Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কোথাও কেউ নেই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প419 Mins Read0
    ⤶

    ৪৫. সোনালি ডানার চিল চক্রাকারে ওড়ে

    মুনা লক্ষ্য করল আজ সারাদিন বকুল মুখ শুকনো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুপুরে ভালমত খেল না। খানিকটা মুখে দিয়েই উঠে পড়ল। মুনা বলল, কি হয়েছে রে?

    বকুল হাসিমুখে বলল, ক্ষিধে নেই। ক্ষিধে হলেই আবার খাব। তুমি আজ অফিসে গেলে না। কেন আপা?

    আজ শুক্রবার। অফিস বন্ধ।

    ও আচ্ছা। আমার কিছু মনে থাকে না।

    বকুল উঠে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। হাতে গল্পে বই। পাড়ায় পারলিক লাইব্রেরি হয়েছে। বাবু তার মেম্বার। রোজ বই নিয়ে আসছে। সাত আট পাতা পড়ে বকুল সে সব বই ফেরত পাঠাচ্ছে। পড়তে ভাল লাগে না। অথচ আগে কোনো একটা বই হাতে পেলে শেষ না কর উঠতে পারত না।

    আজও পড়তে ভাল লাগছে না। হাই উঠছে। বকুল বই নামিয়ে রাখল। ঘুম ঘুম আসছে। অথচ ঘুমুতে ইচ্ছা করে না। কারো সঙ্গে গল্প করতে পারলে ভাল লাগতে গল্প করার মানুষ নেই।

    ঘুমুচ্ছিস নাকি বকুল?

    বকুল বিছানায় উঠে বসল। মুনা আপা গম্ভীর মুখে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে।

    কিছু বলবে আপা?

    তোর কি হয়েছে বল তো?

    কী আর হবে কিছু হয়নি।

    জহির কী রাগ করে চিঠিতে কিছু লিখেছে?

    না তো। বিশ্বাস না হলে তুমি চিঠি পড়ে দেখ আপা। এনে দেই? ড্রয়ারে আছে।

    না। এনে দিতে হবে না। তোর কি বাচ্চ-কাঁচা হবে? বল তো ঠিক করে।

    বকুল অবাক হয়ে বলল, বাচ্চ-কাচ্চা হবে কী জন্যে?

    মুনা বিরক্ত গলায় বলল, যা জিজ্ঞেস করেছি। তার জবাব দে। হ্যাঁ বা না বল।

    না।

    নেত্রকোনা যেতে ইচ্ছে করছে? জহিরের কাছে?

    না।

    ইচ্ছা না করলেও যেতে তো হবে। সারা জীবন এখানে পড়ে থাকবে? তোর নিজের ঘর-সংসার আছে না?

    কী করে যাই আপা। আমার তো শরীর খারাপ। মাথার ঠিক নেই।

    মাথা খুব ঠিক আছে।

    আজেবাজে। জিনিস যে দেখি।

    এখন তো আর দেখছিস না।

    ঐখানে গেলেই দেখব।

    তাহলে আবার চলে আসবি।

    আচ্ছা। তুমি যা বল তাই

    বকুল একটু আগে বন্ধ করা বই আবার মেলে ধরল। রাগে তার গা জ্বলে যাচ্ছে। আপা মাঝে মাঝে এমন সব কথা বলে যে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

    মুনা বলল, একটা দিন ঠিক করে বাবুকে নিয়ে চলে যা। বাকের ভাইও সঙ্গে যাবে। নয়ত জহির রাগ করবে। কে জানে হয়ত করেও বসেছে। রাগ না করলে এর মধ্যে এখানে একবার আসত।

    রাগ করেনি।

    রাগ না করলেই তো ভালই।

    মামলায় হার হয়েছে এই জন্যে মনটন খারাপ। আরেকটা কী মামলা দিয়েছে। ঐটাতোও হারবে।

    কে বলল হারবে?

    আমার মনে হচ্ছে। একবার হারাতে শুরু করলে হারিতেই হয়।

    তোকে বলল কে?

    কেউ বলেনি। আমি জানি আপা। পান খেতে ইছে হচ্ছে। বাবুকে পাঠিয়ে একটা পান আনাও তো। ঐ বাড়িতে থেকে থেকে আমার পান খাওয়া অভ্যাস হয়ে গেছে। তুমিও একটা খাও আপা। ঠোট লাল হবে। দেখতে সুন্দর লাগবে।

    মুনা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ঘর থেকে বেরুল। যতই দিন যাচ্ছে বকুলের ছেলেমানুষি ততই বাড়ছে। মানুষের বয়স বাড়ে বকুলের বয়স কমছে। শরীরও খারাপ হচ্ছে। এই বয়েসী মেয়েদের চোখে-মুখে যে উজ্জ্বল আভা থাকে বকুলের তা নেই।

    রাতে খেতে বসেও খানিকক্ষণ ভাত নাড়াচাড়া করে বকুল উঠে পড়ল। মুনা বলল, কী হয়েছে রে?

    পেট ব্যথা করছে আপা?

    পেট ব্যথা করছে?

    হুঁ।

    বেশি?

    না বেশি না।

    দুপুরেও তো খাসনি।

    শোবার আগে এক গ্লাস দুধ খাব। আপা ওতেই হবে।

    মুনা দুধ নিয়ে নিজেই গেল। বকুল বিনা বাক্যে ব্যয়ে দুধ শেষ করে হঠাৎ নিচু গলায় বলল, তুমি যা বলছিলে তাই সত্যি আপা।

    আমি কি বলছিলাম।

    ঐ যে দুপুরে বললে। বাচ্চা হবার কথা।

    সে কি?

    এখন কি করব। আপা?

    কি করাবি মানে? করাকরির কি আছে?

    বাবুকে মিষ্টি দিয়ে একটা পান আনতে বল তো আপা। খেতে ইচ্ছে করছে। আলাদা করে যেন জর্দা আনে। আমি নিজেই বাবুকে বলতাম। কিন্তু এখন ওর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে হয়েছে সমস্যা।

    বকুল হাসছে। কেমন অদ্ভুত ভয় এবং সংকোচ মেশানো হাসি। মুনা এসে বলল বকুলের পাশে। বকুল প্ৰায় অস্পষ্ট স্বরে বলল, রাগ করনি তো আপা?

    রাগ করব কেন?

    বাচা হচ্ছে যে এই জন্যে।

    পাগলের মতো কথা বলছিস কেন রে বকুল? তুই কী পাগল হয়ে যাচ্ছিস নাকি?

    হ্যাঁ আপা পাগল হয়ে যাচ্ছি। পুরোপুরি যেদিন হব সেদিন বুঝবে। আমাকে একটা পাগলাগারদে রেখে আসতে হবে।

    বকুল এবার কাঁদতে শুরু করল। শিশুদের কান্না। সবাইকে জানাতে হবে যে কান্না শুরু হয়েছে। চোখে পানি তেমন থাকবে না। ফুপানোর শব্দ থাকবে, না ফুপানোর শব্দ থাকবে, শরীর বারবার দুলে উঠবে। আশপাশের সবাই বুঝবে ভয়াবহ কিছু ঘটে গেছে।

    কাঁদছিস কেন রে বকুল?

    মনের দুঃখে কাঁদছি।

    এত কি তোর মনে দুঃখ যে কাঁদতে হবে?

    তাহলে যাও মনের আনন্দে কাঁদছি।

    মুনা হেসে ফেলল। তার হাসি দেখে বকুলেরও হাসি পেলে গেল। অনেক কষ্টে সে হাসি৷ থামিয়ে রাখল। মুনা বলল, কাল ভোরে তোকে একজন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব। তারপর জহিরুকে টেলিগ্ৰাম করব চলে আসতে। বাচ্চা না হওয়া পর্যন্ত তুই থাকবি আমার কাছে।

    আমার বুঝি ঘর-সংসার নেই আপা?

    একটু আগেই না থাকতে চাচ্ছিলি।

    একন চাচিছে না।

    বেশ তো জহির এসে নিয়ে যাবে। য

    মুনা, বকুলের হাত ধরে খানিকক্ষণ বসে রইল। মুনার মুখ এখানো হাসি হাসি। বকুল খাকিনকটা গম্ভীর হয়ে আছে। কিছু একটা বলতে চাচ্ছে কিন্তু বলতে পারছে না।

    কিছু বলবি বকুল।

    হুঁ।

    কী বলবি বলে ফেল।

    বাবু যেন কিছু জানতে না পরে আপা।

    বাবু জানলে কী?

    লজ্জা লাগে আপা।

    বকুল, মুনাকে জড়িয়ে ধরল। তার গা কাঁপছে। হয়ত আবার কাঁদবে। কিংবা কে জানে হয়ত আনন্দে হাসছে। বকুলের হাসি কান্নার কোন ঠিকঠিকানা নেই।

    বুড়ো ডাক্তার সাহেব খুব আগ্রহ করে বকুলকে অনেক কিছু বললেন, সকাল-বিকাল হাঁটতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম খুব প্রয়োজন এতে রক্তের অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা বাড়ে। শরীর সুস্থ থাকে। সুষম খাদ্যও খুব ইম্পর্টেন্ট। সেই সঙ্গে দরকার মানসিক প্রশান্তি।

    তিনি বকুলকে একটা চটি বই দিলেন মা ও শিশু। বইটির মলাটে একটি শিশুর ছবি যে মার দুধ খাচ্ছে। লজ্জায় লাল হয়ে বকুল বই হাতে নিল। ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, তোমার বয়স কত?

    ষোল।

    এত অল্প! আজিকাল তো এ বয়সে মেয়েরা মা হচ্ছে না। তবে মা হবার জন্যে বয়সটা খারাপ ও না। তুমি কিন্তু খুকি প্রথম বাচ্চার পর খুব সাবধান হবে। শিশু দিয়ে দেশ ভর্তি করে ফেলার কোন মানে হয় না। এক মাস পরে আবার আসবে।

    বকুল মাথা কাত করল। লজ্জায় তার মুখে কথা ফুটছে না। ডাক্তার সাহেব বললেন, এক মাস পর যখন আসবে তখন বাচার হাট বিট তোমাকে শুনিয়ে দেব। আর এক মাস পর থেকেই হার্টবিট করতে শুরু করবে। নিজের বাচার হার্টবিটি শোনা একটা চমৎকার অভিজ্ঞতা।

    বকুল ফিসফিস করে বলল, কিভাবে শুনব?

    খুব সোজা। ঐদিন টের পাবে।

    মুনা ডাক্তার সাহেবের কথাবার্তায় বেশ অবাক হচ্ছে। কোন ডাক্তার রুগীর সঙ্গে এত আগ্রহ নিয়ে কথা বলেন না। ইনি বলছেন। এমন না যে এর কাছে রুগী আসে না। অনেক’দিন পর একজন রুগী পাওয়া গেছে। ডাক্তার সাহেবের চেম্বার রুগীতে ভর্তি। নম্বর লেখার স্লিপ হাতে নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে।

    বকুলের জন্যে এই ডাক্তার এতটা আগ্রহ কেন দেখালেন?

    চলে আসবার সময় দরজা পর্যন্ত এগিয়ে মৃদু গলায় বললেন, রিকশায় চলাফেরা করলে সাবধানে করবে যেন ঝাকুনি না লাগে। কেমন?

    পৃথিবীতে অনেক রহস্য আছে! সেই সব রহস্যের একটা হচ্ছে মানবিক সম্পর্ক। এর কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। হঠাৎ যে কোনো একজন মানুষের জন্যে হৃদয় মমতায় উদ্বেলিত হতে পারে।

    মুনা, ডাক্তারের ঘর থেকে বেরিয়ে বলল, চল বকুল তোর বাচ্চার জন্যে কিছু একটা কেনা যাক।

    বকুল লজ্জিত গলায় বলল, কি কিনবে?

    চল নিউ মার্কেটে গিয়ে দেখি কি পাওয়া যায়। আমি তো ছাই জানিও না।

    লজা লাগে যে আপা।

    লজ্জার কী আছে? তাছাড়া তোরই যে বাচ্চা তাও তো কেউ বুঝবে না।

    নিউ মার্কেট থেকে কিনবে না। কিনবে না করেও অনেক কিছু কেনা হয়ে গেল। যাই দেখে তাই বকুলের পছন্দ হয়ে যায়। নিচু গলায় বলল, এটা কিমব আপা, বেবি সোপ। এত দাম গাচ্ছে। থাক লাক্স সাবান দিয়ে গোসল করলেই হবে। এত বাবুয়ানির দরকার নেই। বকুলের মুখের দিকে তাকিয়ে মুনাকে বাধ্য হয়ে বলতে হয়–কিনে নে।

    এই টাওয়াল কিনব। আপা? হাত দিয়ে দেখি কত নরম।

    পছন্দ হলে নে।

    পরে কিনলেও তো হবে। এত আগেভাগে কিনে লাভ কী আপা?

    তাহলে পরে কিনব।

    কিন্তু পরে যদি না পাওয়া যায়। ভাল জিনিস কিছুই থাকে না।

    তাহলে কিনে ফেলাই ভাল।

    গভীর সুখ ও গভীর আনন্দে বকুলের চোখ ঝলমল করে। তার দিকে তাকিয়ে মুনার বড় মায়া লাগে। পুঁটলা পুটলি সব বকুলের নিজের হাতে। মুনার কাছে দিতে রাজি না। মুনা বলল, তোর কষ্ট হচ্ছে কিছু আমার কাছে দে।

    বকুল হাসিমুখে বলল, কষ্ট হচ্ছে না আপা। তাছাড়া পরিশ্রম করার দরকার। ডাক্তার সাহেব তো। তাই বললেন।

    কিছু খাবি ক্ষিধে পেয়েছে?

    হুঁ পেয়েছে? ঝাল কিছু খেতে ইচ্ছ করছে।

    চল কিছু খাই।

    ঝাল খেলে বাচার আবার ক্ষতি হবে না তো আপা? ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞাসা করার দরকার ছিল। বাসায় ফেরার পথে একবার থেমে জিজ্ঞেস করে যাব আপা?

    তা করা যেতে পারে।

    কাঠের একটা দোলনা বানাতে দিতে হবে। তুমি এ রকম করে হাসছ কেন আপা?

    যা আর হাসব না।

    তোমার অনেক টাকা খরচ করিয়ে দিলাম।

    তা দিলি। কি আর করা।

    তুমি আবার মনে মনে আমার ওপর রাগ করছ না তো?

    করছি।

    বকুল হাসল। চমৎকার হাসি। মুনার মনে হল এত সুন্দর করে বুকল এর আগে কখনো হাসেনি। সকালবেলার রোদ এসে পড়েছে তার মুখে। গায়ে হালকা নীল রঙের একটা শাড়ি। সেই নীল রঙের আভা পড়েছে তার মুখে-চমৎকার ছবি।

    জহির বৃহস্পতিবার ভোরে এসে উপস্থিত। তার দিকে তাকিয়ে আঁৎকে উঠতে হয়। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। অনেক দিন চুল কাটা হয়নি বলেই মাথা ভর্তি ঝাঁকড়া চুল। এই গরমে গায়ে হলুদ রঙের ময়লা একটা কোট। বাসায় পা দিয়েই প্রথম যে কথাটি বলল তা হচ্ছে–বিরাট ভুল হয়ে গেল। নিতান্ত বেকুবের মতো কাজ করেছি। ছিঃ ছিঃ!

    বেকুবের মতো কাজ আর কিছুই না। সঙ্গে সে একটা মাছ নিয়ে এসেছিল। রুই মাছ। ট্রেনে সিটের নিচে রাখা ছিল। নামার সময় মাছ না নিয়েই নেমে এসেছে।

    মুনা বলল, এখন আর আফসোস করে কি হবে? মাছ গেছে গেছে। রুই মাছ ঢাকাতেও পাওয়া যায়। তোমার এই অবস্থা কেন? দেবদাসের মতো লাগছে।

    গালে অ্যালার্জির মত হয়েছে। আপা–ব্লেড ছুলেই ফুলে ওঠে। এই জন্যে দাড়ি কাটা বন্ধ। মন মেজাজও খারাপ।

    কেন?

    পর পর দুটো মামলায় হেরেছি। তৃতীয় একটা শুরু হয়েছে। এটাতেও মনে হচ্ছে হারব। ঢাকা আসার মূল কারণ হচ্ছে বড় বড় উকিল ধরব।

    টেলিগ্রাম পাওনি?

    না তো। কিসের টেলিগ্রাম?

    ঠিক আছে, পরে শুনবে। যাও মুখ ধোও। দয়া করে কাপড়গুলিও বদলাও। এত ময়লা কাপড় তোমার আছে জানতাম না।

    জহির টেলিগ্রামের বিষয়ে কোন রকম আগ্রহ প্রকাশ করল না। গোসল করে পর পর দুকাপ চা খেয়ে চাদর গায়ে ঘুমিয়ে পড়ল। টানা ঘুম। মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন সে আরাম করে ঘুমুতে পারছে না।

    মুনা অফিসে যাবার আগে বকুলকে বলে গেল ঘুম ভাঙলেই সব গুছিয়ে বলবি। জহিরের মনটন খুব খারাপ। খরবদার ঝগড়া-টগরা করবি না।

    বকুল অবাক হয়ে বলল, শুধু শুধু ঝগড়া করব কেন?

    জহির রেগে কিছু বললে ও চুপ করে থাকবি।

    ওইবা রেগে রেগে কথা বলবে কেন? রাগ করবার মত আমি কী করলাম?

    তুই বড়ই বোকা বকুল। এই রকম বোকা হলে তো মুশকিল।

    তোমার মতো চালাক হলে আপা মুশকিল। চালাক মেয়েরা বিয়ে-টিয়ে কিছুই করতে পারে না। একা একা থাকে এবং মনে করে বিরাট একটা কাজ করা হল।

    মুনা, অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। কি অদ্ভুত কথা বকুলের। চোখ-মুখ শক্ত করে কথা বলছে। আগের বকুলকে এখন আর চেনা যাচ্ছে না। মুনা কিছু বলল না। বাবুকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেল। বাজার করে বাবুকে পাঠাবে। ঘরে প্রায় কিছুই নেই। আজও নিশ্চয়ই অফিসে যেতে দেরি হবে।

    দুপুর বেলা জহির ঘুম থেকে উঠল। হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বসল। খেতে খেতেই বকুলের খবর শুনে সহজ গলায় বলল, ভালই তো। আমি অবশ্যি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। ডাক্তারকে দিয়ে কনফার্ম করিয়েছ তো?

    হুঁ।

    এখন খাওয়া-দাওয়া ঠিক করবে। তোমার এনিমিয়ার ভাব আছে।

    নতুন শিশু প্রসঙ্গে এখানেই তার আগ্রহের সমাপ্তি। যেন যা বলার বলা হয় গেছে। আর কিছু বলার নেই। নতুন একটি শিশু আসার ঘটনাটা যেন কোনো ঘটনাই না। জ্বর বা সর্দি হবার মতো একটা ব্যাপার।

    বকুল।

    বল।

    তোমার ঐ অসুখটা সেরেছে। স্বপ্লটপ্ল কী যেন দেখতে।

    সেরেছে।

    গুড। আমি ভেবেছিলাম এসে দেখব তোমাকে পাগলাগারদে ট্রান্সফার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর হা হা হি হি করছে।

    বকুল কিছু বলল না। ডালের বাটি এগিয়ে দিল। জহির বলল, যন্ত্রণা যখন শুরু হয় চারদিক থেকে এক সঙ্গে শুরু হয়। আটপাড়ার জল মহাল হাতছাড়া হবার উপক্রম হয়েছে।

    কেন?

    আরে কাজগপত্র কিছু নেই। সরকারি রেকর্ডে গণ্ডগোল। আমি তো এইসব নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। মা দেখত। কি করে রেখেছে। এখন আমার মাথায় হাত। পথের ফকির হচ্ছি বুঝলে। স্ট্রিট বেগার। এমন অবস্থা হয়েছে শান্তিমত ঘুমোতে পারি না।

    ঘুমোতে পার না কেন?

    মা সারাক্ষণ কাঁদে। দরজায় মাথা বাড়ি দেয়। এর মধ্যে ঘুমোব কী করে বল। এক’দিন আবার পুকুরে ডুবে মরতে গিয়েছিল। বিরাট কেলেংকারি।

    এইসব কথা তো কিছু লেখনি।

    লেখার মত কোনো কথা তো না। চা কর তো বকুল। ভাতটা শেষ করেই চা খেয়ে রওনা হব।

    কোথায় রওনা হবে?

    তিনজন দেওয়ানি উকিলের এ্যাড্রেস নিয়ে এসেছি। দেখি ব্যাটাদের কাউকে রাজি করানো যায় কিনা।

    জহির চা পুরো শেষ করল না। দুচুমুক দিয়ে বের হয়ে গেল। তার ভাবভঙ্গি পুরোপুরি স্বাভাবিক, এ রকম বলা যাবে না। কিছুক্ষণ পরপর বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছে। বকুলের বড় মায়া লাগছে। সারাক্ষণ তার ইচ্ছা হচ্ছিল বলে–তুমি যেখানে যাচ্ছ যাও কিন্তু আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাও। আমি সারাক্ষণ তোমার সঙ্গে থাকব। বলা হল না। লজ্জা লাগতে লাগল।

    জহির ফিরল রাত এগারটার দিকে। বিধ্বস্ত চেহারা। বঁ হাতের কনুইয়ের কাছে অনেকটা কেটে গেছে। হলুদ শার্ট রক্ত জমে কালচে হয়ে গেছে। জহির বিব্রত স্বরে বলল, রিকশা থেকে তাড়াতাড়ি নামতে গিয়ে এই অবস্থা।

    বকুল গরম পানিতে হাত ধুইয়ে দিল। ঘরে ডেটল ছিল না। বাবু এক বোতল ডেটল, তুলা, গজ কিনে আনল।

    জহির বলল, এ্যাকসিডেন্ট হওয়ায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল বুঝলে বকুল। ভাবলাম অযাত্রা। আসলে তা না। বেনী মাধব বাবুকে পেয়ে গেলাম।

    বেনী মাধব কে?

    খুব নামকরা লইয়ার। দিনকে রাত করতে পারে। ঘাণ্ড লোক। কাগজপত্র দেখেই সব বুঝে ফেলল। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রইল, তারপর বলল দাগ নম্বরে গণ্ডগোল আছে। তখনি বুঝলামএ হচ্ছে আসল জিনিস। এর কাছে হেংকি–পেংকি চলবে না।

    বকুলের বড় মায়া লাগছে। জহিরের কথা বলার ভঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে সে গভীর জলে পড়েছে উদ্ধারের আশা নেই। ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটো ধরে ও তেমনি ধরেছে বেনী মাধবকে।

    রাতে ঠিকমত খেতেও পারল না। একগাদা ভাত মাখিয়ে দু’এক নলা মুখে দিয়েই বলল খেতে পারছি না বকুল।

    কেন খেতে পারছি না?

    বুঝতে পারছি না। খুব ক্ষিধে লেগেছিল। হঠাৎ ক্ষিধেটা মরে গেল।

    একটু দুধ দেই। দুধ গুড মাখিয়ে খাও।

    দাও।

    দুধ দেয়া গেল না। ঘরে দুধ ছিল না।

    বকুলের কেমন জানি কান্না পেতে লাগল। আহ বেচারি দুধ ভাত খাবার জন্যে হাত গুটিয়ে বসে ছিল। বকুল ভেবে রেখেছিল রাত জেগে অনেক গল্প করে জহিরের মনটা সে ভাল করবে। গল্প ছাড়াও তো পুরুষদের অন্যসব দাবিও থাকে। সেই সব সে খুব আগ্রহ করেই মেটাবে। ঘুমুবার সময় ঘুমুবে জহিরকে জড়িয়ে ধরে। আহা বেচারা একা একা কত ঝামেলা সহ্য করছে। আর তাকে একা ঝামেলা সহ্য করতে দেবে না। এবার সে নিজেও সঙ্গে যাবে।

    জহির বলল, এক কাপ আদা চা খাওয়াবে বকুল। শরীরটা কেমন ঝিম মেরে আছে। কিছু ভাল লাগছে না।

    তুমি বিছানায় শুয়ে থাক। আমি চা বানিয়ে আনছি।

    মাথা ধরার ট্যাবলেট থাকলেও একটা নিয়ে এস। মাথাটা কেমন ধরা ধরা মনে হচ্ছে।

    বকুল চা নিয়ে এসে দেখে জহির ঘুমুচ্ছে। ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষের ঘুম; বড় বড় করে নিঃশ্বাস ফেলছে। মাথাটা বালিশ থেকে খানিকটা সরে গেছে। বকুলের ঘুম এল না।

    জহিরকে জড়িযে ধরে সে জেগে রইল। পুরানো কথা মনে পড়তে লাগল। প্রথম যখন পরিচয় হয়। জহিরের সঙ্গে কথা বলতে কেমন ভয় ভয় লাগত। আবার ভাল ও লাগত। জহিরের ফার্মেসির সামনে দিয়ে যাবার সময় সে হাঁটতে মাথা নিচু করে যাতে জহির তাকে দেখতে না পায় অথচ মনে মনে সারাক্ষণ চাইত জহির তাকে দেখে ফেলুক। প্রায় সবদিনই জহির তাকে দেখতে। যেদিন দেখতে না সেদিন এমন কষ্ট হত চোখে পানি এসে যেত। আবার চোখে পানি আসার জন্যে নিজের ওপর রাগ লাগত। কী অদ্ভুত সময় গেছে। ইস এই সময়টা আর ফিরে আসবে না। ভালবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভাল। বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালবাসা থাকে না। আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়ত বেশি প্ৰিয।

    বকুল।

    কি?

    ক’টা বাজে দেখ তো।

    জহির বিছানায় উঠে বসল। এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে যেন ঠিক বুঝতে পারছে না। সে কোথায়। বকুল বাতি জ্বালাল। ঘড়ি দেখল।

    ক’টা বাজে?

    দেড়টা। চা এনে দেখি তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ-তাই আর জাগাইনি।

    ঠাণ্ডা পানি খাওয়াও তো। গরম লাগছে খুব। জানালা খোলা না?

    হ্যাঁ খোলা।

    দমবন্ধ দমবন্ধ লাগছে।

    বকুল পানি নিয়ে এসে দেখে জহির সিগারেট ধরিয়েছে। দুচুমুক পানি খেয়েই সে গ্রাস নামিয়ে রাখল। করুণ গলায় বলল, শরীরটা কেমন যেন লাগছে।

    কেমন লাগছে?

    বুঝতে পারছি না।

    শরীর খারাপ লাগছে তো–সিগারেট টানছ কেন?

    জহির সিগারেট ফেলে দিল। বকুল লক্ষ্য করল জহির খুব ঘামছে। সে ক্ষীণ স্বরে বলল, তল পেটে কেমন জানি চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে। বমি বমি লাগছে।

    আপাকে ডেকে আনব?

    উনাকে ডেকে এনে কি হবে? উনি কি করবেন? তুমি বরং চিনির সরবত করে দাও। তৃষ্ণা লাগছে।

    বকুল চিনির সরবত করে আনল। দুচুমুক দিয়ে সরবতের গ্লাস নামিয়ে জহির ক্লান্ত গলায় বলল, বোধ হয় মারা যাচ্ছি।

    কী বলছ তুমি? মারা যাবে কেন?

    আপাকে ডাক। শরীরটা বেশি খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছে স্ট্রোক। আমাকে সোহরাওয়াদীতে নিতে বল। আমি নিজে ডাক্তার।

    মুনা বাবুকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। বাকেরকে খুঁজে বের করতে হবে। জহিরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেত হবে। এক একটা মিনিটও এখন মূল্যবান।

    বাকের ঘরে ছিল। স্যান্ডেল খুঁজে বের করার সময়ও সে নিল না। খালি পায়ে ছুটে বেরিয়ে গেল। কোথায় যাচ্ছে কি করার জন্যে যাচ্ছে তাও সে জানে কি না কে জানে।

    বাকের অসাধ্য সাধন করল। চল্লিশ মিনিটের মাথায় জহিরকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারল। বড় রকমের একটা ঝাপটা সামলান গেল। তবে জহিরের শরীরের বা অংশ অচল হয়ে গেল।

    বকুল ক্রমাগত কাঁদছিল। জহির ক্ষীণ স্বরে বলল, কাদার কিছু নেই। ঠিক হয়ে যাব। আমি ডাক্তার আমার কথা বিশ্বাস কর।

    বকুল কোনো কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না–সে শুধু দেখছে। একজন সুস্থ সবল মানুষ হঠাৎ পা নাড়াতে পারছে না। এটা কেমন করে হয়।

    মুনা বলল, এ রকম বিশ্ৰী করে কাঁদছিস কেন? বকুল থমথমে গলায় বলল, সুন্দর করে কাঁদাটা কেমন আমি জানি না আপা। তাই বিশ্ৰী করে কাঁদি। তোমার ভাল না লাগলে তুমি অন্য ঘরে যাও।

    জহিরের শরীর যত দ্রুত সারবে ভাবা গিয়েছিল তত দ্রুত সারল না। মাস খানেক পর দেখা গেল। ডান পা কিছু কিছু নাড়াতে পারে; বা পায়ের আঙুল নাড়াতে পারে এর বেশি কিছু না।

    এভাবে হাসপাতালে পড়ে থাকার কোন মানে হয় না। জহির নেত্রকোনায় ফিরে গেল। সঙ্গে গেল বকুল এবং বাবু।

    মা হবার লক্ষণ বকুলের মধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে–বেশি পরিশ্রম করতে পারে না হাঁপিয়ে উঠে। কিন্তু তবু জহিরের সব কাজ নির্জের হাতে করতে চায়। তার শাশুড়ির এই জিনিসটা কেন জানি ভাল লাগে না। এক’দিন তিনি বলেই ফেললেন, আলগা আদর কিন্তু ভাল না বৌমা। বকুল সঙ্গে সঙ্গে বলল, আলগা আদর কাকে বলে মা?

    তুমি যা করছি তার নাম আলগা আদর।

    এর নাম আলগা আদর কেন?

    দু’দিন আগের কথা ভুলে গেছ। দু’দিন আগে তো এক ঘরে ঘুমুতে পর্যন্ত পারতে না।

    এখন পারি তাতে অসুবিধা কি?

    অসুবিধা কিছুই না। মুখের ধার একটু কমাও তো বাউ। এত ধরা ভাল না।

    বকুলের মুখের ধার কমে না। বরং বেড়েই চলে। বাবু অবাক হয়ে বোনকে দেখে। অবাক হয়ে ভাবে কত দ্রুত একজন মানুষ বদলায়। কত ভাবেই না বদলায়।

    বাবুকে এখানকার স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়েছে। তার কিছুই ভাল লাগে না। ঢাকায় যেতেও ইচ্ছা করে না। মাঝে মাঝে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হয়। তখন শুধু মরে যেতে ইচ্ছা করে। মরণের কথা ভাবতে তার বড় ভাল লাগে।

    জোবেদ আলি শুকনো মুখে অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। মাথা অন্য দিনের চেয়েও নিচু করে রেখেছে। মনে হচ্ছে পিঠের কাছে একটা কুঁজ বের হয়েছে। তার হাতে একটা আধখাওয়া সিগারেট। সিগারেট টান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে থুথু ফেলছে। তার গায়ে হলুদ রঙের চাদর। পরনের পায়জামা ইন্ত্রি করা। তবে গায়ের চাদর বেশ ময়লা।

    জলিল মিয়া ব্যাপারটা লক্ষ্য করল। যদি সে তার নিজের দোকান ছাড়া অন্য কিছুই লক্ষ্য করে না। চাদরের হলুদ রঙটাই তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। মনে মনে বলল, দুপুরের এই গরমে গায়ে চাদর কেন? অসুখ-বিসুখ নাকি? অসুখ-বিসুখের কথা মনে হবার কারণ হচ্ছে তার নিজেই আজ জ্বর এবং তার গায়েও হলুদ খন্দরের চাদর। দোকানে তার আসার কোন ইচ্ছাই ছিল না। তবু এসেছে। ক্যাশে বসে ঝিমুচ্ছে। জলিল মিয়া লক্ষ্য করল জোবেদ আলি দুবার তার দোকানের সামনে দিয়ে হেঁটে গেল। মাথা নিচু করেই আড় চোখে তাকাল তার দিকে। লোকটা কী কাউকে খুঁজছে? কাকে খুঁজবে?

    খুঁজুক যাকে ইচ্ছা। তোর কি? জলিল মিয়া মাথা ধরার দুটো ট্যাবলেট খেয়ে চোখ বন্ধ করল। কোন কাস্টমার নেই। তিনটার পর থেকে দোকান খাঁ খা করে। এ রকম হলে তো ব্যবসা তুলে ফেলতে হবে। জলিল মিয়া বেশিক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখতে পারল না। একজন এসেছে দশ টাকা ভাংতি নিতে। কৰ্কশ গলায় বলা যেতে পারে।–ভাংতি নাই। কিন্তু বলাটা ঠিক হবে না। এরা হচ্ছে কাস্টমার। এদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ করতে হবে। সে দু’টা পাঁচ টাকার নোট দিয়ে তেলতেলে ধরনের হাসি হাসল আর ঠিক তখন দোকানে ঢুকল জোবেদ আলি। চিচি করে বলল, ভাই সাহেব চা হবে?

    জলিল মিয়া হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। জ্বর চেপে আসছে। কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। শরীর ভাল থাকলে দু’একটা টুকটাক কথা বলা যেত যেমন–এতদিন এই অঞ্চলে আছেন, আর আজ প্রথম চা খেতে আসলেন ব্যাপার কী ভাই? গায়ে চাদর যে? অসুখ-বিসুখ নাকি? এই দেখেন আমারো একই অবস্থা। নির্ঘাৎ একশ তিন জ্বর। তবু দোকানে আসতে হয়। উপায় কী ভাই বলেন? একটা বিশ্বাসী লোক নাই। সব চোর।

    জোবেদ আলি চায়ে দু’টা চুমুক দিয়েই বসে আছে। সিগারেট ধরিয়ে খুঁক-খুক কাশছে। কেমন ভয়পাওয়া চোখে তাকাচ্ছে। জলিল মিয়া নিঃসন্দেহ হল এই লোক চা খেতে আসেনি। অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। থাকুক উদ্দেশ্য। তার তা দিয়ে কোনো কাজ নেই। সে ব্যবসা করতে এসেছে ব্যবসা করবে। তার বেশি কোন কিছুতেই কাজ কী?

    জোবেদ আলি চায়ের দাম দিলা চকচকে একটা এক টাকার নোট দিয়ে। এতে জলিল মিয়ার মনটা খানিকটা ভাল হল। কাস্টামাররা তাদের ছেড়াখুড়া পচা নোটগুলি তাকে দিয়ে পার পায়।

    জলিল মিয়া বলল, ভাল আছেন?

    জোবেদ আলি আগের মতোই চিঁচিঁ স্বরে বলল, জি ভাল। আপনি বাকের সাহেব কোথায় আছে বলতে পারেন?

    জি না।

    কোথায় পাওয়া যাবে উনাকে?

    জানি না।

    জোবেদ আলি খানিকক্ষণ ইতস্তত করে বলল, খুব দরকার ছিল! যদি বলতে পারেন উপকার হয়।

    ইদারিসের ওখানে খোঁজ করেন। ফার্নিচারের দোকান দিয়েছে যে ঐ ইদারিস। দুপুর বেলায় ঐ দোকানের দুতলায় ঘুমায়।

    জি আচ্ছা। আপনার এখানে আসবে না?

    জানি না। ইনার চলার তো কোন ঠিকাঠিকানা নাই।

    খুব দরকার ছিল।

    শরীর ভাল থাকলে জলিল মিয়া বলত, কী দরকার? শরীর ভাল নেই বলেই সে কিছু বলল না। তাছাড়া জোবেদ আলি মুখের কাছে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। অসুস্থ শরীরের কারণে ধুয়া সহ্য হচ্ছে না। নাড়ির ভেতর পাক দিয়ে উঠছে। কিছু বলাও যাচ্ছে না। এরা কাস্টমার ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে এদের খাতির করে চলতে হয়। জোবেদ আলি বলল, আপনার সঙ্গে দেখা হলে একটা খবর দিতে পারবেন?

    কি খবর?

    জোবেদ আলি বেশ কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল, থাক কিছু বলতে হবে না। সে ইদারিসের ফার্নিচারের দোকানো গেল। ইদারিস একটা সোফাসেটে বানিস ঘসছে। সে জোবেদ আলিকে অনেক কথাই বলল, যার সারমর্ম হচ্ছে বাকের ভাই ঘুমুচ্ছে তাকে ডাকা যাবে না। ডাকলে খুব রাগ করবে।

    খুব দরকার ছিল ভাই।

    দুই ঘণ্টা পরে আসেন–মাত্র ঘুমাইছে।

    আমি না হয় বসি?

    ইচ্ছা হইলে বসেন।

    জোবেদ আলি আধঘণ্টার মত বসল, এর মধ্যে সে পাঁচটা সিগারেট খেয়ে ফেলল। ৬ষ্ঠ সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল, এক কাপ চা খেয়ে আসি। এর মধ্যে ঘুম ভাঙলে বলবেন আমার কথা। আমার নাম জোবেদ আলি। উনার সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজন।

    সন্ধ্যার আগে ঘুম ভাঙবে না। আপনার যেখানে ইচ্ছা যান।

    জোবেদ আলি চা খেতে গিয়ে আর ফিরল না। রাত নটার দিকে আবার তাকে দেখা গোল বিভিন্ন জায়গায় বাকেরের খোঁজ করছে। তাঁকে আরো চিন্তিত ও বিষন্ন দেখাচ্ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও বাকেরের সে কোনো হদিস পেল না।

    সন্ধ্যা মেলানোর পর বাকের ঘর থেকে বেরুল। জোবেদ আলি তাকে খোঁজ করছে এই খবরে সে বিশেষ আগ্রহ বোধ করল না। খোঁজ করছে বলেই ব্যস্ত হয়ে ছুটে যেতে হবে নাকি? যার দরকার সে আসবে।

    বাকের চা খেতে খেতে ভাবতে লাগল। আজ রাতে করার কিছু আছে কী না। অনেক ভেবেও করার মত কিছু পেল না। মুনার সঙ্গে দেখা করা যেত। কিন্তু মুনা খুব একটা অন্যায় কাজ করছে। বাকেরকে কিছু না বলে তার কোনো এক মামার বাড়িতে গিয়ে উঠেছে। মামার বাড়িটা কোথায় তা অবশ্যি সে জানে। কী দরকার আগ বাড়িয়ে যাওয়ার? যে আমাকে চিনে না। আমিও তাকে চিনি না। মরে গেলেও মুনার বাড়ি সে খোঁজে বের করবে না। তার দায়টা কী?

    রাত আটটার দিকে সে ইয়াদের বাসায় গেল। পুরানো বন্ধু-বান্ধব সব একেবারে ছেড়ে দেয়া ঠিক না। খোঁজখবর রাখা দরকার। ইয়াদের বাসার ভোল পাল্টেছে। নতুন রঙ করা হয়েছে। দরজার ওপর কায়দার একটি কলিং বেল। টিপলেই মিউজিক বাজে। বেশ লম্বা-চওড়া মিউজিক। কলিংবেল টেপার সঙ্গে সঙ্গেই ইয়াদ দরজা খুলে দিল। হাসি মুখে বলল, আরো দোস্ত তুই। বাকেরের মনে হল ইয়াদের হাসিটা আসল নয়, মেকি মাল। তাছাড়া ইয়াদ দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। যেন বাকেরকে ভেতর ঢুকতে দিতে রাজি না।

    খোঁজখবর নিতে এলাম। আছিস কেমন?

    ভাল। আরেক’দিন আয় তোস্ত। আজ একটা ব্যাপার আছে। মানে একটা ঝামেলা।

    কি ঝামেলা?

    আমার ওয়াইফ বাচ্চার জন্মদিন না কি যেন করছে। শ্বশুর বাড়ির দু’একজনকে বলেছে। মানে…

    আমি থাকলে অসুবিধা কি?

    মেয়েদের কারবার তোর ভাল লাগবে না।

    অপমানিত বোধ করার মত কথা কিন্তু ইয়াদের ফ্যাকাশে মুখ দেখে বাকেরের মজাই লাগছে। ইয়াদ অপ্রস্তুত গলায় বলল, তুই কাল আয় দোস্ত। ভাত খাঁ আমাদের সাথে।

    ঠিক আছে আসব।

    সন্ধ্যা বেলা চলে আসিস–এক সঙ্গে ছবি দেখবে। ভিসিআর কিনলাম একটা, জি টেন।

    ভিসিআরও কিনে ফেলেছিস? বাকি রইল কী?

    নিজে কিনি নাই দোস্ত। আমার এক শালা প্রেজেন্ট করেছে। যা মুশকিলে পড়েছি…

    মুশকিল কী?

    রোজ ছবি আনতে হয়। এমন অভ্যাস হয়েছে দোস্ত–শোয়ার আগে একটা ছবি না দেখলে ভাল লাগে না। বোম্বের লেটেস্ট ছবি সবই পাওয়া যায়। ওদের হলে রিলিজ দেয়ার আগে ঢাকায় চলে আসে।

    ভালই তো।

    পয়সা যার যায়। সেই বুঝে ভাল কী মন্দ। তিনটা ভিডিও ক্লাবের মেম্বার হয়েছি। পঁচিশ টাকা করে ক্যাসেট। জলের মত টাকা যাচ্ছে রে দোস্ত।

    তুই ভেতরে যা। তোর বউ বোধ হয় রেগে যাচ্ছে।

    যাচ্ছি। চল তোকে একটা সিগারেট খাওয়াই। ঘরে সিগারেট টোটেলি স্টপড। কোথেকে শুনেছে ক্যানসার মেয়েছেলের কারবার।

    ইয়াদ রাস্তা পর্যন্ত এল। দু’টা সিগারেট কিনল। বাকেরকে একটা দিয়ে নিজে একটা ধরাল, ফুর্তির ভঙ্গিতে বলল, কাল তোর জন্যে ছবি এনে রাখব। আন্ধা-কানুন। মারাত্মক।

    বাকের বলল, সিগারেট খাচ্ছিস গন্ধে তোর বউ বুঝে ফেলবে?

    বাথরুমে ঢুকে হেভি ওয়াসিং দিব কেউ টের পাবে না। বিয়ে করা বড় যন্ত্রণা রে দোস্ত। ভাল কথা ঐ তিন মেয়েওয়ালা বাড়ির ব্যাপারটার খোঁজ পাওয়া গেছে। তুই যা ভাবছিলি তাই। পাক্কা খবর আছে আমার কাছে।

    তাই নাকি?

    হাই ক্লাস মেয়েছেলে–শুধু মালদার পার্টির জন্যে। রুই-কাতলাদের জিনিস। তবে দোস্ত একটা রিকোয়েস্ট তুই এদের ঘাটাস না। বিপদে পড়বি।

    কি বিপদ?

    রুই-কাতলা ঘটালে বিপদ হয় না? পাগলামি করবি না। খবরদার। কাল বলব সব কিছু। সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় চলে আসবি।

    বাকের ঘড়ি দেখল। মাত্র আটটা দশ। সময় কাটানোই একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারোটার আগে ঘুম আসে না। বারোটা পর্যন্ত সে করবে কী? মুনার খোঁজে যাওয়াটা খুবই উচিত। মামার কাছে থাকলেও তো মেয়েটা একা। তাছাড়া আপন মামাও নিশ্চয়ই না। আপন মামা হলে ভাগীর খোঁজখবর করত। এর মধ্যে একবারও তো খোঁজ করতে দেখেনি।

    এদিকে বকুলদেরও একটা খবর নেয়া দরকার। জহিরের অবস্থাটা কী। এত বড় রুগী গ্রামে নিয়ে ফেলে রেখেছে বেকুবীর চূড়ান্ত করছে। মুনার সঙ্গে কথা বলে আবার ঢাকা আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এই কথাটা বলার জন্যেই মুনার কাছে যাওয়া দরকার। অনন্য কিছু না। রাগ করে ঘরে বসে থাকার কোন অর্থ হয় না। রাগ বড় না রুগী বড়?

    মুনা খুব সহজ স্বরে বলল, ভেতরে আসুন বাকের ভাই। মুনার গলায় মাফলার জড়ানো। মুখ শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। চোখ ঈষৎ লাল। বাকের চিন্তিত মুখে বলল, অসুখ নাকি?

    হ্যাঁ জ্বর। গতকাল মাত্র কমেছে। এখন আবার শরীর খারাপ লাগছে। আবার জ্বর আসবে কী না কে জানে। এ বাড়িতে এসেই জ্বরে পড়লাম। এই জন্যেই আপনাকে খবর দিতে পারিনি। কিছু মনে করবেন না বাকের ভাই।

    আরে কি মুশকিল। মনে করার কি আছে?

    এ বাড়ির দোতলার একটা ঘরে মুনা থাকে। মুনা বাকেরকে সরাসরি তার ঘরে নিয়ে গেল। ঘরটা বেশ বড়। মুনার যাবতীয় জিনিসপত্র গাদাগাদি করে রাখা। কিছুই গোছানো নেই। বাকের বিস্মিত হয়ে বলল, এই অবস্থা কেন?

    টেম্পোরারি থাকার জন্যে আসা তাই কিছুই গুছাইনি। হোস্টেল টোস্টেল কিছু আমার জন্যে পান কী না দেখবেন তো। অবিবাহিত মেয়েদের একা থাকা যে কি সমস্যা।

    হুট করে চলে এলে একটা খবর দিলে না।

    মামা জোর করে নিয়ে এল। একা একা একটা বাড়িতে থাকি শুনেই মাথা খারাপের মতো হয়ে গেল। আমার নিজেরও ভয় ভয় লাগিছিল। কাজের মেয়েটা চলে গেল তো। বাকের ভাই আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন বসুন। খাটটায় বসুন। আমি চট করে আসছি।

    চা-টা কিছু খাব না কিন্তু।

    চা আনছি। আপনাকে বলল কে?

    রাড়ি একদম খালি খালি লাগছে। লোকজন নাই।

    অনেক লোক। বিয়ের দাওয়াতে গেছে। এগারটার দিকে আসবে।

    মুনা নিচে নেমে গেল। বাকের দীর্ঘ সময় একা একা বসে রইল। মেঘ ডাকছে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে মুশকিল। এতক্ষণ ধরে মুনা নিচে কী করছে কে জানে। একটা সিগারেট খেতে পারলে হত। সিগারেট পকেটে আছে। দেয়াশলাই নেই।

    অনেক দেরি করে ফেললাম। তাই না বাকের ভাই?

    মুনার হাতে ট্রে। ট্রেতে রাতের খাবার।

    এসব কী?

    ভাত নিয়ে এসেছি। বসে যান।

    আরে কি মুশকিল।

    কথা বাড়বেন না তো বসে পড়ুন। আপনার জন্যে আলাদা কিছু করিনি। আমারটাই আপনাকে দিচ্ছি। আমি রাতে কিছু খাব না। জ্বর আসছে।

    আবার জ্বর আসছে?

    হ্যাঁ আসছে। এই দেখুন কত জ্বর।

    মুনা বাকেরকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বাকেরের হাত ধরল। সত্যি সত্যি জ্বর এবং অনেক জ্বর। এতটা জ্বর নিয়ে কেউ এমন স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছে কী করে কে জানে।

    হাত ধরায় লজ্জা পেলেন নাকি বারেক ভাই?

    না লজ্জা পাব কেন? জ্বর দেখাবার জন্যে হাত ধরেছি। অন্য কিছু তো না।

    মুনা হাসতে হাসতে বলল, তা ঠিক। ভাত নিয়ে বসুন। আপনাকে কেউ তো আদর করে খাওয়ায় না। আদর করে খাইয়ে দি।

    বাকেরের চোখ ভিজে উঠল। সে আতংকে কাঠ হয়ে গেল। টপ করে যদি এক ফোঁটা চোখের পানি পড়ে যায় বড় মুশকিল হবে। মুনা দেখে ফেলবে। আর সে যা মেয়ে এই জিনিস দেখলে

    বাকের ভাই!

    বল।

    আপনি কি আমাকে পছন্দ করেন?

    বাকেরের অস্বস্তির সীমা রইল না। এইসব আবার কি ধরনের কথা? জ্বরে কি মেয়েটার মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি? ভাত শেষ করে একজন ডাক্তার নিয়ে আসতে হবে। ডিলে করা ঠিক হবে না।

    কথা বলছেন না কেন? আমাকে পছন্দ করেন?

    কেন করব না। করি। কতটুকু পছন্দ অল্প না অনেকখানি?

    জানি।

    আমি কিন্তু আপনাকে পছন্দ করি না বাকের ভাই।

    জানি।

    আপনি একজন অপদাৰ্থ মানুষ। আকাজের মানুষ।

    জানি।

    জানেন তো নিজেকে বদলান না কেন?

    বাকের জবাব না দিয়ে ভাত মাখতে লাগল। সে এখন বেশ আরাম পাচ্ছে। চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। এ্যাকসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা নেই।

    নিজেকে বদলান না কেন?

    বদলেছি তো।

    কিছুই বদলাননি। আগে যেমন এখনো তেমনি আছেন। ভবঘুরের মতো চলাফেরা, গুণ্ডামি, বড় বড় কথা। এইসব ছাডুন তো।

    আচ্ছা ছাড়ব।

    আর ছাড়বেন। এই জীবনে ছাড়বেন না; বরং এক কাজ করুন খুব ভাল, খুব লক্ষ্মী এ রকম একটা মেয়েকে বিয়ে করে ফেলুন। তাতে কাজ হতে পারে। মেয়েরা মানুষ বদলাতে ওস্তাদ।

    বাকেরের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। তবু থালা হাতে বসে আছে। মুনা তার সামনে। কী সুন্দর সরল মুখ অথচ কি কঠিন একটা মেয়ে।

    বাকের ভাই।

    উঁ।

    কয়েকদিন জ্বরে খুব কষ্ট পেয়েছি। জ্বরের সময় মনে হত আমার মতো একলা এই পৃথিবীতে কেউ নেই। খুব কষ্ট হত।

    কি যে কাণ্ড তোমার। একটা খবর দিলে চলে আসতাম না? রাত দিন থাকতাম। খবর দিবে না। কিছু না।

    জ্বরের সময় আমি আরেকটা জিনিস বুঝতে পারলাম যে আপনাকে আমি খুব পছন্দ করি। আপনার মত বাজে ধরনের একজন মানুষকে এতটা পছন্দ করি ভেবে নিজের ওপর খুব রাগ হচ্ছিল।

    রাগ হওয়ার কথা।

    তারপর মনে হল আপনার মত ভাল মানুষই বা কজন আছে। আপনি যে একজন ভালমানুষ সেটা কী আপনি জানেন?

    কি সব কথাবার্তা তুমি বলছ?

    সবদিন কি এইসব কথা বলা যায়? হঠাৎ এক আধাদিন বলতে ইচ্ছা করে। বাকের ভাই আমি খুব একলা হয়ে পড়েছি। আর পারছি না।

    মুনার চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। বাকের কি বলবে কিছু বুঝতে পারল না। কী বললে মুনা খুশি হবে? সে যা করতে বলবে তাই করবে। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে বললে লাফিয়ে পড়বে।

    ঝড়বৃষ্টি আসবে বাসায় চলে যান। আপনার বাসা তো আবার নেই। কোন একটা দোকানেটোকানে গিয়ে উঠে পড়ুন। ঐ কাঠের দোকানেই তো এখন থাকেন?

    হ্যাঁ।

    আপনাকে এই রকম আর আমি থাকতে দেব না। সুন্দর একটা একতলা বাড়ি ভাড়া করব। সারাদিন যত ইচ্ছা গুণ্ডামি করবেন। সন্ধ্যার পর ফিরে আসবেন। রাতে দু’জন মুখোমুখি বসে ভাত খাব।

    মুনার গলা ধরে এল। কথা শেষ করতে পারল না। বাকের একটা ঘোরের মধ্যে তার ঘরে ফিরে এল। বৃষ্টি হচ্ছিল সে পুরোপুরি ভিজে গেছে। কাদায় পানিতে মাখামাখি। অথচ কিছুই বুঝতে পারছে না। ভেজা কাপড়েই সে তার বিছানায় বসে আছে। ঘোর কাটল রাত তিনটার দিকে।

    পুলিশের বাঁশি বাজছে। ওসি সাহেব দরজায় লাথি দিচ্ছেন। পুলিশ কর্কশ গলায় ডাকছেন–বাকের, এই বাকের।

    বাকের দরজা খুলতেই তাকে অ্যারেস্ট করা হল। অভিযোগ গুরুতর। জোবেদ আলি খুন হয়েছে। খুন করার দৃশ্য এবং খুনির পালিয়ে যাবার দৃশ্য তিনজন দেখে ফেলেছে। তিনজনই বলছে– খুন করছে বাকের।

    বাকেরের এই মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলল। ডেটের পর ডেট পড়ে। মামলা পরিচালনা করলেন মুনার সেই পরিচিত উকিল। কখনো তিনি মুনাকে বললেন না যে মামলা টিকবে না। উল্টোটাই বললেন। একবার না। অনেকবার বললেন। বলার সময় প্রতিবারই কিছুটা বিষন্ন হলেন।

    ব্যাপারটা কি জানেন, ওরা মামলাটা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে। আমি কোন ফাক ধরতে পারিনি। মোটিভ আছে প্রত্যক্ষদশীর সাক্ষী আছে। মিথ্যা মামলার সাজানোটাই হয় অসাধারণ। এই ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমি আপনাকে মিথ্যা কোন আশ্বাস দিতে যাচ্ছি না। মনে হচ্ছে কনভিকশন হয়ে যাবে।

    উকিলের মুখ বিষন্ন দেখা যায়।

    বিষন্ন দেখায় না। শুধু বাকেরকে। মুনার সঙ্গে তার যতবারই দেখা হয় সে ততবারই বলে, কোনমতে যদি বের হতে পারি তাহলে সিদ্দিক শালাকে পুতে ফেলবে। তবে আমাকে আগেই যদি ঝুলিয়ে দেয় তাহলে তো কিছু করার নেই।

    ভয় লাগে না বাকের ভাই। যদি সত্যি সত্যি…

    আরে না। ভয় লাগে না।

    সত্যি ভয় লাগে না।

    রাতের বেলা একটু গা ছমছম করে। রাতের বেলা ফাঁসি দিলে একটা ভয়ের ব্যাপার হত। ফাসিটা তো দিনে দেয়। তাই ভয়টা থাকে না।

    পাগলের মত কথাবার্তা বলছেন বাকের ভাই।

    পাগলের মতো বলব কেন এটা হচ্ছে ট্রথা। রাতের বেলা মরা খুবই ভয়ংকর। দিনের মৃত্যু কিছু না। সিদ্দিক শালাকে আমি রাতের বেলা মারব। ওয়ার্ড অব অনার।

    মামলা চলতে থাকে।

    মুনা অপেক্ষা করে।

    ক্লান্তির অপেক্ষা। দীর্ঘ দিবস। দীর্ঘ রজনী কিছুতেই যেন মার কাটে না।

    আশা ও আনন্দের কথায় ভর্তি করে সুন্দর সুন্দর চিঠি লেখে বকুল। তার ছেলের কথা লেখে, ছেলের দুষ্টামির কথা লেখে, জহির যে ক্রমে ক্রমেই সেরে উঠছে সে কথাও লেখে। সে নিজেও সেরে উঠেছে। সেই কথাও থাকে।

    এখন সে আর পুরনো দুঃস্বপ্ন দেখে না। স্বামীর গায়ে হাত রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমায়। তাকে সাবধান করে দিতে অশরীরী কেউ আর আসে না। কত সুন্দর সুন্দর চিঠি কিন্তু মুনার পড়তে ভাল লাগে না।

    চিঠি লিখে জাহানার নামের অপরিচিত একটি মেয়ে। অচেনা একজন কিন্তু বড় চেনা একজন। বড় সুন্দর করে সে লেখে–আপা, আমরা দু’জন কিছু কী করতে পারি আপনার জন্যে? আপনার জন্যে ও বড় কষ্ট পচ্ছে। একটা কিছু করার সুযোগ আপনি ওকে দিন। বাকের সাহেবের মামলা যেদিন কোর্টে উঠে ও সেই সব দিনগুলিতে মামুন কোর্টে উপস্থিত থাকে। লজ্জায় আপনার সামনে যেতে পারে না। এক’দিন সে বলল, আপনি নাকি খুব কাঁদছিলেন বলতে বলতে সেও খুব কাদল। আপা, আপনি ওকে কিছু করার সুযোগ দিন।

    এই মেয়েটির চিঠি পড়তে তার ভাল লাগে। কিন্তু জবাব দিতে ইচ্ছা করে না। বড় আলস্য লাগে। মাঝে মাঝে এমন ক্লান্তি লাগে যে কোর্টে যেতে পর্যন্ত ইচ্ছা করে না। তবু তাকে যেতে হয়। এক কোণে বসে থেকে সে প্রাণপণে চেষ্টা করে হাই গোপন করতে। কোর্ট থেকে বেরুতে বেরুতে কোন কোন দিন তিনটা সাড়ে তিনটা বেজে যায়। ক্ষিধেয় শরীর কেমন করতে থাকে। কিন্তু কিছু খেতে ইচ্ছা করে না। ঝিম ধরা দুপুরে সে রাস্তায় একা একা হাঁটে।

    হাঁটতে হাঁটতেই কোনো কোনো দিন হঠাৎ সুখের কোনো কল্পনা মাথায় চলে আসে যেন সে রিকশা করে যাচ্ছে হঠাৎ পথে বাকেরের সঙ্গে দেখা। বাকের তাকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে আসছে। উৎসাহ নিয়ে বাকের বলল–যাচ্ছ কোথায়?

    মুনা বলল, তা দিয়ে আপনার দরকার কি?

    না কোনো দরকার নেই। এমনি জিজ্ঞেস করলাম।

    বলতে বলতে বাকেরের মুখ একটু যেন বিষন্ন হয়ে গেল। মুনা বলল, আপনার কোনো কাজ না থাকলে আসুন তো আমার সঙ্গে এক জায়গায় যাব।

    বাকের রিকশায় উঠল। আনন্দে তার চোখ ঝিকমিক করছে। বৃষ্টি শুরু হল তখন। তারা হুঁড তুলল না। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দু’জন এগুচ্ছে। হাওয়ায় মুনার চুল উড়ছে। বাকের বলছে বাতাসটা খুব ফাইন লাগছে তো। বড় ফাইন।

    মুনার কোনো কল্পনাই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ঝিম ধরা ক্লান্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে সে ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে। আকাশের রঙ ঘন নীল। সেখানে–সোনালি ডানার চিল চক্রাকারে ওড়ে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজনম জনম – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article কবি – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }