Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ক্যামিল – পিয়ের লেমেইত

    পিয়ের লেমেইত এক পাতা গল্প325 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্বিতীয় দিন – বিকাল

    বিকাল ৪টা ১৫

    বাইরে বেশি সময় কাটাইনি। মাথায় শুধু একটা চিন্তাই ঘুরছিল। পুরোনো বন্ধুকে না আবার হারিয়ে ফেলি। স্টেক খেতে খেতে অনেক সময় পার করেছি। এখন সিগারেট ধরানো কিংবা গাড়ির জানালা খোলার মত ভুল করা যাবে না। কিন্তু সত্যিই যদি আসার ইচ্ছা থাকে রাভিচের, তাহলে এতো দেরি কেন? এদিকে আমি একদম ক্লান্ত।

    ওকে ধরার জন্য স্বর্গ নরক উলটে পালটে ফেলছে পুলিশ। তাই এখানে আসা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

    শয়তানের নাম নিতেই, এ কার মুখ দেখলাম আমি? এ তো আমার পুরোনো বন্ধু ডুসান। ঘাড় বলতে কিছু নেই, পেটানো শরীর আর সার্কাসের ক্লাউনের মত বড় বড় পা তার।

    মূল দরজা থেকে প্রায় ত্রিশ মিটার দূরে গাড়িতে বসে আছি। তবে ডুসান আমার থেকে প্রায় পঞ্চাশ মিটার দূরে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। কে জানে কেবলই কোনো ছুকরির সাথে আনন্দ ফুর্তি করে এলো কি না। তবে চেহারা দেখে সুবিধার মনে হচ্ছে না।

    পরনে দশ বছরের পুরোনো এক কোট, পায়ে ছেড়া জুতো। বোঝাই যাচ্ছে, একদম কপর্দকশূন্য অবস্থায় দিন পার করছে।

    আর, এটা খুবই খারাপ লক্ষণ।

    গত জানুয়ারির কাজের পর ভাগের অংশ ঠিকমতোই পেয়েছিল ডুসান। পকেট ভর্তি থাকার পর তো এমন অবস্থা হওয়ার কথা না। কারন ওর যা স্বভাব, সেই হিসাবে জ্বলজ্বলে স্যুট, হাওয়াই শার্ট আর চকচকে জুতো পরে ঘোরার কথা। কিন্তু এখন তো ভবঘুরের মত লাগছে।

    একটা খুন আর চারটা ডাকাতির অভিযোগ কাঁধে নিয়ে ঘোরা সহজ কথা নয়। নিজের চলাফেরার পরিধিও অনেক সীমিত হয়ে গেছে ওর।

    হয়তো কেউ বেঈমানি করেছে ওর সাথে। ঠিক আমার সাথে যেমনটা হয়েছে। অবশ্য এমনটা হওয়ারই কথা। কিন্তু এমন চিন্তাভাবনা আমাকে হতাশ করে তোলে। তাই নিজের ভেতরেই চেপে রাখতে হয়।

    প্লাইউডের দরজা এমনভাবে টেনে ধরলো রাভিচ, আরেকটু হলে খুলে আসতো। ধৈর্য্য নামক কিছুর অস্তিত্বই ছিল না ওর মাঝে। সত্যি বলতে, আগে থেকেই এমন বেপরোয়া প্রকৃতির।

    ওর এই মাথায় গরম স্বভাবের জন্যেই আজ পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। জানুয়ারিতে যদি গোলাগুলিটা না করতো, তাহলে…

    রাভিচ ওই নরকে ঢোকার কয়েক সেকেন্ড পর পিছু নিলাম আমি। ডান দিক থেকে থপথপিয়ে চলার শব্দ কানে এলো। এমন আওয়াজ একমাত্র বড় বড় পা ফেলে হাঁটার সময়েই হয়। সিঁড়িতে আলো প্রায় নেই বললেই চলে। করিডোর একটা বাতি টিমটিম করে জ্বলছে। পা টিপে টিপে নিচ থেকে তিন তলা পর্যন্ত উঠলাম। হায় ঈশ্বর! প্রসাবের কটু গন্ধ থেকে শুরু করে হ্যামবার্গার, গাঁজা, কিসের গন্ধ নেই এখানে। যেন আস্ত একটা ময়লার ভাগাড়। দরজায় টোকা দেয়ার আওয়াজ পেয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি। আগে বুঝতে হবে ভেতরে কয়জন আছে। উপস্থিত মানুষের উপর নির্ভর করবে কাজটা কত কঠিন হবে।

    দরজা বন্ধ হওয়ার পর এগিয়ে গেলাম আমি। দরজায় মান্ধাতা আমলের এক তালা লাগানো। এটা খুলতে দুই সেকেন্ডও লাগবে না। কাঠের দরজায় কান পাতলাম-রাভিচের কর্কশ কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। অনেকদিন পর এই আওয়াজ শুনে একটু অন্যরকম লাগছে আমার। ওকে খুঁজে বের করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

    রাভিচকে খুব একটা খুশি মনে হল না। ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ আসছে। শেষমেশ এক নারীর আওয়াজ কানে এলো। নরম সুরে কথা বলছে আর গুঙিয়ে কাঁদছে। মনোযোগ হারালাম না আমি। রাভিচের কথা শোনা যাচ্ছে। ঘরের ভেতর মাত্র দুইজন কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। আরো কিছুক্ষণ একইভাবে দাঁড়িয়ে রইলাম। নিজ হৃৎপিণ্ডের ধুকধুকানির শব্দ শুনতে পাচ্ছি। ঠিক আছে। মোটামুটি নিশ্চিত আমি, ভেতরে দুজনই আছে। মাথায় ক্যাপ চাপিয়ে, হাতে গ্লাভস পরে নিলাম। তালা খোলার সময় ওয়ালথারটা বাম হাতে রাখলাম। শেষ পিনটা খুলতেই দরজা হা হয়ে গেল। একটু নিচু হয়ে কিছু খুঁজছে দুজন। বুঝতে পারছে, তাদের পেছনে কেউ আছে। তাই সোজা হয়ে ঘুরে দাঁড়ালো দুজন। মেয়েটার বয়স পঁচিশের কাছাকাছি হবে। ঘন কালো চুল, দেখতে একদম কুৎসিত।

    …আর মৃত। কেননা, চোখ বরাবর একটা বুলেট ঠুকে দিয়েছি আমি। এরপর চোখটা এমন বড় হয়ে গেল, যেন কেউ তিনগুণ পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়েছে। যেন নিজ ভাগ্যকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে মেয়েটার

    পকেটের দিকে হাত বাড়াতেই রাচিভের বাম পায়ে গুলি চালালাম। এমনভাবে লাফাতে লাগলো, যেন গরম ইটে পা পড়েছে। এরপর হাঁটু ভাঁজ করে গোঙাতে শুরু করলো ও।

    কুশলাদি বিনিময় যেহেতু শেষ, এখন গুরুত্বপুর্ণ আলোচনায় আসা যাক।

    পুরো রুম জুড়ে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একদম নোংরা অবস্থা।

    “তোর এই মেয়ে তো একদম অপরিষ্কার।”

    বুলেটটা আঘাত করার সাথে সাথে মেয়েটা ময়লা ম্যাট্রেসে লুটিয়ে পড়েছে। অস্থিসার হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, শিরাগুলো কোনো গুপ্তধনের পথ বাতলে দেবে। পা ধরে টান দিতেই দেখি, নিজের মৃত্যুশয্যা আগে থেকেই তৈরি করে রেখেছিল মেয়েটা। এতো বুদ্ধিমতী মেয়ে আজকাল পাওয়াই যায় না। মৃত শরীরের নিচে বাহারি রকমের কাপড় আর একটা কম্বল। আমার কষ্ট অনেকটা কমে গেল। চোখ দুটো এখনো খোলাই আছে। তবে শুরুর দিকের সেই অবাক করা চাহনি আর নেই, যেন ভাগ্যের সাথে মীমাংসা করে শান্তিতে আছে এখন।

    অন্যদিকে, রাভিচ এখনো গোঙাচ্ছে। শরীরের এক পাশে ভর দিয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। এক পা সামনে সামনের দিকে ছড়ানো। বাম পা রক্তের সাগরে ডুবে আছে। একটু পর পর চিৎকার করে গালি দিচ্ছে আমাকে। অবশ্য এই শব্দ আশেপাশে কারো কানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একদমই নেই। কিন্তু সার্বিয়ান বন্ধুর পূর্ণ মনোযোগ দরকার আমার। যাতে করে মন খুলে দুই একটা কথা বলতে পারি।

    “যাই হোক, তোমার এই ‘ছুকরি’ মারা যাওয়াতে ভালোই হয়েছে। তোমাকে এই অবস্থায় দেখলে, আরো বেশি কষ্ট পেতো বেচারি।”

    হয়তো মেয়েটাকে সত্যিকারে ভালোবাসতো না রাভিচ। কিংবা অন্য কোনো কারনও থাকতে পারে। মেয়েটার এমন পরিণতিতে রাভিচকে খুব একটা চিন্তিত মনে হলো না। এখন একমাত্র নিজের কথাই ভাবছে সে। রক্ত আর বারুদের গন্ধে বাতাসটা কেমন ভারি হয়ে আছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে আমার। তাই জানালা খুলে দিলাম। সম্ভবত বেশ কম দামেই অ্যাপার্টমেন্টটা বাগিয়েছে ও। বাইরে কংক্রিটের দেয়াল ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

    ওয়ালথারের বাঁট দিয়ে রাভিচের মুখ বরাবর দুই এক ঘা লাগালাম। কোনো রাগ থেকে নয়, শুধু মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। বিকট চিৎকার দিয়ে উঠলো রাভিচ। না, আর ভরসা করা যাবে না। মেঝে থেকে একটা টি-শার্ট নিয়ে বলের মত গোল করে, ওর মুখে গুঁজে দিলাম। কোনো বাঁধা যাতে না তাই একটা হাতও বেঁধে দিচ্ছি। এবার কথা বলা যাবে শান্তিমত। রাভিচ মেঝেতে পড়ে থাকার কারণে আমাকে একটু ঝুকতে হলো। এ তো দরদর করে ঘামছে। ঠিকমতো বসতেও পারছে না, একটু পর পর শরীর মোচড়াচ্ছে। মুখে কাপড় থাকা সত্ত্বেও আবোলতাবোল বলার চেষ্টা করছে। চুলের মুঠি ধরে কাছে টেনে আনলাম।

    “এখন, মনোযোগ দিয়ে শোন, সারারাত এখানে কাটানোর জন্য আসিনি আমি। তাই কথা বলার জন্য একটা সুযোগ দিচ্ছি। জীবনের মায়া থাকলে আমাকে সাহায্য করবি। আশা করি, কথাটা বুঝতে কোনো সমস্যা হয়নি। আজকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে পারবো না। গত দুইদিন ধরে এক ফোঁটাও ঘুমাইনি। যদি নিজের জীবনের মায়া থাকে, তাহলে আমার প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিবি। এরপর আমরা সবাই ঘুমাতে যাবো। আমি, তুই, তোর ছুকরি, ঠিক আছে?”

    রাভিচের ফ্রেঞ্চ বরাবরই জঘন্য। কথাবার্তার বেশিরভাগ অংশে ব্যাকরণজনিত ভুলসহ আরো ভুল থাকে। তাই ওর সাথে কথা বলার সময়, এদিকে খেয়াল রাখতে হয়। সহজ শব্দের সাথে হালকা ইশারাও প্রয়োজন। তাই শব্দ বাছাইয়ে সতর্ক হওয়ার সাথে সাথে, বাম পায়ের ক্ষতে ধীরে ধীরে চাকুর আগা ঢুকিয়ে দিলাম। চাকুটা নতুন আর ধারালো। একটু পরই তা রাভিচের গোড়ালি ভেদ করে মেঝে অবধি পৌঁছে গেল। মুখে কাপড় থাকা সত্ত্বেও, চিৎকার করতে সক্ষম হয়েছে রাভিচ। মৃগী রোগির মত কাঁপছে। আর হাত দুটো প্রজাপতির মত ছড়িয়ে দিয়েছে।

    আমার মনে হয়, এতোক্ষণে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করছে পেরেছে ও। তবুও চিন্তা ভাবনার জন্য আরো কিছু সময় দিলাম। যাতে আর কোনো ভুল না করে।

    “আমার যা মনে হয়, তুই আর হ্যাফনার মিলে, শুরু থেকেই আমার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করছিলি। ওর মতো, তোরও মনে হয়েছিল দুইভাগের সুযোগ থাকতে তিনভাগ কেন হবে। আর দুইভাগে তো বেশিই পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে আমিও একমত।”

    আমার দিকে তাকিয়ে আছে রাভিচ। পানিতে টলমল করছে ওর চোখ—তবে সেখানে দুঃখের চেয়ে ব্যথার পরিমাণ বেশি—কিন্তু এতোটুকু বলতে পারি, একদম জায়গা মত ঢিল মেরেছি আমি।

    “হায় ঈশ্বর! তোর মাথায় একটুও ঘিলু নেই, ডুসান! গাধার বাচ্চা গাধা, তোর কী মনে হয়? হ্যাফনার তোকে কেন বেছে নিলো? কারন, তুই একটা আস্ত গাধা। তোর মাথায় কি ঢুকছে কিছু?”

    খিঁচুনি শুরু হলো রাভিচের।

    “তো, হ্যাফনারের সাথে মিলে আমাকে বোকা বানাতে চেয়েছিলি…তারপর তোকেও বোকা বানালো হ্যাফনার। তোকে প্রথমবার দেখার পর, কী বলেছিলাম মনে আছে? একদম ঠিকই বলেছিলাম : তুই একটা আমড়া কাঠের ঢেঁকি।”

    এই মুহূর্তে নিজের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না রাভিচ। আপাতত নিজের স্বাস্থ্য আর অক্ষত অঙ্গ কীভাবে রক্ষা করা যায়, তা নিয়েই ভাবছে সে। অবশ্য এমন ভাবনা যুক্তিযুক্ত। যত বেশি কথা বলছি, রাগের পরিমাণ তার দ্বিগুণ হারে বাড়ছে।

    “আমার মনে হয়, এরপর হ্যাফনারকে খুঁজে বের করিসনি। ওর সাথে বোঝাপড়া করার মতো সাহসও তোর নেই। তাছাড়া, খুনের অভিযোগও আছে তোর বিরুদ্ধে, তাই গর্তে থাকার সিদ্ধান্ত নিলি। কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, হ্যাফনারকে খুবই প্রয়োজন আমার। আর এইকাজে, আমাকে সাহায্য করবি তুই। তার জন্য হ্যাফনার সম্পর্কে যা যা জানিস, সব বলবি। ঠিক আছে?”

    আমার দিকে থুতু মারলো রাভিচ।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন প্রতিক্রিয়া খুবই স্বাভাবিক। তবুও, আমার সাথে এমন আচরণ! এতো অমার্জনীয় অপরাধ।

    এতে করে অবশ্য একটা লাভ হলো। এতোক্ষণ যে ভুলে পথে এগুচ্ছিলাম, তা বুঝতে পারলাম। ভদ্র আচরণের মাধ্যমেই বিষয়টা মীমাংসা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রাভিচ তো নির্বোধ। এইটুকু বোঝার মতো ক্ষমতা ওর নেই। আমাকে বাঁধা দেয়ার মত কোনো অবস্থাতেই নেই ও। মাথায় উপুর্যপুরি কয়েকটা লাথি মেরে মেঝেতে শুইয়ে দিলাম। এরমাঝে পা থেকে চাকুটা তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো রাভিচ।

    মেয়েটার লাশ বিছানায় পড়ে আছে। আশা করি কিছু মনে করবে না। লেপের এক কোণা ধরে হ্যাঁচকা টান মারলাম। সাথে সাথে মেয়েটা উল্টে গেল। স্কার্ট উপরে উঠার ফলে, মেয়েটার শুকনো পা নজরে এলো। হাঁটুর পেছন দিকে অসংখ্য সুঁইয়ের দাগ। আমি না মারলেও খুব বেশিদিন বাঁচতো না এই মেয়ে।

    আমি ঘুরে দাঁড়াতেই দেখলাম, গোড়ালি থেকে চাকুটা বের করে এনেছে রাভিচ। বাহ! ওর গায়ে তো খ্যাপা ষাঁড়ের মত শক্তি। তাই দেরি না করে গাধাটার হাঁটুতে আরেকটা বুলেট ঠুকে দিলাম। এই ধাক্কা আর সহ্য করতে পারলো না ও। যন্ত্রণায় পুরো শরীর ছুঁড়ে দিলো বাতাসে, বিকট শব্দে গোঙাতে থাকলো। আর কিছু করার আগেই ওর শরীরটা উল্টে দিয়ে লেপটা ছুড়ে মারলাম। এখন সিংহাসনে আরোহণের সময়। অবশ্য আমার সিংহাসন রাভিচের শরীর দিয়ে তৈরি। বসার জন্য উপযুক্ত জায়গা বের করলাম; আমি চাই না ও দম বন্ধ হয়ে মারা যাক। প্রশ্নের দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার। কিন্তু তার আগে রাভিচের চিৎকার থামাতে হবে।

    হাতটা টেনে কাছে নিয়ে আসলাম। ছোট আঙুল দিয়েই কাটাকাটি শুরু করতে হলো। সচরাচর, আঙুলের গিঁট বরাবর সুন্দর করে কাঁটতে ভালো লাগে আমার। কিন্তু রাভিচের মত কারো ক্ষেত্রে শিল্পচর্চা করার দরকার নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট।

    এক কোপে কাজ সারলাম, যা আমার মত সৌন্দর্যের পূজারির কাছে রীতিমতো অপমানজনক।

    বাজি ধরে বলতে পারি, আর পনেরো মিনিটের মাঝেই তোতাপাখির মত সব বলবে রাভিচ। আমি একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছি। কিন্তু এখনো পূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছি না।

    তাতে অবশ্য দমে যাইনি আমি। কাজ এখনো চলছে, তর্জনী পর্যন্ত চলে এসেছি-কী কষ্টই না করছে বেচারা। হাসপাতালে কথা মনে পড়লো আমার।

    হিসাবে যদি কোনো ভুল না করে থাকি, তাহলে কিছুক্ষণের মাঝেই আমার সার্বিয়ান বন্ধু পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবে। সেক্ষেত্রে হাসপাতালের ওই মহিলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এতোক্ষণে তো সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা তার।

    আশা করি, তাই যেন হয়। আরেকটা জীবন নেয়ার কোনো ইচ্ছা আপাতত নেই।

    .

    বিকাল ৫টা

    “ভেরহোভেন?”

    ন্যূনতম সম্মানসূচক “কম্যান্ড্যান্ট”ও বলল না। রাগে ফুঁসছে কমিশনার। অতিরিক্ত কোনো কথা বলল না। এতোকিছু বলার আছে যে কোথা থেকে শুরু করবে, বুঝে উঠতে পারছে না মিচার্ড।

    “সম্পূর্ণ রিপোর্ট লাগবে আমার…”

    বিশেষত্বহীন মানুষ আমলাতন্ত্রে শেষ আশ্রয় খুঁজে নেয়।

    “তুমি বলেছিল নির্দিষ্ট কিছু জায়গায়’ অপারেশন চলবে। এছাড়া ‘সন্দেহভাজন তিনজনের গল্প শোনালে আমাকে, কিন্তু, তুমি তো পুরো শহরে তোলপাড় চালাচ্ছো। তুমি কি ইচ্ছা করেই এমন করছো?”

    টেলিফোনের অপর পাশে থাকা ক্যামিল কিছু বলার চেষ্টা করলেও, তাকে থামিয়ে দিলো মিচার্ড।

    “সত্যি বলতে, এসবে আমার কিছুই যায় আসে না। কিন্তু, তুমি এখনই সবাইকে ফিরতে বলো, কম্যান্ড্যান্ট। তোমার এই খেলা বন্ধ করো। সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না।”

    পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। হতাশায় চোখ বন্ধ করলো ক্যামিল। একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল সে। এমন সময় পেছন থেকে কেউ যেন তাকে টেনে ধরলো। পাশেই দাঁড়ানো লুইস মুখ ঘুরিয়ে নিলো। হাত দিয়ে ইশারা করে অপারেশন বন্ধ করার কথা জানালো ক্যামিল। সাথে সাথে ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়লো লুইস। ক্যামিলের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এরপর কী হবে তা সে ভালোমতোই জানে। শহর জুড়ে কর্মরত অফিসাররাও হতাশায় মাথা ঠুকবে। আগামীকাল ঝাড়ি শোনার প্রস্তুতি নিয়ে গাড়িতে উঠলো সবাই। কিন্তু এই সল্প সময় বেশ উপভোগ করেছে তারা।

    কথাগুলো হজম করার জন্য, ক্যামিলকে সময় দিচ্ছে কমিশনার। কিন্তু তার এই বিরতি একইসাথে অতিনাটকীয় এবং ভীতিকর।

    ***

    আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অ্যানি। এমন সময়ে একজন নার্স আসলো। ফ্লোরেন্স, বয়স খুব বেশি না। অ্যানির চেয়ে ছোটই হবে। কিন্তু বয়স কমানোর নিদারুণ চেষ্টার কারণে, আরো দশ বছর বেশি বয়স্ক লাগে তাকে।

    “সবকিছু ঠিক আছে তো?”

    আয়নার দুজনের মুখ দেখা গেল। অ্যানির দিকে তাকিয়ে চওড়া হাসি দিলো নার্স। আর কখনো স্বাভাবিকভাবে হাসতে পারবে না, এই ভেবে কিছুটা বিমর্ষ হলো অ্যানি।

    “সবকিছু ঠিক আছে তো?”

    আবারো একই প্রশ্ন। কথা বলতে ইচ্ছা করছে না অ্যানির। বিশেষ করে ফ্লোরেন্সের সাথে তো আরো না। তখনি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়া দরকার ছিল। তবুও মনকে মানাতে পারছে না। বের হয়ে যাবার মতো, থাকবারও অসংখ্য কারন আছে।

    আর, এরপর আছে ক্যামিল।

    ক্যামিলের কথা মনে পড়লেই, তার সারা শরীর কাঁপতে শুরু করে। একা একা কিছুই করতে পারবে না ক্যামিল। পারলেও, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যাবে।

    ***

    জাম্বিয়ের রোড। ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে কমিশনার। পনেরো মিনিটের মাঝেই, তার সাথে দেখা করবে ক্যামিল।

    কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসলেও, অপারেশন ভেরহোভেন একদম ব্যর্থ হয়নি। একদণ্ড শান্তির খোঁজে কিংবা বেঁচে থাকার তাগিদে-সব সার্বিয়ান মিলে রাভিচকে খুঁজতে শুরু করে। এই খোঁজ যেন ছেলেখেলায় পরিণত হয়। অজ্ঞাতনামা একজন ৪৫, জাম্বিয়ার রোডের ঠিকানা দেয়। জীবিত উদ্ধারের আশা করেছিল ক্যামিল; হতাশ হতে হলো তাকে।

    সাইরেনের শব্দ শুনে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। কোনো সাক্ষী নেই, কাউকে জেরাও করা যাবে না। কেউ কিছু দেখেনি কিংবা শোনেনি। শুধু বাচ্চারা রইলো। ভয়ের কিছুই নেই, এতে বরং আরো লাভ হলো। প্রাপ্তবয়স্করা ফিরে আসার পর এই বাচ্চারাই সব বলতে পারবে, কী কী ঘটেছে। আপাতত পুরো জায়গা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বাচ্চারা খুবই উত্তেজিত আর কৌতুহলী, হাসছে আর খেলছে। এসবই তাদের খেলারই অংশ।

    অ্যাপার্টমেন্টের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কমিশনার। হাত দুটো এমনভাবে রেখেছে, মনে হচ্ছে প্রার্থনা করছে। ফরেনসিক টিম আসার আগ পর্যন্ত ভেরহোভেন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেবে না সে। আসলে এই চেষ্টা এখন বৃথা। ইতোমধ্যে অনেক লোকজন চলাফেরা করেছে। ফরেনসিকের লোকজন কমপক্ষে পঞ্চাশজনের আঙুলের ছাপ, চুলসহ আরো অনেক নমুনা পাবে।

    ক্যামিল পৌঁছানোর সাথে সাথে রুমে ঢুকলো কমিশনার। একবার ঘুরেও তাকালো না। সতর্কভাবে পা ফেলছে, কোনো প্রমাণ যাতে নষ্ট না হয়। তাকে অনুসরণ করলো ক্যামিল। পুরো রুমটা নীরবে পর্যবেক্ষণ শুরু করলো দুইজন। কয়েকটা বিষয়ে একদম নিশ্চিত হওয়া গেল। মেয়েটা-মাদকাসক্ত এবং পেশায় বেশ্যা, আগে মারা গেছে। দেয়ালের দিকে মুখ করে উল্টো হয়ে শুয়ে আছে। রাভিচের শরীরে থাকা লেপটা, মেয়েটার নিচ থেকেই হ্যাঁচকা টানে বের করা হয়েছিল। যার ফলে এমন হয়ে আছে মেয়েটার লাশ। ফ্যাকাশে এই লাশটায় ইতোমধ্যে রিগর মর্টিস শুরু হয়ে গিয়েছে। এমন দৃশ্য এর আগে না হলেও, আরো একশ বার দেখেছে উপস্থিত দুইজন। এমন পরিস্থিতিতে হাজারো বেশ্যা মারা যায়। কিন্তু ঘটনাস্থলে আরেকটা লাশ আছে। যা একদমই ভিন্ন গল্প বলছে।

    ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল কমিশনার। রক্তের ছোটখাটো পুকুরের চারপাশ জুড়ে হাঁটতে থাকলো সে। পা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন গোড়ালিটা ধরে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে অল্প একটু ছেড়া চামড়া। ছোট ছোট হাড়ের টুকরো ছড়িয়ে আছে পায়ের কাছে। কুপিয়েছে? নাকি চাকুর আঘাত? চশমাটা চোখে দিয়ে আরেকটু নিচু হলো ক্যামিল। মেঝেতে কিছু একটা খুঁজছে। শেষমেশ বুলেটের ছিদ্র খুঁজে পেল। এরপর গোড়ালির দিকে মনোযোগ দিলো সে। চাকুর আঘাতের চিহ্ন আছে হাড়ে। ছোট কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সম্ভবত ড্যাগার। আরো নিচু হলো ক্যামিল, অনেকটা ইন্ডিয়ানদের মত যেন শত্রুর আগমনের শব্দ শুনছে। কল্পনায় পুরো ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করলো ক্যামিল। প্রথমে গোড়ালি, তারপরে আঙুল।

    হিসাব করা শুরু করলো কমিশনার। মোট পাঁচটা আঙুল কাটা হয়েছে। তবে একেকটা একেক দিকে ছড়ানো। সবগুলো একইভাবে কাটা হয়েছে। রক্তশূন্য হাত বিছানায় পড়ে আছে। চাদরটা কালো রক্তে পরিপূর্ণ। সতর্কভাবে, একটা বলপয়েন্ট কলম দিয়ে হাতটা সরালো কমিশনার, যাতে রাভিচের মুখটা দেখা যায়। মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মৃত্যুর আগে কী পরিমাণ যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তার।

    মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে যোগ হয়েছে গলার পেছনের দিকে একটা বুলেট।

    “শুরু করো এবার…” বলল কমিশনার। তাকে বেশ উল্লসিত মনে হচ্ছে;

    ভালো কোনো খবরের আশায় আছে সে।

    “আমার যা মনে হয়,” শুরু করলো ক্যামিল, “লোকটা এসেই…

    “এইসব ছেলেভুলানো গল্প আমাকে শোনাতে হবে না, কম্যান্ড্যান্ট। এখানে কী ঘটেছে, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। আমি জানতে চাইছি, তুমি এসব কী শুরু করেছো।”

    ***

    ক্যামিল কী করছে? মনে মনে ভাবলো অ্যানি

    নার্স চলে গেছে। দুজনের মাঝে খুব বেশি বাক্য বিনিময় হয়নি। অ্যানির কিছুটা আক্রমণাত্মক ছিল। তবে ফ্লোরেন্স তা দেখেও না দেখার ভান করেছে।

    “কিছু লাগবে আপনার?”

    না, কিচ্ছু না। মাথা নাড়লো অ্যানি। কিন্তু তার মন পড়ে আছে অন্য কোথাও। আয়নার নিজের বিধ্বস্ত চেহারা দেখেও কিছু করতে পারে না সে। তার অসহায়ত্ববোধ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্স-রে আর এম.আর.আই স্ক্যানের রিপোর্ট হাতে চলে এসেছে। আর এক মুহূর্তও থাকতে চাইছে না সে। হাসপাতালের এই রুম তার মনটা আরো বিষিয়ে তুলছে।

    এখন থেকে পালাতে হবে তার।

    ছোটবেলার দৌড়ে পালানোর কথা মনে করলো সে। ওই শক্তিটা আবার নিজের মাঝে ফিরিয়ে আনতে চাইছে।

    ক্যামিল কী করছে? মনে মনে ভাবলো সে।

    ***

    খুব সতর্কভাবে পা ফেলে বেরিয়ে এলো কমিশনার মিচার্ড। ঢোকার সময় যেখানে যেখানে পা ফেলেছিল, বের হওয়ার সময় ঠিক তাই করলো। ঠিক সেই পথেই ঢুকলো ফরেনসিক টিম। যেন খুব সাজানো গোছানো ব্যালে নৃত্য চলছে। দরজার বাইরে এসে দাঁড়ালো কমিশনার। এরপর ক্যামিলের দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করলো, “তো, এখন সব খুলে বলো আমাকে।”

    “জানুয়ারির ওই ডাকাতির ঘটনার যে দল জড়িত, তাদের নেতা ভিনসেন্ট হ্যাফনার। আর রাভিচ ওই দলেরই সক্রিয় এক সদস্য।” আঙুল দিয়ে পেছনে থাকা রুমের দিকে ইশারা করলো ক্যামিল। মাথা নাড়ল কমিশনার। “এটা সবাই জানে, বলতে থাকো।”

    “হুট করে আবারো আলোচনায় আসে ওই দল। গতকাল গ্যালারি মনিয়েরের এক জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি করে। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু একটাই সমস্যা। অ্যানি ফরেস্টিয়ে নামে এক ক্রেতা উপস্থিত ছিল সেখানে। ওদের মুখ ছাড়া আর কী দেখেছিল সে, তা আমি জানি না। তবে কিছু একটা তো হয়েছিল। শারীরিক অবস্থা মাথায় রেখে তাকে জেরা করছি আমরা। এখনো পুরো ঘটনা জানতে পারিনি। কিন্তু ব্যাপারটা অনেক গুরুতর, সেটা ঠিকই বোঝা যাচ্ছে। নইলে তো আর ভিক্টিমকে খুন করার জন্য এতো উঠেপড়ে লাগতো না হ্যাফনার। হাসপাতাল পর্যন্ত চলে এসেছিল…হ্যাঁ, জানি, আমি জানি! ওটা যে হ্যাফনার ছিল, এমন কোনো শক্ত প্রমাণ নেই।”

    “ডাকাতির ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জানতে চেয়েছে জুজ?”

    গ্যালারি মনিয়েরে দেখা হওয়ার পর, তার সাথে আর যোগাযোগ করেনি ক্যামিল। এতোদিনে অনেক কথাই জমে গেছে। তাই সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছে সে।

    “এখনো না,” আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল ক্যামিল, “কিন্তু সবকিছু এতো দ্রুত ঘটে যাচ্ছে, আমি নিশ্চিত যে…”

    “তারপর বলো, এখানকার কাহিনী কী? ডাকাতির ভাগ থেকে রাভিচকে বঞ্চিত করতে এসেছিল হ্যাফনার?”

    “সেটা ঠিক বলতে পারবো না। তবে কোনো না কোনো বিষয়ে, রাভিচের মুখ খোলা দরকার ছিল ওর। হয়তো সম্পদের ব্যাপারে…”

    “এই কেসে একের পর এক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি, কম্যান্ড্যান্ট ভেরহোভেন। তবে কোনোটাই তোমার অস্বাভাবিক আচরণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

    হাসি দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করলো ক্যামিল; এখন যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত সে।

    “হয়তো একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম…”

    “উত্তেজিত? একের পর এক নিয়ম ভেঙেছো তুমি। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অপারেশনের কথা বলে অনুমতি নিয়েছিলে। আর করলে কী? পুরো শহরে তোলপাড় চালালে। এমনকি এর জন্য ক্ষমা পর্যন্ত চাইলে না।”

    সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে কমিশনার

    “তুমি তো ক্ষমতার অপব্যবহার করেছো।”

    এমন সময় যে আসবে, তা ভালোমতোই জানতো ক্যামিল। কিন্তু এতো দ্রুত আসবে, ভাবতেও পারেনি ।

    “আর তোমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে, এখনো কোনো রিপোর্ট পাইনি আমি। তুমি তো মুক্ত স্বাধীন পাখির মত আচরণ করছো। কারো কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নেই। নিজেকে কী মনে করো, কম্যান্ড্যান্ট ভেরহোভেন?”

    “আমি তো শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করছি।”

    “ঠিক কোন দায়িত্বটা পালন করছো শুনি?”

    “রক্ষা আর সেবা করাই তো আমাদের মূল উদ্দেশ্য, তাই না? তাই র- ক্ষা আর সে-বা করছি।”

    মিচার্ডকে গলা টিপে ধরার ইচ্ছা দমন করে, তিন কদম পিছিয়ে এলো ক্যামিল। এখন মাথা গরম করা যাবে না।

    “এই কেসটা আপনি একেবারেই ভুল দিক থেকে দেখছেন,” বলল ক্যামিল। “এটা শুধু আহত হওয়া ওই নারীকে দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। ভয়ংকর এক দলের খোঁজে নেমেছি আমরা। সশস্ত্র এই ডাকাত দল গত জানুয়ারিতে কী করেছে, তা আপনি ভালোমতোই জানেন। এদেরকে মোটেও হালকাভাবেনেয়া যাবে না। দলের নেতা ভিনসেন্ট হ্যাফনার, ঝানু অপরাধী। আর তার সহযোগী সার্বিয়ানরাও দুধে ধোঁয়া তুলসি পাতা না। আমি জানি না কেন, কিন্তু এই কেসের একমাত্র সাক্ষীকে হত্যার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে হ্যাফনার। এটাও জানি, এই কথা আর শুনতে চান না আপনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ওইদিন শটগান হাতে হাসপাতালে হ্যাফনারই গিয়েছিল। যদি এই সাক্ষীকে কেউ মেরে ফেলে, তাহলে অনেকেরই জবাবদিহি করতে হবে। আর সেই তালিকার প্রথমে আপনিই থাকবেন!”

    “ঠিক আছে, তোমার মতে কেসের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই নারী। তার জীবনের হুমকি আছে। এখন পর্যন্ত যার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণও দিতে পারোনি, কম্যান্ড্যান্ট। ভিত্তিহীন এক বিশ্বাস নিয়ে তুমি বেলগ্রেড থেকে সারায়েভোতে জন্ম নেয়া সকল লোককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে। মাথা ঠিক আছে তোমার?”

    “সারাজেভো তো বসনিয়ায়, সার্বিয়ায় না।”

    “কী বললে?”

    চোখ বন্ধ করলো ক্যামিল।

    “ঠিক আছে,” স্বীকার করলো সে, “আমি নিয়মের বাইরে কাজ করেছি। একটা রিপোর্ট লেখা উচিত ছিল, আমার…”

    “থাক, এসব বলে আর লাভ নেই, কম্যান্ড্যান্ট।”

    ভ্রূ কুঁচকে গেল ক্যামিলের। কমিশনার চাইলে এখন কী করতে পাওে, তা সে ভালোমতোই জানে। রাভিচের লাশের দিকে ইশারা করলো কমিশনার।

    “তোমার মস্তিষ্কপ্রসূত এই অপারেশনের মাধ্যমে রাভিচকে তো ঠিকই বের করেছো, কম্যান্ড্যান্ট। সত্যি বলতে, খুনির জন্য কাজটা আরো সহজ করে দিয়েছো।”

    “এমনটা আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না। আপনার এই বক্তব্য প্রমাণের মত কিছুই নেই।”

    “তা হয়তো নেই, কিন্তু ভুল কিছু তো বলিনি। আর বিশেষ এক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই অপ্রত্যাশিত অভিযান, তাও আবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে। নিজ ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা নাই বা বললাম। কোনো নাম আছে নাকি এই অপারেশনের, কম্যান্ড্যান্ট?”

    এমন প্রশ্ন কল্পনায়ও আশা করেনি ক্যামিল। ফ্যাকাশে হয়ে গেল তার মুখ।

    “জাতিগত শুদ্ধিসাধন।”

    এই বলেই চোখ বন্ধ করে ফেলল ক্যামিল। পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে।

    ***

    কী করছে ক্যামিল? সামনের ট্রেতে থাকা খাবার স্পর্শও করলো না অ্যানি। রুমে উপস্থিত বয়স্ক নার্স একটু দূরে সরিয়ে রাখলো ট্রে। “তোমার তো খেতে হবে, মা, এভাবে খাবার নষ্ট করা ঠিক না।” সহানুভূতি জানানো সবার প্রতি, হুট করেই তীব্র ক্রোধ অনুভব করলো অ্যানি।

    সকাল বেলা আরেক নার্স বলে গিয়েছে, “একটু ধৈর্য ধরুন, সব ঠিক হয়ে যাবে…”

    সাথে সাথে তুড়ি মেরে জবাব দিয়েছে অ্যানি, “হ্যাঁ, সবকিছু একদম পরিস্কার দেখতে পাচ্ছি!”

    অ্যানির প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে চেয়েছিল নার্স। এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ এটাই আশা করে। আরো কিছু বলার চেষ্টা করলেও, কোনো জবাব দিলো না অ্যানি।

    “খুব নির্দয়ভাবে মেরেছে আপনাকে, তাই তো? লাথি, ঘুসিও মেরেছে, এমনকি হত্যারও চেষ্টা করেছে? কিন্তু সবসময় কি এমন হয়? হয় কি? কথা বলুন, আমি নিশ্চিত মন খুলে কথা…”

    কোনো জবাব না পেয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল ফ্লোরেন্স। সাথে সাথে তাকে ডাক দেয় অ্যানি। পানিতে টলমল করছে তার চোখ।

    “আমি দুঃখিত,” বলল সে।

    হাত নাড়লো নার্স। যেন বলতে চাইছে এসব কোনো ব্যাপার না। এসব কথা শুনে অভ্যস্ত তারা।

    ***

    “এই কেসটা তুমিই চেয়েছিল। এক ইনফর্মারের কথা বলেছিলে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে, যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার। তাই একটা কথা স্পষ্ট করে বলো, ডাকাতির খবর তোমার কাছে কীভাবে এলো?”

    “গোরিনের কাছ থেকে।”

    হুট করেই নামটা বলে ফেলল ক্যামিল। তার মাথায় প্রথম এই নামই এসেছে। অনেক চিন্তাভাবনা করেও কোনো কারন খুঁজে পেল না। তাই ঈশ্বরের উপর ভরসা রেখে এই পথ বেছে নিলো। কিন্তু ইশ্বরের উপর ভরসা অনেকটা হোমিওপ্যাথির মত, যদি বিশ্বাস না থাকে… তাহলে এর চেয়ে বড় বোকামি আর হয় না। এখন গোরিনকে কল করতে হবে। কিন্তু বলির পাঁঠা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, কোনো সাহায্যই সে করবে না। কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত কমিশনার।

    “আর গোরিন কীভাবে জানলো?”

    কথা শেষ হয়নি তার।

    “মানে বলতে চাইছি, এতো লোক থাকতে, তোমাকেই কেন জানালো?”

    পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা বেশ ভালোমতোই বুঝতে পারছে ভেরহোভেন। কিন্তু নাচতে যেহেতু নেমেই গেছে, এখন আর ঘোমটা দিলে চলবে না। শুরু থেকেই এই কাজ করতে হচ্ছে তার।

    “সেটা তো আমি জানি না…”

    মাথা কাজ করছে না ক্যামিলের। ব্যাপারটায় বেশ কৌতুহলী মনে হচ্ছে কমিশনারকে। এই কেস থেকে ক্যামিলকে সরানো হতে পারে। কিংবা এরচেয়ে খারাপ কিছু। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

    নিজের প্রকাণ্ড পশ্চাৎদেশ দুলিয়ে হাঁটতে শুরু করলো কমিশনার। এদিকে চিন্তায় মশগুল ক্যামিল।

    তবে কমিশনারের সাথে কিছু বিষয়ে একমত সে : অপারশনের কারণেই রাভিচকে খুঁজে পেয়েছে খুনি। এই সম্ভাবনা একেবারে বাদ দেয়া যায় না। কিন্তু এছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। গ্যালারি মনিয়েরের ঘটনার পর নিজের সহযোগী আর সাক্ষী, সবাইকে দুনিয়া থেকে বিদায় করার চেষ্টায় আছে হ্যাফনার। তাই দ্রুত কিছু করা দরকার ছিল। রাভিচ, অ্যানি, হয়তো অন্যান্য সহযোগীও…

    তবে যাই হোক, হ্যাফনারই এই কেসের মূল চাবিকাঠি।

    আই.জি.এস., কমিশনার, তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট-সময়মত সবার সাথেই কথা বলবো ক্যামিল। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অ্যানিকে রক্ষা করা।

    ড্রাইভিং স্কুলের এক শিক্ষকের কথা মনে পড়লো ক্যামিলের : যখনই তুমি কোনো মোড় এড়িয়ে যাবে, তখন তোমার সামনে দুইটা পথ খোলা থাকবে। তখন ব্রেক করাটা বোকামী হবে। সেক্ষেত্রে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আপাতদৃষ্টিতে পাগলামী মনে হলেও, সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে, গতি আরো বাড়িয়ে দেয়া। কিন্তু তার জন্য নিজের সাথেই লড়াই করতে হবে, কেন না তোমার ভেতর থেকে আওয়াজ আসবে গাড়ি থামানোর জন্য।

    তাই গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলো ক্যামিল।

    এই বিপজ্জনক মোড় থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই পথ খোলা। তবে মাত্রাতিরিক্ত গতি খাদেও ফেলতে পারে। আপাতত, এই চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখলো।

    তাছাড়া, খুব বেশি পথও খোলা নেই তার সামনে।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিসাশন – পিয়া সরকার
    Next Article অ্যালেক্স – পিয়ের লেমেইত

    Related Articles

    পিয়ের লেমেইত

    আইরিন – পিয়ের লেমেইত

    September 13, 2025
    পিয়ের লেমেইত

    অ্যালেক্স – পিয়ের লেমেইত

    September 13, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }