) হোমানুষ্ঠান করলে প্রকর্ষের সাথে প্রতিপক্ষ ক্লেশ প্রাপ্ত হয়। শত্রুর অন্ন ইত্যাদি ভক্ষণের শক্তি হরণকামী হলে (অর্থাৎ বিনষ্ট করবার ইচ্ছা হলে) তার সভা হতে তৃণসমূহ সংগ্রহ করে প্রজাপতিৰ্বে ভুবনস্য পতি ইত্যাদি মন্ত্র পাঠ কর্তব্য। মন্ত্রসংখ্যা সম্বন্ধে বলা হচ্ছে–প্রজাপতি ছয় ঋতুতে অন্ন দান করেন বলে এই মন্ত্র ছয়বার পঠনীয়। পরকৃত (অর্থাৎ অপরের দ্বারা সৃষ্ট) ভয় পরিহারের নিমিত্ত কমান্তর-বিধি কথিত হচ্ছে।–উচ্চ স্থানে উপবেশন করে চারটি শরাবে অন্ন পাক করে রাষ্ট্রভৃৎ মন্ত্রের দ্বারা হোম করণীয়। শরাব সংখ্যা সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, যেহেতু দিকসংখ্যা চার, সুতরাং শরাব সংখ্যা হবে চারটি। পাকসাধন দ্রব্য সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, ক্ষীরের দ্বারা স্বাদুত্বম্ অন্ন বা চরু হলো পাকসাধন দ্রব্য। পাক সুপক্ক হলো কিনা তা দেখার বিধি সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, একটি দীর (অর্থাৎ হাতার) সাহায্যে সেই পমান অন্ন উত্তোলিত করে সুপক্ক হলো কিনা দেখতে হয়। পান্নের ঘৃতাপ্লুতত্ব সম্পর্কীয় বিধি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে–সর্পিৰ্ধা ভবতি মেধ্যত্বায় অর্থাৎ ঘৃতের দ্বারা আপ্লুত করে সেই পান্নকে শুদ্ধ করতে হয়। ঋষিসমান ব্যক্তির দ্বারা সেই হুতশেষের অন্ন ভক্ষণ সম্বন্ধে বলা হয়েছে–চতুর্দি সম্বন্ধি বহ্নিস্থানীয় চারজন ব্রাহ্মণ অতঃপর সেই হুতশেষ অন্ন ভক্ষণ করবেন (অতস্তৈঃ প্রাশিতমগ্নাবেব হুতং ভবতি) ॥৮॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ নবমে দেবিকাখ্যানাং রাজসুয়প্রকরণোৎপন্নানাং ধাত্রে পুরোডাশমিতাদিনাং পঞ্চহবিষমুকং কৃত্বা বহুবিধকাম্যপ্রয়োগো নিরূপ্যতে। অর্থাৎ–এই নবম অনুবাকে রাজসূয় যজ্ঞের প্রকরণে দেবিকা নামে আখ্যাত হোমের বিষয় কথিত]

    .

    নবম অনুবাক

    মন্ত্র- দেবিকা নিৰ্ব্বপেৎ প্রজাকামাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দাংসীব খলু বৈ প্রজাচ্ছন্দো ভিরেবান্মৈ প্রজাঃ প্র জনয়তি প্রথম ধাতারং করোতি মিথুনী এব তেন করোত্যন্বেবাশ্ম অনুমতিৰ্ম্মন্যতে রাতে রাকা প্র সিনীবালী জনয়তি প্রজাবে প্রজাতাসুকুরা বাচং দত্যেতা এব নিৰ্ব্বপেৎ পশুকামচ্ছন্দাংসি বৈ দেবিকা চ্ছন্দাংসি ইব খলু বৈ পশবচ্ছন্দোভিরেবাস্মৈ পশূন ৫ জনয়তি প্রথমং ধাতারং করোতি প্রৈব তেন বাপয়ত্যন্বেবাশ্ম অনুমতিৰ্ম্মন্যতে রাতে রাকা প্র সিনীবালী জনয়তি পশুনেব প্রজাতা কুন্থা প্রতিষ্ঠাপয়তেতা এব নিৰ্ব্বপেগ্ৰামকাম ন্দাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দাৎসীব খলু বৈ গ্রামচ্ছন্দোভিরেবাস্মৈ গ্রাম অব রুন্ধে। মধ্যাতো ধাতারং করোতি মধ্যত এবৈনং গ্রামস্য দত্যেতা এব নিৰ্বপেজ্জ্যাগা ময়াবী ছন্দাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দাংসি খলু বা এমভি মন্যন্তে যস্য জ্যোগাময়তি ছন্দোভিরেবৈনমগদং করোতি মধ্যতো ধাতারং কর্যেতি মধ্যতো বা এতস্যাপ্তং যস্য জ্যোগাময়তি মধ্যত এবাস্য তেন কল্পয়ত্যে এব নিঃ বপপদ্যং যজ্ঞো নোপনমেছন্দাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দংসি খলু বা এতং নোপ নমন্তি। যং যজ্ঞো নোপনমতি প্রথমং ধাতারং করোতি মুখত এব্যস্মৈ ছন্দাংসি দধাতু পৈনং যজ্ঞো নমত্যেতা এব নিৰ্বপেদীজানচ্ছাংসি বৈ দেবিকা যাতযামানী খলু বা এতস্য ছন্দাংসি য ঈজান উত্তমং ধাত্যরং করোতি উপরিষ্টাদেবাম্মৈ ছন্দাংস্যযাতযামান্যব রুন্ধ উপৈনমুত্তরে যজ্ঞে নমত্যেতা এব নিৰ্ব্বপেদ।। যং মেধা নোপমেচ্ছাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দাংসি খলু বা এতং নোপ নমন্তি, যং মেধা নোপনমতি প্রথমং ধাতারং করোতি মুখত এবাস্মৈ ছন্দাংসি দধাতুপৈনং মেধা নমত্যে এব নিৰ্ব্বপেৎ। রুক্কামচ্ছন্দাংসি বৈ দেবিকাচ্ছন্দাংসীব খলু বৈ রুকছন্দোভিরেবাস্মিন রুচ দধাতি ক্ষীরে ভবন্তি রুচমেবাস্মিন্দধতি মধ্যতো ধাতারং করোতি মধ্যত এবৈনং রুচো দধাতি গায়ত্রী বা অনুমতিস্ত্ৰিগ্ৰাকা জগতী সিনীব্যল্যষ্ঠুপ কুহুর্ধাতা বষট্‌কারঃ পূৰ্ব্বপক্ষো রাকাহপরপক্ষঃ কুহুমাবস্যা সিনীবালী পৌর্ণমাস্যনুমতিশ্চন্দ্রমা ধাতাহষ্টেী বসবোহষ্টাক্ষরা গায়কোদশ রুদ্রা একাদশাক্ষরা ত্রিষ্টুদ্বাদশাহদিত্যা দ্বাদশাক্ষরা জগতী প্রজাপতিরনুষ্টাতা বষট্‌কার এতদ্বৈ দেবিকাঃ সৰ্বাণি চ ছন্দাংসি সাশ্চ দেবতা বষট্‌কারস্তা যৎ সহ সৰ্বা নিৰ্বপেদীশ্বরা এনং প্রদহো দ্বে প্রথমে নিরুপ্য ধাতু-স্তৃতীয়ং নিৰ্বপেত্তথো এবোত্তরে নিৰ্ব্বপেত্তথৈনং ন প্র দহত্যথো যশ্মৈ কামায় নিরুপ্যন্তে তমোবাহভিরুপাহপ্নোতি ॥৯॥

     মর্মার্থ- অপেক্ষিত (অর্থাৎ আকাঙ্ক্ষানুযায়ী) ফলবিশেষ প্রকাশ করার নিমিত্ত ধাত্রা ইত্যাদি পঞ্চ ইষ্টিকে (যজ্ঞকে) দেবিকা বলা হয় (পঞ্চেষ্টয়ো দেবিকাঃ)। অনুমতি ইত্যাদি স্ত্রীরূপিণী দেবতা এই যজ্ঞের অধিষ্ঠাত্রী হওয়ার নিমিত্ত এই পঞ্চ যজ্ঞের নাম হয়েছে দেবিকা। গায়ত্রী এই ক্ষেত্রে অনুমতি ইত্যাদি ছন্দোরূপা হওয়ার কারণে দেবিকাও ছন্দোরূপা। যেমন ছন্দসমূহ ফলপ্রদান হেতু সুখকর, এইরকম প্রজাগণও সুখহেতুত্ব (অর্থাৎ সুখপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে) ছন্দের সমান। অতএব দেবিকারূপা ছন্দের দ্বারা যজমানের নিমিত্ত প্রজা উৎপাদন কর্তব্য। পঞ্চযজ্ঞেয় দ্বারা প্রজা-উৎপত্তির দৃশ্যগুণযোগ বিচারপূর্বক স্তুত হয়েছে–পঞ্চ দেবতার মধ্যে প্রথমে ধাতার যাগ কর্তব্য, কারণ ধাতা যজমানের আপন পত্নীর সাথে মিলন ঘটিয়ে দেন (অর্থাৎ যজমান ও তাঁর পত্নীকে যুগ্ম করে দেন)। অনুমতি দেবতা যজমানের সেই মিথুনীকরণে অনুমতি প্রদান করেন। রাকা দেবতা প্রজা প্রদান করেন। সিনীবালী দেবতা গর্ভস্থিত প্রজা বা সন্তান উৎপাদিত করেন। কুহু দেবতা উৎপাদিত প্রজাগণকে (সন্তান সন্ততিগণকে) সম্ভাষণ করার অভ্যাস শিক্ষা দেন। পশু কামনা পূর্বক এই দেবিকা ছন্দে হোম করণীয়। তাতে ধাতা গো-ইত্যাদি পশুর বীজবপন সম্পাদিত করেন। কুহু দেবতা উৎপন্ন পশুগণকে তৃণজল প্রদান পূর্বক পোষণ করেন। অনুমতি দেবী এই সবেতেই অনুমতি প্রদান করেন, রাকা দেবী পুনঃ প্রজা প্রদান করেন, সিনীবালী দেবী পুনঃ গর্ভস্থ সন্তান উৎপাদিত করেন, ইত্যাদি। ১ যজমানের যদি গ্রামের মধ্যে আধিপত্য স্থাপনের অভিলাষ থাকে, তবে প্রথমে অনুমতি ও রাকাকে ঊর্ধ্বে এবং সিনীবালী ও কুহূকে নিম্নে স্থাপন করে, সেই উৰ্ব্ব ও নিম্নের মধ্যবর্তী স্থানে ধাতাকে স্থাপন করবেন; ফলে তিনি (অর্থাৎ সেই যজমান গ্রামের আধিপত্যে স্থাপিত হবেন। যে পুরুষের ব্যাধি-পীড়া ঘটে, সেই পুরুষের প্রতি ছন্দসমূহ ক্রুদ্ধ হয়েছে, জানতে হবে। সুতরাং তার সেই ব্যাধি-পীড়া দেবিকা ছন্দের সাহায্যে নিরাময় হয়। এখানেও পূর্ববৎ উধ্বস্থ অনুমতি ও রাকা এবং অধীঃস্থ সিনীবালী ও কুহুর মধ্যস্থানে ধাতাকে স্থাপন পূর্বক দেবিকাছন্দে যাগানুষ্ঠান কর্তব্য। যাঁর উদরমধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি কিছুমাত্র উপশম হয় না, ধাতাকে ঐভাবে মধ্যভাগে স্থাপনের ফলে সেই উদরস্থ ব্যাধি নিরাময় হবে।অতঃপর জ্যোতিষ্টোম ইত্যাদি যজ্ঞের প্রাপ্তি বিষয়ে বলা হয়েছে। যে পুরুষ কোনও বিঘ্নের দ্বারা যজ্ঞ প্রাপ্ত না হয়ে থাকেন, তখন প্রথমেই ছন্দের দ্বারা যজ্ঞসাধনে কোন প্রাপ্তি ঘটে না। সেই বিষয়ে প্রথমে তাকে স্থাপন করলে ছন্দগুলি সেই যজমানের অনুকূল হয় এবং সেই আনুকূল্যে প্রথমত এই ছন্দগুলি যজ্ঞীয় ঘৃত হয়ে যায়, অর্থাৎ সেই যজমান ছন্দগুলির আপন আনুকূল্যে যজ্ঞকে প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। যে পুরুষ পূর্বে ইষ্টবান্ ছিলেন অর্থাৎ পুর্বে যজ্ঞানুষ্ঠান করেছিলেন, সেই ক্ষেত্রে পূর্বজ্ঞে ব্যাপৃত হওয়ার নিমিত্ত ছন্দের সার অপগত হয়ে গিয়েছিল। এই নিমিত্ত চরমস্থানে ধাতার স্থাপন করলে পরবর্তী করিষ্যমাণ (যা করা হবে সেই) যজ্ঞে সারযুক্ত– ছন্দের পুনঃপ্রাপ্তি সম্পন্ন হয়ে থাকে। (অর্থাৎ, পরে অনুষ্ঠিত সেই যজ্ঞে যজমানের পুনঃ প্রতিষ্ঠা লাভ হয়)। মেধা অর্থাৎ গ্রন্থধারণের শক্তি লাভের নিমিত্ত এই দেবিকা ছন্দগুলির দ্বারা যাগ কর্তব্য। কান্তি প্রাপ্তির নিমিত্ত ক্ষীর সহযোগে চারটি চরু পাক করে ধাতাকে (পূর্ববৎ) মধ্যস্থানে স্থাপন করে ছন্দসাম্যে যাগানুষ্ঠান করলে যজমান কান্তিযুক্ত হন। গায়ত্রী ইত্যাদি ছন্দগুলি যেমন অভীষ্ট সাধন করে, সেই রকম অনুমতি ইত্যাদি দেবতাগণও অভীষ্টসাধন করেন। যেমন, অনুমতি হলেন গায়ত্রীছন্দের রূপ, রাকা হলেন ত্রিষ্টুপছন্দের রূপ, সিনীবালী হলেন জগতীছন্দের রূপ, কুহু হলেন অনুষ্টুপ ছন্দের রূপ এবং ধাতা হলেন বষট্‌কার (হোম-কর্ম)। রাকা পূর্ণচন্দ্রমণ্ডলোপেতা (অর্থাৎ চন্দ্রমণ্ডলের পূর্ণরূপা), এবং সেই কারণে তিনি শুক্লাপক্ষস্বরূপা। কুহু নষ্টেন্দুকলা (অর্থাৎ চন্দ্রকলার লেশমাত্রও হীনা), এবং সেই কারণে তিনি কৃষ্ণপক্ষস্বরূপা। সিনীবালী হলেন চতুর্দশী-মিশ্রিতা কৃষ্ণাপঞ্চদশী অর্থাৎ আমাবস্যাস্বরূপা। অনুমতি হলেন চতুর্দশী-মিশ্রিতা শুক্লপক্ষের পঞ্চদশী, অর্থাৎ তিনি পৌর্ণমাসী বা পূর্ণিমা তিথিরূপে কথিতা। উভয়পক্ষীয় (কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের) দ্বারা নিষ্পন্ন এই তিথিগুলির চন্দ্রমা ধাতারূপে কথিত। এই রকম (ইথং) পূর্বপক্ষ ইত্যাদি রূপের দ্বারা পুনরায় বসু ইত্যাদি রূপেও এঁদের প্রশংসা করা হয়েছে। বসু অষ্ট জন, গায়ত্রীও অষ্টাক্ষরা; রুদ্র একাদশ জন, ত্রিষ্টুপও একদশাক্ষরা; আদিত্য দ্বাদশ জন, জগতীও দ্বাদশাক্ষরা। কুহু অনুষ্ট্রপত্বে (অনুষ্টুপ ছন্দে) নিরূপিতা, তিনি এইস্থানে প্রজাপতিরূপা। বষট্‌কার মুখ্য, সেই কারণে ধাতা বষট্‌কারস্বরূপ। অনুমতি প্রভৃতি দেবতার সাথে গায়ত্রী প্রভৃতি ছন্দের রূপত্বের কারণে দেবিকাগণের সর্ব ছন্দের রূপত্ব (অর্থাৎ সর্ব দেবিকারূপত্ব) ও বষট্‌কারের রূপত্ব নিশ্চয় হয়েছে। এই (অনুমতি, রাকা, সিনীবালী, কুহু ও ধাতা) পঞ্চ-দেবিকার মধ্যে অর্থাৎ পঞ্চ যজ্ঞের মধ্যে তিনটির নির্বপণ উপলক্ষে কথিত হয়েছে যে, একত্রে পঞ্চ দেবিকার নির্বপণ করলে যজমান দগ্ধ হয়ে যেতে পারেন (যজমানং প্রদন্ধুমীশ্বরা)। এই নিমিত্ত অনুমতি ও রাকার দুটি চরু নির্বপণ করে, তারপর তৃতীয়ের দ্বারা ধাতার পুরোডাশ নির্বপণ করণীয়। তারপর ঊর্ধ্বে (অর্থাৎ ধাতার পুরোডাশকে মধ্যে রেখে, তার উপরে) সিনীবালী ও কুহুর দুটি চরু নির্বপণ কর্তব্য। তাহলে দেবিকা যজমানকে দহন করেন না (যজমানং দেবিকা ন প্রদহন্তি)। অনন্তর যে কামনার নিমিত্ত এই যাগ নির্বপণ করা হয়, সেই কামনা এই দেবতাগণের দ্বারা লাভ করা যায় (তং কামোভিদেবতাভিঃ প্রাপ্পোত্যেব) ॥৯৷

    [সায়ণাচার্য  বলেন–অথ দশমে প্রায়ণং করিষ্যতোহগ্নিহোত্রিণ্যেহগ্নিসমাপণমভিধীয়তে। এই দশম অনুবাকে অগ্নিহোত্রীর অগ্নিসমাপন কথিত হয়েছে, অর্থাৎ বস্তোতিযুক্ত হোম সম্পর্কে উক্ত হয়েছে]

    .

    দশম অনুবাক

    মন্ত্র- বাস্তোতে প্রতি জানীহ্যম্মানস্বাবেশে অনমীবো ভবা নঃ। যত্ত্বেমহে প্রতি তন্নো জুষস্ব শংন এধি দ্বিপদে শং চতুষ্পদে। বাস্তোপতে শগুয়া সংসদা তে সক্ষীমহি রথয়া গাতুমত্যা। আবঃ ক্ষেম উত যোগে বরং নো যুয়ং পাত স্বস্তিভিঃ সদা নঃ। যৎ সায়ম্প্রতরগ্নিহোত্রং, জুহোত্যাহুতীষ্টকা এব তা উপ ধত্তে যজমানোহহোরাত্রাণি বা এস্যেষ্টকা য আহিতাগ্নির্যৎ সায়ত ফ্লুহোত্যহোরাত্ৰাণ্যেবাহদ্বেষ্টকাঃ কৃতোপ ধত্তে দশ সমান জুহোতি দশাক্ষরা বিরড়িরাজমোবাহপেষ্টকাং কৃতোপ ধত্তেহথো বিরাজ্যের যজ্ঞমাপোতি চিত্যশ্চিত্যোহসী ভবতি তস্মাদ্যত্র দশোষিত্বা প্রতি তদ্যজ্ঞবাস্তুবাবে তদ্যত্ততোহর্বাচীন রুদ্রঃ খলু বৈ বাস্তোতির্যদহুত্বা বাস্তোতীয়ং প্রয়ায় রুদ্র এনং ভূত্বহগ্নিরথায় হন্যাদ্বাস্তোতীয়ং জুহোতি ভাগধেয়েনৈবৈনং শময়তি নাহর্তিচ্ছতি যজমানো যদ্যুক্তে জুহুয়াদ্যথা প্রযাতে বাস্তাবাহুতিং জুহোতি তাদৃগেব তদ্যদযুক্তে জুহুয়াদ্যথা ক্ষেম আহুতিং জুহোতি তাবে তদহুতমস্য বাস্তোতীয়ং স্যাৎ দক্ষিণে যুক্তো ভবতি সব্যোহযুক্তোম্বথ বাস্তোপতীয়ং, জুহোত্যুভয়মেবাকর পরিবর্গমেবৈনং শময়তি যদেকয়া জুহুয়াদ্দৰ্বিহোম কুৰ্য্যাৎ পুরোনু বাক্যামনুচ্য যাজ্যয়া জুহোতি সদেবত্বায় যদ্ভুত আদধ্যা রুদ্রং গৃহানন্বরো হয়্যেদবক্ষাণান্যসম্প্ৰক্ষাপ্য প্রয়ায়াদ্যথা যজ্ঞবেশসং বাইদহনং বা তাদৃগেব তদয়ং তে যোনিঋত্বিয় ইত্যরণ্যোঃ সমারোহয়তি এষ বা অয়ের্যোনিঃ স্ব এবৈনং যোনৌ সমারোহয়ত্যাহো খহুদরণ্যোঃ সমারূঢ়ো নশ্যেদু দস্যাগ্নিঃ সীদেৎ পুনরাধেয়ঃ স্যাদিতি যা তে অগ্নে যজ্ঞিয়া তনুশুয়েহ্যাঁ রোহেত্যাত্মৎ সমারোহয়তে যজমানো বা অয়ের্যোনিঃ স্বায়ামেবৈনং যোন্যাং সমারোহয়তে॥১০

    মর্মার্থ- যিনি অগ্নিহোত্রী (সাগ্নিক, অর্থাৎ যে গৃহস্থ ব্রাহ্মণ অগ্নিপূজক), তাঁর গৃহস্থানীয় হলেন গার্হপত্য অগ্নি। প্রবাসে যাত্রার কালে তিনি পত্নীর সাথে যে মন্ত্রের দ্বারা হোম করবেন, সেই পুরোনুবাক্যের মন্ত্ৰাৰ্থ হলো–অগ্নিহোত্রের নিবাসস্থানীয় হে গৃহপতি (বা গৃহপালক) গার্হপত্য! আমরা গ্রামান্তরে গমন করছি, আপনি তা জ্ঞাত আছেন। সেখানে আপনি আমাদের সুখে অবস্থানকর্তা (বাসয়িতা) হোন, এবং আমাদের রোগনিবারক হোন। (অর্থাৎ আমরা যাতে সেখানে সুখে ও নিরোগে থাকতে পারি, তা করুন)। যে কার্যের উদ্দেশ্যে আমরা গমন করছি, তা যেন আমরা প্রীতিপূর্বক প্রাপ্ত হই (অর্থাৎ তা যেন সফল হয়), এই নিমিত্ত আপনার নিকট প্রার্থনা করছি। আপনি দ্বিপদযুক্ত মনুষ্যগণের (অর্থাৎ আমাদের) এবং চতুষ্পদ পশুগণের পক্ষে সুখের হেতুভূত হোন। হে বাস্তোতে (গৃহপতি বা গাহপত্য)! আমরা যেন আপনার সর্বার্থসাধনের সমর্থ, রমণীয়কারক, সর্বজ্ঞেয়ত্বদায়ক সংসদে (সভায়) মিলিত হতে পারি। আপনি বরদান করুন, আমরা যেন যোগের (লাভের) নিমিত্ত সম্যকরূপে যোগ্য হতে পারি। অপিচ, আপনি আমাদের ক্ষেমের (রক্ষণের) নিমিত্ত সম্যকরূপে যোগ্য করুন। [এই যোগ ও ক্ষেম অর্থাৎ যোগক্ষেমের অর্থ–অলব্ধ বস্তুর লাভ (যোগ) ও লব্ধ বস্তুর রক্ষণ (মে) ]। আপনি নানারকম স্বস্তির (অর্থাৎ শ্রেয়ঃ বা মঙ্গলের) দ্বারা আমাদের রক্ষা করুন। যিনি অগ্নিহোত্রী, তিনি সায়ং ও প্রাতঃ অর্থাৎ সন্ধ্যায় ও সকালে, এই দুটি সময়ে অগ্নিহোত্র যাগের অনুষ্ঠান করেন, যাতে সকল আহুতিরূপা ইষ্টকা (ইট) এই যজমান ধারণ করেন। যদি বা মৃন্ময়নির্মিত ইষ্টক না-ও থাকে, তথাপি যে পুরুষ আহিতাগ্নি (অর্থাৎ সাগ্নিক তথা অগ্নিহোত্রী) হন, তার নিমিত্ত অহোরাত্র ইষ্টকরূপে সম্পন্ন হয়। (অর্থাৎ যাগের ক্ষেত্রের জন্য যে ইষ্টকের প্রয়োজন হয়, তার অভাবে সেই যজমানের প্রাতঃকালের ও রাত্রকালের যাগে ঐ কালদ্বয়ই যথাক্রমে ইষ্টকের কার্য সম্পাদন করে)। অতএব যদি অগ্নিহোত্রী সায়ংকালে ও প্রাতঃকালে নিয়মিতভাবে (নিয়মেন) যাগ করেন, তাহলে সেই কালদ্বয় প্রাপ্তকালরূপা ইষ্টকরূপে উপধান (বালিশ) হয়। যদি একাদিক্রমে (সমানত্ৰৈকত্র) দশ দিন ব্যাপী অগ্নিহোত্র হোম অনুষ্ঠিত করা হয়, তাহলে দশ সংখ্যার সমান বিরাট ছন্দ সম্পাদিত হয়; ফলে অগ্নিহোত্রী যজমান বিরাট প্রাপ্ত হন। তখন সেই বিরাটু ছন্দকে ইষ্টকরূপে গ্রহণ করে উপধান কর্তব্য। বিরাট লব্ধ হলে অগ্নিষ্টোম যজ্ঞবিশেষ লব্ধ হয়। এই দশ দিন ও রাত্রিব্যাপী হোমের দ্বারা বিবিধরূপ অগ্নি-সম্পত্তি লব্ধ হয়। যখন এইভাবে একত্রে দশ অহোরাত্রে অনুষ্ঠিত হোমের দ্বারা বিরাটুম্পত্তি লব্ধ হয়, তখন সেই কারণে দশদিন বাস করার পর অগ্নিহোত্রী প্রয়াণ (প্রস্থান) করবেন। তার ফলে, সেই দেশ যজ্ঞভূমিতে পরিণত হয়। (অর্থাৎ অগ্নিহোত্রীর অল্পকাল বাসহেতু সেই স্থান যজ্ঞভূমির স্বরূপতা লাভ করে)। হোমের নিমিত্ত দশ দিন একাদিক্রমে বাস করণীয়। সেই হোমের দেবতা হলেন রুদ্র-শব্দে অভিধেয় গার্হপত্য অগ্নি। যদি বাস্তোম্পতীয় হোম (গার্হপত্য অগ্নির উদ্দেশে হোম) অকৃত রেখে প্রয়াণ করা হয়, তাহলে গার্হপত্য অগ্নি ক্রুদ্ধ হয়ে যজমানের হনন করে থাকেন। অতএব সেই হনন পরিহারের নিমিত্ত অগ্নিহোত্রীর প্রয়াণকালে অবশ্যই বাস্তোস্পতীয় হোম কর্তব্য। সেই হোমভাগ প্রদানের ফলে অগ্নিদেবকে শান্ত করা হয় এবং যজমান ম্রিয়মান (মৃতপ্রায়) হন না। প্রস্থানের নিমিত্ত শকটের দক্ষিণে একটি বলীবর্দ যুক্ত করা হলে বামের বলীবর্দটি যুক্ত করার পূর্বেই বাস্তোতির উদ্দেশে হোম কর্তব্য। বাতোম্পতে প্রতিজানীহি অর্থাৎ হে গার্হপত্য অগ্নি! আপনি জ্ঞাত আছেন এই পুরোনুবাক্য এবং বাস্তোতে শগুয়েতি অর্থাৎ হে গার্হপত্য অগ্নি! আপনি আমাদের মঙ্গল সাধন করুন এই যাজ্যায় (দুটি মন্ত্রেই) যাগ কর্তব্য। এই মন্ত্রযুক্ত যাগ দেবগণের অত্যন্ত প্রিয়ত্বের কারণে অগ্নিহোত্রী যজমান দেবত্ব লাভ করেন। অতঃপর ক্রমে শকটে ভাণ্ডস্থাপন পূর্বক অরণি অগ্নি সমারোহণ এবং অরণিসমারোহণে পাক্ষিকদোষ নিরাকরণ ইত্যাদি বিধি কথিত হয়েছে। (এগুলি যথাক্রমে অধ্বর–ইত্যাদি অনুবাকে এবং ব্রাহ্মণগ্রন্থে দ্বিতীয় কাণ্ডে পঞ্চম প্রপাঠকে ব্যাখ্যাত), ॥১০৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথৈকাদশে যাজ্যা পুরোনুবাক্যাস্তত্র….। অর্থাৎ–এই একাদশ অনুবাকে যাজ্যা ও পুরোনুবাক্যাগুলি উক্ত হয়েছে]

    .

    একাদশ অনুবাক

    মন্ত্র- ত্বমগ্নে বৃহদ্বয়ো দখাসি দেব দাশুশে। কবিগ্হপতির্যা। হব্যবাডগ্নিরজরঃ পিতা নো বিভূৰ্বিভাবা সুদুশীকো অম্মে। সুগার্হপত্যাঃ সমিযো দিলীহাম্মদ্রিয়ক্সং মিমীহি শ্রাবংসি। ত্বং চ সোম নো বশশা জীবাতুং ন মরামহে। প্রিয়তস্তাত্রা বনস্পতিঃ।। ব্রহ্মা দেবানাং পদবীঃ কীনামৃষিৰ্বিপ্ৰাণাং মহিষো মৃগাণাম। শ্যেনো গৃভ্রাণাং স্বধিতি নানাং সোমঃ পবিত্রমত্যেতি রেভ। আ বিশ্বদেবং সৎপতিং সক্তেরদ্যা বৃণীমহে। সত্যসবং সবিতার। আ সত্যেন রজসা বৰ্ত্তমাননা নিবেশয়নুমৃতং মর্ত্যং চ। হিরণ্যয়েন সবিতা রথেনাহদেবো যাতি ভূবনা বিপশ্য। যথা নো অদিতিঃ করৎ পশ্বে নৃভ্যো যথা গবে। যথা তোকায় রুদ্রিয়ম্।। মা নস্তোকে তনয়ে মা ন আয়ুষি মা নো গোষু মা নো অশ্বেযু রীরিষঃ। বীরাম্মা নো রুদ্র ভামিতে বধীৰ্হবিষ্মন্তো নমসা বিধেম তে।। উদতো ন বয়ো রক্ষমাণ বাবদতো অদ্রিয়স্যেব ঘোষঃ। গিরিভ্রজো নোৰ্ম্ময়ো মদন্তো বৃহস্পতিমভ্যর্কা অনাব। হংসৈরিব সখিভিৰ্বাড়িরগন্ময়ানি নহনা ব্যস্য। বৃহস্পতিরভিকনিক্ৰদাউত প্ৰাস্তেীদুচ্চ বিদ্বাং অগায়। এন্দ্র সানসিং রয়ি সজিহ্বানং সদাসহ। বর্ষিষ্ঠমূহয়ে ভর। প্রসসাহিষে পুরুহুত শত্রুজ্যেষ্ঠস্তে শুষ্ম ইহ রাতিরস্তু। ইন্দ্রাহভর দক্ষিণেনা বসূনি পতিঃ সিন্ধুনামসি রেবতীনা। ত্বং সুতস্য পীতয়ে সদ্যো বন্ধো অজায়থাঃ। ইন্দ্র জ্যৈষ্ঠ্যায় সুক্ৰততা। ভুবমিন্দ্ৰ ব্ৰহ্মণা মহান্ ভুবো বিশ্বে সবনেষু যজ্ঞিয়ঃ। ভুবো নৃংশ্লেীল্লো বিশ্বস্মিন্ ভরো জ্যেষ্ঠস্ট মন্ত্রঃ বিশ্বচর্ষণে। মিত্রস্য চৰ্ষণীধৃতঃ সুবো দেবস্য সানসি।। সত্যং চিত্রশ্রবস্তমম্। মিত্রো জনান্যাতয়াতি প্রজানন্মিত্রো দাধার পৃথিবীমুত দ্যাম্। মিত্রঃ কৃষ্টীরনিমিহভি চষ্টে সত্যায় ব্যং মৃতবদ্বিধেম। প্র স মিত্র মর্তো অস্ত্র প্রয়স্বন্যস্ত আদিত্য। শিক্ষতি ব্ৰতেম। ন হন্যতে ন জীয়তে হোতত নৈনমংহো অশ্নোতন্তিতো ন দুরাৎ। যৎ চিদ্ধি তে বিশশা যতা প্র দেব বরুণ ব্রত। মিনীমসি দ্যবিদ্যবি।। যৎ কিং চেদং বরুণ দৈব্যে জনেভিদ্রোহং মনৃষ্যাশ্চরামসি। অচিত্তী যত্তব ধৰ্ম্মা যুয়োপিম মা নস্তম্মদেনসো দেব রীরিষঃ। কিতবাসো য দ্রিরিপুর্ণ দীবি যদ্বা ঘা সত্যমুত যন্ন বিজ্ঞ। সৰ্বা তা বি ষ্য শিথিরেব দেবাথা তে স্যাম বরুণ প্রিয়াসঃ ॥১১।

    মর্মার্থ- হে অগ্নিদেব! আপনি হবিদানকারী যজমানকে দীর্ঘ আয়ু প্রদান করে থাকেন। (কীদৃশস্তম, অর্থাৎ আপনি কি রকম? না, আপনি কবি (অর্থাৎ বিদ্বান), আপনি গৃহপতি (অর্থাৎ গৃহের পালক), আপনি যুবা (অর্থাৎ নিত্যতরুণ)। (এই অগ্নি, অর্থাৎ হে অগ্নি! আপনি) হব্যবাট (অর্থাৎ হব্য বহনকারী), অজর (অর্থাৎ জরারহিত), আমাদের উৎপাদক পিতা বা পালয়িতা, বিভুব্যাপী (অর্থাৎ সর্বত্র ব্যাপ্ত তথা সর্বত্র বিশেষভাবে প্রকাশমান), সুদৃশীক (অর্থাৎ সুখদর্শন)। এইরকম যে অগ্নি, আপনি শোভনরপে গৃহপালনের নিমিত্ত আমাদের সম্যরূপে অন্ন প্রদান করুন। হে সোম! আপনি আমাদের জীবন (দীর্ঘজীবন) কামনা করেন, অতএব আপনার প্রসাদে আমরা যেন মরণপ্রাপ্ত না হই (ন স্লিয়ামহে)। (কীদৃস্তম, অর্থাৎ হে সোম! আপনি কিরকম? না, আপনি প্রিয়স্তোত্র (অর্থাৎ ওষধিরূপে বিরাজমান হওয়ার নিমিত্ত সকলের নিকট হতে যে স্তুতি প্রাপ্ত হন, তা আপনার প্রিয়, এবং আপনি বনস্পতি (অর্থাৎ বনের পালক)। দেবতাগণের মধ্যে যেমন ব্রহ্ম শ্রেষ্ঠ, বিদ্বানগণের মধ্যে পদবেত্তা (অর্থাৎ বাক্যবিদ তথা বাক্যে অভিজ্ঞতাসম্পন্নরূপে প্রমাণিত জন) যেমন শ্রেষ্ঠ, চতুষ্পদযুক্ত পশুগণের মধ্যে (মৃগানাং চতুষ্পদানাং মধ্যে) অধিক শক্তির নিমিত্ত যেমন মহিষ শ্রেষ্ঠ, সেইরকম পক্ষিগণের মধ্যে (গৃভ্রানাং মধ্যে) শক্তির আধিক্যে যেমন শ্যেন (বাজপক্ষী) শ্রেষ্ঠ, বনের মধ্যে (অর্থাৎ বহু বৃক্ষের মধ্যে) স্বধিতি (অর্থাৎ খঙ্গ ইত্যাদির ন্যায় দৃঢ়স্বরূপ দীপ্তিযুক্ত) বৃক্ষ যেমন শ্রেষ্ঠ, স্বজাতীয়গণের মধ্যে (অর্থাৎ মনুষ্যগণের মধ্যে) যেমন ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ, এইরকম (হে সোম!) আপনিও স্মৃয়মান হয়ে শুদ্ধির নিমিত্ত কুশ ইত্যাদি অভিক্রম (আরোহণ) করে শ্রেষ্ঠরূপে বিরাজমান আছেন। (অর্থাৎ কুশ ইত্যাদির দ্বারা শুদ্ধিকৃত হয়ে সর্বশ্রেষ্ঠরূপে অবস্থিত আছেন)। অদ্য এই কর্মে ফলসাধনের প্রার্থনায় সবিতাদেবকে শোভনবাক্যে বরণ করছি। (কীদৃশং সবিতার, না–) তিনি বিশ্বদেব (অর্থাৎ সকল দেবতা তার বশবর্তী হয়ে স্থিত), তিনি সৎপতি (অর্থাৎ সৎপথাবলম্বী জনগণের পালক এবং সত্যসব (অর্থাৎ তাঁর অনুজ্ঞা অব্যর্থ)। সবিতা অর্থাৎ আদিত্যদেব তার হিরন্ময় (সুবর্ণনির্মিত) রথে আরোহণ করে প্রতিদিন পূর্বদিকে উদিত হন, তিনি অমোঘ বা সার্থকভাবে উজ্জ্বল মণ্ডলে ভ্রমণ করে মনুষ্য ও দেবগণকে তাদের আপন আপন কর্মে প্রবৃত্ত করেন এবং সকল ভুবনকে অবলোকন করেন (সর্বলোকানবলোকয়)। অখণ্ডনীয় রুদ্রদেব যেমন পৃথিবীর পশু, নর, গো ও অপত্য (অর্থাৎ সন্তান) ইত্যাদিকে যেরকমে রক্ষা করেন, সেইভাবে আমরা তাঁকে এই হবির দ্বারা আরাধনা করছি (হবিষাহরাধয়াম)। হে রুদ্রদেব! আপনি ক্রুদ্ধ হয়ে আমাদের পুত্র ইত্যাদি এবং তাদের পুত্র ইত্যাদিকে (অর্থাৎ আমাদের পৌত্র ইত্যাদিকে) হিংসা করবেন না; সেইরকম আমাদের আয়ুর প্রতিও হিংসা করবেন না;আমাদের গো, আমাদের অশ্ব ইত্যাদির প্রতিও হিংসা করবেন না; আমাদের শৌর্যবিশিষ্ট ভৃত্যদের বধ করবেন না। আমরা হবিযুক্ত হয়ে আপনাকে নমস্কারের দ্বারা পরিচর‍্যা (অর্থাৎ পূজা) করছি। এইরকমে আমাদের স্তুতিসমূহ বৃহস্পতি দেবতার মহিমা প্রকাশের দ্বারা তার আনন্দপ্রদ হোক। (কি রকম স্তুতিঃ না,) মেঘ গর্জনের পর রক্ষমাণ জলে ভূমির প্লাবনের মতো, নদীতীরস্থ পর্বতকে স্পর্শ করে নদীর তরঙ্গসমূহের হর্ষ প্রকাশের মতো (আমাদের স্তুতি)। এই বৃহস্পতি দেবতা আমাদের হবি স্বীকারপূর্বক পরিতোষ প্রাপ্ত হয়ে উচ্চ ধ্বনি করছেন, এমন কি পরিতোষের আধিক্যে বাক্যও উচ্চারণ করছেন। তিনি আমাদের পরিচর্যায় (পূজায়) পরিতুষ্ট হয়ে উৎকর্ষের সাথে গানও গাইছেন। তিনি ঋত্বিকগণের স্তুতিতে পরিতোষিত হয়ে পাষাণময় দ্বারে আচ্ছাদিত (অর্থাৎ আবদ্ধ) যজ্ঞীয় ফলপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধক-সদৃশ দুরিতগুলি (পাপসমূহ) নাশ করছেন, যেমন চতুর্থাশ্রমবাসী হংস বা পরমহংসগণের (অর্থাৎ কেবলমাত্র ঈশ্বর সাধনাই যাঁদের কার্য এবং ভৈক্ষ্য বা ভিক্ষার দ্বারাই জীবিকা নির্বাহ যাঁদের নিকট প্রশস্ত) দ্বারা অভিষ্ট্রত (স্তুত) হয়ে পরমেশ্বর তাদের (অর্থাৎ সেই চতুর্থাশ্রমবাসী সন্ন্যাসীর) পুরুষার্থের প্রতিবন্ধক (মোক্ষলাভের বাধা) দূর করে দেন। হে ইন্দ্রদেব! আপনি আমাদের নিমিত্ত প্রভূত ধন আনয়ন করুন, যার দ্বারা আমরা পর্যাপ্ত দান করতে পারি; জয়শীল পুত্র ইত্যাদির রূপ হোক সেই ধন, সর্বদা বিরোধীগণকে তিরস্কারে সক্ষম হোক সেই ধন। (অর্থাৎ স্থলার্থে অর্থ ইত্যাদি যেমন ধন, জয়শীল পুত্র ইত্যাদিও তেমনই ধন; আবার শত্রুকে পরাজিত করার সামর্থ্যও ধন)। হে পুরুহুত (ইন্দ্রদেব)! আপনি বহু যজ্ঞে আহূত হয়ে সর্বদা প্রকর্ষের সাথে শত্রুগণকে পরাভূত করে থাকেন; আপনার বল প্রশস্ত (অতিশ্রেষ্ঠ); আমাদের এই কর্মসমূহে আপনি ফলদানকারী হোন (ফলদানমস্তু)। হে ইন্দ্রদেব! আপনার দক্ষিণ হস্তের দ্বারা আপনি ধনসমূহ আনয়ন করুন (সমানয়); আপনি সমুদ্রসমান (অসীম) প্রজাবর্গের পতি (পালক)। হে সুক্ৰতো (অর্থাৎ শোভনকর্মা ইন্দ্র)! অভিযুত (অর্থাৎ সোমরস) পানের নিমিত্ত আপনি বর্তমানে প্রবৃদ্ধ (অতিশয় প্রাচীন), সেই কারণে সকল দেবতার মধ্যে আপনার জ্যেষ্ঠত্ব প্রতিপাদিত (তব জ্যৈষ্ঠ্যায় সম্পদ্যতে)। হে ইন্দ্র! আপনি স্তুতিরূপা বেদবাক্যের দ্বারা অভিবৃদ্ধ। (অর্থাৎ অভিলাষানুরূপ ভাবে বৃদ্ধিযুক্ত) হয়েছেন, প্রাতঃসবন ইত্যাদি তিনটি সহ সকল যজ্ঞে আপনি যোগ্য হয়েছেন (যজ্ঞযোগ্য ভবসি); প্রতিকূল শত্রুগণের বিনাশ সাধন পূর্বক আপনি অবস্থান করুন। হে বিশ্বচর্ষণে (অর্থাৎ সকল মনুষ্যের স্বামী বা প্রভু)! সেই রকমে সকল যাগে আপনি মননীয় (অর্থাৎ মন্ত্রের দ্বারা পূজনীয়) এবং প্রশস্ত (অর্থাৎ অতিশয় জ্যেষ্ঠ বা প্রশংসনীয়)। মনুষ্যগণের ধারয়িতা মিত্রদেবতার শ্রবণযোগ্য মহৎ যশ (খ্যাতি) বর্তমান। (কিরকম যশ?)–তিনি ফলদানশীল (সোনসিং), তিনি সত্যবাদী (সত্যং), তিনি চিত্রশ্রবা (অর্থাৎ আশ্চর্যকর কীর্তিশালী)। আমরা সেই হেন মিত্রদেবতার যাগানুষ্ঠান করছি। এই মিত্রদেবতা দেবতা মনুষ্য সকলকে আপন আপন ব্যাপারে প্রযত্নযুক্ত করে থাকেন; তিনি পৃথিবীর ও দুলোকের ধারক। অব্যর্থ ফলোভের নিমিত্ত সেই মিত্রদেবতার উদ্দেশে ঘৃতের দ্বারা যুক্ত (চরুলক্ষণ) হব্য প্রদান করছি। (বিকল্পিত যাজ্যা কথিত হচ্ছে)–হে মিত্রদেব! যে যজমান আপনার সম্বন্ধীয় কর্মসমূহ শিক্ষা পূর্বক ব্রতের অনুষ্ঠানে সমর্ত হতে চান, সেই মনুষ্য (যজমান) প্রকৃষ্টরূপে কর্মফলযুক্ত হোন। (অর্থাৎ যে যজমান মিত্রদের উদ্দেশে অনুষ্ঠিতব্য যজ্ঞের নিয়মাবলী যথাযথভাবে শিক্ষা পূর্বক যুগানুষ্ঠান করেন, তিনি সেই যজ্ঞফল উৎকর্ষের সাথে প্রাপ্ত হয়ে থাকেন)। সেই যজমান আপনার (অর্থাৎ মিত্রদেবতার) দ্বারা রক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনও ন হন্যতে–অর্থাৎ রোগ ইত্যাদির দ্বারা পীড়িত হন না, ন জীয়তে–অর্থাৎ বৈরিগণের দ্বারা পরাভূত হন না। অপিচ, (হে মিত্রদেব!) আপনার দ্বারা রক্ষিত এই যজমানের নিকটে পাপ ব্যাপ্তিপ্রাপ্ত হয় না (অর্থাৎ নিকটে আগমন করতে পারে না), দুরেও সেই পাপ তাঁকে প্রাপ্ত হতে পারে না (অর্থাৎ দূর হতেও পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারে না।–হে বরুণ দেবতা! আমরা আপনার যে কোনও কর্মের বিচার করে দিনে দিনে প্রকর্ষের সাথে আপনার পরিচর‍্যা করছি, ঠিক যেমন সকল প্রজা আপন আপন কর্মের বিচার করে কর্মসাধন করে থাকে। হে বরুণ দেবতা! মনুষ্য আমরা অজ্ঞানতার কারণে দেবলোকবর্তী জনের প্রতি (অর্থাৎ দেবতাগণের প্রতি) স্বল্প কিংবা অধিক দ্রোহ (অনিষ্টাচরণ) করেছি, কিংবা আপনার ধর্ম (অর্থাৎ ধর্মীয় কর্ম) বিনাশ করেছি, হে দেব! আপনি আমাদের সেই কর্মনাশজনিত পাপের নিমিত্ত আমাদের হিংসা করবেন না। (অর্থাৎ অজ্ঞানতার কারণে আমরা যদি কখনও নাস্তিকোচিত কর্ম করে থাকি, তাহলে আপনি আমাদের ক্ষমা করুন)। (হে বরুণ দেবতা!) ধূতসমান স্বার্থসাধনপর ঋত্বির্গ যদি যজ্ঞের কোনও কর্মের (কর্মাঙ্গের)–দেবতগণের উদ্দেশে সম্যরূপে ব্যবহার না করে থাকেন, অথবা জ্ঞান বা অজ্ঞানে যজ্ঞবিদ্যুজনিত কোন পাপ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, তাহলে ঋত্বিকগণ কৃত যজ্ঞাঙ্গ বিনাশগুলি আপনি শিথিলভাবে বিনাশ করুন। অনন্তর, হে বরুণদেবতা! আমরা আপনার প্রিয় হবে (অর্থাৎ আশীর্বাদ লাড করব) ॥১১।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article অন্তিম অভিযান – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }