Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খাজুরাহ সুন্দরী

    ঐতিহাসিক হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প179 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯

    ভোরের আলো ফুটল একসময়। কুয়াশা তখনও ভালোভাবে কাটেনি। রাহিল দেখতে পেল মন্দির-চত্বরে উঠে এলেন অনুদেব। এত ভোরে তিনি সাধারণত মন্দিরে উপস্থিত হন না। তিনি সাধারণত উপস্থিত হন আরও কিছু সময় পর মন্দির-প্রাঙ্গণে শিল্পী-মজুরদের দল উপস্থিত হলে। চত্বরে উঠে তিনি দ্রুত প্রবেশ করলেন মন্দিরের অন্ত:পুরে। তিনি মন্দিরের ভিতরে অন্ত:পুরে প্রবেশ করার পর রাহিল এসে দাঁড়াল সেই প্রবেশপথের সামনের চত্বরে। নিত্যদিন সেখানে এসে সমবেত হয় ভাস্কর-মজুরের দল। চিত্রবান এসে তাদের দৈনন্দিন কাজ বুঝিয়ে দেন।

    একসময় মজুরের দল ধীরে ধীরে এসে উপস্থিত হতে লাগল সেখানে। চিত্রবানও সেখানে উপস্থিত হলেন। আর এরপরই অনুদেব মন্দিরের অন্ত:পুর ত্যাগ করে বেরিয়ে এলেন। বাইরে তিনি মুখোমুখি হয়ে গেলেন রাহিল আর চিত্রবানের। মুহূর্তের জন্য যেন একবার অপ্রস্তুত ভাব ফুটে উঠল অনুদেবের মুখে। কিন্তু তারপরই তিনি নিজেকে যেন সামলে নিয়ে বললেন, ‘অতি প্রত্যুষে নিদ্রাভঙ্গ হল। নগরীতে যেতে হবে আমাকে। ভাবলাম তার আগে একবার মন্দিরটা ঘুরে যাই। মন্দির-প্রাঙ্গণ তো সৈনিকবেষ্টিত থাকে। অন্ত:পুরটাই অরক্ষিত। তাই ভিতরে প্রবেশ করে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করে এলাম। এ কথাগুলো চিত্রবানের উদ্দেশ্যে বলে রাহিলকে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘রাত প্রহরার সময় সন্দেহজনক কিছু দৃষ্টিগোচর হয়েছে?’

    রাহিল সংক্ষিপ্ত জবাব দিল—’না।’

    রাহিলের উদ্দেশ্যে আবার তিনি প্রশ্ন করলেন—’রাত প্রহরার সময় মন্দিরের পশ্চাদভাগে প্রদক্ষিণ করেছিলেন?’

    রাহিল জবাব দিল, ‘সৈনিকরা সে অংশ প্রদক্ষিণ করেছে, আমিও সে অংশে গেছিলাম। সেখানেও কোনও সন্দেহজনক ঘটনা দৃষ্টিগোচর হয়নি।’

    অনুদেব এরপর চিত্রবানকে বললেন, ‘আমি নগরীর উদ্দেশ্যে রওনা হব। আশা করছি উগ্রায়ুধের সঙ্গে কথা বলে সৈন্য আনয়নের ব্যবস্থা করতে পারব। মূর্তি নির্মাণের কাজে যেন কোনও গাফিলতি না হয়। এ কাজ আর কূপ খননের কাজ আগামীকাল সূর্যাস্তের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়া চাই। সর্বত্র দৃষ্টি রাখবেন আপনি। আমি সূর্যাস্তের পূর্বেই আবার মন্দিরে ফিরে আসব।’

    প্রধান ভাস্কর চিত্রবান মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি প্রকাশ করলেন তাঁর কথায়।

    পুরোহিত অনুদেব এবার পা বাড়ালেন মন্দির-চত্বর থেকে নির্গমনের উদ্দেশ্যে। ঠিক সেই সময় উপস্থিত জমায়েতের মধ্যে থেকে একজন মজুর হঠাৎ মন্দিরের শীর্ষদেশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘আবার ওরা ফিরে এসেছে।’

    মৃদু কলরব উঠল উপস্থিত মজুরদের মধ্যে। থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন অনুদেব। মজুরদের দৃষ্টি অনুসরণ করে অনুদেবসহ রাহিলরা দেখল মন্দিরগাত্রে মাথার ওপরের একটা তাকে বসে আছে দুটো কৃষ্ণবানর!

    তাদের দেখে চিত্রবান বিস্মিতভাবে বলে উঠলেন, ‘সঙ্গীর মৃত্যুর পরও ওরা ফিরে এল এখানে!’

    প্রধান পুরোহিত অনুদেব প্রথমে তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সম্ভবত রাতের অন্ধকারে সবার অগোচরে এখানে ফিরে এসেছে ওরা।’

    ‘খাদ্যের লোভে?’ জানতে চাইলেন চিত্রবান।

    অনুদেব জবাব দিলেন, ‘বনভূমিতে ওদের পর্যাপ্ত খাদ্য আছে। খাদ্যের সন্ধানে নয়। ওরা এখানে ফিরে এসেছে নারী-যোনির-লোভে। ওরা তো ইতর শ্রেণির প্রাণী মাত্র, ইতর অবমানব। সহস্র বৎসর ধরে মানব সমাজের মধ্যে অর্থ সম্পদ অর্জনের জন্য যে লড়াই চলে আসছে তা তো শেষ পর্যন্ত ওই মানবীযোনি লাভের জন্যই। প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে শেষ অভিষ্ট তো ওই নারী-যোনিই।’

    রাহিলের হঠাৎ মনে পড়ে গেল তিরবিদ্ধ সেই অবমানবের কথা। মৃত্যুর পরও তার উত্থিত শীষ্ণদেশ কাঁপছিল আকাশের দিকে চেয়ে।

    চিত্রবান প্রধান পুরোহিতের কথা শুনে প্রশ্ন করল, ‘এখন কী কর্তব্য? সেই ব্যাধদের আবার মন্দির প্রাঙ্গণে আনয়ন করবেন? আমার কিন্তু স্থির বিশ্বাস যে ওরাই কিন্তু প্রস্তরখণ্ডের আঘাতে হত্যা করেছিল মন্দির-রক্ষীবাহিনীর লোকটাকে।’

    প্রধান স্থপতি ভাস্করের কথা শুনে কিছু সময় কী যেন ভাবলেন প্রধান পুরোহিত। তারপর বললেন, ‘সুরসুন্দরীদের মূর্তি নির্মাণের কাজ, কূপ খননের কাজ আগামীকাল সূর্যাস্তের মধ্যে শেষ করতে হবে। ব্যাধের দল কৃষ্ণবানরদের ধরার জন্য মন্দিরে এলে সেসব কাজের গতি ব্যাহত হতে পারে। হয়তো বা প্রাণরক্ষার জন্য তখন ওই অবমানবের দল মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। সুরসুন্দরীরা তো মন্দির প্রাঙ্গণে আসছে না তাই আপাতত ওই বানরদের নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। আপাতত ওদের শান্ত রাখা প্রয়োজন। প্রকটাক্ষকে বলে ওদের জন্য কদলির ব্যবস্থা করছি আমি। প্রাঙ্গণের নীচের চত্বরেই সে আছে। আর এক-দুদিনের মধ্যেই বৃহৎ সৈন্যবাহিনী আসবে। তিরন্দাজও থাকবে সে দলে। তারা এসে নিধন করবে ওই কৃষ্ণবানরদ্বয়কে। তারপর নতুন সুরসুন্দরীরূপে যারা নির্বাচিত হবে তাদের নিয়ে উন্মুক্ত মন্দির-প্রাঙ্গণে কাজ করতে অসুবিধা হবে না ভাস্করদের।’—এ কথা বলে তিনি রওনা হলেন মন্দির পরিত্যাগ করার জন্য। রাহিল আর চিত্রবানের মধ্যে একবার মৃদু দৃষ্টি বিনিময় হল। চিত্রবান এরপর দৈনন্দিন কাজ বুঝিয়ে দিতে লাগলেন মজুরদের। সাময়িক বিশ্রাম লাভের আশায় রাহিল এগোল তার বিশ্রামকক্ষের দিকে। কক্ষে ফেরার পর মিত্রাবৃন্দার কথা ভাবতে ভাবতে একসময় পরিশ্রান্ত রাহিলের চোখে ঘুম নেমে এল। সে স্বপ্ন দেখতে লাগল সে আর মিত্রাবৃন্দা ঘুরে বেড়াচ্ছে এক কুসুমকাননে। কতরকম ফুল ফুটে আছে, ফুলের সৌরভে আমোদিত চারপাশ।

    ঘুরতে ঘুরতে মিত্রা একসময় রাহিলকে বলল, ‘তোমার জন্য আমি মালা গাঁথব।’—এ কথা বলার পর রাহিলকে দাঁড় করিয়ে রেখে সে এগোল পুষ্পশোভিত বৃক্ষর দিকে। কিন্তু কয়েক পা এগিয়েই সে আতঙ্কে চিৎকার করে বলে উঠল, ‘ওই যে! ওই যে!’ রাহিল দেখতে পেল সেই বৃক্ষর আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে এক কদাকার কৃষ্ণবানরের মুখ। তার দৃষ্টিতে প্রকট কামলালসা। রাহিল সঙ্গে সঙ্গে তলোয়ার কোষমুক্ত করে ছুটে গেল সে জায়গাতে। মিত্রাকে ধরার জন্য বৃক্ষর আড়াল থেকে ঝাঁপ দিল সেই কামুক বানর। কিন্তু সে তাকে স্পর্শ করার আগেই রাহিল তার বুকে তলোয়ার বসিয়ে দিল। মাটিতে ছিটকে পড়ে বীভৎস মরণার্তনাদ করে উঠল সেই বানর। আর সেই আর্তনাদে যেন প্রলয়নাচন শুরু হল আশেপাশের বৃক্ষ শাখাগুলোতে।

    প্রথমে প্রবল আন্দোলন শুরু হল গাছগুলোর মাথায়, তারপর সেই ওপর থেকে লাফ দিয়ে নামতে লাগল কৃষ্ণবানরের দল। রাহিল মিত্রার হাত ধরে বলল, ‘চলো এখান থেকে পালাতে হবে।’

    ছুটতে শুরু করল তারা। কানন জঙ্গল ভেদ করে ছুটে চলল তারা। আর তাদের পিছনে বীভৎস চিৎকার করে ছুটে চলল কৃষ্ণবানরের দল।

    একসময় তাদের চোখে পড়ল এক মন্দির। রাহিল তা দেখে বলল, ‘আরে এ তো লক্ষণ মন্দির! আর তার ওপাশেই কান্ডারীয় মন্দির। সেখানে আমার সেনা আছে। তুমি লক্ষণ মন্দিরে আত্মগোপন করো। আমি তোমাকে সেনা নিয়ে এসে উদ্ধার করছি।’ তার কথা শুনে মিত্রা ছুটতে শুরু করল লক্ষণ মন্দিরের দিকে। কিন্তু কিছুটা এগিয়েই সে হঠাৎ যেন অদৃশ্য হয়ে গেল। ভেসে এল তার আর্তনাদ! কী হল তার? রাহিল সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল সে জায়গাতে। সে দেখল সদ্য নির্মিত এক গভীর কূপের মধ্যে পড়ে গেছে মিত্রাবৃন্দা। তার ওপরে ওঠার পথ নেই।

    মিত্রাবৃন্দা নীচ থেকে ক্ষীণ কণ্ঠে রাহিলের উদ্দেশ্যে বলল, ‘তুমি পালিয়ে যাও। নইলে দু-জনকেই হত্যা করবে অবমানবের দল।’ রাহিল বলে উঠল, ‘না, আমি তোমাকে ফেলে কোথাও যাব না।’ ঠিক এই সময় আশপাশ থেকে শোনা গেল কৃষ্ণবানরদের চিৎকার, পদশব্দ। কূপের ভিতর থেকে মিত্রা আবার কাতর অনুরোধ জানাল—’পালাও সৈনিক, পালাও।’ কূপ আগলে তলোয়ার হাতে কৃষ্ণবানরদের জন্য প্রস্তুত হল রাহিল। এসে পড়ল কৃষ্ণবানরেরা। কিন্তু তাদের দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল রাহিল।

    ঘন কৃষ্ণবর্ণের দীর্ঘ রোমে আবৃত তাদের শরীর, আর সেই ধড়ের ওপর বসানো আছে শিখাধারী অনুদেবের মাথা! অনেক অনেক কৃষ্ণবানররূপী অনুদেব কামার্ত-হিংস্র দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে। একজন অনুদেব তাকে আক্রমণ করার জন্য এগিয়ে আসতেই রাহিল তলোয়ারের এক কোপে তার মাথা কেটে ফেলল। সেই ছিন্ন মুণ্ড ছিটকে পড়ল কূপের গভীরে…

    ঘুম ভাঙার পর রাহিল বেরিয়ে এল মন্দির-চত্বরে। এক জায়গায় প্রাোথিত আছে সময়স্তম্ভ। তার ছায়া দেখে রাহিল বুঝতে পারল দ্বিপ্রহর হতে চলেছে। মন্দির তাকে একঝলকের জন্য এক কৃষ্ণবানরকে দেখল সে।

    কিছু সময় প্রাঙ্গণে ঘুরে রাহিল মন্দিরের অন্ত:পুরে প্রবেশ করল। ভাস্কর মাহবার কক্ষে প্রবেশ করে রাহিল দেখল সেখানে মিত্রাবৃন্দাকে নিয়ে এসেছেন মাহবা। রাহিলকে দেখে মাহবা বললেন আপনারা এই কক্ষে আলোচনা করুন, আমি দ্বারের বহির্দেশে দাঁড়িয়ে আছি। কেউ এদিকে এলে সতর্ক করে দেব। অনুদেব মন্দিরে নেই ঠিকই, কিন্তু তিনি সম্ভবত প্রকটাক্ষকে নিয়োজিত করে গেছেন নজরদারির জন্য। সে সাধারণত মন্দিরের অন্ত:পুরে থাকে না, কিন্তু আজ তাকে সুরসুন্দরীদের আবাসস্থলের চারপাশে ঘুরে বেড়াতে দেখলাম।’ কক্ষ ত্যাগ করলেন মাহবা।

    কক্ষের এক কোণে আনতভাবে দাঁড়িয়ে ছিল মিত্রাবৃন্দা। রাহিল তার সামনে এগিয়ে গিয়ে তার হাত স্পর্শ করল। রাহিলের দিকে মুখ তুলে চাইল মিত্রা। তার আয়ত চক্ষুতে জেগে আছে বিষণ্ণতা। রক্তিম ওষ্ঠাধার মৃদু মৃদু কাঁপছে। রাহিলকে দেখে আবছা হাসি জেগে উঠল তাঁর ঠোঁটে। বেশ কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ ভাবে তারা তাকিয়ে পরস্পরের দিকে। মিত্রাবৃন্দা তারপর বলল, ‘আমার মুক্তি হবে না। তুমি আর আমার কথা ভেবো না।’

    রাহিল প্রশ্ন করল, ‘কেন?’

    মিত্রা বলল, ‘আজ সূর্যোদয়ের পর আমার কক্ষে এসেছিলেন অনুদেব। তিনি বলেছেন তার শয্যাসঙ্গিনী হলে সম্রাটকে বলে তিনি আমার মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। তার প্রস্তাবে সম্মত না হলে আমার মৃত্যু ঘটবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার জন্য তিনি আমাকে আগামীকাল সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।’

    রাহিল কি শেষ পর্যন্ত মাহবা ও চিত্রবানের সাহায্যে মিত্রাবৃন্দাকে রক্ষা করতে পারবে? অসীম ক্ষমতার অধিকারী রাজপুরোহিত অনুদেব। স্বয়ং মহাসম্রাট বিদ্যাধর তার পৃষ্ঠপোষক। বিশাল সম্রাটবাহিনীর সামনে তো শুষ্ক তৃণখণ্ডের মতো রাহিল-মাহবা-চিত্রবানেরা। তাদের পরিকল্পনা কতটুকু সফল হবে জানা নেই রাহিলের। এসব ভেবে নিয়ে রাহিল বলল, ‘তুমি সম্মত হও প্রধান পুরোহিতের প্রস্তাবে। তাতে তুমি মুক্তি পাবে কিনা জানি না, কিন্তু হয়তো তোমার প্রাণরক্ষা হবে।’

    মিত্রা তার কথা শুনে তার হাতটা সজোরে আঁকড়ে ধরে বিষণ্ণ হেসে বলল, ‘তা সম্ভব নয় সৈনিক। সে কথা আমি সেই মুহূর্তেই জানিয়ে দিয়েছি। আমার এই সামান্য ক্রীতদাসীর জীবনের আর কী মূল্য আছে। তোমার কটিদেশের ওই ছুরিকা আমাকে দাও। সে যদি আমাকে আলিঙ্গন করতে আসে তাহলে ওই ছুরিকা আমি নিজের বুকে বসিয়ে দেব।’

    রাহিল বলে উঠল, ‘না, এ হতে দেব না আমি। যতক্ষণ এ সৈনিকের দেহে প্রাণ আছে ততক্ষণ তোমাকে রক্ষা করব আমি।’

    মিত্রা বলল, ‘আমি তুচ্ছ নারী। আমার জন্য তুমি নিজের জীবন বিপন্ন কোরো না সৈনিক। তুমি জেনো আমি তোমারই রইলাম।’—আবেগমোথিত কণ্ঠস্বরে কথাগুলো বলে থরথর করে কাঁপতে লাগল মিত্রাবৃন্দা।

    ঠিক এই সময় ভাস্কর মাহবা কক্ষে প্রবেশ করে বললেন, ‘সতর্ক হন, প্রকটাক্ষ এদিকে আসছে!’

    রাহিল শুধু মিত্রাবৃন্দাকে বলল, ‘তোমাকে মুক্ত করব আমি। ভাস্কর মাহবার নির্দেশের প্রতীক্ষা কোরো।’

    মিত্রাবৃন্দা এরপর তার নির্দিষ্ট জায়গাতে গিয়ে দাঁড়াল। আর মাহবা তার প্রস্তরমূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে হাতে লৌহশলাকা তুলে নিল। যেন এতক্ষণ ধরে মিত্রাবৃন্দার মূর্তি রচনা করছিলেন তিনি। আর এর পরই প্রকটাক্ষ কক্ষে প্রবেশ করল।

    সে রাহিলকে সে-কক্ষে দেখে একটু বিস্মিতভাবে বলল, ‘সৈনাধ্যক্ষ, আপনি এ-কক্ষে!’

    রাহিল প্রথমে জবাব দিল, ‘কক্ষগুলো পরিভ্রমণ করতে করতে এখানে উপস্থিত হলাম। ভাস্করের কাজ দেখছি।’—এ কথা বলে সে পালটা প্রশ্ন করল, ‘তুমি তো অন্ত:পুরে আসো না? কার অনুসন্ধানে এখানে এলে?’

    মন্দির-রক্ষীবাহিনীর প্রধান প্রকটাক্ষ জবাব দিল, ‘প্রভু অনুদেব আমাকে মন্দিরের অন্ত:পুরে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলে গেছেন। তাই আমিও কক্ষ পরিভ্রমণ করছি।’

    এ কথা বলার পরই হঠাৎ তার ঘূর্ণায়মান প্রকটাক্ষদ্বয় স্থির হয়ে গেল মিত্রাবৃন্দা যেখানে দণ্ডায়মান সেখানে মাটির দিকে তাকিয়ে। তারপর সে বলে উঠল, ‘কিন্তু এ কী! এ অবস্থায় সুরসুন্দরীদের মূর্তি নির্মাণ তো শাস্ত্রমতে নিষিদ্ধ।’

    তার কথা শুনে মাহবা আর রাহিল তার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকাল মাটির দিকে। মিত্রাবৃন্দা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, দাঁড়িয়ে আছে সে জায়গাতে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ে আছে। মিত্রাবৃন্দা বর্তমানে রজ:স্বীলা। রাহিলের সঙ্গে মুহূর্তের জন্য দৃষ্টি বিনিময় হল মিত্রার। প্রগাঢ় লজ্জায় সঙ্গে সঙ্গে মাথা নত করল সে।

    ব্যাপারটা ধরতে পেরে বৃদ্ধ ভাস্কর মাহবা প্রকটাক্ষকে বললেন, ‘রজস্বীলা অবস্থায় সুরসুন্দরীদের মূর্তি তৈরি নিষিদ্ধ আমি জানি। কিন্তু প্রধান পুরোহিতের নির্দেশ, আগামীকাল সূর্যাস্তের মধ্যে সুরসুন্দরীদের মূর্তি রচনার কাজ শেষ করতে হবে। তাই এ কাজ করছি আমি।’—এই বলে তিনি মূর্তি রচনার কাজে নিয়োজিত হলেন। তার কথা শুনে প্রকটাক্ষ কোনও মন্তব্য করল না। কিন্তু সে কক্ষের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল। এ কক্ষে রাহিলের দীর্ঘ উপস্থিতি প্রকটাক্ষর মাধ্যমে অনুদেবের কানে গেলে তাঁর মনে সন্দেহর উদ্রেক হতে পারে। তাই রাহিল কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই কক্ষ ত্যাগ করল।

    সূর্যাস্তের কিছু পূর্বে প্রধান পুরোহিত মন্দিরে প্রত্যাগমন করলেন। রাহিল, চিত্রবান, প্রকটাক্ষ উপস্থিত হল তার সামনে। অনুদেব প্রথমে জানতে চাইলেন, সুরসুন্দরীদের মূর্তি নির্মাণের অগ্রগতি সম্বন্ধে।

    চিত্রবান তাকে জানালেন, ‘দুটি মূর্তি বাদে বাকি সব মূর্তি নির্মাণের কাজই শেষ হয়ে গেছে। বাকি দুটির কাজও কাল অপরাহ্নের মধ্যে শেষ হবে বলে ভাস্কররা জানিয়েছে।’

    প্রধান পুরোহিত প্রশ্ন করলেন, ‘কোন দুটি মূর্তি?’

    চিত্রবান জবাব দিলেন, ‘ভাস্কর স্থূলকোটি যে মিথুন মূর্তি রচনা করছেন সেটি এবং ভাস্কর মাহবা যে সুরসুন্দরী মূর্তি রচনা করছেন সেটি।’

    প্রধান পুরোহিত বললেন, ‘প্রয়োজনবোধে তাদের আজ সারারাত মূর্তি নির্মাণে নিয়োজিত থাকতে নির্দেশ দিন। যে-কোনও উপায়ে আগামীকাল সূর্যাস্তের মধ্যে মূর্তি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।’

    চিত্রবান জানতে চাইলেন, ‘সৈন্য আনয়নের কাজ কী হল?’

    প্রধান পুরোহিত জবাব দিলেন, ‘মহাসৈনাধ্যক্ষ উগ্রায়ুধ সে ব্যবস্থা করছেন। এক সহস্র সৈন্য তার নেতৃত্বে কাল রাতের মধ্যেই এসে উপস্থিত হবে। ওই অরণ্যর অভ্যন্তরে যে ফাঁকা স্থান আছে সেখানেই রাত্রিবাস করবে। পরদিন সূর্যোদয়ের সময় তারা মন্দিরে প্রবেশ করবে। মন্দিরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে অর্ধেক সেনা নিয়ে নগরীতে ফিরে যাবেন উগ্রায়ুধ। অর্ধেক সেনা এখানেই রয়ে যাবে। হয়তো ফেরার সময় আপনাদের সঙ্গী করবেন তিনি।’ এই বলে তিনি তাকালেন রাহিলের দিকে।

    সূর্য ডুবতে চলেছে। সারা দিনের পরিশ্রম শেষে মজুরের দল সারিবদ্ধ হচ্ছে মন্দির-চত্বর ছেড়ে তাদের জীর্ণ কুটিরে ফিরে যাবার জন্য। সেদিকে তাকিয়ে অনুদেব বললেন, ‘আপনারা এবার রাতপ্রহরার জন্য প্রস্তুত হন। আজ আর কালকের রাতটাই শুধু। নতুন সেনাদল এলে আপনারা ভারমুক্ত হবেন। আগামীকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আমি মন্দিরে প্রবেশ করব।’—একথা বলে প্রকটাক্ষকে তাকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে অনুদেব এগোলেন মন্দির ত্যাগ করার জন্য।

    তিনি প্রকটাক্ষকে নিয়ে চলে যাবার পর অন্যদিকে যাবার আগে চিত্রবান চাপা স্বরে রাহিলকে বলে গেলেন, ‘নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হব।’ তিনি চলে যাবার পর রাত্রি জাগরণের প্রস্তুতি শুরু করল রাহিল। সে প্রথমে এক জায়গাতে সমবেত করল তার সেনাদলকে। সে তাদের বলল, ‘আজ রাত্রে তোমরা মন্দিরের সম্মুখ ভাগে নিয়োজিত থাকবে। পশ্চাদভাগে যাবার দরকার নেই। ওখানে প্রহরার কাজে একলা নিয়োজিত থাকব আমি।’

    একজন সৈনিক জানতে চাইল, ‘একলা কেন?’

    রাহিল বলল, ‘রক্ষীবাহিনীর লোকটাকে যদি কোনও মানুষ হত্যা করে থাকে তবে সে নিশ্চই নির্দিষ্ট কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে মন্দিরের পশ্চাদভাগে হানা দিয়েছিল বা তাকের ওপর উঠেছিল। আমি মন্দিরের পশ্চাদভাগে আত্মগোপন করে থাকব। তোমরা কেউ মন্দিরের ওই অংশে না গেলে ওই স্থানকে অরক্ষিত মনে করে আবার হানা দিতে পারে। তখন আমি তাকে বন্দি করব। প্রয়োজনবোধে তোমাদের ডাকব। আমি একটা ফাঁদ পাততে চাইছি তার জন্য। আমাদের হয়তো আর ক’দিনের মধ্যে এ মন্দির ছেড়ে চলে যেতে হবে। যাবার আগে হত্যাকারীকে ধরতে পারলে পুরস্কৃত হবার সম্ভাবনা আছে এ বাহিনীর।’

    সৈনিকরা আশ্বস্ত হল তার কথায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার নামল। তারপর একসময় চাঁদ উঠল ঠিকই, কিন্তু সেই প্রায় অদৃশ্য চাঁদের আলো মন্দিরে এসে পৌঁছোচ্ছে না। সৈনিকের দল মশাল জ্বালিয়ে মন্দিরের সম্মুখভাগে প্রদক্ষিণ শুরু করল। রাহিল তাদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করল। তারপর অন্ধকার ভেঙে মন্দিরের পশ্চাদভাগে উপস্থিত হল। মাথার ওপরের সেই তাকে দণ্ডায়মান অস্পষ্ট নারীমূর্তির দিকে তাকিয়ে রাহিল ভাবতে লাগল মিত্রাবৃন্দার কথা। প্রহর এগিয়ে চলল। এক প্রহরে দূরের বনভূমিতে প্রহর ঘোষণা করল শৃগালের দল। ঠিক সেই সময় রাহিল দেখতে পেল দুই ছায়ামূর্তি উপস্থিত হয়েছে মাথার ওপরের সেই তাকে। চিত্রবান আর মাহবা। তারা যেন হাত নেড়ে উপরে উঠে আসতে বললেন রাহিলকে। তাদের দেখার পরই পশ্চাদভাগ দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করল রাহিল।

    তারপর গতরাতের মতোই সোপানশ্রেণি দিয়ে ওপরে উঠে দেওয়ালগাত্র বেয়ে তাকে পৌঁছে, সুড়ঙ্গপথে রাহিল পৌঁছে গেল সেই গোপন কক্ষে। গতরাতের মতোই মশাল জ্বলছে সেখানে।

    দুই ভাস্কর সেখানে সেই ফলকে খোদাইয়ের কাজ করছিলেন। রাহিল সেখানে উপস্থিত হলে কাজ থামালেন তারা। রাহিলকে ফলকটা দেখিয়ে চিত্রবান বললেন, ‘শ্রমিক-ভাস্করদের নাম উৎকীর্ণ করার কাজ শেষ। সুরসুন্দরীদের নামও এই ফলকে খোদিত করে যাব আমরা। তারাও তো শ্রমিক, যৌন শ্রমিক। সে কাজটুকুও রাতের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।’

    রাহিল বলল, ‘কিন্তু, মিত্রাবৃন্দা ও সুরসুন্দরীদের মুক্তির কী উপায় হবে? আজ সূর্যোদয়ের সময় মিত্রাবৃন্দার কক্ষে গেছিলেন অনুদেব। তিনি তাকে তাঁর কামলালসা নিবৃত্ত করার কথা বলেছেন। নচেৎ তার মৃত্যু নাকি অবশ্যম্ভাবী। আমি মিত্রাবৃন্দাকে পুরোহিতের প্রস্তাবে রাজি হতে বলেছিলাম তাতে যদি তার প্রাণরক্ষা পায় সেজন্য। কিন্তু মিত্রাবৃন্দা অসম্মত সে প্রস্তাবে। সে সেকথা জানিয়েছে অনুদেবকে। তবু তিনি আগামীকাল সূর্যাস্ত পর্যন্ত আর একবার ভেবে দেখার সময় দিয়েছেন মিত্রাবৃন্দাকে।’

    বৃদ্ধ ভাস্কর মাহবা বললেন, ‘মিত্রাবৃন্দা যদি অনুদেবের প্রস্তাবে রাজিও হয় তবুও তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। এ ঘটনা মিত্রাবৃন্দার মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রচার হলে কলঙ্ক লাগবে অনুদেবের গায়ে, তার প্রতিষ্ঠায়। অকৃতদার অনুদেব সব রিপুকে জয় করেছেন বলে প্রচারিত। তার সেই ভাবমূর্তিকে সম্রাটের সামনে রক্ষা করতে সে তার যৌনলালসা মোচনের পর হত্যা করবে মিত্রাবৃন্দাকে। তারপর তার দায় চাপাবে মানবী-যোনি-লোভি ওই দুই কৃষ্ণবানরের ওপর। ঠিক যেভাবে তিনি ওই তান্ত্রিক যোগীর বামার হত্যার দায় চাপিয়েছিলেন কৃষ্ণবানরদের ওপর। ওই মৃতা নারীর হাতে ধর্ষক-হত্যাকারীর চিহ্ন স্বরূপ যে ছিন্ন উপবীত ধরা ছিল সে উপবীত আসলে অনুদেবেরই। এ মন্দিরে একমাত্র তিনিই উপবীত ধারণ করেন। প্রাথমিক অবস্থায় তিনি কৃষ্ণবানরদের নিধনের চেষ্টা করলেও পরবর্তী সময় তাঁর মাথায় নিশ্চই আবারও এ পরিকল্পনা খেলেছে। সেজন্যই তিনি প্রকটাক্ষকে নির্দেশ দিলেন কদলি ছড়া দিয়ে কৃষ্ণবানরদের আপ্যায়ন করার জন্য।’—একটানা কথাগুলো বলে থামলেন বৃদ্ধ ভাস্কর।

    ‘তবে? আপনাদের কী পরিকল্পনা?’ জানতে চাইল রাহিল।

    প্রধান ভাস্কর চিত্রবান বললেন, ‘আগামীকাল সূর্যাস্ত পর্যন্ত মিত্রাবৃন্দা নিরাপদ। তারপর আপনি মিত্রাবৃন্দা ও অন্য নারীদের নিয়ে মন্দির ত্যাগ করে অরণ্য প্রদেশ দিয়ে চলে যাবেন কলচুরি সীমান্তে। অমাবস্যার রাতে আপনাদের সন্ধান পাবে না সম্রাটের সেনারা।’

    রাহিল বলল, ‘কিন্তু আমি তো সে পথ চিনি না। আর কলচুরিরাই বা আমাদের আশ্রয় দেবে কেন?’

    প্রধান ভাস্কর জবাব দিলেন, ‘ওই অরণ্যপ্রদেশে একদল যাযাবর উপজাতি উপস্থিত হয়েছে যারা প্রকৃতপক্ষে কলচুরিদের গুপ্তচর। আমি একজনকে পাঠিয়েছিলাম তাদের কাছে। হীরকখণ্ডের বিনিময়ে তারা আপনাদের কলচুরিদের রাজধানী ত্রিপুরীতে পৌঁছে দিতে সম্মত হয়েছে। অরণ্যে প্রবেশ করার পর রাতের অন্ধকারে তারাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে আপনাদের। যারা মহারাজ বিদ্যাধরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে কলচুরিরা তাদের আশ্রয় দেয়।’

    ‘আর আপনারা?’

    মাহবা বিষণ্ণ হেসে বললেন, ‘এতজন মজুর-ভাস্করদের নিয়ে একসঙ্গে কি পালিয়ে যাওয়া সম্ভব? চান্দেলবাহিনীর হাতে সবাই ধরা পড়ে যাব। আমরা দুজন হয়তো আপনার সঙ্গী হতে পারতাম। কিন্তু তাদের এখানে ফেলে রেখে আমরা যাই কীভাবে? আমরা এখানেই থাকব। তাদের ভাগ্যর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে আমাদের ভাগ্য। শুনছি কলচুরি আর প্রতিহাররা সম্মিলিতভাবে নাকি চান্দেলরাজ্যে আক্রমণ হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি তেমন কিছু ঘটে তখন হয়তো মুক্তি পাব আমরা…’

    তাঁর কথা শুনে রাহিল বলল, ‘আপনাদের কথা বুঝলাম, কিন্তু মন্দির- রক্ষীবাহিনী বা অনুদেবের চোখ এড়িয়ে আমরা মন্দির পরিত্যাগ করব কীভাবে?’

    চিত্রবান এ প্রশ্নর জবাব দিলেন, ‘আপনার সৈন্যরা কি আপনার নির্দেশ পালন করে চলবে? যদি তাদের উৎকোচ হিসাবে হীরকখণ্ড দেওয়া হয় তবে কি তারা আপনাকে অনুসরণ করবে? আমাদের পরিকল্পনার সফলতার ক্ষেত্রে এটা জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।’

    রাহিল একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘তারা আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। তা ছাড়া সৈনাধ্যক্ষর নির্দেশ পালন করে অধস্তন সৈনিকরা। যতক্ষণ না আমার চেয়ে উচ্চপদমর্যাদার কোনও সৈনাধ্যক্ষ এসে আমার নির্দেশ খণ্ডন করছে ততক্ষণ তারা আমার আজ্ঞাবাহী। এটাই নীতি প্রত্যেক যুদ্ধব্যবসায়ীর কাছে।’

    চিত্রবান বললেন, ‘আপনার সেনারাই প্রতিহত করবে মন্দির-রক্ষীদের। প্রধান পুরোহিতকে সাহায্য করতে প্রকটাক্ষর নেতৃত্বে একমাত্র তারাই বাধার সৃষ্টি করতে পারে আপনাদের। আর এ কাজে সহায়তা করার জন্য আপনার সৈনিকদের একটা করে হীরকখণ্ড দেবেন। যার মূল্য একজন যুদ্ধব্যবসায়ীর সারা জীবনের উপার্জন থেকে অনেক বেশি।’

    রাহিল বিস্মিতভাবে বলল, ‘আপনারা বারবার হীরকখণ্ডের কথা বলছেন, কিন্তু তা আমি সংগ্রহ করব কীভাবে?’

    চিত্রবান তার পোশাকের ভিতর থেকে একটা ছোট চর্মথলি বার করলেন। তার মুখ উন্মোচিত করতেই মশালের আলোতে ঝলমল করে উঠল তার ভিতরে থাকা হীরকখণ্ডগুলো। চিত্রবান বললেন, ‘বিকর্না আমাকে দিয়েছে। যদিও সামান্যই আমি এ জিনিস সংগ্রহ করেছি তার কাছ থেকে।’

    বিস্ময়ের যেন শেষ নেই রাহিলের। সে বলল, ‘বিকর্না হীরকখণ্ডগুলো কেন দিল আপনাকে?’

    চিত্রবান বললেন, ‘কাল শেষ রাতে যখন এ কক্ষ ত্যাগ করে মন্দিরের অন্ত:পুর থেকে নির্গত হতে যাচ্ছি তখন আমরা দুজন মুখোমুখি হয়ে গেলাম। ভূগর্ভ থেকে হীরকপূর্ণ স্বর্ণকলস নিয়ে মন্দিরেরই কোনও কক্ষে তা লুকিয়ে রাখার জন্য মন্দিরে প্রবেশ করছিল বিকর্না। সে ভয় পেয়ে গেল আমার হাতে ধরা পড়ে গিয়ে। আমি অবশ্য সামান্য কিছু হীরকখণ্ড নিয়ে কলস ফিরিয়ে দিলাম বিকর্নাকে। ব্যাপারটা অনুদেবের কাছে গোপন থাকবে এ ব্যাপারে আমরা পরস্পরের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাল সূর্যাস্তের পর সে-ও মন্দির ত্যাগ করবে। তবে সে আপনাদের সঙ্গে যাবে না। সে যাবে হিমালয়ের পাদদেশে চম্বা রাজ্যে। সেখানে সে সেই সম্পদ দিয়ে কোনও সম্ভ্রান্ত সুন্দর পুরুষকে প্রলুব্ধ করে তার সঙ্গে ঘর বাঁধবে। আমাকেও সে তার সঙ্গী হবার প্রস্তাব দিয়েছিল।

    রাহিল বলল, ‘আমাকেও সে একই প্রস্তাব দিয়েছিল।’

    চিত্রবানের কথা শেষ হলে মাহবা বললেন, ‘আমার ধারণা সূর্যাস্ত হলেই অনুদেব উপস্থিত হবেন মিত্রাবৃন্দার কক্ষে। মিত্রাবৃন্দার সম্মতির অপেক্ষা আর তিনি করবেন না। তাঁকেও রাত্রির মধ্যে তাঁর পরিকল্পনা সফল করতে হবে। মুহূর্তর জন্যও তাদের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। অঘটন ঘটতে পারে। নতুন কোনও পরিকল্পনা করতে পারেন চিত্রবান। কাল দ্বিপ্রহরে মূর্তি নির্মাণের পর প্রথমে মিত্রাকে আমি কক্ষে ফেরাব। তারপর অন্ধকার নামলেই তাকে রেখে আসব বিকর্না যে কক্ষ থেকে কলস উদ্ধার করেছে সেই কক্ষে। সেখান থেকেই আপনি তাকে নিয়ে অন্যদের সঙ্গী করে যাত্রা শুরু করবেন সীমান্তের উদ্দেশ্যে।’

    রাহিল বলল, ‘আপনাদের পরিকল্পনা এবার স্পষ্ট হল আমার কাছে। কিন্তু এর বিনিময়ে আমাকে আপনাদের কী কাজ করতে হবে বলুন?’

    কয়েক মুহূর্তর জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এল সেই ঘরে। তারপর চিত্রবান বললেন, ‘আপনাকে করতে হবে আসল কাজটা। যা না করলে কারো মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। আমাদের সবাইকেও চূড়ান্ত বিপদের সম্মুখীন হতে হবে ভবিষ্যতে।’

    ‘কী সেই কাজ’? জানতে চাইল রাহিল।

    মৃদু দৃষ্টি বিনিময় হল দুই ভাস্করের মধ্যে। বৃদ্ধ ভাষ্কর মাহবা, রাহিলের চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘মন্দির পরিত্যাগের আগে হত্যা করতে হবে প্রধান পুরোহিত অনুদেবকে।’

    চিত্রবান এরপর বললেন, ‘আমরা ভাস্কর। ক্ষত্রিয় বা যুদ্ধ ব্যবসায়ী নই। মন্দির-রক্ষীবাহিনীর লোকটাকে আমরা ধরা পড়ার আতঙ্কে ওপর থেকে প্রস্তরখণ্ড নিক্ষেপ করে ঘটনাচক্রে হত্যা করেছি ঠিকই, কিন্তু সামনাসামনি কাউকে যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করিনি আমরা। বিশেষত, সে ব্যক্তি যখন অনুদেব। তার ওপর যতই ঘৃণা থাক তাঁর সুকঠিন ব্যক্তিত্ব গ্রাস করে আমাদের। সর্পের চোখের দিকে তাকিয়ে অন্য প্রাণী যেমন সম্মোহিত হয়ে যায়, ক্ষমতা থাকলেও যেমন সে সর্পের গ্রাসে পরিণত হয় তেমনই হয়তো তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েও কালসর্পের সম্মোহনে পরাস্ত হলাম আমরা। তাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলাম। তাই এ কাজের ভার আপনাকে নিতে হবে। পারবেন তো?’

    রাহিলের চোখে ভেসে উঠল মিত্রাবৃন্দার মুখ। তাকে মুক্তি দিতেই হবে রাহিলকে। নিজের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যে রাহিলের জন্য প্রত্যাখ্যান করেছে অনুদেবের প্রস্তাব। মুহূর্তখানেক নীরব থেকে রাহিল জবাব দিল, ‘পারব। কিন্তু কীভাবে? তার মুণ্ডচ্ছেদ করব, নাকি ছুরিকা বিঁধিয়ে দেব তার পঞ্জরে?’

    তার কথা শুনে আবছা হাসি ফুটে উঠল তাদের মুখে। চিত্রবান বললেন, ‘না, সেভাবে নয়। তার অস্ত্রেই তাকে ঘায়েল করতে হবে। যাতে পরদিন সূর্যোদয়ের পর সৈন্যবাহিনী যখন মন্দিরে প্রবেশ করবে তখন তারা ভাবে কৃষ্ণবানরের আক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে তার। সৈন্যবাহিনী মন্দিরে এসে নিশ্চই দেখা পাবে কৃষ্ণবানরদের। আমি, ভাস্কর মাহবা বা অন্য ভাস্কর-মজুররা কেউই রাত্রিবাস করে না মন্দিরে। সে দায় তাই বর্তাবে না আমাদের ওপর।’

    চিত্রবানের কথা শেষ হবার পর মাহবা তার পোশাকের মধ্যে থেকে কতগুলি ক্ষুদ্রাকৃতি অস্ত্র বার করে এগিয়ে দিল রাহিলের দিকে। সে অস্ত্রগুলো অঙ্গুরীয়র মতো ধারণ করা যায়। ক্ষুদ্রাকৃতি হলেও তা মারাত্মক অস্ত্র—বাঘনখ!

    রাহিলের হাতে সেগুলি তুলে দিয়ে মাহবা বললেন, ‘মিত্রাবৃন্দাকে তার কক্ষ থেকে অপসারিত করার পর আপনি আত্মগোপন করবেন সেই কক্ষে। সূর্যাস্ত হলে অনুদেব নিশ্চিত গোপনে প্রবেশ করবেন সেই কক্ষে। আর তারপর…।’

    প্রধান ভাস্কর চিত্রবান এরপর রাহিলের দিকে এগিয়ে দিলেন তার সৈন্যদের পারিতোষক দেবার জন্য সেই হীরকথলি…

    নীচে নেমে আসার পর রাহিল আবার এসে দাঁড়াল মন্দিরের পশ্চাতভাগে। তিন প্রহর পর্যন্ত সে সেখানে থেকে চতুর্থ প্রহরে এসে সে মিলিত হল সম্মুখভাগে সেনাদলের সঙ্গে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরম্যরচনা ৩৬৫ – তারাপদ রায়
    Next Article সরস গল্প সমগ্র – তারাপদ রায়

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }