Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1398 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.৫ তৃতীয় কাও। পঞ্চম প্রপাঠক

    তৃতীয় কাও। পঞ্চম প্রপাঠক

    প্রথম অনুবাক

    মন্ত্র- পূর্ণা পশ্চাদত পূর্ণা পরস্তাদন্মধ্যতঃ পৌর্ণমাসী জিগায়। তস্যাম দেবা অধি সংবসন্ত উত্তমে নাক ইহ মাদয়ন্তা। যত্তে দেবা অদধুর্ভাগধেয়মমারাস্যে সংবসন্তো মহিত্বা। সা নো যজ্ঞং পিপৃহি বিশ্ববারে রয়িং নো ধেহি সুভগে সুবীর। নিবেশনী সঙ্গমনী বসুনাং বিশ্বা রূপাণি বসূন্যাবেশয়ন্তী। সহস্রপোষং সুভগা ররাণা সা ন আ গম্বৰ্চসা সংবিদানা। অগ্নীষোমৌ প্রথমৌ বীৰ্য্যেণ বসূন রুদ্ৰানাদিত্যানিহ জিন্বতম। মাধ্যং হি পৌর্ণমাসং জুষেথাথ ব্রাহ্মণা বৃদ্ধৌ সুকৃতেন সাতাবথাম্মুভ্যং সহবীরাং রয়িং নি যচ্ছতম্। আদিত্যাশ্চাঙ্গিরসশ্চাগ্নীনাহদধত তে দর্শপূর্ণমাসৌ প্রৈন্সন্তেমঙ্গিরসাং নিরুপ্তং হবিরাসীদোহদিত্যা এতৌ হোমাবপশ্যম্ভাবজুহুবুস্ততো বৈ তে দর্শপূর্ণমাসৌ পূৰ্ব্ব আহলভক্ত দর্শপূর্ণমাসাবালভমান এতৌ হোমৌ পুরস্তাজুহুয়া সাক্ষাদেব দর্শপূর্ণমাসাবা লভেত ব্ৰহ্মবাদিনো বদন্তি স হৈ দর্শপূর্ণমাসাবা লভে য এনয়োরনুলোমং চ প্রতিলোমং চ বিদ্যাদিত্যমাবস্যায় উৰ্দ্ধং তদনুলোমং পৌর্ণমাস্যৈ প্রতীচীনং তৎপ্রতি লোমং যৎপৌর্ণমাসীং পূৰ্ব্বমালভেত প্ৰতিলোমমেনাবা লভেমুম পক্ষীয়মাণমন্বপ ক্ষীয়েত সারস্বত্বৌ হোমৌ পুরস্তাজুহুয়াদমাবস্যা বৈ সরস্বত্যনুলোমমৈবৈবা লভতেহনুমাপ্যায়মানমন্থা প্যায়ত আগ্নাবৈষ্ণ বমেকাদশকপালং পুরস্তান্নিকপেৎ সরস্বত্যৈ চরুং সরস্বতে দ্বাদশ কপালং যদগ্নেয়ো ভবত্যগ্নির্বৈ যজ্ঞমুখং যজ্ঞমুখমেবৰ্দ্ধিং পুরস্তাদ্ধত্তে যদ্বৈষ্ণবো ভবতি যজ্ঞো বৈ বিষ্ণুৰ্যজ্ঞমেবাহরভ্য প্র তনুতে সরস্বত্যৈ চতুর্ভবতি সরস্বতে দ্বাদশকপালোমাস্যা বৈ সরস্বতী পূর্ণমাসঃ সরস্বান্তাবের সাক্ষাদা রভত ঋপ্লেত্যাভ্যাং দ্বাদশকপালঃ সরস্বতে ভবতি মিথুনত্বায় প্রজাত্যৈ মিথুনৌ গাবৌ দক্ষিণা সমৃদ্ধৈ ॥১॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–তত্র প্রথমানুবাকে দর্শপূর্ণমাসেষ্ট্যঙ্গভূতান্বারম্ভণীয়েষ্টিবিধাতব্যা। অর্থাৎ–এই প্রথম অনুবাকে দর্শপূর্ণমাস যাগের অঙ্গভূত আরম্ভণীয় ইষ্টির বিধান উক্ত হয়েছে]

    মর্মার্থ– পূর্ণা অর্থাৎ পৌৰ্ণমাসী বা পূর্ণিমার অভিমানী দেবতা (যিনি পূর্ণিমারূপে খ্যাতা) যজ্ঞভূমির পশ্চিম দিকে জয়লাভ করেছিলেন। অপিচ, তিনি পূর্ব দিকে এবং মধ্যম স্থানেও জয়লাভ করেছিলেন। সেই পূর্ণিমায় অধিষ্ঠিত এই যজ্ঞে আহুত সকল দেবতা ভোগবহুল স্বর্গে আমাদের হর্ষ বিধান করুন। হে অমাবস্যা! যেহেতু (যদ্যস্মাৎ কারণাত্তে) দেবতাগণ আপনার মহিমায় নির্বাসিত হয়ে হবির্ভাগ (ভাগধেয়রূপ হবিঃ) প্রাপ্ত হয়েছেন, সেই কারণে, সকল অনিষ্টনিবারক (হে অমাবস্যা-অভিমানী দেবতা!) আপনি আমাদের ধন ও শোভন পুত্ৰসম্পন্ন করুন। সেই হেন সৌভাগ্যযুক্তা দেবতা আমাদের প্রতি আগমন করুন। (ধনসমূহের প্রাপয়িত্রী বা প্রদানকারিনী দেবতা আগমন করে কি করবেন? না,) তিনি আমাদের গৃহে নিয়ত বহুপ্রকার মণিমুক্তা ইত্যাদি প্রবেশ করাবেন, সহস্ৰলক্ষ ইত্যাদি (অর্থাৎ অসীম) ধনপুষ্টি প্রদান করবেন। হে অগ্নি ও সোম! আপনারা দেবতাগণের মধ্যে মুখ্য, আপনারা আপনাদের সামর্থ্যের দ্বারা এই যজ্ঞকর্মে বসু রুদ্র ও আদিত্য দেবতাগণকে প্রীত করুন। মধ্যে পশ্চাতে ও সম্মুখে পৌর্ণমাসী-সম্বন্ধী দেবতার দ্বারা রক্ষিত হবিঃ ভক্ষণ করুন। আপনারা স্তুতিরূপ মন্ত্রের দ্বারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাদের সম্যক অনুষ্ঠিত কর্মের ফল প্রদান করুন এবং হবিঃসেবনের পর পুত্র ও তার সাথে ধন প্রদান করুন। আদিত্য দেবতাগণ ও অঙ্গিরস ঋষিগণ এই দর্শপূর্ণমাস যজ্ঞ আরম্ভ করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের উভয় দলের মধ্যে অঙ্গিরস ঋষিগণ সারস্বত হোম অজ্ঞাত থাকার কারণে প্রথমে অরম্ভণীয় ইষ্টির নিমিত্ত হবিঃ নির্বপণ করেন; অতঃপর সেই আদিত্য দেবতাগণ এই অধ্যারম্ভণীয় যজ্ঞের অঙ্গভূত সারস্বত হোম নিশ্চিত কর্তব্য বলে জ্ঞাত থাকার নিমিত্ত প্রথমে তার (অর্থাৎ সারস্বত হোমের) অনুষ্ঠান করেন। এর ফলে তারা (আদিত্যগণ) সেই অঙ্গিরস ঋষিগণের পূর্বেই দর্শপূর্ণমাস আরম্ভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন (উপক্রান্তবন্ত)। দর্শপূর্ণমাস আরম্ভ করতে ইচ্ছুক, এমন পুরুষ সেই আরম্ভণীয় যজ্ঞের উপক্রমে অর্থাৎ শুরুতে পূর্ণা পশ্চাৎ এই মন্ত্র দুটির দ্বারা যাগ করবেন। সেই জন্য তিনি অবিলম্বে দর্শপূর্ণমাস আরম্ভ করবার যোগ্য হবেন। ব্রহ্মবাদগণ বলে থাকেন–পূর্ণিমা ও অমাবস্যার মধ্যে কোটি অনুলোম (অর্থাৎ প্রকৃত প্রণালীমে) ও প্রতিলোম (বিপরীত ক্রমে) ভাবে আরম্ভ হবে, তা নির্ধারণীয়। (পূর্ণিমা থেকেই প্রথম আরম্ভ করতে হবে, না অমাবস্যা থেকে–এইটাই বক্তব্য)। অন্যেরা বলেন–যে যজমান এই দর্শপূর্ণমাসমন্ধী কাল সম্পর্কে (অর্থাৎ অনুলোম ও প্রতিলোম) জ্ঞাত আছেন, তিনিই এই যজ্ঞের মুখ্য অধিকারী। সেই বিষয়ে কোন কোন বুদ্ধিমান অনুলোম ও প্রতিলোম ভাব সম্বন্ধে এইরকম বলে থাকেন–অমাবস্যার পর (উর্ধ্বং) শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথি হতে অনুলোম ক্রমে অর্থাৎ দিনে দিনে চন্দ্রের বৃদ্ধি ঘটে (বর্ধমানত্বাৎ) এবং পূর্ণিমা অন্তর্হিত হওয়ার পর কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ তিথি হতে দিনে দিনে প্রতিবোম ক্রমে চন্দ্রের ক্ষয় হয় (অপক্ষীয়মাণত্বাৎ)। এইরকমে যদি পূর্ণিমাকে পূর্বভাবিনী করে (অর্থাৎ পূর্ণিমা থেকে) প্রতিলোম ক্রমে দর্শপূর্ণমাস আরম্ভ করা যায়, তাহলে সেই পূর্ণিমা হতে আরম্ভিত যাগের সমানে সমানে (একটু একটু করে) চন্দ্রের ক্ষয় আরম্ভ হবে। এবং তার ফলে যজমানও ক্ষয়প্রাপ্ত হবেন। এই প্রাতিলোম্য দোষ পরিহার করার নিমিত্ত দেবতাবিশেষের বিধান কথিত হয়েছে–আরম্ভণীয় ইষ্টির পূর্বে দুটি সারস্বত হোম করণীয়। (সরস্বতী ও সরস্বান, এই দুজন যে হোমের দেবতা, সেই হোমকে সারস্বত হোম বলা হয়)। এই দুই দেবতার হোম অনুষ্ঠানের দ্বারা প্রাতিলোম্য (অর্থাৎ প্রতিলোমজনিত) দোষের পরিহার পূর্বক অনুলোমক্রমে দর্শপূর্ণমাস যজ্ঞ আরম্ভ করা কর্তব্য (আরব্ধবান্ ভবতি)। সেই হেতু ক্রমবর্ধমান চন্দ্রকলার সমানে সমানে যজমানেরও বর্ধন হবে। অগ্নি ও বিষ্ণুর উদ্দেশে একাদশ কপাল এবং সরস্বতী ও সরস্বানের উদ্দেশে দ্বাদশ কপাল হবিঃ নির্বপণ কর্তব্য। অগ্নি ব্যতীত যজ্ঞের নিষ্পত্তি হয় না; অগ্নিই যজ্ঞের মুখ (মুখ), অতএব আগ্নেয় হোমের দ্বারা যজ্ঞমুখের উদ্দেশে হবিঃ নির্বপণ পূর্বক প্রথমতঃ যজ্ঞের সমৃদ্ধি সম্পাদন করা হয়। যজ্ঞের সর্বাঙ্গব্যাপিত্ব হেতু যজ্ঞ বিষ্ণুস্বরূপ, অতএব বৈষ্ণব হোমের দ্বারা যজ্ঞ আরম্ভ করে (বিষ্ণুর উদ্দেশে হবিঃ নির্বপণ করলে) যজ্ঞ প্রকর্যের সাথে বিস্তৃত হয় (বিস্তৃতবান ভবতি)। (স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশের দ্বারা অমাবস্যায় সরস্বতীত্ব এবং পুংলিঙ্গশব্দ নির্দেশের দ্বারা পূর্ণমাসকে সরস্বান্ বোঝান হয়েছে)। সেই হেতু এই দেবতাদ্বয়ের দ্বারা যজ্ঞ আরম্ভিত হলে তদাত্মক (তাদের স্বরূপ) দর্শপূর্ণমাস যাগ ব্যবধানরহিতভাবে আরম্ভ হয়ে থাকে (ব্যবধানমন্তরেতোপক্রান্তবা)। এবং এই দুই দেবতার দ্বারা (অর্থাৎ দেবদ্বয়ের আনুকূল্যে) যজমান সমৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। দ্বিতীয় হোমে স্ত্রীদেবতাত্ব ও তৃতীয় হোমে পুংদেবতাত্ব নির্দেশিত হওয়ার কারণে যজমানের মিথুনত্ব সম্পন্ন হয়েছে, এবং তার দ্বারা পুত্র (প্রজা) উৎপত্তি সূচিত হয়। এই যজ্ঞের সমৃদ্ধিযুক্ত দক্ষিণা হবে মিথুন গাভী (মিথুনৌ গাবৌ দক্ষিণা সমৃদ্বৌ) ॥১॥

    [অথ দ্বিতীয়ে সৌমিকব্রহ্মত্ববিধিরুচ্যতে। অর্থাৎ দ্বিতীয় অনুবাকে সৌমিক ব্রহ্মত্বের বিধি কথিত হয়েছে।]

    .

    দ্বিতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- ঋষয়গা বা ইন্দ্রং প্রত্যক্ষং নাপশ্যন্তং বসিষ্ঠঃ প্রত্যক্ষমপশ্যৎ সোহব্রবীঘ্রাহ্মণং তে বক্ষ্যামি যথা ত্বৎপুরোহিত প্রজাঃ প্রজনিযন্তেহথ মেরেভ্য ঋষিভ্যো মা প্ৰ বোচ ইতি তম্মা এতান স্তোমভাগানব্রবীত্ততো বসিষ্ঠপুরোহিতাঃ প্রজাঃ প্রাজায়ন্ত তস্মাদ্বাসিষ্ঠো ব্রহ্মা কাৰ্য্যঃ প্ৰৈৰ জায়তে রশ্মিরসি ক্ষয়ায় ত্বা ক্ষয়ং জিন্বেতি আহ দেবা বৈ ক্ষয়ো দেবেভ্য এব যজ্ঞং প্রাইহ প্ৰেতিরসি ধৰ্ম্মায় ত্বা ধৰ্মং জিন্বেত্যাহ মনুষ্যা বৈ ধৰ্মা মনুষ্যে এব যজ্ঞং প্রাহম্বি তিরসি দিবে ত্বা দিবং জিয়েত্যাহৈভ্য এব লোকেভ্যো যজ্ঞং প্ৰাহহ বিষ্টম্ভোহসি বৃষ্ট্যৈ ত্বা বৃষ্টিং জিন্বেত্যাহ বৃষ্টিমেবাব রুন্ধে প্রবাহস্যনু বাহসীত্যাহ মিথুনত্বায়োশিগসি বসুভ্যস্তা বসূঞ্জিন্বেত্যাহাষ্টেী বসব একাদশ রুদ্রা স্বাদশাহদিত্যা এতাবন্তো বৈ দেবাস্তেভ্য এব যজ্ঞং প্রাইহৌজোহসি পিতৃভ্যস্তা পিতৃঞ্জিন্বেত্যাহ দেবানেব পিতৃননু সং তননাতি তন্তুরসি প্রজাভ্যা প্ৰদা জি ইত্যাহ পিতৃনেব প্রজা অনু সং তনোতি পৃতনাষাডসি পশুভ্যস্তা পঞ্জিন্বেত্যাহ প্রজা এব পশুননু সং নোতি রেবদস্যোষধীভ্যস্ত্রৌষধী জ্জিন্বেত্যাহৌষধীষেব পশু প্রতি ঠাপয়ত্যভিজিদসি যুপ্তগ্রাবেন্দ্রায় ত্বেং জিন্বেত্যাহাভিজিত্যা অধিপতিরসি প্রাণায় ত্বা প্রাণং জিন্বেত্যাহ প্রজাবে প্রাণান্দধাতি ত্রিবৃদসি প্রবৃদসীত্যাহ মিথুনত্বায় সংবোহোহসি নীরোহোহসী ত্যাহ প্রজাত্যৈ বসুকোহসি বেশিরসি বস্যষ্টিরসীত্যাহ প্রতিষ্ঠিত্যৈ ৷৷ ২৷৷

    মর্মার্থ– কোনও এক সময়ে বশিষ্ট প্রমুখ সকল ঋষিগণ মন্ত্রবিশেষ অবগত হবার নিমিত্ত ইন্দ্রের নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন; কিন্তু অনধিকারী জনকে মন্ত্র বলা ঠিক নয় (মন্ত্র না বক্তব্যা)–এই অভিপ্রায় ইন্দ্র তখন অন্তর্হিত হয়েছিলেন। অন্যান্য ঋষিগণ অন্তর্ধানপ্রাপ্ত ইন্দ্রকে সাধারণ চক্ষে দর্শন করতে সক্ষম হলেন না, কিন্তু যোগসামথ্যযুক্ত ঋষি বশিষ্ঠ তাঁর দিব্যচক্ষুর দ্বারা সেই ইন্দ্রকে দর্শন করলেন। অগত্যা ইন্দ্রদেব বশিষ্ঠকে বললেন–সৌমিক ব্রহ্মত্বের উপযোগী মন্ত্রগুলি যাতে প্রতিপাদিত (বোধিত) আছে, সেইরকম ব্রাহ্মণ (বেদের অংশবিশেষ) আমি আপনাকে বলব। আপনি পুরোহিতরূপে অর্থাৎ মন্ত্রোপদেষ্টা হয়ে যাদের নিকট বলবেন, তারাই এই বক্ষ্যমাণ ব্রাহ্মণ জ্ঞাত হতে সামর্থ্য লাভ করবে, তবে আপনি এই মন্ত্র অনধিকারী ঋষিগণের নিকট বলবেন না (মা প্রবোচ)। এই কথা বলে ইন্দ্রদেব বশিষ্ঠকে রশ্মিরসি ইত্যাদি স্তোমভাগ নামক (স্তবের ভাগরূপে কথিত) মন্ত্রগুলি বললেন (মন্ত্রানব্রবীৎ)। স্তোমা অর্থাৎ বহিষ্পবমান ইত্যাদি মন্ত্ৰসমূহ যারা ভজনা করে (অর্থাৎ এই মন্ত্রের যারা ভাগ প্রাপ্ত হয়। তারা স্তোমভাগ। এই মন্ত্রসমূহ উচ্চারণ করে ব্রহ্মা স্তোত্রসমূহের দ্বারা অনুজ্ঞাত হয়েছিলেন, সেই নিমিত্ত একে স্তোমভাগ বলা হয়। এইভাবে ইন্দ্রের প্রসাদে সকল প্রজা (জন) বশিষ্ঠকে পুরোহিতরূপে উদ্ভূত করেছিল, অর্থাৎ তাকে গুরুরূপে বরণ করে নিয়েছিল। যেহেতু ইন্দ্রদেব বশিষ্ঠের নিকট ব্ৰহ্মত্বের উপযুক্ত সব তথ্যই ব্যক্ত করেছিলেন, সেই হেতু যিনি সোমযাগ করতে ইচ্ছুক হন, তিনি বশিষ্ঠগোত্রে উৎপন্ন বা তার বিদ্যাসম্প্রদায়ের দ্বারা স্তোমভাগে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোন জনকে যজ্ঞের ব্রহ্মারূপে (অর্থাৎ ব্রহ্মা নামে অভিহিত ঋত্বিকবিশেষের কার্য সাধনের নিমিত্ত) বরণ করে থাকেন। (প্রথম স্তোমভাগের অবক্তব্য অংশের অর্থ)-রশ্মিরসি ক্ষয়ায়….প্ৰাহহঃ অর্থাৎ হে আদিত্য! আপনি রশ্মিযুক্ত হন। দেবগণ যে সঙ্ নিবাসিত, সেই দেবসষ্মের প্রীতির নিমিত্ত, হে আদিত্য! আপনাকে স্মরণ করছি। অতএব আপনি দেবসঙ্ঘকে প্রীত করুন (অর্থাৎ দেবগণ এই যজ্ঞের হোতরূপে কথিত হোন)। (দ্বিতীয় স্তোমভাগের অর্থ)–প্রেতরসি ধর্মায়…যজ্ঞং প্রাইহঃ অর্থাৎ (হে) ধর্মাভিমানী (ধর্মরূপে প্রতীত বা খ্যাত) দেব! আপনি প্রেতরসি (অর্থাৎ প্রাণিগণের উপকারের নিমিত্ত প্রকৃষ্টরূপে গতিমান) হন; অতএব ধর্মানুষ্ঠাতা পুরুষগণের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি ধর্মানুষ্ঠানকারী পুরুষের প্রতি সম্পাদন করুন। (তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্তোমভাগের তাৎপর্য)–অন্বিতিরসি দিবে…লোকেভ্যো যজ্ঞং প্ৰাহহ অর্থাৎ হে দুলোকাভিমানী (অর্থাৎ দেবগণের অনুকূলে গতিমান) দেব! সেইরূপে দ্যুলোকের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি। আপনি দুলোকের প্রীতি সম্পাদন করুন। হে অন্তরীক্ষের ও ভূলোকের অভিমানী দেবতা!…আপনি অন্তরীক্ষের ও ভূলোকের প্রতিবিধান করুন।–(ষষ্ঠ স্তোমভাগে বৃষ্টিপ্রাপ্তিহেতুত্বের প্রশংসা করা হয়েছে, যথা)–বিষ্টম্ভোহসি বৃষ্ট্যৈ…রুন্ধে অর্থাৎ হে বৃষ্টি-অভিমানী দেব! আপনি বিশেষভাবে জলের ধারক হন। বৃষ্টিপ্রাপ্তিহেতু আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি বৃষ্টিদান পূর্বক আমাদের প্রীত করুন। (সপ্তম ও অষ্টম স্তোমভাগে দিবা ও রাত্রির প্রতীকদ্বয়ের দ্বারা মিথুনত্ব সূচিত হয়েছে, যথা-)–হে অহরভিমানী (অর্থাৎ দিবসের অভিমানী) দেবতা! আপনি প্রবা (অর্থাৎ প্রকর্ষের সাথে জগতকে আলোকের দ্বারা প্রবর্তনকারী) হন।–হে রাত্রি অভিমানী দেবতা! আপনি অনুবা (অর্থাৎ নিদ্রা ইত্যাদি ব্যবহারের অনুকূল রূপে বর্তমান) হন। (এই দিবা-রাত্রির প্রতাঁকে উভয়ের মিথুনত্ব সাধিত হচ্ছে)।–(নবম, দশম ও একাদশ স্তোমভাগের তাৎপর্য সাধিত হচ্ছে)।-(নবম, দশম ও একাদশ স্তোমভাগের তাৎপর্য)-হে বসুগুণপালক! আপনি আমাদের কামনীয় (কাময়মানঃ)। অষ্টবসু, একাদশ রুদ্র, দ্বাদশ আদিত্য–এই সকল দেবতাগণকে এই যজ্ঞে সংগ্রহ করে আনয়ন করুন।–(দ্বাদশ স্তোমভাগের বক্তব্য)–হে পিতৃপালক দেব! আপনি ওজঃ (অর্থাৎ বলরূপ) হন। পিতৃপুরুষগণের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি নিরন্তর তাদের তুষ্ট করুন।–(ত্রয়োদশ স্তোমভাগ)-হে প্রজাভিমানী দেবতা! আপনি তন্তুরসি (অর্থাৎ পুত্রপৌত্র ইত্যাদি বিস্তারের হেতুভূত হন)। প্রজাগণের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি প্রজাগণকে নিরন্তর প্রীত রাখুন।–(চতুদশ স্তোমভাগে পশুগণের প্রীতিসাধনের কথা বলা হয়েছে, যেমন)–হে পশুপালক দেব! আপনি পৃতনাষান্টু (অর্থাৎ যে পরকীয় সেনা আমাদের পশুসমূহকে অপহরণ করে, সেই শত্ৰুদলের বিনাশক) হন। পশুগণের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি সেই পশুগণকে তুষ্ট রাখুন।-(পঞ্চদশ স্তোমভাগে পশুগণের নিমিত্ত ওষধি প্ৰতিষ্ঠাপন করা হয়েছে)–হে ওষধিপালক দেবতা! আপনি ধনবান হন (রেবদসি)। ওষধিপ্রাপ্তির নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি ওষধিসমূহের বৃদ্ধি সাধন করুন, যাতে আমাদের পশুগণ প্রতিষ্ঠাপন হবে।–(যোড়শ স্তোমভাগ)- হে বজ্র! তুমি পাষাণের (অর্থাৎ প্রস্তরের) ন্যায় দৃঢ়ত্বযুক্ত ও অভিজিৎ (অর্থাৎ শত্রুজয়ী) হও। ইন্দ্রদেবের (আয়ুধরূপে) তোমাকে স্মরণ করছি; তুমি জয়দায়করূপে ইন্দ্রের প্রীতি সম্পাদন করো।–(সপ্তদশ স্তোমভাগের দ্বারা প্রাণের স্থাপন দেখান হয়েছে)–হে প্রাণের অভিমানী দেব! আপনি প্রাণের অধিপতি, অর্থাৎ সকল প্রাণের পালক হন। প্রাণের নিমিত্ত আপনাকে স্মরণ করছি; আপনি প্রাণসমূহের তুষ্টি সম্পাদতি করুন, আমাদের পুত্র ইত্যাদি প্রজগণের প্রাণসমূহকে তুষ্ট করুন (অর্থাৎ রক্ষা করুন)।–(অষ্টাদশ, উনবিংশ ও বিংশ স্তোমভাগে যথাক্রমে অপান, চক্ষু ও শ্রোত্র প্রতিপাদিত হয়েছে। এইগুলি সপ্তদশ স্তোমভাগে যেভাবে প্রাণের স্থাপন দেখান হয়েছে, সেইভবেই স্থাপনীয় বা বোধিতব্য)।–(একবিংশ, দ্বাবিংশ, এয়োবিংশ ও চতুর্বিংশ এই চারটি স্তোমভাগে মিথুনত্বের সম্পাদকত্ব দেখান হয়েছে)–হে মিথুনীভাব! তুমি ত্রিগুণশালী ও প্রবর্তক হও। (অর্থাৎ নারী পুরুষের সংযোগসাধনকারী, সংযোগের পর মন্থনব্যাপারে প্রবৃত্তি ও মন্থনের সমাপ্তি সাধন, এইভাবে ত্রিগুণসম্পন্ন হয়ে মন্থনের প্রবর্তনকারী হয়ে থাকে)। (পঞ্চবিংশ, ষড়বিংশ, সপ্তবিংশ, অষ্টাবিংশা এই চারটি স্তোমভাগের দ্বারা প্রজা-উৎপাদনপরত্ব দেখান হয়েছে। যথা-)-হে প্রজনন-ব্যাপার! তুমি সংরোহ (অর্থাৎ পুরুষের শুক্র ও নারীর শোণিতের সংশ্লেষে গর্ভের অভিব্যক্তি) ও নীরোহ অর্থাৎ নিঃশেষে অবয়বসমুহের অভিব্যক্তি) হও। (উনত্রিংশ, ত্রিংশ ও একত্রিংশ এই তিন স্তোমভাগে উৎপন্ন প্রজাগণের প্রতিষ্ঠা দর্শিত হয়েছে)–হে উৎপন্ন প্রজার অভিমানী দেবতা! আপনি শ্রীস্বরূপ নিবাসযোগ্য স্থানের প্রদাতা হন। এই তিন স্তোমভাগের দ্বারা প্রজাগণের প্রতিষ্ঠা সম্পাদিত হয়ে থাকে (প্রতিষ্ঠা সম্পদ্যতে) ॥২॥

    [অথ তৃতীয়ানুবাকে বিষ্ণুতিক্রমা উচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই তৃতীয় অনুবাকে বিষ্ণু-অতিক্রমের মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে]

    .

    তৃতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- অগ্নিনা দেবনে পৃতনা জয়ামি গায়ণে ছন্দ ত্রিবৃতা স্তোমেন রথস্তরেণ সাম্বা বষট্‌কারেণ বজ্রেণ পূৰ্ব্বজান্ ভ্রাতৃব্যানধরা পাদয়াম্যবৈনাম্বাধে প্রত্যেনাদেহস্মিন্ ক্ষয়েহস্মিন্ ভূমিলোকে যোহপ্যান্বেষ্টি যং চ বয়ং দ্বিমো বিষ্ণোঃ ক্রমেণাত্যেনা ক্রামামীণে দেবেন পৃতনা জয়ামি ত্রৈভেন ছন্দ পঞ্চদশেন স্তোমেন বৃহতা সাম্না বষট্‌কারেণ বজ্রেণ সহজাম্বিশেভিদ্দেবেভিঃ পৃতনা জয়ামি জাগতেন ছন্দ সপ্তদশন স্তোমেন বামদেব্যেন সামা বষট্‌কারণে বজ্রেণাপরজানিণে সযুজো বয়ং সাসহ্যাম পৃতন্যতঃ। ঘুন্তো বৃত্ৰাণ্যপ্রতি। যত্তে অগ্নে তেজস্তেনাহ তেজস্বী ভূয়াসং যত্তে অগ্নে বéস্তেনাহং বচ্চস্বী ভূয়াসং যত্তে অগ্নে হরস্তেনাহং হরস্বী ভূয়াসম্ ॥৩৷৷

    মর্মার্থ- (দেবতা, ছন্দ, স্তোম, সাম ও বজ্রের দ্বারা পরকীয় সৈন্যগণের বা শত্রুগণের পরাভব সাধিত হয়ে থাকে। শত্রু ত্রিবিধ,–পূর্বজ, সহজ ও অপরজ। পূর্ব শত্রু অর্থে পিতৃপিতামহ ইত্যাদির কাল হতে অনুবর্তমান শত্ৰু, সহজ শত্রু অর্থে বৈমাত্রেয় ভ্রাতা ইত্যাদি, অপরজ শত্রু অর্থে ইদানীং যার বা যাদের দ্বারা আপন কার্য ব্যাহত হয়। এই তিন প্রকার শত্রুর মধ্যে পূর্ব শত্রুগণ সর্বাপেক্ষা নীচ)। (সুতরাং) দেবতারূপী অগ্নি, ছন্দরূপা গায়ত্রী, স্তোমরূপ ত্রিবৃৎ, সামরূপ রথস্তর ও বজ্ররূপ বষটকারের দ্বারা আমি আমাদের পূর্বজ শত্রুগণকে পাদপ্রহার করছি। আমাদের নিবাসগৃহে যারা শৃঙ্খল ইত্যাদির দ্বারা আমাদের বন্ধন করে অথবা বাহিরের ভূমিলোকে যারা আমাদের দ্বেষ করে এবং আমরা যাদের দ্বেষ করি, এইরকম সকল বিদ্বেষী জনকে আমার (অর্থাৎ, বিষ্ণুরূপ যজমানের) বিক্রমের দ্বারা পাদবিন্যাস পূর্বক লঙ্ঘন করছি। (অর্থাৎ সকল পূর্ব শত্রুদের আমি ইন্দ্র, গায়ত্রী, ত্রিবৃৎ ইত্যাদির দ্বারা পদদলিত করব)। এইভাবে দেবতারূপী ইন্দ্র, ছন্দরূপ ত্রিষ্টুপ, পঞ্চমদশবিধ স্তোম, সাম্নরূপ বৃহৎ, বজ্ররূপ বষট্‌কারের দ্বারা সহজ শত্রুগণকে জয় করব। এই ভাবে দেবতারূপী বিশ্বদেবগণ, ছন্দরূপা জগতী, সপ্তদশবিধ স্তোম, সামরূপ বামদেব্য এবং বরূপ বষট্‌কারের দ্বারা অপরজ শত্রুগণকে বিনাশ করব। ইন্দ্রের সাথে যুক্ত হয়ে (ইন্দ্ৰেন সযুজঃ–অর্থাৎ পরমৈশ্বর্যযুক্ত আহবনীয় ইন্দ্রের সহযোগে) শত্রুসেনাগণকে আমরা বিনাশ করব এবং প্রতিকূলতা না থাকলেও শত্ৰু মাত্রকেই বধ করব। হে অগ্নিদেব! আপনার তেজে আমি কান্তি হবে, আপনার বর্চঃ অর্থাৎ বল ও হরঃ অর্থাৎ রশ্মিরূপ তেজঃ আমি প্রাপ্ত হবো৷৷ ৩৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন-অথ চতুর্থেহতিমোক্ষমন্ত্র উচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই চতুর্থ অনুবাকে অতিমোক্ষ মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে]।

    .

    চতুর্থ অনুবাক

    মন্ত্র- যে দেবা যজ্ঞহনো যজ্ঞমুষঃ পৃথিব্যামধ্যাসতে। অগ্নিৰ্ম্মা তেভ্যো রক্ষতু গচ্ছেম সুকৃত বয়ম্। আহগন্ম মিত্রাবরুণা বরেণ্যা রাত্ৰীণাং ভাগগা যুবয়োর্যো অস্তি। নাকং গৃহ্বানাঃ সুকৃতস্য লোকে তৃতীয়ে পৃষ্ঠে অধি নোচনে দিব। যে দেবা যজ্ঞহনো যজ্ঞমুশোহন্তরিক্ষেহধ্যাসতে। বায়ুৰ্ম্মা তেভ্যো রক্ষতু গচ্ছেম সুকৃতো বয়ম্। যাস্তে রাত্রীঃ সবিতঃ দেবয়ানীবন্তরা দ্যাবাপৃথিবী বিন্তি। গৃহৈশ্চ সর্বৈঃ প্ৰজয়া গ্রে সুবো রুহাণাস্তরতা রজাংসি। যে দেবা যজ্ঞহনো যজ্ঞমুষো দিব্যাখ্যাসতে। সূৰ্য্যা মা তেভ্যো রক্ষতু গাচ্ছেম সুকৃত বয়ম্।। যেনোয় সমভরঃ পয়াংস্যুত্তমেন হবিষা জাতবেদঃ। তেনাগ্নে মুত বর্ধয়েমং সজাতানাং শ্রৈষ্ঠ্য আ ধেহেন। যজ্ঞহনো বৈ দেবা যজ্ঞমুষঃ সন্তি ত এষু লোকেদাসত-আদদানা বিমগ্ৰানা যো দদাতি যো যজতে তস্য। যে দেবা যজ্ঞহনঃ পৃথিব্যামধ্যাসতে যে অন্তরিক্ষে যে দিবীত্যা হেমানেব লোকাং তীৰ্বা সগৃহ সপশুঃ সুবর্গং লোকমেত্যপ বৈ সোমে নেজানাবেতাশ্চ যজ্ঞ ক্রাম্যাগ্নেয়ং পঞ্চকপালমুদৰসানীয়ং নিৰ্ব্বপেদগ্নিঃ সৰ্বা দেবতাঃ পাঙক্তো যজ্ঞো দেবতাশ্চৈব যজ্ঞং চাব রুন্ধে গায়ত্রো বা অগ্নিৰ্গায়ত্রছাং ছন্দ ব্যৰ্দ্ধয়তি যৎ পঞ্চকপালং করোতষ্টাকপালঃ কাৰ্যোহষ্টাক্ষরা গায়ত্রী গায়ত্রোইগ্নিগায়ত্রছাঃ স্বেনৈবৈনং ছন্দসা সমৰ্দ্ধয়টি পঙক্তিৗ যাজ্যানুবাক্যে ভবতঃ পাঙক্তো যজ্ঞস্তেনৈব যজ্ঞান্নৈতি ॥৪॥

     মর্মার্থ- দেবতাগণের মধ্যে নীচশ্রেণীয় (ম্লেচ্ছজাতয়ঃ) কোন কোন জন আছেন, যাঁরা যজ্ঞভাগাৰ্হ হয়েও (অর্থাৎ যজ্ঞভাগ প্রাপ্ত হয়েও) তা দর্শন করে অসহমান হয়ে কোন কোন যজ্ঞ বিনাশ করেন, অপর কোন কোন জন যজ্ঞসাধন দ্রব্য অপহরণ পূর্বক অন্যত্র গমন করেন। সেই বিষয়ে যজ্ঞবিঘাতী যে দেবগণ পৃথিবীর মধ্যগত যে কোনও স্থানে (দেশে) লুক্কায়িত (অবতিষ্ঠিত) আছেন, সেই যজ্ঞবিঘাতকগণ হতে অগ্নি আমাদের রক্ষা করুন। (অর্থাৎ তারা যেন আর আমাদের যজ্ঞ ব্যাহত করতে না পারেন, তেমন করুন। আমরা যেন সুষ্ঠুভাবে যজ্ঞ নিষ্পদিত করে যজ্ঞফল প্রাপ্ত হতে পারি। সেইরকম যে দেবতাগণ যজ্ঞসাধন দ্রব্যসমূহ অপহরণ করে পৃথিবীর কোন স্থানে লুক্কায়িত আছেন, সেই অপহরণকারী দেবতাগণ হতে অগ্নি আমাদের রক্ষা করুন, আমরা যেন সুষ্ঠুভাবে যজ্ঞ সম্পন্ন করে যজ্ঞের ফল লাভ করতে পারি। (অর্থাৎ তাঁরা যেন আর আমাদের যজ্ঞসাধন দ্রব্য অপহরণ করতে না পারেন, তেমন করুন)।–হে বরেণ্য (শ্রেষ্ঠ) মিত্র ও বরুণ দেবদ্বয়! আপনাদের যজ্ঞসম্বন্ধিনী রাত্রির মধ্যে বশা বা অনুবন্ধ্যারূপা যে ভাগ আছে, তার দ্বারা আমরা সর্বতঃ স্বর্গসুখ প্রাপ্ত হবে। তা পৃথিবী ও অন্তরীক্ষ অপেক্ষা আরও ঊর্ধ্বে যজ্ঞসম্বন্ধিনী তৃতীয়লোকে, অর্থাৎ অধিক ভাসমান (দীপ্তিমান) স্বর্গের উপরে অবস্থান করছে। যে দেবগণ যজ্ঞের হননকারী ও যজ্ঞসাধন দ্রব্যের অপহরণকারী হয়ে অন্তরীক্ষলোকে অধ্যাসিত আছেন, বায়ু তাদের নিকট হতে আমাদের রক্ষা করুন; আমরা সুকৃত লোকে (পুণ্যলোকে) গমন করব।–হে সবিতাদেব! দ্যাব-পৃথিবীর মধ্যে যজ্ঞের অনুষ্ঠানযোগ্য আপনার সম্বন্ধিনী যে রাত্রিসমূহ আছে দৈবিক কর্মের উপযুক্ত সেই রাত্রিসমূহে কর্ম (অর্থাৎ যজ্ঞকর্ম) অনুষ্ঠিত করে আমাদের গৃহবর্তী ভৃত্য ও পুত্র ইত্যাদির সাথে আমরা যজমানগণ স্বর্গের প্রীতিজনক (রঞ্জনীয়) সুখসমূহ প্রাপ্ত হবো। যজ্ঞবিঘাতক ও যজ্ঞসাধন দ্রব্যসমূহের অপহর্তা যে সকল দেবতা দুলোকে অধ্যাসিত আছেন, তাদের হতে সূর্য আমাদের রক্ষা করুন; আমরা সুকৃত লোকে গমন করব।–হে জাতবেদা! যে উত্তম হবিঃস্বরূপ সোমরস ক্ষীররসের ন্যায় স্বাদযুক্ত করে ইন্দ্রের নিমিত্ত সস্তৃত (সঞ্চিত বা প্রস্তুত) হয়েছে, সেই হবির দ্বারা (অর্থাৎ সেই হবিঃ সেবন করে), হে ইন্দ্র! আপনি এই যজমানের বৃদ্ধি সাধন করুন, অধিকন্তু সজাতির মধ্যে এই যজমানকে শ্রেষ্ঠ করুন। কপটরূপধারী কোন কোন দেবতা যজ্ঞভাগরহিত হয়ে (অর্থাৎ যজ্ঞভাগ না প্রাপ্ত হয়ে) যজ্ঞশালা ভস্মীকরণ ইত্যাদি উপদ্রবের দ্বারা যজ্ঞঘাতী হন; এবং অপর কেউ কেউ গ্রহ, চমস ইত্যাদি যজ্ঞদ্রব্য অপহরণ করেন কিংবা ভগ্ন করেন, সোমরস অপহরণ করেন, যজ্ঞকারী যজমানের দেয় গো-ইত্যাদি দক্ষিণাদ্রব্য অপহরণ করেন। এই উভয়বিধ (অর্থাৎ যজ্ঞশালা দগ্ধকারী ও যজ্ঞদ্রব্য ভগ্নকারী বা অপহরণকারী) দেবতাগণ এই তিন লোকে অবতিষ্ঠিত আছেন। যে যজ্ঞহননকারী দেবগণ এই পৃথিবীতে, অন্তরীক্ষে ও দুলোকে অবস্থান করছেন, পৃথক মন্ত্রের দ্বারা (মন্ত্রগুলি পূর্বে উরুং হি রাজা–এই অনুবাকে, ১/৪/৪৫, দ্রষ্টব্য) তাঁদের উপদ্রবসহিত অতিক্রম করে সগৃহ (অর্থাৎ স্ত্রী, পুত্র ইত্যাদি সহ), সপশু (অর্থাৎ গো, অশ্ব ইত্যাদি সহ) যজমান স্বর্গলোক প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। সোম-অভিলাষী (সোমেনেষ্টবানভবৎ) যজমানের যজ্ঞ হতে দেবগণ অপসৃত হয়ে যেতে উদ্যত হন; এই নিমিত্ত অগ্নিদেবতার উদ্দেশে পঞ্চকপাল পুরোডাশের দ্বারা সাধ্য উদবসানীয় নামে আখ্যাত কর্ম কর্তব্য; অগ্নি ও গায়ত্রী প্রজাপতির মুখ হতে উৎপন্ন, সেই কারণে গায়ত্রী অগ্নিরূপ। পঞ্চকপাল পুরোডাশ নির্বপণ করলে অগ্নি আপন ছন্দ হতে বিযুক্ত হয়ে পড়েন, সেই নিমিত্ত অষ্টকপাল পুরোডাশ নির্বপণ পূর্বক অষ্টাক্ষরা গায়ত্রীর সমৃদ্ধি করণীয়। অতঃপর পাঙ্ক্তমন্ত্র পাঠের দ্বারা ধানা অর্থাৎ সৃষ্ট যব, করম্ভ অর্থাৎ দধিমিশ্রিত ছাতু ইত্যাদি সহযোগে পাক্ত যজ্ঞের অনুষ্ঠান করলে যজমানের অপগমন (অর্থাৎ বিনাশ) হয় না (নাপগচ্ছতি)।৪।।

    [সায়ণাচার্য বলেন–অতীমোক্ষপে মন্ত্রাশ্চতুর্থে সমুদীরিতাঃ। অথ পঞ্চমেইনুবাক আদিত্যগ্ৰহমন্ত্ৰা উচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই পঞ্চম অনুবাকে আদিত্য-গ্রহের মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে ]

    .

    পঞ্চম অনুবাক

    মন্ত্র- সূৰ্য্যো মা দেবো দেবেভ্যেঃ পাতু বায়ুরন্তরিক্ষাদ্যজমানোহগ্নিৰ্মা পাতু চক্ষুষঃ। সক্ষ শুষ সবিতৰ্বিশ্বচর্ষণ এতেভিঃ সোম নামভিৰ্বিধেম তে তেভিঃ সোম নামভিৰ্বিধেম তে। অহং পরস্তাদহমবস্তাদহং জ্যোতিষা বি তমো ববার। যদন্তরিক্ষং তদু মে পিতাহভূদহং সূৰ্য্যমুভয়তো দদর্শাহং ভূয়াসমুত্তমঃ সমানানাম আ সমুদ্ৰাদাহন্তরিক্ষাৎ প্রজাপতিরুদধিং চ্যাবয়াতীন্দ্রঃ প্র মৌতু মরুততা বৰ্ষয়ন্তন্নয় পৃথিবীং জিন্ধীদং দিব্যং নভঃ। উগো দিব্যস্য নো দেহীশানো বি সৃজা দৃতিম্।। পশবো বা এতে যদাদিত্য এষ রুদ্ৰো যদগ্নিরোষধীঃ প্ৰাস্যাগ্নাবাদিত্যং জুহোতি রুদ্রাদেব পশূনন্তর্দধাত্যথো ওষধীম্বেব পশন প্রতিষ্ঠাপয়তি কবির্যজ্ঞস্য বি তনোতি পন্থাং নাকস্য পৃষ্ঠে অধি রোচনে দিবঃ।। যেন হব্যং বহসি যাসি দূত ইতঃ প্রচেতা অমুতঃ সনীয়ান। যাস্তে বিশ্বাঃ সমিধঃ সন্ত্যগ্নে যা পৃথিব্যাং বহিষি সূৰ্যে যাঃ।। তাস্তে গচ্ছন্তাহুতিং ঘৃতস্য দেবায়তে যজমানায় শৰ্ম্ম। আশাসানঃ সুবীৰ্য্যং রায়ম্পোষং স্বশ্বিয়ম্। বৃহস্পতিনা রায়া স্বগাকৃতো মহং যজমানায় তিষ্ঠ ॥ ৫৷৷

    মর্মার্থ- এই আদিত্যগ্রহ সূর্য, বায়ু ও অগ্নির স্বরূপ। সূর্যরূপধারী এই দেব যজ্ঞবিঘাতী দেবগণ হতে আমাকে রক্ষা করুন। সেই রকম বায়ুরূপে তিনি বিঘ্নকারী দেবযুক্ত (দেবনিবাসিত) অন্তরীক্ষ লোক হতে আমাকে রক্ষা করুন। অগ্নিরূপে তিনি যাগকারী যজমানদের প্রতি বিরোধী দেবতাগণের দৃষ্টি (অর্থাৎ রোষচক্ষু) হতে আমাদের রক্ষা করুন। হে সোম! আপনার যে সক্ষ (পাত্রসঙ্গ), শূষ (লবন্), সবিতা (প্রেরক) ও বিশ্বচর্ষণ (সকল মনুষ্যের অনুগ্রাহক), এই চারটি সম্বোধনরূপ নাম আছে, সেই নামের দ্বারা সূর্য-বায়ু-অগ্নির সাথে আপনার পরিচর‍্যা করব। আমি যজমান এই আদিত্য গ্রহের জ্যোতিতে বিশেষভাবে অন্ধকার (মো) বিদূরিত করছি। উপরিভাগ (ঊর্ধ্বলোক বা স্বর্গ) ও অধোভাগ (নিম্নলোক বা পৃথিবী) এই উভয়ের মধ্যবর্তী যে অন্তরীক্ষলোক, তিনিও পিতৃবৎ হয়ে (অর্থাৎ পিতার ন্যায়) আমাকে পালন করেছিলেন (পালকমভূৎ)। ঊর্ধ্ব ও অধোভাগ বা দক্ষিণ ও উত্তরভাগ হতে সূর্য বা আদিত্য গ্রহকে দর্শন করেছি; অতএব আমি সমপর্যায়ভুক্ত যজমানগণের মধ্যে উত্তম (শ্রেষ্ঠ) হবো। প্রজাপতি দর্ভের দ্বারা চতুর্দিকে সমুদ্র সমান (অর্থাৎ উধভাগ, অধোভাগ, অন্তরীক্ষ ও সমুদ্র অবধি) এই অদিত্য গ্রহের বিস্তার করুন। ইন্দ্র গাভীর উধের (অর্থাৎ স্তনের) ন্যায় এই গ্রহের ক্ষরণ (দোহন) করুন। মরুত্বর্গ মেঘের ন্যায় (মেঘা ইব) এই গ্রহ হতে নিরন্তর (সন্তত) ধারা বর্ষণ করুন। হে আদিত্য! আপনি আকাশ হতে পৃথিবীকে উদ্ধৃষ্টভাবে ক্লিন্ন (আ) করুন; দ্যুলোকস্থ বা আকাশবর্তী মেঘের ন্যায় গ্রহকে ভিন্ন (বিদারিত) করুন। দিব্যস্থ অর্থাৎ আকাশস্থ উদক-সমৃদ্ধি (অর্থাৎ গগনমণ্ডলে জল সম্পর্কিত শেয়তা) আমাদের প্রদান করুন। আপনি সমর্থ (বা আধিপত্যশালী); জলবিধারক দৃতি (অর্থাৎ ভিস্তি) সমান মেঘসমূহকে আপনি মুক্ত করুন (বিমুঞ্চ)। আদিত্যগ্রহ পশু প্রাপ্তির হেতুভূত। অগ্নিস্বরূপ ক্রুর দেবতাগণের সেই ক্রুরতা পরিহার করার নিমিত্ত অগ্নিতে ওষধি প্রক্ষিপ্ত করে তারপর আদিত্যগ্রহের যাগ করণীয়। তার ফলে (তথা) রুদ্ররূপ অগ্নির সকাশে আদিত্যগ্রহরূপ পশুসমূহ অন্তর্হিত হয় না; অধিকন্তু ওষধির মধ্যে আদিত্যগ্রহরূপ পশুসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। যজ্ঞের বিদ্বান এই আদিত্যগ্রহ স্বর্গের পথ বিস্তৃত করেন। হে অগ্নি! প্রকৃষ্ট রূপে আমাদের কর্মানুষ্ঠান জ্ঞাত হয়ে দেবতাগণের দূতরূপে হবিঃ বহন করে আপনি যে পথ ধরে গমন করেন, সেই পথ বিস্তৃত করুন। আপনি স্বর্গলোকের অতিশয় ফলদাতা। হে অগ্নি! ভূলোকে, যজ্ঞদেশে (বহিষি) ও সূর্যে আপনার যে দীপ্যমান জ্বালা আছে, সেই জ্বালাসমূহ এই ঘৃতের আহুতি প্রাপ্ত হোক। দেবায়ুতে (দেবতাকে প্রাপ্তির নিমিত্ত অভিলাষ পরায়ণ) যজমানকে সুখ প্রদান করুন। (আদিতগ্রহ-বিষয়ক এই মন্ত্রগুলি কদা চন স্তরীরসি এই অনুবাকের ঊর্ধ্বে, ১/৪/২২, দ্রষ্টব্য)। হে যুপ (যজ্ঞীয় পশুবন্ধনের নিমিত্ত কাষ্ঠবিশেষ)! তুমি যজমানরূপী আমার নিমিত্ত সুবীর্যশালী অশ্বরূপ (অর্থাৎ অশ্ববৎ) ভোগসামর্থযুক্ত (সামর্থ্যেনোপেতং) শোভন ধনের পুষ্টি আকাঙ্ক্ষা করো। তুমি বৃহস্পতি দেবতার দ্বারা প্রভূত ধনের নিমিত্ত সৃষ্ট হয়ে যজমানের মনোগত রূপে অবস্থান করো। (সোহয়ং মন্ত্রঃ পশুপ্রকরণগতাৎ সমুদ্রং গচ্ছ ইতি অনুবাকাদূর্ধ্বং দ্রষ্টব্য, ১ম কাণ্ড/৩য় প্রপাঠক/১১শ অনুবাক), ॥৫॥

    [অথ ষষ্ঠেইনুবাকে পত্নীবিষয়া মন্ত্র উচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই অনুবাকে পত্নীবিষয়ক মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে।]

    .

    ষষ্ঠ অনুবাক

    মন্ত্র- সং ত্বা নহ্যামি পয়সা ঘূতেন সং ত্বা নহ্যাম্যপ ওষধীভিঃ। । সং ত্বা নহ্যামি প্রজয়াহহমদ সা দীক্ষিতা সনবো বাজমন্মে। তুৈ ব্ৰহ্মণম্পত্নী বেদিং বর্ণেন সীতু। অথাহমনুকামিনী স্বে লোকে বিশা ইহ। সুপ্রজসত্ত্বা বয়ং সুপত্নীরূপ সোদ। অগ্নে সপত্নদম্ভমদাসো অদাভ্য। ইমং বি ষ্যামি বরুণস্য পাশ যমবীত সবিতা সুকেতঃ। ধাতুশ্চ যোনৌ সুকৃতস্য লোকে স্যোনং মে সহ পত্যা করোমি। প্রেহৃদেহৃতস্য বামীরন্থগ্নিস্তেহগ্রাং নয়ত্বদিতিৰ্মধ্যং দদং রুদ্রাব সৃষ্টাহসি যুবা নাম মা মা হিংসীৰ্ব্বসুভ্যো রুদ্রেভ্য আদিতোভ্যো বিশ্বেভ্যো বো দেবেভ্যঃ পন্নেজনীৰ্গমি যজ্ঞায় বঃ পন্নেজনীঃ সাদয়মি বিশ্বস্য তে বিশ্বাবততা বৃষ্ণিয়াবতঃ তবাগ্নে বামীরনু সশি বিশ্বা রেংসি ধিষীয়াগদেবান্যজ্ঞো নি দেবীর্দেবেভ্যো যজ্ঞমশিষন্নম্মিৎ সুন্বতি যজমান আশিষঃ স্বাহাকৃতাঃ সমুদ্রেষ্ঠা গন্ধৰ্ব্বমা তিষ্ঠতানু। বাতস্য পত্নন্নিড় ঈড়িতাঃ ॥৬৷৷

    মর্মার্থ- হে পত্নী! তোমাকে দুগ্ধ ও ঘৃতের নিমিত্তভূত (অর্থাৎ এই উভয়ের পকের নিমিত্ত)। সম্যকরূপে বন্ধন করছি। সেই রকম, ওষধির সাথে জলের উদ্দেশ্যে (অর্থাৎ উভয়ের পকের নিমিত্ত) তোমাকে সম্যক বন্ধন করছি। অধ্বর্যরূপী আমি প্রজার নিমিত্তভূতা (অর্থাৎ পুত্র ইত্যাদি প্রাপ্তির নিমিত্ত) তোমাকে বন্ধন করছি। আমাদের অন্ন দানের নিমিত্ত সেই পত্নী দীক্ষিত হোন। ব্রাহ্মণ যজমানের পত্নী পত্নীসালা হতে নির্গত হয়ে প্রকর্ষের সাথে যজ্ঞশালায় গমন করুন। (অনন্তর) আমি (অর্থাৎ যজমানের পত্নী) যজমানের (অর্থাৎ স্বামীর) আনুকূল্য কামনা করে (কাময়মানা হয়ে) আপন স্থানে উপবেশন করছি। হে অগ্নি! শোভন অপত্যশালিনী ধর্মপত্নী আমরা কারো দ্বারা তিরস্কৃতা হই না, আমরা সপত্নদম্ভনং অর্থাৎ বৈরিবিনাশকারিণী; আমরা আপনার সমীপে উপবেশন করছি। শোভন জ্ঞানযুক্ত প্রেরক বরুণের যে মরণরূপ পাশ পূর্বে বন্ধন করেছিল, তা আমি বিমোচিত করছি (বিমুঞ্চামি)। তার পর সুকৃতির ফলভূত উত্তম লোকে পরমেশ্বরের স্থানে (গমন করে) পতির সাথে সুখ প্রাপ্ত হবো (সুখং করোমি)।–হে পত্নী! যজ্ঞশালার পাকস্থলী হতে নির্গত হয়ে জল আনয়নের নিমিত্ত বিলম্ব না করে গমন করো। যজ্ঞের প্রেরক এই অগ্নিদেব তোমার গমনে অনুমন্যমান হয়ে (অর্থাৎ অনুমোদন করে) তোমাকে সম্মুখে প্রেরণ করুন। অদিতি (পৃথিবী) ও ভূমি উভয়পার্শ্বের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পথ প্রদান করুন (অর্থাৎ যজ্ঞস্থলীর মধ্যস্থান দিয়ে নির্গমনের ও প্রবেশের পথ প্রদান করুন)। তুমি ক্রুর উপদ্ৰবকারী দেবগণ হতে বিমুক্ত। অতএব তোমাকে আমার প্রতি হিংসা করো না (অর্থাৎ রুষ্টা হয়ো না)।–হে জল! বসুগণ, রুদ্রবর্গ, আদিত্যবৃন্দ ও সকল দেবতার প্রীতির নিমিত্ত তোমাকে গ্রহণ করছি; এবং যজ্ঞের নিমিত্তও তোমাকে গ্রহণ করছি।-হে অগ্নিদেব! বিশ্বাত্মক আপনার কটাক্ষবীক্ষণে (অপাঙ্গ দৃষ্টির দর্শনে) এই অনুষ্ঠানের প্রবর্তক আমি বহুপুত্রের কামনায় (বহুপুত্ৰকারণানি) পত্নীতে সকল বীর্য স্থাপন করব। এই যজ্ঞ দেবগণের নিকট প্রাপ্ত হয়েছে। দ্যোতমানা জলদেবী আমাদের এই যজ্ঞের বিষয় নিরন্তর স্পষ্টরূপে ব্যক্ত করেছেন–এই যজমান সোম অভিষব করলে স্বাহাকারের দ্বারা সম্পাদিত স্বর্গে অবস্থিত সমুদ্রতুল্য আশিসরূপ ফলবিশেষসমূহ সবই, গন্ধর্বপত্নীর নিকট গন্ধর্বের মতো, আমার প্রিয় যজমানের প্রাপ্ত হোক। যজ্ঞপ্রবর্তক বায়ু কর্তৃক প্রেরিত হয়ে ঋত্বিকগণের দ্বারা (অন্যত্র, অধ্বর্যর দ্বারা) প্রযুক্ত ফল সাধনভূত স্তোত্র বিশেষ যজমান প্রাপ্ত হোন ॥৬॥

    [সায়ণাচার্য বলেন-সপ্তমেহনুবাকে দর্শপূর্ণমাসাঙ্গভূতানাং সুচাং বৃক্ষবিশেষা বিধিয়ন্তে। অর্থাৎ–এই সপ্তম অনুবাকে দর্শপূর্ণমাস যাগের অঙ্গভূত সুচা নির্মাণের নিমিত্ত বৃক্ষবিশেষের বিধি কথিত হয়েছে]।

    .

    সপ্তম অনুবাক

    মন্ত্র- বটকারো বৈ গায়ত্রিয়ৈ শিরোহচ্ছিনত্তস্যৈ রসঃ পরাহপতৎ স পৃথিবীং প্রাবিশৎ স খদিরোহভবদ্যস্য খাদিরঃ সুবো ভবতি ছন্দসামেব রসেনাব দ্যতি সরসা অস্যাহহুতয়ো ভবন্তি তৃতীয়স্যামিতো দিবি সোম আসীত্তং গায়াহহরত্তস্য পর্ণমচ্ছিদ্যত তৎপর্ণোহভবৎপর্ণস্যা পর্ণত্বং যস্য পর্ণময়ী জুহুঃ ভবতি সৌম্য অস্যাহহুতয়ো ভবন্তি জুন্তেহস্য দেবা আহুতীর্দো বৈ ব্ৰহ্মন্নবদন্ত তৎপৰ্ণ উপাণোৎ সুশ্রবা বৈ নাম যস্য পর্ণময়ী ভূহুৰ্ভবতি ন পাপং শ্লোকং শৃণোতি ব্ৰহ্ম বৈ পর্ণো বিগুরুতোহন্নং বিরুতোহশ্বখখা যস্য পর্ণময়ী জুহূর্ভবত্যশ্বেথুপভৃহ্মণবানুমব রুব্ধেহথো ব্ৰহ্ম এব বিশ্যধহতি রাষ্ট্রং বৈ পর্ণো বিশ্বা যৎপৰ্ণময়ী জুহুর্ভবত্যাশ্বত্থাপতৃদ্ৰাষ্টমেব বিণ্যধ্যহতি প্রজাপতি অজুহোৎ সা যাত্ৰাহহুতিঃ প্রত্যতিষ্ঠত্ততো বিকঙ্কত উদতিষ্ঠত্ততঃ প্রজা অসৃজত যস্য বৈকঙ্কতী বা ভবতি প্রত্যেবাস্যাহহুতয়স্তিষ্ঠ্যথো প্রৈব জায়ত এতদ্বৈ সুচাং রূপং যস্যৈবংরূপাঃ সুচো ভবন্তি সর্বাণ্যেবৈনং রূপাণি পশুনামুপ তিষ্ঠন্তে নাস্যাপরূপমাত্মঞ্জায়তে ॥৭৷৷

    মর্মার্থ- বষট্‌কার-অভিমানী (অর্থাৎ যজ্ঞের অধিষ্ঠাতৃ) দেবতা এক কোনও এক বিরোধের কারণে (কেনাপি বিরোধেন) গায়ত্রীর শিরচ্ছেদন করে ফেলেছিলেন। তখন গায়ত্রীর সেই ছিন্ন স্থান হতে জল নির্গত হয়ে ভূমিতে পতিত হয়ে খদির (অর্থাৎ খয়ের) বৃক্ষে পরিণত হলো। এই নিমিত্ত সুব (হোমের নিমিত্ত কাষ্ঠনির্মিত পাত্রবিশেষ) খদির বৃক্ষের দ্বারা প্রস্তুত করণীয়। সেই খাদির কাষ্ঠনির্মিত সুক বা সুচার (পাত্রের) দ্বারা যা যা প্রদান করা হয়, সেই সব সামগ্রীই ছন্দরসে যুক্ত হয়ে থাকে। তার ফলে এই যজমানের (অর্থাৎ যে যজমান সুকের দ্বারা আহুতি প্রদান করেন, তাঁর) আহুতিগুলি সরস হয়ে থাকে। এই ভূলোক হতে গণনা করে যে তৃতীয়লোক আছে, সেই তৃতীয় দ্যুলোকে পূর্বে সোম বর্তমান ছিল। গায়ত্রী তাকে সংগৃহীত করেন। (২য় কাণ্ড/ ১ম প্রপাঠক/৭ম অনুবাকও দ্রষ্টব্য) আহরণ কালে সোমের একটি পর্ণ (বা পাতা) ভূমিতে পতিত হয়ে পলাশবৃক্ষে পরিণত হলো। পর্ণ হতে জন্ম হওয়ার কারণে এই বৃক্ষ পর্ণ নামে অভিহিত হয়; সেইজন্য পর্ণ বৃক্ষের দ্বারা জুহু (যজ্ঞপাত্রবিশেষ) নিষ্পন্ন, (প্রস্তুত) করণীয়। এই রকম জুহুর দ্বারা হুয়মান যে আহুতিসমূহ প্রদান করা হয়, তার সবগুলিই সোমসম্বন্ধী (অর্থাৎ সোমের সম্পর্কযুক্ত) হয়ে যায়; এবং দেবগণ সেই আহুতিসমূহ প্রীতিপূর্বক (প্রীতিপুরঃসরা) সেবা করেন। (অর্থাৎ সোমপত্ৰ হতে উৎপন্ন পর্ণবৃক্ষের কাষ্ঠে নির্মিত জুহু নামক যজ্ঞপাত্রবিশেষের দ্বারা যা কিছু আহুতি প্রদান করা হয়, তা সবই সোম সহযোগে আহুতির সমযোগ্য হয়; সুতরাং সোমসেবী দেবগণ সানন্দে সেই আহুতিগুলি গ্রহণ করেন)।–(প্রকারান্তরে পর্ণবৃক্ষের প্রশংসা করা হয়েছে)-কোন এক সময়ে দেবগণ সমবেতভাবে এক পর্ণবৃক্ষের ছায়ায় উপবিষ্ট হয়ে যখন ব্রহ্মতত্ত্ব বিষয়ে পরস্পর আলাপনে রত ছিলেন, তখন পর্ণবৃক্ষ-অভিমানী দেবতা তাদের (অর্থাৎ দেবতাগণের) বাক্য শ্রবণ করেছিলেন। এই শ্রবণজনিত কারণে তার (অর্থাৎ পর্ণবৃক্ষের) সুশ্রবা নাম সম্পাদিত হয়। যেহেতু এই বৃক্ষ সুবা, সেই হেতু এর কাষ্ঠ দ্বারা জুহু নির্মাণ করলে (অর্থাৎ সুশ্রবা নামে অভিহিত পর্ণবৃক্ষের কাষ্ঠে নির্মিত জুহু দ্বারা আহুতি প্রদান করলে) সেই যজমান সর্বদা শোভন স্তুতিরূপ বাক্য শ্রবণ করেন; কখনও নিন্দাবচন (পাপং শ্লোকং) শ্রবণ করেন না। দেববর্গের দ্বারা উচ্চারিত ব্রহ্মতত্ত্ব শ্রবণ করে পর্ণবৃক্ষও ব্রহ্মত্ব বা ব্রাহ্মণ অভিমানী হয়; বৈশ্যজাতির অভিমানের দ্বারা মরুৎ-গণ সৃষ্টি হওয়ার কারণে মরুৎ-গণ বৈশ্য (বি)-রূপ। কৃষি ইত্যাদি কর্মপরায়ণ বৈশ্য জাতির দ্বারা অন্ন উৎপন্ন (সম্পাদিত) হওয়ার কারণে অন্নও মরুৎ-রূপ। মরুতাং বা এতদোজো যদশ্বঃ অর্থাৎমরুৎ-গণের তেজঃ হলো অশ্বত্থা–এই শ্রুতিবাক্য হতে অশ্বথ বৃক্ষের মারুত্ত্ব সম্পাদিত হয়েছে। এইরকমভাবে (অর্থাৎ শ্রুতিবাক্য অনুসারে) স্থিত হয়ে যে যজমান পর্ণময় (পর্ণের দ্বারা) জুহু নির্মাণ করেন, তার পক্ষে অশ্বথের দ্বারা উপভৃৎ (অশ্বত্থ কাষ্ঠে নির্মিত গোলাকার যজ্ঞপাত্রবিশেষ) নির্মাণ কর্তব্য। এই উভয়ের দ্বারা যজমান জুহুরূপ ব্রাহ্মণ ও অশ্বত্থাস্বামী বৈশ্যাভিমানী মরুত্বর্গের দ্বারা অন্নকে প্রাপ্ত হবেন; অধিকন্তু, ব্রাহ্মণজাতি এই বৈশ্যজাতি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠরূপে স্থাপিত হন (অধিকত্বেন স্থাপয়তি)। পর্ণবৃক্ষ তার স্বামী (প্রভু) ব্রাহ্মণগণের নিবাসস্থানত্ব প্রাপ্ত হওয়ায় রাষ্ট্রত্বও পর্ণরূপ। মরুৎ-দেবতাগণের দ্বারা অশ্বথের বৈশ্বরূপত্ব (বি-রূপত্ব) সূচিত হয়েছে। অতএব পূর্বোক্ত রীতিতে পর্ণবৃক্ষের কাষ্ঠে জুহু এবং অশ্বথ বৃক্ষের কাষ্ঠে উপভৃৎ নির্মিত হলে (নিম্পাদিত হলে) ব্রাহ্মণরূপ রাষ্ট্র অশ্বত্থরূপ বৈশ্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠত্বে স্থাপিত হয়ে থাকে। প্রজাপতি পূর্বে যে স্থান হতে আহুতি প্রদান করেছিলেন, সেই দেশ (স্থান) হতে বিকঙ্কত (বৈঁচি) নামে বৃক্ষ উৎপন্ন হয়েছিল। সেই যজ্ঞসাধনভূত বিকঙ্কত হতে প্রজাগণের সৃজন হয়েছিল। এই নিমিত্ত বৈকঙ্কত (অর্থাৎ বিকঙ্কত বৃক্ষের দ্বারা) ধ্রুবা (যজ্ঞপাত্রবিশেষ) নির্মাণ করণীয়। এই ধ্রুবার দ্বারা কৃত আহুতিগুলি যজমানে প্রতিষ্ঠিত হয়, অধিকন্তু যজমান প্রজা উৎপাদন করেন।–(উপসংহারে সুগবৃক্ষবিধি কথিত হচ্ছে)–খদির বৃক্ষের কাষ্ঠে সুচ, পর্ণবৃক্ষের কাষ্ঠে জুহু, অশ্বত্থবৃক্ষের কাষ্ঠে উপভৃৎ এবং বিকঙ্কত বৃক্ষের কাষ্ঠে ধ্রুবা+এইগুলি মুখ্য স্বরূপ। যে যজমানের সুবগুলি (হোমের নিমিত্ত পাত্রগুলি) এইরকমভাবে নির্মিত হয়, সেই যজমান গো, অশ্ব ইত্যাদি সবই প্রাপ্ত হয়ে থাকেন; অধিকন্তু সেই যজমানের কোনও অপত্য (সন্তান) বিরুদ্ধস্বরূপ (বিরুদ্ধ স্বভাবশালী) হয় না, বরং সকল অপত্যই সুস্বরূপ (উত্তম স্বভাবশালী) হয়ে থাকে। ৭।

    [অর্থাষ্টমে দধিগ্রহমন্ত্ৰা উচ্যন্তে।–এই অষ্টম অনুবাকে দধিগ্রহ সম্পর্কিত মন্ত্রাবলী উক্ত হয়েছে ]

    .

    অষ্টম অনুবাক

    মন্ত্র- উপমগৃহীতোহসি প্রজাপতয়ে ত্বা জ্যোতিষ্মতে জ্যোতিষ্মন্ত গৃমি দক্ষায় দক্ষবৃধে রাতং দেবেলভ্যাংগ্নিজিভ্যেস্তৃর্তায়ভ্য ইন্দ্ৰজ্যেষ্ঠেভভ্য বরুণরাজভ্যো বাতাপিভ্যঃ পর্জন্যাত্মভ্যো দিবে স্বাহন্তরিক্ষায় জ্বা পৃথিব্যৈ ত্বাহপেন্দ্র স্মিতো মনোহপ জিজ্যাসততা জহপ যো নোহরাতীয়তি তং জহি প্ৰাণায় ত্বাইপানায় ত্বা ব্যানায় ত্বা সতে বৃহসতে ত্বহত্ত্যন্তৌষধীভ্যো বিশ্বেভ্যস্তা ভূতেভ্যো যতঃ প্রজা অখিদ্রা অজায়ন্ত তস্মৈ ত্ব প্রজাপতয়ে বিভুদারে জ্যোতিষ্মতে জ্যোতিষ্মন্তং জুহোমি ॥৮॥

    মর্মার্থ- হে দধিগ্রহ (যজ্ঞনিমিত্ত পাত্রে গৃহীত দধি)! তুমি পার্থিবপাত্রের দ্বারা গৃহীত হয়ে থাক; জ্যোতির্মান প্রজাপতির উদ্দেশ্যে জ্যোতিষ্মন্ত তোমাকে গ্রহণ করছি (জ্যোতিষ্মন্তং ত্বা গৃহূমি)। বর্ধনপ্রাপ্ত কর্মকুশলতাসম্পন্ন তুমি পূর্বে প্রজাপতি কর্তৃক দেবতাগণের নিকট প্রদত্ত হয়েছিলে। সেই দেবতাগণ অগ্নিজিহ্ (অর্থাৎ অগ্নির ন্যায় প্রজ্বলন্ত জিহ্বসম্পন্ন), সত্য সন্ধানেচ্ছু; ইন্দ্র যাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ, বরুণ যাঁদের রাজা, বায়ুপান যাঁদের আহার, পর্জন্য যাদের আত্মা (অর্থাৎ তারা বৃষ্টি ইত্যাদি সহিষ্ণু)–এইরকম যে দেবগণের নিকট তুমি প্রদত্ত হয়েছিলে, তাঁদের নিকট হতে তোমাকে আমি পূর্বে গ্রহণ করছি। সেইভাবে দ্যুলোককে প্রাপ্তির নিমিত্ত তোমাকে গ্রহণ করছি, অন্তরীক্ষলোককে প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে তোমাকে গ্রহণ করছি, পৃথিবীলোককে প্রাপ্তির কামনায় তোমাকে গ্রহণ করছি। তিন রকমের শত্রু আছে; যথা–দ্বিষৎ, জিজ্যাসৎ ও অরাতি। এর মধ্যে যে শত্রু যজমানের জন্য রক্ষিত (যজমানস্য বিদ্যমানং) দ্রব্য ইত্যাদি বিনাশ করে, সে দ্বিষৎ; যে শত্রু যজমানের দ্রব্য অপহরণ করে ও যজমানের মরণ ইচ্ছা করে, সে জিজ্যাসৎ; যে শত্রু পূর্বে প্রদত্ত বস্তু প্রত্যর্পণ করতে ইচ্ছা করে না, সে অরাতি। হে ইন্দ্রদেব! আপনি এইরকম দ্বিষৎও জিজ্যাসৎ নামধেয় শত্রুগণের মন জয় করুন এবং সেইরকম আমাদের অরাতিগণকেও জয় করুন।–হে দধিগ্রহ! প্রাণের (প্রাণবায়ু তথা উৰ্দ্ধবৃত্তির) প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে হোম করছি; এইরকমে অপানের (অর্থাৎ বাক্-বৃত্তির) প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে যাগ করছি, ব্যানের (অর্থাৎ মধ্যবৃত্তির) প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে হোম করছি, শাস্ত্রীয় পথাবলম্বী অর্থাৎ সৎ ও তার বিপরীতগামী অর্থাৎ অসৎ জনের প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে হোম করছি, জল ও ওষধিসমূহের প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে হোম করছি, এবং সর্বপ্রাণীর (বিশ্বানি ভূতানি) প্রীতির নিমিত্ত তোমার উদ্দেশে হোম করছি। আরও, প্রজাপতি সকাশে যে সকল প্রজা খেদরহিত হয়ে উৎপন্ন হয়েছে, তিনি তাদের প্রভূত ঐশ্বর্য দান করেছেন; সেই সর্বপ্রকাশাত্মক প্রজাপতির উদ্দেশে জ্যোতিষ্মন্ত তোমাকে আহুতি প্রদান করছি ॥৮॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–দধিগ্রহস্য যে মন্ত্ৰা অষ্টমে তে প্রকীর্তিতাঃ। অথ নবমেহনুবাকে তে মন্ত্রা ব্যাখ্যাতব্যা। অর্থাৎ-অষ্টম অনুবাকে উক্ত দধিগ্রহ-মন্ত্রগুলি এই নবম অনুবাকে ব্যাখ্যাত হয়েছে]

    .

    নবম অনুবাক

    মন্ত্র- যাং বা অধ্বর্য্যশ্চ যজমানশ্চ দেবতামন্তরিতস্তস্যা আ বৃশ্চ্যেতে প্রাজাপত্যং দধিগ্রহং গৃহীয়াৎ প্রজাপতিঃ সৰ্বা দেবতা দেবতাভ্য এব নি হুবাতে জ্যেষ্ঠো বা এষ গ্রহাণং যস্যৈষ গৃহ্যতে জ্যৈষ্ঠ্যমেব গচ্ছতি সৰ্বাসাং বা এতদ্দেবতানাং রূপং যদেষ গ্রহে যস্যৈষ গৃহ্যতে সৰ্ব্বণ্যেবৈনং রূপাণি পশূনামুপ তিষ্ঠ উপযামগৃহীতঃ। অসি প্রজাপতয়ে ত্বা জ্যোতিষ্মতে জ্যোতিষ্মন্তং গৃহামীত্যাহ জ্যোতিরেবৈনং সমানানাং করোত্যগ্নিজিভ্যেস্তৃর্তায়ুভ্য ইত্যাহৈতাবতীর্বৈ দেবতাস্তাভ্য এবৈনং সর্বাভ্যো গৃহূত্যপেন্দ্র দ্বিষতো মন ইত্যাহ ভ্রাতৃব্যাপনুত্তৈ প্রাণায় ত্বাইপানায় ত্বেত্যাহ প্রাণানেব যজমানে দধাতি তস্মৈ জ্বা প্রজাপতয়ে বিভূদারে জ্যোতিষ্মতে জ্যোতিষ্মন্তং জুহোমি ইত্যাহ প্রজাপতিঃ সৰ্বা দেবতাঃ সৰ্বাভ্য এবৈনং দেবতাভ্যো জুহোত্যাজ্যগ্রহং গৃহীয়াত্তেজস্কামস্য তেজো বা আজ্যং তেজষ্যেব ভবতি সোমগ্রহং গৃহীয়াহ্মবéসকামস্য ব্ৰহ্মবéসং বৈ সোমো ব্রহ্মবéস্যে ভবতি দধিগ্রহং গুহ্নীয়াৎ পশুকামসস্যাথৈ দধৰ্কপশৰ উর্জৈবাশ্ম ঊর্জং পশূনব রুন্ধে ॥৯॥

    মর্মার্থ– সোমযাগে বহু দেবতার সমাবেশ হয় (অর্থাৎ দেবগণের বাহুল্য থাকে)। সেই কারণে অধ্বর্য ও যজমানের প্রমাদে কোন দেবতার অন্তরায় (বিঘ্ন) করা হলে (কুর্বাতে), (অর্থাৎ যদি ভুলবশতঃ কোন দেবতা সম্পর্কে কিছুমাত্র ত্রুটি ঘটলে), তা হতে এই দুজন (অর্থাৎ অধ্বর্য ও যজমান বিচ্ছিন্ন হয়ে সেই দেবতার নিকট অপরাধী হন। এই হেতু সেই অপরাধ পরিহারের নিমিত্ত প্রজাপতি দেবতার উদ্দেশে দধিগ্রহ গ্রহণ কর্তব্য। প্রজাপতির দ্বারা সৃষ্টি হওয়ার কারণে প্রজাপতি সকল দেবতারই স্বরূপ। অতএব তাকে (অর্থাৎ প্রজাপতি দেবকে গ্রহ দান করলে সকল দেবতাই অনুবন্ত হয়ে থাকেন (অর্থাৎ যজ্ঞান্ন প্রাপ্ত হন) এবং শাঠ্য পরিত্যাগ করেন। ফলে যজমান ও অধ্বর্য সকল দেবতারই দ্বেষ হতে মুক্ত হন। গ্রহগুলির (অর্থাৎ যজ্ঞপাত্রবিশেষগুলির) মধ্যে যেটি জ্যেষ্ঠ বা প্রথমভাবী, সেটিই প্রথমে গ্রহণ করা কর্তব্য। যে যজমানের এই গ্রহ প্রথম গৃহীত হয়, তিনি সকল যজমানের মধ্যে মুখ্যত্ব প্রাপ্ত হয়ে থাকেন। প্রজাপতি সর্বদেবতাত্মক (অর্থাৎ সর্বদেবতার স্বরূপ), সেই কারণে তার উদ্দেশে যে যজমান গ্রন্থ গ্রহণ করেন, তিনি গো অশ্ব ইত্যাদিরূপ সকল পশু লাভ করে থাকেন। প্রজাপতয়ে….গৃহূমি অর্থাৎ প্রজাপতির উদ্দেশে জ্যোতিষ্মন তোমাকে গ্রহণ করছি–এই মন্ত্রে আহুতি প্রদান করলে সেই যজমান সমযোগ্য যজমানগণের মধ্যে তেজোযুক্ত হয়ে থাকেন। ইন্দ্র দ্বিষতঃ মনঃ অর্থাৎ ইন্দ্ৰ শত্ৰুগণের ভ্রাতৃব্যগণের অর্থাৎ শত্রুবর্গের মন জয় করুন–এই মন্ত্রে আহুতি প্রদান করলে শত্রুগণের বিনাশ ঘটে। প্রাণায় অপানায় ইত্যাদি অর্থাৎ প্রাণ অপান ইত্যাদির প্রীতির নিমিত্ত তোমাকে গ্রহণ করছি ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা হোম করলে যজমানে প্রাণ ইত্যাদির প্রতিষ্ঠ হয়ে থাকে। ত্ব প্রজাপতয়ে বিভূদারে জ্যোতিন্মতে..ইত্যাদি অর্থাৎ প্রভূত দানকারী জ্যোতির্মান প্রজাপতির উদ্দেশে জ্যোতিষ্মন্ত তোমাকে গ্রহণ করছি–এই মন্ত্রে দধিগ্রহ গ্রহণ করা কর্তব্য। তেজের কামনায় আজ্যগ্ৰহ গ্রহণ করলে তেজ লাভ হয়, ব্রহ্মতেজের কামনায় সোমগ্রহ গ্রহণ করলে ব্ৰহ্মতেজ, এবং পশুকামনায় দধিগ্রহ গ্রহণ করলে পশুসমূহ লাভ করা যায় ॥৯৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন–অনুবাকে তু নবমে দধিগ্রহবিধিঃ শ্রুতঃ। অথ দশমেইনুবাকে গবাময়নেহতিগ্রাহ্যাঃ প্রাণগ্রহাশ্চোচ্যন্তে। অর্থাৎ–এই দশম অনুবাকে গবাময়নে অতিগ্রাহ্য ও প্রাণ নামক গ্রহ সম্পর্কে উক্ত হয়েছে।]

    .

    দশম অনুবাক

    মন্ত্র- ত্বে ক্রতুমপি বৃঞ্জন্তি বিশ্বে দ্বিদেতে ত্ৰিভবমাঃ। স্বাদোঃ স্বাদীয়ঃ স্বাদুনা সৃজা সমত উযু মধু মধুনাহভি যোধি। উপযামগৃহীতোহসি প্রজাপতয়ে ত্ব। জুষ্টং গৃহূমেষ তে যোনিঃ প্রজপতয়ে ত্বা। প্রাণগ্ৰহা গৃত্যেতাবদ্বা অস্তি যাবদেতে গ্রহাঃ স্তোমাচ্ছাসি পৃষ্ঠানি দিশো যাবদেবাস্তি তৎ অবরুন্ধে জ্যেষ্ঠা বা এতা ব্রাহ্মণাঃ পুরা বিদাম ক্রম্মাত্তেষাং সৰ্বা দিশোহভিজিতা অভূবন্যস্যৈতে গৃহ্যন্তে জ্যৈষ্ঠমেৰ গচ্ছত্যভি দিশো জয়তি পঞ্চ গৃহ্যন্তে পঞ্চ দিশঃ সৰ্ব্বাম্বেব দিধুবন্তি । নবনব গৃহ্যন্তে নব বৈ পুরুষে প্রাণাঃ প্রাণানেব যজমানেষু দধতি প্রায়ণীয়ে চোদ্দনীয়ে চ গৃহ্যন্তে প্রাণা বৈ প্রাণগ্রহাঃ প্রাণৈরেব প্রযুক্তি প্রাণৈরুদ্যন্তি দশমেহন গৃহস্তে প্রাণা বৈ প্রাণগ্রহাঃ প্রাণেভ্যঃ খলু বা এতৎ প্রজা যন্তি যদ্বামদেব্যং যোনেশ্চ্যতে দশমেহহদামদেব্যং যোনে স্ট্যবতে যশমেহন গৃহ্যন্তে প্রাণেভ্য এব তৎ প্রজা ন যস্তি ॥১০৷

    মর্মার্থ- [অতিগ্রাহ্যস্থানে (যজ্ঞক্ষেত্রে অতিগ্রাহ্য স্থাপনের স্থানে) চারটি অতিগ্রাহ্য চারটি দিকে স্থাপন করে মধ্যে পঞ্চমটি স্থাপনীয়। তারপর পঞ্চ অতিগ্রাহ্য পাত্রের প্রতিটির যথাযথ মন্ত্রে গ্রহণ স্থাপন পূর্বক সোমরসসাধ্য যজ্ঞ করণীয়]।-হে অতিগ্রাহ্য! সকল ঋত্বিক তোমাতে যজ্ঞ সমাপন করেন (সমাপয়ন্তি)। অন্য চারটি পাত্র হতে (গ্রহান্তরেডভ্যা) এই রস তোমাতে, অর্থাৎ এই পঞ্চম পাত্রে রক্ষা করা হয়েছে, সেই কারণে তোমাতে সোমরসসাধ্য যজ্ঞের (ক্রতুর) সমাপন যুক্তিযুক্ত (যুক্ত)। অতএব (হে সোমরস) তুমিও স্বাদু হতে স্বাদুতমের সংসর্গে অতিশয় স্বাদু হয়ে মধুর ভাগের সাথে যুক্ত হও। এই মধুরস পার্থিবপাত্রে গৃহীত, প্রজাপতির প্রিয় তোমাকে (মধুর সোমরসকে) অন্য পাত্র হতে আনয়ন পূর্বক মধ্যম পাত্রে স্থাপন করছি। (এইটিই গ্রহণ মন্ত্র)। এই খরপ্রদেশ (উষ্ণপ্রদেশ) তোমার স্থান (যোনিস্তব স্থান), এই হেতু প্রজাপতির নিমিত্ত তোমাকে এই স্থানে স্থাপন করছি (তামত্র সাদয়ামি)।–এই মন্ত্রের দ্বারা গবাময়েনর সম্বৎসরসাধ্য সত্রের (৩কা, ৩.অ. দ্রষ্টব্য) শেষ দিনে (উপান্তেহহ্নি) মহাব্রত নামে আখ্যাত এই অতিগ্রাহ্য গ্রহণ করণীয়। অনন্তর চতুর্থ কাণ্ডে কথিত পৃশ্নিগ্রহের মতো বায়ুরসি প্রাণো অর্থাৎ তুমি প্রাণনামক বায়ু ইত্যাদি অভিমন্ত্রের দ্বারা সোমোত্মানবিশেষ এই গ্রহগুলি গ্রহণ করা কর্তব্য। (প্রকারান্তরে প্রাণগ্রহের প্রশংসা)-জ্যেষ্ঠা বা এতান্ ব্রাহ্মণাঃ ইত্যাদি অর্থাৎজ্যেষ্ঠ ব্রাহ্মণগণের ন্যায় সকল দিকের অভিজিৎ (জয়কারী) হবো ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা এই গ্রহগুলি গ্রহণ করলে জ্যেষ্ঠত্ব প্রাপ্ত হওয়া যায় এবং নানাদিকে অবস্থিত পুরুষগণ অধীনস্থ হয় (পুরুষস্তস্য ভবতি)। (প্রাণগ্রহপর্যায়ের সংখ্যাবিধি কথিত হচ্ছে)–অয়ং পুরো ভুব ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা প্রথম পর্যায়, অয়ং দক্ষিণা বিশ্বকর্মা ইত্যাদির দ্বারা দ্বিতীয়, অয়ং পশ্চাদ্বিশ্বব্যচা ইত্যাদির দ্বারা তৃতীয়, ইদমুত্তরাৎ সুবরিতি ইত্যাদির দ্বারা চতুর্থ, এবং ইয়মুপরি মতিরিতি ইত্যাদির দ্বারা পঞ্চম–এই পঞ্চবিধ গ্রহণের দ্বারা সর্বদিকে (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও উধ্বে) সমৃদ্ধি লাভ করা যায়। মস্তক ইত্যাদিতে অবস্থিত সপ্তসংখ্যক ছিদ্রে (অর্থাৎ দুটি কর্ণ, দুটি চক্ষু, দুটি নাসারন্ধ্র, ও মুখগহ্বর) এবং নিম্নভাগে অবস্থিত দ্বিসংখ্যক ছিদ্রে (অর্থাৎ পায়ু ও উপস্থ)-দেহের এই নবস্থানে (নয়টি দ্বারা) সঞ্চারিত প্রাণ নবসংখ্যক। এই নিমিত্ত নয়টি উপাংশু (সোমের নিমিত্ত গ্রহপাত্রবিশেষ) গ্রহণের দ্বারা যজমানে সেগুলি (প্রাণগুলি) স্থাপন করা হয়। সম্বৎসর সত্রের প্রথম দিনটিকে প্রায়ণীয় এবং চরম বা শেষের দিনটিকে উদয়নীয় বলা হয়ে থাকে। ঐ প্রায়ণীয় ও উদয়নীয় নামে কথিত উভয় দিনে গ্রহগুলি গ্রহণ করণীয়। তার ফলে সেই গ্রহগুলি প্রাণরূপত্ব প্রাপ্ত হওয়ায় প্রাণের দ্বারা সম্বৎসর আরম্ভ করে এবং প্রাণের দ্বারাই তা সমাপিত করে। (কালান্তর সম্পর্কে কথিত হচ্ছে)–সম্বৎসর সত্রের দ্বাদশদিনের (বিকৃতির কারণে এই সত্রের দশম দিনে প্রাণগ্রহসমূহ গ্রহণ করা কর্তব্য। বামদেব্যাখ্যা (বামদেব্য নামে কথিত) সামের কয়া নিশ্চত্ৰ আ ভুব ইত্যাদি মন্ত্র এর সৃষ্টিস্থান (যোনিঃ)। দশম দিনে সেই স্থান (অর্থাৎ ঐ মন্ত্র) পরিত্যাগ করে অন্য ঋকের দ্বারা (অর্থাৎ অগ্নিং নর ইত্যাদি) সামগান করণীয়। এর ফলে বামদেব্য আপন স্থান হতে চ্যুত হওয়ার কারণে, অর্থাৎ এই চ্যুতিজনিত অপরাধে, প্রজার প্রাণবিনাশের সম্ভাবনা থাকে। এই নিমিত্ত, প্রাণগ্রহের প্রাণরূপত্ব হেতু, দশম দিনে প্রাণগ্রহকে গ্রহণ করলে প্রজাগণের প্রাণ বিনাশপ্রাপ্ত হয় না (প্রজাঃ প্রাণঃ নাপগচ্ছত্তি) ॥১০।

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথৈকাদশে পাশুকহৌত্রোপযোগিমা উচ্যতে। অর্থাৎ ব্রাহ্মণগ্রন্থে তৃতীয় কাণ্ডে ষষ্ঠ প্রপাঠকে যে পাশুক-হোত্রের মন্ত্রগুলি উক্ত হয়েছে, এই একাদশ অনুবাকে সেই পাশুক-হোত্র উপযোগী অবশিষ্ট মন্ত্রগুলি উক্ত হচ্ছে।]

    .

    একাদশ অনুবাক

    মন্ত্র- প্র.দেবং দেব্যা ধিয়া ভরতা জাতবেদসম। হব্যা নো বক্ষদানুষ ॥ অয়মু য্য প্র দেবয়ুহোতা যজ্ঞায় নীয়তে ॥ রথো ন যোরভীবৃত ঘৃণীবাঞ্চেততি অনা। অয়মগিরুরুষ্যত্যমৃদিব জন্মনঃ। সহসশ্চিৎ সহীয়ান্দেবো জীবাতবে কৃতঃ ॥ ইড়ায়া পদে বয়ং নাভা পৃথিব্যা অধি।। জাতবেদো নি ধীমহ্যগ্নে হব্যায় বোঢ়বে। অগ্নে বিশ্বেভিঃ স্বনীক দেবৈরুণাবন্তং প্রথমঃ সীদ যোনি। কুলায়িনং ঘৃতবন্তং সবিত্রে যজ্ঞং নয় যজমানায় সাধু । সীদ হোতঃ স্ব উ লোকে চিকিত্বাৎ সাদয়া যজ্ঞং সুকৃতস্য যোনৌ। দেবীর্দেৰ্বান হবি যজাস্যগে বৃহদষজমানে বয়ো ধাঃ। নি হোত হোতৃষদনে বিদানযো দীদিবাং অসদৎ সুদক্ষ। অদক্বব্ৰত প্ৰমতিব্বসিঃ সহষম্ভরঃ শুচিজিত্মে অগ্নিঃ ॥ ত্বং দূতত্ব উ নঃ পরম্পাং বস্য আ বৃষভ প্রণেতা। অগ্নে তোকস্য নশুনে তনুনামপ্রযুচ্ছন্দীদ্যঘোধি গোপাঃ ॥ অভি ত্বা দেব সবিতরীশানং বাৰ্য্যাশা। সদাহবন্ ভাগমীমহে। মহী দ্যৌঃ পৃথিবী চ ন ইমং যজ্ঞং মিমক্ষতাম্।। পিতৃতাং নো ভরীমভিঃ ॥ ত্বমগ্নে পুরাদধ্যথা নিরামন্থত। মূল্লেমা বিশ্বস্য বাঘতঃ ॥ তমু ত্বা দধ্যভৃষিঃ পুত্র ঈধে অথবণঃ। বৃত্ৰহণং পুরন্দর । তমু ত্বা পাথ্যা বুষা সমীধে দহন্তমম্। ধনঞ্জয়ং রণেরণে ॥ উত বস্তু জন্তব উদগ্নিবৃত্রহাইজনি ধনঞ্জয়ো রণেরণে। আ যং হস্তে ন খাদিনং শিং জাতং ন বিভ্রতি। বিশামগ্নিং স্বধ্বরম। প্র দেবং দেববীতয়ে ভরতা বসুবিত্তমম্।। আ স্বে যোনৌ নি যীতু। আ জাতং জাতবেদসি প্রিয়ং শিশীতাতিথি। স্যোন আ গৃহপতিম ॥ অগ্নিনাহগ্নিঃ সমিধ্যতে কবিগৃহপতির্যা। হব্যবাজুহাসঃ। ত্বং হ্যগ্নে অগ্নিনা বিপ্রো বিপ্ৰেণ সৎসতা সখা সখ্যা সমিধ্যসে। তং মজ্জয়ন্ত সুক্ৰতুং পুরোযাবানজিযু।। স্বেযু ক্ষয়েযু বাজিন। যজ্ঞেন যজ্ঞমযজন্ত দেবাস্তানি ধৰ্ম্মাণি প্রথমান্যাসন।। তে হ নাক মহিমানঃ সচন্তে যত্র পূর্বে সাধ্যাঃ সন্তি দেবাঃ । পূর্ণর্ষয়োহগ্নিনা দেবেন যে দেবাঃ সূৰ্য্যঃ সং ত্বা বষট্‌কারঃ স। খদির উপযামগৃহীতোহসি যাং বৈ ত্বে ক্রতুং প্র দেবমেকাদশ ॥১১।

    মর্মার্থ- হে ঋত্বিক-যজমানগণ! জাবেদা (অর্থাৎ উৎপন্ন হওয়া মাত্রই জগতের সবকিছু যিনি বিদিত) দেবতার প্রকাশরূপকে বিবেকের সাথে যুক্ত হয়ে পোষণ করুন। (জাবেদা নামে অবিহিত সেই দেবতার জ্ঞানময় স্বরূপকে আপন তত্ত্বজ্ঞানের দ্বারা ধারণ করুন)। সেই জাতবেদা আদরযুক্ত হয়ে আমাদের প্রদত্ত হবিঃ বহন করুন। সেই (জাতবেদা) অগ্নি যজ্ঞের নিমিত্ত উত্তরবেদির প্রতি প্রকর্ষের সাথে অনীত হচ্ছেন। (কীরকম অগ্নি? না, তিনি দেবনাত্মন অর্থাৎ দেবতাগণের অভিলাষী, তিনি হোতা অর্থাৎ হোমের নিম্পাদক; রথ যেমন তাতে (অর্থাৎ রথে) আরোহিত পুরুষকে ভূমি হতে পৃথক করে গ্রামে নয়ন করে (বা নিয়ে যায়), সেইরকম এই হবি আপনার উদ্দেশে আহুত হবিঃ অপর হবিঃ হতে পৃথক করে দেবগণের উদ্দেশে নয়ন করেন। (যজ্ঞে অগ্নির উদ্দেশে এবং অপরাপর দেবতাগণের উদ্দেশে হবিঃ নির্বপণ করা হয়। অগ্নিদেব তার আপন হবিঃ ও দেবগণের উদ্দেশে প্রদত্ত হবিঃ পৃথক করেন। তিনি তার উদ্দেশে প্রদত্ত হবিঃ স্বয়ং গ্রহণ করেন, এবং দেবগণের উদ্দেশে প্রদত্ত হবিঃ দেবগণের নিকট বহন করে নিয়ে যান। এই থেকেই তার হব্যবাহ নামের সার্থকতা প্রতিপন্ন হয়েছে)। যজমানের দ্বারা স্বীকৃত, ঘৃণীবা অর্থাৎ রশ্মিযুক্ত, এই হেন অগ্নি নিজেই যজমানের ভক্তি জ্ঞাত আছেন। অমৃত পান করে (দেবগণ) যেমন মরণ রহিত হয়ে প্রবর্তন করেন (চালিত থাকেন), সেইরকম এই অগ্নি জন্ম মাত্রই প্রবুদ্ধ (জ্ঞানী) হতে ইচ্ছা করেন। এই দেব জীবনৌষধির নিমিত্ত (জীবন রক্ষার নিমিত্ত ঔষধি প্রাপ্ত হয়ে বলবা অপেক্ষাও অতিপ্রবল হয়েছেন (বলবতোহপি অতিপ্রবলঃ কৃতঃ) এই প্রবল অগ্নি তখন স্বয়ং বিনাশরহিত হয়ে জীবিত থাকেন এবং যজ্ঞনিম্পাদনের নিমিত্ত যজমানকেও জীবিত রাখেন। হে জাতবেদা অগ্নিদেব! হবিঃ বহনের নিমিত্ত আমরা নিরন্তর আপনাকে স্থাপন করছি। (কোথায় স্থাপন করছি? না, পৃথিবীর উপরে নাভিসদৃশ (প্রধানভূত) আহবনীয় আয়তনে অর্থাৎ স্থানে, যেস্থান গোষ্পদ-তুল্য ঘৃতযুক্ত তথা ঘৃতাহুতিযুক্ত, সেই স্থানে, স্থাপন করছি)। হে অগ্নি! আপনার সেনারূপ দেবতাগণের মধ্যে আপনি মুখ্য, আপনি আপনার উৎপত্তিস্থল (যোনিং) লাভ করুন। (কীরকম স্থল? না,) ঊর্ণাবন্তং অর্থাৎ যে স্থান কম্বলের আস্তরণের মত মৃদু, যে স্থান কুলায়িনং অর্থাৎ পক্ষীগণের দ্বারা সম্যভাবে নির্মিত নীড়ের মতো এবং ঘৃতবন্তং অর্থাৎ ঘৃতাহুতির আধারভূত, এমন স্থল আপনি লাভ করুন। এইরকম আহবনীয়খ্য, কুলায়োপেত ও ঘৃতাহুতির আধার সদৃশ হলে স্থাপিত হয়ে যজ্ঞের অনুষ্ঠাতা যজমানের যজ্ঞ সম্যভাবে সমাপন করুন (সমাপ্তিং গময়)। হে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হোমনিস্পাদক! উত্তরবেদিরূপ আপনার আপন স্থানে (স্বকীয়স্থানে) উপবিষ্ট হয়ে পুণ্যকর্মসাধনের এই যোগ্যস্থানে যজ্ঞকে স্থাপক করুন (স্থাপয়)। আপনি দেবগণের প্রিয় (দেবান্বেতি কামায়ত ইতি দেবাবীদেবপ্রিয়ং); সেই কারণে আপনিও এই হবিঃ দ্বারা দেবতাগণের পূজা করুন। হে অগ্নি! আপনি যজমানে দীর্ঘ আয়ু স্থাপন করুন। (অর্থাৎ যজমানকে দীর্ঘজীবী করুন)।হোতৃসদনে অর্থাৎ হোম-নিম্পাদনের পক্ষে যোগ্য স্থান উত্তরবেদিতে এই অগ্নি উত্তমরূপে উপবিষ্ট আছেন। (কি রকম অগ্নি? না,) তিনি হোতা, অর্থাৎ দেবগণের আহ্বায়ক; তিনি বিদানঃ, অর্থাৎ স্থান সম্পর্কে অভিজ্ঞ; তিনি ত্বেষো, অর্থাৎ দীপ্তিমান; তিনি দীদিবান, অর্থাৎ দেবতাগণের উদ্দেশে হবির দাতা; তিনি সুদক্ষ, অর্থাৎ অত্যন্ত কুশল; তিনি। বশিষ্ঠ, অর্থাৎ অতিশয় বাসপ্রদ; তিনি সহস্রম্ভর, অর্থাৎ সহস্ৰসংখ্যক তথা অগণিত হবির পোষণকারী; তিনি শুচিজিন্তু, অর্থাৎ হোমযোগ্যা শুদ্ধা জিহ্বা তথা জ্বালা বা শিখা সমন্বিত। হে অগ্নি! আপনি দেবগণের দূত হন, আপনি আমাদের সাতিশয়রূপে পালনকর্তা (পালক), আপনি আমাদের এই যজ্ঞকর্মে নিবাসযোগ্য (অর্থাৎ আমাদের এই যজ্ঞে যোগ্যতম অধিষ্ঠাতা)। হে বৃষভ (অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ বা দেবশ্রেষ্ঠ)! আপনি আগত হয়ে আমাদের যাগের প্রবর্তক, আপনি আমাদের অপত্যগণের শরীররক্ষায় অপ্রমাদযুক্ত হোন (অর্থাৎ অপত্যগণের শরীরের বর্ধন রক্ষার ক্ষেত্রে যেন আপনার সকল প্রমাদ নিবারিত হয়); অথবা আপনি দেবতাগণের নিকট হবিঃ উপহার পূর্বক অপ্রমত্তভাবে সকলের পালক হোন। হে সকলের প্রেরক, সকলের রক্ষক, ভজনীয় অগ্নিরূপী পরমেশ্বর! সকল বিঘ্নবিনাশে সমর্থ আপনার প্রসাদ (প্রসন্নতা) যেন সর্বদা প্রাপ্ত হই। মহতী দুলোক ও পৃথিবী, উভয়ে আমাদের এই যজ্ঞ আজ্য ইত্যাদি হোমসাধন দ্রব্যের দ্বারা সিক্ত করুন; ভরণের দ্বারা আমাদের পূরিত করুন। হে অগ্নি! অথবা নামে আখ্যা ঋষি পুষ্করপৰ্ণে অর্থাৎ পদ্মপাতার উপরে আপনাকে নিঃশেষে মথিত করেছেন। (কিরকম পুষ্করপূর্ণ? না,) মুধু অর্থাৎ উত্তমাঙ্গ বা মস্তকের ন্যায় প্রশস্ত (অতিশ্রেষ্ঠ) এবং সর্ব জগতের বাহকের ন্যায় অর্থাৎ এই হেন পুষ্কারপৰ্ণে অগ্নি-মন্থন পূর্বক যজ্ঞনিম্পাদন ইত্যাদির দ্বারা সর্ব জগৎকে বহন করেছেন (সর্বং জগন্নিবহতি)। হে অগ্নি! অথর্বণের পুত্র দধ্য নামক ঋষি আপনাকে প্রজ্বালিত করেছেন (প্রজ্বালিতবা)।(সেই আপনি কীরকম? না) আপনি বৈরিবিনাশক পুরন্দর অর্থাৎ রুদ্ররূপে অসুরসম্বন্ধী তিনটি পুর বা নগরের বিদারক। হে অগ্নি! পাথ্য নামক কোন ঋষি আপনাকে সমিধের দ্বারা (হোম প্রজ্বালনের কাষ্ঠের দ্বারা) সম্যকভাবে প্রজ্বালিত করেছেন। (কিরকম পাথ্য? না,) তিনি শ্রেষ্ঠ। (আপনি কিরকম? না, আপনি দহন্তমং, অর্থাৎ তস্করগণের সাতিশয় হন্তা (বধকারক; আপনি রণে রণে ধনঞ্জয়ং, অর্থাৎ প্রতিটি সংগ্রামে ধনের জেতা (জয়কর্তা)। (অতঃপর অগ্নির জন্ম সম্পর্কিত দুটি ঋক হোতা কৃর্তৃক পঠিতব্য। তারমধ্যে প্রথমটি)–উত ব্রুবন্তু জন্তব.. ইত্যাদি অর্থাৎ সকল প্রাণিগণও পরস্পর, বলাবলি করে থাকে–অগ্নি উৎপন্ন (বা প্রজ্বলিত) হয়েছেন। (কিরকম অগ্নি? না, তিনি বৃত্ৰহা, অর্থাৎ শত্রুঘাতী, এবং তিনি রণে রণে ধনঞ্জয়ঃ, অর্থাৎ যুদ্ধের পর যুদ্ধে ধনজয়কারী। (অতঃপর দ্বিতীয়টি)–আ যং হস্তে ন খাদিনং ইত্যাদি, অর্থাৎ ঋত্বিক কর্তৃক ধৃত হস্তের ন্যায় পানপাত্রে সদ্য সমুৎপন্ন শিশুর ন্যায় যে অগ্নি হবিঃ ভক্ষণ করে থাকেন, সেই অগ্নিকে আমরা সম্মুখে দর্শন করব। (তিনি কিরকম অগ্নি? না,) তিনি প্রজাগণের প্রতি সম্যকরূপে অহিংসক। (এই অগ্নির সাথে পুর্বগ্নির মেলনে হোতা কর্তৃক ছয়টি মন্ত্র পঠিতব্য। তার প্রথমটি)–প্র দেবং দেববীতয়ে ইত্যাদি, অর্থাৎ হে ঋত্বিকগণ! দেবতাগণের হবিঃ ভক্ষণের নিমিত্ত (হবিঃস্বাদনায়) হবিঃ-লক্ষণরূপ ধনে অভিজ্ঞ (হবিলক্ষণ ধনাভিজ্ঞম) দীপ্তিমন্ত অগ্নিদেবকে আপনারা প্রকর্ষের সাথে পোষণ করুন; এবং সেই দেব আগত হয়ে পূর্বাগ্নিরূপে আপন স্থানে প্রবিষ্ট হোন। (দ্বিতীয়)–আ জাতং জাতবেদসি ইত্যাদি, অর্থাৎ হে ঋত্বিকবর্গ! ইদানীং (সম্প্রতি) জাত এই প্রিয় অতিথিরূপী অগ্নিকে পূর্ব হতে স্থিত গৃহপতি (অর্থাৎ সর্বতোভাবে গৃহের পালক) জাবেদা অগ্নির নিকট সুখরূপে শয়ন করিয়ে দিন (অর্থাৎ উভয়কে মিলিত করিয়ে দিন)। (তৃতীয়)–অগ্নিনাইগ্নিঃ সমিধ্যতে ইত্যাদি, অর্থাৎ পূর্বসিদ্ধ (অর্থাৎ পূর্ব হতেই নিত্যরূপে স্থিত) অগ্নির সাথে ইদানীং আনীত অগ্নি সম্যকরূপে প্রজ্বালিত হোন। (কিরূপ এই অগ্নি? না,) এই অগ্নি সম্যকরূপে প্রজ্বলিত হোন। (কিরূপ এই অগ্নি? না,) এই অগ্নি কবি, অর্থাৎ বিদ্বান; গৃহপতি, অর্থাৎ গৃহের পালয়িতা; ইনি যুবা, অর্থাৎ নিত্যতরুণ; ইনি হব্যবাট, অর্থাৎ হব্য বহনকারী, ইনি জুব্বাস্য, অর্থাৎ জুহুর (জুহু নামক যজ্ঞপাত্রবিশেষের) ন্যায় মুখযুক্ত। (চতুর্থ)–ত্বং হ্যগ্নে অগ্নিনা ইত্যাদি, অর্থাৎ হে নূতন অগ্নি! আপনি পূর্বের অগ্নির সাথে প্রজ্বালিত হন। (আপনি কিরূপ? না, আপনি ব্রাহ্মণজাত্যভিমানী হয়ে তাদের সকল বিনাশ রহিত করে সর্বদা তাঁদের সখার ন্যায় প্রীতিযুক্ত হয়ে থাকেন; এবং আপনি বিপ্রগণের দ্বারাও সমপ্রাণযুক্ত (বিপ্ৰেণ সতা সখ্যা)। (পঞ্চম)–তং মজ্জয়ন্ত সুক্ৰতুং ইত্যাদি, অর্থাৎ হে ঋত্বিকমণ্ডলী! আপনারা এই মথিত অগ্নিকে শোধন করুন (শোধয়ত)। (কিরকম এই অগ্নি? না,) ইনি সুতুং, অর্থাৎ সুষ্ঠুভাবে সোমরসসাধ্য যজ্ঞের নিম্পাদক; ইনি পুরো যাবানমজি্যু, অর্থাৎ সংগ্রামে পুরোভাগে গমনকারী; ইনি স্বেষু ক্ষয়েষু বাজিম, অর্থাৎ যজমানের আপন গৃহে অন্নসম্পাদনকারী। (ষষ্ঠ) যজ্ঞেন যজ্ঞমযজন্ত দেবাস্তানি ইত্যাদি, অর্থাৎ দেবত্ব প্রাপ্তির কামনা পূর্বক যজমানবৃন্দ যজ্ঞ সাধনের দ্বারা নূতন অগ্নির সাথে যজ্ঞসাধন পুরাতন অগ্নির পূজা করছেন (পূজিতবন্তঃ)। তাঁদের মিলিত অর্থাৎ অগ্নিদ্বয় সাধ্য সুকৃতসমূহ অর্থাৎ পুণ্যকর্মসমূহ মুখ্যত্ব লাভ করেছিল (প্রথমান্যা সন্মুখ্যান্যভব। মহান্ত যজমানগণ সেই স্বর্গলোকের সেবা করছেন (সমবয়ন্তি), যে স্বর্গলোকে পূর্বে যজমানগণ ও সাধ্যফলযুক্ত (সাধ্যফলোপেতা) দেবতাবর্গ দেবত্ব লাভ পূর্বক (দেবা ভূত্বা) স্থিত আছেন ॥১১।

    — তৃতীয় কাণ্ড সমাপ্ত–

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article অন্তিম অভিযান – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }