Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সর্বমঙ্গলা থেকে পূর্ণা, মাঝে সেজবউ

    বাগবাজারের বাড়ি নাকি ভাগ হবে। শুনে অবধি বেদবতীর বুকের মধ্যেটা কেমন করছে। এই ভাগাভাগি, ভাইয়ে ভাইয়ে আড়াআড়ি ছাড়াছাড়ি জিনিসটাতে কেমন ব্যাখ্যাতীত একটা ভয় হয় তাঁর। একটা চালু কাঠামো আছে সেটাই যেন স্বস্তিদায়ক। অন্য কিছু, অন্যরকম হলে যেন মনে হয় নিরালম্ব শূন্যে ঝুলছেন তিনি। কে জানে সবাইকারই এমন হয় কি না। সত্যিই তো যৌথ পরিবার অনেক দিনই ভেঙে পড়েছে। যবে থেকে লোকের জমি-জিরেত যৌথ ব্যাবসা ইত্যাদির দিন গেছে তবে থেকেই এ ভাঙন। গাঁয়ের লোক উচ্চশিক্ষা উচ্চপদে চাকরির জন্য বরাবর মহানগরে নগরে সংসার পেতেছে আলাদা। কিন্তু সেটাতে তত ভয় নেই। কারণ আসল ভিতটা ভিটেমাটিটা তো আছেই। সেখানে কাকা অথবা জ্যাঠা ভূ-সম্পত্তি দেখাশোনা করেন, বাবা ধরো ডাক্তারি করেন। আছে বাস্তু। আর একটা যৌথ এস্টেট থেকে সবাইকার মোটা ভাতকাপড়ের ব্যবস্থা হয়ে যায়। এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে উপকৃত হয় বৃদ্ধ পঙ্গু অসহায়রা। কেউ না কেউ একটু দেখাশোনা করে দেয়। বেদবতী বৃদ্ধ হয়েছেন। তাঁর দাদা-বউদিরাও বৃদ্ধ। ন’দার একটি ছেলে জড়বুদ্ধি, সব মিলে তাই তিনি এদিকটাই দেখতে পাচ্ছেন।

    তাঁদের বাড়িতে, অর্থাৎ শ্বশুরবাড়িতে এ সমস্যাই ছিল না। কিরণময়ের কোনও ভাই ছিল না, সব দিদি। একটি বোনের বিয়ে বেদবতীর বিয়ের পরে হয়েছিল। তবে হ্যাঁ। পরের প্রজন্ম অর্থাৎ তাঁর নিজের সন্তানদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়েছে, ততটা মানসিক নয়— এই যা রক্ষা। বাড়ি-বিক্রির ব্যাপারে তারা সব এককাট্টা ছিল, বেদবতীর বিপক্ষে। পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। এটাই তাঁর স্বভাব। প্রতিকূল কিছু বা নিজের অপছন্দের কিছু দেখলে তিনি গুটিয়ে যান। এক ধরনের শম্বুকবৃত্তি এটা। কর্তা যখন রাগারাগি করতেন কোনও কারণে, তিনি আস্তে আস্তে স্থানত্যাগ করতেন। কর্তা যখন গা-জোয়ারি কোনও ব্যবস্থা করতেন তাঁর অপছন্দ হত। তিনি একবার, মাত্র একবার বোঝাবার চেষ্টা করতেন, তারপর চুপ হয়ে যেতেন। সঞ্জয়ের ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে, উনি বললেন এত খেটেখুটে এত মাথা নিয়ে শেষ পর্যন্ত কুলি?

    তিনি বুঝিয়েছিলেন— এটা ওর ইচ্ছে। যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে, তা ছাড়া ইঞ্জিনিয়ারের উপার্জন বেশি। তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যাবে। এসব খানিকটা সঞ্জয়ই অবশ্য বুঝিয়েছিল তাঁকে। উনি নড়লেন না। কেমিস্ট্রিতে লেটার মার্কস পাচ্ছে সমানে, ওই রসায়নই ওর বিষয়। ছেলেমানুষ বুঝছে না। মুখ গোঁজ করে রসায়ন নিয়ে ভরতি হল সঞ্জয়, বরাবর খুব ভাল রেজাল্ট। কর্তা বললেন— দেখলে? বলেছিলুম না? সঞ্জয় উন্নতি ভালই করেছে। কিন্তু সুযোগ পেলেই বলে থাকে, সে সময়টা ছিল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বর্ণযুগ। তখন যারা বি. ই. থেকে বেরিয়েছে, এখন সব দেশের ইন্ডাস্ট্রির মাথা।

    ওই একই কর্তা আবার মেজছেলে সঞ্জীবের বেলায় তাকে টেকনিক্যাল স্কুলে পাঠালেন। তার নাকি মেকানিক্যাল ব্রেন, ছেলেটার সাহিত্যে ঝোঁক ছিল। তিনি কিছু করতে পারেননি। তার জন্য এখনও মেজছেলের কাছে তাঁকে কথা শুনতে হয়।

    অথচ, তাঁর যে বুদ্ধি-বিবেচনা নেই, তিনি যে কিছুর বন্দোবস্ত বা মোকাবিলা করতে পারেন না, তা তো নয়। মঞ্জু ভুল করতে যাচ্ছিল। তিনি সামলালেন বুদ্ধি করে, ডিপ্লোম্যাসি চালিয়ে, মঞ্জু আজ কত সুখী। রঞ্জার বেলায় কিন্তু পারলেন না। তাঁর মনে হয়েছিল সুবীর যেন ঠিক দায়িত্বশীল নয় বা রঞ্জার প্রতি তার আগ্রহেও যেন কিছু খাদ আছে। এইটুকু আরও বুঝেছিলেন জীবনের ঝড়ঝাপটা সামলে নেবার মতো শক্তি এই মেয়ের সম্ভবত আছে। এ তাঁর মেয়ে নয়। সর্বমঙ্গলা ঠাকরুনের নাতনি। তবে কুটুমবাড়ির তত্ত্ব ফেরত দেওয়া সর্বমঙ্গলা নন। ঠাকুর মারা যাওয়ার পর অতগুলি সন্তানের শিক্ষা শেষ করা, তাদের বিয়ে, ছেলেপুলে সামলানো, কাজের লোকেদের অসুখে সেবা-শুশ্রূষা করা সর্বমঙ্গলা ঠাকরুন।

    কোনও মানুষই সর্বগুণান্বিত হতে পারে না, দোষত্রুটিহীন হতে পারে না, তবু তিনি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন— সর্বমঙ্গলার কর্ম ও পরিচালন ক্ষমতা, তাঁর বুদ্ধি যেন রঞ্জার মধ্যে প্রকাশ পায়। সেইসঙ্গে ছোট্ট করে খুব বিনয়ের সঙ্গে যোগ করে দেন— তাঁর অপরিসীম সহ্যশক্তিরও একটু যেন রঞ্জা পায়। তাঁর সহনশীলতার দাম দেয় না, বোঝে না তাঁর মেয়েরা। মঞ্জু যখন দিল্লি থেকে আসে! —বাবা! বাবা! কোন বাড়িতে উঠব তা-ও জানি না। আমার কোনও বাপের বাড়ি মায়ের বাড়ি নেই। সব দাদা, ভাইদের বাড়ি। কেন মা, তোমার স্বামীর তো একটা নিজস্ব বাড়ি ছিল। একটা আস্তানা তোমার আলাদা করা যেত না। যেটাকে আমরা আমাদের বাপের বাড়ি বলে ভাবতে পারতুম! দিস ইজ ভেরি ভেরি আনফেয়ার। একবারও তো বলতে পারতে মা!

    বেদবতী বলেন— আলাদা আস্তানা হলে তো আলাদা দেখাশোনার লোকও চাই মঞ্জু। একটা আলাদা খরচ, আলাদা সংসার। সে কি আর আমার দ্বারা…

    —কেন, ওরা সবাই কিছু-কিছু দিত, আমরাও দিতুম, তাতেই চমৎকার চলে যেত।

    —শুনতে চমৎকার। তিনি বললেন— থাকতে, বাঁচতে চমৎকার নয় রে। সে তো এক উঞ্ছবৃত্তি ছাড়া কিছুই নয়। তোদের ওই বৃদ্ধাশ্রমই। একলা বৃদ্ধার বৃদ্ধাশ্রম! তফাতের মধ্যে দায়-দায়িত্ব সব বৃদ্ধার ঘাড়ে। ঘরে মরে পড়ে থাকল…

    —আচ্ছা আচ্ছা। অনেক হয়েছে, এসব অলক্ষুনে কথা একদম বলবে না।

    রঞ্জা এই সময়ে বলে থাকে— মা নিজেকে বৃদ্ধা বোলো না। আমার বড্ড কষ্ট হয়। তার চোখ ছলছল করে।

    বেদবতী হাসেন— দেখ, আমি যে সময়কার মানুষ তখনও মেয়েদের কুড়িতেই বুড়ি প্রবাদটা চালু ছিল। তারপর সন্তানধারণ ক্ষমতা চলে গেলেই সে-মেয়ে আর মেয়ে থাকত না। বুড়ি তো বটেই! তখন সংসারে প্রাণপণে খেটে নিজের দাম ঠিক রাখতে হত।

    —আহা তোমারও যেন তাই। শাশুড়ি নেই, দেওর-ভাশুর নেই।

    বেদবতীর হাসিতে কী ম্লান ছায়া! কেন? কে জানে! বললেন— বড্ড বেশি দিন বাঁচা হয়ে গেল রে! এতটা দরকার ছিল না।

    —হ্যাঁ, তোমার ওপর দিয়ে যা গেছে, আর যেভাবে মুখ বুজে সয়েছ, তাতে বুকটা ফেটে যাওয়ার কথা ছিল।

    রঞ্জা বলে— আচ্ছা মা এই যে তোমার সর্বংসহা ধরিত্রী মূর্তি এটা শক্তি; না দুর্বলতা?

    —কী জানি!

    —তোমার কী মনে হয়?

    —তোদের কী মনে হয়?

    দুই বোন সমস্বরে বলে ওঠে— দুর্বলতা মা। স্বীকার করো না করো—এর নাম বেতসীবৃত্তি। ঝড়ের সময়ে বড় বড় গাছ পড়ে যায়, বেত নুয়ে পড়ে তাই বেঁচে যায়।

    —তা তোরা কি আমায় লড়াই করতে করতে অনেক আগেই মরে যেতে বলছিস!

    —না, না, তা নয়। মানুষ তো গাছ নয়! মানুষই তো ঝড়-ঝাপটার মধ্যে সোজা দাঁড়িয়ে থাকার শক্তি রাখে। বেশ তুমি কী ভাবো, বলো! —রঞ্জা বলে। বেদবতীকে বেশি ভাবতে হয় না। আশি হল। জীবন কেটে গেছে জীবনের ওপর দিয়ে। তিনি যা করেছেন, তার মধ্যে যেমন তাঁর স্বভাব ছিল, তেমনি চেষ্টাও ছিল। হেসে বললেন— দুটোই। শক্তিও বটে, দুর্বলতাও।

    —সেটা কেমন? —মঞ্জু যেন ঝড়।

    —এই যে কারও ওপর বেশি জোর ফলাতে আমার কোনও দিনও ভাল লাগত না মঞ্জু। একবার বললুম— সে যদি তাতে আমার কথার মান দিল তো ঠিক আছে। ঘ্যানঘ্যান করতে আমার মানে লাগে। আজও।

    —এটা তো আমাদের সেই বহু পরিচিত ইগো মা— রঞ্জা বলল, তোমার মান যাচ্ছে বলে তুমি একটা অন্যায় মুখ বুজে সয়ে নেবে?

    —কী কী সত্যিকারের অন্যায় সয়েছি। বল?

    —এই ধরো মামার বাড়িতে দিদিমার বড্ড ফেভারিটিজম ছিল, তুমি কখনও কিছু বলেছ? —মঞ্জু বলল।

    রঞ্জা বলল— দিদি তুই আসল প্রসঙ্গ থেকে সরে যাচ্ছিস। ওটা প্রতিবাদ। আমরা সওয়ার কথা বলছি, নিজের বা নিজের খুব আপন কারও ওপর অন্যায়টা মুখ বুজে মেনে নেওয়ার কথা।

    বেদবতী হেসে ফেললেন— রঞ্জা তোরা নিজেরাই জানিস না, আমার কাছে কী জানতে এসেছিস। তবু দুটোরই জবাব খুঁজি। দেখ তেরো বছরে বিয়ে হয়ে যে সংসার থেকে চলে এসেছি, সেখানে আমার জোর কতটা? এসো, খাও, মাখো, চলে যাও।

    —কেন দিদিমা তোমার সঙ্গে পরামর্শ করতেন না?

    —করতেন বই কী! কিন্তু সেটা সায় পাবার জন্য। কীরে খুকি নমস্কারিগুলো সরেস হওয়া চাই, বলে দিই? আমি বললাম— তাদের যা সাধ্য তাই দেবে মা। মা বললেন— নারে না, ফাঁকি দিতে সব মেয়ের বাপ একপায়ে খাড়া। বজ্জাতের ঝাড় তুই জানিস না।

    আচ্ছা মা, যে তোমার আত্মীয় হতে যাচ্ছে তাকে গালাগাল দেওয়াটা কি ঠিক?

    মা বললেন— আত্মীয় আবার কী! কুটুম! আমি রাগ করে বললুম— তা হলে আমার শ্বশুরমশাই, তোমার জামাই— এরা সব তোমার তো আপন নয়? মা কী বললেন, জানিস? —ওমা, দেখেশুনেই তো তোকে পাঁচ-বোনের কোলে এক ছেলেতে বিয়ে দিয়েছি, শাউড়ি নেই, সংসার তোর। বউ-কাঁটকি। জটিলে-কুটিলে থাকবে না। দিদিগুলো দূরে দূরে পড়েছে। শ্বশুর তোর হাতের সেদ্ধ-ভাত পেলেও বর্তে যাবে। আর জামাই? কেমন ভালমানুষ মুখখানা? আঁচলে বাঁধা থাকবে তোর। তা ছাড়া যম, জামাই, ভাগনা তিন না হয় আপনা। জামাই-ষষ্ঠীর দিন জামাইকে দেখব, ছেলে মেনে উপোস করব, কিন্তু তার ওপর ভরসা? সে আমার কন্না করবে? ধুর, তুইও যেমন!

    দুই বোনে হেসে কুটিপাটি হয়ে গেল।

    হাসি-টাসি শেষ হলে, রঞ্জা বলল— বাবা কতটা ভালমানুষ ছিলেন, তুমিই ভাল বলতে পারবে মা। আমরা দেখেছি বাবার কথাই সংসারে শেষ কথা। সব সময়ে সেটা খুব ভাল ব্যবস্থা হত না। বাবা অসময়ে একগাদা বন্ধু নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন। তোমার খাওয়া-দাওয়া মাথায় উঠল। তুমি তাড়াতাড়ি রাঁধতে বসলে। রাঁধলে, পরিবেশন করলে, সবাই আহ বলে ঢেকুর তুলে উঠে গেল আড্ডা দিতে, তুমি গিয়ে শুয়ে পড়লে। খিদে পড়ে গেছে, শরীর বইছে না।

    —কী জানিস— বেদবতী বললেন— তখনকার মেয়েরা নিজেদের খিদে খাওয়া এসবের কথা বলতে লজ্জা পেত, কোনও দিন তো খোঁজ নেননি। কী করে বলি বল।

    —চলে না মা চলে না। তোমার যে আলসার হয়ে যায়নি সেটা আমার আর রঞ্জুর দৌলতে। —মঞ্জু ঝেঁঝে উঠল।

    বেদবতী হেসে বললেন— একশোবার। মেয়েরাই মাকে দেখে। ব্যাটাছেলেদের ওসব দিকে চোখ থাকে না। চোখ থাকাটাও ওদের পক্ষে লজ্জার, লোকে বলবে স্ত্রৈণ।

    মঞ্জু সগর্বে বলল, ভাগ্যিস সেসব দিন আর নেই। তোমার জামাইয়ের নজর খুব। আমার ভাল না খেয়ে উপায় নেই। যেন পাহারা দিয়ে আছে। লোকজন যখন খেতে বলি একেবারে প্ল্যান করে মা। দু দিন ধরে রান্না করি আর ফ্রিজে তুলি। গেস্টদের সঙ্গে একসঙ্গে খাই, গল্প করি, খাটুনিটা আড়ালে থাকে।

    তাই তো বলি। বেদবতী বললেন— তোরা আজকালকার মেয়েরা দশভুজা! আমরা কিছুই জানতুম না। খেটে মরতুম খালি। বোকা!

    —আহা, তাই যেন বলেছি— মঞ্জু অপ্রতিভ হয়ে বলল— তোমার মতো রাঁধতে আমি পারব? সাতজন্ম ঘুরে আসতে হবে। তা ছাড়া মা, আমরা আর আজকালকার মেয়ে নই, আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন আজকালকার।

    রঞ্জার মনে হচ্ছিল অনেক কথা। সে কিছু বলল না। সে-ই কি কূটনীতি চালায় না? দাদা-বউদিরা যবে থেকে নিজের-নিজের আস্তানা হয়েছে— দুম করে বদলে যায়নি। মা গৃহিণী ছিলেন, কিন্তু কর্ত্রী ছিলেন না কখনও। পিসিমারা রিমোট কনট্রোলে কি কিছুই চালাতেন না! বাবার কথায় কথায় ছিল— বড়দি এই লিখে পাঠিয়েছে, মেজদি এটা পছন্দ করবে না। ছোটপিসিমা-ই খালি গজগজ করত, —মজঃফরপুর থেকে ফরমান এসেছে, উঃ বউদি পারোও! যাই হোক, যবে থেকে শ্রীকৃষ্ণ লেনের বাড়ি বিক্রি হয়েছে, মায়ের আরও ডিমোশন হয়েছে, এখন কর্ত্রী তো নয়ই, গৃহিণীও নয়। এখন আশ্রিতা। মোটামুটি সম্মানিত আশ্রিতা। সীমাবদ্ধ। প্রাইভেট লিমিটেড। সে তো কিছু বলতে পারে না! যদি মায়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়? যদি দাদা-বউদিদের সঙ্গে তার সম্পর্কে চিড় ধরে! সে নিজেও কি কম সুবিধাবাদী নাকি?

    বাগবাজার সর্বমঙ্গলার সর্বময় কর্তৃত্বে বহু দিন তার একত্ব বজায় রাখতে পেরেছিল। তার রেশ চলেছে তাঁর মৃত্যুর পরও। বছর দুই কেন, তিন তো হয়েই এল। যত মেজাজি, একচোখো, দাপুটে হোন না কেন, তাঁর আমলে কোনও অসৈরন হতে পারেনি। এইরকম ঠাকরুনের যে কী প্রয়োজন একটা পরিবারে, তা দীর্ঘদিন রোগগ্রস্ত, স্মৃতিভ্রষ্ট সর্বমঙ্গলা মারা যাওয়ার পর বোঝা যাচ্ছে। সেজবউদির মতো প্রতাপশালিনী, কিছুটা বিত্তশালিনীও বটে, কাজটা করে উঠতে পারলেন না। পরবর্তী প্রজন্ম হেলায় বলল, ওসব হিসেব-নিকেশ আপনারা পারবেন না, তার পরের প্রজন্ম অর্থাৎ তাঁর নাতনি ঈশাদের জেনারেশন আবার বলল— দিস ইজ আনথিংকেবল। এখনও আমরা এতগুলো লোক দুটো বাথরুমে চান করি। বাড়ি ফেরার কড়াক্কড়ি। ননসেন্স। তার পরের জেনারেশন আবার টিভি-তে সেঁটে গেছে, একেবারে আঠা দিয়ে। দেখছে কার্টুন, দেখতে দেখতে টুক করে এদিক ওদিক টিপে এক্কেবারে একটা শয্যা-দৃশ্যর সামনে। প্রত্যেকটি সিরিয়াল কেউ না কেউ দেখছে। তাদের সঙ্গে ছোটরাও বসে যাচ্ছে। সেখানে সব শাশুড়ি ক্রিমিন্যাল, ঘরের বউয়ের কথা বিশ্বাস না করে বাইরের অতিথির কথা বিশ্বাস করছে সবাই, সব জায়গায় মারামারি, কুটিলতা।

    একদিন তিনি ছোটবউদির ঘরে বসে ছিলেন। ছোটবউদির নাতবউ নীনা হাঁ করে দেখছিল, তিনিও কীরকম জমে গেলেন। কিছুক্ষণ দেখে বললেন, হ্যাঁরে নীনা— এত কষ্ট করে আইন করে বহুবিবাহ বন্ধ হল। এসব হিন্দি সিরিয়াল যে তা-ই ফিরিয়ে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে রে! এ তো আইনবিরুদ্ধ! একজনের বউ কোমায় আছে, সে আর একজনকে বিয়ে করে ফেলল, কোমা ভেঙে গেল, এখন আইনত দ্বিতীয় বিয়েটা তো অসিদ্ধ রে! বড়বোনের স্বামী দুর্ঘটনায় বেঁচে গেছে, প্লাস্টিক সার্জারি করে কাঠামো, গলা সব বদলে এসেছে, তা কেন এল, কী করে হল তা অবশ্য জানি না, ছোটবোনটা শয়তানি করে ফাঁসিয়ে তাকে বিয়ে করল, তা লোকটা যে আসলে সেই বড়বোনের স্বামীই, সেটা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে স্থির হয়ে যাবার পর তো দ্বিতীয় বিয়েটা আপনিই কেঁচে যায় রে! বাড়িসুদ্ধু লোক ওই দ্বিতীয় বিয়েটাকেই সিদ্ধ বলে ধরে নিচ্ছে কেন? প্রথম বউটা না হয় বোনের জন্যে আত্মত্যাগ করছে।

    নীনা হেসে বলল— দিদান তুমি ওই টেলিফিল্‌মকে একটা উকিলের চিঠি ছেড়ে দাও।

    নীনার বর বলল— এর আবার কেন আছে নাকি দিদান। বাড়াতে হবে, চার বছর, পাঁচ বছর। তখনও যদি পাবলিক খায় তো আরও এক বছর!

    তিনি বলেছিলেন— তোদের পাবলিক কি অমনি বোকা? মুখ্যু?

    নীনা আর তার বর সমস্বরে বলে ওঠে— এরে কয় জ্ঞান বোকা জ্ঞান মূর্খ, যেমন জ্ঞানপাপী, তেমন। জানে সবই, খেয়ে যাচ্ছে, চাটনি চেটে যাচ্ছে।

    বেদবতীর কেমন ভয়-ভয় করে। সবাই যদি এই সব বে-আইন, অনাচার দেখায়, যা ঘরের মধ্যে তাকে হাটের মাঝখানে করে দেখায় তো কী হবে! শিশু বলে, বালক-বালিকা বলে কিছু আর এরা থাকতে দেবে না। সেই শিশুহীন শুধুমাত্র যুবতী পৃথিবীতে তিনি, তাঁরা কী করে বাঁচবেন! কেনই বা! অথচ প্রাণের ওপর তো কারও হাত নেই।

    ছোটছেলে রঞ্জনকে বলেকয়ে আনিয়ে তিনি তার সঙ্গে বাগবাজারে চললেন। বিশাল বাড়ি। ক’পা গেলেই গঙ্গার ঘাট। সেখান থেকে ইলিশ আসত টাটকা, দড়ি দিয়ে বাঁধা সেই জোড়া ইলিশ সিঁদুর দিয়ে বরণ করছেন সর্বমঙ্গলা এ ছবি তিনি স্পষ্ট দেখতে পান। যাকে খাবে তাকে অমনি করে বরণ করা কেন? একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন। সবার মাঝে পড়ল কথা সেজবউদি বলে উঠল— শাউড়ি বউকে বরণ করে না? এ সেইরকম। সারাজীবন ধরে খাবে তার আনন্দে বরণ। সবাই হেসে উঠল। আচ্ছা, সত্যিই কি সর্বমঙ্গলা অতটা বউ-কাঁটকি ছিলেন? তাদের খাওয়া-দাওয়ার কোনও অযত্ন তো কখনও করেননি? কতকগুলো কঠোর নিয়ম ছিল। সকালবেলা উঠেই চান করে ফেলতে হবে বউ-মানুষকে। তসরের কাপড় গায়ে জড়িয়ে ঘরে গিয়ে তবে তুমি তোমার সুতিবস্ত্র পরো। মাথায় ঘোমটা থাকবে। স্নানের পর ঠাকুরঘরে ভক্তিভরে একটা পেন্নাম। তারপর এসে শাশুড়িকে পেন্নাম। সবাইকার কাজ ঠিক করা আছে। কে ময়দা মাখবে, কে চা করবে, কে কুটনো কুটবে, স—ব। বেশ একটা শৃঙ্খলা। কিন্তু হ্যাঁ, কারও অধীনে।

    তাঁর মেয়ে রঞ্জা বলেছিল— মা ইলিশ হল সম্পদের প্রতীক, ‘জলের রুপোলি শস্য’— বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, তা-ই বোধহয় বরণ করা হত। হবেও বা। আরও বলত এই যে যৌথ সংসার, একজনের অধীনে জীবনযাত্রা— এ বহু প্রাচীন। কৃষিভিত্তিক সভ্যতার অভ্যেস। প্রথম যুগের আদি সভ্যতার সব মানুষ কোনও না কোনও কর্ত্রীর অধীনে কাজ করত। একজন কেউ পরিচালনা না করলে, কাজ ভাগ করে না দিলে— কমিউনিটি লিভিং চলে না। আদি সমাজের আদলে কমিউনিটি লিভিং চিন আর রাশিয়ায় চালু করার চেষ্টা হয়ে গেছে মার্কস-এর কথামতো। চলেনি। আর চলবেও না মা। ইন্ডিভিজুয়ালিজম, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য তো সভ্য মানুষের একটা প্রধান লক্ষণ, সেটা সে বড় জায়গার জন্য, ধরো তার কর্মক্ষেত্রে সরকারি কাজে বিসর্জন দিতে বাধ্য, কিন্তু নিজের নিজস্ব গণ্ডিতে এসে প্রত্যেকে তার নিজের মতো বাঁচতে চায়।

    সেই কথাই একটু অন্যভাবে বলল পূর্ণাবউদি।

    —দেখো দিদিভাই, ঠাকরুনের প্রত্যেক ছেলেরই নাতিপুতি হয়ে গেছে। বাড়ি তো নয়, পাড়াবিশেষ। দেশের সম্পত্তি খানিকটা বিক্রি, খানিকটা বেদখল হয়ে গেছে। সংবৎসরের চালটাও যে আসত, আজ আর আসে না গো। সবাই তাদের রোজগারের অংশ দিচ্ছে, চাইছে নিজের পছন্দের জিনিসটি। কেউ চায় মাছের ঝোল, কেউ চায় মাছের ঝাল, কেউ আবার মাছ খায়ই না, তার চাই মাংস। সবাই অখুশি। ভিন্ন হয়ে যাওয়াই তো ভাল ভাই। তোমাদের একটু কেমন কেমন লাগছে ঠিকই। স্ট্যাটাস কো— কেউ ভাঙতে চায় না। কিন্তু দেখো, ভাল হবে। তা ছাড়া এই বাড়ি তো আর থাকবে না, বিশাল মাল্টি-স্টোরি উঠবে। বড়মার সব ছেলেরই আলাদা আলাদা ফ্ল্যাট হবে। দরকারে ডাকলে সবাই জড়ো হবে। ভাবছ কেন?

    এটা বেদবতী জানতেন না। এই বাড়ি ভাঙা হবে? ভাঙা হবে? বাগবাজারের দেউল-বাড়ি আর থাকবে না? ছাদে মন্দিরের চুড়োমতো একটা আছে বলে একে সবাই দেউল-বাড়ি বলত। বাগবাজার অঞ্চলে ঢুকে দেউল-বাড়ি বললে যে কেউ চিনিয়ে দিতে পারত, সেই বাড়ি ভাঙা হবে? তারপরেই তাঁর মনে হল তাঁর শ্বশুরবাড়ি? সে-ও তো বিক্রি হয়ে গেল! খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। নিজের কোনও জায়গা রইল না। তাঁর নিজস্ব জায়গার বদলে ছেলেদের সবার একটা একটা জায়গা। আক্ষরিক অর্থেই এ হল জায়গা ছেড়ে দেওয়া। ছোটদের জায়গা ছেড়ে দেওয়া। নিজে অন্তরালে চলে যাওয়া। এই খেলাই খেলা হবে এবার। কিন্তু বাগবাজারের বাড়ি যে একটা বিশেষ বাড়ি।

    তিনি ঘরগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন। মায়ের ঘরটি এখনও তেমনই আছে। পালঙ্কে মোটা বিছানা। আয়নাঅলা বিশাল আলমারি, তিন পাল্লাঅলা ড্রেসিংটেবল। এক কোণে ঠাকুরের সিংহাসন। যখন ঠাকুরঘরে আর যেতে পারলেন না, তখন সর্বমঙ্গলা নিজের ঘরের কোণে সবচেয়ে প্রিয় ঠাকুরটিকে এনে বসিয়েছিলেন। সেই প্রিয় ঠাকুরটি হলেন জগদ্ধাত্রী। একটা ছবি। এ বাড়ির বার্ষিক জগদ্ধাত্রীপুজো বন্ধ হয়ে গেছে অনেক দিন। বাবা মারা যাবার পরই। কিন্তু মা শয়নে-জাগরণে জগদ্ধাত্রী সামনে রেখে জীবন যাপন করতেন।

    —কেন মা? তুমি লক্ষ্মী নিলে না, কৃষ্ণ নিলে না, কালী নিলে না, জগদ্ধাত্রী নিতে গেলে কেন?

    সর্বমঙ্গলা ঘরের হাওয়ার মধ্য থেকে স্বর হয়ে বলে উঠলেন—বুঝলি না খুকি? আমরা যে সব মহামায়ার অংশ রে! মহামায়াই পৃথিবী, প্রকৃতি, মানুষ গড়লেন। তিনিই চালাচ্ছেন, সবাই তাঁর অংশ, কিন্তু আমরা মেয়েরা বেশি করে। দেখছিস না যেমন বীর্য, তেমন রূপ, তেমন ক্ষমতা। সব পারেন। তাঁকেই ডাকি। তাঁর ওপর নির্ভর করেই থাকি। যদি তিনি সহায় হন তো সব পারব।

    এই বিশ্বাসকে খোঁজেন বেদবতী। তিনি যে কেউ, বিশেষ কোনও শক্তির অংশ এ তাঁর কখনও মনে হয় না। মনে হয় প্রকৃতির খেয়ালে এসেছেন। শরীরের ঘড়ি অচল হলেই পঞ্চভূতে মিলিয়ে যাবেন। এর মধ্যের অংশটুকু যাকে জীবন বলে, তারও তেমন কোনও তাৎপর্য খুঁজে পান না বেদবতী। যে সময়ের যা— পুতুল খেলা, রান্নাবাটি, সংসারধর্ম, সন্তান জন্ম পালন। তাদের সুখদুঃখে সামান্য অংশ নেওয়া, তাদের বিয়ে-থা, অসুখ-বিসুখে সেবা, নিত্যপূজা, ব্যস। এখন আর কিছু করবার নেই। যা করে এসেছেন তা-ও সাগরপারে বসে শিশুর বালি নিয়ে খেলার বেশি কিছু নয়।

    মায়ের ঘর থেকে বেড-প্যানট্যানগুলো সরে গেছে। অসুখ আর ওষুধের গন্ধের জায়গায় ধুনো গুগ্‌গুলের গন্ধ। তিনি জানেন এ কাজটা সেজবউদি করে। তিনি অনেকক্ষণ ঘরটাতে দাঁড়িয়ে আছেন দেখেই বোধহয় পূর্ণা একটা গদি-আঁটা বেতের চেয়ার নিয়ে এসেছে কোথা থেকে, সেজমাকেও ডেকে দিয়ে গেছে।

    —কী গো মায়ের নাম জপ করছ? না শোক করছ? নাকি মা কত কষ্ট পেয়ে গেলেন সেই সব ভাবছ?

    তিনি চুপ করে রইলেন।

    —ভেবে কিছু লাভ নেই বেদো— সেজবউদি বললেন। কণ্ঠে যেন একটু মধু এসেছে।

    —আসল কথা কী জানিস নতুন যুগের নতুন দেবতা, মা জগদ্ধাত্রীদের কাল গেছে।

    বেদবতী শুনছেন, মন্তব্য করছেন না।

    সেজবউদি বললেন, জগদ্ধাত্রী যে আদতে কিছু না, আমাদের দিয়ে সংসারের ঘানি ঘোরাবার একটা কল—এটা তো বুঝিনি। ঠাকরুনও ছাই বুঝতেন।

    —বুঝলুম না।

    —বুঝবি কী করে? নিজের দুঃখেশোকে বুঁদ হয়ে আছিস। চারদিকে কী হচ্ছে দেখছিস? আমরা জগদ্ধাত্রীর মতো রূপ নিয়ে সব কী করেছি? কোন কাল থেকে! পান খেয়ে; আঁচলে চাবির গোছা ফেলে, রান্নাঘর ভাঁড়ারঘর আর শোবারঘর আর আঁতুড়ঘর করে বেরিয়েছি। কী কাজে লেগেছে রূপ? আর গুণ? কে কত রাঁধতে পারল! কে অসময়ের অতিথিকে নিজের ভাগ ধরে দিল, কে কত উপোস করল। কার কত সহ্য, কোমর বেঁধে কে কত লোক খাওয়াতে পারল; তারপর কপালে সিঁদুর পরে ড্যাংডেঙিয়ে চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ বছরে গঙ্গাযাত্রা করল— এই তো!

    —কী যে বলো! মায়ের একশোর কাছাকাছি বয়স হয়েছিল, তুমি আমি আশি পেরোলুম। এরকম…

    সেজবউদি হেসে বললে, বয়স কিন্তু ওই চল্লিশেই শেষ হয়ে গেছে বেদো, ভেবে দেখো। তোর মা বেঁচেছিলেন চুষিকাঠি নিয়ে— আমি হ্যান, আমি ত্যান, আমার পুরো সংসারে কত নাম কত দাপ। পানটি থেকে চুনটি খসতে দিই না। চুষিকাঠি। তা, আমাদের সে চুষিকাঠিটিও নেই। এ ঘরের তিনটে নাতনি, দুটো নাতি, লাভ ম্যারেজ করেছে। কেটে পড়বার তাল করছে আরও কতক-চাট্টি। আমাদের কথা কেউ শোনে না। বিজয়ার সময়ে একটা করে প্রণাম সবার থেকে পাওনা ছিল। ঠাকরুন যাবার পর তাতেও শর্ট পড়েছে। বলে ধুত, প্রণাম আবার কী! পায়ে কত নোংরা, ছিঃ। হাত জোড় করে নমস্কার করে, কিংবা একটু নিচু হয়ে ‘থাক থাক’ টুকু শোনবার যা অপেক্ষা, উঠে পড়ল।

    বেদবতী হেসে ফেললেন— এই নিয়ে তোমার এত দুঃখু?

    —নারে এটা ভূমিকা, আসল কথাটা হল কাগজে দেখছিস না, রেপ রেপ রেপ, জগদ্ধাত্রীর অংশ যেই না বাইরে বেরিয়েছে অমনি রেপ হয়ে যাচ্ছে। চালান হয়ে যাচ্ছে। হিল্লি দিল্লিতে বেবুশ্যে হয়ে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। আর গুণ? গুণ নিয়ে সব ঘরেও খাটছে, বাইরেও খাটছে, এত খাটতে খাটতে চেহারাটুকু যাচ্ছে, বর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই তো লাইফ!

    সেজবউদির মুখে ‘লাইফ’টা খুব মজার শোনাল। বেদবতী মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করলেন— তা তুমি কী করতে বলো!

    —আমার বলাবলির কী আছে? আমার ‘আইডিয়া’ই নেই। মেয়েরা নিজেরাই দেখাচ্ছে। যার যট্টুকু রূপ আছে, দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। নাইকুন্ডুলি, বুকের ভাঁজ, পাছার মাংস, যার যা আছে দেখাচ্ছে। তাকে বলে মডেল। বেশ্যাতেও লজ্জা পাবে এমন সব রঙ্গ। তবে কী জানিস, পয়সা কামিয়ে নিচ্ছে। অগাধ! শরীর দিতে হচ্ছে না রাতভর, অথচ বাড়ি-গাড়ি। ভক্ত উমেদার। আর সত্যি জগদ্ধাত্রী হলে তো কথাই নেই। সোজ্জা হেমা মালিনী হয়ে যাও। যাই বলিস আর তাই বলিস, এরাই এই ছ্যাঁচড়া সমাজকে কলাটা ঠিকঠাক দেখাল। ঠাস ঠাস করে চড় যাকে বলে। বেশ করেছে।

    —তুমি এই যুগে জন্মালে কী করতে সেজবউদি?—বেদবতী মিটিমিটি হেসে বললেন।

    —আমি? আমি ব্যায়াম করা মেয়ে, রেপ করতে এলে পাঁচটা জোয়ানকে ল্যাং মেরে ফেলে দিতে পারি। আর আজকের দিনে আমার যা ছিল, তাতে করে হিন্দির হিরোইন না হোক, বাংলার তো হতুমই। কোল ভরতি কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, বিজ্ঞাপনে বিজ্ঞাপনে গয়না পরে শাড়ি পরে পোজ দিচ্ছি। পাঁজা পাঁজা টাকা। তখন আমি তোর এই বাগবাজারের দেউলে-বাড়ির পরোয়া করতুম নাকি? যে নাতবউরা আজ ক্যাটক্যাট করে কথা শোনায়, তাদের নাগালের মধ্যেই থাকতুম না। এখানে থাকলে থিয়েটার রোড কি সল্ট লেক, বম্বেতে থাকলে বান্দ্রা কি জুহু, আর বিদেশে থাকলে ক্যালিফোর্নিয়া, আহা কী শহর, দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।

    সেজবউদি কিছু দিন আগে তার বড়দার নাতনির বাড়ি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ঘুরে এসেছে, মোহিত একেবারে।

    বেদবতী বললেন—সে দেশে তো শুনতে পাই, বুড়োবুড়িরা সব নিজে নিজে করে, লোক রাখা যায় না, গাড়ি চালিয়ে সব জায়গায় যেতে হয়। কম হ্যাপা!

    গর্বের হাসি হেসে সেজবউদি বললে—দুর দুর— আমি তো হিরোইন! হিরোইনরা লোক রাখতে পারে, গাড়ি যখন নিজে চালাতে পারব, চালাব, নইলে আমার শফার কিংবা বয়-ফ্রেন্ড চালাবে!

    —বয়-ফ্রেন্ড!

    —হ্যাঁ, সে দেশে কুড়ি পঁচিশ বছরের ছোট জোয়ানকেও বিয়ে করা যায়। দিব্যি থাকে। লিভ-টুগেদার। যদ্দিন ইচ্ছে হল রইলে, ইচ্ছে গেল তো নেই নেই। তোর সেজদার কথা এর মধ্যে আসছে না বেদ। এ হল ‘যদি হতে পারতুম,’ সেই ‘যদির’ কথা। নে এবার তুই যত খুশি গালাগাল দে—বলে সেজবউদি শাঁখ বাজাল গাল ফুলিয়ে। তারপর চলে গেল।

    বেদবতী হাঁ করে বসে রইলেন। সত্যি কথা, জগদ্ধাত্রী না হলেও সেজবউদির খুব চটকদার চেহারা ছিল। চুল তো এখনও দেখবার। রুপোর সুতোর মতো ঢেউ খেলানো, ধবধবে আলোর মতো রং। সোজা লম্বা চেহারা, চারটি ছেলেমেয়ে, সে বোঝবার জো নেই। সেজবউদির মা নানারকম জানতেন। বাচ্চা হতে প্রত্যেকবার যেত, আর যেন আরও কমবয়সি, কুমারীটি হয়ে ফিরত সেজ। মুখ চোখ আহামরি না হলেও ওই চটক। তার জন্যে কম খোঁটা শুনতে হয়েছে মায়ের কাছে। ‘বউমানুষের অত সাজগোজ! অত চোখে কাজল, গালে পাউডার কী গো! সবসময়ে যেন নেচে আছে! ঘরের আয়নাগুলো এবার লোক ডেকে ভেঙে দোব।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখারাপ ছেলে – বাণী বসু
    Next Article অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }