Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    দুর্গাদাস লাহিড়ী এক পাতা গল্প1398 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৫ প্রথম কাণ্ড। পঞ্চম প্রপাঠক

    প্রথম কাণ্ড। পঞ্চম প্রপাঠক

    প্রথম অনুবাক

    মন্ত্র- দেবাসুরাঃ সংযত্তা আসন্তে দেবা বিজয়মুপযন্তোহপ্পো বামম বসু সং ন্যদধতেদমু নো ভবিষ্যতি যদি নো জেষ্যস্তীতি তদগ্নিকাময়ত তেনাপাক্রামত্তদেবা বিজিত্যাবরুরুৎসমানা অম্বায়দস্য সহসাহদিসন্ত সোহরোদীদ্যদরোদীত্তস্য রুদ্রত্বং ষদশীয়ত তৎ রজতং হিরণ্যমভবত্তস্মাদ্ৰজতম। হিরণ্যমদক্ষিণ্যমঞজং হি যো বহিষি দদাতি পুরাস্য সংবৎসরাহে রুদন্তি ভস্মাদ্বহিষি ন দেয়। সোহরিব্রবীভাগ্যসান্যথ ব ইদমিতি পুনরাধেয়ং তে কেবলমিব্রু বধুবৎ খলুস ইত্যব্রবীদ্যো মন্দেবত্যমগিমাদধাতা ইতি। তং পূহধও তেন পূষহাত্তস্মাৎ পৌষ্ণাঃ পশব উচ্যন্তে তং ত্বষ্টাহধও তেন তৃষ্টাহপ্নোত্তস্মাত্তান্ত্রাঃ পশব উচ্যন্তে তং মনুরাহধত্ত তেন মনুরাপ্লোম্মাম্মনব্যঃ প্রজা উচ্যন্তে তং ধাতাহধত্ত তেন ধাতাইগ্নোৎ সংবৎসরো বৈ ধাতা তস্মাৎ সংবৎসরং প্রজাঃ পশবোহনু প্র জায়তে। য এবং পুনরাধেয়স্যর্জিং বেদ ঋধোত্যে। যোহস্যৈবৎ বন্ধুতাং বেদ বন্ধুমান্ ভবতি। ভাগধেয়ং বা অগ্নিরাহিত ইচ্ছমানঃ প্রজাং পশুন্যজমানস্যোপ দোদ্রাবোদ্বাস্য পুনরা দধীত ভাগধেয়েনৈবৈন সমৰ্দ্ধয়ত্যথো শান্তিরেবাস্যৈ। পুনৰ্ব্বষেরা দধীতৈতদ্বৈ পুনরাধেয়স্য নক্ষত্রং যৎপুনৰ্ব্বসু স্বায়ামেবৈনং দেবতায়ামাধায় ব্রহ্মবর্ডসী ভবতি। দর্ভৈরা দত্যয়াতয়ামায়।। দর্ভেরা দত্যক্ত এবৈনমোষধীভ্যোংবরুধ্যাহধত্তে। পঞ্চকপালঃ পুরোশো ভবিত পঞ্চ বা ঋতব ঋতুভ্য এবৈনমবরুধ্যাহধত্তে ॥১॥ [সায়নাচার্য বলেন–উদ্বাস্য পুনরাধীতেতি বিধাস্যতি। তত্র পুনরাধেয়স্যাগ্নিদেবতাং বিধাতুমগ্নিবিষয়মুপাখ্যানমুদাহরণ প্রসঙ্গাদ্ৰজতস্য যজ্ঞে দক্ষিণাত্বং নিষেধতি]

     মর্মার্থ- (পুরাকালে) দেবতা ও অসুরবর্গের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ আরম্ভ হয়। (জয়-পরাজয় অনিশ্চিত জেনে) দেবগণ তাদের মণিরত্ন প্রভৃতি শ্রেষ্ঠ ধনরাশি সুরক্ষিত রাখবার উদ্দেশ্যে অগ্নিতে নিক্ষেপ করেন (অর্থাৎ অগ্নির কাছে গচ্ছিত রাখেন); কারণ, যদি কোনও রকমে অসুরগণ বিজয়ী হয়, তবে এই ধন তাদের (অর্থাৎ দেবতাদের) বিপদে প্রয়োজনে লাগবে। অগ্নি সেই ধনরাশি নিজে আত্মসাৎ করবার মানসে সেগুলি নিয়ে পলায়ন করলেন। (এ দিকে) পুণ্যবশে দেববর্গ অসুরগণকে পরাজিত করে অগ্নির নিকট হতে বলপূর্বক সেই ধন প্রাপ্ত হতে ইচ্ছা করলেন। সেই কালে (ভীত) অগ্নি রোদন করেছিলেন। এই রোদন করার জন্যই রুদ্রের রুদ্রত্ব হয় অর্থাৎ তখন থেকেই অগ্নির নাম হয় রুদ্র। তার চক্ষু হতে যে অশ্রুরাশি মৃত্তিকায় পতিত হয়েছিল, তা রজতরূপ ধনরূপে পরিগণিত হয়। অশ্রু হতে উৎপন্ন হওয়ায় দক্ষিণায় রজত-প্রদান অকর্তব্য; করলে সম্বৎসরের মধ্যে সেই যজমান-গৃহে রোদনের (শোকের) কোন না কোন কারণ উপস্থিত হয়। অতএব যজ্ঞে রজত প্রদান অনুচিত। ক্ৰন্দনাতুর অগ্নি (দেবতাগণকে) বলেছিলেন–আমাকে তোমাদের ভাগ প্রদান করা উচিত। এই কথা শ্রবণ করে দেবগণ বলেছিলেন–বেশ, এরপর যা তোমাতে রক্ষিত হবে, তার সবটুকুই তোমার হবে। এই শুনে অগ্নিদেব হৃষ্ট হয়ে বলেছিলেন–আমাতে যিনি হবিঃ প্রদান করবেন, তিনি সমৃদ্ধি লাভ করবেন। পূষা, ত্বষ্টা, মনু ও সংবৎসরাভিমানী ধাতাবর্গ অগ্নিতে হবিঃ প্রদানপূর্বক পশু, প্রজা প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। এইরকম ভাবে যিনি অগ্নিতে আহুতি প্রদান করবেন, তিনিই সমৃদ্ধি লাভ করবেন। অগ্নির সাথে যিনি বন্ধুত্ব করবেন, তিনি পূষা ইত্যাদির বন্ধুত্ব প্রাপ্ত হবেন। প্রথম আধানে আহিত অগ্নি আপনার অধিক ভাগ প্রাপ্ত হতে ইচ্ছমান হওয়ায় যজমানের প্রজা ও পশু-সম্পদের অধিক উপদ্রব করেন; সেইজন্য, পুনরায় যজ্ঞপাত্র ইত্যাদির সংস্কার সাধিত করে অগ্নির আধান করলে আপন ভাগ প্রাপ্ত হয়ে পরিতুষ্ট অগ্নিদেব যজমানের সমৃদ্ধি সাধন করেন এবং তার দ্বারা শান্তি লব্ধ হয়। পুনরায় তাতে ধন স্থাপন করার জন্য পুনর্বসু নামধেয় নক্ষত্রাত্মিকা দেবতা ব্রহ্মচর্য প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ব্রাহ্মণের এটিই ঋদ্ধি। পুনরুক্তির অকরণের জন্য দর্ভের দ্বারা আধান করণীয়। জল ও ওষধির জন্য দর্ভের দ্বারা অগ্নিতে আধান কর্তব্য। এই পুনরাহিত অগ্নিতে অগ্নিদেবতা, পঞ্চকপাল পুরোডাশ পঞ্চ ঋতুতে আহিত হয়ে থাকে। [বাস্তবিক পক্ষে ঋতু সংখ্যা ছটি হলেও হেমন্ত ও শিশিরকে একত্রে একটি ঋতু ধরে ঋতুসংখ্যা পাঁচটি বলা হয়েছে।বহুব্রাহ্মণে দ্বাদশ মাসঃ পঞ্চৰ্তবে হেমন্তশিশিরয়োঃ সমাসেনেত্যানাদৃতুনাং পঞ্চমসংখ্যা] ॥১।

    .

    দ্বিতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- পরা বা এষ যজ্ঞং পশুপতি যোহগ্নিমুঘাসয়তে পঞ্চকপালঃ পুরোশে ভবতি পাঙক্তো যজ্ঞঃ পাঙক্তাঃ পশব্যে যজ্ঞমেব পশুনব রুন্ধে।

    আচার্য সায়ন এই স্থানে বলেছেন–বিজয়ং প্রাপ্নবন্তো দেবাস্তদা তেভ্যোহসুরে ভ্যোহপহৃতং মণিমুক্তাদিকং শ্রেষ্ঠং বসু রক্ষণায়াগ্নেী নিক্ষিপ্তবন্তঃ।–এ থেকে বোঝা যায়, দেবাসুরের যুদ্ধ হওয়ার প্রাথমিক মুহূর্তে দেবগণ জয়লাভ করে অসুরগণের মণিমুক্ত ইত্যাদি শ্রেষ্ঠ ধন অপহরণ করে তা রক্ষার জন্য অগ্নিতে নিক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু এই কাহিনীই অন্যত্র যেভাবে আছে, তাতে বলা হয়েছে ঐ ধনরাশি দেবগণেরই, অর্থাৎ অসুরদের জয় করার পূর্বেই তাঁদের কাছে রক্ষিত ছিল। আমরা সেইভাবেই উল্লেখ করেছি।

    বীরহা বা এষ দেবানাং যোহগ্নিমুঘাসয়তে ন বা এতস্য ব্রাহ্মণা ঋতায়বঃ পুরাহনুমক্ষপঙক্ত্যো যাজ্যানুবাক্যা ভবন্তি পাক্তো যজ্ঞঃ পাঙক্তঃ পুরুষো। দেবানে বীরং নিরবদায়াগ্নিং পুনরা ধত্তে। শতাক্ষরা ভবন্তি শতায়ুঃ পুরুষঃ শতেন্দ্রিয়ঃ আয়ুষ্যেকেন্দ্রিয়ে প্রতি তিষ্ঠতি। যদ্বা অগ্নিরাহিতো নর্ধ্যতে জ্যায়ো ভাগধেয়ম নিকাময়মানো যদাগ্নেয়ং সৰ্ব্বং ভবতি সৈবাস্যর্জিঃ। সং বা এতস্য গৃহে বাস্জ্যতে যোহগ্নিমুদ্বাসয়তে স বাচং সংসৃষ্টাং যজমান ঈশ্বরোহনু পরাভবিতোভিক্তয়ো ভবন্তি বাচো বিধৃত্যে যজ্ঞমানস্যাপরাভাবায়। বিভক্তিং করোতি ব্ৰহ্মৈব তদকঃ। উপাংশু যজতি যথা বামং বসু বিবিানো গৃহতি তাদৃগেব তৎ। অগ্নিং প্রতি স্বিষ্টকৃতং নিরাহ যথা বাম বসু বিবিদানঃ প্রকাশং জিগমিষতি তাদৃগেব তং। বিভক্তিমুক্তা প্রযাজেন বষট্‌রোত্যায়তনাদেব নৈতি। যজমানো বৈ পুরোডাশঃ পশব এতে আহুতী যদভিতঃ পুরোশমেতে আহুতী জুহোতি যজমানমেবোভয়তঃ পশুভিঃ পরি গৃতি। কৃতজুঃ সংভূতসংভার ইত্যাহূর্ন সংভৃত্যাঃ সংভারা ন যজুঃ কর্তব্যমিতি। অথো খলু সংভৃত্যা এব সংভারাঃ কৰ্ত্তব্যং যজুর্যজ্ঞস্য সমৃজ্যৈ। পুনর্নিতো রথো দক্ষিণা পুনরুৎস্যুতং বাসঃ পুনরুংসৃষ্টোহনবান পুনরাধেয়স্য সমৃদ্ধ্যৈ। সপ্ত তে অগ্নে সমিধঃ সপ্ত জিহ্বা ইত্যগ্নিহোত্রং জুহোতি যত্র যত্রৈবাস্য ন্যক্তং তত এবৈমব রুন্ধে। বীরহা বা এষ দেবানাং যোহগ্নিমুদ্বাসয়তে ভস্য বরুণ এবৰ্ণয়াদাগ্নি বারুণমেকাদশকপালমনু নিৰ্ব্বপেদ্য চৈব হন্তি যশ্চাস্যর্ণয়াত্তেী ভাগধেয়েন প্রীতি নাহর্তিচ্ছতি যজমানঃ ॥২॥

    [সায়ণাচার্য বলেন-দ্বিতীয়নুবাকে যাজ্যাদ্যঙ্গজাতং বিধিৎসু পুর্বোত্তং দ্রব্যবিধিমনুদ্য প্রশংশিত।]

    মর্মার্থ- অগ্নিকে যিনি ত্যাগ করেন, তিনি যজ্ঞরূপ পশুর বিনাশ করে থাকেন। পঞ্চ কপাল পুরোশ হয়ে থাকে। ধান্য ইত্যাদিরূপ হবির দ্বারা সাধিত যজ্ঞকে পাঙক্ত বলে। পংক্তি ছন্দ পশুহেতু ভূত হওয়ায় পশুবৰ্গও পাঙক্ত নামে কথিত; পাঙুক্ত পশুবৰ্গ যজ্ঞরূপ পশুকে প্রাপ্ত হয়। যিনি অগ্নিকে ত্যাগ করেন, তিনি দেববর্গের মধ্যবর্তী বীর অগ্নির বিনাশক হন। এইজন্যই সত্যকামী (ঋতায়বঃ) ব্রাহ্মণবর্গ এই অগ্নি-বধকারী যজমানের প্রদত্ত অন্ন পূর্বে ভক্ষণ করেননি। পংক্তি ছন্দের দ্বারা যজ্যা ও অনুবাক হয়ে থাকে, যজ্ঞ পাংক্ত বলে কথিত। পুরুষের দুটি হস্ত, দুটি পদ ও একটি মস্তক–এই পঞ্চ-প্রত্যঙ্গও পাংক্ত নামে অভিহিত। দেবগণের বীর অগ্নিকে পরিত্যাগ রূপ বধের শঙ্কা হতে আকর্ষণ সংঘটনপূর্বক পুনরপি স্থাপন করণীয়। অণ্ডাভিমাণী ব্ৰহ্মার আপন প্রমাণ (স্বপ্রমাণ) অনুসারে পুরুষের শত সংবৎসরকাল আয়ু হয়ে থাকে। ধর্ম আচরণের ফলে এই আয়ুষ্কালের বৃদ্ধি ও অধর্ম আচরণের ফলে এর হ্রাস হয়ে থাকে। শতসংখ্যক নাড়ীতে সঞ্চারের কারণে ইন্দ্রিয়বর্গেরও শত সংখ্যা বলে কথিত। শতসংখ্যক বর্ষ ও শতসংখ্যক বীর্য আয়ু ও ইন্দ্রিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। যখন অগ্নি অধিকভাবে আপন ভাগ ইচ্ছা করেন, তখন সমৃদ্ধি সাধিত হয় না; যখন সবকিছু অগ্নির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত হয়, তখনই সমৃদ্ধি সাধিত হয়। যজমানে সমৃদ্ধির অভাব ঘটলে অগ্নিরও সমৃদ্ধির অভাব অনুমিত হয়ে থাকে; অতএব সবকিছুই অগ্নিতে সমর্পণ করা বিধেয়। অগ্নিকে যে যজমান পরিত্যাগ করেন, সেই যজমানের বাক্য তাঁর গৃহবস্থিত স্ত্রী শূদ্র ইত্যাদির বাক্যের সমতুল্যতা প্রাপ্ত হয়; অপর হতে পার্থক্যহীনতার কারণে উল্কর্ষের অভাবে যজমানের পরাভব হয়ে থাকে; অপিচ, অগ্নি আহিত হলে, তাঁর বাক্য উৎকর্ষতা প্রাপ্ত হয় এবং সেই যজমান পরাভব হতে নিস্তার লাভ করেন। অগ্নি আহিত হলে ব্রহ্ম দৃঢ়তা প্রাপ্ত হন। যেমন প্রচুর ধনলাভী তার ধন গোপনে রক্ষা করেন, সেইরকম সকল যাগ নীচধ্বনি দ্বারা অর্থাৎ নিম্নস্বরে (উপাংশুভাবে) করা কর্তব্য। প্রচুর পরিমিত ধন লব্ধ হলে লোকে যেমন খ্যাতি লাভের জন্য আকাঙ্ক্ষা করে, সেই রকম স্বিষ্টকৃৎ অগ্নির প্রতি নিঃশেষধ্বনির দ্বারা অর্থাৎ উচ্চৈস্বরে যাগ করা কর্তব্য। সেই উক্তির সাথে প্রযাজ মন্ত্রে বষট্‌কার সহযোগে হবিঃ প্রদান করা কর্তব্য। তা হলে পূর্বকথিত পরাভব রহিত হয়ে আপন গৃহে প্রতিষ্ঠিত হয়। পুনরপি বলের সাথে সংযুক্ত হও ইত্যাদি মন্ত্রের পূর্বে ও পরে পুরোশ হোম করতে হয়। সর্পরাজ্ঞী ইত্যাদি আধান মন্ত্রের দ্বারা বিবক্ষিত যজুঃ উচ্চারণের কারণে সিকতা (বালুকা) প্রভৃতি সপ্ত-মৃত্তিকা ও অশ্বত্থ প্রভৃতি সংভাব সম্পাদিত হওয়ায় পুনরায় উভয়কে গ্রহণ অনুচিত বলে কোন কোন আচার্য (বাজসনেয়ী মতে) ভাষ দিয়ে থাকেন। সূত্রকারের মতে, সম্ভার কৃত হোক বা না হোক যজুর্যজ্ঞের সমৃদ্ধি সাধনের জন্য যজুমন্ত্র উচ্চারণ করা কর্তব্য। ভগ্ন রথের সংদৃঢ়ীকরণ অর্থাৎ সংস্কার সাধন করতে হয়, ছিন্ন বাস (বস্ত্র) সীবন (সেলাই) করতে হয়, দুর্বলতা হেতু ভার বহনে অসমর্থ বলদকে খাদ্য ইত্যাদির দ্বারা কথঞ্চিৎ শক্তি বিধান করে পুনরায় কর্মে নিযুক্ত হয়, সেইরকম ভাবে দক্ষিণা হয়ে থাকে। হে অগ্নি, আপনার সপ্ত সমিধ, সপ্ত জিহ্বা ইত্যাদি অগ্নিহোত্র মন্ত্রের দ্বারা অগ্নিহোত্র যাগ সম্পন্ন করতে হয়। পুনরায় আধেয় দেবতা অগ্নির যে যে অঙ্গ যে যে প্রদেশে ন্যক্ত নিমগ্ন বা বিস্মৃত হয়েছে, সেই সেই প্রদেশ থেকে এই অগ্নির সেই অঙ্গ সম্পাদন করতে হয়। যিনি অগ্নিকে ত্যাগ করেন, তিনি দেবগণের মধ্যবর্তী বীর অগ্নির বিনাশক হয়ে থাকেন, ঋণকারী ব্যক্তি যেমন পীড়ানুভ করে, বরুণদেব তাঁকে সেইরকম ভাবেই পীড়ন করেন। একাদশ সংখ্যক কপালের সহযোগে অগ্নিদেব ও বরুণদেবের যাগ করা হলে তারা তুষ্ট হন, এবং যজ্ঞকর্তা (যজমান) কোন পীড়া অনুভব করেন না ॥২॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–তৃতীয়ে ত্বাধানমন্ত্ৰা আন্নয়ন্তে। এই তৃতীয় অনুবাকে আধানমন্ত্ৰ কথিত হয়েছে।]

    .

    তৃতীয় অনুবাক

    মন্ত্র- ভূমির্ভুম্মা দ্যৌরিণাহন্তরিক্ষং মহিত্ব। উপস্থেতে দেবদিতেহমিন্নাদমন্নাদ্যায়াহদধে। আইয়ং গৌঃ পৃশ্নিরক্রমীদসনৰ্মাতরং পুনঃ। পিতরং চ প্রয়ৎসুবঃ। ত্রিংশদ্ধাম বি রাজতি বাপতঙ্গায় শিশিয়ে। প্রত্যস্য বহ দ্যুভিঃ। অস্য প্রাণাদপানত্যন্তশ্চরতি রোচনা। ব্যখ্যম্মহিষঃ সুবঃ। যত্বা ক্রুদ্ধঃ পুরোপ মন্যুনা ষদবর্তা। সুকল্পমগ্নে তত্তব পুনস্ত্রোদ্দীপয়ামসি। যত্তে মনুপরোপ্তস্য পৃথিবীমনু দধ্বসে। আদিত্যা বিশ্বে তদ্দে বসব সমাভর। মনো জ্যোতিৰ্জুমাজ্যং বিচ্ছিন্নং যজ্ঞং সমিমং দধাতু। বৃহস্পতিস্তনুতামিমং নো বিশ্বে দেবা ইহ মাদয়স্তাম। সপ্ত তে অগ্নে সমিধঃ সপ্ত জিহ্বাঃ সপ্ত ঋষয়ঃ সপ্ত ধাম প্রিয়াণি। সপ্ত হোত্ৰাঃ সপ্তধা ত্বা যজন্তি সপ্ত যোনীর পৃণস্বা ঘৃতেন। পুনরূজা নি বৰ্ত্ত পুনরগ্ন ইহয়ুষা। পুনঃ পাহি বিশ্বতঃ। সহ রয্যা নি বর্তমাগ্নে পিন্বস্ব ধারয়া। বিশ্বপমিয়া বিশ্বতস্পরি। লেকঃ সলেকঃ সুলেকস্তে ন অদিত্যা আজ্যং জুষাণা বিষন্তু কেতঃ সকেতঃ সুকেতন্তে ন আদিত্যা আজং জুষাণা বিষন্তু বিবস্বাং অদিতিৰ্দেবজুতিন্তে ন আদিত্যা আজ্যং জুষাণা বিষন্তু ॥৩৷৷

    মর্মার্থ- হে ভূমিরূপিনী দেবি অদিতি! আপনি বাহুল্যে ভূমিস্বরূপা, শ্রেষ্ঠত্বে দুলোকস্বরূপা ও মহিমায় অন্তরিক্ষরূপা। এই কারণে আপনার ক্রোড়ে হবি–ভক্ষণকারী অগ্নিকে যজমানের ভক্ষণযোগ্য অন্ন সিদ্ধির উদ্দেশ্যে স্থাপন করছি। এই গার্হপত্য অগ্নি আদিত্যরূপে গমনশীল ও শ্বেতবর্ণ ধারণ করে জগৎ আক্রমণ করেন। অতঃপর মাতৃসমা পৃথিবীতে আগমনপূর্বক শান্ত রূপ ধারণ করেন এবং পিতৃসম দুলোকে গমনপূর্বক অবস্থান করেন। আদিত্যরূপ গার্যপত্যের দিবায় পঞ্চদশ ও রাত্রে পঞ্চদশ মোট ত্রিশসংখ্যক মুহূর্তরূপ তেজঃ বিশেষরূপে প্রকাশমান হচ্ছে। পক্ষীবৎ আকাশে বিচারণশীল আদিত্যকে এই বেদাশ্রয়ী (বৈদিক) স্তুতি আশ্রয় করে। হে অগ্নি! আপনার প্রতি যে প্রতিকুল আচরণ করেছি, তা আপনি স্মরণে রাখবেন না, আপনার জ্বালার সহযোগে আমাদের নিবেদিত হবিঃ দেবগণের সন্নিকটে বাহিত করুন। এই আদিত্যের বোচনা বা দীপ্তি শ্বাস-প্রশ্বাস-রূপ উদয় ও অস্তের দ্বারা দ্যাবাপৃথিবীর মধ্যে বিচরণ করে থাকে। মহতি মণ্ডলে অবস্থিত আদিত্য যজমানদের জন্য স্বর্গলোক প্রকাশ করে থাকেন। এইভাবে আদিত্যরূপে স্তুত অগ্নিকে গ্রহণ করি। হে অগ্নি! কোপের অধীনস্থ আমি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে অথবা দারিদ্র্যে কারণে আপনার প্রতি যে বিরুদ্ধাচরণ করেছি, আপনার প্রসাদে তা সুকৃত হোক, পুনরায় আপনার উদ্দীপন সাধন করব। হে আহবনীয় অগ্নি! আমার ক্রোধে বিনাশপ্রাপ্ত আপনার যে তেজঃ পৃথিবীলোকে প্রবিষ্ট হয়েছে, আদিত্যবর্গ, বিশ্বদেববর্গ ও বসুদেববর্গ তা আহরণ করে নিন। মাননীয় অগ্নির জ্যোতি হবিঃ সেবন করুন, বিচ্ছিন্নতাপ্রাপ্ত এই যজ্ঞের সংযোজন সাধিত করুন, বৃহস্পতি দেবতা আমাদের অনুষ্ঠিত এই যজ্ঞকে বিস্তার দান করুন, সকল দেবগণ এই যজ্ঞে তৃপ্তি লাভ করুন। হে অগ্নি! আপনার প্রিয় সপ্তলোকে (ভূ-ভুবঃ-স্বঃ-মহঃ-জন-তপঃ-সত্য) আপনার সপ্ত সমিধ (অশ্বখখাদুম্বরপলাশশমীবিকঙ্কশনিহতবৃক্ষপুষ্করপৰ্ণরূপাঃ), জ্বালারূপ সপ্ত জিহ্বা (কালী-করালী-মনোজবা-সুলোহিতা-সুধুম্রবর্ণা-স্ফুলিঙ্গীনী-বিশ্বরুচি), সপ্ত ঋষিবর্গ (মরীচি-অত্রি অঙ্গিরাঃ-পুলস্ত্য-পুলহ-ক্রতু-বশিষ্ঠ), সপ্ত হোতাগণ (হোত্রা হোতৃপ্রমুখ বষট্‌কর্তারো হোতা প্রশান্তা ব্রাহ্মণাচ্ছংসী পোতা নেষ্টাহগ্নীদ্রোহচ্ছাবাকশ্চেতি সপ্তসপ্তসংখ্যকা) আপনার উদ্দেশ্যে সপ্ত রকমে (অগ্নিষ্টোমোহত্যগ্নিষ্টোম উথ্যঃ যোড়শ্যতিরাত্ৰোহবপ্তাৰ্যামো বাজপেয়শ্চেতি সপ্ত প্রকারাঃ) যাগ করে থাকেন। সেই আপনি সপ্ত লোক জলের দ্বারা পূর্ণ করুন। হে অগ্নি! আমরা প্রতিকূল আচরণ করলেও আমাদের নিবেদিত ক্ষীর ইত্যাদি রসের সহযোগে পুনরায় আপনি এই স্থানে আগমন করুন। অন্ন ও আয়ুর সঙ্গী হয়ে পুনরায় আপনি আগমন করুন, আমাদের সকল অপরাধ হতে রক্ষা করুন (অর্থাৎ আমাদের সকল অপরাধ মার্জনা করুন)। হে অগ্নি! আপনি ধনসঙ্গী হয়ে এই স্থানে আগমন করুন। সকলের পানীয় বৃষ্টিধারা তৃণ লতা গুল্মদির উপর সেচন বা বর্ষণ করুন। লেক, সেলেক, সুলেক, কেত, সকেত, সুকেত, বিবস্বান, আদিতি ও দেবজুতি–এই নবসংখ্যক আদিত্য নিবেদিত এই আজ্য প্রীতচিত্তে পান করুন ॥৩৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন–চতুর্থানুবাকে পূর্বোক্ত মন্ত্ৰা ব্যাখ্যায়ন্তে। অর্থাৎ–এই অনুবাকে পূর্বোক্ত মন্ত্রগুলি ব্যাখ্যাত হয়েছে।]

    .

    চতুর্থ অনুবাক

    মন্ত্র- ভূমির্ভুম্মা দেৰ্ব্বিরিণেত্যাহাহশিষৈবৈনমা ধর্তে। সর্পা বৈ জীৰ্যন্তোহমন্যন্ত স এতং কণীরঃ কাবেয়ো মন্ত্রমপশ্যত্ততো বৈ। তে জীণাস্তনুরপাষ্যত সর্পরাজ্ঞিয়া ঋগভির্গাহপত্যমা দধাতি পুনর্নবমেবৈনমজরং কৃত্বাহধত্তেহথো পূতমেব। পৃথিবীমন্নাদ্যং নোপানমৎসৈত মন্ত্রমপশ্যত্ততে বৈ মদ্যপানমদ্যৎ সর্পরাজ্ঞিয়া ঋগভিৰ্গাৰ্হপত্যমাদধাতান্নাদ্যস্যাবরুদ্ধ্যা অথো অস্যামেবৈনং প্রতিষ্ঠিতমা ধত্তে। যত্বা ক্রুদ্ধঃ পরোবপেত্যাহাপহূত এবাস্মৈ তৎ। পুনস্ত্রোদ্দীপযামসীত্যাহ সমিদ্ধ এবৈন।। যত্তে মোপররাপ্তস্যেত্যহ দেবতাভিরেব এনং সং ভরতি। বি বা এতস্য যজ্ঞচ্ছিদ্যতে যোহগ্নিমুঘাসয়তে বৃহস্পতিবত্যর্পোপ তিষ্ঠতে ব্ৰহ্ম বৈ দেবানাং বৃহস্পতিব্রহ্মণৈব যজ্ঞং সং দধাতি। বিচ্ছিন্নং যজ্ঞং সমিমং দধাত্বিত্যাহ সন্তত্যৈ।। বিশ্বে দেবা ইহ মাদয়স্তামিত্যাহ সন্তত্যৈব যজ্ঞং দেবেন্ডভ্যানু দিশতি। সপ্ত তে অগ্নে সমিধঃ সপ্ত জিহ্বাঃ ইত্যাহ সপ্তপ্ত বৈ সপ্তধাইগ্নেঃ প্রিয়াশুনুবস্তা এবার রুদ্ধে। পুনরূজা সহরয্যেত্যভিতঃ পুরোডাশমাহুতী জুহোতি যজমানমেবোজা চ রয্যা চোভয়তঃ পরি গৃহ্নাতি। আদিত্যা বা অস্মাল্লোকাদমুং লোকমায়স্তেহমুম্মিংল্লোকে ব্যতৃষ্যন্ত ইমং লোকং পুনরভ্যবেত্যাগ্নিমাধায়ৈতা হোমানজুহবুস্ত আঞ্জাবন্তে সুবর্গং লোকমায়ন্যাঃ পরাচীনং পুনরাধেয়াগ্নিমাদধীত স এ হোমা জুহুয়াদ্যামেবাহদিত্যা ঋদ্ধিৰ্ম্মাবস্তামেবতি। ৪৷৷

    মর্মার্থ- বাহুল্যে ভূমি, শ্রেষ্ঠত্বে দুলোক-ইত্যাদি চারিসংখ্যক ঋমন্ত্রের দ্বারা অন্নলাভের ইচ্ছায় অগ্নিকে স্থাপন করা বিধি। জরাপ্রাপ্ত হয়ে সর্পগণ তার প্রতিকারের বিষয়ে মনে মনে বিচার করেছিল। সেই কালে কণীর নামধারী এক কাদ্রবেয় (অর্থাৎ কপুত্র) ভূমি ইত্যাদি মন্ত্রসঙ্ দর্শন করেছিল। সেই মন্ত্রের সামর্থ্য-বশে সর্পগণ শরীরের জীর্ণ ত্বক পরিত্যাগপূর্বক কোমল ত্বক প্রাপ্ত হয়েছিল। সর্পগণ রাজ্ঞিবর্গ ভূমি ইত্যাদি ঋক্সমুদয়ের দ্বারা আহতি হয়ে বহ্নিজরা (বহ্নিবৎ জরা) পরিত্যাগপূর্বক নব (নুতন) ও পূত (পবিত্র) দেহ লাভ করেন। পৃথিবীর ক্রোড়ে অন্নভক্ষণকারী অগ্নিকে এই মন্ত্রের দ্বারা তারা দর্শন করেছিল এবং সর্পরাজ্ঞিগণ এই বৈদিক মন্ত্রে অগ্নিকে স্থাপিত করেছিলেন। অতঃপর হে দেবি! আপনার ক্রোড়ে ইত্যাদি মন্ত্রের সহযোগে ভূমিতে অগ্নিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। হে অগ্নি! আমরা ক্রোধান্বিত হয়ে আপনার যে বিরুদ্ধাচরণ করেছি, তার ফলে আপনি ক্রোধান্বিত হবেন না ইত্যাদি মন্ত্রে, দুষ্কৃতও আপনার প্রসাদে সুকৃত হয় ইত্যাদি মন্ত্রে এবং পুনরায় আপনাকে উদ্দীপিত করি ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নিকে প্রজ্বলিত করা হয়ে থাকে। হে অগ্নি! আপনার প্রতি যে প্রতিকূল আচরণ করেছি, আদিত্য ইত্যাদি দেববর্গ তার পূর্ণতা সাধন করুন ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নির উপস্থান কর্তব্য। যিনি অগ্নির বিনাশ সাধন করেন, তিনি যজ্ঞ ছিন্ন করে থাকেন। বৃহস্পতি শব্দযুক্ত ঋ-মন্ত্রের দ্বারা ব্রহ্মের অর্চনা কর্তব্য। ব্রহ্ম দেবগণের বৃহস্পতি, সুতরাং ব্রহ্মের দ্বারা যজ্ঞ সুসম্পন্ন করণীয়। বিচ্ছিন্নতাপ্রাপ্ত যজ্ঞ দেবগণ যুক্ত করুন ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা যজ্ঞের বিস্তার করণীয়। সকল দেববর্গ এই যজ্ঞে তৃপ্তি লাভ করুন ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা যজ্ঞের বিস্তার সাধিতপূর্বক দেবগণকে যজ্ঞের বিষয় প্রজ্ঞাপিত করতে হয়। হে অগ্নি! আপনার সপ্ত সমিধ, সপ্ত জিহ্বা ইত্যাদি মন্ত্রে সপ্তপ্রকার পদার্থ, অগ্নির প্রিয় তনুর মতো প্রধানস্বরূপ কল্পনীয়। অগ্নি সে সকল পদার্থ লাভ করেন। হে অগ্নি! ধনসঙ্গী হয়ে, অন্নসঙ্গী হয়ে এই স্থানে আগমন করুন ইত্যাদি মন্ত্র দুটির পূর্বে ও পরে পুরোডাশ আহুতি প্রদান করা কর্তব্য। আদিত্যবর্গ ভূলোক হতে দুলোকে গমনপূর্বক সমৃদ্ধিকামনায় অতৃপ্তিজনিত কারণে পুনরায় এই লোকে আগমনপূর্বক অগ্নিকে অবলম্বন করে লেক ইত্যাদি নব আদিত্য মন্ত্রে আহিত হয়ে পর্যাপ্ত সমৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন। যিনি এইরকম সমৃদ্ধি লাভ পূর্বক স্বর্গলোক-প্রাপ্তির কামনা করেন, তাঁর পক্ষে পুনরায় অগ্নির স্থাপনা সাধিত করে লেক ইত্যাদি নব আদিত্য ইত্যাদি মন্ত্রে হোম কর্তব্য ॥৪

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথ পঞ্চমমারভ্য দশমস্য পূর্বার্ধপর্যন্তরনুবাকৈরপ্নপস্থানমুচ্যতে]

    .

    পঞ্চম অনুবাক

    মন্ত্র- উপপ্রয়ন্তো অধ্বরং মন্ত্রং বোচেমাগুয়ে। আরে অস্মে চ শৃন্বতে। অস্য প্রত্নামনু দ্যুতং শুক্রং দুদুহ্রে অয়ঃ। পয়ঃ সাহষাসামৃষি। অগ্নিমূর্ধা দিবঃ ককুৎপতিঃ পৃথিব্যা অয়ম্। অপাং রেংসি জিম্বতি। অয়মিহ প্রথমো ধায়ি ধাতৃভিহোতা যজিষ্ঠো অরেধীভ্যঃ। যমবানো ভৃগবো বিরুরুচুৰ্বনেষু চিত্রং বিভুবং বিশেবিশে। উভা বামিত্ৰাগ্নী আহুবধ্যৈ উভা রাধসঃ সহ মাদয়ধ্যৈ। উভা দাতারাবিযাং রয়ীণামুভা বাজস্য সাতয়ে হুবে বা।। অয়ং তে যোনিঋত্বিয়ো যতো জাতত অবোচথাঃ। তং জান্নগ্ন আ লোহাথা নো বধয়া রয়িম্। অগ্ন আয়ুংষি পবস আ সুবোর্জমিষং চ নঃ।। আরে বাধস্ব দুছুনা। অগ্নে পবস্ব স্বপা অস্মে বর্চঃ সুবীর্য। দধৎ পোষং রয়িম ময়ি। অগ্নে পাবক রোচিষা মন্দ্রয়া দেব জিয়া। আ দেবাক্ষি যক্ষি চ। স নঃ পাবক দীদিবোহগ্নে দেবাং ইহাই বহ। উপ যজ্ঞং হবিশ্চ নঃ। অগ্নিঃ শুচিব্রততমঃ শুচির্বিপ্রঃ শুচিঃ কবিঃ। শুচী রোত আহুতঃ। উদয়ে শুচয়স্তব শুক্রা ভ্রজন্ত ঈরতে। তব জ্যোতীংষ্যৰ্চয়ঃ।। আয়ুদা অগ্নেহস্যায়ুর্মে দেহি বর্গোদা অগ্নেহসি বর্চো মে দেহি তনুপা অগ্নেহসি তবং মে পাহ্যগ্নে যন্মে তনুবা ঊনং তন্ম আ পৃণ। চিত্রাবসসা স্বস্তি তে পারমশীয়। ইন্ধানাস্থা শতং হিমা দুমন্তঃ সমিধীমহি বয়স্কন্তো বয়স্কৃতং যশস্বন্তো যশস্কৃতং সুবীরাসো অদাভ্যম। অগ্নে সপঅদম্ভনং বর্ষিষ্ঠে অধি নাকে। সং ত্বমগ্নে সূর্যস্য বৰ্চসাহগথাঃ সমৃষীণাং স্তুতেন সং প্রিয়েণ ধান্না। ত্বমগ্নে সূৰ্য্যবচ্চা অসি সং মামায়ুষা বচসা প্রজায়া সৃজ ॥৫॥

    মর্মার্থ- যজ্ঞের সন্নিকটে গমনপূর্বক আমরা সেই অগ্নির সন্তোষ সাধনের উদ্দেশ্যে উপস্থান মন্ত্র উচ্চারণ করব, যে অগ্নি দূর হতেও আমাদের বাক্য শ্রবণ করে থাকেন। এই অগ্নির পুরাতনী গোস্থানীয়া অনুকুল দীপ্তি হতে ঋত্বিকবর্গ লজ্জাশূন্য হয়ে দুগ্ধ-স্থানীয় শুভ্র জ্যোতির দোহন করেছিলেন। সেই দুগ্ধ, সহসাং অর্থাৎ বহুধনপ্রদ কর্ম প্রবর্তক। অতএব আমরাও এই উপস্থানের সহায়তায় তার দোহন সমাধা করব। এই অগ্নি আদিত্যরূপে দুলোকের মস্তকের মতো, দাহপাক ইত্যাদির দ্বারা পৃথিবীর পালক এবং বৃষ্টির দ্বারা স্থাবর-জঙ্গমের প্রীতিসাধন করে থাকেন। কর্মের মুখ্যস্বরূপ এই সেই অগ্নিকে আমরা ধারণ করছি। যে অগ্নি দেববর্গের আহ্বাতা মনুষ্য অপেক্ষা অতিশয় যজনকর্তা, যাগে স্তুত্য এবং অপ্নবান ও ভৃগু নামধারী মুনিগণ আপন আপন আশ্রমে আপন আপন প্রজার অভ্যুদয়ার্থে বিচিত্ররূপে ব্যাপ্ত যাঁকে অর্থাৎ যে অগ্নিকে বিশেভাবে দীপিত করেছিলেন। এইরকম যে মহান অগ্নি, তিনি আমাদের সুখ প্রদান করুন। হে ইন্দ্রাগ্নী (অর্থাৎ ইন্দ্র ও অগ্নি)! আপনাদের উভয়ের উদ্দেশ্যে আমরা যাগ করতে ইচ্ছা করি, আপনাদের উভয়কে অন্নের দ্বারা তৃপ্ত করতে বাসনা করি; যেহেতু আপনারা উভয়েই অন্ন ও ধনের প্রদাতা, অতএব অন্ন লাভের অভিলাষে আপনাদের উভয়কে আহ্বান করছি। হে অগ্নি! এই আহবনীয় প্রদেশ আপনার স্থান। সম্বৎসরের সকল ঋতুব্যাপী এই স্থানে আপনি উদ্ভূত হয়ে দীপ্যমান হন। আপনার স্থানরূপ এই প্রদেশকে জ্ঞাত হয়ে এখানে আগমন করুন এবং অনন্তর আমাদের ধন বর্ধন করুন। হে অগ্নি! আপনি আমাদের আয়ুর শোধন অর্থাৎ নির্দোষ করুন, রসযুক্ত অন্ন আনয়ন করুন ও বৈরিসেনাবর্গকে দূরে অপসৃত করুন। হে অগ্নি! শোভনকর্মকারী আপনি আমাদের ব্রহ্মতেজ ও সমীচীন সামর্থ্য শোধন অর্থাৎ দোষহীন করুন, পুষ্টি ও ধন আমাদের জন্য ধারণ করুন (অর্থাৎ স্থাপন করুন)। হে পাবক অগ্নিদেব! রোমান ও মাদয়িা (মত্ততাপ্রদ) আপনার জিহ্বার দ্বারা দেবগণকে আহ্বান করুন এবং যাগ অনুষ্ঠিত করুন। হে পাবক অগ্নি! দীপ্যমান (দীদিবো) আপনি দেবগণকে এই স্থানে আনয়ন করুন এবং আমাদের যজ্ঞ ও হবি গ্রহণ করুন। এই অগ্নি অতি শুদ্ধ ব্ৰতযুক্ত, বিপ্রত্বের কারণে শুচি, কবিত্বের বা মেধাবিত্বের কারণে (বিদ্বদভিমানিত্বাদপি) শুচি; ইনিই আমাদের দ্বারা সর্বত্র আহুত হয়ে শুদ্ধরূপে ভ্ৰাজিত অর্থাৎ দীপ্তিময় হয়ে ঊর্ধ্বে উম্মত হচ্ছে অর্থাৎ গমন করছে! অর্চনাকারিগণ আপনার জ্যোতিসমূহ লাভ করে থাকেন। হে অগ্নি! আপনি আয়ুৰ্দাতা, (অর্থাৎ আয়ু দান করেন) আমাকে আয়ু দান করুন। আপনি তেজঃপ্রদ, আমাকে তেজঃ প্রদান করুন; আপনি দেহ-রক্ষাকারী, আমার দেহের যে অংশ সামর্থ্যে নন, তার পূর্ণতা (অর্থাৎ পুষ্টি) বিধান করুন। হে রাত্রি! আপনার পরিসমাপ্তি যেন আমি স্বস্তির সাথে (অর্থাৎ মঙ্গলের সাথে) প্রাপ্ত হই। হে অগ্নি! আপনাকে সমিধসহযোগে প্রজ্বলিত করে হেমন্ত উপলক্ষিত শতসংখ্যক সংবৎসরকাল দীপ্তিশালী হয়ে এই লোকে সম্যকভাবে প্রখ্যাত,হবো। আপনি অন্নের কর্তা, যশস্কৃত (অর্থাৎ কীর্তিপ্রদ, অন্যের দ্বারা অ-তিরস্কৃত; স্বর্গবিষয়ে অতিপ্রৌঢ় আপনি দন্তকারী বিরোধীবর্গের বিনাশকারী; আমরা আপনাকে দীপিত করে অন্নবস্তু, কীর্তিমন্ত ও শোভন পুত্র ইত্যাদি যুক্ত হবো। হে অগ্নি! আপনি সূর্যের তেজের সাথে সংগত, ঋষিবর্গের (কঠোৎসাবিত) স্তোত্রের সাথে সংগত, প্রিয় আহবনীয় দেশে বা স্থানে সংগত আছেন। হে সংবৎসরকাল আয়ু, তেজ ও পুত্রপৌত্র ইত্যাদির সাথে সংগত করে দিন ॥৫॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–ষষ্ঠেহনুবাকে গার্হপত্যস্য পুনরপ্যাহবনীয়স্য চোপস্থানং সপরিকরমভিধীয়তে]

    .

    ষষ্ঠ অনুবাক

    মন্ত্র- সং পশ্যামি প্রজা অহমিড়প্রজসো মানবীঃ। সৰ্বা ভবন্তু নো গৃহে। অঙঃ স্থান্তো বো ভক্ষীয় মহঃ স্থ মহো বো ভক্ষীয় সহঃ স্থ সহো বো ভক্ষীয়েৰ্জঃ হোজ্জং বো ভক্ষীয়। রেবতী রমমম্মিল্লোঁকেহস্মিন্ গোষ্ঠেহস্মিন্ ক্ষয়েহ স্মিনন্যানাবিহৈব তো মাহপ গাত বীর্মে ভূয়ান্ত। সংহিতাহসি বিশ্বরূপীরা মোৰ্জা। বিশাহগৌপত্যেনাহরায়পোষেণ সহস্রপোষং বঃ পুষ্যাসং ময়ি বো রায়ঃ শ্ৰয়স্তাম্। উপ ত্বাইয়ে দিবেদিবে দোষাবধিয়া বয়ম। নমো ভরন্ত এমসি। রাজন্তমরাণাং গোপামৃতস্য দীদিবি। বর্ধমানং যে দমে। স নঃ পিতেব সুনবেংগ্নে সুপায়নো ভব। সচম্বা নঃ স্বয়ে। অগ্নে ত্বং নো অমঃ। উত ত্রাতা শিবব ভব বথ্যঃ। তং ত্বা শোষ্ঠি দীদিবঃ। সুম্মায় নূনমীমহে সখিভ্যঃ। বসুরগ্নিৰ্বশ্রবাঃ।। অচ্ছা নক্ষি মত্তমো রয়িং দাঃ। ঊর্জা বঃ পশ্যামর্জা মা পশ্যত রায়পোষেণ বঃ পশ্যামি রায়পোষেণ মা পশ্যতেড়াঃ স্থ মধুকৃতঃ। সোনা মাহবিশতেরা মদঃ।। সহস্রপোষং বঃ পুষ্যাস মরি বো রায়ঃ শ্ৰয়স্তাম্। তসবিতুর্বরেণ্যং ভগো দেবস্য ধীমহি। ধিয়ো যো নঃ প্রচোদ্দয়াৎ। সোমানং স্বরণং কৃণুহি ব্ৰহ্মণপতে। কক্ষীবন্তং য ঔশিজম্।। কদা চন স্তরীরসি নেন্দ্র সশ্চসি দাশুষে। উপপাপে মঘব ভূয় ইমু তে দানং দেবস্য পৃচ্যতে। পরি ত্বাহগ্নে পুরং বয়ং বিপ্রং সহস্য ধীমহি। ধৃষদ্বর্ণং দিবে দিবে ভেত্তারং ভঙ্গুরাবতঃ অগ্নে গৃহপতে সুগৃহপতিরহং ত্বয়া গৃহপতিনা ভূয়াসংগৃহপতির্ময়া গৃহপতিনা ভূয়াঃ শতং হিমাস্তমাশিষমা শাসে তবে জ্যোতিষ্মতীং তামাশিষমা শাসেহমুষ্মৈ জ্যোতিষ্মতীম্ ॥৬॥

    মর্মার্থ- আমি মনুষ্যপালিত পশুগণকে সম্যভাবে দেখব। আমাদের গৃহে ধেনু (গো) ইত্যাদি সকল পালিত পশু ও পুত্রপৌত্র-মিত্র ইত্যাদি মনুষ্যরূপী সকল পালিতজন অবস্থান করুক। হে পশুবর্গ! তোমরা খাদ্যের কারণভূত হও। তোমাদের ক্ষীর, ঘৃত ইত্যাদি খাদ্য আমরা ভক্ষণ করব। তোমরা যাগ ইত্যাদির দ্বারা পূজ্য হও, তোমাদের বলকারক ও স্বাদুতম ক্ষীর ইত্যাদি আমরা ভক্ষণ করব। হে পশুবৰ্গ! তোমরা এই পৃথিবীতে, গোষ্ঠে (ব্রজবিশেষে), গৃহবিশেষে এবং যে-কোন স্থানবিশেষে ক্রীড়াপর হও। সর্বদা এইস্থানেই তোমরা অবস্থান করো ও এই স্থান হতে অন্যত্র কোথাও গমন করো না, আমাদের নিমিত্ত অপত্যপরম্পরায় বহুসংখ্যক হও। হে বৎস! তুমি মাতার সাথে সংযুক্ত হয়ে অবস্থান করো; আদরে স্তন্যপান কালে বাম ও দক্ষিণভাগে পুনঃ পুনঃ গমনাগমনের ফলে তোমাদের বহুরূপীর মতো দেখায়। সেইভাবে তোমরা ক্ষীর ইত্যাদি রসের নিমিত্ত আমার নিকটে আগমন করো, বহুসংখ্যক পশুর স্বামিত্বের কারণে আমার নিকটে আগমন করো, ধনপুষ্টির নিমিত্ত আমার নিকটে আগমন করো। সহস্ৰসংখ্যক পুষ্টি যেস্থানে আছে, সেস্থানে আমি তোমাদের পোষণ করব, তোমাদের ক্ষীর ইত্যদি ধন আমাতে আশ্রয়প্রাপ্ত হোক। হে অগ্নি! প্রতিদিন আমরা আপনার নিকট গমন করে থাকি। আপনি যজ্ঞের রাজা, গো-গণের পানকর্তা, সত্যের দ্যোতমা (প্রকাশক) ও স্বকীয় অগ্নিহোত্র-গৃহে হবির দ্বারা বর্ধমান। হে অগ্নি! পুত্রের নিকট পিতা যেমন সহজপ্রাপ্য, সেইরকম আমাদের নিকটে আপনি সহজলভ্য হোন (অর্থাৎ আপনার দ্বারা আমরা মঙ্গল লাভ করি)। হে অগ্নি! আপনি আমাদের অস্তিকতম (নিকটতম) হোন। পরিত্রাতা ও মঙ্গলময় রূপে আপনি আমাদের গৃহে সন্নিহিত হোন। হে বহ্নি! শুদ্ধতম, দীপ্যমান আপনি সখারূপে আমাদের সুখের নিমিত্ত প্রাপ্ত হোন। বসু, বসুমান, বসুরগ্নি, বসুরুদ্র ইত্যাদির দ্বারা বসুশ্রবা (বা শ্রুতকীর্তি) নামে অভিহিত হে অগ্নি! আপনি আমাদের দর্শনলভ্য হোন (অর্থাৎ সম্মুখে আগমন করুন)। অতিশয় দীপ্যমান আপনি আমাদের ধন দান করুন। আমাদের গৃহে আগত (বা পালিত) হে পশুগণ! ক্ষীর ইত্যাদি রসের নিমিত্ত এবং ধনপুষ্টির কারণে তোমাদের আমরা দেখছি, তোমরাও আমাদের সেইভাবে দেখ। হে গাভিগণ! তোমরা মধুর ঘৃতকারিণী হও। তোমরা সুখকর অন্নরাশিযুক্ত ও আমোদর, আমার নিকট আগমন করো। সহস্ৰসংখ্যক পুষ্টি যেস্থানে বর্তমান, আমি তোমাদের সেই স্থানে পোষণ করব। তোমাদের ক্ষীর ইত্যাদি ধন আমাতে আশ্রয়প্রাপ্ত হোক। বিশ্বলোকে ব্যাপ্ত যে সবিতাদেব আমাদের বুদ্ধিকে কর্মে প্রেরণ করেন, আমরা তাঁর সেই বরণীয়, তেজের ধ্যান করি। হে ব্ৰহ্মণস্পতি (অগ্নিদেব)! আপনি যেমনভাবে ঔশিজকে অর্থাৎ উশিজ নামক ঋষির পুত্র কক্ষীবানকে কর্মে প্রবৃত্ত করেছিলেন, তেমন ভাবে আমাকে সোমযাগের উপদেষ্টা করুন। হে পরম ঐশ্বর্যযুক্ত অগ্নি! কদাচিতও হিংসক হবেন না। হবিঃ-দানকারী যজমানের অত্যন্ত সমীপবর্তী আপনি মিলিত হোন। হে মঘবান-সদৃশ (ইন্দ্রসম) অগ্নি! পুনরপি আপনার দান ফলদানার্থে আমাদের সাথে সংযুক্ত হোক, কখনও যেন তো বিযুক্ত না হয়। হে সহস্র বলবান্ অগ্নি! আমরা প্রতিদিন আপনার সেই রূপকে ধারণ করে থাকি, যে রূপে আপনি আমাদের অভিমত-পূরক, ব্রাহ্মণাভিমানী, বৈরিদের পরাভব করার উপযুক্ত বর্ণ ও আকারবিশিষ্ট এবং ধ্যান ইত্যাদি ভগ্নকারী রাক্ষগণের বিদারক হন। হে গৃহপালক অগ্নি! গৃহপতি আপনার অনুগৃহীত হয়ে আমি শোভন গৃহপতি হবো। হে অগ্নি! গৃহপতি আমার দ্বারা সম্পূজিত হয়ে হেমন্তসহ শত সংবৎসরকাল আপনি গৃহপতি থাকুন। আপনার সকাশে আমরা উৎপন্নমান অর্থাৎ ভাবি পুত্রসন্তানদের নিমিত্ত ব্ৰহ্মতেজ-যুক্ত আয়ু, আরোগ্য, ঐশ্বর্য ইত্যাদির অভিবৃদ্ধি রূপ আশীর্বাদ কামনা করি ॥৬৷৷

    [সায়ণাচার্য বলেন–সপ্তমেইনুবাকে পঞ্চমানুবাকোক্ত মন্ত্ৰা ব্যাখ্যায়ন্তে। অর্থাৎ এই অনুবাকে পঞ্চম অনুবাকের মন্ত্রগুলি ব্যাখ্যাত]

    .

    সপ্তম অনুবাক

    মন্ত্র- অযজ্ঞে বা এষ যোহোমোপপ্রয়ন্তো অধ্বরমিত্যাহ স্তোমমেবামৈ যুক্তি। উপেত্যাহ প্ৰজা বৈ পশব উপেমং লোক প্রজামেব পশূনিমং লোকমুপৈতি। অস্য প্রত্নামনু দ্যুতমিত্যাহ সুবর্গো বৈ লোকঃ প্রত্নঃ সুবৰ্গমেব লোকং সমারোহতি।। অগ্নিমুৰ্দ্ধা দিবঃ ককুদিত্যাহ মুর্ধান এবং সমানানাং করোত্যবো দেবলোকাঁদেব মনুষ্যলোকে প্রতি তিষ্ঠতি। অয়মিহ প্রথমা ধায়ি ধাতৃভিরিত্যাহ মুখ্যমেবৈনং কয়রাতি।। উভা বামিন্দ্রাগ্নী আহুধ্যা ইত্যাহৌজো বলমেবাব রুন্ধে। অয়ং তে যোনিঋত্বিয় ইত্যাহ পশবো বৈ রয়িঃ পশুনেবাব রন্ধে। ষড়ভিরুপ তিষ্ঠতে ষড়বৈ ঋতব ঋতুবে প্রতি তিষ্ঠতি ষডুভিরুত্তরাভিরুপ তিষ্ঠতে দ্বাদশ সং পদ্যন্তে দ্বাদশ মাসাঃ সংবৎসরঃ সংবৎসর এব প্রতি তিষ্ঠতি। যথা বৈ পুরুষোহশ্বে গৌজীৰ্য্যতত্যবমগ্নিরাহিতো জীৰ্য্যতি সংবৎসরস্য পরস্তাদাগ্নিপাবমানীভিরুপ তিতে পুনর্নবমেবৈনমজরং করোত্যথো পুনাত্যে। উপ তিষ্ঠতে যোগ এবাস্যৈষ উপ তিতে দম এব্যস্যৈষ উপ তিষ্ঠতে যাচ্ঞৈবাস্যৈযোপ তিষ্ঠতে যথা পাপীয়ায়েস আহৃত্য নমস্যতি তাদৃগেব তৎ। আয়ুৰ্দা অগ্নেহস্যায়ুৰ্ম্মে দেহত্যাহাহমুর্দা হেষ বর্জ্যোদা অগ্নেইসি বৰ্চো মে দেহত্যাহ বচ্চোদা হেষ তনূপা অগ্নেহসি তনুবং মে পাহীত্যাহ তনুপা হ্যেয্যে। অগ্নে যন্মে তনুবা উনং তন্ম আ পৃণেত্যাহ যন্মে প্রজায়ৈ পশুনমুনং তন্ম আ পূরয়েতি বাবৈদাহ।। চিত্রাবসসা স্বস্তি তে পারমশীয়েত্যাহ রাত্রির্বৈ চিত্রাবসুরঝষ্ট্যৈ বা এতস্যৈ পুরা ব্রাহ্মণা অভৈযুঝুঁষ্টিমেবার রুন্ধে। ইন্ধানাস্তা শতম্ হিমা ইত্যাহ শতায়ুঃ পুরুষঃ শতেন্দ্রিয় আযুয্যেবেন্দ্রিয়ে প্রতি তিষ্ঠতি। এষা বৈ সৰ্ম্মী কর্ণকাবত্যেতয়া হ স্ম বৈ দেবা অসুরাণাম। শততহাংংহন্তি যদেতয়া সমিধমাদধাতি বজ্রমেবৈতচ্ছতষ্মীম যজমানো ভ্রাতৃব্যায় প্র হরতি ত্যা অচ্ছস্বকার। সং ত্বমগ্নে সূৰ্য্যস্য বৰ্চসাহগথা ইত্যাহৈতত্ত্বমসীদমহম ভূয়াসমিতি বাবৈদাহ। ত্বমগ্নে সূৰ্যবৰ্চা অসীত্যহাশিষমেবৈতামা শাস্তে ॥৭॥

    মর্মার্থ- যা সামরহিত (অর্থাৎ সামবেদোক্ত গীত ব্যতিরেকে যে যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়) তা যজ্ঞ হয় না। ঋক্‌-ভেদে ও আবৃত্তিভেদে নিষ্পন্ন সামসঙ্ স্তোম নামে অভিহিত। সেই স্তোম এই অগ্নিহোত্রে সম্পাদিত হয়ে থাকে। উপপ্রয়ন্ত ইত্যাদি দ্বাদশসংখ্যক ঋকে স্তোম-স্থানীয় বলে ধরা হয় এবং এই যজ্ঞে তা পাঠ করা কর্তব্য। প্রজাগণও পশুবর্গ এই ভূলোকে আগত হয়; সেই কারণে যজমানও ভুলোকে গমন করেন। অগ্নির অনুকুল দীপ্তি ইত্যাদি মন্ত্রে প্রত্ন-শব্দ সুচিত হওয়ায় এবং স্বর্গস্থানীয় দীপ্তিকে দোহনের দ্বারা স্বর্গারোহণ সূচিত হচ্ছে। অগ্নি দুলোকের মস্তকস্থানীয় ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা সমানজাতীয় মনুষ্যগণের মধ্যে যজমানের শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করা হয়ে থাকে। তারপর দেবলোক হতে আগত হয়ে এই মনুষ্যলোকে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই অগ্নি এই কার্যে মুখ্যভূত, আমাদের কর্তৃক তাকে ধারণ করা হচ্ছে ইত্যাদি মন্ত্রে পার্থিব অগ্নির প্রথমত্ব সূচিত হওয়ায় অগ্নির প্রধানত্ব সূচিত হয়। হে ইন্দ্র ও অগ্নি! আমি তোমাদের দুজনেরই উদ্দেশ্যে যজ্ঞানুষ্ঠানে ইচ্ছা করি ইত্যাদি মন্ত্রে ইন্দ্রদেবের বলাভিমানিত্ব এবং অগ্নিদেবের তেজোভিমানিত্ব–শব্দ দুটি উল্লেখিত হওয়ায় উভয় প্রাপ্তি সূচিত হচ্ছে। এই অগ্নি, এই আহবনীয় প্রদেশ ঋতু-সম্বন্ধীয় ইত্যাদি মন্ত্রে রয়ি শব্দটিতে পশুরূপ ধন অর্থ গৃহীত হয়েছে। উপপ্রয়ন্ত অধ্বরং ইত্যাদি থেকে অয়ং হে যোনিঋত্বিয়ো ইত্যাদি পর্যন্ত পূর্বোক্ত ছটি মন্ত্র এবং অগ্ন আয়ুংষি ইত্যাদি থেকে উদগ্নে শুচয়স্তব ইত্যাদি পর্যন্ত পরবর্তী ছটি মন্ত্রের দ্বারা যাগ করণীয়। এখানে পূর্ববর্তী দুটি মন্ত্রের দ্বারা প্রতিদিনের উপস্থান এবং সেই রকমে পরবর্তী ছটি মন্ত্রের দ্বারা কালবিশেষের নির্দেশ করা হয়। যেমন পুরুষ (মনুষ্য), অশ্ব, গো প্রভূতি আহার লাভ করলেও জীর্ণতা প্রাপ্ত হয়, তেমনই আহিত অগ্নিও জীর্ণ হয়ে থাকে। এটি নিবারণকল্পে অগ্ন আয়ুংষি ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নি কর্তৃক সংবৎসরব্যাপী প্রাপ্ত জরাকে নিবারণপূর্বক নূতন শরীর শোধন করবার নিমিত্ত সংবৎসরকালের ঊর্ধ্বে উপস্থাপন করবার বিধান দেওয়া হয়েছে। অগ্নিদেবতা সম্বন্ধীয় ও পবমানদেবতা সম্বন্ধীয় ঋ-মন্ত্র অগ্নি (বা আগ্নেয়) ও পাবমানী নামে অভিহিত হয়। পাবমানী মন্ত্রে অগ্নি স্থাপন (বা শোধন) করলে অগ্নি অজর (জীর্ণতাহীন) ও পবিত্র (শুদ্ধ) হন। উপতিষ্ঠত ইত্যাদি মন্ত্রের দ্বারা অগ্নির যোগ অর্থাৎ যজমানসহ অনুগ্রাহ্য অনুগ্রাহকরূপ সম্বন্ধ, তথা দম দাহ ইত্যাদি লক্ষণযুক্ত উপদ্রবের নিবারণ এবং ধন ইত্যাদি যাচ্ঞার কথা ব্যক্ত হয়েছে। যেমন এই লোকজগতে কোনও দরিদ্র ব্যক্তি কোনও ধনীর নিকট কোনও উপায়ে সংগৃহীত উপঢৌকন প্রদান করে তাকে নমস্কার করে, সেইরকম এই উপস্থাপন। হে অগ্নি, তুমি আয়ুর দাতা, আমাকে আয়ু দান করো। তুমি তেজের প্রদাতা, আমাকে তেজঃ প্রদান করো। তুমি শরীরের পালনকর্তা, আমার তনু রক্ষা করো (অর্থাৎআয়ুদা অগ্নেহস্যায়ুর্মে দেহি ইত্যাদি) মন্ত্রে তনু শব্দে প্রজা, পশু ইত্যাদিরও শরীর অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। যথা–হে অগ্নি! আমার শরীরের যে অংশ অপটু আছে, তা পূর্ণ করো অর্থাৎ পটুতা দান করো; আমার প্রজা ও পশুদের পটুত্বে যা কম আছে, তা পূর্ণ করে অর্থাৎ পটুতার ন্যূনতা দূর করো। চিত্রাবসো স্বস্তি তে পারমশীয়–হে রাত্রি! আপনার পরিসমাপ্তি যেন আমি স্বস্তির সাথে প্রাপ্ত হই।–ইত্যাদি মন্ত্রে চিত্রাবসু শব্দে রাত্রিকেই অভিব্যক্ত করা হয়েছে। নক্ষত্র ইত্যাদি রূপ চিত্র অভিব্যক্ত বলেই চিত্রাবসু শব্দের দ্বারা রাত্রি লক্ষিত হয়েছে। অন্যষ্টি শব্দে প্রভাকাল বোঝানো হয়েছে। হেমন্তঋতুতে রাত্রি দীর্ঘত্ব প্রাপ্ত হওয়ায় প্রভাত হবে না চিন্তা করে কদাচিৎ ব্রাহ্মণবর্গ আশঙ্কিত হয়ে এই প্রার্থনার দ্বারা প্রভাত লাভ করেন। ইন্ধানাস্তা শতং হিমা অর্থাৎ হে অগ্নি! আপনাকে সমিধসহযোগে প্রজ্বলিত করে (হেমন্ত উপলক্ষিত) শতসংখ্যক সংবৎসরকাল দীপ্তিশালী ও বীর্যবান্ হয়ে এই লোকে সম্যভাবে প্রখ্যাত হবো–ইত্যাদি মন্ত্রে হিম শব্দটিতে সংবৎসর অর্থ ধরা হয়েছে। এই মন্ত্রের সহায়তা অগ্নির স্থাপন করলে পুরুষ শতসংবৎসরকাল যাবৎ আয়ু ও শতসংখ্যক (প্রচুর) সামর্থ্য লাভ করে থাকে। এষা বৈ সূক্ষ্মী কর্ণকাবত্যেতয়া ইত্যাদি মন্ত্রে যে সূক্ষ্মী শব্দটি আছে তার অর্থ বা লক্ষ্য জ্বলন্তী লোহময়ী স্মৃণা। এটির মধ্যভাগে একটি ছিদ্র থাকায় (কর্ণকাবতী) অন্তরভাগও প্রজ্বলিত হয়ে থাকে। এর দ্বারা একটি প্রহারে (আঘাতে) দেবগণ শতসংখ্যক অসুর-বীরের বিনাশ সাধন করতে পারেন। এই মন্ত্রের দ্বারা সমিধ আধান করে শতক্ষ্মী (শতঘাতী) বজ্র লাভ করে বৈরিগণকে প্রহার করতে হয়। অচ্ছম্বার শব্দের–নিজের যাতে বিনাশ না হয়–এমনই অর্থ। হে অগ্নি! আপনি সূর্যসদৃশ তেজঃ-যুক্ত হোন–ইত্যাদি মন্ত্রে অগ্নির গুণকথা ব্যক্ত হয়েছে এবং নিজের জন্যও সূর্যসদৃস তেজঃ-লাভের প্রার্থনা প্রজ্ঞাপিত হয়েছে। এই আশিস প্রার্থনা করা হয়েছে–হে অগ্নি! আপনি যেমন সূর্যসদৃশ তেজঃ-সম্পন্ন, আমাকেও তেমনই তেজঃ, আয়ু ও প্রজার সাথে যুক্ত করুন ॥৭॥

    [সায়ণাচার্য বলেন-ষষ্ঠানুবাকোক্তা মন্ত্র মন্ত্রা ব্যাখ্যায়ন্তে। অর্থাৎ–এখানে ষষ্ঠ অনুবাকোক্ত মন্ত্রগুলি ব্যাখ্যাত হয়েছে]

    .

    অষ্টম অনুবাক

    মন্ত্র- সং পণ্যামি প্রজা অহমিত্যাহ যাবন্ত এব গ্রাম্যাঃ পশবন্তানেবাব রুন্ধে। অন্তঃ স্থান্তো বো ভক্ষীয়েত্যাহাম্ভো হ্যেতা মহঃ স্থ মহো বো ভক্ষীয়েত্যাহ মহো হ্যেতাঃ সহঃ ও সহো বো ভক্ষীয়েত্যাহ সহো হ্যেতা উজ্জঃ হোজ্জং বো ভক্ষীয়েত্যাহোর্জে হ্যেতাঃ।। রেবতী রমধ্বমিত্যাহ পশবো বৈ রেবতীঃ পশূনেবাহত্মময়তে। ইবৈহ স্তেতে মাহপ গাতেত্যাহ বা এবৈনা অনপগাঃ কুরুতে। ইষ্টকচিদা অনন্যাহগ্নিঃ পশুচিদন্যঃ সংহিতাহসি বিশ্বরূপরিতি বসমভি মৃশত্যুপৈবৈনং ধওে পশুচিতমেনং কুরুতে।। প্র বা এমোহশ্মল্লোকাচ্চ্যুবনেত য আহবনীয়মুপতিতে গাহপত্যমুপতিতেই স্মিমেব লোকে প্রতি তিষ্ঠ্যথো গার্হপত্যায়ৈব নি স্কুতে। গায়ত্রীভিরূপ তিষ্ঠতে তেজো বৈ গায়ত্রী তেজ এবাত্মন্ধত্তেহথো যদেতং তৃচমন্বং সন্তত্যৈ। গার্হপত্যং বা অনু দ্বিপাদো বীরাঃ এ জায়ন্তে য এবং বিদ্বান্দিপদাভিৰ্গাৰ্হপত্যমুপতিতে আহস্য বীররা জায়তে। উজ্জা বঃ পশ্যামর্জা মা পশ্যতেত্যহাশিষমেবৈমা খাস্তে। তসবিতুর্বরেণ্যমিত্যাহ প্রসূত্যৈ সোমানং স্বরণমিত্যাহ সে। মপীথমেবাব রুদ্ধে কৃণুহি ব্ৰহ্মণম্পত ইত্যাহ ব্ৰহ্মবéনমেবাব রুন্ধে। কদা চন শুরীরসীত্যাহ ন স্তরীং রাত্রিম বসতি ষ এবং বিদ্বানগ্নিমুপতিষ্ঠতে। পরিত্বাহয়ে পুরং বয়মিত্যাহ পরিধিমেবৈতং পরি দত্যদুন্দায়। অগ্নে গৃহপত ইত্যাহ যথা যজুরেবৈতৎ শতং হিমা ইত্যাহ। শতং ত্বা হেমন্তানিন্ধিষীয়েতি বাবৈতদাহ। পুত্রস্য নাম গৃহ্নাতান্নাদমেবৈনং করোতি।। তামাশিষমা শাসে তবে জ্যোতিষ্মতীমিতি ব্রুয়াদ্যস্য পুত্ৰোহজাতঃ স্যাত্তেজষ্যেবাস্য ব্রহ্মচঁসী পুত্রো জায়তে তামাশিষমা শাসেহমূমৈ। জ্যোতিষ্মতীমিতি বুয়াদ্যস্য পুত্রো জাতঃ স্যাত্তেজ এবাস্মিন্ত্রহ্মবর্ডসৎ দধাতি ॥ ৮

    মর্মার্থ- সং পশ্যামি প্রজা অহমিড়প্রজসো মানবীঃ অর্থাৎ আমি মনুষ্যপালিত পশুগণকে সম্যভাবে দেখব ইত্যাদি মন্ত্রে ইড়প্রজা শব্দটিতে গো, অশ্ব ইত্যাদি গ্রাম্য-পালিত পশুসমূহকে লক্ষ্য করা হয়েছে। অম্ভ স্থাম্ভো যে ভক্ষীয় অর্থাৎ হে পশুবর্গ! তোমাদের ক্ষীর, ঘৃত ইত্যাদি খাদ্য, আমরা ভক্ষণ করব ইত্যাদি মন্ত্রে অম্ভ, মহ, সহ, উর্জ প্রভৃতি শব্দগুলি গাভীগণ সম্পর্কে উপলক্ষিত এবং কথিত। অন্ত শব্দের দ্বারা ভক্ষণীয় সামগ্রীকে, যথা–গো-দুগ্ধ, ঘৃত প্রভৃতি বোঝায়। ঊর্জ শব্দে ক্ষীর ইত্যাদি রসকে লক্ষ্য করা হয়েছে। রেবতী রমধ্বম্ অর্থাৎ রেবতী তৃপ্তিলাভ করো ইত্যাদি মন্ত্রে উল্লিখিত রেবতী শব্দে গো-ইত্যাদি পশুগণ লক্ষিত হয়েছে। আত্মন শব্দে আপন গৃহ বোধিত হয়েছে। এই স্থান হতে অন্যত্র কোথাও গমন করো না ইত্যাদি মন্ত্রে ধ্রুব শব্দে নিত্যজীবন এবং অনপগা শব্দে বিয়োগাভাব প্রার্থিত হয়েছে। ইষ্টকচিত্বা অন্যোহগ্নিঃ ইত্যাদি মন্ত্রে ইষ্টক ব্যবধান রচিত করে কখনও যেমন অগ্নি প্রজ্বলিত হয়, তেমনই পশুকে ব্যবধান করে যদি কখনও অগ্নিকে প্রজ্বলিত করা হয় এমন উৎপ্রেক্ষা করা হয়েছে (ইব্যুৎপ্রেক্ষতে)। সেইরকমই বসকে স্পর্শ করে অগ্নিকে চয়ন করার বিধান কথিত হয়েছে। প্র বা এযোস্মাল্লোকাচ্চবতে অর্থাৎ যিনি এই লোক হতে বিচ্যুত হন ইত্যাদি মন্ত্রে গার্হপত্য অগ্নির উপস্থান বিহিত (সমাধা) হয়েছে। হে অগ্নি! আমরা নিত্য আপনার সকাশে গমন করব ইত্যাদি মন্ত্রে প্রজাপতির মুখ হতে অগ্নির সহোৎপন্ন হওয়ায় গায়ত্রীর তেজের স্বরূপত্ব বিহিত হয়েছে। গার্হপত্যং বা অনু দ্বিপাদো অর্থাৎ হে অগ্নি! আপনি আমাদের সমীপবর্তী হোন ইত্যাদি ঋক্ তিনটিতে দ্বিপদা শব্দে বিরাট ও গায়ত্রী লক্ষিত হয়েছে। উজ্জা বঃ পশ্যামুজ্জা অর্থাৎ আমাদের গৃহে আগত (বা পালিত) হে পশুবর্গ! ক্ষীর ইত্যাদি রসের নিমিত্ত এবং ধনপুষ্টির কারণে তোমাদের আমরা দেখছি, তোমরাও আমাদের সেইভাবে দেখ ইত্যাদি মন্ত্রে পশ্যত পদে লোট বিভক্তি প্রযোজ্য হওয়ায় প্রার্থনা প্রজ্ঞাপিত হয়েছে। তৎসবিতুৰ্ব্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি অর্থাৎ আমরা সবিতাদেবের সেই বরণীয় তেজের ধ্যান করি ইত্যাদি মন্ত্রে এবং সোমযাগের উপদেশকারী, সোমপানকারী, ব্ৰহ্মণস্পতি ইত্যাদি বিশেষণে ব্রহ্মতেজকে লক্ষ্য করা হয়েছে। (তৎসবিতুর্বরেণ্যমিত্যাহ প্রসূত্যৈ সোমানং স্বরণমিত্যাহ সোমপীথমেবাব রুন্ধে কৃণুহি ব্ৰহ্মণস্পত ইত্যাহ ব্ৰহ্মবৰ্চসমেবাব রুন্ধে। ইতি।।) কদাচন স্তরীরসীত্যাহ অর্থাৎ হে রাত্রি! আমাদের হিংসক হয়ো না ইত্যাদি মন্ত্রে অন্ধকারযুক্ত রাত্রিতে চোর, বৃশ্চিক ইত্যাদির উপদ্রজনিত কারণে হিংসক কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে। অগ্নির বিদ্বান উপস্থাতা (যিনি উপস্থান করেন) সেইরকম রাত্রিতে বাস করেন না (ন অধিবসতি), কিন্তু সুখকরী রাত্রিতে বাস করেন–এই অর্থ প্রজ্ঞাপিত হয়েছে। পরি ত্বাহগ্নে পুরং বয়ং অর্থাৎ হে সহস্র বলবান অগ্নি! আমরা প্রতিদিন আপনার সেই রূপকে ধারণ করি ইত্যাদি মন্ত্রে পরিধাত্মক, অর্থাৎ সর্বরকমে যা ধারণ করে,তা অগ্নির অস্কন্দনার্থ। পরি ত্বাহয়ে পুরং বয়মিত্যাহ পরিধিমেবৈতং পরি দত্যস্কন্দায় ইতি।)। হে গৃহপালক অগ্নি! গৃহপতি আপনার অনুগৃহীত হয়ে আমি শোভন গৃহপতি হবো ইত্যাদি মন্ত্রে গার্হপত্য অগ্নির উপস্থান সূচিত। (যথাযজুরেবৈতৎ)। শতং হিমাঃ অর্থাৎ হে অগ্নি! গৃহপতি আমার দ্বারা সম্পূজিত হয়ে হেমন্তসহ শতসংখ্যক সংবৎসরকাল আপনি গৃহপতি থাকুন ইত্যাদি মন্ত্রে হিম শব্দের দ্বারা হেমন্তসহ সংবৎসরকে বোঝাচ্ছে। পুত্রস্য নাম অমুস্মৈ ইত্যাদি মন্ত্রশব্দে অমুক অর্থে পুত্রের নামোল্লেখ বিহিত। তামাশিষমা শাসেহমুম্মৈ ইত্যাদি স্থলে অর্থাৎ আমি পুত্রের নাম গ্রহণ করছি, আপনি এই পুত্রসন্তানকে ব্রহ্মতেজঃ-যুক্ত করুন ইত্যাদি স্থলে অনুৎপন্ন (অর্থাৎ ভাবী) পুত্রের নিমিত্ত তন্তু শব্দ এবং উৎপন্ন (অর্থাৎ জাত) পুত্রের নিমিত্ত অদ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ॥৮

    [সায়ণাচার্য বলেন-পুর্বোক্তোপস্থানস্যাগ্নিহোত্রাঙ্গতা প্রদর্শতে। এই অনুবাকে পূর্বোক্ত অগ্নিহোত্রের অঙ্গ প্রদর্শিত হয়েছে।]

    .

    নবম অনুবাক

    মন্ত্র- অগ্নিহোত্রং জুহোতি যদেব কিং চ যজমানস্য স্বং তস্যৈব তৎ। রেতঃ সিঞ্চতি প্রজননে প্রজননং হি বা অগ্নিঃ।। অথৌষধীরগতা দহতি তাস্ততো ভূয়সী প্র জায়ন্তে। যৎ সায়ং জুহোতি রেত এব তৎ সিঞ্চতি বৈ প্রাতস্তনেন জনয়তি তৎ। রেতঃ সিক্তং ন ত্বাহবিকৃতং প্র জায়তে যাচ্ছো বৈ রেতসঃ সিক্তস্য ত্বষ্ট রূপাণি বিকরোতি তাবচ্ছো বৈ তৎ প্র জায়ত এষ বৈ দৈব্যস্তৃষ্টা যো যজতে বহুভিরূপ তিষ্ঠতে রেতস এব সিক্তস্য বহুশো রূপাণি বি কৰাতি। স বৈ জায়তে শ্বঃ খো ভূয়া ভবতি য এবং বিদ্বানগ্মিমুপতিষ্ঠতে। অহৰ্দোনামাসীদ্রাত্রিপুরাণাং তেহসুরা যদ্দেবানাং বিত্তং বেদ্যমাসীত্তেন। সহ রাত্রিং বিশন্তে দেবা হীনা অমন্যস্ত তেহপশ্যন্নাগ্নেয়ী রাত্রিরাপ্লেয়াঃ পশব ইমমেবাগ্নিং বাম স নঃ স্তুতঃ পশন পুনর্দাস্যতীতি তেহগ্নিমস্তুবৎস এভ্যঃ স্তুতে রাত্রিয়া অধ্যহরভি পশুন্নিরার্জত্তে দেবাঃ পশুন্বিত্ত্বা কামান অকুৰ্ব্বত য এবং বিদ্বানগ্নিমুপতিষ্ঠতে পশুমান ভবতি। আদিত্যো বা অস্মাল্লোকাদমুং লোকমৈৎসোহমুৎ লোকং গত্বা পুনরিমং লোকমভ্যধ্যায়ৎস হমং লোমাগত্য মৃত্যোরবিভেমৃত্যুসংযুত ইব হ্যয়ং লোকঃ সোহমন্যতেনমেবাগ্নিং স্তবানি স মা স্ততঃ সুবর্গং লোকং গময়িষ্যতীতি সোহগ্নিমস্তৌৎ স এনমস্তুতঃ সুবর্গং লোকমগময়দ্য এবং বিদ্বানগ্নি মুপতিষ্ঠতে সুবৰ্গমেব লোকমেতি সৰ্বমায়ুরেতি। অভি বা এষোহগ্মী আ নোহতি য এন্যবুপতিতে যথা খলু বৈ শ্রেয়ানভ্যারূঢ়ঃ কাময়তে তথা কয়রাতি। নক্তমুপ তিষ্ঠতে ন প্রাতঃ সং হি নং ব্ৰতানি সৃজ্যন্তে সহ শ্রেয়াংশ্চ পাপীয়াংশ্চহসাতে জ্যোতিৰ্বা অগ্নিস্তমো রাত্রি নক্তমুপতিতে জ্যোতিষৈব তমস্তরতি। উপস্থেয়োহল্পীনোপয়ো ইত্যাহুর্মনুষ্যায়ে ৈযোহহরহরাহৃত্যাথৈন যাচতি স ইম্বৈব তমুপাচ্ছত্যথ কো দেবানহরহর্যাচিষ্যতীতি তস্ময়োপন্থেয়ঃ। অথো খাহুরাশিষে বৈ কং যজমানো যজত ইত্যেষা খ বৈ আহিতাগ্নেরাশীৰ্ষদগ্নিমুপতিতে তস্মাদুপস্থেয়ঃ। প্রজাপতিঃ পশূনসৃজত তে সৃষ্টা অহোরাত্রে। প্রাবিশন্তান্দোভিরশ্ববিদ্যচ্ছন্দোভিরুপতিতে স্বমেব তদম্বিচ্ছতি। ন তত্র জাম্যস্তীত্যাহুর্যোহহরহরুপতিত ইতি। যো বা অগ্নিং প্রত্যঙঙুপতিতে প্রত্যেনমোষতি যঃ পরাঙবিম্ব প্রজয়া পশুভিরেতি কৰাতিৰ্য্যভূঙিবোপতিষ্ঠেত নৈনং প্রত্যেষতি ন বিপ্রজয়া পশুভিরেতি ॥৯॥

    মর্মার্থ- বাক্যান্তর বিহিতের নিমিত্ত দুগ্ধ, দধি, যবাগু ইত্যাদি দ্রব্য সহযোগে অগ্নিহোত্র নামক হোম করণীয়। যজনমানের দ্বারা দুগ্ধ প্রভৃতি যা কিছু দ্রব্য অগ্নিতে আহুতি দেওয়া হয়, তার কিছুই বিনষ্ট হয় না, বরং তা যজমানেরই থাকে। প্রজোৎপাদকে অর্থাৎ প্রজননের ক্ষেত্রে যেমন সিক্ত রেতঃ অবস্থান করে থাকে, তেমনই প্রজননরূপ এই অগ্নিতে আহুত দ্রব্য অবস্থিতি করে। যেমন ঘর্মকালে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে দাবাগ্নি কর্তৃক নিকটবর্তী ওষধিগুলি দগ্ধীভূত হলেও সেই দগ্ধীভূত ওষধিগুলি পুনরায় বৃষ্টিকালে উৎপন্ন হয়। সায়ংকালীন হোমের দ্বারা সেচন হয়ে থাকে, এবং প্রাতঃকালীন হোমের দ্বারা উৎপাদন হয়ে থাকে। লোকে (পৃথিবীতে) যোনিতে সিক্ত (সেচিত) রেতঃ বিশ্বকর্মা কর্তৃক যদি না বিকারলাভ (যদি ন বিক্রিয়েত) করে তাহলে উৎপত্তি হতে পারে না। সেই ত্বষ্টা (অর্থাৎ বিশ্বকর্মা) যেমন রূপ উদ্দেশ্য করে বিকার সাধিত করেন, তেমনই উৎপাদন হয়ে থাকে। এই স্থানেও দেবতা কর্তৃক অনুগৃহীত ত্বষ্টারূপ যজমান বিবিধ রূপ সাধিত করবার নিমিত্ত বহুভাবে যাগ সম্পাদন করে থাকেন। উপস্থাতা প্রজা উৎপাদন পূর্বক প্রতিদিন উত্তরোত্তর ধন ইত্যাদি বর্ধিত করেন। দিবা (অহঃ) দেবগণের এবং রাত্রি অসুরগণের অধিকারভুক্ত। অসুরবর্গ দেবগণের পশুরূপ ধনসমূহ অপহরণ করে রাত্রির অন্ধকারে কোনও স্থানে চলে গিয়েছিল। তারপর ভিন্ন মনে আমরা পশুহীন এমন চিন্তা করে দেবতাগণ একটি উপায় দেখলেন। রাত্রিকালে অগ্নির প্রকাশের আধিক্য থাকায় রাত্রি আগ্নেয়ী নামে কথিত এবং অগ্নি পশুগণের অধিপতি হওয়ায় পশুগণ আগ্নেয় নামে কথিত হয়। দেববর্গ স্থির করেছিলেন-তারা এই অগ্নির স্তব করবেন, তা হলে সেই অগ্নি তাদের দ্বারা স্তুত হয়ে পুনরায় পশুবৰ্গকে দান করবেন। এইরকম চিন্তা করেই তারা অগ্নির স্তব করলেন, এবং দেবগণের সেই স্তবের দ্বারা তুষ্ঠ হয়ে অগ্নি সেই গোপনে-রক্ষিত পশুগণকে বার করে দিলেন। সেই দেববর্গ পশুগুলি পুনপ্রাপ্ত হয়ে কামনানুরূপ ভোগ করেছিলেন। যিনি এইরকম জ্ঞাত হয়ে অগ্নির উপাসনা করেন, তিনি পশু লাভ করে থাকেন। আদিত্য এই (পৃথিবী) লোক হতে ঐ (সুর) লোকে গমন করেছিলেন। পুনরায় ঐ লোক হতে এই লোকে প্রত্যাগত হয়ে মৃত্যুর জন ভীতিপ্রাপ্ত হলেন। তিনি মানস করলেন–যদি আমি অগ্নির স্তব করি, তাহলে আমার স্তুতিতে, তুষ্ট হয়ে অগ্নি আমাকে এই মৃত্যুসংযুত লোক হতে স্বর্গলোকে নিয়ে যাবেন। এই কথা চিন্তা করে তিনি অগ্নির স্তব করেছিলেন, এবং সেই অগ্নি আদিত্যের দ্বারা স্তুত হয়ে তাঁকে স্বর্গলোকে নিয়ে গিয়েছিলেন। যিনি এইরকম জ্ঞাত হয়ে বিদ্বান অগ্নির উপাসনা করেন, তিনি স্বর্গলোকে গমন করেন এবং পূর্ণ আয়ু লাভ করেন। (….বিদ্বানগ্নিমুপতিতে সুবৰ্গমেব লোকমেতি সর্বমায়ুরেতি)। আহবনীয় ও গার্হপত্য নামে অভিহিত এই উভয় অগ্নির যিনি উপাসনা করেন, তার (ঐ উভয় অগ্নি) তাঁর বশীভূত হয়ে থাকেন। এই (পৃথিবী) লোকে পূর্বের কোনও অধম ব্যক্তি যেমন কামনা করেন যে, তিনি বিদ্যা ইত্যাদির দ্বারা ভবিষ্যতে উত্তম পদ লাভ করবেন, তেমনই এই যজমান অগ্নির উপস্থানের দ্বারা শ্রেষ্ঠ পদ লাভ করেন। কখন অগ্নির উপস্থান প্রশস্ত, সেই বিষয়ে উল্লেখ করা হচ্ছে। কেউ কেউ বলেন–প্রাতঃকালে অগ্নির উপস্থান বিহিত নয় (কচিপ্রাতরপ্পির্নোপস্থেয়)। অন্যেরা বলেন–কোন সময়েই অগ্নির উপস্থান উচিত নয় (ন কদাচিদপুপস্থেয়)। সিদ্ধান্তবাদীগণের মতে–সকল সময়েই অগ্নির উপস্থান চলতে পারে (সর্বদাইপস্থেয়)। সেখানে প্রথম পূর্বপক্ষ দেখাচ্ছেন–রাত্রিকালে অগ্নির উপস্থান করণীয়, প্রাতঃকালে নয়। রাত্রিকালে অনুষ্ঠিত কমগুলির শুভ বা অশুভ পার্থক্য বোঝা যায় না। যথাশাস্ত্রানুসারে অনুষ্ঠিত ব্রতবিশেষ মঙ্গলপ্রদ, তবে বিপরীত হলে পাপীয়ান। রাত্রিকালে অগ্নির উপস্থান হলে, তাহলে অগ্নির জ্যোতিতে রাত্রিপ্রযুক্ত তমোদোষ অর্থাৎ অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায় (তমোদোষ তরতি); সেই কারণে রাত্রিযোগেই অগ্নির উপস্থান কর্তব্য। দিবাভাগে অন্ধকারের অভাবের জন্য আলোকের প্রয়োজন হয় না; সুতরাং এইকালে (অর্থাৎ দিবায়) অগ্নির উপস্থান করা অনুচিত–এটাই প্রথম পূর্বপক্ষের অভিমত। দ্বিতীয় পূর্বপক্ষের মতানুসারে-অগ্নি কখনই উপস্থানযোগ্য নন। এই লোকে (পৃথিবীতে) দেখা যায়–কোনও দরিদ্র ব্যক্তি যৎকিঞ্চিৎ জম্বীর ফল ইত্যাদি সংগৃহীত করে তা নিয়ে রাজার নিকটে গমন করে যদি প্রতিদিন ক্ষেত্র (জমি) ধন ইত্যাদি যাচ্ঞা করে, তবে সেই যাচক রাজাকে পীড়াই দিয়ে থাকে। তাহলে কি ভাবে মহাপ্রভাবশালী প্রতিদিন প্রার্থনা চলতে পারে? যাচ্ঞারূপ এই উপস্থান, যথা–হে অগ্নি, আমাকে আয়ু দান করুন ইত্যাদি মন্ত্রে তা প্রতীত হয়। সেই কারণেই কদাচিৎও অগ্নির উপস্থান করণীয় নয়।–এটি দ্বিতীয় পূর্বপক্ষের অভিমত। সিদ্ধান্তবাদীর পক্ষ বলছেন–অভিজ্ঞ লোক বলে থাকেন, সকল আশা পূর্তির জন্য যজমান প্রজাপতিসদৃশ সর্বদেবাত্মক অগ্নির যজন করবেন। এই জগতেও দেখা যায় যে, রাজার চিত্তবৃত্তি বিষয়ে বিজ্ঞাত না হয়ে সদা যদি দেহি দেহি বলা যায়, তাতে রাজা অপরাধ গ্রহণ করেন; কিন্তু যথাযথ সময় বিজ্ঞাত হয়ে প্রশংসা ইত্যাদি বিনোদনের দ্বারা রাজার পরিতোষ উৎপন্ন করলে রাজা উৎসাহভরে যাচিতের যাচ্ঞার অধিক দান করেন। সেইরকম আহিতাগ্নির উপস্থানই প্রার্থনা। তা হলো বহুবিধ প্রশংসাপূর্বক, এবং সেইজন্য তা অগ্নির অত্যন্ত পরিতোষের কারণ। সেইজন্য সায়ংকালে ও প্রাতঃকালে বহ্নির উপস্থান কর্তব্য। (সা চ বহুবিধপ্রশংসাপুর্বকত্বান্নোপরোধায় ভবতি কিং ত্বত্যন্তপরিতোষয়ৈব)। প্রজাপতি পশুদের সৃজন করেছিলেন। অহ (দিবা) ও রাত্রির দেবতা দুজন সেই পশুগণকে লুক্কায়িত করে রেখেছিলেন, কেবল ছন্দোযুক্ত মন্ত্রের দ্বারাই অন্বেষণ করে সেগুলি প্রাপ্ত হয়েছিল। সেইজন্য ছন্দের দ্বারা অগ্নির উপস্থান বিনষ্ট বস্তু লাভের জন্য হয়ে থাকে। যিনি অগ্নির উপস্থান-কর্তা, তার তার অভিলাষানুয়ী প্রার্থনা থাকবে এবং তার মধ্যে স্তুতিও থাকে। সুতরাং উপস্থান সম্পর্কে কারও কোন আলস্য করা উচিত নয়। প্রাতিমুখ্যে অগ্নির উপস্থান করলে সেই অগ্নি যজমানের প্রতিকুলে দগ্ধ করে থাকেন। যে যজমান পরাঘুখ হয়ে অগ্নির উপস্থান করেন, সেই যজমান প্রজা ও পশু হতে বিযুক্ত হন। সুতরাং কিছুটা তির্যক ভাবে অগ্নির উপস্থান করণীয়। (কবাতিভিবেষত্তিরীন ইব) ॥৯॥

    [সায়ণাচার্য বলেন–দশমানুবাকস্য পূর্বভাগে প্রবৎস্যতো যজমানস্যাগ্নপস্থানমন্ত্ৰা উত্তরভাগে কেচিদ্দর্শ পূর্ণমাসাঙ্গমাশ্চাভিধীয়ন্তে। অর্থাৎ–এই অনুবাকের প্রথমভাগে যজমানের অগ্নির উপস্থাপন মন্ত্র এবং পরবর্তী ভাগে দর্শপূর্ণমাসের অঙ্গমন্ত্রগুলি কথিত হয়েছে।]

    .

    দশম অনুবাক

    মন্ত্র- মম নাম প্রথমং জাতবেদঃ পিতা মাতা চ দধতুর্ষদগ্রে। তত্ত্বং বিভূহি পুনরা মদৈতোস্তবাহং নাম বিভরাণ্যয়ে। মম নাম তব চ জাতবেদো বাসসী ইব বিবসানৌ যে চরাবঃ। আয়ুষে ত্বং জীবসে বয়ং যথাযথং বি পরি দধাবহৈ পুনস্তে। নমোহগয়েহপ্রতিবিদ্ধায় নমোহনাধৃষ্টায় নমঃ সম্রাজে। অঢ়োইগ্নিবৃহদ্বয়া বিশ্বজিৎসহত্যঃ শ্রেষ্ঠো গন্ধৰ্ব্বঃ। ত্বংপিতাররা অগ্নে দেবাস্তুামাহুতয়স্কৃদ্ধিচনাঃ। সং মামায়ুষা সং গৌপত্যেন সুহিতে মা ধাঃ। অয়মগ্নিঃ শ্রেষ্ঠতমোবয়ং ভগবত্তমোহয়ং সহস্ৰসাতমঃ। অম্মা অস্তু সুবীম্।। মনো জ্যোতিৰ্জ্জুষতামাজ্যং বিচ্ছিন্নং যজ্ঞং সমিমং দধাতু। যা ইষ্টা উষসসা নিশ্চ তোঃ সং দধামি হবি ঘৃতেন। পয়স্বতীরোষধয়ঃ পয়স্বদ্বীরুধাং পয়ঃ।। অপাং পয়সো যৎপয়স্তেন মামিন্দ্র সং সৃজ।। অগ্নে ব্রতপতে ব্রতং চরিষ্যামি তুচ্ছকেয়ং তম্মে রাধ্যতাম। অগ্নিং হোতারমিহ তং হুবে দেবান্যজ্ঞিয়ানিহ যা হবামহে। আ যন্তু দেবাঃ সুমনস্যমানা বিন্তু দেবা হবিষো মে অস্য। কত্ত্বা যুক্তি স বা যুন। যানি ঘৰ্ম্মে কপালাপচিন্বস্তি বেধসঃ। পৃষ্ণস্তান্যপি ব্ৰত ইন্দ্ৰবায়ু বি মুঞ্চতা। অভিমো ঘৰ্মো জীরদামুর্যত আত্তশুদগপুনঃ। ইগ্নে বেদিঃ পরিধয়শ্চ সৰ্ব্বে যজ্ঞস্যাইয়ুবনু সং চরন্তি। ত্রয়স্ত্রিংশত্তন্তবো যে বিতত্নিরে য ইমং যজ্ঞং স্বধয়া দদন্তে তেষাং ছিন্ন প্রত্যেতখামি স্বাহা ঘৰ্ম্মো দেবাং অপ্যেতু ॥১০৷৷

    মর্মার্থ- হে জাতবেদা অগ্নি! আমার জন্মকালে মাতা-পিতা আমায় যে দেবদত্ত নাম প্রদান করেছিলেন, আমার বিদেশ হতে পুনরাগমন পর্যন্ত আপনি আমার সেই নাম গ্রহণ করুন এবং আমি আপনার নাম ধারণ করব। হে জাবেদা অগ্নি! আমার দেবদত্ত ইত্যাদি নাম গ্রহণ-পূর্বক এই স্থানে আমার কর্ম সাধন করলে কোনরকম বিপর্যয় ঘটবে না; আমিও আপনার বহ্নি ইত্যাদি নাম ধারণ করে বিদেশে গমন করলে আমার কোনও কর্ম অকরনীয় থাকবে না। পুনরায় প্রত্যাগত হয়ে আমি আমার (দেবদত্ত প্রভৃতি) পূর্ব নাম গ্রহণ করব এবং আপনি আপনার (বহ্নি প্রভৃতি) পূর্ব নাম গ্রহণ করবেন। এইভাবে পরিবর্তন পূর্বক বসন পরিধান করার মতো আমরা দুজনে দুজনের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় আপন আপন নাম পরিগ্রহ করব। এর ফলে আয়ু বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, ধন ইত্যাদি সম্পত্তির বর্ধন ঘটে এবং প্রশস্ত জীবন-লাভ ঘটে। কেউ যাঁকে তাড়না করতে সক্ষম নয়, কেউ যাঁকে তিরস্কার করতে অপারগ, শত্রুগণের যিনি অশক্য বা অসহনীয়, যার প্রভূত অন্ন আছে, যিনি বিশ্বজিৎ অর্থাৎ সকলকে জয় করেন, যিনি স্বয়ং সহিষ্ণু, যিনি গন্ধর্ববৎ সঙ্গীত ইত্যাদি কলাবিদ্যায় অতি কুশল, আমি সেই অগ্নিকে বারংবার নমস্কার করি। হে অগ্নি! আপনিই দেবগণের পিতা ও পালক, যেমন দেবগণ আপনার পিতা; আপনার দ্বারা দেবগণ আহুতি প্রাপ্ত হন; আপনিই দেবগণের গুণ প্রখ্যাপন করে থাকেন। হে অগ্নি! আমাকে আপনি দীর্ঘ আয়ু সংযোজিত করে দিন; আপনি আমাকে গো-বর্গের স্বামিত্বের (অর্থাৎ অধিপত্যের) সাথে সংযোজিত করে দিন; আপনি আমাকে সুহিতের অর্থাৎ সুমঙ্গলের সাথে সংযেজিত করে দিন। এই অগ্নি প্রশস্যের (অর্থাৎ মেযুক্তের বা স্তুতের বা শ্ৰেষ্ঠর) মধ্যে শ্রেষ্ঠতম; ভগবৎ-গুণশালীবর্গের মধ্যে অতি ভগবত্তম; ইনিই সহস্ৰসংখ্যক ধনের অতিশয় দাতা। সেই হেন অগ্নির প্রসাদে আমার যজমান শোভন সামর্থ্য হোক। মাননীয় অগ্নির জ্যোতিঃ হবিঃর দ্বারা সেবিত হোন, বিচ্ছিন্ন যজ্ঞ সংযুক্ত করুন। প্রাতঃকালে ও সন্ধ্যাকালে অন্য কর্তৃক প্রদত্ত আহুতিসকল (উষসঃ প্রাতঃকালোপলক্ষিতা আহুতয়ঃ, যাশ্চা নিষুচোহস্তময়কালোপলক্ষিতা আহুতয় ইষ্টা) এই ঘৃত ও চরুর দ্বারা অবিচ্ছিন্ন করছি। হে ইন্দ্র! ওষধিসমূহের যা সারবত্তা (শ্রেষ্ঠাংশ), লতাসকলের যা সারবত্তা, জল ও গবাদির দুগ্ধের যা সারবত্তা, সেগুলির সাথে আমাকে সংযোজিত কর। হে ব্রতপতি অগ্নি! আমি ব্ৰতাচরণ করব, তার জন্য যেন আমি সমর্থ হই; আমার সেই ব্রত সমৃদ্ধ হোক। আমি দেবগণের আহ্বানকর্তা অগ্নিকে এই যজ্ঞে আহ্বান জানাচ্ছি। আমি যে দেবতাগণের উদ্দেশ্যে যাগানুষ্ঠান করব, তাদের আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বানপ্রাপ্ত হয়ে সেই দেববর্গ সুমনস্যমানা হয়ে অর্থাৎ শোভন মন সহ আগমন করুন ও আমাদের প্রদত্ত এই হবিঃ ভক্ষণ করুন। হে যজ্ঞ! প্রজাপতি সর্বত্র আপনাকে যোগ্য করে থাকেন, সেই রকমেই আমার এই যজ্ঞকর্মেও তিনিই আপনাকে যোগ্যতা দান করুন। ব্রহ্মসম পোষক ঋত্বিকবর্গ যে সমস্ত কপাল বহ্নিতে স্থাপন করেছেন। সেই সমস্তকেই ইন্দ্র ও বায়ু ব্ৰত সমাপ্তে যুক্ত করে দিন। (বেধসসা ব্ৰহ্মসমাঃ পূষ্ণঃ পোযকা ঋত্বিজো যানি কপালানি বাবুপস্থাপয়ন্তি তানি সর্বাণ্যপি ব্রতে সমাপ্তে সতীন্দ্ৰবায়ু বিমুষ্ণতা)। ঘর্মে দীপ্ত অর্থাৎ সন্তপ্ত এই কপালবিশেষ স্বয়ং ভিন্ন ভাবে প্রতীত হলেও তা মন্ত্রের সামর্থ্যে অভিন্ন আকারশালী হয়। মৃত্তিকা হতে উৎপন্ন এই কপাল পুনরায় মৃত্তিকাতে বিমিশ্রিত হয়ে গেছে, অর্থাৎ তার কার্যরূপত্ব আর নেই, কারণরূপে মিলিত হয়ে গেছে। সেইরকম ইন্ধন কাষ্ঠ, বেদি ও পরিধি সবই যজ্ঞের আয়ুরূপ, সেগুলি যজ্ঞের পশ্চাতে বিচরণ করছে। (ইপ্লে বেদিঃ পরিধয়শ্চ সর্বে যজ্ঞস্যাইয়ুরনুসঞ্চরতি)। যেমন তন্তুর দ্বারা পট নিম্পাদিত হয়, সেইরকমই তন্তুস্থানীয় যজ্ঞতনু নামক ত্রয়স্তিংশৎ (তেত্রিশটি) মন্ত্র যজ্ঞের বিস্তার করেছে। (তন্মপ্রতিপাদ্যা যজ্ঞতনবো ইহ তন্তুস্তানীয়াঃ) যে সকল ঋত্বিক হবিঃর দ্বারা এই যজ্ঞের বিস্তার সাধিত করছেন, তাদের যে সমস্ত বিচ্ছিন্নতা ঘটেছে, তা আমি এই হবিঃর দ্বারা পূর্ণ করে দিচ্ছি। এই আহুতি সুষ্ঠুভাবে প্রদান করা হোক। ঘমো দীপ্ত যজ্ঞাঙ্গ বিশেষ দেবগণকে প্রাপ্ত হোক। (অতঃ স্বাহা সুষ্ঠু প্রতিসংহিতো ঘৰ্মো দীপ্তো যজ্ঞাঙ্গাবিশেষো দেবানপ্যেতু প্রাদোতু) ॥১০।

    [সায়ণাচার্য বলেন–অথান্তিম একাদশানুবাকে কাম্যা যাজ্যা (পুরোনুবাক্যা) উচন্তে। অর্থাৎ–এই শেষ একাদশ) অনুবাকে কাম্যা যাজ্যা (পুরোনুবাক্যসমূহ) কথিত হয়েছে ]

    .

    একাদশ অনুবাক

    মন্ত্র- বৈশ্বানররা না উত্যাহঐ যাতু পরাবতঃ। অগ্নিরুথেন বাহসা। ঋতাবানং বৈশ্বানরমৃতস্য জ্যোতিষম্পতি। অজস্রং ঘর্মমীমহে। বৈশ্বানরস দংসনাভ্যো বৃহদারিণাদেকঃ স্বপস্যায় কবিঃ। উভা পিতরা মহয়ন্নজায়গ্নিদাবাপৃথিবী ভুরিরেসা। পৃষ্টো দিবি পৃষ্টো অগ্নিঃ পৃথিব্যাং পৃষ্টো বিশ্ব ওষধীরা বিবেশ। বৈশ্বানরঃ সহসা পৃক্টো অগ্নিঃ স নো দিবা সঃ রিষঃ পাতু নক্ত। জাতো যদগ্নে ভুবনা ব্যখ্যাঃ পশুং ন গোপা ইৰ্য্যঃ পরিজ। বৈশ্বানর ব্ৰহ্মণে বিন্দ গাতুং যুয়ং পাত স্বস্তিভিঃ সদ্য নঃ। ত্বমগ্নে শোচি শশাশুচান আ রোদসী অপৃণা জায়মানঃ। ত্বং দেবাং অভিশস্তেরমুগ্ধো বৈশ্বানর জাবেদা মহিত্বা। অম্মাকমগ্নে মঘবসু ধারয়ানামি ক্ষত্রমজরং সুবীৰ্য্য। বয়ং জয়েম শতিনং সহণিং বৈশ্বানর বাজমগ্নে তবোতিভিঃ।। বৈশ্বানরস্য সুমতৌ স্যাম রাজা হিকং ভুবনানামভিশ্রীঃ। ইতো জাতো বিশ্বমিদং বি চষ্টে বৈশ্বানররা যততে সুৰ্য্যেণ। অব তে হেড়ো বরুণ নমোভিরব যজ্ঞেভিরীমহে হবিভিঃ। ক্ষয়ম্নস্মভ্যমসুর প্রচেতো রাজনোংসি শিশ্ৰথঃ কৃতানি। উদুত্তমং বরুণ পাশমম্মদবাধমং বি মধ্যমং শ্ৰথায়। অথা বয়মাদিত্য ব্রতে বানাগসো অদিতয়ে স্যাম। দধিক্রাবণে অকারিষং জিষ্ণোরশ্বস্য বাজিনঃ। সুরভি নো মুখা করপ্র ণ আয়ুংষি তারিষৎ। আ দধিক্রাঃ শবসা পঞ্চ কৃষ্টীঃ সূৰ্য্য ইব জ্যোতিষাহপস্ততান। সহস্ৰসাঃ শতসা বাজ্যৰ্ব্বা পৃণ মধ্ব সমিমা বচাংসি। অগ্নিমূর্ধা ভুবঃ।। মরুতো যদ্ধ বো দিবঃ সুন্নয়ন্তো হবামহে। আ তু ন উপ গন্তন। যা বঃ শৰ্ম্ম শশমানায় সন্তি ত্রিধাতুনি দাশুষে যচ্ছতাধি। অস্মভ্যং তানি মরুতে বি যন্ত রয়িং নো বত্ত বৃষণঃ সুবীরম। অদিতির্ন উরুষ্যত্বদিতিঃ শৰ্ম যচ্ছতু। অদিতিঃ পাত্বংহসঃ। মহীমূ ষু মাতরং সুব্রতানামৃতস্য পত্নীমবসে হুবেম। তুবিক্ষত্ৰামজয়ন্তীমুরূচীং সুশৰ্ম্মাণমদিতিং সুপ্রণীতি। সুত্রামাণং পৃথিবীং দ্যামনেহসং সুশৰ্মাণমদিতিং সুপ্রণীতি। দৈবীং নাবং স্বরিত্ৰামনাগসমস্রবন্তীমা রুহেমা স্বস্তয়ে। ইমাং সু নাবমাহরুহং শতারিত্ৰাং শতস্ক্যাম্। অচ্ছিদ্রাং পারয়িষ্ণুম্ ॥১১৷৷

     মর্মার্থ- বিশ্বের সকল মানবের উপকারী বৈশ্বানর অগ্নি রক্ষার নিমিত্ত দূর দেশ হতেও অভীষ্ট বহনকারী স্তোত্রের দ্বারা আমাদের নিকটে আগমন করুন। সত্যবন্ত, যজ্ঞ, জ্যোতি ও অভীষ্ট ফলপ্রকাশক, নিরন্তর দীপ্যমান অগ্নির আমরা প্রার্থনা করছি। বুদ্ধিমান যজমান বৈশ্বানর-যাগের শোভনকর্মের মহাফল লাভ করেন। এই অগ্নি স্থাবর জঙ্গমাত্মক বহু বিকার যুক্ত স্বকীয় মাতা-পিতা সদৃশ ভূলোক ও দুলোক প্রকাশপূর্বক আপনিই জাত হয়েছেন। এই অগ্নি দুলোকে আদিত্যরূপে অবস্থিত, পৃথিবীতে দাহপাক-প্রকাশকারী হয়ে অবস্থিত, এবং ওষধিতে ফল-পাককারীরূপে অবস্থান করছেন। (অয়মগ্নিৰ্দিবি সৃষ্ট আদিত্যরূপেণাবস্থিতঃ পৃথিব্যাং দাহপাকপ্রকাশকারি-ত্বেনাবস্থিস্তথা ফলপাককারী সম্পৃষ্টঃ সংবদ্ধঃ সর্বা অপ্যোষধীরাবিবেশ)। এই বৈশ্বানর অগ্নি সহসা বলের সাথে সংবদ্ধ হয়ে দিবারাত্র আমাদের হিংসক পাপ হতে রক্ষা করুন। গোপালকগণ যেমন অনায়াসে পশুদের দেখে, সেইরকম হে অগ্নি! আপনি ভুবনে জাতমাত্রেই সকল প্রাণীগণকে দেখে থাকেন। আপনি অন্নপ্রাপক ও সর্বত্রগতিশীল; হে বৈশ্বানর অগ্নি! আমাদের অনুষ্ঠিত এই যজ্ঞে হবিঃ গ্রহণের জন্য আগত হোন। সর্বদা স্বস্তি ও মঙ্গলের সাথে আমাদের রক্ষা করুন। হে অগ্নি! জামাত্রই অত্যন্ত দীপ্যমান আপনি, আপনার দীপ্তির দ্বারা এই রোদসী তথা দ্যাবাপৃথিবীকে পূর্ণ করে দিয়েছেন। হে জাবেদা বৈশ্বানর! (হে জাতবেদা উৎপন্নজগদ্বেদিদ্বৈশ্বর)! আপনার মহিমার দ্বারা দেববর্গের নিকটে ঋত্বিকদের পাপ হতে বিমোচিত করুন। হে অগ্নি! আমাদের পালক পুরুষদের (অথবা পুত্রগণকে) ইন্দ্রসদৃশ ধনবান করুন, তারপর তাদের বল, অনাম্যমনশীল জরারহিত সুবীর্য (সুবিমভগ্নসামর্থ্য) স্থাপন করুন। হে বৈশ্বানর অগ্নি! আপনার পালনশক্তির দ্বারা আমরা শতসহস্রসংখ্যোপেত (অর্থাৎ প্রচুর) অন্ন প্রাপ্ত হবে। আমরা বৈশ্বানবের অনুগ্রহবুদ্ধিতে অবস্থান করব। (বয়ং বৈশ্বানরস্য সুমতাবনুগ্রহবদ্ধৌ স্যাম তিষ্ঠেম)। এই অভিপ্রাপ্ত-শ্রী (বা ঐশ্বর্যপ্রাপ্ত) বৈশ্বানর সর্ব ভুবনের রাজা (বা প্রকাশক)। এই কারণে জামাত্র সকল ভুবন দর্শন করেন। এই বৈশ্বানর সূর্যরূপে দিবার প্রবর্তন করেন। হে বরুণ! আমরা নমস্কারের দ্বারা আপনার ক্রোধ প্রশমিত করব। যজ্ঞ, হবিঃ ও পুরোডাশ ইত্যাদির দ্বারা আপনার ক্রোধ উপশমিত করব। হে অসুর বা শত্রুদের নিরসনক্ষম, হে প্রকৃষ্টচিত্ত, দীপ্যমান বরুণ! আমাদের অনুগ্রহের জন্য এই স্থানে নিবসিত হয়ে আমাদের কৃত পাপ শিথিল করে দিন। হে বরুণ! আমাদের উত্তমাঙ্গে (মস্তকে) স্থাপিত আপনার পাশকে আকর্ষণপূর্বক বিনাশ করুন, অধমাঙ্গে (পাদপ্রদেশে) স্থাপিত পাশ আকর্ষণ করে বিনাশ করুন, মধ্যপ্রদেশে (দেহের মধ্য অংশে) স্থাপিত পাশ বিচ্ছিন্ন করুন। এইভাবে তিনটি পাশ বিনষ্ট করে, হে আদিত্য সূর্যসদৃশ বরুণ! আমরা পাপরহিত হয়ে আপনার স্বকীয় কর্মে অখণ্ডিতভাবে যোগ্য হবো। হে অগ্নি! জয়শীল, ব্যাপক ও অন্নযুক্ত আপনার কর্ম আমরা সম্পাদিত করেছি। আমাদের মুখ কপুর ইত্যাদি দ্রব্যসমৃদ্ধি প্রদান পূর্বক সুগন্ধোপেত (সুরভিত) করুন, আমাদের আয়ু প্রবর্ধিত করুন। এই অগ্নি নিষাদ সহ চতুর্বর্ণের মানুষ্যবর্গকে অন্ন দান করে বিস্তার লাভ করুন। সেই অগ্নি সূর্যের ন্যায় প্রভূত রশ্মির দ্বারা বিশ্বব্যাপী বিস্তারিত হয়েছে। এই অগ্নি অন্নের দ্বারা মনুষ্যগণকে সুখী করুন। এই অগ্নি প্রজাবর্গের কর্মসমূহকে বিস্তৃত করছে এবং ভক্তবর্গকে শত সহস্ৰসংখ্যক ধন দান করছে। অন্নযুক্ত ও কর্মভূমিতে গমনবান এই দেব আমাদের এই স্তুতিরূপ মধুর বাক্য গ্রহণ করুন। এই অগ্নি আদিত্যরূপে দুলোকের মস্তকের ন্যায় বিরাজমান। ইনি দাহ ইত্যাদির দ্বারা পৃথিবীর পালনকর্তা এবং জঠরাগ্নিরূপে স্থাবর ও জঙ্গমের আনন্দপ্রদানকারী। হে অগ্নি! মরুৎ-গণের নিযুতনামধারী অশ্বের সাথে সংযুক্ত হয়ে আপনি যজ্ঞ ও জলের প্রাপক হোন এবং দ্যুলোকে যজ্ঞকে স্থাপিত করুন। হে অগ্নি! আপনার জিহ্বা হবিঃর বাহক হোক। হে মরুত্বর্গ! যে কারণে আমরা সুখ ইচ্ছা করে দুলোক হতে আপনাদের আহ্বান করছি, সেই কারণে আপনারা আহুত হয়ে আমাদের প্রাপ্ত হোন। হে মরুত্বর্গ! ভক্তমান বা ভক্তদের দান করার নিমিত্ত আপনাদের যে তিন লোকবৰ্তী সুখপ্রদ বস্তু বিদ্যমান, হবির্দানকারী যজমানের নিমিত্ত যে অধিক সুখরাশি আপনারা প্রদান করে থাকেন, সে সকলই আমাদের প্রদান করুন। অভিমত ফলের বর্ষণকারী আপনারা আমাদের ধন ও সুবীর বা শোভন পুত্র দান। অদিতি দেবতা শত্রুদের নিকট হতে আমাদের রক্ষা করুন, আমাদের সুখ প্রদান করুন ও পাপ হতে আমাদের নিবারণ করুন। আমাদের সবরকমের রক্ষার নিমিত্ত সেই অদিতিদেবীকে আমরা আহ্বান করি; তিনি মহনীয়া, শোভনকর্মা পুরুষদের মাতৃবৎ মঙ্গলকারিণী, ঋতস্য পত্নীং অর্থাৎ সত্যের পালয়িত্রী, বহুজপালিতা অর্থাৎ বহুধন সংযুক্তা, জরারহিতা, বিস্তীর্ণ গতিময়ী, সমীচীন সুখখাপেতাও সুখসমৃদ্ধ কর্মের প্রণেত্রী বা সুখপ্রাপিকা। মঙ্গল লাভের উদ্দেশ্যে আমি সেই অদিতির আশ্রয় গ্রহণ করছি। তিনি সুরক্ষিকা, পৃথিবীতে বিস্তীর্ণা,দ্যোমানা, চিরকালস্থায়িনী, দৈবী নৌকাসদৃশা (দৈবীং নাবম), শত্রুবর্গের নিকট হতে পালয়িত্রী, পাপরহিতা, এবং ছিদ্ররহিতা (অনাগসং পাপরহিতাম। অবন্তীং ছিদ্ররহিতা)। নৌ-সদৃশী এই ভূমিকে আমরা প্রাপ্ত হয়েছি, যাতে শতসংখ্যক অরিত্র, শতসংখ্যক তরণদণ্ড (শতসংখ্যাকা স্ক্যসদৃশান্তরণদণ্ডা), যা ছিদ্ররহিত (প্ৰবেশচ্ছিদ্ররহিতা), এবং পারয়িষ্ণু অর্থাৎ পার করতে (বা অভীষ্ট ফলপ্রদানে) সমর্থ (পারয়িষ্ণুমভীষ্টফলস্য পারং নেতুং সমর্থা) ॥১১।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)
    Next Article অন্তিম অভিযান – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    Related Articles

    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    সামবেদ-সংহিতা (বঙ্গানুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    দুর্গাদাস লাহিড়ী

    শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }