Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ক্রান্তিকাল – প্রফুল্ল রায়

    প্রফুল্ল রায় এক পাতা গল্প200 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. বিমলেশের ফ্ল্যাট থেকে

    ১১.

    বিমলেশের ফ্ল্যাট থেকে সোয়া চারটেয় বেরিয়ে পড়ল সুবর্ণা। দেবীর স্কুল এখান থেকে খুব বেশি দূরে নয়। একটা ফাঁকা সাইকেল রিকশা থামিয়ে উঠে পড়ল সে। দেবীকে নিয়ে এই রিকশাতেই সোজা বাড়ি ফিরে যাবে। আজ আর মেয়েদের অর্গানাইজেশনে যাওয়া হবে না! কাল সময় করে একবার যাওয়ার চেষ্টা করবে।

    বিমলেশ তাকে রাজীবের হাত থেকে মুক্তির কোনও রাস্তা দেখিয়ে দিতে পারেনি। শুধু ধৈর্য ধরে তার ওপর লক্ষ রাখতে বলেছে। এছাড়া উপায়ই বা কী? ধৈর্য, অন্তহীন ধৈর্য। তার সঙ্গে সুকৌশলে মেশাতে হবে যাবতীয় বুদ্ধিমত্তাকে। অপরিসীম দুর্ভাবনার মধ্যেও ক্ষীণ আশার চকিত একটা রেখা যেন দেখা দিল। বিমলেশের সঙ্গে রাজীবের যোগাযোগ ঘটিয়ে দিতে পারলে হয়তো কাজের কাজ কিছু একটা হতে পারে। বিমলেশ অত্যন্ত দুঃসাহসী, মস্তিষ্ক আশ্চর্য রকমের ঠান্ডা। প্রতিপক্ষের ভাবগতিক বুঝে হাসি মুখে পালটা গলে তাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে। সুবর্ণাদের পরিবারের স্বার্থে দু’জনের আলাপ হওয়া একান্ত জরুরি। কিন্তু কীভাবে?

    অল্পবয়সী রিকশাওলাটা গাড়ি চালাতে চালাতে কল, বৌদি–

    এই শহরের বেশির ভাগ রিকশা, অটো আর টাকা সুবর্ণাকে চেনে। চোদ্দ বছরে এদের সবার গাড়িতে কতবার যে সে চড়েছে তার হিসেব নেই। ওরা যেমন তাকে চেনে, সে-ও তেমনি ওদের সবাইকে চেনে, এমনকি অনেকের নামও তার। জানা।

    সুবর্ণা একটু চমকে উঠে বলে, কি রে ভানু?

    আপনাদের রাজবাড়িতে নাকি একটা খুনী ঢুকে আছে?

    কে বলল?

    সবাই। কাগজে খবরটা বেরিয়েছে; খুনীর একটা ছবিও ছাপা হয়েছে। আপনি দেখেননি বৌদি?

    বিচ্ছিন্নতাবাদী নয়, হত্যাকারী হিসেবেই তা হলে রাজীবের নামটা সারা শহরে ছড়িয়ে পড়েছে! একটু চুপ করে থেকে সুবর্ণা বলল, দেখেছি।

    প্যাডল করতে করতে আঁতকে ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ভানু, দেখেছেন!

    হ্যাঁ, ছবিতে। সুবর্ণা বলল, আমাদের বাড়িতে ওরকম কেউ ঢোকেনি।

    বিহ্বলের মতো কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে ভানু বলল, কিন্তু সবাই যে বলছে।

    সুবর্ণা বলল, সত্যিই যদি ঢুকত আমি কি বেঁচে থাকতাম?

    এবার যেন বিশ্বাস হল ভানুর। তা তো ঠিকই–’বলতে বলতে ফের সামনের দিকে তাকায়।

    দেবীর স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, সবে ছুটি হয়েছে। ওকে রিকশায় তুলে বাড়ি পৌঁছুতে পৌঁছুতে পাঁচটা বেজে গেল।

    গেটের সামনে হরেন দাঁড়িয়ে ছিল। সাইকেল রিকশা থেকে নেমে দেবীকে নিয়ে সুবর্ণা যখন বাড়ির দিকে যাচ্ছে, সে-ও ওদের পাশাপাশি হাঁটতে লাগল। তার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

    সুবর্ণার মনে হল, হরেন কিছু বলতে চায়। সে কোনও প্রশ্ন করল না। তার ইচ্ছা হরেন নিজের থেকে বলুক। তার চোখ মুখের চেহারা সুবর্ণাকে ভেতরে ভেতরে উদ্বিগ্ন করে তুলল।

    দরজার কাছাকাছি এসে নিচু গলায় হরেন বলে, বৌদি, একটা কথা বলবার ছিল।

    সুবর্ণা বলল, হ্যাঁ, বলো না—

    দুপুরে দোতলায় অচেনা লোকের গলা শুনতে পেলাম।

    সুবর্ণা থমকে দাঁড়িয়ে গেল। একটু চিন্তা করে জিজ্ঞেস করল, তুমি ওপরে গিয়েছিলে নাকি?

    হরেন বলল, না না। নিচে বসেই কানে এল। কাগজে একটা খবর বেরিয়েছে, তাছাড়া যেখানে যাচ্ছি, লোকজন বলাবলি করছে একটা সাঙ্ঘাতিক খুনী নাকি কাল রাত্তিরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। গলাটা তারই কিনা–বলতে বলতে থেমে যায় সে।

    একজন সন্ত্রাসবাসী হত্যাকারীর ‘প্রতাপপুর প্যালেস’-এ কাল রাত্তিরে ঢুকে পড়ার গুজব চারিদিকে যে চাউর হয়ে গেছে সেটা রিকশাওলা ভানু আর কলেজের কলিগদের নানা প্রশ্নে টের পাওয়া গিয়েছিল।

    বিমলেশ ছাড়া অন্য সবার কাছেই ঘটনাটা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে সুবর্ণা। কিন্তু হরেন এ বাড়িতে থাকে। সে নিশ্চয়ই রাজীবের গলা শুনেছে। হঠাৎ কখনও ওকে দেখেও ফেলতে পারে। হরেনের কাছে ব্যাপারটা গোপন রাখা ঠিক হবে না। তাকে খোলাখুলি সব জানিয়ে সাবধান করে দেওয়াটা খুবই জরুরি।

    সুবর্ণা চাপা গলায় বলল, তোমার সঙ্গে আমার কিছু দরকারি কথা আছে। বলুন বৌদিদি’। এখন না, রাত্তিরে খাওয়া-দাওয়ার পর বলব। আমি কি ওপরে যাব?

    না। আমিই নিচে আসব।

    সুবর্ণা আর দাঁড়াল না, দেবীকে নিয়ে দোতলায় উঠতে উঠতে দেখতে পেল শৌর্যেন্দ্রনারায়ণ তার ঘরে বাচ্চাদের মতো টলমল করতে করতে হাঁটছেন আর সিঁড়ির দিকে মুখ করে সোফায় বসে কী একটা বই পড়ছে রাজীব। পায়ের শব্দে দ্রুত চোখ তুলে তাকাল সে। ততক্ষণে দোতলায় চলে এসেছে সুবর্ণারা। ওদের দেখেও সে কিছু বলল না।

    সুবর্ণা দেবীকে বলল, ঘরে গিয়ে স্কুল ড্রেসটা চেঞ্জ করে হাতমুখ ধুয়ে নাও। আমি মায়াকে খাবার দিতে বলে আসি। মেয়েকে বেডরুমে পাঠিয়ে সে কিচেনে চলে গেল।

    রোজই এই সময় বিকেলের খাবার তৈরি করে মায়া। একেক দিন একেক রকম। কোনওদিন পরটা, আলুর দম। কোনও দিন টোস্ট, ঘুগনি। কোনও দিন লুচি, পায়েস। বিকেলে সংগ্রামনারায়ণ আর শৌর্যেন্দ্রনারায়ণ হরলিকস আর বিস্কুট ছাড়া কিছু খান না, ডাক্তারের বারণ। খাবার যা হয় সবই সুবর্ণা আর দেবীর জন্য। অবশ্য মায়াও খায়।

    কিচেনে এসে সুবর্ণা দেখল, কচুরি ভাজার তোড়জোড় করছে মায়া। সতর্কভাবে চাপা গলায় জিজ্ঞেস করল, কোনও গোলমাল হয়নি তো?

    প্রশ্নটার উদ্দেশ্য মায়ার কাছে পরিষ্কার। সে বলল, না, তবে ছোট বাবা বার কয়েক হল-ঘরে এসে লোকটাকে দেখে গেছেন।

    সুবর্ণার মনে পড়ল, কলেজ থেকে যখন সে ফোন করেছিল তখন রাজীবও এই কথাগুলো জানিয়েছিল।

    মায়া ফের বলল, একবার ছোট বাবা খানিকক্ষণ কথাও বলল লোকটার সঙ্গে। সুবর্ণা চমকে উঠল, কী কথা?

    বলতে পারব না। আমি রান্নাঘরের দরজা ফাঁক করে বসেছিলাম। এতদূর থেকে কি শোনা যায়?

    বাবা রাগারাগি চেঁচামেচি করেননি তো?

    না।

    দুশ্চিন্তা একটু কাটল ঠিকই, তবে মনের ভেতর সামান্য খিচ থেকে গেল। সুবর্ণা বলল, তুমি তাড়াতাড়ি সবার খাবার নিয়ে এসো।

    নিজের ঘরে আসতেই তার চোখে পড়ল, দেবীর মুখটুখ ধোয়া হয়ে গেছে। সুবর্ণাও দ্রুত শাড়িটাড়ি পালটে, বাথরুম থেকে চোখে মুখে জল দিয়ে এল।

    কিছুক্ষণ পর ট্রেতে করে খাবার নিয়ে এল মায়া। দেবীকে খেতে দিয়ে, নিজের কচুরি তরকারি ঢাকা দিয়ে রেখে প্রথমে সংগ্রামনারায়ণের বেডরুমে গেল সুবর্ণা। হরলিকসের গ্লাস, বিস্কুট, চারটে ট্যাবলেট আর জল খাটের পাশের একটা সাইড টেবলে গুছিয়ে দিয়ে বলল, বাবা, খেয়ে নেবেন। আমি যাচ্ছি—

    সংগ্রামনারায়ণ তাঁর খাটের মাঝখানে চেক-বই নিয়ে বসে ছিলেন। প্রতি মাসের প্রথম এবং তৃতীয় সপ্তাহে দু’বার খরচের জন্য চেক লিখে তিনি সুবর্ণাকে দেন। সে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসে। বললেন, বৌমা, তোমার সঙ্গে কিছু আলোচনা আছে।

    দাদাভাইকে খাইয়ে আসছি। খাবার নিয়ে সংগ্রামনারায়ণের বেডরুমে এসে কচুরির প্লেটটা রাজীবকে দিয়ে শৌর্যেন্দ্রনারায়ণকে ধরে জোর করে ডিভানে বসিয়ে হরলিকস খাওয়াতে শুরু করল সুবর্ণা। জিজ্ঞেস করল, আমার কি আর কোনও ফোন এসেছিল?’

    রাজীব বলল, হ্যাঁ। থানা থেকে আরও কয়েক বার খোঁজখবর নিয়েছে। আর আপনাদের অর্গানাইজেশনের সেই মনোরমা অধিকারীও খানিকক্ষণ আগে আবার ফোন করেছিলেন। আপনি কলেজ থেকে ফিরলেই কনট্যাক্ট করতে বলেছেন।

    সুবর্ণা বলল, ঠিক আছে।

    রাজীব হাতের বইটা সোফার একধারে রাখতে রাখতে বলল, আপনার পারমিসন না নিয়ে একটা কাজ করে ফেলেছি মিসেস সিংহ।’ বলে অল্প হাসল।

    সুবর্ণা নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বলল, কারও পারমিসন নেওয়া কি আপনি প্রয়োজন মনে করেন?

    তার কথার মধ্যে যে তীব্র ধাক্কাটা ছিল সেটা লক্ষই করল না রাজীব। সোফায় যে বইটা রেখেছিল সেদিকে আঙুল বাড়িয়ে বলল, সময় কাটছিল না বলে আপনার লাইব্রেরি থেকে এটা নিয়ে এসেছি। ভেরি ইন্টারেস্টিং বুক–’মেনি ফেসেস অফ কলোনিয়ালিজম। এমন বই আগে কখনও পড়িনি। বইটা সবার পড়া উচিত।

    ইংরেজরা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এদেশে কলোনিয়ালিজমও শেষ। এ নিয়ে মাথা ঘামানোর আর দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

    স্থির দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রাজীব। তারপর জিজ্ঞেস করে, ইন্ডিয়ায় কলোনিয়ালিজম শেষ হয়ে গেছে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

    উত্তর না দিয়ে পালটা প্রশ্ন করল সুবর্ণা, আপনি কি বিশ্বাস করেন না?

    একটু চুপ করে থেকে রাজীব বলল, সারাদিন কলেজ করে এসেছেন। নিশ্চয়ই ভীষণ টায়ার্ড। তার ওপর শ্বশুর আর দাদাশ্বশুরের সেবা করতে হচ্ছে। পরে কোনও একদিন কলোনিয়ালিজম ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

    সুবর্ণা জবাব দিল না। শৌর্যেন্দ্রনারায়ণের খাওয়া শেষ হলে মনোরমা অধিকারীকে ফোন করল।

    মনোরমা তাদের মহিলা সমিতি নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর অফিসেই ছিলেন। বললেন, তোমাকে আজ দু’বার ফোন করেছি, পাইনি।

    সুবর্ণা বলল, শুনেছি। কিন্তু ওই সময় তো আমি কলেজে থাকি। বাড়িতে পাবেন কী করে?

    আরে তাই তো, আমার একেবারেই খেয়াল ছিল না। শোন, তোমার সঙ্গে খুব জরুরি কিছু কথা আছে।

    বলুন না—

    মনোরমা বললেন, ফোনে বলা যাবে না। তুমি কি কাল কলেজ ছুটির পর নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর অফিসে আসতে পারবে? অসুবিধা থাকলে আমিও তোমাদের বাড়ি যেতে পারি।

    মনোরমার ‘প্রতাপপুর প্যালেস’-এ চলে আসাটা ঠিক হবে না। এখানে এলে রাজীবের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা। কেননা বাইরের যে কয়েক জন। সংগ্রামনারায়ণের আগাম অনুমতি না নিয়ে সোজা দোতলায় উঠতে পারে, মনোরমা তাদের মধ্যে পড়েন। যদি সত্যিই তিনি আসেন আর বুঝতে পারেন রাজীব সুবর্ণাদের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে, তিনি ছাড়বেন না। আসলে মহিলা অত্যন্ত তেজী এবং খানিকটা বেপরোয়াও। যেভাবে হোক রাজীবের হাত থেকে তাদের মুক্ত করতে চাইবেন। কিন্তু তার ফলাফল ভয়াবহ হতে বাধ্য।

    সুবর্ণা ত্রস্তভাবে বলল, না না, আপনাকে আসতে হবে না। আমিই যাব। তবে–

    মনোরমা জিজ্ঞেস করলেন, তবে কী?

    কাল যেতে পারব কিনা, বুঝতে পারছি না। কবে যাব, আপনাকে ফোন করে জানিয়ে দেবো।

    আসলে রাজীবের সঙ্গে কথা না বলে সুবর্ণার পক্ষে আপাতত কথা দেওয়া সম্ভব নয়। তার স্বাধীনতা বলতে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। পুতুলনাচের পুতুলের মতো তার হাতে পায়ে অদৃশ্য সুতো বাঁধা রয়েছে। আর সেই সুতোর ডগাগুলো রয়েছে রাজীবের আঙুলে জড়ানো। সে যেভাবে তাকে চালাবে, অবিকল সেভাবেই তাকে চলতে হবে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের কলেজ আর দেবীর স্কুলে যাওয়া এবং ছুটির পর বাড়ি ফিরে আসা-এর মধ্যেই তার গতিবিধি সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে রাজীব। তাকে না জানিয়ে ছুটির পর নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এ গিয়ে যদি দেরি হয়ে যায়, রাজীব তার মধ্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পেতে পারে। ভাবতে পারে তাকে বিপদে ফেলার জন্য কিছু একটা হোড়জোড় করছে সুবর্ণা। লোকটা এতই সন্দেহপ্রবণ যে সে কলেজে আছে কি না সে খোঁজও দু-তিন বার ফোন করে আজ নিয়েছে।

    মনোরমা ব্যস্তভাবে বললেন, দেরি করলে চলবে না। কালই তোমার সঙ্গে দেখা হওয়াটা খুব আর্জেন্ট।

    মিনিট পনের বাদে আপনাকে ফোন করছি। মনোরমাকে কিছু বলার সময় না দিয়ে লাইন কেটে দেয় সুবর্ণা।

    আগাগোড়া তাকে লক্ষ করে যাচ্ছিল রাজীব। খুব আস্তে জিজ্ঞেস করল, মনে হচ্ছে আপনার মনোরমাদি আপনাকে কোনও একটা সমস্যায় ফেলে দিয়েছেন।

    ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে সুবর্ণা, হ্যাঁ।

    রাজীবের চোখেমুখে ঔৎসুক্য ফুটে ওঠে, প্রবলেমটা কী?

    মনোরমা কী বলেছেন তা জানিয়ে দিল সুবর্ণা।

    কিছুক্ষণ চুপচাপ কিছু ভাবল রাজীব। তারপর বলল, ঠিক আছে, কাল কলেজ ছুটির পর নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এ গিয়ে আপনার মনোরমাদির সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। আশা করি, আপনাদের পারিবারিক নিরাপত্তার ব্যাপারে যে ওয়ার্নিংগুলো কাল থেকে বার বার দিয়ে আসছি সেগুলো ভুলে যাবেন না।

    সংগ্রামনারায়ণ এবং শৌর্যেন্দ্রনারায়ণ যে তার হোস্টেজ হয়ে আছেন; সুবর্ণা মনোরমার সঙ্গে দেখা করে তার বিরুদ্ধে কোনওরকম গোলমাল পাকানোর চেষ্টা। করলে এঁদের পরিণতি কী হতে পারে, সেটাই আরেক বার মনে করিয়ে দিল রাজীব। স্থির চোখে তার দিকে তাকিয়ে সুবর্ণা বলল, না, ভুলব না। আমি তা হলে মনোরমাদিকে ফোন করে কাল দেখা করার কথাটা বলে দিচ্ছি।

    বলুন।

    সুবর্ণা মনোরমাকে আরেক বার ফোন করল। কথা শেষ করে ফোন নামিয়ে রাখতে রাখতে রাজীবকে বলল, আমি এখন যাচ্ছি। কলেজ থেকে ফেরার পর এক কাপ চাও খাওয়া হয় নি। বলে একটু হাসল।

    রাজীব ব্যস্তভাবে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ, যান।

    নিজের ঘরে চলে এল সুবর্ণা। কচুরি তরকারি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। কোনওরকমে খেয়ে সংগ্রামনারায়ণের বেডরুমে এল।

    চেক লেখা হয়ে গিয়েছিল। সুবর্ণার হাতে সেটা দিয়ে সংগ্রামনারায়ণ বললেন, বসো বৌমা–

    একটা পুরু গদিওলা মোড়া খাটের কাছে টেনে এনে সুবর্ণা বসে পড়ল।

    সংগ্রামনারায়ণ সামনের বিশাল জোড়া জানালা দিয়ে কিছুক্ষণ বাইরে তাকিয়ে রইলেন। সন্ধে হতে খুব বেশি দেরি নেই। সূর্য পশ্চিম দিকের উঁচু উঁচু গাছপালার মাথায় ফ্রিজ শটের মতো স্থির হয়ে রয়েছে। যে নিস্তেজ আলোটুকু এখনও আকাশের গায়ে আবছাভাবে লেগে আছে তার আয়ু আর কতক্ষণ? দেখতে দেখতে সূর্য ডুবে যাবে, ঝুপ করে নেমে আসবে অঘ্রাণের সন্ধে। অন্ধকারে ছেয়ে যাবে চোখের সামনে দৃশ্যমান প্রতাপপুর সিটির বাড়িঘর, রাস্তা, পার্ক।

    একটু লক্ষ করলে এখন চোখে পড়ে, দূরে মিহি সিল্কের মতো কুয়াশা নামতে শুরু করেছে। হাওয়া দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

    সুবর্ণা বুঝতে পারল, জরুরি কথাটা বলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন সংগ্রামনারায়ণ। সে অপেক্ষা করতে লাগল। মনে মনে কিছুটা টেনসন যে হচ্ছিল না তা নয়। কী বলবেন সংগ্রামনারায়ণ? রাজীব সম্পর্কেই কি কিছু?

    একসময় সুবর্ণার দিকে মুখ ফিরিয়ে সংগ্রামনারায়ণ বললেন তোমার যে আত্মীয়টি এসেছে তার সম্বন্ধে বিশেষ কিছুই জানি না।

    যা আন্দাজ করা গিয়েছিল তা-ই। শ্বাসক্রিয়া যেন পলকের জন্য বন্ধ হয়ে গেল সুবর্ণার। নিঃশব্দে সে সংগ্রামনারায়ণকে লক্ষ করতে থাকে। রাজীব সম্পর্কে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাইলে তাকে খুবই সমস্যায় পড়তে হবে।

    সংগ্রামনারায়ণ জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের আত্মীয়টি তোমার বৌদির কিরকম যেন ভাই হয়?

    সংগ্রামনারায়ণ কি তাকে পরীক্ষা করতে চাইছেন? একটু হকচকিয়ে গেলেও সুবর্ণা টের পায় তার স্মৃতিশক্তি এখনও যথেষ্ট সক্রিয়। চাপা গলায় বলল, পিসতুতো ভাই।

    সংগ্রামনারায়ণ বললেন, তোমার বৌদির পিসিমার কি আসাম বা নর্থ-ইস্টের অন্য কোনও স্টেটের লোকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল?

    সুবর্ণা চমকে ওঠে, এ কথা জানতে চাইছেন কেন বাবা?’

    সংগ্রামনারায়ণ বললেন, তুমি রাজীবের চেহারা আর বাংলা উচ্চারণ লক্ষ করেছ?

    তিনি কী ইঙ্গিত দিয়েছেন তা বুঝতে পারছিল সুবর্ণা। তবু বলল, হ্যাঁ, মানে–কেন বলুন তো?

    সংগ্রামনারায়ণ বললেন, ওর মুখেচোখে একটা মঙ্গোলিয়ান ছাপ রয়েছে না? বাংলা প্রোনানসিয়েসনও পারফেক্ট নয়। তাই মনে হচ্ছে তোমার বৌদির পিসিমার বিয়েটা হয়তো নর্থ-ইস্টেই হয়েছে।

    সুবর্ণার গলা শুকিয়ে আসছিল। সংগ্রামনারায়ণ রাজীব সম্পর্কে পুরোপুরি সংশয় মুক্ত হতে পারেন নি, সন্দেহটা তার মনে বদ্ধমূল হয়ে আছে। খুবই অস্বস্তি হচ্ছিল সুবর্ণার। ক্ষীণ স্বরে বলল, আমি অত ভাল জানি না। তবে এরপর কী বলবে, ভেবে নেওয়ার জন্য থেমে গেল সে।

    তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে ছিলেন সংগ্রামনারায়ণ। বললেন তবে কী?

    ভীষণ ঘাবড়ে যায় সুবর্ণা। এক রকম মরিয়া হয়েই বলে, আমি অত ভাল জানি না। বৌদির মুখে শুনেছিলাম, ওর পিসিমার ওদিকেই কোথায় যেন বিয়ে হয়েছে।

    এ নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন করলেন না সংগ্রামনারায়ণ। শুধু বললেন, আজ দুপুরে তুমি যখন কলেজে, রাজীবের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্পটল্প করলাম। এমনি বেশ ভদ্র। ওকে বললাম, নতুন জায়গায় এসেছ, সারাক্ষণ ঘরে বসে আছ কেন? আমাদের ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি, সে তোমাকে গাড়িতে করে প্রতাপপুর সিটি, লেকটেক ঘুরিয়ে দেখাবে। রাজীব রাজি হল না। বলল, ভীষণ টায়ার্ড। দু-একদিন রেস্ট নিয়ে নিজেই ঘুরেটুরে দেখবে। পায়ে হেঁটে না ঘুরলে নাকি কোনও নতুন জায়গা ভাল করে দেখা হয় না। আমি বললাম, তবে তাই দেখো–’

    শ্বাস আটকে গিয়েছিল সুবর্ণার। কোনওভাবেই স্বাভাবিক হতে পারছে না সে।

    সংগ্রামনারায়ণ বললেন, বাবার ঘরে আমাদের টেলিফোনটা দেখলাম।

    তিনি যে এটাও লক্ষ করবেন ভাবতে পারেনি সুবর্ণা। কাঁপা গলায় কোনওরকমে জানাল, সে নিজে সারাক্ষণ বাড়িতে থাকে না, কলেজে বেরুতে হয়। এদিকে রাজীবের কটা জরুরি ফোন আসার কথা আছে। তাই ওটা শেীর্যেন্দ্রনারায়ণের ঘরে রেখে এসেছে।

    সংগ্রামনারায়ণ কয়েক পলক কী ভেবে বললেন, ভালই করেছ।

    কথায় কথায় সন্ধে নেমে গিয়েছিল। সুবর্ণা ধীরে ধীরে উঠে পড়ল। নিজের ঘরে এসে দেবীকে পড়তে বসিয়ে দিল। আর তখনই মনে পড়ে গেল, নিচে গিয়ে হরেনের সঙ্গে রাজীব সম্পর্কে কথা বলতে হবে। কিন্তু তার আগে রাজীবকে সেটা জানানো দরকার। ওই সশস্ত্র টেরোরিস্টটা এ বাড়িতে ঢোকার পর থেকে সুবর্ণার ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলতে কিছুই আর কাজ করে না। নিজের থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তার নেই। সে কোথায় যাবে, কেন যাবে, কার সঙ্গে কী কথা বলবে–সমস্ত কিছুই নির্ভর করছে ওই লোকটার অনুমতির ওপর। সর্বক্ষণ তার মনে হয়, অদৃশ্য রিমোট কন্ট্রোলে সে তার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। তুই পড়। আমি এক্ষুণি একটা কাজ সেরে আসছি।’ এক নিঃশ্বাসে দেবীকে কথাগুলো বলে শৌর্যেন্দ্রনারায়ণের ঘরে চলে এল সুবর্ণা।

    কলোনিয়ালিজমের ওপর সেই বইটা পড়ছিল রাজীব। সুবর্ণাকে দেখে উৎসুক চোখে তাকাল।

    সুবর্ণা বলল, তখন একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

    রাজীব জিজ্ঞেস করল, কী কথা?

    হরেনের ব্যাপারটা জানিয়ে সুবর্ণা বলল, ওকে এখন গিয়ে বোঝাতে হবে আপনার সম্পর্কে যেন চুপচাপ থাকে, কারও কাছে মুখ না খোলে।

    ঠিক আছে। আপনারা যখন কথা বলবেন আমি কিন্তু ল্যান্ডিংয়ের পিলারটার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব শুনব।

    আচ্ছা।

    কিছুক্ষণ নীরবতা।

    তারপর রাজীব বলল, আমার মাথার ওপর পঞ্চাশ লাখ টাকার পুরস্কার রয়েছে। টাকার মতো খারাপ জিনিস আর নেই। লোভে পড়ে হরেন ডেসপারেটলি কিছু করে বসবে না তো?

    সুবর্ণা বলল, হরেন খুবই বিশ্বাসী, কিন্তু ওর মতো ভীরু আর একটাও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। তবু ভাল করে বুঝিয়ে দেবো, টাকার জন্যে বেপরোয়া হলে তার ফল কী হবে।

    রাজীব উত্তর দিল না।

    .

    ১২.

    পরদিন কলেজ ছুটির পর একটা সাইকেল রিকশা নিল সুবর্ণা দেবীকে তার স্কুল থেকে তুলে সোজা নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর সামনে এসে থামল।

    মহারানী হেমপ্রভা অ্যাভেনিউতে মনোরমা অধিকারীদের বিশাল তেতলা বাড়ি। গোটা বাড়ি জুড়েই নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর অফিস এবং কর্মশালা। দুঃস্থ, স্বামী পরিত্যক্ত, ধর্ষিত বা নানাভাবে নির্যাতিত যে মেয়েদের আবর্জনার মতো ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে, তাদের সযত্নে তুলে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন মনোরমা। তিনিই এদের শেষ আশ্রয়।

    বাড়িটার পেছন দিকে অনেকখানি কঁকা জায়গা। অসহায় মেয়েগুলো যাতে স্বাবলম্বী হতে পারে, ভাত-কাপড়ের জন্য তাদের কারও মুখাপেক্ষী হতে না হয়, সে জন্য ওখানে বড় বড় টিনের শেড তুলে কোনওটায় তাঁত বসানো হয়েছে। কোনওটায় বেত, বাঁশ, কোনওটায় বা চামড়ার কাজের জন্য রয়েছে ওয়ার্কশপ। এখানকার মেয়েদের তৈরি শাড়ি, নকশা-করা চাদর, টেবল ক্লথ, বেতের মোড়া বা চেয়ার, চামড়ার ব্যাগ, ঘর সাজানোর নানা জিনিস আর বটুয়ার বিরাট চাহিদা। শুধু প্রতাপপুরেই নয়, শিলিগুড়ি, কলকাতা, এমন কি সুদূর দিল্লি থেকেও ভাল অর্ডার আসে। ফলে আর্থিক দিক থেকে মেয়েরা অনেকখানি নিশ্চিন্ত। তাদের আত্মবিশ্বাস ক্রমশ বাড়ছে।

    রিকশার ভাড়া মিটিয়ে দেবীকে নিয়ে একতলায় নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর অফিসে চলে এল সুবর্ণা।

    মনোরমা টেবলের ওপর ঝুঁকে কিছু লিখছিলেন। পায়ের শব্দে মুখ তুলে একটু হেসে বললেন, তোমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম। আরে দেবীকেও এনেছ!’

    মনোরমার বয়স পঞ্চাশ বাহান্ন। সময় এলোপাথাড়ি ব্রাশ চালিয়ে তার চুল আধাআধি সাদা করে দিয়েছে। শরীর কিছুটা ভারী। চেহারায় যৌবনের পেলবতা মুছে গিয়ে রুক্ষতা ফুটে উঠেছে। তবু ডিম্বাকৃতি মুখ, ধারাল নাক, বড় বড় উজ্জ্বল বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, অনেকটা মলিন হয়ে গেলেও ফর্সা রং, সব মিলিয়ে বলা যায় একসময় তিনি খুবই সুন্দরী ছিলেন।

    একটা চেয়ার টেনে বসতে বসতে সুবর্ণা বলল, আসার সময় পথে ওর স্কুলটা পড়ল, তাই সঙ্গে করে নিয়ে এলাম। মনোরমার সঙ্গে একটু মিথ্যাচারণই করল সে। রাজীবের জন্য ইদানীং যে দেবীকে স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছে এবং ছুটির পর নিয়ে আসছে সেটা আর বলল না।

    বাড়ির পেছন দিকের ওয়ার্কশপগুলোতে এখন প্রচণ্ড কর্মব্যস্ততা। দু শিফটে ওখানে মেয়েরা কাজ করে। প্রথম শিফটটা সকালে সাতটায় শুরু, শেষ একটায়। দুপুর দু’টো থেকে আটটা পর্যন্ত যে শিফট, এখন সেটা চলছে। বাঁশ চেরাইর আওয়াজ, পেরেক ঠোকার আওয়াজ, তাতে চলার আওয়াজ, সব মিলিয়ে বিচিত্র অর্কেস্ট্রার মিশ্রিত শব্দ সেখান থেকে ভেসে আসছে। সেই সঙ্গে মেয়েদের টুকরো টুকরো কণ্ঠস্বর।

    মনোরমা দেবীকে কাছে টেনে নিজের পাশে বসিয়ে আদর করতে করতে সস্নেহে বললেন, তুমি এসেছ, আমি খুব খুশি হয়েছি। কী খাবে বল?

    দেবী লাজুক মুখে বলল, দুপুরে টিফিন খেয়েছি। এখন আর কিছু খাব না।

    খাব না বললে শুনছি না। একটি মেয়েকে ডেকে দোকান থেকে সন্দেশ আর কাজু বাদাম কিনিয়ে এনে দেবীকে দিতে দিতে বললেন, তুমি খাও। আমি মায়ের সঙ্গে দরকারি কথা বলি- সুবর্ণার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমাকে যে জন্যে কাল অত বার ফোন করেছিলাম সেটা শোন–

    বলুন–উৎসুক চোখে তাকাল সুবর্ণা।

    মনোরমা জানালেন, প্রতাপপুর সিটির বেশ কিছু মহিলা নন-ক্রিমিনাল লুনাটিক অর্থাৎ নিরপরাধ পাগলকে দীর্ঘ দশ পনের বছর জেলে আটকে রাখার পর আসছে সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এদের কারও মা-বাবা নেই। আত্মীয়-স্বজন যারা আছে তারা কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষগুলোর দায়িত্ব নিতে চায় না। খবরটা পাওয়ার পর ভীষণ বিচলিত হয়ে পড়েছেন মনোরমা। বললেন, এই হেল্পলেস মেয়েগুলোর জন্যে আমাদের কিছু একটা করা দরকার।

    সুবর্ণা মনোরমাকে যত দেখছে ততই অবাক হচ্ছে। সে শুনেছে তার মা-বাবা দু’জনেই ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ইংরেজের জেলে তাঁদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টাই কেটে গেছে। স্বাধীনতার পর ইচ্ছা করলে তারা অনেক কিছুই পেতে পারতেন। তাম্রপত্র, অর্থ, মন্ত্রিত্ব এবং আরও অজস্র সুযোগ সুবিধা। কিন্তু তারা কিছুই নেন নি; রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়ে বাকি জীবন সমাজসেবা করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। মা-বাবার সততা আর আদর্শবাদকে উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন মনোরমা। তিনি ওঁদের একমাত্র সন্তান। কলেজে পড়ার সময় থেকেই সমাজকল্যাণে, বিশেষ করে লাঞ্ছিত মেয়েদের জন্য কাজ করে চলেছেন। এম. এ পাশ করার পর কয়েক বছর রানী স্বর্ণময়ী কলেজে’-এ পড়িয়ে ছিলেন কিন্তু নির্যাতিত মেয়েদের সংখ্যা এত দ্রুত গতিতে বেড়ে যাচ্ছিল যে চাকরিটা শেষ পর্যন্ত ছেড়েই দিতে হল। মা-বাবার মৃত্যুর পর নিজেদের বাড়িতেই নারী বিকাশ কেন্দ্র গড়ে তুললেন। এই সংগঠনটার জন্য শেষ পর্যন্ত বিয়ে করারও সময় পান নি।

    নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর জন্য নিজের যা কিছু সবই দিয়েছেন মনোরমা। গভর্নমেন্ট থেকে কিছু গ্রান্ট পাওয়া যায়, বিদেশ থেকেও ডোনেশন আসে। বড় বড় বিজনেস হাউস তাদের সোশাল ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে কিছু টাকা দেয়। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের ছোট ছোট দান তো আছেই। এই সব গ্রান্ট ট্রান্ট জোগাড় করতে কত জায়গায়, কত প্রভাবশালী লোকের কাছে যে ছোটাছুটি করতে হয়েছে তার হিসেব নেই।

    এই বিশাল কাজ তো একা করা সম্ভব নয়। তাই সুবর্ণার মতো আরও অনেককেই নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এ টেনে এনে নানা দায়িত্ব দিয়েছেন।

    এতদিন নির্যাতিত মেয়েদের জন্য জীবনের সব কিছু অর্থাৎ ব্যক্তিগত সুখ, আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন। এখন নতুন করে যুক্ত হল নিরপরাধ পাগল মেয়েরা। ওদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে না পারলে যেন জীবনটাই ব্যর্থ হয়ে যাবে মনোরমার।

    সুবর্ণা বলল, নিশ্চয়ই কিছু করতে হবে।

    মনোরমা বললেন, কিন্তু একটা সমস্যা আছে। সেই জন্যেই তোমাকে কাল ফোন করেছিলাম।

    সমস্যাটা কী?

    এত মেয়ে কোথায় রাখব? নারী বিকাশ কেন্দ্র’ তো বোঝাই। এখানে আর জায়গা নেই।

    সুবর্ণাকে চিন্তিত দেখায়। সে বলে, তা হলে কী করবেন?

    মনোরমা বলল, একটাই সলিউসন রয়েছে। তবে সেটা পুরোপুরি তোমার ওপর নির্ভর করছে।

    উৎসুক সুরে সুবর্ণা জিজ্ঞেস করে, আমি কী করে সলভ করব?

    তোমাদের প্যালেসের একতলায় অনেকগুলো ঘর ফাঁকা পড়ে আছে। যতদিন না অন্য কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে ওখানে যদি ওদের থাকতে দাও’ বলতে বলতে চুপ করে গেলেন মনোরমা।

    সুবর্ণা হকচকিয়ে যায়। কিছুক্ষণ ভেবে বলে, আমার নিজের আপত্তি নেই কিন্তু শ্বশুরমশাইয়ের পারমিসন ছাড়া তো কিছুই করা যাবে না মনোরমাদি।

    মনোরমা বললেন, খুব বেশিদিন ওরা থাকবে না। ম্যাক্সিমাম একমাস। তার মধ্যেই ওদের জন্যে একটা বাড়ি ঠিক করে ফেলব। খাওয়া টাওয়ার যা খরচ, আমাদের অর্গানাইজেশনই দেবে। রান্নার লোকও আমরা পাঠাব। তুমি শ্বশুরমশাইকে একটু বুঝিয়ে বলো। তুমি বললে আশা করি উনি না’ বলবেন না।

    আচ্ছা বলব।’বলতে বলতে রাজীবের মুখ চোখের সামনে ফুটে ওঠে সুবর্ণার। সঙ্গে সঙ্গে একটা প্রচণ্ড দুর্ভাবনা তাকে গ্রাস করে। শুধু সংগ্রামনারায়ণের অনুমতি নিলেই চলবে না, রাজীবের মতামতই সব থেকে জরুরি। তার আপত্তি থাকলে একটা মাছিকেও ‘প্রতাপপুর প্যালেস’-এ ঢোকানো যাবে না। সে মনস্থির করে ফেলল, প্রথমে রাজীবকে বুঝিয়ে বলবে। তারপর সংগ্রামনারায়ণের কাছে যাবে।

    বাড়ি ফিরে দেবীকে নিজেদের বেডরুমে পাঠিয়ে শৌর্যেন্দ্রনারায়ণের ঘরে চলে এল সুবর্ণা।

    রাজীব ইজি চেয়ারে শরীর এলিয়ে বই পড়ছিল। ধীরে ধীরে উঠে বসে জিজ্ঞেস করল, নিশ্চয়ই আপনার মনোরমাদির সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।

    হ্যাঁ।

    কী জন্যে উনি আপনাকে ডেকেছিলেন?

    মনোরমার সঙ্গে তার যা কথা হয়েছে, সব জানিয়ে ছিল সুবর্ণা। তারপর বলল, কী যে করব, বুঝে উঠতে পারছি না। বলে রাজীবের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করতে লাগল।

    রাজীব তক্ষুণি উত্তর দিল না। মিনিটখানেক চুপ করে থেকে বলল, আপনার সমস্যাটা বুঝতে পারছি। উইমেন্স অর্গানাইজেশনের অ্যাক্টিভ মেম্বার হিসেবে আপনি মনোরমা দেবীকে না বলতে পারেন না। হিউম্যানিটারিয়ান গ্রাউন্ডে ওই হেল্পলেস মানুষগুলোকে শেলটার দেওয়াই উচিত। কিন্তু আপনার দুশ্চিন্তা আমাকে নিয়ে নিয়ে–তাই তো?’

    সুবর্ণা আগেও লক্ষ করেছে, লোকটা অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন থট রিডার। কেউ মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে তার মনের কথা জেনে যায়। কিছু না বলে আস্তে মাথা নাড়ল সে। তবে আবছাভাবে এই প্রথম তার মনে হল, রাজীব শুধু একটা নিষ্ঠুর হননকারী নয়, তার মধ্যে দয়ামায়া সহানুভূতির মতো কোমল কিছু কিছু ব্যাপার এখনও থেকে গেছে।

    রাজীব বলল, এক উইক পর মেয়েরা ছাড়া পাবে। এখনও অনেক সময় আছে। দু-একদিন ভেবে আপনাকে বলব।

    সুবর্ণা আন্দাজ করল, নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে সব দিক খুঁটিয়ে দেখার জন্য সময় নিল রাজীব। যদি বোঝে মেয়েরা এলে তার ক্ষতির আশঙ্কা নেই, সে সম্পূর্ণ। সুরক্ষিত থাকতে পারবে, তা হলে হয়তো আপত্তি করবে না।

    সুবর্ণা বলল, তাই বলবেন। আপনার মতামত জানতে পারলে মনোরমাদিকে ফোন করব। আমি এখন যাচ্ছি। নিজের বেডরুমের দিকে চলে গেল সে।

    .

    ১৩.

    আরও তিনটে দিন কেটে গেল।

    এর মধ্যে বিপজ্জনক বা চমকে দেবার মতো কিছুই ঘটেনি। যান্ত্রিক নিয়মে সুবর্ণা রোজ যা যা করে তাই করে গেছে। ঘুম থেকে উঠে শ্বশুর এবং দাদাশ্বশুরের সেবা, মেয়েকে পড়ানো, রাজীবের প্রতি আতিথেয়তা, কোথাও এতটুকু ত্রুটি হয়নি। তারপর স্নান করে, খেয়ে, মেয়েকে তার স্কুলে নামিয়ে, কলেজে চলে গেছে। ফিরে এসেও প্রায় একই রুটিন।

    এর মধ্যে ওসি রামেশ্বর বসাক যথারীতি টেরোরিস্টের খোঁজে দিনে দু’বার করে ফোন করেছেন। বিমলেশ রাজীবের সঙ্গে দেখা করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। রোজই সে এ জন্য তাড়া দিয়ে চলেছে। সংগ্রামনারায়ণ রাজীব সম্বন্ধে আর কোনও প্রশ্ন করেননি। তিনি সন্দেহমুক্ত হতে পেরেছেন কি না, মুখচোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে না।

    রাজীব ঘর থেকে প্রায় বেরোয়ই নি। সুবর্ণার লাইব্রেরি থেকে একের পর এক বই এনে পড়ে পড়ে সময় কাটিয়ে দিয়েছে। এ বাড়ি থেকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর ছকটা সে ঠিক করে ফেলতে পেরেছে কি না টের পাওয়া যায়নি। তবে তার চেহারায় বা কথাবার্তায় আগের সেই উগ্রতা ততটা নেই। হয়তো ভেবেছে, ‘প্রতাপপুর প্যালেস’-এ তার নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটবে না। কেউ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করবে না।

    মায়া অবশ্য একটা খবর দিয়েছিল। একদিন দুপুরে নাকি রাজীব ছাদে উঠে কী সব দেখে এসেছে।

    এই ক’দিন সামান্যই একটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে রাজীবের ঘরে চার বেলাই তার খাবার টাবার দিয়ে আসতে হত। তার অনুরোধে দু’দিন ধরে রাতের খাওয়াটা হল-ঘরের ডাইনিং টেবলে বসে এক সঙ্গে খাচ্ছে সুবর্ণা।

    .

    আজ রাতেও তারা খেতে বসেছিল। পাশাপাশি নয়, মুখোমুখি। টেবলের দু’ধারে বসলে কথা বলতে সুবিধা হয়।

    মায়া দু’জনের প্লেটে এবং বাটিতে বাটিতে রুটি, ছোলার ডাল, মুরগির মাংস, তরকারি ইত্যাদি সাজিয়ে দিয়ে কিচেনে চলে গিয়েছিল। রাজীবের সামনে পারতপক্ষে সে থাকতে চায় না। কিছু দরকার হলে তাকে ডাকতে হবে।

    চুপচাপ খেতে খেতে অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছিল সুবর্ণা। মানসিক ভারসাম্যহীন সেই নিরপরাধ মহিলারা ঠিক তিনদিন পর মুক্তি পাবে। অথচ তাদের থাকার ব্যবস্থা এখনও করা হয়নি। মনোরমাদি অনবরত ওদের এ বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য চাপ দিচ্ছেন। রাজীব বলেছিল, দু-একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে তার মতামত জানিয়ে দেবে। কিন্তু কিছুই জানায়নি। সুবর্ণা যে সাহস করে জিজ্ঞেস করবে, তাও পারেনি। লোকটা খুবই সন্দিগ্ধ ধরনের। যার খোঁজে পুলিশ খ্যাপা কুকুরের মতো চারিদিকে হন্যে হয়ে ঘুরছে তার এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। জিজ্ঞেস করলে যদি ভেবে বসে এর মধ্যে কোনও অভিসন্ধি আছে, সেই ভয়ে এ ব্যাপারে মুখ বুজে থাকতে হয়েছে।

    রাজীব টেবলের উলটো দিকে বসে বোধহয় লক্ষ করছিল। হঠাৎ বলল, মিসেস সিংহ, কী হয়েছে বলুন তো–

    সুবর্ণা চমকে ওঠে, কই, কিছু না। আপনাকে খুব আনমাইন্ডফুল দেখাচ্ছে।

    হ্যাঁ, মানে–

    কী?

    সুবর্ণা এবার ঠিক করে ফেলল, রাজীব যা ভাবার ভাবুক, সে এখনই মেয়েগুলো সম্বন্ধে তার মত জেনে নেবে। বলল, সেদিন নন-ক্রিমিনাল লুনাটিক ক’টা মেয়ের কথা বলেছিলাম। আপনি কিন্তু এখনও আমাকে কিছু জানাননি। তিন দিন পর ওরা ছাড়া পাচ্ছে। মনোরমাদি ভীষণ তাড়া দিচ্ছেন।

    রাজীব বলল, ওদের কথা আমি যে ভাবিনি তা নয়। সেদিনই আপনাকে বলেছি হেল্পলেস মেয়েগুলোকে শেলটার দেওয়া উচিত।’ বলে একটু থামল। কী চিন্তা করে ফের বলল, ঠিক আছে, ওদের নিয়ে আসবেন। কিন্তু–

    কিন্তু কী?

    ওরা এলে আপনাদের অর্গানাইজেশনের অন্য ওয়ার্কাররাও নিশ্চয়ই আসবেন।

    তা তো আসবেনই।

    তারা কিংবা নন-ক্রিমিনালরা, কেউ কিন্তু দোতলায় উঠতে পারবে না।

    দেখুন, মনোরমাদি বন্দনাদি এমনি আরও যাঁরা নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর সঙ্গে জড়িত তারা এ বাড়িতে এলে ওপরে উঠে শ্বশুরমশাই আর দাদাশ্বশুরকে দেখে যান। আমার শ্বশুরমশাই বাইরের কেউ দোতলায় উঠলে ভীষণ রেগে যান। ওয়ান্স হি ওয়াজ আ কিং, এখনও নিজেকে রাজাই মনে করেন। কমোনারদের সম্পর্কে তার ভয়ঙ্কর ঘৃণা। কিন্তু আমাদের নারী বিকাশ কেন্দ্র’-এর অ্যাক্টিভিস্টদের, বিশেষ করে মনোরমাদিকে খুব পছন্দ করেন। লাঞ্ছিত মেয়েদের জন্যে সারাটা জীবন যেভাবে ডেডিকেট করেছেন, সম্ভবত সেই কারণে। ওঁরা এলে কীভাবে আটকাবো?

    স্থির দৃষ্টিতে সুবর্ণার দিকে তাকিয়ে থাকে রাজীব। হয়তো বুঝতে চেষ্টা করে মনোরমাদের এ বাড়িতে আসার ভেতর কোনওরকম সূক্ষ্ম চাল রয়েছে কিনা। সুবর্ণা সেটা আঁচ করে নিয়ে দ্রুত বলে ওঠে, আমাদের অ্যাক্টিভিস্টদের সম্পর্কে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে পারি, টরচার্ড ডিসকার্ডেড মেয়েদের বেঁচে থাকা আর ওদের বাঁচিয়ে রাখা, এর বাইরে ওঁরা আর কিছু ভাবতে পারেন না। আপনি মনোরমাদিদের সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।

    রাজীব বলল, ঠিক আছে। শুধু ওঁরা দোতলায় ওঠার আগে আমাকে জানিয়ে দেবেন। আমি অন্য কারও চোখে পড়তে চাই না।

    আচ্ছা।

    এখন পর্যন্ত যেটুকু দেখেছি তাতে আপনাকে অবিশ্বাস করার কারণ ঘটেনি। যে ক’দিন আছি, আশা করি, তেমন কিছু ঘটবে না।

    রাজীব যে ক্রমশ তার প্রতি আস্থা রাখতে শুরু করেছে, এতে কিছুটা স্বস্তি বোধ করল সুবর্ণা। এই সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একটা বিপজ্জনক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। সর্বক্ষণ ভয় আর আতঙ্ক। রাজীব যদি মনে করে, সুবর্ণারা কোনওরকম ক্ষতি করবে না, ‘প্রতাপপুর প্যালেস’-এ সে নিরাপদে থাকতে পারবে, তাহলে তার উগ্রতা কমে আসবে। সুবর্ণার প্রচণ্ড টেনসনও অনেকটাই হালকা হয়ে যাবে। হঠাৎ বিমলেশের মুখটা মনে পড়ল। এই হচ্ছে সুযোগ। তার সম্পর্কে রাজীবের সংশয় কেটে যেতে শুরু করেছে। এখনই বিমলেশের কথাটা বলা যেতে পারে।

    খানিক নৈঃশব্দের পর সুবর্ণা বলল, আপনি যদি ভরসা দেন, একটা অনুরোধ করব।

    রাজীব বলল, করুন।

    আমার এক কলিগ একসময় উগ্রপন্থী আন্দোলনের একজন লিডার ছিল। দারুণ অনেস্ট আর আইডিয়ালিস্ট। এখন অবশ্য কোনওরকম মুভমেন্টের সঙ্গে জড়িত নেই। সে আপনার সঙ্গে আলাপ করতে চায়। যদি–

    হোয়াট? সুবর্ণার কথা শেষ হতে না হতেই লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায় রাজীব। চাপা, ক্রুদ্ধ স্বরে বলে, আমি যে এ বাড়িতে আছি, সে জানলে কী করে? আপনি বলেছেন?

    বসুন। খুব শান্ত গলায় সুবর্ণা বলল, আমার সব কথা শুনলে বুঝতে পারবেন আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি।

    তার কণ্ঠস্বরে এমন এক দৃঢ়তা ছিল যাতে রাজীবের রাগ এবং উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসে। সুবর্ণার চোখে চোখ রেখে ধীরে ধীরে ফের বসে পড়ে সে।

    সুবর্ণা বলে, বিমলেশ অত্যন্ত ইনটেলিজেন্ট। আপনি এ বাড়িতে আসার পরদিন খবরের কাগজে যে রিপোর্ট বেরিয়েছিল সেটা পড়ে ও সিওর হয়ে যায়, আপনি আমাদের বাড়িতেই আছেন। আমাকে তার ধারণার কথা বলে। আমি প্রথমে স্বীকার করিনি। পরে এমনভাবে বোঝায় যে আমাদের বাড়ি ছাড়া আপনার পক্ষে অন্য কোথাও থাকা সম্ভব নয়। আমাকে শেষ পর্যন্ত মেনে নিতেই হয়। না থেমে এক নিঃশ্বাসে সে বলে যায়, বিমলেশ আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু, হিতাকাঙ্ক্ষী। আমাকে যদি বিশ্বাস করতে পারেন, ওকেও পারবেন।

    রাজীব উত্তর দিল না।

    একটানা বলতে বলতে হাঁফিয়ে পড়েছিল সুবর্ণা। জোরে শ্বাস টেনে ফের শুরু করে, একটা কথা ভেবে দেখুন, চারদিন আগে বিমলেশ আপনার খবরটা পেয়ে গেছে। ওর লোভ থাকলে পুলিশকে জানিয়ে দিতে পারত। তারা প্যালেস ঘিরে ফেললে আমরা হয়তো শেষ হয়ে যেতাম কিন্তু আপনিও রক্ষা পেতেন না। বিমলেশ ইনফরমেশনটা দেবার জন্য পঞ্চাশ লাখ টাকা পেয়ে যেত।

    এতক্ষণে রাজীবের দৃষ্টি নরম হয়ে আসে। মাংসের ঝোলে রুটির একটা টুকরো ডুবিয়ে মুখে পুরে চিবোতে চিবোতে সে জিজ্ঞেস করে, আপনার বন্ধু আমার সঙ্গে আলাপ করতে চান কেন?

    খুব সম্ভব কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

    কী বিষয়?

    সেটা ও-ই বলবে।

    রাজীব বলল, মনে হচ্ছে বিমলেশবাবু আমার সঙ্গে আলাপ করেন সেটা আপনিও চান। ঠিক আছে, ওঁকে নিয়ে আসবেন।

    এত সহজে রাজীব রাজি হয়ে যাবে, ভাবতে পারেনি সুবর্ণা। বলল, কবে আনব?’

    কাল কলেজ ছুটির পর আনতে পারেন।

    চুপচাপ কিছুক্ষণ দু’জনে খেয়ে যায়। চারদিন রুদ্ধশ্বাসে কাটানোর পর এই প্রথম অনেকটা সহজভাবে বাইরের হাওয়া ফুসফুসে টানতে পারছে সুবর্ণা। ইদানীং সারারাত প্রায় জেগে জেগেই কেটে যায়। আজ খুব সম্ভব ভাল করে ঘুমোতে পারবে সে।

    রাজীব ডাকল, মিসেস সিংহ–

    বলুন।

    আপনি আমাকে শেলটার দিয়েছেন, আপনার হসপিটালিটির তুলনা হয় না। একই বাড়িতে আমরা আছি, অথচ আপনার সম্বন্ধে কিছুই প্রায় জানি না।

    আমিও তো একই কথা বলতে পারি। আপনার সম্পর্কে খবরের কাগজের রিপোর্টটা ছাড়া আর কিছুই আমারও জানা নেই।

    রিপোের্টটা তো হাজার হাজার পাঠক পড়েছে। কিন্তু আমি যে কতটা ভীতিকর লোক, আমার মধ্যে কী ধরনের নিষ্ঠুরতা রয়েছে সে অভিজ্ঞতা শুধু আপনারই হয়েছে। সেটা কিন্তু কম জানা নয়। তবু যদি আরও জানতে চান, পরে কখনও বলা যাবে। আজ কিন্তু আপনার কথা শুনব।

    সুবর্ণা চুপ করে থাকে।

    রাজীব টেবলের ওপর সামান্য ঝুঁকে বলে, এ বাড়িতে আসার পর আপনার শ্বশুর, দাদাশ্বশুরকে দেখছি। কিন্তু আপনার স্বামী–মানে তিনি কি বাইরে থাকেন?

    সুবর্ণা আস্তে মাথা নাড়ে, না। আমি ডিভোর্সি। সে অন্য একজনকে বিয়ে করে যতদূর জানি দিল্লিতে ছিল। এখন কোথায় আছে বলতে পারব না। এ বাড়ির সঙ্গে বহু বছর তার কোনও সম্পর্ক নেই।

    রাজীব অবাক হয়ে যায়; কিছু বলে না।

    তার মনোভাবটা মুহূর্তে বুঝে নেয় সুবর্ণা। এই সন্ত্রাসবাদী লোকটা তার ভেতরকার কোনও একটা স্পর্শকাতর জায়গায় যেন হাত দিয়ে ফেলেছে। সে বলে, ডিভোর্সের পর কেন এখানে পড়ে আছি, তাই জানতে চান তো?

    রাজীব আস্তে মাথা নাড়ে, হ্যাঁ।

    শুধু এটুকু বললে বুঝবেন না। পুরো ব্যাকগ্রাউন্ডটাই তাহলে শুনুন।

    রাজীব উদ্‌গ্রীব তাকিয়ে থাকে।

    সুবর্ণার ওপর হঠাৎ কী যেন ভর করে বসে। ঘোরের মধ্যে সে বলতে শুরু করে।

    কখনও কখনও মানুষ নিজের অতীতকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে চায়। রাজীব উপলক্ষ মাত্র। অচেনা এই লোকটাকে সামনে বসিয়ে সুবর্ণা যেন নিজেকেই নিজের কথা শোনাতে থাকে। অনেকটা স্বগতোক্তির মতো। তবে মনে মনে নয়, স্পষ্ট উচ্চারণে।

    সমস্ত শোনার পর মুখটা শক্ত হয়ে উঠেছিল রাজীবের। সে বলল, সংগ্রামনারায়ণ আর বিক্রম, দুজনেই দেখছি জঘন্য টাইপের স্কাউড্রেল। একজন বিশ্বাসঘাতকতা করে আপনাকে ফেলে পালিয়ে গেছে। কমোনার হওয়ার জন্যে। আরেক জনের কাছ থেকে ঘৃণা ছাড়া অন্য কিছু পাননি। তবু আপনি এখানে পড়ে আছেন?

    মৃদু হাসির একটা রেখা সুবর্ণার মুখে ফুটে উঠেই মিলিয়ে যায়। সে বলে, একজন বোধবুদ্ধিহীন বুড়ো মানুষ, আরেক জন অসহায় হার্ট পেশেন্টকে ফেলে কি যাওয়া যায়?

    মানবিকতা?

    সুবর্ণা উত্তর দিল না।

    অদ্ভুত হেসে রাজীব বলল, আপনি দেখছি পৃথিবীর মতো সর্বংসহা। ঘৃণা, বিশ্বাসভঙ্গ–কোনও কিছুই আপনাকে বিচলিত করে না।

    সুবর্ণা এবারও কিছু বলল না; নিঃশব্দে খেতে লাগল।

    রাজীব ফের বলল, মিসেস সিংহ, আপনি আমাকে অবাক করে দিয়েছেন। সকাল থেকে শ্বশুর, দাদাশ্বশুরের সেবা, মেয়েকে পড়ানো, কলেজ, সোশাল ওয়ার্ক, এত সব কী করে যে সামলান ভেবে পাই না। ইউ আর আ লেডি এক্সট্রা-অর্ডিনারি। আপনার মতো মহিলা আমি আগে কখনও দেখিনি।

    ভয়ঙ্কর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী যে ‘প্রতাপপুর প্যালেস’কে সর্বক্ষণ চরম আতঙ্কের মধ্যে রেখেছে, নিজের নিরাপত্তা ছাড়া অন্য কিছু যে ভাবে না, তার মুখ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসাবাক্য শোনার পরও যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। সুবর্ণা চুপ করে থাকে।

    রাজীব থামেনি, আপনার সম্বন্ধে একটা কথা যে কতবার ভেবেছি তার ঠিক। নেই।

    সুবর্ণার চোখেমুখে ঔৎসুক্য ফুটে ওঠে। তার সম্পর্কে রাজীব যে কিছু ভাবতে পারে–সেটা খুবই চমকপ্রদ ব্যাপার। সে জিজ্ঞেস করে, কী ভেবেছেন?

    আপনি ইচ্ছা করলে দেবীকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে পুলিশে খবর দিতে পারতেন। তারা বাড়ি কর্ডন করলে আপনার শ্বশুর আর দাদাশ্বশুর নিশ্চয়ই বেঁচে থাকত না। পুলিশের গুলিতে আমিও হয়তো ঝাঁঝরা হয়ে যেতাম কিংবা ব্লাস্ট করে এই প্যালেস উড়িয়ে নিজেও মরতাম। পুলিশকে ইনফরমেশন দেবার জন্য মাঝখান থেকে পঞ্চাশ লাখ টাকা তো পেতেনই, যে ব্লাডি সোয়াইন শ্বশুর আপনাকে এত অপমান করেছে, যে হ্যাঁজব্যান্ড চরম বিট্রে করেছে তাদের বংশকে ভাল রকম শিক্ষা দিতে পারতেন। এত বড় সুযোগ পেয়েও কাজে লাগালেন না।

    সুবর্ণা চমকে ওঠে, এ আপনি কী বলছেন! আপনাকে তো আগেই জানিয়েছিলাম, এই বংশের অজস্র অপরাধ আর ত্রুটির মধ্যে একটা আউটস্ট্যান্ডিং কোয়ালিটি রয়েছে। এরা যাকে আশ্রয় দেয় তার ক্ষতির কথা চিন্তা করে না। এ বাড়ি থেকে আমি কিছুই পাইনি, কোনওরকম প্রত্যাশাও নেই। তবে ওদের এই গুণটাকে শ্রদ্ধা করি। মনে করি–আশ্রয় প্রার্থীর, সে যেমনই হোক, সর্বনাশের কথা ভাবা অন্যায়। একটু থেমে বলল, আর সংগ্রামনারায়ণদের শিক্ষা দেবার কথা বললেন তো? রিভেঞ্জ বা ভেনডেটা, এসব গল্পেই পড়েছি, ফিল্মেও দেখেছি। নিজের জীবনে? ইমপসিবল। প্রতিহিংসা শব্দটাকে আমি ঘৃণা করি। আই হেট ইট।

    নিষ্ঠুর ভাবাবেগহীন এক বিচ্ছিন্নতাবাদীর চোখে মুখে শ্রদ্ধা কিংবা মুগ্ধতার মতো কিছু একটা ফুটে উঠেই মিলিয়ে যায়। রাজীব বলে, সেই জন্যেই তো বললাম ইউ আর আ লেডি এক্সট্রা-অর্ডিনারি।’

    এমন অনর্গল প্রশংসার উত্তরে স্বাভাবিকভাবে ধন্যবাদ জানানোই নিয়ম। সুবর্ণা কিন্তু কিছু বলল না।

    খানিক নৈঃশব্দের পর রাজীব ফের শুরু করে। যেন আপন মনে বলে যায়, কতদিন এ বাড়িতে থাকতে পারব জানি না। রাতে আপনারা ঘুমিয়ে পড়লে রোজ ছাদে গিয়ে পালানোর চেষ্টা করি। চোখে পড়ে চারদিকে প্লেন ড্রেসের পুলিশ ফাঁদ পেতে রেখেছে। রাজবাড়ি বলে, কিংবা আপনার কথা বিশ্বাস করে পুলিশ এখানে সেভাবে হানা দেয়নি। তবে ওরা মনে করে এদিকেই কোথাও আমি লুকিয়ে আছি।

    রাজীব ঠিক কী বলতে চাইছে বুঝতে না পেরে মুখ তুলে তার দিকে তাকায় সুবর্ণা।

    রাজীব থামেনি, খুব বেশিদিন আমি আপনাদের এখানে থাকব না। এ বাড়ি থেকে বেরুলে পুলিশ বা মিলিটারি, যাদের সঙ্গেই হোক, এনকাউন্টারে আমার মৃত্যু অনিবার্য। যতদিন বাঁচি, আপনার কথা আমার মনে থাকবে মিসেস সিংহ। শেষ দিকে তার কণ্ঠস্বর গাঢ় হয়ে আসে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদহনকালের শেষে – প্রফুল্ল রায়
    Next Article সমাপ্তি – প্রফুল্ল রায়

    Related Articles

    প্রফুল্ল রায়

    আলোর ময়ুর – উপন্যাস – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    কেয়াপাতার নৌকো – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    শতধারায় বয়ে যায় – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    উত্তাল সময়ের ইতিকথা – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    গহনগোপন – প্রফুল্ল রায়

    September 20, 2025
    প্রফুল্ল রায়

    নিজেই নায়ক – প্রফুল্ল রায়ভ

    September 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }