Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রঞ্জাবতী

    রঞ্জাবতী

    আর্ত আকুল স্বরে মাকে ডাকতে ডাকতে জেগে উঠলেন রঞ্জা। কুলকুল করে ঘামছেন। মা কেন অমন ঊর্ধ্ব থেকে পাষাণ চোখে চেয়ে ছিলেন? তবে কিনা… স্বপ্ন ফলে এটা একটা কুসংস্কার— সুস্বপ্নও, দুঃস্বপ্নও। তাদের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে। এক ভদ্রলোক তাঁর বাবার অপঘাত মৃত্যুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, মনোবিদ তাঁকে বিশ্লেষণ করে জানান আসলে তিনি বাবার মৃত্যু চান।

    এরকম ব্যাখ্যাও হয়। সত্যিকার শিক্ষিত লোক স্বপ্ন নিয়ে মাথা ঘামায় না। মুখে অন্তত তাই বলে। অথচ তারা কি সবাই রঞ্জার মতো নয়! জানে স্বপ্ন নিজের মনের গভীর থেকে উত্থিত হয়, কোনও ঘটনার আগাম ছায়া তাতে পড়ে না। তবু শিউরে ওঠে, কেঁদে ওঠে, কেননা ঘুমের মধ্যে মানুষ শিশুর মতো। তার যাবতীয় আহৃত জ্ঞান তখন তার থেকে তফাতে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার কখনও কখনও প্রতিভাশালী মানুষেরা স্বপ্নে সমাধান পান, গল্প পান, যেমন বিজ্ঞানী কেকিউল বেনজিন রিং-এর রাসায়নিক গঠনটা পেয়েছিলেন, রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন ‘বিসর্জন’-এর গল্প। মায়ের চোখ অমন পাষাণ ছিল কেন? যেন মা কোনও অন্য লোক থেকে নিস্পৃহ তাকিয়ে আছেন!

    তিনি খুব কেঁদেছেন। কিন্তু সুবীর সুখে নিদ্রা যাচ্ছেন। নাক ডাকছে তালে তালে। এই গভীর ঘুমের জন্য সুবীরকে ঈর্ষা করাই যায়। রঞ্জার ঘুম প্যাঁচার ডাকে ভেঙে যায়, ঘরে কাগজ-টাগজ কিছু উড়লে ভেঙে যায়। কিন্তু সুবীরও তো ঘুমের ঘোরে গোঁ-গোঁ করেন না এমন নয়। তখন তিনি উঠে বসে তাঁকে ঠ্যালা দ্যান, ঠিক করে শোও, পাশ ফেরো! পাশ ফেরো! এ কী! ঘেমে গেছ যে! —এই সব কথা-বার্তা কার্যকলাপ থেকে দুটো জিনিস বোঝা যায়— এক— তাঁর ঘুম পাতলা, দুই—তাঁর উদ্‌বেগ। পাশে শায়িত দেহটি তো পাথরের নয়, সপ্রাণ, ঘুমের মধ্যে তাঁর কোনও আক্রমণের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকলে তিনি চিন্তিত, দ্রুত সে অসুবিধের নিরসন করতে চান। গেলাসে জল, পাখার স্পিড বাড়ানো। ঘুমোও ঘুমোও—যেন তিনি স্ত্রী নন, মা। কোনও আদিম মাতা যাঁর কাছে অন্য সব প্রাণী, হয়তো বা অপ্রাণীও সন্তান, শুশ্রূষা চায়। পুরোটাই আপনা-আপনি ভেতরের নির্দেশে হয়ে যায়। কিন্তু এই যে তিনি সশব্দে কেঁদে উঠেছেন, চোখ দিয়ে বন্যা নামছে, এখনও স্বপ্নের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেননি, এ সব পাশের ঘুমন্ত মানুষটি টের পাননি। কিংবা হয়তো পেয়েছেন ঠিকই, সাড়া দেওয়াটা ভাল মনে করেননি। আবার নিজের ঘুমের বারোটা বাজবে, মাঝরাত্রিতে নয়তো কোনও বিরক্তিকর স্বপ্ন বৃত্তান্ত। তাই সুবীর তাঁর বহু দিনের বিবাহিত, ব্যবহৃত স্ত্রীকে আর্তনাদ করতে শুনেও জানান দেননি। ভাবতে খারাপ লাগলেও এটাই হয়তো সত্য। কেননা সুবীরের এই এড়ানো, আত্মপর স্বভাব তিনি বহু দিন আগেই টের পেয়েছিলেন। বিয়েরও আগে। তাঁর অন্তরাত্মা ঠিকই রেডিয়ো মেসেজ পাঠিয়েছিল, তিনি ধরতে পারেননি বা চাননি। কেননা তাঁর প্রেম অন্ধ, আকুল, বিবাগি ছিল। তার আবেগের সঙ্গে যোঝবার ক্ষমতা তাঁর যুক্তির ছিল না।

    একদিন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের বাগানে অশ্বারোহীর মূর্তিটার তলায় তাঁকে ফেলে রেখে সুবীর চলে গিয়েছিলেন। সমাধানহীন একটা পাত্ৰাধার কী তৈল না তৈলাধার কী পাত্র গোছের দার্শনিক আলোচনা হচ্ছিল, কিছুটা এগোবার পর রঞ্জার আর এই গোলকধাঁধায় ঢুকে অত সুন্দর সন্ধেটা নষ্ট করতে ইচ্ছে হয়নি, হঠাৎ সুবীর বললেন— একটু আসছি। বললেন নয়, বলল, তেইশ বছরের সুঠাম তরুণ তখন। তিনিও তো তিনি নয় তখন— সে। বছর উনিশের ছিপছিপে তরুণী। সন্ধে গাঢ় হচ্ছে, আশপাশে সন্দেহজনক চরিত্ররা ঘোরাঘুরি করতে শুরু করেছে। তখনকার উনিশ রেপ জানত না, যৌনকর্ম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখত না, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনাতেও লজ্জা পেত, খুব ছোটবেলার পরিচিতদের মধ্যেই কোনও বয়স্ক বা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কদর্য ব্যবহারের দূষিত স্মৃতির সঙ্গে যৌবনবেদনাকে মেলাতে পারত না, এবং খেলোয়াড় হলেও মস্তান-দর্শন যুবকদের ঘোরাফেরা করতে দেখলে ভয় পেত। সেই সময়কার রঞ্জা। চলতে আরম্ভ করেছে, পা আটকে যাচ্ছে শাড়িতে, চোখে কুয়াশা, পেছনে কুৎসিত মন্তব্য ক্রমেই কাছে ঘনিয়ে আসছে, রীতিমতো দল একটা। রঞ্জা বাগানের পূর্ব গেট দিয়ে কোনওমতে বেরিয়ে প্রাণপণে বাস স্টপের দিকে যাচ্ছিল। ভাবছিল কোনও পথচারীর সঙ্গে কথা বলবে কি না। কিন্তু কী কৈফিয়ত দেবে সে গাঢ় সন্ধ্যায় এই পথে তার একাকী অবস্থানের! বলবে সঙ্গী তাকে ফেলে চলে গেছে? কেমন সঙ্গী প্রশ্ন উঠবে তো! সে-ই বা কী জাতের মেয়ে! নিদারুণ লজ্জায়, অপমানে গলা আটকে ছিল।

    বাস স্টপে সুবীর দাঁড়িয়ে আছে।

    —তুমি… এরকম…

    —এই তো ওয়েট করছি তোমার জন্যে।

    —মানে! ওইখানে না বলে-কয়ে ফেলে এসে… চারদিকে বাজে ছেলে, যদি কিছু হত?

    —হয়নি তো—অধৈর্য সুবীর— যা হয়নি তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কী দরকার!

    —করলে কেন.. এটা?

    —রাগ হয়ে গিয়েছিল… অবভিয়াস।

    —রাগ হলে তুমি আমাকে মরুভূমির মধ্যে— প্রকাশ্য বাস স্ট্যান্ডে সে ঝরঝর করে কাঁদছিল। রাগে, দুঃখে, অপমানে।

    পরিস্থিতি এড়াতে তক্ষুনি একটা ট্যাক্সি ডাকল সুবীর। নানা ভাবে আদর করে তাকে ভোলাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে গলেনি।

    শূন্য চোখে তিনি এখন ঘরের সিলিং-এর দিকে তাকালেন। সেই ঘটনা কি একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না? ওই ক্রোধ! ওই সব বৃথা তর্ক! ওই ভাবে ফেলে যাওয়া। সারাটা জীবন ওই রাগে, ওই বাজে তর্কেই কেটে গেল। ফেলে যাওয়ারই বা বাকি কী আছে!

    রঞ্জা জানেন এখন তিনি কুড়ি বছরে আছেন। তিন দশকেরও বেশি অতিক্রান্ত হয়ে গেল, তবু। উত্তরযৌবনা, উত্তর ফাল্গুন। কুড়ি বছরের রোমাঞ্চ এখনও কাঁপায়, পরের দশকগুলোর দুঃসহ স্বপ্নভঙ্গ এখনও কাঁদায়।

    ভোর হওয়াটুকুর অপেক্ষা। মায়ের ঘুম থেকে ওঠার সময় আজকাল ছ’টা। ঠিক সাড়ে ছটাতে ছটফট করে ফোনটা করলেন রঞ্জা।

    —রঞ্জা বলছি বউদি।

    —এত সকালে? কিছু হয়েছে? —বউদি অবাক।

    —না মানে। মায়ের… তোমাদের খবর নিতে ইচ্ছে হল।

    —স্বপ্ন দেখেছ বুঝি? বউদির গলায় হাসি।

    —ওই আর কী! এমন দেখি! ভাল তো সব! —লজ্জা-লজ্জা গলায় বললেন রঞ্জা।

    —ভালই তো মনে হচ্ছে। তোমরা ভাল?

    —চলে যাচ্ছে।

    —ঠিক আছে, মা এখনও ওঠেননি। উঠলেই বলব।

    দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ পার্ক স্ট্রিটে কাটিরোল খেতে নামেন রঞ্জা, সোসাইটি থেকে একটু এগিয়েই, এই ফুটেই স্টলটা। খুব সুবিধেজনক। অন্য জায়গার থেকে সাইজটা এদের বড় হয়। বেশ পেট ভরে যায়। ধীরে ধীরে গরম রোলটা খেতে খেতে দুপুরবেলার আধা ব্যস্ত পার্ক স্ট্রিটের দিকে তাকালেন রঞ্জা। রোদ পিছলে যাচ্ছে রাস্তার চওড়া মসৃণ কালোর ওপর। দু দিক থেকে অবিরাম গাড়ির স্রোত। এই দুপুরেই এমন, তা হলে অফিস-টাইমে কী হয়! পথচারীরা এখানে বেমানান। একটা বিরাট লম্বা কালো হন্ডা গেল, তার ভেতর থেকে লাল জিব ঝুলিয়ে দুটো স্পিৎজ। এমন সুন্দর করে জানলায় এইটুকু টুকু থাবা রেখেছে যে, ছোট্ট শিশু ছাড়া কিছু মনে হচ্ছে না। হঠাৎ পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর পেছিয়ে যান তিনি। তাঁর ছেলেমেয়ে ছিল বড্ড ফুটফুটে। বুবুনকে তো মনে হত একেবারে সোজা চার্চের সিলিং থেকে নেমে এসেছে, ডানাগুলো বোধহয় পিঠে ভাঁজ করা আছে। আর ঈশ ছিল একটা লাভলি ছটফটে বাচ্চা। নিজের ছেলেমেয়েকে নিয়ে মায়েরা মুগ্ধই হয়ে থাকেন। রঞ্জার মাকে যখন সবাই বলত— মেয়েরা আপনার মতো হয়নি, মা বলতেন, কী করেই যে আমাকে সুশ্রী বলে লোকে! দুর দুর! তোরা সব কত সুন্দর! মঞ্জু কী সুন্দর টুকটুকে ফরসা, চুলের ঢাল। আর তুই? কী সুন্দর ভুরু যে তোর! চুলের কী বাহার। কেমন ভাল-ভাল মুখখানি! কোনও কিছুর খাতিরেই মা প্রিয় মিথ্যে বলেন না। ঠিক যেটুকু প্লাস পয়েন্ট, সেটুকুই বলবেন। কিন্তু নিজের ছেলেমেয়ের ব্যাপারে রঞ্জা অতিরঞ্জন করছেন না। বাসে উঠলেই আমার কোলে… এইখানে বোসো খোকা… বুবুন ভ্যাঁ! ঠোঁট ফুলছে আরেকজনের। অমনি তিনজনে একসঙ্গে উঠে দাঁড়াবে। —“আপনি বসুন, আপনি বসুন।” কিছুক্ষণ রঞ্জা আর এই পার্ক স্ট্রিটের উত্তরযৌবনে রইলেন না। তখন অফুরন্ত কর্মক্ষমতা, অবিনাশী জেদ! কী হল! কিছুই তো হল না! শুধু একটা বিরতিহীন কর্ম, জেদ, প্রাণপণ প্রয়াসের ইতিহাসই রয়ে গেল। কেউ আর তার পাতা উলটোয় না। যোগ-বিয়োগের শেষে কোনও সংখ্যা নেই, হাতে রয়েছে মাত্র একটা খুদে পেনসিল।

    আজকাল আর কেউ কারও দিকে তাকিয়ে দেখে না। কোনও মহিলা ফুটপাথের ধার ঘেঁষে খেয়ে নিচ্ছেন— এটা কোনও কু-দৃশ্য নয়। দৃশ্য কতরকম গজিয়েছে এখন! তিনটি লম্বা মেয়ে জিন্‌স আর টপ পরা, গট গট গট করে চলে গেল সামনে দিয়ে। কথা বলছে দুজন। অন্যজনের হাতে মোবাইল। পার্ক স্ট্রিটের মতো রাস্তা মোবাইল কানে দিব্যি পার হয়ে গেল। এই গটগট হাঁটা খুব ভাল লাগে রঞ্জার। অল্প বয়সে ইংরেজি সিনেমা দেখতে গেলে ওই হাঁটাটা মন দিয়ে মুগ্ধ হয়ে দেখত সে। যেন একটা এক্সট্রা এনার্জি, বেশি বেশি আত্মবিশ্বাস, কর্মক্ষমতা ফুটে বেরোচ্ছে, বিকিরিত হচ্ছে চলাটা থেকে। ঈশা যেই একটু বেশি লম্বা হয়ে গেল, গড়পড়তা বাঙালির মতো কোলকুঁজো হতে শুরু করেছিল, সে পিঠে একটা আস্তে কিল মারত।

    —কী হচ্ছে কী! সোজা হয়ে বসতে, দাঁড়াতে কী হয়? কার কাছ থেকে কী লুকোচ্ছিস?

    বাড়ন্ত গড়নের মেয়ে লজ্জা পেয়ে বিরক্ত হয়ে বলত— উঃ মা, তুমি না!

    আপন মনে একটা নিশ্বাস ফেললেন রঞ্জা। ঈশা যদি এরকম গটগট করে হাঁটত!

    কাগজের খিলিটা হাতে পাকিয়ে, ব্যাগের পাশ পকেটে রেখে দিলেন। অফিসে গিয়ে ট্র্যাশ ক্যানে ফেলবেন।

    এশিয়াটিক সোসাইটির জলদগম্ভীর সিঁড়ি, ঘর, প্যাসেজ সব ঠান্ডা। বাইরের ব্যস্ততা, গরম, রোদ, চোখজ্বালা করা ধোঁয়ার বিন্দুমাত্রও নেই। জায়গাটা খুব আরামের। হঠাৎ মনে হল যা কিছু প্রাচীন সবই কেমন শীতল, ঠান্ডা, জীবনের গনগনে ভাবটা নেই, থাকে না। নালন্দার ধ্বংসস্তূপের ভেতরে চৌকোনা উঠোনে দাঁড়ালে, চোখে পড়বে কত অলিন্দ, কত ছোট ছোট সেল। ছাত্রদের থাকবার। কেমন শীতল, মরা নয়, কিন্তু যেন তুষারীভূত হয়ে রয়েছে। সোসাইটিটাও তেমনি। নিজের চেয়ারে বসে বেশ কিছুক্ষণ সেই শিলীভূত অতীতের শীতলতা অনুভব করতে থাকেন তিনি। সব অতীতই কি শীতল হয়? ঠেলে সরিয়ে রাখে মন, নইলে জীবন, জগৎ চলবে না। কিন্তু সব অতীত কখনওই শীতল নয়। ভয়ংকর, প্রচণ্ড, ভৈরব উত্তাপ আছে কোনও কোনও অতীতের। বুকের ভেতর থেকে ঠেলে উঠতে চায় আগুন, কয়লার উনুন তলা থেকে খুঁচিয়ে দেবার মতো করে জ্বলন্ত অঙ্গার সব ছাইয়ের গাদায় দমবন্ধ হতে ফেলে দেন তিনি। তারপর মনকে কান ধরে টেনে এনে কাজে বসান। চন্দ্রকেতুগড়ের ‘কাজটা’ চলছে। মানুষ, মধ্য বয়সের মানুষও যেন ওইরকম রুইন্‌স্‌। খুঁড়লে কত কী পুরাবস্তু মেলে।

    এই ফ্ল্যাট-বাড়ির সিঁড়ি খুব পাতলা পাতলা। তবু তিনতলা থেকে মায়ের নামতে কষ্ট হয়। প্রায় আশি হল। আজকের আশি নয়। আগেকার দিনের আশি। সন্তান জন্মে, প্রতিদিনের গেরস্থালিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে বেঁচে থাকার আশি। রূপটান ছিল না, গন্ধতৈল ছিল না, কিংবা প্রসবোত্তর শরীরচর্চা, অবসর। শেষ দুপুরে এ সময়টা কেউ থাকবে না। মা হয়তো ঘুমোচ্ছেন। একটু ইতস্তত করে বেলটা দিল সে। কোথাও থেকে একটা ঘুঘু ডাকছে। ফড়ফড় করে একটা পায়রা উড়ে এসে বসল নিচু পাঁচিলে। এখানে একটা চৌকোনা খোলা জায়গা আছে, আর্কিটেকচারের কেরামতি। সব ফ্ল্যাটে হাওয়া খেলবে বলে। দরজা খুলে দিয়েছে নিশা।

    —এসো দিদি, —ঘুম চোখে বলল, দরজা খুলে সরে দাঁড়াল। ভুরুতে একটু কোঁচ।

    —মা কি ঘুমোচ্ছেন?

    —কী জানি ঘরের মধ্যে কী করছেন।

    ছমছমে ঘর। শহরতলির চুপ ঘরবাড়ি জুড়ে। মা শুয়ে রয়েছেন। ঢুকতেই বলে উঠলেন— রঞ্জা এলি? —উঠে বসলেন।

    —উঠছ কেন? শোও না।

    —কথা বলব কী করে?

    রঞ্জা মাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বুকে, গালে, কপালে চুমো দিল। তার ভালবাসার এইরকম প্রকাশ। মা কিন্তু খুব সংযত। কোনও দিনও চুমু দিয়েছেন বলেও মনে করতে পারে না রঞ্জা। একটু যেন দুঃখই ছিল। মাকে জিজ্ঞেস করলে হাসতেন— আমার আসে না যে!

    তবে আদরের কমতি তাতে হত না। হাজারটা আদরের ডাক পায়রার মতো বকুম বকুম করবে মায়ের ঠোঁটে, চোখ দিয়ে স্নেহ ঝরবে।

    —মা, তোমার চোখের তলায় এত কালি কেন? —রঞ্জা চিন্তিত হয়ে বলল।

    —কালি পড়েছে? না?

    —হ্যাঁ। খুব। শরীর ভাল নেই। না কি?

    —আসলে ক’দিন রাতে একদম ঘুমোতে পারছি না। সারারাত এপাশ ওপাশ ভোরের দিকে ঘুম আসে। একেক দিন উঠতে আটটা হয়ে যাচ্ছে। কী লজ্জা!

    —ও মা, লজ্জার আবার কী হল? প্রেশারটা মাপিয়েছ?

    —ও হ্যাঁ, ওসব ঠিক আছে।

    —তবে বেঠিকটা কী হল?

    —কিছু না তো!

    রঞ্জার ভেতরে একটা গূঢ় সন্দেহ হয়। যে কোনও কারণেই হোক মা এখানে সুখী নয়। যত্নের কোনও ক্রটি নেই। ফরসা জামা-কাপড়, সময়ে খাবার, আলাদা ঘর, পুজোর ছোট্ট জায়গাটুকু। তবু যেন কোথাও মার মনে শান্তির অভাব। মরে গেলেও বলবেন না সে জানে। কোথায় কী ভাবে শান্তির প্রলেপ দিতে হবে হাতড়ে হাতড়ে ফেরে। মনে মনে বলে— ঈশ্বর, এই মানুষটি সারাজীবন অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন। সন্তানশোক, পৌত্রশোক পেয়েছেন। নিজের বলতে একচিলতে জমি কিংবা একটা পয়সাও নেই। প্রত্যেকটি সন্তানের দুঃখ ওঁর দুঃখ। ওঁকে আর কাঁদিও না, শান্তি দাও হে ঈশ্বর, শান্তি দাও।

    —নিশা—আ—মা ডাকলেন।

    নিশা ঘুম চোখে এসে দাঁড়িয়েছে। এখনও ভুরুতে কোঁচ।

    —ক’খানা লুচি ভাজো না বাবা, কীরে রঞ্জু— আলু চচ্চড়ি খাবি? না বেগুনভাজা?

    —বউদিকে আসতে দাও না কেন। তারপর সব হবে’খন। খনখন করে উঠল নিশা— তেতেপুড়ে এসেছে দিদি, একটু লেবুর শরবত খাক বরং। যেতে যেতে বলে গেল— বউদি বকলে, তখন? হাজারখানা কৈফিয়ত দাও— ভাল্লাগে না!

    মায়ের মুখটা শুকিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। সবই আছে। ঘর-বাড়ি, ফার্নিচার, আলো-পাখা, ফ্রিজ, টিভি, বাসনকোশন, খাবার-দাবার, লোকজন। কিন্তু কোনও কিছুর ওপরই কর্তৃত্ব নেই। কোনওটাই নিজের নয়। সে কথা কাজের লোক সুদ্ধু মনে করিয়ে দেয়। এই মা, সন্তানের জননী, উদয়াস্ত পরিশ্রম করে, নিজে কম খেয়ে, কম পরে প্রাণপণে বড় করে তুলেছেন সন্তানগুলিকে। একেকজন একেক বিদ্যায় বিদ্বান। কিন্তু তারা আর মা-র নয়। তাদের অর্জিত জিনিসে মায়ের জীবনস্বত্ব আছে, আর কোনও অধিকার নয়।

    সে বলল— কোনও মানে হয়? এলেই এমন ব্যস্ত হও কেন বলো তো? বেলা সাড়ে চারটের সময়ে কি আমি অভুক্ত এসেছি এতটা পথ? এখন আমার খিদে পায়নি। হ্যাঁ, তোমার জন্যে গোলাপি প্যাঁড়া এনেছি। একে এই গরম, স্বাদ চলে যাবে, তাড়াতাড়ি খেয়ে নেবে কিন্তু।

    মা অন্যমনস্ক ভাবে বললেন— এই সময়েও তো কলেজ করে ফিরতিস রঞ্জা। তুই, মঞ্জু, রঞ্জন, সঞ্জয়, রঞ্জিত, অঞ্জন, সৃঞ্জয়। যে যখন আসবে— ও মা, ভীষণ পেট চুঁইচুঁই করছে। গোছাগোছা লুচি-পরোটা করতুম, পেঁয়াজকলির চচ্চড়ি চিংড়ি মাছ দিয়ে। আলু ছেঁচকি। আজকালকার তুলনায় সামান্যই জিনিস, ভাজতুম ডালডায়। তোরা সে জিনিস এখন ছুঁসও না। সে যা হোক, আমার এরকমই ধারা। বাড়ি ফিরেছে ছেলেমেয়ে। আগে খেতে দেব। মনের চিন্তা, অভ্যেস কি পালটায় রে! বুঝতে পারি বিরক্ত হচ্ছিস।

    —না মা— রঞ্জা আস্তে আস্তে মায়ের গায়ে হাত বুলোয়— তুমি তো বোঝে না। আজকাল কত দোকান, কত খাবার রাস্তায় ঘাটে, কেউ আর বাড়ির জন্যে বসে থাকে না মা। কিছু না কিছু খেয়েই নেয়।

    মা সংক্ষেপে বললেন— সে তখনও ছিল। তারপর বালিশের পাশ থেকে একটা বই তুলে নিলেন। কোনও অনামা লেখকের ‘সাধুসংসর্গ’ জাতীয় বই।

    —পড়েছিস বইটা?

    —না মা। ভাল?

    —ভাল মানে? সত্যি। নির্ভেজাল সত্যি রে! একেবারে সাক্ষাৎ চোখে দেখা, কানে শোনা সব। পূর্বজন্মের সব কথা বলেছিলেন হিমালয়ের সাধু। লেখক ভদ্রলোক পাহাড় থেকে নেমে হরিদ্বারের সেই গলির মধ্যে যান। সেই আধভাঙা ধর্মশালা এখনও রয়েছে। অতিবৃদ্ধ এক ক্যাশিয়ার, তার নাম অনন্ত দেশাই। তাঁর পূর্বজন্মের ছেলে। দেখেই সে জন্মের কথা সব মনে পড়ে গেল ওঁর। সব সত্যি, ভাবতে পারিস! বাঙালি মানুষ। অনর্গল মরাঠি বলতে লাগলেন। ভাবতে পারিস?

    না, রঞ্জা ভাবতে পারে না। মায়ের কোনও দিন সাধু-বাই ছিল না। বাড়ির ঠাকুর লক্ষ্মী, নারায়ণ, শিব, নাড়ুগোপাল পুজো করতেন নিত্যকর্মের মতো। কিন্তু চর্চার বিষয় বা পড়বার বিষয় ছিল রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, প্রভাতকুমার। ‘কথামৃত’ মায়ের মুখস্থ ছিল, পড়তেন সুভাষচন্দ্রের ‘তরুণের স্বপ্ন’। পুজোর সংখ্যাগুলো। দুপুরবেলা বিশ্রাম করতে শুয়ে পড়তেন না। তাঁদের জন্য থাকত দেব-সাহিত্য কুটির আর শরৎ-সাহিত্য ভবন। ‘দেশ’ ‘অমৃত’ ‘বসুমতী’তে হাত দেবার হুকুম ছিল না।

    —মা! আজকাল আর বিবেকানন্দ পড়ো না? খুব সন্তর্পণে জিজ্ঞেস করল রঞ্জা।

    —পড়েছি অনেক তুই তো জানিস… মা অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন— ধরবার ছোঁবার মতো কিছু যেন পাই না রে। আমি বোধহয় খুব সামান্য মানুষ। বড় কিছু ধারণ করবার ক্ষমতা নেই…

    চোখ জ্বালা করে জল ভরে এল রঞ্জার। যে মা তাদের কত বিপদে আপদে সাহায্য করেছেন, কত আত্মিক সংকটে নিজের অচল অটল ব্যক্তিত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। শোকে শোক, সুখে সুখ। প্রজ্ঞার সবচেয়ে বড় কথাগুলো তো মায়ের মুখ থেকেই শোনা— না দেখেশুনে, যাচাই না করে কিছু বিশ্বাস করবে না। বড় হলেই গুরুজন হয় না। গুরুজনকে বিচার করায় কোনও অপরাধ নেই। তবে সব সময়ে বিনয়ী থাকবে, মধুর বাক্য বলবে। তিক্ততা তখনই প্রকাশ করবে যখন দেখবে একেবারে কোণঠাসা হয়ে গেছ। সাধুসন্তর ভেক দেখলেই গলে যাবে না কখনও। বেশির ভাগই ভণ্ড। আসলে আমাদের দেশে বরাবর সন্ন্যাস নেবার প্রথা ছিল তো! কুঁড়ে, মতলববাজ লোকেরাও স্রেফ দায়িত্ব এড়িয়ে সুখে বাঁচবার জন্যে ভেক নিত, নেয় বরাবর। খুব সাবধান।

    সেই মা। আশি বছর পূর্ণ হতে আর দু মাস, সাত দিন, কয়েক ঘণ্টা বাকি। বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ আদিতে আর কিছু ধরবার মতো খুঁজে পাচ্ছেন না। কংক্রিট কিছু খুঁজছেন। একেবারে চটজলদি হাতে গরম সমাধান। সর্ব সমস্যার। মিরাকল। চমৎকারের দিকেই এখন সেই প্রজ্ঞাময়ীর ঝোঁক।

    একে বার্ধক্য, ভীমরতি এসব বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। যে মানুষ চিরজীবন সৎ পথে থেকেছে, সত্য আচরণ করেছে, কোথাও কাউকে ফাঁকি দেয়নি, সে তার সহজ-সরল বিশ্বাসী হৃদয় মন দিয়ে জীবনভরা শূন্যতাকে মেনে নিতে পারছে না, কোনও দর্শন, কোনও মহাজনবাণী নয়। ঈশ্বর, তুমি সাধারণ মেয়ের কাছে, মানুষের কাছে, মায়ের মতো নেমে এসো। এইটুকু। ঈশ্বর, তুমি দুরূহ হোয়ো না, তুমি যে আছ, আমার মতো মানুষদের সমস্যার সমাধানেও যে তোমার ধ্যান আছে এ কথা সত্বর জানাও— এইটুকু। রঞ্জা স্পষ্ট বুঝতে পারে এই জাতিস্মর, এই অলৌকিক, এই সব লোককথাকে আঁকড়ে ধরে মা শূন্যতাকে ঠেকিয়ে রাখতে চাইছেন। আপাদমস্তক শূন্যবোধ। কোথাও কেউ সর্বশক্তিমান নেই। হে মানুষ, নিজেরটা নিজে করো। নির্বাচন তোমার, দায়িত্ব তোমার। এই নিদারুণ অস্তিত্ববাদী সংকট মাকে দূর থেকে উদাস চোখে দেখছে। যে কোনও মুহূর্তে এসে যাবে, ছুঁয়ে ফেলবে, নিজের অজান্তেই তাই মা নানাজনের নানা টুকরো-টাকরা বিশ্বাস জুড়ে নিজে একটা বিশ্বাস তৈরি করতে চাইছেন। সে সব বিশ্বাস— মিথ্যা কি মোহ, দৃঢ়তা কি স্রেফ লোক ঠকানো আর বিচার করছেন না।

    বউদি এল একটু পরেই— আমি জানতুম তুমি দু-এক দিনের মধ্যেই আসছ— অর্থপূর্ণ হেসে বলল। —তবে একেবারে আজই, ভাবিনি। মা চেয়ে রইলেন। এদের দুজনের মধ্যে গোপন কিছু হয়ে গেল তিনি বুঝতে পারছেন, অস্বস্তি হচ্ছে। কী হতে পারে? কারণ? বউমার এই ধারণার?

    — না মা, আসলে আজ সকালে ছটায় ফোন করে শুনলাম তুমি ঘুমোচ্ছ, কীরকম মনে হল— অসুখ-বিসুখ করেনি তো?

    মায়ের জিজ্ঞাসু দৃষ্টির সামনে কিছুটা সত্য বলতেই হবে।

    —তা ছাড়া আমি তো নিয়ম করে আসিই। মাসে একবার তো বটেই!

    —কখনও কখনও দু মাসও হয়ে যায় রঞ্জা। এসে আবার পলিটিক্স, খুনোখুনির খবর, বিজ্ঞান-টিজ্ঞান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাস…

    একটা চমক লাগল। সত্যিই তো! মাসে একবার অন্তত সে আসেই, কিন্তু মায়ের সঙ্গে নিভৃতে বসা হয় কতটুকু? দাদা বউদি এরা তার প্রজন্ম, তাদের ছেলে পরবর্তী প্রজন্ম। যাদের সঙ্গে পা মেলাতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে। তাই এরা এলেই কথাবার্তা, আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক জমে ওঠে। মায়ের স্তবকবচমালা, ‘সাধুসংসর্গ’ ইত্যাদির জগৎ থেকে অনেক দূরে। আরও একটা অসুবিধে আছে মায়ের সঙ্গে একা-একা কথা বলার। দাদা-বউদি ভাবতে পারে দুজনের মধ্যে কোনও অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সাংসারিক জটিলতা কোনও, হয়তো বা তাদের সংসারেরই। কেন রঞ্জার এমন মনে হয়? সে জানে না, কখন কোন দৃষ্টি, কোন কথার টুকরো মন তুলে নিয়েছে। ওলট-পালট করে ভেতরে রেখে দিয়েছে, এবং তার নির্দেশক্রমে বা তার দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে নিজের কর্মপদ্ধতি ঠিক করে নিয়েছে— সে জানে না। কিন্তু তার মন এই-ই বলে। এতে মায়ের ওপর অবিচার হচ্ছে কখনও মনে হয়নি।

    সে ডান হাতটা মায়ের হাতের ওপর রাখল। এইভাবে সে স্পর্শ দিয়ে নৈকট্য, ভালবাসা ও তার গভীরতা বোঝাতে চায়। ভাষায় তো কুলোয়ই না, চোখের দৃষ্টি দিয়েও সব সে বলতে পারে না। ভালবাসা জানাবার জন্য এই ইন্দ্রিয়টিই তার সবচেয়ে জোরালো, বিশ্বস্ত।

    মা কি একটু কেঁপে উঠলেন? চোখ কি ভরে উঠেছে? না, রঞ্জনা তাকাবে না। তা হলে মা লজ্জায় পড়ে যাবেন। কখনও নিজের আবেগের কথা কাউকে জানাতে চাইতেন না। এত চাপা! এত চাপা হওয়ার একটা প্রচণ্ড চাপ আছে, মা কী করে সহ্য করেন কে জানে! সে তো পারে না! সে কাঁদে। অঝোরে কাঁদে, রাগ করে, ভীষণ রাগ করে। অথচ সে তো এই মায়েরই মেয়ে।

    সেই লুচি হল, আলু ছেঁচকি হল, যা যা মা নিশাকে করতে বলেছিলেন, কিন্তু মায়ের নির্দেশে হল না। খাবার মুখে তুলতে রঞ্জার কেমন ইচ্ছে করছিল না। মায়ের হাত থেকে যা অমৃত হত, মাকে কষ্ট দিয়েছে বলে তা কেমন বিস্বাদ লাগল। গোলাপি প্যাঁড়া ফ্রিজে থেকে এখন সুন্দর ঠান্ডা হয়েছে। মা এইরকমই ভালবাসেন। সে একরকম জোর করেই মাকে খাইয়ে দিল।

    —ভাল, মা?

    মা মাথা নাড়লেন। হ্যাঁ। কিন্তু রঞ্জা বুঝল ভাল না। লুচি যেমন ভাল হওয়া সত্ত্বেও তার বিস্বাদ লেগেছে। গোলাপি প্যাঁড়াও তেমন ঠান্ডা নরম সুগন্ধ হওয়া সত্ত্বেও মায়ের বিস্বাদ লেগেছে।

    আসবার সময়ে খুব সংকোচে মা বললেন— একদিন আমাকে তোর দিদিমার কাছে নিয়ে যাবি?

    —হ্যাঁ। নিশ্চয়ই— সে সঙ্গে সঙ্গে বলল— তোমার কবে সুবিধে বলো!

    —আমার আর সুবিধে কী! তোরই কাজ-কর্ম…

    —ঠিক আছে। তা হলে রবিবার। তুমি তৈরি থেকো। আমি সকাল-সকাল এসে যাব।

    —সকাল সকাল বলতে?

    —ধরো ন’টা দশটা।

    —ঠিক আছে।

    মায়ের সংকোচের কারণ আছে। মায়ের থেকে পনেরো বছরের বড় দিদিমা এখনও জীবিত। কিন্তু ঠিক অ্যালঝাইমার না হলেও তার কাছাকাছি তাঁর অবস্থা। বিছানায় বাথরুম করে ফেলেন। খেয়েছেন কি না মনে করতে পারেন না। সব লোককে সব সময়ে চিনতে পারেন না। আরও কিছু গোলমেলে ব্যাপার আছে। আজকালকার চূড়ান্ত ব্যস্ততার দিনে তাঁর কাছে কেউ সহজে যেতে চায় না। একটা ছুটির দিন নষ্ট হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখারাপ ছেলে – বাণী বসু
    Next Article অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }