Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কেবলই ছায়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প131 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কেবলই ছায়া – ৬

    ছয়

    ইস্কুলে আমার এক প্রাণের বন্ধু ছিল। অরূপ তার নাম। এখন কোথায় আছে, বেঁচে আছে কি না, আমার জানা নেই। লেখাপড়ায় খুব ভালো ছিল। দেখতেও খুব সুন্দর ছিল। মেয়ে হলে বলা যেত, গুণে সরস্বতী, রূপে লক্ষ্মী। বছর দশেক আগে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল পুনায়। আমার গানের অনুষ্ঠান ছিল। শেষ রাতে গান ছাড়ার পর দর্শকদের আসন থেকে উঠে এসে সে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। তার দু—চোখ বেয়ে জল পড়ছে। দরবারি কানাড়া রাগটা আমি ভালোই গাই। বিচ্ছেদের রাগ। আমি তো বিচ্ছিন্নই। সমাজ থেকে, সংসার থেকে, প্রতিষ্ঠান থেকে, জীবন থেকে। বাওরা না হলে কানাড়া হয় না। আমার গুরুজি তাই বলতেন।

    তখনই জেনেছিলুম, অরূপ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পুনায় এসেছিল। আছেও দীর্ঘদিন। ডাক্তারের সন্দেহ লিভার ক্যানসার। বাঁচবে না বেশিদিন। দশ বছর হয়ে গেল। অরূপ মনে হয় নেই। আমি আছি। আমি এখনও বসে আছি। অনেকের স্মৃতি নিয়ে। অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে। আমার মহীদা পাহাড় ভীষণ ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন ঝরনা, গাছপালা পশু পাখি। নীল আকাশ। আর মানুষ। যে মানুষ যত বিচিত্র, পাগলাটে, সে ততই মহীদার ভালোবাসার পাত্র হয়ে উঠত। আজ আমি যেখানে আছি, সেখানকার আকাশের গায়ে পাহাড়ের নীল রেখা। বিশাল বিশাল গাছ। এক একটা গাছ এত পুরনো যেন এক একটি ইতিহাস। ঝরনা আছে কিছু দূরে। পাহাড়ি নদী বয়ে যায় চুনাপাথরের ওপর দিয়ে কুলকুলু রবে। এখানে বৃষ্টিও তেমন হয় না। আকাশের রঙ স্বচ্ছ নীল। মা আমার বেশ সুন্দর জায়গাতেই আশ্রম বানিয়েছিলেন। মায়ের সাধনার জায়গা হয়েছে আমার বার্ধক্যের বারাণসী। ভালো ভাস্করকে দিয়ে মায়ের একটি মর্মর মূর্তি তৈরি করিয়ে স্থাপনা করেছি। শিষ্য—শিষ্যারাই সব দেখাশোনা করে। আমি পড়ে থাকি একপাশে আমার নিজের খেয়ালে। মহীদা থাকলে এখানে এসে আনন্দ পেতেন। কলকাতা মহীদার একটা মূর্তি স্থাপন করছে না কেন?

    বয়েসের এই দোষ। এক কথা বলতে আর এক কথায় চলে যাই।

    অরূপদের বাড়িটা বড়ো বিচিত্র ছিল। অরূপের বাবা ছিলেন ম্যাথেমেটিসিয়ান। আর অরূপের ঠাকুরদা ছিলেন জীববিজ্ঞানী। কোন এক স্টেটের চিড়িয়াখানার ডিরেক্টার ছিলেন। শেষের দিকে তাঁর মাথাটা মনে হয় একটু গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক ছিল না। যেমন এখন আমার হয়েছে। কে যেন আমাকে ওই পাহাড়ি নদীর দিকে ডেকে ডেকে নিয়ে যায়। ঘুটিংসের ওপর দিয়ে নদী বয়ে চলেছে ছিরছির করে। চারপাশ সাদা। অন্ধকার রাতেও চাপা আলোর খেলা। মৃত্যু যেন গোল গোল পাথর হয়ে গড়াচ্ছে। মৃত্যু যেন হাসছে। এইখানেই রাধাকে সৎকার করা হয়েছিল। এখানে এলেই মনে হয়, যাদের নিয়ে জীবন শুরু করেছিলুম, তাঁরা যেন সবাই এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাতের অন্ধকারে। মা বসে আছেন একপাশে পূজার আসনে। পাথরের ওপর একটা পা তুলে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মহীদা। মাথায় রাজমুকুট। রাধা জলে পায়ের পাতা ডুবিয়ে আপন মনে খেলা করছে। সে তো ওইরকম ছেলেমানুষই ছিল চিরটা কাল। তাকে কজন বুঝত, আমি ছাড়া। মাথার ওপর বাটির মতো উপুড় হয়ে থাকা আকাশ যেন আমার দুঃখী পিতার মুখ। জল ঝরে না, তাই বেদনা অত গভীর?

    আমি ঠিক পাগল নই। ওই অরূপের ঠাকুরদার মতো একটু অপ্রকৃতিস্থ। নিজের খেয়াল নিয়ে থাকি। নিজের বিশ্বাস নিয়ে থাকি। আমি যা জানি তা জানি। যা জানি না তা জানি না। আমার জগৎ ছোটো না বড়ো সে আপেক্ষিক খবরও আমি রাখি না। আমার ধারণা আমার চোখ আছে তাই বাইরেটা আছে। জানালা দিয়ে আমরা যেন ঘরের বাইরেটা দেখি। চোখ না থাকলে বা বন্ধ করে রাখলে ভেতরটা আছে। আমার একটা গান ছিল—খাঁচার খাঁচা তস্য খাঁচা, খাঁচার ভেতর বন্দি পাখি।

    অরূপ একদিন দুপুরবেলা আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে গেল। বাগান ঘেরা বিশাল বাড়ি। মনে হয় কোনো সায়েবের তৈরি। অনেকটা বাংলোর মতো। বাগানের এখানে ওখানে কয়েকটা মূর্তি ছিল। মহীদা পরির মূর্তি ভালবাসতেন। পরি ছিল কি—না মনে নেই। বাড়ির পেছন দিকে থাকতেন অরূপের ঠাকুরদা। সেটা ঘর নয়, বিশাল একটা খাঁচা। বিশাল খাঁচা তার আবার দুটো দরজা। প্রথম দরজাটা বড়ো। তার পরের দরজাটা ছোটো। গুহার মুখের মতো। হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকতে হয়। ঘরকে খাঁচা বানানো হয়েছে। বড়ো বড়ো জানলায় তারের জাল। বিভিন্ন আকার আকৃতির গাছের গুঁড়ি আর ডাল চারপাশে সুন্দর করে সাজানো। সেই ঘরে শুধু পাখি আর পাখি। নানা জাতের, নানা রঙের। শুকনো ডালে ডালে বাসা ঝুলছে। একটা বাথটবে জল। সেই ঘরেই টেবিল—চেয়ার নিয়ে বসে থাকেন অরুপের ঠাকুরদা। চোখে গোল চশমা। মুখে ঋষিদের মতো একমুখ দাড়ি। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা পাকা চুল। সায়েবদের মতো গায়ের রঙ। পরনে দুধের মতো সাদা একটা আলখাল্লা। টেবিলে বিশ—বাইশটা নানা মাপের টাইমপিস, একসঙ্গে খিচখাচ শব্দ করে চলেছে।

    ঠাকুরদা বললেন, এসো, এসো।

    আমরা দুজনে হামা দিয়ে ঢুকলুম। তিনি হাসতে লাগলেন। ফরসা মুখে সোনার চশমা।

    হাসতে হাসতে বললেন, চতুষ্পদ হয়ে কেমন লাগছে? মানুষের চেয়ে ভালো না?

    উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললুম, আজ্ঞে হ্যাঁ।

    তিনি আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে। বেশ লম্বা আর ঋজু চেহারা। বুকের কাছে আমাদের মাথা। ধবধবে নীলচে সাদা পোশাক, চিকচিক করছে পেতলের বোতাম।

    তিনি হাসতে হাসতেই বললেন, কী বুঝলে তাহলে, দ্বিপদে সুখ, না চতুষ্পদে? চতুষ্পদের জমির ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি তাই না?

    আজ্ঞে হ্যাঁ?

    বাতাসে শূন্যে মাথা যত তুলবে তত নিরালম্ব মনে হবে। সে অধিকার একমাত্র থাকা উচিত গাছের। গাছ একা ওঠে না। ওঠে ডালপালা সমেত, পত্র—পল্লব নিয়ে। মানুষ উঠতে চায় একা। শূন্যে কোনও দোসর খুঁজে পায় না। যত উঠবে তত নিঃসঙ্গতা বাড়বে।

    আমাদের বসতে বললেন।

    বাইশটা ঘড়ি একসঙ্গে খিচ—খিচ করছে। ফড়ফড় করে পাখি উড়ে যাচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে। মাঝে মাঝে ডানার ঝাপটা মেরে যাচ্ছে। ঠক করে টেবিলে এসে বসছে। চোখে কোনও শঙ্কা নেই। শুধু কৌতূহল। ছোট্ট বুক ওড়ার উত্তেজনায় উঠছে—নামছে। মসৃণ পালক।

    কী উড়ছে বলো তো?

    পাখি?

    পাখি নয়, পাখি নয়। আনন্দ। ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে আনন্দ।

    কী চলছে বলো তো?

    ঘড়ি।

    ঘড়ি নয়, ঘড়ি নয়, সময়ের অর্কেস্ট্রা। অনাদি, অনন্ত সময়ের ঐকতান।

    তোমার সময়, আমার সময়।

    সব মানুষের সময়। এ কি পথিক থামতে জানে না। কাল থেকে কালান্তরে শুধু চলেই যায়, ফিরে আর আসে না।

    দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে বলতে একসময় তিনি বসে পড়লেন। টেবিলে চামড়া বাঁধাই চওড়া একটা খাতা। পলকাটা গেলাসে গোটাকতক সোনার কলম গোঁজা। বেতের ঝুড়িতে নানারকমের ফল। সবুজ কলার ছড়া। গাছের শুকনো শাখায় ঝুলছে নানা মাপের পাত্র। তাইতে রয়েছে পাখির খাবার। পাখির ডাক ঘড়ির শব্দ, তার মাঝে ঠাকুরদার কথা। খাঁচায় তেমন চড়া আলো ঢোকে না। ছায়া—ছায়া অন্ধকার। দুপুর বেলায় জঙ্গলের মতো। এক একটা পাখি আবার সুন্দর শিস দিচ্ছে। এপাশ থেকে ওপাশে উড়ে যাবার সময় ডানার বাতাসের ঝাপটা লাগছে।

    এই খাতাটায় কি আছে জানো? পাখির কথা। স্বভাব, চরিত্র, ব্যবহার। পাখি হল জীবনের উচ্চাবস্থা। খাদ্য অতি অল্প। পরিত্যাগ সামান্য। কোনো দুর্গন্ধ নেই। খেচর প্রাণী। উদাসীন। ঈশ্বরমুখী। যতদিন বাঁচে ততদিন নিজের আনন্দে বাঁচে। পরিপূর্ণ সন্ন্যাসী। আকাশের অধিবাসী।

    বৃদ্ধ বলে চলেছেন। মাঝে মাঝে একটা দুটো পাখি, হয় মাথায়, না হয় কাঁধে, না হয় টেবিলে এসে বসছে। টুকটুক করে ঘড়িতে ঠোক্কর মারছে। টেবিলের ওপর ঝুড়িতে রাখা ফলে ঠোঁটের খোঁচা মেরে, কিচকিচ করে আনন্দে নেচে উঠছে। সারা টেবিল জুড়ে সে কি নাচ ঘুরে ঘুরে!

    বৃদ্ধ ঠাকুরদার সঙ্গে পাখিদের ভীষণ ভাব। কাঁধে বসে গালে আদরের ঠোকর। মাঝারি মাপের সাদা পাথরের বাটিতে ভিজে কিশমিশ। মাঝে মাঝে এক আধটা তুলে মুখে ফেলছেন। হাতের তালুতে রাখছেন পাখির জন্যে। তারা টুকটুক করে তুলে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে।

    বৃদ্ধ অরূপকে বললেন, বন্ধুকে কী খাওয়ালে?

    প্রশ্ন করেই উঠে দাঁড়ালেন। একপাশে একটা বিশাল আলমারি। আলমারির পাল্লা খুলতেই খাঁচা ভরে গেল খাবারের গন্ধে। ভেতরে থরে থরে সাজানো ফল, খেজুর, কেক, মিষ্টি। আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, যা খাবে খেয়ে যাও। কোনো লজ্জা নেই।

    একসঙ্গে এত খাবার জীবনে দেখিনি। গরিবের ছেলে আমি। দু—বেলা ডাল—ভাত খেয়ে মানুষ। বৃদ্ধ আমার ইতস্তত ভাব দেখে মুঠো মুঠো কিশমিশ, মনাক্কা, বাদাম আর খেজুর হাতে তুলে দিলেন।

    খাও খাও প্রাণ খুলে খাও। জীবন বড়ো ছোটো। যত পারো খেয়ে যাও। জীবন বড়ো ছোটো, যত পারো জেনে যাও। জীবন বড়ো ছোটো, যত পারো দিয়ে যাও। জীবন বড়ো ছোটো, যত পারো জেগে থাকো, ঘুমিয়ো না। ওই দ্যাখো, ওই শোনো, সময় সৈনিকের মতো মার্চ করছে। তালে তালে ছোটো। মনটাকে পাখির মতো, ঘুড়ির মতো আকাশে ওড়াও।

    অরূপ আমার হাত ধরে টান মারল। ফিসফিস করে বললে, এবার পালিয়ে চল।

    এখন ভাবি বৃদ্ধ কী সত্যিই পাগল ছিলেন? মনে হয় না। যাঁরা জ্ঞানী তাঁরা একটু পাগলাটেই হন। শিল্পীরাও পাগল, লেখক পাগল। সাধক তাঁরাও পাগল। তা না হলে সংসার ছেড়ে ভোগ ছেড়ে ঈশ্বর ঈশ্বর করবেন কেন?

    অরূপের ফুটফুটে সুন্দর একটা বোন ছিল। তার নাম ছিল রুবি।

    নাম জিজ্ঞেস করলেই বলত, আমার নাম রএ হ্রস্বউ বএ হ্রস্বই। বলেই খুব হাসত। বড়ো বড়ো মার্বেলের মতো চোখ। একমাথা চুল রিবন বাঁধা। লাল ঠোঁট। ছোট্ট হাঁ। মনে হত কোনো দেবী জন্মেছে। এই রুবির সঙ্গে আমার ভীষণ ভাব হয়েছিল। রুবির টানে প্রায়ই চলে আসতুম অরূপদের বাড়ি। ওদের একটা ছোটো আইসক্রিম কল ছিল। সন্ধেবেলা সেই কল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অরূপের মা আইসক্রিম বানাতেন। আমরা ফুরফুরে হাওয়ায় ছাতে বসে বসে হুসহাস শব্দে সেই আইসক্রিম খেতুম আর গল্প করতুম। দমকা হাওয়ায় গাছের পাতা ভীষণ দুলে দুলে উঠত। নারকেল গাছের পাতা থেকে কাক খসে পড়ত তাল সামলাতে না পেরে। ছেলেবেলার কথা মানুষ সহজে ভোলে না। আবার যত বয়েস বাড়ে ছেলেবেলার কথা তত বেশি মনে পড়তে থাকে। ওইজন্যে বলে ছেলেবেলা মনে পড়লেই বুঝবে বয়েস বাড়ছে।

    অরূপদের ছাতে রুবি একদিন আমার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ছেলেবেলায় আমার খুব বিয়ের বাতিক ছিল। সুন্দর মেয়ে দেখলেই বিয়ে করব বলে পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসতুম। বড়োমা তখন সামাল দিতেন, বড়ো হও বাবা, তখন তোমার বউ এনে দোবো।

    পূর্ণিমা রাত। কোলে মাথা রেখে রুবি ঘুমিয়ে পড়েছে। আমার ভেতরটা কেমন যেন অস্থির অস্থির। গভীর শ্বাসে বুকের ওঠাপড়া। মনে অনেক রকমের ইচ্ছে। ঘোড়ায় আমি কোনোদিন চাপিনি। সেদিন মনে হয়েছিল তেজি ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে আছি, প্রাণপণে লাগাম টেনে। মনে মনে বলছি, পড়ে যাস না খোকা। বেচাল হোসনে খোকা।

    নিজেকে দিয়েই নিজেকে সামলাতে হয়। আমার গুরু অজ্ঞাতবাবা বলতেন, তুমিই তোমার বন্ধু, তুমিই তোমার শত্রু। সুপথে থাকার জন্যে নিজেকেই নিজে আদেশ করবে। বিপথে গেলে নিজেকেই নিজে ধমক লাগাবে। নিজের মন নিজেকেই দেখতে হয়। নিজের গৃহ নিজেকেই সংস্কার করতে হয়।

    পূর্ণিমার সেই রাত, কোলে রুবির মাথা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসেছিলুম। বুকে ঢেউ উঠছে। সমুদ্র উত্তাল হলে নাবিকরা জলে তেল ঢেলে দেয়। আমি মনে মনে অজ্ঞাতবাবাকে স্মরণ করেছিলুম। দেখো বাবা টলিয়ে দিয়োনা। আমি পবিত্র থাকতে চাই। সেদিন পরীক্ষায় পাশ করে গিয়েছিলুম। ফুল মার্কস। পায়ে ঝিনঝিন ধরে গেছে। পাছে রুবির ঘুম ভেঙে যায়, পা সরাতে বা নাড়াতে পারছি না। গুনগুন করে গান গেয়ে চলেছি :

    পড়িয়ে ভবসাগরে ডুবে মা তনুর তরী
    মোহঝড় মায়াতুফান ক্রমে বাড়ে গো শঙ্করী।।

    এসব গানের মানে বোঝার বয়েস আমার হয়নি তখনও। তবু গেয়ে চলেছি। তখন তো অন্য কোনো গান তেমন শোনা যেত না। মানুষ ধার্মিক না হোক ধর্মের খুব প্রভাব ছিল। ঘরে ঘরে পুজো। মন্দিরে আরতি। পালাপার্বণে উপোস।

    চাঁদের আলোয় বাতাস ঠান্ডা হয়ে যায়। বেশ শীত শীত করছে। রুবির মুখে চাঁদের আলো পড়েছে। মনে হচ্ছে রুপো আর পেতল গলিয়ে ঢালাই করে তৈরি। ঠান্ডা বাতাসে শরীরের এক পিঠ ঠান্ডা আর এক পিঠ গরম। আমার কোল গরম হয়ে উঠেছে দেহের ভারে। রাতের আকাশে অশরীরীরা কি কাঁদে? মাঝে মাঝে দু—এক ফোঁটা জল পড়ছে গায়ে। নীল, মেঘশূন্য আকাশ থেকে জল পড়ে কী করে? নক্ষত্রের জল। এই কি সেই স্বাতীনক্ষত্রের জল। ঝিনুকে পড়লে মুক্তো হয়। কার কৃপায় জানি না, সেই রাতের সেই বসে থাকায়, নিজেকে জোর করে ধরে রাখতে পারায়, একটা জিনিস হয়েছিল, সহজে কেউ আমাকে টলাতে পারত না। কাম জয় করা ভীষণ কঠিন। কথায় আছে পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ কাঁদে।

    অজ্ঞাতবাবা বলেছিলেন, মেয়েদের ঘৃণা করে মুক্তি পাবে না কোনোদিন। যাঁরা বলেছেন, নারী নরকস্য দ্বার, তাঁরা সহজে মুক্তি পেয়েছেন বলে মনে হয় না। উলটে সেই নরকেই পড়েছেন। চণ্ডীর শিক্ষাই শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। স্ত্রীয়া সমস্তা সকলা জগৎসু। নারীকে মাতার আসনে বসিয়ে দাও। ব্যস, আর কোনো ভয় নেই।

    অজ্ঞাতবাবার ওই শিক্ষা আমার জীবনকে কত বিপদ, কত ফাঁদ থেকে যে বাঁচিয়েছিল! খুব কষ্ট হত। যতই হোক আমি মানুষ তো। দেবতা বলে ভাবলেই তো আর দেবতা হওয়া যায় না। সাধনা চাই। ইন্দ্রিয়কে যত ইন্ধন জোগাবে, ততই সে আগুন বাড়বে। ভোগে নিবৃত্তি নেই। ভোগে শান্তি নেই, ত্যাগেই শান্তি। জীবনকে যত জড়াবে তত দুঃখ বাড়বে। জালে পড়া সিংহের মতো তখন মুক্তি খুঁজতে হবে মূষিকের কাছে। নারী মানে মায়া, মায়া মানে সংসার, সংসার মানে বন্ধন। রোগ, শোক, জরা, দাসত্ব।

    অরূপের ঠাকুরদা বলতেন, পাখি হও পাখি, আর সময়ের শব্দ শোনো। তাঁর টেবিলের সামনের দেয়ালে নানারকম উদ্ধৃতি গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রাখতেন। একদিন দেখি কবি টেনিসনের দুটি লাইন লিখে রেখেছেন :

    which is today
    Tomorrow will be yesterday.

    যাকে তুমি আজ বলছ, কালই তা হয়ে যাবে গতকল্য। একদিন দেখি লিখে রেখেছেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা কয়েকটি লাইন:

    কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও।
    তারি রথ নিত্যই উধাও
    জাগাইছে অন্তরীক্ষে হৃদয়স্পন্দন,
    চক্রে—পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন।।

    একদিন বললেন চৈত্রের পাতার মতো পায়ের তলায় জীবনের দিন ঝরে ঝরে পড়ছে। যা যাচ্ছে তা আর কোনোদিন ফিরবে না। খেলনা দিয়ে নিজেকে আর কত ভোলাবে। সত্যের মুখোমুখি হও। জীবনের সত্য কি? বিচ্ছেদ, বেদনা। যে ছিল সে নেই। যে আছে সে থাকবে না। তবে এত উল্লাস কিসের? মানুষ কি ছাগল? মাংসের দোকানে ছাল—ছাড়ানো পাঁঠা ঝুলছে। কিছু পরেই যে পাঁঠাটা জবাই হবে মনের সুখে চোখ বুজিয়ে বটপাতা চিবোচ্ছে। মানুষ কি পাঁঠা? দিন চলে যাচ্ছে। আয়ু ঝরে যাচ্ছে, তবু, তবু মানুষের চেতনা নেই। খাচ্ছে—দাচ্ছে আর মনের সুখে বংশ বৃদ্ধি করছে। তোরা ওই শয়তানের চাকায় ঘুরিস নে। কেটে বেরিয়ে যা, ছিঁড়ে বেরিয়ে যা, সব খুলে বেরিয়ে যা। অনন্তের মুখোমুখি জিজ্ঞাসা নিয়ে দাঁড়া। কে আমি? কেন আমি?

    একদিন দেখি লিখে রেখেছেন গীতার একটি শ্লোক :

    অব্যক্তাদীনি ভূতানি ব্যক্তমধ্যানি ভারত।
    অব্যক্তনিধনান্যেব তত্র কা পরিবেদনা।।

    রোজ কী লিখলেন দেখার জন্যে রোজ আসা। প্রথম প্রথম নিজেকে প্রশ্ন করতুম, হ্যাঁরে খোকা কীজন্যে আসিস, পাখির জন্যে? বৃদ্ধ মানুষটির জন্যে? না রুবির জন্যে? উত্তর যা পেতুম তাতে ভীষণ ভয় পেয়ে যেতুম। কিন্তু ওই পূর্ণিমা রাতের পর প্রশ্নের উত্তর এল অন্যরকম। মন সেইদিনই জোর গলায় প্রথম বললে, পাখি দেখতে, ঘড়ির অর্কেস্ট্রা শুনতে বৃদ্ধ কী লিখেছেন দেখতে।

    রুবি আমাকে একটা চিঠি লিখেছিল। তাতে ছিল সেই চিরকালের কথা। যে কথা প্রথম যৌবনে সব মেয়েই কোনো—না—কোনো ছেলেকে লেখে। তারপর একদিন সব ভুলে যায়। যার সঙ্গে সংসার পাতার তার সঙ্গে সংসার পেতে মা হয়। ঠাকুমা হয়। প্রথম যৌবনের প্রেম ভুলে যায়। স্মৃতিতেও কিছু থাকে না। মেয়েদের মন আমার অজানা নয়। প্রেম বলে যদি কিছু থেকে থাকে, তা প্রথম বয়েসে নেই। থাকলে শেষ বয়েসে আছে। দেহ যখন মরে এসেছে, মন আর জ্ঞান যখন বড়ো হয়ে উঠেছে।

    শেষ শীতে খাঁচার পাখি ডিম পেড়েছে। বৃদ্ধের সে কী আনন্দ। ডিমের খোলার ভেতর ঘুমিয়ে আছে জীবনের সম্ভাবনা। আমাদের বললেন, বুঝলে, জীবনের বিকাশের জন্যে দুটো জিনিসের প্রয়োজন, সময় আর উষ্ণতা। মানুষের ডিম হয় না, মানুষ তাই বোঝে না। সেই কারণেই মানুষ এত নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন। শীতল। সেদিন তাঁর দেয়ালে লেখা ছিল, তিনটি লাইন:

    পূর্ণপ্রাণে চাবার যাহা
    রিক্ত হাতে চাস নে তারে;
    সিক্ত চোখে যাস নে দ্বারে।

    সমস্ত গাছে এসে গেছে নতুন পাতা। টলটলে সবুজ রঙ গুলে কে যেন হুড়হুড় করে ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতিতে। আমরা সবাই ছাতে বসে কেরাম খেলছি। নিচে অরূপের মা কেঁদে উঠলেন।

    বৃদ্ধ মারা গেছেন। টেবিলের ওপর মাথা। দুটো হাত ঝুলে আছে চেয়ারের পাশে। একমাথা সাদা চুল যেন আরও সাদা। ধবধবে সাদা আলখাল্লা লুটোচ্ছে চেয়ারের তলায়। মাথার কাছে খাঁচার সমস্ত পাখি সার সার বসে আছে নিস্তব্ধ ধ্যানে। খাঁচার ভেতর দেহ খাঁচা তার ভেতর ছিল প্রাণপাখি। সে পাখি কখন উড়ে গেছে। সাক্ষী ছিল বন্দি পাখির দল। সেই নিস্তব্ধতায় অসংখ্য ঘড়ি শুধু টিকটিক করে চলেছে। বৃদ্ধ বলতেন সময়ের অর্কেস্ট্রা। মনে হল দেয়ালে লিখে রেখে যাই শেষ লেখা : মন্দচরণে চলি পারে/যাত্রা হয়েছে মোর সাঙ্গ/সুর থেমে আসে বারে বারে/ক্লান্তিতে আমি অবশাঙ্গ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article আকাশ পাতাল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }