Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পাতাল প্রবেশ

    বিনোদ বলল— আমি সামনে কিছু দেখতে পাচ্ছি না দিদি। ডেঞ্জারাস। যদি জলে নেমে যাই! নেমে পড়ি বরং হ্যাঁ?

    রঞ্জাবতী দেখলেন গাড়ির বাইরেটা কেমন ঘোলাটে। তারপরেই বুঝলেন কাচের বাইরে জল শুধু জল। আকাশবারি তো আছেই, সেইসঙ্গে মাটিরও জল। ইঞ্জিন দিয়ে জল ঢুকছে।

    —বিনোদ, আমরা বোধহয় কলে আটকা পড়া ইঁদুরের মতো মরব। তুমি সাঁতার জানো?

    —হ্যাঁ দিদি, আপনি?

    —আমি একসময়ে চ্যাম্পিয়নজাতীয় কিছু একটা ছিলাম। চলো জলে নেমে যাই।

    —আমার গাড়িটা দিদি! ব্যাংক লোন করে কিনেছি। এখনও হাফ শোধ হয়নি।

    —তো কী! গাড়িটা নিয়ে মরতে চাও? জীবনটাই হাইপথিকেটেড হয়ে গেছে এখন।

    অনেক ধস্তাধস্তি করে দরজা খুলতে হল। যতবার খুলতে যাচ্ছে, কোথা থেকে রাশি রাশি জল ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্ধ করে দিচ্ছে। কোনওরকমে যখন খোলা হল তখন বিনোদ কোথায় রঞ্জা আর জানেন না। চারদিকে জীবনমরণ এক হয়ে গেছে। নোংরা আঁশটে জীবনের স্বাদ। প্রাণপণে শুধু তার ওপরে উঠতে চাওয়া। হাত চলে না, পা চলে না। চ্যাম্পিয়নেরও অঙ্গে মরচে পড়ে যায়।

    ‘স্যার! স্যার’ ভূতের মতো দাঁড়িয়ে বিনোদ। রায়চৌধুরীর নির্মলচন্দ্র স্ট্রিটের বাড়ির দোরগোড়ায়। —বৃষ্টিতে কাল গাড়ি ব্রেক-ডাউন… দিদি ভেড়ির জলে…

    —কী বলছ ঠিক করে বলো— রায়চৌধুরী ধমকে উঠলেন।

    —দিদিকে পাচ্ছি না, জলে হারিয়ে গেছেন।

    —মানে?

    —জানেন তো, বৃষ্টি ভীষণ, রাস্তা ভেড়ি একাকার। গাড়িটা একদম ভোগে গেল।

    —গাড়ির কথা রাখো, ম্যাডামের কথা বলো।

    ম্যাডামের কোনও কথা নেই। কী বলবে বিনোদ। সে ভয়ে দুঃখে ঠকঠক করে কাঁপতেই পারে শুধু। যা দিনকাল। পুলিশে ধরলেই হল। বললেই হল দিদিকে সে-ই-ই! উঃ!

    দরজায় বেল। কে এল? খবরের কাগজ? এত সকালে! —দরজা খুলে দিয়ে সুবীর দেখেন ঝোড়ো কাকের মতো রায়চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন।

    আকাশ মেঘলা। প্রবল বারিপাত থেমেছে। আবার নামতে পারে। তবে আপাতত জল তার অনধিকার প্রবেশ স্বীকার করে নিয়ে লজ্জিত মুখে রাস্তা থেকে সরে যাচ্ছে।

    ওখানকার থানায় খবর গেছে। দমকলেও। ডক্টর রায়চৌধুরী উদ্ভ্রান্ত। কেউ চায়নি, তবু কৈফিয়ত দিয়েই যাচ্ছেন। দিয়েই যাচ্ছেন।

    —কী জানেন, প্রোঃ দত্ত। উনি নিজে… এমন একটা ইনভলভমেন্ট… রিসার্চ স্কলারদের একজনের পা ভেঙেছে। অন্য দুজনকে উনিই কাজ দিয়ে পাঠিয়েছেন। একজন আর্কিওলজিক্যাল সেন্টারে। আরেকজন ন্যাশনালে কাজ করছে। আমি তো রেগুলার যাই, এবারের…

    আজ মেঘ মেঘ দিন। হাওয়া ভারী। মুখ গোমড়া আকাশ। কিন্তু সেদিন রোদ-ঝলমল করছিল, শীতের দুপুর। মিক্সড ডাবল্‌স্‌। সুবীর আর রঞ্জাবতীর জুটি জিতল। মেয়েটি ডিগডিগে, বেতের মতো রোগা। ও নমনীয়। কোর্ট কভার করছিল দারুণ, ফিট খুব। শ্যামলা রং, তার ভেতর থেকে রক্তাভা বেরোচ্ছে। স্বাস্থ্যের লালিমা, উজ্জ্বল চোখ, দীর্ঘ কেশ ঝুঁটি বাঁধা, সালোয়ার কামিজ পরে খেলছে। ওহ্, সে কতকাল আগে।

    জিতলি বটে! —বন্ধুরা ইয়ারকি দিল।

    তিনি বুঝতে পারেননি, বলেন— জিতব তো বটেই, তোদের সন্দেহ ছিল? টুর্নামেন্টের কাপটা নিয়ে তবে শান্তি!

    —আরে আসল টুর্নামেন্টটাই তো জিতে গেছিস।

    —মানে!

    —রঞ্জাবতী…!

    —দুর, তোরাও যেমন…

    —হোল গ্যালারি প্যাঁক দিচ্ছিল শুনতে পাসনি?

    সেই দিনও হারিয়ে গেছে। সেই সুবীরও নেই। সেই রঞ্জাবতী….?

    খেলাধুলো ছাড়ল, সিরিয়াস পড়াশুনোর দিকে বাঁক নিল ওর জীবন। তিনিও কক্ষপথ থেকে ছিটকে পড়লেন। কোচ ছিলেন সম্পৎ সিন্‌হা, বলেছিলেন— ডাট, তুমি ক্রিকেটটা ছেড়ে দিচ্ছ! হোয়াই! আর য়ু ম্যাড অর হোয়াট!

    —ইন্ডিয়ার ব্লেজার পরতে পারব গ্যারান্টি দিতে পারেন!

    —নো। তা পারি না। কিন্তু তাতে কী! খেলাটা পারো, তার আনন্দ নেই?

    কে শোনে কার কথা, স্পোর্টস কোটায় রেলওয়েতে ঢুকে গেলেন। খেলতেন। কিন্তু মন ছিল না। পড়াশোনাটা বাধা পাচ্ছে। শেষ করতে হবে। বিয়ে, তারপরেই দুম করে চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে, মোটাসোটা বইগুলো খুলে বসলেন। রঞ্জা বরাবরই তাঁর পেছনে লেগে ছিল। মাস্টার্সটা শেষ করো, শেষ করো। কিন্তু এই ভাবে ভাল চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে…! জীবনটা নিয়ে ছিনিমিনি খেলো না সুবীর! ছিনিমিনি! প্রবল কথা-কাটাকাটি! ঝগড়া! তিক্ততা। পড়া শেষ হল। কলেজ লেকচারারের চাকরিতে ঢুকলেন। চারপাশে বইয়ের পর বই। ছাত্রের পর ছাত্র। খালি রঞ্জার বিষয়টা নিয়ে তিনি কখনও উৎসাহ দেখাননি! — কী যে রস পাও অতীতে! খুঁড়লে কে জানে কী বেরোবে!

    —কী আর বেরোবে, রঞ্জা কেমন অর্থপূর্ণ হাসি হেসে বলত— যাই হোক ডাইনোসর হলেও তো তা কঙ্কাল মাত্র। কিংবা ফসিল! ভয়ের কিছু না। সেই সব হাড়গোড় রিকনস্ট্রাক্ট করে পুরো জানোয়ারটাকে গড়ে তোলা কম ইন্টারেস্টিং?

    এখন পথের দুধারে অনতিঅতীতের টুকরোটাকরা খুঁজতে খুঁজতে যাচ্ছেন সুবীর। পদচিহ্ন, কোনও চিহ্ন! বাইরের মানুষটা বদলায়, ভেতরটাও, কিন্তু মানুষের আসলটা বদলায় না রঞ্জাটা। সব নিস্পৃহতা, উদাসীনতা, প্রতিযোগিতা বাহ্য। শোনো রঞ্জা। তুমি বরাবর আমাকে ভুল বুঝেছ, আমি নিজেকে সরিয়ে নিইনি। ভেতরে গনগনে আঁচ নেই, কিন্তু উত্তাপ আছে। উষ্ণতা। তুমিও কি গুটিয়ে যাওনি? কিন্তু আমি জানি তোমার আসলটা ঠিক জায়গায় আছে। সত্য এত গভীরে থাকে যে তাকে পুরাবস্তুর মতোই উৎখনন করতে হয়। পললের পর পললের স্তর সরিয়ে। গ্রানাইট ব্যাসল্টের খাঁজের পর খাঁজ ভেঙে আশ্চর্য ফসিল, ভালবাসার। সবুজ মুছে গেছে, কিন্তু স্পষ্ট সোনালি ধূসর ফসিল।

    —আরে কী হল প্রোফেসর দত্ত, আপনি ওরকম ভেঙে পড়ছেন কেন? নিজেই তো বলছেন উনি চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু ছিলেন।

    —সে যখন ছিলেন তখন ছিলেন— প্রায় দাঁতে দাঁত চেপে বললেন সুবীর। মনে মনে বললেন— তোমাকে আমি মাফ করব না রায়চৌধুরী। আমার অতীতখ্যাপা বউটাকে অজ্ঞাতকুলশীলে পাঠিয়ে নিজে সেক্রেটারিয়েট টেবলের সামনে শীতল ঘরে আরাম করছ। সুবিধেবাদী। এদিকে পেপার যত বেরোবে দুজনের নামে। ভাল রে ভাল। আর মেয়েটা এমন নিপাট বোকা যে চিরটা কাল এক ভাবে ঘোল খেয়ে এল। —শোনো সুবীর। তুমি ভুল বুঝছ। আমার ফিল্ড ওয়র্ক, আর ওর ডেস্ক ওয়র্ক— কাজটা দুজনের হল না।

    আরে! ও পুরুষমানুষ ও ফিল্ডে যাক। ব্যস অমনি ফেমিনিস্ট বউয়ের মুখে উপেক্ষার হাসি ফুটে উঠবে— ভুলে যাচ্ছ সুবীর, আমি অ্যাথলিট ছিলাম তার কিছু তো এখনও অবশিষ্ট আছে। আর ডক্টর রায়চৌধুরী তো স্রেফ ভুঁড়িদাস।

    —দেউলিয়া, বেড়াচাঁপা দুটো নামই আজ্ঞে চালু, একরাম আলি সঙ্গে চলেছেন। শুকনো কাদা ফাটা পথ মাড়িয়ে রায়চৌধুরীর ইন্ডিকা উড়ে যেতেই চাইছিল। বারাসতের পর টাকি রোড ধরেছেন। রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ।

    —দেউলিয়াকে দেবালয় বানানো হয়েছে। দেউলিয়া কেমন দেউলে দেউলে লাগে না। তাই দেবালয় বোঝলেন না?

    দেউলেই তো! সুবীর ভাবেন— ছেলে গেছে অকালে, এখন বউও… দেউলে ছাড়া কী! হঠাৎ চিত্ত আকুলিবিকুলি করে ওঠে! ঈশা! ঈশা কেমন আছে? তারও তো জীবনে তোলপাড় চলছে তিনি জানেন। কিন্তু এসব কথা ঈশা মায়ের সঙ্গে বলে। বাবার সঙ্গে না। তিনি এসব নিয়ে ভাবেন না, যা ভাববার রঞ্জা ভাববে, যা করার রঞ্জা করবে। তাঁকে যদি নির্দিষ্ট কিছু করতে বলা হয় করে দেবেন। কিন্তু তাঁর নিজস্ব ভাবনা-চিন্তার জগৎ থেকে তিনি বড় একটা বার হতে চান না। নিয়তি আজ গালে কষে একটা চড় মেরে বাইরে বার করে দিয়েছে। কথাটা দুম করে মনে হল। নিশীথ নামে ছেলেটি খুব ট্যান্ডাই-ম্যান্ডাই করছিল, রঞ্জা বলেছিল— ঠিক আছে, ওদের পাঠিয়ে দাও। তিনি রেগে গিয়েছিলেন খুব। হঠাৎ তাঁর মনে হল যে কোনও ঘটনাকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী সম্পূর্ণ আলাদা দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে থাকেন। লজ্জার সঙ্গে স্বীকার করতে হয় তিনি প্রথমেই ভেবেছিলেন একটা বাচ্চা নিয়ে মেয়ে এসে পড়বে। ওই বাচ্চা বড় করার যাবতীয় দায়িত্ব, একটি যুবতী মেয়েকে রক্ষা করার দায়িত্ব এই বয়সে তাঁকে নিতে হবে! মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে কিছু ভাবার আগে তিনি নিজের অবস্থানের কথাই ভেবেছিলেন। কিন্তু রঞ্জার মনে কোনও দ্বিধা ছিল না। সে মেয়ের মানসম্মানের কথা, তার পরিস্থিতির কথাই শুধু ভেবেছে। আর কিছু না। আগেও না। পরেও না।

    —বেড়াচাঁপা গ্রামের নামের পেছনেও হিস্ট্রি আছে— একরাম অক্লান্ত বলে চলেন।

    —চন্দ্রকেতুগড়ের গেটওয়ে হল এই বেড়াচাঁপা। কথিত আছে রানির কাছে পৌঁছেছে পির আব্বাস বা গোরাচাঁদের অলৌকিক ক্ষমতার কথা। তিনি কিছু চমৎকার দেখতে চাইলেন। পিরের সঙ্গে তখন তেনাদের দহরম মহরমের মরশুম তো? লড়াই শুরু হয়নি। তা রাস্তার পাশে একজনার বাগান। তাতে বাঁশের বেড়া যেমন হয়। বেড়া ছুঁয়ে মনে মনে কী বিড়বিড় করতে লাগলেন পিরসাহেব। ব্যস, বেড়ার গায়ে একটার পর একটা চাঁপাফুল ফুটতে লাগল।

    গোরাচাঁদের মন্ত্রবলে চাঁপাফুল ফুটল বেড়ার গায়।

    মনোহর সরকার বলে, দেখবে তো এসো বেড়াচাঁপায়।

    রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে সুবীরের। একটা প্রকাণ্ড দুর্ঘটনা ঘটেছে, আর এই মিঞা এমন হিস্ট্রি বলছে যেন তাঁরা মিউজিয়াম কি রুইনস দেখতে এসেছেন। বেড়াচাঁপা মাই ফুট!

    সামনে বসেছেন একরাম। হঠাৎ পেছন ফিরে বললেন— ভাববেন না সাহেব। আমি চারদিকে খোঁজ পাঠিয়েছি। এসব হল হুলিগান এরিয়া। চুপিচাপি কাজ করতে হয়। হ্যাভ পেশেন্স। তা ছাড়া মাকে আমি দেখেছি। শক্তিময়ী। নমস্তস্যৈ নমোনমো।

    আবার একটু পর শুরু হল।

    —বোঝলেন সাহেব— পুরনো পাঁক তুলতে গিয়ে, কুয়ো খুঁড়তে গিয়ে, বাড়ির ভিত কাটতে গিয়ে কত যে সিলমোহর, পুতুল, পটারি বেরিয়েছে! খনার ঢিপির চারদিকে এদিক-ওদিক এখনও মেলে। লোক্যাল ছেলেছোকরারা ভাল দামে বেচে দেয় দালালদের। বোঝলেন না পেটের খিদেটি যেমন করে হোক মেটা চাই, ঠিক কি না! দোষ দিয়ে লাভ নাই।

    তা ছাড়া নানা কারণে এদিকে এক্সক্যাভেট বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও বাড়ির মালিক বলছেন— ‘কিছু পাওয়া গেলে আমার ভদ্রাসনটি চৌপাট হয়ে যাবে, দয়া করে বন্ধ করুন এসব।’ কোথাও বা জল উঠছে, জল, খালি জল। জলের শেষ নাই। আবার কোথাও শাবল, গাঁইতি ছিটকে আসছে। মানেটা বোঝলেন? কিছু আছে। লোহা হোক, পাথর হোক। কিছু না কিছু কনস্ট্রাকশন। সাহেব, আপনি অস্থির হবেন না, বোঝলেন না এসব হুলিগান জায়গা… খুব সাবধানে খোঁজখাঁজ করতে হয়।

    শায়রীকে নিয়ে ঈশা মাসির সঙ্গে আসতে থাকে। ধরবার মতো কোথাও কিছু নেই। নেই, পাবে না বুঝে শেষ পর্যন্ত এককথায় সমস্ত ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে চলেছে। আর তখনই… যখন মাকে তার সবচেয়ে দরকার…. তার বুকের ভেতরটা থম ধরে আছে। আশ্চর্য। এই ফ্লাইটেও মিস রঙ্গরাজন। কিন্তু সে তাকে চিনি-চিনি করেও চিনতে পারে না। কোথাও দেখেছি, কোথাও… যেন জলের তলায় দেখা মানুষের মুখ। রঙ্গরাজন একমুখ হাসল, কিন্তু তার শুকনো মুখে আলো ফুটিফুটি করেও ফুটল না।

    —আমি অরুন্ধতী রঙ্গরাজন— গত সপ্তাহে হায়দরাবাদ-দিল্লি ফ্লাইটে দেখা হল?

    আনমনে ঘাড় নাড়ে ঈশা। ফিকে হাসি।

    পাশে মঞ্জুলিকাকে দেখে মেয়েটি বলল— আর ইউ রিলেটেড টু হার ম্যাডাম?

    —ইয়া, শি ইজ মাই নিস!

    —ইজ এনিথিং রং, আই মিন, রং উইথ হার।

    —হার মাদার ইজ মিসিং…..

    কেঁপে উঠল ঈশা। মাদার ইজ মিসিং। সেই ছোটবেলাকার অনুভূতি। মা বেরিয়ে গেছে। জানা কথা বিকেলে ফিরবে, কিন্তু মনে হচ্ছে আর ফিরবেনা। মা নেই, মা নেই। ঠাম্মা দুপুর-ঘুমে। সে আর ভাই দুপুরবেলা স্কুল থেকে এসে ক্যারম নিয়ে টানাটানি করছে। হঠাৎ ভাই টকটকে লাল চোখে ডিগবাজি খেতে খেতে শূন্যে উঠে গেল, শূন্য ভাঙা মন্দির। বিগ্রহ নেই, পূজারি নেই। উপকরণ নেই। ঝড় আসছে, জোরালো হাওয়ায় জানলা-দরজা খুলে যাচ্ছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ঢুকে আসছে ঘরে। …ব্লু ছাপা শাড়ি পরে গেছে আজ মা। সে রোজ মায়ের সাজটা দেখে। গেল ফোটা ফুলের মতো, আসবে শুকনো ফুলের মতো। হা-ক্লান্ত। পাপড়িগুলো খসে খসে পড়ছে। মা যদি না থাকে আর? জীবনের এই দুর্গততম মুহূর্তে মা পাশে না থাকলে সে কী করে দাঁড়াবে? মা, মা, অন্তত যত দিন না আমি নিজের পায়ে দাঁড়াই। যত দিন না এই বাস্তবের যোগ্য হতে পারি… তত দিন।

    এয়ার পকেটে একটা গোঁত্তা খেল প্লেন। ঈশার মনে হল তার আত্মাটাকে ধরে ঝাঁকিয়ে দিল আকাশ। এ সে কী বলছে! আমি যত দিন না দাঁড়াই… মাকে সে তার ফেরিঘাটের নৌকো হিসেবে চাইছে শুধু? পার করে দাও, তারপর যাবার হলে যাও, আমি আর আঁকড়াব না!

    ফেরির মাঝি ভেড়াও ভেড়াও

    শেষ করে নিই দেওয়া-নেওয়া

    কড়ির কাঙাল, পাড়ের কাঙাল।

    স্রেফ অনুপল দাঁড়িয়ে থাকা।

    মুখ দেখি না মুখ দেখি না

    রেজগি গুনি মিলছে কিনা হিসেব-নিকেশ।

    তারপরে শেষ। তারপরে শেষ। তারপরে শেষ।

    তার মানে প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের সম্পর্ক এরকম প্রয়োজনের সুতো দিয়ে বাঁধা। মৌলিক কোনও বিভব সেখানে খোঁজা বৃথা! তাকে দিয়ে খুব হালকা কতকগুলো প্রয়োজন মিটল না বলে নিশীথ সম্পর্কচ্ছেদ করছে, মা ছাড়া সংসার অচল তাই বাবা নানা মতের গভীর অমিল সত্ত্বেও মাকে নিয়ে বাস করছে? তার মনে পড়ল একটা মূর্তি। সাদা, সরু পাড় কাপড় পরা, চুলগুলো প্রায় সবই সাদা, গোছানো। চুপচাপ বসে আছেন জোড়াসনে। চোখ উধাও। দিদা—বেদবতী। বুড়োমা অর্থাৎ সর্বমঙ্গলা দেবীর মৃত্যুর পর একগোছা ফটো পাঠিয়েছিল মা, তার মধ্যে দিদার এই ছবিটা ছিল। যে-ই তুলে থাক, অদ্ভুত তুলেছে। বেদবতী স্তব্ধ। ৯৫/৯৬ বছরের বৃদ্ধা অ্যালঝাইমার ও অন্যান্য উপসর্গে আর মানুষ ছিলেন না শেষ ক’ বছর। অশেষ কষ্ট পেয়ে ও দিয়ে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এ মৃত্যুতে শোক করার কিছু নেই। বেদবতীর দৃষ্টিতে শোক নেই। কিন্তু কী গভীর এক স্মৃতি-ঘোর। তিনি যেন শ্রাদ্ধবাসরের এক প্রান্তে বসে তাঁর মায়ের সারাজীবনটার চলচ্চিত্র দেখছেন। অবলোকন করছেন। কী মহিমা এই বিশোক শোকের। কী যে বলতে চায় এই আলোকচিত্র, পুরোপুরি বোঝা যায় না। মহাকালকে উদ্দেশ করে বলছে কি— তুমি এই সব দিয়েছিলে, নিয়ে নিয়েছ। নিংড়ে নিংড়ে জীবনরস নিয়ে নিয়েছ হে, কিছুই আর রাখলে না! তার সামনেও একটা ফিলমের রোল খুলে যেতে থাকে— যুবতী মা লাফাচ্ছে, ঝাঁপাচ্ছে, আদর করছে, কাজ করছে, দুম করে বেরিয়ে গেল, এক ব্যাগ নতুন জামা-কাপড় নিয়ে ঘর্মাক্ত, আলো-আলো মুখে ফিরছে। মা আর যুবতী নেই। কপালে চিন্তার ভাঁজ। ভাইয়ের মৃত্যুতে মুহ্যমান মা। কত দিন কথা বলেনি মা! চট করে তাকে অপাঙ্গে দেখে নিল, চোখে অপার আকুলতা। না মা, না। তুমি বড় জরুরি আমার জীবন-বিন্যাসে। একেবারে অত্যাবশ্যক। তবু তুমি তোমার জন্যেই বাঁচো। রঞ্জাবতী দত্ত, স্ত্রী, মা, শাশুড়ি, বউমা হিসেবে অশেষ কর্তব্য যিনি সমাপন করে থাকেন, অশেষ কষ্ট পেয়েছেন, পাচ্ছেন, সমালোচনায় জর্জরিত, তবু যিনি খনামিহিরের ঢিপির উৎখনন লব্ধ পুরাবস্তুর খোঁজে, সেই পুরাবস্তু অতীতের কোন মৌনকে মুখর করে জানতে, এই পঞ্চাশোত্তর বয়সে পুত্রশোককে বুকের পাথরে ফসিল করে রেখে কন্যার বিবাহ-বিভ্রাটের সদ্য ঘায়ে জ্বলতে জ্বলতে চলে গেছেন, এখন জীবন মরণ বন্যার কবলে। ঈশা চোখ বুজল। বড্ড জ্বালা করছে, জানলার দিকে মুখ ফেরাল, জল নামছে। এতক্ষণে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখারাপ ছেলে – বাণী বসু
    Next Article অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }