Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খুনে ক্যানিয়ন – কাজী মায়মুর হোসেন

    কাজী মায়মুর হোসেন এক পাতা গল্প162 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খুনে ক্যানিয়ন – ১৩

    তেরো

    আইসিসিতে দেখা তিন গানম্যানের সঙ্গে তাসের টেবিলে যোগ দিল বেনন ড্রিঙ্ক সেরে। শুরু হলো স্টাড খেলা। গানম্যানদের আচরণে মনে হলো যে বেননের মতই তারাও জানে না তাদের পরবর্তী কাজ কী হবে বা বেন স্টার্ক কোথায় আছে। সন্ধ্যা নামল এক সময়। দুটো লণ্ঠন জ্বালল গোঁফওয়ালা বারটেণ্ডার। সে আলো পর্যাপ্ত নয়।

    এক গানম্যান বেননকে জানাল লণ্ঠন আরও ছিল, কিন্তু ছেলেরা মাতাল হয়ে গতরাতে গুলি করে নষ্ট করে দিয়েছে ওগুলো। এখন দুটোই অবশিষ্ট আছে।

    আলোর স্বল্পতার জন্যে একটু পরই তাস খেলা পণ্ড হয়ে গেল। আর কিছু করার নেই দেখে চারজন ওরা ড্রিঙ্ক করতে শুরু করল। কিকিং হর্সে যেটাকে হুইস্কি বলা হয় সেটা আসলে তরল আগুন ছাড়া আর কিছু নয়, কিন্তু সেটাই এখন সময় কাটানোর একমাত্র অবলম্বন। গানম্যানরা যে আনন্দ খোঁজার জন্যে অন্য কিছু করতে চাইবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই, তিক্ত মনে ভাবল বেনন।

    বারে গিয়ে দাঁড়াল ফ্রস্টি, সিক্সগান বের করে ওটার নল দিয়ে কাউন্টারে জোরে কয়েকটা বাড়ি মেরে দৃষ্টি আকর্ষণ করল। আলাপ বন্ধ হয়ে গেল সবার। গানম্যানদের শীতল চোখ স্থির হলো কুড়ালের মত চেহারার ফ্রস্টির ওপরে।

    ‘শোনো, ‘শুরু করল সে, ‘স্টার্কের কাছ থেকে খবর এসেছে। সামনে কাজ আছে আমাদের। কাল রাতে আমরা এলডোরাডোর দুটো ব্যাঙ্কে হামলা করে ভল্ট খালি করব। পাল্টা শোধ নেয়ার জন্যে পাগল হয়ে গেছে স্টার্ক। খেপে বোম হয়ে গেছে। গোটা শহর আমরা তছনছ করব সেটা চায় ও। সকালে রওনা হবো আমরা। একজন দুইজন করে এলডোরাডোতে ঢুকব। বোনান্যা সেলুনে জড়ো হতে হবে। সেখানেই পৌঁছাবে পরবর্তী নির্দেশ।’

    কথা শেষ করে শীতল চোখে আউট-লদের দেখল ফ্রস্টি। মৃদু আলোয় আবছা দেখাচ্ছে তাদের চেহারা। কারও মনোভাব চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই। ‘আরেকটা কথা;’ বলল সে থেমে থেমে, ‘এর একটা কথাও যদি কারও মুখ দিয়ে বের হয় তা হলে তাকে আমি নিজের হাতে গুলি করে মারব।’

    সে বার কাউন্টার থেকে সরতেই নিচু স্বরে কথা আরম্ভ হয়ে গেল আউট-লদের।

    আস্তে আস্তে বেরিয়ে যাচ্ছে তারা একজন দু’জন করে। সেলুন ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। একটা লণ্ঠন টেবিলের ওপর এনে রাখল বেনন। আবার শুরু হলো স্টাড খেলা। খেলা যখন শেষ হলো তখন ওরা চারজন আর বারটেণ্ডার ছাড়া সেলুনে আর কোন জনপ্রাণী নেই। বারটেণ্ডার তার টুলে বসে কাউন্টারে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। বিকট নাক ডাকছে তার।

    সেলুন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড়মোড়া ভাঙল বেনন। রাত নেমেছে বেশ আগেই। ব্যাঙ ডাকছে ঘ্যাঙর ঘ্যাং করে। রাতের পাখি চিকচিক আওয়াজ করছে উড়তে উড়তে। ওভারহোলসারের ডান ঘোড়াটা এখন একা দাঁড়িয়ে আছে রেইলে, বেননকে দেখে কান খাড়া করল। আজ সারাদিন অনেক পরিশ্রম গেছে জন্তুটার।

    সেলুন পার করে ওটাকে নিয়ে চলল বেনন স্টেবলের খোঁজে। সেলুনের পেছনেই বার্নটা। ভেতর থেকে লণ্ঠনের আলো আসছে, দেখা যাচ্ছে দরজার একটা ফুটো দিয়ে। ঘোড়াটা নিয়ে সেদিকে পা বাড়িয়ে মানুষের মৃদু কণ্ঠস্বর শুনতে পেল বেনন। কারা যেন নিচু স্বরে কথা বলছে। ফ্রস্টির গলা চিনতে ভুল হলো না ওর।

    কোন কারণ নেই, তবুও থমকে গেল বেনন। ডানটাকে গ্রাউণ্ড হিচ করে উবু হয়ে স্পার খুলে ফেলল বুট জুতো থেকে। এবার নিঃশব্দে বার্নের কাছে চলে গেল। দরজার কাছে পৌছতেই শব্দমালা পরিষ্কার হলো। ফুটোয় চোখ রাখতে লণ্ঠনের আলোয় দেখতে পেল তিনজন আউট-ল একটা খড়ের গাদায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে। আলাপের ফাঁকে তাদের হাত বদল হচ্ছে একটা হুইস্কির বোতল। ফ্রস্টির বক্তব্য শুনছে বয়স্ক দুই সঙ্গী। তিক্ত শোনাচ্ছে ফ্রস্টির গলা।

    ‘আমি ‘আমার স্যাডল বাজি ধরতে পারি,’ বলে চলেছে সে, ‘ওই রন জনসন একটা দু’মুখো সাপ। রিয়ো শপথ করে বলেছে সে-ই অ্যাডোবির ঘরটা থেকে ওই বাউন্টি হান্টারকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। রিয়ো বদমাশটাকে শেষ করতে চেয়েছিল। আমি ওদের ক্যানিয়নের উদ্দেশে পাঠাই যাতে রিয়ো তার কাজ শেষ করতে পারে।

    ‘পারেনি রিয়ো। উল্টো ওই হারামজাদা রিয়োকে শেষ করে দিয়েছে। তারপর ক্যানিয়নে আক্রমণ হলো। পিছলা একটা সাপের মত পালিয়ে এসেছে রন জনসন। বাজি ধরতে পারি ল-ম্যানরাই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। ভাগ্যের ওপর বেশি ভরসা করে ফেলেছে লোকটা। ওর ঘোড়াটা ইউ এস মার্শালের নিজস্ব ডান। আইসিসির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সে। ক্যানিয়নে আমাদের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে। এলডোরাডোতেও সে আমাদের বিপদে ফেলতে চেষ্টার ত্রুটি করবে না।’

    গোঁফওয়ালা আউট-ল জানতে চাইল, ‘তা হলে তার ব্যাপারে আমরা কী করছি?’

    ‘সেটা কি আমাকে বলে দিতে হবে?’ ক্রূর হাসল ফ্রস্টি। ‘এক গুলিতে মামলা ডিসমিস।’

    ‘পিট আর আমি কাজটা সেরে ফেলব,’ প্রতিশ্রুতির সুরে বলল অন্য আউট- ল। ‘এলডোরাডোর পথে ওর সঙ্গে যাব আমরা। তবে এলডোরাডোতে কোনদিন আর পৌঁছাতে হবে না ওকে।’ একটু থেমে বলল, ‘ডান ঘোড়াটা আমার পছন্দ।’

    চুপ করে আউট-লদের বক্তব্য হজম করল বেনন। কিছুটা বিস্মিত না হয়ে পারল না। এখন বুঝতে পারছে ফ্রস্টির আড়ষ্ট আচরণের কারণ। রিয়ো আর ফ্রস্টি পুরানো বন্ধু ছিল। ফ্রস্টির কাছে নিজের সন্দেহের কথা বলেছে রিয়ো। এখন ওকে শেষ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে!

    বেন স্টার্কের দলের সঙ্গে মিশে তাদের ধরার আশা শেষ, বুঝতে দেরি হলো না বেননের। একবার ওর ব্যাপারে খবর ছড়িয়ে গেলে স্টার্কের দলের সবকয়জন আউট-ল ওকে খুন করার জন্যে উন্মুখ হয়ে উঠবে। কপাল ভাল যে বার্নে আসতে গিয়ে এদের আলোচনা কানে এসেছে ওর।

    হালকা পায়ে ডান ঘোড়াটার কাছে ফিরে এল বেনন, ওটাকে হাঁটিয়ে অনেক দূর সরে এল। এখন আর ঘোড়াটার খুরের শব্দ পাবে না আউট-লরা, এটা নিশ্চিত হয়ে কিকিং হর্স শহর পেছনে ফেলে এগিয়ে চলল। শহরটা এখন ওর জন্যে মোটেও নিরাপদ নয়। খামোকা ঝামেলায় জড়াতে সায় দিচ্ছে না ওর মন। তাতে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

    এখন সোজা যেতে হবে এলডোরাডো। আশা করা যায় ওখানে বেন স্টার্কের দেখা পাওয়া যাবে।

    জনবহুল ব্যস্ত এলডোরাডোতে ওর ধূলিধূসরিত ঘোড়া প্রবেশ করল পরদিন দুপুরে। এ ক’দিনে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি শহরটার। রাস্তায় উড়ছে পুরু ধুলোর মেঘ। বিরাট বিরাট ‘ওর’ ওয়্যাগন হেলেদুলে এগিয়ে চলেছে বিভিন্ন দিকে। মাইনার, পাঞ্চার, ভ্যাকুয়েরো আর ব্ল্যাঙ্কেট মোড়ানো ইণ্ডিয়ানে গিজগিজ করছে বোর্ডওয়াক। সেলুন আর জুয়ার আড্ডাগুলো মানুষের ভিড়ে গমগম করছে। সব আওয়াজ ছাপিয়ে উঠছে স্ট্যাম্প মিলের একটানা দমাদম শব্দ।

    হিচরেইলে শেষ পর্যন্ত একটা খালি জায়গা পেয়ে ঘোড়া বেঁধে নামল বেনন, ব্যাট উইং ঠেলে একটা সেলুনের ভেতরে ঢুকল। কনুইয়ের গুঁতো মেরে পথ করে শেষ পর্যন্ত কাউন্টারে পৌঁছে একটা বীয়ার নিল ও। কোনার দিকের একটা টেবিল খালি পেয়ে বসল, ডুবে গেল ভাবনায়। সূর্য ইতিমধ্যেই পশ্চিমে হেলে পড়তে শুরু করেছে। রাত নামলে হামলা করবে বেন স্টার্কের ডাকাত দল। ফ্রস্টি আর তার সঙ্গী এবং বেন স্টার্কের অন্যান্য স্যাঙাতদের ঠেকাতে হলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সেটা ওর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ওকেই খুঁজছে আইন। নিজের পরিচয় প্রকাশের সময় এখনও আসেনি। বেন স্টার্কের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত আইনের লোকদেরও বিশ্বাস করার উপায় নেই।

    নিজের পরিচয় না দেয়া পর্যন্ত ও একজন পলাতক আসামী। শুধু তাই নয়, সে মার্শালের ঘোড়াও চুরি করেছে। এটা ফাঁসির যোগ্য অপরাধ। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওর নামে রিওয়ার্ড পোস্টার বেরিয়ে গেছে। শেরিফের অফিসে গেলেই ধরা পড়ার সম্ভাবনা। পরিচয় প্রকাশ না করলে কে বিশ্বাস করবে যে ও স্টার্কের দলের লোক নয়?

    যতই ভাবছে ততই সমস্যার সমাধানের পথ সুদূরবর্তী মনে হচ্ছে বেননের। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে সেলুন থেকে বেরিয়ে বোর্ডওয়াকে এসে দাঁড়াল ও। একটু পর ভিড়ের মাঝ দিয়ে হাঁটতে শুরু করল, মাথায় চিন্তার পর চিন্তা জট পাকিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠ কানে আসতে থামল বেনন। একটা গলি থেকে এসেছে গলার আওয়াজ।

    একদল লোক একটা হলুদ ওয়্যাগন ঘিরে ধরেছে। ওয়্যাগনটার টেইলগেট খোলা। প্রফেসর রুবেন হাসছে, হাতে ব্যথা নিরোধকের বোতল। একটার পর একটা বোতল দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তার পায়ের কাছে রাখা একটা ধাতব বাক্সে ঝনঝন শব্দে জমা হচ্ছে রুপোর ডলার।

    মদের বাড়া জিনিস ওই ব্যথা নিরোধক। হু-হু করে বিক্রি হচ্ছে। হাসিমুখে একের পর এক কেস খুলে বোতল বের করছে আর বিক্রি করছে রুবেন স্টাসি। বেননের চোখের সামনে দেখতে দেখতে খালি হয়ে গেল সব কয়টা বাক্স।

    বেচাবিক্রি শেষ হতেই ওয়্যাগনের কাছ থেকে সরে গেল মানুষের ভিড়। রুবেন একটা সিগার ধরিয়ে টাকার বাক্স সরিয়ে নিল ওয়্যাগনের আরও ভেতরে। এগিয়ে গেল বেনন। ওকে দেখে সহাস্যে বলে উঠল প্রফেসর, ‘আরে, রন জনসন যে! হঠাৎ এখানে! আমি তো ভেবেছিলাম তুমি আইসিসি র‍্যাঞ্চে কাজ নিয়েছ।’

    ‘নিয়েছিলাম,’ বলল বেনন। ‘তুমি হয়তো জানো না, আইসিসিতে হামলা করেছিল বেন স্টার্ক।’

    ‘জানলেও আমি কি আর মুখ খুলি!’ হাসল প্রফেসর।

    ‘আমিও আস্তে আস্তে কথা চেপে রাখতে শিখছি,’ বেননও হাসল। ‘তবে বেশ দেরিতে শিখলাম বলতে পারো। বেন স্টার্কের দল আমাকে খুন করার জন্যে খুঁজছে।’

    ‘একবার তোমাকে আমি আইনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিলাম,’ বলল প্রফেসর। ‘এবার কি চাও, আমি তোমাকে বেন স্টার্কের দলবলের হাত থেকে রক্ষা করি?’

    মাথা নাড়ল বেনন। ‘না। শুধু যদি আমার হয়ে শেরিফের কাছে একটা খবর নিয়ে যাও তা হলেই যথেষ্ট উপকার করা হবে।’

    ‘শেরিফ?’

    ‘হ্যাঁ, শেরিফ।’ ফ্ল্যানারি কীভাবে ওকে ইণ্ডিয়ানদের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল সেটা জানাল বেনন। বলল বিনিময়ে আইসিসি র‍্যাঞ্চে ফ্ল্যানারিকে উদ্ধার করে ও। রিয়োর সন্দেহের কথা বলল। জানাল রিয়োর সঙ্গে গানফাইটের কথা। কীভাবে খুনে ক্যানিয়ন থেকে উদ্ধার পেয়েছে সেটাও বলল। তারপর বলল কীভাবে আবার ও আউট-লদের সঙ্গে যোগ দেয়। ফ্রস্টি যে এলডোরাডোতে স্টার্কের দলের হামলার কথা ঘোষণা করেছে সেটা জানাল। তারপর জানাল কীভাবে ফ্রস্টি ওকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল। এখন ও চায় আউট-লদের ঠেকাতে।

    সব শুনে জিভ দিয়ে টাকরায় আওয়াজ করল প্রফেসর। মন্তব্যের সুরে বলল, ‘রন জনসন, তুমি দেখছি গোলমালে জড়াতে এক নম্বরের ওস্তাদ লোক!’

    সরাসরি কাজের কথায় এল বেনন। ‘আমার হয়ে আউট-লদের হামলার কথা শেরিফকে জানাবে তুমি?’

    ‘নিশ্চয়ই!’ চোখে কৌতূহল নিয়ে বেননকে দেখল রুবেন স্টাসি। ‘ওয়ান্টেড একজন লোক তুমি। তার ওপর বেন স্টার্কের দলের একজন। তারপর তোমার এধরনের আচরণ নিঃসন্দেহে আশ্চর্যজনক।’

    ‘ফ্রস্টি আর ওর বন্ধুরা আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে,’ তিক্ত শোনাল বেননের কণ্ঠ। ভাব দেখে মনে হলো বাধ্য হয়ে সে ওদের বিরুদ্ধাচরণ করছে।

    ‘চালনি বলে, সুঁই, তোর পেছনে কেন ফুটো!’ হাস প্রফেসর। ‘সে যাই হোক, নষ্ট করার মত সময় নেই আমাদের হাতে।’ তাড়াহুড়ো করে ওয়্যাগনের পেছনের দরজা বন্ধ করে দিল সে। ওয়্যাগন থেকে নেমে দ্রুত পায়ে হাঁটা ধরল গলির মুখ লক্ষ্য করে।

    প্রধান সড়কে লোকটাকে ভিড়ে মিশে যেতে দেখে স্বস্তির শ্বাস ফেলল বেনন। ওর মনে হলো ঘাড় থেকে মস্ত একটা বোঝা নেমে গেছে। এবার আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। যা করার আইনের লোকরাই করবে। ওর কাজ বেন স্টার্ককে ধরা। সেদিকেই এবার নিশ্চিন্তে মনোযোগ দিতে পারবে ও।

    ফিরে এসে ডান ঘোড়াটার দড়ি খুলতে শুরু করল বেনন। ঠিক তখনই একটা সিক্সগানের নল ওর পিঠে ঠেকল। ছোট্ট করে নির্দেশ দেয়া হলো। ‘নোড়ো না।’

    মাথার ওপর হাত উঠিয়ে আস্তে করে ঘুরে দাঁড়াল বেনন। হোঁৎকা একটা লোক। বুকে তার শেরিফের ব্যাজ। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক ডেপুটি।

    ‘রন জনসন,’ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল শেরিফ। ‘খেল খতম তোমার। ঘোড়া চুরির শাস্তি দিই আমরা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে।’

    ‘আমি এসেছি তোমাদের সতর্ক করতে,’ বোঝানোর চেষ্টা করল বেনন। ‘স্টার্কের লোকরা ডাকাতি করতে আসছে।’

    ‘গলা বাঁচানোর জন্যে মিথ্যে না বললেও চলবে,’ বলে উঠল ডেপুটি। বেননের পায়ের কাছে ঘৃণা ভরে থুতু ফেলল সে। ‘আমাদের কাছে তুমি একটা র‍্যা স্নেকের চেয়ে কোন অংশে ভাল নও। তোমার চাপাবাজি শোনার কোন ইচ্ছে নেই আমাদের।’

    বেননের অস্ত্রটা হোলস্টার থেকে বের করে নিল শেরিফ। ডেপুটি এগিয়ে এসে ওর ঘাড় ধরে ঠেলা দিল। সোজা জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হলো ওকে।

    সেলের ভেতরটা বেশ আঁধার। চুপ করে বসে আছে বেনন। ভাবছে শেষ পর্যন্ত পরিচয় পত্র দেখিয়ে এই বিপদ থেকে বের হতে হবে ওকে, যেটা ওর একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না।

    রাত যত বাড়ছে সেই সঙ্গে বাড়ছে এলডোরাডোর হৈ-চৈয়ের পরিমাণ। বোর্ডওয়ার্কে খটাখট আওয়াজ তুলছে চলমান বুটজুতো। মাতালদের কর্কশ গলার চিৎকার ভেসে আসছে। পেশাদার মেয়েমানুষ খিলখিল করে হেসে উঠছে খদ্দেরদের রসিকতায়। মাঝে মাঝেই হুঙ্কার ছাড়ছে অস্ত্র। দূর থেকে পাওয়া যাচ্ছে স্ট্যাম্প মিলের একটানা আওয়াজ।

    ভোঁতা একটা বিস্ফোরণের আওয়াজে জানালার শিক ধরে দাঁড়াল বেনন। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। পাশের বাড়িটার দেয়ালের কাছে হঠাৎ চমকে উঠল তীব্র আলো। মনে হলো বজ্রবিদ্যুতের ঝলকানি। অত্যন্ত জোরাল শোনাল দ্বিতীয় বিস্ফোরণের আওয়াজটা। পরমুহূর্তে তৃতীয় বিস্ফোরণ হলো। শহরের শব্দমালার ধরন ধারণ বদলে যাচ্ছে। কেমন যেন আতঙ্কিত একটা ভাব এখন লোকজনের চিৎকারে।

    উত্তেজিত পুরুষ এবং ভীত মহিলাদের তীক্ষ্ণ চিৎকার চাপা পড়ে গেল ফায়ার বেলের একটানা সুতীব্র আওয়াজে। ঘেউ ঘেউ আওয়াজে মনে হলো সবখানে কুকুর ডাকছে। আরেকবার ঝলসে উঠল আলো। এবার আরও উজ্জ্বল। পরবর্তী আওয়াজটা এতই জোরাল যে কানে তালা ধরে গেল বেননের। জানালার শিকগুলো থরথর করে কেঁপে উঠল। প্রফেসর রুবেন স্টাসির সতর্কবাণী শোনেনি শেরিফ, আবার আইনকে ফাঁকি দিয়ে নিজের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে বেন স্টার্ক, তিক্ত মনে ভাবল বেনন। আফসোস হলো কেন ও নিজের পরিচয় দিয়ে বাইরে থাকেনি ভেবে। বাইরে থাকলে হয়তো বেন স্টার্ককে ধরার একটা সুযোগ মিলত। কিন্তু বেন স্টার্ক নিজে কি এই ডাকাতির নেতৃত্ব দিচ্ছে? একটু ভাবল বেনন। ওর অন্তর বলল তা সম্ভব নয়। লোকটা কোন ঝুঁকি নেবে না।

    চারপাশে হৈ-হট্টগোল উঠল। বিকট একটা বিস্ফোরণের ধাক্কায় ছিটকে পেছনের দেয়ালে গিয়ে বাড়ি খেল বেনন, মাথা ঠুকে গেল দেয়ালের সঙ্গে। কান-মাথা ঝাঁ-ঝাঁ করে উঠল। আবছা আচ্ছন্নতায় দেখল জেলখানার দেয়াল ধসে পড়েছে। অ্যাডোবির বড় বড় টুকরো খসে পড়ল ছাদ থেকে। জেলের একদিকের দেয়াল সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। ধসে পড়ল আরও দু’দিকের দেয়াল।

    মাথা ঝাঁকিয়ে দৃষ্টি পরিষ্কার করে জেল নামের ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এল বেনন। ও বেরোনোর পরমুহূর্তেই ধসে পড়ল জেলের ছাদ। ঘন ধুলোয় দম আটকে আসতে চাইল। কাশতে কাশতে চট করে একটা গলির ভেতরে ঢুকে পড়ল ও। গলির মুখের কাছ থেকে প্রধান সড়কের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। গোটা শহর যেন একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মনে হলো প্রচণ্ড একটা সাইক্লোন তার তাণ্ডবলীলায় সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে গেছে। বাড়ির পর বাড়ি ধসে পড়েছে বিস্ফোরণের ধাক্কায়। এখানে ওখানে ঝুলে আছে দোকানগুলোর ফল্স্ ফ্রন্ট। বোর্ডওয়াকে জমেছে অ্যাডোবির গুঁড়ো আর পুরু ধুলোবালি, বাতাসে ভাসছে ঘন ধুলোর পর্দা। একটা বাড়ি বেকায়দা ভঙ্গিতে কাত হয়ে আছে। জ্বলছে অন্য কয়েকটা বাড়ি।

    রাস্তা দিয়ে দৌড়ে এদিক ওদিক যাচ্ছে লোকজন। বেভুলা মনে হচ্ছে তাদের দেখে। কী করতে হবে যেন জানে না কেউ। সেলুন আর জুয়ার আড্ডাগুলো থেকে এখন আর কোন আওয়াজ ভেসে আসছে না। রাস্তায় জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। চেহারা দেখে মনে হচ্ছে এই মাত্র দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠেছে তারা। বুঝতে বেননের দেরি হলো না যে বেন স্টার্কের দল গোটা শহরে বোমা ফাটিয়ে শহরটা তছনছ করে দিয়ে যা নেয়ার নিয়ে চলে গেছে বিনা বাধায়।

    কী করবে ভাবতে গিয়ে প্রথমেই বেননের মনে হলো একটা অস্ত্র দরকার ওর আগে।

    শেরিফের অফিসটার দিকে তাকাল। কোমর সমান উঁচু একটা স্তূপ হয়ে গেছে অফিস। অ্যাডোবি আর কাঠের খুঁটির ভেতর থেকে একটা রোল টপ ডেস্কের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। অর্ধেক চাপা পড়ে আছে এক লোক। তার বুক পকেটের ওপর ডেপুটির ব্যাজ দেখা গেল। চট করে চারপাশে তাকাল বেনন। কেউ ওর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে না।

    শেরিফের অফিসের সামনে চলে গেল ও, উবু হয়ে মৃত ডেপুটির গানবেল্ট খুলে পরে নিল দ্রুত হাতে। নিজেকে আবার স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে মনে হলো। এবার রাস্তা ধরে পা বাড়াল ও। জায়গায় জায়গায় জড় হয়েছে শহরের বাসিন্দারা, নিচু স্বরে আলাপ করছে। তাদের পাশ কাটিয়ে একটা লিভারি বার্নের সামনে চলে এল। দরজাটা খোলাই আছে, ভেতরের আবছা আঁধারে ঢুকল বেনন। কাউকে দেখা গেল না আশপাশে। স্টলগুলোর ভেতরে অস্বস্তি ভরে পা ঠুকছে ঘোড়াগুলো। একটার পর একটা স্টল পার হলো ও, খুঁজছে ওভারহোলসারের ডান ঘোড়াটা। পেছনের একটা স্টলে ওটাকে পেল। দেয়ালে গাঁথা একটা পেরেক থেকে ঝুলছে স্যাডল। ওটা বেঁধে নিল ঘোড়ার পিঠে। স্যাডলে ওঠার পর মাথা ঘুরে উঠল ওর। স্যাডল হর্ন আঁকড়ে ধরে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকল। তারপর মাথা ঘোরাটা কমে যাওয়ার পর চোখ খুলল, স্টলের দরজা খুলে বেরিয়ে এল বাইরে। বার্ন থেকে বেরিয়ে মন্থর গতিতে রাস্তা দিয়ে এগোল। কিছুক্ষণ পর পেছনে পড়ে গেল বিধ্বস্ত শহরটা।

    রিজের মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়া ট্রেইল ধরে সামনে বাড়ছে ও। পুবের আকাশে সরু একটা রুপোলি রেখা দেখা দিয়েছে তখন। রাতের আকাশের তারাগুলো ম্লান হয়ে গেছে। পথের পাশে মেসকিট ঝোপের পেছন থেকে বেকন ভাজার গন্ধ পেল ও নাকে। পেটের ভেতরে মোচড় দিয়ে উঠল খিদে। সামনে হালকা ধোঁয়াও চোখে পড়ল। কাছে যাওয়ার পর আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা পেরিয়ে ঝোপটার দিকে এগোল ও।

    ঝোপের পাশে আগুনের সামনে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে এক লোক। চিনতে দেরি হলো না। মাইক ফ্ল্যানারি।

    ‘আরেহ্, তুমি!’ ওকে দেখে হাসল ফ্ল্যানারি। ‘এই অবস্থা কেন? দেখে মনে হচ্ছে যেকোন সময় কাত হয়ে পড়ে যাবে স্যাডল থেকে। রাতে ঘুমাওনি?’

    ‘রাত কেটেছে একটা সেলে,’ জানাল বেনন। ‘তারপর সেলটার দেয়ালগুলো ধসে পড়ায় বেরিয়ে এসেছি। রাতে খাওয়া জোটেনি, এমন খিদে লেগেছে যে আস্ত একটা গরু খেয়ে ফেলতে পারব।’

    ‘নেমে পড়ো তা হলে,’ আমন্ত্রণ জানাল ফ্ল্যানারি। চোখে বিস্ময়, তাকিয়ে আছে সে মার্শালের ডান ঘোড়াটার দিকে। বলল, ‘দায়িত্ব পালন করতে হলে তোমাকে বন্দি করতে হয়। বাজি ধরে বলতে পারি এলাকার সব কয়জন ল- ম্যান তোমাকে খুঁজছে। তোমার এখন লেজে আগুন লাগা শয়তানের মত ভেগে যাওয়া উচিত।’

    ‘কী ঘটেছে জানো কিছু?’ অন্য প্রসঙ্গে সরে গেল বেনন। ‘এলডোরাডোতে গিয়েছিলে?’

    ‘হ্যাঁ। অবস্থা দেখে মনে হলো শহরটার নাম পালটে হেলডোরাডো রাখা দরকার। সারা শহরে বোমা ফাটিয়েছে বেন স্টার্কের দল। দুটো ব্যাংকের ভল্ট খালি করে নিয়ে গেছে।’

    ‘স্টার্ককে ধরতে পেরেছে ওরা?’

    হাসিমুখে মাথা নাড়ল ফ্ল্যানারি। ‘স্টার্ককে ধরবে? স্টার্ক একটা ভূত। একটা অশরীরী। ওকে ধরা যায় না। কেউ দেখেনি তাকে, কাজেই চেনার প্রশ্নই ওঠে না।’

    সন্দেহের দোলায় দুলছে বেননের মন। জিজ্ঞেস করল, ‘এখানে একা একা কী করছ তুমি?’

    ‘আমার যা কাজ। দলটা পশ্চিমে গেছে। আমি তাদের অনুসরণ করছি।’

    কিছু বলল না বেনন। নীরবে খাওয়া সারল। খাওয়া শেষে একটা সিগারেট ধার নিয়ে ধরিয়ে একবুক ধোঁয়া ছাড়ল। একটু পরই ক্যাচকোঁচ আওয়াজ কানে এল ওর। ঘাড় ফেরাতেই দেখতে পেল ওয়্যাগনটাকে। হেলেদুলে এগিয়ে আসছে। হলুদ রং ওটার। প্রফেসর রুবেন স্টাসির গাড়ি। ছয়টা খচ্চর মিলে ঢাল বেয়ে টেনে আনছে ওটাকে। গতি অত্যন্ত ধীর। ওয়্যাগনটা পার হবার সময় রাস্তার পাশে ঝোপের ধারে বসে থাকা আগন্তুক দু’জনকে অলস চোখে দেখল রুবেন স্টাসি। চিনতে পেরে হাত নাড়ল।

    হলুদ একটা কেন্নোর মত ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ওয়্যাগনটা। আস্তে আস্তে ছোট হয়ে এল ওটার আকৃতি। একটু পর আর দেখা গেল না।

    ‘মাইক,’ হঠাৎ বলল বেনন, উত্তেজিত বোধ করছে। ‘একটা কথা মনে হলো। শুনলে আমাকে তুমি পাগল ভাবতে পারো।’

    ‘বলো।’

    ভ্রূ কুঁচকে উঠেছে বেননের। ধীর গলায় বলল, ‘আমার ধারণা এই মাত্র আমরা বেন স্টার্ককে দেখলাম।’

    ফাঁকা দৃষ্টিতে বেননকে দেখল ফ্ল্যানারি। আস্তে আস্তে তার ঠোঁট প্রসারিত হলো। হাসছে। বলল, ‘তুমি বরং একটু বিশ্রাম নাও, রন জনসন। জেলখানা বিধ্বস্ত হবার সময় মাথায় বোধহয় জোর আঘাত লেগেছে।’

    ‘বললাম না আমাকে তোমার পাগল মনে হবে?’

    চুপ করে আছে ফ্ল্যানারি। বেনন বলল, ‘কথাটা আগে শুনে দেখো।’ কিকিং হর্স থেকে রওনা হওয়া এবং ফ্রস্টি ওকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল—সবই খুলে বলল ও। তারপর বলল, ‘তারপর আমি এলডোরাডোতে এলাম শেরিফকে সতর্ক করে দিতে। পরে মনে পড়ল আমি একটা চুরি করা ঘোড়া ব্যবহার করছি। রুবেনকে পেয়ে তার মাধ্যমে শেরিফকে জানানোর ব্যবস্থা করলাম। সে কথা দিল আইনকে জানাবে। কিন্তু সে যা করল সেটা হচ্ছে আমাকে ধরিয়ে দেয়া। জেলখানায় বোমা মারল যাতে আমি মারা পড়ি। আমি নিঃসন্দেহ যে রুবেন স্টাসিই বেন স্টার্ক।’

    ‘হয়তো তোমার কথা সত্যি,’ দ্বিধাজড়িত স্বরে বলল ফ্ল্যানারি ‘আমি নিশ্চিত,’ বলল বেনন। ‘রুবেনের ওয়্যাগনটা খালি থাকার কথা। কাল সন্ধ্যায় সে সমস্ত মালপত্র বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ লক্ষ করেছ যে ছয়টা খচ্চর মিলে কত কষ্টে ওয়্যাগনটা ঢাল বেয়ে তুলে আনছিল? আমার ধারণা লুটের মাল নিয়ে সরে পড়ছে স্টার্ক সবার চোখের সামনে। খেয়াল করেছ ওয়্যাগনের বাক্সটা কী ওজন নিয়ে চেপে বসে ছিল স্প্রিঙের ওপর?’

    ‘তোমার চোখে তো কিছুই এড়ায় না দেখছি!’ কিছুটা উৎসাহিত মনে হলো ফ্ল্যানারিকে দেখে।

    উঠে দাঁড়াল বেনন। ‘চিকিৎসকের ছদ্মবেশের চেয়ে ভাল বেন স্টার্কের জন্যে আর কী হতে পারে! বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ডাকাতির পরিকল্পনা করে সে এটা কে ভাবতে পারবে? টোকা মেরে দেখা দরকার।’ ঘোড়ার দিকে পা বাড়াল ও।

    ‘আমিও আসছি,’ উঠে দাঁড়াল ফ্ল্যানারি। ‘বাউন্টি মানি অর্ধেক অর্ধেক।’

    ‘রাজি।’

    ’দেখাই যাক না চেষ্টা করে।’

    ঢাল বেয়ে ওঠার পর সামনে বিস্তীর্ণ উপত্যকা চোখে পড়ল ওদের। মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে জিলা নদী। সূর্যের আলোয় রুপোলি একটা সুতোর মত লাগছে দেখতে।

    ‘নদীতে বান ডেকেছে,’ মন্তব্য করল ফ্ল্যানারি। ‘পাহাড়ে বোধহয় বৃষ্টি হয়েছে।’

    বেননের চোখ সামনে নিবদ্ধ। দূরে হলুদ একটা ফোঁটা দেখা যাচ্ছে ধূসরতায়। আঙুল তাক করে বিন্দুটা দেখাল বেনন। ফ্ল্যানারি বলল, ‘তাড়াহুড়ো করে ঘোড়াগুলোকে পরিশ্রান্ত করার কোন দরকার নেই। সামনে সারাদিন পড়ে আছে। আর আমাদের বন্ধুর সামনে এগোনোর পথও বন্ধ। জিলার পানি না কমলে ওয়্যাগন নিয়ে পার হতে পারবে না সে।’

    এক ঘণ্টা পর উপত্যকার মেঝেতে নেমে এল ওরা। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে এখন হলুদ ওয়্যাগনটাকে। আর মাত্র দু’মাইল সামনে আছে ওটা।

    পাশাপাশি চলেছে বেনন আর ফ্ল্যানারি দুলকি চালে। ‘প্রফেসর হয়তো ত্যাড়া কথায় আমাদের চামড়া ছিলে নেবে,’ উদাস গলায় মন্তব্য করল ফ্ল্যানারি। ‘এমনও হতে পারে আবার রসদ কিনে ওয়্যাগন ঠেসেছে সে। হয়তো সেজন্যেই খচ্চরগুলোকে ওটা কষ্ট করে টানতে হচ্ছে।’

    না দমে বলল বেনন, ‘কিন্তু চিন্তা করে দেখো, আমি আইনকে সতর্ক করে দিতে বলার পরও কিছুই করেনি শেরিফ। সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় শহরটায় আক্রমণ চালিয়েছে ডাকাত দল।’

    ওরা ওয়্যাগনটার এক মাইলের মধ্যে চলে এসেছে।

    হঠাৎ করেই গতি বাড়ল ওয়্যাগনের। প্রথমে দুলকি চালে ছুটতে শুরু করল খচ্চরগুলো। তারপর গতি আরও বেড়ে গেল। ছুটছে এখন জন্তুগুলো। বিপজ্জনক ভাবে হেলেদুলে এগিয়ে চলেছে ওয়্যাগনটা নদীর দিকে।

    স্পারের স্পর্শে ঘোড়ার গতি বাড়াল বেনন আর ফ্ল্যানারি। বেননের মনে এখন আর কোন সন্দেহ নেই। দোষী না হলে পালানোর চেষ্টা করবে কেন রুবেন স্টাসি?

    সাপের মত আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছুটছে ওয়্যাগন। পূর্ণ গতিতে ঘোড়া নিয়ে ধাওয়া করছে বেনন আর মাইক ফ্ল্যানারি। রুবেন স্টাসিকে দেখতে পেল বেনন, উন্মত্তের মত রাশ ঝাঁকি দিয়ে গতি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে সে।

    সামনে নদীটা দেখা যাচ্ছে। বিপুল জলরাশি বুকে নিয়ে বয়ে চলেছে। নিশ্চিত একটা বাধা। এত ভরা নদী পার হবার কোন উপায় নেই ওয়্যাগন নিয়ে। স্রোতে ভেসে যাবে সব। এমনকী ঘোড়ায় করে পার হওয়াও এখন বিপজ্জনক। ভাল ফাঁদে আটকে গেছে প্রফেসর।

    শেষ চেষ্টা করতে গিয়ে নদীর সমান্তরালে ওয়্যাগন ছোটাল প্রফেসর। উজানের দিকে চলেছে। মনে আশা কোথাও হয়তো পার হবার মত উপযুক্ত তীর পাওয়া যাবে। চাবুক কষাচ্ছে সে খচ্চরগুলোর পিঠে, তারপরও পরিশ্রান্ত জন্তুগুলোর গতি কমে যাচ্ছে।

    বেনন আর ফ্ল্যানারি দু’জনই বুঝতে পারছে ধাওয়ার পরিসমাপ্তি শীঘ্রি ঘটতে চলেছে। ওদের অবাক করে দিয়ে ওয়্যাগনটা মোড় নিল। সোজা চলেছে উন্মত্ত নদীর দিকে! ওখানে অপেক্ষা করছে নিশ্চিত মৃত্যু!

    নীরবে ওয়্যাগনটাকে ঘুরতে দেখল ওরা। নদীর খাড়া পাড়ের দিকে ছুটে চলেছে ওটা।

    ‘এ স্রেফ আত্মহত্যা!’ বলল ফ্ল্যানারি। ‘পাগল হয়ে গেছে লোকটা। বদ্ধ উন্মাদ!’

    রুবেনকে ওদের উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখল ওরা। পরমুহূর্তে শূন্যে লাফ দিল ওয়্যাগন। নিচে পড়ল একরাশ জল ছিটিয়ে।

    ‘নিজের চোখে না দেখলে কে বিশ্বাস করবে!’ বিড়বিড় করল ফ্ল্যানারি। শ্রাগ করল বেনন। ‘একটা কথা এখন নিশ্চিত যে রুবেন স্টাসিই ছিল বেন স্টার্ক।’

    ওয়্যাগনটা যেখানে নদীতে পড়েছে সেখানে গিয়ে ঘোড়া থামাল ওরা। খাড়া পাড়ের নিচে ঘন হয়ে জন্মেছে ঝোপঝাড়। বিশ ফুট বা তারও কিছু বেশি নিচে হবে, পড়ে আছে ওয়্যাগনটা। অর্ধেক জমিতে, অর্ধেক নদীতে। ফেনা তুলে ওটাকে পাশ কাটাচ্ছে ছুটন্ত ‘স্রোত। এখনও লাগামে বাঁধা আছে খচ্চরগুলো। নদীতে ডুবে মারা গেছে। তীব্র স্রোত রুবেনকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, আন্দাজ করল বেনন।

    ‘একেবারে উন্মাদ ছিল লোকটা,’ বিষণ্ণ স্বরে বলল ফ্ল্যানারি। ‘নিজে তো মরেইছে, সঙ্গে নিয়ে গেছে নিরীহ ছয়টা খচ্চরের প্রাণ।’

    ‘লুটের মাল সরাতে পারেনি,’ কাজের কথায় এল বেনন। ‘সব কিছু ওই ওয়্যাগনেই আছে। নদীর পানি কমতে বড়জোর আর দু’দিন লাগবে, তারপর উদ্ধার করা যাবে সহজেই।’

    ঘোড়া থেকে নেমে বিধ্বস্ত ওয়্যাগনটার দিকে তাকিয়ে থাকল ওরা। ‘মাল টানার ঘোড়া লাগবে ওয়্যাগনটাকে সরাতে,’ মন্তব্য করল বেনন। ‘কাছের কোন – র‍্যাঞ্চে গিয়ে ঘোড়া সংগ্রহ করব আমি, তুমি পাহারায় থেকো। স্টার্কের দলবল

    হাজির হতে পারে।’

    ‘আসবে না, এলেও কোন অসুবিধে নেই,’ বলল ফ্ল্যানারি। ‘লুটের মালের কাছে পাহারায় থাকতে ভালই লাগবে আমার। পুরস্কারের টাকা কীভাবে খরচ করব সেই স্বপ্ন দেখে সময় কাটিয়ে দেব।’

    কিছুক্ষণ ঘোড়াকে বিশ্রাম দিয়ে উপত্যকা ধরে ফিরে চলল বেনন, সতর্ক হয়ে আছে-নতুন কাউকে দেখলেই গা ঢাকা দেবে। মনের ভেতরটা কেমন যেন খচখচ করছে ওর। রুবেন স্টাসি ওরফে বেন স্টার্ক তার শেষ কাজটা উন্মাদের মত করেছে। ওর মন ঠিক সায় দিচ্ছে না। লোকটা এত বোকা বা বেপরোয়া নয় যে অমন একটা কাজ করবে। নিশ্চিত মৃত্যুকে নির্দ্বিধায় বরণ করে নেবে তেমন মানুষ বলে মনে হয়নি বেন স্টার্ককে ওর।

    ধরা পড়ার ভয়ে লোকটা আত্মহত্যা করবে সেটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত হত যদি সে লড়াই করে উদ্ধার পাবার চেষ্টা করত। মন যা-ই বলুক নিজের চোখকে তো অবিশ্বাস করার উপায় নেই। সত্যি লোকটা নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে ওয়্যাগনটা নদীতে নামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে।

    সবচেয়ে কাছের র‍্যাঞ্চটা আইসিসিই হবে, আন্দাজ করল বেনন। ওদিকে যাওয়া যাবে না। ওভারহোলসার এখনও বোধহয় তার দলবল নিয়ে আইসিসিতেই অবস্থান করছে। শেষ সময়ে কৃতিত্ব তার হাতে তুলে দেবার কোন অর্থ নেই। উল্টোদিকে এগিয়ে চলল ও।

    পরদিন সকালে থ্রী পিস্ নামের টিলা সারির কাছে একটা র‍্যাঞ্চ চোখে পড়ল ওর। সামান্য টাকাতেই খচ্চর ধার দিতে রাজি হয়ে গেল র‍্যাঞ্চার। সঙ্গে সে-ও এল। স্টার্ক আর নেই জেনে খুশি।

    সন্ধ্যার সময় বিধ্বস্ত ওয়্যাগনটার কাছে পৌছল ওরা। ফ্ল্যানারিকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    অস্বস্তির বোধ পেয়ে বসল বেননকে। কোন ঘোড়া নেই। ফ্ল্যানারির দেখা নেই। ক্যাম্পের আগুনেরও কোন চিহ্ন নেই। মরুভূমির অন্যান্য নদীর মতই জিলার পানিও নেমে গেছে দ্রুত। ডাঙায় নদীর পাড়ে পড়ে আছে পরিত্যক্ত ওয়্যাগনটা।

    ফ্ল্যানারি কোথায়?

    র‍্যাঞ্চারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল বেনন। ভাবছে, ফ্ল্যানারি কি তা হলে লুটের মাল নিয়ে একাই সরে পড়ল? তেমন লোক বলে মনে হয়নি তাকে।

    থেমে দাঁড়িয়ে খচ্চরগুলোকে সামলাচ্ছে র‍্যাঞ্চার।

    একটা ক্যাম্পফায়ারের আগুন চোখে পড়ল বেননের। নিচু স্বরে গাল বকল ও। আগুনের ধারেই পড়ে আছে আড়ষ্ট শরীরটা। নিভে যাওয়া আগুনের ওপর বসে আছে একটা কফি পট। ফ্ল্যানারির লাশের ডান হাতে এখনও একটা কফি মগ ধরা। হোলস্টার থেকে অস্ত্রটাও বের করতে পারেনি সে, তার আগেই অতর্কিত আক্রমণে মারা গেছে।

    ঘোড়া থেকে নামল বেনন। লাশের কাছে গিয়ে দেখল হৃৎপিণ্ড ফুটো হয়ে গেছে ফ্ল্যানারির। বেশি কষ্ট পেয়ে মরতে হয়নি তাকে।

    গম্ভীর হয়ে উঠল বেননের চেহারা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাসুদ রানা ৪৪৮ – মৃত্যুঘণ্টা
    Next Article মৃত্যু উপত্যকা – কাজী মায়মুর হোসেন

    Related Articles

    কাজী মায়মুর হোসেন

    অদৃশ্য ঘাতক – কাজী মায়মুর হোসেন

    July 25, 2025
    কাজী মায়মুর হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৬৮ – স্বর্ণলিপ্সা

    July 25, 2025
    কাজী মায়মুর হোসেন

    ধাওয়া – কাজী মায়মুর হোসেন

    July 25, 2025
    কাজী মায়মুর হোসেন

    মৃত্যু উপত্যকা – কাজী মায়মুর হোসেন

    July 25, 2025
    কাজী মায়মুর হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৪৮ – মৃত্যুঘণ্টা

    July 25, 2025
    কাজী মায়মুর হোসেন

    মাসুদ রানা ৪৫৮ – মহাপ্লাবন

    July 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }