Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভগ অর্যমা

    ক্রমশই তাদের কুটিরগুলি শক্ত, আরও শক্ত হচ্ছে। চারপাশ গাছ দিয়ে ঘেরা, যাতে অতিরিক্ত বৃষ্টি, হাওয়া, গরম, ঠান্ডা আড়াল করতে পারে। মাটি, মাটিকে অবলম্বন করে তৈরি হচ্ছে মানুষের থাকার ঘর। ওপরে আচ্ছাদন, শুকনো ধানগাছ আঁটি বেঁধে বেঁধে তৈরি করা হচ্ছে। নতুন কত কিছু উদ্ভাবন করছে এ ও সে। যখনই দেখো, মাটি চাপড়ে চাপড়ে, তার ওপর আরও মাটি চাপিয়ে ঘর আর তার দেয়াল রোদ পোহাচ্ছে। ঢালু চাল বেয়ে ঝরে পড়ছে বৃষ্টির কণা। পরম সন্তোষে জলকণাগুলি হাত পেতে ধারণ করে ছন্দ। সে মোটামুটি বীরপুরুষ, মধুরার দলেও সে বীরপুরুষের প্রাপ্যই পায়। কিন্তু বিজিত বলে তার মর্যাদা কিছু কম ছিল। নিমেষও অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ করতে পারে, সে-ও পারে। কিন্তু নিমেষের স্থান অনেক উঁচুতে। যেই ধানগাছের আঁটি খড়ের দড়ি দিয়ে বেঁধে বেঁধে সে ঘরের দুদিকে ঢালু ছাতের পরিকল্পনা করল অমনি হঠাৎ তার দাম খুব বেড়ে গেছে। শিশুগুলি মুখে আঙুল পুরে হাঁ করে ঘরের চালের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিচু দরজা দিয়ে বেরিয়ে এসে হাতে হাত ঘষে খুশি জানায় মধুরা। না একটুও বৃষ্টি পড়ছে না। ভেতরটি বেশ সুরক্ষিত।

    বড় একটি ঘর পেয়েছে ভগ ও অর্যমা। ওরা নিজেরাই বেছে নিয়েছে, কেননা ওদের কাজকারবার অন্যরকম। ভগর তো রাশি রাশি গাছগাছড়া, বড় বড় ভাঁড়ে রাখে সে তৈরি ওষুধ। আর অর্যমা নির্নিমেষ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভবিষ্যদ্‌বাণী করে—দেখে রাখো ভগ, কাল চাঁদ পূর্ণ হবে, ধন্যা ফুলে উঠবে। চাঁদ পূর্ণ কিংবা অদৃশ্য হলেই ধন্যার মধ্যে এরকম পরিবর্তন আসে।

    দুজনের প্রতীক্ষা শুরু হয়। আর কাউকে বলে না তারা। সত্যি! একদম ঠিক। একটি শিশু যেদিন জল ফুলবে বুঝতে না পেরে ঝাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে খেলা করছিল এবং জলের তোড়ে ভেসে গেল, সেই দিনই অর্যমা তার আবিষ্কার জানাল।—‘চাঁদ গোল হলে কিংবা অদর্শন হলে, ধন্যা ফুলবে। সাবধান!’ সবাই সেই থেকে সাবধান হয়ে গেল। সবাই অবাক। পূর্ণ চাঁদের দিন ধন্যার তীরে সব সারসার দাঁড়িয়ে আছে, দেখবে।

    মধুরা বলল— জাদু! জাদু! অর্যমা জাদু করতে পারে, চাঁদকে ও-ই বশ করেছে।

    ভগ বিরক্ত হয়ে বলল—বাজে বোকো না। জাদু যদি কেউ করে থাকে সে স্বয়ং চাঁদ। চাঁদের সঙ্গে নদীর খেলা। অর্যমা সেটি লক্ষ করেছে মাত্র। অর্যমার লক্ষ করা, আরও অনেক ঘটনার কথা ক্রমে জানতে পারে সবাই। সম্ভ্রমের দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে— এই মানুষটি বিশেষ, শিকারে যায়—পশুপাখির সম্পর্কে নানা তথ্য জেনে আসে, ক্ষেত্রে কাজ করতে যায়, ধান্যর প্রকৃতি সম্পর্কে নানা কথা জেনে আসে। ক্রমে অর্যমা অন্য গাছও তৈরি করে, ঘাসপাতার রকমসকম লক্ষ করে করে। যেগুলো ওষধির জন্য দরকার, ভগকে অনেক কষ্টে সংগ্রহ করতে হয়, সেগুলিও কিছু কিছু একটি ক্ষেত্রে উৎপাদন করে সে।

    সেদিন এইরকম পূর্ণচন্দ্র। আকাশ, বন আলোয় ভেসে যাচ্ছে। নদীর দিক থেকে খলখল আওয়াজ আসছে। তীরে বসে আছে ভগ। হঠাৎ সামনে আলো আড়াল হয়ে গেল। তারপরই আলো সর্বাঙ্গে মেখে হেসে উঠল রঙ্কা।

    —ভগ তুমি একা? তোমার বন্ধু কোথায় গেল? পাগলটা?

    ভগ হাসল—তা তো জানি না রঙ্কা, তবে কাল সারারাত কী যেন গণনা করেছে, কাঠি দিয়ে আঁক কাটছিল। আজ দুপুরেও ভাবিত ছিল, এখন বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। রঙ্কা বলল—ভগ, এসো আমরা মিলিত হই।—সে বিনা বাক্যব্যয়ে ভগর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল, তার সাদা বুকের ওপর মুখ ঘষতে ঘষতে বলল—আমার তোমাকেই সবচেয়ে মনোহর লাগে। ভগ, তোমার মতো এরকম উচ্চ পুরুষ আমি দেখিনি। তোমাদের ওপর আমার খুব রাগ ছিল। কিন্তু তুমি আশ্চর্য। চাঁদের দেবতা স্বয়ং তোমাকে গড়েছেন। তুষারের মতো। চাঁদের বুকের মতো সাদা তুমি। তুমি আমার ঘরে থাকবে চলো ভগ।

    রঙ্কার বলিষ্ঠ আলিঙ্গনে ভগর এক অপরিচিত অনুভূতি হচ্ছিল। আজ পর্যন্ত কোনও নারী তাকে চায়নি। সে অস্বাভাবিক, যখন জন্মেছিল তখন তার মা বর্ণা তাকে জলে ভাসিয়ে দিতে গিয়েছিল, অন্যরা বর্ণাকে বারণ করে। সে একা একা বেড়ে উঠেছে। একা একা খেলা করত, অন্য শিশুগুলি নিমেষ, শব্দ, নন্দ, এরা তাকে দেখলে সরে যেত। বলত— ভগ তুমি দূরে যাও। তোমার চোখের পলক সাদা, চোখের মণি লালচে, তোমার সারা দেহে কোথাও কালো নেই। শিশু অথচ সাদা চুল তুমি এক অদ্ভুত। তুমি বৃদ্ধ কি শিশু আমরা জানি না। তুমি দূরে যাও।

    ভগ বনভূমিতে নিজের মনে বিচরণ করত। একদিন দেখল একটি আহত হরিণ দৌড়ে এসে এক ধরনের ঝোপঝাড়ের মধ্যে গড়াগড়ি খেতে লাগল, …আরেক দিন একটি নকুলকে আরেক ধরনের ঘাসে একই ভাবে গড়াগড়ি খেতে দেখল। হরিণটা আহত ছিল, সে তার একটি পায়ে শক্ত করে লতার বাঁধন দিয়ে চিহ্ন করে রেখে দিয়েছিল। নকুল খুব অস্থির জীব, তাকে পারেনি। কিন্তু ঘাসগুলি আলাদা করে রাখে। চিহ্নিত হরিণটির ক্ষত ক’দিনেই শুকিয়ে মিলিয়ে গেল। এই ভাবে শুরু হল ভগর কাজ-কারবার। ক্রমে গোষ্ঠীতে সে একজন সম্মানিত মানুষ বলে গণ্য হতে লাগল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও নারী তার কাছে কখনও আসেনি।

    সে সামান্য জোর করে রঙ্কার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে আলাদা করল। হাত দুটি দিয়ে রঙ্কার কাঁধ ধরে সামান্য পিছিয়ে দিল তাকে। নিরীক্ষণ করল অনেকক্ষণ ধরে, তারপর বলল—রঙ্কা, ভাল করে ভেবে দেখেছ? নিশ্চয় জানো আমার মতো অদ্ভুত চেহারা আর কারও নেই। চিরকাল আমি একা একা থেকেছি, কোনও নারী আমাকে ডাকেনি। মধুরা যে মধুরা, দলে হেন পুরুষ নেই যে তার কৃপা না পেয়েছে সে পর্যন্ত আমাকে কোনও দিন মিলনদৃষ্টি দেয়নি। কেন? আমি অস্বাভাবিক… আমার স্পর্শে কারও কিছু ক্ষতি হতে পারে… সবাই তাই-ই ভাবে। কিংবা ঘৃণা জন্মায়, ঘৃণা করে…

    রঙ্কা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে বলল—তুমি অস্বাভাবিক নও, অসাধারণ। বললাম না! স্বয়ং চাঁদ তোমায় গড়েছেন! যে দেবতা সে কী করে আর পাঁচজনের মতো শুধু মানুষ হবে? আর ক্ষতির কথা যদি বলো, ভগ, তোমার মতো মহৎ উপকার তো আর কেউ এ গোষ্ঠীতে করতে পারেনি! তুমি তাদের রোগ সারাও, ক্ষত সারাও, তারপরও যদি তাদের ঘৃণা হয়, তো হোক। সে তারা বুঝবে। মধুরা না চাক, অন্য কোনও নারী না চাক, আমি রঙ্কা, মাতঙ্গীর মেয়ে আমি তোমাকে মিলনদৃষ্টি দিচ্ছি।

    ধন্যার তীরে কোথাও কোনও আড়াল নেই। চাঁদ গলে গলে পড়ছে যুগলের ওপর। ভগ যেন শ্বেত হরিণ, আর রঙ্কা যেন বিদ্যুৎ। ধন্যার তীরের ভিজে মাটি মেখে মেখে, ধন্যার ছলচ্ছলের সঙ্গে তীব্র শীৎকার মিলিয়ে প্রায় সারারাত ধরে দুজনের খেলা চলে। এবং অনেক দূরে গাছের আড়াল থেকে ধনুর্বাণধারী একটি মানুষ তাদের লক্ষ করে। সে ব্যাপারটি পছন্দ করছে না। এই মুহূর্তে রঙ্কা ভগকে পছন্দ করেছে, তার কিছু বলবার নেই। নালিশ করা হাস্যকর হবে। মধুরাকে বলা আরও বিপজ্জনক, মধুরা যদিও সবাইকেই মিলনদৃষ্টি দেয়, তবু তার প্রতি একটু বেশি বেশি। সে যদি জানতে পারে রঙ্কাকে অন্যের সঙ্গে মিলিত দেখলে তার রাগ হয়, তখন ঈর্ষায় সে রঙ্কাকে মেরে ফেলতেও পারে। আবার গোষ্ঠীর নারীর সঙ্গী নির্বাচনের মধ্যে নাক গলাচ্ছে বলে তাকে বিতাড়িত করতে পারে। সে একা থাকতে পারে না। বনে-জঙ্গলে একা একা ঘোরা তার পোষাবে না। কত কষ্ট করে তার এই গোষ্ঠীর বিশ্বাস ও ভরসা সে অর্জন করেছে, আবার কোথায় যাবে! এই ধান্য ছেড়ে? এই নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে! নিমেষ ভাবতে থাকে, ভাবতে থাকে।

    রঙ্কা কুটিরে থাকত একা। সবাই তাকে ভয় পায়। খরচোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে মধুরাদের দেখে, যেন অভিশাপ দিচ্ছে। সে কোনও পুরুষকে চায় না। শম, ছন্দ, অলম্বুষ— এরা সব তার চোখে ব্রাত্য হয়ে গেছে। আপন মনে থাকে রঙ্কা। কিন্তু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজর করে সব। এবং সে এমন একটা কাজ করে যেটা গোষ্ঠীর সবাইকার প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধান্য ছাড়াও আজকাল তারা বন্যফল নানারকম ফলাচ্ছে। বনের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে ও গাছ ঝাঁকিয়ে সংগ্রহও করে অনেক। রঙ্কা সেগুলি থেকে চমৎকার খাদ্য প্রস্তুত করে। ধান্যের ভেতরের তণ্ডুল, বড় বড় কন্দ সিদ্ধ করে, খণ্ড খণ্ড করে তাতে ঝলসানো হরিণ বা বরাহ মাংস মিশিয়ে দেয়, লোনা মাটি মেশায় এবং অপূর্ব স্বাদের খাদ্য তৈরি হয়। অন্ধকার হলে যখন গ্রাম ঘিরে আগুন জ্বালানো হয়, অনেকেই শিকার করে আনা পশু ঝলসায় তাতে। রঙ্কা এক ধারে বসে নীরবে। আপন মনে তার কাজ করে যায়।

    —কী করছ রঙ্কা! —শব্দ হয়তো জিজ্ঞেস করল।

    —পরিপক্ব করছি।

    —কী করছ রঙ্কা?

    অর্যমা হয়তো জিজ্ঞেস করল।

    —রন্ধন করছি। আগুনের ওপর সোজা ফেলে দিলে তা পোড়ানো হয়। জল দিয়ে বস্তু আগুনে রেখে নরম করার নাম সিদ্ধ করা। উভয় মিললে রন্ধন। আমি রন্ধন করছি। রঙ্কার উদ্ভাবিত এই নতুন খাদ্য মধুরার ভাল লাগে। নিমেষ মুগ্ধ হয়ে যায়। এবং পুরো গোষ্ঠী রঙ্কাকে অসাধারণ বলে স্বীকার করে। তাই যখন সে ভগকে তার ওষধি ও রসের ভাঁড়সুদ্ধু নিজের কুটিরে নিয়ে এল, সকলেই অবাক হল। এত দিন জেদ করে ছোট কুটিরটি সে তার একার অধিকারে রেখেছিল। এরকম নিয়ম নেই। একমাত্র মধুরা কয়েকটি শিশু নিয়ে একটি বড় কুটিরে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক কেউ সেখানে থাকে না। আর প্রত্যেকটি কুটিরে তিনজন, চারজন করে মানুষ থাকে। বস্তুত ঘরের তেমন দরকারই বা কী! সারাদিন হয় ধান্যক্ষেত্রে, নয়তো বনের গভীরে ঘুরতে ঘুরতে কেটে যায়, একমাত্র রাত্রে ঘুমের সময়ে ঘর। মাথার ওপর আচ্ছাদন থাকলে শীত ও বৃষ্টির হাত থেকেও বাঁচা যায়। কিন্তু রঙ্কা যখন নিজের হাতে একটি ছোট কুটির তৈরি করে সেটি দখল করে সোজা তীব্রভাবে দাঁড়িয়ে রইল, মধুরা সবাইকে নিষেধ করে— ওকে কেউ বিরক্ত কোরো না। ও যা চায় তাই করুক। মধুরার চোখ নেত্রীর চোখ, সে রঙ্কার মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখে। রঙ্কা একা একাই ধান আছড়ায়। একা একাই শিকার করে আনে, তার ছাল ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে। সবই একা একা। অসহযোগিতা করে না, কিন্তু সে বুঝিয়ে দেয় সে নিজেকে নিয়ে থাকতেই পছন্দ করছে। নিমেষ তাকে বাগ মানাতে অনেক চেষ্টা করেছে। বনে গুঁড়ি মেরে মেরে নিঃশব্দে রঙ্কা এগোচ্ছে একটি বড় খরগোশকে ধরবে বলে, হঠাৎ পাতায় সড়সড় শব্দ হয়। শশক ছুটে পালায়, রঙ্কা মুখ তুলে দেখে নিমেষ।

    রাগে অধীর হয়ে সে চিৎকার করে— আমার শিকারটি নষ্ট করলে কেন? উত্তরে হাসে নিমেষ, চট করে ঘুরে কোথায় চলে যায়, অল্প পরেই তিন-চারটি খরগোশ হাতে ঝুলিয়ে এনে রঙ্কার পায়ের কাছে রেখে দেয়। রঙ্কা অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তার দিকে চায়। তারপর সে জায়গা ছেড়ে চলে যায়।

    রঙ্কা সাঁতার কাটছে। জলের মধ্যে মাছ ধরছে। তীরের কাছে এসে মাছটি আছড়ে মেরে ফেলে আবার যাচ্ছে। এভাবে কয়েকটি বড় বড় মাছ ধরার পর সে শুধুই সাঁতার কাটে। ডুব দিয়ে চলে যায় গভীরে, তারপর ভুস করে ভেসে ওঠে এবং দেখে ওদিক থেকে সাঁতরে আসছে নিমেষ।

    —রঙ্কা, রঙ্কা মনে আছে আমি তোমার সাঁতার-বন্ধু, জলের বন্ধু? মনে আছে?

    রঙ্কা উত্তর দেয় না। সে মুখের জল কুলকুচি করে ঊর্ধ্বমুখে ফোয়ারার মতো ছড়িয়ে দেয়। তারপর আবার ডুব গালে। পিছলে পিছলে চলে যায় দূরে আরও দূরে। আসলে সে নিমেষকে ঘৃণা করে। এই লোকটি মিথ্যা বলেছিল, এ তার পেছন পেছন এসে তাদের ধান্য দেখে গিয়ে তাদের আক্রমণ করেছে। মেরেছে। মাতঙ্গীকে, সিংহকে সে হারিয়েছে এই কূট মানুষটির জন্য। সে কখনওই নিমেষকে বরদাস্ত করবে না।

    অর্যমা করুণ চোখে তাকিয়ে বলল— আমার বন্ধু ভগকে নিয়ে যাবে রঙ্কা?

    রঙ্কা বলে— অর্যমা, তুমিও ইচ্ছে করলে আসতে পারো। আমি দশার সময়ে তোমাকেও আলিঙ্গন দিতে পারি, কিন্তু একটি শর্ত। অন্য কারও আহ্বানে সাড়া দিতে পারবে না। রাজি?

    —এ আর শক্ত কী! আমাকে কে ডাকতে যাচ্ছে? আমি তো তেমন বীর নই। আর আমার তেমন দশা হয়ও না। কিন্তু আমাকে ইচ্ছেমতো বিচরণ করতে দিতে হবে— তা বলে দিলাম। অনেক সময়ে রাতে আমি বাইরেই থাকি।

    রঙ্কা, ভগ ও অর্যমার একসঙ্গে থাকার এই ইতিহাস। এরকম তো কতই হয়। কে লক্ষ করছে? একটি কুটির একজন পাবে এত কুটির তো এখনও হয়নি। তাই দু’তিনজন ভাগাভাগি করেই থাকে। সেই দলে অদল-বদলও হয়। কিন্তু ভগ খুব আত্মমগ্ন থাকলেও বুঝতে পারে যখন-তখন কে যেন তাকে অনুসরণ করছে। পশু নয়, মানুষ। সে কান খাড়া করে শোনে, শব্দটা সরে যায়, তারপর আবার সে কাজের মধ্যে ডুবে যায়। কাজ বলতে নতুন লতাপাতার সন্ধান, নোনা মাটির সন্ধান। লতাপাতা ছেঁচে রস বার করা— এই সব। সম্প্রতি নদীর ভেতরে থেকে সে একরকম জলজ উদ্ভিদ পেয়েছে। ছেঁচে খেয়ে দেখতে চেয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যে গভীর ঘুম এসে যায়। দিন-দুপুরে যখন পুরো গ্রাম ঘর ছেড়ে শিকারে, শস্যক্ষেত্রে গেছে, বালকগুলি পালিত জন্তুগুলিকে ঘাসপাতা খাইয়ে আনছে, তখন ভগ নদীর ধারে শুয়ে ঘুমোচ্ছে।

    দুটি পা এসে তার সামনে থামল। কিছুক্ষণ দাঁড়াল, তারপর দুটি অমিতবল হাত তাকে টেনে দাঁড় করিয়ে দিল। ভগ পড়ে যাচ্ছিল, একটি শক্ত কাঁধ তাকে ঠেকাল।

    —ভগ, ভগ, জাগো, জেগে ওঠো— গম্ভীর স্বরে কেউ বলল। ভগর ঘোর কেটে গেল, সামনেটা ছায়া-ছায়া, সে ঢুলু-ঢুলু চোখে দেখল সামনে দাঁড়িয়ে নিমেষ।

    —কী হয়েছে? ভগ জড়ানো স্বরে বলল— আমি আরও একটি নতুন শক্তিশালী ওষধি খুঁজে পেয়েছি। কাজে লাগবে…। নিমেষ তোমার কিছু হয়েছে?

    কড়া গলায় নিমেষ বলল— তুমি আর অর্যমা রঙ্কার কুটির ছেড়ে চলে যাবে।

    —কেন? —ভগ অবাক হয়ে বলল— রঙ্কাই তো ডেকে আনল, সে বললেই চলে যাব।

    নিমেষ দাঁত কিড়মিড় করে বলল— আমি বলছি চলে যাও। —আমি কথাটার ওপর জোর দিল সে।

    ভগ জীবনে কখনও এত অবাক হয়নি। রঙ্কার কুটির থেকে তাকে চলে যেতে বলবার নিমেষ কে? বলতে পারে রঙ্কা নিজে কিংবা মধুরা, দলের নেত্রী। ভগ নিজেও চলে যেতে পারে, তার যদি খুব ইচ্ছে হয়। কিন্তু নিমেষ কেন? নিমেষ তো বলবার কেউ নয়! নিমেষ বলল— চলে যাবে আজই, নইলে বিপদ হবে— আজই যাবে… এই বেলা রঙ্কা শস্য-মাঠে গেছে, যাও নিজের গাছ-গাছড়া সব নিয়ে চলে যাও।

    ভগ শান্ত চোখে চেয়ে রইল তার দিকে, তারপর আস্তে আস্তে তার সদ্য সংগৃহীত উদ্ভিদগুলি নিয়ে চলে গেল। তার এখনও খুব মিঠে একটা ঘুমঘোর রয়েছে। সে এখন কুটিরে গিয়ে আরও একটু ঘুমোবে। ওষধির ঘোরটি কাটিয়ে নেওয়া উচিত। কারও গায়ে বর্শা বা তির কিছু লাগলে, উপড়ে তোলার সময়ে এই ওষধিটি কাজে দেবে। বিশেষত বালক-বালিকাদের ক্ষেত্রে। কুটিরে আসতে আসতে কিন্তু ভগর ঘোরটি একেবারে কেটে গেল।

    কেন? নিমেষ এরকম কথা বলল কেন? অনেকক্ষণ ধরে ভেবে ভেবেও সে কূল পেল না। এদিকে না রঙ্কা, না অর্যমা কারও দেখা নেই যে জিজ্ঞেস করবে।

    —নিমেষ, তুমি কি এখনও রঙ্কাকে শত্রুপক্ষীয় বলে অবিশ্বাস করো? সে নিজেকেই শুধোয়। এ কথা সত্যি রঙ্কা মধুরার দলের কারও সঙ্গে মেশে না, নিজেদের দলের পুরনো মানুষদের প্রতিও কেমন একটা অবজ্ঞা দেখায়। রঙ্কা কি ভেতরে ভেতরে কোনও গণ্ডগোল পাকাচ্ছে বলে ভাবে নিমেষ? ওকে ভাল করে বুঝিয়ে দিতে হবে, রঙ্কা অভিমানে উগ্র হয়ে আছে, তার দলনেত্রী মাতঙ্গীর পরাজয় ও মৃত্যু সে মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু আর কোনও মতলব তো তার নেই! সে ওষধির ব্যবহার রঙ্কাকে অনেক শিখিয়ে দিয়েছে, অর্যমাও তার পর্যবেক্ষণের ফলাফল ও সিদ্ধান্ত নিয়ে রঙ্কার সঙ্গে আলোচনা করে। রঙ্কা চট করে সব বুঝে নেয়। …ব্যাপারখানা কী? নিমেষ কি রঙ্কাকে চায়? তো চাক না, কে বারণ করেছে। রঙ্কার কাছে নিজেকে নিবেদন করুক না, ভগ তো নিষেধ করেনি! এই প্রশ্নের উত্তর শীঘ্রই একদিন ভগ পায়।

    শস্য তোলা হয়ে গেছে। রোদে শুকোচ্ছে তারা গোছায় গোছায়। মাটির ওপর শস্য ঘিরে গোল হয়ে বসে রয়েছে সবাই। হাসিখুশি। খেলাচ্ছলে এ ওকে খোলামকুচি ছুড়ে দিচ্ছে, লোফালুফি চলছে। গাছে একরকম বাদাম পেয়েছে তারা। অজস্র। সেগুলি খাচ্ছে অনেকেই। হঠাৎ রঙ্কার কুটিরের দিক থেকে একটা আওয়াজ উঠল। ক্রুদ্ধ বনবিড়ালের ঝগড়ার মতো। কিছুক্ষণ পরেই অবাক হয়ে সবাই দেখল, নিমেষ রঙ্কার চুল ধরে টানতে টানতে নিয়ে আসছে। রঙ্কা প্রাণপণে দু হাতে নিমেষকে প্রহার করবার চেষ্টা করছে কিন্তু নিমেষ তার নাগালের একটু বাইরে। এইভাবে টানতে টানতে সে রঙ্কাকে সবার মাঝখানে ছুড়ে ফেলে দিল, কঠিন গলায় বলল— প্রথম থেকেই বলেছি এ আমার নারী। আমার একার। নিজের রক্ত দিয়ে এর কপাল দেগে দিয়েছি আমি। তা সত্ত্বেও ভগ, অর্যমা, রঙ্কা কেউ আমার কথা শোনেনি। আজ তোমাদের সবার সামনে বলে দিলাম, রঙ্কার কুটিরে আর কেউ থাকবে না, থাকবে খালি নিমেষ। খালি নিমেষ। রঙ্কার কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে, সে উঠে দাঁড়িয়েছে। সমস্ত শরীর থেঁতলে ছড়ে গেছে, কালো লাল নীল দাগ ফুটে উঠেছে যেখানে সেখানে, সে চিৎকার করে বলল—তোমরা সবাই শুনে রাখো, নিমেষ থুঃ থুঃ থুঃ। জোর করে সে আমাকে দখল করতে চায়। আজ অবধি এমন অঘটন মাতঙ্গীর গোষ্ঠীতে হয়নি। মধুরা, মধুরা— যদি সত্য সত্য নেত্রী হও, তো আজ মাতঙ্গীর মেয়ে রঙ্কা তোমার কাছে বিচার চাইছে-এ-এ-এ।

    সোজা একটি তির এসে কোথা থেকে বিঁধে গেল নিমেষের ডান হাতে, সে যন্ত্রণায় একটু হেলে গেলে আরেকটি তির এসে বিঁধল তার বাঁ হাতে। নিমেষের দুই হাত খালি। সে মাটিতে পড়ে গেছে। ভগ ছুটে গেল কুটির থেকে তার ওষধি আনতে। অর্যমা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, ক্রুদ্ধ গোঙানি নিমেষের মুখে, এক অশ্বারোহিণী এসে দাঁড়াল। গম্ভীর গলায় বলল—আমার দলের নারীর ওপর হামলা করার দণ্ড দিলাম।

    ভগ ততক্ষণে তার ওষধি নিয়ে এসে গেছে। জোর করে সে নিমেষকে কিছু খাইয়ে দিল, তারপরেই মধুরার বল্লম তার ভাঁড়গুলিকে ঠেলে সরিয়ে দিল। বলল—তোমরা সকলে মিলে একে বনের গভীরে রেখে এসো। নিমেষকে নিয়ম ভাঙার জন্য দল থেকে তাড়িয়ে দিলাম। কেউ তাকে সাহায্য করবে না।

    নিমেষ বিতাড়িত, নিমেষ বিতাড়িত—একটা বিস্ময়, ভয়, আক্ষেপের চিৎকার উঠল চারদিকে।—আক্রান্ত হলে কার শর আমাদের রক্ষা করবে?

    —কেন মধুরা নেই?

    —মধুরা একা, মধুরা একা…

    —কেন? তোরা নেই! তোদের বাহুবল নেই? লড়তে পারিস না? —ঘৃণায় কুটিল হয়ে উঠেছে মধুরার মুখ।

    …নিমেষ আমাদের চেয়েও বীর ছিল!

    —চুপ। একদম চুপ। নিমেষের জায়গায় রঙ্কা তোদের রক্ষা করবে, ছন্দ করবে, শব্দ করবে। ভগ তুমি রঙ্কার ক্ষত ভাল করে দাও।

    নিমেষ ততক্ষণে বেহুঁশ। মধুরার কথামতো কয়েকজন তাকে চ্যাং-দোলা করে বনের গহনে দূরে আরও দূরে নিয়ে যেতে থাকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখারাপ ছেলে – বাণী বসু
    Next Article অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }