Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খুনির রং – অনীশ দেব

    লেখক এক পাতা গল্প539 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জীবনের রংমশাল – দীপান্বিতা রায়

    শাড়িটা পরা হয়ে গেছে ৷ বেড়ার গায়ে ঝোলানো ফাটা আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে দ্রুতহাতে বিনুনি বাঁধছিল পারুল ৷ আয়নার সামনে দাঁড়ানোটা অবশ্য খানিকটা অভ্যাসের মতো ৷ কাচের পিছনে জায়গায় জায়গায় পারা উঠে গেছে ৷ তাই মুখটা দেখায় ঝাপসা, যেন জলে ভিজে ধেবড়ে যাওয়া ছবি ৷ তবে পারুলের যে তাতে খুব কিছু আসে-যায় তা নয় ৷ সিঁথিটা ঠিক রেখে চুলগুলো শুধু টান করে বেঁধে রাখা বই তো নয় ৷ মুখের ওপর চুল এসে পড়লে স্কুলের দিদিরা বকেন ৷ ওইটুকু আয়না ছাড়াই করে নেওয়া যায় ৷ আয়নাটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় বরং ওর দিদি বকুলের একটু দুঃখ আছে ৷ আরশির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের একঢাল কালো চুল ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে বকুল ভালোবাসে ৷

    চুল বাঁধতে বাঁধতেই এসব এতাল- বেতাল কথা মনে হচ্ছিল পারুলের ৷ যদিও এসব কথা ভাবার আজকে সময় নয় ৷ বুকের ভিতরটা গুড়গুড়িয়ে উঠছে মাঝেমাঝেই ৷ এমন সময় বাইরে থেকে মঞ্জুর গলা শোনা গেল, পারুল হল তোর৷ তাড়াতাড়ি কর ৷

    বিনুনির নীচে গার্টারটা টাইট করে লাগাতে লাগাতে বেরিয়ে আসে পারুল ৷ দরজার চৌকাঠ পেরোলে মাটির দাওয়া ৷ তার ওপর খড়ের চাল ৷ গত দুবছর ছাওয়া হয়নি ৷ খড় আলগা হয়ে এসেছে ৷ দাওয়ার এখানে-ওখানে খড়ের কুটি পড়ে আছে ৷ অন্যদিন বকুল সকালবেলা একপ্রস্থ ঝাঁট দিয়ে দেয় ৷ আজ বোধহয় কোনও কারণে পেরে ওঠেনি ৷ দাওয়ার ওপাশে রান্নাঘর ৷ প্লাস্টিকের চটিটা পায়ে গলাতে গলাতে পারুল গলা তোলে, মা আসছি ৷

    দাঁড়া, দাঁড়া, দুদণ্ড দাঁড়া, মা ৷ বলতে বলতে রান্নাঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে এসেছে কাকিমা ৷ পিছনে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে মা ৷

    কাকিমার হাতে একটা ছোট বাটি ৷ বাটিতে আঙুল ডুবিয়ে পারুলের কপালে দই-হলুদের ফোঁটা দেয় কাকিমা ৷ পারুল জানে, কাল সন্ধেবেলা কাকিমা চেয়ে-চিন্তে ওই আধবাটি দুধ জোগাড় করে এনেছে ৷ তেঁতুলগুলে তাতেই দই পাতা হয়েছে ৷ সকালে এই ফোঁটাটুকু দেওয়ার জন্য এত আয়োজন ৷ ফোঁটা নিয়ে কাকিমাকে প্রণাম করে পারুল, মাকেও ৷ শীর্ণ হাতটা মাথায় রেখে মা অস্ফুটে কী যেন বলে ৷ কাকিমার গেলায় দুগগা দুগগা শুনতে শুনতে দাওয়া থেকে নেমে পড়ে পারুল ৷ মঞ্জু অপেক্ষা করছিল ৷ দুজনে মিলে জোরপায়ে স্কুলের দিকে দৌড় ৷ আজ রেজাল্ট বেরোবে মাধ্যমিকের ৷

    রাস্তা অনেকটা ৷ পিচ বাঁধানো নয় ৷ শীত-গরমে সমস্যা নেই ৷ বর্ষায় কষ্ট হয় ৷ তবে বৃষ্টি শুরু হয়নি এখনও ৷ শুকনো রাস্তায় যতটা সম্ভব পা চালিয়ে হাঁটছিল দুজনে ৷ বেশ কিছুটা দূরে আরও চার-পাঁচজন মেয়ের একটা দল যাচ্ছে ৷ তাদের ধরে ফেলতে পারলে ভালো হয় ৷ কিন্তু তার আগেই জোড়ের কালভার্টের পাশে দেখা গেল মূর্তিমান দাঁড়িয়ে আছে বাইক নিয়ে ৷

    ওই দ্যাখ, আবার এসেছে ৷ ফিস ফিস করে বলে মঞ্জু ৷

    তাকাস না ৷ পাশ কাটিয়ে চলে যাব ৷ কথা বলতে বলতে আঁচলটা কোমরে গুঁজে নেয় পারুল ৷

    এই এক উৎপাত চলছে বেশ কিছুদিন ৷ গোবর্ধন মণ্ডলের ছেলে পরেশ ৷ দ্যাখ না দ্যাখ পারুলের পিছনে লেগে রয়েছে ৷ যখন-তখন পারুলদের বাড়ির সামনে দিয়ে চক্কর ৷ স্কুল যাওয়া-আসার পথে তো রোজ দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধা ৷ গোবর্ধন মণ্ডল এলাকার নাম-ডাকওলা বড়লোক ৷ বিঘের পর বিঘে ধানিজমি ৷ চালকল, লরির ব্যবসা ৷ কী নেই! এককথায় টাকার কুমির ৷ পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বিশাল বাড়ি ৷ আগে পার্টির লোকেদের সঙ্গেও ভালো ওঠা-বসা ছিল ৷ পালাবদলের পর সেটা কমেছে ৷ কিন্তু ক্ষমতা কমেনি বিশেষ ৷ পয়সার জোর থাকলে ক্ষমতা তো থাকবেই ৷ লোকে বলে এলাকার কুখ্যাত গুন্ডা পোটকাও নাকি গোবর্ধনের বশ ৷ গোবর্ধন তাকে নিয়মিত মাসোহারা দেয় ৷ সেজন্যই এলাকার কোনও পাঁচুর সাহস নেই মণ্ডলবাবুর মুখের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার ৷

    এহেন গোবর্ধন মণ্ডলের একমাত্র ছেলে পরেশ ৷ অনেক ঠাকুরের দোরধরা, শিবরাত্তিরের সলতে ৷ ছেলে চাইলে গোবর্ধন বোধহয় আকাশের চাঁদটাও পেড়ে এনে দিতে পারে ৷ এমন ছেলের হঠাৎ দিনমজুরি খেটে খাওয়া হারাধন গড়ুইয়ের মেয়ে পারুলকে কেন পছন্দ হল ভগবানই জানে ৷ পারুলকে অবশ্য দেখতে মন্দ নয় ৷ মাজা রং ৷ ছিপছিপে গড়ন ৷ মুখখানাও দিব্যি মিষ্টি ৷ কিন্তু তাদের চালের ফুটো দিয়ে বর্ষার জল পড়ে ৷ বাবা-কাকার কাজ না থাকলে অনেকসময়ই একবেলা উপোস দিতে হয় ৷ আসলে ওই যে সেই কথায় বলে না, যার সঙ্গে যার মজে মন, ব্যাপারটা বোধহয় অনেকটা সেরকমই ৷ কিন্তু এক্ষেত্রে মন মজার ব্যাপারটা পুরোপুরি একপক্ষীয় ৷ পারুলের মন মজেনি ৷ সত্যিকথা বলতে পরেশ যে তারজন্যই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে সেটা পারুল প্রথমটায় ভাবেওনি, বুঝতেও পারেনি ৷ পরে বুঝতে পেরে ভয়ে সিঁটিয়ে যায় ৷ তারপর যতদিন গেছে অবস্থাটা ক্রমশ বিরক্তির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে ৷ এদিকে পারুলের যে তাকে পছন্দ না-ও হতে পারে সেটা সম্ভবত পরেশের কল্পনার অতীত ৷ তাই সেও পিছনে লেগে আছে ৷

    আজ অবশ্য পরেশকে নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো মনের অবস্থা ছিল না পারুলের ৷ কোনওরকমে পাশ কাটিয়ে দ্রুত এগিয়ে যায় দুজনে ৷ পিছন থেকে রোজকার মতোই অশ্লীল টিপ্পনি উড়ে আসে ৷ কান না দিয়ে জোরে পা চালায় ৷ আরও খানিকটা এগিয়ে বাঁক নিতেই স্কুলবাড়ির নিচু পাঁচিল ৷ ধারে একটা মস্ত পেয়ারা গাছ ৷ জালি এসেছে অনেক ৷ হজমিওয়ালা তেকোণা বাঁশের খাঁচাটা নামিয়ে জিনিসপত্র গোছাচ্ছে ৷ পাশ কাটিয়ে ভিতরে ঢোকে পারুল আর মঞ্জু ৷ সোজা বড়দির ঘরে ৷ সেখানে ততক্ষণে জড়ো হয়েছে তাদের ক্লাসের আরও অনেকে ৷ বড় টেবিলটার সামনে দাঁড়িয়ে বড়দি আর অঙ্কের সবিতাদি কাগজপত্র গোছাচ্ছিলেন ৷ পারুল আর মঞ্জু ঘরে ঢুকতেই বড়দি মুখ তুলে তাকিয়ে হেসে বললেন, এই তো, এসে গেছে ৷ এবার তাহলে খবরটা দিয়ে দেওয়া যাক ৷ হেসে ঘাড় নাড়লেন সবিতাদিও ৷

    শোনো মেয়েরা, আমাদের সরলাবালা হাইস্কুলের মাধ্যমিকের রেজাল্ট এবার খুব ভালো হয়েছে ৷ তোমরা বাহান্ন জন পরীক্ষা দিয়েছিলে ৷ সবাই পাশ করেছ ৷ মেয়েদের গলা থেকে একটা সমবেত উল্লাস ধ্বনি বেরিয়ে আসে ৷ সেটাকে থামতে সময় দিয়ে ফের বড়দি বলেন, ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করেছে দশ জন ৷ আর সবচেয়ে আনন্দের কথা হল এবছর আমাদের এক ছাত্রী চারটে বিষয়ে লেটার নিয়ে স্টার পেয়েছে ৷ সে কে জানো তোমরা? পারুলবালা গড়ুই ৷ আমাদের পারুল ৷

    কাঁচা মাটির রাস্তাটা ধরে ছুটতে ছুটতে আসছে পারুল ৷ পায়ের প্লাস্টিকের চটিটা কখন ছিটকে গেছে, খেয়াল নেই ৷ কাঁটায় দু-চারবার শাড়ি আটকেছে, ভ্রুক্ষেপ করেনি ৷ তাদের মাটির বাড়িটা দেখা যাচ্ছে ৷ চালের খুঁটিটা ধরে মা দাঁড়িয়ে আছে ৷ হাতের ঝাঁটাটা ছুড়ে ফেলে এগিয়ে আসছে কাকিমা ৷ বোনের দিকে ছুটে আসছে বকুল, মা মা আমি স্টার পেয়েছি ৷ চারটে লেটার ৷ স্কুলে ফার্স্ট হয়েছি মা… আমি ফার্স্ট হয়েছি…

    – – –

    গল্পটা তো এরকম হতেই পারত ৷ হলে হয়তো আমরা অনেকেই খুশিও হতাম ৷ কিন্তু মেয়েটার নাম যে পারুলবালা গড়ুই ৷ পরিচয়, জনমজুর খাটা হারাধন গড়ুইয়ের মেয়ে ৷ তার জীবনটা এরকম সরলপথে এগোনো যে বড় কঠিন ৷ তাই কল্পনার পারা উঠে যাওয়া ঝাপসা আয়না থেকে এবার চলুন দৃষ্টি ফেরানো যাক চোখধাঁধানো বাস্তবে ৷

    মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে ৷ কাকিমার বাপের বাড়ি উরালি গ্রামে ৷ পারুলদের মাচানতলা থেকে বাসে যেতে সময় লাগে আধঘণ্টা ৷ তবে বাস তো সেই হাইরোডে ৷ বাড়ি থেকে হেঁটে বাসরাস্তা পৌঁছতে প্রায় চল্লিশ মিনিট ৷ ভ্যানরিকশা চলে ৷ কিন্তু তাতে তো আবার পাঁচটা করে টাকা নেবে ৷ আবার বাসভাড়াও দিতে হবে চারটে টাকা ৷ পারুল, তার মা আর কাকিমা তাই হেঁটেই বাসরাস্তা চলে গেছিল ৷ বকুল যায়নি ৷ বাবা-কাকার ভাত-জল করতে হবে ৷ কাকার ছেলে-মেয়ে দুটো ছোট ৷ ওদেরকেও সঙ্গে নেয়নি কাকিমা ৷ নিলেই ভ্যানে চাপতে হবে ৷ অতখানি পথ হাঁটতে পারবে না ৷ তার থেকে বকুলের কাছে একটা রাত দিব্যি থাকবে ৷ বাপের বাড়ি যাওয়াটা জরুরি ৷ একে তো বুড়ি মায়ের সঙ্গে অনেকদিন দেখা হয়নি ৷ তার ওপর একটা জমি বিক্রির কথা হচ্ছে ৷ ডাক-খোঁজ না করলেই ভাইরা বোনেরা ভাগটুকু মেরে দেওয়ার ধান্দা করবে ৷ কিন্তু এসব কাজে একলা গেলে ঠিক জোর পাওয়া যায় না ৷ তাই পারুল আর তার মাকে সঙ্গে নেওয়া ৷ বরকে বলে লাভ নেই ৷ একে তো সে অনেকদিন বাদে খানতিনেক ঘর ছাওয়ার কাজ পেয়েছে ৷ ঠিকঠাক করলে দুটো পয়সা ঘরে আসবে ৷ তার ওপর সে একটা মেনিমুখো গাঁজাখোর ৷ শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কোথায় গাঁজা খেয়ে উল্টে পড়ে থাকবে ৷ তখন তার খোঁজ নেওয়াটাই একটা মস্ত কাজ হয়ে দাঁড়াবে ৷ তার চেয়ে বড় জা সঙ্গে থাকা ভালো ৷ রোগা- সোগা ছোটখাটো মানুষটি হলে কী হবে, বুদ্ধি ধরে খুব ৷ মাথাটিও ঠান্ডা ৷ আর পারুলকে তো নিতেই হবে ৷ সে তো তাদের বাড়ির সব থেকে বড় বল-ভরসা ৷ লেখাপড়া-জানা মেয়ে ৷

    কাজ-টাজ মিটল ভালোভাবেই ৷ পরদিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে উরালি থেকে বেরোল তিনজনে ৷ মাচানতলা মোড়ে যখন বাস পৌঁছল, বেলা তখন প্রায় চারটে ৷ বাসরাস্তার পাশেই মস্ত হাট বসেছে ৷ বকুলের চুলের ফিতে আর ছোট বোনের লাল রিবন কিনতে কাকিমা দাঁড়াল মনিহারি জিনিস বিক্রির চালাটার সামনে ৷ মা এদিকে পদির ঠাকুমার সঙ্গে কথা বলছে ৷ একটু বিরক্ত লাগছিল পারুলের ৷ তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছতে হবে ৷ প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের নার্স দিদির মেয়েটাকে সপ্তাহে ছ’দিন তাকে পড়াতে যেতে হয় ৷ ক্লাস ওয়ানে পড়ে মেয়েটা ৷ কিন্তু ভয়ানক বিচ্ছু ৷ এক জায়গায় বসিয়ে রাখাই কঠিন ৷ একদিন পারুল না গেলেই মুখ ভার হয় দিদিমণির ৷ মাস গেলে দুশোটা টাকা দেয় ৷ না গিয়ে কী করে পারুল! টাকা ক’টা যে তার বড্ড দরকার ৷

    ওই ক’টা টাকা ছিল বলে তো পরীক্ষার সময় অন্তত খাতা-টাতা কিনতে পেরেছে ৷ বইয়ের ব্যবস্থা হয়ে গেছিল ৷ কিন্তু উত্তর লেখা প্র্যাকটিস করতে হলে তো খাতা লাগবে ৷ পারুল পাবে কোথায়? তাও তো মঞ্জু ছিল তাই ৷ ওর বাবার পোস্টাপিসে চাকরি ৷ পুরোনো কাগজ এনে দিত আপিস থেকে ৷ হলদে হয়ে যাওয়া কাগজ ৷ তাতে কী? মঞ্জু আর পারুল তাতেও অঙ্ক কষত ৷ পারুলের বাড়িতে তো আর কারেন্ট নেই ৷ সুয্যি ডুবল তো বই-খাতার পাট চুকল ৷ কেরোসিন থাকলে হ্যারিকেন জ্বালানো যায় ৷ কিন্তু গত দু-বছর বাবা-কাকা কেউই তেমন জন খাটার কাজ পায়নি ৷ ভাত জোটানো যেখানে কঠিন, সেখানে কেরোসিন কে কিনবে? মঞ্জুর বাড়িতেই রাত পর্যন্ত পড়ত পারুল ৷ পড়া শেষ হলে ওর বাবা টর্চ নিয়ে পৌঁছে দিয়ে যেত ৷

    এসব কথা বাবা-কাকা জানে কিনা সন্দেহ আছে পারুলের ৷ কাকা তো সন্ধেরাত্তির থেকেই গাঁজার আড্ডায় ৷ বাড়ি যখন ফেরে আগু-পিছু জ্ঞান নেই ৷ বাবার ওসব দোষ নেই ৷ সংসারের জন্য ভূতের খাটনি খাটে ৷ তারপর সন্ধে না লাগতে যা হোক কিছু পেটে দিয়ে মোষের ঘুম ৷ পারুল যে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল, সেটা বাবা জানে কিনা সন্দেহ ৷ ভরসা শুধু মা আর ওই কাকিমাটি ৷ পাখির ছানার মতো আগলায় পারুলকে ৷ কাকিমার পোষা মুরগি আছে গোটা কয়েক ৷ তাদের একটা ডিমও নিজের ছেলেকে পর্যন্ত দেয় না কাকিমা ৷ পারুল খাবে ৷ পড়াশোনা করছে না! ভালো খেতে হবে ওকে ৷ বড় ভরসা তার ওপর কাকিমার ৷ মনে মনে ভাবে পারুল ৷ পরীক্ষা তো ভালোই হয়েছে ৷ এদের আশা পূরণ করতে পারবে তো?

    ভাবতে ভাবতেই মনের কোণে তিতকুটে ভাব ৷ হরি ময়রার দোকান পেরিয়ে যেখানে রাস্তাটা বাঁক নিয়েছে মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে পরেশ ৷ বড়লোকের বখা ছেলে ৷ ক্লাস সেভেনে উঠে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে ৷ তারপর থেকে সারাদিন শুধু ফুলবাবুটি সেজে টো-টো কোম্পানি ৷ আজ এ মেয়ের পিছনে, কাল ও মেয়ের পিছনে হিড়িক দেওয়া ৷ আগে সাইকেল চড়ত, এখন আবার বাইক কিনেছে একখানা ৷ কী কুক্ষণে যে পারুলকে চোখে ধরেছে! নাহোক মাস ছয়েক পিছনে লেগেই আছে ৷ পারুলের একেকদিন ইচ্ছে করে পায়ের চটিটা খুলে দু-চার ঘা দিয়ে দেয় ৷ কিন্তু মঞ্জু বারণ করে, ওসব করতে যাস না ৷ ওরা বড়লোকের ছেলে ৷ কী করতে কী করে দেবে, কোথায় ফাঁসিয়ে দেবে তার ঠিক আছে? তার চেয়ে চুপচাপ থাক ৷ পাত্তা না দিলে এমনিই কেটে যাবে ৷

    মঞ্জুর কথাটা মাথায় রেখেই আজও এগোল পারুল ৷ দেরি করা যাবে না ৷ কাল পড়াতে যাওয়া হয়নি ৷ আজও না গেলে নার্স দিদিমণি চারটে কড়া কথা বলতে ছাড়বে না ৷ তবে একবার পিছন ফিরে দেখে নিল ৷ কাকিমার কেনাকাটি হয়ে গেছে ৷ মা-কাকিমা দুজনেই আসছে গুটিগুটি ৷

    রাস্তার বাঁকে মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিল পরেশ ৷ পারুলকে একা দেখেই এগিয়ে এল ৷ চোয়াল শক্ত করে দেখেও না দেখার ভান করছিল পারুল ৷ কিন্তু পরেশ ছাড়ার পাত্র নয় ৷ রাস্তার মাঝখানে দু-পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে বলল, একটা কথা ছিল ৷

    উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পারুল ৷ কিন্তু রাস্তার প্রায় সবটা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে পরেশ ৷ ফের বলে, বললাম যে একটা কথা ছিল ৷ একমিনিট দাঁড়িয়ে শুনে গেলে ভালো হয় ৷

    আমার সময় নেই ৷ রাস্তা ছাড়ুন ৷— হিস হিসিয়ে ওঠে পারুল ৷

    এত ব্যস্ত কীসের, হ্যাঁ? বড় যে গুমোর দেখছি ৷

    এবার আর সামলাতে পারে না পারুল ৷ সোজা তাকিয়ে বলে, আপনার মতো রাস্তার রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় আমার নেই ৷ সরুন, নাহলে এবার চেঁচিয়ে লোক ডাকব ৷ কয়েক সেকেন্ড একটু থতিয়ে যায় পরেশ ৷ তারপর সরে যেতে যেতে দাঁতে-দাঁত ঘষে বলে, কাজটা ভালো করলি না, পারুল ৷

    কোনওদিকে না তাকিয়ে সামনে এগোয় পারুল ৷ মাথার ভিতরটা যেন আগুন হয়ে আছে ৷ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে প্রায় দৌড়চ্ছে ৷ মা-কাকিমা যে অনেকটা পিছনে পড়ে গেছে সে খেয়াল নেই ৷ এমনকী মোটরসাইকেলের জান্তব আওয়াজটা যে ক্রমশ কাছে চলে আসছে সেটাও খেয়াল করেনি ৷ যখন করল তখন আর সময় নেই ৷ ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া মেয়েটাকে পিষে দিয়ে চলে গেল পরেশ ৷ গোবর্ধন মণ্ডলের শিবরাত্তিরের সলতে ৷

    .

    আপনারা বলছেন, এটা অ্যাক্সিডেন্ট নয়, খুন? আপনারা দেখেছেন? নিজের চোখে দেখেছেন?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ দেখেছি গো ৷ নিজের চক্ষে দেখেছি ৷ গোবর্ধন মণ্ডলের ছেলে আমাদের মেয়েটার ওপর দিয়ে ভটভটিটা চালায়ে দিল ৷ আমাদের মেয়েটা মরে গেল গো ৷ মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মরে গেল ৷

    থানার বড়বাবুর সামনে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কাঁদছিল পারুলের কাকিমা ৷ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে পারুলের মা ৷ ভাষাহীন চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ৷ হাত-পায়ে কোনও বশ নেই ৷ মঞ্জুর মা তাকে শক্ত করে ধরে না থাকলে যে-কোনো সময় বোধহয় মাটিতে লুটিয়ে পড়বে ৷

    পারুলের বাবা আর কাকা হাঁটুতে মুখ গুঁজে মাটিতে বসে ৷

    খুনের অভিযোগই লেখা হল ৷ মা আর কাকিমার টিপছাপ নিলেন বড়বাবু ৷ সেদিন রাতেই পরেশকে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷ গোবর্ধন মণ্ডল বোধহয় ভাবতেই পারেননি যে জনমজুর হারাধন গড়ুইয়ের সাহস হবে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে এফ আই আর করার ৷ পরেশ তাই বাড়িতেই ছিল ৷

    .

    পরদিন তাকে আদালতে তোলা হলে জজসাহেব বারো দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিলেন ৷ সন্ধে হয়ে গেছে ৷ পারুলকে দাহ করে এসে দাওয়ায় পাতা ছেঁড়া দড়ির খাটিয়াটার ওপর বসে ছিল পারুলের বাবা ৷ কাকাও বসে আছে মাটিতে ৷ বকুল এসে দু-কাপ চা দিয়ে গেল ৷ কালকের ঘটনার পর থেকে এখনও পর্যন্ত একবিন্দু জলও খাওয়ানো যায়নি পারুলের মাকে ৷ একটি কথা ফোটেনি মুখে ৷ কাকিমার কোলে মাথা রেখে চুপ করে শুয়ে আছে শুধু ৷

    মোটরসাইকেলের আলোটা দেখা যাচ্ছিল দূর থেকেই ৷ কিন্তু সেটা তাদের বাড়ির কাছে এসে দাঁড়াবে ভাবেনি কেউই ৷ পরপর দুটো বাইক ৷ গোবর্ধনবাবু আর তার দুই শাগরেদকে আসতে দেখে একটু সামলে বসে হারাধন ৷ চাপা গলায় বলে, বকুল, তুই ভিতরে যা ৷

    ঘর থেকে দুটো প্লাস্টিকের চেয়ার বার করে দিয়ে নিঃশব্দে ভিতরে চলে যায় বকুল ৷ দাওয়ায় উঠে গোবর্ধনবাবু একটা চেয়ারে বসেন ৷ শাগরেদরা দাঁড়িয়ে থাকে ৷ একটা অস্বস্তিকর নীরবতা ৷ তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে গোবর্ধন মণ্ডল বলেন, দ্যাখ হারাধন, যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে ৷ তোদের মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না ৷ খামোখা আমার ছেলেটা জেলের ঘানি পিষবে ৷ আমার একমাত্র ছেলে ৷ তোরা বাবু মামলাটা তুলে নে ৷ আমি তোদের পুষিবে দেব ৷ মেয়েটা আমার মরে গেছে দাদা ৷ ওর মা একফোঁটা জল খাচ্ছে না ৷ — এর বেশি আর কিছু বলতে পারে না হারাধন ৷

    জানি রে, জানি ৷ আমিও তো ছেলেপিলের বাপ ৷ আমার বাড়িতেও তো একই অবস্থা ৷ ওর মা শুধু মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে আর বলছে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনে দাও ৷ তোদের তো আরও দু-পাঁচটা আছে ৷ আমাদের তো ওই একটিই ৷ আমি কথা দিচ্ছি হারা তোদের কোনও অভাব রাখব না ৷

    কীসের অভাব রাখবেন না, বাবু? আমাদের মেয়ের অভাব পুরায়ে দেবেন? আপনি কি ভগবান?

    পারুলের কাকিমার আলগা আঁচল মাটিতে লুটোচ্ছে ৷ দু-চোখ যেন দু-খণ্ড আগুনের গোলা ৷

    আঃ, তুই ঘরে যা ৷ মেলা কথা বলিস না ৷— ধমকে ওঠে পারুলের কাকা ৷

    গোবর্ধন মণ্ডল কিন্তু মিছরিমাখা গলায় বলেন, ছেড়ে দে বাবা ৷ কিছু বলিস না ৷ ওরা মায়ের জাত ৷ কিন্তু আমার কথাটা শোন কিছু করতে হবে না ৷ থানায় গিয়ে কিছু বলতেও হবে না ৷ শুধু কেস যেদিন উঠবে সেদিন সাক্ষী দিতে যাসনি ৷ বাড়িতে একটা বড় মেয়ে আছে ৷ আর একটা বড় হচ্ছে ৷ ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে ৷ এসব কথাও তো মাথায় রাখতে হবে ৷

    আরও কিছুক্ষণ ধানাই-পানাই করে চলে যান গোবর্ধনবাবু ৷ কিন্তু তার পরের দিন আবার আসেন ৷ তার পরের দিনও ৷ রোজই ৷ কখনও তিনি নিজে ৷ কখনও তাঁর চেলারা ৷ পারুলের বাবা-কাকার হাতে টাকা গুঁজে দেয় ৷ চালের বস্তা ঢুকিয়ে রাখে রান্নাঘরে ৷ নিচু গলায় ফিসফিসিয়ে বাড়াতে থাকে টাকার অঙ্ক ৷ নাকের ডগায় গাজরের মতো ঝোলাতে থাকে একটা শ্যামলা মেয়ের জীবনের বিনিময়ে সারা পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ৷

    কেস ওঠে বারো দিন পরে ৷ বাদী পক্ষের কেউ সাক্ষী দিতে আসেনি ৷ কিন্তু তবু তো খুনের মামলা ৷ তাই আবার দু সপ্তাহের পুলিশ হেফাজত হয় পরেশের ৷

    রাস্তায় একদিন পারুলের বাবাকে দেখে চমকে ওঠে মঞ্জু ৷ পরিষ্কার ধুতি-শার্ট পরা ৷ ক্ষৌরি করা গাল ৷ তবে কি লোকে যা ফিসফাস করছে সবই সত্যি? গোবর্ধন মণ্ডল পয়সা দিয়ে কিনে নিয়েছে পারুলের বাড়ির লোকজনকে? পরেশের ছাড়া পাওয়া এবার শুধু সময়ের ওয়াস্তা ৷

    আরও দুবার কেস ওঠে ৷ সাক্ষী না থাকায় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ে ৷ থানা থেকে খবর নেন গোবর্ধন মণ্ডল ৷ এবার কেস যখন উঠবে বাদী পক্ষের সাক্ষী না থাকলে জামিন হয়ে যাবে পরেশের ৷ মামলা অবশ্য চলবে ৷ কিন্তু তাতে কী? ছেলে ঘরে ফিরলে বড় উকিল লাগিয়ে ও মামলা যে শেষ পর্যন্ত খারিজ করাতে পারবেন, এমন বিশ্বাস গোবর্ধন মণ্ডলের নিজের ওপর আছে ৷ দশ লক্ষ টাকা আর পাঁচ বিঘে জমি হারাধনদের দুই ভাইয়ের নামে লিখে দেবেন ৷ কাগজপত্র সব তৈরি ৷ সহজে অবশ্য হয়নি ৷ দুই ভাই-ই বেগড়বাঁই করেছে অনেক ৷ মেয়ের জন্য দরদ উথলে দিয়েছে ৷ পাঁচ লাখে হয়ে যাবে ভেবেছিলেন ৷ দশ লাখ পর্যন্ত উঠতে হল ৷ সঙ্গে চাপা শাসানি ৷ জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করার ফল যে ভালো হয় না তার নানারকম উদাহরণ ৷

    শেষকালে একদিন পোটকা গিয়ে বড় মেয়েটার সঙ্গে খানিক গল্প-গাছা করে আসার পর সব ঠান্ডা হয়ে গেল ৷ পার্টি ক্ষমতায় থাকলে অবশ্য এত ঝামেলা পোহাতে হত না ৷ পাশা উলটে যাওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে ৷ ব্যবসাপত্তরগুলো সময়মতো গুছিয়ে নেওয়া গেছিল বলেই বাঁচোয়া ৷

    ২৪ জুন ৷ আজ আবার পরেশের কেস উঠবে আদালতে ৷ এবারটা সামলানো গেলেই জামিন ৷ সকালেই নেতাইকে হারাধনের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন গোবর্ধন মণ্ডল ৷ অ্যাটাচিতে দশ লাখ টাকা আর জমির দানপত্র ৷ পরেশের জামিন হয়ে গেলেই মোবাইলে খবর দেবেন নেতাইকে ৷ ব্যাঙ্কে সব ফিট করা আছে ৷ কাগজপত্র হাতে দিয়ে নেতাই নিজে দুই ভাইকে বাইকে চাপিয়ে ব্যাঙ্কে নিয়ে গিয়ে আলাদা আলাদা নামে টাকা জমা করে দেবে ৷ গোবর্ধন নিজে আদালতে থাকবেন ৷ একেবারে ছেলেকে নিয়ে ফিরবেন ৷

    কী ভেবে বেরোনোর আগে নেতাইকে ডেকে গোবর্ধন বলে দিলেন, মেশিনটা সঙ্গে নিয়ে যা ৷ গরিব লোক তো ৷ হঠাৎ মাথা গরম হয়ে যেতে পারে ৷ একবার জামাটা তুলে দেখিয়ে দিবি, ঠান্ডা হয়ে যাবে ৷

    সকাল সকালই চলে এসেছে নেতাই ৷ বারান্দায় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে আরাম করে ৷ বাড়ির কেউই আজ ঘর থেকে বেরোয়নি ৷ দাওয়ায় বসে একটার পর একটা বিড়ি খেয়ে যাচ্ছে হারাধন ৷ বকুলের কাকা চা খেয়ে আবার কাঁথামুড়ি দিয়েছে ৷ ছোট ভাই-বোনদুটো বই-শেলেট নিয়ে বসেছে ৷ রান্নাঘরের সামনে কুটনো কুটছে বকুল ৷ উনুনে ভাতের হাঁড়ি বসিয়েছে কাকিমা ৷ রান্নাঘরেরই একপাশে বসে আছে পারুলের মা ৷ চোখে ভাষা নেই ৷ শুধুই বোবা কান্না ৷ ভয় আর অপরাধবোধের একটা গুমোট কম্বল যেন ঢেকে আছে গোটা বাড়িটাকে ৷

    বসে বসে ঢুল আসছিল নেতাইয়ের ৷ হঠাৎ পায়ের শব্দে চটকা ভাঙল ৷ ভাঙা বেড়ার গেটটা পেরিয়ে ছুটে ঢুকছে একটা মেয়ে ৷ নীলপাড় শাড়ি পরা ৷ মেয়েটাকে চেনে নিতাই ৷ পোস্টাপিসের বাবুর মেয়ে ৷ মঞ্জু না কী যেন নাম….মরা মেয়েটার বন্ধু ছিল…এ আবার কী ঝামেলা পাকাতে এল…. ভাবতে ভাবতেই চিৎকার করে ওঠে মঞ্জু, কাকিমা…আ…কাকিমা গো …, পারুল ফার্স্ট হয়েছে, ফার্স্ট হয়েছে, স্টার পেয়েছে কাকিমা…. চারটে লেটার পেয়েছে… আমাদের সবার থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে গো পারুল…সব থেকে বেশি… ৷

    ছুটে বেরিয়ে এসেছে পারুলের কাকিমা ৷ বিদুৎস্পৃষ্টের মতো চমকে উঠেছে মা ৷ বঁটি ফেলে উঠে দাঁড়িয়েছে বকুল৷

    আমি ভ্যান রিকশা নিয়ে এসেছি কাকিমা, মঞ্জুর গলা কাঁপছে ৷

    দিদি চলো ৷—আঁচলটা কোমরে গুঁজে নিয়ে পারুলের মায়ের হাত ধরে টানে কাকিমা ৷ কোন এক অমিতশক্তিতে ভর করে এগিয়ে আসে মা-ও ৷

    অ্যাই অ্যাই, কেউ কোথথাও যাবে না ৷ অ্যাই ছুঁড়ি, ভাগ এখান থেকে…নইলে… ৷ — লাফ দিয়ে এগিয়ে এসেছে নিতাই ৷ কোমরে লুকিয়ে রাখা মেশিনটা মূহূর্তে হাতের মুঠোয় ৷

    কাকে মারবে তুমি? ক’জনকে মারবে?—কোমরে হাত দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মঞ্জু ৷

    চমকে উঠে নেতাই দ্যাখে বেড়ার ধারে নীল পাড় সাদা শাড়ির ভিড় ৷ শ্যামলা মুখ, শক্ত চোয়াল ৷ আরও আসছে ৷ অনেকে ৷ দূরের আলপথ ধরে ধেয়ে আসছে ৷

    বাড়ির সামনে রাখা ভ্যান রিকশায় ততক্ষণে চেপে বসেছে পারুলের মা ৷ উঠতে গিয়েও থেমে যায় কাকিমা ৷ নেতাইয়ের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে, তোর মালিককে গিয়ে বলিস, আমাদের মেয়ে ফার্স্ট হইছে রে…লেটার পেইছে ৷ এসব কথার মানে জানে না তোর মালিক ৷ মানেটা শিখে নিতে বলিস ৷

    ভ্যান রিকশা ছেড়ে দেয় ৷ নীলপাড় সাদা শাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের পাশ কাটিয়ে এগোতে থাকে শহরের দিকে ৷ ভেঙে খানখান হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে আবার নতুন করে বুনতে শেখায় শক্তি সংগ্রহ করতে ৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিশাচ দেবতা – অনীশ দাস অপু
    Next Article বাড়িটায় কেউ যেয়ো না – অনীশ দেব

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }