Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কোথাও কেউ নেই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প419 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৪. মামুন জাহানারাদের বাসায় এসে উঠল

    ঝড় মাথায় করে মামুন জাহানারাদের বাসায় এসে উঠল। হলুস্থূল কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে। চোখের সামনে একটা ইলেকট্রিসিটির পিলার ভেঙে পড়ল। এত পলকা ধরনের পিলার বানায় নাকি আজকাল? ধরক করে আগুন বেবী হয়ে বিকট শব্দ। তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জাহানারাদের বাড়ির সামনের কাঠাল গাছের একটা ডাল ভেঙে টিনের চালে পড়ল। আগের বারের চেয়ে ও বিকট শব্দ হল। তারপর শুরু হল শিলাবৃষ্টি। গত পাঁচ বছরে ঢাকা শহরে এ রকম শিল পড়েনি।

    জাহানারাদের ঘরে দরজা-জানালা সব বন্ধ। অনেকক্ষণ দরজায ধাক্কাধাব্ধি করার পর ভেতর থেকে জাহানারা ভীতিগলা শোনা গেল কে?

    আমি। আমি মামুন।

    বিস্মিত জাহানারা দরজা খুলতে খুলতে বলল, আপনি এখানে কী করছেন? আসবার আর সময় পেলেন না?

    এ রকম ঝড় হলে বুঝতে পারিনি। টর্নেডো-ফার্নেডো কিনা কে জানে।

    টর্নেডো নয় কালবোশেখি। ভেতরে আসুন। দরজা বন্ধ করে দেব।

    জাহানারাদের বাড়ির একটা অংশ টিনের চাল। শিলা বৃষ্টির কারণে প্রচণ্ড শব্দ হচ্ছে। একটা ঘরের জানালা খুলে গেছে। সেই জানালা আছড়ে পড়ছে বারবার। জাহানারা বলল, অন্ধকার বাদে থাকুন। আমি আগে ঘর সামলাই। মামুন কৈফিয়তের ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে কী যেন বলল, শব্দের কারণে কিছু বোঝা গেল না। ভেতর থেকে জাহানারার মা চেঁচাচ্ছেন–কে এসেছে–কার সঙ্গে কথা বলছিস?

    জাহানারা জবাব না দিয়ে ভেতরে চলে গেল। মামুন এই রকম সময়ে চলে আসায় তার একটু লজ্জা লজা করছে। আবার ভালও লাগছে। ঘরে শুধু সে আর মা। অন্যরা ফুপুর বাসায় বেড়াতে গেছে। রাতে থেকে যাবে। এতক্ষণ ভয় ভয় করছিল এখন ভয়ট কমেছে।

    জাহানারা কিছুক্ষণ পর আবার এসে ঢুকল। হাসিমুখে বলল, আমাদের ছাদে প্রচুর শিল পড়েছে। শিল কুড়াবেন?

    মামুন অবাক হয়ে বলল, শিল কুড়াব কেন? শিল কি আম নাকি?

    আমি শিল কুড়াতে যাচ্ছি। আপনি আমার সঙ্গে আসুন তো! একা একা ভয় ভয় লাগছে।

    শিল দিয়ে কি করবেন?

    কিছু করব না। ছোটবেলায় কুড়াতাম এখন আবার ইচ্ছা করছে।

    ঝড় কমুক।

    ঝড় কমেছে। শুধু বাতাস দিচ্ছে। আসুন তাড়াতাড়ি, এত অনুরোধ করতে পারব না।

    মামুন উঠে দাঁড়াল। আশ্চর্যাকাণ্ড উঠে দাঁড়ানোমাত্র জাহানারা বলল, থাক থাক এমনি বলছিলাম। ঠাট্ট করছিলাম। ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ঠাট্টা করতে ভাল লাগে।

    তাই নাকি? আমি অবশ্যি জানতাম না। আমি ভেবেছি আপনি বুঝি সত্যি সত্যি.

    আমাকে কি আপনার কচি খুকি বলে মনে হয়?

    না তা না। তবে আমার বড়রা অনেক সময় ছোটদের মত আচরণ করি।

    তা অবশ্যি করি। এখন কি আপনি বড়দের মত একটা আচরণ করবেন? আপনাকে একটা টেলিফোন নম্বর দিচ্ছি। ঐ নম্বরে টেলিফোন করে খোঁজ নিয়ে আসবেন মীরারা ভাল আছে কিনা। মা চিন্তা করছেন। কোন একটা দোকানে বা ফামেসিতে টেলিফোন পাবেন।

    নম্বরটা বলুন।

    খুব সহজ নম্বর ৪৪২৩৪৫ মনে থাকবে না কাগজে লিখে দেব?

    মনে থাকবে।

    টেলিফোন করে আসুন তারপর চা খাবেন। নাকি আজও ঐ দিনের মত ভাত খেতে চান?

    মামুন বিস্ময় বোধ করছে। জাহানারা কথা বলার ভঙ্গি তার স্বভাবের সঙ্গে মিশ খাচ্ছে না। বড় বেশি তরল গলায় কথা বলছে।

    আজ খাবার কিন্তু ঐ দিনের চেয়েও খারাপ। ডিমের তরকারি এবং আলু ভাজা। খেতে পারবেন?

    পারব।

    জাহানারা হেসে ফেলল। তার হাসিটা খুব সুন্দর। যার হাসি সুন্দর তার কান্না নাকি কুশ্ৰী। জাহানারা কাঁদলে কেমন দেখাবে কে জানে। জাহানারা বলল, এ রকম মুখ গম্ভীর করে কী ভাবছেন?

    মামুন বলল, কিছু ভাবছি না। আপনার জন্যে সামান্য একটা উপহার এনেছি। গল্পের বই। আপনার জন্মদিনের উপহার হিসেবে।

    জাহানারা অবাক হলে বলল, আজ আমার জন্মদিন আপনাকে কে বলল?

    মীরা বলেছিল। গতবার যখন এসেছিলাম। ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।

    ওর কোনো কথা বিশ্বাস করবেন না। আজ হচ্ছে ওর জন্মদিন। ফুপু এই উপলক্ষে তাকে দাওয়াত করেছেন। গল্পের বইয়ে কী আপনি আমার নাম লিখেছেন?

    জি না।

    তাহলে এটা তাকেই দিন। এখন যান টেলিফোন করে আসুন। নম্বরটা মনে আছে?

    জি আছে–৪৪২৩৪৫

    আপনার স্মৃতিশক্তি তো চমৎকার।

    মামুনের স্মৃতিশক্তি মনে হচ্ছে তেমন ভাল নয়। পানিতে ভিজে, কাদায় মাখামাখি হয়ে সে যখন টেলিফোনের একটা ব্যবস্থা করল তখন দেখা গেল নম্বর মনে নেই। ২৩ এবং ৪৫-এ গণ্ডগোল। কোনটা আগে কোনটা পেছনে কিছু মনে নেই। সব তালগোল পাকিয়ে গেছে।

     

    হাসিনার শরীরটা আজ অন্য দিকে চেয়ে অনেক ভাল। ঝড়বৃষ্টির সময় ছোটাছুটি করে দরজাজানালা বন্ধ করেছেন। অন্য সময় অল্প একটু হাঁটাহাঁটিতেই হাঁপ ধরে যেত। আজ তেমন হচ্ছে না। বরং অনেক দিন পর ঝড়বৃষ্টিটা তাঁর ভালই লাগল।

    এখন আর তেমন ভাল লাগছে না। জাহানারা ছেলেটির সঙ্গে খুকিদের গলায় কথা বলছিল। কেন বলছিল? জাহানারা এ রকম করে কখনো কথা বলে না। ছেলেটির সম্পর্কে তার মনে কি আছে তা পরিষ্কার জানা উচিত। জিজ্ঞেস করতে যেন কেমন বাধো বাধো লাগে। মীরা হলে এতক্ষণে হড়বড় করে সব বলে ফেলত।

    জাহানারা।

    বল মা।

    ঐ ছেলে চলে গেছে?

    হুঁ আবার আসবে। টেলিফোনে মীরার খোঁজ নেবে তারপর আসবে।

    ও।

    রাতে এখানে খাবে মা। চট করে কিছু কী করা যায়?

    হাসিনা একবার ভাবলেন–বলবেন, রাতে খাবে কেন?

    তিনি তা বলতে পারলেন না। শীতল গলায় বললেন, দেখ কিছু আছে কিনা।

    রাতে খাবে বলে কি তুমি বিরক্ত হচ্ছে নাকি মা?

    না। বিরক্ত হব কেন? ঢাকা শহরে কি এই ছেলের কোনো আত্মীয়-স্বজন আছে?

    কেন বল তো?

    না। এমনি। একটু খোঁজখবর করতাম।

    কিসের খোজখবর?

    হাসিনা জবাব দিলেন না। জাহানারা সহজ গলায় বলল, তুমি যা ভাবিছ সে সব কিছু না মা।

    সে সব কিছু হলেই বা ক্ষতি কী?

    হাসিনা তীক্ষ্ণ চোখে মেয়ের দিকে তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে রাগ ছিল, অভিমান ছিল, বিষাদ ছিল এবং কিছু পরিমাণে মিনতিও ছিল। জাহানারা একটি নিঃশ্বাস ফেলল।

    হাসিনা নরম স্বরে বললেন–ছেলেটা ভাল। আমার পছন্দ হয়েছে।

    জাহানারা বলল, পছন্দ হলে কী করতে হবে? জাহানারা গলার স্বরে রাজ্যের বিরক্তি। হাসিনা অবাক হলেন। এর রকম তো হবার কথা না। তার ধারণা জাহানারাও ছেলেটিকে পছন্দ করে। এই পছন্দ সাধারণ পছন্দেরও বেশি। তাহলে কি তার ধারণা ভুল। ভুল তো হবার কথা না। এই সব ব্যাপারে মারা সচরাচর ভুল করেন না। তিনিও করেননি। ছেলেটি যে কবার এসেছে জাহানারার চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সে কথা বলেছে কিশোরীদের তরল গলায়। শব্দ করে হোসেছে। এসব কিসের লক্ষণ তা তিনি জানেন। তাহলে জাহানারা এমন করছে কেন? অন্য কোনো গোপন রহস্য আছে কি? তার জানতে ইচ্ছে করে। তবে জানতে ইচ্ছা করলেও লাভ নেই। জাহানারা মুখ খুলবে না। মুখ তালাবন্ধ করে রাখবে। দশটা কথা জিজ্ঞেস করলে একটা জবাব দেবে। সেই জবাব থেকে কিছু বোঝা যাবে না।

    হাসিনা ক্ষীণ স্বরে বললেন, জাহানারা তুই আমার পাশে বস তো। জাহানারা সহজ গলায় বলল, পাশেই তো বসে আছি মা।

    হাসিনা পাশ ফিরে মেয়ের কোলে একটা হাত রাখলেন। কোমল স্বরে বললেন, ছেলেটাকে আমার খুব পছন্দ। ঠাণ্ডা ছেলে। আজকাল এ রকম দেখা যায় না।

    আজকাল বুঝি ছেলেরা সব গরম হয়ে গেছে?

    তুই এমন রেগে যাচ্ছিস কেন রে মা? রেগে যাবার মতো কিছু বলেছি? ছেলেটাকে ভাল লেগেছে এইটা শুধু বললাম। এতে দোষের কী হল?

    না দোষের কিছুই হয়নি। আমি রাগ করিনি। একজনকে ভাল বলবে তাতে আমি রাগ করব। কেন?

    আমরা আগের কালের মানুষ। এ কালের কাণ্ডকারখানা কিছু বুঝি নারে মা।

    জাহানারা খানিকক্ষণ চুপ করে রইল। মার রোগশীর্ণ হাতের ওপর নিজের হাত রাখল। তারপর খুবই নিচু গলায় প্রায় অস্পষ্ট স্বর বলল, ছেলেটাকে নিয়ে তুমি যা ভাবতে শুরু করেছ তা না ভাবলেই ভাল হয় মা। মামুন সাহেবের বিয়ে ঠিক হয়েছে আছে। কিছু দিনের মধ্যেই বিয়ে হবে।

    হাসিনা তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, কিছুদিনের মধ্যে বিয়ে হবে তাহলে এখানে এসে বসে থাকে কেন? এটা কি ধরনের ভদ্রতা?

    বিয়ে হচ্ছে বলে সে এ বাড়িতে আসবে না। এমন তো কোন কথা নেই মা।

    হাসিনার চোখে পানি এসে গেল। তিনি সেই লুকুবার কোনো চেষ্টা করলেন না। তিনি ভেবেই নিয়েছিলেন জাহানারার সঙ্গে এই ছেলেটির বিয়ে হবে। সংসারের ভিত পাকা হবে।

    জাহানারা বলল, চা খাবে নাকি মা?

    না।

    শরীর খারাপ লাগছে?

    উঁহু।

    তুমি এমন ভেঙে পড়ছি কেন? এই ছেলে ছাড়া কি ছেলে নেই? মেয়ের বিয়ে দিতে চাও দেবে। আমি তো কখনো না বলিনি। এক’দিন শাড়ি গয়না পরে বরের বাড়িতেই চলে যাব। তখন হায় হায় করবে।

    হাসিনা জবাব দিলেন না। মেয়ের কোল থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে পাশ ফিরলেন। জাহানারা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে এখন আর ইচ্ছা করছে না।

    জাহানারা রান্নাঘরে চলে গেল। রান্না করতে ইচ্ছা করছে না। শুরু করতে হবে। এর থেকে উক্ত নেই।

    মার জন্যে তার বেশ খারাপ লাগছে। এই মহিলার ভাগ্যটাই এ রকম। দু’দিন পর পর শুধু আশাভঙ্গ হয়। বছর দুই আগে একবার হল। চমৎকার ছেলে। ফর্সা লম্বা, হাসি-খুশি। এমন একটা ছেলে যে, দেখলেই পাশে গিয়ে দাঁড়াতে ইচ্ছা করে। বিয়ের সব ঠিক ঠাক। ছেলের এক মামা পাথর বসানো একটা আংটি দিয়ে জাহানারার মুখ দেখে গেলেন।

    বিয়ের দিন-তারিখ হল, ১৭ কার্তিক। বিয়েটা হল না। কেন হল না সে এক রহস্য। তারা হঠাৎ জানাল একটু সমস্যা হয়েছে। কী সমস্যা কিছুই বলল না। কি লজ্জা কি অপমান লাল পাথর বসান আংটি জাহানারা খুলে ট্রাংকের নিচে লুকিয়ে রাখল। একবার ভেবেছিল নর্দমায় ফেলে দেবে। ফেলতে পারেনি। আংটিটাি হাতে নিলেই ফর্সা, লম্বা, কোঁকড়ানো চুলের ছেলেটির ছবি মনে আছে। শত অপমানের মধ্যে কেন জানি ভাল লাগে।

    কত দিন কত জনের সঙ্গে দেখা হয় এই ছেলেটির সঙ্গে কখনো দেখা হয় না। জাহানারা ঠিক করে রেখেছে। যদি কখনো দেখা হয় তাহলে সে হাসিমুখে এগিয়ে যাবে। খুব পরিচিত ভঙ্গিতে বলবে কী কেমন আছেন? চিনতে পারছেন আমাকে?

    জাহানারা কেমন যেন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ল। আর ঠিক তখন ছোটখাটো একটা দুর্ঘটনা ঘটল। বা পায়ের ওপর কেতলি উল্টে পড়ল। কেতলি ভর্তি ফুটন্ত পানি। হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝলসে গেল। জাহানারা কোন শব্দ করল না। দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সহ্য করল।

    রাতে প্রচণ্ড জ্বর এল। জ্বরের ঘোরে মনে হল যেন লম্বা, ফর্সা, কোকড়ানো চুলের ছেলেটি তার পায়ের কাছে বসে আছে। বিরক্ত গলায় বলছে, তুমি এত অসাবধান কেন? পা সম্পূর্ণ ঝলসে গেছে আর তুমি একজন ডাক্তার পর্যন্ত দেখালে না? এ রকম ছেলেমানুষী করার কোন অর্থ হয়? ইস কী অবস্থা হয়েছে পায়ের।

    জাহানারা বলল, ছিঃ, তুমি পায়ে হাত দিচ্ছ কেন?

    পায়ে হাত দিলে কী হয়?

    লজ্জা লাগে।

    এত লজ্জা লাগার দরকার নেই।

    জ্বরের ঘোরে সব কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। ফর্সা, লম্বা, কোকড়ান চুলের ছেলেটিকে এক সময় মামুন বলে মনে হতে থাকে।

    জাহানারার বড় ভাল লাগে। তার বলতে ইচ্ছে করে, তুমি এত দূরে বসে আছে কেন? ব্যথায় মরে যাচ্ছি। আর তোমার একটু মায়া লাগছে না? আরো কাছে আসা। দেখ তো জ্বর আর বাড়ল কিনা। কপালে হাত দিলে কোন পাপ হবে না।

    দুর্ঘটনা শুরুতে যত সামান্য মনে হয়েছিল দেখা গেল তা মোটেই সামান্য নয়। পা ফুলে উঠল। দুদিনের মাথায় ঘা বিষিয়ে গেল। তৃতীয় দিনের দিন ভর্তি করতে হল হাসপাতালে। হাসপাতালের ডাক্তাররা ঘা দেখে চমকে উঠলেন।

    এক রাতে আধো ঘুম আধা জাগরণের মধ্যে জাহানারা শুনল বুড়ো মতো একজন ডাক্তার বলছেন–আর একটা দিন দেখব তারপর এম্পুট করে ফেলব। গ্যাংগ্রিনের সূচনা।

    জাহানারা চেঁচিয়ে বলতে চাইল–দয়া করুন, আমার পা কাটবেন না। বলতে পারল না। তার কথা বলতে ইচ্ছা করছিল না। সমস্ত শরীরে ভয়াবহ ক্লান্তি পায়ে কোন ব্যথা নেই। মাথায় ভোতা যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার ধরনটাও অদ্ভুত। তেমন যে নেশা লেগে যায়।

    মনে হয় থাকুক না। আর শুধু ঘুমুতে ইচ্ছা করে। শরীরের প্রতিটি কোষ আলাদা আলাদা ভাবে ঘুমুতে চায়।

    এগার দিনের দিন জাহানারা পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পেল। তার বিছানার পাশে মামুন বস আছে। ঘরে অনেক লোক। মা আছেন, মীরপুরের বড়খালা আছেন। বড়খালার ছেলে যে আর্মির অফিসার সেও আছে। জাহানারা বলল, আমার পা কেটে বাদ দিয়েছে তাই না?

    মামুন বলল, না।

    জাহানারার বিশ্বাস হল না। অথচ বিশ্বাস না হবার কানো নেই ঐ তো রোগা রোগা পায়ের পাতা দু’টি দেখা যাচ্ছে। মামুন তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। এত সুন্দর লাগছে কেন মামুনকে? কি সুন্দর তাকে লাগছে। সাদা পাঞ্জাবিতে তাকে এত সুন্দর লাগে। জাহানারা চোখ বন্ধ করল। আবার ঘুম পাচ্ছে। ঘুমে তলিয়ে যাবার আগ মুহূর্তে শুনল, মামুন বলছে খালা আর ভয় নেই। আপনারা বাসায় যান। বিশ্রাম করুন। আমি আছি।

    আহ কী চমৎকার শব্দ–আমি আছি। আমি আছির মত সুন্দর আর কোন শব্দ কী বাংলা ভাষায় আছে? না নেই।

    জাহানারা সুস্থ হবার পনের দিনের মাথায় মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে গেল। হাসিনা মেয়ের বিয়ে উপলক্ষ করে যতটা হৈচৈ করবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন তার কিছুই করতে পারলেন না। একটা কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত ভাড়া করা গেল না। আলো দিয়ে বাড়ি সাজানো হল না। মেয়েকে নতুন একসেট গয়নাও দিতে পারলেন না। তবু তার মনে কোন অপূর্ণতা রইল না। দীর্ঘদিন পর গভীর আনন্দ বোধ করলেন। তাঁর ভাড়া বাড়ির প্যালাস্তারা ওঠা কুদর্শন একটা কোঠায় বাসর হবে। মেয়েরা ছোটাছুটি করে গর সাজাচ্ছে। এক ফাঁকে সেই ঘরও তিনি দেখে এলেন। অপূর্ব লাগল। চোখ ভিজে উঠল।

    কি সুন্দর লাগছে জাহানারাকে। তাঁর এই কালো মেয়ের মধ্যে এত রূপ কোথায় লুকিয়ে ছিল? নাকি তার এই মেয়ে রূপবতীই ছিল শুধু তার চোখে পড়েনি? হাসিনার চোখ বারবার ভিজে উঠতে লাগল। তার বড় বোন তার হাত ধরে মেয়ের সামনে থেকে তাকে সরিয়ে নিলেন। রাগী গলায় বললেন, আনন্দের দিনে এ রকম কাঁদে কেউ। কাঁদতে কাঁদতে তুই দেখি চোখে ঘা করে ফেলবি।

    বাসর রাতে ঘোর বর্ষণ। পৃথিবী ভাসিয়ে নিয়ে যাবার মত বৃষ্টি। খুব আনন্দ করছে সবাই। পাড়ার মেয়েরা বৃষ্টিতে ভিজে হৈচৈ করছে। এ ওকে ধরে কাদা পানিতে মাখামাখি করছে। অকারণে হাসছে। হাসিনা ঘর অঙ্গদকার করে একা একা তার ঘরে শুয়ে আছেন। সমস্ত দিনের উত্তেজনায় তার হাঁপানীর টান প্রবল হয়েছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। হোক কষ্ট আরো কষ্ট হোক। শুধু মেয়েটা সুখী হোক। আজ রাত হোক তার জীবনের শ্রেষ্ঠতম রাত।

    হাসিনার কেন জানি গা ছমছম করতে লাগল। মনে হচ্ছে অন্ধকার ঘরে কে যেন এসে ঢুকেছে। নিঃশব্দে হাঁটছে। উৎসবের দিনে মৃত আত্মীয়-স্বজনরা এসে উপস্থিত হন। তাই নিয়ম। তাঁরাই কি এসেছেন? জাহানারার বাবা তো আসবেই। কে বলবে এই মুহূর্তে এই ঘরেই হয়ত সে আছে। মেয়েকে দেখে ফিরে যাবার মুহুর্তে অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে এসেছে। হাসিনা কাতর গলায় বললেন, কে? কে ওখানে?

    কোনো জবাব পাওয়া গেল না। কিন্তু হাসিনার মনে হল কেউ-একজন এসে যেন তার পাশে বসল। শব্দহীন স্বরে বলল, আমি। চিনতে পারছি না হাসু?

    পারছি। পারব না কেন?

    অনেক দিন তো হয়ে গেল, ভয় হচ্ছিল হয়ত চিনতে পারবে না।

    হাসিনা ধরা গলায় বললেন, মেয়ের বিয়ে দিয়েছি।

    খুব ভাল করছে। একা একা অনেক কষ্ট করলে হাসু।

    হাসিনা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তুমি পাশে ছিলে না। এইটাই একমাত্র কষ্ট। এছাড়া অন্য কোন কষ্ট-কষ্টই না। তুমি কেমন আছ?

    রাত বাড়ছে। ঝড়বৃষ্টির চমৎকার একটি রাত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজনম জনম – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article কবি – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }