Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিষ্ক্রান্তি

    ঈশা জানে না কেন সে কলকাতা নয়, দিল্লির টিকিট কাটল। সম্পূর্ণ ইনটুইশন। মন বলল, মুখ বলল, সে কেটে নিল। একটা বড় সুটকেসে যতটা পেরেছে, পুরেছে। শায়রীর বইপত্র, নিজের আরও কিছু দরকারি জিনিস সে কারগোয় দিয়ে দিল। প্লেনের খাবার খুব খারাপ। সে মুখে দিতে পারল না। শায়রীর জন্যে এক বাক্স ভরতি কেক পেষ্ট্রি এনেছিল, আর ছিল কিছু বিস্কুটের প্যাকেট। তাকে খাবার প্রত্যাখ্যান করতে দেখে একটি বিমানসেবিকা এগিয়ে এল— ম্যাডাম, ডোন্ট য়ু লাইক আওয়ার সার্ভিস?

    —নো ও— এত রূঢ় জবাব জীবনে কখনও ঈশার মুখ দিয়ে বেরোয়নি। তার বন্ধুরা বরাবর বলেছে— কীরে মিছরি হাসি! কখনও মুখ গম্ভীর করতে শিখবি না? লার্ন টু বি রুড। প্লেন অ্যান্ড সিম্পল রুড।

    হতে পারে সে গভীর ভাবে অন্তর্মুখ। কিন্তু লোকজনের সঙ্গে মেলামেশায় হাসিটুকুর অভাব তার কখনও হত না। পৃথিবীর প্রথম বালিকার মতো নিষ্পাপ, মধুময় হাসি।

    ঈশা বলল— স্যরি, আই মিন নট ইয়োর সার্ভিস, বাট দা ফুড ইউ আর কমপেল্ড টু সার্ভ!

    মেয়েটি অপ্রতিভ মুখে চলে গেল। কিন্তু অপমানবোধের যে উপশম হয়েছে তা দেখলেই বোঝা যায়। একটু পরে সে গোটা চার টুকটুকে লাল ছোট সাইজের আপেল নিয়ে এল। অনেকটা যেন প্লামের মতো দেখতে!

    —ম্যাডাম, আই উইল বি ওবলাইজ্‌ড্‌। আই মিন ভেরি হ্যাপি ইফ য়ু ক্যান মেক ডু উইথ দিজ।

    সে নিল। ভীষণ খিদে পেয়েছিল। গতকাল সকাল থেকে যে উৎকট বিস্বাদ তার সমস্ত খিদে কেড়ে নিয়েছিল, সেই খিদে হঠাৎ প্রবল তীক্ষ্ণতায় জানান দিচ্ছে। কামড় বসাতেই মুখটা অপরূপ আহ্লাদে ভরে গেল। একটা খেল, দুটো খেল, তৃতীয়টা শায়রীর হাতে দিল, চতুর্থটায় কামড় বসাতে যাচ্ছে। মেয়েটি ফিরে এল, বলল— ইজ ইট ও কে ম্যাডাম!

    —ওহ, আ থাউজন্ড টাইমস ইয়েস, বাট আই ওয়জ ওয়ান্ডারিং… ডু য়ু ক্যারি সাচ অ্যাপলস্ অন দ্যা ফ্লাইট! হোয়্যার আর দে ফ্রম?

    মেয়েটি আবারও একটু অপ্রতিভ হল, বলল— দে আর অ্যামেরিকান অ্যাপলস্‌। লাস্ট উইক সামবডি বট দেম দেয়ার ফর মি…. ক্যারিইং উইথ মি, ইউ সি! —লাল হল মেয়েটি! চট করে চলে গেল।

    আরও দেখুন
    Books
    বুক শেল্ফ
    নতুন বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    লেখকের বই
    Library
    অনলাইনে বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই

    ঈশা আশ্চর্য ও লজ্জিত হয়ে রইল। মেয়েটিকে কেউ এনে দিয়েছে, কে? সে নিশ্চয় ইন্টারন্যাশন্যাল ফ্লাইটে কাজ করে? ওর বয়ফ্রেন্ড, নিশ্চয়ই তাই। ও নিজের জন্য রেখেছিল। ম্যাডামকে রাগত ও ক্ষুধিত দেখে দিয়ে দিয়েছে। এমা! ছি ছি!

    মেয়েটির আসা-যাওয়ার পথে সে নজর ফেলে রেখে দিল। একটা না একটা সময়ে তাকে সাড়া দিতেই হল। ঈশা বলল— আই অ্যাম এক্সট্রিমলি স্যরি মিস…

    —রঙ্গরাজন।

    —এক্সট্রিমলি স্যরি মিস রঙ্গরাজন। আই অ্যাপ্রিশিয়েটেড ইয়োর ফ্রুটস অ্যান্ড ইয়োর ওয়ান্ডারফুল জেসচার, বাট আই কান্ট এক্সপ্রেস মাই এমব্যারাসমেন্ট। থ্যাংকস, থ্যাংকস আ লট… অ্যান্ড… অ্যান্ড… স্যরি, রিয়্যালি স্যরি…

    রঙ্গরাজন মিষ্টি হেসে তাকে আশ্বস্ত করে চলে গেল। আর একটা অনভ্যস্ত ভাললাগায় তার মনটা ছেয়ে গেল। বুঁদ হয়ে আছে সে। শুধুই কি আপেলের স্বাদে? রঙ্গরাজনের বদান্যতায়! না তো! ঈশার অবাক লাগল ভেবে পুরো ব্যাপারটা সে খুব ভাল সামলাল তো! অন্য সময়ে হলে, সে নিশীথকে বলত— আমি এগুলো খেতে পারছি না। পারো তো অন্য ব্যবস্থা করো।

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বুক শেল্ফ
    PDF
    বই ডাউনলোড
    PDF বই
    পিডিএফ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

    —কী ব্যবস্থা করব, এখন?

    —কোরো না, দরকার নেই!

    —মানে? কিছু তোমাকে খেতেই হবে, নইলে তোমার সেই বিখ্যাত মাইগ্রেন শুরু হবে। সে রুড হল, সামলে নিল, খাবার জোগাড় করল, তার জন্য কেউ আত্মত্যাগ করল, তার… জন্য…. কেউ… আত্মত্যাগ…! ওয়ান্ডারফুল, তার অভিজ্ঞতায় নেই ইদানীং। এবং বেশ কিছুটা কথাবার্তা, হৃদ্যতা, কথাবার্তার মধ্য দিয়ে… বা বেশ তো। সে তো পারে! কিছুই হয়তো নয় এটা। তবু খুব মসৃণভাবে সে পারল। সেই মুখচোরামি কোথায় গেল তার? আইলের সিটে একটা স্বাদু অনুভবের মধ্যে ডুব দিল সে। শুধু অনুভব, তার মধ্যে কোনও বিষয় বা বস্তু নেই। কিংবা হয়তো আছে, সে জানে না, এখনও জানে না।

    শায়রী মিষ্টি গলায় বলল— মা। দিল্লি অনেক দূর!

    সে মৃদু গলায় জবাব দিল— না, দূর আর কই। এসে গেলেই এসে যাবে। তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও।

    আরও দেখুন
    বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা বই
    অনলাইনে বই
    ডিজিটাল বই
    পিডিএফ
    Library
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    নতুন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ

    ঈশার এখন প্রবল ইচ্ছে করছে ওই রঙ্গরাজনের সঙ্গে কথা বলতে, ভাব জমাতে। সে খুব কষ্ট করে ব্রেক কষল। তার এই দোষ। সে খুব অন্তর্মুখী, চট করে কারও সঙ্গে মিশতে পারে না। লোকটি বলে— য়ু আর ফুল অব কমপ্লেক্স। হবেও বা। কিন্তু কাউকে যদি ভাল লেগে যায়। কেউ যদি ভাল, সুন্দর ব্যবহার করে, আগ্রহ দেখায়, হঠাৎ কারও মুখ, কারও হাসি, ভাষা, ভঙ্গি হঠাৎ যেন অন্য কোনও সুন্দরতর লোক থেকে ঝরে পড়ে সে ভুলে যায়। বিগলিত, বিহ্বল হয়ে যায়। এই বৈপরীত্য তার চরিত্রে আছে। লোকটি বলে থাকে— এটা সফিস্টিকেশন নয়। সফিস্টিকেশন হল— তোমার ভাললাগা, মন্দলাগা দুটোই একরকম ভাবে হ্যান্ডল করো, পরিমিত উচ্ছ্বাসে। পরিমিত ঠিক আছে, কিন্তু উচ্ছ্বাস! ওই মিসেস চ্যাটার্জি, আস্থা মেহরাদের সঙ্গে? মিসেস চ্যাটার্জি বলবেন —দেখো দেখো ঈশা, ডিরেক্টরসাবকে দেখো, কত অমায়িক। ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কী সিনসিয়ার, হাইট অব কমপিটেন্স, নো? —তিনটে ছেলেমেয়ে বানিয়েছে, তারা বাবা কী জিনিস জানে না। কথায় কথায় আইসক্রিম আর চকলেট দিয়ে কর্তব্য সারা আর বাচ্চাগুলোকে স্পয়েল করার একটা লোক— এই পর্যন্ত। ডিরেক্টর কেচ্ছা চলতেই থাকবে। চলতেই থাকবে… শেষের দিকে ডিরেক্টরসাবের অশেষ মেয়ে লালসা এবং বলিহারি পছন্দের কাহিনি। —কী কিছু বলছ না কেন? য়ু আর গোয়িং টু হ্যাভ দা সেম এক্সপিরিয়েন্স এনিওয়ে।

    আরও দেখুন
    পিডিএফ
    লেখকের বই
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    গ্রন্থাগার
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা কৌতুক বই

    ভেতরটা মূলসুদ্ধু কেঁপে যায়। কেননা সে দেখে অতি দূরে কোনও কেতাদুরস্ত মহিলার সঙ্গে সাগ্রহ বার্তা বিনিময় করে এবার এক অখাদ্য কিন্তু যুবতী মহিলার সঙ্গে কথা বলছে নিশীথ। তার মনে পড়ে যায় মালবিকাদি, মুন্নি। আশ্চর্য হয়— এরা কিন্তু ওদের নখের যোগ্যও নয়। তার স্বামীর স্ট্যান্ডার্ড কি তা হলে দিন দিন পড়ছে!

    আর আস্থা? —হ্যালো ঈ-শা। প্ল্যানিং এনি পার্টি? নট ইয়েট! —এই সময়ে আস্থার চোখের দৃষ্টিতে একটা অদ্ভুত অবজ্ঞা ও বিস্ময় মেখে থাকে। সে অন্তরঙ্গ হবার চেষ্টা করে না কখনও। একটা দুটো কথা ছুড়ে দিয়ে সাবলীলভাবে মিশে যায় পুরুষ-প্রজাতির সঙ্গে। বাকি সময়টা ঈশাকে এরকম ‘কাট’ করতে থাকে।

    কিন্তু তার ভেতরেও তো কথা আছে। সেই কথাগুলো খলবল করতে থাকে থলিতে জিওল মাছের মতো। কাউকে দেখে, শুনে বার হয়ে আসতে চায়। যেমন শম্পাদি। থাকে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায়। ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিয়ান। কত যে জানে, আর কত যে তার পড়াশুনো। কিন্তু কলকাতায় এলে সে ঈশার খোঁজ করবেই। নিশীথ নেই। তো কী? চলো তোমাতে আমাতে একদিন খেতে যাই। খুব দামি রেস্তোরাঁয়। শম্পাদি, নিশীথের আপন পিসতুতো বোন— অজস্র ডিগ্রিধারী। ভীষণ ভালবেসে কথা বলে ঈশা। একজন সামান্য গ্রাজুয়েট ‘গৃহবধূর’ সঙ্গে। শুধু ঈশা, আর কেউ না। বলে— ‘মামা মামিদের সঙ্গে আরেক দিন হবে, আজকে একটু তোমার সঙ্গে কথা বলে নিই!’ যেন ঈশার কথা বলাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। ঈশার কিন্তু একটুও অপদার্থ লাগে না তখন নিজেকে।

    আরও দেখুন
    বই ডাউনলোড
    PDF
    বইয়ের তালিকা
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা সাহিত্য
    লাইব্রেরি
    বইয়ের
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল

    তবু বলে, —শম্পাদি, আমার সঙ্গে কথা বলে কী সুখ পাও গো?

    তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে শম্পাদি বলে— এখানে সব্বাই বড় কনশাস, জানো ঈশা! কে ভাবছে আমি এত উচ্চপদস্থ, কে মনে করছে আমি অমুকের ঘরনি, আমার ব্যাংকে এত টাকা, কেউ বিদ্যা, কেউ যশ। এভরিবডি কামস উইথ ব্যাগেজেজ। য়ু ডোন্ট কাম উইথ এনি। জানো, হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ভরতি নোবেল লরিয়েট, কেউ তাদের ফিরেও দেখে না। দে ডোন্ট এক্সপেক্ট দ্যাট।

    —আমার কিছু নেই যে শম্পাদি, না টাকা, না উচ্চপদ, না কোনও বলবার মতো গুণ!

    —আরে! য়ু আর সোললি আ হিউম্যান বিয়িং হুম আই লাইক ভেরি ভেরি মাচ। বাইরের জিনিস বা অ্যাচিভমেন্টগুলো ছাড়াও তো মানুষের একটা চরিত্র থাকে! সেইটা, সেইটা বুঝলে না! বলে শম্পাদি অনুপম হাসি হাসে আর ঈশা কৃতজ্ঞতায় গলে যায় এই আত্মবিশ্বাসটুকু উপহার পাওয়ার জন্য।

    —শম্পাদি? শম্পাদির সঙ্গে তাজ-এ গিয়েছিলে? একা? বাট হোয়াই?

    আরও দেখুন
    বাংলা বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাইশে শ্রাবণ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    Library
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    নতুন বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন

    নিশীথ অবাক হয়ে থাকে, নিশীথের মা, বাবা।

    বাবা বিড়বিড় করতে থাকেন— শি ইজ হার্ভার্ড এডুকেটেড।

    মা চেঁচিয়ে ওঠেন— ও ছবিও আঁকত না! দারুণ!

    সে যেন একটা মহা অপরাধ করে ফেলেছে। কিংবা অলৌকিক কিছু। শম্পা লাহিড়ি কেনস, যিনি একজন অস্ট্রেলীয় লেখককে বিয়ে করে ক্যানবেরায় সেট্‌লড্‌। তিনি কেন ঈশাকে একলা ট্রিট দেন! একটা ধাঁধা, সে ধাঁধার উত্তর খুঁজে পায় না ঘোষাল পরিবার।

    রঙ্গরাজন! মিস রঙ্গরাজন! তোমার প্রথম নাম কী! প্রথম নামটার বড্ড দরকার হয় ভাব করতে গেলে। আই অ্যাম অলরেডি মিসিং য়ু রঙ্গরাজন। চোখের ওপর রুমাল চাপা দিল সে। কেননা কাল থেকে মুলতুবি কান্নাটা নিঃশব্দে বেরিয়ে আসছে। রুমালের পেছনে সে প্রাণপণে কেঁদে নেয়। প্রাণপণে সামলাতে চেষ্টা করে। ভাগ্যিস, উইন্ডো-সিটে মেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। মাকে কাঁদতে দেখলে ও ভীষণ বিচলিত হয়ে পড়ে। গত চার বছরে তা বারবার প্রমাণিত হয়ে গেছে। গতকাল সকালের দৃশ্য ওকে মূক করে দিয়েছে। মেয়ে, মেয়ের কথা ভেবেও এই অস্থির, অশান্ত, দূষিত পরিবেশ থেকে দূরে চলে যেতে হবে তাকে। নিজের কথাও কথা! সে বোধহয় এই ভয় ও ভয়ংকরের পরিবেশে মেন্টাল পেশেন্ট হয়ে যেতে যাচ্ছে। না, না। তোমাকে বাঁচতে হবে ঈশা। এ ভাবে শেষ হওয়া, ক্ষয়ে যাওয়া চলে না। চলে না। এটা তোমার জীবন। কে জানে ফিরে পাবে কি না। পালাও প্রসারপিনা এই প্লুটোর পাতাল রাজ্য থেকে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Books
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ই-বুক রিডার
    কৌতুক সংগ্রহ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    অনলাইনে বই
    বাংলা কৌতুক বই

    মাকে আজ তেমন করে মনে পড়ছে না ঈশার। মা নিজের কাজ নিয়ে বড্ড ব্যস্ত। সময় পায় না। ঈশাকে সাহস দেয়, নিশীথকে পরিমিত বকে, কিন্তু কখনওই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবার সাহস তাকে দেয় না। বাবা তো নয়ই! সেদিন যে বলল ওদের পাঠিয়ে দাও, তার মধ্যেও একটা নিশীথ-নির্ভরতা আছে। চলে এসো নয় পাঠিয়ে দাও। ঘাড় ধরে বার করে দাও আর কী। তো তাই হল। আই’ল থ্রো য়ু আউট অব দিস হাউস— বলে বিকট চেঁচিয়েছিল লোকটা। শায়রী থরথর করে কাঁপছিল। তার ভয়ের চেয়ে হয়েছিল বিস্ময়, গভীর বিস্ময়। এই সেই লোক যে নাকি পার্ক হোটেলের রেস্তোরাঁয় বসে নিজেকে নিবেদন করেছিল। কী আগ্রহ ছিল দু চোখে।

    —আমি কিন্তু খুব সাধারণ নিশীথদা, বিশ্বাস করুন, আমার ভাল লাগে আপন মনে থাকতে। বই পড়তে… আর. আর… চা করা ছাড়া কোনও রান্নার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার নেই।

    —আচ্ছা ঈশা, দিস ইজ টু মাচ। রান্নার জন্যে কেউ বিয়ে করে। কিন্তু রান্না জানো নাই বা কেন? মেয়েরা তো সবাই পারে। তোমাকেও পারতে হবে।

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    ডিকশনারি
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    কৌতুক সংগ্রহ
    Library
    বইয়ের
    ডিজিটাল বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বইয়ের তালিকা

    —ওমলেটটাও পারি। তবে মা বলে রান্নাটা শুধুমাত্র মেয়েদেরই কর্ম বলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অথচ বিদেশে ছেলেরা আকছার রান্না করে খাচ্ছে। মেয়ে ইকোয়ালস রান্না— এই ইকোয়েশন থেকে মা দূরে থাকতে চায়।

    —ফেমিনিস্ট!

    —কী জানি। শব্দটা খুব কঠিন লাগে। বুঝতে পারি না। তবে হ্যাঁ, আর কিছু দিন পরে রান্না-টান্না শিখতে তো হবেই। মাকে খাওয়াব, বাবাকে খাওয়াব…

    —নিশীথ ঘোষালকে খাওয়াবে।

    এটুকু রসিকতা অন্তত লোকটি করতে পারত।

    যখন রাগে লাল হয়ে চেঁচিয়েছিল! তার ভেতরটা কাঁপছিল। এ কে? কোন রাক্ষস? এর সঙ্গে এক শয্যায় শুয়েছে। সহবাস করেছে! কোনও রাক্ষস শিশু জন্মায়নি তো! নরম রেশম চুলের ছোট্ট একটি মানবিকা এসেছে, সে আকারে প্রকারে অবিকল ঈশারই মতো।

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    পিডিএফ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    PDF
    রেসিপি বই
    বাইশে শ্রাবণ
    বই
    লাইব্রেরি
    বাংলা বই
    ডিজিটাল বই

    সে দুটো কাজ করেছিল নিশীথ বেরিয়ে যাবার পর। একটা চিঠি লিখেছিল— আমি চললাম। যেমন তুমি চেয়েছ। চেয়েছিলে এসেছিলাম। চেয়েছ যাচ্ছি। যাওয়া-আসা দুটোই তোমার ইচ্ছায়। কোনওটাতেই আমার কোনও দায়িত্ব নেই। তেমন সায়ও ছিল না, নেই। তোমাকে কিছু মনে করিয়ে দিতে চাই না। কোনও শপথ, কোনও সুন্দর মুহূর্ত, কোনও কর্তব্য। আমিও ওই সব শপথ, মুহূর্ত, কর্তব্য পুঁটলি বেঁধে নিয়েছি, গঙ্গার জলে বিসর্জন দোব। ও, তুমি তো আমার বাংলা ভাল পড়তে পারো না। একটু কষ্ট করে বানান করে পড়ে নিয়ো। দয়া করে যে পকেট-মানি এত দিন দিয়েছ সেই জমানো টাকা থেকেই যাবার ব্যবস্থা করলাম— আমি।

    দ্বিতীয় কাজটা ছিল আরও কঠিন, আরও সাহসের। মালবিকাদিকে সে একটা ফোন করেছিল বাঙ্গালোরে। মোবাইল নম্বরটা খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু কাজটা সে বেশ কিছু দিনের গোয়েন্দাগিরিতে সম্ভব করে রেখেছিল।

    —হাঁলো!

    —আমি ঈশা বলছি।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    পিডিএফ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    লেখকের বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    PDF বই

    —হ্যাঁ ঈশা, আরে! ঈ-শা! বলো। সব ঠিক আছে তো।

    —না সব ঠিক নেই। ইউ প্লিজ কাম অ্যান্ড টেক ওভার।

    —মিনস। —চূড়ান্ত বিস্ময় মালবিকা কাজির গলায়।

    —তুমি তো এখন মুক্ত মালবিকাদি। অসুবিধে হবে না। আমি তোমার চিরকালের বন্ধু, দোসরকে মুক্তি দিলাম। এসে ভার নিতে পারো। বাই।

    সে ফোনটা রেখে দিয়েছিল। নিশীথ সব সময়ে টুর করছে। তাকেও নানা কাজে নানা জায়গায় থাকতে হয়। কিন্তু আজও সামান্য একটা মোবাইল লোকটি তাকে কিনে দেয়নি। বাড়ি বন্ধ করে চাবি কেয়ারটেকারের হাতে জমা দিয়ে সে বেরিয়ে পড়েছিল।

    এখন ওপর থেকে বাহাইদের লোটাস-টেম্পল দেখা যাচ্ছে। গোধূলির আলোয় অপার্থিব দেখাচ্ছে। তার মনে হল হৃৎ-কমল কথাটা যেন কোথায় আছে। অকস্মাৎ তার মনে পড়ে গেল। রবীন্দ্রনাথের গান, মা গাইত— এই হৃৎ-কমলের রাঙা রেণু রাঙাবে ওই উত্তরীয়। হৃৎ-কমলের রাঙা রেণু চারদিকে উড়ে যাচ্ছে। উড়ে বেড়াচ্ছে। বাতাস ভরা সেই রেণুর সুবাস। কেন হে নাথ, আমায় খেলায় হারিয়ে দিয়ে তোমার কী সুখ হল? কী সুখ? আমি তো কিছু চাইনি। আই ওনলি ওয়ান্টেড টু বি, টু বি মাইসেল্‌ফ্‌।

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বুক শেল্ফ
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইনে বই
    নতুন বই
    Books

    এয়ারপোর্ট থেকে মঞ্জুমাসিকে ফোন করল ঈশা।

    —ঈশা? হঠাৎ? এরকম?

    —আসব না বলছ? তা হলে চলে যাই।

    —উঃ, কী পাগলামি হচ্ছে। যেখানে আছিস সেখানেই থাক, আমি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।

    —না আমি প্রি-পেড ট্যাকসি নিয়ে যাচ্ছি মাসি। তোমাকে শুধু জানিয়ে দিলাম।

    না, কেউ না। কাউকে গাড়ি নিয়ে রিসিভ করতে আসতে হবে না। সে যথেষ্ট বড় হয়েছে। একটা সাত বছরের মেয়ের মা। যথেষ্ট কর্তব্য পালন করছে। হয়তো চূড়ান্ত রকমের ভাল ভাবে নয়, কিন্তু ভালই করেছে। সে যাই বলুক। এখন সে বুঝতে পারছে—ওগুলো ছল। অজুহাত। আসলে… আসলে ওর বোধহয় তাকে আর ভাল লাগছিল না। ট্যাকসিতে যেতে যেতে হঠাৎই বিদ্যুৎ চমকের মতোই তার উপলব্ধিটা হল। কেনই বা সে মাসির কাছে এল? প্রথমত এই সময়ে মা একটা বিশেষ আর্কিওলজিক্যাল কাজে ভীষণ ব্যস্ত। তার এই সিদ্ধান্ত, এই চলে আসা বজ্রাঘাতের মতো বাজবে মায়ের বুকে। মা যদি সামলাতে না পারে? সে-ও তো মেয়ে। মায়ের প্রতি তার সে দায়িত্ববোধ, মমত্ববোধ তা-ও তো অবচেতনে সব সময়ে কাজ করে যায়। আর দ্বিতীয়ত, মাসি এবং এই দিল্লি বহু ধরনের কাজকর্মের খোঁজ খবর রাখে। তাকে তো দাঁড়াতে হবে। নিজের দুটো পায়ে। মাসি তো একাধিক এন. জি. ও-র সঙ্গে জড়িতও আছে! কিন্তু, কিন্তু এই সাহস… এই রোখ কতক্ষণ টিকবে। এসবই তো তার চরিত্রবিরুদ্ধ। ছোটখাটো বিদ্রোহ সে করতে পারে, যেমন একনাগাড়ে সপ্তাখানেক মাছ নেই দেখে শাশুড়িকে বলেছিল—ভাত-টাতগুলোও নাই খেলাম মা, কিছু পয়সা বেঁচে যাবে! —তাতে তার অসভ্য মুখফোঁড়, লোভী বলে বদনাম হয়েছিল। ঠিকই হয়েছিল। কিন্তু মাছের অভাবে তার প্রোটিনাকাঙক্ষী দেহই অসভ্যতাটা করেছিল।

    শ্বশুরকে একদিন বলে ফেলেছিল— এত লোককে শাস্তি দিতে দিতে তোমার কেমন একটা অভ্যাস হয়ে গেছে, না বাবা? —তখন বদনাম হয়েছিল রূঢ় বলে। দেবতুল্য মানুষটাকে বোঝবার ক্ষমতা নেই বলে। মাঝেমধ্যে ফোঁস করে উঠেছে নিশীথের ব্যবহারে। দ্বিগুণ ত্রিগুণ ফোঁস করে তাকে নিস্তেজ করে দিয়েছে নিশীথ।

    মাথাটা এখন কীরকম ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। হালকা। বড় ভার চেপেছিল মাথায়। বড় ভয়। রান্নাটা ঠিক হল তো? বারেবারে চেখে দেখেছে। বাড়ির ধুলো ঝাড়াঝাড়ি পরিপূর্ণ হয়ে গেল। এইরে, ললিতা কাজের লোকটা মাটির চমৎকার পটটা ভেঙেছে। ওই কলস তারা এগজিবিশন থেকে কিনেছিল। বকল লোকটিকে, কিন্তু এ গল্প তো এখানেই শেষ হবে না। ললিতা শুধু সূচনাসূত্র। সে উপলক্ষ, আসল ধ্রুপদ-ধামার বাজবে রাত বারোটায়। সামলাতে পারো না? একটা জিনিস সামলাতে পারো না! গলার আওয়াজটা এসব সময়ে কীরকম ঢাকের মতো হয়ে যায়! না, না, দুর্গাপুজোর ঢাক নয়, সতীদাহর ঢাক, মড়ার সঙ্গে জ্যান্ত মানুষটাকে চিতায় তুলেছে, আগুন উঠছে লেলিহান শিখায়। জ্যান্ত মানুষ পুড়ছে—তার উৎকট আকাট বিকট চিৎকার চাপা পড়ে যাচ্ছে প্রবল ঢক্কানিনাদে। সেই ঢাক। এই অদ্ভুত উপমাটা তার মনে এল কেন? তবে কি সে ন’ বছর ধরে জ্যান্ত পুড়ছিল, আর একটার পর একটা অভিযোগের খুঁতপাড়ার গর্জনে চাপা পড়ে যাচ্ছিল তার কৈফিয়ত, তার আত্মপক্ষ সমর্থন। শায়রীর অঙ্ক বই খাবার টেবিলের চেয়ারে কেন? বারান্দার দিকের দরজাটা খোলা কেন? খবরের কাগজ রাখার আর জায়গা নেই বাড়িতে? পরশু দিনের কাগজটা কোথায় গেল? মভ শার্টটার বোতাম বসানো হয়নি কেন?

    উত্তরগুলো কত সহজ, স্বাভাবিক। শায়রী অঙ্কের খাতা পেনসিল চেয়ারের ওপর রেখে ঘুমোতে চলে গেছে। আমি কী করে জানব! বাচ্চারা ওইরকম একটু-আধটু করে থাকে। এখনও তো রুটিন মিলিয়ে বইপত্র সব ব্যাগে ভরিনি! তখন ঠিকই ধরা পড়ত।

    বারান্দার দিকের দরজাটা ইচ্ছে করে খুলেছি। দক্ষিণে হাওয়ার দেশের মানুষ আমি। এমন বন্ধ-ছন্দ থাকতে পারি? এখানে চোর ওঠার সম্ভাবনা নেই নিশীথ! শোবার আগে তুমি বা আমি যে-কেউ বন্ধ করে দেব। সে সময়ে জানলা-দরজাগুলো তো আমরা চেক করেই থাকি। একটু এয়ারিং দরকার। অক্সিজেন!

    কলসিটা? অনেকবার করে বলেছিলাম ওটা এক কোণে রাখো। তাতেও সুন্দর দেখাবে। তা হল না, ওই কৌচের পাশেই রাখা চাই। ললিতা প্রাণপণে ন্যাতা টানছে। মন পড়ে আছে বাড়িতে। সন্দেহবাতিক মারকুটে স্বামী আর স্কুলগামী ছেলের ওপর, তার ওপর বিশাল নিতম্ব। একটু ধাক্কা লাগতেই কলসি কাত।

    খবরের কাগজ তো তুমি চোখের আড়ালেই রাখতে বলো, লফ্‌টে তুলে দিই প্লাস্টিকের প্যাকেটে করে। আজকের কাগজ তোমার টেবিলে, পরশুর কাগজ লফ্‌টে চলে গেছে। মই এনে পেড়ে দেব? এক্ষুনি?

    মভ শার্টের বোতাম পাচ্ছি না। জে. এন. রোড, এম. জি. রোড হাঁটকে ফেলেছি। সব বোতাম খুলে সাদা লাগিয়ে দেব?

    এই এতগুলো তৈরি জবাব। সঠিক কৈফিয়ত ভয়ংকর যমমূর্তির সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে।

    —অত পড়াচ্ছ কেন ওইটুকু বাচ্চাকে! ভুরু কুঁচকে আধা-গর্জন।

    আরে। আমি পড়াচ্ছি নাকি! স্কুল পড়াচ্ছে। টিচার টাস্‌ক দিচ্ছে। সমাজ, দেশ পড়াচ্ছে— আমি তো নিমিত্তমাত্র।

    —এত পড়িয়েও র‍্যাংক এল না?

    —অত পড়াইনি তো নিশীথ, একটু ড্রিলিং করতাম, কিন্তু বাবা যেই বলল অত পড়াচ্ছ কেন, শিশুটি তার প্রার্থিত মেসেজ পেয়ে গেল। আর তাকে বাগাতে পারলাম না। তাই র‍্যাংক নেই। নাই বা রইল। ওইটুকু বাচ্চা, একবার বি-প্লাস পেলে কী এসে যায়?

    এসবই অনুক্ত থেকে যায়। খালি শাঁখের করাত চলতে থাকে ঘষঘষ ঘষঘষ। এদিকেও কাটছে সূক্ষ্ম সাদা ধুলো উড়ছে কাটা অলিন্দ নিলয় থেকে, ওদিকেও কাটছে। আত্মবিশ্বাস, মর্যাদা, মায়া মমতা, ভালবাসা মানের ওপর দিয়ে নির্মম করাত চলে যায়।

    সেই ভার নেই। দারুণ ধাক্কায় সবের এক লহমায় ভার নামিয়ে দেওয়া যায়। যেমন গুড়ের কলসি মাথা থেকে নামিয়ে নেয় গুড়ের ফেরিওয়ালা? এটা সে জানত না। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, বাইরে বড় কৃতী চাকুরের বউ, একটা সুন্দর শিশুর মা, আয়নায় দেখা চমৎকার প্রতিবিম্ব। প্রতিদিনকার অতি যত্নের গার্হস্থ্য সব একেবারে শূন্য। আই’ল থ্রো ইউ আউট অব দিস হাউস! কেন? না সে একটা দিন পরিবার শুধু পরিবার নিয়ে দিন কাটাতে চেয়েছিল। আর কিছু না। হোটেলে রেস্তোরাঁয় বিরিয়ানি, লং ড্রাইভ নয়, নয়। দামি শাড়ি-গয়না যা তার স্বামীর কলিগরা স্ত্রীদের অকাতরে দিয়ে থাকে, তা তো নয়ই। তা হলে? কী রইল আর? হাতে আর ‘আপনি’টুকু ছাড়া। কিচ্ছু রইল না। কপনিটুকু খুঁজে নিতে হবে।

    তুই নিশীথকে ছেড়ে চলে এসেছিস? —আপাদমস্তক সুখী মঞ্জুমাসি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

    —চলে এসেছি নয়। আসতে হয়েছে মাসি— এ নিয়ে আমি আর কোনও কথা বলতে চাই না। —সে কী করে বলবে তাকে বাড়ি থেকে দূর করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

    —ভুল করেছিস ঈশা, —তুই চিরকালের জেদি, গোঁ ধরলে ছাড়িস না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তুই যে খুবই নরম প্রকৃতির। যাকে বলে মেয়েলি-মেয়ে। রঞ্জার মতো নয় এ বিষয়ে তো কোনও সন্দেহ নেই! কী করে এমন সিচুয়েশন হল? খুব ন্যাগিং করতিস, নাকি? ন্যাগিং ছেলেরা একদম পছন্দ করে না, তোর মেসোকে আমি কখনও ন্যাগ করি না।

    —মেয়েরা পছন্দ করে? —ঈশা আস্তে গলায় জিজ্ঞেস করল।

    —কী?

    —ওই যে তুমি বললে— ন্যাগিং?

    —ওহ হো তুই ফেমিনিজ্‌ম্‌-এর চক্করে পড়ে গেছিস।

    —কেন মাসি! একটা জিনিস যদি অপছন্দের হয় তার মধ্যে জাত-বিচার থাকবে কেন? যা ছেলেদের পছন্দ হয় না, তা মেয়েদেরও পছন্দ না হওয়ারই কথা।

    মাসি কিছুক্ষণ মূক হয়ে যায়। তারপরে বলে— তুই ভুল বলিসনি ঈশা। কিন্তু যা ঠিক, যা জাস্ট তা কি সব সময়ে হয়? এই তো দেখ না সাম্য-সাম্য, সম্পদের সমবণ্টন নিয়ে সারা পৃথিবী তোলপাড় হয়ে গেল। কথাটা কি খারাপ? বেঠিক? নয় তো! কিন্তু কোথাও আজও প্রতিষ্ঠিত হতে পারল না। রাজধানী এক্সপ্রেসে দিল্লি এলে বস্তি দেখতে পেতিস। বসতি নয়, বস্তিও নয়। বলা উচিত নরককুণ্ড, ছেঁড়া ন্যাকড়া কানি, প্লাস্টিকের ঠোঙা, শুয়োরের নাদ, ছাগল, পতপত করে উড়ছে প্লাস্টিকের ঝুপড়ির ছাত। সেখানেই পোকার মতো মানুষ ঘুরে বেড়ায়। রাজধানী! রাজধানীর অ্যাপ্রোচ! ভাব ঈশা। আর এখানে এই হাউজিং-এ। প্রত্যেকের একাধিক গাড়ি আছে, আড়াই তিন হাজার টাকা মাইনে দিয়ে আমরা কাজের লোক রাখি, হেন গ্যাজেট নেই যা আমাদের আছে। পাশাপাশি বাস করি। কেউ যদি বলে মানুষের জীবনযাত্রার এই আকাশ পাতাল ফারাক কেন? তুই কী উত্তর দিবি? সিনেমা-স্টার মদ খেয়ে গাড়ি চালিয়ে লোক মারল, এর জন্য যা লোকদেখানো শাস্তি হচ্ছে, অন্য একজন রামা-শ্যামার জন্যেও কি তা-ই হবে?

    ঈশা তর্ক করার মেজাজে নেই। মাসি নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্সের এম.এস। কী বলবে? এই জাতি বিচার, একজনের পক্ষে যা অপ্রীতিকর অন্যজনকে সেটাই মেনে নিতে হবে? সে মেয়ে বলে? সমস্ত মেনে প্রাণপণে একটা গৃহ ও গৃহসুখ রচনা করবার পর— আই’ল থ্রো য়ু আউট অব দিস হাউজ? ওই হাউজ, চার বছর ধরে সে-ই দেখেছে, সে-ই রেখেছে। অন্যজনের ওই হাউজের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু শোয়ার। লজিং-এর মতো! তবু সে তাকে ওই গৃহ থেকে উৎখাত করার কথা মুখে আনতে পারে? তবু ও বাড়ি তার হয় না? তার স্বামীর স্টেটাস ফিল্‌ম স্টারের, তার— ফুটপাথবাসীর।

    —তার ওপর তো তুই পড়াশুনোটাও শেষ করলি না, বা আর কিছু! মাসি কিন্তু কিন্তু করে বলেই ফেলল।

    —মাসি আমি বরং চলেই যাই। আমার বোধহয় এখানে আসা ঠিক হয়নি। আর কোথাও…

    আঁতকে উঠলেন মঞ্জুলিকা। —বলছিস কী? ঈশা, আর য়ু ইন ইওর সেন্সেজ? কোনও কথা নয়। এক্ষুনি গিয়ে মেয়ের পাশে শুয়ে পড়ো। আমি যা করার করছি।

    —কী করবে? নিশীথের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আমি এক্ষুনি বেরিয়ে যাব। আর মা? মা-বাবার সঙ্গে আমিই যোগাযোগ করব। মায়ের হাজারো কাজ। প্রত্যেকটা ভীষণ জরুরি। তাই হঠাৎ এমনি করে…

    ঈশা ঘোরে ছিল। মাসি রোজ এক ডোজ করে ঘুমপাড়ানি দিচ্ছে। ঘুমের মাসি বহু চেষ্টা করেছে। তবু একটা ঘোরের বেশি কিছু হয়নি। সেই ঘোরের মধ্যে ঈশার মধ্যেকার ঈশা প্রলাপের মতো অসংলগ্ন প্রশ্ন করতে থাকে। এই জগতের, জীবনের কী মানে? সত্যিই কোনও অর্থ আছে না পাগলের গল্প এটা। অনেক শব্দ, অনেক ক্রোধ, চিৎকার আর কাঙক্ষা কিন্তু কোনওটারই কোনও মানে নেই! গল্পটা শুরু হচ্ছে এক ভাবে, বাঁক নিল অন্য ভাবে, তারপর আবার বাঁক নিল, পাত্র-পাত্রী বদলে গেল। পটভূমি পালটে গেল। কোনও সামঞ্জস্য নেই একটার সঙ্গে আরেকটার। একেবারে বদ্ধ উন্মাদ এই জীবন। গত পরশুর, আগের দিন স্কিৎজোফ্রিনিক জীবন দেখে এসেছে। মাঝখানে ছিল মূক বধির জীবন, তারও আগের ন’বছরের জীবন তৃষ্ণা, চক্ষে তৃষ্ণা, বক্ষ জুড়ে তৃষ্ণা, হৃদয় তৃষায় থরথর করে কেঁপেছে। দাও দাও বাৎসল্য দাও— আমি আমার বাবা-মার আশ্রয় ফেলে তোমাদের কোলে এসেছি, ভিন্ন মাটির মেয়ে। একটু অনুকূল বাতাস চাই, সার চাই জৈব এবং অজৈব। একটু স্নেহ দাও, একটু আদর, এমন করে সমালোচনার খর চোখে তাকিয়ো না, শুকিয়ে যাই। দাও দাও একটু মুগ্ধতা, আবেশ, ভরসা, ভালবাসা দাও, দাও— সত্যি কথা আমি ভীষণ রাগ করেছি, অভিমান করেছি, সে তুমি পিপাসার জল এক আঁজলাও দিতে পারোনি বলে। দিতে পারোনি না দাওনি আর বিচার করতে চাইনি। কর্নেলের এম.এস এম.বি.এ. মালবিকা কাজিকে যা দেওয়া যায়, নামমাত্র গ্রাজুয়েট, নাচ-গান-সাহিত্য মুগ্ধ সহজ সরল ঈশা দত্তকে হয়তো তা দেওয়া যায় না। না বুঝে, নিজেকে, আমাকে না বুঝে ডাকলে কেন? পেয়েছিলাম তো? অনিমেষ, নীলাব্জ, কৌশিক, কেউ তো খারাপ ছিল না! আমার জন্য পাগল ছিল! ক্লাস ফেলোকে আবার বিয়ে করা যায় নাকি! কিংবা রাস্তায় আলাপ হওয়া কাউকে? ঈশা এমনই ভেবেছিল। সব সুন্দরকে, মুগ্ধকে, আগ্রহী উৎসুককে ফিরিয়ে দিলাম শুধু দিবারাত্র দুর্ব্যবহার আর নিন্দায় দগ্ধ হব বলে? বাসনায় বাসনায় অধীর আর কিছু করতেও পারলাম না। নিজের সংশয় দুঃখে উদ্ভ্রান্ত অপমানিত মনটাকে বাগাতে পারিনি। মাসি তুমি পূর্ণ, তুমি কী করে বুঝবে গোলাম আলির গজল শুনে আমার প্রাণটা কেমন করত! মানবেন্দ্র, সতীনাথ, শ্যামল মিত্র, মান্না দে শুনে থরথর করে কাঁপতাম, কোথাও না কোথাও দু চোখের গভীর অজরামর চাওয়া বুঝি আমার জন্য অপেক্ষা করছে, শুধু আমার ঠোঁট একটু ছুঁইয়ে দেওয়ার অপেক্ষা। তা হলেই কারও গান অমর হয়ে যাবে। যতই ভালবাসুক, আরও ভালবাসা দেওয়ার জন্য কী কাতরতা সেই দিওয়ানার! সমস্ত ভাবনাটাই যে অলীক মায়া, ছেলেমানুষি কিংবা মানুষের অপ্রাপ্য কোনও অজাত সংবেদন, তা তো ভাবিনি! আমার জীবনভাবনার সঙ্গে সুতোয় সুতোয় জড়ানো সাহিত্য। গান আমাকে সেই অপ্রাপ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। এত দিন পরে এই জানা আমায় পাথর করে দিয়েছে। আমি আর ঈশা নই, দত্ত বা ঘোষাল। আমি কী, তা আমাকে এবার ভাবতে হবে।

    এইরকমই ঘোর, ঘোরের মধ্যে অজস্র আত্মজিজ্ঞাসার কুচি, চাওয়া ও পাওয়ার আশা ও বাস্তবের তুলনামূলক কাটাকুটি খেলায় চলে যায় দিনের পর দিন।

    টুংটাং করে ফোনটা বাজল। মাসি ধরেছে। একটিমাত্র অব্যয়— অ্যাঁ?

    সে চমকে উঠে বসল। এরই মধ্যে সব জানাজানি হয়ে গেল! অন্তত বারো দিনের জন্য আমেরিকা গেছে তো! বাড়তেও পারে। তাকে অবশ্য বলেওনি, সে-ও জিজ্ঞাসা করেনি। এইটুকু সময় তো এ তথ্য অনাবিষ্কৃত থাকার-ই কথা! তত দিনে সে একটা কিছু ঠিক করবে। তার যা ভাগ্য! কোনও পরিকল্পনা। মেজাজ-মর্জিই খাটে না। অভাগিনি টু দা পাওয়ার ইনফিনিটি…।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখারাপ ছেলে – বাণী বসু
    Next Article অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }