Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খাজুরাহ সুন্দরী

    ঐতিহাসিক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প179 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬

    প্রতিদিনের মতো ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কুক্কুটের ডাকে ঘুম ভাঙল রাহিলের। ঘুম ভাঙার পরই রাহিলের মনে পড়ল মিত্রাবৃন্দার কথা। শেষ রাতে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখেছে সে। স্বর্ণখচিত বিশাল এক মন্দির-চত্বরে মিত্রাবৃন্দার সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে রাহিল। অপরিচিত সেই মন্দির-চত্বরে হাজার হাজার মানুষের সমাগম। মিত্রাবৃন্দা রাহিলকে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে সেই মন্দির। ফুলমালাশোভিত সে মন্দিরে দিনের বেলাতেও সার সার প্রদীপ জ্বলছে। ঘৃত-ধূপ-ফুলমালার গন্ধে সুরভিত মন্দির-চত্বর ঘণ্টাধ্বনিতে মুখরিত। লোকজনের ভিড়ে মন্দিরের এ-প্রাঙ্গণ থেকে ও-প্রাঙ্গণ, এ-কক্ষ থেকে ও-কক্ষ ঘুরে বেড়াচ্ছে রাহিল। কত অদ্ভুত আশ্চর্য সুন্দর মূর্তি স্থাপিত সেই মন্দিরে। স্বর্ণালঙ্কার, হীরকখচিত সেইসব মূর্তি।

    চন্দনকাঠের মণ্ডপের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা সেসব দেবদেবীর মূর্তি থেকে আলোক বিচ্ছুরিত হচ্ছে। মিত্রাবৃন্দা এক সময় তাকে বলল, ‘চলো, তোমাকে গর্ভগৃহ দেখাব।’ রাহিল তার সঙ্গে এসে দাঁড়াল গর্ভগৃহর সামনে। তার ভিতরে জমাট বাঁধা অন্ধকার। ভিতর থেকে ভেসে আসছে গম্ভীর কণ্ঠে সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ আর চন্দনের গন্ধ। আর সেই গর্ভগৃহ থেকে অজগর সাপের মতো বিরাট এক সোনার শিকল বাইরে বেরিয়ে এসেছে। অন্ধকার গর্ভগৃহর দিকে তাকিয়ে মিত্রাবৃন্দা বলল, ‘ভয় নেই, ভিতরে এসো।’

    রাহিল তার সঙ্গে চন্দনকাঠের চৌকাঠ পার হয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় ঝনঝন শব্দে পায়ের সামনে বেজে উঠল সেই সোনার শিকল। মন্ত্রোচ্চারণ থামিয়ে গর্ভগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে এল মুণ্ডিত মস্তক শিখাধারী পুরোহিতের দল। তাদের চোখেমুখে উত্তেজনার ছাপ। রাহিলদের প্রায় ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তারা ছুটল বাইরের মন্দির প্রাঙ্গণে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কের কোলাহল ভেসে এল প্রাঙ্গণ থেকে ‘যবন এসেছে! যবন এসেছে!’

    সেই চিৎকার কানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তরবারি কোষমুক্ত করল রাহিল। আতঙ্কের ভাব ফুটে উঠেছে মিত্রাবৃন্দার মুখে। রাহিল তাকে আশ্বস্ত করে বলল, ‘আমি থাকতে তোমার কোনও ক্ষতি হবে না। তুমি গর্ভগৃহে প্রবেশ করো, আত্মগোপন করো। আমি না-ফেরা পর্যন্ত তুমি গর্ভগৃহর অন্ধকারেই থাকো।’

    তার কথা শুনে মিত্রাবৃন্দা অবগুণ্ঠনে মুখ ঢেকে সঙ্গে সঙ্গে প্রবেশ করল গর্ভগৃহে। আর রাহিল তলোয়ার হাতে ছুটল মন্দির-প্রাঙ্গণে। শয়ে- শয়ে তুর্কী সেনা উঠে আসছে মন্দিরে। আতঙ্কিত নারীদের আর্ত চিৎকার, শিশুদের ক্রন্দনে মুখরিত মন্দির-চত্বর। মন্দির রক্ষীরা, শিখাধারী পুরোহিতরা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে তুর্কীদের।

    রাহিল ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই যুদ্ধে। ভয়ংকর সেই যুদ্ধ! সারাদিন ধরে চলল সেই যুদ্ধ। রাহিলের তরবারির আঘাতে কতজন তুর্কীর যে পাগড়িসহ মুণ্ড উড়ে গেল তার কোনও হিসাব নেই। অবশেষে সূর্য ডোবার কিছু আগে যুদ্ধ থামল। পশ্চাদপসরণ করল পরাজিত তুর্কীরা। রাহিল দেখল সে একা জীবিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে মন্দির-প্রাঙ্গণে। তার চারপাশে শুধু শবের পাহাড়! পাগড়িধারী তুর্কীর শব, শিখাধারী ব্রাহ্মণের শব, নারীর শব, শিশুর শব।

    রাহিল এরপর ছুটল গর্ভগৃহর দিকে মিত্রাবৃন্দার খোঁজে। অন্ধকার গর্ভগৃহ, শুধু কোথা থেকে যেন ক্ষীণ আলো আসছে ভিতরে। গর্ভগৃহর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে অস্পষ্ট বিগ্রহ। বিশাল গর্ভগৃহর ভিতরে ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। রাহিল সেই আধো অন্ধকারে চিৎকার করল, ‘মিত্রা তুমি কোথায়? আমি এসেছি। তুর্কীরা পরাজিত হয়েছে।’

    তার কথার প্রত্যুত্তর মিলল নূপুরধ্বনিতে। গর্ভগৃহর অন্ধকার কোণ থেকে বেরিয়ে রাহিলের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল অবগুণ্ঠনে ঢাকা এক নারীমূর্তি। হ্যাঁ, ওই তো মিত্রাবৃন্দা। রাহিলের সামনে এসে দাঁড়াল সে। দু-হাত প্রসারিত করল রাহিলকে আলিঙ্গন করার জন্য। রাহিলও তলোয়ার কোষবদ্ধ করে তার দিকে বাহু প্রসারিত করে বলল, ‘অবগুণ্ঠন উন্মোচন করো। আর শঙ্কার কোনও কারণ নেই।’

    মুহূর্তর জন্য থমকে দাঁড়াল সেই নারী। তারপর মুখমণ্ডলের আবরণ উন্মোচন করে এগিয়ে এল রাহিলকে আলিঙ্গন করার জন্য। রাহিলও তাকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছিল কিন্তু ঠিক সেই সময় কোথা থেকে যেন আলো এসে পড়ল অবগুণ্ঠন খসে পড়া মুখের ওপর। রাহিল দেখল যে মুখে সে চুম্বন করতে যাচ্ছিল তা মিত্রাবৃন্দার মুখ নয়, বিকর্নার মুখ। আর এরপরই অট্টহাস্য করে উঠল বিকর্না। সভয়ে পিছিয়ে এল রাহিল। বিকর্নার অট্টহাসি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল অন্ধকার গর্ভগৃহে। তাকে আলিঙ্গন করার জন্য বিকর্না এগিয়ে আসতে লাগল। রাহিল সে জায়গা থেকে সরতে গেল, কিন্তু অন্ধকার স্বর্ণশিকলে জড়িয়ে গেল তার পা…

    ঠিক এ পর্যন্ত স্বপ্নটা দেখে কুক্কুটের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল রাহিলের। প্রথমে তার মনে পড়ল মিত্রাবৃন্দার কথা, তারপর স্বপ্নর কথা। অদ্ভুত স্বপ্ন। রাহিলের মনে হল গত সন্ধ্যায় সে মিত্রাবৃন্দার কাছে, মন্দির-সোনার শিকল-তুর্কী হানার কথা শুনেছে। আর সে জন্যই সে এই স্বপ্ন দেখেছে। তবে স্বপ্নের শেষ অংশটা সত্যিই বড় অদ্ভুত!

    ঘুম ভাঙার কিছুক্ষণের মধ্যেই রোজকার মতো সঙ্গী সৈনিকদের নিয়ে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে মন্দির-প্রাঙ্গণে এসে দাঁড়াল রাহিল। মজুর-ভাস্করদের দল উপস্থিত হতে শুরু করেছে মন্দিরে। দৈনন্দিন ব্যস্ততা শুরু হতে চলেছে। রাত-পাহারায় যে সৈনিকদল নিয়োজিত ছিল তাদের বিশ্রামে পাঠিয়ে নতুন সৈনিকদলকে কর্তব্য বুঝিয়ে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত মন্দির পরিভ্রমণ শুরু করল রাহিল।

    বেশ কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘোরার পর রাহিলের হঠাৎ খেয়াল হল মিত্রাবৃন্দা তাকে বলেছিল আজ তার মূর্তি নির্মাণ শুরু করবেন ভাস্কর মাহবা। এ কথাটা মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপারটা দেখার জন্য রাহিল এগোল যেখানে নগ্নমূর্তি নির্মিত হয় সে জায়গার দিকে। সেখানে অন্য একজন অন্য এক নারীমূর্তি রচনা করছেন। রাহিল এরপর এগোল মাহবার কাজের জায়গার দিকে। সেদিকে এগোতে এগোতে রাহিল ভাবল, মাহবার কাজের জায়গা তো উন্মুক্ত, তবে কি লোকচক্ষুর সামনেই মিত্রাবৃন্দার নগ্ন মূর্তি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান স্থপতি ভাস্কর চিত্রবান বা প্রধান পুরোহিত অনুদেব? মিত্রাবৃন্দার প্রাথমিক অবাধ্যতার জন্য তারা কি এভাবে তাকে মানসিক শাস্তি দিচ্ছেন? এসব কথা ভাবতে ভাবতে রাহিল পৌঁছে গেল মাহবার কাজের জায়গাতে। হ্যাঁ, আর সেখানেই সে দেখতে পেল মিত্রাবৃন্দাকে।

    কোনও আচ্ছাদন নেই সে জায়গায়। ভাস্কর মাহবা, প্রধান পুরোহিত অনুদেব, বৃহন্নলা বিকর্না সবাই সেখানে উপস্থিত। রাহিল গিয়ে দাঁড়াল সে জায়গাতে। ভাস্কর মাহবার সামনে পূর্ণাবয়ব মানুষের আকৃতি রচনা করা যায় এমন এক প্রস্তরখণ্ড দণ্ডায়মান। তার ওপর কাঠকয়লা আঁচড়ে প্রথমে মিত্রাবৃন্দার চিত্র এঁকেছেন বৃদ্ধ ভাস্কর। তারপর ছেনির আঘাতে পাথরে রচনা করছেন মিত্রাবৃন্দার বহি:অবয়ব। তারা তিনজনই তাকিয়ে ছিল মিত্রাবৃন্দার দিকে। কিন্তু রাহিল সেখানে গিয়ে দাঁড়াতেই বিকর্না তাকাল রাহিলের দিকে। তার মুখে সেই অদ্ভুত হাসি।

    একবার তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে রাহিল তাকাল মিত্রাবৃন্দার দিকে। কিন্তু তার বেশ দেখে রাহিল বেশ অবাক হয়ে গেল। ভূষণসজ্জিত মিত্রাবৃন্দা! মাথায় তার খোঁপা বাঁধা। সেখানে আলগোছে গোঁজা এক পদ্মকুঁড়ি। সিঁথিতে চূড়ামণি, কর্ণে কর্ণফুল, কণ্ঠে মুক্তাহার, চন্দ্রাহার, অঙ্গদ, বাহুতে কঙ্কন, কটিদেশে কটিকিঙ্কিনী, পায়ে নূপুর, পরনে সূক্ষ্ম রেশমবস্ত্রে সজ্জিতা মিত্রাবৃন্দা। তবে রাহিল তার দিকে ভালো করে তাকিয়ে বুঝতে পারল সেই সূক্ষ্ম কাঁচুলি-শাড়ি মিত্রাবৃন্দার দেহকে আড়াল করার জন্য পরানো হয়নি বরং তার দেহসৌষ্ঠবকে যেন আরও সুপ্রকট করার জন্য পরানো হয়েছে সেই স্বচ্ছ রেশমবস্ত্র। নগ্নিকা অপেক্ষা অনেক কামোদ্দীপক লাগছে এই নারীশরীরকে। কারণ মিত্রাবৃন্দার শরীর প্রায় দৃশ্যমান হলেও তার মধ্যে জেগে আছে অজানার হাতছানি। যা আকৃষ্ট করে পুরুষের কামভাবনাকে।

    অমলিন রেশমখণ্ড ভেদ করে পরিস্ফুট তার বিল্বস্তনের চন্দ্র অবয়ব। গভীর নাভি সহ উদর অনাচ্ছাদিত তার। ওই অমলিন কাপড়ের ঘাগড়ার আড়ালেই প্রকটিত তার কলস নিতম্ব, কামভাবে পূর্ণ ঊরু জঙ্ঘা। এত সুন্দর নারীদেহ কোনওদিন দেখেনি রাহিল। এমনকী পুরোহিত অনুদেবও মন্ত্রমুগ্ধর মতো চেয়ে আছেন সেই নারীদেহের দিকে। রাহিল নিশ্চিত হল সুরকন্যাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরী এই নারী।

    ছন্দময় ভঙ্গিমাতে পাথরের নিশ্চল মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে মিত্রাবৃন্দা। শুধু তার চোখের তারা মাঝে মাঝে কাঁপছে। পাথরের মূর্তির সঙ্গে শুধু এইটুকু পার্থক্য তার। ভালো করে লক্ষ না করলে তা খেয়াল করা যায় না। রাহিলও মন্ত্রমুগ্ধর মতো একবার তাকাতে লাগল মিত্রাবৃন্দার দিকে, আর একবার সেই প্রস্তরখণ্ডর দিকে। যেখানে বৃদ্ধ ভাস্কর মাহবার ছেনির আঁচড়ে ফুটে উঠছে মিত্রাবৃন্দার অবয়ব। দেখতে লাগল রাহিল। হঠাৎ মিত্রাবৃন্দার ঘূর্ণায়মান চোখের তারা রাহিলের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে আরক্ত হয়ে উঠল মিত্রাবৃন্দার মুখমণ্ডল।

    পাথরের মতো অচঞ্চল মিত্রাবৃন্দা রাহিলকে দেখে যেন কেঁপে উঠল কোনও গোপন সঙ্কোচে-লজ্জায়। তার কবরীবন্ধন থেকে খসে পড়ল পদ্মকোরক। থেমে গেল ভাস্করের কাজ।

    মাহবা এবং অনুদেব দুজনেই মিত্রাবৃন্দার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালেন রাহিলের দিকে। পুরো ব্যাপারটাতে বেশ অস্বস্তিবোধ করল রাহিল। তারা দুজন কি ভাবছেন যে তাকে দেখেই কেঁপে উঠল মিত্রাবৃন্দা? তার দিকে তাকিয়েই আবার মিত্রাবৃন্দার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন ব্রাহ্মণ অনুদেব। ততক্ষণে অবশ্য মিত্রাবৃন্দার দৃষ্টি অন্যদিকে নিবদ্ধ হয়ে স্থির হয়ে গেছে। মাহবা এরপর ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন সেই রমণীর কাছে। তার পায়ের কাছে পড়ে থাকা সেই পদ্মকোরক সংগ্রহ করে তা যথাস্থানে স্থাপিত করে ফিরে এসে আবার নিজের কাজে মনোনিবেশ করলেন।

    রাহিল এরপর পা বাড়াল অন্যদিকে। কিন্তু কিছুটা এগোবার পরই পিছন থেকে ডাক শুনে সে তাকিয়ে দেখল অনুদেব তার পিছনে আসছেন। অনুদেব তার মুখোমুখি হয়ে প্রথমে বললেন, ‘পরিস্থিতি কেমন বুঝছেন?’

    ‘কী ব্যাপারে?’ জানতে চাইল রাহিল।

    পুরোহিত জবাব দিলেন, ‘এইসব নারীদের আচরণের ব্যাপারে? মজুর-ভাস্করদের ব্যাপারে?’

    রাহিল জবাব দিল, ‘সবই স্বাভাবিক বলেই তো মনে হয়। পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে ওরা। কেউ পালাবার প্রচেষ্টা করছে বলে মনে হয় না। শেষজনও তো বশ্যতা স্বীকার করল। আর ভাস্কর-মজুরদের আচরণেও কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করিনি।’

    রাহিলের শেষ কথাটা শুনে একটা অস্পষ্ট হাসি ফুটে উঠল অনুদেবের ঠোঁটে। তিনি বললেন, ‘এইসব নারীদের মূর্তি নির্মাণের কাজ আর এক পক্ষকালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপর আবার নতুন দল আসবে। খেয়াল রাখবেন তার মধ্যে যেন কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। বর্ষা নামার আগে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করার জন্য সূর্য ডোবার পরও কোনও কোনও মজুর বা ভাস্কর মন্দিরে থাকবে। তাদের ওপর বিশেষ নজর রাখবেন। আপনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মহাসৈনাধ্যক্ষ উগ্রায়ুধের কাছে পদোন্নতির সুপারিশ করব আমি।’

    রাহিল জানতে চাইল, ‘মূর্তি নির্মাণের পর এসব নারীদের নিয়ে কী করা হবে?’

    পুরোহিত জবাব দিলেন, ‘নতুন নারীদের যে দল আসবে তাদের ক্রয় করার জন্য অর্থ সংগ্রহের জন্য কিছুদিনের মধ্যেই মহারাজ বিদ্যাধরের সাথে সাক্ষাৎ করব আমি। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে এদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    অনুদেবের কথা শেষ হয়ে গেছে ভেবে তাঁকে অভিবাদন জানিয়ে এগোতে যাচ্ছিল রাহিল। কিন্তু অনুদেব বললেন, ‘দাঁড়ান আর একটা ব্যাপার জানার আছে। কাল সূর্য ডোবার পর আপনি মন্দির-চত্বরে কি কিছু দেখেছিলেন?’

    রাহিল বুঝতে পারল তার চিৎকার শুনে মন্দির-রক্ষীবাহিনীর যে লোকটা নীচ থেকে ওপরে উঠে এসেছিল সে বা তাদের প্রধান প্রকটাক্ষ ব্যাপারটা সম্বন্ধে অবগত করেছে তাকে। রাহিল বুঝতে পারল অনুদেব সূর্য ডোবার পর মন্দির পরিত্যাগ করলেও তার অনুপস্থিতির সময়কার প্রতিটা বিষয় সম্বন্ধে অবগত থাকেন তিনি।

    রাহিল জবাব দিল, ‘তেমন কিছু নয়, শুধু একটা ছায়া দেখেছিলাম মন্দির-চত্বরে।’

    রাহিলের উত্তর শুনে অনুদেব কয়েক মুহূর্ত কী যেন ভাবলেন। তারপর বললেন, ‘মন্দির-চত্বরে রাতে সতর্ক নজর রাখবেন। বিশেষত মন্দির-চত্বরের পিছনের অংশে। কোনও সময় সন্দেহজনক কিছু দেখলেই পরদিন সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাবেন।’ একথা বলে তিনি আবার এগোলেন মাহবার কাজের জায়গার দিকে।

    রাহিল ভাবতে ভাবতে হাঁটতে শুরু করল—এই যে অনুদেব বারবার সতর্ক করেন তা কি শুধু আগাম সতর্কতা হিসাবে? না কি এর পিছনে কাজ করে অনুদেবের মনের কোণে জমে থাকা কোনও শঙ্কা? সবার অগোচরে তাহলে মন্দির-চত্বরে এমন কিছু কি ঘটে চলেছে যা অনুদেবের মনে শঙ্কার উদ্রেক ঘটাচ্ছে? সেই প্রেতাত্মার মূর্তির ব্যাপারটা কী? রাহিলের স্থির ধারণা গত রাতে সে কাউকে সেখানে দেখেছিল। সে কে? ব্যাপারটা রাহিলেরও ভালো করে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

    রাহিল ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে উপস্থিত হল মন্দিরের পিছনের অংশে। দ্বিপ্রহরের সূর্যালোকে মন্দিরের শীর্ষগাত্রে একাকী দাঁড়িয়ে আছে সেই নারীমূর্তি। তার উলটোদিকের তাকটাও সূর্যালোকে স্পষ্ট। দিনের আলোতে কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতা নেই, অথচ রাত হলেই ও জায়গা কেমন রহস্যময় বলে মনে হয়! মূর্তিটার দিকে তাকিয়ে নীচের চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর রাহিলের মনে হল ওপরে উঠে কাছ থেকে ভালো করে ও জায়গাটা দেখে আসা যেতে পারে। মন্দিরের ভিতর থেকে একটা সোপানশ্রেণি ওপরে উঠতে দেখেছে সে। ব্যাপারটা তার মাথায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই সে জায়গা ছেড়ে উঠে রাহিল কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবেশ করল মন্দিরের ভিতর।

    তারপর এ-কক্ষ সে-কক্ষ অতিক্রম করে সেই সোপানশ্রেণি বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করল। সংকীর্ণ সোপান ধীরে ধীরে ওপরে উঠে গেছে। পাশে কোনও আগল নেই। একটু অসতর্ক হলেই মৃত্যু নিশ্চিত। সাবধানে একটার পর একটা ধাপ অতিক্রম করে একসময় বেশ ওপরে উঠে একজায়গায় থামতে হল রাহিলকে। আর ওপরে ওঠার পথ নেই তার সামনে একটা পাথুরে দেওয়াল, আর একপাশে দেওয়ালে একটা গবাক্ষের মতো জায়গা। সম্ভবত ওই গবাক্ষ দিয়ে মন্দিরগাত্রের বাইরের তাকে পৌঁছোনো যায়। গুড়ি মেরে সেই ফোঁকড় দিয়ে বাইরে বেরিয়ে রাহিল দেখল সত্যি সে মন্দিরের শীর্ষগাত্রে এক উন্মুক্ত তাকে পৌঁছে গেছে। তবে সেই মূর্তির কাছে সে পৌঁছোতে পারেনি। তার মাথার ওপর হাত-কুড়ি তফাতে দাঁড়িয়ে আছে সেই মূর্তি আর তার বিপরীত দিকের শূন্য তাকটা।

    মন্দিরের মাথার অংশটা নিরেট। বহি:গাত্রের খাঁজ বেয়ে একমাত্র আরও ওপরে ওঠা যায়। যা রাহিলের পক্ষে সম্ভব নয়। ভালো করে মূর্তিটা যথাসম্ভব দেখার পর রাহিল তাকাল সামনের দিকে। এত উঁচু থেকে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায়। দূরের পাহাড়-বনানী এ সব কিছুই যেন কাছে মনে হচ্ছে। নীচের চত্বরের অনেকটাও দেখা যাচ্ছে ওপর থেকে। নীচে যারা ঘোরাফেরা করছে তাদের অনেকটা পুতুলের মতো লাগছে। কেউ অবশ্য তাকাচ্ছে না রাহিল যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে। ওপর থেকে একবার চিত্রবান আর অনুদেবকেও দেখতে পেল রাহিল।

    মন্দিরের পশ্চাদভাগের চত্বর অতিক্রম করে তারা অন্যত্র চলে গেলেন। রাহিল বুঝতে পারল এ জায়গা নজরদারির জন্য আদর্শ। মন্দিরের পশ্চাদভাগ আর পশ্চিম অংশের চত্বরের প্রায় পুরোটাই দেখা যায় তাকের এ অংশ থেকে। দীর্ঘক্ষণ সে জায়গা থেকে রাহিল নীচের চত্বরে সবার কাজকর্ম লক্ষ করল। তারপর সূর্য যখন পশ্চিমে ঢলে পড়ল রাহিল তখন নীচে নেমে এল। রাহিলের মনে হল মিত্রাবৃন্দার কথা। সে বলেছিল আজও সে একই জায়গাতে সূর্য ডোবার আগে আসবে। রাহিল বুঝতে পারছে সে কেমন যেন একটা আকর্ষণ অনুভব করছে মিত্রাবৃন্দার প্রতি। তবে কারণটা তার সঠিক জানা নেই।

    এক জায়গায় দাঁড়িয়ে রাহিল বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল মন্দির-চত্বর ফাঁকা হবার জন্য। ধীরে ধীরে ফাঁকা হল চত্বর। সে দেখতে পেল ছত্রধরদের সঙ্গে নিয়ে মন্দির-প্রাঙ্গণ ত্যাগ করলেন চিত্রবান ও অনুদেবও। এ দৃশ্য দেখার পরই রাহিল এগোল নির্দিষ্ট জায়গার দিকে। দিনের শেষ আলোতে যথারীতি একই জায়গাতে গোলক নিয়ে মেতে আছে সুরসুন্দরীরা। কলহাস্য মুখরিত সে-স্থান অতিক্রম করে রাহিল একসময় উপস্থিত হল সেই নির্দিষ্ট জায়গাতে। হ্যাঁ, সেখানে সেই স্তম্ভর সামনেই দাঁড়িয়ে আছে মিত্রাবৃন্দা। তবে সে আগের দিনের মতো অন্যদিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে নয়, তাঁর দৃষ্টি রাহিল যে বাঁক অতিক্রম করে এল সেদিকেই নিবদ্ধ ছিল। রাহিলের মনে হল সে যেন তার আসার জন্যই প্রতীক্ষা করছিল।

    রাহিল তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে। বিষণ্ণ নয়, নির্মল এক হাসি। রাহিলও হাসল। সে এরপর প্রশ্ন করল, ‘তুমি কি আজ সকালে আমাকে দেখতে গেছিলে?’

    রাহিল একটু ইতস্তত করে বলল, ‘তেমন ব্যাপার নয়। আসলে আমি মন্দির-প্রাঙ্গণে সর্বত্র ঘুরে বেড়াই। মাঝে মাঝে এখানে-ওখানে দাঁড়িয়ে ভাস্করদের কাজ দেখি। তেমনই পৌঁছে গেছিলাম যেখানে মাহবা তোমার মূর্তি রচনা করছেন সেখানে। তোমার অভিজ্ঞতা কেমন?’

    মিত্রাবৃন্দা প্রথমে জবাব দিল, ‘বৃদ্ধ ভাস্কর লোক ভালো। অনুদেব আর বিকর্নার অনুপস্থিতিতে তিনি আমার পরিচয় জানলেন, দু:খ প্রকাশ করলেন আমার পরিণতির জন্য। সূর্য ডোবার পর মন্দির-প্রাঙ্গণে, অথবা মন্দিরের কোনও কক্ষে আমাকে একাকী না থাকতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন আমাকে সাতদিন দাঁড়াতে হবে তাঁর সামনে। বাকি কাজটা তিনি নিজেই করে নেবেন।’ এ কথা বলার পর একটু থেমে সে বলল, ‘আজ ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সময় তোমাকে দেখতে পেয়ে বেশ লজ্জাবোধ হচ্ছিল।’

    রাহিল মৃদু বিস্মিত হয়ে বলল, ‘এতজনের মধ্যে আমাকে দেখেই তোমার লজ্জাবোধ হল কেন?’

    মিত্রাবৃন্দা তার কথার জবাব দিল না। দিনশেষের মায়াবী আলোতে শুধু একরাশ হাসি ছড়িয়ে পড়ল তার মুখে। এরপর সে জানতে চাইল, ‘আচ্ছা, মূর্তি রচনা শেষ হয়ে গেলে কি মুক্তি দেওয়া হবে আমাদের? নাকি আবার দাসের হাটে বেঁচে দেওয়া হবে আমাদের?’

    রাহিল বলল, ‘আমি এ ব্যাপার সম্বন্ধে নির্দিষ্ট কিছু জানি না। তবে শুনেছি ব্যাপারটা নিয়ে সম্রাট বিদ্যাধর আর পুরোহিত সিদ্ধান্ত নেবেন। এরপর নতুন নারীদের দল আসবে মন্দিরে।’

    সূর্য ডুবে যাচ্ছে পাহাড়ের আড়ালে। রাহিলের কথা শুনে বেশ কিছুক্ষণ ভাবার পর মিত্রাবৃন্দা বলল, ‘আচ্ছা, ধরো যদি মূর্তি রচনার পর আমাকে বিক্রি করা হয় তখন তুমি আমাকে কিনে নিতে পারো না? আমি তো অক্ষত যোনি।’

    রাহিল চমকে উঠল মিত্রাবৃন্দার প্রস্তাব শুনে। সে কী জবাব দেবে বুঝতে না পেরে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। মিত্রাবৃন্দা প্রতীক্ষা করতে লাগল রাহিলের জবাবের।

    প্রসঙ্গটা ঘুরিয়ে দেবার জন্য রাহিল একসময় বলল, ‘কাল তুমি সোমনাথ মন্দিরের কথা বলছিলে। সে মন্দিরের গল্প বলো।’

    সোমনাথ মন্দিরের কথা শুনেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল মিত্রাবৃন্দার চোখ। সে বলল, ‘হ্যাঁ, বিশাল ছিল সেই সোমনাথ মন্দির। সবচেয়ে বড় কথা গর্ভগৃহে শূন্যে ভাসমান ছিল বিগ্রহ। কত সোনা-রুপো, হীরা-পান্না! দশ সহস্র গ্রাম ছিল সেই মন্দিরের সম্পত্তি। পাঁচশো তরুণী মন্দিরের প্রবেশদ্বারে নৃত্যগীত করত। অনেক দূরের গঙ্গানদী থেকে প্রত্যহ জল এনে সেই জলে মন্দির-চত্বর ধৌত করে ফুলমালা দিয়ে সাজানো হত সেই মন্দির। তীর্থযাত্রীদের দেখাশোনা ও পূজা-অর্চনা করার জন্য এক সহস্র ব্রাহ্মণ থাকত মন্দিরে। চন্দ্রগ্রহণের দিন এক লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাবেশ হোত সেখানে। কত মানুষ…’

    অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। ওপাশের প্রাঙ্গণে থেমে গেছে সুরকন্যাদের শব্দ। কথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেল মিত্রাবৃন্দা। একটা অস্পষ্ট শব্দ কানে যেতেই রাহিল পিছনে ফিরে দেখল বিকর্না সেখানে এসে দাঁড়িয়েছে। সম্ভবত মিত্রাবৃন্দার অনুসন্ধানেই সে এখানে এসেছে। সে একটু সন্দিগ্ধভাবে তাকাচ্ছে দুজনের দিকে। তাকে দেখে মিত্রাবৃন্দা আর দাঁড়াল না। সে দুজনকেই পাশ কাটিয়ে ফিরে চলল নিজের কক্ষে। মিত্রাবৃন্দার অপসৃয়মান ছায়ার দিকে তাকিয়ে থাকার পর বিকর্না রাহিলকে বলল, ‘কী কথা বলছিল ও?’ তার কণ্ঠস্বরে যেন সন্দেহের রেশ।

    তাকে আশ্বস্ত করার জন্য রাহিল বলল, ‘ওর ঘটনা তো জানো। ও ছুরিকাঘাত করতে গেছিল। তাই ওর সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করছিলাম যে ওর আরও কোনও অপ্রীতিকর অভিসন্ধি আছে কিনা?’

    তার কথা বিকর্নার কাছে বিশ্বাসযোগ্য হল কিনা তা ঠিক বুঝতে পারল না রাহিল। সে এগোল মন্দিরের পিছনের অংশে যাবার জন্য। নিজের কক্ষে ফেরার আগে জায়গাটা একবার দেখে যাবে সে। ও-জায়গার ওপর বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। কিন্তু কিছুটা এগোবার পর রাহিল বুঝতে পারল বিকর্না তাকে অনুসরণ করছে। সে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে বিকর্নাকে বলল, ‘তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?’

    বিকর্না জবাব দিল, ‘না, তেমন কিছু নয়। সারাদিন তো সুরসুন্দরীদের তালিম দিতে সময় কাটে। তাই তোমার সঙ্গে একটু চত্বর প্রদক্ষিণ করছি।’

    অন্ধকার নেমে গেছে মন্দির-প্রাঙ্গণে। আর কোনও কথা না বাড়িয়ে এগোতে থাকল রাহিল। আর তার সঙ্গে বিকর্না। চলতে চলতে বিকর্না একসময় প্রশ্ন করল, ‘সৈনিকের কাজে কত পারিশ্রমিক পাও তুমি?’

    রাহিল জবাব দিল, ‘মাসিক পাঁচ স্বর্ণমুদ্রা।’

    বিকর্না বলল, ‘তাহলে আমার পারিতোষক তোমার দ্বিগুণ। দশ স্বর্ণমুদ্রা। আমার প্রচুর স্বর্ণালঙ্কার আছে। রাজধানীর প্রধান পথে বাটিকা আছে। তা ছাড়া রূপোপজীবিনীদের এক আস্তানার কর্ত্রী আমি। সেখান থেকে আরও বিশ স্বর্ণমুদ্রা আয় হয় আমার। ওই দেহোপজীবিনীরা আমার ক্রীতদাস।’

    নি:সন্দেহে রাহিলের থেকে অনেক সম্পদশালী এই বৃহন্নলা। কিন্তু সে কেন হঠাৎ তাকে তার সম্পদের গল্প বলছে তা বোধগম্য হল না রাহিলের। তার কথা শুনতে শুনতে হাঁটতে লাগল সে।

    বিকর্না এরপর তাকে বলল, ‘এখানে আর থাকতে ভালো লাগছে না আমার। আনন্দহীন জীবন। আমি স্বাধীন, ক্রিতদাসী নই। প্রধান ভাস্কর চিত্রবান আমাকে এখানে এনেছিলেন। আমি যে উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলাম তা সফল হল না।’

    রাহিল একবার ভাবল সে প্রশ্ন করে তার উদ্দেশ্যটা কী ছিল? কিন্তু কথা না বাড়াবার জন্য প্রশ্ন করার থেকে বিরত রইল সে। এমনিতেই বিকর্নার উপস্থিতিতে অস্বস্তি বোধ করছে সে।

    রাহিল একসময় কিছুটা তফাত থেকে দেখতে পেল মাহবার কাজের জায়গাতে আলো জ্বলছে। মন্দিরের পশ্চাদভাগে যাবার আগে সে একবার এগোল সেদিকে। ঠিক এমন সময় বিকর্না হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা, আমাকে তোমার কেমন লাগে?’

    প্রশ্নটা শুনে রাহিল বেশ ঘাবড়ে গেলেও সৌজন্যতাবশত সে সংক্ষিপ্ত জবাব দিল—’ভালো’।

    জবাব শুনে অন্ধকারে যেন হাসি ফুটে উঠল বিকর্নার মুখে। সে এরপর আর রাহিলকে অনুসরণ করল না। যে পথে সে এসেছিল সে পথেই ফিরে গেল অন্ধকারে।

    রাহিল এসে দাঁড়াল মাহবার কাজের জায়গাতে। মশালের আলোতে কাজ করছেন বৃদ্ধ ভাস্কর। প্রস্তরখণ্ডের গায়ে মিত্রাবৃন্দার প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। ছেনি দিয়ে খুব সাবধানে আঁচড় কাটছেন ভাস্কর মাহবা।

    রাহিলকে দেখে বৃদ্ধ শিল্পী মৃদু হেসে বললেন, ‘সম্রাটের নির্দেশ, দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। তাই সূর্য ডোবার পরও মন্দির-প্রাঙ্গণে থাকতে হবে আমাকে।’

    রাহিল জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, অনুদেব আমাকে বলেছেন যে সূর্য ডোবার পরও মন্দির-প্রাঙ্গণে কাজ করবে শিল্পীরা।’

    সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কাজ দেখার পর রাহিল এগোল মন্দিরের পশ্চাদংশের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়
    Next Article সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }